× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Mukpora Hanumans brawl
hear-news
player
print-icon

মুখপোড়া হনুমানের ‘বগুড়াকাণ্ড’

মুখপোড়া-হনুমানের-বগুড়াকাণ্ড
সবশেষ বগুড়া শহরের দক্ষিণ চেলোপাড়ায় অবস্থান করছিল হনুমানটি। ছবি: নিউজবাংলা
মহাভারতের ‘লঙ্কাকাণ্ডে’ পুরো নগরী পুড়িয়ে দিয়েছিলেন দেবতা হনুমান। তবে নগরী পুড়িয়ে না দিলেও এক মুখপোড়া হনুমানকে নিয়ে মেতে উঠেছে বগুড়াবাসী। গত কয়েকদিন ধরেই শহরজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে দলছুট এই বুনো প্রাণীটি।

গত কয়েকদিন ধরেই বগুড়া শহরের এ প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে এক মুখপোড়া হনুমান। আর যেখানেই যাচ্ছে তাকে কেন্দ্র করে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যাচ্ছে। তাদের কেউ হনুমানটিকে ধরার চেষ্টা করছে, কেউবা ঢিল ছুঁড়ে দিচ্ছে, কেউ কেউ ভেংচিও কাটছে।

মূলত মানুষের তাড়া খেয়েই এমন ছুটাছুটি করছে হনুমানটি। শনিবার সকালে এর দেখা মেলে বগুড়া শহরের দক্ষিণ চেলোপাড়া এলাকায়।

বনবিভাগ ও পরিবেশবাদী সংগঠন জানিয়েছে, এমন বন্য প্রাণীকে বিরক্ত না করলে নিজে থেকেই বনে ফিরে যায়। এদের উদ্ধার করে খাঁচায় আটকে রাখা কোনো সমাধান নয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই শহরের হাকির মোড় এলাকায় হনুমানটিকে প্রথম দেখা গিয়েছিল। পরে ২৮ জুলাই ওই এলাকা থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দক্ষিণে হনুমানকে শহরের খান্দার এলাকায় দেখা যায়। এভাবে সময়ে সময়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাচ্ছে প্রাণীটি।

শনিবার দক্ষিণ চেলোপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কালো মুখের এই হনুমানটি লম্বায় প্রায় ৩ ফুট উচ্চতার হবে। মানুষের ভিড় আর কৌতুহলের কারণে এটি এক বাড়ির ছাদ থেকে আরেক বাড়ির ছাদ বা প্রাচীরে গিয়ে একটু পর পর অবস্থান বদল করছে।

সবশেষ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয় বেলাল হোসেনের বাড়ির বাগানের বড় একটি গাছে আশ্রয় নেয় হনুমানটি।

চেলোপাড়ার বাসিন্দা বেলাল হোসেন জানান, ‘সকাল থেকে হনুমানটি আমাদের এলাকায়। আমরা তাকে খেতেও দিয়েছি। চেষ্টা করছি যেন একে নিরাপদে রাখা যায়। বনবিভাগের উচিত হনুমানটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেয়া।’

মুখপোড়া হনুমানের ‘বগুড়াকাণ্ড’

স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তীর’ এর সভাপতি রাকিবুল হাসান বলেন, ‘শহরের হনুমান ঘুরে বেড়ানোর বিষয়টি আমরা জেনেছি। প্রাণীটিকে উদ্ধারের জন্য আমরা বনবিভাগকে জানিয়েছি। এ ধরনের প্রাণী উদ্ধারের জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই।’

রাকিবুল আরও বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, হনুমানটি দলছুট হয়ে এসেছে। স্থানীয়দের প্রতি অনুরোধ প্রানীটিকে যেন বিরক্ত না করা হয়। তাকে তার মতো থাকতে দিলে ভালো হবে।’

বগুড়ায় হনুমান ঘুরে বেড়ানোর তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বন্যপ্রাণী বিভাগের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির।

