× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
BNP is not calling Dr Kamal despite sitting with everyone
hear-news
player
print-icon

ড. কামালকে ডাকছে না বিএনপি

ড-কামালকে-ডাকছে-না-বিএনপি
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর সংবাদ সম্মেলনে জোটের নেতারা। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে মোকাবিলায় বিএনপি ২০ দলের পাশাপাশি গঠন করে নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ফাইল ছবি
আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে নব্বইয়ের দশকে ড. কামাল হোসেন গণফোরাম গঠন করেন। তিনি গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিরোধী নির্বাচনি জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা হয়ে সাড়া ফেলে দেন। এই জোটে বিএনপি সবচেয়ে বড় দল হলেও অনেকটা বিস্ময়করভাবেই বর্ষীয়ান এই নেতাকে সামনে নিয়ে আসে। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা নানাভাবে দলের এই সিদ্ধান্তে খুশি ছিলেন না, সেটি ভোট শেষে নানাভাবে প্রকাশিত হয়।

সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে আওয়ামী লীগের মিত্র ছাড়া সবার সঙ্গে বিএনপি সংলাপের উদ্যোগ নিলেও এই তালিকায় এখন পর্যন্ত নেই ২০১৮ সালে যার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন হয়েছিল, সেই ড. কামাল হোসেন।

ঐক্যফ্রন্টের শরিক জেএসডির আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে বিএনপির সংলাপ হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব আরও কথা বলেছেন জুনায়েদ সাকীর গণসংহতি আন্দোলনসহ আরও কিছু দলের সঙ্গে। রাজনীতিতে প্রায় ‘গুরুত্বহীন’ পিপলস লীগের সঙ্গেও বসেছে বিএনপি, সব মিলিয়ে ২১টি দল।

বিএনপি স্পষ্টতই উপেক্ষা করছে ড. কামালকে। তবে তিনি বিএনপি ডাক দিলে আলোচনায় আগ্রহী। নিউজবাংলাকে বলেন, বিএনপির সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছাতে আলোচনায় বসতে আপত্তি নেই।

ড. কামালকে ডাকছে না বিএনপি

২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর রাতে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় বৈঠক করে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার শীর্ষ নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে নব্বইয়ের দশকে ড. কামাল হোসেন গণফোরাম গঠন করেন। তিনি গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিরোধী নির্বাচনি জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা হয়ে সাড়া ফেলে দেন। এই জোটে বিএনপি সবচেয়ে বড় দল হলেও অনেকটা বিস্ময়করভাবেই বর্ষীয়ান এই নেতাকে সামনে নিয়ে আসে।

তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা নানাভাবে দলের এই সিদ্ধান্তে খুশি ছিল না, সেটি ভোট শেষে নানাভাবে প্রকাশিত হয়। এমনকি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও এটি পছন্দ করেননি বলে গণমাধ্যমে নানা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে এ নিয়ে অবশ্য নেতারা কিছু বলছেন না।

সেই নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কার্যত অকার্যকর, যদিও এর মধ্যে মান্না, রবদের সঙ্গে বিএনপি নেতারা নানা সময় নানা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে, কোথাও নেই কেবল ড. কামাল।

ড. কামালকে ডাকছে না বিএনপি

২০১৮ সালে তখনকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে ইসির সঙ্গে বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন৷ বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতারা অংশ নেন। ছবি: সংগৃহীত

নব্বই দশকে আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে গণফোরাম গঠন করা ড. কামাল জাতীয় ঐক্যের কথা বললেও নিজ দলের ঐক্যই ধরে রাখতে পারলেন না। দুই ভাগ হয়ে গেছে দল। একাংশের সভাপতি হয়ে গেছেন এককালে তার ডেপুটি মোস্তফা মোহসীন মন্টু।

বিএনপির সংলাপে ড. কামাল নেই কেন- জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়টির ব্যাপারে আমরা এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি। যখন বসব তখন জানতে পারবেন।’

গত নির্বাচন নিয়ে ড. কামালের সঙ্গে বিএনপির অবিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলে যে আলোচনা সে জন্যই কি তার সঙ্গে বসা হচ্ছে না? এমন প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বললামই তো যে আমরা এখনও সময় নির্ধারণ করিনি, এরপর তো আর কোনো প্রশ্ন থাকে না।’

বিএনপির আগ্রহ না থাকলেও দলটির সঙ্গে বসতে মুখিয়ে ড. কামাল। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি কথা বলতে চায় তাহলে অবশ্যই কথা বলতে পারে। কথা তো বলাই যায়।’

ড. কামালকে ডাকছে না বিএনপি

গণফোরামের এক বৈঠকে ডা. কামাল হোসেন ও মোস্তফা মহসিন মন্টু (ডানে)। ফাইল ছবি

এবার একাদশ জাতীয় নির্বাচনের মতো আপনাকে কোনো জোটের নেতৃত্বে দেখা যাবে কি না জানতে চাইলে গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘দেখা যাক, হতে পারে। আলাপ-আলোচনা চলতেই থাকবে। তার মধ্য দিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি এবং একটি অর্থপূর্ণ ঐক্য গড়ে উঠতে পারে। সে চেষ্টা আমাদের সব সময় থাকবে, যা ধীরে ধীরে আরও জোরদার হবে।’

ঐক্যফ্রন্টের যে পরিণতি

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর ঐক্যফ্রন্টকে আর সক্রিয় অবস্থায় দেখা যায়নি।

ফ্রন্টের অন্যতম নেতা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে ঘোষণা দিয়েই বের হয়ে গেছেন ভোটের পর পর। এমনকি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোটে যাওয়ায় নিজেকে গাধাও বলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
সরকারকে ধাক্কা দিতে গিয়ে বিএনপিই পড়ে গেছে: তথ্যমন্ত্রী
বিএনপির চেয়ে আড়াই গুণ বেশি আয় জাপার
‘লুটেরা মন্ত্রীদের পদ্মা সেতু থেকে টুস করে ফেলে দেবে জনগণ’
বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চলে গেলেন বরিশালের সাবেক মেয়র কামাল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Who will return the sumati of Basumati?
বাস ভাড়ায় নৈরাজ্য-৪

বসুমতির সুমতি ফেরাবে কে?

বসুমতির সুমতি ফেরাবে কে?
বসুমতি পরিবহনের ভাড়ার নৈরাজ্য নতুন নয়। গত নভেম্বরে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর পর বাস ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণের পর বসুমতি এর চেয়ে বেশি হারে ভাড়া নেয়ার ১৬টি ঘটনার প্রমাণ পেয়ে অন্য ২৪টি কোম্পানির মতো এই কোম্পানির রুট পারমিট বাতিলেরও সুপারিশ করে বিআরটিএ। কিন্তু আর বাড়তি ভাড়া আদায় করা হবে না-এই মুচলেকা দেয়ার পর এই চূড়ান্ত ব্যবস্থা আর নেয়া হয়নি। এবার যে ভাড়া ঠিক করা হয়েছে, তা তারা আগেই নিত। এবার বাড়তির ওপর নিচ্ছে আরও বেশি।

মিরপুর-১ নম্বরে বসুমতি পরিবহনের বাসে যাত্রীদের তোলার সময় চালকের সহকারী আগেই বলে নিচ্ছেন, ‘ওই এয়ারপোর্ট ৫০, এয়ারপোর্ট ৫০, এয়ারপোর্ট ৫০।’ যাত্রীরা ভাড়া নিয়ে আপত্তি করলে তিনি তেজ দেখিয়ে বলছেন, ‘উঠলে উঠেন। না হয় নামেন মিয়া।’

কিলোমিটারপ্রতি আড়াই টাকা হারে ভাড়া ঠিক করার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ থেকে যে চার্ট দেয়া হয়েছে, তাতে এই পথের দূরত্ব দেখানো হয়েছে ১৬ কিলোমিটার। এই পথে ভাড়া হয় ৪০ টাকা, যা আদায় করা হতো আগে থেকেই। এখন বাড়তি আরও ১০ টাকা নেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ এই পথের কিলোমিটার প্রতি ভাড়া আসে ৩ টাকা ১৬ পয়সা।

মিরপুর-১ থেকে কিলোমিটার চারেক দূরত্ব পেরিয়ে মিরপুর সাড়ে ১১ থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারের জন্যও ভাড়া সেই ৫০ টাকাই ভাড়া আদায় হচ্ছে। এই হিসাবে এই পথের জন্য ভাড়া হচ্ছে ৪ টাকা ১৬ পয়সা হারে।

বসুমতি পরিবহনের ভাড়ার নৈরাজ্য নতুন নয়। গত নভেম্বরে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর পর বাস ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণের পর বসুমতি এর চেয়ে বেশি হারে ভাড়া নেয়ার ১৬টি ঘটনার প্রমাণ পেয়ে অন্য ২৪টি কোম্পানির মতো এই কোম্পানির রুট পারমিট বাতিলেরও সুপারিশ করে বিআরটিএ। কিন্তু আর বাড়তি ভাড়া আদায় করা হবে না- এই মুচলেকা দেয়ার পর এই চূড়ান্ত ব্যবস্থা আর নেয়া হয়নি।

গত নভেম্বরের পর বাস ভাড়া বেশি নেয়ার বিষয়ে ফোন করলে বিআরটিএর কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতেন। কিন্তু এবার ফোনের পর ফোন করেও তাদের নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না।

