× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Due to lack of land playgrounds and gardens cannot be built Mayor Tapas
hear-news
player
print-icon

জমির সংকটেই খেলার মাঠ-উদ্যান করা যাচ্ছে না: মেয়র তাপস

জমির-সংকটেই-খেলার-মাঠ-উদ্যান-করা-যাচ্ছে-না-মেয়র-তাপস
বাসাবো বালুর মাঠে ‘বাসাবো সবুজ বলয়’ নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র তাপসসহ অন্যরা। ছবি: সংগৃহীত
তাপস বলেন, ‘আজ যে মাঠে আমরা সবুজ বলয়ের উদ্বোধন করলাম, সেই জমিটি দখল করার জন্য অনেকেই চেষ্টা করেছে। কিন্তু এই এলাকার সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ও আমাদের কাউন্সিলরসহ সকলের দৃঢ়তার জন্যই এই জমিটা রক্ষা করতে পেরেছি। সে কারণেই আমরা আজ এই প্রকল্পে হাত দিতে পেরেছি।’

জমির অভাবই পর্যাপ্ত খেলার মাঠ-উদ্যান প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বড় অন্তরায় বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

বুধবার দুপুরে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসাবো বালুর মাঠে ‘বাসাবো সবুজ বলয়’ নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

মেয়র তাপস বলেন, ‘প্রতি ওয়ার্ডেই ন্যূনতম একটি খেলার মাঠ-উদ্যান প্রতিষ্ঠা আমাদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু আপনারা জানেন, খেলার মাঠ-উদ্যান প্রতিষ্ঠা ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো আমাদের জমির অভাব। পর্যাপ্ত জমির সংস্থান করা।’

সবুজ বলয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘আমরা এই বলয়কে কেন্দ্র করে ফিফার মানদণ্ড অনুযায়ী যেমন ফুটবল খেলা ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের আলাদা ব্যবস্থা রেখেছি, তেমনি এখানে দর্শকদের জন্য বসার জায়গা রাখা হয়েছে এবং ক্রিকেটের জন্য যেন নেট প্র্যাকটিস করতে পারে সে ব্যবস্থাও আমরা এখানে রেখেছি।

‘তা ছাড়া এখানে এসে শিশুরা যেন খেলতে পারে ও অন্য খেলার সঙ্গে তাদের যেন সংঘর্ষ না হয়, সেই ব্যবস্থাও আমরা আলাদাভাবে রেখেছি।’

নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই খেলার মাঠ ও উদ্যান প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে জানিয়ে তাপস বলেন, ‘আজ যে মাঠে আমরা সবুজ বলয়ের উদ্বোধন করলাম, সেই জমিটি দখল করার জন্য অনেকেই চেষ্টা করেছে। কিন্তু এই এলাকার সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ও আমাদের কাউন্সিলরসহ সকলের দৃঢ়তার জন্যই এই জমিটা রক্ষা করতে পেরেছি। সে কারণেই আমরা আজ এই প্রকল্পে হাত দিতে পেরেছি।

‘এই সমস্যাটা কিন্তু প্রত্যেকটা ওয়ার্ডেই রয়েছে। আপনারা জানেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি ওয়ার্ড আছে, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড। এখানে খেলাধুলা করার জন্য এক চিলতে জমিও নেই। আমরা সেখানে একটি জমি চিহ্নিত করেছি, ইনশাআল্লাহ সেই জমিটা আমরা দখলমুক্ত করব। সেখানে অবৈধভাবে ট্রাকস্ট্যান্ড করে রাখা হয়েছে। সেটা দখলমুক্ত করে আমরা সেখানেও খেলার মাঠ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

নির্বাচনি ইশতেহারে দেয়া অঙ্গীকার পূরণে কাজ করে যাওয়ার কথা জানিয়ে মেয়র তাপস বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে এ রকম একটি করে উদ্যান-মাঠ যেন রেখে যেতে পারি, খেলার পরিবেশ রেখে যেতে পারি তাহলেই আমাদের সুন্দর ঢাকা বিনির্মাণ হবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে চলেছি। এভাবেই ধাপে ধাপে সুন্দর ঢাকা গড়ার দিকে আমরা এগিয়ে যাব।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আজকে আমরা যে সবুজ বলয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলাম, আপনারা যারা এই এলাকায় বসবাস করেন তারা জানেন ২০০০ সালে আমরা এখানে একটি সবুজ বলয় করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তখন থেকে প্রকল্প নিয়ে আমরা কাজ করছি।

