× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The body of the nurse in the hospital a case in the name of the director
hear-news
player
print-icon

হাসপাতালে নার্সের মরদেহ: পরিচালকের নামে মামলা

হাসপাতালে-নার্সের-মরদেহ-পরিচালকের-নামে-মামলা
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) ভোররাতে হাসপাতালের পরিচালক হানিফুর রহমান সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ইউনাইটেড হাসপাতাল অ্যান্ড অর্থোপেডিক্স সেন্টারে নার্সের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে।

মৃত রিমা প্রামাণিকের বাবা সেন্টু প্রামাণিক মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরব থানায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হানিফুর রহমান সুমনকে। এ ছাড়া এজাহারে নাম উল্লেখ আছে নার্স লিজা আক্তারের।

ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেজওয়ান দীপু নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) ভোররাতে হাসপাতালের পরিচালক হানিফুর রহমান সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

রিমার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলা যাবে।

সোমবার সকাল ৯ টার দিকে ওই হাসপাতাল থেকে রিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রিমার বড় বোন তনিমা প্রামাণিক সেদিন নিউজবাংলাকে জানান, রিমা দুই বছর ধরে এই হাসপাতালে নার্স হিসেবে কাজ করছেন। বুধবার হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে গিয়েছিল। শনিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ফোনে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরেন রিমা। পরে সোমবার ভোরে হাসপাতাল থেকে ফোন করে তাকে জানানো হয় তার বোন আত্মহত্যা করেছেন।

তনিমা বলেন, ‘আমি এসে তাকে দেখি তার গলায় দাগ। বিষয়টি রহস্যজনক।’

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হানিফুর রহমান সুমন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সে জীবিত আছে ভেবে তাকে নামিয়ে আনেন লিজাসহ অন্য সহকর্মীরা।’

রিমা আত্মহত্যা করার আগে একটি চিরকুট লিখে গেছে জানিয়ে হানিফুর রহমান বলেন, ‘তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় এ কথাও লিখে গেছে। রিমা কী কারণে আত্মহত্যা করেছে সে বিষয়টি বুঝতে পারছি না।’

মামলার বাদী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাসপাতালের বিছানায় রিমার মরদেহ পড়ে ছিল। সে যদি ঝুলে আত্মহত্যা করে পুলিশের উপস্থিতি ছাড়াই তারা মরদেহটি কেন নামাল?’

তিনি বলেন, ‘তাকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ করে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। আমি গতকাল না বুঝে অপমৃত্যু মামলা করেছিলাম। আজ আবার হত্যা মামলা করেছি। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’

আরও পড়ুন:
হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী
হাসপাতালে নার্সের মরদেহ: পরিচালক আটক
চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু
শ্বশুরবাড়িতে মেম্বারের রক্তাক্ত মরদেহ
বাস-ট্রা‌কের সংঘ‌র্ষে নিহত ট্রাকচালক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Jsobala saved her husband by despising death

মরণ তুচ্ছ করে স্বামীকে বাঁচালেন যশবালা

মরণ তুচ্ছ করে স্বামীকে বাঁচালেন যশবালা
যশবালা জানান, নৌকার সবাই নদীতে পড়ে যায়। তিনি তখন সাঁতরে গিয়ে ছোট বাঁশের খুঁটি আঁকড়ে ধরেন ও স্বামীকে খুঁজতে থাকেন। কিছু দূরে দেখেন তার স্বামী শুকাতু স্রোতে ভেসে যাচ্ছেন আর খাবি খাচ্ছেন। 

নৌকা ডুবে যাওয়ার পর অন্য অনেকের সঙ্গে নিজের জীবনও সংকটে। সাঁতার জানা থাকায় কিছুটা দূরে গিয়ে অবলম্বন হিসেবে পেয়ে যান বাঁশের একটি খুঁটি। ওদিকে অসুস্থ স্বামী সাঁতার জানেন না। তীব্র স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাকে।

এই পর্যায়ে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে ছেড়ে দেন বাঁশের খুঁটি। এগিয়ে যান স্বামীকে বাঁচাতে। এক পর্যায়ে তাকে ধরে ফেলেন তিনি। আর প্রাণে বেঁচে যান দুজনই।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার, পঞ্চগড়ে। মহালয়ার পূজায় অংশ নিতে নৌকায় করে অন্য অনেকের সঙ্গে বদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন বোদা উপজেলার ষাটোর্ধ্ব শুকাতু চন্দ্র বর্মণ ও তার স্ত্রী যশবালা রানী।

মাঝনদীতে নৌকা ডুবে গেলে শতাধিক যাত্রীর সঙ্গে তারা দুজনও পড়ে যান করতোয়ায়। যশবালা সাঁতরে তীরমুখী হলেও সাঁতার না জানায় তার স্বামী ডুবে যেতে থাকেন। তা দেখে নিজের জীবন তুচ্ছ করে এগিয়ে যান স্বামীর দিকে। এক পর্যায়ে স্বামীর নাগাল পেয়ে তাকে নিয়ে কোনোক্রমে ভেসে থাকেন। পরে লোকজন এসে তাদেরকে উদ্ধার করে।

তারা দুজন এখন চিকিৎসাধীন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে গিয়ে কথা হয় যশবালার সঙ্গে।

