× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Roni in Brahmanbaria on a mission to clear the railway
hear-news
player
print-icon

রেলকে সাফ করার মিশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রনি

রেলকে-সাফ-করার-মিশনে-ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়-রনি
রনি নিউজবাংলাকে জানান, রেলের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ট্রেনে চড়ে চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে আখাউড়া স্টেশনে ছিল যাত্রাবিরতি। সেখানে এক যাত্রী কয়েকজনের কাছে বলতে থাকেন যে তার কাছ থেকে ৭৫ টাকার টিকিটের দাম ১২০ টাকা রাখা হয়েছে।

রেলের অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রতিবাদ ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মহিউদ্দিন রনি এবার আখাউড়া রেলস্টেশন গিয়ে ভাইরাল হয়েছেন।

সেখানে এক যাত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টিকিটের জন্য রাখা বাড়তি টাকা ফেরত নিয়ে দেন জনপ্রিয় রনি। ওই ঘটনার ভিডিও দিনভর ভাইরাল ফেসবুকে।

তবে ওই যাত্রীর অভিযোগ কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত নিয়ে যাননি, সেখানেই মীমাংসা করেছেন বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন রনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে রোববার গভীর রাতে হাজির হন এই তরুণ।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, রেলের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ট্রেনে চড়ে চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে আখাউড়া স্টেশনে ছিল যাত্রাবিরতি।

রনি বলেন, ‘সেখানে এক যাত্রী কয়েকজনের কাছে বলতে থাকেন যে তার কাছ থেকে ৭৫ টাকার টিকিটের দাম ১২০ টাকা রাখা হয়েছে। ওই যাত্রীকে কয়েকজন আমার কাছে নিয়ে আসে। সব শুনে আমি তাকে নিয়ে কাউন্টারে যাই। সেখানে যিনি ছিলেন বুকিং মাস্টার দোষ স্বীকার করেননি।

‘কথাবার্তার একপর্যায়ে তার মিথ্যা বের হয়ে আসতে থাকে। একপর্যায় তিনি ওই যাত্রীর থেকে নেয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরতও দেন। নাম জানতে চাইলে না বলে কাউন্টার থেকে বের হয়ে যান। বের হয়ে আমাকে আবার বলতে থাকেন যে দেখে নেবেন। আরেকজন বয়স্ক ব্যক্তিকে গিয়ে কিছু একটা বললেন। সেই ব্যক্তিও আমাকে বলে দেখে নেবেন।’

ভাইরাল ভিডিও দেখে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাউন্টারের ওই ব্যক্তি হলেন বুকিং সহকারী আক্তার হোসেন। ভিডিওতে দেখা গেছে তিনি রনি ও ওই যাত্রীর তোলা অভিযোগ অস্বীকার করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে কীভাবে নিশ্চিত হলেন জানতে চাইলে রনি বলেন, ‘ওইখানে অনেক যাত্রীই এই অভিযোগ তুলেছে যে কাউন্টারে টিকিটের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা রাখা হয়। তা ছাড়া ওই যাত্রীকে নিয়ে কাউন্টারে গিয়ে সব জানতে চাইলে অস্বীকার করলেও পরে কাউন্টারের ওই ব্যক্তির কথায় অসামঞ্জস্যতা বের হয়ে আসে।

‘এরপর তিনি তো টাকা ফেরত দেন। সহজ-সরল পেয়ে যাত্রীর কাছ থেকে ওই বুকিং মাস্টার এভাবে টাকা নেন।’

এ বিষয়ে সেখানকার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে রনি জানান, সেখানেই মীমাংসা হয়ে যাওয়ায় কোনো অভিযোগ দেননি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বুকিং সহকারী আক্তার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রি করিনি। এটার উত্তর আমি কর্তৃপক্ষকে দিয়েছি।’

রেলকে সাফ করার মিশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রনি

এদিকে সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসে থাকা নিহতদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন রনি।

তিনি সেখানে বলেন, ‘এটা আসলে দুর্ঘটনা নয়, দুর্ঘটনা বলতে পারি না। এটা একটা হত্যা। আইনের মারপ্যাঁচে ফেলে, ঠিক আছে... এটা একটা হত্যা। তাদের সিস্টেমে ফেলে মানুষকে খুন করছে, হত্যা করছে।

‘কে করল? কাদের দায়? কাদের অবহেলায় এটা হয়েছে? দায়িত্বপ্রাপ্তরা কী করেছে? যারা বড় কর্মকর্তা, তারা জানার পরও অবৈধ ক্রসিং বন্ধ করেনি, সিগন্যালের ব্যবস্থা করেনি, গেটম্যান রাখেনি। এই প্রশ্নের উত্তরগুলো কে দেবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমি আমার সর্বোচ্চ পর্যন্ত লড়ে যাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে এখনও ব্রিটিশ আইন দ্বারা পরিচালিত। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী কেউ যদি রেলের নিচে চাপা পড়ে, সে-ই দোষী। এর জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা যায় না। এটা কি জোক?... ব্রিটিশরা চলে গেছে অনেক আগে, কিন্তু তাদের এই জোকগুলো রেখে গেছে।’

আরও পড়ুন:
মীরসরাই দুর্ঘটনা: ৫ জনের দাফন
মীরসরাই দুর্ঘটনা: গেটম্যানকে আসামি করে মামলা
‘এলাকায় একসঙ্গে এত লাশ কখনও দেখিনি’
‘আব্বু আমি চলে যাব, দোয়া করিয়েন’
‘ওরে পুত, কেন গেলি?’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
BPC explained seven years of profit and fixed deposits

