× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The crowd of homebound people on the train is still low
hear-news
player
print-icon

ট্রেনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় এখনও, ফিরছে কম

ট্রেনে-ঘরমুখো-মানুষের-ভিড়-এখনও-ফিরছে-কম
এখনও ঢাকা ছাড়ছেন অনেকেই, তাই কমলাপুরেও ছিল অনেক রুটের টিকিট সংকট। ছবি: নিউজবাংলা
ঈদের পরও বাড়ি যেতে পরিবার নিয়ে মানুষ স্টেশনে আসছেন। যারা ঢাকা ছাড়ছেন, তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে যখন এক এক করে মানুষ রাজধানীমুখী হতে শুরু করছে, তখনও অনেকটাই ভিন্ন চিত্র চোখে পড়ে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে।

মঙ্গলবার ঈদের তৃতীয় দিনেও ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে কমলাপুর রেলস্টেশনে। ঘরমুখো এসব মানুষের অনেকেই আবার টিকিট সংকটে পড়েছেন বলে জানান।

ঈদের পরও বাড়ি যেতে পরিবার নিয়ে মানুষ স্টেশনে আসছেন। যারা ঢাকা ছাড়ছেন, তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

মমতা বেগম। যাবেন পাবনা। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ঈদের পরে বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু এই সময়ও টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।’

বগুড়ার সান্তাহার যাবেন লীনা হোসেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবার ঈদ ঢাকায় করি। কিন্তু ঈদের পরে বাবার বাড়ি যাচ্ছি।’

বাবা-মায়ের সঙ্গে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে ৭ বছরের আপন। তার মা জানান, ছেলে, মেয়ে, স্বামীসহ পরিবারের চারজন গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন ঈদের পরে বেড়াতে।

আইনজীবী আমির হামজা পরিবার নিয়ে থাকেন নারায়ণগঞ্জে। যাবেন জামালপুর। কমলাপুর রেলস্টেশনে সকালে এসেছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না সেই রুটের টিকিট।

তিনি বলেন, ‘ঝামেলার কারণে ঈদে বাড়িতে যেতে পারিনি। এখন যেতে চাচ্ছি, কিন্তু টিকিট পাচ্ছি না।’

এদিকে ঢাকামুখী মানুষের ভিড় মঙ্গলবার তেমন দেখা যায়নি কমলাপুরে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ট্রেনগুলোতে মানুষজন খুব ফিরছেন।

কমলাপুর রেলস্টেশনে দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখনো মানুষ ঢাকায় ফিরতেছে না। মানুষ শুধু ঢাকা ছেড়েই যাচ্ছে। ঢাকায় আরও দুই-তিন দিন পরে ফিরবে মানুষ। তখন হবে অনেক ভিড়।’

তবে এখন ট্রেনের কোনো শিডিউল বিপর্যয় নেই বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন:
ট্রেনের ইঞ্জিনে যাত্রী তোলা নিয়ে দেড় ঘণ্টার দুর্ভোগ
ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় জনস্রোতে: রেলওয়ে
বাড়তি ভাড়া আদায় সাড়ে ১১ হাজার, জরিমানা ৫০০
যাত্রা বাতিল নয়, চলবে পঞ্চগড় ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস
গাবতলীতে যানজট নেই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
50 puja mandaps have increased in the country this year

দেশে এ বছর পূজামণ্ডপ বেড়েছে ৫০টি

দেশে এ বছর পূজামণ্ডপ বেড়েছে ৫০টি শনিবার দুর্গোৎসব নিয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে তিনটি বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়- দুর্গাপূজা চলাকালীন রাজনৈতিক কর্মসূচি না দেয়া; দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় স্কুল, কলেজ, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা না রাখা এবং এই সময়কালে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরীক্ষা না রাখা।

সারা দেশে এ বছর ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। গত বছর ৩২ হাজার ১১৮টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন করা হয়। সে হিসাবে এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৫০টি।

শনিবার দুর্গোৎসব নিয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজধানী ঢাকায় এ বছর ২৪১টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব, যা গত বছরের থেকে ছয়টি বেশি। গত বছর ঢাকা মহানগরে ২৩৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছিল।

