× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
What is behind the excavation of 365 ponds in a village of Naogaon
hear-news
player
print-icon

নওগাঁর এক গ্রামে ৩৬৫ পুকুর খননের নেপথ্যে কী

নওগাঁর-এক-গ্রামে-৩৬৫-পুকুর-খননের-নেপথ্যে-কী
নওগাঁর ধামইরহাটের ইসবপুর ইউনিয়নে একটি গ্রামে পাশাপাশি সাড়ে তিন শতাধিক পুকুর। ছবি: নিউজবাংলা
গবেষক মোস্তাফিজুর জানান, বরেন্দ্র অঞ্চল হওয়ায় পাল আমলেও পানির তীব্র সংকট ছিল এই এলাকায়। তাই রাজা বা শাসকরা সে সময় বড় বড় পুকুর খনন করতেন। ইসবপুরের যেসব পুকুর, সেগুলো খনন করা হয়েছিল মূলত জনকল্যাণে। পানির সংকট যেন না হয়, সে জন্য রাজারা এসব পুকুর খনন করতেন তাদের নিবাসের আশপাশে। দূর-দূরান্ত থেকে এসব পুকুরে আসতেন তখনকার প্রজারা। তারা খাওয়ার পানি সংগ্রহ করতেন এসব থেকে।

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁ। জেলাটি কৃষিতে যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্যে। জেলার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ঐতিহাসিক স্থান, স্থাপনা, প্রত্ন নিদর্শন। কিছু নিদর্শন সরকার সংরক্ষণ করলেও এখনও অরক্ষিত বেশ কিছু প্রাচীন স্থাপনা। কালের বিবর্তনে সেগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে।

জেলাটিতে এখনও এমন অনেক প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে, যা অনেকের অজানা। তেমনই এক নিদর্শন পাশাপাশি সাড়ে তিন শতাধিক পুকুর। স্থানীয়রা অবশ্য বলছেন, সেখানে একসঙ্গে রয়েছে ৩৬৫ পুকুর। যেগুলো অনেক পুরোনো।

অবস্থান

নওগাঁ জেলা শহর থেকে ৪৯ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী উপজেলা ধামইরহাট। উপজেলা সদর থেকে আরও ১৯ কিলোমিটার দূরে ইসবপুর ইউনিয়ন। সেই ইউনিয়নের চান্দিরা গ্রামের শেষ প্রান্তে অবস্থিত পাশাপাশি বিশাল ৩৬৫টি পুকুর। নওগাঁ জেলায় একসঙ্গে এতগুলো পুকুর আর কোথায় নেই।

নওগাঁর এক গ্রামে ৩৬৫ পুকুর খননের নেপথ্যে কী

প্রচলিত মিথ

স্থানীয়রা দীর্ঘদিন থেকেই লোকমুখে শুনে আসছেন, পুকুরগুলো খনন করা হয়েছিল পাল আমলে। সেটা অষ্টম শতাব্দীর দিকে। সে সময় কোনো এক রাজার শাসনকালে রানি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার রোগ সারাতে রজ্যের বৈদ্য, হেকিমদের ডেকে পাঠানো হয়, অনেকেই অনেক ব্যবস্থাপত্র দেন, তবে রোগ সারে না রানির। পরে এক হেকিম রাজাকে বলেন, ৩৬৫ পুকুর খনন করতে হবে। সেসব পুকুরে প্রতিদিন রানি গোসল করবেন। এভাবে এক বছর গোসল করলে রোগ সেরে যাবে। হেকিমের কথামতো রাজা তখন খনন করেন সেই ৩৬৫ পুকুর।

যা বলছেন গবেষকরা

স্থানীয়দের মুখে মুখে সেই পুকুরগুলো নিয়ে এমন গল্প ফিরলেও এটা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য কেউ দিতে পারেননি।

ধামইরহাট এম এম ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও গবেষক শহিদুল ইসলাম পুকুর খননের ইতিহাস নিয়ে স্থানীয়দের মুখে ফেরা সে কথাটিকেই সত্য বলে জানান। অবশ্য তিনিও অষ্টাদশ শতাব্দীর সময় পাল শাসনামলে পুকুরগুলো খনন করা হয়েছে বলে দাবি করেন।

প্রত্যন্ত এমন গ্রামে একসঙ্গে এতগুলো পুকুর ঠিক কবে খনন করা হয়েছে জানতে চেয়ে একাধিক গবেষকের সঙ্গে কথা বলে নিউজবাংলা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক ড. চিত্তরঞ্জন মিশ্রর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ধামইরহাট উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নে থাকা পুকুরগুলো সম্পর্কে জানেন বলে নিউজবাংলাকে জানান। তবে পুকুরগুলো নিয়ে সুনির্দিষ্ট করে কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনিও।

অবশ্য তিনি আরও দুই গবেষকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন, যারা সেগুলো নিয়ে জানেন বলেও জানান অধ্যাপক মিশ্র।

