দীর্ঘদিন সামরিক শাসনের জাঁতাকলে থেকে বাংলাদেশ যখন পরমুখী, আত্মবিশ্বাস যখন তলানিতে, তখনই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণায় বাঙালি ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই পদ্মা সেতু শুধু ইট-কাঠের স্থাপনা হিসেবে নয়, দেশের আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।
পদ্মা সেতু দিয়ে আসা ১৯ জেলার যানবাহন ও পণ্য পরিবহনকে সহজ করতে ঢাকাকে ঘিরে রিংরোড নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। সায়েদাবাদ বা কাঁচপুরসহ ঢাকা শহরে চারটি কাঁচাবাজার নির্মাণ করে পণ্য পরিবহনকে সহজ করার কথাও জানালেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোববার সকালে ২০২২-২৩ অর্থবছরে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) সই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান। এদিন বার্ষিক কর্মসম্পাদন পুরস্কার ২০২২ এবং শুদ্ধচার পুরস্কার ২০২২ দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে আমাদের ওপর একটা বদনাম দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। শুধু সরকার বা রাষ্ট্রের ওপরে না, এমনকি আমার পরিবার, আমার ছোট বোন, আমার ছেলে-মেয়ে, বোনের ছেলে কেউ কিন্তু বাদ যায়নি। আমার মন্ত্রী, সচিব, উপদেষ্টা, প্রত্যেকের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল, একটা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে।’
কিন্তু পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়ায় কোনো দুর্নীতি হয়নি বলে বিশ্বাস করতেন সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, ‘একটা পর্যায়ে আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করব। এটা আসলে আমাদের মতো দেশে অনেকে বিশ্বাস করতে পারেনি। বা বিদেশেও অনেকের পক্ষে এটা মেনে নেয়া সম্ভব হয়, আমরা কী পারি।
‘দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো যে দীর্ঘদিন সামরিক শাসন চলাকালীন আমাদের এত বেশি পরনির্ভরশীল করে ফেলা হয়েছিল যে আমাদেরও যে একটা শক্তি আছে, স্বকীয়তা আছে বা আমাদের কর্মক্ষমতা আছে বা চিন্তাচেতনা আছে, সেটাই যেন মানুষ ভুলতে বসেছে।
‘এটাই সব থেকে দুর্ভাগ্যের। মানুষ যখন এ ধরনের ভুলে যায় বা নিজের শক্তি সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস হারায় সে জাতিকে টেনে তোলা খুব কষ্টকর। তবে বাঙালি জাতি সম্পর্কে আমি এটাই বলব, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ভাষণে যে কথা বলেছিলেন যে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না এ কথা তিনি বলে গিয়েছিলেন এ জন্য, তিনি বাংলার মানুষকে চিনতেন। আমিও তার কন্যা হিসেবে অন্তত তার পাশে থেকে মানুষকে কিছুটা চেনার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেই সাহস নিয়ে বলেছিলাম নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু আমরা করব।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে সেই পদ্মা সেতু আমরা করতে পেরেছি। এটা শুধু একটা ইট, কাঠ বা স্টিল বা কংক্রিটের একটা স্তম্ভ না বা স্থাপনা না, এটা আমাদের আত্মমর্যাদা। আত্মমর্যাদার একটা নিদর্শন। আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। আমরা বিজয়ী জাতি।’
বছর খানেকের মধ্যে পদ্মা সেতু দিয়ে রেল চলাচল শুরু করার আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটাই আমি মনে করি, ওই একটা সিদ্ধান্ত সারা বিশ্বে বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিল এবং বিশ্বদরবারে আজকে আর কোনো দেশের জনগণের কাছে কোনো বাঙালিকে মাথা নিচু করে চলতে হবে না। বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে আমরা চলব।’
বাংলাদেশ তার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘উন্নত দেশ পারবে তা না, আমরাও পারি। ইনশাল্লাহ উন্নত দেশে একদিন আমরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারব। এটাই আমাদের বিশ্বাস, সেটা আমি করতে পারব।’
পদ্মা সেতুতে যান চলাচল ও পণ্য পরিবহন
বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেহেতু পদ্মা সেতু হয়ে গেছে, এখন দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রচুর পণ্য আসবে। আমি কিন্তু এর পূর্বে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, শুধু কারওয়ান বাজার আমাদের একটা হোলসেল মার্কেট কাঁচা শাকসবজি, মাছের জন্য।
‘এখানে আমরা ঢাকা শহরে আমিনবাজারের ওইদিকে, মহাখালী এবং সায়েদাবাদের ওইদিকে অথবা কাঁচপুরে আর পশ্চিম দিকে আরেকটা–চারটা জায়গায় চারটা কাঁচাবাজার নির্মাণের একটা সিদ্ধান্ত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চল থেকে যে পণ্যগুলো আসবে, সেগুলো কাঁচপুরের ওখানে একটা ভালো কাঁচাবাজার করে সেগুলো সেখানেই যেন সংরক্ষণ করে সরবরাহ করতে পারি সেই ব্যবস্থাটা নেয়ার কথা ছিল, জানি না সেটা কতদূর বাস্তবায়ন হয়েছে। সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে ঢাকা শহরে যে চাপটা আসবে সেটা যেন না থাকে, সেটা আমাদের দেখতে হবে।’
পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে আসা ১৯ জেলার যানবাহন যেন ঢাকা শহরের ওপরে বাড়তি চাপ তৈরি না করে সেই ব্যবস্থাপনা দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করারও তাগিদ ছিল প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে।
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমাদের পদ্মা সেতু থেকে যে বিশাল ট্রাফিক আসবে, সেটা তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর জন্য আমাদের ঢাকাকে ঘিরে যেটা রিংরোড করা, তার ব্যবস্থাটা করা। কিছু কিছু জায়গায় অলরেডি কাজ শুরু হয়েছে। সে ধরনের ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। যাতে করে আমরা আমাদের পণ্য পরিবহন, বাজারজাতকরণ এবং মানুষের চলাচল যাতে সহজ হয়, সেই ব্যবস্থাটা করা।’
চলতে হবে মাথা উঁচু করে
জনপ্রশাসনে কর্মরত সবাইকে মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে দেশের উন্নয়নের গতিধারা সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব সময় নিজেকে একটা মর্যাদাশীল রাষ্ট্র এবং মর্যাদাশীল জাতির একজন সদস্য হিসেবে, এটা মাথায় রেখে আমাদের যা কিছু যতটুকু সম্পদ আছে সেটাই কাজে লাগিয়ে যেন আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি দেশকে, সেই চিন্তা থেকেই কিন্তু সবাইকে চলতে হবে।’
পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে সবারা উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারাটা যেন অব্যাহত থাকে আমি শুধু সেটুকুই চাই।’
বন্যা নিয়েও সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বন্যার প্রকোপ থাকবে। বন্যা নিয়ে আমাদের বাঁচতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকা আমাদের। প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে, চলতে হবে। আমাদের মানুষের জীবন ক্ষয় যাতে না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের সব পরিকল্পনা।’
বিশ্বজুড়ে কঠিন সময়
করোনার অভিঘাত থেকে ঘুরে না দাঁড়াতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা তৈরি করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সব থেকে একটা কঠিন সময় গেল, সেটা হলো এই করোনা মহামারি। আর করোনা মহামারি যেতে না যেতে এখন আবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এটি সমগ্র বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি করেছে। আর আমাদের মতো দেশ সেখানে তো আরও বেশি এটির প্রভাব পড়েছে।
‘তারপর ও আমি বলব, ধন্যবাদ জানাব প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়, আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন বলে এই অবস্থা থেকেও দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি।’
ইশতেহার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার
জনগণের সামনে যে ইশতেহার ঘোষণা করে ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগ, তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যটা হলো আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছি, আমরা সেটা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা রাজনীতি করি। আমাদের দল আছে। আমরা যখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি, একটা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করি।
‘ইশতেহারে আমরা এ দেশকে কীভাবে আর্থসামাজিকভাবে উন্নত করব, সেই নির্দেশনা বা সেই কর্মপরিকল্পনারই একটা কাঠামো থাকে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, কখনও আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারটা কিন্তু ফেলে দিইনি। প্রতিবার বাজেট করার সময় সেটাকে অনুসরণ করে কিন্তু আমাদের কর্মপরিকল্পনা এবং কতটুক আমরা সফল করতে পেরেছি, কতটুকু আরও করা বাকি সেটাও কিন্তু আমরা নির্দিষ্ট করি। আমাদের দলের একটা ঘোষণাপত্র থাকে, গঠনতন্ত্র থাকে, সেখানে কতগুলো দিকনির্দেশনা থাকে সেটা আমরা কিন্তু বাস্তবায়ন করি।’
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার পুরোটাই তৃণমূল পর্যায় থেকে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এভাবে চিন্তা করিনি যে শুধুমাত্র ধনী থেকে ধনী হোক। আমরা চেয়েছি একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে অবহেলিত মানুষগুলো...আমাদের লক্ষ্যই ছিল এই মানুষগুলোর ভাগ্য আমাদের পরিবর্তন করতেই হবে।’
আরও পড়ুন:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে সচিব সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘আমরা যে কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) করেছি, সে কর্মপরিকল্পনাটা আপনাদের জানাবো। আমি ঢাকার বাইরে থাকায় একটু পিছিয়ে পড়েছি। এটা আমার টেবিলে এখন আছে। আগামীকাল পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করেন।’
