× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Farmers defeated in advance floods
hear-news
player
print-icon

আগাম বন্যায় সর্বনাশ কৃষকের

আগাম-বন্যায়-সর্বনাশ-কৃষকের
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে মাঠের ফসল। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষক আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আগের বচর সাতবার বন্যা হইচে, এবার একবার হইল, আরও তো হইবে। একবারের বানোত কিছু কি আছে, সোউগ তো তলে গেইছে। বচরে বচরে ( প্রতি বছর) এমন করি ফকির হয়া যাইতেছি। তিন মাস আবাদ করি, বন্যা-খরাত খাই, এবার বুঝি সেডাও হবান্নয়।’

বন্যায় ফসলের ক্ষতি মেনে নিয়েই চলে রংপুর অঞ্চলের চাষাবাদ। ক্ষতি কমাতে কৃষকদের থাকে তাই এক ধরনের প্রস্তুতি। কিন্তু এ বছর আগাম বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। পানির নিচে তলিয়ে থাকা ফসল নিয়ে হতাশার পাশাপাশি চিন্তিত তারা পরের ধাপের চাষাবাদ নিয়ে।

কৃষিবিদসহ বিশ্লেষকরা রংপুর অঞ্চলের চলতি বন্যায় ক্ষতির শিকার কৃষকদের প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সহায়তা বাড়ানোর কথা বলছেন। একই সঙ্গে তারা নদী, খাল সংস্কারসহ স্থায়ী সমাধানে জোর দিচ্ছেন। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় এ বছর কয়েক দফায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবের ইউনিয়নের বলদমারা এলাকার কৃষক আব্দুল বাতেন। তিনি দুই বিঘা জমিতে চিনাবাদাম এবং দুই বিঘা জমিতে তিল ও কাঁচা মরিচ আবাদ করেছিলেন। আগাম বন্যায় তার সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আগের বচর সাতবার বন্যা হইচে, এবার একবার হইল, আরও তো হইবে। একবারের বানোত কিছু কি আছে, সোউগ তো তলে গেইছে। বচরে বচরে (প্রতি বছর) এমন করি ফকির হয়া যাইতেছি। তিন মাস আবাদ করি, বন্যা-খরাত খাই, এবার বুঝি সেডাও হবান্নয়।’

আগাম বন্যায় সর্বনাশ কৃষকের
পানি সরে গেলেও ফসলি জমি এখন বিরানভূমি। ছবি: নিউজবাংলা

অভিন্ন আক্ষেপ চরাঞ্চলের সব কৃষকের। তারা তিল, কাউন, চিনাবাদাম, কাঁচা মরিচ, ভুট্টা ও শাকসবজি চাষ করে সংসার চালান। একবার ফসল তুলতে পারলে সেটি দিয়েই সামাল দেন একাধিকবারের ক্ষতি। বন্যার সময় তাদের আগাম প্রস্তুতিও থাকে। কিন্তু আকস্মিক বন্যা তাদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারীর বহু চরে পানির নিচে কৃষকের ফসল। কিছু জায়গায় পানি কমলেও ফসল রক্ষার সুযোগ নেই। নষ্ট হয়েছে বীজতলাও।

চরশৌলমারী ইউনিয়নের কৃষক আহাদ আলী বলেন, ‘সবজি চাষ করে বাজারে বিক্রি করি। যে টাকা হয়, তা দিয়ে চার সন্তানকে লেখাপড়া করাই। সব আবাদ পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সংসার চালাতে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছি।’

কৃষক আব্দুল করিম, সফুর আলী, নজিবর রহমানসহ কয়েকজন জানান, রংপুরে প্রতি বছর কয়েক দফায় বন্যা হয়। এবার আগাম বন্যায় এমন ক্ষতি হয়েছে, যার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব না।

শুধু কুড়িগ্রাম নয়, অভিন্ন পরিস্থিতি গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও রংপুর গঙ্গাচড়ার তিস্তা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের।

যে ক্ষতিতে বাড়ছে চিন্তা

রংপুরের আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৮ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত রংপুর অঞ্চলের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটে ৯ হাজার ৩৮২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলায় ফসল নষ্ট হয়েছে ৮ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমির। এর মধ্যে পাট ৩ হাজার ৮৫৬, আউশ ধান ২ হাজার ৫০৬ ও আমন বীজতলা ৩১২ হেক্টর। শাকসবজি ও অন্যান্য মিলে রয়েছে আরও ২ হাজার ১০১ হেক্টর।

গাইবান্ধা জেলায় ফসল নষ্ট হয়েছে ৪০৫ হেক্টর জমির। এর মধ্যে পাট ১৩৩, আউশ ধান ৫৬, আমন বীজতলা ৫৬ এবং শাকসবজি ও অন্যান্য মিলে ১৬০ হেক্টর জমির ফসল।

