× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
A baby was born after the truck crushed the stomach the driver was remanded for 2 days
hear-news
player
print-icon

ট্রাকচাপায় পেট ফেটে শিশুর জন্ম: চালক ২ দিনের রিমান্ডে

ট্রাকচাপায়-পেট-ফেটে-শিশুর-জন্ম-চালক-২-দিনের-রিমান্ডে
আদালত পরিদর্শক প্রসূন কান্তি দাস বলেন, ‘বিকেলে ওই ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলে ত্রিশাল থানা পুলিশ। এ সময় বিচারক তাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠান।’

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাকচাপায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার চালক রাজু আহমেদ শিপনকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

মুখ্য বিচারিক ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ বুধবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে এ নির্দেশ দেন।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক প্রসূন কান্তি দাস।

তিনি বলেন, ‘বিকেলে ওই ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলে ত্রিশাল থানা পুলিশ। এ সময় বিচারক তাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠান।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেকান্দার বলেন, ‘র‌্যাব মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিপনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানতে পেরেছি। তাকে রিমান্ডে নিলে আরও অনেক কিছু জানা যাবে।’

ঢাকার সাভার এলাকা থেকে সোমবার রাতে শিপনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরদিন বেলা সাড়ে ১১টায় কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর শিপন বলেছেন, দুর্ঘটনার সময় তার সহকারী ঘুমাচ্ছিলেন। টানা ট্রাক চালানোর কারণে তিনিও ছিলেন ক্লান্ত। একটি বাসকে সাইড দিতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, গত ১১ জুলাই থেকে একটানা মালামাল পরিবহন করে আসছিলেন শিপন। এর মধ্যে তিনি একবার রাজশাহী থেকে আম নিয়ে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে মালামাল আনলোড করে পুনরায় রাজশাহী যান।

১৫ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট থেকে আম নিয়ে এবং পরবর্তী সময় রাজশাহীর নৌহাটা থেকে আরেক দফায় আলু বোঝাই করে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের এক ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য রাত ১২টার সময় রওনা করেন।

পথে শিপন হালকা বিরতি নিয়ে দুর্ঘটনার আগ পর্যন্ত একটানা গাড়ি চালিয়ে আসছিলেন। কিশোরগঞ্জ যাওয়ার পথে ময়মনসিংহের ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে রাস্তা পারাপারের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা জাহাঙ্গীর আলম, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রত্না বেগম ও মেয়ে সানজিদা আক্তারকে চাপা দেন। ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান জাহাঙ্গীর। মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা রত্নার পেট চিড়ে বেরিয়ে আসে কন্যাশিশু।

এ সময় স্থানীয়রা নিহত দম্পতির আহত সন্তান সানজিদা ও সদ্যোজাত কন্যাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই সানজিদারও মৃত্যু হয়। সদ্যোজাত শিশুটির ডান হাতের দুটি হাড় ভেঙে গেলেও সে বেঁচে আছে।

দুর্ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন ট্রাকটি থামায়। তখন সুযোগ বুঝে শিপন ঢাকাগামী একটি বাসে ওঠেন। পরবর্তী সময় বাস থেকে ময়মনসিংহ বাইপাসে নামেন এবং সেখান থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে প্রথমে মুক্তাগাছা এবং পরে অন্য একটি বাসে করে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পৌঁছান। সেখান থেকে তার পরিচিত বিভিন্ন ট্রাকচালকের গাড়িতে উঠে আত্মগোপনে থাকেন।

আরও পড়ুন:
ট্রাকচাপায় মা-বাবা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় মামলা
পেট ফেটে ভূমিষ্ঠ শিশুর কল্যাণ নিশ্চিতে রিট
পেট ফেটে বের হওয়া শিশুকে দত্তক চান শতাধিক মানুষ
ট্রাকচাপায় পেট ফেটে কীভাবে শিশুর জন্ম
ট্রাকচাপায় মৃত্যুর আগে রাস্তায় শিশুর জন্ম

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Keshtakanya is in trouble

কষ্টে আছেন কেষ্টকন্যা

কষ্টে আছেন কেষ্টকন্যা বাবার সঙ্গে সুকন্যা মণ্ডল। ছবি: সংগৃহীত
অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টের কন্যা সুকন্যা মণ্ডলের নামে একাধিক সম্পত্তি, কোম্পানি, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নথি দেখিয়ে তদন্তকারীরা জানতে চান তার উৎস। পেশায় শিক্ষিকা সুকন্যা সব শুনে নিশ্চুপ থাকেন। এক পর্যায়ে সিবিআই কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেন, মা মারা গেছেন। বাবা সিবিআই হেফাজতে। এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মত মানসিক পরিস্থিতি তার নেই।

