× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Signboards were lit up all night
hear-news
player
print-icon

রাতভর জ্বলছিল ঝলমলে বাতি

রাতভর-জ্বলছিল-ঝলমলে-বাতি-
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জ্বলছে নানা রঙের বাতি। ছবি: নিউজবাংলা
কাপড় ব্যবসায়ী শামীম শরীফ বলেন, ‘করোনাকালীন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সব সময় বিভিন্ন রকম সরকারি বিধি-নিষেধ মানতে গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বেশি পরিমাণে আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছে। জেলা প্রশাসকের এ ঘটনায় ব্যাংকের কর্তারা প্রমাণ করেছেন তারা সরকারের ঊর্ধ্বে।’

ঝালকাঠি শহরে রাতভর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন ব্যাংকের বিশালাকার নিয়নবাতির সাইনবোর্ড চালুর অভিযোগ উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে মঙ্গলবার রাত ৮টার পর ঝালকাঠিতে দোকানপাট, বিপণিবিতান, মার্কেট বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগে বিকেল থেকে শহরে মাইকিং করে জানানো হয়েছে রাত ৮টার পর সরকারি আদেশ অমান্যকারীদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।

রাতভর জ্বলছিল ঝলমলে বাতি

রাত ১১টার দিকে শহর ঘুরে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনেই বড় সাইনবোর্ডসহ জ্বলছিল বাগান সৌন্দর্যবর্ধনের ২০টিরও বেশি ঝলমলে রঙিন বাতি।

কামারপট্টি সড়কে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের নিয়ন সাইন। এ ছাড়া কুমারপট্টি সড়ক, কাপুড়িয়াপট্টি সড়ক, কাশারীপট্টি সড়ক ও ডাক্তারপট্টি সড়ক ঘুরে দেখা যায় সরকারি-বেসরকারি অনেক ব্যাংকের বিশালাকারের লাইটিং সাইনবোর্ড জ্বালিয়ে রাখা হয়েছে।

এতে ছিল না কোনো অভিযান বা মনিটরিং। শুধু মাইকে ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এই প্রক্রিয়া। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

কসমেটিকস ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যা হয় ৭টায়। সরকারের ঘোষণা মানতে ৮টার মধ্যেই আমরা দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু ব্যাংকগুলো সরকারি ঘোষণা মানেনি। তাদের জরিমানার আওতায় আনা উচিত।’

রাতভর জ্বলছিল ঝলমলে বাতি

কাপড় ব্যবসায়ী শামীম শরীফ বলেন, ‘করোনাকালীন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সব সময় বিভিন্ন রকম সরকারি বিধি-নিষেধ মানতে গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বেশি পরিমাণে আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছে। জেলা প্রশাসকের এ ঘটনায় ব্যাংকের কর্তারা প্রমাণ করেছেন তারা সরকারের ঊর্ধ্বে।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকসহ ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলীকে এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো হলেও তার কাছ থেকে কোনো উত্তর মেলেনি।

রাতভর জ্বলছিল ঝলমলে বাতি

তবে রাত ১১টার দিকে ফোনে কথা হয় পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের ঝালকাঠি শাখা ব্যবস্থাপক পরিমল চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এখনই নাইটগার্ডকে ফোন করে বলতেছি সাইনবোর্ডের বাতি বন্ধ করার জন্য।’

রাতে একাধিকবার কল করেও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ঝালকাঠির নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহিম ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন:
নিজের খামারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গেল মা-মেয়ের প্রাণ
ছাগল খুঁজতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধের মৃত্যু
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ৯টা-৩টা হতে পারে অফিস সময়

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Teacher Khairuns death A case of abetment to suicide may be filed against Mamun

মামুনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা হচ্ছে!

মামুনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা হচ্ছে! সোমবার দুপুরে মামুন হোসেনকে আদালতে আনা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
নাটোর সদর থানার ওসি নাছিম আহম্মেদ বলেন, খাইরুন নাহারের মৃত্যুর ঘটনায় তার চাচাতো ভাই সাবের উদ্দিন অপমৃত্যু মামলা করেছেন। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-প্রমাণে এটি আত্মহত্যা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। আর তাহলে আত্মহত্যায় প্রচারণাকারী হিসেবে মামুন অভিযুক্ত হতে পারেন।’

নাটোরে কলেজ শিক্ষক খাইরুন নাহারের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী কলেজ ছাত্র মামুনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা হতে পারে। আইনজীবী, চিকিৎসক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন তাদের দাম্পত্য কলহের কথা স্বীকার করেছেন। মামুন দাবি করেছেন যে শনিবার রাত ২টায় দাম্পত্য কলহের জের ধরে তিনি খাইরুনকে লাথি মেরে ঘরের বাইরে চলে যান। এরপর শিক্ষক খাইরুন নাহার বেশ কয়েকবার ফোন করলেও মামুন ফোন রিসিভ করেননি। এতে ক্ষোভে খাইরুন নাহার আত্মহত্যা করেছেন।

‘মামুন সেদিন রাত ২টা ১৭ মিনিটি থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেছেন এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে বাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, রাত ২টা ১৭ মিনিটের দিকে মামুন বাসার বাইরে যাচ্ছেন।

‘আরেকটি ফুটেজ পাওয়া গেছে ওই বাসার দেড় কিলোমিটার দূরের জেলগেট এলাকার। তাতে কারারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে মামুনকে। এছাড়া সদর থানার সামনে সেলফি তোলা ও নিজের মোবাইলে দাম্পত্য কলহ নিয়ে আপেক্ষ প্রকাশ করে নিজেই ভিডিও করেন মামুন।’

পুলিশ সুপার জানান, সম্প্রতি তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। খাইরুনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলতেন মামুন। মামুনের সম্মতিতে খাইরুন তার আগের পক্ষের বড় ছেলেকে মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার জন্য দুই লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে মামুন আর ওই টাকা দিতে দেননি। এমন নানা বিষয় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে ঝগড়া চলছিল।

রোববার সকালে নাটোর শহরের বলারিপাড়ায় নান্নু ম্যানশনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে খায়রুন নাহরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার চাচাত ভাই অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় মামুনকে গ্রেপ্তার দেখায়।

বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় সন্দেহজনকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার বিকেলে মামুনকে জেলা দায়রা জজ আদালতে তোলা হয়। এ সময় মামুনের জামিন আবেদন করেন অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার স্বপন। তবে এই আবেদন নাকচ করে মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোসলেম উদ্দীন।

মামুনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা হচ্ছে!
খাইরুন নাহার ও মামুন হোসেন দম্পতি। ফাইল ছবি

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে খাইরুন নাহার আত্মহত্যা করেছেন। আর যদি আত্মহত্যা হয়ে থাকে তবে মামুনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ আনা হবে। এজন্য ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

খাইরুনের মরদেহের ময়নাতদন্তকারী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সামিউল ইসলাম শান্ত জানান, খাইরুন নাহারের মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। গলায় ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধে মৃত্যুর আলামত পাওয়া গেছে। তবে ভিসেরা রিপোর্ট এলেেএ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

খাইরুনের খালাতো ভাই নাইম হোসেন বলেন, ‘বিয়ের পর খাইরুন নিজের টাকায় মামুনকে মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলেন। মামুন আবারও নতুন মডেলের মোটরসাইকেল কিনে দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এসব কারণে দুজনের মাঝে মনোমালিন্য হতে থাকে। খাইরুন আত্মহত্যা করলেও এর জন্য একমাত্র মামুনই দায়ী।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার স্বপন বলেন, ‘মামুন হোসেনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনতে পারেনি পুলিশ। এ কারণে ৫৪ ধারায় তাকে আদালতে পাঠিয়েছে।’ তবে মামুনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হতে পারে এমন ইঙ্গিত দেন তিনি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহম্মেদ জানান, খাইরুন নাহারের মৃত্যুর ঘটনায় তার চাচাতো ভাই নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খামার নাচকৈড় গ্রামের সাবের উদ্দিন অপমৃত্যু মামলা করেছেন। এরপর পুলিশ ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মামুনকে আদালতে পাঠায়। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-প্রমাণে এটি আত্মহত্যা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর মূল বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এটি আত্মহত্যা হলে আত্মহত্যায় প্রচারণাকারী হিসেবে মামুন অভিযুক্ত হতে পারেন।