সাত বছরের মুনাফা ও স্থায়ী আমানতের ব্যাখ্যা দিল বিপিসি

সাত বছরের মুনাফা ও স্থায়ী আমানতের ব্যাখ্যা দিল বিপিসি অলঙ্করণ: মামুম হোসাইন/নিউজবাংলা
‘১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত জ্বালানি খাতে ক্রমাগত লোকসান গুণতে হয়। যার পরিমাণ প্রায় ৫৩ হাজার ৫ কোটি টাকা। ফলে ভর্তুকি হিসেবে সরকার বিভিন্ন সময় বিপিসিকে ৪৪ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা দেয়। ফলে সাত বছরে মুনাফা করলেও ওই সময়ে আরও ৮ হাজার ১২৭ কোটি টাকার ঘাটতি ছিল। যা পরে বিপিসির মুনাফার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।’

বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানত ভেঙে জ্বালানি আমদানি করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ। বলেছেন, ডিজেলের দর লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানোর পরও তাদের লোকসান হচ্ছে।

২০১৪ সাল থেকে টানা সাত বছর বিপিসির যে পরিমাণ মুনাফা হয়েছে, তার আগের ১৪ বছরে এর চেয়ে বেশি লোকসান ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, মুনাফার টাকায় আগের লোকসান সমন্বয় করা হয়েছে।

তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানোর পর বিপিসির ২০১৪ সালের পর থেকে মুনাফায় থাকা, বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের বিপুল পরিমাণ স্থায়ী আমানতের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর এ নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে বুধবার বিকালে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিপিসির চেয়ারম্যান।

গত ৫ আগস্ট মধ্যরাত থেকে সরকার ডিজেল ও কেরসিনের দর লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করে। অকেটন প্রতি লিটার ৮৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ ও পেট্রল ৮৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এই দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যায় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে বিপিসির বিপুল পরিমাণ লোকসান হচ্ছিল। গত কয়েক মাসে লোকসান আট হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই।

এরপর একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হয় ২০১৪ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত মুনাফা ও করসহ লাভ হয় ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এই সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যকে হাজার হাজার মানুষ প্রশ্ন করতে থাকে, আগের মুনাফা থেকে বর্তমানের লোকসান সমন্বয় করা হলো না কেন।

অন্য একটি জাতীয় দৈনিক জানায়, সরকারি সংস্থার মধ্যে বিপিসির ব্যাংকে স্থায়ী আমানত সবচেয়ে বেশি। তাহলে তারা কেন লোকসানের কথা বলছে।

এই দুটি বিষয়েই ব্যাখ্যা দেন বিপিসির চেয়ারম্যান।

সাত বছরের মুনাফা ও স্থায়ী আমানতের ব্যাখ্যা দিল বিপিসি
বিপিসি চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ। ছবি:সংগৃহীত

তিনি জানান, ২০১৪ সাল থেকে সাত বছর মুনাফা করলেও এর আগের ১৪ বছর টানা লোকসান দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত জ্বালানি খাতে ক্রমাগত লোকসান গুণতে হয়। যার পরিমাণ প্রায় ৫৩ হাজার ৫ কোটি টাকা। ফলে ভর্তুকি হিসেবে সরকার বিভিন্ন সময় বিপিসিকে ৪৪ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা দেয়। ফলে সাত বছরে মুনাফা করলেও ওই সময়ে আরও ৮ হাজার ১২৭ কোটি টাকার ঘাটতি ছিল। যা পরে বিপিসির মুনাফার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।’

ব্যাংকে স্থায়ী আমানতের বিষয়ে এ বি এম আজাদ বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় সব ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে বিপিসিকে আমদানি ব্যয় মেটাতে হচ্ছে।’

তেলের আমদানি ব্যয় কত

এ বিষয়েও একটি হিসাব দিয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, বর্তমান দরে ডিজেল বিক্রি করে তাদের লিটারে লোকসান হচ্ছে ৬ টাকা। তবে অকটেনে মুনাফা হচ্ছে ২৫ টাকা।

তিনি জানান, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে প্রতি লিটার ডিজেলে ১২০ টাকা খরচ হচ্ছে বিপিসির।

বিপিসি প্রধান বলেন, ‘২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে আমাদের প্রতি ব্যারেল ডিজেল কেনার খরচ পড়ত প্রতি ব্যারেলে ৯৬ দশমিক ৯৫ ডলার। প্রতি লিটারে আমরা যখন এটাকে কস্টিং করি, প্রতি লিটার পরে ৮৩ টাকা ৬ পয়সা। ওই সময়ে বিপিসি বিক্রয় করত ৮০ টাকা করে। সেখানে লিটারে ৩ টাকার মতো লোকসান ছিল।’

‘ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে যখন প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলার ৫৫ সেন্ট, সেটাকে টাকায় প্রতি লিটারে কনভার্ট করলে হয় ৮৯ টাকা ৮৫ পয়সা। তখনও বিপিসি বিক্রি করেছে ৮০ টাকা লিটার। যে কারণে ওই মাসে ৯ টাকার মতো লোকসান গুনতে হয়েছে।