গরু পাচার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (সিবিআই) হেফাজতে আছেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্ট। তার কন্যা সুকন্যা মণ্ডলকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিবিআই।

সুকন্যার বিপুল সম্পদের উৎস জানতে বুধবার ৪ সদস্যের সিবিআই টিম হানা দিয়েছিল বীরভূমের নিচুপট্টির বাড়িতে। দলে একজন নারী তদন্তকারীও ছিলেন। তারা সরাসরি বাড়ির দোতালায় উঠে যান।

সুকন্যার নামে একাধিক সম্পত্তি, কোম্পানি, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নথি দেখিয়ে তদন্তকারীরা জানতে চান তার উৎস। পেশায় শিক্ষিকা সুকন্যা সব শুনে নিশ্চুপ থাকেন। এক পর্যায়ে কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেন, মা মারা গেছেন। বাবা সিবিআই হেফাজতে। এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মত মানসিক পরিস্থিতি তার নেই।

মানবিক ইস্যু সামনে আসায় মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে তদন্তকারী দল কেষ্ট মন্ডলের বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এর আগে ‘অসুস্থতার’ অজুহাত তুলে ৯ বার সিবিআই নোটিশ এড়িয়ে যান কেষ্ট। দশমবারে তাকে সুযোগ না দিয়ে সিবিআই তাকে গ্রেপ্তার করে ১০ দিনের হেফাজতে নিয়েছে।

কেষ্টকে গ্রেপ্তারের পর পরই সুকন্যার বিপুল সম্পত্তির উৎস জানতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠিয়েছিল সিবিআই। তিনিও জেরা এড়াতে বাবার পথে হাটেন মানসিক কষ্টের কথা জানিয়ে।

তদন্ত সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, এএনএম অ্যাগ্রোচেন ফুডস এবং নীড় ডেভেলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা রয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল ও তার স্বজনদের নামে। কয়েক কোটি টাকা ঋণ নেয়া হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের নামে।

এদিকে সুকন্যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে শিক্ষকতা পেশায় তার নিয়োগ বিষয়ে। টেট পাশ না করেই তিনি পেশায় যোগ দেন এবং প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে অবৈধভাবে বেতন তোলেন। তার জন্য হাজিরা খাতা বাড়িতে আনা হতো বলেও অভিযোগ আছে। এসব বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার তাকে হাইকোর্টে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। সুকন্যা সেখানে গেলে অবশ্য বিচারক তাকে চলমান মামলায় হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন।

অনুব্রত মণ্ডল কেষ্টকে রাখা হয়েছে কলকাতার নিজাম প্যালেসের ১৪ তলায় সিবিআই গেস্ট রুমে। সেখানেই তার জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

আরও পড়ুন:
‘খেলা হবে’ দিবসে রাস্তায় সমর্থকরা
দিদির সমর্থন পেয়ে চাঙ্গা কেষ্ট
গরু পাচার মামলায় ‘টেনশনে’ কেষ্ট
গরু পাচার মামলায় গ্রেপ্তার তৃণমূলের কেষ্ট
আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত বলে দাগ লাগানোর চেষ্টা চলছে: তৃণমূল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mother shot dead for property RAB

সম্পত্তির জন্য মাকে গুলি করে হত্যা: র‍্যাব

সম্পত্তির জন্য মাকে গুলি করে হত্যা: র‍্যাব
র‍্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, ঢাকায় পালানোর চেষ্টার সময় বুধবার মাইনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী সাতকানিয়ার রসুলপুর এলাকার একটি গুদাম থেকে পিস্তল জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন আসামি।

চট্টগ্রামের পটিয়ায় মাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে পৌরসভার সাবেক মেয়র শামসুল আলম মাস্টারের ছেলে মাইনুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

নগরীর নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে বুধবার বাসে ঢাকা যাওয়ার সময় পথে তাকে আটক করে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছে র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এ ইউসুফ।

নগরীর চান্দগাঁও ক্যাম্পে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জমির বিরোধের জেরে গত ১৬ আগস্ট মা জেসমিন আকতারকে গুলি করে পালিয়ে যান মাইনুল। হাসপাতালে নেয়ার পর জেসমিনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে পটিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, ঢাকায় পালানোর চেষ্টার সময় বুধবার মাইনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী সাতকানিয়ার রসুলপুর এলাকার একটি গুদাম থেকে পিস্তল জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন আসামি।