তিনি জানান, এমনটা প্রায়ই হচ্ছে। এ ধরনের হনুমান সাধারণত ভারত থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ বন্দরে আসা ট্রাকে করে চলে আসে। অতীতেও কয়েকটি হনুমান উদ্ধার করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘এটি সম্ভবত দলছুট হয়ে এসেছে। কয়েকটি কারণে এরা দলছুট হয়। খাদ্য প্রধান কারণ। এ ছাড়াও নিরাপদ প্রজনন পরিবেশের খোঁজেও এসব বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসে। আবার ঘুরতে ঘুরতে বনের দিকে চলে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে হনুমান উদ্ধার কোনো সমাধান নয়। উদ্ধার করে খাঁচায় রাখাও ঠিক নয়। বরং সুযোগ দিলে সে নিজেই যেখান থেকে এসেছে সেখানে চলে যাবে। এ জন্য তাকে বিরক্ত না করাই ভালো।’

আরও পড়ুন:
উদ্ধার হলো সেই হনুমানটি
লোকালয়ে আসা হনুমানকে বিরক্ত না করার আহ্বান
চশমাপরা হনুমানের মৃত্যু
পাহাড়ি এলাকার হনুমান দক্ষিণের লোকালয়ে
খাবারের খোঁজে লোকালয়ে মুখপোড়া হনুমান

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
There were 35 diamonds hidden in the hunters sack

শিকারির বস্তায় লুকানো ছিল ৩৫টি হীরামন টিয়া

শিকারির বস্তায় লুকানো ছিল ৩৫টি হীরামন টিয়া পাখিগুলোকে অবমুক্ত করতে বস্তা থেকে বের করে খাঁচায় ঢুকিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা
হীরামন টিয়ার বসবাস ভারতে হলেও এই প্রজাতির উল্লেখযোগ্য পাখি আগস্টের শুরুর দিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আসে।

চুয়াডাঙ্গায় শিকার করে নিয়ে যাওয়ার সময় ৩৫টি হীরামন টিয়া উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পাখিগুলো অবমুক্ত করেন ইউএনও শামীম ভুইয়া।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘পানকৌড়ি’র সভাপতি বখতিয়ার হামিদ বিপুল।

তিনি বলেন, ‘সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা পানকৌড়ির দুই সদস্য জানতে পারি, পাখি শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে শিকারিরা। ওই খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কুলচারার মোড়ে অপেক্ষা করতে থাকি। এ সময় দিগড়ী গ্রামের হযরত, আলা, শাজাহান ও ডোমচারার শরিফুলকে বস্তার মধ্যে করে পাখি ধরে নিয়ে যেতে দেখি।’

বিপুল জানান, বস্তার মধ্যে পাখি নিয়ে যেতে দেখে শিকারিদের পিছু নেন তারা। এ অবস্থায় বস্তাগুলো ফেলে পালিয়ে যায় শিকারিরা। পরে বস্তার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৫টি হীরামন টিয়া এবং পাখি শিকারের সরঞ্জাম।

পরে পাখিগুলোকে অবমুক্ত করতে বস্তা থেকে বের করে খাঁচায় ঢুকিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেয়া হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম ভুইয়া জানান, পাখি বা পরিযায়ী পাখি শিকার বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

শিকারির বস্তায় লুকানো ছিল ৩৫টি হীরামন টিয়া
শিকারিদের ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়

ইউএনও বলেন, ‘দুপুরে পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়েছে। পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় বস্তা ও পাখি শিকারের সরঞ্জাম।’

পাখি শিকারের সঙ্গে জড়িতদের তলব করা হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, হীরামন টিয়ার বসবাস ভারতে হলেও এই প্রজাতির উল্লেখযোগ্য পাখি আগস্টের শুরুর দিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আসে। মূলত খাবারের সন্ধানেই এরা বাংলাদেশে আসে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আবার চলে যায়।

আরও পড়ুন:
পোষ মেনে কথা বলছে দুই শালিক!
রঙিন ফিঞ্চে ভরেছে শখের খাঁচা
লাল শাপলার বুকে ডানা মেলে নেমে আসে তারা
বিলের জলে পাখির মেলা
চলনবিল থেকে ১২০টি বক উদ্ধার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Endangered wild elephants in the forest

কক্সবাজার বনাঞ্চলে সংকটাপন্ন বন্য হাতি

কক্সবাজার বনাঞ্চলে সংকটাপন্ন বন্য হাতি
কক্সবাজারের একটি হোটেলে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: নিউজবাংলা
আইইউসিএন ও ইউএনএইচসিআর আয়োজিত সেমিনারে কক্সবাজারে বিপন্ন প্রাণীর সংরক্ষণ এবং মানব-হাতি সংঘর্ষ কমাতে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

