× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
What are the religion based parties doing after leaving the BNP alliance
hear-news
player
print-icon

বিএনপির জোট ছেড়ে ধর্মভিত্তিক দলগুলো কী করছে

বিএনপির-জোট-ছেড়ে-ধর্মভিত্তিক-দলগুলো-কী-করছে
বিএনপির ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
এই দলগুলোর মধ্যে দুটি দল বিএনপির মতোই নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইছে। তারা ভোট গ্রহণে বিএনপির মতোই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের বিরুদ্ধে। 

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যাওয়া ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে দুটি দল বিএনপির অবস্থানের সঙ্গে মিল রেখেই কথা বলছে। অন্তত দুটি দলের নেতারা বলছেন, তারা ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের চেষ্টা করছেন, যদিও এখনও বলার মতো কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এখন পর্যন্ত তিনটি ইসলামপন্থি দল বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছেড়েছে। অবশ্য এই দলগুলো চলে যাওয়ার পরও জোটে দলের সংখ্যা কমেনি। এর কারণ জোট ছেড়ে যাওয়া দলগুলোর একটি অংশ একই নামে আরেকটি দল করে জোটে রয়ে গেছে।

এই দলগুলোর মধ্যে দুটি দল বিএনপির মতোই নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইছে। তারা ভোটগ্রহণে বিএনপির মতোই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের বিরুদ্ধে।

পঞ্চম দল হিসেবে গত বছরের ১ অক্টোবর বিএনপির জোট ছেড়ে যায় খেলাফত মজলিস। সে সময় জোট ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্টভাবেই বলা হয়, স্বকীয়-স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের রাজনীতি করবে দলটি।

কিন্তু পরে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। জোট ছাড়ার দুই মাসের মাথায় বিএনপির পথেই হাঁটতে দেখা গেল দলটিতে। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে গিয়ে বিএনপির দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করে খেলাফত মজলিস।

সংলাপে দলের মহাসচিব আহমাদ আবদুল কাদের বলেন, ‘শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনই নিরপেক্ষ হয়েছে বলে সর্বজন স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে হবে।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিবাদে হেফাজতের সহিংসতার ঘটনায় আহমাদ কাদের গ্রেপ্তার হন। যিনি হেফাজতের নায়েবে আমির ছিলেন।

তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি দেয়া হয়নি। এ কারণে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় দলটির নেতাদের মধ্যে।

আহমাদ কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখন স্বতন্ত্রভাবে কর্মসূচি দিচ্ছি। তবে নির্বাচন কীভাবে করব সেটি এখনও বলা যাচ্ছে না। আমরা পরিস্থিতি দেখছি, দেখার পরে আমরা সিদ্ধান্ত নেব যে, নতুন জোটবদ্ধ হব, না জোটে (২০ দলীয় জোট) যাব।

‘তবে এখনই এ বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না। সময়ই বলে দেবে আমাদের কী করা উচিত।’

২০২১ সালের ১৪ জুলাই জোট ছাড়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। দলের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখন দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে একলা চলছি। ভবিষ্যতের বিষয়ে সময়ে কথা বলবে। আপাতত সাংগঠনিক বিষয়গুলো জোরদার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিএনপির আন্দোলনে যাওয়ার মতো কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের দলীয় ফোরামে এখনও হয়নি।

‘আমরা জোটকেন্দ্রিক রাজনীতি করার কারণে দলীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন সাংগঠনিক দিককে গুরুত্ব দিয়ে আমরা ফলাফলও পেয়েছি। অলরেডি আমাদের একাধিক চেয়ারম্যান দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছে।’

এই অংশের আরেক নেতা আবদুর রব ইউসূফী। যিনি ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সাবেক সিনিয়র নায়েবে আমির ছিলেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা জোট ছেড়েছি, তবে ভবিষ্যতে কী করব সেটা ভবিষ্যৎ বলে দেবে। এখনও সেটা নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

২০ দলীয় জোটে ফিরে যাবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। এমনও হতে পারে, আমরা একাই নির্বাচন করলাম। আবার কারও সঙ্গে জোট বেঁধেও নির্বাচন করতে পারি।’

সবার আগে ২০১৬ সালের ৭ জুন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যায় মুফতি ফজলুল হক আমিনী প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ঐক্যজোট। তবে জোট ছেড়ে যাওয়ার সময় কোনো কারণ বলেননি দলটির নেতারা।

ইসলামী ঐক্যজোট এখন একটি ভিন্ন জোট গড়ার চেষ্টা করছে বলে জানাচ্ছেন দলটির নেতারা। তবে তাদের সেই চেষ্টা এখনও সফলতার মুখ দেখেনি।

দলের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা পরবর্তী সময়ে ইসলামী দলগুলোর ঐক্যের প্রয়াস চালাতে পারি।’

বিএনপি যেসব দলকে নিয়ে সরকারবিরোধী অবস্থানের কথা বলছে, সেটি নিয়ে আপনার দলের কী সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপি তাদের কৌশলে আগাবে, আমরা আমাদের কৌশলে আগাব।’

বিএনপির সঙ্গে এক টেবিলে বসে আলোচনা করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আমার জবাব আপনাকে দিয়ে দিয়েছি।’

ধর্মভিত্তিক তিনটি দল ছাড়াও ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যায় লেবার পার্টির একটি অংশ। ২০১৯ সালের ৬ মে ২০ দল ছাড়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি- বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ।

ইভিএম বিরোধিতা দুই দলের

নির্বাচন কমিশন ইলেট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে সম্প্রতি সংলাপ করে। যাতে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল অংশই নেয়নি।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ইভিএম মানেন না। ইভিএম এ নির্বাচনকে আওয়ামী লীগের নতুন ফাঁদ বলেই ব্যক্ত করছেন দলটির নেতারা।

জমিয়তের জোট ছাড়া অংশের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ব্যালটে ভোট করার প্রস্তাব করেছি। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে ইভিএমের দোষক্রুটিগুলো তুলে ধরেছি।’

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আবদুল কাদের বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে শুধু আমরা কেন অনেকেরই বিরুদ্ধে বলেছে। ইভিএম নিয়ে যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের কথা না। কথা ইভিএম পরিচালনা মানুষের বিরুদ্ধে। মানুষ নিরপেক্ষ না হলে ইভিএম নিখুঁত থাকবে না। যেহেতু এখানে রাজনীতি আছে, তাই এটাকে আমরা গ্রহণ করতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘এখনই আমরা ইভিএমের সাপোর্ট করি না। তবে সব দল একমত হলে আমরা সমর্থন করব। এখনই সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দিয়ে দিলে সেটা নেহাতই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হবে।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Why did BRTA fail in implementing fares?

ভাড়া নির্ধারণ করে কার্যকরে কেন ব্যর্থ বিআরটিএ

ভাড়া নির্ধারণ করে কার্যকরে কেন ব্যর্থ বিআরটিএ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর নতুন করে শনিবার বিআরটিএ যে বাস ভাড়া নির্ধারণ করেছে তাতে মহানগরীতে বাড়ানো হয়েছে কিলোমিটারে ৩৫ পয়সা। ফাইল ছবি
নির্ধারিত ভাড়া কখনোই কার্যকর করতে পারেন না কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ‘ভাড়া বাড়ার পরই কিন্তু মনিটরিং শুরু হয়। গতবার ভাড়া বৃদ্ধির পর বিআরটিএ ম্যাজিস্ট্রেটরা ছিল।’

রাজধানীর ইস্কাটন থেকে মেরুল বাড্ডা পর্যন্ত দূরত্ব ৪ দশমিক ৩ কিলোমিটারের মতো। গত নভেম্বরে তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকার ভাড়ার যে হার ঠিক করে দিয়েছে, তাতে এই পথের ভাড়া ১০ টাকার কম আসে। তবে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা হিসেবে এটাই আদায় করার কথা। কিন্তু এই পথটুকুর জন্য স্বাধীন পরিবহন আদায় করে ২০ টাকা, অর্থাৎ দ্বিগুণ।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর নতুন করে শনিবার বিআরটিএ যে বাস ভাড়া নির্ধারণ করেছে তাতে মহানগরীতে বাড়ানো হয়েছে কিলোমিটারে ৩৫ পয়সা। ফলে এখন থেকে প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীদের গুনতে হবে আড়াই টাকা।

সরকার এই রুটের জন্য নতুন করে এবার যে ভাড়া ঠিক করে দিয়েছে, তাতে কিলোমিটার হিসাবে এই দূরত্বে ভাড়া হয় ১০ টাকা ৭৫ পয়সা।

কিন্তু সমস্যা হলো নিশ্চিতভাবেই বলে দেয়া যায়, বাসগুলো এখন ২০ টাকার ওপর বাড়তি হিসাব করে আদায় করবে। এর কারণ আগেও তাই হয়েছে।

এই বাড়তি ভাড়া আদায়ে গত কয়েক বছরে রাজধানীতে বাস মালিকরা যে ওয়েবিল পদ্ধতি চালু করেছে, সেটি বন্ধ করতে পারেনি সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ।