মামুনকে নিয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী যা বলছেন

নাটোরের গুরুদাসপুরের পাটপাড়া এলাকায় মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাদের একজন মিঠুন আলী বলেন, ‘মামুন বিয়ে করার আগে নিজ বাড়ি থেকেই কলেজে যেত। এলাকায় তাকে সবাই ভাল ছেলে হিসেবেই জানত।’

মমতাজ বেগম নামে মধ্যবয়সী এক নারী জানান, মামুনকে ভালো ছেলে হিসেবেই তিনি জানেন। দেখা হলে আদব-কায়দার সঙ্গেই কথাবার্তা বলতেন।

বাবলু হোসেন নামে আরেকজন বলেন, ‘মামুনের বাবার নাম মোহাম্মদ আলী। এলাকায় সে বাইক নিয়ে ঘোরাঘুরি করতো। সবসময় ফিটফাট থাকত। ওর সম্পর্কে এর বেশি কিছু জানি না।’

মামুনের মা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘আমরা তো মামুন ও খাইরুনের বিয়েটা হাসিমুখেই মেনে নিয়েছিলাম। তারপর যে কী থেকে কী হয়ে গেল। আমার ব্যাটাকে ফিরিয়ে এনে দাও।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষক খাইরুনের মৃত্যুতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bangabandhu lover Nuruzzaman who jumped from Padma Bridge has not been found

পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দেয়া ‘বঙ্গবন্ধুপ্রেমী’ নুরুজ্জামানের খোঁজ মেলেনি

পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দেয়া ‘বঙ্গবন্ধুপ্রেমী’ নুরুজ্জামানের খোঁজ মেলেনি নুরুজ্জামানের লাফ দেয়ার মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত
‘আমি ফুল দিতে পারি নাই, কষ্ট পাইছি। সাড়ে ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করি। আমি সারা মাসের বেতনের টাকা খরচ কইরা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল ও শ্রদ্ধা জানাইতে আসছি, আমি বঙ্গবন্ধুরে কতটুকু ভালোবাসি তাই ভিডিওর মধ্যে...’

পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ গার্মেন্টস কর্মী নুরুজ্জামানকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, তীব্র স্রোতের কারণে ডুবুরি দল নদীর তলদেশে যেতে পারছে না। তবে নুরুজ্জামানকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের ডিফেন্সর স্টেশন অফিসার সঞ্জয়।

সোমবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে সেতুর ঢাকামুখী মাওয়ার ১০/১১ নম্বর পিলার অংশে চলন্ত প্রাইভেট কার থেকে ঝাঁপ দেন ৩৮ বছরের নুরুজ্জামান। তার বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানা এলাকায়। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরের উর্মি গার্মেন্টসে কাজ করতেন তিনি।

এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়েও তার খোঁজ পায়নি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। মঙ্গলবার সকাল থেকে ফের উদ্ধার অভিযান শুরু করে নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

তবে তীব্র স্রোতের কারণে ডুবুরি দল নদীর তলদেশে যেতে পারছে না বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

এদিকে ঠিক কী কারণে ওই ব্যক্তি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মাওয়া নৌ-পুলিশ। নদীতে ঝাঁপ দেয়ার কারণ বলতে পারছেন না নুরুজ্জামানের স্ত্রী ও ঝাঁপ দেয়ার সময় প্রাইভেট কারে থাকা ওমর ফারুকও।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে হেফাজতে নিয়েছে নৌ-পুলিশ।

