× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Protesting the reckless speed the Chhatra League leader was threatened with shooting
google_news print-icon

বেপরোয়া গতির প্রতিবাদ, ছাত্রলীগ নেতাকে ‘অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলির হুমকি’

বেপরোয়া-গতির-প্রতিবাদ-ছাত্রলীগ-নেতাকে-অস্ত্র-ঠেকিয়ে-গুলির-হুমকি
সিসিটিভি ফুটেজে সাদা গাড়িকে ঘিরে লোকজন। ছবি: সংগৃহীত
ওসি মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পিরোজপুর শহর থেকে বেপরোয়া গতিতে চলে যাচ্ছিলো একটি প্রাইভেট কার। শহরের পিটিআই মোড়ে গাড়িটি এক ছাত্রকে ধাক্কা দিলে আহত হন তিনি। ঘটনাটি দেখে পিরোজপুর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আসিফ ইকবাল মোটরসাইকেল চালিয়ে কিছু দূর গিয়ে গাড়িটির গতিরোধ করেন। গাড়ি চালককে বেপরোয়া গতিতে চালাতে নিষেধ করেন তিনি।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গাড়িচালক বের হয়ে গাড়ির পেছন থেকে একটি শটগান বের করে আসিফের বুকে ধরেন। এরপর সেটি দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করে ছাত্রলীগের ওই নেতা।

ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার বিকেলে পিরোজপুর শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায়।

এ ঘটনার পুরো চিত্র ধরা পড়ে সিসিটিভি ফুটেজে। মঙ্গলবার বিকেলে সিসিটিভি ফুটেজসহ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আসিফ ইকবাল।

বেপরোয়া গতির প্রতিবাদ, ছাত্রলীগ নেতাকে ‘অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলির হুমকি’
এই স্থানেই হত্যার হুমকি দেয়া হয় বলে দেখিয়ে দিচ্ছেন ছাত্রীলগের নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত

আফিস ইকবাল বলেন, ‘সোমবার বিকেলে পিটিআই সড়কের পাশে আমিসহ কয়েকজন দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় সাদা রংয়ের একটি প্রাইভেট কার হুলারহাট থেকে সিও অফিসের দিকে বেপরোয়া গতিতে আসছিল। গাড়িটি পাশ দিয়ে ব্যাপক গতিতে যাওয়ার সময় এক ছাত্রের হাতে ধাক্কা দেয়।’

তিনি জানান, পরে তিনি একটি মোটরসাইকেল চালিয়ে কিছুদূর গিয়ে গাড়িটির গতিরোধ করেন। এ সময় গাড়ির চালক অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে কোনো কথা বলার আগেই শটগান লোড করে তার বুকে ঠেকিয়ে গুলি করে মেরে ফেলার কথা বলেন। পরে তার সাথে থাকা কয়েক জন ও পথচারীরা এগিয়ে আসলে শটগানধারী ব্যক্তি গাড়িতে উঠে দ্রুত খুলনার দিকে চলে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, গাড়িটিতে কোনো নাম্বার প্লেট ছিল না। অস্ত্রধারী ব্যক্তি কে, তাকেও চেনেন না তারা।

এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবি জানায় পৌর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

অভিযোগ করার পর পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
দেড় লাখ টাকা ‘হাত খরচ’ না পেয়ে লেগুনা ভেঙেছে ছাত্রলীগ!
জবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত
‘ছাত্রলীগের বানানো বখাটেরাই শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করছে’
‘হল আমরা লিজ নিছি’: চবির ৯ ছাত্রলীগ কর্মীকে শোকজ
নিখোঁজ ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The police believe that the mother committed suicide after killing two children under the pressure of debt

ঋণের চাপে দুই শিশুকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা, ধারণা পুলিশের

ঋণের চাপে দুই শিশুকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা, ধারণা পুলিশের মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের উত্তর ইসলামপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে রোববার তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
পুলিশের ধারণা, ঋণের চাপ সইতে না পেরে রোববার সকালের কোনো এক সময়ে দুই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন ওই নারী।