গত নভেম্বরে বাস ভাড়া ২৬ শতাংশ বাড়ানোর পর বিআরটিএ জোরালোভাবে বলেছিল, তারা ওয়েবিল বন্ধ করে দিয়ে কিলোমিটার হিসেবে ভাড়া আদায় নিশ্চিত করবে। যারা কথা শুনবে না, তাদের রুট পারমিট বাতিলের হুমকিও দেয়া হয়। কিন্তু নিজের এই হুমকি ভুলে গিয়ে কদিন পরই বিআরটিএর অভিযান থেমে যায়।

ভাড়া নির্ধারণ করে কার্যকরে কেন ব্যর্থ বিআরটিএ
সারা দেশে প্রায় এক লাখ বাস চলে। ঢাকা মহানগরীতে চলে সর্বোচ্চ ৬ হাজার। এই ৬ হাজার গাড়িতে অনেক সময় কিছু কিছু অনিয়ম হয়। ফাইল ছবি

বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মাদ মজুমদার বলেন, ‘গতবার ভাড়া নির্ধারণ করার পর মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশনের সদস্য বিআরটিএ পুলিশ যৌথ টিম কাজ করেছে, যা কয়েক মাস অব্যাহত ছিল। যারা অতিরিক্ত ভাড়া নিয়েছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি।’

কতগুলো বাস জব্দ করা হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে বলতে পারব না।’

যে ভাড়া নির্ধারণ করেন তার অতিরিক্ত নেন বাস মালিকরা। নির্ধারিত ভাড়া কখনোই কার্যকর করতে পারেন না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ‘ভাড়া বাড়ার পরই কিন্তু মনিটরিং শুরু হয়। গতবার ভাড়া বৃদ্ধির পর বিআরটিএ ম্যাজিস্ট্রেটরা ছিল।’

ঢাকা শহরে অনেক বাস চলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চোখের আড়ালে যদি করে ফেলে আমাদের নজরে এলে শাস্তি পায় নাই- এমন দৃষ্টান্ত কিন্তু নেই। আগামীকাল থেকে শক্তভাবে মনিটর করা হবে৷ কোনো অনিয়ম পেলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। প্রত্যেক বাসে ভাড়ার তালিকা বড় করে চার্ট দেব। যদি কেউ না টানায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।’

বাড়তি ভাড়া রোধে বিআরটিএ ৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট সব সময় রাস্তায় থাকে দাবি করে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘তারা সপ্তাহের ৬ দিন রাস্তায় থাকে। এরা মোবাইল কোর্ট করতেছে।’

আর যাত্রীরা বছরের পর বছর ধরে ওয়েবিলের নামে বাড়তি ভাড়া দিয়ে চলেছে। আগামী দিনে বন্ধ হবে- এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছে না।

প্রতিটি ওয়েবিলই ২ কিলোমিটার বা এমন দূরত্বে বসানো হয়েছে। আর এই দূরত্বের জন্য সাধারণত ১০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এই হিসাবে রাজধানীতে বেশির ভাগ বাসেরই ভাড়া কিলোমিটার হিসেবে ৫ টাকা পড়ছে। কোথাও কোথাও তা আরও বেশি পড়ে।

তবে সড়ক পরিবহন সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ওয়েবিল অবৈধ। তাই এমন কিছু দেখলে তারা ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেটরা যদি এ ধরনের অনিয়ম দেখতে পায় তাদের আইনের আওতায় আনা হয়। জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করব, তাদের যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছে, তারা যাতে ভাড়া মনিটর করে, যাতে বাড়তি ভাড়া কেউ আদায় করতে না পারে।’

বাস মালিকদের সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ খান নিজের ঘোষণার উল্টো কথা বলেন পরে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় এক লাখ বাস চলে। মহানগরীতে চলে সর্বোচ্চ ৬ হাজার। এই ৬ হাজার গাড়িতে ঢাকা মহানগরীতে অনেক সময় কিছু কিছু অনিয়ম হয়। এ অনিয়ম রোধ করার জন্য আমরা মালিক শ্রমিকরা, ম্যাজিস্ট্রেটসহ দুই মাস ধরে কাজ করছি।

‘আমি নিজেও রাস্তায় ছিলাম আপনারা অনেকে দেখেছেন মহানগরীতে আমরা সব জায়গায় করতে পেরেছি তা না। কোথাও কোথাও আমরা করতে পারি নাই। মালিক সমিতি থেকে নির্দেশ দিলেই সেটা সবাই পালন করবে বাংলাদেশে এমন কোনো সেক্টর এখন পর্যন্ত হয় নাই। যারা মানে নাই, তাদের গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে। সুতরাং আমরা কোনো অন্যায়কে সাপোর্ট করি না। কোনো অন্যায় হোক সেটা আমরা চাই না, আমাদের চেষ্টাও অব্যাহত আছে।’

ভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভাড়ার বিষয়টি তারা (বিআরটিএ) নির্ধারণ করেছে। এখানে সাড়ে ৪২ শতাংশ তেলের দাম বেড়েছে। আর ভাড়া বৃদ্ধি করেছে ২২ শতাংশ।’

ওয়েবিল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এই পরিবহন নেতা বলেন, ‘যারা এটা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত কাজ চলতেছে।’

অনিয়ম রোধে পরিবহন মালিক সমিতি শতভাগ সফল হয়নি জানিয়ে এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘ঢাকা ছাড়া সারা দেশে আমরা সাকসেস।’

এসি বাসের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একজনের দুই কোটি টাকা দামের বাস। একজনের এক কোটি টাকা দামের বাস। সে যে পরিমাণ সেবা দিচ্ছে, সেই পরিমাণ টাকা নিচ্ছে। এসির ভাড়া ট্র‍াকের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না।’

বিআরটিএ দূরপাল্লার বাসে নতুন করে ভাড়া বাড়িয়েছে কিলোমিটারে ৪০ পয়সা বা ২২ শতাংশ। ফলে এখন দূরপাল্লায় যাত্রীদের কিলোমিটারে ভাড়া গুনতে হবে ২ টাকা ২০ পয়সা করে।

ফলে আন্তজেলা রুটেও চিত্রটা মোটামুটি একই রকমের। ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত দুটি রুট একরামপুর ও গাইটাল থেকে কাপাসিয়া হয়ে ঢাকার মহাখালী টার্মিনালের দূরত্ব হয় ১১০ থেকে ১১২ কিলোমিটার। নরসিংদী হয়ে যেসব গাড়ি চলে, সেগুলোর দূরত্ব হয় ১২০ থেকে ১২৫ কিলোমিটার।

সরকার দূরপাল্লায় ভাড়া ঠিক করে দেয় ৫২ আসনের। কিন্তু এই রুটের বাসগুলোতে আসন ৪৫টির মতো। সেই হিসাবে ৭টি আসন কমলে ভাড়া আনুপাতিক হারে বাড়ানো যাবে।

এই হিসাবে কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সার জায়গায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি হারে ভাড়া নেয়া যাবে ২ টাকা ১৬ পয়সা হারে।

এই হিসাবে কাপাসিয়া হয়ে ভাড়া হওয়ার কথা ২৪০ টাকার মধ্যে। কিন্তু আদায় হচ্ছে ২৭০ টাকা।

আগে থেকেই ৩০ টাকা বেশি আদায় করে চলা বাসমালিকদের আসলে নতুন ঘোষণা অনুযায়ী কোনো ভাড়া বাড়ানোর কথা না।

আরও পড়ুন:
সেপ্টেম্বরে আরও ৩ পথে নামছে নগর পরিবহনের ২০০ বাস
বাংলাদেশে তেল বিক্রি করতে চায় রাশিয়া: প্রতিমন্ত্রী
ঢাকায় ফেরার তাড়া, সুযোগ নিচ্ছেন চালকরা
সম্ভাবনায় ফিরছে নগর পরিবহন
তেল গ্যাসের দাম বেড়েছে নেপালেও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The bottom of the Teesta is filled with low water

তিস্তার তলদেশ ভরাট, অল্প পানিতেই প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

তিস্তার তলদেশ ভরাট, অল্প পানিতেই প্লাবিত নিম্নাঞ্চল তিস্তার বাড়ন্ত পানিতে প্লাবিত হয়েছে তীরবর্তী অনেক এলাকা। ছবি: নিউজবাংলা
তিস্তা সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক নদী গবেষক অধ্যাপক মঞ্জুর আরিফ বলেন, ‘আমাদের অভিন্ন নদীর অভিন্ন অধিকার রয়েছে। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে আলোচনার মাধ্যমে হোক, সমঝোতার মাধ্যমে হোক বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হোক উদ্যোগ নিতে হবে। নদী ব্যবস্থাপনায় সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে নদী নিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।’