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব আজ এক বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) অনুমোদন করেছে কমিশন।
এখন যেকোনো সময় নির্বাচনের এই রোডম্যাপ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হতে পারে বলে ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘কর্মপরিকল্পনার সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গেছে। অনুমোদন হয়েছে, এখন শুধু টাইপিং চলছে।’
উল্লেখ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দল নিবন্ধন, সীমানা নির্ধারণ, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংস্কার, বিধিমালা ও নীতিমালা জারি, প্রবাসীদের জন্য আইটি সাপোর্টেড নিবন্ধন ও পোষ্টাল ব্যালট পদ্ধতি ও নির্বাচনী সরঞ্জাম কেনাকাটা বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে রোডম্যাপে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
যে কোনো সময় এই নির্বাচনের রোডম্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারে ইসি।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন, চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব এ নিয়ে বৈঠকও করেছেন।
বৈঠকে কর্মপরিকল্পনার (রোডম্যাপ) অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এখন, যে কোনো সময় নির্বাচনের এই রোডম্যাপ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হতে পারে বলে ইসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘কর্মপরিকল্পনার সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গেছে। অনুমোদন হয়েছে, এখন শুধু টাইপিং চলছে।’
এদিকে সংসদীয় আসনের পুনঃনির্ধারিত সীমানার বিষয়ে ইসি’র শুনানি আজ বিকেলে শেষ হচ্ছে।
শুনানি শেষে বিকেলে সার্বিক বিষয় নিয়ে ইসি’র সিনিয়র সচিব আকতার আহমেদের ব্রিফিং করার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা ব্রিফিংয়ে আসব। তখন সীমানার শুনানির বিষয়টির পাশাপাশি এ বিষয়টিও (রোডম্যাপ) দেখা যাবে।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি কর্মকর্তা বৈঠক করেন।
ওই দিন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছিলেন, বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে ইসি সচিব ব্রিফ করবেন।
গত ১৮ আগস্ট ইসি’র সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়ে ছিলেন, ‘একটা কর্মপরিকল্পনার (নির্বাচনী রোডম্যাপ) বিষয়ে বলেছিলাম, আমরা এই সপ্তাহে এটা করবো। কর্মপরিকল্পনার তো আমাদের আন্তঃঅনুবিভাগ সম্পর্কিত এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে। কর্মপরিকল্পনার ড্রাফ্ট করা হয়েছে। ড্রাফ্টটি এখন কমিশনে দিয়ে আমরা অ্যাপ্রুভ করবো।’
শ্রম আইন, ২০০৬ সংশোধনের লক্ষ্যে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি)-এর ৮৯তম সভায় শ্রমিক, মালিক ও সরকারের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত এক বছরের পর্যালোচনা ও সকল পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে শ্রম আইন ২০০৬ সংশোধনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার এক হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, "শ্রমিক ও মালিক পক্ষের পরামর্শের ভিত্তিতে শ্রম আইন যুগোপযোগী করা হবে। এটি বাংলাদেশের শ্রমখাতের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে।’
সভায় শ্রমিক ও মালিক পক্ষের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। একটি সুসমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানের শ্রম আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা উপস্থিত সকলেই করেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংশোধিত শ্রম আইন দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়।
সভায় বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন দূতাবাস, কানাডা হাই কমিশন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর প্রতিনিধিরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত জনাব লুৎফে সিদ্দিকী।
এছাড়াও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এর নির্বাহী পরিচালক এবং শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ)-এর সভাপতি, টিসিসি সদস্যবৃন্দের মধ্যে তাসলিমা আক্তার, কোহিনুর মাহমুদ, বাবুল আকতার , নাজমা আক্তার, রাজেকুজ্জামান রতন, এডভোকেট আতিকুর রহমান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংশোধনী বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে আরও গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত করবে এবং শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সারাদেশে কুইক রেসপন্স টিম কাজ করছে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থা আয়োজিত প্রযুক্তি সুবিধাপ্রাপ্ত লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা মোকাবেলায় নীতিগত সুপারিশ শীর্ষক জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা একথা বলেন।
সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা বলেন, সারাদেশে প্রযুক্তিগত সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে নারীদের সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এ সকল অপকর্ম প্রতিরোধে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিচালিত কুইক রেসপন্স টিম কাজ করছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাল্য বিয়ের সংজ্ঞা পাল্টে গেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে মোবাইল নামক যন্ত্রটি। মোবাইল প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে ছোট ছোট মেয়েরা প্রেমের ফাঁদে পড়ে নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
মেয়েরা অবুঝ এজন্য অভিভাবকদেরকে এ বিষয়ে আরো সচেতন হতে হবে। যাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা প্রেমের ফাঁদে পড়ে নারী সহিংসতা শিকার না হয়।
উপদেষ্টা বলেন, জাগো নারী উন্নয়ন সংস্থা, নারী পক্ষ, হিউম্যান রাইটস বাংলাদেশ, সাইবার টিনস ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), ব্র্যাকসহ বাইশটি সংগঠন আজ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে একযোগে কাজ করছে। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
উপদেষ্টা বলেন এই ২২ টি সংগঠনের প্ল্যাটফর্মে যে সমস্ত শিক্ষিত তরুন যুবক যুবতীরা আছেন তাদেরকে টেকনোলজির মাধ্যমে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন ব্যক্তিগত এবং সামাজিক ও পরিবারের সচেতনতাই পারে একটি মেয়েকে নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে। এজন্য সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে।
ইলিশের উৎপাদন একদিকে কমছে, এতে প্রাকৃতিক কারণও রয়েছে। নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে, মেঘনা নদীর অববাহিকায় দূষণের মাত্রা বেড়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টি না হলে ইলিশ মাছ ডিম পাড়তে পারে না। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকৃতিক কারণ ও তথাকথিত উন্নয়নের কারণে নদী ভরাট ও দখল হয়ে যাচ্ছে। এমন মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার। বরিশাল ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত উপকূলীয় এলাকার মহিষের চারণভূমি ও উন্নয়নের সমস্যা এবং সাধন শীর্ষক জাতীয় কর্মশালা-২০২৫-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ইলিশ একটি মাইগ্রেটরি মাছ এটি সমুদ্র থেকে নদীতে আসে এবং আবার ফিরে যেতে হয়। কিন্তু বর্তমানে তা হচ্ছে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ঝাটকা নিধন। কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী অভিযান চালালেও এটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যায়নি। এছাড়া অবৈধ জালের ব্যবহার ইলিশের প্রাপ্যতা কমাচ্ছে। তবে এসবের বিরুদ্ধে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।
তিনি জানান,খুব শীঘ্রই ঢাকায় একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নদী থেকে মাছ ধরে হাত বদলের সিন্ডিকেট বন্ধ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি বাজারে মাছ পাবে এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে আসবে।
ফরিদা আক্তার বলেন, উপকূল এলাকায় মহিষের চারণভূমি সংকুচিত হয়ে গেছে। আমরা গবেষণায় দেখেছি এর পেছনে নানা কারণ রয়েছে। বাড়িঘর তৈরি হচ্ছে, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও নির্মিত হচ্ছে। আমাদের দেশে গরু, ছাগল ও মহিষ পালন অন্তত মানুষের খাদ্য ও জীবন রক্ষার জন্য জরুরি। চারণভূমি বিষয়ে আমরা দেখছি যে অনেক কিছু পরিকল্পনা বিহীনভাবে তৈরি হচ্ছে। এতে মহিষের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তবে সঠিক নীতি ও ব্যবস্থা নিলে এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,পিকেএসএফ উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ, বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, জিজেইউএস নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন। সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. ওমর ফারুক, প্রেসিডেন্ট।
বক্তারা বলেন, নদী ও সমুদ্রের টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। মৎস্যজীবী, প্রশাসন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান একত্রিতভাবে কাজ করলে মাছ চাষ ও সংরক্ষণ কার্যকর হবে।
