× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Kheta Shah from Fazlul
hear-news
player
google_news print-icon

ফজলুল থেকে খেতা শাহ

ফজলুল-থেকে-খেতা-শাহ
ভক্তের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে তার স্ত্রীসহ পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফজলুল হক তালুকদার ওরফে খেতা শাহর বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা
ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষায় কাঁথাকে বলা হয় খেতা। টিকুরী এলাকায় সব সময় ছেঁড়া কাঁথা শরীরে জড়িয়ে রাখতেন। তিনি যা বলতেন তাই হতো- এমন বিশ্বাসে অনেক লোক তার ভক্ত হয়ে যান৷ বৃদ্ধ বয়সে মারা যান সেই ব্যক্তি। কিন্তু থেকে যান ভক্তরা। একপর্যায়ে নির্মাণ করা হয় মাজার। নামকরণ করা হয় 'খেতা ছিঁড়ার মাজার'। পাগল বেশে ফজলুল হক তালুকদার নামের একজন আসেন মাজারটিতে। বড় দাড়ি, লম্বা গোফ ও ছেঁড়া কাঁথা গায়ে জড়িয়ে সারাক্ষণ মাজারে বসে সময় কাটাতেন। কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে মাজারের নামের সঙ্গে নাম মিলিয়ে নিজেকে ‘খেতা শাহ’ হিসেবে পরিচয় দেন৷

'খেতা ছিঁড়ার মাজার' ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় বেশ পরিচিত। মাজারটির অবস্থান উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের টিকুরী এলাকায়।

প্রতি বছর একবার ওরশ জমে এ মাজারে। ২৮ বছরের ব্যবধানে ধীরে ধীরে মাজারটি দেশের বিভিন্ন জায়গার লোকদের মাঝেও পরিচিতি পেয়েছে।

ওরশ চলাকালীন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুঁটে আসে ভক্তরা। কেউ আবার ফকির বেশে আসে।

তবে যে মাজারটির পরিচয় ছিল স্থানীয় পর্যায়ে, একটি বিশেষ কাণ্ডে সেটির নাম এখন ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশেই।

এই মাজারের খেতা শাহ নামে এক ফকির তার এক ভক্তের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়েছেন- থানায় এমন অভিযোগ করার পর মাজারটি নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি উৎসাহ।

সম্প্রতি ওই এলাকার মাজারে বসবাস করা ফজলুল হক তালুকদার ওরফে খেতা শাহ নামের সেই ফকির আশ্রয় নেয় শফিকুল ইসলাম নামের এক ভক্তের বাসায়। কয়েক দিন পর শফিকুলের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যান খেতা শাহ।

সেই ঘটনার পর কে এই খেতা শাহ, কীভাবে তার এই নামকরণ, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জিজ্ঞাসা।

খেতা ছিঁড়ার মাজারে ফজলুল হক এসে হয়ে যান খেতা শাহ

ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষায় কাঁথাকে বলা হয় খেতা। টিকুরী এলাকায় সব সময় ছেঁড়া কাঁথা শরীরে জড়িয়ে রাখতেন। তিনি যা বলতেন তাই হতো- এমন বিশ্বাসে অনেক লোক তার ভক্ত হয়ে যান৷

বৃদ্ধ বয়সে মারা যান সেই ব্যক্তি। কিন্তু থেকে যান ভক্তরা। একপর্যায়ে নির্মাণ করা হয় মাজার। নামকরণ করা হয় 'খেতা ছিঁড়ার মাজার'। প্রতি বছর পালন করা হয় ওরস।

ফজলুল থেকে খেতা শাহ
ময়মনসিংহের তারাকান্দার 'খেতা ছিঁড়ার মাজার'

এবারও চার মাস আগে ওরস শুরু হয় ওই মাজারে। বরাবরের মতো এবারও হাজারো ভক্তসহ লোকজন আসে মনের বাসনা পূরণ করার আশায়।

পাগল বেশে ফজলুল হক তালুকদার নামের একজনও আসেন মাজারটিতে। বড় দাড়ি, লম্বা গোফ ও ছিঁড়া খেতা গায়ে জড়িয়ে সারাক্ষণ মাজারে বসে সময় কাটাতেন। কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে মাজারের নামের সঙ্গে নাম মিলিয়ে নিজেকে ‘খেতা শাহ’ হিসেবে পরিচয় দেন৷

৬০ বছর বয়সী ফজলুলের বাড়ি নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার পাইলাটি গ্রামে। তিনি মৃত মনা তালুকদারের ছেলে।

নিজেকে আধ্যাত্মিক ফকির হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি পেতে কথাও বলতেন খুব কম। এভাবে গ্রামের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেন তিনি।

তাকে বাবা ডেকে অনেকে মনের বাসনা পূরণ করতে দোয়া চেয়ে নিতেন। যারা তার কাছে আসতেন, তাদের অনেককে মাথায় হাত ভুলিয়ে ঝাড়ফুঁক দিতেন। এভাবে কয়েক দিনেই তার ভক্তের সংখ্যা বেড়ে যায়।

খেতা শাহ মাজারে আসার কয়েক দিন পরই মাজারের পাশে এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই বাড়িতে তার ভালো লাগেনি৷ দুই মাস পর আবার মাজার ও আশপাশে সময় কাটাতে থাকেন তিনি।

সংসারের উন্নতির আশায় ঘরে আশ্রয়

আধ্যাত্মিক ফকির ভেবে খেতা শাহের ভক্ত হয়ে যান শফিকুলও। সংসারের উন্নতি আর মনের বাসনা পূরণ হবে- এমন ধারণা থেকে দুই চাচার পরামর্শে নিয়ে আসেন বাড়িতে।

ফজলুল থেকে খেতা শাহ
এই বাড়িতে খেতা শাহকে আশ্রয় দিয়েছিলেন শফিকুল

খেতা শাহকে বাড়ির বারান্দায় আশ্রয় দেন শফিকুল৷ সেখানে রেখেই আপ্যায়ন শুরু করেন। স্ত্রীকেও বলতেন ঠিকঠাক সেবা করতে।

খেতা শাহ থাকেন জেনে সেই বাড়িতেও আসতে থাকে ভক্তরা। এলাকার লোকজন কাছে এলে যথাসম্ভব চুপ থেকে ঝাড়ফুঁক করে বিদায় করতেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, খেতা শাহ সব সময় ফিসফিস করে একাকী কী যেন জপতেন।