বাস ভাড়ার নৈরাজ্য এতটাই বেড়েছে যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ একটি বাসে চেপে পরিস্থিতি দেখতে বের হন।

তিনি মিরপুর-১১-এর পূরবী সিনেমা হল থেকে বনানীর কাকলী পর্যন্ত গিয়ে ভাড়া দিতে বাধ্য হয়েছেন ৩০ টাকা। কিন্তু এই পথের সরকার নির্ধারিত ভাড়া হয় ১৭ টাকা।

বাড়তি ১৩ টাকা দেয়ার পর তার উপলব্ধি হচ্ছে সাধারণ মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছে। এরপর তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

মন্ত্রী মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে পরিবহন মালিকদের সুমতির ওপর ভরসা করার কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, তিনি আশা করেন, সরকারের সঙ্গে বৈঠকে যে কথা তারা দিয়েছেন, সেটি মেনে চলবেন। নইলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

এমন হুঁশিয়ারি মন্ত্রী গত নভেম্বরেও অবশ্য দিয়েছেন। কিন্তু বাসযাত্রীর নিত্য ঠকে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ ওয়েবিল বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার জানেনই না যে ওয়েবিল এখনও আছে।

এবার বাস ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে গণমাধ্যমের সামনে ঘোষণার পর সাংবাদিকরা যখন তার কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চান, তখন তিনি বলেন, তাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে আছেন, তারা যদি অভিযোগ পান, ব্যবস্থা নেবেন।

বসুমতির সুমতি ফেরাবে কে?

ওয়েবিলের নামে কত টাকা বেশি নেয় বসুমতি

জ্বালানি তেলের দাম এবার লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানোর পরও দেখা যাচ্ছে বসুমতির সুমতি আসলে ফেরেনি। বরং বর্তমানে নির্ধারণ করে দেয়া হারের চেয়ে বেশি হারে তারা আগেই আদায় করত। এবার তা আরও বেড়েছে।

কালশী মোড় থেকে কেউ উঠলে তাকে কমপক্ষে বিমানবন্দর সড়কের জোয়ারসাহারা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হবে। এই পথের দূরত্ব ৬ দশমিক ২০ কিলোমিটার। ভাড়া হয় ১৫ টাকা ৭৫ পয়সা, কিন্তু আদায় করা হচ্ছে ২৫ টাকা। কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া হয় ৪ টাকার বেশি।

এই রুটের যাত্রীরা অভিযোগ করে বলছেন, আগেও বসুমতি বেশি ভাড়া নিত। এখনও বেশি ভাড়া নেয়।

যাত্রীদের একজন মো. সুমন জানান, আনসার ক্যাম্প থেকে পল্লবী পর্যন্ত তার কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছে ২০ টাকা।

এই পথের দূরত্ব হয় ৫.৯ কিলোমিটার। এই হিসেবে ভাড়া আসে ১৪ টাকা ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ এখানে প্রতি কিলোমিটারের জন্য আদায় করা হচ্ছে ৩ টাকা ৩৯ পয়সা।

আরেক যাত্রী ফয়েজ আহমেদ জানান, ‘মিরপুর ১২ নম্বর থেকে মিরপুর-১ নম্বরের ভাড়া ১০ টাকা। ওরা ১৫ থেকে ২০ টাকা নেয়। যার কাছ থেকে যা নিতে পারে। সব স্পটেই ভাড়া বেশি নেয় বসুমতি।’

‘আমারে না কইয়া কোম্পানির লোকেরে ধরেন’

চার্টে ৪০ টাকা উল্লেখ থাকলেও মিরপুর-১ থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ৫০ টাকা নেয়ার কারণ জানতে চাইলে বসুমতির একটি বাসে ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা মো. রাসেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চার্ডে ৪০ টাকা। কোম্পানির হিসাবে ৫০। এহন ১০ ট্যাকা আমি কইততে দিব? আমারে না কইয়া কোম্পানির লোকেরে ধরেন। কোম্পানি ওয়েবিলে ভাড়া নেয়। আর যাত্রীরা চার্ড ধইরা ভাড়া দিলে আমরা তো বিপদে পইড়া যামু।’

একই কোম্পানির অন্য একটি বাসের ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা মো. সুমনের বক্তব্যও একই রকম। তিনি বললেন, ‘কোম্পানি যেইডা কইছে, আমরা তাই করছি। আমাগো কিছু করার আছে?’

অন্য একটি বাসের ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা যুবক নিজের নাম আকাশ উল্লেখ করে বলেন, ‘আগেই মিরপুর একেত্তে এয়ারপোর্ডের ভাড়া ৪০ ট্যাকা আছিল।’

৪০ টাকা তো বাড়তি ছিল- এই মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এক ট্যাকাও বেশি নেই না। কোম্পানি যে ভাড়া ঠিক কইরা দিছে, সেইটাই নেই।

‘মিরপুর একেত্তে এয়ারপোর্ড তিনডা চেক পড়ে। এক চেকের ভাড়া ২৫, আরেকটার ১৫ টাকা একটার ১০ ট্যাকা। তিন মিইল্যা ৫০ টাকা।’

কিলোমিটার হিসেবে ভাড়া না নিয়ে চেকের হিসাব দেয়ার কারণ কী- এমন প্রশ্নেও সেই আগের জবাব, ‘কোম্পানিরে জিজ্ঞাস করেন।’

দায় চালক-সহকারীর: কোম্পানি কর্মকর্তা

শ্রমিকরা কোম্পানির দিকে আঙুল তুললেও একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তারা নির্ধারিত ভাড়া আদায় করতে বলেছেন। বাড়তি আদায় করছেন শ্রমিকরা। তারা নিজেরাও কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছেন।

মিরপুর-১ থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ১০ টাকা বেশি নেয়ার কথা বিষয়টি জানালে বসুমতির গাজীপুর রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দুলাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ড্রাইভার-স্টাফরা তাহলে এগুলো করতেছে। আজকে আমিও কিছু অভিযোগ পেয়েছি। গাবতলী থেকে গাজীপুরের ৮৫ টাকার ভাড়া ৯০ টাকা নিচ্ছে। কালশী থেকে ৭৫ টাকার ভাড়া ৮০ টাকা নিচ্ছে। আমি কয়েকটা গাড়িকে খুঁজে পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছি। তারা যে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ৫০ টাকা বলে ডেকে ডেকে যাত্রী তুলেছে এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক।’

কিলোমিটারের হিসাবের বদলে অবৈধ ওয়েবিলে যাত্রী তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মালিকের হিসাব রাখার কারণে ওয়েবিল চালু আছে।’

আরও পড়ুন:
বাস ভাড়ার প্রতারণা কাদেরকে জানালেন জাফরউল্লাহ
বিআরটিএ ঘুমিয়ে, ফায়দা নিয়েই যাচ্ছে রাইদা
স্বাধীন পরিবহন ভাড়া কাটে ‘স্বাধীনভাবে’
কার কাছে বিচার দেবেন বাসযাত্রীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
So much interest in the debt scandal shares of the company

ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডোবা কোম্পানির শেয়ারে এত আগ্রহ!

ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডোবা কোম্পানির শেয়ারে এত আগ্রহ! ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার এখন ছুটছে পাগলা ঘোড়ার মতো।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব কোম্পানির দর বাড়ার পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এগুলোর দর বাড়ে জুয়াড়িদের কারণে। আর গুজবে কান দিয়ে কিছুটা দাম বাড়ান সাধারণ বিনিয়োগকারী।

ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিআইএফসি ২০১৭ সালে ১০ টাকার শেয়ারপ্রতি ৬৯ টাকা ৫৫ পয়সা লোকসান দেয়ার পর বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দিতে পারলেই বাঁচে। একপর্যায়ে দর নেমে আসে দুই টাকার ঘরে। সেই কোম্পানির শেয়ার এখন ছুটছে পাগলা ঘোড়ার মতো।

ওই বছর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি কোনো সম্পদ ছিলই না, ছিল ৬৬ টাকা ৪০ পয়সার দায়।

গত ১৪ জুলাই কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৬ টাকা ২০ পয়সা। সেদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান ছিল ৬ হাজার ৩২৪ পয়েন্ট। সেখান থেকে ধস নেমে ফ্লোর প্রাইস ঘোষণার দিন ২৮ জুলাই সূচকের অবস্থান নামে ৫ হাজার ৯৮০ পয়েন্ট। অর্থাৎ ১০ কর্মদিবসে কমে ৩৪৪ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট।

তবে বাজারের গতির বিপরীতে গিয়ে এই সময়ে বিআইএফসির শেয়ারদর এই সময়ে বাড়ে ৫১ শতাংশের বেশি। সেদিন শেয়ারদর দাঁড়ায় ৯ টাকা ৪০ পয়সা। ১০ দিনে বাড়ে ৩ টাকা ২০ পয়সা।

ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে গণনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার আসার পর পাঁচ দিনে ৩৩১ পয়েন্ট সূচক বাড়ার পর বিআইএফসির শেয়ারদর বাড়ে আরও বেশি।