পরে কথা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের গবেষক অধ্যাপক ড. কাজী মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে। তার কাছে নিউজবাংলা ইসবপুরের ৩৬৫ পুকুরের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রানির অসুখ সারাতে রাজা ৩৬৫ পুকুর খনন করেন, সেগুলোতে প্রতিদিন এক পুকুরে রানি এক দিন করে গোসল করেন যে কথা প্রচলিত আছে, এর সবই মিথ। এগুলো সত্য নয়।’

নওগাঁর এক গ্রামে ৩৬৫ পুকুর খননের নেপথ্যে কী

তিনি বলেন,‘ নওগাঁ প্রাচীন আমল থেকে খুবই সমৃদ্ধ একটি স্থান। এই অঞ্চলের যে কয়েকটি মহাবিহার, তার দুটিই নওগাঁয় অবস্থিত। ধামইরহাটের ইসবপুরে যে পুকুরগুলোর কথা বলা হয়, এগুলো সব এক আমলের নয়। কিছু আছে পাল শাসনামলের, কিছু আছে মুসলিম বা মোগলদের শাসনামলে।’

তিনি জানান, ইসবপুরে সাধারণ দুই আকৃতির পুকুর আছে, কিছু পূর্ব-পশ্চিম লম্বা, আর কিছু উত্তর-দক্ষিণ লম্বা। যেসব পুকুর উত্তর-দক্ষিণমুখী সেগুলো মূলত পাল আমলে খনন করা হয়েছিল। আর পূর্ব-পশ্চিমমুখী পুকুরগুলো মুসলিম শাসনামলে অনেক পরে খনন করা।

অবশ্য এখন কিছু পুকুর চার কোনাকৃতির দেখা যায়, এগুলো এমন ছিল না। দীর্ঘদিন থেকে নানাভাবে এগুলো এমন আকৃতি নিয়েছে বলে জানান তিনি।

গবেষক মোস্তাফিজুর জানান, বরেন্দ্র অঞ্চল হওয়ায় পাল আমলেও পানির তীব্র সংকট ছিল এই এলাকায়। তাই রাজা বা শাসকরা সে সময় বড় বড় পুকুর খনন করতেন। ইসবপুরের যেসব পুকুর সেগুলো খনন করা হয়েছিল মূলত জনকল্যাণে। পানির সংকট যেন না হয়, সে জন্য রাজারা এসব পুকুর খনন করতেন তাদের নিবাসের আশপাশে। দূর-দূরান্ত থেকে এসব পুকুরে আসতেন তখনকার প্রজারা। তারা খাওয়ার পানি সংগ্রহ করতেন এসব থেকে।

এ ছাড়া এসব পুকুরের আশপাশে ছিল মন্ত্রী, রাজ্যের বিভিন্ন কর্মচারীদের আবাস। তারা নির্দিষ্ট কিছু পুকুরে প্রাতাহ্যিক কাজ ও কিছু পুকুর থেকে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করতেন। এসবই সেই ৩৬৫ পুকুর খননের সঠিক ইতিহাস, যা সময়ের ব্যবধানে রানির অসুখের গল্প আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের পরিচালক ড. আলী রেজা মুহম্মদ আব্দুল মজিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেক গবেষকই নওগাঁর প্রত্ন নিদর্শন নিয়ে গবেষণা করেছেন। তবে ধামইরহাটের ইসবপুরের যে ৩৬৫ পুকুরের কথা বলা হয়, সেটা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো গবেষণা প্রবন্ধ বা নিবন্ধ জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে বের করা কোনো ম্যাগাজিনে উঠে আসেনি।’

এই অধ্যাপকও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য

স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোরশেদুল আলম বলেন, ‘একই সঙ্গে ৩৬৫ পুকুর দেশের আর কোথাও আছে কি না আমার জানা নেই। রানির অসুখ সারতেই এসব পুকুর পাল আমলে খনন করা বলে আমরা জেনে এসেছি। এখন পুকুরগুলোর চারপাশে বনায়ন কার্যক্রম করা হয়েছে বন বিভাগের পক্ষ থেকে। সরকার যদি একটু উদ্যোগ নেয়, তবে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে এই স্থানটিতে।’

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মোহাম্মদ আসাদুর রহমান বলেন, ‘এমন স্থাপনা দেশের অন্য স্থানেও আছে বলে মনে হয় না। এ স্থান তেমনভাবে পরিচিতি পায়নি। তাই সরকারের উচিত স্থানটিকে পর্যটনমুখী করার উদ্যোগ নেয়া।’

নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নওগাঁ জেলা যেমন কৃষিতে সমৃদ্ধ, ঠিক তেমনি ইতিহাসে বিজড়িত। অনেক প্রাচীন দর্শনীয় স্থান আছে এ জেলায়। আবার অনেক স্থান পরিচিতি ও সংরক্ষণের অভাবে বিলুপ্তপ্রায়। ধামইরহাটের চান্দিরা গ্রামের ৩৬৫টি পুকুরও কিন্তু ইতিহাসের স্মৃতি বহন করে।

