× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
There is no hospital 6 doctors are taking salary
hear-news
player
google_news print-icon

হাসপাতাল নেই, বেতন নিচ্ছেন ৭ চিকিৎসক  

হাসপাতাল-নেই-বেতন-নিচ্ছেন-৭-চিকিৎসক- 
নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন মশিউর রহমান বলেন, ‘ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় স্থানীয়দের পাশাপাশি অনেক পোশাক শ্রমিক বাস করেন। সেখানে কাছাকাছি কোনো সরকারি হাসপাতাল না থাকায় প্রায় ২০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে স্থাপনাবিহীন সরকারি হাসপাতালে ৭ চিকিৎসক এক যুগ ধরে চাকরি করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

চিকিৎসক থাকলেও হাসপাতাল নির্মিত না হওয়ায় উপজেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, জায়গা বরাদ্দ না পাওয়ায় হাসপাতালের স্থাপনাও নির্মাণ করা যায়নি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে জানা যায়, ২০১০ সালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ শয্যাবিশিষ্ট দুটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ এ জন্য জায়গাও নির্ধারণ করে। তবে জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন কারণে হাসপাতাল দুটি নির্মাণ করা যায়নি। এরপরও সেখানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৭ জন চিকিৎসককে।

ওই সাত চিকিৎসক হলেন, ফতুল্লা সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার মধুছন্দা হাজরা মৌ, মেডিক্যাল অফিসার আশরাফুল আলম, জুনিয়র কনসালট্যান্ট মিরানা জাহান, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অবস) আনোয়ার হোসেন খান।

হাসপাতাল নেই, বেতন নিচ্ছেন ৭ চিকিৎসক

এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ফাহিম হাসান, মেডিক্যাল অফিসার রাফিয়া মাসুদ ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট ফারজানা রহমান।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাসপাতাল না থাকলেও চিকিৎসকদের নিয়োগ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরবর্তী সময়ে তাদের সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংযুক্ত করা হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে মধুছন্দা হাজরা ঢাকায় একটি হাসপাতালে কাজ করছেন।

‘মিরানা জাহান ছুটিতে আছেন। আনোয়ার হোসেন খান জেলা সিভিল সার্জন অফিসের একটি বিভাগে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। অন্যরা বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালে কর্মরত আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিয়োগপ্রাপ্তরা কাজ করছেন, কিন্তু সমস্যা তাদের কাছ থেকে যাদের সেবা পাওয়ার কথা তারা পাচ্ছেন না। এর কারণ হলো জায়গা বরাদ্দ হয়নি, তাই স্থাপনাও নির্মাণ করা যায়নি। ফলে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা যায়নি।’

হাসপাতাল নেই, বেতন নিচ্ছেন ৭ চিকিৎসক
ফতুল্লা শিল্প অঞ্চল বিসিকে অনেক পোশাক শ্রমিক কাজ করেন। ছবি: নিউজবাংলা

২০১০ সালে সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত ছিলেন মো. আলাউদ্দিন। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেনালের হাসপাতালে প্রশাসনিক বিভাগে কর্মরত আছেন।

আলাউদ্দিন জানান, তৎকালীন জেলা প্রশাসক ফতুল্লায় ২০ শয্যবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণে ডিআইটি মাঠের জায়গা নির্ধারণ করেন। কিন্তু জায়গাটি রাজউকের হওয়ায় তা অধিগ্রহণ হয়নি। এদিকে সিদ্ধিরগঞ্জে হাসপাতালের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জায়গাটি অধিগ্রহণ করতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয়রা আমাদের উপর হামলা করেন। পরে পুলিশ ও র‌্যাব গিয়ে আমাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। তাই দুটি হাসপাতালের কোনোটির জায়গাই আমরা পাইনি। এ ছাড়া আরও কিছু জটিলতা ছিল হাসপাতাল নির্মাণের ক্ষেত্রে।’

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা পারভীন বলেন, ‘আমরা হাসপাতালের স্থাপনা করতে পারিনি। মন্ত্রণালয় কিভাবে চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে সেটা আমরা জানি না। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্যও নেই। বিষয়টি আমাদের মতিঝিল অফিস দেখেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিস বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি তেমন কিছুই জানি না। বিষয়টি সির্ভিল সার্জন অফিসের, সুতরাং তারাই দেখছেন।’

হাসপাতাল না থা থাকায় বিপাকে স্থানীয়দের পাশাপাশি শ্রমিকরাও

সম্প্রতি বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ হারান ধলেশ্বরী নদীর তীরঘেঁষা ফতুল্লার বক্তাবলী গ্রামের রোজিনা বেগম। নিজের শিশুসন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই বিদ্যুতায়িত হন।

আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিতে নিতে জীবনের আলো নিভে যায় ওই নারীর।

তাকে আগলে ধরে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আহাজারি করছিলেন স্বজনরা।

জানতে চাইলে তার বোন রেনু বেগম বলেন, ‘রোজিনাকে নিয়া গ্রাম থেকে রিকশা নিছি। এরপর ঘাটে আইসা নদী পার হইছি। পরে আবার অটোরিকশা নিয়া চাষাড়া আসছি। সেখান থেকে রিকশা কইরা সদর হাসপাতালে। এতো কষ্ট কইরা বইনরে হাসপাতালে আনার পর ডাক্তার কয় মারা গেছে। আমার বইন নাকি আর নাই।’

