× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Yunus Centers statement is misleading Selim Mahmud
hear-news
player
print-icon

ইউনূস সেন্টারের বিবৃতি বিভ্রান্তিমূলক: সেলিম মাহমুদ

ইউনূস-সেন্টারের-বিবৃতি-বিভ্রান্তিমূলক-সেলিম-মাহমুদ
‘অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের যে পার্থক্যের কথা বলা হচ্ছে, ব্যাংকের এমডির চাকরির মেয়াদের সঙ্গে এই পার্থক্যের সম্পর্ক নেই। বরং সব সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের মতো গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদটি একটি পূর্ণকালীন চাকরির পদ। এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদটি অন্য সব ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদের মতো মেয়াদভিত্তিক ও অপূর্ণকালীন।’

গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিটি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ। এতে গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কিত আইনের নানা ভুল ব্যাখ্যা এবং অসত্য তথ্য দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সেলিম মাহমুদ এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক কোনো বেসরকারি ব্যাংক নয়, এটি একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান। এটি নির্দিষ্ট আইনের দ্বারা সৃষ্ট এবং আইনে উল্লেখ করা বিধান অনুযায়ী পরিচালিত।

‘গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৮৩ সালে রাষ্ট্রপতির জারি করা অর্ডিন্যান্স-এর মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। আইনটির ধারা-২ তে বলা আছে, আইনটি সেসব গ্রামীণ এলাকায় কার্যকর হবে, যেসব এলাকা সরকার কর্তৃক গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

‘১৯৮৩ সালের আইনের ধারা ৪(৪)-এ বলা আছে, সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ব্যাংক কোম্পানিজ আইন অথবা ব্যাংক কোম্পানিজ সম্পর্কিত অন্য কোনো আইনের বিধান গ্রামীণ ব্যাংকে প্রয়োগ করতে পারবে।

‘এই আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী আইনটি একটি বিশেষ আইন। কারণ এই আইনের ধারা ৩-এ বলা আছে, অন্যান্য আইনে বিধানাবলি যা-ই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধান কার্যকরী হবে।

৬০ বছরের বেশি বয়সে গ্রামীণ ব্যাংকের দায়িত্বে থাকা প্রসঙ্গে ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- গ্রামীণ ব্যাংক এমন একটি ব্যাংক যার ৭৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক এর ঋণগ্রহীতারা। একটি আলাদা আইনের মাধ্যমে কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য সন্নিবেশ করে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ফলে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে এর পার্থক্য আছে।

সেলিম মাহমুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ব্যাংকের পেইড-আপ ক্যাপিটাল বা পরিশোধিত শেয়ার মূলধনের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতারা এর কত ভাগ মালিক, এর সঙ্গে ব্যাংকের এমডি পদে নিয়োগ কিংবা ওই পদের মেয়াদের কোনো সম্পর্ক নেই। এমডি পদে নিয়োগ এবং পদের মেয়াদের ক্ষেত্রে একমাত্র আইনের বিধানই প্রযোজ্য হবে।

‘অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের যে পার্থক্যের কথা বলা হচ্ছে, ব্যাংকের এমডির চাকরির মেয়াদের সঙ্গে এই পার্থক্যের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং সব সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের মতো গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদটি একটি পূর্ণকালীন চাকরির পদ। এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদটি অন্য সব ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদের মতো মেয়াদভিত্তিক ও অপূর্ণকালীন।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, “ড. ইউনূসের পক্ষে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয় এর পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে একটি চুক্তির অধীনে। এই নিয়োগের জন্য কোনো বয়সসীমা আইনে বা পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে উল্লেখ ছিল না।’

“এই বক্তব্য অসত্য। কারণ ১৯৮৩ সালের গ্রামীণ ব্যাংকের অর্ডিন্যান্স-এর ধারা ১৪(১) অনুযায়ী এই ব্যাংকের এমডির নিয়োগ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এমডি পদে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য একটি সিলেকশন কমিটি থাকে এবং সেই বাছাইয়ের ভিত্তিতে ব্যাংকের বোর্ড এমডি নিয়োগ করে। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যানও নিয়োগ করে সরকার।”

তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান বলেই আইনে এই নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতেই রাখা হয়েছে। ১৯৮৩ সালের গ্রামীণ ব্যাংক আইন অনুযায়ী ব্যাংকের এমডি পদটি একটি সার্বক্ষণিক পদ এবং তিনি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী (সিইও)। আইনের ধারা ৯ (২) অনুযায়ী এমডি পদাধিকার বলে ব্যাংকের পরিচালক, তবে এমডি বোর্ডে ভোট দিতে পারবেন না। আইনের ধারা ১০(২) অনুযায়ী কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সরকার এমডি ছাড়া অন্য যেকোনো পরিচালককে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিতে পারে।