রোববার মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীদুর্গার আগমনী বার্তা ধ্বনিত হবে। আর ১ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দেবীকে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে এল ভৌমিক বলেন, ‘গত বছরের ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ বছর সরকার চাচ্ছে, কোনো অবস্থাতেই যেন দুর্গাপূজা ঘিরে দেশে কোনো ধরনের অঘটন না ঘটে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেক বেশি সক্রিয়।

‘সারা দেশে ৩২ হাজার ১৬৮টি পূজামণ্ডপের সুরক্ষা দেয়া খুব কঠিন। তাই আমরা এ বছর প্রতিটি মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করছি, যারা রাতেও মণ্ডপ পাহারা দেবে।’

জে এল ভৌমিক বলেন, ‘গত বছর পূজার সময়ে হামলার ঘটনাগুলোর কোনো বিচার হয়নি। আমাদের দাবি, ওইসব ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হোক।

‘বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই বারবার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ইশতেহারে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের কথা বলা হয়েছে। আগামী নির্বাচনের আগেই এটা করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনটি বিষয়ের প্রতি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সেগুলো হলো- দুর্গাপূজা চলাকালীন কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি না দেয়া; দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় স্কুল, কলেজ, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা না রাখা; দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরীক্ষা না রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়৷

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- দুর্গাপূজায় দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করা; অন্যান্য জাতীয় উৎসবের মতো দুর্গাপূজাও জাতীয় মর্যাদায় পালনের পদক্ষেপ নেয়া; কারাগার, হাসপাতাল ও অনাথ আশ্রমে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা; দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ আইন প্রণয়নে সাম্প্রতিক সময়ে সরকার গৃহীত পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, অর্পিত সম্পত্তি ফেরত প্রদানে প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া।

এ ছাড়া রয়েছে- দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি সরকারের এই মেয়াদে বাস্তবায়ন করা; হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পরিবর্তে হিন্দু ফাউন্ডেশন গঠন করা; প্রতিটি জেলায় একটি করে মডেল মন্দির কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা; টোলগুলোর সংস্কার ও টোল শিক্ষকদের উপযুক্ত বেতন ধার্য করা এবং ২০২১ সালে দুর্গাপূজার সময়ে সংঘটিত সহিংসতাসহ বিভিন্ন সময়ে দেশব্যাপী হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনার তদন্ত ও দ্রুত বিচার করা।

আরও পড়ুন:
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
পূজা নিয়ে অপপ্রচার মূল জনগোষ্ঠীর কাজ না: ডিএমপি কমিশনার
নিয়মে সীমাবদ্ধ দুর্গাপূজা
বরিশালে দুর্গা পূজার ‘বাজেট কম’
পশ্চিমবঙ্গে দুর্গা পূজাকে ঘিরে রাজনৈতিক তর্ক যুদ্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Artisans are busy making Durga Puja idols in Old Dhaka

পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা পুরান ঢাকার একটি মন্দিরে চলছে পূজার শেষ প্রস্তুতি। প্রতিমা বানাতে ব্যস্ত কারিগররা। ছবি: নিউজবাংলা
দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে শিব মন্দীর পূজা কমিটির কোষাধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ গগণ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পূজায় সর্বস্তরের মানুষের সমাগম ঘটবে। এটা যেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তেমনি এতে অন্য ধর্মের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে। তাই সবার কথা মাথায় রেখে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রকৃতিতে শরতের শুভ্রতার সঙ্গে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। শিশির ভেজা ভোর আর শরতের কাশফুল জানান দিচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ উৎসব ঘিরে রাজধানীর পুরান ঢাকায় প্রতিমা তৈরিতে কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলে হয়ে উঠছে অপরূপ। খড় আর কাদা মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি শেষে এখন চলছে প্রলেপ ও রঙের কাজ। একই সঙ্গে শরতের দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে দিনরাত মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা হচ্ছে দেবীদুর্গার প্রতিমা। কারিগররা প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে দেবীদুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা।

