× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
It is difficult to hear the movement after Eid Information Minister
hear-news
player
print-icon

ঈদের পর আন্দোলন শুনে কষ্ট হয় তথ্যমন্ত্রীর

ঈদের-পর-আন্দোলন-শুনে-কষ্ট-হয়-তথ্যমন্ত্রীর
আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীরা। ফাইল ছবি
‘আন্দোলন এই ঈদের পর করব, পরীক্ষার পর করব, শীতের পর করব, বর্ষার পর করব, এসব বলে তারা নিজেদের ক্রমাগত হাস্যাস্পদ করছে। যেটি দেখে রাজনীতিবিদ হিসেবে আমারও কষ্ট লাগছে।’

প্রায় প্রতি বছর ঈদের পর আন্দোলনের বিষয়ে বিএনপির নেতারা যে বক্তব্য দিয়ে থাকেন, তা শুনে রাজনীতিক হিসেবে কষ্ট হয় বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। এসব বক্তব্য দিয়ে বিএনপি ক্রমাগত নিজেদের হাস্যকর করে তুলছে বলে মনে করেন তিনি।

রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সম্পাদক ফোরামের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলন এই ঈদের পর করব, পরীক্ষার পর করব, শীতের পর করব, বর্ষার পর করব, এসব বলে তারা নিজেদের ক্রমাগত হাস্যাস্পদ করছে। যেটি দেখে রাজনীতিবিদ হিসেবে আমারও কষ্ট লাগছে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম মেয়াদ থেকে নানা সময় ‘ঈদের পর আন্দোলনের’ ঘোষণা দিয়ে আলোচনা তৈরি করা নেতারা এখন আর কোনো সময় বেঁধে দিচ্ছেন না। তার পরও রাজনীতিতে ‘ঈদের পর আন্দোলন’ নিয়ে রীতিমতো রসিকতা হয়ে থাকে।

২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সে সময়ের সরকারের এক বছর পূর্তির দিন সরকার পতনের ডাক দিয়ে ডাকা অনির্দিষ্টকালের হরতাল ও অবরোধ ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে বিএনপি বড় ধরনের কর্মসূচিতে আর যায়নি।

দলীয় সরকারের অধীনে হবে বলে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর একাদশ সংসদ নির্বাচনে তারা অংশ নেয় নির্বাচিত সরকারের অধীনেই।

এবার দলটি আবার নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ফিরে গেছে। এই নির্বাচন পরিচালনার জন্য যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে, তাকে মেনে না নিয়ে আন্দোলনের কথাও বলেছিল দলটি। কমিশন গঠন হয়ে যাওয়ার পর এখন বিএনপি কী করতে যাচ্ছে, সেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি।

ঈদের পর আন্দোলন শুনে কষ্ট হয় তথ্যমন্ত্রীর
সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সম্পাদক ফোরামের সঙ্গে মতবিনিময়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের পর আন্দোলন, শীতের পর আন্দোলন, পরীক্ষার পর আন্দোলন এটি ১৩ বছর ধরে শুনে আসছি। এটা কি এই ঈদের পরে বলেছে, নাকি কোন ঈদের বলেছে সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বের করতে হবে। এসব কথা বলে তারা নিজেদের হাস্যাস্পদ করছে। আমি আশা করব, এসব হাস্যাস্পদ বক্তব্য দেবেন না।

‘জনগণ তাদের আন্দোলনে কখনও সাড়া দেয়নি। জনগণ তাদের ওপর নানা কারণে বিরাগ। কারণ তারা জনগণের বিষয় নিয়ে আন্দোলন করেন না। জনগণের বিষয় নিয়ে তারা কথা বলেন না। তারা কথা বলেন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে আর তারেক জিয়ার শাস্তি নিয়ে এবং জনগণের ওপর তারা পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করেন। আমি আশা করব তারা জনগণের কাছে যাবেন।’

আরও পড়ুন:
বন্যা নিয়েও বিএনপির অপরাজনীতি: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
সিলেটের বন্যার জন্য দায়ী কিশোরগঞ্জের সড়ক: বিএনপি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
BNP in a meeting with the UN human rights delegation

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিএনপি নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল এবং দলটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর ছেলে আবরার ইলিয়াস।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বিএনপির ৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বুধবার দুপুর দুইটার দিকে এই বৈঠক শুরু হয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

বিএনপির প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল এবং দলটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর ছেলে আবরার ইলিয়াস।

পাঁচ দিনের সফরে গত ১৪ আগস্ট ঢাকায় পৌঁছান জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচলেট।

দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি দেখতে বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে এই সফর বলে এক বার্তায় জানিয়েছে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর।