আফজাল মিয়া নামের একজন জানান, খেতা শাহকে কেউ পীর বাবা আবার কেউ ফকির বাবা বলে ডাকত। তার কাছে ঝাঁড়ফুকের জন্য গিয়ে অনেকেই বলত বাবার ফুঁ কাজে দিয়েছে। তিনি আধ্যাত্মিক ফকির। তার ভেতরে অনেককিছু আছে।

এভাবে তার প্রতি বিশ্বাস বেড়ে যায় গ্রামের বহু মানুষের।

তবে উপকৃত হয়েছেন, এমন উদাহরণ পাওয়া কঠিন। মরজিনা বেগম নামের এক প্রবীণ নারী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ আমার মাথা ব্যথা ছিল। খেতা শাহ ওই বাড়িতে আসলে কয়েক দিন তার কাছে গিয়েছি। তিনি মাথায় হাত ভুলিয়ে ফুঁ দিয়ে দোয়া করে বলেন মাথাব্যথা ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু ভালো হয়নি। এরপর থেকে সে ভণ্ড বুঝতে পেরে আর যাইনি।’

টের পান ছেলে, অন্ধবিশ্বাসে পাত্তা দেননি শফিকুলের

এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ স্ত্রীকে নিয়ে সংসার ছিল শফিকুলের। বড় ছেলে স্থানীয় একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। খেতার শাহর সঙ্গে মায়ের সম্পর্কের বিষয়ে বাবাকে বলেওছিল সে। কিন্তু শফিকুল বিশ্বাস করেননি।

ছেলেটি নিউজবাংলাকে বলে, তাদের বাড়িতে খেতা শাহ আসার পর থেকে তার সঙ্গে কোনো কথা বলতেন না। তার বাবা কাজে বের হলে তার মায়ের সঙ্গে নানা কথাবার্তা বলতেন। তিনি বলতেন, তারা অনেক সুখী হবে, তাদের টিনের ঘর ভবনে পরিণত হবে, তারা ধনী হয়ে যাবেন।

ছেলেটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আব্বারে অনেক কইছি। আব্বা আমার কথা বিশ্বাস করে না। এর লাইগ্যাই এমুন ঘটনা ঘটাইছে ভণ্ড খেতা শাহ।’

শফিকুলের বৃদ্ধ মা মরিয়ম খাতুন বলেন, খেতা শাহ যা বলেন তাই হয়, এমন ভয় থেকে তাকে কিছু বলতে পারেনি। এখন এই বলতে না পারাকে তাদের ভুল হিসেবে দেখছেন তারা।

তিনি জানান, পালানোর সময় খেতা শাহ তার গায়ের কিছু কাঁথা বারান্দায় রেখে একটি কাঁথা শরীরে জড়িয়ে নেন।

ফজলুল থেকে খেতা শাহ
যাওয়ার সময় এগুলো ফেলে যান খেতা শাহ

শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ছেলে ভণ্ডকে বিশ্বাস করেনি। তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে বললেও অন্ধ বিশ্বাসের কারণে তা করিনি। আমার ছোট ছেলেমেয়েরা তার মায়ের জন্য সব সময় কান্নাকাটি করে। ঘটনায় নিজেই লজ্জিত হয়েছি। ভণ্ড খেতা শাহকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’

কেন এই ফকিরকে বিশ্বাস করেছিলেন, সেটিও জানান শফিকুল। বলেন ‘খেতা শাহর ব্যবহার ছিল মধুর। তিনি যা বলবেন তাই হবে বলে বিশ্বাস ছিল। এ জন্য সর্বোচ্চ যত্ন করে আমার বাসায় রেখেছি। তাকে কখনও নামাজ পড়তে দেখিনি, কিন্তু অন্ধ বিশ্বাসের কারণে অবিশ্বাস করিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিদিন সকালে তারাকান্দার চারিয়া বাজারে একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতে যাই। মাঝেমধ্যে সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরি। এ সুযোগেই স্ত্রীকে তার ভক্ত বানিয়েছে। এরপর আমার স্ত্রীর দিকে নজর দেয়।’

পালানোর পর ফোন বন্ধ

গত ২২ জুন দুপুর ১২টার দিকে শফিকুলের স্ত্রী বাবার বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় যাওয়ার কথা বলে খেতা শাহকে নিয়ে বের হন। এরপর দুজনই নিখোঁজ হন।

এ ঘটনায় খেতা শাহের নামে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন শফিকুল ইসলাম। রাত ১২টার দিকে তার অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়।

ফজলুল থেকে খেতা শাহ
খেতা শাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা শফিকুল

তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মামলার পর থেকে খেতা শাহকে গ্রেপ্তার করে শফিকুলের স্ত্রীকে উদ্ধার করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তবে ধারণা করছি, খেতা শাহ ওই নারীকে নিয়ে দেশের অন্য কোনো মাজারেও আশ্রয় নিতে পারে।

‘যদি মাজারে না যায়, তাহলে দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকতে লম্বা চুল, দাড়ি ও গোফ ফেলে দেওয়াসহ শরীরে খেতা না জড়িয়ে পোশাক পরিবর্তন করতে পারে।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে খেতা শাহর ব্যবহার করা মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।

কী বলছেন খেতা শাহের ছেলে-পুত্রবধূ

খেতা শাহর ছেলে আলমগীর তালুকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাবা বহু বছর যাবৎ বিভিন্ন মাজারে মাজারে ঘুরাফেরা করে। নারী সংক্রান্ত ঘটনায় কখনো জড়াতে দেখিনি। এখন কী কারণে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে আমার জানা নেই। পুলিশ তদন্ত করলেই সব পরিষ্কার হবে।’

আলমগীরের স্ত্রী সুফিয়া আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২০১৩ সালে আমার বিয়ে হয়েছে। এরপর থেকে স্বামীকে নিয়ে ঢাকার গাজীপুরের শ্রীপুরে বসবাস করছি। এত বছরে শ্বশুরের সঙ্গে সরাসরি মাত্র পাঁচবার দেখা হয়েছে।’