সে সময়ের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে আতঙ্কে কেঁপে উঠছিলেন তিনি।

নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকা পাড়ে ভিড়তেই আমরা আগে উঠেছিলাম। পরে হুড়মুড় করে আরও লোকজন উঠা শুরু করল। আমি আমার অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে তখন নেমে যেতে চেয়েছিলাম, সে সুযোগ পাই নাই। মাইক দিয়ে এত লোক উঠতে নিষেধ করছিল। তবুও কেউ কথা শুনলো না। মাঝখানে ডুবে গেল নৌকা।’

তিনি জানান, নৌকার সবাই নদীতে পড়ে যায়। তিনি তখন সাঁতরে গিয়ে ছোট বাঁশের খুঁটি আকড়ে ধরেন ও স্বামীকে খুঁজতে থাকেন। কিছু দূরে দেখেন তার স্বামী শুকাতু স্রোতে ভেসে যাচ্ছেন আর খাবি খাচ্ছিলেন।

যশবালা এ পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে জীবনেও পড়িনি। আমি সাঁতার জানি, আমার স্বামী সাঁতার জানত না। সাঁতরে তাকে গিয়ে ধরেছি। এরপর স্থানীয় উদ্ধারকারীরা নৌকা নিয়ে এসে আমাদের দুজনকে তুলে নেয়।

‘আমি দেখি আমার স্বামী নৌকার উপর একদম নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। তখনই আমাদের দুজনকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। এখন আমরা সুস্থ আছি।’

স্বামীর দিকে চেয়ে তিনি যেন আনমনেই বলে উঠেলেন, ‘মরে গেলেও স্বামীকে ছাড়া ডাঙ্গায় আসতাম না।’

বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় নৌকাটি। তাতে থাকা যাত্রীদের বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনার জন্য যাচ্ছিলেন।

এ দুর্ঘটনায় রোববার ও সোমবার দুই দিনে ৫০ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৭ জন নিখোঁজের তথ্য দিয়েছে ঘটনাস্থলে বসানো জেলা প্রশাসনের তথ্য কেন্দ্র। আর থানা পুলিশ জানিয়েছে, রোববার উদ্ধার হওয়া ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছিল। এছাড়া দুর্ঘটনার পর অনেকে সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছিলেন।

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩২
বাধা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় নৌকাডুবি: ডিসি
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ মৃত্যু
নৌকাডুবি: নিখোঁজ চাচা-ভাতিজাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Seeing the boat sinking in Karatoya they jumped to the rescue

করতোয়ায় নৌকা ডুবতে দেখে উদ্ধারে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তারা

করতোয়ায় নৌকা ডুবতে দেখে উদ্ধারে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তারা
খাঁজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল (রোববার) থেকে ১৭ জনকে আমি উদ্ধার করেছি। তার মধ্যে চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। নদীর পাড়ে প্রথম দফায় যে লাশের সারিগুলো পড়ে ছিল, সেগুলো আমরা স্থানীয়রাই উদ্ধার করেছি। ততক্ষণ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কেউ ঘাটে এসে পৌঁছেনি।’

পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনার সময় মারেয়া আউলিয়া ঘাটে ছিলেন খাঁজা রহমান। বদ্বেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া দেখবেন বলে এসেছিলেন।

নদী পার হতে নৌকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সে সময়ই মাঝনদীতে নৌকা ডুবতে দেখে যাত্রীদের বাঁচাতে কিছু না ভেবেই তিনি ঝাঁপ দেন করতোয়ায়। একে একে তুলে আনেন ১৭ জনকে। তবে এর মধ্যে নিথর পেয়েছিলেন চারজনকে।

খাঁজার মতো দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় কয়েক যুবক নদীতে নেমে পড়েন উদ্ধারকাজে। তাদের হিসাবে, ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগে তারাই তুলে আনেন ২৭ জনকে। এর মধ্যে মরদেহ ছিল ১২টি।

বোদা উপজেলায় করতোয়ার মারেয়া আউলিয়া ঘাটে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় এই উদ্ধারকারীদের সঙ্গে।

খাঁজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল (রোববার) থেকে ১৭ জনকে আমি উদ্ধার করেছি। তার মধ্যে চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। নদীর পাড়ে প্রথম দফায় যে লাশের সারিগুলো পড়ে ছিল, সেগুলো আমরা স্থানীয়রাই উদ্ধার করেছি। ততক্ষণ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কেউ ঘাটে এসে পৌঁছেনি।’

খাঁজা জানান, ঘটনার পর থেকে সোমবার পর্যন্ত তিনিসহ স্থানীয় উদ্ধারকারীদের অনেক যুবকই বাড়ি ফেরেনি। নদীতে ডিঙি নৌকাতেই থাকছেন আর প্রয়োজনমতো নদীতে নেমে চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকাজ।

আরেক উদ্ধারকারী মারুফ বিল্লাহ্ বলেন, ‘চোখের সামনে নৌকাটি কাত হয়ে ডুবে গেল। আমি তখন এপারে (মারেয়া) ছিলাম। নৌকা ডোবার সঙ্গে সঙ্গে আমি ও খাঁজাসহ অন্যরা নদীতে সাঁতরে যাই এবং উদ্ধারের চেষ্টা করি। আমি নিজে দুদিনে ১২টা লাশ তুলেছি।’