আরও পড়ুন:
বাম জোটের হরতালে বিএনপির সমর্থন
খালেদার ৭৭তম জন্মবার্ষিকীতে ১৬ আগস্ট দোয়া মাহফিল
ক্ষমতায় গেলে রেন্টাল চুক্তি বাতিল: বিএনপি
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য জনগণের সঙ্গে তামাশা: ফখরুল
আ.লীগের চেয়ে বড় আন্দোলনকারী আর নেই: শাজাহান খান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Respect the left brothers Information Minister

বাম ভাইদের সম্মান করি: তথ্যমন্ত্রী

বাম ভাইদের সম্মান করি: তথ্যমন্ত্রী বাম জোটের কর্মসূচির ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। ফাইল ছবি
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাম ভাইদের আমি বিনীত অনুরোধ করব, তাদের কর্মকাণ্ডে যেন স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গিগোষ্ঠী ও দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপিসহ অন্যরা লাভবান না হয়। তাদের হাতে যেন দেশটা চলে না যায়, সেভাবেই তারা (বামপন্থিরা) তাদের কর্মকাণ্ড করবেন- এটাই আমার অনুরোধ।’

গণতান্ত্রিক বাম জোটের হরতাল কর্মসূচির লাভ যেন বিএনপি নিজের ঘরে না তুলতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বাম নেতাদের অনুরোধ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বুধবার তিনি এ অনুরোধ করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাম ভাইয়েরা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি, এ জন্য আমি তাদের সম্মান করি। বাম ভাইরা হরতাল ডেকেছেন, যে কেউ প্রতিবাদ করতে পারেন। গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে যে কেউ প্রতিবাদ করতে পারেন।

‘কিন্তু বাম ভাইদের আমি বিনীত অনুরোধ করব, তাদের কর্মকাণ্ডে যেন স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গিগোষ্ঠী ও দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপিসহ অন্যরা লাভবান না হয়। তাদের হাতে যেন দেশটা চলে না যায়, সেভাবেই তারা (বামপন্থিরা) তাদের কর্মকাণ্ড করবেন- এটাই আমার অনুরোধ।’

জ্বালানি তেলের দাম কমানোসহ কয়েকটি দাবিতে আগামী ২৫ আগস্ট দেশজুড়ে অর্ধদিবস হরতাল ডেকেছে গণতান্ত্রিক বাম জোট। শাহবাগে গত মঙ্গলবার এক সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, ‘বিএনপি যেসব গুমের কথা বলে, কিছুদিন পরে দেখা যায় তাদের খুঁজে পাওয়া যায়। বিএনপি যে গুমের তথ্য প্রকাশ করে, তা যে সঠিক নয় এতে সেটিই প্রমাণিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য যারা অগ্নিসন্ত্রাস করেছে, অগ্নিবোমা মানুষের ওপর নিক্ষেপ করেছে, তাদের মদদ দিয়েছে, সেই বিএনপি নেতাদের দ্রুত বিচার হওয়া প্রয়োজন। দ্রুত বিচার না হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠা হবে না, এটাই আজকের দাবি হওয়া উচিত।’

১৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জন্মদিন থেকে তো সরে আসেনি বিএনপি। ১৫ আগস্ট জন্মদিন ঠিক রেখেছে। এটা ঠিক রেখে পরের দিন মিলাদ বা অন্য কর্মসূচি তারা পালন করছে।’

দ্রব্যমূল্যের কারসাজি বন্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ। তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি হয়েছে, শুধু যে বাংলাদেশে হয়েছে তা নয়। তেলের দাম সমন্বয়ের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের মুনাফা বাড়াতে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

‘এবং পরিবহন খরচও তারা বাড়িয়ে দিয়েছে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের সরকার মনিটর করছে। আমি আশা করব, ব্যবসায়ী নেতারাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবেন।’

আরও পড়ুন:
কোনো দেশের পক্ষে এভাবে ভর্তুকি দেয়া সম্ভব না: তথ্যমন্ত্রী
‘সেপ্টেম্বরে মাঠে নামছে আ.লীগ, পালানোর পথ পাবে না বিএনপি’
ক্ষমতার মালিক আল্লাহ, উৎস জনগণ: বিএনপিকে কাদের
দেশে রাজনীতির পরিবেশ নেই: জি এম কাদের
ভোলায় প্রাণহানির দায় বিএনপির: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Real income of people was higher during BNP era Fakhrul