ঘরের ভেতর কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে বাদাম খাচ্ছেন গঙ্গাচড়ার পশ্চিম ইচলীর বাসিন্দা আব্দুস সোবহান। খাওয়া-দাওয়ার বন্দোবস্ত না থাকায় বাদাম, চিড়ামুড়ি খেয়ে পরিবার নিয়ে ছয় দিন ধরে এভাবেই দিন পার করতে হচ্ছে তাকে। দিনে বাড়িতে থাকলেও সাপ ও পোকামাকড়ের ভয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে বাঁধে।

তিস্তার বাড়ন্ত পানিতে এবার প্লাবিত হয়েছে গঙ্গাচড়ার পূর্ব ও পশ্চিম ইচলী, কেল্লার পাড়, বাগেরহাটসহ আশেপাশের সহস্রাধিক বাড়ি।

স্থানীয়রা বলছেন, এ বছর ছয়বার প্লাবিত হয়েছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল। আসছে ভাদ্রের বন্যায় আরেক দফায় প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বৃষ্টি না থাকলেও উজানের বাড়ন্ত পানিতে বাড়ি ঘরে পানি ঢোকায় ক্ষুব্ধ নদী পাড়ের মানুষজন। বছর বছর এই অবস্থা বাড়ছেই।

তিস্তার তলদেশ ভরাট, অল্প পানিতেই প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

নদীপাড়ের মানুষজন বলছেন, এখন আর নদীর গভীরতা নেই। নদীতে বালু আর বালু। একটু পানিতেই নদী উপছে বাড়ি ঘরে পানি উঠছে।

কেন এই অবস্থা

নদী গবেষক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারতের সিকিম থেকে ১৭৮৭ সালে তিস্তা নদীর গতিপথ বদল হয়ে বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার কালীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে লালমিনরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ছুঁয়ে মিলিত হয় কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে। ৩১৫ কিলোমিটারের এই নদীর ১১৫ কিমি বাংলাদেশ ভূখণ্ডে অবস্থিত। ২০১৪ সালে তিস্তার ভারতীয় অংশের গজলডোবায় বাঁধ দেয় তারা।

‘কিন্তু বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও উজানি ঢলে আসা বালু আর পলি পড়ে ধীরে ধীরে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে । নদীর গতিপথ বদল হয়ে সীমানা বাড়লেও গভীরতা কমছে।’

তিনি বলেন, ‘২৩৫ বছরের এই নদীর কোন পরিচর্যা হয়নি। বরং নদীর ক্ষতি হয় এমন বহু প্রকল্প করা হয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদীর পরিচর্যা করা না গেলে আশির্বাদি তিস্তা অভিশাপে পরিণত হবে। নদীর অস্তিত্ব বিলিন হবে। মানুষের আর্ত-সামাজিকতা নষ্ট হয়ে যাবে।’

তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের ১১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তা অববাহিকায় মানুষের জীবন যাত্রা স্থবির হয়ে যায়। ধুধু মরুতে পরিণত হয়। জীব-বৈচিত্র্য হুমকিতে পড়ে। এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। নদীর পরিচর্যা ও খনন করলে, পাড়ের মানুষজন এত কষ্টে পড়ত না।’

৬ বারের পানিতে কেমন আছেন তিস্তা পাড়ের মানুষজন

গত ৬ আগষ্ট শনিবার গংগাচড়ার বিভিন্ন চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়িতে পানি ওঠায় লোকজন আশ্রয় নিয়েছে খোলা আকাশের নিচে, বাঁধে ও আত্মীয়ের বাড়িতে। তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ আমনের খেত। পানিবন্দী পরিবারগুলো গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে উঁচু নিরাপদ স্থানে। শুক্রবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে, তবে দুর্ভোগ আছেই।

বাঁধের পাড় এলাকার বৃদ্ধা সাহের বানু বলেন, ‘মোর ব্যাটা চট্টগ্রামোত থাকে, বাড়িত আসছে ব্যাটার বউওক নিয়ে পানিত ডুববের নাগছি। খাওয়া-দাওয়া ঘুম সউগ হারাম হয়া গেইছে।’

চর পশ্চিম ইচলি গ্রামের রুপালী বেগম বলেন, ‘হঠাৎ পানি আসার কারণে বাড়ি থাকি কিছু বাহির করিবার পাই নাই। ধান, চাল ঘরোত যা আচিল সউগ ভিজি গেইছে।’

একই ইউনিয়নের মোকতার হোসেন বলেন, ‘গত মঙ্গলবার থাকি রাস্তার ধারে পলিথিন টাংগি আছি। এবার ৬ বার পানি আসিল, ছয় বার বাড়ি ছাড়ি রাস্তাত আসি। সরকার তো চায় হামরা নদীর পারের মানুষ না খেয়া মরি..। সরকার নদীও বান্ধি দিবার নেয়। হামার গুলার কোনো সামাধানও দিবার নেয়।’

বাঘেরহাট এলাকার বাসিন্দা সাদেকুল বলেন, ‘পানি খাওয়া যে টিউবল, সেটিও পানির নিচত তলে আছে, পানি খাওয়ার বুদ্ধিও নাই। সকাল থাকি বাসিমুখে আছি, একনা দানা মুখে যায় নাই।’

নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া ও নদীশাসন না করার ফলে অল্প পানিতে আক্রান্ত হচ্ছে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর ও ফসলি জমি। প্রতি বছর শত শত বিঘার জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানান লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদি।

তিস্তার তলদেশ ভরাট, অল্প পানিতেই প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

তিনি বলেন, ‘এর আগে বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপরে পানি উঠলেও আমার এই ইউনিয়নের পশ্চিম বাগের হাট আশ্রয়নে পানি ওঠেনি। কিন্তু এবার ১৭ সেন্টিমিটার বেশি পানিতেই ওই এলাকায় পানি উঠেছে।

‘আগে টানা তিন থেকে পাঁচদিন পানি আসার পর বাড়ি ঘরে উঠত। তখন নদীর অনেক গভীরতা ছিল। এখন গভীরতা না থাকায় সামান্যতেই বাড়ি-ঘরে পানি উঠছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উজানের বাড়ন্ত পানি এবার বাড়ি-ঘরে উঠে পড়েছে। এই পানির কারণে বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপরে ওঠে গেছে। কিছু কিছু এলাকায় ভাঙ্গনের খবর এসেছে, আমরা সেগুলোর ভাঙ্গন ঠেকাতে কাজ করছি।’

তিস্তা ভরাটে কী প্রভাব পড়েছে

তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী জানান, ১৯৮৩ সালে জুলাই মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকে তিস্তা নদীর পানির শতকরা ৩৬ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ এবং ৩৯ শতাংশ পাবে ভারত। বাকি ২৫ শতাংশ নদীপ্রবাহের জন্য নদীতেই সংরক্ষিত রাখা হবে।

কিন্তু কখন থেকে এবং কোথা থেকে এই পানি ভাগাভাগি করা হবে সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা ছিল না ওই বৈঠকে।

এরপর ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত যৌথ বৈঠকে বাংলাদেশ তিস্তার পানির ৮০ শতাংশ দুই দেশ ভাগ করে বাকি ২০ শতাংশ নদীর জন্য সংরক্ষিত রাখার বিষয়ে প্রস্তাব দেয়। ভারত এই প্রস্তাবে অসম্মতি জানায়। ২০১৪ সাল গজলডোবা বাঁধ নির্মাণ করে শুষ্ক মৌসুমে ভারত তিস্তার পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়।

তিনি বলেন, ‘উজান থেকে শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রত্যাহার করায়, পানির অভাবে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা মরে যায়, মরে গেছে। প্রকৃতি রুক্ষ হয়ে উঠেছে। বর্ষাকালে পানি ছেড়ে দেয়ায় প্রবল পানির চাপে মূল গতিপথ বদলে তিস্তা প্রচণ্ডভাবে প্রবাহিত হতে থাকে।

তিস্তার তলদেশ ভরাট, অল্প পানিতেই প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

‘তখন কূলকিনারাবিহীন সমুদ্র হয়ে যায় তিস্তা। তখন তিস্তার বাংলাদেশ অংশে এর প্রস্থ কোনো কোনো জায়গায় ৫ কিলোমিটারেরও বেশি হয়ে পড়ে। পানির চাপ ও বন্যায় প্রতি বছর এই অঞ্চলের শত শত মানুষ বাড়িঘর, গাছপালা, আবাদি জমি হারিয়ে ভূমিহীন ও ছিন্নমূল হয়ে পড়ছে।’

অধ্যক্ষ হক্কানী বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলে তেমন শিল্প-কারখানা নেই। কৃষিব্যবস্থা পুরোটাই পানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে বন্যা-খরা এখানে মানুষের দুর্ভোগের কারণ। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পূরণ করা, নাব্য রক্ষা, পরিবেশ ও প্রাণ প্রকৃতি রক্ষা না করলে দ্রুত এক অশনিসংকেত দেখবে তিস্তা বেষ্টিত রংপুর অঞ্চলের মানুষ।’