‘আইনের উল্লিখিত বিধানাবলি পড়লে এটি পরিষ্কার যে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদটি সার্বক্ষণিক চাকরি।

‘যেকোনো সার্বক্ষণিক পদের একটা মেয়াদ থাকে। ১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশে এমডি পদের অবসরের সময়সীমা উল্লেখ না থাকলেও এটি নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। কারণ ১৯৮৩ সালের আইনের ধারা ৪(৪)-এ বলা আছে, সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ব্যাংক কোম্পানিজ আইন অথবা ব্যাংক কোম্পানি সম্পর্কিত অন্য কোনো আইনের বিধান গ্রামীণ ব্যাংকে প্রয়োগ করতে পারবে। সরকারের এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা ছাড়াও Interpretation of Statutes এর সাধারণ নীতি অনুযায়ী দেশের অভ্যন্তরে অন্যান্য ব্যাংকের এমডি পদের মেয়াদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির চাকরির মেয়াদ ধরতে হবে। অন্য সব ব্যাংকে এই মেয়াদ তখন ছিল ৬০ বছর।

‘এ ছাড়া সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২(১) তে আইনের যে সংজ্ঞা আছে তাতে প্রথা বা রীতিকেও আইন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ফলে অন্যান্য ব্যাংকের চাকরির বিধান প্রথা হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।’

ড. ইউনূসের পক্ষে বিবৃতিতে পদ্মা সেতু নিয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। এর জবাবে সেলিম মাহমুদ প্রশ্ন রাখেন, ‘ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ফার্মের মাধ্যমে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার কেন খরচ করেছিলেন?’

আরও পড়ুন:
ইউনূস সেন্টার ছাড়লেন তানবিরুল ইসলাম

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The victory of the womens football team is a victory against radicalism

‘নারী ফুটবল দলের জয় মৌলবাদ-কুপমণ্ডুকতার বিরুদ্ধে বিজয়’

‘নারী ফুটবল দলের জয় মৌলবাদ-কুপমণ্ডুকতার বিরুদ্ধে বিজয়’
গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘আমাদের দেশে নারীদের অগ্রগতি ঈর্ষনীয়। অথচ একটা মহল নারীদের সব অধিকার কেড়ে নিতে চায়। নারীর ভূমিকা নিয়ে কত প্রশ্ন তাদের! সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে নারী ফুটবল দল। তারা দেখিয়েছে কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয়কে অর্জন করতে হয়। আমাদের এই ফুটবল দলে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর সমন্বয় ঘটেছে। আমরা এই সমন্বয়ের বাংলাদেশ চেয়েছি।’

দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী নারী ফুটবল দলের এই বিজয়কে মৌলবাদের বিরুদ্ধে বিজয় হিসেবে দেখছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস।

তিনি বলেন, ‘আমরা নারীদের এই বিজয়কে শুধু ফুটবলের একটি প্রতিযোগিতার বিজয় মনে করি না। আমারা এটাকে মনে করি, কুপমণ্ডুকতার বিরুদ্ধে, নারীর অধিকারের বিরুদ্ধে, সমাজকে পিছিয়ে নেয়ার যে মধ্যযুগীয় চক্রান্ত আজও আমাদের দেশে বিদ্যমান, যারা নারীদের অন্তঘরে আবদ্ধ করে রাখতে চেয়েছিল তার বিরুদ্ধে আমাদের নারীদের সংগ্রামের বিজয়।’

সোমবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাফ জয়ী নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা দিতে ‘বিজয়ী বাংলার অদম্য নারীদের সংবর্ধনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

অনুষ্ঠানে আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে দশ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়।

গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘আমাদের দেশে নারীদের অগ্রগতি ঈর্ষনীয়। অথচ একটা মহল নারীদের সব অধিকার কেড়ে নিতে চায়। নারীর ভূমিকা নিয়ে কত প্রশ্ন তাদের! সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে নারী ফুটবল দল। তারা দেখিয়েছে কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয়কে অর্জন করতে হয়। আমাদের এই ফুটবল দলে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর সমন্বয় ঘটেছে। আমরা এই সমন্বয়ের বাংলাদেশ চেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘নারী পুরুষের সমান অধিকারের কথা আমাদের সংবিধানে উল্লেখ আছে। কিন্তু আমরা দেখছি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা বঞ্চিত। আমরা জানি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থের খুব বেশি জোগান নেই। তারপরও যা আছে সেটুকু যদি নারী পুরুষের ক্ষেত্রে সমানভাবে বণ্টন করা হয় তাহলে সংগত হবে।