বাংলাবাজারের নর্থব্রুক হল রোডের জমিদার বাড়িতে দুর্গার বাহকসহ প্রতিমার শাড়ি ও অলংকার পরানোর কাজও ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। আলোকসজ্জা ও রঙিন কাগজ দিয়ে সাজান হচ্ছে প্রতিটি মণ্ডপ। প্রতিমা দেখতে এখনই দর্শনার্থীরা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

বাঙালি হিন্দুর উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয় ষষ্ঠীর আগে থেকেই। এবারের দুর্গাপূজা ১ অক্টোবর (১৪ আশ্বিন) ষষ্ঠী পূজা দিয়ে শুরু করে ৫ অক্টোবর (১৮ আশ্বিন) বিজয়া দশমী দিয়ে শেষ হবে। এর আগে পঞ্চমী থেকেই শুরু হয়ে যায় উৎসবের আমেজ। তবে ষষ্ঠী থেকেই কার্যত উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয়। শাস্ত্রমতে দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীর দিন বোধন হয়।

রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি পূজা উদযাপিত হয় পুরান ঢাকায়। এবার শাঁখারিবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, শ্যামবাজার, প্যারীদাস রোড, কলতাবাজার, মুরগিটোলা, মদনমোহন দাস লেন, বাংলাবাজার গোয়ারনগর, জমিদারবাড়ী, গেণ্ডারিয়া, ডালপট্টি এলাকার অলিগলিতে পূজার আয়োজন করা হবে। ছোট-বড় বিভিন্ন মণ্ডপে শুরু হয়েছে মঞ্চ, প্যান্ডেল, তোরণ ও প্রতিমা নির্মাণের কাজ।

এ বছর পুরান ঢাকায় নবকল্লোল পূজা কমিটি, শ্রীশ্রী শিব মন্দির, প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব, সংঘমিত্র পূজা কমিটি, শ্রীশ্রী রাধা মাধব জিউ দেব মন্দির, নতুন কুঁড়ি পূজা কমিটি, নববাণী পূজা কমিটি, রমাকান্ত নন্দীলেন পূজা কমিটিসহ আরও বেশ কিছু ক্লাব পূজা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শিবমন্দীর, তাঁতী বাজার, সঙ্গ মিত্র, প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব, গোয়ালনগর ঘাট, জুলন বাড়িতে বড় পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।

পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

কারিগররা সাধারণত অজন্তা ধাঁচের প্রতিমা বানিয়ে থাকেন। এগুলো ওরিয়েন্টাল প্রতিমা হিসেবে পরিচিত। অজন্তা ধাঁচের মূর্তির চাহিদা এখন বেশি। এ ধরনের মূর্তিতে শাড়ি, অলংকার ও অঙ্গসজ্জা সবই করা হয় মাটি ও রঙ দিয়ে। প্রতিমার শাড়ি, অলংকার, সাজসজ্জার উপকরণ আলাদাভাবে কিনে নিতে হয়।

মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রতিবছরই তারা অধীর আগ্রহে দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজের অপেক্ষায় থাকেন। শুধু জীবিকার জন্যই নয়। দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাদের ধর্মীয় অনুভূতি, ভক্তি আর ভালোবাসা। দুর্গা মাকে মায়ের মতোই তৈরি করা হচ্ছে।

শাঁখারিবাজারের সংঘমিত্র পূজা কমিটির মণ্ডপে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করছেন মানিকগঞ্জের সুকুমার পাল। এবারের দুর্গোৎসবে এখানকার ছয়টি প্রতিমা সহ বনানীতে আরও ছয়টি বানাচ্ছেন তিনি। নিউজবাংলাকে সুকুমার পাল জানান, সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ চার লাখ টাকায় এসব প্রতিমা বানানো হচ্ছে।

শাঁখারিবাজার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পী বলাই পাল। তিনি বলেন, ‘এখনই বছরের সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত সময় পার করছি। পূজার আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। তাই দম ফেলার সময়ও নেই। এর মধ্যেই দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির সব কাজ শেষ করতে হবে।’

কাজ শেষে বিশ্রামের ফাঁকে প্রতিমা শিল্পী পল্টন পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যত কষ্টই করি না কেন, যখন দেবীকে তার স্বরূপে মণ্ডপে বসানো হবে তখন সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে। আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে যখন আমাদের তৈরি প্রতিমাকে সবাই পূজা করে। তখন নিজেকে আমার সফল, সার্থক মনে হয়।’