একপর্যায়ে তা ১৩ টাকা ৬০ পয়সায় উঠে যায়। অবশ্য এখন সেখান থেকে কিছুটা কমে ১২ টাকা ২০ পয়সায় নেমেছে।
২০১৭ সালের হিসাব দেয়ার পর বিআইএফসি ২০১৯ সালের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করেছে। এই বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১২ টাকা ২০ পয়সা।

২০১৭ সালের তুলনায় লোকসান কমলেও শেয়ারপ্রতি দায়ের দিক থেকে আরও অবনতি হয়েছে। ২০১৯ সাল শেষে শেয়ারপ্রতি দায় দাঁড়ায় ৯৪ টাকা ২৭ পয়সায়।

এমন একটি কোম্পানির শেয়ারদর ১৮ কর্মদিবসে শতভাগের বেশি বেড়ে যাওয়া কোনো স্বাভাবিকতার মধ্যে পড়ে না- এটা বলাই যায়।
বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, বিআইএফসির মতো ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় সব শেয়ারদরই একইভাবে ঊর্ধ্বগামী।

সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বাড়ছে ইন্টার‌ন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং ইউনিয়ন ক্যাপিটালের দর।

ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া এসব কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও দেশসেরা কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বাড়েনি সে রকম।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব কোম্পানির দর বাড়ার পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এগুলোর দর বাড়ে জুয়াড়িদের কারণে। আর গুজবে কান দিয়ে কিছুটা দাম বাড়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারী।

ইন্টার‌ন্যাশনাল লিজিং

২০১৯ সালে কোম্পানিটি ১০ টাকার শেয়ারের বিপরীতে লোকসান দিয়েছে ১২৬ টাকা ৩৬ পয়সা। পরের বছর লোকসান দাঁড়ায় ৩১ টাকা ৩০ পয়সা। ২০২১ সালের আর্থিক হিসাব এখনও প্রকাশ হয়নি। সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া ওই বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব শেষে জানানো হয়, তিন প্রান্তিক মিলে শেয়ারপ্রতি লোকসান ৭ টাকা ৭১ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি দায় ১৫২ টাকা ৬৪ পয়সা।

গত ২০ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৫ টাকা। গত দুই কর্মদিবস কিছুটা কমার পরও এখন ৬ টাকা ৭০ পয়সা। বেড়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা বা ৩৪ শতাংশ। দুই দিন আগে তা ছিল আরও বেশি, ৭ টাকা ১০ পয়সা।

গত বছর কোম্পানিটির সাবেক এমডি পিকে হালদারের যোগসাজশে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আলোচনায় আসে প্রতিষ্ঠানটি।

ইউনিয়ন ক্যাপিটাল

২০১৮ সালে শেয়ারপ্রতি ৫৬ পয়সা লাভের পর ২০১৯ সালে ৬ টাকা ১৩ পয়সা লোকসান হয়। ২০২০ সালে ৩ টাকা ৮ পয়সা এবং ২০২১ সালে সর্বশেষ ৮ টাকা ৩ পয়সা লোকসান গুনেছে কোম্পানিটি।

গত ২ নভেম্বর বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এক কোটি টাকার বেশি ঋণ প্রদানে নিষেধাজ্ঞা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে পারছে না ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড।

স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণের অর্থ আদায় না করেই অবলোপন বা রাইট অফ করছে। এভাবে নানা অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদ শেষ করে দায় পরিশোধের সক্ষমতা হারাচ্ছে আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানটি। শত কোটি টাকা আটকে রেখে ঋণ দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ২০ জুলাই এই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৬ টাকা ৯০ পয়সা। এক পর্যায়ে গত রোববার উঠে যায় ৯ টাকা ৪০ পয়সায়। পরদিন কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ টাকায়। এই কয়দিনে বেড়েছে ২ টাকা ১০ পয়সা বা ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

এই কোম্পানির শেয়ারদরে অস্বাভাবিকতা আগেও দেখা গেছে। ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এর শেয়ারদর ১৫ টাকা ৫০ পয়সায় উঠে গিয়েছিল। পরে আবার ৬ টাকা ৬০ পয়সায় নেমেও যায়।

ফাস ফাইন্যান্স

পি কে হালদারের ঋণে কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া কোম্পানি এটিও।

২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ১৪ টাকা ৬১ পয়সা লোকসান দেয়া কোম্পানিটি পরের বছরের আর্থিক প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করেনি। ওই বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আয় ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ হয়েছে প্রায় এক বছর পর।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই বছরের তিন প্রান্তিকে ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৭ টাকা ২০ পয়সা। এর এই সময় পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি দায় আছে ২০ টাকা ৫৯ পয়সা।

গত ১৯ জুলাই এই কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৪ টাকা ৯০ পয়সা। বর্তমান দর ৬ টাকা ৩০ পয়সা। বেড়েছে ১ টাকা ৪০ পয়সা বা ২৮ দশমিক ৬০ শতাংশ।

তবে দর আরও বেড়ে হয়েছিল ৬ টাকা ৭০ পয়সা।

গত বছর সেপ্টেম্বরেও কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিকবাবে বাড়তে দেখা যায়। নানা গুজব-গুঞ্জনে এক পর্যায়ে তা ১১ টাকা ৭০ পয়সায় উঠে যায়।

ফারইস্ট ফাইন্যান্স

এই কোম্পানিটি চলতি অর্থবছরের কোনো প্রান্তিকের হিসাব প্রকাশ করেনি এখনও। ২০২১ সালের চূড়ান্ত হিসাবও দেয়নি। ওই বছরের ১ নভেম্বর প্রকাশ করে সেপ্টেম্বর পর‌্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত হিসাব দিয়েছে।

এতে দেখা যায় গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা। শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য কেবল ১ টাকা ১৫ পয়সার।

গত ১৯ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৫ টাকা ২০ পয়সা। বর্তমান দর ৬ টাকা ৩০ পয়সা। বেড়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা বা ২১ দশমিক ১৫ শতাংশ।

তবে দর বেড়েছিল আরও বেশি, ৬ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত।

গত বছরের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্তও কোম্পাটির দর অস্বাভাবিকহারে বাড়তে দেখা যায়। সে সময় দর উঠে ১০ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত। গত ২২ মে নেমে আসে ৪ টাকা ৭০ পয়সায়।

ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড

২০২১ সালের আর্থিক হিসাব ও চলতি অর্থবছরের দুই প্রান্তিকের হিসাব একসঙ্গে প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি। এতে দেখা যায় গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের এর শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৮ টাকা ৪৭ পয়সা। আর গত জুন শেষে দুই প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৪ টাকা ১২ পয়সা।

কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি কোনো সম্পদ নেই, উল্টো দায় আছে ১৮ টাকা ৪৪ পয়সার।

এই কোম্পানির শেয়ারদর গত ২০ জুলাই ছিল ৫ টাকা। বর্তমান দর ৬ টাকা। অর্থাৎ এক মাসেরও কম সময়ে বেড়েছে এক টাকা বা ২০ শতাংশ।

গত বছরের সেপ্টেম্বরেও একবার শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তা উঠে যায় ৯ টাকা ৯০ পয়সায়।

প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স

এই কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ৯৩ টাকা লোকসান দেয়ার পর ২০২১ সালের আর্থিক হিসাব এখনও প্রকাশ করেনি।

গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটি ওই বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি ৬ টাকা ৩৩ পয়সা লোকসান দিয়েছে। তখন প্রতি শেয়ারের বিপরীতে সম্পদ ছিল ৯ টাকা ৮১ পয়সার।

গত ১৯ জুলাই এই কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৬ টাকা ৪০ পয়সা। বর্তমান দর ৭ টাকা ৭০ পয়সা। এই কয়দিনে বেড়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা বা ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

সোমবার দর ৮ টাকা ১০ পয়সাতেও উঠেছিল, পরে সেখান থেকে কমে ৪০ পয়সা।

এই কোম্পানির দর বাড়া শুরু হয় গত ২২ মে। সেদিন হাতবদল হয় ৬ টাকা ১০ পয়সা দরে।

গত বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে এই কোম্পানিটির শেয়ারদরে এবারের চেয়ে বেশি উল্লম্ফন দেখা যায়। সে সময় দর ৫ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়ে যায় ১৪ টাকা ৬০ পয়সায়। সেখান থেকে পরে নেমে আসে ৬ টাকায়।

‘এর কারণ জুয়া’

যেসব কোম্পানির অদূর ভবিষ্যতে মুনাফায় ফেরা বা লভ্যাংশ দেয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা নেই, সেসব কোম্পানির শেয়ারদরে এভাবে লাফ দেয়ার পেছনে জুয়াড়িয়াদের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে বলে মনে করেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এই অধ্যাপক বলেন, ‘এসব কোম্পানি তো আর রাতারাতি ভালো হয়ে যায় না। কিন্তু তারপরও এগুলোর দাম বাড়ে, এর কারণ হলো জুয়া খেলা। জুয়াড়িরা এসব শেয়ারের দাম টেনে তোলে। আর গুজবে কান দিয়ে অনেকেই এই শেয়ার কেনেন।’

তিনি বলেন, ‘দেশে যদি ২০ লাখ বিনিয়োগকারী থাকেন, এর মধ্যে ৫০ থেকে ৭০ হাজার হবে যারা প্রকৃত বিনিয়োগকারী। তারা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করেন। বাকিরা ওমুক ভাই, তমুক ভাইকে ফলো করে শেয়ার কেনেন।

