× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The expatriates wife gave birth to four children together
hear-news
player
print-icon

একসঙ্গে চার সন্তান জন্ম দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী

একসঙ্গে-চার-সন্তান-জন্ম-দিলেন-প্রবাসীর-স্ত্রী
একসঙ্গে জন্ম নেয়া চার শিশুর মধ্যে সুস্থ তিন ভাই-বোন। ছবি: নিউজবাংলা
মা শম্পা বেগম জানান, তার স্বামী কুদ্দুস মোল্যা বর্তমানে মালয়েশিয়া রয়েছেন। মোবাইল ফোনে স্বামীকে সন্তান ভূমিষ্ঠের খবর দেয়া হয়েছে। তিনি খুব খুশি।
বিয়ের ১০ বছরের মাথায় একসঙ্গে চার সন্তানের মা হলেন শারমিন আক্তার শম্পা নামে যশোরের এক নারী।

শহরের কুইন্স হাসপাতালে সোমবার রাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুই ছেলে ও দুই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি।

একসঙ্গে চার নবজাতকের জন্মের খবরে হাসপাতালে ভিড় করছেন আত্মীয়স্বজন ও উৎসুক মানুষ। ওই চার নবজাতকের মধ্যে তিনজন ও তাদের মা পুরোপুরি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শম্পার এক স্বজন জানান, সদর উপজেলার বসুন্দিয়া এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী কুদ্দুস মোল্লা ২০১২ সালের ২৬ জুলাই শম্পাকে বিয়ে করেন। এর পর থেকেই তারা বাচ্চা নেয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে শারীরিক নানা সমস্যার কারণে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
সবশেষ ২০২১ সালের শেষ দিকে গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হন শম্পা। আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে একসঙ্গে চার সন্তান পেতে যাওয়ার বিষয়টি তারা নিশ্চিত হন। ১৯ আগস্ট তার প্রসবের তারিখ ছিল। তবে এর আগেই ব্যথা ওঠায় সোমবার বিকেলে কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। এরপর রাতে সিজারের (অস্ত্রোপচারের) মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন শম্পা। এদের মধ্যে দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে।
একসঙ্গে চার শিশু জন্ম নেয়ায় একটি শিশুর ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা ‘ক্রিটিক্যাল’ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই আদ্-দ্বীন হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসক।


একসঙ্গে চার সন্তান জন্ম দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী


শম্পা বেগম জানান, তার স্বামী কুদ্দুস মোল্যা বর্তমানে মালয়েশিয়া রয়েছেন। মোবাইল ফোনে স্বামীকে সন্তান ভূমিষ্ঠের খবর দেয়া হয়েছে। তিনি খুব খুশি।

চার সন্তানের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এ দম্পতি।

হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ প্রতিভা ঘরাই বলেন, ‘নবজাতকদের স্বাভাবিক ওজন হলো আড়াই কেজি। কিন্তু এই চার নবজাতকের মধ্যে একজনের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ায় তাকে আদ-দ্বীন হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। ওই শিশুটি দ্রুত সুস্থ হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

বসুন্ধরা ইউনিয়নের নারী ইউপি সদস্য বলেন, ‘শম্পা তার সম্পর্কে ভাগনে বউ। তাদের বংশের মধ্যে কারোর যমজ সন্তান নেই। এমনকি আমাদের ইউনিয়নেও কারোর একসঙ্গে চার সন্তান হয়েছে বলে জানা নেই। ফলে আমরা খুব খুশি।’

যশোর কুইন্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীর কবু বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে এর আগে এক মা চার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সেই সন্তানরা সুস্থ আছে। আরেক মা একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম দিলেন। একটি সন্তান ওজন কম হওয়ায় কিছুটা অসুস্থ। তাকে পাশের হাসপাতালে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। দ্রুতই শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠবে। এ ছাড়া এই মায়ের সঠিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আমি নিজেই নজরদারি করছি।’

আরও পড়ুন:
বাসে সন্তান জন্ম, মা ও শিশুর ভাড়া আজীবন ফ্রি
শিশু ফেরত পেতে হাইকোর্টে ভারতীয় মা
শিশুকে নিয়ে বাবার দেশত্যাগ: দাদাকে হাইকোর্টে তলব
পিতামাতার দায় অস্বীকারের সুযোগ নেই
কৃষকের ঘরে এলো তিন যমজ সন্তান