সমাধান কী

তিস্তা সুরক্ষা কমিটির আহবায়ক নদী গবেষক অধ্যাপক মঞ্জুর আরিফ বলেন, ‘তিস্তা নদী কেমন ছিল কেমন হয়েছে। নদী পাড়ের মানুষজন বলছেন আমাদের এত প্রশস্ত নদীর প্রয়োজন নেই। মূল তিস্তা এত প্রশস্ত ছিল না। তিস্তা ভরাট হতে হতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নদী নাব্য থাকলে প্রশস্ত হত না।

তিস্তাকে নাব্য রাখতে হবে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদী খনন করে নদীর প্রাকৃতিক গঠন ও ধরন বজায় রাখতে হবে।

‘যখন শুকায়ে যাচ্ছে অর্থাৎ শুষ্ক মৌসুমে প্রতিবেশী দেশ পানি আটকিয়ে রাখছে। প্রতিদিন, প্রতি মাস বা প্রতি বছর যে পরিমাণ পানি প্রবাহিত হওয়ার কথা সেটি হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিন্ন নদীর অভিন্ন অধিকার রয়েছে। সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে আলোচনার মাধ্যমে হোক, সমঝোতার মাধ্যমে হোক বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হোক উদ্যোগ নিতে হবে।

‘যদি আন্তনদীর ন্যায্য হিস্যা না পাওয়া যায় তাহলে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে এবং সে লক্ষ্যে জাতিসংঘ পানিপ্রবাহ আইন (১৯৯৭) অনুস্বাক্ষর করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকেও এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানাতে হবে। নদী ব্যবস্থাপনায় সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে নদী নিয়ে বাংলাদেশের যে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা আছে তা ভেস্তে যাবে।’

আরও পড়ুন:
আমিরাতে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা, ৭ মৃত্যু
বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা করবে এডিবি
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু মেরামতে ২৪০০ কোটি টাকা
ধনী-গরিবের আলাদা পানির বিলে সময় লাগবে
নৌকাডুবি: নানির মরদেহ উদ্ধার, নাতনি নিখোঁজ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
This monsoon rain is unusually low

এবার বর্ষায় অস্বাভাবিক কম বৃষ্টি

এবার বর্ষায় অস্বাভাবিক কম বৃষ্টি গরম থেকে খানিকটা স্বস্তি পেতে নদীতে গোসল করছে একদল শিশু-কিশোর। ছবি: নিউজবাংলা
জুলাই মাসে দেশে গড়ে ৪৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও এবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ২১১ মিলিমিটার, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যা ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ কম। আলাদাভাবে প্রতিটি বিভাগেই স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টি হয়েছে।

বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে এসেও তীব্র দাবদাহে পুড়ছে দেশ। শ্রাবণের প্রায় পুরোটা কেটেছে কাঠফাটা রোদে। ছেড়া ছেড়া বৃষ্টি নামলেও তাতে গরম কমেনি। আগামী দিনগুলোর জন্যও কোনো সুখবর দিতে পারছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আগামী তিন দিনে সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যার ফলে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। তবে সারা দেশে এর তেমন প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম।

জুলাই মাসে দেশে গড়ে ৪৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও এবার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে ২১১ মিলিমিটার, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যা ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ কম। আলাদাভাবে প্রতিটি বিভাগেই স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টি হয়েছে। শুধু ব্যতিক্রম সিলেট অঞ্চল, সেখানে বৃষ্টি হয়েছে এ মৌসুমের গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ কম।

চলতি আগস্ট মাসেও দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পরিচালক আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত আগস্ট মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্ভাবাস বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া যায়।

জুলাই মাসে ঢাকা বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ৩৬৮ মিলিমিটার। তবে এবার এ মাসে বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ১৪৬ মিলিমিটার। ময়মনসিংহ বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ৪২৭ মিলিমিটার হওয়ার কথা থাকলেও ২০৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে সেখানে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৭২০ মিলিমিটারের বিপরীতে ২৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।

শুধু সিলেটেই এবার প্রায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। জুলাই মাসে ৫৩১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে এ বিভাগে, তবে সেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল ৫৭৯ মিলিমিটার। রাজশাহীতে ৩৬২ মিলিমিটার স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের জায়গায় ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ৪২৭ মিলিমিটার হওয়ার কথা থাকলেও রেকর্ড হয়েছে ২৯৯ মিলিমিটার। খুলনায় ৩৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টির জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে ১২০ মিলিমিটার। দক্ষিণের বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ৫১৯ মিলিমিটার হওয়ার কথা থাকলেও রেকর্ড করা বৃষ্টির পরিমাণ মাত্র ১৮৩ মিলিমিটার।

আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, বায়ুমণ্ডলে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি, প্রখর সূর্যকিরণ এবং মৌসুমি বায়ু দুর্বল থাকায় এবার রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যায়।

চলতি আগস্ট মাসেও সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে দুটি বর্ষাকালীন লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা পরে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

আরও পড়ুন:
বৃষ্টির জন্য নামাজ, বিশেষ দোয়া
বৃষ্টির আশায় ‘ইন্দ্র দেব-কলাবতীর’ বিয়ে
স্বস্তির বৃষ্টি নামতে পারে মঙ্গলবার
৩৭ ডিগ্রি পোড়াচ্ছে ৪২ ডিগ্রির সমান
বৃষ্টি কমতে পারে সিলেটে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
IMF wants reforms in oil prices

তেলের দামে যে সংস্কার চায় আইএমএফ

তেলের দামে যে সংস্কার চায় আইএমএফ পেট্রল পাম্পে জ্বালানি নিচ্ছেন যানবাহন চালকরা। ছবি: নিউজবাংলা
আইএমএফের একটি মিশন সম্প্রতি ঢাকা সফরকালে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে আলাদা ফর্মুলা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনতে বলেছে তারা।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে সংস্কার চাইছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তাদের ফর্মুলা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে দাম নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ বিশ্ববাজারে যখন তেলের দাম বাড়বে, তখন দেশের ভেতরে সরকার দাম বাড়াবে। আবার দাম কমলে সেই অনুপাতে দাম কমাতে হবে।

আইএমএফ বলছে, এই পদ্ধতি অনুসরণ করে দাম সমন্বয় করা হলে তেলের দাম স্থিতিশীল হবে, একই সঙ্গে এ খাতে যে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি লাগে, তা কমে আসবে।

আইএমএফের একটি মিশন সম্প্রতি ঢাকা সফরকালে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বিভিন্ন সুপারিশের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণে আলাদা ফর্মুলা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনতে বলেছে তারা। এ সময় বিভিন্ন খাতে বেশ কয়েকটি সংস্কারের কথাও বলেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক বহুজাতিক ঋণদানকারী এই সংস্থাটি।

বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হয় ফিক্সড প্রাইস বা নির্দিষ্ট দামের ভিত্তিতে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশে এটা করা হয়। যদিও আইনে গণশুনানির মাধ্যমে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটারি কমিশনের দাম নির্ধারণের কথা। কিন্তু বাংলাদেশে তা কখনই মানা হয়নি।

চলমান সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে আইএমএফের কাছে। ঋণের শর্ত কী হবে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালেও ধারণা করা হচ্ছে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বলবে তারা। এরই মধ্যে সারের দাম কিছুটা বাড়িয়েছে সরকার।

আইএমএফের পাশাপাশি দেশীয় বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরাও ‘বাজার মূল্যে’ জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, বিশ্ববাজারে যখন উচ্চমূল্য থাকে, তখন দেশের বাজারে বাড়ানো হয়। কিন্তু দাম কমলে আর কমানো হয় না। ফলে জনমনে অস্থিরতা তৈরি হয়। পাশের দেশ ভারতসহ অনেক দেশেই ‘বাজার মূল্যে’ দাম নির্ধারণ করা হয় বলে জানান তারা।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ বছরে দেশে ১৮ বার জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়। সর্বশেষ শুক্রবার ডিজেল ৮০ টাকা থেকে দাম বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, অকটেন ৮৯ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ৮০ টাকা থেকে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করে তা কার্যকর করা হয়। দেশে এর আগে কখনই একবারে এত দাম বাড়ানো হয়নি।

বাংলাদেশে এখন বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা ৬৫ লাখ টন। এর ৭০ শতাংশই ডিজেল এবং এর পুরোটাই আমদানি করতে হয়। বাকি অংশ অকটেন ও পেট্রল। পেট্রল দেশে তৈরি হলেও অকটেন চাহিদার ৫০ শতাংশ আমদানি করা হয়।

তেলের দাম নির্ধারণে সারা বিশ্বের দেশগুলো প্রধানত তিনটি পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে। এর মধ্যে অধিকাংশই বাজারদরের সঙ্গে মিল রেখে সমন্বয় করে। কিছু দেশ আছে প্রাইস সিলিং বা সর্বোচ্চ মূল্য বেঁধে দেওয়ার পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকে। আর সবচেয়ে কঠোর পদ্ধতি হলো ফিক্সড প্রাইস বা এক দর পদ্ধতি। ফিক্সড প্রাইস সরকার নির্ধারিত থাকে। তবে এটি সর্বোচ্চ মূল্যের ওপরে উঠতে পারে না। সেই সময়ে সরকার ভর্তুকি দেয়। বাংলাদেশে সরকার দাম নির্ধারণ করে এবং ঘাটতি পূরণে ভর্তুকি দেয়।