সোমবার রাতে সেতু থেকে ঝাঁপ দেয়ার একটি ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ধারণ করা হয় পাশের লেনে থাকা বিপরীতগামী অন্য একটি চলন্ত গাড়ি থেকে। বলা হচ্ছে, চলন্ত প্রাইভেট কার থেকেই লাফ দেন নুরুজ্জামান। তবে গাড়ি চলন্ত অবস্থায়ই তিনি লাফ দিয়েছেন কি না, ওই ভিডিও থেকে তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

নুরুজ্জামান যখন নদীতে ঝাঁপ দেন, সে সময় চালক ছাড়া প্রাইভেট কারে ছিলেন পেশায় অটোমিস্ত্রি ওমর ফারুক। তারা নারায়ণগঞ্জে একই এলাকায় থাকেন।

ঘটনার পর তিনি জানান, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিতে এদিন সকাল ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে রওনা দিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যান তারা। তবে তারা সমাধিতে ফুল দিতে পারেননি। সেখান থেকে ফেরার পথেই পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দেন নুরুজ্জামান।

ওমর ফারুকের বর্ণনায়, ‘তিন-চার দিন আগে থেকে (নুরুজ্জামান) বলতেছিল- আমারে নিয়া টুঙ্গিপাড়ায় যাইব, বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিব, শ্রদ্ধা জানাইব। আমার তো কাজ আছে, আমি যাইতে পারুম না বলি। তখন সে আমাকে বলল, তোমার কাজের মজুরি আমি দিয়া দিব, আমার সঙ্গে চলো। আমি লোকটার কথা ফালাইতে পারিনি। সে জন্য আমি তার সাথে গেছি।

‘কাঁচপুর থেকে তার সাথে আমি গাড়ি ভাড়া করি। সেখান থেকে আমরা সকালে রওনা দিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় যাই। ওইখানে যাওয়ার পর আমাদের কার্ড নাই, তাই আমরা ঢুকতে পারি নাই। তখন প্রধানমন্ত্রীর আসার সময় ছিল। বড় নেতারাও ওইখানে দাঁড়াতে দিচ্ছিল না। নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা ছিল, তারাও আমাদেরকে ওখান থেকে সরে যেতে বলে। তখন আমরা সাইডে আইসা পড়ছি।’

সমাধিতে ফুল দিতে না পেরে নুরুজ্জামান সে সময় মোবাইল দিয়ে ভিডিও করছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সে ভিডিও করার সময় বলতেছিল, এই ভিডিওগুলি আমি ফেসবুকে ছাইড়া দিমু। আমি ফুল দিতে পারি নাই, কষ্ট পাইছি। সাড়ে ১০ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করি। আমি সারা মাসের বেতনের টাকা খরচ কইরা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল ও শ্রদ্ধা জানাইতে আসছি, আমি বঙ্গবন্ধুরে কতটুকু ভালোবাসি তাই ভিডিওর মধ্যে...’

ওমর ফারুকের ভাষ্য, সেখানে ২ ঘণ্টার মতো অবস্থান করে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিতে ব্যর্থ হয়ে তারা বাড়ি উদ্দেশে রওনা দেন। ফেরার পথে পদ্মা সেতুতে ঢাকাগামী লেনটিতে কাজ চলছিল। সে কারণে তাদের প্রাইভেট কারটিও ধীরগতিতে ছিল। তখনই কারের পেছনের সিটে বসা নুরুজ্জামান হঠাৎ দরজা খুলে নদীতে ঝাঁপ দেন।

এ ঘটনার কারণ জানেন না স্ত্রী সবুরাও। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি, আমার স্বামী পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিছে। খবর শুনে সেখানে গিয়ে আমি তাকে খুঁজতে থাকি। কী কারণে সে নদীতে ঝাঁপ দিছে বলতে পারি না।’