খেতা শাহের ছেলের মতো তার পুত্রবধূও বলেন, ‘এমন ঘটনা ঘটাবে কল্পনাও করিনি। কারণ এর আগে কোনো নারীসংক্রান্ত ঘটনায় তিনি জড়াননি।’

আরও পড়ুন:
শ্রমজীবীদের জন্য গেয়েছেন ফকির আলমগীর
ফকির আলমগীরের জানাজা-দাফন খিলগাঁওয়ে
গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর আর নেই
ফকির আলমগীর লাইফ সাপোর্টে
চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন ফকির আলমগীর

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Bushras family wants bail education life in uncertainty

বুশরার জামিন চায় পরিবার, অনিশ্চয়তায় শিক্ষাজীবন

বুশরার জামিন চায় পরিবার, অনিশ্চয়তায় শিক্ষাজীবন ফারদিন নূর পরশ ও আমাতুল বুশরা। ছবি: সংগৃহীত
ফারদিন হত্যা মামলার তদন্তে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত না হয়েও বুশরার কারাবাসে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। বাবা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে এ মাসের মধ্যে জামিনে মুক্তি না পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সেমিস্টার থেকে ছিটকে পড়বেন।

বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আমাতুল বুশরাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায়নি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রামপুরা থানার পুলিশও বলছে ফারদিন হত্যায় বুশরার জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে বুশরা জামিনে মুক্তি পেলে ‘তদন্তকাজে বিঘ্ন ও পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা’ জানিয়ে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানিয়েছে ডিবি। বিচারক সেটি গ্রহণ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীকে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই থেকে কারাবন্দি আছেন বুশরা।

তদন্তে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত না হয়েও বুশরার কারাবাসে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। বাবা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে এ মাসের মধ্যে জামিন না পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সেমিস্টার থেকে ছিটকে পড়বেন। প্রচণ্ড মানসিক চাপের পাশাপাশি তার শিক্ষাজীবন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বুয়েট ছাত্র ফারদিন ৪ নভেম্বর নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। বর্তমানে হত্যা মামলাটির তদন্ত করছে ডিবি। পাশাপাশি র‌্যাবসহ আরও কয়েকটি সংস্থা ছায়াতদন্ত করছে।

পুলিশি তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেল থেকে রাত ১০টা নাগাদ বুশরাকে নিয়ে রাজধানীর কয়েকটি জায়গায় ঘোরাঘুরি করেন ফারদিন। এরপর রামপুরায় বুশরা যে মেসে থাকেন তার কাছাকাছি তাকে পৌঁছে দেন। এরপর আর ফারদিন বুয়েট ক্যাম্পাস বা নিজের বাসায় ফেরেননি।

ফারদিনের মরদেহ উদ্ধারের তিন দিনের মাথায় ১০ নভেম্বর আমাতুল্লাহ বুশরার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও পরিকল্পিতভাবে লাশ গোপন করার অভিযোগ এনে রামপুরা থানায় মামলা করেন তার বাবা কাজী নুরউদ্দিন রানা।

ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করে রামপুরা থানার পুলিশ। তাকে সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে পুলিশ আবেদন করলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ডে দেয়। মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে যাওয়ায় রিমান্ডে বুশরাকে জিজ্ঞাসাবাদের দায়িত্বও পায় গোয়েন্দা পুলিশ।

তবে বুশরাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যায় তার কোনো যোগসাজশ পাননি গোয়েন্দারা। তদন্তে ফারদিনের সঙ্গে বুশরার নিছক পরিচয় ও বন্ধুত্বের তথ্য পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবির একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুশরাকে রামপুরায় নামিয়ে দেয়ার পর ফারদিন যেসব জায়গায় গিয়েছিলেন, সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বুশরা। এমনকি ফারদিন তা জানাতেও চাননি।

‘বুশরা ফারদিনকে সেই রাতে সবশেষ ১০টা ৫৯ মিনিটে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান। এতে তিনি জানতে চায় ফারদিন বাসায় পৌঁছেছেন কিনা? জবাবে ফারদিন লেখেন, হ্যাঁ। এরপর আর তাদের আর কোনো কোনো যোগাযোগ হয়নি।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘রিমান্ডে থাকার সময় বুশরাকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে ফারদিন যতক্ষণ ছিলেন তার বর্ণনা লিখে দিতে বলা হয়েছিল। প্রতিবারই বুশরা একই জিনিস লিখেছেন। আমরা ফারদিন হত্যা মামলায় তার কোনো সম্পৃক্ততা এখনও পাইনি।’

তবে রিমান্ডে শেষে ১৬ নভেম্বর বুশরাকে আদালতে পাঠিয়ে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী ডিবি পরিদর্শক মজিবুর রহমান।

আদালতে আবেদনে তিনি লেখেন, ‘আমাতুল বুশরাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেয়ে উচ্চ আদালতের নিয়ম মেনে সতর্কতার সঙ্গে মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।

‘আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টিসহ পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করছি।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী তার জামিনের আবেদন জানালেও ঢাকা মহানগর হাকিম আতাউল্লাহর আদালতে শুনানি শেষে তা নাকচ করে বুশরাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: ফারদিন হত্যায় গ্রেপ্তার বুশরার জামিন মেলেনি

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ফারদিন হত্যায় বুশরার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কি না, এমন প্রশ্নে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার রাজিব আল মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নেগেটিভ।’

সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলেও বুশরাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদনের কারণ জানতে চাইলে রাজিব আল মাসুদ বলেন, ‘বাদীর (ফারদিনের বাবা) ধারণা এই মেয়েই হত্যাকাণ্ডের জন্য একমাত্র দায়ী। যদিও আমরা এ রকম কিছু পাইনি। বাদীর অভিযোগ সম্পর্কে আমাকে সহানুভূতি দেখাতে হবে।

‘আর আদালতে করা আবেদনের বক্তব্যের অর্থ হচ্ছে, যদি সে (বুশরা) জামিন পায়ও তখন যাতে দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে না পারে, তদন্ত কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়।’

আদালতে তদন্ত কর্মকর্তার এমন আবেদনে হতাশ বুশরার বাবা মঞ্জুরুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়ে রিমান্ডে থাকার সময় একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমার কথা বলার সুযোগ হয়েছে। ফারদিনের মৃত্যুতে আমার মেয়ের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে তারা জানিয়েছেন। তারা বলেছিলেন রিমান্ড শেষেই বুশরা ছাড়া পাবে। তারাই বলেছেন ভালো উকিল ধরে জামিন আবেদন করতে, কিন্তু জামিন হয়নি।’