লালমনিরহাট জেলায় ফসল নষ্ট হয়েছে ২০২ হেক্টর জমির। এর মধ্যে পাট ১৭ হেক্টর, আউশ ধান ২০ হেক্টর, আমন বীজতলা ৭৯ হেক্টর এবং শাকসবজি ও অন্যান্য মিলে ৮৬ হেক্টর।

এসব এলাকায় তালিকার বাইরে আরও ১৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে আছে বলে দাবি করেছে কৃষি বিভাগ। সে হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হবে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এমদাদ হোসেন সেখ বলেন, ‘কৃষকদের প্রণোদনা দেয়ার কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে তাদের পুনর্বাসনের জন্য সিদ্ধান্ত আসেনি।’

সহায়তা ও সমাধান

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা করা হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম বলে মনে করেন কৃষকরা।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করা হয়। তাদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। এরপর প্রত্যেক কৃষককে এক বিঘা জমি আবাদ করার মতো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়।’

রৌমারীর দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ঝগড়ারচর গ্রামের কৃষক আফতাব হোসেন বলেন, ‘বন্যার পর ফের আবাদ করতে অনেক কষ্ট। সরকার যেটুকু সহযোগিতা করে, তাতে পোষায় না। আবার এসব সহযোগিতা সবার জোটেও না।’

কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে পুনর্বাসনে সরকার যে সহযোগিতা করে, তা যথেষ্ট হয়। সহজ শর্তে সুদমুক্ত ঋণ দিলে এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য ৩৩ শতাংশ বেশি দরে সরকার কিনলে কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।’

আগাম বন্যায় সর্বনাশ কৃষকের
কৃষক পরিবারকে দেয়া হচ্ছে সরকারি সহায়তা। ছবি: নিউজবাংলা

নদী গবেষক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৪২টি ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতি হয়েছে। কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতির শিকার।

‘অল্প বৃষ্টি বা পানিতেই বন্যা হচ্ছে এই অঞ্চলে। স্থায়ী পরিত্রাণের জন্য নদীগুলোর পরিচর্যা করতে হবে। নদী খনন করতে হবে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকলে এমন বৃষ্টিতে বন্যা হবে না। আর কৃষি বিমা চালু করে সরকার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকদের সহায়তা করতে পারে।’

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রণোদনার পরিমাণ বাড়াতে হবে। বন্যা-পরবর্তী সময়ে তারা যখন আবাদ শুরু করবেন, তখন ভর্তুকির পরিমাণ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে সার, কীটনাশক ও বীজ বিনা মূল্যে দিতে হবে। বন্যার কথা চিন্তা করে ফসল উৎপাদনের সময়ে পরিবর্তন আনতে হবে।

‘বন্যায় আমন ধান নষ্ট হয়ে যায়। সে জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আগেই উঁচু স্থান লিজ নিয়ে চারা রোপণ করতে পারে। পানি নেমে গেলে এসব বীজ ক্ষতিগ্রস্তদের বিতরণ করলে কৃষকের ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
সৌদি খেজুর নিয়ে বন্যার্তদের পাশে ফায়ার সার্ভিস
দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কবলে সিলেট
বন্যার শঙ্কা এবার দিনাজপুরে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
In three years the yield in Malta garden is 3 times

তিন বছরে মাল্টার বাগানে ফলন ৩ গুণ

তিন বছরে মাল্টার বাগানে ফলন ৩ গুণ
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মাল্টা একটি লাভজনক ফসল। জেলায় দিন দিন এ চাষ বাড়ছে৷ কৃষকদের আরও দক্ষ করে তুলতে মাঠপর্যায়ে গিয়ে পরামর্শ করছি ৷ যেকোনো প্রয়োজনে কৃষকরা আমাদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন।’

প্রায় প্রতিটি গাছেই থোকায় থোকায় ঝুলছে মাল্টা। ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে সাড়ে তিন বিঘা জমিজুড়ে এ মাল্টার বাগান। বাগানটি করেছেন নির্মল রায়। তার দাবি তিন বছরেই তিন গুণ ফলন বেড়েছে তার বাগানে৷

নির্মল রায় জানান, ২০১৯ সালে তিনি উদ্যোগ নেন মাল্টা চাষের। বগুড়া থেকে চারা এনে এক হাজার মাল্টার চারা রোপণ করেন তিনি। অল্প সময়েই চারাগাছ থেকে ভালো ফলন হয়েছে মাল্টার।