‘পাল বংশের রাজ্য শাসনের শেষ দিকে পুকুরটি খনন করা হয়েছিল বলে ধারণা পাওয়া যায়। এখনও পুকুরগুলো অক্ষত রয়েছে। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নেইনি স্থানটিকে সবার মধ্যে তুলে ধরার। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, স্থানটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সবার মধ্যে তুলে ধরতে ব্যবস্থা নেয়া হোক।’

নওগাঁর এক গ্রামে ৩৬৫ পুকুর খননের নেপথ্যে কী

পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা গেলে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব পাবে, অন্যদিকে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে দাবি করেন তিনি।

বনায়ন

ধামইরহাট বন বিট কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, চান্দিরা গ্রামের ৩৬৫টি পুকুর অনেক প্রাচীন। পুকুরগুলো সরকারিভাবে লিজ দেয়া আছে। তবে পাড়ে বনায়ন করেছে বন বিভাগ। সে জন্য পুকুরপাড়ের চারপাশে বিভিন্ন জাতের গাছ লাগানো হয়েছে। জায়গাগুলো অনেক সুন্দর, একসঙ্গে এতগুলো পুকুর আর পুকুরপাড়ে নানা জাতের গাছের ছাঁয়া যে কাউকেই আকৃষ্ট করবে। একটু উদ্যোগ নিলে স্থানটি বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র হতে পারে।

পর্যটনে জোর স্থানীয় প্রশাসনের

নানামুখী উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গণপতি রায় বলেন, ‘একই সঙ্গে ৩৬৫টি পুকুর সত্যিই দারুণ বিষয়। এ এলাকাকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে দ্রুত উদ্যোগ নিয়েছে। সেই সঙ্গে চান্দিরা গ্রামের ওই পুকুরগুলোতে যাতে খুব সহজেই যাওয়া যায়, সে জন্য রাস্তা নির্মাণেরও উদ্যোগও গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
নওগাঁয় শুরু শতবলের ক্রিকেট
নওগাঁয় বঙ্গবন্ধু ম্যারাথন অনুষ্ঠিত
৮৪ হাজার ৪০০ টিকা গেল নওগাঁয়
সেই শিশু রফিকুলের দায়িত্ব নিলেন এক ইউপি চেয়ারম্যান
বাঁশঝাড় থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fifty years later the monument got a mass grave

পঞ্চাশ বছর পর স্মৃতিস্তম্ভ পেল গণকবর

পঞ্চাশ বছর পর স্মৃতিস্তম্ভ পেল গণকবর
এসপি ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘দেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর সংরক্ষণ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে এ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে।’

সিলেট নগরের রিকাবীবাজার এলাকার পুলিশ লাইনসের ভেতরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া অনেককে কবর দেয়া হয়েছিল। এতদিন অরক্ষিত অবস্থায় পড়েছিল গণকবরটি। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ।

‘স্মৃতি ৭১’ নামের এ স্মৃতিস্তম্ভটি রোববার উদ্বোধন করেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি (উপমহাপরিদর্শক) মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ ও জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। জেলা পুলিশের উদ্যোগে এটি স্থাপন করা হয়।

এর নকশা করেছেন স্থপতি রাজন দাশ। তিনি বলেন, ‘আবহমানকাল ধরে এ বাংলার মৃত্যুপরবর্তী যে লৌকিকতা চর্চিত হয়ে আসছে, অর্থাৎ মাটির মানুষ মাটিতেই ফিরে যাবে, মাটিতেই রচিত হবে তার কবর, গোর বা সমাধি; সেই সমাধি বা কবরের একটি লোকস্থাপত্যধারা লক্ষ করা যায়। এই গণকবরের ওপর নির্মিত স্থাপত্যধারাটি সেই ধারাতেই অনুপ্রাণিত।’

এসপি ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘দেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর সংরক্ষণ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে এ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে।’

বীর মুক্তিযােদ্ধা ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধে সিলেটে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ বীর মুক্তিযােদ্ধাসহ অসংখ্য মানুষকে গণকবর দেয়া হয় এখানে।

রিকাবীবাজারের পাশের মুন্সিপাড়াসহ শহরের বিভিন্ন এলাকার বীর মুক্তিযােদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হত্যা করে ফেলে রাখে। তাদের মরদেহ এনে স্বজন ও পরিচিতজনরা পুলিশ লাইনসের ভেতর একটি ডোবায় গণকবর দেন। মুক্তিযুদ্ধের পর পরই গণকবরটি চিহ্নিত করা হয়। কতজনকে এখানে কবর দেয়া হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান কোথাও সংরক্ষিত নেই।

