× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Whatever the BNP says the vote will come in the election in EVM Quader
hear-news
player
print-icon

বিএনপি যাই বলুক নির্বাচনে আসবে, ভোট ইভিএমে হোক: কাদের

বিএনপি-যাই-বলুক-নির্বাচনে-আসবে-ভোট-ইভিএমে-হোক-কাদের
‘তারা (বিএনপি) অনেক কথাই বলে, শেষ পর্যন্ত আসল কথায় চলে আসে। আমি একটা কথা বলি, নির্বাচন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এটা বিএনপির অধিকার। সরকারের সুযোগ বিতরণ না। এটা একটা সুযোগ নয় যে, সরকার বিতরণ করবে। এটা হচ্ছে বিএনপির অধিকার। দল হিসেবে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে নির্বাচনে তারা আসবে, আমরা এটাই বিশ্বাস করি।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে চান বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বিশ্বাস করেন, বিএনপি এখন না করলেও শেষ পর্যন্ত ভোটে আসবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও আগামী নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিএনপি আবার নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ফিরে গেছে এবং বলছে, বর্তমান সরকারের অধীনে ভোট হলে তারা সেই নির্বাচনে অংশ নেবে না।

ওবায়দুল কাদের অবশ্য মনে করেন বিএনপি এই অবস্থানে থাকবে না। তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) অনেক কথাই বলে, শেষ পর্যন্ত আসল কথায় চলে আসে। আমি একটা কথা বলি, নির্বাচন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এটা বিএনপির অধিকার। সরকারের সুযোগ বিতরণ না। এটা একটা সুযোগ নয় যে, সরকার বিতরণ করবে। এটা হচ্ছে বিএনপির অধিকার। দল হিসেবে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে নির্বাচনে তারা আসবে, আমরা এটাই বিশ্বাস করি।’

বিএনপির মতো একটা বড় দল বাইরে থাকবে এটা চান না বলেও জানিয়ে রাখলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

তিনি বলেন, ‘আমরা পদ্মা সেতুতেও (বিএনপিকে) দাওয়াত দিয়েছি। দেখেন আমাদের একটা পজেটিভ এটিচিউড আছে। সে কারণে আমরা তাই করি। তারা (বিএনপি) নিজেরাই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবে। হয়তো শেষ বেলায়। ঘোলা করে খাবে আরকি।’

ভোট বর্জনের আগাম ঘোষণা নিয়ে কাদের বলেন, ‘আমি অবাক হয়ে শুনি ফখরুল সাহেব বলেন এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব না। ইলেকশন তো এই সরকারের অধীনে হবে না। ইলেকশন হবে ইলেকশন কমিশনের অধীনে। সরকার একটা কর্তৃত্বপূর্ণ স্বাধীন ভূমিকা ফর ক্রেডিবল, ফেয়ার অ্যান্ড ফ্রি ইলেকশন। যে যে সহযোগিতা, ফ্যাসিলিটিজ দরকার, সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস আমরা আগেও দিয়েছি, এখনো আমরা নির্বাচন কমিশনকে আশ্বাস দিয়েছি। আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব।’

নির্বাচনকালীন সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে হয়, বাংলাদেশেও শেখ হাসিনার সরকার সেটাই অনুসরণ করবে।’

বিতর্কিত কাউকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ না দেয়া, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের রিটার্নিং অফিসার থেকে পোলিং অফিসার নিয়োগসহ একগুচ্ছ দাবির কথাও বলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

৩০০ আসনেও ইভিএমে আপত্তি নেই

নির্বাচন কমিশনের এই সংলাপের উদ্দেশ্য হচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোট গ্রহণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার নিয়ে দলগুলোর মনোভাব জানা।

আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই ইভিএমের পক্ষে বলে আসছে, ওবায়দুল কাদের যেই অবস্থানের কথা আবার তুলে ধরলেন।

তিনি বলেন, ‘ইভিএমের ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত পরিস্কার এবং স্পষ্ট। মন থেকে চাই, চেতনা থেকে চাই। ৩০০ আসনে ইভিএম হলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা সাপোর্ট করি।’

‘আজকে যে রাজনৈতিক দলগুলো এখানে আসছে, আমার মনে হয় অধিকাংশই ইভিএমের পক্ষে বলেছে। ইভিএম নিয়ে বিরুদ্ধেও বলেছেন দুয়েকজন। এটা তো গণতন্ত্র। বিউটি অব ডেমোক্রেসি। বিরুদ্ধে তো বলবেই। ভিন্নমত থাকতেই পারে। সেটা তো কোনো অসুবিধা নেই।’

৩০০ আসনে নির্বাচন করতে কি ইসি সক্ষম?- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দ্যাট ইজ দ্যা ডিসিশন অব ইলেকশন কমিশন। এটা তাদের এখতিয়ার।’