বুশরার শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। ইউনিভার্সিটিতে ওর তৃতীয় সেমিস্টার চলছিল। অ্যারেস্ট হওয়ার পর আমরা ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এই সেমিস্টার ড্রপ করার আবেদন করেছি। তারা বলেছে, এই মাসে ও জামিন পেলে চলতি সেমিস্টারে থাকতে পারবে, নয়তো নতুন করে আবার ভর্তি হতে হবে।’

মেয়ের জামিনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান মঞ্জুরুল ইসলাম।

মঞ্জুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার মেয়েকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বানানো হয়েছে। আমার মেয়ে ফারদিন হত্যায় জড়িত নয়।

‘আমার মেয়েকে বিনা দোষে মামলার আসামি ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফারদিন হত্যায় প্রকৃত দোষীকে শাস্তি দেয়া হোক। আমার নির্দোষ মেয়েকে মুক্তি দিতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

ফরদিনের সঙ্গে বিতার্কিক সূত্রে বুশরার পরিচয় হয়।

বুশরার মা ইয়াসমিন নিউজবাংলাকে জানান, স্কুল ও কলেজে পড়ার সময় থেকেই বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন বুশরা। সে জন্য যারা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বা পারদর্শী, তাদের সঙ্গে বুশরা নিজে থেকেই যোগাযোগ রাখতেন।

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের শেষের দিকে ফেসবুকে একটি গ্রুপের মাধ্যমে বুশরার পরিচয় হয় ফারদিন নূর পরশের সঙ্গে। পরিচয়ের পর থেকে মেসেঞ্জার ও মোবাইলে কলে বিভিন্ন সময়ে একে অপরের সঙ্গে কথা বলত। আর এভাবেই তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।’

মামলায় বুশরাকে আসামি করা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম এর আগে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ফারদিনের বান্ধবী বুশরার সেই ধরনের কোনো সম্পৃক্ততার তথ্য না পাওয়ায় মামলায় তার নাম উল্লেখ না করতে অনুরোধ করেছিলাম। আমরা তাকে (মামলার বাদী) পরামর্শ দিয়েছিলাম, যেহেতু সেও (বুশরা) একজন শিক্ষার্থী, পরবর্তী অনুসন্ধানে তার সংশ্লিষ্টতা উঠে এলে আমরা আসামি হিসেবে তাকে যুক্ত করব।

‘তবে তিনি (বাদী) কোনো কথা মানতেই রাজি ছিলেন না। তার বক্তব্য ছিল, যেহেতু ওই মেয়ে শেষ সময়ে আমার ছেলের সঙ্গে ছিল তাই অবশ্যই তাকে মামলার আসামি করতে হবে।

‘অগত্যা তিনি এজাহারটি যেভাবে লিখে দিয়েছেন, সেভাবেই আমরা নিয়েছি। মামলার একমাত্র আসামি হওয়ায় তাকে (বুশরা) সেদিনই গ্রেপ্তার করি।’

আরও পড়ুন: ফারদিন হত্যায় বুশরার যোগসাজশ মিলছে না

ঘটনার সঙ্গে বুশরার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সন্দেহের কারণ জানতে চাইলে ফারদিনের বাবা নূরউদ্দিন রানা ১৭ নভেম্বর ডিবি কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বুশরা এ হত্যায় জড়িত না থাকলে তো অবশ্যই খুব খারাপ লাগবে। কিন্তু পরীক্ষার আগের রাতে বুশরার সঙ্গে ফারদিনের ৫-৬ ঘণ্টা কাটানোর কথা নয়। আর তাকে বাসার পাশে নামিয়ে দেয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল ফারদিন। তাই আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না যে, বুশরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত না।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না মনে করছেন তদন্তে কোনো সম্পৃক্ততা না পেলে বুশরার জামিন হওয়া উচিত।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যদি কিছু না পেয়ে থাকে, যতটুকু আমি পত্রপত্রিকায় পড়েছি, তার বিরুদ্ধে স্পেসিফিক এলিগেশন এনেছেন ফারদিনের বাবা। তার এলিগেশন হলো, সে (বুশরা) তার ছেলের সঙ্গে ছিল, সে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। যেটা এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। এ পর্যায়ে এসে একটা মেয়ের জামিন হওয়া উচিত। এটা হলো আমার অপিনিয়ন।’

আরও পড়ুন:
মাথায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে ফারদিনের মৃত্যু
যাত্রাবাড়ীতে ফারদিনের উপস্থিতি শনাক্তের দাবি ডিবির
তদন্তে কোথাও একটা ফাঁকি আছে: ফারদিনের বাবা
ফারদিন হত্যায় গ্রেপ্তার বুশরার জামিন মেলেনি
ফারদিন হত্যায় বুশরার যোগসাজশ মিলছে না

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bail granted to 12 farmers arrested for defaulting loans

খেলাপি ঋণে গ্রেপ্তার ১২ কৃষকের জামিন

খেলাপি ঋণে গ্রেপ্তার ১২ কৃষকের জামিন ঋণখেলাপি মামলায় গ্রেপ্তার ১২ কৃষককে জামিন দিয়েছে আদালত। রোববার আদালত প্রাঙ্গণ। ছবি: নিউজবাংলা
২০১৬ সালে ৩৭ জন প্রান্তিক কৃষকের একটি গ্রুপ বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের পাবনা জেলা কার্যালয় থেকে জনপ্রতি ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়। ঋণখেলাপির দায়ে ২০২১ সালে ব্যাংকের পক্ষে তৎকালীন ম্যানেজার সৈয়দ মোজাম্মেল হক মাহমুদ বাদী হয়ে ৩৭ জনের নামে মামলা করেন।

পাবনার ঈশ্বরদীতে ঋণখেলাপি মামলায় গ্রেপ্তার ১২ কৃষককে জামিন দিয়েছে আদালত।

রোববার বেলা ১১টার দিকে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. শামসুজ্জামান এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে এই মামলার অন্য ২৫ আসামিকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন তিনি।