এ বিষয়ে মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ অহিদুজ্জামান বলেন, ‘টুঙ্গিপাড়ায় যাওয়ার জন্য একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করেছিলেন নুরুজ্জামান। কিন্তু ফুল দেয়ার অনুমতি কার্ড না থাকায় সেখান থেকে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। এরপর পদ্মা সেতুতে ঢাকামুখী লেন দিয়ে ফেরার পথে নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি।

‘এ ঘটনায় নুরুজ্জামানের সঙ্গে গাড়িতে থাকা ওমর ফারুককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফাঁড়িতে নেয়া হয়েছে।’

ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের ডিফেন্সর স্টেশন কর্মকর্তা সঞ্জয় বলেন, ‘তীব্র স্রোতের কারণে ডুবুরি দল নদীর তলদেশে যেতে পারেনি। তবে নৌ-পুলিশের সহায়তায় সেতুর আশপাশ এলাকায় নুরুজ্জামাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করছি।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League clash Three member committee to probe

ছাত্রলীগ কর্মীদের বেধড়ক পিটুনির তদন্তে পুলিশের কমিটি

ছাত্রলীগ কর্মীদের বেধড়ক পিটুনির তদন্তে পুলিশের কমিটি
বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি কে এম এহসান উল্লাহ বলেন, ‘ছাত্রলীগের সংঘর্ষে পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কমিটির কারও নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’

বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।

সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে উপস্থিত পুলিশের ভূমিকার বিষয়টি তদন্তে জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ তিন কর্মকর্তাকে নিয়ে সোমবার রাতে কমিটি গঠন করা হয়।

নিউজবাংলাকে মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি কে এম এহসান উল্লাহ। তবে কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

বরগুনা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনের সামনে সোমবার দুপুরে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বেধড়ক পেটায় পুলিশ।

এ সময় সেখানে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা কয়েকটি মোটরসাইকেল ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন।

এ ঘটনায় এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, ‘পুলিশ বলেছিল, গাড়ি ভাঙচুরকারীকে তারা চিনতে পেরেছে। আমি বলেছি, যে ভাঙচুর করেছে, তাকে দেখিয়ে দিন। আমি তাকে আপনাদের হাতে সোপর্দ করব। আসলে তাদের (পুলিশের) উদ্দেশ্যই ছিল ছাত্রলীগের ছেলেদের মারবে। আমি তাদের মার ফেরানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেখানে এত পুলিশ আসছে যে কমান্ড শোনার মতো কেউ ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সোমবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তা মহররম ছিলেন সেখানে। তিনি অনেক ভুল করেছেন।

‘যেখানে আমি উপস্থিত, সেখানে তিনি এমন কাজ করতে পারেন না। আমি তাকে মারপিট করতে নিষেধ করেছিলাম। তারা (পুলিশরা) আমার কথা শোনেননি।’

এমপি শম্ভুর করা অভিযোগ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, ‘ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে কী ঘটেছে ডিআইজি স্যারের নেতৃত্বে আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। এমপি সাহেব মুরব্বি মানুষ। তার সঙ্গে পুলিশের কেউ অশোভন আচরণ করে থাকলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এ বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মহররম আলী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এস এম তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা কল রিসিভ করেননি। পরে সরকারি নম্বরের ওয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠালেও সাড়া মেলেনি।

যা ঘটেছিল

বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্সে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে ফেরার সময় শিল্পকলা একাডেমির সামনে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ওপর পদবঞ্চিত কয়েকজন হামলা চালায়। এ সময় দুই গ্রুপের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এ ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবির রেজা জানান, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শিল্পকলায় প্রবেশের সময় হামলাকারীরা ছাদ থেকে তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ কারণে পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে।

আট বছর পর গত ১৭ জুলাই বরগুনা শহরের সিরাজ উদ্দীন টাউন হল মিলনায়তনে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়। এরপর ২৪ জুলাই রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির অনুমোদন দেন।

এতে জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৩ সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়। এর পর থেকে নতুন কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বরগুনা শহরে পদবঞ্চিতরা বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ মিছিল ও ভাঙচুর চালায়।

