× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The bride of the jackfruit is the bride of the guava and the groom of the mango
hear-news
player
print-icon

কাঁঠালের কনে পেয়ারা, আমড়ার বর আম

কাঁঠালের-কনে-পেয়ারা-আমড়ার-বর-আম
রীতি মেনে কাবিননামায় বর-কনের পরিচর্যাকারীদের স্বাক্ষর, গাছে-গাছে মালা বদল, স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্যগ্রহণ ও মিষ্টিমুখ করার মধ্য দিয়ে মঞ্চে ৩০০ বর ও ৩০০ কনে গাছে বিয়ে হয়।

চারদিকে হই-হুল্লোড়। ঢোল-তবলার তালে তালে চলছে নাচ-গান। বিয়ের মঞ্চও প্রস্তুত।

কিছুক্ষণ পরই দুই জোড়া বর-কনে নিয়ে মঞ্চে উঠলেন কাজী কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুভাশিস ঘোষ।

সবুজের বিয়ে হলো সাথীর সঙ্গে, জয়ের বউ হলেন কুসুম। তবে তারা মানুষ নয়, গাছ।

সবুজ হল কাঁঠাল গাছের চারার নাম। এর কনে সাথী পেয়ারা গাছের চাড়া। আর জয় হলো আম ও তার কনে কুসুম হলো আমড়া গাছের চাড়া।

মজার এই বিয়ে হয়েছে বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কালীরবাজার মাধ্যমিক স্কুলে।

রীতি মেনে কাবিননামায় বর-কনের পরিচর্যাকারীদের স্বাক্ষর, গাছে-গাছে মালা বদল, স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্যগ্রহণ ও মিষ্টিমুখ করার মধ্য দিয়ে মঞ্চে ৩০০ বর ও ৩০০ কনে গাছে বিয়ে হয়।

স্কুলটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের আগ্রহ বাড়াতে এই আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল-সবুজ উন্নয়ন সংঘ। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয় বিভিন্ন গাছের চারা।

ইউএনও বলেন, ‘গাছ আমাদের পরম বন্ধু। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সৌন্দর্য বাড়াতে গাছ রোপণের বিকল্প নেই। আমি আশা করি, লাল-সবুজ উন্নয়ন সংঘ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যরাও সবুজায়নের লক্ষ্যে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করবে ও গাছের যত্ন নেবে।’

লাল-সবুজ সংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম জানান, প্রায় ১ লাখ গাছের চাড়া এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আগামি তিন মাসে সারা দেশে বিভিন্ন স্কুল এভাবে গাছের চারা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
সরকারি গাছ কাটায় মামলা 
বাঁধাকপি কাটল কে
ভেঙে পড়েছে সেবাশ্রমের ২০০ বছরের পুরোনো বটগাছ
‘কর্মকর্তারা দেখে যায়, কাজ হয় না’
আমগাছ দেখতে তিন বছরের শিশুরও টিকিট

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
I went to India and said that Sheikh Hasina should be sustained Foreign Minister

ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরীর জেএমসেন হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা
‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাকে টিকিয়ে রাখতে পারলে আমাদের দেশ উন্নয়নের দিকে যাবে এবং সত্যিকারের সাম্প্রদায়িকতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক একটা দেশ হবে। শেখ হাসিনার সরকার টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা করতে অনুরোধ করেছি।’

শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে যা যা করা দরকার ভারত সরকারকে সেসব করার অনুরোধ করার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাকে টিকিয়ে রাখতে পারলে আমাদের দেশ উন্নয়নের দিকে যাবে এবং সত্যিকারের সাম্প্রদায়িকতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক একটা দেশ হবে। শেখ হাসিনার সরকার টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা করতে অনুরোধ করেছি।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর জেএমসেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, আমার দেশে কিছু দুষ্ট লোক আছে, কিছু উগ্রবাদী আছে। আমাদের দেশ সারা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন না। আপনার দেশেও যেমন দুষ্টু লোক আছে, আমাদের দেশেও আছে। আমার দেশ সারা পৃথিবী থেকে একটা আইসোলেটেড আইল্যান্ড না। এইখানে কিছু দুষ্টু লোক আছে, আপনার দেশে যখন কোনো অসুবিধা হয়, আমরা চুপ করে থাকলেও দুষ্টু লোক খবর পায়।’