‘রাজনৈতিক পট পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আইনি জটিলতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় হলো। সেই জয়ে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন আমাদের মেয়র। তিনি এই প্রকল্প গ্রহণ করেছেন এবং এই প্রকল্পে অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছেন।’

এর আগে মেয়র তাপস পাঁচতলা ভিত্তিবিশিষ্ট মেরাদিয়া কাঁচা ও বিপণিবিতানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, বাসাবো বৌদ্ধমন্দির থেকে কালীমন্দির পর্যন্ত রাস্তা সম্প্রসারণে চলমান কাজ এবং রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ শামসুন্নেসা আরজু মনি অ্যাকাডেমিক ভবন উদ্বোধন ও আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে চলমান খননকাজ পরিদর্শন করেন।

এ সময় করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গু রোধে ডিএসসিসিতে ৪ মাস পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত
১ জুলাই থেকে ঢাকায় রাত ৮টার পর বন্ধ দোকান: মেয়র তাপস
মাদক-চুরির অপরাধে চাকরি হারালেন ডিএসসিসির ২ কর্মচারী
চলতি মাসেই আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল পুনর্খনন: মেয়র তাপস
ডিএসসিসির খোঁড়াখুঁড়িতে ভেঙে পড়ল জবির সীমানা প্রাচীর ও ঘর

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
5 dead in Garda crush Case investigation report 22 September

গার্ডার চাপায় নিহত ৫: মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২২ সেপ্টেম্বর

গার্ডার চাপায় নিহত ৫: মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২২ সেপ্টেম্বর উত্তরায় প্রাইভেট কারে ক্রেন থেকে ভায়াডাক্ট পড়ে ৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। ফাইল ছবি
রাজধানীর উত্তরায় সোমবার বিআরটি প্রকল্পের বক্স গার্ডার চাপায় প্রাইভেটকারের পাঁচ যাত্রী নিহত হন। ওই ঘটনায় হওয়া মামলার এজাহার গ্রহণ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ঠিক করেন।

রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ক্রেন উল্টে বক্স গার্ডার চাপায় প্রাইভেটকারের পাঁচ যাত্রী নিহত হওয়ার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২২ সেপ্টেম্বর দাখিল করতে বলা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম মঙ্গলবার মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এই দিন ধার্য করেন।

এর আগে ১৫ আগস্ট রাতে নিহত ফাহিমা আক্তার ও ঝরণা আক্তারের ভাই আফরান মণ্ডল বাবু উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি করেন।

১৫ আগস্ট বিকেলে উত্তরায় প্যারাডাইস টাওয়ারের সামনে বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন উল্টে গার্ডার পড়ে চলন্ত প্রাইভেটকারের পাঁচ যাত্রী নিহত হন। হতাহতরা ঢাকায় একটি বৌভাতের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফিরছিলেন।

নিহতরা হলেন- আইয়ুব আলী হোসেন রুবেল, ফাহিমা আক্তার, ঝরণা আক্তার, জান্নাতুল ও জাকারিয়া। একই গাড়িতে থাকা নবদম্পতি হৃদয় ও রিয়া মনি গুরুতর আহত হন। তারা উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্বজনরা জানান, ফাহিমা নববধূ রিয়া মনির মা। আর ঝরণা তার খালা। রুবেল সম্পর্কে ফাহিমা-ঝরণার বেয়াই। জান্নাত ও জাকারিয়া ঝরণার সন্তান। ফাহিমা-ঝরণাদের বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুরে। আর রুবেলের বাড়ি মেহেরপুরে।

দুর্ঘটনা তদন্তে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সোমবার রাতে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। একদিনের মধ্যে প্রাথমিক ও দুদিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