আরও পড়ুন:
আন্দোলনকারীরা শিবির, বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি চাই: জয়
ব্যানারে ‘ছাত্রলীগ’ লেখার কথা বলেনি সাবেক নেতারা: বুয়েট ভিসি
বুয়েটে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের আয়োজন ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছাত্রলীগ ও যুবদলের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
বাসায় বিচার দেয়ায় চবিতে ৪ ছাত্রলীগ নেত্রীর মারামারি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Husband arrested for killing housewife by stone

গৃহবধূকে ‘শিলের আঘাতে হত্যা’, স্বামী আটক

গৃহবধূকে ‘শিলের আঘাতে হত্যা’, স্বামী আটক গৃহবধূ ফারজানা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক মোস্তফা কামাল খান বলেন, ‘ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী রুবেল মিয়াকে আটক রাখে। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

পারিবারিক কলহের জেরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গৃহবধূকে শিলের আঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত রুবেল মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

সদর উপজেলার পশ্চিম রসুলপুর এলাকায় মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ১৯ বছরের ফারজানা আক্তার পশ্চিম রসুলপুর এলাকার নুর নবীর মেয়ে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হক।

নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তিনি জানান, একই এলাকার রুবেলের সঙ্গে ছয় মাস আগে বিয়ে হয় ফারজানার। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে কলহ চলছিল।

এর জেরে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিশও হয়েছে তাদের। গত সোমবারও সালিশ হয় তাদের নিয়ে। কিন্তু আজ ভোরে আবারও তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে শিল দিয়ে ফারজানার মুখে ও মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করেন রুবেল।

এ সময় ফারজানার চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ফারজানার মৃত্যু হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘সকালে গৃহবধূর স্বজনরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।’

ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক মোস্তফা কামাল খান বলেন, ‘ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী রুবেল মিয়াকে আটক রাখে। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
নৈশপ্রহরীকে হত্যার পর ডাকাতি 
প্রাথমিকের শ্রেণিকক্ষে ঝুলছিল কলেজছাত্র
স্ত্রী হত্যা মামলায় যুবক গ্রেপ্তার
স্ত্রীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড
হোমিও চিকিৎসক ও ব্যবসায়ী হত্যায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Train situation in North Bengal will be normal on Wednesday

‘উত্তরবঙ্গের ট্রেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বুধবার’

‘উত্তরবঙ্গের ট্রেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বুধবার’ উত্তরাঞ্চলগামী দুটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করায় কমলাপুর রেলস্টেশনে চরম দুর্ভোগে পড়েন ওই অঞ্চলের যাত্রীরা। ছবি: নিউজবাংলা
কমলাপুর রেলস্টেশনের পরিবহন কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, ‘এগুলোকে শিডিউল বিপর্যয় বলা যায় না। কয়েকটি ট্রেন ২-৩ ঘণ্টা দেরি করেছে দুর্ঘটনার কারণে। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে এটা ঠিক হয়ে যাবে।’

গাজীপুরের ধীরাশ্রম এলাকায় পঞ্চগড়গামী দ্রুতযান এক্সপ্রেসের চারটি বগি লাইনচ্যুতির ঘটনায় দেশের উত্তরবঙ্গমুখী কয়েকটি ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে।

আগামীকাল বুধবারের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

রোববার রাতে গাজীপুরের ধীরাশ্রম এলাকায় ঢাকা ছেড়ে যাওয়া দ্রুতযান এক্সপ্রেসের চারটি যাত্রীবাহী বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে আহত হয় ৭ যাত্রী।

দুর্ঘটনার কারণে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ১১ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। সোমবার সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত পঞ্চগড়গামী ‘দ্রুতযান এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি সরিয়ে নেয়া হলে চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও বেশ কয়েকটি ট্রেন দেরিতে ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর রেলস্টেশনের পরিবহন কর্মকর্তা আমিনুল হক।