‘কিছুদিন আগে তাদের দেশেও এক ভদ্রমহিলা কিছু কথা বলেছিলেন, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে একটি কথাও বলিনি। বিভিন্ন দেশ কথা বলেছে, আমরা বলিনি। এই ধরনের প্রটেকশন আমরা আপনাদের দিয়ে যাচ্ছি। সেটা আপনাদের মঙ্গলের জন্য, আমাদের মঙ্গলের জন্য। আমরা যদি একটু বলি, তখন উগ্রবাদীরা আরও সোচ্চার হয়ে আরও বেশি বেশি কথা বলবে। তাতে ক্ষতিটা হবে কী? আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন হবে। আমাদের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সেজন্য আমরা ভারতকে বলেছি, কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডকে কখনও প্রশ্রয় দেব না। এটা যদি আমরা করতে পারি, ভারত এবং বাংলাদেশ উভয়ের মঙ্গল। শেখ হাসিনা আছেন বলে ভারতের যথেষ্ঠ মঙ্গল হচ্ছে। বর্ডারে এক্সট্রা (অতিরিক্ত) খরচ করতে হয় না। প্রায় ২৮ লাখ লোক আমাদের দেশ থেকে প্রতিবছর ভারতে বেড়াতে যায়। ভারতের কয়েক লাখ লোক আমাদের দেশে কাজ করে। এটি সম্ভব হয়েছে আমাদের সুন্দর অবস্থানের কারণে। সুতরাং আমরা উভয়ে এমনভাবে কাজ করব যাতে কোনো ধরনের উসকানিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। ভারত সরকারকে বলেছি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকবে যদি আমরা উভয়ে শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিই।’

২০২১ সালে কুমিল্লায় পূজামন্ডপে কোরআন রাখা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুজন নেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, ‘যে বিষয়টি নিয়ে আমার উপরে বক্তব্য রেখেছেন, সেটা তার একবছর আগের। পূজার সময় কুমিল্লায় একটি দেবতার কাছে কোরআন শরীফ রেখে একটা ছবি তোলে। সেটা ভাইরাল হয়। ভাইরাল হওয়ার পর কিছু গোষ্ঠী ওখানে আক্রমণ করে। আক্রমণ থামাতে গিয়ে পুলিশ গুলি করে। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে এই ঘটনা আমরা জানি, তখনও আমরা কিন্তু কুড়িগ্রামের কাহিনী জানতাম না। তখন আমাদের মন্ত্রণালয় যেসব কথা বলেছে, সত্যি কথা বলেছে। আমি শিক্ষক লোক, সত্য কথা বলি। আমরা বলেছি, তখন পর্যন্ত মোট ছয়জন লোক মারা যায়। তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, চারজন মুসলমান, দুজন হিন্দু। তবে আমরা একজন লোকও মারা যাক সেটা চাই না।’

তিনি বলেন, ‘এখানে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে অনেকে গল্প বলেছে, এটা খুবই দুঃখজনক। আমি যেটা করেছি, তা বিবেকের তাড়নায় করেছি। কিন্তু এটাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে, টুইস্ট করে আপনাদের কাছে বলা হয়েছে। আমি বলছি- কোথাও সত্যের অপলাপ হয়নি। জেনেশুনেও আপনারা যদি প্রতিক্রিয়া দেখান, তাহলে এটা তো বড় মুশকিল।’

এসময় উস্কানি না দেওয়ার আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী । তিনি বলেন, 'আমরা এমন কাজ করব না, ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে এমন কোনো উস্কানি দেব না, যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আমাদের প্রতিবেশী দেশে কিছু মসজিদ পুড়েছে। আমরা কোনোভাবে সেটা প্রচার করতে দিইনি। এর কারণ হচ্ছে কিছু দুষ্ট লোক আছে, কিছু জঙ্গি আছে যারা এটার বাহানায় আরও অপকর্ম করবে। আমরা এটা নিয়ন্ত্রণ করেছি। অনেকে আমাকে ভারতের দালাল বলে, কারণ অনেক কিছুই হয়, আমি স্ট্রং কোনো স্টেটমেন্ট দেই না।'

এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি দুলাল চন্দ্র দে, ঢাকা মহানগরের আহবায়ক এস কে সিকদার ও চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শংকর সেনগুপ্ত।