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে রোববার দুই শিশু সন্তানসহ এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের উত্তর ইসলামপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে ওই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ধারণা, ঋণের চাপ সইতে না পেরে রোববার সকালের কোনো এক সময়ে দুই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন ওই নারী।

প্রাণ হারানো তিনজন হলো ৩৩ বছর বয়সী সায়মা বেগম ও তার ১১ বছরের মেয়ে ছাইমুনা ও সাত বছরের ছেলে তাওহীদ।

সায়মার স্বামী আলী মিয়া সৌদি আরব প্রবাসী।

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিরাজদিখান সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান রিফাত জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ বসতঘর থেকে মা ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ তিনটি মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ঋণের চাপে প্রথমে দুই সন্তানকে বিষ পান করিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে মা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

এ বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা, ধারণা পুলিশের
টাকা ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে জানাজায় বাধা, পুলিশি হস্তক্ষেপে দুই দিন পর দাফন
চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, একজন আটক
কারাগার থেকে সাংবাদিক হত্যা মামলার আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
হাসপাতাল থেকে পালানো দগ্ধ কিশোরের মরদেহ পুকুরে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Pilkhana Tragedy Home Minister hopes trial will end soon

পিলখানা ট্র্যাজেডি: বিচার দ্রুত শেষ হবে, আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পিলখানা ট্র্যাজেডি: বিচার দ্রুত শেষ হবে, আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিলখানায় ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহ চলাকালে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
বিডিআর বিদ্রোহ মামলার বিচার নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যা কিছুই হোক, এটা যেন অতি দ্রুতই হয়। আমরাও সেটাই আশা করি। কবে শেষ হবে, এটা বিচারকরাই জানেন।’

রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদরদপ্তরে নৃশংস হত্যার ঘটনা হওয়া দুটি মামলার বিচারকাজ দ্রুত শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বিডিআর বিদ্রোহের ১৫তম বার্ষিকীর দিন রোববার এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের কাছে এ আশার কথা জানান তিনি।

পিলখানায় ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহ চলাকালে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এ হত্যা মামলার রায় হয়। তাতে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

মামলায় ২৭৮ জনকে খালাস দেয়া হয়। এ বিষয়ে আপিল সর্বোচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায়।

আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় হওয়া দুটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ১৮৪ জনের আপিল এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায়। আর বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় চলছে সাক্ষ্যগ্রহণ।

বিডিআর বিদ্রোহ মামলার বিচার নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যা কিছুই হোক, এটা যেন অতি দ্রুতই হয়। আমরাও সেটাই আশা করি। কবে শেষ হবে, এটা বিচারকরাই জানেন।

‘আমাদের মাননীয় কোর্ট থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটাই ফাইনাল সিদ্ধান্ত। সেখানে আমরা কিছু…আপনারা জানেন আমাদের কোর্ট স্বাধীন। কাজেই তারা তাদের ইয়ে অনুযায়ী একটা ন্যায্য বিচার করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

বিডিআর বিদ্রোহ মামলার বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কারণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এটাতে কারও গাফিলতি নাই। আমি আপনাকে আগেই বলেছি, একটা বিরাট ধরনের একটা কার্নেজ (হত্যাকাণ্ড) ছিল। সেগুলো সবগুলো এখানে সঠিকভাবে তদন্ত শেষে এবং বেশ ধরনের একটা বিচারকার্য ছিল। এ সবগুলো একটু সময় নিয়েছে। আমার মনে হয় শিগগিরই এটা শেষ হবে।’

আরও পড়ুন:
শতকণ্ঠে ‘বিদ্রোহী’
ইয়াসমিন ট্র্যাজেডির ২৭ বছর পরও থামেনি ধর্ষণ-হত্যা
আনসার বিদ্রোহ: খালাসপ্রাপ্তদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আপিল নিষ্পত্তি
রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডির ১ বছর: এখনও কাঁদেন নিহতের স্বজনরা
নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষে ‘শতবর্ষে শতদৃষ্টি’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Cousin of Sramik League worker hacked to death in Jhalkathi is absconding