বিএনপি আমলে মানুষের প্রকৃত আয় বেশি ছিল: ফখরুল

বিএনপি আমলে মানুষের প্রকৃত আয় বেশি ছিল: ফখরুল ফাইল ছবি
‘আপনাদের নিশ্চই মনে থাকবে, বিএনপি সরকারের আমলে মানুষের প্রকৃত আয় ছিল অনেক বেশি। যার ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও ছিল বেশি। অন্য দিকে বর্তমানে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনেক কমেছে। কেননা সে তুলনায় মানুষের প্রকৃত আয় অনেক হ্রাস পেয়েছে।’

বর্তমান শাসনামলের তুলনায় ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি শাসনামলে দেশের মানুষের প্রকৃত আয় অনেক বেশি ছিল বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, সে সময় পণ্যমূল্য ছিল কম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দামও বর্তমান সময়ের অর্ধেকেরও কম ছিল।

বুধবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় ১৬ বছর আগে ক্ষমতা ছাড়ার সময় পণ্যমূল্য ও জ্বালানির মূল্যের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সবারই বলতে গেলে নির্দিষ্ট টাকায় সংসার চালাতে হয়। তাই আমরা যতটা তিক্তভাবে বাজারের মূল্যবৃদ্ধি অনুভব করতে পারি, তা জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে যারা সম্পদের পাহাড় জমিয়েছে, যাদের দুর্নীতির টাকা এখন সুইস ব্যাংক, মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম, কানাডার বেগমপাড়া, ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা লাতিন আমেরিকান দ্বীপরাষ্ট্রে পাচার হচ্ছে, তারা কখনই অনুভব করতে পারবেন না।

‘পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে সরকারের মদতপুষ্ট সিন্ডিকেটকারীদের ভূমিকার কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। মূল্যবৃদ্ধির এই দুর্নীতিবাজ চক্রের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে সরকারের চালিকাশক্তিরাই।’

এক ধরনের স্বার্থান্বেষী ‘অর্থপিপাসু বণিক সমাজ’ দেশ চালাচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘সরিষায় ভূত থাকলে ভূত তাড়াবে কে? রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তখন যা হবার তাই হচ্ছে বর্তমান বাংলাদেশে।’

এই সরকারকে গভর্নমেন্ট বাই দ্য বিজনেসম্যান, ফর দ্য বিজনেসম্যান অব দ্য বিজনেসম্যান বলে আখ্যা দেন বিএনপি নেতা। বলেছেন, এবারের বাজেটের দিকে তাকালেই এই বিষয়টি বোঝা যায়। যার ফলে স্বার্থের সংঘাত দেখা দিলে ব্যবসায়ীদের স্বার্থই বরাবর প্রাধান্য পাচ্ছে।’

বিএনপির শাসনামলে মানুষ এখনকার চেয়ে অনেক স্বস্তিতে ছিল দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘আপনাদের নিশ্চই মনে থাকবে, বিএনপি সরকারের আমলে মানুষের প্রকৃত আয় ছিল অনেক বেশি। যার ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও ছিল বেশি। অন্য দিকে বর্তমানে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনেক কমেছে। কেননা সে তুলনায় মানুষের প্রকৃত আয় অনেক হ্রাস পেয়েছে।’

২০০৬ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতা ছাড়ে, তখন দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছির ৫৪৩ ডলার। এখন তা হয়েছে ২ হাজার ৮১৪ ডলার।

দুই শাসনামলে পণ্যমূল্যের তুলনা

ফখরুল বলেন, ২০০৬ সালে এক কেজি মোটা চালের দাম ছিল গড়ে ১৫ টাকা। বর্তমানে মোটা চালের দাম গড়ে ৫৪ টাকা। মূল্যবৃদ্ধি তিন গুণেরও বেশি

‘২০০৬ সালে ১০০ টাকায় প্রায় ৭ কেজি মোটা চাল কেনা যেত। বর্তমানে ১০০ টাকায় মোটা চাল কেনা যায় ২ কেজি। প্রায় ৫ কেজি কম চাল পাওয়া যায়।

‘মন্তব্য: আয় সক্ষমতা যদি দুই গুণ বৃদ্ধি পায়, এরপরেও ২০০৬ সালের সম পরিমাণ ক্রয় সক্ষমতা অর্জন অসম্ভব।’

ফখরুল সংবাদ সম্মেলনে ২০০৬ সালের ৯ সেপ্টেম্ব ও গত ১৬ আগস্ট সরকারি সংস্থা টিসিবির বাজারদর তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ১৬ বছর আগে সরু চালের দর ছিল ২৪ টাকা কেজি, এখন তা ৬৪ থেকে ৮৫ টাকা। তখন পেঁয়াজ ছিল ৮ থেকে ২০ টাকা কেজি, এখন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। সে সময় সয়াবিন তেলের দর ছিল ৪৪ টাকা লিটার, এখন ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা। গরুর মাংস ছিল ১৫০ টাকা কেজি, এখন ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকা। খাসির মাংস ছিল ২৩০ টাকা কেজি, এখন ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকা।