জামিন পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন ঈশ্বরদীর ছলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারি গ্রামের শুকুর প্রামাণিকের ছেলে ৫০ বছর বয়সী আলম প্রামাণিক, মনি মণ্ডলের ছেলে ৪৫ বছর বয়সী মাহাতাব মণ্ডল, মৃত কোরবান আলীর ছেলে ৫০ বছরের কিতাব আলী, হারেজ মিয়ার ছেলে ৪৩ বছরের হান্নান মিয়া, মৃত আবুল হোসেনের ছেলে ৪০ বছরের মোহাম্মদ মজনু, মৃত আখের উদ্দিনের ছেলে ৫০ বছরের মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান, মৃত সোবহান মণ্ডলের ছেলে ৫০ বছরের আব্দুল গণি মণ্ডল, কামাল প্রামাণিকের ছেলে ৪৫ বছরের শামীম হোসেন, মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে ৪৩ বছরের সামাদ প্রামাণিক, মৃত সামির উদ্দিনের ছেলে ৪৫ বছরের নূর বক্স, রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে ৪৬ বছরের মোহাম্মদ আকরাম এবং লালু খাঁর ছেলে ৪০ বছরের মোহাম্মদ রজব আলী। গ্রেপ্তার সবাই প্রান্তিক কৃষক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালে ৩৭ জন প্রান্তিক কৃষকের একটি গ্রুপ বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের পাবনা জেলা কার্যালয় থেকে জনপ্রতি ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়। ঋণখেলাপির দায়ে ২০২১ সালে ব্যাংকের পক্ষে তৎকালীন ম্যানেজার সৈয়দ মোজাম্মেল হক মাহমুদ বাদী হয়ে ৩৭ জনের নামে মামলা করেন।

২৩ নভেম্বর পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পরোয়ানাভুক্ত ৩৭ জনের মধ্যে ১২ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

কৃষকদের পরিবারের দাবি, ঋণ নেওয়ার পর এক বছরের মধ্যে অধিকাংশ কৃষক তাদের ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছেন। তাদের পাস বই ও জমা স্লিপও রয়েছে। অথচ সেই অর্থ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জমা না করে আত্মসাৎ করেছেন। ফলে তাদের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

কৃষকরা জানান, গত বুধবার যখন কৃষকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়, তখন তারা গাজরের ক্ষেতে কাজ করছিলেন। বাড়িতে ও বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে। বাকিরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তারা ঋণের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানি মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সৈয়দ মোজাম্মেল হক মাহমুদ বলেন, কৃষকরা ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা করা হয়। খেলাপি ঋণ আদায়ে এটা চলমান প্রক্রিয়া। আমরা আমাদের অফিশিয়াল ব্যবস্থা নিয়েছি। তারা তাদের আইনগত সহায়তা পেয়েছেন।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইদুর রহমান সুমন, কাজী সাজ্জাদ ইকবাল লিটন ও মইনুল ইসলাম মোহন।

আরও পড়ুন:
‘আইএমএফের শর্ত শুভদিক খুলে দিতে পারে’
আট ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা
তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৯,১৩৯ কোটি টাকা
আবাসন ঋণের ৭৫ শতাংশই ৫ ব্যাংকের
এখন অন্যরাও ঋণ দেবে, সংকট কেটে যাবে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The science of evidence destruction sees Crime Petrol

আলামত নষ্ট করার বিদ্যা ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে

আলামত নষ্ট করার বিদ্যা ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে নিখোঁজ শিশু আয়াত (বামে) ও তাকে হত্যার সন্দেহে গ্রেপ্তার আবির। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
শ্বাসরোধে শিশু আয়াতের মৃত্যুর পর তার মরদেহ বাবার বাসায় পলিথিন দিয়ে পেঁচিয়ে নিজ বাসায় নিয়ে যান আবির। সেখানে বটি ও অ্যান্টি-কাটার দিয়ে মরদেহ ছয় টুকরো করে দুটি পলিথিনে নিয়ে চট্টগ্রামের সাগরপাড় এলাকায় সাগরে ফেলে দেন।

২১ বছর আগে বিয়ে করে নগরীর ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়ারহাট এলাকায় মঞ্জুর হোসেনের ভাড়া বাসায় ওঠেন রংপুরের আজহার-আলেয়া দম্পতি। এর দুই বছর পর এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় আবির আলী।

এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। আজহার-আলেয়া দম্পতি কিছুদিনের জন্য অন্যত্র গেলেও আবার ফিরে আসেন মঞ্জুরের বাসায়। দীর্ঘদিন একসাথে বাস করায় মঞ্জুর হোসেনের পরিবারের সাথে এ দম্পতির তৈরি হয় সুসম্পর্ক।

অভিযোগ করা হয়েছে, সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে জন্মের ১৯ বছর পর সেই আবির আলি অপহরণ করে খুন করেন মঞ্জুর হোসেনের একমাত্র নাতনি আয়াতকে। আর খুনের পর ছোট্ট আয়াতের মরদেহ ছয় টুকরো করে ফেলেছেন সাগরে। ক্রাইম পেট্রল দেখে চেষ্টা করেছেন খুনের সব আলামত নষ্ট করার।

১৫ নভেম্বর নগরীর ইপিজেড থানার বন্দরটিলা নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিস এলাকার বাসা থেকে পার্শ্ববর্তী মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় আলিনা ইসলাম আয়াত। অনেক খোঁজাখুজির পরও তাকে না পেয়ে পরদিন থানায় ডায়েরি করেন আয়াতের বাবা সোহেল রানা। এর পরের ৯ দিনেও আয়াতের হদিস পায়নি পুলিশ। এমনকি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আয়াতকে ফিরিয়ে দেয়ার বিনিময়ে যে কোনো অংকের মুক্তিপণ দিতে রাজি থাকার জানায় পরিবার। তারপরও খোঁজ মেলেনি আয়াতের।

এরপর সিসিটিভি ফুটেজে আবিরকে একটি ব্যাগ নিতে দেখে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সন্দেহ হয়। সেই সন্দেহ থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে আকমল আলী সড়কের পকেট গেইট এলাকা থেকে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আয়াতকে অপহরণের কথা স্বীকার করেন আবির।

এই ঘটনায় পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানার নেতৃত্বে অনুসন্ধান ও আবিরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন পরিদর্শক ইলিয়াস খান।