তেলের দামে যে সংস্কার চায় আইএমএফ

প্রতিবেশী ভারতে জ্বালানি তেলের দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয় এবং বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। ২০১৭ সাল থেকে এ পদ্ধতি চালু হয়েছে সেখানে।

এ পদ্ধতিতে প্রতি দিনই বাজারদর অনুযায়ী দাম সমন্বয়ের সুযোগ আছে। দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তানেও বাজারমূল্যের সঙ্গে তেলের দাম নিয়মিত সমন্বয় করা হয়।

সরকার যে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতি অনুসরণ করে, তার ফলে বিশ্ববাজারে আচমকা দাম বেড়ে গেলেও ভর্তুকি দিতে হয় সরকারকে। ফলে সরকারের ভর্তুকি বেড়ে যায়। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সরকার দেশের মধ্যে দাম বাড়ায়। কিন্তু যখন বিশ্ববাজারে দাম কমে, তখন আর দেশের বাজারে কমায় না। ফলে তেলের মূল্য কম থাকার যে সুবিধা, সেটি থেকে ভোক্তারা বঞ্চিত হন। যে কারণে বাংলাদেশে তেলের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে সংস্কার চাইছে আইএমএফ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. ম. তামিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটা ফর্মুলা করে দেয়া হোক। আইএমএফও একই কথা বলে আসছে। আমরা এ প্রস্তাব বহু আগে থেকে দিয়ে আসছি সরকারকে। কিন্তু তা আমলে নেয়া হচ্ছে না।

‘এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে জনগণ বুঝত, দাম বৃদ্ধি করা উচিত হবে কি হবে না। কত দাম নির্ধারণ করা উচিত।’ আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয় করা হলে মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি।

আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর একই অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, ‘সরকার এখন নিজেই তেলের দাম ঠিক করে দেয়। এখান থেকে বের হতে হবে। সরকারের উচিত হবে দাম নির্ধারণের পদ্ধতি থেকে বের হয়ে বাজারমূল্যের ভিত্তিতে তা ঠিক করা। প্রয়োজনে ব্যক্তি খাতকে তেল আমদানির অনুমতি দেয়া যেতে পারে। তা হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে।’

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ মিশনের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের একটি ফর্মুলা ঘোষণা করা দরকার। মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি সংস্কার করা হলে ভর্তুকি কমে যাবে।’

বিগত কয়েক বছর ধরে জ্বালানি তেলে সরকার কোনো ভর্তুকি দিচ্ছে না। সর্বশেষ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকি দেওয়া হয় ৬০০ কোটি টাকা।

তবে ২০২১ সালে করোনা-পরবর্তী জ্বালানি তেলের মূল্য বিশ্ববাজারে অনেক বৃদ্ধি পায়। সর্বশেষ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে এ মূল্য প্রতি ব্যারেলে ১১৩ মার্কিন ডলারে ওঠে, যদিও এটি কমে বর্তমান ৯৮ ডলারে এসেছে। অস্বাভাবিক এ মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকার এক দফা জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করেছে।

এরপরও ওই বছর প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি লেগেছে জ্বালানি তেলে। এখন আবার দাম বাড়িয়েছে সরকার। দাম বাড়ার পরও ভর্তুকি এবার ২৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
মন্দার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
‘জ্বালানির দাম বৃদ্ধির চাপ অর্থনীতি নিতে পারবে না’
কোনো দেশের পক্ষে এভাবে ভর্তুকি দেয়া সম্ভব না: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The landlords knew that the price of oil would increase

তেলের দাম বাড়বে, আগেই জানতেন বাসমালিকরা

তেলের দাম বাড়বে, আগেই জানতেন বাসমালিকরা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরের দিন শনিবার কম বাস চলাচল করতে দেখা যায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। ছবি: নিউজবাংলা
যাত্রীদের ভোগান্তি আড়ালে আগের ভাড়া নিতে বাসের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন মালিকরা। একই সঙ্গে বাসের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে চালকদের অন্তত শনিবার দিনভর গাড়ি চালাতে বলেছেন তারা। শনিবার সকাল থেকে রাজধানী ও দূরপাল্লার বাস চলাচলের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে এমন তথ্য পেয়েছে নিউজবাংলা।

সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা হঠাৎ দিলেও বিষয়টি আগেই জানতেন বাসমালিকরা। এ কারণে কৌশলী ভূমিকা নিয়েছেন তারা।

যাত্রীদের ভোগান্তি আড়ালে আগের ভাড়া নিতে বাসের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন মালিকরা। একই সঙ্গে বাসের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে চালকদের অন্তত শনিবার দিনভর গাড়ি চালাতে বলেছেন তারা।

শনিবার সকাল থেকে রাজধানী ও দূরপাল্লার বাস চলাচলের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে এমন তথ্য পেয়েছে নিউজবাংলা।

এদিকে ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির কথা বলে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করতে দেখা যায় বাসের চালক ও সহকারীদের। ভাড়া বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা শনিবার বিকেলের মধ্যে না এলে পরিবহন ধর্মঘটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন চালকরা।

কৌশলী বাসমালিকরা

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার সন্ধ্যার প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী এক লিটার ডিজেল ও কেরোসিন কিনতে হবে ১১৪ টাকায়। অন্যদিকে অকটেনের দাম লিটারে বাড়ানো হয় ৪৬ টাকা। এখন প্রতি লিটার অকটেন কিনতে ১৩৫ টাকা ‍গুনতে হবে।

এর বাইরে লিটারপ্রতি ৪৪ টাকা বাড়ানো হয় পেট্রলের দাম। এখন থেকে জ্বালানিটির প্রতি লিটার ১৩০ টাকা।

ডিজেলের আকস্মিক এ মূল্যবৃদ্ধির পর শনিবার সকাল থেকে রাজধানী ও দূরপাল্লার অনেক বাসের চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এমনকি তারা আগের ভাড়াতেই গাড়ি চালানোর দাবি করেন, তবে এর বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে।

শুক্রবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর থেকেই অনেক মালিক তাদের বাস চালানো বন্ধ রাখেন।

রাজধানীর গুলিস্তান-মহাখালীসহ একাধিক বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। রাজধানীর গুলিস্তানে গিয়ে দেখা যায় প্রায় সব রুটের বাস ছাড়ছে এখান থেকে।

গাজীপুরগামী একটি পরিবহনের চালক মিল্টন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মালিক বলেছে আজকে কষ্ট করে হলেও আগের ভাড়াতেই বাস চালাতে। বিকেলের মধ্যেই ভাড়া বাড়ানোর একটি সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে। এটা নিয়ে আমাদের দুঃশ্চিন্তা করতে মানা করেছে মালিক।’

ঢাকার দোহারগামী একটি বাসের চালক মোহাম্মদ আলী জানান, মালিকের নির্দেশে তিনিও আগের ভাড়াই নিচ্ছেন।

তেলে বাড়তি খরচ করে বাস চালানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই তো দুপুর পর্যন্তই চালাব। তারপর অবস্থা বুঝে বন্ধ করে দেব। ভাড়া না বাড়লে গাড়ি বন্ধ থাকবে।’

আগের ভাড়াতে বাস চলছে কি না, তা যাচাই করতে কয়েকটি বাসে চড়ে রাজধানীর একাধিক গন্তব্যে যান এ প্রতিবেদক। প্রতিটি বাসের সহকারীরা যাত্রীদের কাছ থেকে আগের ভাড়াই আদায় করেন।

আগের ভাড়ায় বাস চালাচ্ছেন কেন জানতে চাইলে গুলিস্তান থেকে গাজীপুরগামী একটি পরিবহনের সহকারী বলেন, ‘আমরা তো বাস নামাইতাম না। আমাগো মালিক আওয়ামী লীগের নেতা। সরকারের কথা তো মানতে হইব। আমাগোরে কইল তোরা বাস চালা।

‘ভাড়া বাড়ানোর ব্যবস্থা হইতাছে। বাড়তি ভাড়া নিয়া গ্যাঞ্জাম বাধাইস না। পাবলিক ক্ষেইপা গেলে চাপ আইব। চুপচাপ থাক; সব হইব।’

যাত্রাকালে কথাচ্ছলে মহাখালী থেকে মিরপুরগামী একটি বাসচালকের কাছ থেকেও একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মিরাজ নামের ওই চালক বলেন, ‘মালিক বলল, কোনো ঝামেলার দরকার নাই। ভাড়া অটো বাড়ব। কোনো আওয়াজ দরকার নাই।’

চালকের তথ্য অনুযায়ী, এ পরিবহনের মালিকও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত।

মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেল স্বনামধন্য পরিবহনগুলোর টিকেট কাউন্টারগুলো খোলা, তবে বন্ধ রয়েছে অনেকগুলো পরিবহনের কাউন্টার।