ইলিশের কেজি ছিল ২৮০ টাকা, এখন ৬০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। গুঁড়া দুধ ছিল ২৮৫ টাকা কেজি, এখন ৭৬০ থেকে ৮২০ টাকা। দেশি মশুর ডাল ছিল ৪৫ টাকা কেজি, এখন ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। নেপালি মশুর ডাল ছিল ৪৫ টাকা কেজি, এখন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ছিল ৫৫ টাকা কেজি, এখন ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। দেশি মুরগি ছিল ১৮০ টাকা কেজি। এখন ৫০০ থেকে ৫৬০ টাকা।

তখন আটা ছিল ২০ টাকা কেজি, এখন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। তখন ময়দা ছিল ২৬ টাকা কেজি, এখন ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।
ফার্মের ডিম ছিল ১১ টাকা হলি, এখন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। আলুর দর ছিল ৬ টাকা কেজি, এখন ২৬ থেকে ৩০ টাকা। লবণ ছিল ১৮ টাকা কেজি, এখন ৩০ থেকে ৩৬ টাকা। চিনি ছিল ৩৭ টাকা কেজি, এখন ৮৮ থেকে ৯০ টাকা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যের পার্থক্য

ফখরুল বলেন, তাদের শাসনামলে বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম ছিল ১ টাকা ৬০ পয়সা। এখন গড় দাম ৭ টাকা ১৩ পয়সা।

সে সময় এক চুলার গ্যাসের মূল্য ছিল ২০০ টাকা, দুই চুলার ছিল ২৫০ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে যথাক্রমে ৯৯০ টাকা ও ১০৮০ টাকা।

ফখরুল বলেন, ‘এই মূল্যবৃদ্ধি সেসব সীমিত আয়ের মানুষের ওপর সরাসরি আঘাত, যারা ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিতে নাকাল। এবার বর্ধিত ট্রাকভাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করেছে। জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানোর প্রভাব কাঁচাবাজারে পড়েছে। আগামী দিনগুলোয় শিল্পপণ্যের দামেও প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষ নানাভাবে ব্যয় কমিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। নিজের আয় দিয়ে আর চলতে না পারায় স্ত্রীকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে অনেকেই ফ্যামিলি বাসা ছেড়ে উঠেছেন মেসে। মানুষ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন।’

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি অর্থনীতির কফিনে শেষ পেরেক

ফখরুল বলেন, ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম একবারে ৪৫ থেকে ৫১ শতাংশ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে দেশের মুখ থুবড়ে পড়া অর্থনীতির কফিনে শেষ পেরেকটুকু ঠুকে দেয়া হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সর্বক্ষেত্রে।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষেরা দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষেও টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

‘গণপরিবহন থেকে কাঁচাবাজার- সর্ব ক্ষেত্রে কয়েক গুণ মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে সবাই। প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন, তারা মিছিল করছেন।’

দাম যদি বাড়াতেই হতো, তাহলে সহনীয়ভাবে ধাপে ধাপে বাড়াতে পারত বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘হঠাৎ করে রাতের আঁধারে একবারে এত বেশি দাম বৃদ্ধিতে জ্বালানি ব্যবহার সংশ্লিষ্ট সকলেই হতচকিত হয়ে পড়েছে। যাত্রী, ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেই হতবাক।’

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম কমে আসার মধ্যে বাংলাদেশে দাম এক লাফে এত বেশি বাড়ানোর পেছনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসাই কারণ বলে মনে করেন ফখরুল। বলেন, ‘সরকারের বেপরোয়া দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অপরিণামদর্শিতার দায় পুরোপুরি সাধারণ মানুষের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া হলো।’

তেলে প্রতি লিটারে সরকার ৩৪ টাকা করে কর আদায় করছে উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, সরকার ইচ্ছা করলে সেই কর প্রত্যাহার করতে পারত। তাতে জনগণ স্বস্তি পেত।

বিএনপি নেতার অভিযোগ, সরকার কয়েকজন ব্যবসায়ীকে আর্থিকভাবে লাভবান করার লক্ষ্যে দেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের চেষ্টা না করে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানির সুযোগ করে দিয়েছে।

গ্যাস, বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ানোর প্রস্তুতি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন বিএনপি নেতা। বলেন, গত ১২ বছরে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৯০ শতাংশ বেড়েছে। এখন আবার ৫৮ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসখানেক আগেও গ্যাসের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এবার আবার বাড়লে শিল্প উৎপাদনও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়বে। জীবনযাপনে আরও বেশি বিপর্যয় নেমে আসবে।