চারা রোপণের পর স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নিয়েছেন, প্রতিনিয়ত পরিচর্যা করে এসেছেন চারা বড় করতে। প্রতিদিন গড়ে ১০ জন করে শ্রমিক তার এ মাল্টা বাগানে পরিচর্যার কাজ করেন।

নির্মল বলেন, ‘সবুজ জাতের বারি-১ জাতের মাল্টা বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করি। ২০১৯ সালে চারা রোপণের পর থেকে ফলন বেড়েছে তিন গুণ। এর আগে মাত্র ২ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি। যে হারে ফলন এসেছে এবারে কমপক্ষে ৮ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রির প্রত্যাশা করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রত্যাশা পূরণ হতে পারে।

‘এ ছাড়া বাগানে কর্মসংস্থান হয়েছে কিছু মানুষের। শুধু তা-ই নয়, কাজের জন্য শ্রমিকদের শেখানো হয় মাল্টার চারা পরিচর্যার।’

শ্রমিক বিমল কুমার বলেন, ‘আমরা শ্রমিকরা যারা কাজ করছি, তারা কয়েক বছর ধরে করছি। বাগানে ফলন ভালো এসেছে, তবে খুব দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হয়। নতুন যারা আসছে তাদের শিখিয়ে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। যেহেতু এটি লাভজনক ফসল, সে ক্ষেত্রে শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। কারণ অনেক নতুন উদ্যোক্তাও আগ্রহ নিয়ে আসছেন, জানছেন।’

শ্রমিক শ্রীরায় বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে এসব কাজ করছি। খুব একটা যে কঠিন তা নয়৷ তবে মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হবে, যেন ফলের কোনো ক্ষতি না হয়। ফল বেড়ে উঠতে সাহায্য করে ডাল কাটিং। এখন এ কাজই করছি। ধীরে ধীরে এসব কাজে শ্রমিক বাড়ছে।’

বাগান পরিদর্শনে এসে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তাহমিদ আহমেদ বলেন, ‘লেখাপড়ার পাশাপাশি গ্রামে এসব বাগান করার শখ আমার। এতে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হয়ে ফলের চাহিদাও পূরণ হবে৷ এটি গ্রামে করা সম্ভব। আমি আপাতত জানতে এসেছি। যেসব বেকার বন্ধু গ্রামে থাকেন তাদের উদ্যোক্তা হতে আহ্বান করব।’

বাগান মালিক নির্মল রায় বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে মাল্টা চাষে সবারই ভাগ্য বদল হতে পারে৷ সে ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে অনেক উদ্যোগ নেয়া উচিত সরকারের৷ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এ চাষের প্রতি আহ্বান করতে হবে। আমরা যারা ফলচাষি রয়েছি, তারা যদি ফল সংরক্ষণের জন্য সরকারের কোনো ব্যবস্থা পাই, তাহলে অনেকেই এ চাষ থেকে মুখ ফেরাবেন না।’

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, হরিপুর, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও সদর উপজেলার প্রায় ৬৫ হেক্টর এবং প্রায় তিন হেক্টর বসতবাড়ির জমিতে মাল্টার চাষ হচ্ছে। মার্চ-এপ্রিলে এসব গাছে ফুল আসে।

আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ফল পাকে। পাঁচ-ছয়টি মাল্টা ওজনে এক কেজি হয়। ঠিকভাবে পরিচর্যা করলে একটি পরিণত গাছে গড়ে ১৫০-৩০০টি পর্যন্ত ফল ধরে। এ ছাড়া প্রায় দেড় শতাধিক কৃষক মাল্টা চাষ করছেন।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মাল্টা একটি লাভজনক ফসল। জেলায় দিন দিন এ চাষ বাড়ছে৷ কৃষকদের আরও দক্ষ করে তুলতে মাঠপর্যায়ে গিয়ে পরামর্শ করছি ৷ যেকোনো প্রয়োজনে কৃষকরা আমাদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন।’

আরও পড়ুন:
পতিত জমিতে চাষাবাদে মিলবে সরকারি সহায়তা
বেগুনের ভালো ফলন, বেড়েছে চাহিদাও
তিড়িং পোকা কাটছে পাতা-ডগা
পতিত জমিতে তিল চাষে সফলতা
সার সংকটে চা চাষিরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Aman Abad is disrupted due to flooding in Cowadighi Howre

কাউয়াদিঘী হাওরে জলাবদ্ধতা, আমন আবাদ ব্যাহত

কাউয়াদিঘী হাওরে জলাবদ্ধতা, আমন আবাদ ব্যাহত কাউয়াদিঘী হাওর এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে নষ্ট হচ্ছে ধানের চারা। ছবি: নিউজবাংলা
হাওরপারের রাজন আহমেদ বলেন, ‘হাওরঘেঁষা রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদরে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছি, আন্দোলন করছি, কিছুতেই ফল মিলছে না।’

মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘী হাওর এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে নষ্ট হচ্ছে ধানের চারা। এক হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষক।

লোডশেডিংয়ের কারণে মনু নদী প্রকল্পের আওতায় কাশিমপুর পাম্প হাউস পানি নিষ্কাশন করতে না পারায় জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় হাওরঘেরা ৪০ গ্রামের কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সমস্য নিরসনের দাবিতে তারা মিছিল-সমাবেশ করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সেচের সমস্যা হচ্ছে।

কৃষকরা জানান, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় কাউয়াদিঘী হাওর সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর বিস্তৃত। মনু নদী সেচ প্রকল্পের আত্ততায় কাউয়াদিঘী হাওর ও হাওর এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ কাশিমপুর পাম্প হাউস। সেখানে ৮টি পাম্প বিদ্যুতের কারণে সচল না থাকায় আমন চাষের জমিতে ৩-৪ ফুট জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

পানিতে তলিয়ে আছে রোপা আমনের বীজতলা। পানি না কমায় আমন ধানের চারা রোপণের সময় চলে যাচ্ছে। বয়স্ক চারা রোপণ করে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে না বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

হাওরপারের রাজন আহমেদ বলেন, ‘হাওরঘেঁষা রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদরে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছি, আন্দোলন করছি, কিছুতেই ফল মিলছে না।’

এ সংকট নিরসনের দাবিতে দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করেন দুই শতাধিক কৃষক। কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটির উপদেষ্টা সেলিম আহমদের সভাপতিত্বে ও হুমায়ুন রশিদ সোয়েবের সঞ্চালনায় সমাবেশ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন কৃষক সমিতি মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জহর লাল দত্ত, হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি মৌলভীবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদ চৌধুরী, পাঁচগাঁও ইউনিয়নের বাবুল আহমদ, মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ফয়ছল আহমদ, কৃষক নেতা সুলতান আহমদ, আক্তার মিয়া, সুলেমান মিয়া ও ইউপি সদস্য জুবেল আহমদ।

সমাবেশ শেষে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটি।

রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা পাউবো ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।’

পাউবোর যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এ হান্নান খান জানান, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কাশিমপুর পাম্প হাউসের ৮টি পাম্প চালু করা যাচ্ছে না । শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কেউ এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, অবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের যান্ত্রিক শাখাসহ সবাইকে নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কৃষিকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।

কৃষি বিভাগ জানায়, মৌলভীবাজার জেলায় ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হচ্ছে। এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৩৩ টন।

আরও পড়ুন:
পানির নিচে বীজতলা, আমন আবাদে বিপর্যয়ের শঙ্কা
বৃষ্টির অভাবে বন্ধ আমনের চারা রোপণ
আমনের ফলন ‘ভালো’, কৃষকের মুখে হাসি
বৃষ্টি ধানচাষিদের কাছে আশীর্বাদ
সুনামগঞ্জে তলিয়েছে আমনের জমি, উদ্বিগ্ন কৃষক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The effect of oil on the rice market has increased by Tk 300 per bag

তেলের প্রভাব চালের বাজারে, বস্তায় বেড়েছে ৩০০ টাকা

তেলের প্রভাব চালের বাজারে, বস্তায় বেড়েছে ৩০০ টাকা দিনাজপুরের পাইকারি বাজারে বেড়েছে চালের দাম। ছবি: নিউজবাংলা
এনএ মার্কেটের রণজিৎ চাল ঘরের স্বত্বাধিকারী রণজিৎ সাহা বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে মিলগেটে চালের দাম বেশি নেয়া হচ্ছে। কারণ হিসেবে মিল থেকে জানানো হচ্ছে, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে ধান নেই। যেসব ধান পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মিলের উৎপাদন কম হচ্ছে। উৎপাদন এবং মিল থেকে বাজারে চাল সরবরাহে পরিবহন খরচ বেড়েছে।’

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে দেশের শীর্ষ ধান ও চাল উৎপাদনকারী জেলা দিনাজপুরে। পাঁচ দিনের ব্যবধানে জেলার পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। বাড়তি দামেও বাজারে গুটি স্বর্ণ চালের দেখা পাচ্ছে না ক্রেতা।

বাজারে ধানের সংকটের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বাজারে ধানের সরবরাহ কম। ধান পাওয়া যা যাচ্ছে তাও ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি বলে মিলমালিকরা জানিয়েছেন।