‘এসব গুজব এবং জুয়াড়িদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হয়তো তিন বারের মধ্যে একবার উইন করেছে, তাই বেশি টাকা বানানোর আশায় সেই পথই বারবার অনুসরণ করে। এতে জুয়াড়িরা লাভবান হয়, কিন্তু তারা কোনো আয় করতে পারেন না।’

আরও পড়ুন:
বিনিয়োগে যাচ্ছে স্টক ডিলাররা
ফ্লোর প্রাইসে প্রথম ‘বড় পতন’
তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলে নিল পুঁজিবাজার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Big losses due to lack of small notes

ছোট নোটের অভাবে বড় ক্ষতি

ছোট নোটের অভাবে বড় ক্ষতি এক ও ২ টাকার নোটের অভাবে এখন কার্যত নোটের সবচেয়ে ছোট একক হয়ে গেছে ৫ টাকা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
প্রতিদিন রিকশা বা বাসের ভাড়া, বিস্কুট, চানাচুর বা চিপসের মতো ছোটোখাটো কেনাকাটা, সবজি বা মাছ বা দুধ বা অন্য কোনো নিত্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রে এভাবে কত এক বা দুই টাকা চলে যাচ্ছে, দিন শেষে বা মাস শেষে অঙ্কটা কত বড়, সেই হিসাব কষারও সুযোগ নেই। তবে ছোট ছোট অঙ্কগুলো জীবনে বড় চাপ ফেলছে এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

১০ টাকায় যে বিস্কুটের প্যাকেট পাওয়া যেত, সেটির দাম এখন ১৫। বেড়েছে ৫০ শতাংশ। কিন্তু উপকরণের মূল্য আর বাজারজাতকরণের খরচ কি ৫০ শতাংশ বেড়েছে?

তাহলে ৫ টাকা বা ৫০ শতাংশ কেন বাড়ল দাম?

কোমলপানীয়র সবচেয়ে ছোট বোতলের দামও ২০ টাকার জায়গায় হয়েছে ২৫ টাকা। এখানেও বেড়েছে ৫ টাকা।

দুই ক্ষেত্রেই পাঁচ টাকা বাড়ার পেছনে একই কারণ থাকতে পারে, সেটি হলো এক ও ২ টাকার নোটের অভাবে এখন কার্যত নোটের সবচেয়ে ছোট একক হয়ে গেছে ৫ টাকা।

বাংলাদেশে ব্যাংক নোটের সবচেয়ে ক্ষুদ্র একক এক টাকা ও দুই টাকার নোটের অভাবের কারণে দেশবাসী কী পরিমাণ ঠকল সেটির একটি উদাহরণ হতে পারে বাস ভাড়া। কিলোমিটার হিসেবে ভাড়ার এখন হিসাব নেই। ভাড়ার হিসাব কমপক্ষে ৫ টাকা দিয়ে হয়।

ছোট নোটের অভাবে বড় ক্ষতি
১১ টাকা বা ১২ টাকা বা ১৭ টাকা বা ২১ টাকার হিসাব নেই। গুনতে হয় ১৫ না হয় ২০ না হয় ২৫ না হয় ৩০ টাকা-এভাবে। ছবি: নিউজবাংলা

অর্থাৎ ১০ টাকা থেকে বেড়ে ভাড়া ১২ টাকা হয় না, হয়েছে ১৫ টাকা। ১৭ টাকা না হয়ে হয়েছে ২০ টাকা।

কাঁচাবাজারের চিত্রটাও একই রকম। ১১ টাকা বা ১২ টাকা বা ১৭ টাকা বা ২১ টাকার হিসাব নেই। গুনতে হয় ১৫ না হয় ২০ না হয় ২৫ না হয় ৩০ টাকা-এভাবে।

এককালে রিকশা ভাড়াও ৮ টাকা বা ৯ টাকা বা ১০ টাকা বা ১১ টাকা বা এভাবে নির্ধারণ হতো। সেখানেও এখন ১৫ বা ২০-এভাবে ঠিক হয়।

প্রতিদিন রিকশা বা বাসের ভাড়া, বিস্কুট, চানাচুর বা চিপসের মতো ছোটখাট কেনাকাটা, সবজি বা মাছ বা দুধ বা অন্য কোনো নিত্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রে এভাবে কত এক বা দুই টাকা চলে যাচ্ছে, দিন শেষে বা মাস শেষে অঙ্কটা কত বড়, সেই হিসাব কষারও সুযোগ নেই। তবে ছোট ছোট অঙ্কগুলো জীবনে বড় চাপ ফেলছে এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

ছোট নোটের অভাবে বড় ক্ষতি

দিন শেষে এই এক দুই টাকা করে অঙ্কটা যদি ২০ টাকা হয়, তাহলে মাসে বাড়তি বেরিয়ে যাচ্ছে ৬০০ টাকা। পরিবারের একাধিক সদস্যের যদি এই ক্ষতি হয়, তাহলে অঙ্কটা আরও বড় হয়।

মধুবাগ থেকে লেগুনা করে মগবাজার ওয়্যারলেস স্টপেজে নামেন আমেনা খাতুন। ভাড়া ৮ টাকা। ১০ টাকা দিতেই ভাংতি নেই বলে জানান হেলপার। দাবি করেও লাভ হয়নি। টেম্পু ছেড়ে চলে যায়।

লেগুনার অন্য যাত্রীদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ১০ টাকা দেয়ার পর ২ টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। দুই টাকার নোট এবং কয়েন সংকটে টেম্পু যাত্রী এবং হেলপারের মধ্যে কথা কাটাকাটি যেন নিত্য ব্যাপার হয়ে গেছে।

শেওড়াপাড়া কাঁচাবাজার থেকে সবজি কেনার পর দোকানি পাবেন ১৮৪ টাকা। রেহানা বেগম ২০০ টাকার নোট দেয়ার পর দোকানি তাকে ফেরত দেন ১৪ টাকা। বাকি দুই টাকা খুচরা নেই বলে জানান তিনি।

ছোট নোটের অভাবে বড় ক্ষতি

শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। রেহানা বলেন, প্রায় প্রতিদিন যাতায়াতে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। বাসায় অন্যদেরও ক্ষেত্রেও এমন সমস্যা হচ্ছে। হিসেব করে তিনি বলেন, ‘খুচরার অভাবে প্রতিদিন যদি ১০ টাকা এভাবে চলে যায় তাহলে মাসে প্রায় ৩০০ টাকা।’

একই চিত্র মুদিখানার দোকানেও। সব কেনাকাটার পর দোকানি রফিকুল ইসলামকে জানায়, ‘বিল ২২৪ টাকা। দোকানিকে ২২৫ টাকা দেয়া হলে এক টাকা ফেরত দেয়ার বদলে অনেক ক্ষেত্রে ধরিয়ে দেয়া হয় চকলেট। কেউ আবার বলে, ভাংতি নাই। তখন চলে আসতে হয়।’

ছোট নোটের অভাবের কারণ, ব্যাংকগুলো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহ করা হচ্ছে না। অনেক ব্যাংকও ছোট নোটের চাহিদা না দেয়ায় সংকট বাড়ছে।

প্রতিদিন চলছে বিতণ্ডা

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, তাতে ভাংতি টাকার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে ১, ২ ও ৫ টাকার প্রয়োজন বেশি।

৬ কিলোমিটারের বাস ভাড়া হওয়ার কথা ১২ টাকা। ছোট নোটের চল থাকলে নেয়া হতে পারত ১২ টাকা। কিন্তু দিতে হচ্ছে ১৫ টাকা। আবার কখনও কখনও ৫ টাকার নোট না থাকার কথা জানিয়ে আরও বেশি আদায় হচ্ছে।

মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় শিকড় বাসের যাত্রী শিপন আলী বলেন, ‘দুই-এক টাকা করে বাড়তি দিতে হচ্ছে। ভাংতি না থাকার অজুহাতে বেশি টাকা নিয়ে নিচ্ছে বাসওয়ালা।’

আলিফ বাসের যাত্রী রোকেয়া বলেন, ‘এক টাকার কয়েন ছিল এতদিন, কিন্তু এখন তাও পাওয়া যায় না। দুই টাকার নোট খুবই নোংরা।’

বাসের কন্ডাক্টররা বলেন, ‘খুচরা নোট কোথাও পাওয়া যায় না। ভাড়া দিতে ১ টাকা এবং ২ টাকার নোট বেশি দামে কিনে আনতে হয়। তাও পাওয়া যায় না। সরকারও নোট ছাড়ে না। আমরা না পাইলে কেমনে দিমু?দৈনিক এ নিয়ে ক্যাচাল হয়।’

শেওড়াপাড়া বাজার করতে আসা সুমনা ইয়ামমিন বলেন, ‘প্রতিদিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। যেভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে ১ ও ২ টাকার নোট দরকার। কিন্তু এই নোটগুলো পাওয়া যায় না। দোকানিরাও দিতে পারে না।’

সাধারণের মানুষের অভিযোগ, ৫ টাকার নোটও এখন বিরল হয়ে গেছে। যাও পাওয়া যায়, তাও জরাজীর্ণ। কয়েন কিছু পাওয়া যায়, কিন্তু তা পকেটে রাখা কঠিন।

তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত বাজারে ১ টাকার কাগুজে নোটের সরবরাহ বাড়ানো। এতে বিক্রেতারাও অজুহাত দিতে পারবে না, আবার ক্রেতারাও ঠকবে না।

কেন নেই খুচরা নোট

কয়েন সংকটের পেছনে ব্যাংকের গাফিলতিকেই দায়ী করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বারবার বলেও ব্যাংকগুলোকে এ কাজে উৎসাহিত করতে পারছে না নিয়ন্ত্রক এই সংস্থা।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম ১ টাকার কাগুজে মুদ্রার প্রচলন হয়। আর ১৯৭৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সবশেষ ১ টাকার নতুন নোট ছাড়া হয়েছিল। বর্তমানে ১ টাকার যে নোটটি বাজারে পাওয়া যায়, সেটি হলো ১৯৭৯ সালের ছাড়া নোট। এর পাশাপাশি রয়েছে ১ টাকার ধাতব মুদ্রা।

১৯৮৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর বাজারে আসে ২ টাকার নোট। এরপর আরও কয়েক দফা বিভিন্ন ডিজাইনের ২ টাকার নোট বাজারে আনা হয়। সবশেষ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ১২ তারিখ নতুন ডিজাইনের ২ টাকার নোট বাজার আসে, যেটি এখনও বিদ্যমান। এর পাশাপাশি রয়েছে ২ টাকার ধাতব মুদ্রা।

১৯৭২ সালের ২ জুন বাজারে প্রথম ৫ টাকার কাগুজে মুদ্রা ছাড়া হয়। এরপর বেশ কয়েকবার এ নোটের ডিজাইন পরিবর্তন হয়। ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর সবশেষ নতুন ডিজাইনের ৫ টাকার নোট বাজারে ছাড়া হয়। এখন সেই নোট বাজারে চলমান।

১৯৯৫ সালের ১০ অক্টোবর বাজারে আসে ৫ টাকার ধাতব মুদ্রা। ২০১০ সালের ১২ অক্টোবর বাজারে আসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সম্বলিত ৫ টাকার মুদ্রা। বর্তমানে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকা সরকারি মুদ্রা। বাকিগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নোট বা মুদ্রা।

সংকট নেই, বলছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘টাকা ছাপানোর আগে কী পরিমাণ টাকার দরকার হবে সেটা আগে পর্যালোচনা করা হয়। হঠাৎ করে ছাপানো হয় না। কারণ, টাকা ছাপানোর একটি প্রক্রিয়া আছে। সেভাবেই ছাপানো হয়। পরে বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে তা বাজারে ছাড়া হয়।’

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান ব্যাংকগুলোর গাফিলতির কথা। বলেন, ‘নোট বা কয়েনের সংকট নেই। চাহিদার ভিত্তিতে নোট সরবরাহ করা হয়। তবে ব্যাংকগুলো থেকে চাহিদা পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনাগত জটিলতার কারণে এই নোটগুলো নেবার ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখানো হয় না।’

আরও পড়ুন:
আরও ৩০ পয়সা দর হারাল টাকা
খোলাবাজারে ডলারের দাম রেকর্ড ১১৫ টাকা
টাকা সাদা করেছেন ২ হাজার ৩১১ জন
বিদেশি বিনিয়োগের পালেও জোর হাওয়া
মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির আড়ালে অর্থপাচার!

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The day laborer left the 2 lakh taka collected without identification

পরিচয় না দিয়ে কুড়িয়ে পাওয়া ২ লাখ টাকা রেখে গেলেন দিনমজুর

পরিচয় না দিয়ে কুড়িয়ে পাওয়া ২ লাখ টাকা রেখে গেলেন দিনমজুর কাউন্সিলর মর্তুজার কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া টাকা ফেরত নিচ্ছেন শংকর দাস। ছবি: নিউজবাংলা
কাউন্সিলর মর্তুজা আবেদীন বলেন, ‘এখনও সমাজে ভালো ও নির্লোভ মানুষ আছে! একজন দিনমজুরের যে, ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার প্রতি লোভ নেই- তা জানুক মানুষ।’

তিন দিন আগে প্রায় ২ লাখ টাকা হারিয়ে আবারও ফেরত পেলেন বরিশাল নগরীর এক মিল মালিক।

মঙ্গলবার বিকালে নগরীর ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর একেএম মর্তুজার কাছ থেকে ওই টাকা গ্রহণ করেন আটা-ময়দার মিল মালিক শংকর দাস।

এ সময় কাউন্সিলর জানান, ওই টাকা রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়ে তার অফিসে রেখে গেছেন এক দিনমজুর। তবে সেই দিনমজুরের ইচ্ছায় তার পরিচয় গোপন রাখেন তিনি।

নগরীর বিসিক এলাকার সুগন্ধা ফ্লাওয়ার মিলের মালিক শংকর কুমার সাহা জানান, গত ৬ আগস্ট বিসিক এলাকার ফ্রেশ বেকারি থেকে তাকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেয়া হয়। ওই টাকা একটি শপিং ব্যাগে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঝুলিয়ে নগরীর হাটখোলা কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

শংকর সাহা বলেন, ‘বিসিক এলাকার এবড়ো-থেবড়ো রাস্তায় শপিং ব্যাগ ছিঁড়ে পড়ে যায়। হাটখোলা গিয়ে দেখি- টাকাভর্তি ব্যাগ নেই।’

তাৎক্ষণিকভাবে টাকার সন্ধান শুরু করেন শংকর। পথে যে কয়টি দোকানে সিসি ক্যামেরা আছে সবগুলোর ফুটেজ দেখেও টাকার সন্ধান পাননি তিনি। গত ৮ আগস্ট সারাদিন টাকার সন্ধানে মাইকিংও করা হয়। টাকা ফিরিয়ে দিলে পুরস্কার দেয়ারও ঘোষণা দেয়া হয়।

এ অবস্থায় টাকা ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন শংকর। কিন্তু মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তাকে নগরীর ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর একেএম মতুর্জা আবেদীন ফোন করেন এবং তার হারানো টাকার পরিমাণ জানতে চান। পরে নিশ্চিত হয়ে বিকালে তার কার্যালয়ে গিয়ে টাকা আনতে বলেন।

শংকর সাহা বলেন, ‘রাস্তায় টাকা কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তি গরীব লোক। তার পরিচয় জানাতে নিষেধ করেছেন। তাই কাউন্সিলর তার পরিচয় জানাননি। এমনকি তাকে আমি চোখেও দেখিনি।’

এ বিষয়ে কাউন্সিলর মর্তুজা আবেদীন বলেন, ‘টাকা কুড়িয়ে পাওয়া ব্যক্তি একজন শ্রমিক। এক কথায় দিনমজুর। টাকা কুড়িয়ে পেয়ে তিনি মালিকের সন্ধান করতে থাকেন। পরে মাইকিং শুনে স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেবে আমার কাছে ওই টাকা জমা দিয়ে যান।’

লোকটি কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা জানিয়ে কাউন্সিলর বলেন, ‘এখনও সমাজে ভালো ও নির্লোভ মানুষ আছে! একজন দিনমজুরের যে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার প্রতি লোভ নেই- তা জানুক মানুষ।’

আরও পড়ুন:
ডলার আরও ‘রাজসিক’, বাজারি দাম ১০৬ টাকা
আরও ২৫ পয়সা দর হারাল টাকা
ব্যাংকেও সেঞ্চুরি হাঁকাল ডলার
এক ডলার এখন ৯৪ টাকা ৪৫ পয়সা
বিশা পাগলার ঘরে বস্তাভরা টাকা এলো কোথা থেকে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
56 percent growth in remittances in early August

আগস্টের শুরুতে রেমিট্যান্সে ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

আগস্টের শুরুতে রেমিট্যান্সে ৫৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি
করোনা মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধাক্কায় ওলোটপালট হয়ে যাওয়া অর্থনীতিতে জ্বালনি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে যখন দেশজুড়ে ক্ষোভ ও হতাশার তথ্য, তখন স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের বিস্ময়কর উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েই চলেছে। জুলাই মাসের পর আগস্ট মাসেও বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের পালে জোর হাওয়া লেগেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসের ৪ দিনেই ৩৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এ হিসাবে প্রতিদিন দেশে আসছে ৮৬৯ কোটি টাকা। যা গত বছরের আগস্টের একই সময়ের চেয়ে ৫৬ শতাংশ বেশি।

বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা) হিসাবে টাকার অঙ্কে ৪ দিনের এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা।

বাজারে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো ১১০ টাকা দরেও রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে। সে হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ আরও বেশি।

গত বছরের জুলাই মাসের ৪ দিনে (১ থেকে ৪ জুলাই) ২৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত (১ মাস ৪ দিনে) ২৪৬ কোটি ৪০ লাখ (২.৪৬ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ২১০ কোটি ৭০ লাখ (২.১০ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার (২.১ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিলগত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে বেশি ১২ শতাংশ।

প্রতি ডলার ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা হিসাবে টাকার অঙ্কে ওই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