তার সাথে কথা হয় নিউজবাংলার। তিনি জানান, মাঝে দুই মাস তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করলেও কাজ ভালো না লাগায় চাকরি ছেড়ে দেন আবির। চাকরি ছাড়ার পর বেকার হয়ে যান তিনি। আবির আয়াতকে অপহরণ করে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন ঘটনার দুমাস আগে। সনি টিভির অপরাধ বিষয়ক সিরিয়াল ‘ক্রাইম পেট্রল’-এর নিয়মিত দর্শক আবির ওই সিরিয়াল দেখেই পরিকল্পনা করেন অপহরণ ও হত্যার। পরিচয় গোপন রাখতে একটি বেনামি মোবাইল সিম প্রয়োজন হয় তার। ঘটনার পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে একটি সিম জোগাড়ও করেন তিনি। এরপর নামেন অপহরণ মিশনে।

এর মধ্যে সম্প্রতি বাবা-মায়ের ঝগড়ার জেরে আকমল আলী সড়কে আলাদা বাসা নিয়ে পোশাক শ্রমিক মাকে নিয়ে বাস করতে শুরু করেন আবির। পুরোনো বাসা থেকে সেটা দেড় কিলোমিটার দূরে। পুরোনো বাসায় আবিরের বাবা আজহারুল ইসলাম এখনও বসবাস করেন। আবির মাকে নিয়ে অন্যত্র থাকলেও বাবার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। বাবার বাসা থেকে বিভিন্ন সময় আকমল আলী সড়কের বাসায় নানা জিনিসপত্রও নিয়ে যেতেন তিনি।

আলামত নষ্ট করার বিদ্যা ‘ক্রাইম পেট্রল’ দেখে

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনার দিন বাসা থেকে বের হলে আয়াতকে কোলে করে অপহরণের চেষ্টা করেন আবির। তখন আয়াত চিৎকার করলে তার নাক-মুখ চেপে ধরেন আবির। এতে শ্বাসরোধে আয়াতের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর আয়াতের মরদেহ বাবার বাসায় (আয়াতের পরিবারের ভাড়া বাসা) নিয়ে যান আবির। সেখান থেকে মরদেহটি পলিথিন দিয়ে পেঁচিয়ে আকমল আলী সড়কের বাসায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে বটি ও অ্যান্টি-কাটার দিয়ে ছয় টুকরো করে দুটি পলিথিনে নিয়ে সাগরপাড় এলাকায় সাগরে ফেলে দেন।’

পরিদর্শক ইলিয়াস খান বলেন, ‘আবির দম্ভ করেই আমাদের বলছিলেন যে তিনি কোনো আলামতই রাখেননি খুনের। মানে ক্রাইম পেট্রল দেখে তিনি সব আলমতই নষ্ট করে ফেলেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি ও অ্যান্টিকাটার উদ্ধার করেছি আমরা। আয়াতের মরদেহের খণ্ডিতাংশও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এখনও।’

এদিকে আয়াতের মৃত্যুর খবরে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। নিখোঁজের পর থেকেই নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল আয়াতের বাবা মা। মৃত্যুর খবরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তারা।

আয়াতের দাদা মঞ্জুর হোসেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না স্বভাবজাত দুষ্টুমি আর প্রাণচাঞ্চল্যে সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখা আয়াত আর নেই। শুক্রবার দুপুর বারোটার দিকে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ বলছে আয়াতকে মেরে ফেলছে। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি এখনও। তাকে অবশ্যই ফিরে পাব আমরা।’

তার চাচা (বাবার চাচাত ভাই) জুবায়ের হোসেন বাবুল বলেন, ‘তারা ২০০১ সাল থেকে এখানে থাকে। মাঝে অন্য বাসায় চলে গিয়েছিল, পরে আবার আসছে। দীর্ঘদিন এখানে থাকায় তাদের একটা ভালো সম্পর্ক ছিল। আয়াত আবিরকে চিনত। তার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বাসার সবাই বারবার কাঁদতে কাঁদতে বেহুশ হয়ে আছে। তাদের কী সান্তনা দেব, আমি নিজেই থাকতে পারছি না।’

আরও পড়ুন:
শিশু আয়াতকে হত্যার পর ৬ টুকরা করেন সাবেক ভাড়াটিয়া
কোথায় গেল ছোট্ট আয়াত!
শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ প্রতিবেশীর ঘরে
শিশুর মরদেহ মিলল নির্মীয়মাণ বাড়ির সামনে
নালায় শিশুর মরদেহ: ১০০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ-হত্যা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dead bodies of 2 brothers in school room father arrested

স্কুলকক্ষে ২ ভাইয়ের মরদেহ: বাবা আটক

স্কুলকক্ষে ২ ভাইয়ের মরদেহ: বাবা আটক দিনাজপুরের বিরলের ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষে দুই শিশুর মরদেহ পাওয়া যাওয়ার খবরে স্থানীয়দের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা
নিহত দুই শিশুর দাদী উম্মে কুলসুম সকালে বলেছিলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যার পর থেকে দুই শিশু নিখোঁজ ছিল। আমরা রাত থেকেই দুই বাচ্চাকে খোঁজাখুঁজি করি, কিন্তু তাদের কোনো সন্ধান পাই না। আজ সকালে আমার ছেলে শরিফুল আমাদের ফোন করে বলে স্কুলে আমার দুই নাতির লাশ পড়ে আছে।’

দিনাজপুরের বিরলে একটি স্কুলের কক্ষ থেকে উদ্ধার মৃত দুই শিশুর বাবাকে আটক করেছে পুলিশ।

উপজেলার মঙ্গলপুর এলাকা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় শরিফুল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

নিউজবাংলাকে এসব নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আসলাম উদ্দিন।

তিনি জানান, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে সুস্থ অবস্থায় আটক করা হয়।

শিশুদুটির মা কুলসুম বানু ঢাকায় থাকেন জানিয়ে বিরল থানার ওসি রেজাউল হাসান রেজা বলেন, ‘নিহত দুই শিশুর মা এখনও এসে পৌঁছাননি। তিনি এসে পৌঁছালে মামলা করা হবে।’

ওসি জানান, পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি শুনেছেন যে শিশুদের মা ঢাকায় একটি কারখানার শ্রমিক।