তবে কবর দেয়া আট শহীদের নাম-তথ্য জানিয়েছেন এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা। তারা হলেন সহকারী উপপরিদর্শক আবদুল লতিফ, হাবিলদার আবদুর রাজ্জাক, কনস্টেবল মােক্তার আলী, শহর আলী, আবদুস ছালাম, মাে. হানিফ ব্যাপারী, মনিরুজ্জামান ও পরিতােষ কুমার। তারা কোন থানায় ছিলেন তা জানা যায়নি।

এসব পুলিশ সদস্য ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল জিন্দাবাজার এলাকার তৎকালীন ন্যাশনাল ব্যাংকে (বর্তমানে সােনালী ব্যাংক) দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ব্যাংকের টাকা লুটের উদ্দেশ্যে পুলিশ সদস্যদের হত্যা করে। দুদিন পর তাদের পুলিশ লাইনসে কবর দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
বধ্যভূমি থেকে উদ্ধার দেহাবশেষ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
দীপু মনির জবাবের ‘যোগ্য’ নয় বিএনপি
‘ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ না হলে মুক্তি মিলবে না’
ঢাবিতে ‘১৯৭১: অজানা গণহত্যা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
‘দেশকে চেনা যায়, এমন আইকনিক স্থাপনা তৈরি হবে’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Big plans around Paharpur

পাহাড়পুর ঘিরে বিস্তর পরিকল্পনা

পাহাড়পুর ঘিরে বিস্তর পরিকল্পনা নওগাঁর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার। ছবি: নিউজবাংলা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য পাহাড়পুর এলাকায় ভালো যোগাযোগ ও আবাসিক ব্যবস্থাসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেয়া হবে।

নওগাঁর বদলগাছিতে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার পর্যটনবান্ধব করতে বিস্তর পরিকল্পনা নিয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

শুক্রবার দুপুরে পাহাড়পুর জাদুঘর মিলনায়তনে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারকে দর্শকবান্ধব করার লক্ষ্যে অংশীজনদের নিয়ে সভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এ পরিকল্পনার কথা জানান।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রাজশাহী ও রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় বগুড়া এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার পর্যটনবান্ধব করতে নানাবিদ পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। পাহাড়পুর ঘিরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে মজবুত করারও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। এই বিহার যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থা হয়েছে। পর্যটকদের বিহার সম্পর্কে ধারণা দেয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। বিহার এলাকায় সুপেয় পানির অভাব ও উন্নত মানের হোটেল না থাকায় পর্যটকরা সমস্যায় পড়েন। এই সমস্যাও দ্রুত সমাধান করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য পাহাড়পুর এলাকায় ভালো যোগাযোগ ও আবাসিক ব্যবস্থাসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব রতন চন্দ্র পণ্ডিত।

বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান সরকার ও ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মিল্টন কুমার রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈনুল ইসলাম, বদলগাছির ইউএনও আল্পনা ইয়াসমিন, থানার ওসি আতিয়ার রহমান, পর্যটন পুলিশের পরিদর্শক সাজেদুর রহমান।

সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ পাহাড়পুরে নবনির্মিত দি হেরিটেজ ক্যাফে নামের একটি আধুনিক হোটেলের উদ্বোধন করেন।

আরও পড়ুন:
পর্যটন মেলা ২ জুন থেকে
পর্যটনের জন্য জনগণকে ‘উদার হতে হবে’
বনজীবীদের সঙ্গে সুন্দরবনে হানি ট্যুরিজমের সুযোগ
ঈদে ৪৪৮৬ পর্যটক পেল সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ
শঙ্কা কাটিয়ে জাফলংয়ে আবারও পর্যটকের ঢল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chariot ready for the ride

যাত্রার জন্য প্রস্তুত রথ

যাত্রার জন্য প্রস্তুত রথ
এক মাস ধরে কাঠামো মেরামত ও রঙের কাজ শেষে রথ সেজে উঠেছে নতুন রূপে। শুক্রবার ১ জুলাই রথটানের মধ্য দিয়ে এই অর্চনার শুরু হবে।

ঢাকার ধামরাইয়ে প্রতি বছরই শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে রথটান অনুষ্ঠিত হয়। চাকার ওপর বসানো বিশেষ রথের ভেতর জগন্নাথ দেবের মূর্তি বসিয়ে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী এই রথযাত্রা।

এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সাজসজ্জার কাজ। এক মাস ধরে কাঠামো মেরামত ও রঙের কাজ শেষে রথ সেজে উঠেছে নতুন রূপে। শুক্রবার রথটানের মধ্য দিয়ে এই অর্চনার শুরু হবে।

ধামরাইয়ের যশোমাধব মন্দির পরিচালনা পর্ষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নন্দ গোপাল সেন রথযাত্রার ঐতিহ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘ধামরাই এলাকার রাজা ছিলেন শ্রী যশোপাল। সেই সময় আশুলিয়ার শিমুলিয়া থেকে সৈন্য-সামন্ত নিয়ে ধামরাইয়ের কাশবন ও দুর্গম এলাকা পার হয়ে পাশের এক গ্রামে যাচ্ছিলেন।