করোনা মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধাক্কায় ওলোটপালট হয়ে যাওয়া অর্থনীতিতে জ্বালনি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে যখন দেশজুড়ে ক্ষোভ ও হতাশার তথ্য, তখন স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের বিস্ময়কর উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। চলতি জুলাইয়ের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এই অর্থবছরে তৈরি হবে নতুন রেকর্ড। এতে অনেকটাই চাপমুক্ত হবে দেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, ১ জুলাই শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ২১০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এ হিসাবে প্রতিদিন ৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার করে পাঠিয়েছেন তারা; টাকার হিসাবে প্রতিদিন দেশে এসেছে ৬৪০ কোটি টাকা।

২০২১ সালের মে মাসে ২১৭ কোটি ১০ লাখ (২.১৭ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এরপর চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই কেবল ২০০ কোটি (২.০১ বিলিয়ন) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল।

গত বছরের জুলাই মাসে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে মন্দা দেখা দেয়। পুরো অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি (২১.০৩ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল; গড়ে প্রতিদিন ৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন ঘটে ২০২০-২১ অর্থবছরে। সে সময় ২ হাজার ৪৭৮ কোটি (২৪.৭৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। ওই অর্থবছরে প্রতিদিন গড়ে ৬ কোটি ৭৯ ডলার প্রবাসী আয় হিসেবে দেশে এসেছিল।

এসব হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রেমিট্যান্সে রয়েছে ঊর্ধ্বগতি। এই প্রবণতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং এই অর্থবছরে নতুন রেকর্ড তৈরি হবে বলে মনে করছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে সাড়ে ৭ লাখ লোক কাজের সন্ধানে বিভিন্ন দেশে গেছেন। তারা ইতোমধ্যে রেমিট্যান্স পাঠাতে শুরু করেছেন। সে কারণেই ঈদের পরও রেমিট্যান্স বাড়ছে। এই ইতিবাচক ধারা পুরো অর্থবছর জুড়েই অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করছি।’

সাধারণত দুই ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়ে; ঈদের পর কমে যায়। তবে এবার কোরবানির ঈদের আগে যে গতিতে রেমিট্যান্স এসেছে, সেই ধারা ঈদের পরেও অব্যাহত আছে।

দেশে গত ১০ জুলাই কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। ঈদের আগে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঢল নামে। ঈদের ৯০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ঈদের পরে ২১ দিনে এসেছে ১১৮ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের কিছু বেশি।

ঈদের পরেও কেন রেমিট্যান্স বাড়ছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত কয়েক মাসে ডলারের দর বেশ খানিকটা বেড়েছে। প্রণোদনার পরিমাণ দুই শতাংশ থেকে আড়াই শতাংশ করা হয়েছে। এসব কারণে প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। সে কারণেই বাড়ছে রেমিট্যান্স।’

তিনি বলেন, ‘এই সময়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির খুবই দরকার ছিল। নানা পদক্ষেপের কারণে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে আশা করছি এখন মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে রোববার প্রতি ডলার ৯৪ টাকা ৭০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো এই দরে ডলার কিনেছে। তবে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো ১০৪/১০৫ টাকা দরে প্রবাসীদের কাছ থেকে ডলার সংগ্রহ করেছে। কোনো কোনো ব্যাংক ১১০ টাকা দরেও রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে বলে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন।

সে হিসাবে কোনো প্রবাসী এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে ১ ডলার দেশে পাঠালে ১১০ টাকার সঙ্গে নগদ প্রণোদনার ২ টাকা ৫০ পয়সা যুক্ত হয়ে ১১২ টাকা ৫০ পয়সা পাচ্ছেন।

কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজারে রোববার ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০৮ টাকায় ডলার বিক্রি হয়েছে। সে কারণেই প্রবাসীরা এখন অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ে দেশে টাকা না পাঠিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন বলে জানান ব্যাংকাররা।

রেমিট্যান্স বাড়ার আরেকটি কারণের কথা বলেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হয়েছে। সেখানে কর্মরত আমাদের প্রবাসীরা বেশি আয় করছেন। দেশেও বেশি টাকা পাঠাতে পারছেন।

‘দেশে ডলারের সংকট চলছে। মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা চলছে। রিজার্ভ কমছে। এই মুহূর্তে রেমিট্যান্স বাড়া অর্থনীতির জন্য খুবই ভালো হবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ও তেমন পূর্বাভাস দিয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরজুড়ে (২০২১-২২) ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে থাকা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে নতুন অর্থবছরে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

এই অর্থবছরে রেমিট্যান্স বাড়ার কারণ হিসেবে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘করোনা-পরবর্তী সময়ে দেশ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শ্রমিক নতুন করে বিদেশে যাওয়ায় তাদের কাছ থেকে বাড়তি পরিমাণ রেমিট্যান্স পাওয়া যাবে।’

দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর হালচাল নিয়ে তৈরি করা পাক্ষিক প্রতিবেদনেও রেমিট্যান্স নিয়ে সুসংবাদের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ২১ জুলাই প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। করোনা মহামারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় সব প্রবাসী তাদের কর্মস্থলে ফিরেছেন। টাকার বিপরীতে ডলার বেশ খানিকটা শক্তিশালী হয়েছে।

‘এই বিষয়গুলো আগামী মাসগুলোতে রেমিট্যান্স বাড়াতে সাহায্য করবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৩০ জুন ২০২২-২৩ অর্থবছরের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এতে বলা হয়, রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং চলতি অর্থবছরে গত বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি আসবে।

আরও পড়ুন:
১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স জুলাইয়ে
অর্থনীতিকে চাপমুক্ত করছে রেমিট্যান্স
প্রবাসী আয়ের পালে জোর হাওয়া, নতুন রেকর্ডের আশা
রপ্তানি কমবে, রেমিট্যান্স বাড়বে: বাংলাদেশ ব্যাংক
ঈদের পরও রেমিট্যান্সে ভালো গতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Why did BRTA fail in implementing fares?

ভাড়া নির্ধারণ করে কার্যকরে কেন ব্যর্থ বিআরটিএ

ভাড়া নির্ধারণ করে কার্যকরে কেন ব্যর্থ বিআরটিএ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর নতুন করে শনিবার বিআরটিএ যে বাস ভাড়া নির্ধারণ করেছে তাতে মহানগরীতে বাড়ানো হয়েছে কিলোমিটারে ৩৫ পয়সা। ফাইল ছবি
নির্ধারিত ভাড়া কখনোই কার্যকর করতে পারেন না কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ‘ভাড়া বাড়ার পরই কিন্তু মনিটরিং শুরু হয়। গতবার ভাড়া বৃদ্ধির পর বিআরটিএ ম্যাজিস্ট্রেটরা ছিল।’

রাজধানীর ইস্কাটন থেকে মেরুল বাড্ডা পর্যন্ত দূরত্ব ৪ দশমিক ৩ কিলোমিটারের মতো। গত নভেম্বরে তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকার ভাড়ার যে হার ঠিক করে দিয়েছে, তাতে এই পথের ভাড়া ১০ টাকার কম আসে। তবে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা হিসেবে এটাই আদায় করার কথা। কিন্তু এই পথটুকুর জন্য স্বাধীন পরিবহন আদায় করে ২০ টাকা, অর্থাৎ দ্বিগুণ।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর নতুন করে শনিবার বিআরটিএ যে বাস ভাড়া নির্ধারণ করেছে তাতে মহানগরীতে বাড়ানো হয়েছে কিলোমিটারে ৩৫ পয়সা। ফলে এখন থেকে প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীদের গুনতে হবে আড়াই টাকা।

সরকার এই রুটের জন্য নতুন করে এবার যে ভাড়া ঠিক করে দিয়েছে, তাতে কিলোমিটার হিসাবে এই দূরত্বে ভাড়া হয় ১০ টাকা ৭৫ পয়সা।

কিন্তু সমস্যা হলো নিশ্চিতভাবেই বলে দেয়া যায়, বাসগুলো এখন ২০ টাকার ওপর বাড়তি হিসাব করে আদায় করবে। এর কারণ আগেও তাই হয়েছে।

এই বাড়তি ভাড়া আদায়ে গত কয়েক বছরে রাজধানীতে বাস মালিকরা যে ওয়েবিল পদ্ধতি চালু করেছে, সেটি বন্ধ করতে পারেনি সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ।

গত নভেম্বরে বাস ভাড়া ২৬ শতাংশ বাড়ানোর পর বিআরটিএ জোরালোভাবে বলেছিল, তারা ওয়েবিল বন্ধ করে দিয়ে কিলোমিটার হিসেবে ভাড়া আদায় নিশ্চিত করবে। যারা কথা শুনবে না, তাদের রুট পারমিট বাতিলের হুমকিও দেয়া হয়। কিন্তু নিজের এই হুমকি ভুলে গিয়ে কদিন পরই বিআরটিএর অভিযান থেমে যায়।

ভাড়া নির্ধারণ করে কার্যকরে কেন ব্যর্থ বিআরটিএ
সারা দেশে প্রায় এক লাখ বাস চলে। ঢাকা মহানগরীতে চলে সর্বোচ্চ ৬ হাজার। এই ৬ হাজার গাড়িতে অনেক সময় কিছু কিছু অনিয়ম হয়। ফাইল ছবি

বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মাদ মজুমদার বলেন, ‘গতবার ভাড়া নির্ধারণ করার পর মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশনের সদস্য বিআরটিএ পুলিশ যৌথ টিম কাজ করেছে, যা কয়েক মাস অব্যাহত ছিল। যারা অতিরিক্ত ভাড়া নিয়েছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি।’