তার মতো স্বজন হারানোর ব্যাথা ভুলতে পারেননি মাসদাইরের শেখ সোহেল আলী।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার এক আত্মীয় ও বন্ধুর বুকে ব্যথা শুরু হয়। তাকে নিয়ে ফতুল্লা থেকে শহরের খানপুর হাসপাতালে যাই। জানতে পারি সেটি করোনা রোগীদের হাসপাতাল। পরে তাকে নিয়ে যাই সদর হাসপাতালে। সেখান থেকে পাঠিয়ে দেয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু পথেই আমার বন্ধু মারা যান।’

সোহেল আলী বলেন, ‘রোগীদের নিয়ে যে কতটা ভোগান্তি পোহাতে হয়, সেটি খুব ভালো করেই জানে ফতুল্লাবাসী। অথচ এখানে একটি হাসপাতাল হলে অনেকের প্রাণ বেঁচে যেত।’

হাসপাতাল নেই, বেতন নিচ্ছেন ৭ চিকিৎসক

হাসপাতালে নিতে নিতে জীবনের আলো নিভে যায় পোশাক শ্রমিক রোজিনা বেগমের। ছবি: নিউজবাংলা

ফতুল্লার শিল্প অঞ্চল বিসিকের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক রিফাত সুলতানা জানান, বিসিকে ছোট বড় মিলিয়ে অন্তত ৩০০টি কারখানা আছে। এখানে অনেক শ্রমিক কাজ করে। প্রতিদিনই তাদের কেউ না কেউ অসুস্থ হচ্ছেন। কাছাকাছি কোনো হাসপাতাল নেই।

তাদের নিয়ে রাস্তার জ্যাম ঠেলে নিয়ে যেতে হয় সদর হাসপাতালে। এতে ভোগান্তির শেষ নেই যেন।

একই কথা বলেন পোশাক কারখানার নারী শ্রমিক আকলিমা খাতুন। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিসিকে অনেক লোক কাম করে। আমাগো কোনো সমস্যা হইলে ফার্মেসি থেকে ওধুষ কিনে খাই। এখানে সরকারি একটি হাসপাতাল হইলে ভলো হইতো। মানুষ সহজে চিকিৎসা পেত। গর্ভবতীদের জন্য বেশি ভালো হইতো।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সিদ্ধিরগঞ্জ। এখানেও কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। এলাকাটিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তখন আহতদের নিতে হয় সদরে, নয়তো ঢাকায়। এতে অনেক সময় রোগীদের হাসপাতালে নিতে নিতেই মানুষ মারা যায়। আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন স্থানীয় সাইদুল ইসলাম।

আদমজী ইপিজেডের শ্রমিক রহমান বলেন, ‘সরকারি কোনো হাসপাতাল না থাকায় পরিবারের কেউ অসুস্থ্য হইলে তারে নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। আমরা কাজ করি অল্প বেতনে। ঘরভাড়া, খাওয়া খরচ তারপর যদি হাসপাতালে অনেক টাকা বিল আসে তাহলে আমরা বাঁচবো কিভাবে। একটি সরকারি হাসপাতাল থাকলে সবার জন্য ভালো হতো।’

নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন মশিউর রহমান বলেন, ‘এ দুটি এলাকায় স্থানীয়দের পাশাপাশি অনেক পোশাক শ্রমিক বাস করেন। সেখানে কাছাকাছি কোনো সরকারি হাসপাতাল না থাকায় প্রায় ২০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

‘সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্যা সমাধানে আবেদন করা হবে।’

আরও পড়ুন:
সিলগালা হাসপাতালে মৃত্যু: চিকিৎসক-নার্সের নামে মামলা
সিলগালা করা হাসপাতালে অপারেশন, শিক্ষার্থীর মৃত্যু
অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধে অভিযান নিষ্ফল হবে?
চারদিনের অভিযানে ১১৪৯ অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র সিলগালা
তিন দিনে ৮৮২ অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তালা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Syphilis outbreak in Europe hits sex workers head on

ইউরোপে সিফিলিসের প্রকোপ, যৌনকর্মীদের মাথায় হাত

ইউরোপে সিফিলিসের প্রকোপ, যৌনকর্মীদের মাথায় হাত সিফিলিস আতঙ্কে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের যৌনকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
সিফিলিস মূলত পেলিডাম দ্বারা সৃষ্ট একটি যৌনবাহিত রোগ। সংক্রমণের প্রাথমিক পথ যৌন সংস্পর্শ; এ ছাড়া রক্ত পরিসঞ্চালন, চুম্বন, চামড়ায় আঘাত এবং গর্ভাবস্থায় বা জন্মের সময় মায়ের কাছ থেকে ভ্রূণে সংক্রমিত হতে পারে।

ইউরোপে ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়েছে যৌনবাহিত রোগ- সিফিলিস। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের যৌনকর্মীরা। এই অবস্থায় দেশটিতে হুমকিতে পড়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো পেশাটি।

সিফিলিস মূলত পেলিডাম দ্বারা সৃষ্ট একটি যৌনবাহিত রোগ। সংক্রমণের প্রাথমিক পথ যৌন সংস্পর্শ; এ ছাড়া রক্ত পরিসঞ্চালন, চুম্বন, চামড়ায় আঘাত এবং গর্ভাবস্থায় বা জন্মের সময় মায়ের কাছ থেকে ভ্রূণে সংক্রমিত হতে পারে।