কক্সবাজার ও পার্বত্য বনাঞ্চলে এশিয়ান বন্য হাতি সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আবাসস্থল ধ্বংস, করিডর বন্ধসহ নানা কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি বলে মনে করছেন তারা।

এ কারণে হাতির আবাসস্থল ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়েছেন।

বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে কক্সবাজারের তারকামানের হোটেলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে এ তাগিদ দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) ও জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর আয়োজিত সেমিনারে জেলায় বিপন্ন প্রাণীর সংরক্ষণ এবং মানব-হাতি সংঘর্ষ কমাতে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে বলা হয়, বাংলাদেশ বন বিভাগের সহায়তায় আইইউসিএন হাতির সংখ্যা জরিপ, আবাসিক ও পরিযায়ী হাতিদের চলাচলের পথ এবং করিডরের ম্যাপিং পরিচালনা করেছে।

২০১৬ সালে পরিচালিত সর্বশেষ হাতির সংখ্যা জরিপ অনুসারে, যে প্রজাতি একসময় দেশে ব্যাপক ছিল, এখন বেশির ভাগই দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সীমাবদ্ধ।

কক্সবাজার অঞ্চলেও হাতির আবাসস্থল খণ্ডিতকরণ, বন উজাড় ও বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে এই প্রাণী।

২০১৭ সালে শরণার্থীদের আগমনের পর থেকে বনভূমি ধ্বংসের কারণে হাতির আবাসস্থল এবং আন্তঃসীমান্ত চলাচলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে বন্য হাতি। আবাসস্থলের অবক্ষয় এবং চলাচলে বাধার কারণে রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় মানব-হাতি সংঘর্ষ শুরু হয়।

সেমিনারে ওই বছরের আগস্ট থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মানব-হাতি সংঘর্ষে ১২ জন রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে। তাই এ ধরনের সংঘর্ষ প্রশমিত করতে আইইউসিএন বাংলাদেশ, ইউএনএইচসিআর-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এবং এর আশপাশে ‘জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার জন্য মানবিক-সংরক্ষণ কর্ম’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

এর ফলে শরণার্থী শিবিরের আশপাশে হাতির অনুপ্রবেশের প্রায় ৩৭৫টি ঘটনা ঘটলেও হাতি বা মানুষ হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এ ছাড়া, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে, হোস্ট এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা ২১১টি মানব-হাতি সংঘর্ষ প্রশমিত করেছে।

সেমিনারে দেশে বন্য হাতির অবস্থা, বণ্টন, আবাসস্থলের অবস্থা এবং বিদ্যমান হুমকির বিষয়ে আলোচনা করা হয়, যাতে এ অঞ্চলের অবশিষ্ট এশিয়ান হাতিদের রক্ষায় সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণে তাগিদ দেয়া যায়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের (আরআরআরসি) অতিরিক্ত কমিশনার সামসুদৌজা নয়ন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা সারওয়ার আলম, ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তা লুয়ান ওসমানী ও আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ রাকিবুল আমিন। এ ছাড়া সরকারি দপ্তর, মানবিক সংস্থা ও পরিবেশবিষয়ক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এশীয় ও আফ্রিকান হাতির গুরুত্ব ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও হাতিদের সাহায্য করতে বিশ্বকে একত্রিত করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ১২ আগস্ট বিশ্ব হাতি দিবস পালন করা হয়।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে আরও এক বন্য হাতি হত্যা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
And rainwater is not safe there is a risk of cancer

আর নিরাপদ নয় বৃষ্টির পানি

আর নিরাপদ নয় বৃষ্টির পানি বৃষ্টির পানিতে রয়েছে পারফ্লুরোঅ্যালকাইল, যা মানবদেহে ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের অনেক মানুষ এখনও বৃষ্টিকে নিরাপদ পানীয় জলের উৎস মনে করে। তবে গবেষণা বলছে, বৃষ্টির পানি আর নিরাপদ নয়। এই পানিতে রয়েছে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান।   