‘এ ফর্মুলায় গত জুলাই মাসে প্রতি ব্যারেল মূল্য ছিল ১৩৯ দশমিক ৪৩ ডলার, টাকায় প্রতি লিটারে কনভার্ট করলে খরচ পড়ত ১২২ টাকা ১৩ পয়সা। তখনও ওই তেল বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। এভাবে তেলের দাম বাড়তে বাড়তে জুলাই মাসে প্রতি লিটারে লোকসান এসে দাঁড়িয়েছিল ৪২ টাকা ১৩ পয়সা।’

এফডিআর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে

ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ স্থায়ী আমানত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে করা হয়েছে বলে জানান বিপিসি চেয়ারম্যান। জানান, তারা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩৪ হাজার ২৬১ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ১১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন।

এর মধ্যে আছে ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন ক্ষমতা বাড়ানো। এতে ব্যয় হবে ১৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। এটি বিপিসির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে বিপিসির মুনাফার একটি অংশ এফডিআর করা হয়। বিপিসি তার অর্থ কোনো না কোনো ব্যাংকের হিসাবের বিপরীতে রাখতে হয়। প্রকল্পের যে অর্থগুলো, সেগুলো প্রকল্পের নামে এফডিআর খুলে রাখা হয়।’

জ্বালানির দর বৃদ্ধি এই উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাড়ানো হয়নি বলেও জানান তিনি।

দেশে উৎপাদন হলেও পেট্রল ও অকটেনের নাম বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রুডের কারণে পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ে। সুতরাং পেট্রল ও অকটেনের দাম কৌশলগত কারণে বাড়াতে হয়েছে।’

বর্তমানে দেশে ৩০ দিনের ডিজেল এবং ১৮ দিনের পেট্রল ও অকটেন মজুত আছে বলেও জানান বিপিসি চেয়ারম্যান।

আরও পড়ুন:
বিপিসির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সিপিডির
বিপুল বকেয়া, বিমানকে তেল দেবে না বিপিসি
‘জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি রাজনৈতিক, আমলাদের দায় নেই’
জেটি সংকট, তেলবাহী জাহাজ নিয়ে বিপাকে বিপিসি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Beating Dr Sajjad Ultimatum for interns strike

ডা. সাজ্জাদকে মারধর: ইন্টার্নদের কর্মবিরতির আল্টিমেটাম

ডা. সাজ্জাদকে মারধর: ইন্টার্নদের কর্মবিরতির আল্টিমেটাম বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। ছবি: নিউজবাংলা
ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মহিউদ্দিন জিলানী বলেন, ‘আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা চাই আজকের মধ্যেই দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক। অন্যথায় বৃহস্পতিবার থেকে আমরা কর্মবিরতি পালন করব।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসেনকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ।

বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বৃহস্পতিবার থেকে কর্মবিরতিতে যাবেন বলে হুশিয়ারি দেয়া হয়।

মানববন্ধনে পরিষদের সদস্যরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘মানুষের গায়ে হাত তোলার কে দিল অধিকার’, ‘জিরো টলারেন্স ফর ভায়োলেন্স’ ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করা হয়।

এর আগে সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে আলোচনা করেন পরিষদের নেতারা। এ সময় উপাচার্য হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

মানববন্ধনে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মহিউদ্দিন জিলানী বলেন, ‘শুধু ডা. সাজ্জাদ নন, অনেকের সঙ্গেই এরকম ঘটনা ঘটে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি এই ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা চাই আজকের মধ্যেই দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক। অন্যথায় বৃহস্পতিবার থেকে আমরা কর্মবিরতি পালন করব।’

‘কিছু ছাত্রের জন্য পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বদনাম হচ্ছে। আমরা এসব বিপথগামী শিক্ষার্থীর বিচার দাবিতে মানববন্ধন করছি।’

চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মারুফ উল আহসান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শহীদ মিনারে অনেকেই পরিবার, বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসেন, আড্ডা দেন। আজ সাজ্জাদ ডাক্তার হওয়ার কারণে হয়তো আমরা প্রতিবাদ করছি, কিন্তু অনেকেই তো সেটা করতে পারে না।’

পরিষদের সদস্য জাকিউল ইসলাম ফুয়াদ বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে মিটিং করেছি। আমাদের ডিরেক্টর, প্রিন্সিপালসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমরা বলেছি, আপনারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন, দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনেন। তা না হলে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।’

থানায় জিডি

এদিকে মারধরের ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন মারধরের শিকার সাজ্জাদ হোসেন। শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক রাজু মুন্সীকে এই ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জিডির বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার বলেন, ‘ভুক্তভোগী জিডি করেছেন। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় আমরা আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো চেক করছি। এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। আজকের মধ্যেই সব ক্যামেরার ফুটেজ চেক করা শেষ হবে।’

আরও পড়ুন:
শহীদ মিনারে মারধর: ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আলটিমেটাম
শহীদ মিনারে ঢাকা মেডিক্যালের ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Amendment of patent law necessary to protect pharmaceutical industry Salman

ওষুধশিল্পের সুরক্ষায় প্যাটেন্ট আইন সংশোধন জরুরি: সালমান

ওষুধশিল্পের সুরক্ষায় প্যাটেন্ট আইন সংশোধন জরুরি: সালমান রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে বুধবার সেমিনারে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশীয় ওষুধশিল্প চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এটি মোকবিলায় আমাদের এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে স্থানীয় অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্যাটেন্ট আইন সংশোধন করতে হবে।’