যৌনকর্মী থেকে যৌন শিক্ষাবিদ বনে যাওয়া লিয়ান ইয়ং বলেন, ‘যদিও এটা ভয়ঙ্কর, তবে এই দুর্যোগে যুক্তরাজ্যের যৌনকর্মীদের এক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাদের এখন পেশাদার আরচণ করা উচিত। সেক্স ইন্ড্রাস্টির নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে আওয়াজ তুলতে হবে।’

ইয়াং আটজন যৌনকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছেন এই রোগ নিয়ে, যারা সিফিলিস আতঙ্কে কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।

ইয়াং বলেন, ‘তারা রোজগার হারাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে সবাইকে একত্রিত হতে হবে। এতেই মিলবে সমাধান।

‘কয়েক বছর ধরেই একটি ইউনিয়ন চাইছে এ পেশায় জড়িতরা। যুক্তরাজ্যে এ ধরনের একটি ইউনিয়ন গড়ে তুলতে ইউএস ইউনিয়ন দ্য অ্যাডাল্ট পারফরম্যান্স আর্টিস্ট গিল্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালানা ইভান্সের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি।’

ঢালাও স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে পেশাদার যৌনকর্মীদের সুরক্ষা দেয়া সবচেয়ে সহজ সমাধান। আমেরিকা ও ইউরোপের যৌনকর্মীদের ৭ বা ১৪ দিন পরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তবে যুক্তরাজ্যে ২৮ দিন পর পর এই পরীক্ষা হয়।

ইউরোপের দেশটিতে সিফিলিস দ্রুত ছড়িতে পড়তে পারে বলে উদ্বেগে আছেন লিয়ান ইয়ং। তিনি বলেন, ‘যৌনকর্মীরাও মানুষ। তাদের উচিত, পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড এবং পুলিশের সঙ্গে শক্ত যোগাযোগ স্থাপন করা। আর এ জন্য প্রয়োজন একটি ইউনিয়ন।’

যুক্তরাষ্ট্রের যৌনকর্মীর স্বাস্থ্যের তথ্য সংগ্রহে রাখে পাস নামে একটি সংস্থা। এটি জানায়, ইউরোপে সিফিলিসে আক্রান্ত কয়েকজন যৌনকর্মীর তথ্য পেয়েছে তারা। সেক্স ইন্ড্রাস্টির খবর ছাপানো প্রকাশনা সংস্থা Xbiz-এ গত সপ্তাহে একটি সতর্কতাও দেয়া হয়েছিল

ইউরোপে এসটিডি পরীক্ষার মান অতোটা ভালো না। অন্যদিকে পাস আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপে কাজ করে না। এ জন্য তাদের কাছে যৌনরোগে আক্রান্তদের সঠিক হিসাব রাখা সম্ভব হয় না।

ইউনিয়ন গড়ে অবশ্য এসটিডি প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর নিশ্চয়তা নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিএসডি) সেপ্টেম্বরে জানায়, গত বছরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেড়েছে তাদের দেশে সিফিলিসে আক্রান্ত।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The information minister is infected with corona again

ফের করোনা আক্রান্ত তথ্যমন্ত্রী

ফের করোনা আক্রান্ত তথ্যমন্ত্রী তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি
হাছান মাহমুদ এর আগে আরও দুবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তৃতীয় দফা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে রয়েছেন তিনি।

আবারও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। মঙ্গলবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রোববার পঞ্চগড়ে নৌকাডুবিতে স্বজনহারা মানুষদের মাঝে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ত্রাণ ও অর্থ সহায়তা বিতরণ শেষে ঢাকায় ফিরে পরদিন সোমবার যথারীতি দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ অনুভব করেন তথ্যমন্ত্রী।

‘বিকেলে সচিবালয় ক্লিনিকের চিকিৎসকরা দেখেন তার শরীরে বেশ জ্বর। তাদের পরামর্শে আইইডিসিআরের (ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ) মাধ্যমে তার নমুনা পরীক্ষা করানো হয়। মঙ্গলবার রিপোর্টে দেখা যায় তিনি কোভিড পজিটিভ।’

হাছান মাহমুদ এর আগে আরও দুবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তৃতীয় দফা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে রয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
করোনায় ১ মৃত্যু, শনাক্ত ৬৫৭
করোনায় শনাক্ত ৬৯৬,মৃত্যু ২
ফের পেট্রলবোমা ছুড়লে জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ: তথ্যমন্ত্রী
শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশে বাধা সমীচীন নয়: তথ্যমন্ত্রী
‘মির্জা ফখরুল প্রমাণ করেছেন, বিএনপি পাকিস্তানের এজেন্ট’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Vaccination campaign is three more days

ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন আরও তিন দিন

ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন আরও তিন দিন করোনার টিকা গ্রহণের জন্য একটি কেন্দ্রের সামনে মানুষের দীর্ঘ সারি। ফাইল ছবি
শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে শুরু হওয়া বিশেষ ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন কার্যক্রম সোমবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই সময়সীমা বাড়িয়ে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে।

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমে উন্নত অনেক দেশ থেকেও এগিয়ে বাংলাদেশ। সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে করোনার টিকাদান কার্যক্রম এখনও চলছে দেশজুড়ে। তারপরও অনেকে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের বাইরে রয়ে গেছে।