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
212 detected on deathless days

মৃত্যুশূন্য দিনে শনাক্ত ২১২

মৃত্যুশূন্য দিনে শনাক্ত ২১২ করোনাভাইরাসের টিকা নিতে হাসপাতালে দীর্ঘ সারি। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
এক দিনে ৪ হাজার ৬৬৬টি নমুনা পরীক্ষায় ২১২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। নতুন শনাক্ত ২১২ জনের মধ্যে ১৫৫ জনই ঢাকার বাসিন্দা।

দুই দিন থেকে আবারও বাড়ছে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার। তবে স্বস্তির কথা, সেটি ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়নি। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়নি।

বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এক দিনে ৪ হাজার ৬৬৬টি নমুনা পরীক্ষায় ২১২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। নতুন শনাক্ত ২১২ জনের মধ্যে ১৫৫ জনই ঢাকার বাসিন্দা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৪, যা মঙ্গলবারেও ছিল ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। আর সোমবার ছিল ৪ দশমিক শূন্য ৯।

সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে শনাক্ত বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ।

নতুন শনাক্ত রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৯ হাজার ৪৩৪ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু না থাকায় মৃতের সংখ্যা অপরিবর্তিত আছে। এখন পর্যন্ত দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৯ হাজার ৩১৪ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ২২৮ জন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৫১ হাজার ৯৬৫ জন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে গত ৪ অক্টোবর।

গত ২১ জানুয়ারি দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ দেখা দেয়। প্রায় তিন মাস পর ১১ মার্চ নিয়ন্ত্রণে আসে। তিন মাস করোনা স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতে ছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ।

তবে করোনার চতুর্থ ঢেউ সামলে ভাইরাসটিকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় ২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৫৩
সেপ্টেম্বরে দুয়ার খুলবে যুক্তরাষ্ট্র
করোনায় মৃত্যু ৩ জনের, শনাক্তের হারও কমল
করোনায় দেশে আরও ৩ মৃত্যু
করোনা: শনাক্তের হার কমে ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Suggestions are being made as to what the new name of Monkeypox could be

মাঙ্কিপক্সের নতুন নাম আহ্বান, দিতে পারেন আপনিও

মাঙ্কিপক্সের নতুন নাম আহ্বান, দিতে পারেন আপনিও
সম্প্রতি মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের জন্য বানরকে দায়ী করে এই প্রাণী নিধনের খবর মিলেছে ব্রাজিলসহ অনেক দেশে। এরপরই ভাইরাসের নতুন নামকরণ নিয়ে ভাবতে শুরু করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

মাঙ্কি বা বানরের সঙ্গে মাঙ্কিপক্স ছড়িয়ে পড়ার তেমন কোনো সম্পর্ক না থাকলেও কিছু দেশে বানরকেই এ জন্য দায়ী করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে আর কোনো উপায় না পেয়ে এবার ভাইরাসটির নাম বদলে দিতে চায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের অবিতর্কিত নাম বাছাইয়ের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এ নিয়ে ওয়েবসাইটে দেয়া হচ্ছে পরামর্শ।

জেনেভায় সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ফাদেলা চাইব- এ কথা জানিয়েছেন বলে মঙ্গলবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ফাদেলা চাইব বলেন, মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের নামকরণ আগেই হয়েছে। এখন অমর্যাদাকর নয় এমন একটি নাম খুঁজছি আমরা।

তিনি বলেন, কোনো জাতিগত গোষ্ঠী, অঞ্চল, দেশ বা প্রাণীর প্রতি যেন কোনো অপরাধ করা না হয়, সে জন্যই ভাইরাসটির নতুন নাম খোঁজা হচ্ছে।

সম্প্রতি মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের জন্য বানরকে দায়ী করে এই প্রাণী নিধনের খবর মিলেছে ব্রাজিলসহ অনেক দেশে। এরপরই ভাইরাসের নতুন নামকরণ নিয়ে ভাবতে শুরু করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

১৯৫৮ সালে ডেনমার্কে গবেষণার জন্য রাখা বানরের মধ্যে প্রথম শনাক্ত হয় এক ভাইরাস, যার নাম দেয়া হয় মাঙ্কিপক্স।

এত বছর ধরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ততটা গুরুতর না হলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি এই ভাইরাস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।

গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে মাঙ্কিপক্সকে বিশ্বজুড়ে গণস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। সবশেষ করোনাসহ ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সাতবার বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।