আরও পড়ুন:
কোনো স্ত্রীর কাছেই নয়, গ্রামের বাড়িতে রুবেলের মরদেহ
মৃত্যুর পর জানা গেল রুবেলের ৭ স্ত্রী
গাফিলতি যারই থাকুক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: সড়ক সচিব
পাঁচ প্রাণ ঝরার পর নিরাপত্তায় জোর বিআরটি এমডির
বিআরটি প্রকল্প পরিচালককেও তদন্তের আওতায় চান প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fire in Chowkbazar DC provided burial assistance

চকবাজারে আগুন: দাফন সহায়তা দিলেন ডিসি

চকবাজারে আগুন: দাফন সহায়তা দিলেন ডিসি চকবাজারের আগুনে ৬ হোটেল কর্মচারীর মৃত্যু হয়। ছবি: নিউজবাংলা
মঙ্গলবার বিকেলে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম। এ সময় তিনি মৃত ৬ হোটেল কর্মচারীর পরিবারের কাছে দাফন ও সৎকারের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান তুলে দেন।

চকবাজারে চারতলা ভবনের আগুনে মৃত ব্যক্তিদের দাফনকাজে সহায়তায় ২৫ হাজার টাকা করে দিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম।

মঙ্গলবার বিকেলে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি মৃত ছয় হোটেল কর্মচারীর পরিবারের কাছে দাফন ও সৎকারের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান তুলে দেন।

ডিসি শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘এটা খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। স্বজন হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা। সরকারের তহবিল থেকে তাই তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

‘তাদের পরিবার সদস্যদের নাম-ঠিকানা ও ফোন নম্বর আমরা রাখছি। যদি আরও সহযোগিতা লাগে, আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’ আগুনে মারা যাওয়া কর্মচারী স্বপন সরকারের বড় ভাই সজল সরকার লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চাইলে ডিসি সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এদিকে আগুনের ঘটনা তদন্তে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। একজন এডিসির নেতৃত্বে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করবে।

ভবনের নিচতলায় হোটেলের গ্যাসের লাইন, বিদ্যুতের লাইনসহ সম্ভাব্য যেসব ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে তদন্ত কমিটি তার সবকিছু খতিয়ে দেখবে। আজকালের মধ্যেই তদন্তকাজ শুরু হবে বলে জানান ডিসি।

আরও পড়ুন:
চকবাজারে আগুন: প্লাস্টিক পাইপে গ্যাস নেয়া হোটেল মালিক গ্রেপ্তার
চকবাজারে আগুন: নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ করে সহায়তা
চকবাজারের আগুন ‘হোটেল থেকে’
ঘুমিয়ে ছিলেন ৬ হোটেল কর্মচারী
চকবাজারে পুড়ে যাওয়া ভবনে ৬ মরদেহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mourning Day Discussion and Doa Mahfil at Prime Ministers Office

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শোক দিবসের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শোক দিবসের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল
আলোচনা সভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও সংগ্রামী জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন আলোচকবৃন্দ। পরে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে মঙ্গলবার দুপুরে এই আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ-বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন ও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান।

আলোচনা সভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও সংগ্রামী জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন আলোচকবৃন্দ।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ।

দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যোগ দেন।

পরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত এবং দেশ-জাতির কল্যাণ ও অগ্রগতি কামনা করা হয়।

আরও পড়ুন:
শোক দিবসে বঙ্গভবনে মিলাদ
শোক দিবসে পথশিশুরা পেল শিক্ষা উপকরণ
অসাম্প্রদায়িক-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে বঙ্গবন্ধু চর্চা বাড়ানোর আহ্বান
শোক দিবসে ক্রিকেটারদের শ্রদ্ধা
খুনি চক্র এখনও সক্রিয়, জাতি সাবধান: তাপস