‘এরই মধ্যে কায়েতপাড়ায় এসে মাটির ঢিবির সামনে থেমে যায় তাকে বহনকারী হাতি। রাজা শত চেষ্টা করেও হাতিটিকে সামনে নিতে পারলেন না এবং অবাক হলেন। তখন তিনি হাতি থেকে নেমে স্থানীয় লোকজনকে ওই মাটির ঢিবি খনন করার জন্য নির্দেশ দেন। সেখানে একটি মন্দির পাওয়া যায়।’
যাত্রার জন্য প্রস্তুত রথ

নন্দ গোপাল বলেন, ‘এ ছাড়া কতগুলো মূর্তি পাওয়া যায়। এর মধ্যে বিষ্ণুর মূর্তির মতো শ্রীমাধব মূর্তিও ছিল। রাজা ভক্তি করে সেগুলো সঙ্গে নিয়ে আসেন। সেদিন রাতে মাধব দেবকে স্বপ্নে দেখেন রাজা যশোপাল। মাধব তাকে নির্দেশ দেন পূজা করার। আর বলে দেন নামের সঙ্গে মাধবের নাম বসিয়ে নেয়ার। এর পরই যশোপালের নাম হয়ে যায়।

‘পরে ধামরাই সদরে ঠাকুরবাড়ি পঞ্চাশ গ্রামের বিশিষ্ট পণ্ডিত শ্রীরামজীবন রায়কে তিনি ওই মাধব মূর্তি নির্মাণের দায়িত্ব দেন। এখনও সেই মূর্তির পুজোর প্রচলন রয়েছে। সময়টি ছিল চন্দ্র আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথি। সেই থেকেই শুরু হয় যশোমাধবের পূজা।’

রথ তৈরির বিষয়ে গোপাল জানান, বাংলা ১২০৪ থেকে ১৩৪৪ সন পর্যন্ত ঢাকা জেলার সাটুরিয়া থানার বালিয়াটির জমিদাররা বংশানুক্রমে এখানে চারটি রথ তৈরি করেন। ১৩৪৪ সালে রথের ঠিকাদার ছিলেন নারায়ণগঞ্জের স্বর্গীয় সূর্যনারায়ণ সাহা। এ রথ তৈরি করতে সময় লাগে এক বছর।

ধামরাই, কালিয়াকৈর, সাটুরিয়া, সিঙ্গাইর থানার বিভিন্ন কাঠশিল্পী যৌথভাবে নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ করে ৬০ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন রথটি তৈরি করেন। এ রথটি ত্রিতলবিশিষ্ট ছিল, যার প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় চার কোণে চারটি প্রকোষ্ঠ ও তৃতীয় তলায় একটি প্রকোষ্ঠ ছিল। বালিয়াটির জমিদাররা চলে যাওয়ার পর রথের দেখভালের দায়িত্ব পালন করত টাঙ্গাইলের রণদাপ্রসাদ সাহার পরিবার।

২০১০ সালে ধামরাইয়ে পুরোনো রথটির আদলে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন রথ বানিয়ে দেওয়া হয়। ৪০ জন শিল্পী ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে নিরলসভাবে কাজ করে ৩৭ ফুট উচ্চতা ও ২০ ফুট প্রস্থের কারুকার্যখচিত নতুন রথটি নির্মাণ করেন।

লোহার খাঁচার ওপর সেগুন ও চাম্বল কাঠ বসিয়ে খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে আকর্ষণীয় সব শৈল্পিক নিদর্শন। এতে রয়েছে লোহার তৈরি ১৫টি চাকা। রথের সামনে রয়েছে কাঠের তৈরি দুটি ঘোড়া ও সারথি।

যাত্রার জন্য প্রস্তুত রথ

এ ছাড়া রথের বিভিন্ন ধাপে প্রকোষ্ঠের মাঝে স্থাপন করা হয়েছে কাঠের তৈরি দেব-দেবীর মূর্তি। প্রতি বছর রথযাত্রার আগে রং চরানো ও সাজসজ্জার কাজ করে এটিতেই অনুষ্ঠিত হয় রথ উৎসব।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ধামরাই উপজেলা পরিষদসংলগ্ন রথখোলায় গিয়ে রথের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির ব্যস্ততা দেখা যায়।

রংশিল্পী ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘রথটি সারা বছর বাইরে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়। এ জন্য রং মলিন হয়ে যায়। কিন্তু রথযাত্রার আগে এটিকে পুরোপুরি সাজিয়ে তোলা হয়। আমরা বিভিন্ন রং দিয়ে রথকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলি। ৩৫ বছর ধরে এই রথে রঙের কাজ করছি। এখন শেষ মুহূর্তেই তুলির আঁচড় দিচ্ছি।’