ভোটারদের মধ্যে ইভিএমের জনপ্রিয়তা আছে বলেও মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, ‘আমরা যখন দেখেছি একটা ইউনিয়নের ইলেকশনে রাজশাহীর একটা ইউনিয়ন একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের, সেখানে দিনের আলোও ঠিক মতো যায় না। ঠিক এই রকম একটা জায়গাতেও তো ইভিএমে ইলেকশন হয়েছে। অংশগ্রহণ ছিল বিশ্বাসযোগ্য না এ রকম। প্রচুর উপস্থিতি এবং মহিলারা পর্যন্ত লম্বা লাইন দিয়ে ভোট দিয়েছে। কাজেই ইভিএম অজনপ্রিয় এ কথা বলার আর এখন কোনো প্রয়োজন নেই।’

সংলাপে ১৪ টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রন জানানো হলেও চারটি আসেনি। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, এলডিপি, বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টি এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ আলোচনায় আসেনি।

আওয়ামী লীগ ছাড়াও অংশ নেয় তরিকত ফেডারেশন, সাম্যবাদী দল-এমএল, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্প ধারা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, বাংলাদেশ ন্যাপ, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ও গণফোরাম।

তিন দফার বৈঠকে ৩৯ নিবন্ধিত দলকে আমন্ত্রণ জানায় নির্বাচন কমিশন। এদের মধ্যে ২৮ টি উপস্থিত হয় সংলাপে।

আরও পড়ুন:
জনদুর্ভোগ নিয়ে রাজনীতি করছে বিএনপি: কাদের
কেউ আগুন নিয়ে খেলছে: কাদের
সাজাপ্রাপ্ত আসামি কীভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন: কাদের
হুমকি দিলে বসে তামাক খাব না, ফখরুলকে কাদেরের সতর্কতা
ক্ষমতা দেয়ার মালিক মহান আল্লাহপাক: ওবায়দুল কাদের

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The thought of importing eggs to control prices

দাম নিয়ন্ত্রণে ডিম আমদানির চিন্তা

দাম নিয়ন্ত্রণে ডিম আমদানির চিন্তা এক মাসে ডিমের দাম এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে গেছে। ফাইল ছবি
ডিম আমদানি করতে তো একটু সময় লাগবে। আমরা দেখি, যদি এমনটাই হয় যে সত্যি ডিম আমদানি করলে এটা কমবে, তাহলে আমরা ডিম আমদানির প্রক্রিয়ায় যাব: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রায় প্রতিদিনই বেড়ে যাওয়া দাম নিয়ন্ত্রণে এবার ডিম আমদানির চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। পাশাপাশি দেশে কেন এভাবে হুট করে পণ্যটির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে, সেটিও মূল্যায়ন করা হবে।

এক মাস ধরে ডিমের দাম এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে যাওয়ার পর তীব্র জন-অসন্তোষ ও অস্বস্তির মধ্যে বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। এক কোটি পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রির কার্যক্রম নিয়ে জানাতে তিনি আসেন গণমাধ্যমের সামনে।

ডিম নিয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী মনে করেন, সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফা করছে। তিনি বলেন, ‘সুযোগ যখন নেয় সবাই একবারে লাভ দিয়ে করে নেয়।’

রাতারাতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষি, মৎস্যসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় মিলে ডিমের ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করব দাম কীভাবে কমানো যায়।’

আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিম আমদানি করতে তো একটু সময় লাগবে। আমরা দেখি, যদি এমনটাই হয় যে সত্যি ডিম আমদানি করলে এটা কমবে, তাহলে আমরা ডিম আমদানির প্রক্রিয়ায় যাব।’

সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাবে ফার্মের মুরগির ডিমের হালি এখন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও যা ছিল ৪৩ থেকে ৪৭ টাকা। এক মাস আগে ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা হালি। আর এক বছর আগে ছিল ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা।

অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২০ শতাংশের মতো, এক মাসে বেড়েছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আর এক বছরে বেড়েছে ৫৪ শতাংশের বেশি।

ডিমের এই দাম বৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আজই বৈঠকে বসার কথাও জানান টিপু মুনশি। বলেন, ‘সেখানে আলোচনা হবে কেন ডিমের দাম এমন হলো। তৃণমূলে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, আমরা সেগুলো দেখছি। বিভিন্ন সময় এমন অসুবিধা হয়েছে, সেগুলো আমরা অ্যাড্রেস করেছি। দু-চার বা পাঁচ দিন সময় অবশ্য লেগেছে।’

ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে কি?

