× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Murder of woman who took stand demanding marriage Two arrested
hear-news
player
print-icon

বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয়া নারীকে হত্যা: দুজন গ্রেপ্তার

বিয়ের-দাবিতে-অবস্থান-নেয়া-নারীকে-হত্যা-দুজন-গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার মনির ও আমির। ছবি: নিউজবাংলা
গ্রেপ্তাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন জানিয়ে র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘আসামিদের মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয়া রোকসানা বেগম নামে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার ভবেরচর এলাকায় শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তাররা হলেন ৪৫ বছরের মো. মনির হোসেন ও ৪০ বছরের মো. আমির।

ঘটনার বর্ণনায় র‍্যাব অধিনায়ক বলেন, ‘সাত বছর আগে রোকসানা বেগমের সঙ্গে তার স্বামীর ডিভোর্স হয়। এর পর থেকে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে ছোট ভাইয়ের বাড়িতে থাকতেন রোকসানা। কাজ করতেন বাইশটেকী গ্রামের একটি জামদানি শাড়ি তৈরির কারখানায়।

সেখানে মনির হোসেনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একপর্যায়ে রোকসানা বিয়ের ব্যাপারে মনিরকে চাপ দেন। মনির তার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর রোকসানাকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন। চলতি বছরের ১৫ জুলাই মনিরের মেয়ের বিয়ে হয়। ১৮ জুলাই মনিরের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে যান রোকসানা। পরে সেখানে অবস্থান নেন।

‘পরে মনিরের বাড়ির লোকজন রোকসানাকে একাধিকবার বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেন। কিন্তু বাড়িতে অবস্থানে অনড় থাকায় মনির, তার ভাই গোলজার, খোকন ও তার ছেলে রানা এবং মনিরের স্ত্রী তাকে লোহার পাইপ, লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন।’

র‍্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মুমূর্ষু অবস্থায় মনির ও তার সহযোগীরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই রোকসানার মৃত্যু হয়। পরে পালিয়ে যান মনির ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় রোকসানার ছোট ভাই মো. এনামুল হোক সোনারগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন।’

গ্রেপ্তাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসামিদের মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যকে ‘পিটিয়ে হত্যা’: গ্রেপ্তার ৩
অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
সিদ্ধিরগঞ্জে পিটিয়ে হত্যা, ৩ আসামি কারাগারে
রাস্তায় সাইড না দেয়া নিয়ে বিরোধে বাইকযাত্রীকে পিটিয়ে হত্যা
‘সুপারিগাছ কাটতে বাধা দেয়ায়’ পিটিয়ে হত্যা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
2 people were caught lying in the court

আদালতে মিথ্যা বলে ফেঁসে গেলেন ২ জন

আদালতে মিথ্যা বলে ফেঁসে গেলেন ২ জন নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ছবি: নিউজবাংলা
বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১২ সালের ১৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় একটি দোকানে ইলেকট্রনিকস পণ্য চুরির অভিযোগে মামলা করেন আতিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। ওই মামলায় মো. আমান, মো. সিদ্দিক ও ফারুক নামে তিনজনকে আসামি করা হয়।

গত বছরের ৩ ডিসেম্বর ওই মামলাটির জামিন শুনানি হয়। শুনানিতে আসামি আমান আদালতে হাজির হয়ে জানান বাদীর সঙ্গে তার আপস হয়ে গেছে। যথারীতি মামলার বাদীকেও হাজির করেন তিনি।

এরপর শপথবাক্য পাঠ করে ওই বাদী জানান, আসামি আমান জামিনে গেলে তার কোনো আপত্তি নেই। এ সময় আদালতের বিচারক বাদীর নাম-পরিচয় জানতে চাইলে তিনি যথাযথ উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। পরে তার স্বাক্ষর নিয়ে অভিযোগপত্রের সঙ্গে মেলানো হয়। কিন্তু স্বাক্ষরটি না মেলায় আদালতের সন্দেহ হলে বাদী দাবি করা ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

কিছুক্ষণ পরই আদালতে হাজির হন মামলার আসল বাদী আতিকুল ইসলামের আইনজীবী। তিনি আদালতকে জানান, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আপসের দাবি করা ব্যক্তি মামলার বাদী নন।