পারফ্লুরোঅ্যালকাইল ও পারফ্লুরোঅ্যালকাইল সাবস্ট্যান্স (পিএফআইএস) রাসায়নিকটি ফায়ার সার্ভিসের ফোম তৈরিতে ও টেক্সটাইল শিল্পে ব্যাপক ব্যবহার হয়। তবে মানবদেহের জন্য এই রাসায়নিক খুবই ক্ষতিকর।

পিএফআইএস এমন এক রাসায়নিক পদার্থ, যা মানবদেহে ক্যানসার সৃষ্টি করে। একে ‘ফরেভার কেমিক্যাল’ও বলা হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই ফরেভার কেমিক্যাল এবার বিশ্বের সবচেয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বৃষ্টির পানিতেও পাওয়া গেছে।

এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে প্রকাশিত এক জার্নালে বলা হয়েছে, "আমাদের বায়ুমণ্ডলে এই ‘ফরেভার কেমিক্যাল’ এত বেশি মাত্রায় পাওয়া গেছে যে নতুন এক নির্দেশিকায় বৃষ্টির পানিকে এখন পান করার ক্ষেত্রে অনিরাপদ ঘোষণা করা হয়েছে।"

পিএফএএসের কারণে কোলেস্টেরেল বৃদ্ধি, লিভারের এনজাইমে পরিবর্তন, শিশু জন্মের সময় কম ওজন, শিশুদের দেহে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে সমস্যা ও ক্যানসারও দেখা দিতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, মানবসৃষ্ট পারফ্লুরোঅ্যালকাইল সাম্প্রতিক দশকগুলোতে পানির গতিপথে, মহাসাগরে, ভূগর্ভস্ত পানিতে ও বায়ুমণ্ডলসহ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে গেছে। আন্টার্কটিকা থেকে তিব্বত মালভূমি পর্যন্ত এই পদার্থ এখন পাওয়া যাচ্ছে।

স্টকহোম ইউনিভার্সিটি ও ইটিএইচ জুরিখ ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, বৃষ্টির পানিতে এই বিপজ্জনক রাসায়নিকের মাত্রা নিরাপদ সীমার ওপরে উঠে গেছে।

স্টকহোম ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক ইয়ান কাজিন বলেন, ‘গত ২০ বছরে পানীয় জলে পারফ্লুরোঅ্যালকাইলের নির্দেশিকার মানগুলোর বিস্ময়কর অবনতি ঘটেছে।’

বিশ্বের অনেক মানুষই এখনও বৃষ্টিকে নিরাপদ পানীয় জলের উৎস মনে করে। তবে কাজিনের মতে এখন আর তা নিরাপদ নয়।

এমনিতেই বিশ্বের অনেক দেশেই নিরাপদ পানির সংকট রয়েছে। সেসব দেশে সুপেয় পানির উৎস হিসেবে বৃষ্টির পানিকেই বিবেচনা করা হত। এখন সেই পানিকেও অনিরাপদ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন:
পরিবেশ সুরক্ষায় ভারতের অবস্থান সর্বনিম্ন
৯৮ শতাংশ অঞ্চল পানি সরবরাহের আওতায়: সংসদে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
নদী বাঁচাতে বুড়িগঙ্গায় ‘গণগোসল’
পরিবেশ নিয়ে আদালত সক্রিয়, প্রশাসন নিষ্ক্রিয়
শহরের বর্জ্যে বিষাক্ত ভৈরব-রূপসা-ময়ূর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Video of lightning in Mecca goes viral

মক্কায় বজ্রপাতের ভিডিও ভাইরাল

মক্কায় বজ্রপাতের ভিডিও ভাইরাল
কয়েকদিন ধরে সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশে মুষলধারে বৃষ্টি ও বজ্রপাত হচ্ছে। আল আরাবিয়ার খবরে বলা হয়, প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশ কিছু অংশে ‘দশকের মধ্যে সবচেয়ে আর্দ্র আবহাওয়া’ অনুভূত হচ্ছে।

সৌদি আরবের মক্কায় ক্লক টাওয়ারে বজ্রপাতের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, বর্ষার সন্ধ্যায় বজ্রপাতটি ঘটার সময় আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো আকাশ