আরও পড়ুন:
ট্রু সেন্সে বেহেশত বলিনি, এটা ছিল কথার কথা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বেহেশতে আছে এমপি-মন্ত্রী আর আওয়ামী লীগ কর্মীরা: জিএম কাদের
দেশে ‘বেহেশতের’ ব্যাখ্যা দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য জনগণের সঙ্গে তামাশা: ফখরুল
বাংলাদেশের মানুষ বেহেশতে আছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The roof of the school collapsed in the abandoned building for 9 years

পরিত্যক্ত ভবনে ৯ বছর ধরে স্কুল, ধসে পড়ল ছাদ

পরিত্যক্ত ভবনে ৯ বছর ধরে স্কুল, ধসে পড়ল ছাদ
সহকারী শিক্ষক সুদিপ্ত বিশ্বাস বলেন, ‘প্রায় ১০০ শিক্ষার্থীর জীবনে কী নেমে আসত যদি ছাদটি স্কুলের সময় ধসে পড়ত? ভাবতেই আমাদের ভয় লাগছে।’

মাগুরার শালিখা উপজেলার রায়জাদাপুর আদাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৩ সালে। এত বছরেও নতুন ভবন না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতেই চলছিল পাঠদান।

ভবনটির বারান্দার ছাদ গত মঙ্গলবার ধসে পড়েছে। তবে ঘটনাটি সন্ধ্যায় ঘটেছে বলে কেউ হতাহত হয়নি। এরপর থেকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।

সরকারি বিদ্যালয়টির একমাত্র ভবন ছিল এটি। চার কক্ষের ভবনটি ১৯৯৫ সালে নির্মাণ করা হয় বলে স্কুলসূত্রে জানা গেছে।

সরেজমিন বৃহস্পতিবার দেখা গেছে, ধসে যাওয়া ছাদের অংশ বারান্দায় পড়ে আছে। স্কুলটি দড়ি দিয়ে ঘেরাও করে লাল নিশানা টানিয়ে দেয়া হয়েছে। বারান্দার ছাদ ধসে পড়ার পর পাশাপাশি চারটি কক্ষের সবকটির ছাদের আস্তর খসে পড়েছে, বেরিয়ে গেছে রড।

স্থানীয় জালাল মিয়া বলেন, ‘ভাগ্য ভালো যে দিনের বেলায় এ ঘটনা (ছাদ ধসে পড়া) ঘটেনি... দিনে ঘটলে ছাদের নিচে চাপা পড়ে অনেকে মারা যেতে পারত।’

স্কুলের সামনে টহল দিতে দেখা যায় সহকারী শিক্ষক সুদিপ্ত বিশ্বাস ও মসিউর রহমানকে।

তারা নিউজবাংলাকে জানান, মঙ্গলবার স্কুল বন্ধ ছিল। সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় ছেলেরা ভবনের বারান্দায় বসে সাধারণত আড্ডা দেয়। তবে মঙ্গলবার কেউই ছিল না। এ কারণে কেউ হতাহত হয়নি।

সুদিপ্ত বলেন, ‘পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও আমরা ক্লাস নিয়ে গেছি। কারণ আর কোনো ভবন নেই। কিছুদিন আগে শ্রেণিকক্ষের ছাদ খসে পড়লে ক্লাস নেয়া বন্ধ করা হয়। কিন্তু আমরা শিক্ষকরা সেখানে অফিসসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করি।

‘প্রায় ১০০ শিক্ষার্থীর জীবনে কী নেমে আসত যদি ছাদটি স্কুলের সময় ধসে পড়ত? ভাবতেই আমাদের ভয় লাগছে। তাই কেউ যেন ভবনে ঢুকতে না পারে সে জন্য পাহারা দেয়া লাগছে।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক তপতী রায় বলেন, ‘প্রতিনিয়ত আমাদের ছেলেমেয়েদের ঝুঁকি নিয়ে পড়াতে হয়। আমাদের এই বিদ্যালয়ের নতুন বিল্ডিংয়ের জন্য দরখাস্ত দিয়েছিলাম এমপির ডিও লেটার সহকারে। কাগজে-কলমে আমাদের বিল্ডিংটি এসেছে। কয়েকবার মাটিও পরীক্ষা করে নিয়ে গেছে। অথচ আজও ভবনটি করা হয়নি।

‘কাগজে-কলমে যেহেতু এসেছে তাহলে ভবনটি গেল কোথায়? জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকায় (জিপিএস) ১৪টি বিদ্যালয়ের নাম আছে... সব স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু রায়জাদাপুর আদাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি হয়নি।’

বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘স্কুলে ছেলেমেয়েদের ঝুঁকির মধ্য দিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে। দুইটা শেডে কীভাবে ১০০ ছেলেমেয়ে পড়বে? নতুন ভবনের মাটি পরীক্ষা করে নিয়ে গেছে, তারপর কী কারণে ভবনটি নির্মাণে দেরি হচ্ছে আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকবর হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ভবনধসের বিষয়টি আমি জেনেছি। পুরোনো ভবনটি ২০১৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে কোনো ক্লাস হয় না। ক্লাস নেয়ার জন্য সেখানে দুইটা শেড করে দেয়া হয়েছে।

‘২০১৬ সালে নতুন ভবন স্থাপনের নোটিশ এসেছে। কিন্তু কেন এখনও ভবনটি নির্মাণ হয়নি তা আমি বলতে পারব না। ভবনের মাটি পরীক্ষা করার জন্য প্রকৌশলীকে বলা হয়েছিল। তিনি পরীক্ষাও করেছেন, কিন্তু তারপর কী হয়েছে জানি না।’

উপজেলা প্রকৌশলী শোয়েব মোহম্মদ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাটি পরীক্ষা করে আমরা রিপোর্ট ঢাকায় পাঠিয়েছি। কিন্তু ঢাকা থেকে আমাদের কোনো নোটিশ আসেনি। যার ফলে ভবনটি এখনও নির্মাণ হয়নি।’

আরও পড়ুন:
সাতক্ষীরায় সেতু ভেঙে বিচ্ছিন্ন দুই জনপদ
খালে ডুবে স্কুলছাত্রের মৃত্যু
মণিপুরে ভূমিধসে মৃত্যু বেড়ে ৩৪
যমুনায় বিলীন বিদ্যালয় ভবন
মুম্বাইয়ে চারতলা ভবনধসে ১৯ জনের মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mother shot dead for property RAB

সম্পত্তির জন্য মাকে গুলি করে হত্যা: র‍্যাব

সম্পত্তির জন্য মাকে গুলি করে হত্যা: র‍্যাব
র‍্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, ঢাকায় পালানোর চেষ্টার সময় বুধবার মাইনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী সাতকানিয়ার রসুলপুর এলাকার একটি গুদাম থেকে পিস্তল জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন আসামি।

চট্টগ্রামের পটিয়ায় মাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে পৌরসভার সাবেক মেয়র শামসুল আলম মাস্টারের ছেলে মাইনুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

নগরীর নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে বুধবার বাসে ঢাকা যাওয়ার সময় পথে তাকে আটক করে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছে র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এ ইউসুফ।

নগরীর চান্দগাঁও ক্যাম্পে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জমির বিরোধের জেরে গত ১৬ আগস্ট মা জেসমিন আকতারকে গুলি করে পালিয়ে যান মাইনুল। হাসপাতালে নেয়ার পর জেসমিনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে পটিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, ঢাকায় পালানোর চেষ্টার সময় বুধবার মাইনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী সাতকানিয়ার রসুলপুর এলাকার একটি গুদাম থেকে পিস্তল জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন আসামি।

কী কারণে বিরোধ- জানতে চাইলে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সাবেক মেয়র শামসুল ছিলেন জাতীয় পার্টির নেতা। গত ১৩ জুলাই বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা যান। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বিপুল সম্পত্তি তিনি রেখে যান।

‘সন্তানদের মধ্যে ছোট ছেলে ও মেয়ে থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। গেল ঈদে তারা দেশে আসেন। সম্পত্তি নিয়ে তিন ভাই-বোনের মধ্যে তখন থেকেই বিরোধ শুরু হয়। মাইনুলের অভিযোগ ছিল যে মা দুই ছেলেকে বঞ্চিত করে সম্পত্তি মেয়েকে দেয়ার চেষ্টা করছিলেন।’

এসব বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে গত ১৬ আগস্ট মাইনুল তার মাকে গুলি করেন।

আরও পড়ুন:
শ্বশুরবাড়িতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ
নিজ গাড়িতে শিক্ষক দম্পতির মরদেহ
শিশুকে শাবলের আঘাতে হত্যার মামলায় চাচি কারাগারে
বনানীতে আ.লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
খাইরুনের মৃত্যু: ঘুরে-ফিরে আসছে বাইক প্রসঙ্গ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Teacher dismissed for sexual harassment of student