‘আমরা নারী ফুটবলারদের সুযোগ-সুবিধা এবং বেতন পুরুষ ফুটবলারদের সমান করার দাবি জানাই। আমরা দেখতে চাই না, আমাদের নারী ফুটবলাররা লোকাল বাসে চড়ে তাদের থাকার জায়গা নেই। জাতির জন্য যারা সম্মান বয়ে আনে তাদেরকে দেখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র সকল ক্ষেত্রে নারী পুরুষের বৈষম্য দূর করবে এটি আমাদেরর প্রত্যাশা।’

তার আগে নারী ফুটবল দলের ২৩ সদস্য শহীদ মিনারে পৌঁছালে ‘জয় নারী, জয় তারুণ্য’, ‘জয় মানুষ, জয় বাংলা’ শ্লোগানে তাদেরকে অভ্যার্থনা জানানো হয়। এরপর নারী ফুটবল দলের সদস্যরা শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে ২১ আগস্ট, ১৫ আগস্ট সকল শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়৷ পরে নারী ফুটবল সদস্য, কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়।

এ সময় আবৃত্তি, নাচ আর গানের তালে তালে তাদের ওপর পুষ্পবৃষ্টি বর্ষণ করা হয়। এরপর মানপত্র পাঠ শেষে ফুটবলারদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

পরে আসাদুজ্জামান নূর এবং গোলাম কুদ্দুস সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে আইএফআইসির সহযোগিতায় ১০ লাখ টাকার চেক দেন বাফুফেকে।

আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সরওয়ার বলেন, ‘তোমরা আজকে যখন বিজয়ী হয়ে দেশে ফিরে এসেছো এখন দেশের সব আলো তোমাদের দিকে। কিন্তু দিন শেষে যখন তুমি তোমার পরিবারের কাছে ফিরে যাবে তখন একটা বাস্তব জীবন তোমার কাছে আসবে। সেই বাস্তব জীবনে অর্থের প্রয়োজন হয়, জীবিকার প্রয়োজন হয়।

‘সেই সময় যদি তোমরা কোন দিন মনে করো যে আইএফআইস ব্যাংক তোমাদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিকভাবে উপকার করতে পারে এবং তোমরা যদি আমাদের কাছে আসো তখন আমি কৃতার্থবোধ করব।’

অনুভূতি প্রকাশ করে নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেন, ‘দিন শেষে যখন প্রাপ্তি পাওয়া যায় তখন অনেক ভালো লাগে। জয়ের পর থেকেই মনে হচ্ছে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয়ক্ষণ। আমার মনে হয় বাংলাদেশেরযে সাফল্য তার সবচেয়ে বড় পাওয়া আজকে আমাদের এখানে সংবর্ধনা গ্রহণ।

‘দিনশেষে যখন এমন সফলতা আসে এবং দেশের মানুষ হাসে তখন আমাদেরই ভালো লাগে। জয়ের পর থেকে দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নাই। এভাবে আপনারা পাশে থেকে সাপোর্ট দিয়ে গেলে আমরা আরও ভালো মূহূর্ত আপনাদেরকে উপহার দিতে পারব।’

হেড কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন বলেন, ‘আমি সম্মেলিত সাংস্কৃতিক জোটকে ধন্যবাদ জানাই, আমাদের এমন মুহূর্ত উপহার দেয়ার জন্য। আমাদের মেয়েরা এই এটি মনে রাখবে এবং বাফুফের সহযোগিতায় আগামী দুই-চার বছরে আরও বড় সফলতা এনে দেবে।’

বালাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কমিটি ফর ওইমেন্স এর চেয়ারপারসন মাহফুজা আক্তার কীরণ বলেন, ‘আমাদের এই পথচলা স্মুথ ছিল না। আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি, কিন্তু পিছু পা হইনি, কারণ নারীরাও পারে।’

বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ বলেন, ‘আমরা ভিক্ষা করি এই মেয়েদের জন্য। আমাদের অনেকের কাছে শুনতে হয়, মেয়েরা কেন দশ-বারো হাজার টাকা বেতন পায়। আমরা মেয়েদেরকে কীভাবে ছেলেদের সমান ৫০ হাজার, ১ লাখ টাকা বেতন দেয়া যায় সে বিষয়ে কাজ করছি। আজকে এই সহযোগিতা আমাদেরকে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে।’

সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় সকল বাধা অতিক্রম করে তারা আজকে এখানে দাঁড়িয়েছে। সবকিছু হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য। তিনি প্রাথমিকে যে খেলা শুরু করেছে সেখান থেকে অনেক মেয়ে উঠে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘সেদিন তোমাদের বিজয় দেখে আমরা চোখের পানি আটকিয়ে রাখতে পারিনি। কেননা আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিজয় দেখার পর বহুদিন এমন জয়ের জন্য অপেক্ষা করেছি। আমরা সত্যিই গর্বিত। তোমরা অনেক প্রশংসা, সংবর্ধনা পাচ্ছ। এটি যেন অহংকারে পরিণত না হয়, সেটি যেন শক্তিতে, সাধনায় প্রতিফলিত হয়।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক, মামুনর রশীদ, মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ, রামেন্দ্র মজুমদার প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
রূপনাদের গড়ে তুলছেন, কৃতিত্ব নিতে আগ্রহ নেই
সাফজয়ীদের চুরির ক্ষতিপূরণ দিল বাফুফে
সাফজয়ীদের সংবর্ধনা, কোটি টাকা দেবে সেনাবাহিনী
ট্রফি উঁচিয়ে নিজ শহরে সাবিনা
খেলোয়াড়দের বাড়ির ছাদ তৈরির আহ্বান শিরিনের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Momen in Japan to attend Abes funeral

আবের শেষকৃত্যে যোগ দিতে জাপানে মোমেন

আবের শেষকৃত্যে যোগ দিতে জাপানে মোমেন আবের শেষকৃত্যে অংশ নিতে জাপানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ছবি: সংগৃহীত

আততায়ীর হাতে খুন হওয়া জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের শেষকৃত্যে যোগ দিতে জাপানে পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল।

টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে টোকিও পৌঁছায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল।

টোকিও পৌঁছে সোমবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াশি ইয়োশিমাসার সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সংসদ সদস্য সেলিমা আহমেদ, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের জন্য বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন এবং জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব নেয়ায় কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

এ ছাড়া তিনি ঢাকাস্থ জাপানের দূতাবাসে গিয়ে শোক বই স্বাক্ষর করার জন্য ও রাষ্ট্রীয় অন্তেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধু জাপানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক মত্যুতে বাংলাদেশ অত্যন্ত মর্মাহত বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন উল্লেখ করেন।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের কঠোর অবস্থানের কথাও এ সময় তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, শিনজো আবে দীর্ঘ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং তার সময়ে দু’দেশের সম্পর্ক ‘সমন্বিত অংশিদারিত্বে’ উন্নীত হয়েছিল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সুসম্পর্ককে আরও অধিক উচ্চতায় উন্নীত করার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

জাপানকে বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং দু’দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধিতে জোর দেন।

এ ছাড়া দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার হতে আগত রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থা, সমস্যা এবং এর দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে জাপানের সহযোগিতা চান।

জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াশি বাংলাদেশকে অব্যাহত সহায়তা প্রদানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াশি ইউক্রেন, উত্তর কোরিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিকের বিষয়ে জাপানের অবস্থান তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন।

বিশ্ব শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় বাংলাদেশের অবদান, শান্তির সংস্কৃতি বিনির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

বৈঠকে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান মোমেন।

দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

গত ৮ জুলাই জাপানের নারা শহরে শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে দলীয় প্রচারাভিযানের সময় গুলি করা হয় আবেকে। গুলিবিদ্ধ আবেকে হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
আবে হত্যাকাণ্ড: দায় নিয়ে পদ ছাড়ার ঘোষণা পুলিশপ্রধানের
আবেকে শ্রদ্ধা ভালোবাসায় শেষ বিদায়
আবেকে আগেও হত্যার চেষ্টা করেছিলেন হামলাকারী
আবে হত্যা: নিরাপত্তায় ত্রুটির কথা স্বীকার পুলিশের
আবের মৃত্যুতে সারা দেশে শোক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
EC will also campaign in mosques and temples with EVMs

ইভিএম নিয়ে ইসি মসজিদ-মন্দিরেও প্রচার চালাবে

ইভিএম নিয়ে ইসি মসজিদ-মন্দিরেও প্রচার চালাবে
ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, ‘টিভিসি ছাড়াও পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন এবং মসজিদ-মন্দিরে প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হবে। সমন্বিত কর্মসূচির আওতায় টিভি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক- সব জায়গায় ইভিএম নিয়ে প্রচার চালানো হবে।’

ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম নিয়ে ব্যাপক প্রচারে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেক্ষেত্রে টেলিভিশন ও পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচারের পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ও মন্দিরে প্রচার চালাবে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সোমবার অষ্টম কমিশন সভা শেষে ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার দায়িত্বভার গ্রহণ করে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন। দায়িত্ব পাওয়ার ছয় মাসের মাথায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভোটের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করে ইসি।

বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার মুখেই কমপক্ষে দেড়শ’ আসনে ইভিএমে ভোট করার ঘোষণা দেয় কমিশন। এ লক্ষ্যে ৮ হাজার ৭১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার নতুন একটি প্রকল্প চূড়ান্ত করে আউয়াল কমিশন, যা বর্তমানে একনেকে রয়েছে। প্রকল্পটি পাস হলে সে টাকা দিয়ে ২ লাখ ইভিএম কেনা হবে।

ইসি সচিব বলেন, ‘ইভিএমের প্রকল্প পরিচালক কর্নেল রাকিবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে টিভিসি (টেলিভিশন কমার্শিয়াল) করার জন্য। জনগণ যাতে ইভিএম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায় এবং কিভাবে ভোট দেবে তা প্রচার হয় সেজন্য তারা কাজ করবেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে কমিশনকে তারা কর্মপরিকল্পনা দেখাবেন। তারপর এটি আমরা প্রচারের ব্যবস্থা করব।’

তিনি বলেন, ‘অনেক কিছু থাকবে। টিভিসি ছাড়াও পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন এবং মসজিদ-মন্দিরে প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও প্রচারণার ব্যবস্থা করা হবে। বিভিন্ন ধরনের প্রচার থাকবে। এটি একটি সমন্বিত কর্মসূচি। টিভি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক- সব জায়গায় ইভিএম নিয়ে প্রচার চালানো হবে।’

ইসি সচিব আরও বলেন, ইভিএমে কোন বাটন চাপতে হবে সে ব্যাপারে অনেকেই সংশয়ে থাকেন। আবার অনেকের ধারণা থাকে যে কলা প্রতীকে ভোট দিতে বাটনে চাপ দিলে সেটি আম প্রতীকে চলে যেতে পারে।

‘এই ধারণাগুলো কাটাতে (দূর করা) যত ডাউট আছে সেগুলো প্রশ্নাবলী আকারে নিয়ে টিভিসির মতো করা হবে। এরপর আমরা সেটি প্রচার করব।’

আরও পড়ুন:
ইভিএম: ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকার প্রকল্পে অনুমোদন
ইভিএম কেনার সিদ্ধান্ত সোমবার
তুরুপের তাস ‘ইভিএম’
সব আসনেই কিছু কেন্দ্রে ইভিএম চায় জেপি
ইভিএমে ভোট সর্বনিম্ন ৭০ আসনে, সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Upazila Chairmans letter demanding transfer of Bogra Sadar UNO

বগুড়া সদর ইউএনওর বদলি দাবিতে উপজেলা চেয়ারম্যানের চিঠি

বগুড়া সদর ইউএনওর বদলি দাবিতে উপজেলা চেয়ারম্যানের চিঠি বগুড়া সদরের ইউএনও সমর কুমার পাল। ছবি: সংগৃহীত
সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক বলেন, ‘ইউএনও সমর কুমার পাল স্বেচ্ছাচারী ও বদমেজাজি। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কাছে তার বদলির দাবি জানিয়েছি। তাকে বদলি না করা পর্যন্ত আমরা ইউএনওর সঙ্গে কোনো কাজ করছি না। আজও পূজা নিয়ে মিটিং ছিল ইউএনওর। আমরা কেউ যাইনি।’

বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনওর) সমর কুমার পালকে বদলি না করা পর্যন্ত তার সঙ্গে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান। একইসঙ্গে ইউএনওর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার এমন দাবি তুলে বগুড়া জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক। এতে তিনি ছাড়াও দু’জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করেছেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল যোগদানের পর থেকে পরিষদের সবার সঙ্গে স্বেচ্ছাচারমূলক আচরণ করে আসছেন। তিনি সময়মতো অফিস করেন না এবং সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে গভীর রাত পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে থাকতে বাধ্য করেন। বিভিন্ন দাপ্তরিক ফাইল আটকে রেখে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব বিষয় নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও অন্যরা একাধিকবার তার সঙ্গে পরামর্শ করলেও তিনি স্বভাব বদলাননি।