ওই স্কুলকক্ষে শুক্রবার সকালে পাওয়া যায় মরদেহদুটি। পাশে পাওয়া যায় বিষের বোতল।

স্কুলকক্ষে ২ ভাইয়ের মরদেহ: বাবা আটক
নিহত দুই শিশুর বাবা শরিফুল ইসলাম

নিহতরা হলো ৭ বছর বয়সী মো. রিমন ও ৩ বছর বয়সী মো. ইমরান। তাদের বাড়ি শংকরপুরের ঘোড়ানীর গ্রামে।

স্থানীয় এক ব্যক্তি সকালে বলেন, ‘দুই সন্তানকে বাবা বিষ খাইয়ে হত্যা করে নিজেও বিষ খাইছে। তবে তার বাবা কোথায় আছেন তা কেউ বলতে পারছে না।’

নিহত দুই শিশুর দাদী উম্মে কুলসুম সকালে বলেছিলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যার পর থেকে দুই শিশু নিখোঁজ ছিল। আমরা রাত থেকেই দুই বাচ্চাকে খোঁজাখুঁজি করি, কিন্তু তাদের কোনো সন্ধান পাই না।

‘আজ সকালে আমার ছেলে শরিফুল আমাদের ফোন করে বলে স্কুলে আমার দুই নাতির লাশ পড়ে আছে। পরে আমরা স্কুলে আসলে নাতিদের লাশ কোথাও পাই না। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে একটা ভাঙা রুমে আমার নাতিদের লাশ পাই।’

আরও পড়ুন:
রাতে শিশুটিকে ডোবায় ফেলে এসে ঘুমিয়ে পড়েন বাবা
শিশুকে নদীতে চুবিয়ে হত্যা, নারী কবিরাজের আমৃত্যু কারাদণ্ড
শিশুকে হত্যার পর মাটিচাপা, সৎ মা কারাগারে
শিশুকে হত্যার পর মাটিচাপা, সৎমা আটক
শিশুকে শাবলের আঘাতে হত্যার মামলায় চাচি কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The strike called in protest against taking the bus to the police station has been called off

বাস থানায় নেয়ার প্রতিবাদে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার

বাস থানায় নেয়ার প্রতিবাদে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার
পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুজাউল কবির বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। এটির একটি সুন্দর সমাধান হয়েছে। আমরা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের কর্মসূচি প্রত্যাহার ঘোষণা করছি।’

সড়কে রাখা তিনটি বাস থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে ডাকা পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহাঙ্গীর হোসেন এবং পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ এহসান শাহ্-এর সঙ্গে পরিবহন শ্রমিক নেতাদের সভা শেষে আসে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা।

পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুজাউল কবির বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। এটির একটি সুন্দর সমাধান হয়েছে। আমরা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের কর্মসূচি প্রত্যাহার ঘোষণা করছি।’

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিপন কুমার মদক সন্ধ্যায় জানান, যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

জেলার ওয়েজখালী এলাকার সড়ক থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্যামলী, মামুন ও সাকিল পরিবহনের তিনটি বাস জব্দ করে পুলিশ।

এ ঘটনায় চালক-শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ধর্মঘটের ঘোষণা দেন বৃহস্পতিবার রাতেই। এরপর শুক্রবার সকাল থেকে বন্ধ হয়ে যায় বাস চলাচল।

বাস থানায় নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) এহসান শাহ্ বলেন, ‘সড়কের ওপরে বাস রাখলে জনগণের ভোগান্তি হয়। প্রতি আইনশৃঙ্খলা সভাসহ বিভিন্ন সভায় এ বিষয়টি বারবারই আলোচনা হয়।

‘তাই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি বাস পুলিশ লাইনসে এনে রাখা হয়েছে। এটিকে ইস্যু করে ধর্মঘট ডেকে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা যুক্তিযুক্ত হবে না।’

আরও পড়ুন:
থানায় বাস, প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘট সুনামগঞ্জে
হবিগঞ্জে চলছে বাস ধর্মঘট, চার দিনে ক্ষতি ৫ কোটি
পরিবহনসহ অত্যাবশ্যকীয় সেবায় ধর্মঘট ডাকলে সাজা
সিলেটে চলছে পরিবহন ধমর্ঘট
জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটিতে ধর্মঘট ডাকলে সাজা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After killing Shishu Ayat the young man cut him into 6 pieces
নিউজবাংলাকে পিবিআই

শিশু আয়াতকে হত্যার পর ৬ টুকরা করেন সাবেক ভাড়াটিয়া

শিশু আয়াতকে হত্যার পর ৬ টুকরা করেন সাবেক ভাড়াটিয়া চট্টগ্রামের ইপিজেড থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ সাত বছর বয়সী আয়াতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা বলেন, ‘আবির জানিয়েছে, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন বিকেলে আয়াতকে সে অপহরণের চেষ্টা করে। এ সময় চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সে। পরে মরদেহ আকমল আলী সড়কের বাসায় নিয়ে ছয় টুকরা করে।’

চট্টগ্রামের ইপিজেড থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ পাঁচ বছর বয়সী আয়াতকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরা করে নদীতে ফেলে দেয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত আবির আলী নামের এক যুবককে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা।

আবির আয়াতের দাদা বাড়ির সাবেক ভাড়াটিয়া। তিনি নগরের আকমল আলী সড়কে মায়ের সঙ্গে থাকেন।

১৯ বছর বয়সী এ যুবক তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

নাঈমা সুলতানা বলেন, ‘মুক্তিপণ দাবির উদ্দেশ্যে তাকে (আয়াত) অপহরণ করে তাদের সাবেক ভাড়াটিয়া আবির আলী। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাকে গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত ১১টার দিকে আকমল আলী সড়ক থেকে আটক করা হয়। সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবির জানিয়েছে, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন বিকেলে আয়াতকে সে অপহরণের চেষ্টা করে। এ সময় চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সে। পরে মরদেহ আকমল আলী সড়কের বাসায় নিয়ে ছয় টুকরা করে।

‘খণ্ডিত মরদেহ দুটি ব্যাগে নিয়ে বেড়িবাঁধ এলাকায় নদীতে ফেলে দেয়। সেসব আমরা উদ্ধারের চেষ্টা করছি, তবে মরদেহ টুকরা করার কাজে ব্যবহার করা বঁটি ও অ্যান্টি কাটার উদ্ধার করা হয়েছে।’