কতগুলো বাস জব্দ করা হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে বলতে পারব না।’

যে ভাড়া নির্ধারণ করেন তার অতিরিক্ত নেন বাস মালিকরা। নির্ধারিত ভাড়া কখনোই কার্যকর করতে পারেন না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ‘ভাড়া বাড়ার পরই কিন্তু মনিটরিং শুরু হয়। গতবার ভাড়া বৃদ্ধির পর বিআরটিএ ম্যাজিস্ট্রেটরা ছিল।’

ঢাকা শহরে অনেক বাস চলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চোখের আড়ালে যদি করে ফেলে আমাদের নজরে এলে শাস্তি পায় নাই- এমন দৃষ্টান্ত কিন্তু নেই। আগামীকাল থেকে শক্তভাবে মনিটর করা হবে৷ কোনো অনিয়ম পেলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। প্রত্যেক বাসে ভাড়ার তালিকা বড় করে চার্ট দেব। যদি কেউ না টানায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।’

বাড়তি ভাড়া রোধে বিআরটিএ ৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট সব সময় রাস্তায় থাকে দাবি করে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘তারা সপ্তাহের ৬ দিন রাস্তায় থাকে। এরা মোবাইল কোর্ট করতেছে।’

আর যাত্রীরা বছরের পর বছর ধরে ওয়েবিলের নামে বাড়তি ভাড়া দিয়ে চলেছে। আগামী দিনে বন্ধ হবে- এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছে না।

প্রতিটি ওয়েবিলই ২ কিলোমিটার বা এমন দূরত্বে বসানো হয়েছে। আর এই দূরত্বের জন্য সাধারণত ১০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এই হিসাবে রাজধানীতে বেশির ভাগ বাসেরই ভাড়া কিলোমিটার হিসেবে ৫ টাকা পড়ছে। কোথাও কোথাও তা আরও বেশি পড়ে।

তবে সড়ক পরিবহন সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ওয়েবিল অবৈধ। তাই এমন কিছু দেখলে তারা ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেটরা যদি এ ধরনের অনিয়ম দেখতে পায় তাদের আইনের আওতায় আনা হয়। জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করব, তাদের যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছে, তারা যাতে ভাড়া মনিটর করে, যাতে বাড়তি ভাড়া কেউ আদায় করতে না পারে।’

বাস মালিকদের সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ খান নিজের ঘোষণার উল্টো কথা বলেন পরে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় এক লাখ বাস চলে। মহানগরীতে চলে সর্বোচ্চ ৬ হাজার। এই ৬ হাজার গাড়িতে ঢাকা মহানগরীতে অনেক সময় কিছু কিছু অনিয়ম হয়। এ অনিয়ম রোধ করার জন্য আমরা মালিক শ্রমিকরা, ম্যাজিস্ট্রেটসহ দুই মাস ধরে কাজ করছি।

‘আমি নিজেও রাস্তায় ছিলাম আপনারা অনেকে দেখেছেন মহানগরীতে আমরা সব জায়গায় করতে পেরেছি তা না। কোথাও কোথাও আমরা করতে পারি নাই। মালিক সমিতি থেকে নির্দেশ দিলেই সেটা সবাই পালন করবে বাংলাদেশে এমন কোনো সেক্টর এখন পর্যন্ত হয় নাই। যারা মানে নাই, তাদের গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে। সুতরাং আমরা কোনো অন্যায়কে সাপোর্ট করি না। কোনো অন্যায় হোক সেটা আমরা চাই না, আমাদের চেষ্টাও অব্যাহত আছে।’

ভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভাড়ার বিষয়টি তারা (বিআরটিএ) নির্ধারণ করেছে। এখানে সাড়ে ৪২ শতাংশ তেলের দাম বেড়েছে। আর ভাড়া বৃদ্ধি করেছে ২২ শতাংশ।’

ওয়েবিল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এই পরিবহন নেতা বলেন, ‘যারা এটা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত কাজ চলতেছে।’

অনিয়ম রোধে পরিবহন মালিক সমিতি শতভাগ সফল হয়নি জানিয়ে এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘ঢাকা ছাড়া সারা দেশে আমরা সাকসেস।’

এসি বাসের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একজনের দুই কোটি টাকা দামের বাস। একজনের এক কোটি টাকা দামের বাস। সে যে পরিমাণ সেবা দিচ্ছে, সেই পরিমাণ টাকা নিচ্ছে। এসির ভাড়া ট্র‍াকের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না।’

বিআরটিএ দূরপাল্লার বাসে নতুন করে ভাড়া বাড়িয়েছে কিলোমিটারে ৪০ পয়সা বা ২২ শতাংশ। ফলে এখন দূরপাল্লায় যাত্রীদের কিলোমিটারে ভাড়া গুনতে হবে ২ টাকা ২০ পয়সা করে।

ফলে আন্তজেলা রুটেও চিত্রটা মোটামুটি একই রকমের। ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত দুটি রুট একরামপুর ও গাইটাল থেকে কাপাসিয়া হয়ে ঢাকার মহাখালী টার্মিনালের দূরত্ব হয় ১১০ থেকে ১১২ কিলোমিটার। নরসিংদী হয়ে যেসব গাড়ি চলে, সেগুলোর দূরত্ব হয় ১২০ থেকে ১২৫ কিলোমিটার।

সরকার দূরপাল্লায় ভাড়া ঠিক করে দেয় ৫২ আসনের। কিন্তু এই রুটের বাসগুলোতে আসন ৪৫টির মতো। সেই হিসাবে ৭টি আসন কমলে ভাড়া আনুপাতিক হারে বাড়ানো যাবে।

এই হিসাবে কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সার জায়গায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি হারে ভাড়া নেয়া যাবে ২ টাকা ১৬ পয়সা হারে।

এই হিসাবে কাপাসিয়া হয়ে ভাড়া হওয়ার কথা ২৪০ টাকার মধ্যে। কিন্তু আদায় হচ্ছে ২৭০ টাকা।

আগে থেকেই ৩০ টাকা বেশি আদায় করে চলা বাসমালিকদের আসলে নতুন ঘোষণা অনুযায়ী কোনো ভাড়া বাড়ানোর কথা না।

আরও পড়ুন:
সেপ্টেম্বরে আরও ৩ পথে নামছে নগর পরিবহনের ২০০ বাস
বাংলাদেশে তেল বিক্রি করতে চায় রাশিয়া: প্রতিমন্ত্রী
ঢাকায় ফেরার তাড়া, সুযোগ নিচ্ছেন চালকরা
সম্ভাবনায় ফিরছে নগর পরিবহন
তেল গ্যাসের দাম বেড়েছে নেপালেও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The bottom of the Teesta is filled with low water

তিস্তার তলদেশ ভরাট, অল্প পানিতেই প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

তিস্তার তলদেশ ভরাট, অল্প পানিতেই প্লাবিত নিম্নাঞ্চল তিস্তার বাড়ন্ত পানিতে প্লাবিত হয়েছে তীরবর্তী অনেক এলাকা। ছবি: নিউজবাংলা
তিস্তা সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক নদী গবেষক অধ্যাপক মঞ্জুর আরিফ বলেন, ‘আমাদের অভিন্ন নদীর অভিন্ন অধিকার রয়েছে। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে আলোচনার মাধ্যমে হোক, সমঝোতার মাধ্যমে হোক বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হোক উদ্যোগ নিতে হবে। নদী ব্যবস্থাপনায় সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে নদী নিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।’

ঘরের ভেতর কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে বাদাম খাচ্ছেন গঙ্গাচড়ার পশ্চিম ইচলীর বাসিন্দা আব্দুস সোবহান। খাওয়া-দাওয়ার বন্দোবস্ত না থাকায় বাদাম, চিড়ামুড়ি খেয়ে পরিবার নিয়ে ছয় দিন ধরে এভাবেই দিন পার করতে হচ্ছে তাকে। দিনে বাড়িতে থাকলেও সাপ ও পোকামাকড়ের ভয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে বাঁধে।

তিস্তার বাড়ন্ত পানিতে এবার প্লাবিত হয়েছে গঙ্গাচড়ার পূর্ব ও পশ্চিম ইচলী, কেল্লার পাড়, বাগেরহাটসহ আশেপাশের সহস্রাধিক বাড়ি।

স্থানীয়রা বলছেন, এ বছর ছয়বার প্লাবিত হয়েছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল। আসছে ভাদ্রের বন্যায় আরেক দফায় প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বৃষ্টি না থাকলেও উজানের বাড়ন্ত পানিতে বাড়ি ঘরে পানি ঢোকায় ক্ষুব্ধ নদী পাড়ের মানুষজন। বছর বছর এই অবস্থা বাড়ছেই।

তিস্তার তলদেশ ভরাট, অল্প পানিতেই প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

নদীপাড়ের মানুষজন বলছেন, এখন আর নদীর গভীরতা নেই। নদীতে বালু আর বালু। একটু পানিতেই নদী উপছে বাড়ি ঘরে পানি উঠছে।