লাশ উদ্ধারের অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে স্থানীয় আশিক রহমান বলেন, ‘লাশগুলো অথৈ পানির ভেতরে। মাঝে মাঝে নিজেরই দম বন্ধ হয়ে যায়। কিছু লাশ বালুর ভেতরে পুঁতে গেছে। বালু সরিয়ে দুজন-তিনজন মিলে লাশ তুলতে হয়েছে।’

স্থানীয় এই যুবকরাই এখন নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে তীরে ভিড় জমানো মানুষদের কাছে নির্ভরতার জায়গা। তাদের কাছে প্রিয় মানুষটিকে খুঁজে দেয়ার আকুল আবেদন নিয়ে মানুষগুলো ফিরে ফিরে আসেন।

ঘাটে কথা হয় নিখোঁজ ফুপাতো ভাইয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকা মিঠুন চন্দ্রের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস কাজ করে। কিন্তু খাঁজা-মারুফরা দিন-রাত কাজ করছে। তারা আমাদের ভরসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করছে। তাদের অবদান আমরা ভুলব না।’

মানুষের জীবন বাঁচাতে তাৎক্ষণিক ঝাঁপিয়ে পড়া এই যুবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মারেয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামিম।

তিনি জানান, শুরুতেই এই যুবকরা উদ্ধারকাজে এগিয়ে না গেলে হয়তো লাশের সংখ্যা আরও বাড়ত।

তিনি বলেন, ‘আমি এই ছেলেদের স্যালুট জানাই। তাদের অবদান অনেক। নিজেদের জীবন বাজি রেখে তারা দুঃসাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের উৎসাহিত করতে আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করেছি।’

রোববারের এই নৌকাডুবির ঘটনায় সোমবার রাত পর্যন্ত ৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত, নিখোঁজ ও হাসপাতালে ভর্তি ব্যক্তিদের মিলিয়ে হিসাব করলে নৌকার মাঝিসহ ৯২ আরোহীর তথ্য পাওয়া গেছে।

বোদা থানার ওসি সুজয় কুমার রায় জানিয়েছেন, এর বাইরেও অনেক যাত্রী সাঁতরে সে সময় তীরে উঠেছিলেন। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে নৌকাটিতে শতাধিক যাত্রী ছিল।

আরও পড়ুন:
বাধা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় নৌকাডুবি: ডিসি
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ মৃত্যু
নৌকাডুবি: নিখোঁজ চাচা-ভাতিজাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার
নৌকাবাইচ দেখতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্রে নিখোঁজ দুই শিশু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The childs cremation is being done with the money collected to buy puja clothes

পূজার পোশাক কিনতে জমানো টাকায় হচ্ছে সন্তানের সৎকার

পূজার পোশাক কিনতে জমানো টাকায় হচ্ছে সন্তানের সৎকার করতোয়ায় ডুবে মারা গেছেন রবিনের স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৫ জন। ছবি: নিউজবাংলা
রবিন বলেন, ‘বাচ্চাটা খুব বায়না ধরেছিল নতুন কাপড় নেবে। আমি বলেছিলাম, মহালয়া শেষ হলে তারপর কিনে দেব। আমার বাচ্চার আর নতুন কাপড় পরানো হলো না। আমার আজ সব শেষ হয়ে গেল। কী নিয়ে বেঁচে থাকব আমি...?’

মহালয়া দেখতে গিয়ে নৌকাডুবিতে হারিয়েছেন স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলেকে। ছেলের জন্য নতুন জামা কেনার টাকা জমিয়েছিলেন। সেই টাকায় এখন স্ত্রী-সন্তানের সৎকারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিডুবা ছত্রশিকারপুর গ্রামের রবিন চন্দ্র রায়।

রবিন কাজ করেন ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে। স্ত্রী মিনতি রাণী ও তিন বছরের ছেলে বিষ্ণু রায়সহ পরিবারের পাঁচজনকে নিয়ে রোববার তিনি মহালয়া দেখতে করতোয়া নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দির যাচ্ছিলেন।

নৌকায় করে যাওয়ার সময় মাঝনদীতে সেটি ডুবে যায়। রবিন একা সাঁতরে তীরে ফেরেন। এরপর একে একে উদ্ধার হয় তার স্ত্রী-সন্তান এবং ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লক্ষ্মী রাণী ও তিন বছর বয়সী ভাতিজা দীপঙ্কর রায়ের মরদেহ।

রবিনের চোখে-মুখে শূন্যতা। ভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সারা দিন কাজ করে টাকা জমাচ্ছিলাম ছেলের নতুন কাপড়চোপড় কেনার জন্য। সেই টাকা দিয়ে এখন লাশ সৎকার করতে হবে।

‘বাচ্চাটা খুব বায়না ধরেছিল নতুন কাপড় নেবে। আমি বলেছিলাম, মহালয়া শেষ হলে তারপর কিনে দেব। আমার বাচ্চার আর নতুন কাপড় পরানো হলো না। আমার আজ সব শেষ হয়ে গেল। কী নিয়ে বেঁচে থাকব আমি...?’