সম্প্রতি ইউএনওর বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদের প্রকৌশল দপ্তরের নৈশপ্রহরী আলমগীর হোসেনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদের মর্যাদা ও শৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, ‘ইউএনও সমর কুমার স্বেচ্ছাচারী ও বদমেজাজি। এসব অভিযোগে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কাছে তার বদলির দাবি জানিয়েছি। তাকে বদলি না করা পর্যন্ত আমরা ইউএনওর সঙ্গে কোনো কাজ করা থেকে বিরত রয়েছি।

‘পরিষদে নিজেদের যত কাজ আছে সেগুলো করা হবে। শুধু ইউএনওর সঙ্গে আমরা কোনো কাজ করব না। আজও (সোমবার) পূজা নিয়ে মিটিং ছিল ইউএনওর। আমরা কেউ যাইনি।’

তবে এসব অভিযোগকে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে উল্লেখ করেছেন সদর ইউএনও সমর কুমার পাল। তিনি বলেন, ‘সব কিছু মিলে মনে হচ্ছে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমি বগুড়া সদরে ৯ মাস হলো এসেছি। এই সময়ে সব কাজ আমি সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে করেছি। উপজেলা চেয়ারম্যানের অভিযোগ দেয়ার বিষয়টিও ওই ষড়যন্ত্রের অংশ।’

অভিযোগপত্রটি পাওয়ার বিষয় স্বীকার করেছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক। তিনি বলেন, ‘আজ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইউএনওর বিরুদ্ধে। বিভাগীয় কমিশনার বরাবর অভিযোগটি দেয়া হয়। আমরা সেটি রিসিভ করেছি।’

প্রসঙ্গত, ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নৈশপ্রহরী আলমগীর হোসেনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে সদর ইউএনও’র বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় বগুড়া জেলা প্রশাসন এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাহ্উদ্দিন আহমেদকে।

আরও পড়ুন:
নৈশপ্রহরীকে ইউএনওর মারপিটে তদন্ত কমিটি
নৈশপ্রহরীকে মারধরের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Withdrawal of corona restrictions on tourism

বিদেশি পর্যটকদের আসতে আর বাধা নেই

বিদেশি পর্যটকদের আসতে আর বাধা নেই বিদেশি পর্যটকদের ওপর আরোপিত করোনাভাইরাসের সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজ কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পর্যটনসংক্রান্ত সবকিছুর ওপর যে বিধিনিষেধ ছিল সেটা তুলে নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আজ থেকে বিদেশি পর্যটকদের প্রবেশ উন্মুক্ত হলো।’

করোনা মহামারির কারণে বিদেশি পর্যটকদের ওপর আরোপিত করোনাভাইরাসের সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি বলেছেন, এখন থেকে দেশের সব পর্যটনকেন্দ্র বিদেশিদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন ধরে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশে বিদেশিদের ভিসা দেয়া বন্ধ ছিল। সেই সঙ্গে অনেক দিন ধরে দেশের পর্যটন স্পটগুলোও বন্ধ ছিল। পরে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বিবেচনায় ৫০ শতাংশ খোলা রাখি আমরা। এতদিন সেভাবেই চলছিল। তবে আজ কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পর্যটনসংক্রান্ত সবকিছুর ওপর যে বিধিনিষেধ ছিল সেটা তুলে নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আজ থেকে বিদেশি পর্যটকদের প্রবেশ উন্মুক্ত হলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের পর্যটন বিকাশে একটি বিদেশি কোম্পানিকে দিয়ে একটা মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করছি। আশা করি এ বছরের ডিসেম্বরে সেটার কাজ শেষ হবে। তখন আমরা বিচ্ছিন্নভাবে কাজ না করে পরিকল্পনা অনুয়ায়ী কাজ করতে পারব।’

বিদেশি পর্যটকদের আসতে আর বাধা নেই
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। ছবি: নিউজবাংলা

মাহবুব আলী বলেন, ‘২০১৯ সালে এ দেশে তিন লাখের ওপর বিদেশি পর্যটক এসেছিল। পরে করোনার কারণে সেটা অনেক কমে যায়। তবে আমরা যদি মাস্টারপ্ল্যান অনুয়ায়ী কাজ করতে পারি, আগামীতে দেশে বিদেশি পর্যটক আরও বাড়বে।