টিকার বাইরে থেকে যাওয়া জনগোষ্ঠীকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে এবার দেশে শুরু হয়েছে ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনের সময়সীমা আরও তিনদিন বাড়ানো হয়েছে।

আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ক্যাম্পেইন কার্যক্রম সোমবার (৩ অক্টোবর) শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই সময়সীমা বাড়িয়ে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক আহমেদুল কবির সোমবার বেলা ২টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তবে এর মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া চালু করা আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন।

‘দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষকে ইতোমধ্যে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা হয়েছে। টিকা নেয়ার কারণে করোনায় আক্রান্ত হলেও হাসপাতালে ভর্তি কম হচ্ছে। মৃত্যু হারও অনেক কম।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল বলেন, ‘২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ কোটি মানুষকে করোনার ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছে ৯৮ শতাংশ মানুষ। আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে ৯৩ শতাংশ।

‘বুস্টার ডোজ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে আমরা শতভাগ মানুষকেই টিকার আওতায় আনব। এজন্য আমাদের জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষে টিকা দেয়ার গুরুত্ব বোঝাতে হবে।’

আরও পড়ুন:
করোনায় ১ মৃত্যু, বেড়েছে শনাক্ত
করোনায় ৬ মৃত্যু, শনাক্ত ছাড়াল ৭০০
করোনায় মৃত্যু ২, শনাক্ত ৫৭২
করোনায় ৪ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৫০
করোনায় শনাক্তের হার ছাড়াল ১৫ শতাংশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Doctors who screen dead babies after cesarean are reluctant to provide information

সিজারের পর মৃত সন্তান, পর্দা করা চিকিৎসক তথ্য দিতে নারাজ

সিজারের পর মৃত সন্তান, পর্দা করা চিকিৎসক তথ্য দিতে নারাজ
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চিকিৎসক উম্মে কাসমিরা জাহানের ভিজিটিং কার্ডে থাকা নম্বরে কল দিলে তার স্বামী ডা. রেজাউল করিম রিসিভ করেন। তিনি জানান, কাসমিরা পর্দা করেন। তাই তিনি কোনো পুরুষের সঙ্গে কথা বলবেন না।

হবিগঞ্জ শহরের একটি হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর কারণ ও প্রসূতির চিকিৎসার বিষয়ে কোনো তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন শিশুর বাবা।

তিনি জানান, পর্দা করেন বলে চিকিৎসক তার সঙ্গে কথা বলতে চাননি। নিউজবাংলার প্রতিবেদকের সঙ্গেও পর্দা করেন বলে কথা বলেননি চিকিৎসক উম্মে কাসমিরা জাহান।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটি গর্ভে থাকা অবস্থাতেই মারা গেছে।

এ ঘটনা ঘটেছে জেলা শহরের দ্যা জাপান বাংলাদেশ হাসপাতালে।

প্রসূতি ফেরদৌস বেগমকে রোববার গভীর রাতে এই হাসপাতালে ভর্তি করেন তার স্বামী বানিয়াচং ৩ নম্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রসবব্যথা ওঠায় রোববার রাত ৩টার দিকে আমার স্ত্রীকে নিয়ে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে যাই। সেখানে ডাক্তার জানায় তার জরুরিভাবে সিজার করতে হবে। সে জন্য তাকে আবার রাতেই জাপান বাংলাদেশ হাসপাতালে আনি।

‘সিজারের আগে আল্ট্রাসোনোগ্রাম করার কথা থাকলেও ওই হাসপাতালে তা করেনি। এমনকি আমার স্ত্রীর বিষয়ে সিজার করা ডাক্তার উম্মে কাসমিরা জাহানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় তিনি পর্দা করেন, তাই কোনো পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন না। এর আধা ঘণ্টা পর এসে একজন নার্স আমাকে আমার স্ত্রীর কাছে নিয়ে যান। আমার মৃত সন্তানকে দেখান। সন্তানের মাথা কিছুটা কাটাও ছিল।’

হাবিবের অভিযোগ, এতকিছুর পরও চিকিৎসকের সঙ্গে তিনি কথা বলতে পারছেন না।

তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর অবস্থা কেমন বা তারা এখানে চিকিৎসা করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আমাদেরকে কিছুই বলেনি। উল্টো কয়েকবার একটি সাদা কাগজে আমার স্বাক্ষর নিতে চেয়েছে।

‘আমার সন্তান তো গেলই, আমার সুস্থ-সবল স্ত্রীকে কাটা-ছেঁড়া করেছে। আমার সন্দেহ আছে ডাক্তার উম্মে কাসমিরা সিজার করছেন নাকি নার্সরা করেছে। এ ব্যাপারে ডা. কাসমিরার সঙ্গে কথাও বলতে দিচ্ছে না।’

হাবিব জানান, সোমবার দুপুর পর্যন্ত চেষ্টা করেও তিনি ডা. কাসমিয়ার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি।

এ ব্যাপারে জানতে চিকিৎসক উম্মে কাসমিরা জাহানের ভিজিটিং কার্ডে থাকা নম্বরে কল দিলে তার স্বামী ডা. রেজাউল করিম রিসিভ করেন। তিনি জানান, কাসমিরা পর্দা করেন। তাই তিনি কোনো পুরুষের সঙ্গে কথা বলবেন না।

তাহলে রোগীর বিষয়ে তথ্য স্বজনরা কীভাবে জানবে? জবাবে রেজাউল বলেন, ‘রোগীর আপডেট থাকলে সে (ডা. কাসমিয়া) রোগীর সঙ্গে থাকা নারীকে দেয়। নারী না থাকলে নার্সকে দিয়ে দেয়।’