মুলহাম এইচ নামে একজন টুইটারে ভিডিও ক্লিপটি শেয়ার করেন। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল: ‘কয়েকদিন আগে, মক্কায় বৃষ্টির সময় বুর্জ আল-সা-তে বজ্রপাত হয়।’

ভিডিওটি সোমবার পর্যন্ত দেখেছেন ১৩ লাখের বেশি মানুষ।

রিটুইট করে একজন লিখেছেন, এ সুন্দর দৃশ্যে আমরা বিস্মিত।

একজন লেখেন, ‘নিউরনের সঙ্গে বজ্রপাতের আকর্ষণীয় সাদৃশ্য আমাকে মুগ্ধ করে।’

কয়েকদিন ধরে সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশে মুষলধারে বৃষ্টি ও বজ্রপাত হচ্ছে। আল আরাবিয়ার খবরে বলা হয়, প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশ কিছু অংশে ‘দশকের মধ্যে সবচেয়ে আর্দ্র আবহাওয়া’ অনুভূত হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল সেন্টার অফ মেটিওরোলজি (এনসিএম) বলছে, জুলাইয়ে প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে আর্দ্র আবহাওয়া ছিল।

আমিরাত এবং সৌদিতে মুষলধারে বৃষ্টিকে ‘ভারতীয় বর্ষা’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে বজ্রপাত এবং একটি ঝলসানো গাছের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার কয়েক দিনের মধ্যে মক্কার ভিডিওটি ভাইরাল হলো। ওহাইওতে বজ্রপাতের পর আগুন পুরোপুরি নেভাতে গাছটি কেটে ফেলতে হয়েছে।

মক্কায় বজ্রপাতের ভিডিও ভাইরাল

বজ্রপাত অত্যন্ত বিপজ্জনক হলেও দূর থেকে এই প্রাকৃতিক ঘটনা সবসময়ই মানুষকে মুগ্ধ করে। চলতি বছরের শুরুতে, আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বজ্রপাতের একটি ভিডিও টুইটারে ভাইরাল হয়।

ভিডিওতে, একটি আলোক শিখাকে দিগন্তসীমা থেকে পুরো আকাশে গাছের শাখা-প্রশাখার মতো ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। সাধারণত এমন দৃশ্য বেশ বিরল। কোনো অঞ্চলের কাছাকাছি পজিটিভ ক্লাউড-টু-গ্রাউন্ড ফ্ল্যাশ থাকলে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
11 pythons born in the zoo went into the wild

বনবাসে গেল চিড়িয়াখানায় জন্মানো ১১ অজগর

বনবাসে গেল চিড়িয়াখানায় জন্মানো ১১ অজগর সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে অজগরের বাচ্চাগুলোকে অবমুক্ত করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
এর আগে ২০১৯ সালে প্রথমবার অজগরের ২৫টি ডিম থেকে কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা ফোটানো হয়। ২০২১ সালে দ্বিতীয় দফায় আরও ২৮টি বাচ্চা ফোটানো হয়।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় কৃত্রিম উপায়ে ফোটানো অজগরের ১১টি বাচ্চাকে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে এগুলোকে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে অবমুক্ত করা হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাৎ হোসেন শুভ।

তিনি জানান, গত ২০ জুন ১৫টি ডিম থেকে কৃত্রিম উপায়ে ১১টি বাচ্চা ফোটানো হয়। ইনকিউবেটরে ৬৫ দিন রাখার পর এসব ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে। এর মধ্যে ১১টি বাচ্চা বেঁচে ছিল। রোববার এগুলোকে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে অবমুক্ত করা হয়েছে।

এ সময় সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল আলম, মো. আলাউদ্দিন, অসীম কান্তি দাসসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০১৯ সালে প্রথমবার অজগরের ২৫টি ডিম থেকে কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা ফোটানো হয়। ২০২১ সালে দ্বিতীয় দফায় আরও ২৮টি বাচ্চা ফোটানো হয়। ওই বাচ্চাগুলোকেও পরে বনে অবমুক্ত করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
মাছ ধরতে গিয়ে পুকুরে মিলল অজগর
লাউয়াছড়ার অজরগরটি কি দেশের সবচেয়ে বড়?
পুকুর থেকে সুন্দরবনে ফিরল অজগর
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের গ্রিলে অতিকায় অজগর
কারও সাড়া না পেয়ে নিজেরাই অবমুক্ত করল অজগর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dhaka is as hot as Jeddah

ঢাকায়-জেদ্দায় সমান গরম!