ওই নৌকায় থাকা দিপুও গিয়েছিলেন মন্দিরে।

তিনি বলেন, ‘আমরা মহালয়া দেখার জন্য যাচ্ছিলাম। মাঝখানে যাওয়ার পর হঠাৎ করে নৌকা দুলতে থাকে। তারপর আমি নিচে পড়ে যাই। কিছুক্ষণ কিছুই বুঝতে পারিনি। তারপর সাঁতার কাটলাম।

‘আমি আমার নিজ হাতে তিনটা লাশ উদ্ধার করেছি। আরও কয়েকজনকে বাঁচিয়েছি। বেশি লোক নেয়ায় নৌকাটা ডুবে যায়। ১০০ জনেরও বেশি লোক আমরা নৌকায় ছিলাম।’

দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমার ইউনিয়নের আটজনের লাশ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে চারজনই রবিনের স্বজন। বিষয়টি আসলে অনেক কষ্টদায়ক। পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ।’

বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে ডুবে যায় নৌকাটি। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অর্ধশত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন:
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ মৃত্যু
নৌকাডুবি: নিখোঁজ চাচা-ভাতিজাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার
নৌকাবাইচ দেখতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্রে নিখোঁজ দুই শিশু
রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবি, ৩ জন নিখোঁজ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Boat sinking in Kartoa 48 bodies recovered in two days

করতোয়ায় নৌকাডুবি: দুই দিনে উদ্ধার ৫০ মরদেহ

করতোয়ায় নৌকাডুবি: দুই দিনে উদ্ধার ৫০ মরদেহ করতোয়ার পাড়ে স্বজনদের খোঁজে ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা
সোমবার পর্যন্ত মৃত, নিখোঁজ ও হাসপাতালে ভর্তি ব্যক্তিদের মিলিয়ে হিসাব করলে ৯২ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। ওসি জানিয়েছেন, এর বাইরেও অনেক যাত্রী সাঁতরে সে সময় তীরে উঠেছিলেন। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে নৌকাটিতে শতাধিক যাত্রী ছিল।

পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় আরও ৭ মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায়।

তিনি জানান, সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে নৌকাডুবিতে দুই দিনে ৫০ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

সোমবার উদ্ধার মরদেহগুলোর মধ্যে দিনাজপুরের খানসামার আত্রাই নদী থেকে ৮ জনের, বোদায় ১৫ জনের ও দেবীগঞ্জে ২ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৭ জন নিখোঁজের তথ্য দিয়েছে ঘটনাস্থলে বসানো জেলা প্রশাসনের তথ্য কেন্দ্র। আর থানা পুলিশ জানিয়েছে, রোববার উদ্ধার হওয়া ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছিল।

সোমবার পর্যন্ত মৃত, নিখোঁজ ও হাসপাতালে ভর্তি ব্যক্তিদের মিলিয়ে হিসাব করলে ৯২ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। ওসি জানিয়েছেন, এর বাইরেও অনেক যাত্রী সাঁতরে সে সময় তীরে উঠেছিলেন। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে নৌকাটিতে শতাধিক যাত্রী ছিল।

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক সৈয়দ মাহাবুবুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৫টায় দ্বিতীয় দিনের মতো নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রংপুর, কুড়িগ্রাম ও রাজশাহী থেকে ডুবুরি দল এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস।

‘ঘটনাস্থল করতোয়ার আউলিয়ার ঘাট থেকে ৩০ কিলোমিটার ভাটির দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা টহল দিচ্ছেন, নজর রাখছেন।’

করতোয়ায় নৌকাডুবি: দুই দিনে উদ্ধার ৫০ মরদেহ

বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়, যার বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনা শেষে ফিরছিলেন।

এই প্রাণহানির জন্য অতিরিক্ত যাত্রী বহনকে দায়ী করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) জহুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। ঘটনাস্থলে মারওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পুলিশ সদস্য ছিলেন। তারা সবাই ওই নৌকায় এত লোক উঠতে নিষেধ করেছিলেন।

‘গতকাল বৃষ্টি হওয়ার কারণে নদীতে পানি বেশি ছিল, স্রোতও বেশি ছিল। নিষেধ করতে করতে সবাই উঠে যান। যেহেতু ধর্মীয় বিষয় সবাই উঠতে চাইছিলেন। এরপর মাঝনদীতে গিয়ে ডুবে যায় নৌকাটি।’

মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

করতোয়ায় নৌকাডুবি: দুই দিনে উদ্ধার ৫০ মরদেহ

নৌকার বেঁচে যাওয়া যাত্রী মাড়েয়া বামনপাড়া এলাকার সুবাস চন্দ্র রায় বলেন, ‘নৌকায় দেড় শরও বেশি যাত্রী ছিল। আমরা ওঠার পর পরই নৌকায় পানি ঢুকতে শুরু করে। এ সময় মানুষজন নৌকার মধ্যেই হুড়োহুড়ি শুরু করে।