শাঁখারি বাজারের প্রতিমা শিল্পী সুশীল নন্দীর মৃত্যুর পর এবার এ মন্ডপের প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব নিয়েছেন তার মেয়ে অনামিকা নন্দী। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই বাবার কাছে এই কাজ দেখে ও শিখে আসছি। প্রাথমিকভাবে খড়, কাঠ, বাঁশ, সুতা, তারকাটার প্রয়োজন হয়। মূর্তি শুকানোর পর রঙ করা হয়।’

জগন্নাথ অ্যাপার্টমেন্টে বেশ কয়েকটি প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত ধষরত পাল। তিনি জানান, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, পাটুরিয়া, সাভার সহ বেশ কিছু জায়গা থেকে মাটি আনা হয়। আর সব জায়গার মাটি দিয়ে মায়ের প্রতিমা তৈরি করা হয়।

প্রতিমা তৈরির কারিগর নিশি পাল জানান, খড় আর কাঁদামাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির প্রাথমিক কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন রঙ আর তুলির আঁচড় দিয়ে দুর্গাকে সাজানো হবে।

দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে শিব মন্দীর পূজা কমিটির কোষাধ্যক্ষ দেবব্রত ঘোষ গগণ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পূজায় সর্বস্তরের মানুষের সমাগম ঘটবে। এটা যেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তেমনি এতে অন্য ধর্মের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে। তাই সবার কথা মাথায় রেখে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
চলছে প্রতিমায় রং তুলির আচড়
পূজার ছুটিতেও পরীক্ষা নেবে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
মেহে‌ন্দীগঞ্জে মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In Dinajpur the budget for the puja is tight

দিনাজপুরে এবার পূজার বাজেটে টান

দিনাজপুরে এবার পূজার বাজেটে টান শেষ মুহূর্তে দুর্গা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের কারিগররা। ছবি: নিউজবাংলা
পূজা কমিটির সদস্যরা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। চলতি বছর বাজারে জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনুদানের পরিমাণও কমে এসেছে। ফলে কমেছে পূজার বাজেট।

ঢাক, কাসর, শঙ্খ আর উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে হিন্দু ধর্মবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা। এরই মধ্যে দিনাজপুর জেলায় শুরু হয়েছে আয়োজন। তবে গত দুই বছর করোনার মহামারির ধকল আর চলতি বছরের অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে এ বছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা বাড়লেও তাতে কমে এসেছে বাজেটের পরিমাণ।

পূজা কমিটির সদস্যরা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। চলতি বছর বাজারে জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনুদানের পরিমাণও কমে এসেছে। ফলে কমেছে পূজার বাজেট।

প্রতিমা কারিগররা বলছেন, চলতি বছর কাজের পরিমাণ ভালো থাকলেও কম খরচে ভালো কাজ উপহার দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ডেকোরেটর শ্রমিকদেরও কথা একই রকম।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা ও মণ্ডপ প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ডেকোরেটর শ্রমিক এবং প্রতিমা কারিগররা। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাকি রয়েছে মাটি চড়ানো ও রং-তুলির কাজ। অন্যদিকে মন্দিরের প্রবেশদ্বার প্রস্তুত করাসহ মণ্ডপের সাজসজ্জার কাজ করছেন ডেকোরেটর শ্রমিকরা।

মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই পূজা চলবে দশমী অর্থাৎ আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

দিনাজপুরে এবার পূজার বাজেটে টান

দিনাজপুর পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর জেলায় তিনটি মণ্ডপ বেড়েছে। গত বছর জেলায় ১ হাজার ২৬১টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এবার ১৮টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় পূজা কমিটি থেকে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সমাবেশ এবং জেলায় বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূজায় প্রতিটি মণ্ডপে আনসারের পাশপাশি টহলে থাকবে পুলিশ ও র‌্যাব।