এ অবস্থায় আটক ব্যক্তিকে আদালত জিজ্ঞেস করলে তিনি স্বীকার করেন যে মিথ্যা বাদী সেজে তিনি আসামি আমানের পক্ষে আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসেছেন। তার প্রকৃত নাম মো. সালাম এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বাক্কা মিয়ার ছেলে তিনি।

মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার অভিযোগে এ সময় সালাম ও আমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী।

মঙ্গলবার মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার ওই মামলায় সালাম ও আমানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দ্বিতীয়) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শামছুর রহমান মঙ্গলবার বিকেলে ওই রায় ঘোষণা করেন।

বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন:
ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানার টাকা জমা হচ্ছে কি না খতিয়ে দেখার নির্দেশ
শাশুড়িকে হত্যা মামলায় জামাইয়ের যাবজ্জীবন
ধর্ষণ মামলার বাদীকে আদালতে ‘মারধর’
অর্থ পাচার মামলা: বরকত-রুবেলের অভিযোগ গঠনের শুনানি ২২ জুন
আপিলে গোল্ডেন মনিরের জামিন স্থগিত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mayor tapas in burnt factory

পোড়া কারখানায় মেয়র তাপস

পোড়া কারখানায় মেয়র তাপস দেবীদাস ঘাট লেনে আগুনে পুড়ে যাওয়া কারখানা পরিদর্শন করেন মেয়র তাপস। ছবি: নিউজবাংলা
মেয়র তাপস বলেন, ‘যেখানে খাবার হোটেল ও পলিথিন কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে, সেটি একটি ওয়াক্ফ এস্টেট। এখানে স্থাপনার বৈধতা নেই, বাণিজ্য অনুমতি নেই। তার পরও সেখানে রেস্তোরাঁ ও কারখানা হয়েছে অবৈধভাবে।’

সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয় না থাকায় পুরান ঢাকায় রাসায়নিক গুদাম ও কারখানায় আগুনের ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

রাজধানীর দেবীদাস ঘাট লেনে আগুনে পুড়ে যাওয়া কারাখানা পরিদর্শনের সময় বুধবার তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র তাপস বলেন, ‘যেখানে খাবার হোটেল ও পলিথিন কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে, সেটি একটি ওয়াক্ফ এস্টেট। এখানে স্থাপনার বৈধতা নেই, বাণিজ্য অনুমতি নেই। তার পরও সেখানে রেস্তোরাঁ ও কারখানা হয়েছে অবৈধভাবে।

‘বাণিজ্য অনুমতি না থেকেও সেখানে গ্যাস, বিদ্যুতের সংযোগ গেল কীভাবে? আইনের ব্যত্যয় হলে এ রকম দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।’

সোমবার দেবীদাস ঘাট লেনের চারতলা একটি ভবনে আগুন ধরে ছয় হোটেল কর্মচারীর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মেয়র।

তিনি বলেন, ‘আমরা ২০১৮ সালের পর থেকে এখানে ট্রেড লাইসেন্স দিচ্ছি না। তার পরও কারখানা হচ্ছে, ব্যবসা চলছে। আমরা ১ হাজার ৯২৪টি রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা চিহ্নিত করেছি। এসব স্থানান্তর করতে বলেছি। যার কাজ চলমান।’

মেয়র তাপস আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল পুনঃখনন কার্যক্রম ও নিউ মার্কেটসংলগ্ন বনলতা কাঁচাবাজার পরিদর্শন করেন।

এ সময় মেয়রের সঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, সচিব আকরামুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ডিএসসিসির ৬৭৪১ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন
এডিস নির্মূলে চিরুনি অভিযান
পুরান ঢাকায় হচ্ছে ৫০ ফুট রাস্তা
ঢাকা বিশ্রাম পাচ্ছে, বাতাসের মান ভালো হচ্ছে: মেয়র তাপস

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Instead of beating the journalists the case is against them

সাংবাদিকদের পিটিয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মামলা

সাংবাদিকদের পিটিয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মামলা ডিবিসি স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল ইসলাম জুয়েল ও ক্যামেরা পারসন আজাদ আহমেদ। ছবি। সংগৃহীত
ভিক্টর ট্রেডিং করপোরেশনে দুর্নীতির­ খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে মারধরের শিকার সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘আমি মামলা করার পর সমঝোতার চেষ্টা করে আসামিরা। তাতে ব্যর্থ হয়ে হয়রানির উদ্দেশ্যে ঘটনার ১৫ দিন পর তারা আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে।’ 