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত
বিদ্যালয়ের তিন ছাত্রী ও দুজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কিছুদিন আগে এক ছাত্রী স্কাউটে ভর্তি হতে আগ্রহ দেখায়। ছুটির পর তাকে স্কুলের একটি কক্ষে দেখা করতে বলেন শিক্ষক রথি কান্ত। মেয়েটি সেখানে গেলে তাকে যৌন হয়রানি করা হয়।

শরীয়তপুরের ডামুড্যার একটি স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ওই শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে, তদন্তে গঠন করা হয়েছে কমিটি।

এ ঘটনায় তোপের মুখে পড়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারও।

অভিযুক্ত রথি কান্ত ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের পাশাপাশি ছাত্রী স্কাউটেরও ইন্সট্রাক্টর।

বিদ্যালয়ের তিন ছাত্রী ও দুজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কিছুদিন আগে এক ছাত্রী স্কাউটে ভর্তি হতে আগ্রহ দেখায়। ছুটির পর তাকে স্কুলের একটি কক্ষে দেখা করতে বলেন শিক্ষক রথি কান্ত। মেয়েটি সেখানে গেলে তাকে যৌন হয়রানি করা হয়। মেয়েটি পালিয়ে বের হয়ে ঘটনা জানায় স্কাউটের বন্ধুদের।

আরেক ছাত্রী নিউজবাংলাকে জানায়, এ ঘটনা নিয়ে স্কাউটে বন্ধুদের সঙ্গে মেয়েটির কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পরে ফেসবুকে। এরপর ডামুড্যা উপজেলা শহরে বিষয়টি জানাজানি হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কাউট টিমের আরেক ছাত্রী বলে, ‘আমাদের অনেককেই এই নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তবে মান-সম্মানের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে চায় না। শিক্ষকদের এমন অনিয়ম প্রশয় দেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক দায়ী। তিনি নিজেও ছাত্রীদের বিভিন্ন সময়ে বাজে কথা লিখে ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজ পাঠান।’

আরেক অভিভাবক বলেন, ‘আমার নাম প্রকাশ করতে পারবেন না। যেখানে শিক্ষক ছাত্রীকে হেনস্তা করে সেখানে লেখাপড়ার কি পরিবেশ থাকতে পারে? মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবেই বালিকা বিদ্যালয়ে দিয়েছি। এখন তো আতঙ্কে আছি।’

এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের জন্য প্রধান শিক্ষক সুজিতকে কল করা হলে তিনি সাংবাদিকদের গালমন্দ করেন বলে অভিযোগ করেছেন দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন।

শাহাদাত জানান, তাকে ও আরেক সাংবাদিক আশিকুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন প্রধান শিক্ষক। সেসব কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিংও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

শাহাদাত বলেন, ‘একটি তথ্য জানতে চাওয়া কি অপরাধ? তিনি যেভাবে আমাকে হুমকি ও গালাগালি করেছেন আমি নিজে এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। একজন শিক্ষকের এমন আচরণের নিন্দা জানাই এবং তার শাস্তি দাবি করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শিক্ষক রথি কান্তকে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

প্রধান শিক্ষক সুজিত বলেন, ‘ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তার বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণের বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন সুজিত।

এ বিষয়ে ডামুড্যা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন জানান, ঘটনাটি তার নজরে এসেছে। তদন্তের পর অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
হলে নিষিদ্ধ রাইসকুকার, মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ
ছাত্রীর ‘শ্লীলতাহানি’, প্রধান শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ
চড়তে না পেরে আড়াই ঘণ্টা ট্রেন আটকে রাখেন রাবিতে ভর্তিচ্ছুরা
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য
পিপির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Labor strike fear of reduced tea production

শ্রমিক ধর্মঘট: চা উৎপাদন কমার শঙ্কা

শ্রমিক ধর্মঘট: চা উৎপাদন কমার শঙ্কা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি ও ধর্মঘট পালনে চা শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা
২০২১ সালে দেশে রেকর্ড ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়। এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০১৯ সালে। সে বছর ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল। তবে এবার তাতে ধস নামার শঙ্কা বাগান মালিক ও কর্মকর্তাদের। ধর্মঘটের কারণে বাগানগুলোতে প্রতিদিন ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