কী কারণে বিরোধ- জানতে চাইলে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সাবেক মেয়র শামসুল ছিলেন জাতীয় পার্টির নেতা। গত ১৩ জুলাই বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা যান। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বিপুল সম্পত্তি তিনি রেখে যান।

‘সন্তানদের মধ্যে ছোট ছেলে ও মেয়ে থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। গেল ঈদে তারা দেশে আসেন। সম্পত্তি নিয়ে তিন ভাই-বোনের মধ্যে তখন থেকেই বিরোধ শুরু হয়। মাইনুলের অভিযোগ ছিল যে মা দুই ছেলেকে বঞ্চিত করে সম্পত্তি মেয়েকে দেয়ার চেষ্টা করছিলেন।’

এসব বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে গত ১৬ আগস্ট মাইনুল তার মাকে গুলি করেন।

আরও পড়ুন:
শ্বশুরবাড়িতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ
নিজ গাড়িতে শিক্ষক দম্পতির মরদেহ
শিশুকে শাবলের আঘাতে হত্যার মামলায় চাচি কারাগারে
বনানীতে আ.লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
খাইরুনের মৃত্যু: ঘুরে-ফিরে আসছে বাইক প্রসঙ্গ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League leaders action by entering the girls washroom

মেয়েদের ওয়াশরুমে ঢুকে ছাত্রলীগ নেতার কাণ্ড

মেয়েদের ওয়াশরুমে ঢুকে ছাত্রলীগ নেতার কাণ্ড ছাত্রলীগ নেতা তানজীন আল আলামিন। ছবি: সংগৃহীত
অভিযোগের বিষয়ে তানজীন আল আমিন বলেন, ‘আমি মেয়েটাকে কোনোভাবে হেনস্তা করিনি। সে সময় আমি প্রাকৃতিক ডাকের চাপে ছিলাম। তাই ভুল করে মেয়েদের ওয়াশরুমে ঢুকে গেছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) মেয়েদের ওয়াশরুমে ঢুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় এক নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত তানজীন আল আলামিন মেয়েদের ওয়াশরুমে প্রবেশের কথা স্বীকার করলেও কাউকে হেনস্তা করা হয়নি বলে দাবি করেছেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সংস্কৃতিবিষয়ক উপসম্পাদক তানজীন আল আলামিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিকেন্দ্রিক সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

অভিযোগ করা ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে টিএসসিতে এই ঘটনার শিকার হন বলে দাবি করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীর পরামর্শে তিনি সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ ইমেইলে পেয়েছেন জানিয়ে ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এটি খুব দুঃখজনক ঘটনা। আমাদের যা করণীয় আমরা সেটি করব।’

ছাত্রী তার অভিযোগে লিখেছেন, ‘গত ১৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে আমি টিএসসিতে নারীদের জন্য নির্ধারিত ওয়াশরুম ব্যবহার করছিলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানজীন আল আলামিন মদ্যপ অবস্থায় নারীদের ওয়াশরুমে ঢোকেন। তিনি একটি টয়লেটের দরজা খোলা রেখে অর্ধনগ্ন হয়ে মূত্রত্যাগ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি আমার দিকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন।

‘এতে আমি প্রচণ্ড ভীত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। পরে আমি বন্ধুদের নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাচ্ছিল্যের সুরে কথা বলতে থাকেন। তিনি ভুল স্বীকার করেননি। বরং তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এমতাবস্থায় আমি হয়রানি ও হুমকির প্রেক্ষিতে অনিরাপদ বোধ করছি এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।’

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ও তার সহযোগীদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন শিক্ষার্থী।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে তানজীন আল আমিন বলেন, ‘আমি মেয়েটাকে কোনোভাবে হেনস্তা করিনি। সে সময় আমি প্রাকৃতিক ডাকের চাপে ছিলাম। তাই ভুল করে মেয়েদের ওয়াশরুমে ঢুকে গেছি।

‘ভুল বুঝতে পেরে আমি বের হয়ে পুরুষদের ওয়াশরুমে গেছি। পরে মেয়েটি এবং তার বন্ধুরা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন। আমি তাকে এবং তার বন্ধুদের বারবার সরি বলেছি। আমি যখন হলে চলে আসি, তখন তারা আমাকে ফোন করেন। তখনও আমি বারবার সরি বলেছি। এটি মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে। এখন আমি মেয়েটির সাথে সরাসরি দেখা করব। তিনি যেভাবে বলবেন, সেভাবে করব আমি।’