যাত্রার জন্য প্রস্তুত রথ

রথযাত্রার সর্বশেষ প্রস্তুতির বিষয়ে যশোমাধব মন্দির পরিচালনা পর্ষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নন্দ গোপাল সেন বলেন, ‘রথযাত্রা ও রথমেলা উপলক্ষে রথের সাজসজ্জা ও পরিচর্যার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। রঙের কিছু কাজ চলছে। বাকি কাজও দ্রুত শেষ হবে। এরপর রথটান হবে। এ ছাড়া মাসব্যাপী মেলা হবে।’

ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আতিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রথযাত্রার নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি পোশাকধারী পুলিশও টহল দিচ্ছে। রথের নিরাপত্তা পরিদর্শন করেছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়। আশা করছি, পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে শেষ হবে।’

আরও পড়ুন:
এবারও ঘুরবে না যশোমাধবের রথের চাকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
I cant sing a song that doesnt speak of hardworking people Masum Aziz

মানুষের কথা বলাই সংস্কৃতির কাজ: মাসুম আজিজ

মানুষের কথা বলাই সংস্কৃতির কাজ: মাসুম আজিজ একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যব্যক্তিত্ব মাসুম আজিজ। ছবি: নিউজবাংলা
মাসুম আজিজ বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক বিশ্বাসের ওপর উদীচী সংগঠনের জন্ম। গণতান্ত্রিক অধিকার, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার এবং শ্রেণী-বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন নিয়েই উদীচীর যাত্রা। সে জন্যই এটি আমাদের প্রাণের সংগঠন।’

‘যে গান মানুষের কথা বলে না, সে গান আমি গাইতে পারি না। মানুষের কথা বলাই সংস্কৃতির কাজ।’

কথাগুলো বলছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যব্যক্তিত্ব মাসুম আজিজ।

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের উদ্যোগে ভাস্কর্য চত্বরে ‘এসো করো স্নান নবধারা জলে’ স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ষাকল্প ১৪২৯ অনুষ্ঠানে বুধবার তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাসুম আজিজ বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক বিশ্বাসের ওপর উদীচী সংগঠনটির জন্ম। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার এবং একটি শ্রেণী-বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন নিয়েই উদীচীর যাত্রা হয়। সে জন্যই এটি আমাদের প্রাণের সংগঠন।

‘যে সংস্কৃতি মানুষের কথা বলে না, সে অপসংস্কৃতির সঙ্গে আমরা নেই। আমরা মনে করি শিল্প-সংস্কৃতি, নাটক, গান- এগুলো মস্ত বড় শক্তি; যেটিকে লালন করা খুব জরুরি। উদীচী চিরজীবী হোক, বেঁচে থাকুক, আমরা তা দেখে যেতে চাই।’

মাসুম আজিজ বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল অসাম্প্রদায়িক একটা চেতনা থেকে। আজ ইউটিউবের ওয়াজিরা বলে শুধু ইসলামের জন্য নাকি লড়াই করছে। ইসলাম কী সেটা মুসলমানরা জানে। আমার মাঝে ইসলাম থাকলে তো অন্য জাতির প্রতি বিদ্বেষ থাকবে না। ইসলাম তো আমায় বিদ্বেষ করতে বলেনি।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন গণসংগীত শিল্পী উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি মাহমুদ সেলিম।

উদীচী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নানা পরিবেশনার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রঙ্গভূমি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তমঞ্চের অংশগ্রহণ।

অনুষ্ঠানটি সম্প্রতি সীতাকুন্ডে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় হতাহত সব পেশার মেহনতী মানুষকে উৎসর্গ করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The blood of the martyrs is mixed in that Eidgah

যে ঈদগাহে মিশে আছে শহীদের রক্ত

যে ঈদগাহে মিশে আছে শহীদের রক্ত
পলাশীর যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হওয়ার মাত্র ২৫ বছর পেরিয়েছে তখন। ১৭৮২ সাল। দিনটি ছিল আশুরা। হিজরি ১০ মহররম। ওইদিনই শাহি ঈদগাহে টিলার ওপরে জড়ো হয়ে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেন স্থানীয় শতাধিক লোক। যার নেতৃত্বে ছিলেন নগরের কুমারপাড়া-সংলগ্ন ঝরনার পাড়ের সৈয়দ হাদি (হাদা মিয়া) ও সৈয়দ মাহদি (মাদা মিয়া) নামে দুই ভাই।

প্রায় ৩০০ বছর পুরোনো সিলেটের ঐতিহাসিক শাহি ঈদগাহ। প্রতি বছরের মতো এবারও নগরীর প্রধান ঈদ জামাত সেখানে হয়েছে। তাতে অংশ নিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাংসদ ড. এ কে আবুল মোমেন।

কেবল ঈদ জামাত নয়, শাহি ঈদগাহ পরিচিত এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণেও।