হাসপাতালের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, ‘রোগীকে নিয়ে আসার অন্তত দুইদিন আগেই শিশুটি মারা গিয়েছিল। আমাদের এখানে কোনো ভুল চিকিৎসা হয়নি।

‘শিশুটি দুইদিন আগে মারা যাওয়ায় তার শরীর অনেক নরম হয়ে গেছিল। যে কারণে সিজারের সময় মাথায় একটু ফেটে যায়।’

চিকিৎসক কেন রোগীর বিষয়ে তথ্য তার স্বামীকে জানাচ্ছেন না, জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, ‘তিনি (চিকিৎসক) পর্দা করেন। তাই কোনো পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন না। এতে আমাদের কী করার আছে? আমরা তো আর উনার পর্দার বিষয়ে কথা বলতে পারি না।’

জেলা সিভিল সার্জন মো. নূরুল হক বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত কোনো অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
মসজিদে জুতার বাক্স থেকে ভেসে এলো নবজাতকের কান্না
রোগীর পেটে কাঁচি ফেলে আসায় চিকিৎসক জেলে
নারী চিকিৎসক হত্যা: রেজাউলের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন পিছিয়েছে
অপারেশন থিয়েটারের ভেতরেই ২ চিকিৎসকের মারামারি
অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মৃত্যু, হাসপাতাল বন্ধ কর্তৃপক্ষের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
And when will the 250 bed hospital in Barguna be launched?

আর কবে চালু হবে বরগুনায় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল

আর কবে চালু হবে বরগুনায় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল। ছবি: নিউজবাংলা
২০১০ সালে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালে নতুন ভবন উদ্বোধনও করেন তিনি। এরপর গেছে আরও চার বছর। কিন্তু জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের টানাটানিতে।

প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল ভবন উদ্বোধন করে এসেছেন প্রায় সাড়ে চার বছর হয়ে গেল। কিন্তু রোগীদের লাভ হলো না কোনো। জনবল নিয়োগ কে দেবে- এ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে চলছে বিরোধ। আর এতে আটকে গেছে গোটা প্রক্রিয়া। ফলে নতুন ভবনে ভালো চিকিৎসা হবে- এই আশায় দিন কাটাতে হচ্ছে রোগীদের।

বরগুনার আড়াই শ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র এটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে ১০০ শয্যার হাসপাতালটিকে আড়াই শ শয্যা করার ঘোষণা দেয়ার এক যুগ পরও সেটির বাস্তবায়ন হয়নি।

আসলে ১০০ শয্যার হাসপাতালে যে চিকিৎসা পাওয়ার কথা, বরগুনাবাসী পাচ্ছে না সেটিও। যে চিকিৎসক থাকার কথা, আছে তার এক-চতুর্থাংশ। ফলে বোঝাই যায় কতটা ভঙ্গুর ১২ লাখ মানুষের এই জেলায় সরকারি চিকিৎসাসেবা।

বরগুনায় নাগরিক অধিকার নিয়ে সোচ্চার একটি সংগঠনের নেতা বলছেন, সরকারপ্রধানের ঘোষণা, তার ভবন উদ্বোধনের পরও স্বাস্থ্য বিভাগের এসব অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডে বদনাম হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা এক যুগ আগের

১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫০ শয্যার চিকিৎসালয়টি আওয়ামী লীগের শাসনামলে ১৯৯৭ সালে ১০০ শয্যা করা হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফেরার পরের বছর হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৩ সালে বরগুনা গণপূর্ত বিভাগ ৩১ কোটি ৩১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৭ টাকা ব্যয়ে সাততলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০১৮ সালে নতুন ভবন উদ্বোধনও করেন সরকারপ্রধান। কিন্তু সেবা আর শুরু হয়নি।

এর তিন বছর পর ২০২১ সালের জুন মাসে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করেন। সোয়া এক বছর পরও সেভাবেই পড়ে আছে সেটি।

বরগুনার সিভিল সার্জন ফজলুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জনবল নিয়োগ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ না করায় আমরা নতুন ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করতে পারছি না।’

কত জনবল থাকার কথা, আছে কত

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, আড়াই শ শয্যার হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, চিকিৎসক, নার্স, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ২৫১ জনের কাজ করার কথা। কিন্তু নেই ১০০ শয্যার প্রয়োজনীয় লোকবলই।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সোহরাব উদ্দীনের তথ্য মতে, ১০০ শয্যার হাসপাতালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী ৪৩ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু আছেন ১১ জন। এদের মধ্যে তিনি একজন। বাকিদের মধ্যে একজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও), চারজন চিকিৎসক, সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া, গাইনি ও অর্থোপেডিকস বিভাগ আছেন একজন করে জুনিয়র কনসালট্যান্ট এবং একজন হোমিও চিকিৎসক।

তিনি বলেন, ‘আমরা জেলার ১২ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম এক প্রকার চালিয়ে নিচ্ছি। লোকবল নিয়োগ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দ না হওয়ায় আমরা নতুন ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করতে পারছি না।’