নিউজবাংলাকে তিনি জানান, ‘গত পরশুদিন দুর্ঘটনার পর কয়েকটি ট্রেন দেরিতে ছেড়ে গেছে। যে ট্রেনগুলো দেরিতে ছেড়ে গেছে সেগুলো রেলওয়ে পশ্চিম বিভাগের অর্থাৎ উত্তরবঙ্গ ও খুলনাগামী ট্রেন বলেই জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এগুলোকে শিডিউল বিপর্যয় বলা যায় না। কয়েকটি ট্রেন ২-৩ ঘণ্টা দেরি করেছে দুর্ঘটনার কারণে। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে এটা ঠিক হয়ে যাবে।’

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মাসুদ সারোয়ার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত পরশুদিন দুর্ঘটনা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক দেরি হয়েছে। প্রায় ১১-১২ ঘণ্টা লেগেছে। সে সময় প্রায় ১২ ঘণ্টার মতো উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে‌‌। সেই পরিস্থিতি এখনও ফেস করতে হচ্ছে।’

তিনি জানান, উত্তরবঙ্গগামী কয়েকটি ট্রেন দেরিতে ছেড়ে গেছে। যার মধ্যে রয়েছে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস, পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ও খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন। যার প্রতিটি ট্রেন ২ থেকে ৩ ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকালের মধ্যে ট্রেনের এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

আরও পড়ুন:
গাজীপুরে বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে রেলে বন্ধ উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল
মীরসরাই দুর্ঘটনা: চমেকে আরও একজনের মৃত্যু
ট্রেন তো সোজা চলে, দুর্ঘটনার দায় রেলের কেন: রেলমন্ত্রী
মীরসরাইয়ের ঘটনায় গেটম্যান বরখাস্ত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Girder accident How Zahid copes with the loss of wife and child

গার্ডার দুর্ঘটনা: স্ত্রী-সন্তান হারানোর শোক কীভাবে সইবেন জাহিদ

গার্ডার দুর্ঘটনা: স্ত্রী-সন্তান হারানোর শোক কীভাবে সইবেন জাহিদ স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন জাহিদ আকন্দ। ছবি: নিউজবাংলা
নিহত ঝর্না বেগমের স্বজন হাসনা বেগম বলেন, ‘সোমবার দুপুরে মারা গেছে, অথচ এখনও আমরা লাশ পাইলাম না। আমরা দ্রুত লাশগুলো চাই। তাদের দ্রুত দাফন করতে চাই।’

কোনো কিছুতেই কান্না থামছে না জাহিদ আকন্দের। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। ঝর্না ও সন্তানদের নিয়েই ছিল তার সাজানো সংসার। মুহূর্তেই যেন তা এলোমেলো হয়ে গেল।

ভাগনি রিমা মনির বিয়ের দাওয়াত খেতে গত বৃহস্পতিবার জামালপুরের মেলান্দহের আগ পয়লা গ্রামের ঝর্না বেগম, জাহিদ আকন্দ এবং তাদের ২ বছরের ছেলে জাকারিয়া ও ৬ বছরের মেয়ে জান্নাত আশুলিয়া যান।

শনিবার বিয়ে শেষে বাড়ি ফিরে আসেন ইজিবাইক মিস্ত্রি জাহিদ। এরপর সোমবার বৌভাত শেষে আশুলিয়া যাওয়ার পথে রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পের ফ্লাইওভারের ভায়াডাক্ট ছিটকে প্রাইভেট কারে পড়ে দুই শিশুসহ পাঁচ আরোহী নিহত হন।

তাদের মধ্যে ঝর্না বেগমের বাড়িতেই মেলান্দহে চলছে শোকের মাতম। দুই সন্তানসহ মায়ের এমন মৃত্যুতে হতবাক তাদের স্বজনসহ এলাকাবাসী। সব প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দ্রুত দেয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজনরা।