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Wasar rules on water prices

ওয়াসা কর্মীদের উৎসাহ বোনাসে নিষেধাজ্ঞা

ওয়াসা কর্মীদের উৎসাহ বোনাসে নিষেধাজ্ঞা
বিধি প্রণয়ন না করে ঢাকা ওয়াসার পানির দাম নির্ধারণ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তিনটি মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ উৎসাহ (পারফরম্যান্স) বোনাস ঘোষণার বিষয়ে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তিনটি মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ উৎসাহ (পারফরম্যান্স) বোনাস ঘোষণার বিষয়ে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে বিধি প্রণয়ন না করে ঢাকা ওয়াসার পানির দাম নির্ধারণ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) চেয়ারম্যান স্থপতি মোবশ্বের হোসেনের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

এলজিআরডি সচিব, ঢাকা ওয়াসা বোর্ড, ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান, এমডি ও সিইও এবং অডিটর ও কম্পট্রোলারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

ওয়াসার কর্মীদের উৎসাহ বোনাস এবং পানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশ হয়। পত্রিকার প্রতিবেদন যোগ করে হাইকোর্টে এ রিট করা হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৭ এপ্রিল ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের ২৯১তম সভায় পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড (উৎসাহ বোনাস) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। করোনা মহামারি–পরবর্তী ২০২০-২১ অর্থবছরের পারফরম্যান্সের জন্য ঢাকা ওয়াসার স্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক ও প্রেষণে নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের তিনটি মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ বোনাস দেওয়া হবে। আর গত ২৫ জানুয়ারি ২৮৬তম সভায় কর্মীদের একটি মূল বেতনের অর্ধেক ইন্টেরিম (অন্তর্বর্তীকালীন) পারফরম্যান্স বোনাস দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাড়ে তিনটি পারফরম্যান্স বোনাস দিতে সংস্থাটির ব্যয় হবে ১৯ কোটি টাকার বেশি।

পানির দামের বিষয়ে গণমাধ্যমে বলা হয়, আবাসিক ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে ঢাকা ওয়াসা বোর্ড। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। আবাসিকে ২৫ শতাংশ এবং বাণিজ্যিক সংযোগে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত পানির দাম বাড়াতে চায় তারা। এ জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
ধনী-গরিবের আলাদা পানির বিলে সময় লাগবে
কেবল দাম বাড়ালে হবে না, ওয়াসাকে দুর্নীতিও কমাতে হবে
ওয়াসার পানি: গরিব দেবে কম, ধনীর দাম বেশি
ওয়াসা এমডিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা নিল না আদালত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The mentally unstable mother is again accused of killing her child

মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের বিরুদ্ধে ফের সন্তান হত্যার অভিযোগ

মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের বিরুদ্ধে ফের সন্তান হত্যার অভিযোগ ছবি: সংগৃহীত
গত ১২ আগস্ট শিশুটিকে হত্যার পরদিন মরদেহ সমাহিত করা হয়। এর তিন দিন পর সেটি কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

রাজধানীতে আবার সন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। এবারও জানা গেছে, সেই নারী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তিনি হত্যার অভিযোগ পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারও করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মুগদা থানাধীন পূর্ব মানিকনগর এলাকার বালুর মাঠসংলগ্ন একটি বাসায়। সেখানে গলাটিপে হত্যা করা হয় ১০ মাস বয়সী শিশুকন্যা তানজিলা আক্তারকে।

গত ১২ আগস্ট শিশুটিকে হত্যার পরদিন মরদেহ সমাহিত করা হয়। এর তিন দিন পর সেটি কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

শিশুটির বাবা কিতাব আলী শারীরিক প্রতিবন্ধী। তিনি ব্যাটারিচালিত রিকশা চালান। শিশুটির মা তানিয়া আক্তারের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা রয়েছে।

সেই রাতের বর্ণনা দিয়ে কিতাব বলেন, রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। মধ্যরাতে স্ত্রী তাকে ডেকে ওঠান। জিজ্ঞেস করেন, ‘তানজিলা কোথায়।’