খোলা কাউন্টারগুলোতে আগের ভাড়াতেই যাত্রীদের টিকেট দেয়া হচ্ছে।

তেলের দাম বাড়বে, আগেই জানতেন বাসমালিকরা

উত্তরা পরিবহনের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বরত মো. আলিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকেই আমাদের বাস চলছে, তবে আগের তুলনায় অর্ধেক। সব মালিকরা বাস চালাচ্ছেন না। আজকে সকাল থেকে ৬টা বাস ছেড়ে গেছে।

‘অন্য দিন এই সময়ে ১২ থেকে ১৫টি বাস ছাড়ে। একটু পর হয়তো আর আমাদের বাস চলবে না।’

কিশোরগঞ্জগামী অনন্যা পরিবহনের কাউন্টারের দায়িত্বরত মো. শামীম বলেন, ‘আমাদের বাস চলেছে। মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সমিতির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। বিকেলের মধ্যে সিদ্ধান্ত না পেলে বাস বন্ধ করার প্রস্তুতি আছে আমাদের।’

কাউন্টারগুলো থেকে আগের ভাড়ায় যাত্রী তোলা হলেও কিছু কিছু বাসের চালক-সহকারীদের মাঝ রাস্তা থেকে বাড়তি ভাড়ায় যাত্রী তুলতেও দেখা যায়।

মহাখালী টার্মিনালের বাইরে ময়মনসিংহগামী স্বাধীন পরিবহনের একটি বাসের সহকারীর সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান সুমন নামের এক যুবক। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি মুক্তাগাছা যাব। অন্য সময় ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় যাই। আজকে ওরা ৩৫০ টাকা চাইছে ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে। সরকার তো এখনও বাসের ভাড়া বাড়ায়নি। তাহলে তারা কেন বাড়তি ভাড়া আদায় করছে?’

তেলের দাম বাড়বে, আগেই জানতেন বাসমালিকরা

মালিক সমিতির মহাসচিবের ভাষ্য

বাস চলাচল, ভাড়া বৃদ্ধিসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সব মালিককে বাস চালাতে আমরা নির্দেশ দিয়েছি। একই সঙ্গে বাড়তি ভাড়া না নিতেও বলা হয়েছে। অধিকাংশ বাসমালিকই আমাদের নির্দেশনা মানছেন।

‘কেউ কেউ আছে, তারা তাদের বাস বন্ধ রেখেছেন। আমরা ভাড়া সমন্বয়ের জন্য বিআরটিএকে চিঠি দিয়েছি। আজকে বিকেল ৫টায় বিআরটিএ কার্যালয়ে একটি বৈঠক হবে। আমরা যাত্রী সাধারণের কথা মাথায় রেখে বাস চালিয়ে যাব।’

নির্দেশনা অমান্য করে বাড়তি ভাড়া নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খাতে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। আর অস্থির সময়ে সবাইকে নিয়মের মধ্যে রাখা সম্ভব হয় না।

‘এমন সময়ে অনেকেই সুযোগ নিতে চায়। তবুও আমরা খেয়াল রাখব ভাড়া সমন্বয়ের আগে কেউ যেন বাড়তি ভাড়া আদায় করতে না পারে।’

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার খবর আগে থেকে জানতেন কি না, সে প্রশ্নের জবাবে এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা জানতাম। মাসখানেক আগে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একটা মিটিং করেছিলাম আমরা। তখন এ বিষয়টা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল।’

আরও পড়ুন:
বাস ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বৈঠক বিকেলে
মাগুরায় ‘মালিক পক্ষের নির্দেশে’ বাস ভাড়া বেশি
রাজশাহীতে বাস সংকট, দুর্ভোগে যাত্রীরা
চট্টগ্রামে বন্ধ ডিজেলচালিত বাস, চলছে গ্যাসেরগুলো
রাজধানীতে বাস পাচ্ছেন না যাত্রীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Impatience crossing at level crossings

লেভেলক্রসিংয়ে অধৈর্য পারাপার

লেভেলক্রসিংয়ে অধৈর্য পারাপার ট্রেন আসছে, এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে রেল লাইন পার হচ্ছে মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা
‘পাবলিকের আরও সতর্ক হওয়া উচিত। কিছু হইলেই বলে গেটম্যানের দোষ। কিন্তু পাবলিক তো নিজেরাই কোনো সিগন্যাল মানতে চায় না।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এফডিসির সামনের রেলগেট। ট্রেন আসছে। তীব্র শব্দে বেজে উঠেছে সাইরেন। নেমে গেছে লেভেলক্রসিং বার, কিন্তু থমকে যায়নি দুই পাশের সব কিছু; বরং চাঞ্চল্য যেন বেড়েছে একটু বেশি।

এই গেটে দুটি বার থাকার কথা, কিন্তু আছে চারটি। দেখা যায়, ট্রেন আসার আগে আগে যখন বার নামিয়ে দেয়া হয়, তখন উল্টো পাশ দিয়ে রিকশা, মোটরসাইকেল, কখনও কখনও মাইক্রোবাসও এগিয়ে যায়।

তাদের আগ্রহ থাকে, যখন বার উঠে যাবে, তখন সবার আগে অন্য পাশ গিয়ে বেরিয়ে যাবে, কিন্তু এটা করতে গিয়ে জটলা আরও বেড়ে যায়।

বৈধ বা অবৈধ লেভেলক্রসিংয়ে নানা সময় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণহানির পর বিতর্ক ওঠে সেখানে ক্রসিং বার ছিল কি না বা ট্রেন আসার কোনো সংকেত ছিল কি না।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১১ আরোহীর মৃত্যুর পর দুটি বর্ণনা এসেছে সংবাদমাধ্যমে। কেউ বলছেন, সেখানে ক্রসিং বার ফেলা ছিল না, তবে রেলওয়ের দাবি, ক্রসিং বার ফেলে গেটম্যান নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। মাইক্রোচালক বার তুলে এগিয়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সেখানে কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি তদন্তের পর জানা যাবে। তবে রাজধানীর নানা রেলগেটে চালকদের মধ্যে অস্থিরতা আর নিয়ম না মানার প্রবণতা নিত্য দেখা যায়। এতে প্রাণহানিও ঘটে। এর মধ্যে কারওয়ান বাজার ও খিলক্ষেত রেলগেটে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে ট্রেনে কাটা পড়ে।

মীরসরাইয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার তিন দিন পর কারওয়ান বাজারের এফডিসি রেলগেট এলাকায় দেখা যায়, ট্রেনের সংকেত বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে গেটের বারগুলো নামানোর পর একটি মাইক্রোবাস উল্টো পাশ দিয়ে রেলগেটের সামনের দিকে ছুটছে। পরে উল্টো পাশ দিয়ে গেট পার হয়ে মাইক্রোবাসটি আবার প্রান্ত বদল করে চলে যায় গন্তব্যে।

গেটকিপার লিটন মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা হলো মানুষ সিগন্যাল অমান্য করে। আপনারা তো দেখলেন একটা মাইক্রোবাস কীভাবে চলে গেল!’

তিনি বলেন, ‘পাবলিককে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। কিছু হইলেই বলে গেটম্যানের দোষ, কিন্তু পাবলিক তো নিজেরাই কোনো সিগন্যাল মানতে চায় না। ট্রেন আসার সময় যে ব্যারিয়ার দেয়া হয়, সেটা অনেকে মানে না। এফডিসির সামনের রাস্তায় রং সাইড দিয়ে গাড়ি ঢুকে রেললাইন পার হয়। ট্রাফিক জ্যামের সময় এটা বেশি করে রিকশাগুলো। আবার মাছের আড়ত হওয়ায় অনেক ভ্যানও সিগন্যাল মানে না।

‘এমনও অবস্থা হয় যে, রং সাইড দিয়ে গাড়ি ঢুকে জ্যাম তৈরি করে। তখন ট্রেনের সিগন্যাল পড়লে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।’

লেভেলক্রসিংয়ের পাশের পানের দোকানদার মো. মারুফ বলেন, ‘এফডিসির সামনে একটা কাটা আছে ইউটার্নের মতো। ওই ফাঁক দিয়েই গাড়িগুলো অবৈধভাবে সামনে চলে আসে।

‘যখন ট্রেনের সিগন্যাল দেয়, তখনও অবৈধভাবে গাড়ি এসে সুযোগ পেলেও আবার উল্টো দিকে চলে যায়।’

কারওয়ান বাজার মাইক্রোস্ট্যান্ডে কয়েকজন চালকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তারাও জানান উল্টো পাশ দিয়ে গেট অতিক্রমের চেষ্টার কথা।

তাদের একজন আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সুযোগ পেলে অনেকে রাস্তা খালি পেয়ে টান দিয়ে চলে আসে। অনেকে আমরা সতর্ক, তবে চট্টগ্রামের ঘটনার পর সতর্ক থাকে অনেকে।’

আরেক চালক মো. শামীম বলেন, ‘আমি আসিনি। কেউ এলে আসতেই পারে।’