এর আগে গত ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার বন্দরটিলার নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিস এলাকার বাসা থেকে পার্শ্ববর্তী মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় আলিনা ইসলাম আয়াত। পরদিন এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন তার বাবা সোহেল রানা।

আরও পড়ুন:
কোথায় গেল ছোট্ট আয়াত!
শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ প্রতিবেশীর ঘরে
শিশুর মরদেহ মিলল নির্মীয়মাণ বাড়ির সামনে
নালায় শিশুর মরদেহ: ১০০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ-হত্যা
নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ নালায়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In another caste marriage is the result of life

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে গত সপ্তাহে আয়ুশি চৌধুরীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ছবি: সংগৃহীত
প্লাস্টিকে মোড়ানো আয়ুশির দেহটি একটি লাল স্যুটকেসে বন্দি অবস্থায় শুক্রবার উত্তর ভারতের মথুরা শহরের কাছে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আয়ুশির বাবা নীতেশ কুমার যাদব এবং মা ব্রজবালাকে। পুলিশের ধারণা, অনার-কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন মেয়েটি।   

আয়ুশি চৌধুরীর ২২তম জন্মদিন আগামী ১ ডিসেম্বর। দিনটা আর উদযাপন করা হবে না তার। কারণ ৯ দিন আগে পুলিশের সামনেই আয়ুশির মরদেহ দাহ করা হয়েছে।

প্লাস্টিকে মোড়ানো আয়ুশির দেহটি একটি লাল স্যুটকেসে বন্দি অবস্থায় শুক্রবার উত্তর ভারতের মথুরা শহরের কাছে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আয়ুশির বাবা নীতেশ কুমার যাদব এবং মা ব্রজবালাকে। পুলিশের ধারণা, অনার-কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন মেয়েটি।

সম্মান রক্ষার্থে হত্যা বা অনার-কিলিং হলো কাউকে নিজের পরিবার বা গোত্রের সম্মানহানির দায়ে ওই পরিবার বা গোত্রের অপর ব্যক্তি কর্তৃক হত্যা করা। এর মাধ্যমে এই সম্মানহানির উপযুক্ত প্রতিকার হয় বলে মনে করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় অনার কিলিং সংঘটিত হলেও, ভারতে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এই অনার কিলিংয়ের প্রধান শিকার নারীরা।

পুলিশের অভিযোগ, রাজধানী দিল্লির কাছে নিজ বাড়িতে ১৭ নভেম্বর বাবার গুলিতে নিহত হন আয়ুশি। অন্য জাতের এক পুরুষকে বিয়ে করা নিয়ে সেদিন পরিবারের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়েছিল আয়ুশির। খুনের পর তার বাবা-মা মরদেহ যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের কাছে ফেলে এসেছিলেন।

দম্পতি এখন পুলিশ হেফাজতে। তবে তারা এখন পর্যন্ত কিছু শিকার করেননি। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড গোটা ভারতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে বছরে নারীর প্রতি সহিংসতার লাখ লাখ অভিযোগ জমা পড়ে।

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে
ঘরের তাকে সুন্দর করে সাজানো আয়ুশির বইগুলো

বিবিসি হিন্দি যখন দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির বদরপুরে আয়ুশির বাড়িতে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবে ব্যস্ত পাড়াটি হতাশায় আচ্ছন্ন ছিল। এক প্রতিবেশী জানান, আয়ুশির কী হয়েছে শুনে দুদিন ধরে তিনি ঠিকমতো খাননি।

‘সে পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল, হাই স্কুলের পরীক্ষায় অনেক ভালো নম্বর পেয়েছিল’... তিনি স্মরণ করেন।

আয়ুশি একটি বেসরকারি কলেজ থেকে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে স্নাতক করছিলেন। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন।

বাড়ির প্রথম তলায় ছিল আয়ুশি ঘর। এখানে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ছাপ পাওয়া যায়। প্রতিটি আসবাবে ছড়িয়ে আছে আয়ুশির দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট আনন্দ... জাগতিকতা।

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে
এই লাল স্যুটকেসটিতে পাওয়া যায় আয়ুশির মরদেহ

এখনও আয়ুশির বইগুলো তার পড়ার টেবিলের তাকে সুন্দর করে সাজানো রয়েছে। দেয়ালে ঝুলছে বাবা-মা, ছোট ভাই আর দাদির সঙ্গে আয়ুশির হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি।

ছোট্ট আলমারিটাতে থাকা নেইলপলিশ, লিপস্টিকসহ সাজসজ্জার জিনিসগুলো আর ব্যবহার করা হবে না আয়ুশির। তার বিছানার কাছে ঝুলে থাকা ডোরেমন পুতুলটি যেন এখনও খুঁজছে আয়ুশিকে।

আয়ুশির দাদি জামবন্তি জানান, শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিল আয়ুশি। বেশির ভাগ সময় তার ঘরে পড়াশোনায় মগ্ন থাকত তার নাতনি।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে জামবন্তি বলেন, ‘গত ১৫ হাসপাতালে ছিলাম। যখন আমি ফিরে আসি, তখন পুলিশ এসে আমার ছেলে ও পুত্রবধূকে ধরে নিয়ে যায়।’

অন্য বর্ণে বিয়ের খেসারত জীবন দিয়ে
আয়ুশির ঘরের দেয়ালে ঝুলছে তার খেলনাগুলো

পুলিশের বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, আয়ুশি গত বছর তার বাবা-মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্য বর্ণের এক পুরুষকে বিয়ে করেছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বিবিসি হিন্দিকে বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে আয়ুশির সঙ্গে তার বাবা-মায়ের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। যার ফলে প্রায়শই ঝগড়া হতো।’

পরিবারের দাবি, খুনের দিন আয়ুশি বাড়িতে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাইরে চলে গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পর তার বাবা ভীষণ খেপে যান।

ময়নাতদন্তে আয়ুশির মাথা, মুখ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, বুকে দুবার গুলি করা হয়েছে আয়ুশিকে। এতেই তার মৃত্যু হয়।

মন্তব্য

p
উপরে