গত ১৪ বছরে ঢাকা ওয়াসা পানির দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানোর পরও আবার ২৫ শতাংশ বাড়াতে চায় উল্লেখ করে এরও সমালোচনা করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি।’

‘দেশের মানুষ মুক্তি চায়’

বর্তমান সময়কে ‘দুঃশাসন’ আখ্যা দিয়ে ফখরুল বলেন, জনগণ এ থেকে মুক্তি চায়।

তিনি বলেন, ‘লুটপাট, দুর্নীতি, অর্থ পাচার আর অপশাসন দেশেটাকে সত্যিকার অর্থেই অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানকেই বাকশালীরা ধ্বংসের শেষ প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছে।

‘বাগাড়ম্বর আর কাল্পনিক উন্নয়নের গল্প দেশের জনগণ আর শুনতে চায় না। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর যত অন্যায় অপকর্ম করেছে, তার প্রায়শ্চিত্ত তাদেরকে করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মানবাধিকার পরিস্থিতির তদন্ত চান ফখরুল
বিএনপির কর্মসূচিতে ড্রোন, ফখরুল বললেন, ‘ভয় পাই’
সরকারের দিন ফুরিয়ে এসেছে: ফখরুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BNPs support for the strike of the left

বাম জোটের হরতালে বিএনপির সমর্থন

বাম জোটের হরতালে বিএনপির সমর্থন মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংল
লিখিত বক্তব্যের পর তার কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, বামদের হরতালে বিএনপি সমর্থন দেবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা তো আগেই বলেছি যে কোনো দলের ন্যায়সঙ্গত দাবির আন্দোলন আমরা সবসময় সমর্থন করি।’

জ্বালানি তেল, সারের বর্ধিত দাম ও বাস ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে গণতান্ত্রিক বাম জোটের ডাকা হরতালে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যে কোনো দলের ন্যায়সঙ্গত দাবির পক্ষে আছেন তারা।

মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

আগামী ২৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আধাবেলা হরতালের ডাক দিয়েছে বাম জোট। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধিসহ দেশে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিএনপির বক্তব্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সামনে আসেন ফখরুল।

লিখিত বক্তব্যের পর তার কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, বামদের হরতালে বিএনপি সমর্থন দেবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা তো আগেই বলেছি যে কোনো দলের ন্যায়সঙ্গত দাবির আন্দোলন আমরা সবসময় সমর্থন করি।’

এর আগে লিখিত বক্তব্যে বিএনপি নেতা বলেন, মাসাধিককাল থেকে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের নেতিবাচক প্রভাবে এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল ও ভোগ্যপণ্যসহ সকল পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় ভোক্তারা যখন দিশেহারা তখন হঠাৎ করে বিনা নোটিশে রাতের অন্ধকারে জ্বালানি তেলের দাম নজিরবিহীন বৃদ্ধি ‘মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ’ হয়ে এসেছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।

তিনি বলেন, ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম একবারে ৪৫ থেকে ৫১ শতাংশ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে দেশের মুখ থুবড়ে পড়া অর্থনীতির কফিনে শেষ পেরেকটুকু ঠুকে দেয়া হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সর্বক্ষেত্রে।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষেরা দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষেও টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

‘গণপরিবহন থেকে কাঁচাবাজার- সর্বক্ষেত্রে কয়েকগুণ মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে সবাই। প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে, তারা মিছিল করছে।’

দাম যদি বাড়াতেই হতো, তাহলে সহনীয়ভাবে ধাপে ধাপে বাড়াতে পারত বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘হঠাৎ করে রাতের আঁধারে একবারে এত বেশি দাম বৃদ্ধিতে জ্বালানি ব্যবহার সংশ্লিষ্ট সকলেই হতচকিত হয়ে পড়েছে। যাত্রী, ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেই হতবাক।’

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম কমে আসার মধ্যে বাংলাদেশে দাম এক লাফে এত বেশি বাড়ানোর পেছনে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসাই কারণ বলেও মনে করেন ফখরুল। বলেন, ‘সরকারের বেপরোয়া দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অপরিণামদর্শিতার দায় পুরোপুরি সাধারণ মানুষের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া হলো।’

তেলে প্রতি লিটারে সরকার ৩৪ টাকা করে কর আদায় করছে উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, সরকার ইচ্ছা করলে সেই কর প্রত্যাহার করতে পারত। তাতে জনগণ স্বস্তি পেত।