দিনাজপুরে চালের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত শহরের বাহাদুর বাজার এনএ মার্কেট। এই মার্কেটের কয়েকজন পাইকারি দোকানদার জানান, গত শুক্রবার এই বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা মিনিকেট ৩ হাজার ২০০, আঠাশ ২ হাজার ৬৫০, উনত্রিশ ২ হাজার ৪৫০, সুমন স্বর্ণ ২ হাজার ৩৫০, গুটি স্বর্ণ ১ হাজার ৮৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

পাঁচ দিনের ব্যবধানে বুধবার এই বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা মিনিকেট ৩ হাজার ৪৫০ টাকা, আঠাশ ২ হাজার ৯০০, উনত্রিশ ২ হাজার ৬৫০, সুমন স্বর্ণ ২ হাজার ৬২০, গুটি স্বর্ণ ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দাম বাড়া গুটি স্বর্ণ চাল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না বলে ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন।

দক্ষিণ বালুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা জরিনা বেগম বলেন, ‘চাল কিনতে বাজারে এসে জানতে পারলাম, ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে। আমি তো টাকা হিসাব করে নিয়ে আসছি। এখন চাল কীভাবে কিনব। সমস্যা হবে শুধু আমার মতো গরিবের। এভাবে চালের দাম বাড়তে থাকলে আমাদের মরণ ছাড়া উপায় নাই।’

এনজিও কর্মী নাজমা বানু বলেন, ‘আমি গত জুনে ৫০ কেজির এক বস্তা চাল কিনেছিলাম ২৭০০ টাকায়। আজ চাল কিনতে আসছি। দোকানদাররা সেই চাল বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা বেশি চাচ্ছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে চলা খুব কঠিন হয়ে পড়তেছে। আমি একটি এনজিওতে চাকরি করি। চালের দাম বাড়লে তো আর আমার বেতন বাড়ে না। আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।’

শহরের পাগলার মোড় এলাকার দিনমজুর রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি দিনমজুর হিসেবে কাজ করি। দিনে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পাই, সেটা দিয়ে চাল ও শাকসবজি কিনতে শেষ হয়ে যায়। ছয়জনের পরিবারে দিনে তিন বেলা খেতে তিন কেজি চাল প্রয়োজন। চাল কিনতে প্রায় ২০০ টাকা খরচ হয়ে যায়। বাকি টাকা শাকসবজি কিনে শেষ হয়। মাসে এক দিনও ভালো তরকারি খেতে পারি না। এভাবে চালসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বাড়লে ভবিষ্যতে মরা ছাড়া উপায় থাকবে না।’

এনএ মার্কেটের রণজিৎ চাল ঘরের স্বত্বাধিকারী রণজিৎ সাহা বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে মিলগেটে চালের দাম বেশি নেয়া হচ্ছে। কারণ হিসেবে মিল থেকে জানানো হচ্ছে, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে ধান নেই। যেসব ধান পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মিলের উৎপাদন কম হচ্ছে। উৎপাদন এবং মিল থেকে বাজারে চাল সরবরাহে পরিবহন খরচ বেড়েছে।’

পাইকারি চাল বিক্রেতা কৃষ্ণ চন্দ্র শীল বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এ কারণে অনেক ক্রেতার সঙ্গে ঝগড়াও লেগে যাচ্ছে। বাজারে দাম বাড়ার কারণে ক্রেতার অভাব দেখা গিয়েছে। ক্রেতা চালের দাম শুনেই চলে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশ অটো, মেজর ও হাসকিং মিল মালিক সমিতির সহসভাপতি ও পাটোয়ারী বিজনেস হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন বাজার পরিস্থিতি জানান নিউজবাংলাকে। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বিদ্যুতের লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে ধান নেই। ধান বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। বিদ্যুতের কারণে ধান থেকে চালে রূপান্তর কম হচ্ছে। পাশাপাশি চাল পরিবহনের জন্য পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এসব কারণে বাজারে চালের দাম বেড়েছে।’

আরও পড়ুন:
লোডশেডিংয়ে চালের দাম বাড়ার শঙ্কা
ধানের নতুন জাত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়ার তাগিদ
১১ মাস পর হিলি দিয়ে ভারত থেকে এলো চাল
ভিজিএফর পচা, দুর্গন্ধযুক্ত চাল আটকে দিলেন মেয়র
শুল্ক প্রত্যাহারের পর আসছে ৪ লাখ টন চাল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Farewell to jackals by beating drums