স্থানীয় ওষুধশিল্পের সুরক্ষায় প্যাটেন্ট আইন সংশোধন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে বুধবার আয়োজিত ‘এলডিসি উত্তরণে ওষুধ শিল্পের প্রস্তুতি’ শীর্ষক সেমিনারে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রকল্প (এসএসজিপি) ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে বক্তারা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে ওষুধশিল্পের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পৃথক একটি রোডম্যাপ তৈরির কথা বলেন। একই সঙ্গে পোশাকশিল্পের মতো এই খাতে প্রণোদনার প্রস্তাব দেন তারা।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশীয় ওষুধশিল্প চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এটি মোকবিলায় আমাদের এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে স্থানীয় অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্যাটেন্ট আইন সংশোধন করতে হবে।’

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় অবিলম্বে ওষুধশিল্প পার্ক (এপিআই পার্ক) চালু হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘এর ফলে ভবিষ্যতে ওষুধশিল্পে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে এবং এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় ওষুধশিল্প দ্রুত এগিয়ে যাবে।’

ট্রিপস চুক্তির আওতায় স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে প্রাপ্ত বিশেষ সুবিধাগুলো অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় প্রয়োজনীয় প্রচার চালানোর আহ্বান জানান সালমান এফ রহমান।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খান। এলডিসি-পরবর্তী সময়ের জন্য ওষুধশিল্পকে প্রস্তুত করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি খাত এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি শক্তিশালী অংশীদারত্বমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিল্ডের চেয়ারপারসন নিহাদ কবির, ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট রিজওয়ান রাহমানসহ অনেকে।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান এমপি বাংলাদেশের প্যাটেন্ট প্রদানের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয় বিবেচনায় নেয়ার আহ্বান জানান।

নিহাদ কবির মেধাস্বত্বসংক্রান্ত কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে প্যাটেন্ট আইন সংশোধন করা হবে বলে আশ্বাস দেন শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা।

দেশের ওষুধশিল্পে পোশাক খাতের মতো প্রণোদনা দেয়ার ওপর গুরুত্ব দেন রিজওয়ান রাহমান।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পরও ২০৩৩ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রিপস চুক্তির আওতায় প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধাগুলো যাতে অব্যাহত রাখা যায় সে ব্যাপারে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে।’

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও এসএসজিপির প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আজিজ। ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম।

আরও পড়ুন:
‘২০২৬ সালের আগেই দাঁড়িয়ে যাবে ওষুধশিল্প’
উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষায় ওষুধ শিল্প পার্ক
দেশের ওষুধশিল্প ঘুরে দাঁড়াল যেভাবে
ওষুধ শিল্পে কর অবকাশ আরও ১০ বছর
সম্ভাবনার ওষুধশিল্প: স্বস্তির মধ্যেও শঙ্কা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
CPD questions the transparency of BPCs income and expenditure

বিপিসির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সিপিডির

বিপিসির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সিপিডির
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম কম ছিল তখন দেশের ভেতরে বেশি দামে বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ লাভ করেছে বিপিসি। ২০২১ সাল পর্যন্ত সাত বছরে সংস্থাটি প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এর মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা সরকারকে দিয়েছে। বাকি ৩৬ হাজার কোটি টাকা কোথায় গেল?’

জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনকারী সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ–সিপিডি।

বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এখন এড়ানো যেত কি?’ শীর্ষক সংলাপে এ প্রশ্ন তুলেছেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম কম ছিল তখন দেশের ভেতরে বেশি দামে বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ লাভ করেছে বিপিসি। ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সাত বছরে সংস্থাটি জ্বালানি তেল বিক্রি করে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এর মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা সরকারকে দিয়েছে। বাকি ৩৬ হাজার কোটি টাকা গেল কোথায়?’

সরকারি ব্যয়ের স্বচ্চতা নিশ্চিত করতে বিপিসির আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং একইসঙ্গে পুরনো হিসাবের খতিয়ান জনগণের সামনে প্রকাশের দাবি জানায় সিপিডি।

সিপিডি মনে করে, বিপিসির আয়-ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে আসা উচিত। ভোক্তার ওপর দায় না চাপিয়েও জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা যেত।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক, জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন, বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রমুখ।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বিপিসি বলেছে যে মুনাফার ৩৬ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৩৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু কোথায় বিনিয়োগ হয়েছে, কীভাবে বিনিয়োগ হয়েছে তার হিসাব হিসাব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ সালে ৪ হাজার ১২৬ কোটি, ২০১৬ সালে ৯ হাজার ৪০ কোটি, ২০১৭ সালে ৮ হাজার ৬৫৩ কোটি, ২০১৮ সালে ৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা লাভ করেছে বিপিসি। এছাড়া ২০১৯ সালে ৪ হাজার ৭৬৮ কোটি, ২০২০ সালে ৫ হাজার ৬৭ কোটি এবং ২০২১ সালে জ্বালানি তেল বিক্রি করে ৯ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা লাভ হয়েছে বিপিসির। এই লাভের টাকা কোথায় কিভাবে ব্যয় হয়েছে তার সঠিক হিসাব জনগণ জানে না। দেশের স্বার্থে বিপিসির লাভ-লোকসানের হিসাব জানা প্রয়োজন।’

সিপিডির এই গবেষণা পরিচালক বলেন, ‘শুনেছি প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু টাকা খরচ হয়েছে। বিপিসি নাকি সবচেয়ে ধনী গ্রাহক। বিপিসির ২৫ হাজার কোটি টাকা অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে। তাহলে এসব টাকা কার? বিপিসি চাইলে এই সংকট সময়ে জ্বালানি তেলের ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে পারত।’