‘আমাদের ফ্যাক্টরিতে লাখখানেক কেজি চা এক সপ্তাহ ধরে পড়ে আছে। শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে এগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাতাগুলো নষ্ট হচ্ছে। আর দুই-এক দিন এভাবে চললে এই পাতা থেকে আর চা হবে না। হলেও গুণগত মান খুব খারাপ হবে।’

চলমান শ্রমিক ধর্মঘটে চা উৎপাদনের ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিতে গিয়ে নিউজবাংলাকে এমনটি বলছিলেন আকিজ গ্রুপের মালিকানাধীন মৌলভীবাজারের বাহাদুরপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল জব্বার।

দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন দেশের সব চা বাগানের শ্রমিকরা। এতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে দেশের উৎপাদনশীল এই খাতে। ভরা মৌসুমে শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে বেশির ভাগ বাগানের ফ্যাক্টরিতেই নষ্ট হচ্ছে তোলা পাতা। আবার বাগানের কচি পাতা বয়স্ক হয়ে পড়ছে। এতে দেশে উৎপাদন হ্রাসেরই শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২১ সালে দেশে রেকর্ড ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়। এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০১৯ সালে। সে বছর ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল। তবে এবার তাতে ধস নামার শঙ্কা বাগান মালিক ও কর্মকর্তাদের। ধর্মঘটের কারণে বাগানগুলোতে প্রতিদিন ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

শ্রমিক ধর্মঘট: চা উৎপাদন কমার শঙ্কা

চা বাগানের শ্রমিকরা বর্তমানে দৈনিক ১২০ টাকা মজুরি পান। মজুরি বাড়িয়ে তা ৩০০ টাকা করার দাবিতে ৮ আগস্ট থেকে আন্দোলনে নামেন তারা। প্রথমে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। দাবি মেনে না নেয়ায় গত শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে বন্ধ হয়ে পড়েছে দেশের ১৬৬টি চা বাগানের উৎপাদন ও পাতা উত্তোলন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা।

উত্তোলিত চা নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় মঙ্গলবার কারখানা চালু করতে যান মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ধামাই চা বাগানের কর্মকর্তা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তা তালা দিয়ে রাখেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মুক্ত করেন।

এই বাগানের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শেখ কাজল মাহমুদ বলেন, ‘শ্রমিকদের আন্দোলনে আমাদের কোনো বিরোধিতা নেই। কিন্তু ফ্যাক্টরিতে বাগানের অনেক পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই পাতা বিক্রি করে তাদের ও আমাদের মজুরি দেয়া হয়। শ্রমিকরা যেহেতু আপাতত কাজ করছে না, তাই আমরা সবাই মিলে ফ্যাক্টরি চালু করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তারা এসে আমাদের তালা মেরে দেয়।’

বৃষ্টির সময়কে চায়ের উৎপাদন মৌসুম ধরা হয়। ফলে এখন চায়ের ভরা মৌসুম। এই সময়ে ধর্মঘটের কারণে সব বাগানের কারখানায় নষ্ট হচ্ছে উত্তোলিত চা। প্রায় এক কোটি কেজি চা সব বাগানের ফ্যাক্টরিতে জমা পড়ে আছে বলে দাবি বাংলাদেশ চা সংসদের।

ধর্মঘটের কারণে ফ্যাক্টরির চা-পাতা নষ্ট হওয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার বিভিন্ন বাগানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের ডিনস্টন (খেজুরী ছড়া) চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক খালিদ হাসান রুমী মঙ্গলবার রাতে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি জিডি করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে ৯৯২০০ কেজি চা পাতা প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হয়নি। এই পরিমাণ পাতা থেকে ২২ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হতো। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

শ্রমিক ধর্মঘট: চা উৎপাদন কমার শঙ্কা

১ লাখ ৫৩ হাজার কেজি চা পাতা নষ্ট হওয়ার অভিযোগ এনে একই থানায় জিডি করেছেন রাজঘাট চা বাগানের ব্যবস্থাপক মাঈনুল এহছান।

ফিনলে চা কোম্পানির চিফ অপারেটিং অফিসার তাহসিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন বাগানে ৩৫ কোটি টাকার চা-পাতা নষ্ট হয়েছে। এগুলো থেকে আর ভালো মানের চা হবে না।’

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কয়েকটি বাগানের পক্ষ থেকে কাঁচা চা-পাতা নষ্টের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন করে তার সত্যতা নিশ্চিত করব।’