বিএনপি নেতার অভিযোগ, সরকার কয়েকজন ব্যবসায়ীকে আর্থিকভাবে লাভবান করার লক্ষ্যে দেশে নতুন গ্যাসক্ষত্র আবিষ্কারের চেষ্টা না করে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানির সুযোগ করে দিয়েছে।

গ্যাস, বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ানোর প্রস্তুতি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন বিএনপি নেতা। বলেন, গত ১২ বছরে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৯০ শতাংশ বেড়েছে। এখন আবার ৫৮ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসখানেক আগেও গ্যাসের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এবার আবার বাড়লে শিল্প উৎপাদনও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়বে। জীবনযাপনে আরও বেশি বিপর্যয় নেমে আসবে।

বিএনপি শাসনামলে দেশের মানুষের প্রকৃত আয় অনেক বেশি ছিল দাবি করে ফখরুল সে সময়ে গ্যাস-বিদ্যুত ও পণ্যমূল্যের দামের একটি তথ্যও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খানও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মানবাধিকার পরিস্থিতির তদন্ত চান ফখরুল
খালেদার ৭৭তম জন্মবার্ষিকীতে ১৬ আগস্ট দোয়া মাহফিল
ক্ষমতায় গেলে রেন্টাল চুক্তি বাতিল: বিএনপি
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য জনগণের সঙ্গে তামাশা: ফখরুল
আ.লীগের চেয়ে বড় আন্দোলনকারী আর নেই: শাজাহান খান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Awami League is coming to show its strength on the streets

রাজপথে শক্তি দেখাতে নামছে আওয়ামী লীগও

রাজপথে শক্তি দেখাতে নামছে আওয়ামী লীগও ছয় দফা দিবসে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় আওয়ামী লীগ। ফাইল ছবি
জোট সরকারের আমলে সারা দেশে একযোগে বোমা হামলার স্মরণে বুধবার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই কর্মসূচি দৃশ্যত রাজপথে সংগঠনকে সক্রিয় করার পদক্ষেপ। লোডশেডিং, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা ইস্যুতে বিএনপি ও সমমনারা যখন একের পর এক বিক্ষোভ-সমাবেশ করছে, সে সময় নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে রাজপথে নামার তাগিদ দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের লোডশেডিংসহ নানা ইস্যুতে সরকারবিরোধীদের রাজপথে একের পর এক কর্মসূচির মধ্যে এবার মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

আগস্টে শোকের কর্মসূচি ছাড়া রাজনৈতিক কর্মসূচি সচরাচর পালন না করলেও একই দিনে দেশের সব মহানগর, জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়নে জমায়েত করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল। ‍উপলক্ষ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে একযোগে বোমা হামলার প্রতিবাদ।

বুধবার সারা দেশে এই বিক্ষোভে নেতা-কর্মীদের সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রাজপথে শক্তি দেখাতে নামছে আওয়ামী লীগও

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ফাইল ছবি

কেন্দ্রীয়ভাবে বিকেল ৪টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল বের করবে দলটি। মৎস্য ভবন-কদম ফোয়ারা-প্রেস ক্লাব ও জিরোপয়েন্ট হয়ে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হবে সেটি।

এতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এবং সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেবেন।

আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচি দৃশ্যত রাজপথে সংগঠনকে সক্রিয় করার পদক্ষেপ।

লোডশেডিং, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা ইস্যুতে বিএনপি ও সমমনারা যখন একের পর এক বিক্ষোভ-সমাবেশ করছে, সে সময় নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে রাজপথে নামার তাগিদ দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

গত ১১ আগস্ট এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের এই কর্মসূচি নিয়ে বলেন, ‘এভাবে চলতে পারে না। আমরা রাজপথ থেকে ক্ষমতায় এসেছি। তারা যেভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে আমরা রাজপথ ভুলে গেছি। আমরাও আছি, অচিরেই রাজপথে দেখতে পাবেন।’

বিকেল ৩টা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগ দিতে নেতা-কর্মীদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিক্ষোভ কর্মসূচিতে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরও অংশ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।’

দলের একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, এই বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যত মাঠে শক্তি প্রদর্শনের জন্য নামছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা গরম বক্তব্য দিচ্ছেন, হুমকি-ধমকিও দিচ্ছেন। একাধিক কর্মসূচি নিয়ে রাজপথেও নেমেছে। পাশপাশি অন্যান্য বিরোধী দলগুলোও রাজপথে সরকারবিরোধী কর্মসূচি পালন করছে। আওয়ামী লীগ এসবের জবাব দিতে চায়।’

কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নিউজ বাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছর আওয়ামী লীগ এ কর্মসূচি পালন করে থাকে। তবে এবার এ কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন করার জন্য সাংগঠনিক ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রাজপথে শক্তি দেখাতে নামছে আওয়ামী লীগও