বরগুনায় চিকিৎসাসেবা নিয়ে সোচ্চার সংগঠন জেলা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক হাসানুর রহমান ঝন্টু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক শ শয্যার হাসপাতালের তিন-চতুর্থাংশ জনবল নেই। এটা নিয়েও আমরা আন্দোলন করেছি। স্বাস্থ্য বিভাগের তদারকির অভাব ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে ৩০ মাসের কাজ ৯ বছর শেষ করে আড়াই শ শয্যার হাসপাতালের ভবন নির্মাণ হয়েছে।

‘২০১৮ সালে ভবন উদ্বোধনের পরও চার বছর শেষ। কিন্তু চিকিৎসাসেবা শুরু হয়নি। স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সেবা খাতে যদি এমন অবস্থা থাকে তবে আমরা দুর্ভাগা ছাড়া কিছুই নই। এই জটিলতা নিরসন করে দ্রুত হাসপাতালটি চালু করা এখন আমাদের দাবি।’

কোথায় সংকট

নতুন হাসপাতালটি চালু না হওয়ার পেছনে জনবল নিয়োগ নিয়ে যে জটিলতার কথা বলা হচ্ছে, সেটি কেন হচ্ছে- প্রশ্ন ছিল বরগুনার সিভিল সার্জন ফজলুল হকের কাছে।

তিনি বলেন, ‘নিয়োগ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জটিলতা চলছে। দুই সংস্থাই নিয়োগ দিতে চায়। এ কারণে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তাই হাসপাতালটি আমরা চালু করতে পারছি না।’

যোগাযোগ করা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) শামিউল ইসলাম সাদির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করে আসা চিকিৎসালয়ে চার বছরেও সেবা চালু না হওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের বক্তব্য জানতে মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় কক্সবাজারে গিয়েছেন। তিনি না আসা পর্যন্ত কথা বলা যাচ্ছে না।’

আরও পড়ুন:
প্রসূতির অস্ত্রোপচারে এক যুগ পর সেবা চালু হলো যে হাসপাতালে
সব চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল চালু
‘অপরিণত হওয়ায়’ সেই যমজ নবজাতকের মৃত্যু
সদর হাসপাতালে অনিয়ম পেয়েছে দুদক
অনিয়মে কুমিল্লায় বন্ধ ৪ হাসপাতাল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Another 568 dengue patients died in hospital 2

আরও ৫৬৮ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে, মৃত্যু ২

আরও ৫৬৮ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে, মৃত্যু ২ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত সন্তানের সেবায় মা ও পরিবারের সদস্যরা। ফাইল ছবি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৬০ ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ২০৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৫৬৮ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মারা গেছেন দুজন। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮ জন।

রোববার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার হিসাব দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

আগের দিন শনিবার ডেঙ্গু আক্রান্ত ৬৩৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, যা এ বছরে সর্বোচ্চ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক বিবৃতিতে রোববার জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৬০ জন রোগী ভর্তি হন। বাকি ২০৮ জন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে সারা দেশে ২ হাজার ২২১০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৬৬০ জন ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ৫৫০ জন চিকিৎসাধীন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭ হাজার ২৯৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ হাজার ১৫৯ জন এবং ঢাকার বাইরে সারা দেশে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ১৩৬ জন।

একই সময়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন মোট ১৫ হাজার ২৭ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ হাজার ৪৭২ জন এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলো থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৫৫ জন।

আরও পড়ুন:
হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড
ডেঙ্গুতে ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৭
ডেঙ্গুতে ১ মৃত্যু, কমেছে হাসপাতালে ভর্তি
ডেঙ্গু তো আমরাই লালন-পালন করছি: স্বাস্থ্যসচিব
হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The image of Rangpur Medical changed after the doctor suffered

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র
এক চিকিৎসক মাকে ভর্তি করাতে যাওয়ার পর পদে পদে টাকা আর কর্মীদের হুমকি-ধমকি দেয়ার পর অন্য চিকিৎসকরা সোচ্চার হন। তাদের হুঁশিয়ারির মুখে কর্তৃপক্ষ হয় তৎপর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নেয় ব্যবস্থা, বদলি করা হয় ১৭ কর্মচারীকে। চুক্তিভিত্তিক দুই জনকে করা হয় বরখাস্ত। এখন রোগী ভর্তি করতে এলে কাউকে বাড়তি টাকা দিতে হয় না। হাসপাতালের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন, ছিমছাম।

২১ সেপ্টেম্বরের ঘটনা। গাইবান্ধা সদর উপজেলার বড় দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা ইশরাত জাহান ইতি কিডনি রোগে আক্রান্ত মাকে ভর্তি করান রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে। সেদিন জরুরি বিভাগে ভর্তি বাবদ ২০০ টাকা, ট্রলি বাবদ ২৫০ আর বেড পরিষ্কারের জন্য দিতে হয়েছে ৫০ টাকা। কিছুটা সুস্থ হয়ে মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি।

ঠিক ১০ দিন পর ১ অক্টোবর দুপুরে মাকে নিয়ে ফের হাসপাতালে আসেন ইতি। কিন্তু জরুরি বিভাগে এবার ট্রলির জন্য টাকা চায়নি কেউ, ভর্তি বাবদ ২০০ টাকার বদলে লেগেছে ২৫ টাকা। শয্যা পরিষ্কারের জন্যও কেউ টাকা চেয়ে বিরক্ত করেনি।