‘তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে, বিদেশি পর্যটকরা আসে বিনোদনের জন্য। কিন্তু আমরা দেশে সামাজিক বিবেচনায় সবকিছু উন্মুক্ত করতে পারিনি। তাই আমাদের দেশে বিদেশি পর্যটকরা কম আসে। তবে এখানে যদি আমরা অবকাঠামো উন্নত করতে পারি, পরিবেশ উন্নত করতে পারি তাহলে এর পরও বিদেশি পর্যটকরা আসবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মোহাম্মাদ জাবের ও বাংলাদেশ পর্যটক করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আলী কদর।

সংবাদ সম্মেলন শেষে পর্যটন ভবনের সামনের সড়কে সাইকেল র‌্যালির আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন:
বিছনাকান্দি, জাফলংয়ে হাহাকার
দেশকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে তিন দিনের পর্যটন মেলা
পর্যটনের নানান দুয়ার খুলছে দক্ষিণে
পর্যটন সমৃদ্ধে নতুন উদ্যোগ
পর্যটক টানতে ভিসা সহজের কাজ চলছে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Employees should be moderate in using social media

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক করল প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক করল প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা’ উদ্ধৃত করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্ট, ছবি, অডিও-ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করার ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ একাউন্টে ক্ষতিকর কন্টেন্টের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন। এর জন্য তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা’ উদ্ধৃত করে এমন নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সব পরিচালক/প্রকল্প পরিচালক, সব উপ-পরিচালক/বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা/সুপারিনটেনডেন্ট, পিটিআই, সব উপজেলা/থানা শিক্ষা কর্মকর্তা/ইনস্ট্রাক্টর, ইউআরসিকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারীদের করণীয় নির্ধারণ করা এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বলা হয়েছে। এছাড়াও নির্দেশিকায় সামাজিক মাধ্যমে দাপ্তরিক ও ব্যক্ষিগত একাউন্ট তৈরি করা এবং এতে পরিহারযোগ্য বিষয়াদি উল্লেখ রয়েছে।

যেসব নির্দেশনা

চিঠিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। জাতীয় ঐক্য ও চেতনা পরিপন্থী তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন বা ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির পরিপন্থী কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনো ‘কন্টেন্ট’ বা ‘ফ্রেন্ড’ সিলেকশনে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন এবং অপ্রয়োজনীয় ট্যাগ, রেফারেন্স বা শেয়ার করা পরিহার করতে হবে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার বা নিজ অ্যাকাউন্টে ক্ষতিকারক কন্টেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন এবং সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সার্ভিস বা পেশাকে হেয়প্রতিপন্ন করে এমন কোনো পোস্ট দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। লিঙ্গ বৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।

জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো বিষয়ে লেখা, অডিও বা ভিডিও প্রকাশ বা শেয়ার করা যাবে না। ভিত্তিহীন, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে।

কোনো রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সংবলিত কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
China finally opened its mouth on the Myanmar issue

মিয়ানমার নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল চীন

মিয়ানমার নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল চীন সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার সেনাদের টহল। ফাইল ছবি: নিউজবাংলা
সীমান্তে মিয়ানমারের সামরিক তৎপরতা সম্পর্কে অবহিত করতে ঢাকায় কর্মরত আশিয়ান বহির্ভূত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ডেকেছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে তাতে অংশ নেননি চীনের রাষ্ট্রদূত লি জি মিং।

অবশেষে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলল মিয়ানমার সরকারের ঘনিষ্ঠ রাষ্ট্র চীন। ঢাকার দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জিমিং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে বলেছেন, ‘সীমান্তে যা হচ্ছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমি মনে করি এটি একটি আলোচনার বিষয়।’

সোমবার ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব খুরশীদ আলমের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া জানান চীনা দূত।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের আগে ডাকা কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে দেশটি অনুপস্থিতি থেকে এড়িয়ে দিয়েছিল।

সীমান্তে মিয়ানমারের সামরিক তৎপরতা সম্পর্কে অবহিত করতে ঢাকায় কর্মরত আশিয়ান বহির্ভূত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ডেকেছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে তাতে অংশ নেননি চীনের রাষ্ট্রদূত লি জি মিং। চীনের এই সাড়া না দেয়ার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়নি ঢাকা।

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সীমান্তে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি চলছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘চীনা রাষ্ট্রদূত সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন। আমি তাকে সীমান্ত পরিস্থিতি অবহিত করেছি। মিয়ানমার তাদের খুব কাছের বন্ধু। মিয়ানমারকে বোঝানোর জন্য তাকে বলেছি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পর্কেও তাকে বলা হয়েছে।’