ঝালকাঠিতে শ্রমিক লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, চাচাত ভাই পলাতক

ঝালকাঠিতে শ্রমিক লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা, চাচাত ভাই পলাতক প্রাণ হারানো ইমরান হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
ইমরানের বড় ভাই রাসেল হাওলাদার বলেন, “আমারই চাচাত ভাই আলমিন হাওলাদারসহ ছয় থেকে সাতজন শনিবার রাতে রামদা নিয়ে ওকে (ইমরানকে) ধাওয়া করে কুপিয়েছে। ইমরান মৃত্যুর আগে শুধু এতটুকুই বলেছে, ‘আলমিন আমারে কোপাইছে।”

ঝালকাঠির নলছিটিতে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার চাচাত ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

নলছিটি পৌর এলাকায় শনিবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রাণ হারানো ৩২ বছর বয়সী ইমরান হোসেন শ্রমিক লীগের নলছিটি উপজেলা শাখার কর্মী এবং নলছিটির ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক সমিতির সভাপতি।

নলছিটি থানার ওসি মো. মুরাদ আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে নলছিটি পৌর এলাকার নান্দিকাঠিতে ইমরানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। রক্তাক্ত অবস্থায় আহত ইমরানকে স্থানীয়রা নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ইমরানের।

ইমরানের মৃত্যুর খবরটি সংবাদমাধ্যমকে জানান তার বড় ভাই রাসেল হাওলাদার।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমারই চাচাত ভাই আলমিন হাওলাদারসহ ছয় থেকে সাতজন শনিবার রাতে রামদা নিয়ে ওকে (ইমরানকে) ধাওয়া করে কুপিয়েছে। ইমরান মৃত্যুর আগে শুধু এতটুকুই বলেছে, ‘আলমিন আমারে কোপাইছে।”

নলছিটি থানার ওসি মো. মুরাদ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
স্ত্রীকে দুই বছরে ১১ বার হত্যার হুমকি সন্ত্রাসীদের!
শেরপুরে হাতুড়ির আঘাতে বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ, ছেলে আটক
শিশুকে হত্যা করে ধানখেতে পুঁতে রাখেন সৎ বাবা
মায়ের অন্যত্র বিয়ে, শিশুপুত্রকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা বাবার
ক্রাচে ভর দিয়ে চলা বৃদ্ধার মরদেহ ঝুলছিল গাছে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Killed fish worth 3 lakh taka by poisoning the pond in the middle of the night

‘আমাদের স্বপ্ন এখন পুকুরের পানিতে ভাসছে’

‘আমাদের স্বপ্ন এখন পুকুরের পানিতে ভাসছে’ মরা মাছগুলো উল্টে শ‌নিবার সকালে পুকুরে ভেসে উঠে। ছবি: নিউজবাংলা
মাদারীপুর সদর থানার ওসি এইচ এম সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি শুনলাম। কেউ অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

‘আমরা তিন বন্ধু মিলে লেখাপড়ার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হতে এই মাছ চাষ করি, কিন্তু আমাদের সেই স্বপ্ন এখন পুকুরের পানিতে ভাসছে। কারা আমাদের পুকুরে বিষ দিয়েছে, আমরা জানি না।’

কথাগুলো বলছিলেন মাদারীপুর সদরের খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামের মাথাভাঙ্গা এলাকার সোহানুর বেপারী।

তার অভিযোগ, শুক্রবার রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা তাদের পুকুরে বিষ দিয়ে তিন লাখ টাকার মাছ নিধন করেছে।মরা মাছগুলো উল্টে শ‌নিবার সকালে পুকুরে ভেসে ওঠে।

সোহানুর জানান, ছয় মাস আগে তিনি, রাব্বি সরদার ও ফেরদাউস শিকদার মিলে মাথাভাঙ্গা হাটের পশ্চিম পাশে সোনালি ব্রিকস নামের ইটভাটা সংলগ্ন ৪০ শতাংশ জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করেন। পুকুরে তারা ছয় লাখ টাকার তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, ব্রিগেড, পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছাড়েন।