হাসপাতালে এমন পরিবর্তন দেখে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ইতি। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মার দুই কিডনিতেই পাথর ছিল। এর আগে একটার চিকিৎসা করা হয়েছে। এবার অন্যটির চিকিৎসার জন্য ভর্তি করলাম। কিন্তু কেউ আমার কাছে টাকা চায়নি। ভর্তি বাবদ ২৫ টাকা নিয়েছে, রিসিটও দিয়েছে। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি প্রশাসন এখন এত শক্ত।’

ইতির কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় বন্ধ হয়েছে এই হাসপাতালেরই এক চিকিৎসক তার মাকে ভর্তি করে এসে ভুক্তভোগী হওয়ার পর। সেই চিকিৎসকের কাছ থেকেও পদে পদে আদায় করা হয়েছে বাড়তি টাকা। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, নিজের কর্মস্থল থেকে মাকে তিনি নিয়ে গেছেন এই ভয়ে যে, এখানে থাকলে তার মায়ের চিকিৎসা হবে না।

সেই চিকিৎসক হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে তোলপাড় হয়ে যায়। এতদিন সব দেখেও না দেখার ভান করা কর্তৃপক্ষ আর বসে থাকেনি। চিকিৎসক ভোগার পর তারা ব্যবস্থা নেয়ায় আমূল পাল্টে গেছে হাসপাতালের চিত্র। এখন দালালের অত্যাচার নেই, রোগী ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে ট্রলি ধরার প্রতিযোগিতা নেই, স্বজনের কাছে বকশিশ চাওয়ার অত্যাচার নেই, নির্ধারিত ভর্তি ফির বাইরে কোনো টাকা দিতে হচ্ছে না।

নোংরা পরিবেশের যে সমস্যায় এতকাল মানুষ ভুগেছে, সেটিও আর নেই। হাসপাতালের ওয়ার্ড, মেঝেতে নেই ময়লা-আবর্জনা। পুরো হাসপাতাল এখন ঝকঝকে চকচকে।

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

পরিস্থিতির এই চিত্র দেখে বিশ্বাস হচ্ছে না রোগী ও তার স্বজনদের। এদের একজন কুড়িগ্রামের উলিপুরের চাচিনা বেগম। গত চার দিন থেকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ছোট ভাইয়ের অসুস্থ স্ত্রীর সঙ্গে আছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এর আগেও হাসপাতালে ছিলাম আমি। কিন্তু এত ভালো ব্যবহার কেউ করেনি। ডাক্তার, নার্স ও আয়া সবাই যেন বাড়ির লোক। কেউ কখনও খারাপ ব্যবহার করেনি। ভর্তির সময় কেউ কোনো টাকা-পয়সা চায় নাই। শুনছি এদিক-সেদিক টাকা নেয়। কিন্তু কেউ চায় নাই।’

পরিবর্তনের নেপথ্যে

গত ১৭ সেপ্টেম্বর মায়ের চিকিৎসা করাতে অর্থোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক এ বি এম রাশেদুল আমীরের মাকে ভর্তি করানো হয়।

হাসপাতালে ভর্তি ফি ২৫ টাকা হলেও ১০ গুণ ২৫০ টাকা চাওয়া হয়। স্বজনরা চিকিৎসকের পরিচয় জানালে তো নেমে আসে ৫০ টাকায়, তবু তা ছিল নির্ধারিত ফির দ্বিগুণ।

ভর্তির পর রোগীকে করোনারি কেয়ার ইউনিট বা সিসিইউতে পাঠানো হলে সেখানেও দিতে হয় ২০০ টাকা। সেখানে স্বজনরা চিকিৎসকের পরিচয় দেয়ার পর তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

এর মধ্যে সেই চিকিৎসক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিডিও করেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার মাকে ভর্তি করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্টেপে টাকার জন্য চাপ দেয়া হয়েছে। ওই কর্মচারী নিজে মাসুদ নামে পরিচয় দেয়। আমি বিষয়টি একসময় ভিডিও করি। সেটি আমার ফেসবুকে পোস্ট করি।’

পরে সেই ভিডিও ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দেন চিকিৎসক রাশেদুল আর লিখিত অভিযোগ দেন হাসপাতাল পরিচালকের কাছে।

এসব ঘটনায় যে হাসপাতালে নিজে চাকরি করেন, সেখানে মায়ের চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে রিলিজ নিয়ে নেন তিনি। রোগী নিয়ে আসার সময় আবার চাওয়া হয়েছে টাকা, এবার আরও বেশি।

নিউজবাংলাকে রাশেদুল বলেন, ‘হয়তো আমার অভিযোগ অনেকে নানাভাবে নিতে পারে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার যখন আমার মাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে চলে আসি তখনও ময়লা পরিষ্কার বাবদ আমার কাছে ৩ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। এটা দুঃখজনক।’

হাসপাতালের এই চিত্র নতুন কোনো কিছু নয়। কিন্তু চিকিৎসকরা ছিলেন নির্বিকার। নিজেদের পেশার একজন ভোগার পর অবশেষে তারা সোচ্চার হন। অব্যবস্থাপনা বন্ধের দাবিতে ২৬ সেপ্টেম্বর আন্দোলনে নামেন ‘সম্মিলিত চিকিৎসক সমাজ’।

এরপর কঠোর হয় মন্ত্রণালয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিক্যালের ১৬ কর্মচারীকে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বদলি করা হয়। এরপর কর্মচারীদের আচরণে আসে পরিবর্তন।