জানা যায়, এই ঈদগাহ থেকেই ব্রিটিশের বিরুদ্ধে অবিভক্ত ভারতবর্ষে প্রথমদিককার বিদ্রোহের সূচনা হয়। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ১৭৮২ সালে এই ঈদগাহেই শহীদ হন দুই ভাই। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহেরও ৭৫ বছর আগের ঘটনা এটি।

ঐতিহাসিকদের তথ্যমতে, এই ঈদগাহে মহাত্মা গান্ধী, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের মতো নেতারা এসে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সমাবেশ করে গেছেন।

অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, সিলেটের শাহি ঈদগাহটি নির্মিত হয় ১৭০০ সালের প্রথম দশকে। সিলেটের তৎকালীন ফৌজদার ফরহাদ খাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এটি নির্মিত হয়।

প্রায় ৩০০ বছর আগে শহরের যে জায়গায় ঈদগাহটি নির্মিত হয়, সেই এলাকাটিও এখন শাহি ঈদগাহ নামে পরিচিত। এখানে একসঙ্গে প্রায় দুই লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

যে ঈদগাহে মিশে আছে শহীদের রক্ত

ধর্মীয় ও ইতিহাসের পাশাপাশি অপূর্ব নিমার্ণশৈলীর কারণেও সিলেটের শাহি ঈদগাহ অনন্য। এর একপাশে রয়েছে টিলাভূমি। কারুকার্যখচিত ২২টি বড় সিঁড়ি পেরিয়ে টিলায় উঠতে হয়।

টিলার ওপরে রয়েছে কারুকার্য করা ১৫টি গম্বুজ। একপাশে বিশাল পুকুর। ঈদগাহের প্রাচীর সীমানার চারদিকে রয়েছে ছোট-বড় ১০টি গেট।

২০১৫ সালে ঈদগাহ কমপ্লেক্সে নির্মাণ করা হয় ১৮০ ফুট উচ্চতার দৃষ্টিনন্দন একটি মিনার। ঈদের দিন ছাড়াও অন্য দিনগুলোতে প্রচুর মানুষ এই ঈদগাহে ঘুরতে আসেন।


ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যেভাবে জড়িয়ে শাহি ঈদগাহ

পলাশীর যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হওয়ার মাত্র ২৫ বছর পেরিয়েছে তখন। ১৭৮২ সাল। দিনটি ছিল আশুরা। হিজরি ১০ মহররম।

ওইদিনই শাহি ঈদগাহে টিলার ওপরে জড়ো হয়ে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেন স্থানীয় শতাধিক লোক। যার নেতৃত্বে ছিলেন নগরের কুমারপাড়া-সংলগ্ন ঝরনার পাড়ের সৈয়দ হাদি (হাদা মিয়া) ও সৈয়দ মাহদি (মাদা মিয়া) নামে দুই ভাই।

যথারীতি ব্রিটিশরাও শক্ত হাতে দমন করে এই বিদ্রোহ। গুলি ছোড়ে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে। ঘটনাস্থলেই শহীদ হন হাদি ও মাহদি।

ব্রিটিশের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহটি ইতিহাসে ‘হাদা মিয়া-মাদা মিয়ার বিদ্রোহ’ নামে খ্যাত।

যে ঈদগাহে মিশে আছে শহীদের রক্ত

গবেষক ও লেখক রফিকুর রহমান লজু এই বিদ্রোহ নিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তখন সিলেটের ব্রিটিশ রেসিডেন্ট কালেক্টর ছিলেন রবার্ট লিন্ডসে। তিনি আধিপত্য বিস্তার ও সম্পদ লুণ্ঠনে মরিয়া ছিলেন। তার অত্যাচারে সবাই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। ক্ষোভ দেখা দেয় স্থানীয়দের মধ্যে। পুঞ্জীভূত এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে মহররমের দিন।

‘ওইদিন স্থানীয় মুসলমানরা ঈদগাহে জড়ো হয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেন। তাদের প্রধান টার্গেটও ছিলেন লিন্ডসে। তবে বিদ্রোহ পরিচালনার জন্য তাদের কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা পরিকল্পনা ছিল না। অসংগঠিত ও বিচ্ছিন্নভাবে শুধু স্থানীয় শক্তির ওপর নির্ভর করে তারা বিদ্রোহে নেমে পড়েন। ফলে উন্নত অস্ত্রধারী ও সুসংগঠিত শক্তিশালী ব্রিটিশ বাহিনীর সামনে বিদ্রোহীরা বেশি সময় টিকতে পারেননি।’

রফিকুর রহমান জানান, ভারত ছাড়ার পর স্কটল্যান্ডে স্থায়ী হয়েছিলেন রবার্ট লিন্ডসে। ১৮৪০ সালে প্রকাশিত হয় তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ An Anecdotes of an Indian life

এই বইয়েও সিলেটের বিদ্রোহের কথা উল্লেখ আছে। লিন্ডসের আত্মজীবনীর সিলেটপর্ব- ‘সিলেটে আমার বারো বছর’ নামে অনুবাদ করেন লেখক আবদুল হামিদ মানিক। এতে দেখা যায় লিন্ডসে ওই বিদ্রোহকে ‘মহররমের দাঙ্গা’ ও ‘হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলে’ অভিহিত করেছেন।