পরে খোঁজাখুঁজি করে বাউন্ডারির ভেতর একটি বালতিতে পাওয়া যায় তাকে। পাত্রটিতে সামান্য পানি ছিল। এরপর শিশুটিকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরদিন মুগদার কুমিল্লাপট্টি এলাকার একটি কবরস্থানে তানজিলাকে দাফন করা হয়। এরপর নরসিংদী থেকে শিশুটির খালা মার্জিয়া আক্তার ঢাকায় আসেন। কবরস্থানে দাফনের কথা শুনে তাদের ও এলাকার লোকজনদের মনে সন্দেহ হয়।

শিশুটি এভাবে মরতে পারে না, পরে শিশুটির বাবা ও খালারা মিলে মুগদা থানায় একটি মামলা করেন। এরপর শিশুটির মাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন তিনি গলাটিপে হত্যা করে বালতিতে ফেলে রাখার কথা স্বীকার করেন।

১৫ আগস্ট দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে শিশুটির মরদেহ কবর থেকে তোলা হয়। এরপর সেটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়।

মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নগেন্দ্রকুমার দাস বলেন, ‘শিশুটির মা ও বাবা- দুজনের দিকেই সন্দেহ ছিল। পরে তার মা তানিয়া আক্তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গত ৭ আগস্টও এক নারীর বিরুদ্ধে তার সন্তানকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। সে সময়ও জানা যায়, সেই নারীর মানসিক রোগের চিকিৎসা চলছিল।

সেদিন ঝুমুর নামে পাঁচ বছর বয়সী শিশুটিকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। তার মা শম্পা আক্তার এই কাজ করেন বলে জানান স্বজনরা।

মানসিক রোগের চিকিৎসা করাতে ভাইয়ের বাসায় আনা এই নারী একা অবস্থায় থাকার সময় এ ঘটনা ঘটান।

আরও পড়ুন:
বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোয় জোড়াতালি
হাসপাতালে মরদেহ রেখে পালাল কারা
হাসপাতালের মালামালসহ আটক ২, নার্স বরখাস্ত
‘বাড়ি গেলে মনে থাকে না আমার মেয়ে কবরে’
সিলগালা হাসপাতালে মৃত্যু: চিকিৎসক-নার্সের নামে মামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rubels body is in the village house with no wife

কোনো স্ত্রীর কাছেই নয়, গ্রামের বাড়িতে রুবেলের মরদেহ

কোনো স্ত্রীর কাছেই নয়, গ্রামের বাড়িতে রুবেলের মরদেহ উত্তরায় গাড়িতে ভায়াডাক্টের অংশ বা বক্স গার্ডার পড়ে নিহত রুবেল। ছবি: নিউজবাংলা
ময়নাতদন্ত করার পর মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দেয় হাসপাতালে। সেখানে দুর্ঘটনায় নিহত আইয়ুব আলী হোসেন রুবেলের মরদেহ নিতে একে একে হাজির হন তার স্ত্রী দাবিদার সাত নারী।

রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট- বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন থেকে ভায়াডাক্টের অংশ বা বক্স গার্ডার প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে নিহত ৫ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টায় তিনটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ মরদেহ নিয়ে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গ ত্যাগ করে।

অবশ্য ময়নাতদন্ত করার পর মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দেয় হাসপাতালে। সেখানে দুর্ঘটনায় নিহত আইয়ুব আলী হোসেন রুবেলের মরদেহ নিতে একে একে হাজির হন তার স্ত্রী দাবিদার সাত নারী।

তবে শেষ পর্যন্ত তাদের কাউকেই রুবেলের মরদেহ দেয়া হয়নি। সমঝোতার ভিত্তিতেই শেষপর্যন্ত মরদেহ বুঝে দেয়া হয় রুবেলের ভাই জিয়ার কাছে। মরদেহ এরপর পাঠানো হয় তার গ্রামের বাড়িতে।

সোমবারের দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া রুবেলের ছেলে হৃদয়ের খালাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা রুবেলের মরদেহ বুঝে নিয়েছেন। মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি মেহেরপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে তাকে সমাহিত করা হবে।’

তার আগে এক এক করে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল ছেড়ে যায়।

প্রথমে নিহত ঝর্না আক্তার ও তার দুই সন্তান জান্নাতুল ও জাকারিয়ার মরদেহ নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স বেরিয়ে যায়। এরপর ফাহিমা আক্তারের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স বের হয়ে যায়। দুটি অ্যাম্বুলেন্সই জামালপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