গার্ডার দুর্ঘটনা: স্ত্রী-সন্তান হারানোর শোক কীভাবে সইবেন জাহিদ

ঝর্না বেগমের স্বজন হাসনা বেগম বলেন, ‘সোমবার দুপুরে মারা গেছে, অথচ এখনও আমরা লাশ পাইলাম না। আমরা দ্রুত লাশগুলো চাই। তাদের দ্রুত দাফন করতে চাই।’

আরেক স্বজন কনিকা বেগম বলেন, ‘কোনো দিন কল্পনা করিনি, আমাদের আদরের ধন এভাবে মারা যাবে। এখনও আমাদের বিশ্বাস হচ্ছে না।’

এ ছাড়া ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি বিক্ষুব্ধ স্বজনদের।

ঝর্নার স্বজন আব্বাস মিয়া বলেন, ‘আমরা ঘটনার তদন্ত চাই। সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার চাই। কয়েকজনের গাফিলতির জন্য এমন ঘটনা ঘটেছে।’

গার্ডার দুর্ঘটনা: স্ত্রী-সন্তান হারানোর শোক কীভাবে সইবেন জাহিদ

সোমবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পের ফ্লাইওভারের ভায়াডাক্ট ছিটকে প্রাইভেট কারে পড়ে দুই শিশুসহ পাঁচ আরোহী নিহত হন। দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

তারা হলেন ২৬ বছর বয়সী হৃদয় ও ২১ বছর বয়সী রিয়ামনি, যাদের বিয়ে হয়েছে গত শনিবার। সোমবার ছিল বউভাত।

ছেলের বাড়ি রাজধানীর কাওলায়। বউভাত শেষে মেয়ের বাড়ি আশুলিয়ায় নিয়ে যাচ্ছিল। ছেলের বাবা রুবেল গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।

রুবেল ছাড়াও যারা মারা গেছেন তারা হলেন কনের মা ফাহিমা বেগম, তার বোন ঝর্না বেগম, ৬ বছর বয়সী জান্নাত ও দুই বছর বয়সী জাকারিয়া।

আরও পড়ুন:
ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর
ক্রেনচালকসহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে মামলা
যেভাবে ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি
গুলিস্তান হল মার্কেটের ক্রেন থেকে রড পড়ে আহত ৫
গার্ডার দুর্ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
2 people died due to hanging electric wire in Howar

হাওরে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তারে ২ জনের মৃত্যু

হাওরে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তারে ২ জনের মৃত্যু প্রতীকী ছবি
পিযুষ কুমার বলেন, ‘সুজাতপুর হাওরে একটি বৈদ্যুতিক তার ঝুলে ছিল। সোমবার রাতে একটি বিয়ের নৌকা এই পথে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তি তারে জড়িয়ে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন। ভোরের দিকে আরেকটি নৌকা ওই দিক দিয়ে যাওয়ার সময় আরও একজন সেই তারে স্পৃষ্ট হয়ে পানিতে পড়ে যান।’

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে হাওর থেকে নিখোঁজ দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরিদল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সুজাতপুর হাওর থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

ফায়ার সার্ভিসের দলনেতা পিযুষ কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউজবাংলাকে জানান, হাওরে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

তাৎক্ষণিক নিহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

পিযুষ কুমার বলেন, ‘সুজাতপুর হাওরে একটি বৈদ্যুতিক তার ঝুলে ছিল। সোমবার রাতে একটি বিয়ের নৌকা এদিক দিয়ে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তি তারে জড়িয়ে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন। ভোরের দিকে আরেকটি নৌকা ওই দিক দিয়ে যাওয়ার সময় আরও একজন সেই তারে স্পৃষ্ট হয়ে পানিতে পড়ে যান।’

সকালে হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ডুবুরিদল প্রায় ৮ ঘণ্টার চেষ্টায় দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন:
পিকনিকের লঞ্চ বিদ্যুতায়িত, নিখোঁজ ১
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল গৃহবধূর 
মোটরের সুইচ দিতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল ২ কৃষকের
মধ্যরাতে এসি সারানোর সময় তরুণের মৃত্যু

মন্তব্য

p
উপরে