‘যে পাশেই যাচ্ছিলাম, সে পাশেই নৌকায় পানি ঢুকছিল। আমরা পাঁচ বন্ধু ছিলাম। কোনোমতে সাঁতার কেটে প্রাণে বেঁচে যাই। অন্য যাত্রীরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে বাঁচার আকুতি করছিল। ওই মুহূর্তের বর্ণনা করতে পারব না। তবে এত মানুষ মারা যাবে, তা বুঝতে পারিনি।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা সদর দপ্তরের পরিচালক অপারেশন লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, ‘পানিতে ডুবে থাকা যেকোনো মানুষ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভেসে উঠবে। সে মোতাবেক ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলবে।’

এদিকে এই দুর্ঘটনা তদন্তে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথৈ আদিত্যকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ মৃত্যু
নৌকাডুবি: নিখোঁজ চাচা-ভাতিজাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার
নৌকাবাইচ দেখতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্রে নিখোঁজ দুই শিশু
রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবি, ৩ জন নিখোঁজ
নৌকাডুবির ৩ দিন পর মিলল শিশুর মরদেহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Boda boat sinking death toll rises to 41

করতোয়ায় নৌকাডুবিতে মৃত বেড়ে ৪৩

করতোয়ায় নৌকাডুবিতে মৃত বেড়ে ৪৩
বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। যার বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনা শেষে ফিরছিলেন।

পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে নৌকার ৪৩ যাত্রী নিহত হয়েছেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায়।

তিনি জানান, নৌকাডুবির ঘটনার দ্বিতীয় দিন দিনাজপুরের খানসামার আত্রাই নদীর জিয়া সেতুর নিচ থেকে ৮ জনের, বোদায় ৮ জনের ও দেবীগঞ্জে ২ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, প্রায় ৪০ জন এখনও নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে।

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক সৈয়দ মাহাবুবুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৫টায় দ্বিতীয় দিনের মতো নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রংপুর, কুড়িগ্রাম ও রাজশাহী থেকে ডুবুরিদল এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস।

‘ঘটনাস্থল করতোয়ার আউলিয়ার ঘাট থেকে ৩০ কিলোমিটার ভাটির দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা টহল দিচ্ছেন, নজর রাখছেন।’

করতোয়ায় নৌকাডুবিতে মৃত বেড়ে ৪৩

বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যায়। যার বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনা শেষে ফিরছিলেন।

এই প্রাণহানির জন্য অতিরিক্ত যাত্রী বহনকে দায়ী করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) জহুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। ঘটনাস্থলে মারওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পুলিশ ছিল। তারা সবাই ওই নৌকায় এত লোক উঠতে নিষেধ করেছিলেন।

‘গতকাল বৃষ্টি হওয়ার কারণে নদীতে পানি বেশি ছিল, স্রোতও বেশি ছিল। নিষেধ করতে করতে সবাই উঠে যায়। যেহেতু ধর্মীয় বিষয় সবাই উঠতে চাইছিলেন। এরপর মাঝনদীতে গিয়ে ডুবে যায় নৌকাটি।’

মৃত ৪৩ জনের মধ্যে ১২ জনই শিশু বলে জানান তিনি। আর ২২ জন নারী ও ৯ জন আছেন পুরুষ।

করতোয়ায় নৌকাডুবিতে মৃত বেড়ে ৪৩

নৌকার বেঁচে যাওয়া যাত্রী মাড়েয়া বামনপাড়া এলাকার সুবাস চন্দ্র রায় বলেন, ‘নৌকায় দেড়শরও বেশি যাত্রী ছিল। আমরা উঠার পরপরই নৌকায় পানি ঢুকতে শুরু করে। এ সময় মানুষজন নৌকার মধ্যেই হুড়োহুড়ি শুরু করে।

‘যে পাশেই যাচ্ছিলাম, সে পাশেই নৌকায় পানি ঢুকছিল। আমরা ৫ বন্ধু ছিলাম। কোনোমতে সাঁতার কেটে প্রাণে বেঁচে যাই। অন্য যাত্রীরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে বাঁচার আকুতি করছিল। ওই মুহূর্তের বর্ণনা করতে পারব না। তবে এত মানুষ মারা যাবে, তা বুঝতে পারিনি।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর ঢাকা সদর দপ্তরের পরিচালক অপারেশন লেঃ কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, ‘পানিতে ডুবে থাকা যে কোনো মানুষ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ভেসে উঠবে। সে মোতাবেক ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পযর্ন্ত আমাদের অভিযান চলবে।’

এদিকে এই দুর্ঘটনা তদন্তে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথৈ আদিত্যকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: নিখোঁজ চাচা-ভাতিজাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার
নৌকাবাইচ দেখতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্রে নিখোঁজ দুই শিশু
রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবি, ৩ জন নিখোঁজ
নৌকাডুবির ৩ দিন পর মিলল শিশুর মরদেহ
গড়াই নদীতে নৌকাডুবি: নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে ডুবুরিদল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Maryam Mannan in Dhaka with Khulna unsafe mother

খুলনা ‘অনিরাপদ’, মাকে নিয়ে ঢাকায় মরিয়ম মান্নান

খুলনা ‘অনিরাপদ’, মাকে নিয়ে ঢাকায় মরিয়ম মান্নান উদ্ধারের পর পিবিআই কার্যালয়ে মেয়েদের জড়িয়ে ধরেন রহিমা বেগম। ছবি: নিউজবাংলা
নিউজবাংলাকে মরিয়ম বলেন, ‘আদালত থেকে মুক্তি পেয়ে মাকে নিয়ে প্রথমে খুলনার বয়রার বাসায় গেছিলাম। আমরা মায়ের জন্য খুলনাকে নিরাপদ মনে করিনি।’