মদ্যপ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মেয়েটার হয়তো এ রকম মনে হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’

আরও পড়ুন:
যুবদল নেতাকর্মীদের গাড়িতে ভাঙচুর, আহত ৫
ছাত্রলীগ কর্মীদের লাঠিপেটা: আরও ৫ পুলিশ প্রত্যাহার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Another example of negligence A 50 ton crane was lifting a 70 ton girder

অবহেলার আরেক নমুনা: ‘৫০ টনের’ ক্রেন তুলছিল ৭০ টনের গার্ডার

অবহেলার আরেক নমুনা: ‘৫০ টনের’ ক্রেন তুলছিল ৭০ টনের গার্ডার রাজধানীর উত্তরায় প্রাইভেট কারের ওপর বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন থেকে বক্স গার্ডার পড়ে পাঁচজন নিহত হন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ হারানো ক্রেনটির সর্বোচ্চ ৪৫ থেকে ৫০ টন ওজনের গার্ডার সরানোর সক্ষমতা ছিল। কিন্তু সোমবার ১৫ আগস্ট দুর্ঘটনার দিন এই সক্ষমতার ক্রেনটি দিয়ে ৬০ থেকে ৭০ টন ওজনের গার্ডার সরানো হচ্ছিল। এত ভারী গার্ডার ওঠানোর সময় ক্রেনে কাউন্টার ওয়েট রাখা দরকার ছিল। তাও রাখেনি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। যার ফলে ক্রেনের বাড়তি ওজন বহন করা সম্ভব হয়নি।’

রাজধানীর উত্তরায় বক্স গার্ডার দুর্ঘটনার পেছনে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অবহেলার আরেক নমুনার কথা জানিয়েছে ক্রেন পরিচালনাকারীকে গ্রেপ্তার করা র‍্যাব।

বাহিনীটি জানিয়েছে, যে গার্ডারটি গাড়িতে তোলা হচ্ছিল, সেটির ওজন ৭০ টন। কিন্তু যে ক্রেন দিয়ে সেটি তোলা হচ্ছিল, সেটি বড়জোর ৫০ টন তোলার ক্ষমতা রাখে।

এই ক্রেনটির কাগজে-কলমে উত্তোলন ক্ষমতা ৮০ টন হলেও পুরোনো হওয়ার কারণে শক্তি ক্ষয়ে সেই ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

গত সোমবার বিকেলে উত্তরার জসিম উদ্দীন মোড়ে রাখা গার্ডারটি একটি গাড়িতে তোলার সময় সেটি পিছলে পাশ দিয়ে চলা একটি প্রাইভেট কারকে পিষ্ট করে। এতে এর পাঁচ আরোহী মারা যান। বেঁচে ফেরেন কেবল দুজন, যাদের বিয়ে হয়েছে দুর্ঘটনার কেবল দুই দিন আগে।

অবহেলার আরেক নমুনা: ‘৫০ টনের’ ক্রেন তুলছিল ৭০ টনের গার্ডার
ক্রেনটির কাগজে-কলমে উত্তোলন ক্ষমতা ৮০ টন হলেও পুরোনো হওয়ার কারণে শক্তি ক্ষয়ে সেই ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/ নিউজবাংলা

এই দুর্ঘটনার পরপরই জানা যায়, নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি না করেই এই গার্ডারটি তোলা হচ্ছিল। সেদিনই প্রশ্ন ওঠে, ক্রেনটির এই সক্ষমতা ছিল কি না, আর আসলে সেই ক্রেনটি কে পরিচালনা করছিলেন।

তবে ক্রেনের চালক এবং ঠিকাদারি কোম্পানির কর্মীরা সবাই পালিয়ে যাওয়ায় সেদিন এসব প্রশ্নের জবাব মেলেনি।

দুর্ঘটনার দুই দিন পর ক্রেনচালকসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। আর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কী পাওয়া গেছে, সেটি বাহিনীটি প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার।

দুপুরে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ হারানো ক্রেনটির সর্বোচ্চ ৪৫ থেকে ৫০ টন ওজনের গার্ডার সরানোর সক্ষমতা ছিল। কিন্তু সোমবার ১৫ আগস্ট দুর্ঘটনার দিন এই সক্ষমতার ক্রেনটি দিয়ে ৬০ থেকে ৭০ টন ওজনের গার্ডার সরানো হচ্ছিল।