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে ২০২০ সালের ৫ ডিসেম্বর রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের মশাল মিছিল। ফাইল ছবি

‘দল থেকে দেশব্যাপী জেলা, মহানগর, উপজেলা পর্যায়ে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শোকের মাসে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে না। কিন্তু অনেকের হুমকি-ধমকি অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। তাই আমরা আগস্ট শেষে রাজপথে নামব। আর আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচি গুরুত্ব দিয়ে পালনের জন্য নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
শোক মিছিলে মহিলা আওয়ামী লীগের মারামারি 
আ.লীগের চেয়ে বড় আন্দোলনকারী আর নেই: শাজাহান খান
আ.লীগ, বিএনপির বিকল্প হওয়ার চেষ্টা করছি: মান্না
বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করলে জিভ কেটে নেব: নাছিম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ganoforum AB party is not in alliance

জোট হচ্ছে না গণফোরাম-এবি পার্টির

জোট হচ্ছে না গণফোরাম-এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বৈঠকে গণফোরাম-এবি পার্টি। ছবি: নিউজবাংলা
মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত ইসলামী থেকে বেরিয়ে এবি পার্টির হয়েছে। তা ছাড়া দুই ধরনের দুটি রাজনেতিক দলের বৈঠক নিয়ে আবু সাইয়িদ বলেন, ‘আমরা এবি পার্টির গঠনতন্ত্র দেখলাম। দলটির নেতাদের সঙ্গে পরিচিত হলাম। জামায়াতের বিষয়ে তাদের বক্তব্য হলো- আমরা জামায়াত থেকে বেরিয়ে এসে এবি পার্টি করেছি। জামায়াত জাতির কাছে ক্ষমা চায় নি বলেই আমরা নতুন দল করেছি। আমাদের মনে হয়েছে, এদেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদেরও আছে।’

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্ত:বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌছেছেন ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরাম ও নতুন রাজনৈতিক দল এবি পার্টি।

কোন জোট হচ্ছে না বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুটি দল। তবে যুগপৎ আন্দোলন করবে দুটি দল। মঙ্গলবার বিকালে গণফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যালয় এক বৈঠক করে দুটি দল।

গণফোরাম দলটিতে এখনো নেতৃত্বে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গনে যুদ্ধ করা মুক্তিযোদ্ধারা। আর জামায়াত থেকে বের হয়ে মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করার কথা বলেছেন এবি পার্টির নেতারা।

তবে এবি পার্টির সঙ্গে কোন জোট হচ্ছে না বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ। তিনি বলেন, ‘আমরা উনাদের বলেছি, আমরা কারও সঙ্গেই জোট করতে চাচ্ছি না। আপনাদের সঙ্গে জোট করবো না। তবে আমরা যুগপৎ আন্দোলন করতে পারি। উনারা আমাদের বলেছেন, আমরা মিটিং করে আপনাদের জানাবো। যার একটি লিয়াজো কমিটি থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তো বিএনপিকেও বলেছি, আমরা এই মূহুর্তে কোন জোটে যাব না।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত ইসলামী থেকে বেরিয়ে এবি পার্টির হয়েছে। তা ছাড়া দুই ধরনের দুটি রাজনেতিক দলের বৈঠক নিয়ে আবু সাইয়িদ বলেন, ‘আমরা এবি পার্টির গঠনতন্ত্র দেখলাম। দলটির নেতাদের সঙ্গে পরিচিত হলাম। জামায়াতের বিষয়ে তাদের বক্তব্য হলো- আমরা জামায়াত থেকে বেরিয়ে এসে এবি পার্টি করেছি। জামায়াত জাতির কাছে ক্ষমা চায় নি বলেই আমরা নতুন দল করেছি। আমাদের মনে হয়েছে, এদেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদেরও আছে।’

বৈঠকে গণফোরামের ওই অংশের সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন- ‘দুর্নীতিবাজ লুটেরা সরকার জনতার নিরাপত্তায় একেবারেই উদাসীন। দীর্ঘদিন ধরে পুরান ঢাকার মানুষের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে কেমিক্যাল, প্লাস্টিক ও দাহ্য পদার্থের গোডাউন সরানোর কোন উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেয়নি। যখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে তৎপরতা দেখায় কিন্তু আসলে এটা ধোঁকা। আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি মানুষের নুন্যতম নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে কিভাবে উন্নয়নের নামে রাজধানীতে মরনফাঁদ করে রেখেছে। এই মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের তত্ত্বাবধায়নে। নুন্যতম দায়িত্ববোধ থাকলে পদত্যাগ করতেন। জনগণের প্রতি তাদের যে দায়িত্ববোধের কথা বলেন তা আসলে কুমীরের মায়ের কান্না।’