তিনি জানান, সেই মাছগুলোর একেকটা এক কেজি ওজনের বেশি হয়েছে। তারা তিন বন্ধু মিলে ভেবেছিলেন, দুই-এক দিনের মধ্যে মাছগুলো ধরবেন, কিন্তু তার আগেই পুকুরে দেয়া হয় বিষ।

এ যুবক জানান, পুকুরে বিষ প্রয়োগের পর চিকিৎসক ডেকে আনে পানি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে, যার কারণে মাছ মরে উল্টো হয়ে ভেসে ওঠে।

সোহানুরের বন্ধু রাব্বি সরদার বলেন, ‘মাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা? আমরা নিজের অর্থ দিয়ে এই মাছ চাষের উদ্যোগ নিয়েছি। এখনও আমাদের মাছের খাবারের এক লক্ষ টাকা বাকি পড়ে আছে দোকানে।

‘এ অবস্থায় এখন আবার পুকুরের অর্ধেক মাছ মারা গেছে। আমরা এখন এই ক্ষতি কেমন করে পূরণ করব? যারা আমাদের এই ক্ষতি করেছে, আমি প্রশাসনের কাছে তাদের বিচার চাই।’

জানতে চাইলে মাদারীপুর সদর থানার ওসি এইচ এম সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি শুনলাম। কেউ অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
An Indonesian girl who came to Madaripur for love opened an iPhone in the parlor

পার্লারে আইফোন খোয়ালেন প্রেমের টানে মাদারীপুরে আসা ইন্দোনেশীয় তরুণী

পার্লারে আইফোন খোয়ালেন প্রেমের টানে মাদারীপুরে আসা ইন্দোনেশীয় তরুণী আইফোন হারিয়ে মন খারাপ ইফহার। ছবি: নিউজবাংলা
তরুণীর স্বামী শামীম মাদবর বলেন, ‘এটি খুবই দুঃখজনক। পার্লারে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। পরে আমরা শিবচর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।’

বিউটি পার্লারে বিয়ের কনের সাজ সাজতে গিয়ে আইফোন খুইয়েছেন প্রেমের টানে বাংলাদেশে আসা ইন্দোনেশীয় তরুণী। মাদারীপুরের শিবচরের যুবক শামীম মাদবরকে বিয়ে করতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আসেন ভিনদেশী তরুণী ইফহা।

শুক্রবার সকালে বিয়ের জন্য সাজতে শিবচর পৌর এলাকার ‘পাকিস্তানি বিউটি পার্লার’ নামের একটি বিউটি পার্লারে গিয়ে সাজগোজের সময় তার আইফোনটি চুরি হয়ে যায়।

জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ওই পার্লারে থাকা অবস্থাতেই নিজের আইফোন ১৫+ মডেলের ফোনটি একটি টেবিলের উপর রাখেন। পরে ফোনটি আর খুঁজে পাননি তিনি।

এ ঘটনায় শিবচর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তরুণীর স্বামী শামীম মাদবর বলেন, ‘সকালে শিবচরের স্বর্ণকার পট্টির পাকিস্তানি বিউটি পার্লারে সাজার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ইফহাকে। পার্লারের ভেতরে সাজের সময় ফোনটি চুরি হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বোরকা পরিহিত এক নারী পার্লারের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে ফোনটি নিয়ে দ্রুত বের হয়ে যান।’

তিনি বলেন, ‘এটি খুবই দুঃখজনক। পার্লারে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। পরে আমরা শিবচর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।’

পাকিস্তানি বিউটি পার্লারের স্বত্তাধিকারী রেশমা আক্তার বলেন, ‘আমার পার্লারে সারাক্ষণই কাস্টমার থাকে। ওই বিদেশী মেয়ে আর তার সঙ্গে আরও একজনসহ দুইজন সাজের জন্য আসেন। ফোনটি সারাক্ষণই তার হাতে ছিল। সাজ শেষে তিনি ফোনটি নিয়ে দরজার কাছের টেবিলের ওপর রেখে নাকফুল পরতে গেলে ওই সময়ই বোরকা পরা এক মহিলা এসে ফোনটি নিয়ে বেরিয়ে যান। তখন আমি আরেকটি কাজ করছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় কাস্টমারের মালামাল নিজেদের সঙ্গে রাখতে বলি। নিজ দায়িত্বে রাখার জন্য বলা হয়।’