দুর্নীতি­সংক্রান্ত খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছিলেন বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসি নিউজের স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল ইসলাম জুয়েল ও ক্যামেরা পারসন আজাদ আহমেদ। এবার সেই হামলাকারীরাই উল্টো ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকেছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে।

বুধবার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে এই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন ভিক্টর ট্রেডিং করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী কাওছার ভুইয়ার ভাই নাজমুল হাসান ভূইয়া।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় স্টাফ রিপোর্টার জুয়েল, ক্যামেরা পারসন আজাদ ছাড়াও অজ্ঞাত উল্লেখ করে ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, ভিক্টর ট্রেডিংয়ের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন সাংবাদিক জুয়েল ও তার সঙ্গীরা। তারা বাদী নাজমুলসহ অন্যদের মারধরও করেন। একপর্যায়ে তারা মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী আ. মালেকের ড্রয়ার থেকে টাকা নিয়ে যান।

মামলায় উল্লেখ করা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম জুয়েল। তিনি বলেন, ‘২ আগস্ট দুপুরে ভিক্টর ট্রেডিংয়ের দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে আমাদের আটকে রেখে মারধর করে। আমাদের ডিভাইসও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তারা আমাদের ধারণ করা সব ফুটেজ মুছে দেয়।

‘আমরা ওখান থেকে বের হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেছি। ওই মামলায় থানা পুলিশ কাওছার ভূইয়া ও তার সহযোগী সাত হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার ১৫ দিন পর ঠিকাদার কাওছারের ভাই নাজমুল আমাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। আমাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই মামলাটি করা হয়েছে।’

জুয়েল আরও বলেন, ‘আমি মামলা করার পর সমঝোতার চেষ্টা করে আসামিরা। আমরা বলেছি, আইন আইনের গতিতে চলবে। আমাদের সঙ্গে সমঝোতা করতে না পেরে হয়রানির উদ্দেশ্যে ঘটনার ১৫ দিন পর তারা আদালতে মামলা করেছে।’

আনীত অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিকুসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা এ প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

মামলা প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ক্র্যাব। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ক্রাইম রিপোর্টারদের এই সংগঠন। এদিন বেলা ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক তুলির মৃত্যুর এক মাসেও তদন্তের কিনারা নেই
সাংবাদিক মারধরে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি
১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চান জজ মিয়া
দুই সাংবাদিককে ক্লিনিক মালিক ও পুলিশের মারধর
ভারতীয় সাবানসহ সাংবাদিক আটক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chittagong naval base mosque bomb 5 militants sentenced to death

চট্টগ্রামে নৌ ঘাঁটির মসজিদে বোমা: ৫ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামে নৌ ঘাঁটির মসজিদে বোমা: ৫ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড চট্টগ্রাম আদালত। ছবি: নিউজবাংলা
মনোরঞ্জন বলেন, ‘মামলার এক বছর পর ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় তদন্ত কর্মকর্তা। বিচার শুরুর পর চলতি বছরের ২৩ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে রায় ঘোষণা করেন আদালত।’

চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাঁটির মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ৫ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জেলার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুল হালিম বুধবার সকালে এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মনোরঞ্জন দাশ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডিতরা হলেন নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য এম সাখাওয়াত হোসেন, বলকিপার আবদুল মান্নান, তার ভাই আবদুল গাফফার, বলকিপার রমজান আলী এবং বাবুল রহমান ওরফে রনি।

পিপি জানান, ২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাঁটি এলাকায় অবস্থিত দুটি মসজিদে জুমার নামাজের পর বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর নেভাল প্রভোস্ট মার্শাল কমান্ডার এম আবু সাঈদ নগরীর ইপিজেড থানায় মামলা করেন।

সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে করা এই মামলায় আসামি করা হয় ৪ জনকে। পরে পুলিশের তদন্তে আসামি আবদুল মান্নানের বড় ভাই জেএমবি সদস্য আবদুল গাফফারের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।

মনোরঞ্জন বলেন, ‘মামলার এক বছর পর ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় তদন্ত কর্মকর্তা। বিচার শুরুর পর চলতি বছরের ২৩ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার রায় ঘোষণা করেন আদালত।’

আসামিদের মধ্যে এম সাখাওয়াত হোসেন পলাতক। বাকিরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান পিপি।