বিশ্ববাজারে দাম কমলেও ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটি নিয়েও বাণিজ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সেই সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও। আলোচনা চলছে। বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমেছে, আবার ডলারের দাম বেড়েছে। এ দুটিকে বিবেচনায় নিয়ে একটি দাম নির্ধারণ করতে হবে।

‘আমরা সেই চেষ্টাই করছি। খুব শিগগিরই তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে। আমরা বসে আছি যদি ডলারের দামটা একটু কমে। আমাদেরও ওদের সঙ্গে নেগোশিয়েট করার একটু সুযোগ হবে।’

ভর্তুকি মূল্যের পণ্য বিতরণে অনিয়ম প্রসঙ্গ

ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিতরণে এক কোটি মানুষ বাছাইয়ে অনিয়ম হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘শহরগুলো থেকে ৭০ লাখ লোক ঠিক করা হয়েছে। রমজানের মাসে ঈদকে সামনে রেখে সময় কম থাকায় তখন একটু তাড়াহুড়া ছিল। স্থানীয় কমিটি এ তালিকা করেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় করেনি।

‘টিআইবি যে রিপোর্ট করে, সেটা প্রথম দিককার রিপোর্ট, মার্চ ও এপ্রিলের দিকে তারা চেক করেছে। তারা এক কোটি কার্ডধারীর মধ্যে এক হাজার ৪৭ জনকে নিয়েছেন। যেটার পার্সেন্টেজ পয়েন্ট দশমিক ০০০১৪ শতাংশ। এর মধ্যে বাদ দেয়া সাড়ে ৮ লাখ মানুষও তো আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অ্যাপ্রিসিয়েট করি, যেকোনো রিপোর্ট যেকোনো তদন্ত- সেটা আমাদের চোখ-কান খুলে দেয়। কিন্তু সেটি যদি যৌক্তিক হয় বা সেটা যথার্থ হয়, তাহলে আমাদের পক্ষে কাজ করতে সুবিধা হয়। তা না হলে মানুষের মধ্যে কনফিউশন সৃষ্টি করে। তারপরও আমরা কাউকে আন্ডারমাইন্ড করতে চাই না। আমাদের দায়িত্ব যে, সত্যিটা কী, কী ঘটনা ঘটেছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বলা হয়েছে নাম ঢোকার ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। আমি একেবারে অস্বীকার করতে চাই না যে হয়নি। কিন্তু রিয়েলিটিটা কী, আমাদের দেশটা কোথায়? পশ্চিমা বিশ্বের মতো না যে, একটা চাপ দিয়ে বিস্তারিত পাওয়া যাবে। আমাদের নির্ভর করতে হয়েছে কমিটির ওপর। হতে পারে ৫ শতাংশ মানুষ নজর ফাঁকি দিয়ে ঢুকে গেছে। কিন্তু আমরা ৯৫ শতাংশ মানুষের কাছে তো পৌঁছে গেলাম। আমরা পর্যায়ক্রমে কিন্তু সেগুলোও দেখছি।

‘আমরা আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে চাই। এ চলার পথে যদি কোথাও কোনো কারেকশন দরকার হয়, কোথাও কোনো অনিয়ম থাকে, সেটাও আমরা অ্যাড্রেস করব।

‘এক কোটি কার্ডের মধ্যে ৮০ শতাংশ কার্ড করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরে এখনও কার্ড দেয়া হয়নি। আশা করি এক মাসের মধ্যে শতভাগ হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
বাজারে কম ডিমের দাম, হোটেলে বেশি
জনগণকে গাছের পাতা খাওয়ার পরামর্শ মিসরের প্রেসিডেন্টের
ডিমের বাজারও চড়া
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ মুরগির মাংস-ডিমে ‘সাফল্য’
বিশ্বজুড়ে ডিমের দাম বাড়ল কেন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Respect the left brothers Information Minister

বাম ভাইদের সম্মান করি: তথ্যমন্ত্রী

বাম ভাইদের সম্মান করি: তথ্যমন্ত্রী বাম জোটের কর্মসূচির ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী। ফাইল ছবি
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাম ভাইদের আমি বিনীত অনুরোধ করব, তাদের কর্মকাণ্ডে যেন স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গিগোষ্ঠী ও দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপিসহ অন্যরা লাভবান না হয়। তাদের হাতে যেন দেশটা চলে না যায়, সেভাবেই তারা (বামপন্থিরা) তাদের কর্মকাণ্ড করবেন- এটাই আমার অনুরোধ।’

গণতান্ত্রিক বাম জোটের হরতাল কর্মসূচির লাভ যেন বিএনপি নিজের ঘরে না তুলতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বাম নেতাদের অনুরোধ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বুধবার তিনি এ অনুরোধ করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাম ভাইয়েরা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি, এ জন্য আমি তাদের সম্মান করি। বাম ভাইরা হরতাল ডেকেছেন, যে কেউ প্রতিবাদ করতে পারেন। গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে যে কেউ প্রতিবাদ করতে পারেন।

‘কিন্তু বাম ভাইদের আমি বিনীত অনুরোধ করব, তাদের কর্মকাণ্ডে যেন স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গিগোষ্ঠী ও দেশবিরোধী অপশক্তি বিএনপিসহ অন্যরা লাভবান না হয়। তাদের হাতে যেন দেশটা চলে না যায়, সেভাবেই তারা (বামপন্থিরা) তাদের কর্মকাণ্ড করবেন- এটাই আমার অনুরোধ।’