শিবচর থানার ওসি সুব্রত গোলদার বলেন, ‘ভুক্তভোগী এ বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমরা তদন্ত করছি।’

আরও পড়ুন:
টিকটকে প্রেম, উড়ে এসে মাদারীপুরে বিয়ে ইন্দোনেশীয় তরুণীর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Allegation of attempted murder of EB student for sitting in bus

বাসে বসা নিয়ে ইবি শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

বাসে বসা নিয়ে ইবি শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ছবি: সংগৃহীত
অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী লিখেছেন, ‘আর ৯/১০ সেকেন্ড ধরে রাখলে আমি মারা যেতাম।’ তবে অভিযোগটি মিথ্যা দাবি করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী রতন রায়।

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার সময় বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় শনিবার সকালে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার চেয়ে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু জাহেদ।

অভিযুক্তরা হলেন- উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রতন রায় ও রিহাব রেদোওয়ান। তারা উভয়েই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ও সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের অনুসারী বলে জানা গেছে।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাস থেকে কুষ্টিয়া শহরে যাওয়ার জন্য দুপুর তিনটার বাসে ওঠেন ভুক্তভোগী। তিনি একটা সিটে বসা ছিলেন, যার পাশের সিটে বসা ছিলেন অভিযুক্ত রতন রায়।

কিছুক্ষণ পরে রতন নিচে গিয়ে কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবী নিয়ে পুনারায় সিটে বসতে আসেন। এ সময় তিনি ভুক্তভোগীকে পাশের সিটে সরে যেতে বললে তিনি এতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে রতন আবু জাহেদের গলা টিপে ধরেন এবং তাকে সহযোগিতা করা রিহাব চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দেন। তখন ভুক্তভোগী চিল্লাপাল্লা শুরু করলে তাকে ছেড়ে দেন তারা।

অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী লিখেছেন, ‘আর ৯/১০ সেকেন্ড ধরে রাখলে আমি মারা যেতাম।’

তবে অভিযোগটি মিথ্যা দাবি করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মী রতন রায়।

তিনি বলেন, ‘যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। যদি তার গলা টিপে বা চোখ আঙ্গুল দেয়া হতো, তাহলে সেগুলোর চিহ্ন থাকার কথা।

‘আমি দুই প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাক্ষরিত এক পাল্টা অভিযোগপত্র দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগের কর্মী, সেটা বড় কথা নয়, বরং সর্বপ্রথম আমি শিক্ষার্থী। আমি কেন ছাত্রলীগের আশ্রয় কোনোকিছু করতে যাবো? এসবের কোনো ভিত্তি নেই।’

অভিযোগ অস্বীকার করেন অপর অভিযুক্ত রিহাব রেদোওয়ানও। তিনি বলেন, ‘মূলত বাসের পেছনের সিটে দুইটি মেয়ে বসা ছিল। সে (ভুক্তভোগী) দুজনের মাঝখানে বসা ছিল। তাই আমরা তাকে ওপাশে সরে বসতে বলেছিলাম।

‘একপর্যায়ে তার সঙ্গে আমাদের বাগবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি খারাপ পর্যায়ে চলে যাবে ভেবে আমি তাকে একটু ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছেলাম। তখন সে তার বড় ভাই মজুমদারকে কল দিয়ে আনে। তিনি এসে আমাদের বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন।’

ভুক্তভোগী আবু জাহেদ বলেন, ‘উনারা বাসে উঠে আমাকে সরে যেতে বললে আমি অস্বীকৃতি জানাই। একপর্যায়ে তারা আমার গলাটিপে ধরেন, চোখ-মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরে রাখেন। এভাবে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে আমাকে শ্বাসরোধ অবস্থায় রাখেন। আর ৫ সেকেন্ড ধরে রাখলে মরে যেতাম। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