‘এত ভারী গার্ডার উঠানোর সময় ক্রেনে কাউন্টার ওয়েট রাখার দরকার ছিল। তাও রাখেনি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। ফলে ক্রেনের বাড়তি ওজন বহন করা সম্ভব হয়নি।’

এই দুর্ঘটনায় ঠিকাদারি কোম্পানির অবহেলার আরেক নমুনার কথা জানান এই র‍্যাব কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া ক্রেনটি চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী। চালক নিজেরও এ ধরনের কোনো ভারী যান চালানোর লাইসেন্স ছিল না।’

অবহেলার আরেক নমুনা: ‘৫০ টনের’ ক্রেন তুলছিল ৭০ টনের গার্ডার
প্রাইভেট কারকে চাপা দেয়ার সময় ক্রেনটি চালাচ্ছিলেন চালকের সহকারী (হেলপার) রাকিব হোসেন (ডানে)। আর বাইরে থেকে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন মূল অপারেটর বা ক্রেনচালক আল আমিন। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

এই দুর্ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান ঠিকাদারি কোম্পানি, বাস্তবায়নকারী সংস্থা আর তদারকি সংস্থা তিন সংস্থার অবহেলাকেই দায়ী করেছিলেন।

সেদিন তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্রেন ঠিক আছে কি না। তার আগে দেখতে হবে ক্রেন যে অপারেট করছিল, তার লাইসেন্স আছে কি না। সে অভিজ্ঞ কি না, এটাও তদন্তের মাধ্যমে দেখতে হবে।

‘আমার গার্ডারের যে ওজন এবং ক্রেনের যে সক্ষমতা, সেটা ঠিক আছে কি না। এই জিনিসটাও গুরুত্বপূর্ণ।’

অবহেলার আরেক নমুনা: ‘৫০ টনের’ ক্রেন তুলছিল ৭০ টনের গার্ডার
বক্স গার্ডারে পিষ্ট প্রাইভেট কার। ছবি: নিউজবাংলা/পিয়াস বিশ্বাস

এখানে প্রশাসনিক অবহেলা আছে বলেও মনে করেন এই দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটা করছে, ভালো কথা। কিন্তু তারা ঠিকমতো প্র্যাকটিস করছে কি না, এটার নজরদারি বা তদারকির দায়িত্ব তো বাস্তবায়নকারী সংস্থার। এই ধরনের প্রকল্পের সুপারভিশনের দায়িত্ব আরেক সংস্থার থাকে।

‘তার মানে কাজটা ঠিকমতো হচ্ছে কি না, সেটার জন্য সুপারভিশন সংস্থা আছে, আমাদের বাস্তবায়নকারী সংস্থা আছে, এটার একটা সমন্বয় দরকার। আমি যেটা মনে করি, এই ধরনের কাজ একটা বড় কাজ।

‘পাশাপাশি এটা অনেক বিজি একটা করিডর। এই করিডরে কাজ করতে গেলে অবশ্যই যারা বাস্তবায়ন করছে, তাদের ২৪ ঘণ্টা ৭ দিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি এবং তদারকি করতে হবে। কোথাও যদি কনস্ট্রাকশন প্র্যাকটিসের ব্যত্যয় হয়, তাকে কিন্তু জবাব দিতে হবে। এই জবাব দিতে হয় না বলেই আমরা দেখছি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যেভাবে কাজ করার কথা, সেভাবে হয় না। তাদের মধ্যে অবহেলার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।’

এই দুর্ঘটনার পর যে প্রাথমিক তদন্ত করেছে সরকার, তাতে ঠিকাদারি কোম্পানির অবহেলার প্রমাণ উঠে এসেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘটনায় বাস্তবায়নকারী সংস্থা বিআরটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিকুল ইসলামকেও তদন্তের আওতায় আনতে বলেছেন।

এই নির্মাণকাজ নিয়ে সফিকুলের যে অবহেলা রয়েছে, সেটি দুর্ঘটনার দিন তার বক্তব্য ও র‍্যাবের বক্তব্যের পার্থক্যে উঠে এসেছে। সফিকুল ঘটনাস্থলে গিয়ে বলেছিলেন, যে ক্রেন দিয়ে বক্স গার্ডারটি তোলা হচ্ছিল সেটির সক্ষমতা ছিল।