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশের চেয়ে নেপাল ও পাকিস্তানে বেশি। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনাম। নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

‘দাম কাদের চেয়ে বেশি? সিংগাপুর, হংকং ও জার্মানির চেয়ে বেশি। যাদের মাথাপিছু আয় ৫০ হাজার ডলারের কাছাকাছি তাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়। যখন তুলনা করব তখন সে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থান ও প্রেক্ষাপট মাথায় রাখাটা জরুরি।’

সিপিডির এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে প্রথমেই পরিবহন সেক্টরের ভাড়া বৃদ্ধি পাবে। ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে কৃষি পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়বে। অনেক কৃষক কৃষিকাজ ছেড়ে দেবে।

‘কৃষিজ উৎপাদন কমে যাওয়ায় খাদ্যপণ্য আমদানি বেড়ে যাবে। শিল্পের উৎপাদনেও খরচ বাড়বে। তার ফলে ব্যবসার লভ্যাংশ কমে যাবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। অর্থাৎ ধাপে ধাপে সব সেক্টরে খরচ বৃদ্ধি পেয়ে দেশের মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে জীবনযাত্রায়। বিশেষ করে এর বড় ধাক্কাটা আসবে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও গরিবদের ওপর।’

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি ও রেশনিং কার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

আরও পড়ুন:
রোগ চিহ্নিত, কিন্তু ওষুধ ঠিক হয়নি: সিপিডি
মূল্যস্ফীতি ৫.৬ শতাংশে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়: সিপিডি
পাচার টাকা দেশে আনার উদ্যোগ অনৈতিক: সিপিডি
পোশাক-রেমিট্যান্সে আর প্রণোদনা নয়: সিপিডি
বিপুল বকেয়া, বিমানকে তেল দেবে না বিপিসি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
People have not eaten and have clothes Minister Tajul

মানুষ না খেয়ে নাই, গায়ে জামাকাপড়ও আছে: মন্ত্রী তাজুল

মানুষ না খেয়ে নাই, গায়ে জামাকাপড়ও আছে: মন্ত্রী তাজুল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: জনজীবনের চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ে এক সংলাপে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা
‘গ্রামগঞ্জের কোনো মানুষ না খেয়ে নেই। প্রত্যেক মানুষ খেতে পারছে। প্রত্যেক মানুষের গায়ে জামাকাপড় আছে।...আমি মনে করি না, আমরা খুব খারাপ অবস্থায় আছি। একটা প্যানিক (আতঙ্ক) সৃষ্টি করে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।’

দেশে কিছুটা সংকট থাকলেও মানুষ ভালোই আছে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। এ কথা মনে করার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, গ্রামগঞ্জের কোনো মানুষ না খেয়ে নেই। প্রত্যেক মানুষের গায়ে জামাকাপড় আছে।

তেলের দাম লিটারে ৩৪ থেকে ৪৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকারকে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কথায় কথায় ভর্তুকি দিলে অন্য খাতে ইনব্যালেন্স চলে আসবে।’

তিনি এও বলেন, ‘যেই প্রজেক্ট আমাকে দুঃসময়ে দুর্দিনে সার্ভিস দেবে, একটু কষ্ট করে সেই কাজ যদি আমি না করি, তাহলে তো আমি সারা জীবনই দরিদ্র থাকব।’

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: জনজীবনের চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ে এক সংলাপে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এর আয়োজক ছিল করে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম, বাংলাদেশ।

মানুষ না খেয়ে নাই, গায়ে জামাকাপড়ও আছে: মন্ত্রী তাজুল
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: জনজীবনের চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ে এক সংলাপে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

দেশের সক্ষমতা বেড়েছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামগঞ্জের কোনো মানুষ না খেয়ে নেই। প্রত্যেক মানুষ খেতে পারছে। প্রত্যেক মানুষের গায়ে জামাকাপড় আছে।...আমি মনে করি না, আমরা খুব খারাপ অবস্থায় আছি। একটা প্যানিক (আতঙ্ক) সৃষ্টি করে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।’

আমদানির জন্য কারেন্ট অ্যাকাউন্টে ঘাটতি আছে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু দেশে রিজার্ভ আছে। রিজার্ভ দিয়ে এটা কভার করা যাবে।’

বিদেশ থেকে ঋণ প্রসঙ্গে

আলোচনায় আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক থেকে সাড়ে ছয় বিলিয়ন ডলার ঋণ চাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন সাংবাদিকরা।

জবাবে তাজুল বলেন, ‘আইএমএফ থেকে আমরা মাঝে মাঝে ঋণ নেই এবং তা শোধ করে দেই। কোভিডের সময়ও নিয়েছি। এটা স্বাভাবিক বিষয়।’

এখন বিভিন্ন সংস্থা ঋণ দেয়ার জন্য আসে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অবস্থা যদি এত খারাপ হয়, তাদের কি মাথা খারাপ হয়েছে ঋণ দেয়ার জন্য।'

‘বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি সারিয়ে নেয়ার কাজ করার জন্য নতুন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক আমাদের সেধে টাকা দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংক এসে ঘুরছে বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা দেয়ার জন্য। তারা ঋণ কখন দেয়? যখন আমরা শোধ করতে পারি।’