জ্বালানি তেলের দাম কমানোসহ কয়েকটি দাবিতে আগামী ২৫ আগস্ট দেশজুড়ে অর্ধদিবস হরতাল ডেকেছে গণতান্ত্রিক বাম জোট। শাহবাগে গত মঙ্গলবার এক সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, ‘বিএনপি যেসব গুমের কথা বলে, কিছুদিন পরে দেখা যায় তাদের খুঁজে পাওয়া যায়। বিএনপি যে গুমের তথ্য প্রকাশ করে, তা যে সঠিক নয় এতে সেটিই প্রমাণিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য যারা অগ্নিসন্ত্রাস করেছে, অগ্নিবোমা মানুষের ওপর নিক্ষেপ করেছে, তাদের মদদ দিয়েছে, সেই বিএনপি নেতাদের দ্রুত বিচার হওয়া প্রয়োজন। দ্রুত বিচার না হলে ন্যায় প্রতিষ্ঠা হবে না, এটাই আজকের দাবি হওয়া উচিত।’

১৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জন্মদিন থেকে তো সরে আসেনি বিএনপি। ১৫ আগস্ট জন্মদিন ঠিক রেখেছে। এটা ঠিক রেখে পরের দিন মিলাদ বা অন্য কর্মসূচি তারা পালন করছে।’

দ্রব্যমূল্যের কারসাজি বন্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ। তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি হয়েছে, শুধু যে বাংলাদেশে হয়েছে তা নয়। তেলের দাম সমন্বয়ের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের মুনাফা বাড়াতে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

‘এবং পরিবহন খরচও তারা বাড়িয়ে দিয়েছে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের সরকার মনিটর করছে। আমি আশা করব, ব্যবসায়ী নেতারাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবেন।’

আরও পড়ুন:
কোনো দেশের পক্ষে এভাবে ভর্তুকি দেয়া সম্ভব না: তথ্যমন্ত্রী
‘সেপ্টেম্বরে মাঠে নামছে আ.লীগ, পালানোর পথ পাবে না বিএনপি’
ক্ষমতার মালিক আল্লাহ, উৎস জনগণ: বিএনপিকে কাদের
দেশে রাজনীতির পরিবেশ নেই: জি এম কাদের
ভোলায় প্রাণহানির দায় বিএনপির: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In the event that there is no additional fare chart on the bus
বাস ভাড়ায় নৈরাজ্য-১২

বাসে বাড়তি ভাড়া চার্ট না থাকার সুযোগে

বাসে বাড়তি ভাড়া চার্ট না থাকার সুযোগে কয়েকটি বাসে দেখা গেছে জানালার দুটি গ্লাসের মধ্যে যে গ্লাসটি বাইরের অংশে থাকে সেই গ্লাসে ভাড়ার তালিকা টানাচ্ছে। ফলে জানালা খুলে রাখার কারণে বাইরের গ্লাসে টানানো ভাড়ার তালিকা ভেতরের গ্লাস দিয়ে ঢেকে যাচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
কেন যাত্রীদের চোখের আড়ালে ভাড়ার তালিকা লাগানো হয়েছে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থেকে চিটাগাং রোডগামী সুগন্ধা পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৯১৬৮ বাসের চালক মো. ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাড়ার চার্ট আমরা না মালিকে লাগিয়েছে এভাবে। কথা সত্য, জানালা খোলা রাখলে ভাড়ার তালিকা দেখা যায় না। তবে জানালা বন্ধ করলে তো দেখা যায়।’

বাসভাড়া নির্ধারণের পর কোনো এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ভাড়া কত, সেটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ নির্ধারণ করে দিলেও কার্যত সে তথ্য পাচ্ছে না যাত্রীরা। অথচ এই বিষয়টিই বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে একটি হাতিয়ার হতে পারত।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ৭ আগস্ট বিআরটিএ থেকে নতুন ভাড়ার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনের পরে ৯ দিন চলে গেলেও রাজধানীতে বেশির ভাগ বাসে এখনও ভাড়ার তালিকা টানানো হয়নি।

এবার চাপে পড়ে বাস মালিক সমিতি বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রধান কৌশল ওয়েবিল পদ্ধতি বাতিল করে দূরত্ব অনুসারে ভাড়া আদায়ের ঘোষণা অবশ্য দিয়েছেন। তবে কোনো একটি গন্তব্য থেকে অন্য একটি গন্তব্য পর্যন্ত যে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হতো, সেটিই আদায় করা হচ্ছে। এর কারণ এই পথের দূরত্ব কত, সেটি না জানা।