মা রহিমা বেগমকে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন খুলনার আলোচিত তরুণী মরিয়ম মান্নান। আদালতের মাধ্যমে নিজেদের জিম্মায় পাওয়ার পর রোববার রাতেই ছোট বোন আদুরী ও মা রহিমাকে নিয়ে তিনি ঢাকায় চলে আসেন।

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তাদের নিয়ে উঠেছেন তিনি। জানালেন, সোমবার সকালে মাকে ডাক্তার দেখাতে নিয়েছিলেন।

নিউজবাংলাকে মরিয়ম বলেন, ‘আদালত থেকে মুক্তি পেয়ে মাকে নিয়ে প্রথমে খুলনার বয়রার বাসায় গেছিলাম। আমরা মায়ের জন্য খুলনাকে নিরাপদ মনে করিনি। তাই রাতেই খুলনা ত্যাগ করেছি। সঙ্গে আমাদের এক দুলাভাইও ছিলেন। চারজন ঢাকা এসেছি।’

গত ২৭ আগস্ট রাতে দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়ার বাড়ি থেকে রহিমা নিখোঁজ হন বলে অভিযোগ করেন মরিয়ম ও তার ভাই-বোনেরা। সে রাতে দৌলতপুর থানায় অপহরণের অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রহিমার ছেলে মিরাজ আল সাদী।

সেই জিডি থেকে জানা যায়, নিখোঁজের সময় রহিমার দ্বিতীয় স্বামী বিল্লাল হাওলাদার বাড়িতে ছিলেন। পানি আনতে বাসা থেকে নিচে নেমেছিলেন রহিমা। দীর্ঘ সময় পরও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

মাকে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে গত ২৮ আগস্টে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন রহিমার মেয়ে আদুরী। আসামী করা হয় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে।

রহিমা নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সোচ্চার হন মরিয়ম মান্নান। তার কান্না আর মায়ের খোঁজ পাওয়ার আকুতি ছুঁয়ে যায় সবাইকে।

গত ১ সেপ্টেম্বর খুলনায় সংবাদ সম্মেলন করেন মরিয়ম মান্নান। মায়ের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের ঘটনাকে সামনে আনেন।

এরপর আদুরীর করা মামলায় প্রতিবেশি মঈন উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, রফিকুল ইসলাম পলাশ, মোহাম্মাদ জুয়েল, হেলাল শরীফসহ রহিমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী বেল্লাল হাওলাদার কারাগারে রয়েছেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে ১২ দিন আগে উদ্ধার হওয়া এক নারীর মরদেহকে রহিমা বেগমের দেহ বলে দাবি করেন মরিয়ম। তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলেন, ‘আমার মায়ের লাশ পেয়েছি আমি এইমাত্র।’

২৩ সেপ্টেম্বর সকালে রহিমার মেয়ে মরিয়ম মান্নান, মাহফুজা আক্তার ও আদুরী আক্তার ফুলপুর থানায় পৌঁছান।

ওই সময় পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারীর ছবিসহ পরনে থাকা আলামতগুলো মেয়েদের দেখান। মরিয়ম মান্নান ছবিসহ সালোয়ার-কামিজ দেখে দাবি করেন, এটিই তার মায়ের মরদেহ। যা দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করে।

মরিয়ম মান্নান সে সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘২৭ দিন ধরে আমার মা নিখোঁজ। আমরা প্রতিনিয়ত মাকে খুঁজছি। এরই মধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর ফুলপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমরা এখানে এসেছি। সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও ছবিতে আমার মায়ের শরীর, কপাল ও হাত দেখে মনে হয়েছে, এটাই আমার মা।’

তবে গেল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুরে বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের একটি ঘর থেকে রহিমা বেগমকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পর দিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে নিজেকে অপহরণের শিকার বলে দাবি করেন রহিমা। এরপর তাকে মেয়ে আদুরী জিম্মায় ছেড়ে দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:
বস্তাবন্দি সেই নারীর পরিচয় নিয়ে এবার ধন্দে পুলিশ
মাত্র ১ হাজার টাকায় ১৩ দিনে ৪ জেলায় মরিয়মের মা!
রহিমার ফরিদপুরে অবস্থানের তথ্য শুক্রবারই জানানো হয় মরিয়মদের
মরিয়ম মান্নানের ডাকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন মা
দালাল সাংবাদিকরা যে যা লিখে দিল: মরিয়ম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The irregularities seen by the doctor in the hospital did not change that much