র‍্যাব মুখপাত্র বলেন, ‘বিআরটি প্রকল্পের থার্ড পার্টি হিসেবে বিল্ড ট্রেড ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড থেকে মাসিক ভাড়ার চুক্তিতে ক্রেনটি আনা হয়। ক্রেনটি ১৯৯৬-৯৭ সাল থেকে চলছে। প্রথমে ক্রেনটির সক্ষমতা ৮০ টন ছিল। পরে আস্তে আস্তে ক্রেনটির সক্ষমতা কমে যায়। সর্বশেষ ক্রেনটি দিয়ে ৪৫ থেকে ৫০ টন ভর শিফট করা সহজ ছিল। কিন্তু এই ক্রেন দিয়ে ৬০ থেকে ৭০ টন ওজনের গার্ডারটি শিফট করা হচ্ছিল।’

তিনি জানান, ২০২১ সালে সর্বশেষ ফিটনেস যাচাই করা হয়, এরপর ক্রেনটির আর কোনো ফিটনেস যাচাই করা হয়নি।

খন্দকার মঈন বলেন, ‘আমরা গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছি, অতিরিক্ত ভার বহন করায় ক্রেনটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। এ ধরনের গার্ডার শিফট করতে কাউন্টার লোড ব্যবহার করা উচিত ছিল। আরেকটি ক্রেন পাশাপাশি স্ট্যান্ডবাই রাখা উচিত ছিল। নিরাপত্তাব্যবস্থার অনেক ঘাটতি ছিল।’

আরও পড়ুন:
গার্ডার তোলার ক্রেনটি চালাচ্ছিলেন হেলপার রাকিব
উত্তরায় ৫ প্রাণহানির ঘটনায় ক্রেনের চালকসহ গ্রেপ্তার ৯
গার্ডার দুর্ঘটনায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন নয়: হাইকোর্ট
গার্ডার দুর্ঘটনা: ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Khairuns death The bike topic is coming back and forth

খাইরুনের মৃত্যু: ঘুরে-ফিরে আসছে বাইক প্রসঙ্গ

খাইরুনের মৃত্যু: ঘুরে-ফিরে আসছে বাইক প্রসঙ্গ খাইরুন নাহার ও মামুন হোসেন দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, খাইরুনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলতেন মামুন। মামুনের সম্মতিতে খাইরুন তার আগের পক্ষের বড় ছেলেকে মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার জন্য টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে মামুন আর ওই টাকা দিতে দেননি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছিল।’

নাটোরে শিক্ষক খাইরুন নাহারের মৃত্যুর ঘটনায় ঘুরে-ফিরে সামনে আসছে মোটর সাইকেল প্রসঙ্গ। তার স্বামী কলেজ ছাত্র মামুনের বাইকের দাবি নাকি তার আগের পক্ষের ছেলে বৃন্তের আবদারে সংসারে অশান্তির শুরু? নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যুর ঘটনা? এসব প্রশ্ন নিয়ে চলছে জোর ‌আলোচনা।

রাজশাহীর একটি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত খাইরুন নাহারের আগের পক্ষের ছেলে সালমান নাফি বৃন্ত বলেন, ‘অনেকের ধারণা আমার মাকে খুন করা হয়েছে। যদি এটা মার্ডার না-ও হয় তাহলে সুইসাইড করার জন্য মাকে উৎসাহ দিয়েছে মামুন। টাকা-পয়সাসহ অনেক বিষয়ে সে মেন্টালি প্রেসারে রাখছিল মাকে।

‘ওই ছেলে (মামুন) বিভিন্ন সময়ে টাকা-পয়সা নিত। সে বাইক কেনার টাকা আম্মুর কাছ থেকে নিয়েছে। সব খরচ নিত। আম্মু আমাকেও একটা বাইক কিনে দেয়ার কথা বলেছিল। মামুন এটা কিনতে দিতে বাধা দিচ্ছিল। এটা নিয়েও ওদের মাঝে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। সে রাতেও মামুনের সাথে আম্মুর ঝগড়া হয়েছিল।’

খাইরুনের খালাতো ভাই নাইম হোসেন বলেন, ‘বিয়ের পর খাইরুন নিজের টাকায় মামুনকে মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলেন। মামুন আবারও নতুন মডেলের মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। এসব কারণে দুজনের মাঝে মনোমালিন্য হতে থাকে। খাইরুন আত্মহত্যা করলেও এর জন্য একমাত্র মামুনই দায়ী।’