আরও পড়ুন:
শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড
কন্যাকে পায়ে পিষে হত্যা, বাবার মৃত্যুদণ্ড
ব‍্যবসায়ী হত‍্যা মামলায় ২ জনের মৃত‍্যুদণ্ড
স্ত্রী হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
ক্ষমা বিশ্বাস হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Life sentence for killing son in law to settle daughters quarrel

মেয়ের কলহ মেটাতে জামাতাকে হত্যায় যাবজ্জীবন

মেয়ের কলহ মেটাতে জামাতাকে হত্যায় যাবজ্জীবন
মামলার বাদী শারমীন আক্তারের সঙ্গে ওমর ফারুকের বিয়ে হয় ২০১৪ সালে। এর পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে নানা বিষয়ে তার কলহ চলত। বিষয়টি সৎবাবা আবু বাক্কারকে বিভিন্ন সময় তিনি জানিয়েছিলেন। এসব কারণে মেয়ের জামাইয়ের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন বাক্কার।

কিশোরগঞ্জে সৎমেয়ের জামাইকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হবে।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সায়েদুর রহমান বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে এ রায় দেন।

আসামি ৬০ বছর বয়সী আবু বাক্কারের বাড়ি কিশোরগঞ্জ পৌর এলাকার তারাপাশা এলাকায়।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু সাঈদ ইমাম নিউজবাংলাকে এসব নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বাদী শারমীন আক্তারের সঙ্গে ওমর ফারুকের বিয়ে হয় ২০১৪ সালে। এর পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে নানা বিষয়ে তার কলহ চলত। বিষয়টি সৎবাবা আবু বাক্কারকে বিভিন্ন সময় তিনি জানিয়েছিলেন। এসব কারণে মেয়ের জামাইয়ের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন বাক্কার।

২০১৯ সালের ৩০ মে সকালে ওমর ফারুক স্ত্রীকে নিতে শ্বশুরবাড়ি গেলে বাক্কারের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে দা দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন বাক্কার। সে রাতেই বাক্কারকে আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন মেয়ে শারমিন।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধু হত্যার তদন্তে কমিশনের রূপরেখা প্রস্তুত: আইনমন্ত্রী
টিপু-প্রীতি হত্যা: সেই বাইক-পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ৫
গৃহবধূকে ‘শিলের আঘাতে হত্যা’, স্বামী আটক
শিশুকে ‘ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে’ হত্যা
শ্বশুরবাড়িতে জামাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
500 bikes stolen by making master key

মাস্টার চাবি বানিয়ে ৫০০ বাইক চুরি

মাস্টার চাবি বানিয়ে ৫০০ বাইক চুরি
ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ জানান, মোটরসাইকেল চুরির জন্য তাদের টার্গেটেড এরিয়া ছিল পুরান ঢাকা। ওই এলাকায় সুজুকি জিক্সার মডেলের মোটরসাইকেল চুরি করতেন তারা। গত কয়েক বছরে এই চক্রের সদস্যরা অন্তত ৫০০ মোটরসাইকেল চুরি করেছেন।

বিভিন্ন সময়ে তৈরি করেছেন নানা ধরনের মাস্টার চাবি। সেই চাবি দিয়ে পুরান ঢাকাকে টার্গেট করে কয়েক বছরে চুরি করেছেন পাঁচ শতাধিক মোটরসাইকেল। চোরাই মোটরসাইকেল কেরানীগঞ্জ, দোহার, মুন্সীগঞ্জসহ ঢাকার পাশের বিভিন্ন এলাকায় কম দামে বিক্রি করতেন চোর চক্র।

সম্প্রতি রাজধানীর ওয়ারী ও গেন্ডারিয়া থানায় দুটি মোটরসাইকেল চুরি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

রাজধানীর শনির আখড়া ও ধলপুর এলাকায় মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চোর চক্রের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ তারা হলেন- চক্রের হোতা নূর মোহাম্মদ, অন্যতম সহযোগী রবিন, সজল, মনির ও আকাশ।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৩টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘প্রথমে মোটরসাইকেল চোর চক্রের দুই সদস্য নূর মোহাম্মদ ও রবিনকে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেয়া তথ্যে অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি জানান, মোটরসাইকেল চুরির জন্য তাদের টার্গেটেড এরিয়া ছিল পুরান ঢাকা। ওই এলাকায় সুজুকি জিক্সার মডেলের মোটরসাইকেল চুরি করতেন তারা। গত কয়েক বছরে এই চক্রের সদস্যরা অন্তত ৫০০ মোটরসাইকেল চুরি করেছেন।