চিকেন পক্সে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিব্যথা এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। চিকেন পক্স পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য। কয়েক দিনের মধ্যেই আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যায়। বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া মাঙ্কিপক্সের সঙ্গে গুটি বসন্ত ও চিকেন পক্স উভয়েরই মিল রয়েছে।

মাঙ্কিপক্সে প্রাণহানির সংখ্যা খুবই কম। এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটলেও তা সীমিত। কাঠবিড়ালি, গাম্বিয়ান ইঁদুর, ডর্মিসের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির বানরসহ কিছু প্রাণীর মধ্যে মাঙ্কিপক্স পাওয়া গেছে।

তবে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া কঠিন। এর সংক্রমণ সাধারণত ফ্লুইড ট্রান্সফার, ঘা, দূষিত পোশাক বা দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি যোগাযোগ কিংবা সহাবস্থানের মাধ্যমে ঘটে, যা শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়।

আরও পড়ুন:
মাঙ্কিপক্স: যুক্তরাষ্ট্রে গণস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ভারতে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত বেড়ে ৯
‘মাঙ্কিপক্সে’ ভারতীয় যুবকের মৃত্যুতে তদন্ত শুরু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Johnsons baby powder is being discontinued

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জনসনের বেবি পাউডার বিক্রি

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জনসনের বেবি পাউডার বিক্রি
উৎপাদক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবশ্য আগেই বন্ধ হয়েছে এই পণ্য বিক্রি। এবার অন্য দেশেও এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে এই পাউডার আর বাজারে মিলবে না।

স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে তথ্য ছড়িয়ে পড়া এবং অসংখ্য মামলার মুখোমুখি হওয়ার পর এবার বিশ্বজুড়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক স্বাস্থ্যসেবা পণ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসনের শিশুদের জন্য তৈরি ট্যালকম পাউডার।

উৎপাদক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবশ্য আগেই বন্ধ হয়েছে এই পণ্য বিক্রি, এবার অন্য দেশেও এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে এই পাউডার আর বাজারে মিলবে না।

সারাবিশ্বের পরিস্থিতি মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স

বৃহস্পতিবার জনসন অ্যান্ড জনসনের বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী বাজার মূল্যায়নের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে এই পাউডার বিক্রি করা হয়েছে৷

এর আগে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জনসনের ট্যালকম পাউডারের একটি নমুনা পরীক্ষা করলে তাতে কার্সিনোজেনিক ক্রিসোটাইল ফাইবারের অস্তিত্ব মেলে। এটি এক ধরনের অ্যাসবেস্টস, যা ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে।

ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাজার থেকে ট্যালকমভিত্তিক বেবি পাউডার প্রত্যাহার করে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

জনসন অবশ্য দাবি করে, ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাই বাধ্য হয়েই পণ্য প্রত্যাহার করা হয়।

জনসন কোম্পানির শিশুদের তৈরি সাবান, শ্যাম্পু, লোশন ও পাউডারসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়। অনেকে নিরাপদ মনে করেই এসব পণ্য কেনেন। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপে যে পাউডার বিক্রি হয় তা মূলত তৈরি হয় ভারতে।

বেবি পাউডার বিক্রি করতে গিয়ে প্রায় ৩৮ হাজার মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে জনসনকে। গুনতে হয়েছে জরিমানাও। তবে বরাবরের মতো এবারও অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

জনসন বিবৃতিতে বলেছে, কয়েক দশকের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এই পাউডারকে নিরাপদ এবং অ্যাসবেস্টস মুক্ত বলে প্রমাণ করেছে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে বেশ কয়েক দফা পরীক্ষায় অ্যাসবেস্টসের উপস্থিতি ধরা পড়লেও তা গোপন করে বিক্রি চালিয়ে গেছে জনসন অ্যান্ড জনসন।

১৮৯৪ সাল থেকে বিক্রি শুরু হওয়া জনসনের বেবি পাউডার বিশ্বজুড়ে বহু পরিবারের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Corona positive Biden again

ফের করোনা পজিটিভ বাইডেন

ফের করোনা পজিটিভ বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ফাইল ছবি
২১ জুলাই করোনা ধরা পড়ে বাইডেনের। গত বুধবার তিনি আইসোলেশন থেকে বেরিয়ে আসেন। এ মুহূর্তে ভালো বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন বর্ষীয়ান এ রাষ্ট্রপ্রধান।

আবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যাকে হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকরা দেখছেন প্যাক্সলোভিড নামের ওষুধ সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে।

স্থানীয় সময় শনিবার আবার ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায় ৭৯ বছর বয়সী প্রেসিডেন্টের দেহে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২১ জুলাই করোনা ধরা পড়ে বাইডেনের। গত বুধবার তিনি আইসোলেশন থেকে বেরিয়ে আসেন। এ মুহূর্তে ভালো বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন বর্ষীয়ান এ রাষ্ট্রপ্রধান।

প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন করে করোনা পজিটিভ আসায় কঠোর আইসোলেশনে যাবেন বাইডেন। এর অংশ হিসেবে উইলমিংটনে নিজ বাড়িতে সফর এবং দাপ্তরিক কাজের অংশ হিসেবে মিশিগান সফরের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন তিনি।

আইসোলেশন থেকে বেরিয়ে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার জনসমক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন বাইডেন, তবে গত শুক্রবার তিনি কোনো অনুষ্ঠানে যাননি।

হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক কেভিন ও’কনর জানান, প্যাক্সলোভিড সেবনের ফলে বাইডেনের দেহে ভাইরাস ফিরে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ওষুধটি সেবনকারী অল্প কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এমনটি হয়ে থাকে।

ফাইজারের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ওষুধ প্যাক্সলোভিড। বেশি বয়সীসহ করোনায় উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের চিকিৎসায় ওষুধটি ব্যবহার করা হয়।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, টানা পাঁচ দিন প্যাক্সলোভিড সেবনের কয়েক দিনের মধ্যে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষুদ্র অথচ উল্লেখযোগ্য একটি অংশ আবার করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন।

আরও পড়ুন:
বাইডেনের সৌদিযাত্রা অনিশ্চিত
ভ্রাতৃবধূকে এইডস পরীক্ষার তাগিদ হান্টার বাইডেনের
বাইডেনের আয় কত
বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব বৃদ্ধির আশাবাদ বাইডেনের
ভুল বলেই যাচ্ছেন বাইডেন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
3 more deaths due to corona in the country

করোনায় দেশে আরও ৩ মৃত্যু

করোনায় দেশে আরও ৩ মৃত্যু ফাইল ছবি
শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তিনজন মৃত্যুর পাশাপাশি এই সময়ের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৩৪৯ জনের।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে আর তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৪৯ জন।

শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৪ ঘণ্টার হিসেবে এ তথ্য দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৬ হাজার ২৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে করোনা শনাক্তের হার ৬ দশমিক ৬৪।

এই ভাইরাসে আগের দিন মৃত্যু হয়েছিল একজনের। নতুন রোগী শনাক্ত ছিল ৩৫৫ জন। শনাক্তের হার ছিল ৫ দশমিক ৮৪।

সর্বশেষ মারা যাওয়া তিনজনের দুজন চট্টগ্রামের এবং একজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ২০ লাখ ৪ হাজার ৮৯২ জনের। মারা গেছেন ২৯ হাজার ২৮৮ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৪২ জন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে গত ৪ অক্টোবর।

গত ২১ জানুয়ারি দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ দেখা দেয়। প্রায় তিন মাস পর ১১ মার্চ নিয়ন্ত্রণে আসে। তিন মাস করোনা স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতে ছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ।

আরও পড়ুন:
করোনা: শনাক্তের হার কমে ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ
৫ থেকে ১২ বছর বয়সীদের করোনা টিকা নিতে লাগবে জন্মনিবন্ধন
করোনা: এক দিনে কমেছে মৃত্যু, কম শনাক্তের হারও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
98 of monkeypox cases are gay men 95 in Europe and America

মাঙ্কিপক্সে আক্রান্তের ৯৮% সমকামী পুরুষ, ৯৫% ইউরোপ আমেরিকায়

মাঙ্কিপক্সে আক্রান্তের ৯৮% সমকামী পুরুষ, ৯৫% ইউরোপ আমেরিকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্তদের ৯৮ শতাংশই সমকামী পুরুষ। ছবি: এএফপি
ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, ‘আক্রান্তদের মধ্যে ৯৮ শতাংশই সমকামী পুরুষ অথবা তারা আক্রান্ত কোন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হওয়া মানুষের মধ্যে ৯৫ শতাংশই ইউরোপ ও আমেরিকা এই দুই অঞ্চলের বাসিন্দা।’