এবি পার্টির আহবায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী বলেন- ‘আমরা চাই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যাতে হয় সেই লক্ষ্যে আমরা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছি এবং গণফোরামের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে সেটা গতিশীল ও কার্যকর হবে। অধিকার বঞ্চিত মানুষের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।’

বৈঠকে গণফোরামের নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, মহসিন রশিদ, মহিউদ্দিন আবদুল কাদেরসহ, সভাপতি পরিষদ সদস্য- আব্দুল হাসিব চৌধুরী, খান সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ফারুক, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু।

এবি পার্টির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম-সদস্য সচিব ব্যারিষ্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিষ্টার জুবায়ের আহমদ ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক বিএম নাজমুল হক প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
কেউ জামায়াতের, কেউ সরকারের ‘বি টিম’ বলছে
বিকশিত হতে পারছে না এবি পার্টি
এবি পার্টিতে ব্যারিস্টার রাজ্জাকও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In the 50 years of independence the Sada Dal of DU has not seen such a bad time

স্বাধীনতার ৫০ বছরে এমন বাজে সময় দেখেনি ঢাবির সাদা দল

স্বাধীনতার ৫০ বছরে এমন বাজে সময় দেখেনি ঢাবির সাদা দল জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সাদা দলের নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা
‘বিশ্বে যখন জ্বালানি তেলের দাম কমছে, তখন আত্মঘাতী একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশে দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতেও বিপর্যয় ঘটেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে জনগণের ‌অবস্থা নাভিশ্বাস। ডিমের দামও বেড়ে গেছে। সরকার জনগণকে নিয়ে খেলতামাশা লাগিয়ে রেখেছে, ছিনিমিনি খেলছে। কারণ তারা জানে জনগণের ভোট তাদের লাগে না।’

বর্তমান সময়কে ক্রান্তিকাল হিসেবে দেখছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি ও জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। তাদের দাবি, স্বাধীনতার ৫০ বছরের মধ্যে দেশে বর্তমানের মতো এত কঠিন সময় আর আসেনি।

বিদ্যুৎ খাতে বিপর্যয় এবং জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধনে এসব কথা বলেন সাদা দলের নেতারা।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি সেটি জাতির একটি ক্রান্তিলগ্ন। স্বাধীনতার পর এ রকম ক্রান্তিলগ্ন এ দেশের মানুষ দেখেনি। আমরা জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেকবান শিক্ষকরা এখানে দাঁড়িয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতের এই বিপর্যয় একদিনে ঘটেনি। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা, চুরি-ডাকাতি এবং রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের নামে টাকা-পয়সা যে পাচার করা হয়েছে কিংবা দিয়ে দেয়া হয়েছে, তারই সমন্বিত প্রভাব আজকের এই বিদ্যুৎ খাতের বিপর্যয়। জনগণের পিঠ আজ দেয়ালে ঠেকে গেছে। সরকারের উচিত দায়িত্বশীল আচরণ করে এই দুর্ভোগ কমানো।’

সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্বে যখন জ্বালানি তেলের দাম কমছে, তখন আত্মঘাতী একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশে দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতেও বিপর্যয় ঘটেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে জনগণের ‌অবস্থা নাভিশ্বাস। ডিমের দামও বেড়ে গেছে। সরকার জনগণকে নিয়ে খেলতামাশা লাগিয়ে রেখেছে, ছিনিমিনি খেলছে। কারণ তারা জানে জনগণের ভোট তাদের লাগে না।’

বিরোধীদের আন্দোলনে বাধা না দেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের কথা তুলে ধরে ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘এসব কথা মুখে মধু রেখে অন্তরে বিষ রাখার মতো।

‘ভোলায় মিছিল হয়েছে, ছাত্রদলের সভাপতি মারা গেছে, তাদের মধু খাওয়াইছে নাকি বিষ খাওয়াইছে সেটা হচ্ছে দেখার বিষয়। সুতরাং আন্দোলন করলে কিছু করা হবে না, এ সমস্ত ভণ্ড কথা বাদ দেয়া উচিত।’

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ সাদা দলের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল আমিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এমরান কাইয়ুম, আব্দুস সালামও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘চ’ ইউনিটের অঙ্কনে পাস ১৬.০৫ শতাংশ 
ঢাবিতে কষ্ট পেলেও থামছেন না বেলাল
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটে ফেল প্রায় ৮৬ শতাংশ
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ফল আজ
১০২ পাউন্ডের কেক কেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন

মন্তব্য

p
উপরে