দূরত্বের বিষয়টি জানা যেত ভাড়ার চার্ট সাঁটানো থাকলে। কিন্তু পরিবহন শ্রমিকরা বাসে সেই চার্ট সাঁটান না, আর সাঁটালেও দুই চার দিন পর তা ছিঁড়ে ফেলেন অথবা এমন জায়গায় থাকে, যেখানে যাত্রীর চোখ যায় না।

কয়েকটি বাসে দেখা গেছে, জানালার দুটি গ্লাসের মধ্যে যে গ্লাসটি বাইরের অংশে থাকে, সেই গ্লাসে ভাড়ার তালিকা টানাচ্ছে। ফলে জানালা খুলে রাখার কারণে বাইরের গ্লাসে টানানো ভাড়ার তালিকা ভেতরের গ্লাস দিয়ে ঢেকে যাচ্ছে, যা যাত্রীদের চোখের আড়ালে থেকে যাচ্ছে।

বাসে বাড়তি ভাড়া চার্ট না থাকার সুযোগে

কেন যাত্রীদের চোখের আড়ালে ভাড়ার তালিকা লাগানো হয়েছে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থেকে চিটাগাং রোডগামী সুগন্ধা পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৯১৬৮ বাসের চালক মো. ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাড়ার চার্ট আমরা না মালিকে লাগিয়েছে এভাবে। কথা সত্য, জানালা খোলা রাখলে ভাড়ার তালিকা দেখা যায় না। তবে জানালা বন্ধ করলে তো দেখা যায়।’

কেউ তো আর জানালা বন্ধ করে রাখে না। জানালার ওপরের গ্লাসে কেন ভাড়ার তালিকা লাগানো হয় নাই- উত্তরে তিনি একই কথা বলেন। ফারুক বলেন, ‘এটা মালিক এভাবে টানিয়েছে।’

অনেক বাসে আবার চালকের সামনে ভাড়ার তালিকা টানানো। যেটা দূর থেকে দেখে যাত্রীরা কিছুই বুঝবে না।

ভাড়ার চার্ট টানানোর শর্ত হিসেবে বিআরটিএ থেকে বলা হয়েছে, যাত্রীদের থেকে এমন দূরত্বে ভাড়ার তালিকা লাগাতে হবে যাতে তারা সহজেই দেখে ভাড়া দিতে পারেন।

চালকের মাথার ওপর চার্ট থাকার বিষয়ে বাইপাইল থেকে সাইনবোর্ড এম এম লাভলী পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-৯৬৫১ বাসের ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা মো. রনি বলেন, ‘ভাড়ার চার্ট আজকে দিছে। তাই সামনে একটা টানাইছি।’

বাসে বাড়তি ভাড়া চার্ট না থাকার সুযোগে

এই পরিবহনের বেশ কয়েকটি বাসে একই চিত্র দেখা যায়।

মোহাম্মদপুর থেকে গুলিস্তানগামী মিডলাইন পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১৩-০৫৪০ বাসের চালক শুকুর আলী বলেন, ‘একটা চার্ট টানাইছি।’

যাত্রীদের সুবিধাজনক স্থানে বেশ কয়েকটি ভাড়ার তালিকা টানানোর কথা। সামনের ভাড়ার তালিকা তো দেখা যায় না- উত্তরে শুকুর আলী বলেন, ‘আপনি বলেছেন, আজকেই চার্ট টানাব।’

বাসে যাত্রীদের সুবিধাজনক স্থানে ভাড়ার তালিকা টানানো হয়নি কেন- জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থেকে ধুপখোলাগামী মালঞ্চ পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৯৭৬২ বাসের চালক আল-আমিন বলেন, ‘আমাদের একটা চার্ট দিছে। সেটা সামনে টানিয়ে রাখছি।’

আপনি ভাড়ার তালিকা পাঁচটা ফটোকপি করে বাসে টানাতেন- উত্তরে আল-আমিন বলেন, ‘আমাদের তো মালিকপক্ষ থেকে কিছু বলে নাই। এই একটাই টানাতে বলছে। আমাদের বললে আমরা জানালায়, দরজার সামনে টানাতাম। ভাড়ার চার্ট একটা দিছে, একটাই টানাইছি।’

বাসে বাড়তি ভাড়া চার্ট না থাকার সুযোগে

একই পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৯৫২৭ বাসের চালক মো. মাহাবুব বলেন, ‘চার্ট এখনও কোম্পানি দেয় নাই।’

আপনাদের অন্য বাসে তো ভাড়ার তালিকা দিয়েছে?– জবাবে মাহাবুব বলেন, ‘আমারে এখনও দেয় নাই। আমরা চাইছি, বলছে আজকে দিবে।’

মোহাম্মদপুর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারগামী স্বাধীন পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৯৯৬০ বাসেও দেখা যায়নি চার্ট। কারণ জানতে চাইলে এর চালক মো. বিল্লাল বলেন, ‘ভাড়ার চার্ট আমাদের এখনো দেয় নাই।’