আশপাশে লোক ছিল কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আশেপাশে লোক ছিল, কিন্তু কেউ সহায়তা করতে আসেনি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাতের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোথায়, কী অভিযোগ হয়েছে, শুনিনি। এরকম অভিযোগ সত্য হয়ে থাকলে এবং ছাত্রলীগের কর্মী হয়ে থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ছাত্রলীগ অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ এ বিষয়ে বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। আমরা আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra League accused the police of taking and selling shops for free
বইমেলা

ছাত্রলীগ পুলিশের বিরুদ্ধে ফ্রিতে দোকান নিয়ে বিক্রির অভিযোগ

ছাত্রলীগ পুলিশের বিরুদ্ধে ফ্রিতে দোকান নিয়ে বিক্রির অভিযোগ
বাংলা একাডেমি থেকে বিনা মূল্যে বইমেলায় তিনটি খাবারের দোকান বরাদ্দ নিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানা পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা
অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বলেছে, তারা খাবারের কোনো দোকান নেয়নি। অন্যদিকে বাংলা একাডেমি বলছে, খরচপাতির কথা বলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বিনা মূল্যে তিনটি দোকান নিয়েছে।

বাংলা একাডেমি থেকে বিনা মূল্যে বইমেলায় তিনটি খাবারের দোকান বরাদ্দ নিয়ে সাড়ে ১৩ লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানা পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বলেছে, তারা খাবারের কোনো দোকান নেয়নি।

অন্যদিকে বাংলা একাডেমি বলছে, খরচপাতির কথা বলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বিনা মূল্যে তিনটি দোকান নিয়েছে।

বাংলা একাডেমির সূত্র নিউজবাংলাকে জানায়, হাত খরচের কথা বলে ছাত্রলীগ একটি আর বইমেলায় স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোলরুম তৈরির খরচ এবং এখানে আসা পুলিশ কর্মকর্তাদের আপ্যায়ন খরচের কথা বলে শাহবাগ থানা পুলিশ দুইটি খাবারের দোকান বিনা মূল্যে বরাদ্দ নিয়েছে।

ওই সূত্রের ভাষ্য, বইমেলায় আসা দর্শনার্থীদের খাবারের চাহিদা মেটাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের শেষ প্রান্তে ১৬টি প্রতিষ্ঠান এবং একজন ব্যক্তিকে ২১টি খাবারের দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে বিনা মূল্যে দেয়া হয়েছে পাঁচটি দোকান। প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলো হলো ছাত্রলীগ, কালী মন্দির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও শাহবাগ থানা পুলিশ। এর মধ্যে শুধু শাহবাগ থানা পুলিশই দুটি দোকান বরাদ্দ পেয়েছে।

বাংলা একাডেমির সূত্রটি জানায়, ছাত্রলীগকে দেয়া ৮ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয় মেহেদী হাসানের নামে। কালী মন্দিরকে দেয়া ১৫ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে কালী মন্দিরের নামে। ডিএমপিকে দেয়া ১৭ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে মেট্রো মেকার্সের নামে। আর শাহবাগ থানাকে দেয়া ২০ ও ২১ নম্বর দোকানটি শাহবাগ থানার নামেই বরাদ্দ হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ছাত্রলীগকে দেয়া ৮ নম্বর দোকানটি বর্তমানে পরিচালনা করছেন উজ্জ্বল নামের একজন। তিনি দোকানটি কিনে নিয়েছেন আড়াই লাখ টাকায়। উজ্জ্বল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, যিনি থাকেন কবি জসিমউদ্দীন হলের ২১৯ নম্বর কক্ষে। আর শাহবাগ থানা পুলিশের নামে বরাদ্দ হওয়া দোকানগুলো পরিচালনা করছেন বিল্লাল নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি দোকান কিনে নিয়েছেন ১১ লাখ টাকায়। দোকানে থাকা ম্যানেজার শাহিন ও সাব্বির টাকার অঙ্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটে বিল্লালের ব্যবসা আছে। গত বছরও তিনি শাহবাগ থানার নামে বরাদ্দ হওয়া দোকান দুটি কিনে নিয়েছিলেন।