কারওয়ান বাজার এলাকাতেই রেললাইন ধরে হাঁটতে দেখা গেল কয়েকজনকে। হাঁটার সময় কেউ কেউ আবার মোবাইল ফোনে কথাও বলছিলেন।

ট্রেন আসার সতর্কসংকেত বাজতে থাকলেও দৌড়ে লাইন পার হচ্ছেন, এমন মানুষের সংখ্যা একেবারে কম নয়।

তাদের একজন কাইয়ুম মিয়া। রেললাইন ধরে হাঁটার ঝুঁকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি চলে আসছি, তবে রেললাইন দিয়ে যাওয়া তো অবশ্যই ঝুঁকির। এমনও হতে পারে যে, ট্রেন এলে সরে যাওয়ার সুযোগই পাব না।’

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন সম্প্রতি মানুষের এই অসচেতনতার বিষয়টি নিয়েই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘ট্রেন কাউকে ধাক্কা দেয় না। রেলপথে এসে অন্যরা দুর্ঘটনার কারণ হলে তার দায় রেল নেবে না।’

লেভেলক্রসিংয়ে অধৈর্য পারাপার
ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পার হচ্ছে মানুষ ও যানবাহন। ছবি: নিউজবাংলা

গেটম্যানদের কঠিন জীবন

বড় মগবাজার ওয়্যারলেস রেলগেটের স্টাফ গেটকিপার শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কর্মস্থলে কোনো বাথরুম নেই। এটা তো রেলের কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে। আমি তো এখানে ৮ ঘণ্টা ডিউটি করি।

‘অনেক ক্ষেত্রে আমাদের ডিউটির সময় বাথরুমে যেতে হয়, কিন্তু আমরা পারি না। যদিও যাই, তখন একটা রিস্কের ব্যাপার হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সীমানার ভেতরে ট্রেন আসার আগে সিগন্যাল আসে, যার মাধ্যমে আমরা ট্রেন আসার বিষয়টি বুঝতে পারি। সিগন্যালে আলো জ্বলে। আপলাইনে লাল আলো আর ডাউন লাইনে হলুদ আলো জ্বলে। তখন দ্রুত দুই পাশের রাস্তার গেটে কন্ট্রোল করি, তবে অনেক রেলগেট আছে, যেখানে ট্রেন এলে তারা সিগন্যাল পায় না।

‘কোনো আলো জ্বলে না। এটা রেলের কর্মকর্তাদের দেখা উচিত। এটা তো একটা গাফিলতি।’

পথচারী বা যানবাহন চালকদের সঙ্গে পেরে ওঠা যায় না বলেও আক্ষেপের কথা বলেন শফিকুল। তিনি বলেন, ‘মানুষ রেললাইনের মধ্য দিয়ে কথা বলতে থাকে। বাঁশি দিলেও শোনে না। অনেকে আবার মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইন দিয়ে যায়। যাদের ডাকলেও তারা শোনে না। এরাই রেল দুর্ঘটনায় মারা যায়।’

রেললাইনের পাশেই দোকান

রেলে কাটা পড়ে মৃত্যুর এটিও একটি কারণ বলে জানিয়েছেন রেলের কর্মীরা।

বড় মগবাজার ওয়্যারলেস রেলগেটের দুই পাশে দোকানের সারি। অনেকে আবার ঠিক রেললাইনের ওপর দোকান পেতে বসেছেন। সেই দোকানদারদের সবাই ট্রেন আসার সময় উঠে যাচ্ছেন।

আমান উল্যাহ। বাড়ি পুরান ঢাকায়। কাজ করেন ওয়্যারলেস রেলগেটের সামনে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রেলের দুর্ঘটনা বেশির ভাগ সময় সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কারণে হয়। অনেক সময় রেলের সিগন্যালম্যানের ভুলেও হয়। ধরেন, কেউ বাথরুমে গেছে আর ট্রেন চলে আসছে।’

সেখানে রেললাইনের ওপর রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল মোস্তাফিজুরকে। লাইনের ওপর এভাবে দাঁড়ানো ঝুঁকিপূর্ণ বলে নিজেই স্বীকার করলেন তিনি।

মোস্তাফিজুর বলেন, ‘চইলা যামু।’

সমাধান কী

ট্রেনের লেভেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা কীভাবে কমানো যায়, এই প্রশ্নে বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) পরিচালক হাদিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকার মধ্যে যে লেভেলক্রসিংগুলো আছে, সেখানে যে পথচারী ও অন্য যানবাহনের চালক, উভয় পক্ষই চরম অধৈর্য।’

তিনি বলেন, ‘রেলের দুর্ঘটনার কারণ একটি হলো লাইনের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা। এ কারণে সেখানে পথচারীর যাতায়াত বেশি হয়। যেখানে হাটবাজার থাকবে, সেখানে রেলে কাটা পড়া মানুষ বেশি হবেই।

‘দ্বিতীয় বিষয়টি হলো ঢাকায় লেভেলক্রসিংয়ে প্রায় দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। আমরা গবেষণায় দেখেছি, এতে সারা দিনে সাড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা দেরি হয়, যার কারণে যানজটও হয়। এ কারণে যাত্রীদের মধ্যে ধৈর্যচ্যুতি হয়।’

তিনি বলেন, ‘পথচারীদের জন্য ফুটওভার ব্রিজ, অযান্ত্রিক যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করার পর গেটম্যান দিয়ে রেললাইন নিয়ন্ত্রণ করা আধুনিক যুগে হবে না। এ জন্য লাগবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি।’

মৃত্যু কম নয়

এআরআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে সারা দেশে রেলের ধাক্কার ১৪২টি ঘটনায় ১৫৮ জনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালে লেভেলক্রসিংয়ে এ সংখ্যাটি কমে আসে অনেকটাই। ৭৯টি দুর্ঘটনায় ওই বছর ৮২ জন পথচারীর মৃত্যু হয়।

এ সময়টায় করোনাভাইরাসজনিত বিধিনিষেধের কারণে রেল এবং পথচারী চলাচল অবশ্য সীমিত ছিল। চলতি বছরে ৯৯টি রেল দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয় ১০৫ জনের।

আরও পড়ুন:
মীরসরাই দুর্ঘটনা: চমেকে আরও একজনের মৃত্যু
কনফেকশনারিতে পাওয়া যাচ্ছিল রেলের টিকিট
ট্রেন তো সোজা চলে, দুর্ঘটনার দায় রেলের কেন: রেলমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
New initiative to protect Mecho tiger

মেছো বাঘ রক্ষায় নতুন উদ্যোগ

মেছো বাঘ রক্ষায় নতুন উদ্যোগ ফাইল ছবি
আগে জলাভূমি এলাকার মেছো বিড়াল ধরা পড়লে সেগুলোকে উদ্ধার করে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনে ছেড়ে দেয়া হতো। প্রতিকূল পরিবেশে মানিয়ে নিতে না পেরে সেগুলো আবার ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করত জলাভূমি এলাকায়। গত দুই বছর ধরে সিলেটের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কার্যালয় এ পদ্ধতিটি বদলে ফেলেছে।

নিরীহ নিশাচর এক বন্যপ্রাণী মেছো বিড়ালকে সাধারণ মানুষ ডাকে ‘মেছো বাঘ’ নামে। আর এ নামের কারণে ভুল ধারণার শিকার হয়ে প্রাণীটি বিপন্ন হয়ে পড়েছে।

সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার হাওর-বাঁওড় ও ছোট-বড় জলাভূমির আশপাশের ঝোপঝাড়, বাঁশঝাড়জুড়ে এই প্রাণীটির আবাসস্থল। নানা কারণে দিনে দিনে কমে যাচ্ছে মেছো বিড়ালের সংখ্যা। বিশেষ করে হাওর এলাকায় মাছ ও হাঁসের খামারের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ঝোপঝাড় কমে যাওয়ায় কমে যাচ্ছে এদের আবাসস্থল। ফলে বিভিন্ন সময় মানুষের হাতে ধরা পড়ছে মেছো বিড়াল এবং এদের শাবক। জলাভূমি ধ্বংসের কারণে মেছো বিড়াল ক্রমাগত মানুষের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। মেছো বিড়াল আর মানুষের সংঘাত নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে এই গবেষণা করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুনতাসির আকাশের নেতৃত্বে গবেষণাটি গত মার্চে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘স্টুডেন্ট কনফারেন্স অন কনজারভেশন সায়েন্স’ শীর্ষক কনফারেন্সে পোস্টার হিসেবে প্রদর্শিত হয়। এই গবেষণাটি ৪২টি দেশের ১১৬টি পোস্টারের মধ্যে শ্রেষ্ঠ পোস্টার হিসেবে পুরস্কৃত হয়।