রাজবাড়ী জেলা থেকে দিনাজপুরে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে এসেছেন অনুপ সরকার। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২০২০ সালে প্রতিমা তৈরি করার জন্য দিনাজপুরে আসার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় করোনা থাকায় আসা হয়নি। ঈশ্বরের কৃপায় এবার এসে কাজ করছি। গতবারের তুলনায় সাড়া ভালো পেয়েছি।

‘এবার একটি বিষয় লক্ষ্য করছি। সব জিনিসের দাম বেশি হওয়ায় এবার প্রতিমার সরঞ্জামের দাম বেশি। আর তাই খরচও বেশি। আবার অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, পূজার আয়োজকরা গত বছর যে কাজ ১০০ টাকায় করিয়েছেন, এবার সেই কাজ ৮০ টাকায় করাতে চাচ্ছেন। আবার করতেও হচ্ছে। কিন্তু কথা হলো ১০০ টাকার কাজ ৮০ টাকায় করে দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দেখা যাক কী হয়।’

স্থানীয় প্রতিমা কারিগর স্বপন পাল বলেন, ‘করোনার কারণে গত দুই বছর প্রতিমা তৈরি করে তেমন ভালো আয় হয়নি। এবার চিন্তা করলাম, ভালো কাজ হবে। কিন্তু এবার জিনিসের দাম বেশি। ফলে কম দামে ভালো কাজ প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা, যা দিতে গিয়ে দ্বিধায় পড়তে হচ্ছে। আমরা চেষ্টার ত্রুটি রাখছি না।’

দিনাজপুরে এবার পূজার বাজেটে টান

ভুবন রায় নামে এক ডেকোরেশন শ্রমিক বলেন, ‘এবার দুটি কাজ ধরেছি। প্রতিটি দেড় লাখ টাকা করে। কিন্তু গতবার দুটি কাজ করেছি প্রতিটি ২ লাখ টাকা করে। এবার কাজ করতে গিয়ে একটাই সমস্যা: আয়োজকরা বলছেন, কমের মধ্যে একটি ভালো কাজ চাই। আমরা পড়ছি দ্বিধায়। কাজের চাপ পূর্বের থেকে বেড়েছে। কিন্তু দাম বাড়েনি।’

সদর উপজেলার কাঁটাপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুর্জয় দাস তিতুন বলেন, ‘গত বছর পূজার বাজেট ছিল ২ লাখ টাকা, আর এবার দেড় লাখ। কারণ এবার অনুদানের পরিমাণ কমে গেছে। গতবার যে ব্যক্তি ১ হাজার টাকা দিয়েছেন, এবার তার ইচ্ছা থাকলেও সেই পরিমাণ টাকা দিতে পারছেন না। করোনার ধকল কাটতে না কাটতেই জিনিসপত্রের দাম বেশি। তাই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে পূজার বাজেট কমিয়ে আনতে হয়েছে। তারপরেও একটু চিন্তায় আছি, বাজেট অনুযায়ী অনুদান উঠবে কি না।’

দিনাজপুর পূজা উৎযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার বলেন, ‘অনেকেই দেখা যায়, লক্ষ্মী পূজা পর্যন্ত প্রতিমা রাখে। সে ক্ষেত্রে আমরা সেটির দায়ভার নেব না। তারা যদি নিজ দায়িত্বে রাখতে চায় তবে রাখতে পারবে।’

আরও পড়ুন:
কালীমন্দিরের টিন কেটে প্রতিমা ভাঙচুর
চট্টগ্রামে মণ্ডপে হামলার অভিযোগে আটক ৬৫
প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে চট্টগ্রামে হরতালের ডাক
সিঁদুররাঙা মুখে দেবীকে বিদায়ের প্রস্তুতি
মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে ফিরছেন দেবী দুর্গা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Kuakata waiting for travelers

ভ্রমণপিপাসুদের অপেক্ষায় কুয়াকাটা

ভ্রমণপিপাসুদের অপেক্ষায় কুয়াকাটা ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের অপেক্ষায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সমুদ্র সৈকত। ছবি: নিউজবাংলা
কুয়াকাটার প্রায় শতভাগ হোটেল-মোটেল বুক হয়ে গেছে। কিন্তু কুয়াকাটায় রোববার শেষ বিকেল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। বলতে গেলে এক ধরনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। এ ছাড়া ঈদুল আজহার প্রথম দুদিন পা‌রিবা‌রিকভা‌বে সবাই কমবে‌শি ব্যস্ত থাকেন। তাই পর্যটকের ঢল বলতে যা বোঝায়, তা শুরু হবে মঙ্গলবার থেকে।