এত টাকায় দোকান কিনে নেয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, প্রতি বছর বাংলা একাডেমির খাবারের দোকানগুলোর দাম একটু বেশি থাকে, কিন্তু এ বছর সেটি কমানো হয়েছে। এর আগেই গত বছরের দামে শাহবাগ থানা পুলিশের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেন বিল্লাল। এ ছাড়া পুলিশের দোকান হলে একটু অতিরিক্ত সুবিধাও পাওয়া যায়। অন্য দোকানগুলোর নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও এই দুটি দোকানের থাকে না নির্দিষ্ট সীমানা। যতটুকু ইচ্ছা জায়গা নিজের করে নেয়া যায়।

বিষয়টি স্বীকারও করেছেন বইমেলার খাবার ও সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত খাবারের স্টলগুলোকে আমরা নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ দিই, তবে শাহবাগ থানা পুলিশের স্টল দুইটা তারা আমাদের সাথে কথা বলে নিজেদের মতো করে বাড়িয়ে নিয়েছে।’

হাসান কবীর বলেন, ‘অন্য স্টলগুলো থেকে পুলিশের স্টল দুইটা একটু বেশি সুবিধা ভোগ করছে, এটা স্বীকার করতে আমাদের অসুবিধা নেই। বাস্তবতাও আসলে তাই। তারা প্রতিবার একটু অন্যরকমভাবেই এসব স্টল নেয়।’

শাহবাগ থানা পুলিশকে বিনা মূল্যে দুইটি খাবার দোকান বরাদ্দের বিষয়ে ড. কবীর বলেন, “প্রতিবার তাদের একটা দেয়া হয়। এবার খরচ বেশি হচ্ছে বলে দুইটা নিয়েছে, তবে তাদের জন্য কোনো কাগজপত্র নেই।

“তারা (পুলিশ) আমাদের বলেছে, ‘মেলায় পুলিশ কন্ট্রোলরুম তৈরির খরচ এবং সেখানে আসা পুলিশ অফিসারদের আপ্যায়নের জন্য তারা তেমন কোনো বরাদ্দ পান না। আর এবার তাদের খরচ নাকি একটু বেড়ে গেছে। তাই আমরা যেন তাদের দুইটা খাবারের স্টল দিই।’ এ জন্য আমরা দিয়েছি। এরপর সেটা বিক্রি করে যেই টাকা পাওয়া যাবে, সেটা দিয়ে তাদের এসব খরচ চালানো হবে বলে আমাদের জানিয়েছেন তারা।”

মেলায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাকি সংস্থাগুলোও যদি এভাবে বিনা মূল্যে দোকান বরাদ্দ চায় তাদের দেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘র‌্যাব বা অন্য সংস্থাগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ফোর্স তো বেশি থাকে পুলিশের। তাদের দায়-দায়িত্বও বেশি। তাই তাদের এই সুবিধা দেয়া হয়েছে।

‘বাকিদেরও যদি এই সুবিধা দিতে হয়, তাহলে তো আমরা কিছুই করতে পারব না। সবাইকে দিতে দিতেই তো সব শেষ হয়ে যাবে।’

জানতে চাইলে বিনা মূল্যে খাবারের স্টল নেয়া এবং ১১ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেননি শাহবাগ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা একাডেমি থেকে খাবারের কোনো দোকান নিইনি। আর বিক্রির তো প্রশ্নই আসে না।’

‘শয়ন ও সাদ্দাম জানেন’