সবশেষে বের হয় আইয়ুব আলী হোসেন রুবেলের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স।

নিহত ঝর্ণা ও ফাহিমার ভাই মনির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি দুই বোন ও বোনের দুই সন্তানের মরদেহ বুঝে পেয়েছি। তাদেরকে জামালপুরে দাফন করা হবে। অ্যাম্বুলেন্স তাদেরকে নিয়ে জামালপুর রওনা দিয়েছে।’

রুবেলের একাধিক স্ত্রীর বিষয়ে জানতে চাইলে হৃদয়ের খালাতো ভাই জাহাঙ্গীর বলেন, ‘যদি কেউ এমন থাকে, তাহলে উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এখন হৃদয় তার বাবা রুবেলকে তাদের গ্রামের মেহেরপুর নিয়ে যাচ্ছে।’

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোহসীন বলেন, ‘বিকেলে পাঁচজনের লাশই হস্তান্তর হয়েছে। রুবেলে লাশ তার ভাই জিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে গ্রামের বাড়ি মেহেরপুরে নেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
গার্ডার দুর্ঘটনা: স্ত্রী-সন্তান হারানোর শোক কীভাবে সইবেন জাহিদ
‘উত্তরবঙ্গের ট্রেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বুধবার’
কর্তৃপক্ষের অবহেলায় মৃত্যু, রিট করতে বলল হাইকোর্ট
বিআরটি প্রকল্পের কাজ বন্ধের নির্দেশ
বক্স গার্ডার দুর্ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Action against defaulters Roads Secretary

গাফিলতি যারই থাকুক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: সড়ক সচিব

গাফিলতি যারই থাকুক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: সড়ক সচিব উত্তরায় প্রাইভেট কারে ক্রেন থেকে ভায়াডাক্টের অংশ বক্স গার্ডার পড়ে পাঁচ যাত্রীর মৃত্যু হয়। ছবি: নিউজবাংলা
আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ‘ছুটির দিনে ঠিকাদারের কাজ করার কথা না। তারা কোনো রকম নিরাপত্তাব্যবস্থা না নিয়েই কাজ করছিল। এভাবে উন্মুক্ত রেখে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। নিয়মানুযায়ী কাজ করতে হলে আগের দিন তারা একটি ওয়ার্ক প্ল্যান দেবে, তাদের কতজন লোক থাকবে, কতগুলো ক্রেন লাগানো হবে, কখন পুলিশকে জানাবে এসব থাকে।’

ছুটির দিনে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, এতে যাদের যাদের গাফিলতি পাওয়া যাবে, সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন সড়ক সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী।

এমনকি ছুটির দিনে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না গ্যাঝুবা গ্রুপ করপোরেশন বা সিজিজিসি কাজটি করছিল বলেও দাবি করেন সচিব।

রাজধানীর উত্তরায় সোমবার ওই প্রকল্পের নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের ভায়াডাক্টের একাংশ পড়ে প্রাইভেটকারের ৫ যাত্রী নিহত হওয়ার পর তদন্ত কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন সড়ক সচিব।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি।

আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ‘ছুটির দিনে ঠিকাদারের কাজ করার কথা না। তারা কোনো রকম নিরাপত্তাব্যবস্থা না নিয়েই কাজ করছিল। এভাবে উন্মুক্ত রেখে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। নিয়মানুযায়ী কাজ করতে হলে আগের দিন তারা একটি ওয়ার্ক প্ল্যান দেবে, তাদের কতজন লোক থাকবে, কতগুলো ক্রেন লাগানো হবে, কখন পুলিশকে জানাবে এসব থাকে।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল ঠিকাদার এগুলো না করেই কাজটা করেছে। কোনো অবস্থাতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করে এ ধরনের কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।’

উত্তরার জসীমউদ্দীন রোডের মোড়ে প্যারাডাইজ টাওয়ারের সামনের সড়কে বিকেলে ফ্লাইওভারের বক্স গার্ডার ক্রেনে করে গাড়িতে তোলার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সে সময় রাস্তায় অসংখ্য যানবাহন চললেও সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা বা কাজ করা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়নি।