প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে সাগরকন্যা কুয়াকাটা মুখরিত থাকে পর্যটকের আনাগোনায়। কিন্তু মহামারি করোনার কারণে গত দুই বছর তেমন লাভের মুখ দেখেননি এখানকার পর্যটক ব্যবসায়ীরা। সড়কপথে ঢাকার সবচেয়ে কাছের সমুদ্রসৈকত এখন কুয়াকাটা। একসময় ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় সড়কপথে যেতে একাধিক ফেরি পার হতে হতো। সেসব নদীতে এখন সেতু হয়ে গেছে।

এবার পদ্মায় সেতু চালু হওয়ায় কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কে আর কোনো ফেরি পারের ঝক্কিঝামেলা নেই। কোনো দুর্ভোগ ছাড়াই স্বল্প সময়ে কুয়াকাটা যেতে পারবেন পর্যটকরা।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সর্বদক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীর শেষ প্রান্তে অবস্থিত দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সমুদ্রসৈকতের পাড়ে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মতো নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করতে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়েছে সোমবার থেকে। তবে তা ব্যবসায়ীদের কাছে আশানুরূপ নয়।

এখানকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, কুয়াকাটার প্রায় শতভাগ হোটেল-মোটেল বুক হয়ে গেছে। কিন্তু কুয়াকাটায় রোববার শেষ বিকেল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। বলতে গেলে এক ধরনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। এ ছাড়া ঈদুল আজহার প্রথম দুদিন পা‌রিবা‌রিকভা‌বে সবাই কমবে‌শি ব্যস্ত থাকেন। তাই পর্যটকের ঢল বলতে যা বোঝায়, তা শুরু হবে মঙ্গলবার থেকে।

কুয়াকাটা হো‌টেল-মো‌টেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আ. মোতা‌লেব শরীফ নিউজবাংলাকে জানান, কুয়াকাটায় অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত আবাসিক হোটেল রয়েছে ৭৪টি। এর বাইরে আরও ৫৬টি হোটেল আছে। এ ছাড়া প্রথম শ্রেণির হোটেল আছে ১৫টি। সব মিলিয়ে এসব হোটেলে থাকতে পারবেন ১৫ হাজার মানুষ।

ভ্রমণপিপাসুদের অপেক্ষায় কুয়াকাটা

তিনি বলেন, ‘সপ্তাহখা‌নেক আ‌গেই এখানকার প্রায় শতভাগ হো‌টেল-মো‌টেল বুকিং দেয়া হয়ে গেছে। ঈদুল আজহার প্রথম দুই দিন পা‌রিবা‌রিকভা‌বে সবাই কমবে‌শি ব্যস্ত থাকায় পর্যটকের উপস্থিতি কম। যা আছে, তা স্থানীয় ও আশপাশ এলাকার পর্যটক।

‘বর্ষা মৌসুমে সাধারণত পর্যটকের আনাগোনা কম থাকে, কিন্তু এ বছর পদ্মা সেতু চালু আর পবিত্র ঈদুল আজহা মিলে আমাদের ধারণা ছিল রোববার এবং আজকে (সোমবার) আমরা কাঙ্ক্ষিত পর্যটক পাব। কিন্তু আসলে সেটি হয়নি। আশা করি, কয়েক দিনের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ হাজার পর্যটকের উপস্থিতি আমরা দেখতে পাব।’

সমুদ্রবাড়ী রি‌সোর্টের ব্যবস্থাপনা প‌রিচালক জ‌হিরুল ইসলাম মিরন বলেন, ‘আমা‌দের হো‌টেল কাল থে‌কে এক সপ্তাহ পর্যন্ত অ‌গ্রিম বু‌কিং হ‌য়ে‌ছে। গতকাল ও আজ যে পরিমাণ পর্যট‌কের উপ‌স্থি‌তি, তা প্রায় সবই স্থানীয়। মুষ্টিমেয় পর্যটক আ‌ছেন, যারা বি‌ভিন্ন এলাকা থে‌কে এ‌সে‌ছেন। এর মধ্যে গত প্রায় পাঁচ/সাত দিন ধরে কিছু বিদেশি পর্যটকও এখানে অবস্থান করছেন।’