এ গবেষণায় সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া এ রকম সংঘাতের খবরগুলোকে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ৯টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। একটি সংবাদে মেছো বিড়ালের ছবি কিংবা বন বিভাগ বা বিশেষজ্ঞের বিবৃতি থাকলেই কেবল সংবাদটিকে সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংঘাতের স্থান, স্থানের প্রকৃতি এবং মেছো বিড়াল অবমুক্তির স্থানের বিষয়টি লক্ষ করা হয়। এ ছাড়া সংঘাত কোন সময়, কোন ঋতু এবং কোন বছরে ঘটেছে, সেটিও দেখা হয়। এর পাশাপাশি, প্রতিটি সংঘাতের পেছনের কারণ, মানুষের প্রতিশোধমূলক প্রবৃত্তির ধরন এবং সংঘাতে জড়িত মেছো বিড়ালের সংখ্যা, মৃত, উদ্ধারকৃত এবং অবমুক্তকৃত বিড়ালের সংখ্যাটিও লিপিবদ্ধ করা হয়।

২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মেছো বিড়ালের সঙ্গে মানুষের সংঘাতের ৩৬১টি ঘটনার ৫৬৪টি খবর সংগ্রহ করেন গবেষকরা। এর মধ্যে ছিল ৩৯৫টি পূর্ণবয়স্ক এবং ১৭০টি অপ্রাপ্তবয়স্ক বা শাবক মেছো বিড়াল।

এ ঘটনাগুলোতে ১৬০টি মেছো বিড়ালের মৃত্যুর খবর উঠে এসেছে। প্রায় ৮৩ শতাংশ ক্ষেত্রে মেছো বিড়ালকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ধরনের সংবাদগুলোয় বিড়ালটিকে মেছো বাঘ, খাটাশ, চিতাবাঘের শাবক এমনকি বাঘ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

মুনতাসির আকাশ জানান, এ খবরগুলোর বিস্তৃতির মানচিত্র থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশে উত্তর-পূর্ব, উত্তর-পশ্চিম, দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার সব জলাভূমিই মানুষ-মেছো বিড়ালের সংঘাতের হটস্পট। এ ছাড়া এ খবরগুলো থেকে সীতাকুণ্ড-চট্টগ্রাম এলাকায় মেছো বিড়ালের নতুন একটি পপুলেশনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (আইইউসিএন) থেকে ২০২২ সালে প্রকাশিত মেছো বিড়ালের বৈশ্বিক বিস্তৃতির মানচিত্রে সীতাকুণ্ড-চট্টগ্রাম এলাকায় মেছো বিড়ালের উপস্থিতির বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছিল। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এই গবেষণায় সারা বাংলাদেশে বিশেষত ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা বিভাগের অনেক এলাকায় মেছো বিড়ালের উপস্থিতির বিষয়টি উঠে আসে। এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অজানা ছিল।

মেছো বিড়াল-মানুষ সংঘাতের খবর সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বেড়েছে বলে গবেষণাটিতে উল্লেখ করা হয়। শীতকালেই সংঘাতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি হয়। মুনতাসির আকাশ জানান, ২০১৬ সাল থেকে প্রতি ১৫ দিনে একটি করে নতুন মেছো বিড়াল-মানুষের সংঘাতের খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে।

এ সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে মানুষ দেখামাত্র (অ্যাটাক অন সাইট) মেছো বিড়ালের প্রতি প্রতিশোধমূলক আচরণ দেখিয়েছে। মাত্র ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সংঘাতগুলো হয়েছে মেছো বিড়ালের হাঁস-মুরগি খাওয়ার কারণে। প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে মেছো বিড়াল রাস্তায় গাড়ি দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছে, যার সবই বিড়ালগুলো মারা গেছে।

প্রতিশোধমূলক প্রবৃত্তির ধরন হিসেবে ধাওয়া করে মেছো বিড়ালকে আক্রমণ করার ব্যাপারটি প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে। ২০ শতাংশ ঘটনায় ফাঁদ পেতে মেছো বিড়াল ধরা হয়েছে বলে সমীক্ষায় জানা যায়।

মৌলভীবাজারে অবস্থিত সিলেট বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কার্যালয়ের উদ্যোগে মেছো বিড়াল সংরক্ষণ ও এ ধরনের সংঘাতের ঘটনা কমানোর একটি কার্যক্রমে সাফল্য পাওয়া গেছে।

বছর দুয়েক আগেও মেছো বিড়াল কিংবা মেছো বিড়ালের শাবকদের হাওর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করে এ দপ্তরের আওতাধীন লাউয়াছড়া, সাতছড়ি কিংবা বর্ষিজোড়ার সংরক্ষিত বনে এনে অবমুক্ত করা হতো। এতে দেখা গেছে, মেছো বিড়ালগুলো তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রাণীটি নতুন স্থানে এসে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে খাদ্য ও আবাসসংকটে পড়ছে। এ ছাড়া তাদের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধিও ব্যহত হচ্ছে। এসব মেছো বিড়াল বিভিন্ন লোকালয় ডিঙ্গিয়ে হাওর বা জলাভূমিসমৃদ্ধ ঝোপঝাড়ের দিকে আবার পাড়ি জমায়। পরিণামে এগুলো লোকালয়ে আবার ধরা পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সংরক্ষিত বনের বিভিন্ন রকম প্রতিকূলতা ও পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারার কারণে দীর্ঘ দিন প্রাণীটি খাদ্যাভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে বংশবৃদ্ধির স্বাভাবিক গতি বিঘ্নিত হয়।

মেছো বিড়ালের শাবক ধরা পড়লে এতোদিন এদের কৃত্রিম দুধ খাইয়ে বড় করে তোলার চেষ্টা করা হতো, যা বেশ কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। মায়ের যত্নবিহীন বেশির ভাগ শাবক এভাবে বাঁচানোই যেত না। কোনোভাবে দু-একটি বাঁচলেও সেগুলো বন্যতা হারিয়ে গৃহপালিত প্রাণীর মতো বেঁচে থাকত।

এসব কারণে গত দু বছর ধরে উদ্ধার হওয়া মেছো বিড়াল কিংবা এদের শাবকদের দূরের অন্য কোনো সংরক্ষিত বনে আর ছাড়া হচ্ছে না। এর বদলে এখন স্থানীয় মানুষজনকে বুঝিয়ে প্রাণীটিকে তার ধরা পড়ার স্থানেই অবমুক্ত করা হচ্ছে।

বর্তমান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বন বিভাগে যোগদান করার পর থেকেই পুরোনো উদ্যোগে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বন্যপ্রাণীর প্রতি রেজাউল করিমের ভালোবাসা, জীববিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাধারা, পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে মৌলভীবাজার বন বিভাগ গত ২ বছর ধরে মেছো বিড়াল, বনবিড়াল, গন্ধগোকুলের মতো ছোট আকারের মাংসাসী স্তন্যপায়ী প্রাণীসহ বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণীকে তাদের নিজস্ব পরিবেশে অবমুক্ত করা হচ্ছে। নতুন এই ধারণাটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ইতোমধ্যে ফলপ্রসূ ও কার্যকর বলে প্রমাণ হচ্ছে।

মেছো বিড়ালকে তাদের নিজস্ব আবাসস্থলে অবমুক্ত করায় এরা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা, বসবাস ও প্রজনন সম্পন্ন করছে। শাবকগুলোকে তাদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়ায় তারা মায়ের যত্নে বেড়ে উঠছে।

এভাবে এখন পর্যন্ত ৩১টি মেছো বিড়ালের শাবককে তাদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। নিজস্ব আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে ৫৯টি মেছো বিড়ালকে।

তিনটি মেছো বিড়াল জনরোষের শিকার হয়ে মারা যাওয়ায় মৌলভীবাজারের রাজনগর ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও সিলেট সদর থানায় মামলা দায়ের হয়। রাজনগর থানায় দায়ের করা মামলার আসামির সাজাও হয়েছে। মেছো বিড়াল হত্যায় দেশের আইনে এটি প্রথম শাস্তির ঘটনা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এ গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে মেছো বিড়ালের প্রায় ৯০ শতাংশ আবাসস্থল অরক্ষিত। আহত মেছো বিড়ালের পর্যাপ্ত ও সঠিক চিকিৎসা না করতে পারা, জলাভূমির পরিবর্তে বনভূমিতে মেছো বিড়াল অবমুক্ত করা এবং একই বনভূমিতে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত মেছোবিড়াল ছাড়বার বিষয়গুলোও গবেষণাটিতে উঠে আসে।

গবেষকদের দাবি, সুন্দরবন রক্ষায় বাঘের ভূমিকার মতোই জলাভূমি রক্ষায় মেছো বিড়ালকে ফ্ল্যাগশিপ প্রজাতি হিসেবে তুলে ধরতে হবে। সেই সাথে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মেছো বিড়াল অবমুক্ত করার পদ্ধতি প্রয়োগ করে সিলেটের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ যেভাবে সফলতা পেয়েছে, তা সিলেটের পাশাপাশি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন:
রাজ-পরীর সংসারে ৪ বাঘ
ঘেরের পাশে বাঘের হাঁটাহাঁটি, গোলাখালী গ্রামে আতঙ্ক
সুন্দরবনের ‘রাজার’ মৃত্যু

মন্তব্য

p
উপরে