বাসে ভাড়ার তালিকা দেয়া হয়েছে আগেই। আপনাকে না দেয়ার কারণ থাকতে পারে না- এমন মন্তব্যের জবাবে বিল্লাল বলেন, ‘ছুটিতে ছিলাম। গতকাল থেকে বাস চালাচ্ছি। এগুলা কিছু জানি না।’

মোহাম্মদপুর থেকে বনশ্রীগামী তরঙ্গ প্লাস পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-১১৬৮ বাসের চালক তানভীর হাসান বলেন, ‘চার্টের বিষয়ে মালিক জানে। মালিক বলছে, কালকে থেকে আমাদের চার্ট দিবে।’

অনেকে আবার বলছেন, ভাড়ার তালিকা নাই। তারা ওয়েবিলে ভাড়া কাটছেন।

মিরপুর দুয়ারীপাড়া থেকে সদরঘাটগামী বিহঙ্গ পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব ১৩-০৭৫০ বাসের ভাড়া কাটার দায়িত্বে থাকা মো. তুহিন বলেন, ‘চার্ট নাই। ওয়েবিলে ভাড়া লেখা আছে।’

ওয়েবিল তো থাকার কথা না, ভাড়া কাটার কথা কিলোমিটার হিসেবে- সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এই প্রশ্ন করতেই তুহিন বলেন, ‘চার্ট ছিল। গাম নাই, তাই উঠে গেছে। আরও দুই সপ্তাহ আগে ভাড়ার চার্ট লাগানো ছিল।’

দুই সপ্তাহ আগে তো পুরাতন ভাড়ার তালিকা ছিল- উত্তরে তুহিন বলেন, ‘চার্ট সামনের সপ্তাহে দিছিল। উঠে গেছে।’

ডিজিটাল ব্যানার ও ই-টিকিটিংয়ের দাবি

যাত্রী অধিকার নিয়ে সোচ্চার সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘প্রত্যেক বাসস্টান্ডে ডিজিটাল ব্যানারে বড় হরফে দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়ার অঙ্কের তালিকা টানানোর দাবি জানাচ্ছি। যাত্রী, চালক ও ভাড়া কাটার দায়িত্বে যিনি থাকেন, তারা যাতে সবাই ভাড়া দেখতে পারে এই দাবি জানাই।’

ই-টিকিটিং পদ্ধতিতে ভাড়া কাটার ব্যবস্থা করলে যাত্রীরা সঠিকভাবে ভাড়া দিতে পারবেন বলেও মনে করেন তিনি। বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে ভাড়া নিলে যাত্রী গোনার কথা বলে মালিকরা যে ওয়েবিল চালু রেখে ভাড়া বেশি নিচ্ছে এই ওয়েবিল লাগবে না।’

ভাড়ার চার্ট নিশ্চিত করার ব্যর্থতা নিয়ে জানতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদারসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ফোন দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ফোনে কয়েকবার কল দিলে তিনি তা না ধরে ফোন কেটে দেন।

আরও পড়ুন:
তেলের দাম সমান হলেও কলকাতায় বাস ভাড়া ঢাকার চেয়ে কম
যাত্রী ঠকছে বিআরটিসির বাসেও
সর্বনিম্ন ভাড়া ১০, তবে প্রজাপতি ও পরিস্থানে ২৫
ওয়েবিল থাকবে না ঘোষণা দিয়ে কয়েক মাস সময় দাবি
ভাড়ার প্রতারণায় হাতিরঝিলে রাজউকের বাসও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Awami League is coming to show its strength on the streets

রাজপথে শক্তি দেখাতে নামছে আওয়ামী লীগও

রাজপথে শক্তি দেখাতে নামছে আওয়ামী লীগও ছয় দফা দিবসে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় আওয়ামী লীগ। ফাইল ছবি
জোট সরকারের আমলে সারা দেশে একযোগে বোমা হামলার স্মরণে বুধবার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই কর্মসূচি দৃশ্যত রাজপথে সংগঠনকে সক্রিয় করার পদক্ষেপ। লোডশেডিং, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা ইস্যুতে বিএনপি ও সমমনারা যখন একের পর এক বিক্ষোভ-সমাবেশ করছে, সে সময় নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে রাজপথে নামার তাগিদ দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের লোডশেডিংসহ নানা ইস্যুতে সরকারবিরোধীদের রাজপথে একের পর এক কর্মসূচির মধ্যে এবার মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

আগস্টে শোকের কর্মসূচি ছাড়া রাজনৈতিক কর্মসূচি সচরাচর পালন না করলেও একই দিনে দেশের সব মহানগর, জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়নে জমায়েত করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল। ‍উপলক্ষ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে একযোগে বোমা হামলার প্রতিবাদ।

বুধবার সারা দেশে এই বিক্ষোভে নেতা-কর্মীদের সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রাজপথে শক্তি দেখাতে নামছে আওয়ামী লীগও