ঢাকায়-জেদ্দায় সমান গরম! রোববার দুপুরে জেদ্দা-বাড্ডায় সমান ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অনুভূত হয়েছে। ছবি: কোলাজ/নিউজবাংলা
আবহাওয়াবিষয়ক ওয়েবসাইট অ্যাকুওয়েদারের হিসাবে বেলা দেড়টার দিকে ঢাকার বাড্ডায় তখন তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছিল ৪১ ডিগ্রি। এটাকে বলে রিয়েল ফিল, মানে আসলে কত ডিগ্রির সমান তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে। একই সময়ে মরুভূমির সৌদি আরবের শহর জেদ্দায়ও রিয়েল ফিল ছিল সমান।

হাতিরঝিল ধরে হাঁটছিলেন আল ফারুক। গাছের ছায়াঘেরা ফুটপাত পেরিয়ে যখন এফডিসিসংলগ্ন সেতুতে ওঠেন, তখন তীব্র রোদে গরমে পুড়তে হয় তাকে।

বর্ষার এই সময়ে চৈত্রের কাঠফাটা রোদ যেন- নিউজবাংলাকে বলছিলেন ফারুক। বলেন, ‘সামান্য দুই থেকে তিন শ মিটার পথ হাঁটতে গিয়ে আমি ঘেমে একাকার। মাথা ভিজে পুরো চুপচুপে হয়ে গেছে।’

মিরপুর থেকে বাইকে করে বাড্ডায় আসা নাহিয়ান আরেফিন বলেন, ‘গরমের কথা কী আর বলব? রোদে এতটা গরম হয়েছিল যে সিটে বসার সাহস পাচ্ছিলাম না। সম্ভব হলে দাঁড়িয়ে বাইক চালাতাম। এই সময়ে জীবনেও এমন গরম দেখি নাই।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যানের বাতাসটাও গরম লাগে বাসায়। বাইরে বের হলে মনে হয় পৃথিবী আর সূর্যের মাঝখানে বাংলাদেশকে রেখে দিছে।’

এবারের বর্ষা শীতলতা আনেনি। বরং গ্রীষ্মের মতো উত্তাপ ছড়িয়ে মানুষের ঘাম ঝরাচ্ছে। ঢাকা মহানগর যেন উত্তপ্ত কড়াই।

তাপমাত্রা মাপার পারদে রোববার দুপুরে বাড্ডা এলাকায় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তর দেখাচ্ছিল সে সময় ঢাকার গড় তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রি।

তবে পারদে যতটা তাপ দেখায়, মানুষের মধ্যে গরমের অনুভূতি থাকতে পারে তার চেয়ে বেশি।

আবহাওয়াবিষয়ক ওয়েবসাইট অ্যাকুওয়েদারের হিসাবে বাড্ডায় তখন তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছিল ৪১ ডিগ্রি। এটাকে বলে রিয়েল ফিল, মানে আসলে কত ডিগ্রির সমান তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে।

একই সময়ে মরুভূমির দেশ সৌদি আরবের অন্যতম বড় ও ব্যস্ত শহর জেদ্দার তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানেও রিয়েল ফিল ছিল ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সেখানকার পূর্বাভাস অনুযায়ী সর্বোচ্চ মাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। তখন রিয়েল ফিল থাকবে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অ্যাকুওয়েদারের পূর্বাভাস অনুযায়ী দিনের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে। তখন অনুভূত হবে ৪২ ডিগ্রির মতো।

সাধারণত কোনো এলাকার আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্ন অবস্থা এবং বৃষ্টি ও বাতাসের সম্ভাবনার ওপর নির্ভর করে অনুভূত তাপমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

৪২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টি

বর্তমান প্রজন্ম তো বটেই, আগের কয়েক প্রজন্ম এমন বৃষ্টিহীন বর্ষা দেখেনি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য-উপাত্ত বলছে, এবার জুলাইয়ে বৃষ্টিপাত গত ৪২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। স্বাভাবিকভাবে গরমটাও বেশি। তবে আগামী দুই দিনের মধ্যে বৃষ্টির মৌসুমি বায়ু সৃষ্টি হতে পারে।