বিরল ভাইরাস মাঙ্কিপক্সে আক্রান্তদের ৯৮ শতাংশই সমকামী কিংবা উভকামী পুরুষ। এমনটি জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সেই সঙ্গে বিরল এই ভাইরাসটিতে আক্রান্তের ৯৫ শতাংশই এখন ইউরোপ ও আমেরিকায়।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচও কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সময় বুধবার ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, ‘আক্রান্তদের মধ্যে ৯৮ শতাংশই সমকামী পুরুষ অথবা তারা আক্রান্ত কোন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হওয়া মানুষের মধ্যে ৯৫ শতাংশই ইউরোপ ও আমেরিকা এই দুই অঞ্চলের বাসিন্দা।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৭৮টি দেশে মাঙ্কিপক্স আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ হাজারের বেশি। এদের মধ্যে ইউরোপে ৭০ শতাংশের বেশি আর আমেরিকায় ২৫ শতাংশ।

গত শনিবার মাঙ্কিপক্স নিয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরি করার জন্য সতর্কতা জারির ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘শনাক্ত হওয়া বেশির মানুষের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, হয় তারা সমকামী নতুবা উভকামী পুরুষ।’

ইউরোপের দেশ স্পেন, যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, সেখানে শনাক্ত হওয়া প্রায় সব রোগীই সমকামী পুরুষ। উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডায় দেখা গেছে, শনাক্ত হওয়া প্রায় সবাই সমকামী পুরুষদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে বিরল মাঙ্কিপক্স ছড়িয়ে পড়ায় ওয়াশিংটন সরকার এরই মধ্যে রোগের সম্ভাব্য ভ্যাকসিন কিনে রেখেছে।

এর আগে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত রোগী পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার কিছু অংশে দেখা যেত। বিশেষ করে সংক্রমিত বন্যপ্রাণী যেমন ইঁদুর, কাঠবিড়ালির মাধ্যমে ছড়াত। চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যে ‘নাইজেরিয়া ভ্রমণে যাওয়া’ একজনের দেহে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়। শুক্রবার পর্যন্ত ব্রিটেনে ২০ জনের দেহে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়েছে।

এরই মধ্যে স্পেন, পর্তুগাল, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

১৯৮০ সালে নির্মুল হওয়া গুটিবসন্তের কাছাকাছি এই মাঙ্কিপক্স ভাইরাস। তবে এর লক্ষণগুলো অনেকটা চিকেনপক্সের মতো। প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, মাথাব্যথা, পেশি ব্যথা, পিঠে ব্যথা, ঠাণ্ডা লাগা ও ক্লান্তি। এর ফুসকুড়িগুলো মুখে ওঠা শুরু করে, পরে পুরো দেহে ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর ক্ষেত্রে সাধারণত শ্বাস-প্রশ্বাসের ড্রপলেট এবং সংক্রমিত রোগীর ত্বকের ক্ষতের সংস্পর্শে এলে।

আরও পড়ুন:
দিল্লিতে মাঙ্কিপক্সের হানা  
মাঙ্কিপক্স নিয়ে ডব্লিউএইচওর জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি  
ভারতে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত
সিঙ্গাপুর দক্ষিণ কোরিয়ায় মাঙ্কিপক্স শনাক্ত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Journalist Amit Habib passed away

চলে গেলেন সাংবাদিক অমিত হাবিব

চলে গেলেন সাংবাদিক অমিত হাবিব দেশ রূপান্তর সম্পাদক অমিত হাবিব।
২১ জুলাই দেশ রূপান্তর কার্যালয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন অমিত হাবিব। তাৎক্ষণিক তাকে রাজধানীর পান্থপথে বিআরবি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে আগারগাঁওয়ে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চলে গেলেন দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক অমিত হাবিব। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।

দেশ রূপান্তরের নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা মামুন নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অমিত হাবিবের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

২১ জুলাই দেশ রূপান্তর কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন অমিত হাবিব। তাৎক্ষণিক তাকে রাজধানীর পান্থপথে বিআরবি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরে তাকে ওই হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়।