কেবল ফ্যাক্টরির চা-পাতা নয়, বাগানের পাতাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে বাংলাদেশ চা সংসদের সিলেট বিভাগের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চায়ের জন্য মূলত কচি পাতাগুলো তোলা হয়। সব বাগানেই কচি পাতা বয়স্ক হয়ে যাচ্ছে। এগুলো থেকে আর চা হবে না। এ ছাড়া বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলে গাছে আর কচি পাতা গজাবে না। ফলে একদিকে যেমন উৎপাদনে ধস নামবে, অন্যদিকে চায়ের গুণগত মানও হ্রাস পাবে।’

শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে সব বাগান মিলিয়ে প্রতিদিন ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রতি দুই বছর পর পর বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদ ও শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চা শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালে চা শ্রমিকদের মজুরি ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে সম্মত হচ্ছে না।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে জানিয়ে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল নিউজবাংলাকে বলেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। মাত্র ১২০ টাকায় এই বাজারে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। আমরা না বাঁচলে বাগান মালিকরা উৎপাদন করবেন কিভাবে। তাই বাগান মালিক ও চা শিল্পের স্বার্থেই শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন। তাদের ন্যূনতম বেঁচে থাকার মতো মজুরি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।’

শ্রম দপ্তরের শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের উপপরিচালক নাহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ভরা মৌসুমে ধর্মঘটের কারণে মালিক-শ্রমিক উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পুরো চাশিল্পই ক্ষতির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে আমরা দুই দফা তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। ১৬ আগস্ট শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আমরা তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘২৩ আগস্ট মালিক ও শ্রমিক পক্ষের নেতাদের নিয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বসবেন। আশা করি, এতে একটা সমাধান হবে। ধর্মঘট প্রত্যাহার করে ওই বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্য আমি শ্রমিক নেতাদের অনুরোধ করছি।’

আরও পড়ুন:
‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি, শুনতে কি পাও আহাজারি’
গুলশানে মধ্যরাতে ১৪ তলা থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
পল্টনে প্রিন্টিং প্লেটের বান্ডেল পড়ে যুবকের মৃত্যু
১৮ তলা থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
চা শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Who took the child on the hospital stairs?

হাসপাতালের সিঁড়িতে পাওয়া শিশুটি নিয়ে গেল কারা?

হাসপাতালের সিঁড়িতে পাওয়া শিশুটি নিয়ে গেল কারা? নওগাঁ সদর হাসপাতালের সিঁড়ি থেকে উদ্ধার নবজাতকটি চুরি হয়ে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা
শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত ইন্টার্ন নার্স আকলিমা খাতুন বলেন, ‘বাচ্চার অভিভাবক পরিচয়ে দুজন নারী কেএমসি ইউনিটে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। আমি পাশের কক্ষে রোগী দেখতে গিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর কেএমসি ইউনিটে ফিরে এসে কক্ষে প্রবেশ করতে চাইলে ওই দুই নারী পরে আসতে বলেন। একটু পর গিয়ে দেখি শিশু এবং ওই দুজন কোথাও নেই।’

নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের সিঁড়ি থেকে কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কেএমসি ইউনিটে দুই নারী ঢুকে কাউকে কিছু না বলে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত নার্স। তবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ ঘটনায় দায় নিতে অস্বীকার করেছেন।

বুধবার বিকেল ৪টার দিকে শিশু ওয়ার্ডের কেএমসি ইউনিট থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়।

এর আগে রোববার রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের চতুর্থ তলার সিঁড়ি থেকে কন্যাশিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের চতুর্থ তলার সিঁড়িতে কাপড়ে মোড়ানো ছিল একটি নবজাতক। তার কান্না শুনে হাসপাতালে আসা মানুষ জড়ো হন। চার-পাঁচ দিনের শিশুটি শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। ওয়ার্ড বয় রাজু হোসেন শিশুটিকে তুলে নিয়ে পঞ্চম তলায় শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সদর মডেল থানা পুলিশকে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শিশুটির নিরাপত্তার জন্য রাতেই এক নারী কনস্টেবলকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাতে শিশুটির সঙ্গেই ছিলেন ওই নারী কনস্টেবল।