এছাড়া তারা বলেন, উপকূলীয় এলাকায় মহিষ পালনের সম্ভাবনা অনেক, তবে জলবায়ু পরিবর্তন, চারণভূমির অভাব ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা খাতটির উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। গবেষণা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মহিষ পালনকে লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তর করা সম্ভব।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান এর সভাপতিত্বে আজ রাজধানীর একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক শ্রম মান বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শ্রম সচিব বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৬টি কনভেনশন ও একটি প্রটোকল অনুমোদন করেছে। আইএলও সংবিধান অনুযায়ী, অনুমোদিত ও অননুমোদিত উভয় ধরনের সনদের প্রয়োগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সকল সদস্য রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক। এই কমিটি আইএলও কনভেনশন ১৪৪-এর বাধ্যবাধকতার আলোকে বাংলাদেশ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতামত, পরামর্শ ও সুপারিশ নিশ্চিত করবে।
সচিব আরও উল্লেখ করেন যে, আইএলও এর ১১টি কনভেনশন (C-01, C-14, C-19, C-81, C-89, C-100, C-106, C-111, C-118, C-138, MLC-2006) নিয়ে আলোচনা করা হয়। এগুলোর মধ্যে C-81 (শ্রম পরিদর্শন), C-100 (নারী ও পুরুষের সমান পারিশ্রমিক), C-111 (কর্মসংস্থান ও পেশায় বৈষম্য) এবং C-138 (ন্যূনতম কাজের বয়স) বিষয়ক চূড়ান্ত প্রতিবেদন আইএলও সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে খুব দ্রুত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার জেনেভাস্থ প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করা হবে।
সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রতিনিধি নিরান রাজমুঠান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের এবং শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, ইমপ্লোয়ার্স ফেডারেশন এর প্রতিনিধি , ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ এর প্রতিনিধি , বেপজা প্রতিনিধি , NCCWE এর প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, গবাদিপশু পালন প্রোটিন ঘাটতি নিরসন, মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। অথচ অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে চারণভূমির হ্রাস হচ্ছে, ফলে মহিষের মতো মূল্যবান সম্পদ ক্ষতির মুখে পড়ছে।
আজ সকালে বরিশাল ক্লাবে অনুষ্ঠিত “উপকূলীয় এলাকার মহিষের চারণভূমি ও উন্নয়নের সমস্যা এবং সমাধান” শীর্ষক জাতীয় কর্মশালা ২০২৫-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ বাফেলো এসোসিয়েশন, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজিইউএস) এবং কোস্টাল ভেট সোসাইটি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, সঠিক নীতি নির্ধারণ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে এখনো অনেক চরাঞ্চল রক্ষা করা সম্ভব। মহিষ পালন বাড়াতে পারলে জাতীয়ভাবে মাংস ও দুধ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা যাবে।
প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মহিষের চারণভূমি দ্রুত কমে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ এবং এমনকি সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর উপজেলায় বৃহৎ গরুর বাথান ভরাট করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিও উঠছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশ্যে গরুর বাথান ধ্বংস করা দেশের সামগ্রিক কল্যাণে কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে? তিনি আরও বলেন, মহিষের স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয় বিবেচনায় উপকূলীয় এলাকায় স্পিডবোটভিত্তিক ভেটেরিনারি ক্লিনিক স্থাপন করা প্রয়োজন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে গবাদিপশুর চারণভূমি কমে যাওয়া এবং খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মহিষসহ অন্যান্য গবাদিপশুর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও টেকসই চারণভূমি উন্নয়ন অপরিহার্য। পাশাপাশি মহিষের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাতীয়ভাবে মাংস ও দুধ উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বাফেলো এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ওমর ফারুক।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং, পিকেএসএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ, জিজিইউএস-এর নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্হানীয় খামারীরা কর্মশালায় অংশ গ্রহণ করেন।
মন্তব্য