বৃষ্টিহীন বর্ষায় এমন তীব্র গরমকে অস্বাভাবিক আবহাওয়া বলছেন খোদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আবদুল মান্নান। বলেছেন, ‘এবারের আবহাওয়াটা তো একটু অন্য রকম।’

তিনি জানান, জুলাই মাসে দেশে গড়ে ৪৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও এবার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে ২১১ মিলিমিটার, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যা ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ কম।

নিউজবাংলাকে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘এখন আবহাওয়া অনেকটা অসহনীয়। রোববার বিকেল পর্যন্ত ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর দেশের কোনো কোনো স্থানে ৩৬ ডিগ্রির ওপরে আছে। এমন আবহাওয়া বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণেই হচ্ছে।

‘বৃষ্টি কেন হচ্ছে না’- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অতীতেও বর্ষা কখনও বৃষ্টিহীন গেছে। তবে এবার ব্যতিক্রম। এবার দীর্ঘ সময় ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে না। আর বৃষ্টি হলেও তার পরিমাণ খুবই অল্প। যার কারণে গরম আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। একটি উচ্চ তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়েছে।’

এমন হওয়ার কারণ কী- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বর্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে মেঘমালা সেটা এবার নেই। বঙ্গোপসাগরে এই বর্ষার উৎপত্তি। সেখান থেকে এবার পর্যাপ্ত শক্তি না পাওয়ার কারণেই এবার বর্ষা দুর্বল। মানে এবার বর্ষাকাল তেমন বৃষ্টিপাত ঘটাতে সক্ষম হয়নি।’

এ থেকে উত্তরণের কি কোনো আভাস নেই?

মান্নান বলেন, ‘আমরা আশা করছি, দুই দিন পরে বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে। তখন বৃষ্টিপাত একটু বাড়বে।’

এই সময়ে এত গরম স্বাভাবিক নয়

আরেক আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, বর্তমানে যে তাপমাত্রা, সেটি বছরের এই সময়ের স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বেশি।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘জুলাই মাসে দিনে বাংলাদেশে অন্য মাসগুলোর চেয়ে গড়ে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি বেশি ছিল। গত বছরগুলোতে এর চেয়ে তাপমাত্রা কম ছিল। এটি রেকর্ড।’

এবার আবহাওয়া এমন রুক্ষভাব দেখাচ্ছে কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে তাপমাত্রা বেশি। এটা শুধু বাংলাদেশ না, অনেক দেশেই বেশি। তবে এটা মরু আবহাওয়ার মতো নয়। মরুভূমির প্রেক্ষাপট আর আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।’

আরও পড়ুন:
দিল্লিতে ৯ বছর পর বর্ষাকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
দিল্লিতে জুনে সর্বকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দিনাজপুরে
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে
আজও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা শ্রীমঙ্গলে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The dog is walking around with a fan on in the intense heat

তীব্র গরমে গায়ে ফ্যান লাগিয়ে ঘুরছে কুকুর

তীব্র গরমে গায়ে ফ্যান লাগিয়ে ঘুরছে কুকুর ইয়র্কশায়ার টেরিয়ার অ্যান এবং নন বিশেষ ফ্যানে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য। ছবি: সংগৃহীত
ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলছে হিকারু উজাওয়ার এই বিশেষ ফ্যান। ১ জুলাই দোকানটি উদ্বোধনের পর অন্তত ১০০টি অর্ডার পেয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া এবং ইতালি থেকেও আসছে চাহিদা।

জলবায়ু পরিবর্তনে পুড়ছে বিশ্ব। মানুষ, পশু-পাখি, গাছপালা কিছুই রেহাই পাচ্ছে তীব্র গরম থেকে। কদিন আগেই, ব্রিটেনের একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া শূকরদের গরম থেকে রক্ষা করতে সানস্ক্রিন মাখিয়েছিল খামারিরা।

ইউরোপের হাওয়া লেগেছে পূর্ব এশিয়াতেও। গ্রীষ্মের অসহ্য গরমে শীতল থাকার জন্য কুকুরের গায়ে আটকানো যায় এমন ফ্যান (ওয়ারেবল ফ্যান) কেনায় মেতে উঠেছেন জাপানের কুকুর মালিকরা