গত এক মাসে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে মিয়ানমারের একাধিক গোলা এসে পড়েছে। এতে আহত হওয়ার ঘটনাও আছে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে চার দফা তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। তলবে দেশটি দাবি করছে, এই গোলা তাদের সেনাবাহিনী নিক্ষেপ করছে না, আরাকান রাজ্যকে স্বাধীন করতে লড়াই করা সশন্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গাদের সংগঠন আরসার গোলা এসব।

তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশে যেন এর প্রভাব না পড়ে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আলোচনার বিষয়ে লি জিমিং বলেন, ‘বন্ধুদের মধ্যে যে রকম কথা হয়, আমাদের মধ্যে সে রকম কথা হয়েছে। দ্রুত রো‌হিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সহযো‌গিতা নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে।’

মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ডাকা বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে ব্যাখ্যাও চেন চীনা দূত। তিনি বলেন, চীনা জাতীয় দিবসের প্রস্তুতি নিয়ে দূতাবাস ব্যাস্ত থাকায় তারা দুর্ভাগ্যজনকভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণ মেইল মিস করে। ফলে তারা ডাকে সাড়া দিতে পারেনি।

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জি মিংকে জানিয়েছে বাংলাদেশ। তারই পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত ঢাকাকে আশ্বস্ত করেছেন, বিষয়টি নিয়ে বেইজিং নেইপিডোর সঙ্গে আলোচনা করবে।

‘আমাদের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওইদিন তিনি মিটিংয়ে ছিলেন না। আমরা সবাইকে অবহিত করেছি। বেইজিং এ বিষয়ে নেইপিডোর সঙ্গে আলোচনা করবে, এটা বলেছে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে।’

প্রায় দেড়ঘণ্টার মতো ওই বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে খুরশীদ আলম বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে চায়না আগে থেকে ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থায় ছিল। এটা যেন ত্বরান্বিত হয় সে ব্যাপারে বলেছি। ত্রিপক্ষীয় ইস্যু আগে। আমাদের ইস্যু তো সাম্প্রতিক ইস্যু না। মূলত হলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যত দ্রুত শুরু করা যায়। আমরা তো এখনও শুরু করতে পারিনি। এ ব্যাপারে তারা যেহেতু আগে একটা ইনিশিয়েটিভ নিয়েছিল, সেই ইনিশিয়েটিভের ব্যাপারে আমরা অনুরোধ করেছি, বলেছি আপনারা ইনিশিয়েটিভ নেন।

‘এখানকার পরিস্থিতি ভালো না। যাতে প্রত্যাবাসনটা শুরু হয় এ ব্যাপারে তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে। তারা (চীন) রাখাইনে ঘরবাড়ি বানিয়েছে, যেন রোহিঙ্গাদের নিয়ে গেলে সেখানে থাকতে পারে। ওই জায়গার সেইফটি এন্ড সিকিউরিটির ওপর এটা নির্ভর করছে।’

সীমান্তে চলমান পরিস্থিতির মধ্যে প্রত্যাবাসন সম্ভব কিনা- প্রশ্নের জবাবে খুরশেদ আলম বলেন, ‘যে জায়গায় নিয়ে যাবে সেখানে কোনো যুদ্ধ হচ্ছে না।’

চীনের না থাকার কারণ জানা গেছে কিনা- জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘অবশ্যই কারণ ছিল। আমরাতো একটা বন্ধুপ্রতীম দেশের থেকে ওভাবে ব্যাখা চাইনি। ওনাদের সমস্যা ছিল।’

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে চীনের আশ্বাসে ঢাকা আশ্বস্ত হতে পারছে কিনা- এমন প্রশ্নও রাখা হয় ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিবকে উদ্দেশে। তিনি বলেন, ‘আমরা চীনের নিশ্চয়তায় বিশ্বাস করি কি না করি এতে কিছু আসে যায় না। কিন্তু চীন যেহেতু আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশ, আমরা মনে করি তার কাছে এটা বললে চীন যথাস্থানে পৌঁছে দেবে। যতটুকু সম্ভব তাদের লেভারেজ আছে।’

আরও পড়ুন:
মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভুল করে গোলা ছুড়েছে মিয়ানমার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মিয়ানমারের সীমানা লঙ্ঘন: কোন পথে যাবে বাংলাদেশ?
চীনের সাড়া না পাওয়াকে স্বাভাবিক ভাবছে না ঢাকা
এবার কক্সবাজারের পালংখালী সীমান্তে গোলার শব্দ

মন্তব্য

p
উপরে