ঢাকঢোল পিটিয়ে কাঁঠালের বিদায়

ঢাকঢোল পিটিয়ে কাঁঠালের বিদায় উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হয় কাঁঠাল। ছবি: নিউজবাংলা
যোশর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাসেল আহমদ বলেন, ‘শৈশব থেকে আমরা কাঁঠাল বিক্রির এ উৎসব দেখে আসছি। এ বছর কামারটেক বাজারে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ব্যাপারীরা কাঁঠাল বিক্রি করেছেন।’

প্রতি বছরের মতো এবারও মৌসুম শেষে নরসিংদীর শিবপুরের কামারটেক গ্রামে ঢাকঢোল পিটিয়ে জাতীয় ফল কাঁঠালকে বিদায় জানানো হয়।

এ উপলক্ষে স্থানীয় ব্যাপারী ও কৃষকরা বুধবার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কাঁঠাল বিক্রির মহড়া দেন। মহাসড়কের পাশে সারা দিনব্যাপী চলে কাঁঠাল বিক্রির এই মহোৎসব।

কামারটেক বাজারের ফল ব্যবসায়ীরা জানান, কাঁঠালকে বিদায় জানানোর এ প্রথা দীর্ঘদিন ধরেই জেলার বিভিন্ন জায়গায় পালন করা হয়। এ বছর কামারটেক বাজারে ব্যাপারী সোহেল আহমেদ মৌসুমের শেষ কাঁঠাল বিক্রি করেন ঢাকঢোল বাজিয়ে, বাজার মাতিয়ে।

এ বিষয়ে সোহেল আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ লটের কাঁঠাল বিক্রি আমাদের ঐতিহ্য। মৌসুমের শুরু থেকে শেষে জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষকদের কাছ থেকে কাঁঠাল কিনে মজুত রেখে বিক্রি করি। আগামী মৌসুমে আরও ভালো কাঁঠাল প্রাপ্তির আশায় শেষটা জমজমাটভাবে করা হয়।’

ঢাকঢোল পিটিয়ে কাঁঠালের বিদায়

তিনি জানান, এই দিনে সকাল থেকে শহরের ব্যান্ডদল এনে ভ্যান গাড়িতে কাঁঠাল রেখে মহাসড়কে মহড়া দেয়া হয়। এ সময় আনন্দে মেতে ওঠেন স্থানীয়রা। পরে কামারটেক বাজারে শেষবারের মতো কাঁঠাল বিক্রি করা হয়। এ বছর শেষ হাটে ১৩৫০ টাকা দিয়ে সবচেয়ে বড় কাঁঠালটি বিক্রি করা হয়েছে। ছোট কাঁঠালের সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ৫০০ টাকা।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, প্রতি বছর কাঁঠালকে বিদায় জানানোর এই অনুষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ নেই। কৃষক ও কাঁঠালের ব্যাপারীরা সময় ও স্থান নির্ধারণের পর এ আয়োজন করে থাকে।

যোশর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাসেল আহমদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শৈশব থেকে আমরা কাঁঠাল বিক্রির এ উৎসব দেখে আসছি। এ বছর কামারটেক বাজারে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ব্যাপারীরা কাঁঠাল বিক্রি করেছেন।’

তিনি আরও জানান, মৌসুমে ব্যাপারীরা অনেক কাঁঠাল কেনেন স্থানীয় কৃষক ও বাগান মালিকদের কাছে থেকে। ১০ লাখ টাকার কাঁঠাল কিনলে তাদের লাভ হয় অনেক। লাভের পর মৌসুম শেষে যে কাঁঠাল থাকে সেগুলো নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন তারা। এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মৌসুমের কাঁঠাল বিক্রি বন্ধ করেন তারা।

আরও পড়ুন:
৫ হাজারের সুদ ৩ লাখ ৮ হাজার, দিতে না পারায় সন্তান বিক্রি
মন্ত্রণালয়ের ট্রাকে গরু ৫৫০, খাসি ৮০০ টাকা
জীবনযুদ্ধে আসিয়ার পার্টনার আসমা
অনলাইনে নারীদের নিলামের চেষ্টা; আটক ৩
কাঁঠালের দই আইসক্রিমে বিনিয়োগ করে দ্বিগুণ লাভ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Thousands of crores of funds for wheat maize farmers

গম-ভুট্টা চাষিদের জন্য হাজার কোটি টাকার তহবিল

গম-ভুট্টা চাষিদের জন্য হাজার কোটি টাকার তহবিল কৃষিনির্ভর মেহেরপুর জেলায় চলতি বছর গমের আবাদের পাশাপাশি ব‍্যাপক আকারে ভুট্টার চাষ হয়েছে। ফাইল ছবি
এ দুই খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের জন্য এক হাজার কোটি টাকার পুনরর্থায়ন তহবিল করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিলের আওতায় কৃষক সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন।

ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে চলতি বছর অন্যতম খাদ্যশস্য গম ও ভুট্টা আমদানি ব্যাহত হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে গম ও ভুট্টার সংকট কাটাতে দেশীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এ দুই খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের জন্য এক হাজার কোটি টাকার পুনরর্থায়ন তহবিল করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ তহবিলের আওতায় কৃষক সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন।

সবশেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে সার্কুলার জারি করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, তিন বছর মেয়াদি এ তহবিল থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ সুদে অর্থ পাবে। ব্যাংকগুলো গ্রাহকপর্যায়ে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে।

চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে এ তহবিলের মেয়াদ শুরু হবে।

কোভিড-পরবর্তী আর্থিক সংকট মোকাবিলায় দেশের কৃষি খাত গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ৩০ হাজার ৯১১ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি।

গত অর্থবছরে কৃষিঋণের লক্ষ্য ছিল ২৮ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা।

ব্যাংকগুলো মোট ২৮ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে, যা অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।

আরও পড়ুন:
১০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়াল বিদেশি ঋণ
কৃষিতে বাড়ল ঋণের লক্ষ্যমাত্রা
কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ১৩ জন পাচ্ছেন এআইপি সম্মাননা
বন্যার পর খরায় আমন চাষির হাত মাথায়

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Meherpur is happy despite suffering Jute farmers

ভোগান্তির পর খুশি মেহেরপুরের পাটচাষিরা

ভোগান্তির পর খুশি মেহেরপুরের 
পাটচাষিরা নানা ভোগান্তির পরও বাজারে পাটের দাম ভালো হওয়ায় হাসি ফুটেছে মেহেরপুরের চাষিদের মুখে। ছবি: নিউজবাংলা
মেহেরপুরের বামন্দীর পাটচাষি আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। এ বছর সাড়ে ১১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিঘায় পাট হয়েছে ১১ মণ। দাম পেয়েছি ২৭ হাজার টাকা। খরচ বাদে ১৬ হাজার টাকা লাভ আছে।’

অনাবৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটের কারণে চলতি মৌসুমে মেহেরপুরের পাটচাষিদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।

শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সময়েও ভারি বৃষ্টি না হওয়ায় ভাড়া করা পুকুরে পাট জাগ দেয়াসহ শ্রমিক সংকটে মজুরি বেড়ে যাওয়ায় পাটের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় চাষিদের।

এত ভোগান্তির পরও বর্তমানে পাটের বাজারদর ভালো থাকায় হাসি ফুটেছে জেলার চাষিদের মুখে।

জেলার কয়েকজন কৃষক জানান, প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। এ বছর তাদের এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা বেশি গুনতে হয়েছে। এদিকে প্রতি বিঘা জমিতে সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১২ মণ পাট উৎপাদন হয়। বতর্মানে প্রতি মণ পাট ২৫০০ থেকে ২৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যে এ বছর জেলায় ২২০০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৬ টন। এ হিসাবে জেলায় এবার ৭৯ হাজার ২০০ টন পাট উৎপাদন হবে।

ভোগান্তির পর খুশি মেহেরপুরের 
পাটচাষিরা

বৃহস্পতিবার জেলার বাণিজ্যকেন্দ্র খ্যাত বামন্দী ও গাংনী এলাকার কয়েকটি পাটের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, মান ভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত। দাম ভালো হওয়ায় খরচ বাদে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। তাই পাট বিক্রি করে খুশি তারা।

বামন্দীর পাটচাষি আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। এ বছর সাড়ে ১১ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। বিঘায় পাট হয়েছে ১১ মণ। দাম পেয়েছি ২৭ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে ১৬ হাজার টাকা লাভ আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি মণ পাটে খরচ হয়েছে এক হাজার টাকার মতো। আর বিক্রি করেছি দুই হাজার ৫০০ টাকা দরে। লাভ হয়েছে দেড় গুণ।’

ঝোরাঘাট এলাকার পাটচাষি আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর ভারি বৃষ্টি না হওয়ায় শুরু থেকেই চার বিঘা জমির পাট নিয়ে বিপদে ছিলাম। দুই বিঘার পাট জাগ দেয়া শেষে বৃহস্পতিবার বিক্রি করেছি। প্রতি মণ পাট বিক্রি করেছি দুই হাজার ৫৫০ টাকা করে। দাম ভালো পাওয়ায় সব কষ্ট ভুলে গেছি।’

আরিফুল ইসলামের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে চাষি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘পাট ঘরে তোলা নিয়ে এ বছর শঙ্কায় ছিলাম। শ্রমিক সংকট, নেই পানি। বতর্মান বাজারদর ভালো হওয়ায় সব কষ্ট দূর হয়েছে।’