অন্যদিকে মামুন হোসেনের বোন ময়না খাতুন বলেন, ‘ভাই ও ভাবীর মধ্যে কোনোদিন ঝগড়া বিবাদ দেখিনি। ভাবীর বাবার বাড়ি থেকে চাপ ছিল। ভাবীর আগের পক্ষের ছেলে বৃন্ত তার কাছে বাইক কেনার জন্য পাঁচ লাখ টাকা এবং বাড়ি লিখে দেয়ার দাবি করে। আমাদের বিশ্বাস, ছেলের সঙ্গে মনোমালিন্য, বাপ-মা বিয়ে মেনে না নেয়া- এসব কারণে ভাবী আত্মহত্যা করেছেন।’

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, সম্প্রতি তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। খাইরুনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলতেন মামুন। মামুনের সম্মতিতে খাইরুন তার আগের পক্ষের বড় ছেলেকে মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার জন্য টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে মামুন আর ওই টাকা দিতে দেননি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছিল।’

প্রসঙ্গত, ৪০ বছর বয়সী কলেজ শিক্ষিকা খাইরুন নাহার ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন ২২ বছর বয়সী মামুনকে।

স্থানীয় পৌর এলাকার বাসিন্দা খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক খাইরুন নাহার প্রথমে বিয়ে করেছিলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলায়। প্রথম স্বামীর দুটি সন্তানও রয়েছে। পারিবারিক কলহে সেই সংসার বেশিদিন টেকেনি।

২০২০ সালে তাদের বিচ্ছেদ হওয়ার পর কেটে যায় দীর্ঘদিন। এরই মাঝে ফেসবুকে খায়রুন নাহারের পরিচয় হয় ২২ বছরের তরুণ মামুনের সঙ্গে। মামুনের বাড়ি একই উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাটপাড়া গ্রামে। তিনি নাটোরের নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

ফেসবুকে পরিচয় থেকে দুজনের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২১ সালের ২৪ জুন তাদের প্রথম পরিচয় হয়। তারপর ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বরে তারা বিয়ে করেন।

গত রোববার সকালে নাটোর শহরের বলারিপাড়া থেকে কলেজ শিক্ষক খাইরুন নাহারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী মামুন হোসেন কারাগারে রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
খাইরুনের মৃত্যু: ঘুরে-ফিরে আসছে বাইক প্রসঙ্গ
অনিশ্চয়তা শেষে মুক্তি পেলাম: হৃদয় মণ্ডল
মামুনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা হচ্ছে!
খায়রুনের প্রথম স্বামী ছিলেন সহপাঠী, চালিয়েছেন অটোরিকশাও
খায়রুনকে লাথি মেরে সেই রাতে বাইরে যান স্বামী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Assault on journalist in court Case against 2 lawyers

আদালতে সাংবাদিকের ওপর হামলা: ২ আইনজীবীর নামে মামলা

আদালতে সাংবাদিকের ওপর হামলা: ২ আইনজীবীর নামে মামলা সাংবাদিককে মারধরের চিত্র। ছবি সংগৃহীত
ওসি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাতে আল আমিন একটি এজাহার দায়ের করেছেন, আমরা মামলাটি নিয়েছি। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

চট্টগ্রামে আদালত প্রাঙ্গণে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দুই আইনজীবীর নামে মামলা হয়েছে। এতে অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানায় বুধবার রাত ১টার দিকে মামলাটি করেন হামলার শিকার সাংবাদিক আল আমিন শিকদার।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এজাহারনামীয় দুই আসামি হলেন, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার পূর্ব কলাউজান গ্রামের সাহেদুল হক ও আধুনগর আকতারিয়া পাড়া গ্রামের ইসহাক আহমেদ।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবাদ সংগ্রহের জন্য বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম আদালতে যাচ্ছিলেন যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদক আল আমিন শিকদার ও ক্যামেরাপার্সন আসাদুজ্জামান লিমন। আদালত প্রাঙ্গণে যাওয়ার সময় গাড়ির হর্ন বাজালে কয়েকজন আইনজীবী ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন তাদের।

এ সময় হত্যার উদ্দেশ্যে আল আমিনের গলা টিপে ধরেন তারা। মারধরের এ ভিডিও ফুটেজ ধারণ করার সময় ক্যামেরাপার্সন লিমনকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। ভবিষ্যতে কোনো দিন কোর্ট বিল্ডিংয়ে আসার চেষ্টা করলে তাদের জানে মেরে ফেলার হুমকিও দেন আসামিরা।