অর্থ পাচার নিয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, আপনি বলছেন, এই দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে গেছে। এখন টাকা তো গেছে, তাদের ধরেন। বলবেন, আপনি ধরেন না কেন? ধরার জন্য আমাদের যে চেষ্টা নেই, এটা বলব কী করে? এটা তো আজকে না, প্রথম থেকে গেছে। বহুজনের টাকাও আনা হয়েছে বিদেশ থেকে।’

‘বিশ্বের সংকট সরকার তৈরি করেনি’

এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের দশাই মোটামুটি একই বলেও দাবি করেন তাজুল। বলেন, ‘কেউ বলতে পারবে না পৃথিবীর অবস্থা কোন দিকে যাবে। দুঃসময় সারা পৃথিবীতে। এটা বর্তমান সরকার তৈরি করেনি।

‘আমরা আশা করেছিলাম ২০৪১ সালের আগেই আমরা উন্নত রাষ্ট্র হব। কিন্তু সব কিছুর ওপরে তো আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব আমাদের, এ ছাড়া আমরা মতামত দেই। কিন্তু ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে সারা পৃথিবীতেই অর্থনৈতিক টালমাটাল অবস্থা।’

বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হবে বলে যে সমালোচনা উঠেছে তার জবাবও দেন তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অনেক উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করছে। আমাদের দেশের অবস্থা এত খারাপ হলে তারা তো আমাদের সহযোগিতা করত না। একটি গ্রুপ বলে বাংলাদেশ নাকি শ্রীলঙ্কা হবে। কেন হবে? শ্রীলঙ্কা কী করেছে আর আমরা কী করছি? ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছেন।’

‘অতীতে রিজার্ভের সমান আমদানি এক মাসেই’

যে আমদানি দেশের অর্থনীতিতে চাপে ফেলেছে, সেটি সামলাতে পারা দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রমাণ হিসেবেও দেখছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমদানি করছি বেশি। বাংলাদেশ প্রতি মাসে ৮ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণের আমদানি করে। এতে একদিকে আমাদের ওপর চাপ আসছে, আরেক দিকে দেখে খুশিও লাগছে যে বাংলাদেশ মাসে ৮ বিলিয়ন ডলার আমদানি করে। একসময় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৯ বিলিয়ন ডলারের। আমরা তো এখন এটা হ্যান্ডেল করতে (সামাল দিতে) পারছি।’

সরকার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার বিভিন্নভাবে মানুষকে সক্ষম করে তুলছে। বড় প্রজেক্ট হচ্ছে মানে আমাদের আর্ন হচ্ছে, জিডিপি বাড়বে।’

পেট্রল-অকটেনের দাম বাড়ানো কেন

দেশে উৎপাদন হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ার কারণ দেখিয়ে পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ানোর কারণ নিয়ে মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের গ্যাস ফিল্ডগুলা থেকে যেই গ্যাস ওঠে, এর সঙ্গে একটা লিকুইড ওঠে, যেটাকে রিফাইন করে আমরা পেট্রল ও অকটেন বানাই। কিন্তু এগুলো কারা ব্যবহার করে? তারা গুলশানের মতো এলাকায় থাকে, ১৫ টাকার পানি ২৫ টাকা দিয়ে কেনে তারা।’

তেলের সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ইউরোপের অধিকাংশ দেশসহ সারা বিশ্বের প্রায় ২৫ ভাগ জ্বালানি আসে রাশিয়া থেকে, যা এখন পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্বের সব চেয়ে বেশি জ্বালানি সরবরাহ আসে ভেনিজুয়েলা থেকে। কিন্তু দেশটির ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে সেখান থেকেও নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

তেলের দাম বাড়ানোর কারণে আরও মূল্যস্ফীতি হবে কি না- এমন প্রশ্নে তাজুল বলেন, ‘তেলের দাম বেড়েছে, মূল্যস্ফীতির কথা বলা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি আমরা ডেকে আনিনি, এটা জোর করে ঢুকেছে।

‘জনগণের জন্যই জনগণকে কষ্ট করতে হবে।’

নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অমিতোষ পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল মামুন।

আরও পড়ুন:
শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা আরও ১ মাস
পাইকারি ও কাঁচাবাজার এক জায়গায় হওয়া উচিত নয়: তাজুল
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় অস্ট্রেলিয়াতে ক্ষিপ্ত ট্রাকচালকরা
বিক্ষোভের মধ্যে শপথ নিলেন রনিল
‘রাজধানীর চারপাশে হবে পাইকারি কাঁচাবাজার’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Corruption irregularity cannot continue like this High Court

এভাবে দুর্নীতি-অনিয়ম চলতে পারে না: হাইকোর্ট

এভাবে দুর্নীতি-অনিয়ম চলতে পারে না: হাইকোর্ট ওসির সম্পদের অনুসন্ধান চেয়ে করা রিটের শুনানিকালে হাইকোর্ট মন্তব্য করে এভাবে চলতে পারে না। ফাইল ছবি
রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার সুমনকে উদ্দেশ করে বেঞ্চ বলে, ‘আপনার মনোভাবের সঙ্গে আমরা শতভাগ একমত। তবে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলামের আটতলা বাড়িসহ বিপুল সম্পদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখলের অভিযোগের বিষয়ে দুদকে একটি আবেদন করুন। দুদক যদি ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আমরা দেখব।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলামের আটতলা বাড়িসহ বিপুল সম্পদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখলের অনুসন্ধান চেয়ে করা রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছে, ‘এভাবে দুর্নীতি-অনিয়ম চলতে পারে না। এভাবে চলতে দেয়া যায় না।’

বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করে।

রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার সুমনকে উদ্দেশ করে বেঞ্চ বলে, ‘আপনার মনোভাবের সঙ্গে আমরা শতভাগ একমত। তবে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলামের আটতলা বাড়িসহ বিপুল সম্পদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখলের অভিযোগের বিষয়ে দুদকে একটি আবেদন করুন। দুদক যদি ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আমরা দেখব।’

এরপর আদালত রিট শুনানি আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান।

এর আগে বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন ব্যারিস্টার সুমন।

রিটে ওসি মনিরুলের সম্পদের অনুসন্ধানের নির্দেশনার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, পুলিশপ্রধান, দুদকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

‘এভাবে চলতে দেয়া যায় না, এভাবে চলতে পারে না’ বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। ওসির সম্পদের অনুসন্ধান চেয়ে করা রিটের শুনানিকালে এ মন্তব্য করে হাইকোর্ট।

দুদকের কাছে একটা আবেদন করে আগামী সপ্তাহে ফের আবেদন নিয়ে যেতে বলেছে আদালত।

পরে রিটটি শুনানির জন্য আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেছে আদালত।

এভাবে দুর্নীতি-অনিয়ম চলতে পারে না: হাইকোর্ট

রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলামের আট তলা বাড়িসহ বিপুল সম্পদের খবর আদালতের নজরে আনেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

এর আগে সোমবার ‘ঢাকায় ওসির আটতলা বাড়িসহ বিপুল সম্পদ’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।

প্রতিবেদনটি দেখে আদালত তাকে লিখিত আবেদন নিয়ে যেতে পরামর্শ দেন। আজ তিনি রিট আবেদন করেন।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চে আজ শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ রিটের পরামর্শ দেয়।

বিষয়টি আদালতের নজরে আনা ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, বিষয়টি আদালতের নজরে আনা দরকার। দুদকের তদন্তের জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ মামলা।’

তিনি বলেন, ‘দেশে অসংখ্য সৎ পুলিশ অফিসার আছে, কিন্তু এই ওসির মতো যদি সবাই এত সম্পদ বানান, তাহলে সৎ অফিসার যারা, তারা মনে অনেক বেশি কষ্ট পাবেন। ফলে দেশে আর সৎ অফিসার নাও হতে পারেন।

‘এভাবে অসৎ অফিসাররা যদি ট্রেন্ড তৈরি করেন, তাহলে সৎ অফিসার খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ জন্য বিষয়টি আদালতের নজরে নিয়ে এসেছি। আদালত শুনেছেন। শুনে আদালত বলেছেন, এটা তো ঠিক না।

‘তখন আদালত দুদকের আইনজীবীকে ডেকেছেন। দুদকের আইনজীবীও বলেছেন, এটা খুবই হুমকিস্বরূপ; এটা হতাশাজনক। তখন আদালত আমাকে পিটিশন নিয়ে যেতে বলেছেন। আমি আগামী ১০ আগস্ট বুধবারই এ বিষয়ে পিটিশন দায়ের করব।’

গত ৫ আগস্ট একটি দৈনিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, ঢাকায় আটতলা বাড়ি করেছেন ওসি। তিনি বানাচ্ছেন আরেকটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে তার রয়েছে চারটি প্লট।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটিতে এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে ওসি মনিরের বিরুদ্ধে।

এতে আরও বলা হয়, পুলিশের একজন পরিদর্শক হয়ে ওসি মনিরুল কীভাবে এত সম্পদের মালিক হয়েছেন, তা নিয়ে পুলিশ বিভাগে আলোচনা চলছে। বর্তমানে তিনি নবম গ্রেডে ২২ হাজার টাকা স্কেলে সাকল্যে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা বেতন পান।

আরও পড়ুন:
ওসির বিপুল সম্পদের খবর হাইকোর্টে তুললেন ব্যারিস্টার সুমন
শুধু ফুটবলার না, সফল মানুষ বানাতে চান ব্যারিস্টার সুমন
দুদকের মামলায় ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Swiss banks have no chance of keeping corruption money Ambassador

সুইস ব্যাংকে দুর্নীতির অর্থ রাখার সুযোগ নেই: রাষ্ট্রদূত

সুইস ব্যাংকে দুর্নীতির অর্থ রাখার সুযোগ নেই: রাষ্ট্রদূত বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিকাব আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড। ছবি: নিউজবাংলা
সুইস রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড কালো টাকা রাখার স্বর্গরাজ্য নয়। এই বিষয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। সুইস ব্যাংক অবৈধ অর্থকে কোনোভাবেই উৎসাহিত করে না। সুইস ব্যাংক বিশ্বের একটি অন্যতম ব্যাংকিং ব্যবস্থা, আমাদের জিডিপির অন্যতম একটি বড় অংশ। সুইস জাতীয় ব্যাংক প্রতি বছর বাংলাদেশি গ্রাহকদের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় ব্যক্তিগত টাকা সংরক্ষণ হার বাড়ছে না, বরং কমছে।’

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমা নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে বাংলাদেশে দেশটির রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড জানিয়েছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত বা অপ্রদর্শিত অর্থ রাখার সুযোগ তাদের কোনো ব্যাংকে নেই। তিনি এও জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের মধ্যে কারা টাকা জমা রেখেছে, সে বিষয়ে তার দেশের সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য চায়নি বাংলাদেশ সরকার।

বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়তে তার দেশের উদ্যোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে সাংবা‌দিক‌দের এক প্রশ্নের জবা‌বে তিনি এ কথা ব‌লেন।

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড ব‌লেন, ‘সুইস ব্যাংক আন্তর্জাতিক সব প্রক্রিয়া মেনেই কাজ করে। সেখানে কালো টাকা বা দুর্নীতির অর্থ রাখার কোনো সুযোগ নেই।’

সুইস ব্যাংক বলতে সুইজারল্যান্ডের কোনো একক ব্যাংককে বোঝায় না। সুইস নাশনাল ব্যাংক বলতে যে প্রতিষ্ঠানটি আছে, সেটি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশটির যেকোনো ব্যাংকে রাখা টাকাই সুইস ব্যাংকের টাকা হিসেবে আলোচনায় আসে।

গত জুনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সুইস ব্যাংকগুলোতে এখন বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার বেশি। টাকার অবমূল্যায়নে এই অঙ্ক এখন ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গত ১২ মাসে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে।

এই অর্থ জমা নিয়ে বরাবর তুমুল বিতর্ক হয় বাংলাদেশে। সমালোচকরা বলে আসছেন, বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ এটি।

সুইস ব্যাংকে দুর্নীতির অর্থ রাখার সুযোগ নেই: রাষ্ট্রদূত

অবশ্য বাংলাদেশ থেকে নানাভাবে অবৈধ উপায়ে পাচার হওয়া অর্থ যেমন সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা হয়, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও দেশটিতে অর্থ জমা রাখেন। তাই সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশিদের মোট অর্থের মধ্যে বৈধ-অবৈধ সব অর্থই রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে অনেক প্রশ্নের জবাব মেলে না এ কারণে যে, সাধারণত সুইস ব্যাংক অর্থের উৎস গোপন রাখে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন।

এই হিসাব প্রকাশের আগের বছর সুইস ব্যাংক থেকে বাংলাদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ ফেরত আনার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। এরপর সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে (সুইস ব্যাংক) সঞ্চয়কারী বাংলাদেশিদের নামের তালিকা চায় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব ব্যাংকে টাকা জমাকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানাতে বলা হয়। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে দেয়া হয়নি।

সুইস রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড কালো টাকা রাখার স্বর্গরাজ্য নয়। এই বিষয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। সুইস ব্যাংক অবৈধ অর্থকে কোনোভাবেই উৎসাহিত করে না। সুইজ ব্যাংক বিশ্বের একটি অন্যতম ব্যাংকিং ব্যবস্থা, আমাদের জিডিপির অন্যতম একটি বড় অংশ। সুইজ জাতীয় ব্যাংক প্রতি বছর বাংলাদেশি গ্রাহকদের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় ব্যক্তিগত টাকা সংরক্ষণ হার বাড়ছে না, বরং কমছে।’

অন্য এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিরা কত টাকা জমা রেখেছে ওই তথ্য প্রতি বছর সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক দিয়ে থাকে। ওই অর্থ অবৈধপথে আয় করা হয়েছে কি না, এটি আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়।’

বাংলাদেশ সরকার সুনির্দিষ্ট কারও তথ্য চায়নি

অন্য এক সুইস প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার সুইজারল্যান্ড সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট করে কারো সম্পর্কে তথ্য চায়নি।

অর্থপাচার নিয়ে সুইজারল্যান্ড আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি ব‌লেন, ‘তথ্য পেতে হলে কী করতে হবে, সে সম্পর্কে আমরা সরকারকে জানিয়েছি, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো তথ্যের জন্য আমাদের কাছে অনুরোধ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক মান অনুসারে আমরা যেকোনো ধরনের তথ্য আদান-প্রদানের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও চুক্তি করতে পারি। ইতোম‌ধ্যে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে সব তথ্য সরবরাহ করে‌ছি।’

বাংলা‌দে‌শের স‌ঙ্গে সুইজারল‌্যা‌ন্ডের সহ‌যো‌গিতা অব‌্যাহত থাক‌বে জানিয়ে নাথালি চুয়ার্ড ব‌লেন, ‘গত বছর দুই দেশের বাণিজ্য এক বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এ দেশের স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম সুইস সরকারের সহায়তায় হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সুইস সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। সুইস সরকার ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে। আগামী দিনগুলোতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

আগামী দিনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তির প্রসারে সুইস সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে ব‌লেও জানান রাষ্ট্রদূত।

রো‌হিঙ্গা সংকট প্রস‌ঙ্গে তিনি ব‌লেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধা‌নে সুইজারল্যান্ড সব সময় বাংলাদেশের পাশে আছে। সুইজারল্যান্ড চায় রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও নিরাপদে প্রত্যাবাসন হোক।

‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন অবস্থায় আমরা বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করব। আমরা জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য নই। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে এখন রয়েছি। সেখানে আমরা বিষয়গুলো তুলে ধরব।'

অনুষ্ঠানে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) এর সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈনুদ্দীনের সঞ্চালনায় সংগঠনটির সভাপতি রেজাউল করিম লোটাসসহ উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যরা।

আরও পড়ুন:
মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির আড়ালে অর্থপাচার!
বাংলাদেশ ব্যাংকের পুঁজিবাজারবান্ধব আরেক সিদ্ধান্ত
শ্রীলঙ্কা সংকট পাকিস্তান বাংলাদেশের জন্য সতর্কতা: আইএমএফ

মন্তব্য

p
উপরে