দ্রুত বড়লোক হওয়ার নেশায় মোটরসাইকেল চুরি

জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে ডিবি জানায়, নূর মোহাম্মদ মূলত জুরাইন এলাকায় একটি কাঠের দোকানে নকশার কাজ করতেন। আগে তার বাসা ছিল ঢাকার কেরানীগঞ্জে হাসনাবাদ এলাকায়। একদিন হাসনাবাদ গলির ভেতর চা দোকানে রবিনের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। দুইজন মিলে পরিকল্পনা করেন, কীভাবে দ্রুত সময়ে টাকাওয়ালা হওয়া যায়। নূর মোহাম্দ রবিনকে জানান, তার কাছে করাত ধার দেয়ার রেত আছে, যা দিয়ে মোটরসাইকেলের চাবি পাতলা করে ‘মাস্টার কি’ বানানো যাবে।

পরিকল্পনা মোতাবেক রবিনের জিক্সার মোটর সাইকেলের চাবি রেত দিয়ে ঘঁষে পাতলা করে শারিঘাট, হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পার্ক করা একটি জিক্সার মোটরসাইকেল পরীক্ষামূলক চুরি করেন। এর পর থেকে তারা এ চাবিকেই ‘মাস্টার কি’ হিসেবে ব্যবহার করে দুই বন্ধু দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল চুরি করে আসছেন বলে জানায় ডিবি।

ডিবির প্রধান হারুন বলেন, ‘চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রি করার জন্য তারা ঢাকার দোহারে সজলকে তাদের চক্রের সদস্য করে নেন। ঢাকা মহানগর এলাকা থেকে বাইক চুরি করে নিরাপদ রোড হিসেবে পোস্তগোলা ব্রিজ পার হয়ে মাওয়া রোডের শ্রীনগর বাইপাস হয়ে মেঘুলা বাজার, দোহার রুট হিসেবে ব্যবহার করে।

‘অন্যদিকে বাবুবাজার ব্রিজ পার হয়ে কেরানীগঞ্জ, জয়পাড়া ও দোহার এলাকা যাওয়ার রুট হিসেবে ব্যবহার করেন। সজল ও মনির দোহারের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে চোরাই মোটরসাইকেলগুলোকে ইন্ডিয়ান বর্ডার ক্রস গাড়ি বলে বিক্রি করতেন।’

প্রতিটি চোরাই মোটরসাইকেল তারা ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করতেন। বিক্রির টাকা নূর মোহাম্মদ ৪০ শতাংশ, রবিন ৩০ শতাংশ ও অবশিষ্ট টাকা অন্যরা ভাগ করে নিতেন।

আসামিদের বরাতে ডিবি আরও জানায়, তারা ২০১৫ সাল থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে আসছেন। এ পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি মোটরসাইকেল চুরি করেছেন।

গোয়েন্দা প্রধান জানান, বিভিন্ন থানায় গ্রেপ্তার আসামি নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা, রবিনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা এবং অন্য তিনজনের বিরুদ্ধে একটি করে মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন:
সরকারি গাড়ির তেল চুরি মাসে ১৮ হাজার লিটার
সার্জেন্টের সঙ্গে তর্কাতর্কি, নিজ বাইকে আগুন
চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৭
মহাসড়কে বাইক বন্ধের সুপারিশ
বাসচাপায় ইজিবাইকের ৬ যাত্রী নিহতের ঘটনায় চালক গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
At the end of the uncertainty I found release Hridoy Mandal

অনিশ্চয়তা শেষে মুক্তি পেলাম: হৃদয় মণ্ডল

অনিশ্চয়তা শেষে মুক্তি পেলাম: হৃদয় মণ্ডল জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল। ছবি: নিউজবাংলা
ধর্ম অবমাননার মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল বলেন, ‘অনেক শিক্ষকই চাইছিলেন আমি এই স্কুল থেকে চলে যাই। স্কুলের শিক্ষকরা তো চাইছিলেন এই সমস্যাটা সৃষ্টি হোক। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সব সময় আমার ভালো সম্পর্ক ছিল, এখনও আছে।’