ওয়ানসি নামের ফ্যানটি একটি জালের সাথে সংযুক্ত। এটি পোষা প্রাণীর পশমের নিচের স্তরও ঠান্ডা রাখে।

হিকারু উজাওয়া সুইট মাম্মি নামে একটি মাতৃকালীন পোশাকের দোকানমালিক। তিনি বলেন, ‘আমার কুকুর বাইরে হেঁটে আসার পর হাঁপাত। অসহ্য গরমে সে দুর্বল হয়ে যেত। এ ফ্যান ব্যবহারের পর সে হাঁপানো বন্ধ করে দিয়েছে।’

ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলছে হিকারু উজাওয়ার এই বিশেষ ফ্যান। ১ জুলাই দোকানটি উদ্বোধনের পর অন্তত ১০০টি অর্ডার পেয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া এবং ইতালি থেকেও আসছে চাহিদা।

কেবল কুকুরের শরীর ঠান্ড রাখে, তা কিন্তু নয়। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাও ঠিকঠাক আপনাকে জানিয়ে দেবে হিকারুর এই বিশেষ ফ্যান।

তীব্র গরমে গায়ে ফ্যান লাগিয়ে ঘুরছে কুকুর

জুলাইয়ের শুরুতে রাজধানী টোকিওর বেশ কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হয়। এসব অঞ্চলে তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। অবস্থা বেগতিক দেখে দিনের বেলা বাইরে যাওয়া এবং ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকার জন্য জনগণকে অনুরোধ জানায় কর্তৃপক্ষ।

সারা বিশ্বেই এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে ইংল্যান্ডে ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়; যা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেয়। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জারি হয় ‘চরম তাপ সতর্কতা’। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এই গ্রীষ্ম মৌসুমে তাপজনিত মৃত্যুর কারণে শত শত মানুষ মারা যেতে পারে।

হিকারু বলেন, ‘গরম থেকে বাঁচাতে আমার চিহুয়াহুয়া ও সোয়ানের (কুকুর) জন্য বহনযোগ্য পাখা তৈরি করেছি।’

হিকারুর এ ধরনের ফ্যানের ধারণা আসে তিন বছর আগে, ২০১৯ সালে। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন গ্রীষ্মে হাঁটার পর সোয়ান অনেক ক্লান্ত হয়ে যায়।

হিকারু বলেন, ‘কাজের সময়সূচির কারণে আমার জন্য তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা কঠিন ছিল। তাই মধ্যাহ্নের গরমেই ওদের হাঁটাতে নিয়ে যেতাম।

পশু চিকিৎসকদের সাহায্যে এই ফ্যান তৈরি করেন হিকারু। এখন পাঁচটি ভিন্ন আকারের ফ্যান বিক্রি করছেন তিনি। প্রতিটির দাম নিচ্ছেন ৯ হাজার ৯০০ ইয়েন; অর্থাৎ ৭৪ ডলারের কাছাকাছি।

হিরোকো মুরায়ামা তার দুটি ইয়র্কশায়ার টেরিয়ার অ্যান এবং ননের জন্য ওয়ানসি কিনেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম যে ফ্যানের ঘূর্ণায়মান শব্দ তারা অপছন্দ করতে পারে। তবে এমনটা হয়নি। প্রতিদিন সকালে হাঁটার সময় তারা এগুলোর জন্য অপেক্ষায় থাকে।’

হিকারু বলেন, ‘চাহিদা থাকায় আরও দুটি পরিধানযোগ্য ফ্যানের মডেল তৈরি হচ্ছে। একটি শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত, অন্যটি পরিধানযোগ্য। এখন কুকুররা উত্সবে গেলেও শান্ত থাকবে।’

আরও পড়ুন:
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ আদায়ে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চান প্রধানমন্ত্রী
নথি ফাঁস: জলবায়ু প্রতিবেদন পরিবর্তনে চলছে লবিং
জলবায়ু পরিবর্তন: ক্ষতিপূরণ দাবিতে সড়ক অবরোধ
গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে চীনের নতুন রেকর্ড
জলবায়ু পরিবর্তন: পৃথিবী রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর চার প্রস্তাব

মন্তব্য

p
উপরে