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ফাইল ছবি

কেন্দ্রীয়ভাবে বিকেল ৪টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল বের করবে দলটি। মৎস্য ভবন-কদম ফোয়ারা-প্রেস ক্লাব ও জিরোপয়েন্ট হয়ে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হবে সেটি।

এতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এবং সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেবেন।

আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচি দৃশ্যত রাজপথে সংগঠনকে সক্রিয় করার পদক্ষেপ।

লোডশেডিং, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা ইস্যুতে বিএনপি ও সমমনারা যখন একের পর এক বিক্ষোভ-সমাবেশ করছে, সে সময় নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে রাজপথে নামার তাগিদ দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

গত ১১ আগস্ট এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের এই কর্মসূচি নিয়ে বলেন, ‘এভাবে চলতে পারে না। আমরা রাজপথ থেকে ক্ষমতায় এসেছি। তারা যেভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে আমরা রাজপথ ভুলে গেছি। আমরাও আছি, অচিরেই রাজপথে দেখতে পাবেন।’

বিকেল ৩টা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগ দিতে নেতা-কর্মীদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিক্ষোভ কর্মসূচিতে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরও অংশ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।’

দলের একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, এই বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যত মাঠে শক্তি প্রদর্শনের জন্য নামছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা গরম বক্তব্য দিচ্ছেন, হুমকি-ধমকিও দিচ্ছেন। একাধিক কর্মসূচি নিয়ে রাজপথেও নেমেছে। পাশপাশি অন্যান্য বিরোধী দলগুলোও রাজপথে সরকারবিরোধী কর্মসূচি পালন করছে। আওয়ামী লীগ এসবের জবাব দিতে চায়।’

কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নিউজ বাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছর আওয়ামী লীগ এ কর্মসূচি পালন করে থাকে। তবে এবার এ কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন করার জন্য সাংগঠনিক ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রাজপথে শক্তি দেখাতে নামছে আওয়ামী লীগও

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে ২০২০ সালের ৫ ডিসেম্বর রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের মশাল মিছিল। ফাইল ছবি

‘দল থেকে দেশব্যাপী জেলা, মহানগর, উপজেলা পর্যায়ে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শোকের মাসে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে না। কিন্তু অনেকের হুমকি-ধমকি অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। তাই আমরা আগস্ট শেষে রাজপথে নামব। আর আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচি গুরুত্ব দিয়ে পালনের জন্য নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
শোক মিছিলে মহিলা আওয়ামী লীগের মারামারি 
আ.লীগের চেয়ে বড় আন্দোলনকারী আর নেই: শাজাহান খান
আ.লীগ, বিএনপির বিকল্প হওয়ার চেষ্টা করছি: মান্না
বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করলে জিভ কেটে নেব: নাছিম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Today is the 17th anniversary of the nationwide series of bombings

দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৭ বছর আজ

দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৭ বছর আজ সাতক্ষীরার পাঁচ স্থানে সিরিজ বোমা হামলা মামলার ১৬ বছর পর ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৯ আসামির মধ্যে ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ফাইল ছবি
পুলিশ জানায়, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারা দেশে ১৫৯টি মামলার মধ্যে ৯৪টির বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এসব মামলায় ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। এখন ৫৫টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে আসামির সংখ্যা হচ্ছে ৩৮৬ জন।

দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৭তম বছর আজ। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামের জঙ্গি সংগঠন পরিকল্পিতভাবে দেশের ৬৩ জেলায় একই সময়ে বোমা হামলা চালায়।

মুন্সীগঞ্জ ছাড়া সব জেলায় প্রায় পাঁচ শ পয়েন্টে বোমা হামলায় দুজন নিহত ও অন্তত ১০৪ জন আহত হন।

পুলিশ সদর দপ্তর ও র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই সারা দেশে ১৫৯টি মামলা করা হয়।

এর মধ্যে ডিএমপিতে ১৮টি, সিএমপিতে ৮টি, আরএমপিতে ৪টি, কেএমপিতে ৩টি, বিএমপিতে ১২টি, এসএমপিতে ১০টি, ঢাকা রেঞ্জে ২৩টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ১১টি, রাজশাহী রেঞ্জে ৭টি, খুলনা রেঞ্জে ২৩টি, বরিশাল রেঞ্জে ৭টি, সিলেট রেঞ্জে ১৬টি, রংপুর রেঞ্জে ৮টি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৬টি ও রেলওয়ে রেঞ্জে ৩টি।

সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

এসব মামলার মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয় ১৪২টি মামলায়। বাকি ১৭টি মামলায় ঘটনার সত্যতা থাকলেও আসামি শনাক্ত করতে না পারায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়নি।

এসব মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন ১৩০ জন। গ্রেপ্তার করা হয় ৯৬১ জনকে। ১ হাজার ৭২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

পুলিশ জানায়, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারা দেশে ১৫৯টি মামলার মধ্যে ৯৪টির বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এসব মামলায় ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। এখন ৫৫টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে আসামির সংখ্যা হচ্ছে ৩৮৬ জন।