ফ্লাইওভারের ভায়াডাক্টের একাংশ পড়ে গাড়িতে থাকা সাতজনের মধ্যে দুই শিশুসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় করা প্রাথমিক তদন্তে গাফলতির এমন প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায় মন্ত্রণালয়।

ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে জানতে চাইলে সড়ক সচিব আমিন উল্লাহ বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চুক্তি অনুযায়ী আমরা… আমাদের চুক্তিতে যেমন থাকে জরিমানা করা হয়, কাজ টার্মিনেট করা হয় এবং তারা যেন আর কোনো কাজ করতে না পারে এ জন্য ব্ল্যাক লিস্ট করা হয়। চূড়ান্ত রিপোর্টটা আসুক। আমি আজকেই চিঠি ইস্যু করব, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘এতো বড় ক্ষতির জন্য শুধু জরিমানা করা যাবে না। সর্বোচ্চ ব্যবস্থা যদি নেয়া হয় তার লাইসেন্স চলে যাবে। বাংলাদেশে তারা আর কোনো কাজ করতে পারবে না।’

এ ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের গাফলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।

সচিব বলেন, ‘আগে যারা নিরাপত্তায় ছিল তাদের আমরা টার্মিনেট করেছি। আমি যতটুকু জেনেছি আগের ঘটনাগুলোতে যারা গাফিলতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

‘কেউই দায় এড়াতে পারে না। একদিনে একটি তদন্ত হয় না। গতকাল ঘটনার পরপরই কিন্তু আমি সবাইকে ফোন করেছি। কোনো অবস্থাতেই অরক্ষিত অবস্থায় কাজ করার সুযোগ নেই। ঠিকাদার কেন করেছে সেটাই হলো প্রশ্ন। কে সে করল? কমকর্তা যারা মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে।’

তিনি বলেন, ‘যে ক্রেনে তোলা হয়েছিল সেটি এর জন্য সক্ষম কিনা এটা তদন্ত কমিটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিলে জানা যাবে। এটা কিন্তু সে উপরে তুলছিল না, এটা স্থানান্তর করছিল। একটা সে সরিয়েছেও। নিয়মিত মামলা হয়েছে। আমরা লাশগুলো আজকে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। সে সময় অন্য কোনো অপারেটর ছিল না।’

সড়ক সচিব বলেন, ‘একটা অস্ট্রেলিয়ান প্রতিষ্ঠান কনসালটেন্ট। এ ধরনের কাজের ক্ষেত্রে কনসালটেন্ট থাকে কাজ বুঝিয়ে দিতে, তারা একটি ম্যাথডলজি দেয় কীভাবে করতে হবে। দেয়ার পরে ফেল করলে এক কথা। তারপরেও কনসালটেন্টকে বলেছি, তোমার খোঁজ নেয়ার কথা। সে বলেছে, বন্ধের দিন তো কাজ করার কথা না। তারা বলেওনি কাজ করার জন্য।

‘কালকে কাজ বন্ধ ছিল। যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের যারা সুপারভাইজার সেখানে ছিল, আজকেই তাদের সবাইকে শোকজ করব। কমিটি আমাকে আগামী ২ দিনের মধ্যে রিপোর্টটা দেবে।’

সড়ক সচিব আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, ‘তাদের (ঠিকাদার) কাছে আমি এখন লিখিত সিকিউরিটি কমপ্লায়েন্স চাইব। সেটি কনসালটেন্ট অনুমোদন করবে তারপর কাজ চালু হবে।’

আরও পড়ুন:
কর্তৃপক্ষের অবহেলায় মৃত্যু, রিট করতে বলল হাইকোর্ট
বিআরটি প্রকল্পের কাজ বন্ধের নির্দেশ
বক্স গার্ডার দুর্ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা
বনানীতে ট্রাকের ধাক্কায় বাইকার শুভ নিহত
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে অটোরিকশার ধাক্কা, নিহত ২

মন্তব্য

p
উপরে