যে ঈদগাহে মিশে আছে শহীদের রক্ত

তবে রফিকুর রহমান লজু বলেন, ঘটনাটি তা ছিল না। এটা ছিল ইংরেজ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সিলেটবাসীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, ‘সমাজের একেবারে সাধারণ স্তর থেকে উঠে আসা মানুষজন এই বিদ্রোহে অংশ নেন। যার নেতৃত্বে ছিলেন হাদা মিয়া ও মাদা মিয়া।’

লজু বলেন, ‘এটি অত্যন্ত অসম ছিল। ইংরেজ পক্ষে লিন্ডসের সঙ্গে অস্ত্রধারী সৈন্য ছিল। অপরদিকে বিদ্রোহীদের একমাত্র অস্ত্র ছিল তলোয়ার।’

বৃহত্তর সিলেট ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন ইতিহাসের সেই দিনটির বর্ণনা দেন।

তিনি বলেন, ‘সেই মহররমের দিন বিকেলে ঘোড়ায় চড়ে সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে শাহি ঈদগাহ ময়দানে হাজির হন হাদা ও মাদা। লিন্ডসেকে তারা আশুরা অনুষ্ঠানের সীমানায় প্রবেশে বাধা দেন। এরপর যুদ্ধ বেধে যায়।’

যে ঈদগাহে মিশে আছে শহীদের রক্ত

শাহিন জানান, যুদ্ধস্থল শাহি ঈদগাহের অদূরে নয়াসড়ক এলাকায় সমাহিত করা হয়েছিল শহীদ দুই ভাইকে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ব্রিটিশ শাসন শুরু হওয়ার পর এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে প্রথম শহীদ হয়েছিলেন সিলেটের হাদা মিয়া ও মাদা মিয়া। নয়া সড়কে তাদের কবর ঐতিহাসিকদের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এগুলো সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
জাতীয় ঈদগাহের মোনাজাতে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা
২ বছর পর ফিরল উৎসবমুখর ঈদ
বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৫ জামাত
চাঁদরাতেও বেচাকেনায় জমজমাট রাজধানী
ঈদের ছুটিতে আরও ব্যস্ততা সংবাদকর্মীদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After losing to Comilla the title went to Coxs Bazar

কুমিল্লাকে হারিয়ে বলীর শিরোপা কক্সবাজারে

কুমিল্লাকে হারিয়ে বলীর শিরোপা কক্সবাজারে জব্বারের বলী খেলার ১১৩তম আসরে জয়ী চকরিয়ার জীবন বলী। ছবি: নিউজবাংলা
জব্বারের বলী খেলার ১১৩তম আসরের ফাইনালে ৩ পয়েন্টে শাহজাহানকে হারিয়েছেন তিনি। জিতে নিয়েছেন প্রথম পুরস্কার ২৫ হাজার টাকা ও ক্রেস্ট।

প্রায় ২০ মিনিটের লড়াই শেষে গতবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার শাহজাহান বলীকে হারিয়ে শিরোপা জয় করলেন কক্সবাজারের চকরিয়ার জীবন বলী।

জব্বারের বলী খেলার ১১৩তম আসরের ফাইনালে ৩ পয়েন্টে শাহজাহানকে হারিয়েছেন তিনি। জিতে নিয়েছেন প্রথম পুরস্কার ২৫ হাজার টাকা ও ক্রেস্ট।

জীবন বলেন, ‘বাড়ি থেকে আসার সময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে আসি যাতে চ্যাম্পিয়ন হতে পারি। এর আগে দুবার রানারআপ হয়েছিলাম। আল্লাহ আমার প্রার্থনা কবুল করেছেন।’

কোভিড মহামারির কারণে দুই বছর অপেক্ষার পর চট্টগ্রামে ১১৩তম জব্বারের বলী খেলা অনুষ্ঠিত হলো সোমবার বিকেলে, নগরীর লালদীঘি চত্বরে।

বিকেলে বেলুন উড়িয়ে এর উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

এবার বলী খেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১০০ বলী অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এদিকে বলী খেলাকে কেন্দ্র করে রোববার থেকেই শুরু হয়েছে লোকজ মেলা, যা চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। মেলায় বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন প্রায় ৩০০ ব্যবসায়ী।

চট্টগ্রাম শহরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার ১৯০৯ সালে প্রথম বলী খেলার আয়োজন করেন। এর পর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা ১১০ বছর চট্টগ্রামের লালদীঘির মাঠে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলা। এরপর করোনা মহামারির কারণে দুই বছর বন্ধ থাকে এটি। করোনা প্রকোপ প্রায় নিয়ন্ত্রণে আসায় আবারও হচ্ছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন।

মন্তব্য

p
উপরে