বাজারে নতুন পাটের আমদানি কম তবে চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন পাট ব‍্যবসায়ী একরামুল হক। বলেন, ‘নতুন পাট প্রকার ভেদে ২৬০০ থেকে ২৭০০ টাকা মণ বিক্রি চলছে। জাগ দেয়া ও শ্রমিক সংকটের কারণে চাষিরা বাজারে পাট আনতে দেরি করছেন। এর ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় পাট কম পাওয়া যাচ্ছে।’

মেহেরপুর কৃষি বিভাগের উপপরিচালক সামসুল আলম বলেন, ‘জেলায় এ বছর পাট চাষ হয়েছে ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। এ বছর জেলায় পাটের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও বাজারদর ভালো হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। এতে করে পাট চাষে তাদের আগ্রহ বাড়বে।’

আরও পড়ুন:
পানির নিচে আমন চারা, বিপাকে কৃষক
‘বড় বিপদে আছি বাপু’
বাঁধাকপি কাটল কে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Police deployed to protect Telesmati warehouse with fertiliser

সার নিয়ে তেলেসমাতি, গুদাম রক্ষায় পুলিশ

সার নিয়ে তেলেসমাতি, গুদাম রক্ষায় পুলিশ পঞ্চগড় সদরে মঙ্গলবার দুপুরে কৃষকরা সার না পেয়ে ডিলারের গুদামে ঢুকে পড়েন। ছবি: নিউজবাংলা
পঞ্চগড় সদর থানার উপপরিদর্শক দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ‘কৃষকরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, ১০টার পর স্লিপ না পাওয়ায় লাইন ভেঙে সবাই গুদামে ঢুকে পড়েন। পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে আমাদের সহযোগিতায় কৃষকদের লাইনে দাঁড় করিয়ে সার বিতরণ করা হয়েছে।’

পঞ্চগড়ে সার সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ডিলারের কাছ থেকে সার না পেয়ে লাইন ভেঙে গুদামে ঢুকে পড়েন কৃষকরা। গুদাম রক্ষায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে পঞ্চগড় সদরের টুনিরহাট এলাকায় বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়।

কৃষকদের সামলাতে না পেরে পুলিশের সহযোগিতায় পরে লাইন করে সার বিতরণ করা হয়। একপর্যায়ে সার না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন অনেক কৃষক।

কৃষকরা জানান, কয়েক দিন ধরে সার সরবরাহ না থাকায় পঞ্চগড়ে সারের জন্য হাহাকার চলছে। কিছুদিন ধরেই উপজেলা সদর থেকে সার উধাও হয়ে গেছে। সার পেতে হন্য হয়ে ঘুরছেন কৃষক। জমিতে সার না দেয়ায় রোপা আমনের চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তারা দ্রুত সার সরবরাহের দাবিতে প্রশাসনের দারস্থ হয়েও ফল পাচ্ছেন না কৃষক।

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বছর জেলায় আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে। আমনের চারা রোপণ প্রায় শেষ পর্যায়। ভালো ফলনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে সার প্রয়োজন।

কৃষকদের অভিযোগ, বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর নবীর হোসাইন কৃষকের কাছে সার বিক্রি না করে গোপনে চোরাই পথে বিক্রি করে দেন।

সরকার পাড়া এলাকার কৃষক আবুল কালাম বলেন, ‘সার নিতে ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখন ১টা বাজে কোনো খবর নাই। এর আগে বৃহস্পতিবার এসে ঘুরে গেছি, সার নাই।’

কৃষক আবু তাহের বলেন, ‘জমিতে চার বস্তা সার প্রয়োজন। ডিলারের কাছে সার পাইনি।’

কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিউর রহমান বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সার অনেক কম হওয়ায় সবাইকে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

পঞ্চগড় সদর থানার উপপরিদর্শক দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ‘কৃষকরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, ১০টার পর স্লিপ না পাওয়ায় লাইন ভেঙে সবাই গুদামে ঢুকে পড়েন। পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে আমাদের সহযোগিতায় কৃষকদের লাইনে দাঁড় করিয়ে সার বিতরণ করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সারের দাম বাড়ানোর পরও কেজিতে ভর্তুকি ৫৯ টাকা
ইউরিয়ার দাম বাড়ল কেজিতে ৬ টাকা
উজবেকিস্তানে কারখানা করে সার আনবে ঢাকা
যমুনা সার কারখানা বন্ধ, বোরো আবাদে শঙ্কা
আমনের মৌসুমে সারের হাহাকার

মন্তব্য

p
উপরে