আরও বলা হয়, মারধরকারীরা একপর্যায়ে ২ সাংবাদিকের পকেট থাকা দুটি স্মার্টফোন ও ৫ হাজার টাকা নিয়ে নেন। এরপর তাদের মারতে মারতে পুরাতন আইনজীবী ভবনের তৃতীয় তলায় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে ফের মারধর করা হয় তাদের। এ সময় ভিডিও ক্যামেরার মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন তারা। পরে খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ‍নিয়ে যান।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার এক নম্বর আসামি সাহেদুল হক। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ওনারা জোরে গাড়ির হর্ন দেয়ায় শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা হর্ন না দিতে বলেছিল; কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তারা আক্রমণাত্মক কথা বলতেছিল। একপর্যায়ে এটা নিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে ইসহাক ভাইয়ের সঙ্গে একটু ধস্তাধস্তি হয়েছে। আমি তাদের আলাদা করে চলে গিয়েছিলাম। হামলার বিষয়টি সত্য না’

সিসিটিভি ফুটেজে আল আমিনের গলা চেপে ধরতে দেখা যাওয়ার ও দুই সাংবাদিককে পুরাতন আইনজীবী ভবনে নিয়ে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি এগুলো জানি না, এ রকম কিছু হয়নি।’

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাতে আল আমিন একটি এজাহার দায়ের করেছেন, আমরা মামলাটি নিয়েছি। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

এদিকে ২ সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সামাবেশ ও মিছিল করেছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন।

আরও পড়ুন:
দুই সাংবাদিককে ক্লিনিক মালিক ও পুলিশের মারধর
ভারতীয় সাবানসহ সাংবাদিক আটক
ফরিদপুরে সাংবাদিককে মারধর: গ্রেপ্তার মেয়রের ভাই
ডিবিসির সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮
ডিবিসির সাংবাদিকের ওপর হামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A League worker hacked to death in Banani

বনানীতে আ.লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

বনানীতে আ.লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা প্রতিকী ছবি
বনানী থানার ওসি নূরে আজম বলেন, ‘কড়াইলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের যে কমিটি হয়েছে তা নিয়ে বিরোধ চলছিল। দুই গ্রুপের মধ্যে এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। তাতে আল আমিন নামে একজন মারা গেছেন।’

রাজধানীর কড়াইলে আল আমিন নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহাখালী কড়াইল বস্তিতে সংঘর্ষের শুরু বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম বলেন, ‘কড়াইলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের যে কমিটি হয়েছে তা নিয়ে বিরোধ চলছিল। দুই গ্রুপের মধ্যে এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে।

‘আল আমিন নামে একজন মারা গেছেন, তিনি দলীয় পদে ছিলেন না। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়। ঘটনার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।’

ঘটনার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে ৭ জনকে। তারা হলেন- মো. নাসির, উজ্জ্বল হোসেন, নুর আলম, আমজাদ হোসেন, ডালিয়া আক্তার, সুমি আক্তার ও মাসুম। তাদের মধ্যে নাসির ও আমজাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

আহত প্রত্যেকের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আহতরা জানান, বস্তিতে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ চলছিল। আওয়ামী লীগের স্থানীয় কমিটিতে পদ না পাওয়া নিয়ে সে বিরোধ বাড়ে। বুধবার সন্ধ্যায় তর্কাতর্কির জেরে দুই গ্রুপের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে মারামারি শুরু করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় রড ও ধারালো অস্ত্র হাতে দেখা গেছে অনেককে। এক পর্যায়ে নূর মসজিদের ভেতরে আশ্রয় নেন অনেকে। সেখানে কুপিয়ে জখম করা হয় কয়েক জনকে।

সংঘর্ষের প্রায় এক ঘণ্টা পর সেখানে পুলিশ পৌঁছে। তখন অস্ত্রধারীরা পালিয়ে যায়। আহতদের হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক ৩৪ বছর বয়সী আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদের চিকিৎসা চলছে। আল আমিনের বাড়ি কুমিল্লা। কড়াইল বস্তিতে তিনি একটি মুদি দোকান চালান। স্থানীয়ভাবে তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন:
মেয়ের কলহ মেটাতে জামাতাকে হত্যায় যাবজ্জীবন
চাকরিতে যোগ দেয়ার কথা বলে বাসা ছাড়া যুবকের মরদেহ হোটেলে
টিপু-প্রীতি হত্যা: মোল্লা শামীমসহ ৫ জন ৩ দিনের রিমান্ডে

মন্তব্য

p
উপরে