বিআরবিতে শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে মঙ্গলবার অমিত হাবিবকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সেখানে চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে জানান, অমিত হাবিব ‘ডিপ কোমায়’ আছেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এ লড়াইয়ে তার জয়লাভের সম্ভাবনা ক্ষীণ। এখানে পর্যবেক্ষণে রাখার এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের যুগ্ম-পরিচালক ডা. বদরুল আলম মণ্ডল বলেন, ‘উনি ব্রে‌ইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। মস্তিষ্কে ব্যাপক মাত্রায় রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাকে যখন আমাদের হাসপাতালে আনা হয় তখন খুবই খারাপ অবস্থা ছিল। অধ্যাপক ডা. মালিহা হাকিমের অধীনে তাকে এখানে ভর্তি করা হয়। আমাদের চিকিৎসকরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না।’

অমিত হাবিব এর আগে ২০২০ সালেও একবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বেশকিছু দিন হাসপাতালে ছিলেন।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টা দেশ রূপান্তর কার্যালয়ে অমিত হাবিবের প্রথম নামাজে জানাযা হবে। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে জাতীয় প্রেসক্লাবে। সেখানে দ্বিতীয় দফা জানাযা শেষে আজই তাকে ঝিনাইদহে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে।

ছোট ভাই ফয়জুল হাবিব জানান, পারিবারিক সিদ্ধান্তে গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুরে অমিত হাবিবকে সমাহিত করা হবে।

অমিত হাবিবের জন্ম ১৯৬৩ সালের ২৩ অক্টোবর। ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার কাজির বেড় গ্রামে কেটেছে তার শৈশব। বাবা খন্দকার ওয়াহেদুল হক ছিলেন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। মা শামসুন্নাহার বকুল গৃহিণী। দুজনেই প্রয়াত। ছোট দুই ভাই ফয়জুল হাবিব রাঙ্গা ও মেহেদী হাসান থাকেন গ্রামের বাড়িতে। ঢাকায় পরিবারের তেমন কেউ নেই। তিনি দুবার বিয়ে করলেও সংসারে স্থায়ী হননি। দাম্পত্য বিচ্ছেদের পর অনেকটা একাকী জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন গুনী এ সাংবাদিক। সংবাদপত্রের বার্তাকক্ষ ছিল তার কাছে সবচেয়ে আপন। সেখান থেকে অসুস্থ হয়েই তিনি চিরবিদায় নিলেন।

যশোর এমএম কলেজ থেকে ১৯৮০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর ঢাকায় জগন্নাথ কলেজে পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন। তার লেখালেখির শুরুটা তখনই।

১৯৮৬ সালে খবর গ্রুপ অফ পাবলিকেশন্সে একই সঙ্গে রিপোর্টার ও সাব-এডিটর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন অমিত হাবিব। পরে সাপ্তাহিক পূর্বাভাস পত্রিকায় সাব-এডিটর পদে যোগ দেন তিনি। ১৯৯১ সালে দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায় সিনিয়র সাব-এডিটর হিসেবে যোগ দেন তিনি। এর পরের বছর একই পদে যোগ দেন দৈনিক ভোরের কাগজে। অল্পদিনের মধ্যেই পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ও পরে বার্তা সম্পাদক হন তিনি। ভোরের কাগজর কর্মজীবনে তিনি সবার প্রিয় ‘অমিত দা’ হয়ে ওঠেন। তার নেতৃত্ব ও সংবাদপত্রের অলংকরণ সমাদৃত হয় সব মহলে।

২০০৩ সালে দৈনিক যায়যায়দিন-এ প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন খ্যাতিমান এই সাংবাদিক। তবে পত্রিকাটি বাজারে আসে ২০০৬ সালে। পাঠকের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠা পত্রিকাটি তিনি স্বল্প সময়ে ছাড়েন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধে।

২০০৭ সালে চীনের আন্তর্জাতিক বেতারে বিদেশি বিশেষজ্ঞ হিসেবে যোগ দেন তিনি। বাংলা সংবাদপত্রের সঙ্গে তার এই বিচ্ছেদ অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দেশে ফিরে পরের বছরই দৈনিক সমকালে প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০০৯ সালে কালের কণ্ঠে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি পত্রিকাটিকে বাজারে আনেন। মাঝে ‘সকাল সাতটা’ নামে একটি পত্রিকা বের করার চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি। পরে ২০১৩ সালে কালের কণ্ঠে ফিরে উপদেষ্টা সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। সেখান থেকে বেরিয়ে সম্পাদক হিসেবে দৈনিক দেশ রূপান্তরের দায়িত্ব নেন।

মন্তব্য

p
উপরে