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সদস্য আবুল হোসেন রাজু বলেন, ‘কুয়াকাটায় রোববার শেষ বিকেল থেকে বৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেও বৃষ্টি হচ্ছে থেমে থেমে। আবহাওয়া ভালো থাকলে মঙ্গলবার থেকেই পর্যটকে মুখরিত হবে কুয়াকাটা।’

আরও পড়ুন:
এক মাসেই ভেসে এলো ৮ ডলফিন
পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে ‘সাগরকন্যা’
করোনা: কুয়াকাটা ১৫ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা
স্বতন্ত্র ঠেকাতে আ. লীগ-বিএনপি ভাই ভাই
সাগরকন্যায় সাত মাসে ৬ পর্যটকের লাশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dhaka is empty

ঢাকা ফাঁকা

ঢাকা ফাঁকা এমন ফাঁকা রাস্তা রাজধানীবাসী সচারচর দেখে না। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
সকালের দিকে ব্যক্তিগত কিছু যানবাহন ছাড়া রাজধানীতে চলেছে একেবারে কমসংখ্যক গণপরিবহন। সড়কে মাঝেমধ্যে দুই-একটি বাস দেখা যাচ্ছে। যে বাস চলছে, তাতে যাত্রী নেই বললেই চলে।

যানজট, কোলাহল, মোড়ে মোড়ে গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশার জট; সাধারণত এমনই চিত্র রাজধানী ঢাকার নিত্যসঙ্গী। রোববার ঈদের দিনে সে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাস্তায় নেই কোনো যানজট, মোড়ে মোড়ে নেই গাড়ি, রিকশার জটলা, নেই ট্রাফিক সিগন্যালের বিধিনিষেধ। একদম ফাঁকা। বলা যায়, এ এক অচেনা ঢাকা।

রোববার ঈদুল আজহার দিনে রাজধানীর মগবাজার, বাংলামটর, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ফার্মগেট, বেইলি রোড, কাকরাইল, সেগুনবাগিচা, বাড্ডা, গুলশানসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানী মূলত ফাঁকা হতে শুরু করে গত শুক্রবার থেকে। অফিস বন্ধ হওয়ায় এ দিন অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটতে থাকেন নাড়ির টানে। গতকাল শনিবার ঢাকার বেশকিছু এলাকায় যানজট তৈরি হয় গরুর হাটের কারণে। তবে ঈদের দিনে এ চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সকালের দিকে ব্যক্তিগত কিছু যানবাহন ছাড়া রাজধানীতে চলেছে একেবারে কমসংখ্যক গণপরিবহন। সড়কে মাঝেমধ্যে দুই-একটি বাস দেখা যাচ্ছে। যে বাস চলছে, তাতে যাত্রী নেই বললেই চলে।

রাস্তায় রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কারের সংখ্যাও খুব কম।

ঢাকা ফাঁকা
রাজধানীর মৎস ভবন এলাকায় ফাঁকা রাস্তা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

মগবাজার থেকে সায়দাবাদগামী একটি বাসের চালক সেলিম রেজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যাত্রী কম হইলেও ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি চালাইয়া আরাম পাইতাছি।’

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন মোটরবাইকে রাইড শেয়ার করা সোলায়মান হোসেন। তিনি বলেন, ‘সাধারণত কল্যাণপুর থেকে মগবাজার আসতে কমপক্ষে দেড় ঘণ্টার মতো লেগে যায়। আজ এ পথ এসেছি মাত্র ২০ মিনিটে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল থেকেই মূলত ঢাকা ফাঁকা হতে শুরু করে। আজ আরও বেশি ফাঁকা লাগছে। সব রাস্তাই একদম খালি। রাস্তায় মানুষের আনাগোনাও একদমই নাই বললে চলে।’