পুলিশ জানায়, রাতেই অক্সিজেনসহ নানা ওষুধ দিয়ে শিশুটিকে সুস্থ করে তোলা হয়। তাকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের কেএমসি ইউনিটে রাখা হয়েছিল। পরদিন এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হেফাজতে শিশুটিকে রেখে চলে আসেন ওই কনস্টেবল।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত শিশুটিকে হাসপাতালের কেএমসি ইউনিটে দেখা গেলেও দুপুর ১টার পর আর তাকে দেখা যায়নি।

শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত ইন্টার্ন নার্স আকলিমা খাতুন বলেন, ‘বাচ্চার অভিভাবক পরিচয়ে দুজন নারী কেএমসি ইউনিটে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। আমি পাশের কক্ষে রোগী দেখতে গিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর কেএমসি ইউনিটে ফিরে এসে কক্ষে প্রবেশ করতে চাইলে ওই দুই নারী পরে আসতে বলেন। একটু পর গিয়ে দেখি শিশু এবং ওই দুজন কোথাও নেই।’

শিশু বিভাগের প্রধান ডা. রতন কুমার সিংহ বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে রাউন্ডে বাচ্চাটিকে দেখার পর একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। তারপর বাচ্চাটি কীভাবে নিখোঁজ হলো আমার জানা নেই। এ বিষয়ে কিছু জানতে হলে তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’

নওগাঁ সদর মডেল থানার (ওসি তদন্ত) রাজিবুল ইসলাম বলেন, একটি শিশু পাওয়া গেছে মর্মে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় অবগত করে। সেখানে একজন নারী কনস্টেবল পাঠানো হয়েছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করে। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে অভিভাবক প্রাপ্তিসাপেক্ষে আইনি প্রক্রিয়ায় বাচ্চাটি তারা হস্তান্তর করবে- এমন লিখিত দিলে বাচ্চাটি তাদের হেফাজতে বুঝিয়ে দিয়ে নারী কনস্টেবল চলে আসেন। বাচ্চা হারানোর ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই।’

এ বিষয়ে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন, ‘বাচ্চাটিকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বুঝিয়েও দেয়া হয়। আমরা শুধু নিজেদের হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছিলাম। পরে বাচ্চাটিকে ছাড়পত্র ছাড়াই কে কীভাবে নিয়ে গেছে আমার জানা নেই।’

কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বাচ্চাটি চুরি হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাদের দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল না। বাচ্চা হস্তান্তরের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। আমরা শুধু নিজেদের হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছিলাম। শুনেছি বাচ্চাটির মা ও নানি পরিচয়দানকারী দুজন তাকে নিয়ে চলে গেছেন।’

আরও পড়ুন:
হাসপাতালের সিঁড়িতে জীবিত নবজাতক
‘ভুয়া চিকিৎসকের ওষুধে’ নবজাতকের মৃত্যু
‘নালায় ফেলা সন্তানকে’ ফেরত নিতে হাসপাতালে নারী
ডাস্টবিনে পড়েছিল নবজাতক
নালা থেকে জীবিত নবজাতক উদ্ধার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BSF has captured the Bangladeshi from the border

সীমান্ত থেকে বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

সীমান্ত থেকে বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ
মুজিবনগর বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার শহিদুল ইসলাম জানান, মুজিবনগর সীমান্তের ১০৫ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় ভারত অংশ থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এক বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা।

মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্ত থেকে এক বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

মুজিবনগর বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার শহিদুল ইসলাম জানান, মুজিবনগর সীমান্তের ১০৫ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় ভারত অংশ থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এক বাংলাদেশেকি ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা।

তিনি জানান, হৃদয়পুর ক্যাম্পের বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, আটক ব্যক্তির নাম রুবেল। তিনি কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।

বিজিবির শহিদুল বলেন, ‘রুবেল কীভাবে সীমান্ত এলাকায় গেছেন, তা জানা যায়নি। ধারণা করছি, তিনি মুজিবনগরে বেড়াতে এসে সীমান্ত এলাকায় চলে গেছেন।’

আরও পড়ুন:
গরু পাচারকাণ্ডে বিএসএফ কমান্ডার সতীশ ফের গ্রেপ্তার
কৃষককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ
সীমান্তে ভারতীয় নাগরিকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ
১৪ দিন পর লিটনের মরদেহ দিল বিএসএফ
মরদেহ দিতে ১৪ দিন পর বিএসএফের চিঠি

মন্তব্য

p
উপরে