হাসপাতালের অনিয়ম পাল্টায়নি এতটুকু

হাসপাতালের অনিয়ম পাল্টায়নি এতটুকু রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: নিউজবাংলা
সরকারি হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের পদে পদে জিম্মি করে টাকা আদায়ের চিত্র তার মাকে ভর্তি করতে গিয়ে দেখে এসেছেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। নিজের কর্মস্থলে এই অনিয়ম নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু তাতে হাসপাতালের চিত্র পাল্টায়নি।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীদের পদে পদে যে হয়রানিতে পড়তে হয়, তার স্বরূপ দেখে এসে একজন চিকিৎসক লিখিত অভিযোগ করার পরেও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিত্র পাল্টায়নি এতটুকু। ওয়ার্ড বয়, নার্সদের ঘুষ না দিলে তাদের কাছ থেকে সেবা পাওয়া যায় না এখনও।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অর্থো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক এবিএম রাশেদুল আমীর তার মাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করাতে গিয়ে সেবার আসল চিত্র দেখে আসেন।

এরপর প্রথমে ফেসবুকে নিজের অভিজ্ঞতা লেখেন এই চিকিৎক। পরে আসার সে পোস্ট ডিলিটও করে দেন। এরপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক হৈচৈ পড়ে এবং রংপুরে আলোড়ন তৈরি হয়। এর কারণে বিভাগীয় শহরের এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এই ধরনের ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা নিয়মিত পড়েন।

চিকিৎসকের অভিযোগ পাওয়ার পর দুই চুক্তিভিক্তিক কর্মচারী মাসুদ ও ঝর্ণাকে বহিস্কার ছাড়াও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কিন্তু যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে, সেগুলো এখনও চছে সেই আগের মতোই।

গত দুই দিন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এমনটা জানা গেছে।

সেই চিকিৎসক যা দেখে আসেন

গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর মেডিক্যালেরেই চিকিৎসক এবিএম রাশেদুল আমীরের মাকে নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান অন্য স্বজনরা। হাসপাতালে ভর্তি ফি ২৫ টাকা হলেও ১০ গুণ ২৫০ টাকা চাওয়া হয় তাদের কাছ থেকে।

স্বজনরা এরপর চিকিৎসকের পরিচয় জানালে তো নেমে আসে ৫০ টাকায়, তবু তা ছিল নির্ধারিত ফির দ্বিগুণ।

ভর্তির পর রোগীকে করোনারি কেয়ার ইউনিট বা সিসিইউতে পাঠানো হলে সেখানেও দিতে হয় ২০০ টাকা নেয়। সেখানে স্বজনরা চিকিৎসকের পরিচয় দেয়ার পর তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

এর মধ্যে সেই চিকিৎসক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিডিও করেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার মাকে ভর্তি করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্টেপে টাকার জন্য চাপ দেয়া হয়েছে। ওই কর্মচারী নিজে মাসুদ নামে পরিচয় দেয়। আমি বিষয়টি একসময় ভিডিও করি। সেটি আমার ফেসবুকে পোস্ট করি।’

পরে সেই ভিডিও ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দেন চিকিৎসক রাশেদুল আর লিখিত অভিযোগ দেন হাসপাতাল পরিচালকের কাছে।

এসব ঘটনায় যে হাসপাতালে নিজে চাকরি করেন, সেখানে মায়ের চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে রিলিজ নিয়ে দেন তিনি। রোগী নিয়ে আসার সময় আবার চাওয়া হয়েছে টাকা, এবার আরও বেশি।

নিউজবাংলাকে রাশেদুল বলেন, ‘হয়ত আমার অভিযোগ অনেকে নানাভাবে নিতে পারে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার যখন আমার মাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে চলে আসি তখনও ময়লা পরিষ্কার বাবদ আমার কাছে ৩ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। এটা দুঃখজনক।’

পাঁচ দিন পর সেই একই চিত্র

চিকিৎসক রাশেদুলের হয়রানির পর কর্তৃপক্ষ আসলে কী করেছে, সেটি দেখতে বৃহস্পতি ও শুক্রবার হাসপাতালের চিত্র পর্যবেক্ষণ করে নিউজবাংলা। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারনির্ধারিত ফির বাইরে টাকা না দিয়ে চিকিৎসা পাওয়ার কোনো সুযোগই নেই।

২১ দিন স্ত্রীর চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মধুর হাইল্যা গ্রামের রফিকুল ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার বিকালে হাসপাতাল ছাড়েন তিনি। এ সময় বিভিন্ন জনকে সাড়ে তিন শ টাকা বকশিস দিতে হয়েছে।

রফিকুল বলেন, ‘আমরা কেবিনে ছিলাম। সেখানে রুম পরিস্কারের জন্য ১০০, কাউকে দিতে হয়েছে ৫০, কাউকে দেড়শ।‘

কুড়িগ্রামের চিলমারী এলাকার তারা মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে লিটনকে শুক্রবার রাত ১০-১১ টার দিকে ভর্তি করাই। ভর্তির জন্য নিছে ১০০ টাকা, ঠেলাগাড়ির জন্য (ট্রলি) নিছে ২০০ ট্যাকা।’

বাড়তি টাকা দিয়ে রাগে গা জ্বলছে তার। বলেন, ‘এটা কোনো কথা হইল? ওমরা (তারা) কি বেতন ট্যাতন পায় না? আমারগুলের (আমাদের) ভরসায় থাকে...।’