ছাত্রলীগকে বিনা মূল্যে খাবারের দোকান বরাদ্দ দেয়ার বিষয়ে কথা হয় বাংলা একাডেমির হিসাব রক্ষণ ও বাজেট উপবিভাগের উপপরিচালক কামাল উদ্দীন আহমেদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগকে এই দোকান দেয়ার বিষয়ে শয়ন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন) সাহেবের সাথেও কথা হয়েছে; সাদ্দাম (কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতিসাদ্দাম হোসেন) সাহেবও জানে। এই স্টল নেয়ার জন্য একটা পক্ষ এসেছিল। এরপর তাদের উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিকে ফোন দেয়া হয়েছিল। এ সময় সাদ্দাম সাহেবকেও ফোন দেয়া হয়েছে।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেয়ার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যদি বলে আমাকেও একটা স্টল দাও, তখন তো ঝামেলা হয়ে যাবে। এ জন্য দুইজনের সাথেই কথা বলে শুধুমাত্র একটা দোকান দেয়া হয়েছে।’

ছাত্রলীগকে কেন বিনা মূল্যে দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে খাবার ও সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর বলেন, ‘দেশ চালায় কারা? পুলিশ আর ছাত্রলীগই তো চালায়। তো তাদেরকে সমীহ করতে হবে না? তাদেরকে আমরা অনেক কিছু দিইনি।

‘সবাইকে বুঝিয়ে শুনিয়ে একটা স্টল দিয়েছি। না হয় অনেক গ্রুপকে দিতে হতো।’

হাসান কবীর বলেন, “তারা (ছাত্রলীগ) আমাদের বলেছে, ‘আমরা ছাত্র মানুষ। আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। আমাদের হাত খরচ লাগে।’ তখন আমরা বলেছি, ‘তাহলে আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্র বা লোকাল যেই নামে আসেন না কেন, আমরা শুধু একটা স্টলই দিতে পারব।’ তাদেরকে এও বলেছি, ‘আপনারা দায়িত্ব নেন, ছাত্রলীগের নামে যেন আর কেউ না আসে।’ তারা আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছে, ‘কেউই আসবে না। আমরা এটি নিয়ন্ত্রণ করব।’”

এগুলো (বিনা মূল্যে দোকান বরাদ্দ নিয়ে বিক্রি করা) ঠিক কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো ঠিক না। এগুলো ভুল।’

ছাত্রলীগের ভাষ্য

খাবারের স্টল নেয়ার বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, “এটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আর এটি করারও কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র স্টল ‘মাতৃভূমি প্রকাশনা’ স্টল। এটিকে কেন্দ্র করেই যে আড্ডা বইমেলায়, এটিই আমাদের একমাত্র কর্মসূচি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীর শয়ন বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার জানা নেই।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান বলেন, ‘বইমেলায় ছাত্রলীগের খাবারের স্টল থাকার প্রশ্নই আসে না। এগুলোর সাথে কারও যুক্ত থাকার কোনো সুযোগ বা অবকাশও নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে এগুলোর সাথে জড়িত থাকলে সেটার দায় ছাত্রলীগ নেবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘বাংলা একাডেমি থেকে আমি কোনো খাবারের স্টল নিইনি, এটা কনফার্ম। এগুলো আমার রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্যে পড়ে না, তবে আমার প্রেসিডেন্ট (মাজহারুল কবির শয়ন) নিয়েছে কি না, সেটা আমি বলতে পারব না।’

ছাত্রলীগের নামে খাবারের স্টল বরাদ্দ নেয়া বিব্রত করছে কি না জানতে চাইলে সৈকত বলেন, ‘অবশ্যই এটি আমাকে বিব্রত করছে। ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে; বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জন্য কাজ করবে।

‘সেখানে আমরা দোকানদারি করতে যাব কেন? এটি তো আমাদের কাজ না। যারা এসব করছে, তারা সংগঠনের নীতি-আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়ে জড়িত হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
একুশের চেতনায় উজ্জীবিত বইমেলায় জনস্রোত
শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে ছাত্রলীগের হাতাহাতি
ফটোগ্রাফি নিয়ে ভিন্নধর্মী বই ‘বিখ্যাত ছবির পেছনের গল্প’
প্রাণের মেলায় অপ্রতুল ভাষা আন্দোলনের ওপর বই
বইমেলায় মীরাক্কেল খ্যাত রাশেদের ‘ফিলিং চিলিং’

মন্তব্য

p
উপরে