শুধু গাড়ির চালক নয়, ঈদের দিনে অলস সময় পার করছেন ট্রাফিক পুলিশও। রাস্তা ফাঁকা থাকায় বেশির ভাগ সিগন্যালের ট্রাফিক পুলিশের কাজ নেই। তাই তারাও নিতে পারছেন অনেকটাই বিশ্রাম। অবশ্য তারপরও তাদের থাকতে হচ্ছে নির্দিষ্ট পয়েন্টের পুলিশ বক্সে।

ঢাকা ফাঁকা
চির ব্যস্ত রাজধানীর মতিঝিলের ব্যাংকপাড়াও ফাঁকা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

মগবাজার মোড় সিগন্যালের পুলিশ বক্সে কথা হয় ট্রাফিক পুলিশ ইসমাইলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকেই গাড়ির তেমন চাপ নেই। তাই বলা যায় এক ধরনের অলস সময় পার করছি।’

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঈদের নামাজ আদায় শেষে পশু কোরবানিতে ব্যস্ত রয়েছেন মুসল্লিরা। গুটিকয়েক কিশোরকে মূল সড়কের পাশে চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকলেও কিছু কিছু মিষ্টি ও খাবারের দোকান এখনও খোলা।

বাংলামটর মোড়ে কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত খায়ের শেখের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বোনের বাসায় দুপুরে দাওয়াত রয়েছে। তাই বের হয়েছি। কিন্তু এখন কোনো গণপরিবহন পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে রিকশায় করে রওনা দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ রকম পরিবেশ ঢাকায় খুব কমই দেখা যায়। কোথাও কোনো কোলাহল নেই। ঢাকা একদমই ফাঁকা। এ যেন অন্যরকম অনুভূতি।’

আরও পড়ুন:
বন্যার্তদের পাশে থাকার আহ্বান কাদেরের
জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া
গোর-এ শহীদে ৩ লাখ মুসল্লির প্রার্থনা
মন্দা কাটিয়ে নতুন সম্ভাবনায় এগোবে দেশ: রাষ্ট্রপতি
অলিগলিতে চলছে চামড়া সংগ্রহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Wishing peace and prosperity to the Muslim Ummah in Sholakia

শোলাকিয়ায় মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা

শোলাকিয়ায় মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে ১৯৫তম ঈদের নামাজ শুরু হয় রোববার সকাল ৯টায়। এতে ইমামতি করেন শহরের মারকাজ মসজিদের ইমাম মাওলানা হিফজুর রহমান খান।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে ঈদুল আজহার নামাজ হয়েছে।

এই ঈদগাহে ১৯৫তম ঈদের নামাজ শুরু হয় রোববার সকাল ৯টায়। এতে ইমামতি করেন শহরের মারকাজ মসজিদের ইমাম মাওলানা হিফজুর রহমান খান।

এতে অংশ নেন জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে এই ঈদগাহে দেশের সবচেয়ে বড় জামাত হয় বলে দাবি করেন আয়োজকরা। জেলার বাইরে থেকেও মুসল্লিরা এখানে আসেন ঈদের নামাজ পড়তে।

ঈদের জামাতকে ঘিরে নেয়া হয় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র‍্যাব, পুলিশের পাশাপাশি ছিল দুই প্লাটুন বিজিবি।

জেলা পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ নিউজবাংলাকে জানান, ঈদুল আজহার জামাতকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করেছে। মাঠে আর্চওয়ে, একাধিক ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়।

শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ঈদগাহ ময়দানে ঢোকার সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

‘নিরাপত্তার স্বার্থে মোবাইল নিয়ে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা ছিল। দূরদূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের জন্য সকালে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব ও কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে দুটি বিশেষ ট্রেন চালু ছিল।’

আরও পড়ুন:
গোর-এ শহীদে ৩ লাখ মুসল্লির প্রার্থনা
মন্দা কাটিয়ে নতুন সম্ভাবনায় এগোবে দেশ: রাষ্ট্রপতি
অলিগলিতে চলছে চামড়া সংগ্রহ
ঈদবার্তায় আফগানিস্তানে শরিয়াহ কায়েমের প্রতিশ্রুতি তালেবান নেতার
বরিশালে তিন শতাধিক মসজিদে ঈদের জামাত

মন্তব্য

p
উপরে