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

এর পাশাপাশি চিকিৎসক রাশেদুল আমীরের স্বজনদের অশোভন আচরণ ও টাকা নেয়ার দায়ে চুক্তিভিত্তিক দুই কর্মচারী মাসুদ ও ঝর্ণাকে চাকরি থেকে বরখাস্তও করা হয়। এতে চুক্তিভিত্তিক অন্য কর্মচারীদের মধ্যেও ভয় ঢুকেছে।

‘চিকিৎসকরা আগে উদ্যোগী হলে আমাদের ভুগতে হতো না’

হাসপাতালের চিত্র পাল্টানোয় খুশি মাকে ভর্তি করতে এসে হয়রানির শিকার হওয়া চিকিৎসক এ বি এম রাশেদুল আমীর। তিনি জোর দিয়েছেন এই পরিবর্তন ধরে রাখার ওপর।

নিউজবাংলাকে রাশেদুল আমীর বলেন, ‘অ্যাজ এ ম্যান অফ রংপুর, আমি সব সময় চাই রংপুরের মানুষ এখান থেকে সবচেয়ে ভালো সেবা পাক। আমরা রংপুরবাসী যদি সবাই এক হই তাহলে এটা ধরে রাখা যাবে। এই যে বদলে গেছে এটাকে ধরে রাখতে হবে।’

স্বস্তিতে স্বজনরা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা চান মিয়া বলেন, ‘আমি এক মাস আগেও এখানে ভর্তি ছিলাম। তখন ট্রলিতে টাকা নিয়েছে, ভর্তিতে নিয়েছে। ওয়ার্ডে টাকা নিয়েছে। কিন্তু আইজ আমার ছোট ভাইকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। কেউ টাকা চায় নাই।’

গাইবান্ধার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কী বলব আপনাদের? দেখেন হাসপাতাল কত পরিষ্কার। কোথাও কোনো কাগজটাগজ নাই। ময়লা নাই, বাদামের খোল্ডা (খোসা) নাই। বিচনে (বেড) রুম সব পরিষ্কার। নিচতলা থেকে ওপরতলা কেউ টাকাটোকা চাইছে না। এমন পরিবেশ থাকলে তো ভালো হয়।’

কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন লিটু সরকার বলেন, ‘আমার ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল। ছিল সিসিইউতে। এখনকার পরিবেশ অনেক ভালো। এবার সেবা অনেক ভালো পাইছি।’

রাশেদুল মনির নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আগেই এই হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বহু অভিযোগ ছিল। তখন কোনো চিকিৎসকই এভাবে প্রতিবাদ করে এগিয়ে আসেনি। যদি এভাবে চিকিৎসকরা এগিয়ে আসত, তাহলে এই হাসপাতাল বহু আগেই দালালমুক্ত হতো। মানুষ এত হয়রানি হতো না।’

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ বিমল চন্দ্র রায় জানান, ‘আমাদের আন্দোলনের কারণে এমনটা হয়েছে কি না, জানি না। আমরা চাই এই হাসপাতালে এসে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন। যে স্টেপটা নেয়া হয়েছে তাতে যেন হাসপাতালটা ভালো চলে- এই কারণে এই উদ্যোগ। এখন সবাই হেল্প করতেছে- এটা যেন অব্যাহত থাকে। তাহলে মানুষের আস্থার জায়গা থাকবে।'

ডাক্তার ভোগার পর পাল্টাল রংপুর মেডিক্যালের চিত্র

হাসপাতালের পরিচালক শরীফুল হাসান বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে পরিকল্পনা নিচ্ছি। উন্নয়নের চাবিকাঠি হলো পরিকল্পনা। এটা আমার অবদান তা কিন্তু নয়। আমি চেষ্টা করছি মাত্র।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সিস্টেম ডেভেলপ করতে চেয়েছি, সেটি করছি। আমরা দেখছি জরুরি বিভাগে সমস্যা আছে, সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছি। নিয়মতান্ত্রিকভাবে এখন সব চলবে।’

তবু অভিযোগ অস্বীকার কর্মচারীদের

হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. বাদল জানান, ‘আমরা সরকারি কর্মচারীরা কখনও টাকা নেই নাই। আমাদের কর্তব্য আমরা করতেছি, ট্রলি ঠেলতেছি। এখন দালালটালাল নেই। কাউকে টাকা দেয়া লাগে না।’

আপনারা থাকতে টাকা কীভাবে নিয়েছে জানতে চাইলে বাদল বলেন, ‘ওরা আউটসোর্সিংয়ের কর্মী ছিল। যে যার মতো করে নিত। আমাদের উপস্থিতিতে নিত না।’

নাম প্রকাশ না করে একজন নার্স বলেন, ‘আপনি নিজেই দেখেন সিট কত আর ভর্তি কত। একবার রাউন্ডে গেলে কতজন রোগীর কাছে যেতে কত সময় লাগে। কিন্তু অনেক রোগী চায় ডাকা মাত্রই তাদের কাছে যেতে হবে। কিন্তু যার কাছে আছি বা যে রোগীর কাছে আছি তিনি কী অপরাধ করলেন? মূলত ভুল বোঝার কারণে তারা অভিযোগগুলো করে।’

আরও পড়ুন:
নিজ হাসপাতালে চিকিৎসকের হয়রানিতে ১৬ কর্মচারীকে বদলি
হাসপাতালের অনিয়ম পাল্টায়নি এতটুকু
নিজ হাসপাতালে হয়রানির শিকার হয়ে বিস্মিত চিকিৎসক

মন্তব্য

p
উপরে