কেন এই অবস্থা

নদী গবেষক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারতের সিকিম থেকে ১৭৮৭ সালে তিস্তা নদীর গতিপথ বদল হয়ে বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার কালীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে লালমিনরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ছুঁয়ে মিলিত হয় কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে। ৩১৫ কিলোমিটারের এই নদীর ১১৫ কিমি বাংলাদেশ ভূখণ্ডে অবস্থিত। ২০১৪ সালে তিস্তার ভারতীয় অংশের গজলডোবায় বাঁধ দেয় তারা।

‘কিন্তু বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও উজানি ঢলে আসা বালু আর পলি পড়ে ধীরে ধীরে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে । নদীর গতিপথ বদল হয়ে সীমানা বাড়লেও গভীরতা কমছে।’

তিনি বলেন, ‘২৩৫ বছরের এই নদীর কোন পরিচর্যা হয়নি। বরং নদীর ক্ষতি হয় এমন বহু প্রকল্প করা হয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদীর পরিচর্যা করা না গেলে আশির্বাদি তিস্তা অভিশাপে পরিণত হবে। নদীর অস্তিত্ব বিলিন হবে। মানুষের আর্ত-সামাজিকতা নষ্ট হয়ে যাবে।’

তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের ১১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তা অববাহিকায় মানুষের জীবন যাত্রা স্থবির হয়ে যায়। ধুধু মরুতে পরিণত হয়। জীব-বৈচিত্র্য হুমকিতে পড়ে। এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নদীর পরিচর্যা ও খনন করলে, পাড়ের মানুষজন এত কষ্টে পড়ত না।’

৬ বারের পানিতে কেমন আছেন তিস্তা পাড়ের মানুষজন

গত ৬ আগষ্ট শনিবার গংগাচড়ার বিভিন্ন চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়িতে পানি ওঠায় লোকজন আশ্রয় নিয়েছে খোলা আকাশের নিচে, বাঁধে ও আত্মীয়ের বাড়িতে। তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ আমনের খেত। পানিবন্দী পরিবারগুলো গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে উঁচু নিরাপদ স্থানে। শুক্রবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে, তবে দুর্ভোগ আছেই।

বাঁধের পাড় এলাকার বৃদ্ধা সাহের বানু বলেন, ‘মোর ব্যাটা চট্টগ্রামোত থাকে, বাড়িত আসছে ব্যাটার বউওক নিয়ে পানিত ডুববের নাগছি। খাওয়া-দাওয়া ঘুম সউগ হারাম হয়া গেইছে।’

চর পশ্চিম ইচলি গ্রামের রুপালী বেগম বলেন, ‘হঠাৎ পানি আসার কারণে বাড়ি থাকি কিছু বাহির করিবার পাই নাই। ধান, চাল ঘরোত যা আচিল সউগ ভিজি গেইছে।’

একই ইউনিয়নের মোকতার হোসেন বলেন, ‘গত মঙ্গলবার থাকি রাস্তার ধারে পলিথিন টাংগি আছি। এবার ৬ বার পানি আসিল, ছয় বার বাড়ি ছাড়ি রাস্তাত আসি। সরকার তো চায় হামরা নদীর পারের মানুষ না খেয়া মরি..। সরকার নদীও বান্ধি দিবার নেয়। হামার গুলার কোনো সামাধানও দিবার নেয়।’

বাঘেরহাট এলাকার বাসিন্দা সাদেকুল বলেন, ‘পানি খাওয়া যে টিউবল, সেটিও পানির নিচত তলে আছে, পানি খাওয়ার বুদ্ধিও নাই। সকাল থাকি বাসিমুখে আছি, একনা দানা মুখে যায় নাই।’

নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া ও নদীশাসন না করার ফলে অল্প পানিতে আক্রান্ত হচ্ছে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর ও ফসলি জমি। প্রতি বছর শত শত বিঘার জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানান লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদি।

তিস্তার তলদেশ ভরাট, অল্প পানিতেই প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

তিনি বলেন, ‘এর আগে বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপরে পানি উঠলেও আমার এই ইউনিয়নের পশ্চিম বাগের হাট আশ্রয়নে পানি ওঠেনি। কিন্তু এবার ১৭ সেন্টিমিটার বেশি পানিতেই ওই এলাকায় পানি উঠেছে।

‘আগে টানা তিন থেকে পাঁচদিন পানি আসার পর বাড়ি ঘরে উঠত। তখন নদীর অনেক গভীরতা ছিল। এখন গভীরতা না থাকায় সামান্যতেই বাড়ি-ঘরে পানি উঠছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উজানের বাড়ন্ত পানি এবার বাড়ি-ঘরে উঠে পড়েছে। এই পানির কারণে বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপরে ওঠে গেছে। কিছু কিছু এলাকায় ভাঙ্গনের খবর এসেছে, আমরা সেগুলোর ভাঙ্গন ঠেকাতে কাজ করছি।’

তিস্তা ভরাটে কী প্রভাব পড়েছে

তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী জানান, ১৯৮৩ সালে জুলাই মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকে তিস্তা নদীর পানির শতকরা ৩৬ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ এবং ৩৯ শতাংশ পাবে ভারত। বাকি ২৫ শতাংশ নদীপ্রবাহের জন্য নদীতেই সংরক্ষিত রাখা হবে।

কিন্তু কখন থেকে এবং কোথা থেকে এই পানি ভাগাভাগি করা হবে সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না ওই বৈঠকে।

এরপর ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত যৌথ বৈঠকে বাংলাদেশ তিস্তার পানির ৮০ শতাংশ দুই দেশ ভাগ করে বাকি ২০ শতাংশ নদীর জন্য সংরক্ষিত রাখার বিষয়ে প্রস্তাব দেয়। ভারত এই প্রস্তাবে অসম্মতি জানায়। ২০১৪ সাল গজলডোবা বাঁধ নির্মাণ করে শুষ্ক মৌসুমে ভারত তিস্তার পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়।

তিনি বলেন, ‘উজান থেকে শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রত্যাহার করায়, পানির অভাবে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা মরে যায়, মরে গেছে। প্রকৃতি রুক্ষ হয়ে উঠেছে। বর্ষাকালে পানি ছেড়ে দেয়ায় প্রবল পানির চাপে মূল গতিপথ বদলে তিস্তা প্রচণ্ডভাবে প্রবাহিত হতে থাকে।

তিস্তার তলদেশ ভরাট, অল্প পানিতেই প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

‘তখন কূলকিনারাবিহীন সমুদ্র হয়ে যায় তিস্তা। তখন তিস্তার বাংলাদেশ অংশে এর প্রস্থ কোনো কোনো জায়গায় ৫ কিলোমিটারেরও বেশি হয়ে পড়ে। পানির চাপ ও বন্যায় প্রতি বছর এই অঞ্চলের শত শত মানুষ বাড়িঘর, গাছপালা, আবাদি জমি হারিয়ে ভূমিহীন ও ছিন্নমূল হয়ে পড়ছে।’

অধ্যক্ষ হক্কানী বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলে তেমন শিল্প-কারখানা নেই। কৃষিব্যবস্থা পুরোটাই পানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে বন্যা-খরা এখানে মানুষের দুর্ভোগের কারণ। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পূরণ করা, নাব্য রক্ষা, পরিবেশ ও প্রাণ প্রকৃতি রক্ষা না করলে দ্রুত এক অশনিসংকেত দেখবে তিস্তা বেষ্টিত রংপুর অঞ্চলের মানুষ।’

সমাধান কী

তিস্তা সুরক্ষা কমিটির আহবায়ক নদী গবেষক অধ্যাপক মঞ্জুর আরিফ বলেন, ‘তিস্তা নদী কেমন ছিল কেমন হয়েছে। নদী পাড়ের মানুষজন বলছেন আমাদের এত প্রশস্ত নদীর প্রয়োজন নেই। মূল তিস্তা এত প্রশস্ত ছিল না। তিস্তা ভরাট হতে হতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নদী নাব্য থাকলে প্রশস্ত হত না।

তিস্তাকে নাব্য রাখতে হবে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদী খনন করে নদীর প্রাকৃতিক গঠন ও ধরন বজায় রাখতে হবে।

‘যখন শুকায়ে যাচ্ছে অর্থাৎ শুষ্ক মৌসুমে প্রতিবেশী দেশ পানি আটকিয়ে রাখছে। প্রতিদিন, প্রতি মাস বা প্রতি বছর যে পরিমাণ পানি প্রবাহিত হওয়ার কথা সেটি হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিন্ন নদীর অভিন্ন অধিকার রয়েছে। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে আলোচনার মাধ্যমে হোক, সমঝোতার মাধ্যমে হোক বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হোক উদ্যোগ নিতে হবে।

‘যদি আন্তনদীর ন্যায্য হিস্যা না পাওয়া যায় তাহলে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে এবং সে লক্ষ্যে জাতিসংঘ পানিপ্রবাহ আইন (১৯৯৭) অনুস্বাক্ষর করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকেও এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানাতে হবে। নদী ব্যবস্থাপনায় সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে নদী নিয়ে বাংলাদেশের যে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা আছে তা ভেস্তে যাবে।’

আরও পড়ুন:
আমিরাতে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা, ৭ মৃত্যু
বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা করবে এডিবি
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু মেরামতে ২৪০০ কোটি টাকা
ধনী-গরিবের আলাদা পানির বিলে সময় লাগবে
নৌকাডুবি: নানির মরদেহ উদ্ধার, নাতনি নিখোঁজ

মন্তব্য

p
উপরে