‘পাঁচ মাস, প্রায় পাঁচ মাসের মতো অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছিল। ভয়ভীতি নিয়ে দিন কাটছিল। এখনও ভয়ভীতি আছে, ভয়ভীতি যাবে না। তবে এখন আমি মুক্ত।’

ধর্ম অবমাননার মামলা থেকে অব্যাহতির পর কথাগুলো বলেছেন মুন্সীগঞ্জের বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল।

জেলা আমলি আদালত-১-এর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে মঙ্গলবার মামলা থেকে হৃদয় মণ্ডলকে অব্যাহতির মৌখিক আদেশ দেন। বুধবার সে আদেশপত্রে স্বাক্ষর করেন বিচারক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের জিআরও মো. জসিমউদ্দিন।

এ খবর শুনে শিক্ষক বলেন, ‘ভয়টা রইল না যে আবার কারাগারে যেতে হবে অথবা আবার মাসে মাসে হাজিরা দিতে হবে। এটার থেকে তো মুক্তি পাইলাম।

‘অনেক শিক্ষকই চাইছিলেন আমি এই স্কুল থেকে চলে যাই। স্কুলের শিক্ষকরা তো চাইছিলেন এই সমস্যাটা সৃষ্টি হোক। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সব সময় আমার ভালো সম্পর্ক ছিল, এখনও আছে।’

হৃদয় মণ্ডলের আইনজীবী শাহীন মোহাম্মদ আমানউল্লাহ বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জ আমলি আদালত-১-এর বিচারক জশিতা ইসলাম অব্যাহতির আদেশ দেন। তবে মৌখিক ঘোষণার পর আজ আদেশপত্রে স্বাক্ষর করেছেন বিচারক। গত ৮ আগস্ট পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।’


যা ঘটেছিল

মুন্সীগঞ্জ সদরের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন হৃদয় মণ্ডল।

তিনি গত ২০ মার্চ দশম শ্রেণির ক্লাসে বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। ধর্মকে একটি ‘বিশ্বাস’ এবং বিজ্ঞানকে ‘প্রমাণভিত্তিক জ্ঞান’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। গোপনে তার অডিও ধারণ করে এক শিক্ষার্থী।

ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আহমেদের কাছে ওই শিক্ষকের নামে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ দেয়। প্রধান শিক্ষক কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তিন দিনের মধ্যে শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে জবাব দিতে বলেন। তবে এর আগেই ২২ মার্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা জোটবদ্ধ হয়ে হৃদয় মণ্ডলের শাস্তির দাবিতে স্কুলে মিছিল বের করে।

বিদ্যালয় চত্বরের পাশের রিকাবীবাজার এলাকাতেও মিছিল হয়। প্রধান শিক্ষক পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের খবর দেন। স্কুলে গিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে ভেস্তে যায় সেই আলোচনা। একপর্যায়ে হৃদয় মণ্ডলকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর রাতেই হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা করেন স্কুল সহকারী মো. আসাদ।

১৯ দিন কারাভোগের পর ১০ এপ্রিল রোববার জামিনে মুক্ত হন হৃদয় মণ্ডল। তাকে ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোতাহারাত আক্তার ভূঁইয়া।

কী কারণে এই অভিযোগ তোলা হতে পারে- এমন প্রশ্নের উত্তরে সেদিন নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমি বলতে পারছি না কী ঘটছে, স্কুলে অভ্যন্তরীণ রেষারেষি থেকেও হতে পারে, প্রাইভেট পড়ানো নিয়েও হতে পারে।’

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তিনি। বলেন, যাদের অভিযোগের কারণে তিনি কারাভোগ করেছেন, তাদের ওপর তার কোনো ক্ষোভ নেই।

গত ১১ এপ্রিল সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হাই তালুকদারকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা বোর্ড। তদন্ত শেষে হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি বলে ২০ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
হৃদয় মণ্ডলের ঘটনা অনুসন্ধানে স্কুলে তদন্ত কমিটি
নব্বই শতাংশের পাটিগণিত
হৃদয় মণ্ডলের গ্রেপ্তারে ‘আরও কারও হাত’ দেখছেন তথ্যমন্ত্রী
হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলার ধারা নিয়ে বিতর্ক
খোদার কাছে প্রার্থনা ওরা স্বাভাবিক মানুষ হোক: হৃদয় মণ্ডল

মন্তব্য

p
উপরে