লালমনিরহাটের সাহেব পাড়া গ্রামের আলী আকবর বলেন, ‘গত পরশু (বৃহস্পতিবার) আমার ভাইকে ভর্তি করেছি। ভর্তির জন্য নিছে ১০০ টাকা। আর ট্রলির জন্য নিয়েছে ১৫০ ট্যাকা। এটা কেন নেয় জানি না। প্রথমে কিছু বলে না। রোগী নিচ থেকে উপরে নিয়ে যাওয়ার পর বলে, মামা এত কষ্ট করলাম বকশিস দেন। পরে তাদের দিতে বাধ্য হই।’

তিনি জানান, প্রথমে ২০০ টাকা দাবি করছিল, তিনি দেন ১৫০।

রংপুরের তারাগঞ্জের সোহেল রানা বলেন, ‘২২ তারিখ আমার বোনকে ভর্তি করাইছি। ভর্তিতে নিছে ১০০ টাকা আর ট্রলির জন্য নিয়েছে ১২০ টাকা।’

প্রতিদিন কত আদায়, টাকা কারা নেন

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন এই হাসপাতালে সর্বনিম্ম নতুন রোগী ভর্তি হয় ২৫০ জন। সর্বোচ্চ ৪৫০ জন ভর্তি হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৩৭ ও ২৩ সেপ্টেম্বর ভর্তি হয়েছেন ২৫৯ জন।

একেকজনের কাছে ভর্তিতে ৭৫ টাকা করে বাড়তি আদায় হলে ২২ সেপ্টেম্বর ২৫ হাজার ২৭৫ টাকা আর পরদিন ১৯ হাজার ৪২৫ টাকা বাড়তি আদায় করা হয়।

যাদের ট্রলি বা হুইল চেয়ার লেগেছে, তাদের সবার কাছ থেকে বাড়তি আদায় করা হয়েছে অর্থ।

হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করে বলেছেন, এই বকশিস নিচ্ছেন মূলত চুক্তিভিক্তি কর্মচারী।

ওই কর্মচারী জানান, যখন কোন রোগী হাসপাতালে আসেন ভর্তি হতে আসেন, তখনই এই কর্মীরা তাকে ঘিরে ধরে কী হয়েছে, বাড়ি কোথায়, কখন আসছেন ইত্যাদি ইত্যাদি বলতে থাকে। এভাবে ভর্তি শেষ করে যখন ১০০ টাকা চায়। অনেকে গরিব মানুষ দিতে চায় না। এ নিয়ে ঝামেলা হয়।

শনিবার হাসপাতালের মূল ফটকে কথা হয় এক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীর সঙ্গে। তিনি নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘নাম বললে আমার চাকরি থাকবে না। আর চাকরি চলে গেলে আপনি নিয়েও দিতে পারবেন না। আমাদের সংসার চলবে কীভাবে? আমরা জোর করে কারও কাছে টাকা নেই না।’

তিনি বলেন, ‘আপনি বলেন, একজন রোগীকে ট্রলিতে করে নিচ তলা থেকে চার তলা পর্যন্ত নিয়ে যেতে কষ্ট আছে কি না...। আমরা চার তলায় হোক আর দোতলায় হোক, নিয়ে যাওয়ার পর বলি মামা বকসিশ দেন। এটা কি কোনো অপরাধ? কষ্ট করে তো টাকা নেই। জোর করে না।’

বিষয়টি জানতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (সরকারি) নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

তবে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে এক কর্মচারী বলেন, ‘আমরা সরকারি বেতন-বোনাস পাই। বকশিসের প্রয়োজন হয় না। চুক্তিভিত্তিক কিছু কর্মচারীরা এই কাজ করেন। দুর্নাম বা বদনাম হয় আমাদের।’

হাসপাতাল পরিচালক কী বলছেন

হাসপাতালে এই চিত্র কেন- জানতে চাইলে পরিচালক শরীফুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিচ্ছিন্নভাবে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা হাসপাতালে প্রবেশ করে। তারা আমার মতে ট্রেইনড না। হাসপাতালের সিস্টেম বা বিধি বিধান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকার কারণে এ ধরনের কার্যক্রমে উৎসাহিত হচ্ছে। এই সিস্টেম থেকে আমরা বের হতে পারি এবং সরকারি কর্মচারীদের বিধি বিধান সেগুলো আছে, সেগুলো মানে তাহলে হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত হবে।’

এগুলো নিশ্চিত করাই তো আপনার দায়িত্ব- এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে পরিচালক বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে পরিচালনা পর্ষদে কথা বলেছি। এখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে হাসপাতাল তীক্ষ্ণ তদারকি থাকবে। মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, চিকিৎসা সেবা পান সে বিষয়ে সবাইকে বলা হয়েছে।’

রোগী বা স্বজনদের অভিযোগ বা পরামর্শ জানানোর সুবিধার্থে একটি অভিযোগ বাক্স রাখার কথাও জানান তিনি। বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ কেউ অভিযোগ করলে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর মাধ্যমে সমাধান করা হবে।’

আরও পড়ুন:
নিজ হাসপাতালে হয়রানির শিকার হয়ে বিস্মিত চিকিৎসক
বন্ধ কক্ষে মিলল মেডিক্যাল শিক্ষার্থীর মরদেহ

মন্তব্য

p
উপরে