এই সিরিজ বোমা হামলার রায় দেয়া মামলাগুলোর ৩৪৯ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ২৭ জনের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেয়া হয়। এর মধ্যে ৮ জনের ফাঁসি ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

এসব মামলায় খালাস পেয়েছে ৩৫৮ জন, আর জামিনে রয়েছে ১৩৩ জন আসামি। এ ছাড়া ঢাকায় বিচারাধীন ৫টি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণের শেষপর্যায়ে রয়েছে।

ঝালকাঠি জেলার দুই বিচারককে হত্যার জন্য ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ ছয় জঙ্গি নেতা শায়খ আবদুর রহমান, তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি, চিন্তাবিদ আব্দুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনকে ফাঁসি দেয়া হয়।

বিএনপি জামায়াতের শাসন আমলে (২০০১ থেকে ২০০৬) সরকারি এমপি-মন্ত্রীদের সরাসরি মদদে সারা দেশে শক্ত অবস্থান তৈরি করে জঙ্গিরা।

২০০৫ সালের পরবর্তী সময়ে কয়েকটি ধারাবাহিক বোমা হামলায় বিচারক ও আইনজীবীসহ ৩০ জন নিহত হন। আহত হন ৪ শতাধিক।

ওই বছরের ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের আদালতে জঙ্গিরা বোমা হামলা চালায়। এতে তিনজন নিহত এবং বিচারকসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন।

এর কয়েক দিন পর সিলেটে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিপ্লব গোস্বামীর ওপর বোমা হামলার ঘটনায় তিনি এবং তার গাড়িচালক আহত হন।

১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বিচারক বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায় আত্মঘাতী জঙ্গিরা। এতে নিহত হন ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের বিচারক জগন্নাথ পাড়ে এবং সোহেল আহম্মদ। এই হামলায় আহত হন অনেক মানুষ।

সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে ২৯ নভেম্বর গাজীপুর বার সমিতির লাইব্রেরি এবং চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে। গাজীপুর বার লাইব্রেরিতে আইনজীবীর পোশাকে প্রবেশ করে আত্মঘাতী এক জঙ্গি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এই হামলায় আইনজীবীসহ ১০ জন নিহত হন। আত্মঘাতী হামলাকারী জঙ্গিও নিহত হয় ।

একই দিন চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে জেএমবির আত্মঘাতী জঙ্গিরা বিস্ফোরণ ঘটায়। সেখানে রাজিব বড়ুয়া নামের এক পুলিশ কনস্টেবল এবং একজন পথচারী নিহত হন। পুলিশসহ প্রায় অর্ধশত আহত হন ।

১ ডিসেম্বর গাজীপুর ডিসি অফিসের গেটে আবারও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে নিহত হন গাজীপুরের কৃষি কর্মকর্তা আবুল কাশেম। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন।

৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নেত্রকোনা শহরের বড় পুকুরপার উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অফিসের সামনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় আত্মঘাতী জঙ্গিরা। সেখানে স্থানীয় উদীচীর দুই নেতাসহ ৮ জন নিহত হন। শতাধিক আহত হন ।

আরও পড়ুন:
নব্য জেএমবির তিন সদস্য কারাগারে
‘মোর পোলারে যারা জঙ্গি বানাইছে হ্যাগোও বিচার চাই’
নব্য জেএমবি ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
নব্য জেএমবির ‘প্রধান বোমা কারিগর’ গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জের সেই চার জেএমবি সদস্য কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Be patient with us Nasrul Hamid

ধৈর্য ধরে আমাদের সঙ্গেই থাকুন: নসরুল হামিদ

ধৈর্য ধরে আমাদের সঙ্গেই থাকুন: নসরুল হামিদ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। ছবি: নিউজবাংলা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ঊর্ধ্বমুখী, তার কারণে বাংলাদেশও ভুক্তভোগী। তবে এটা সাময়িক সময়ের জন্য। এ বছরের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলে আশা করছি।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ধৈর্য ধরে আমাদের সঙ্গেই থাকুন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দর কমলে বাংলাদেশে তা সহনীয় পর্যায়ে আসবে।

মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর অবদান’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ঊর্ধ্বমুখী, তার কারণে বাংলাদেশও ভুক্তভোগী। তবে এটা সাময়িক সময়ের জন্য। এ বছরের শেষ নাগাদ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলে আশা করছি।’

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাহস ও দূরদর্শিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করলে আমরা দ্রুত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাব। রূপকল্প ২০৪১ নির্ধারিত সময়ের আগেই বাস্তবায়ন করতে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই।

‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিল, সেই সব সামরিক স্বৈরশাসকরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দিকে নজর দেননি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলেন তখন থেকে ভঙ্গুর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করল। তিনি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিলেন। যার ফলে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে অবদান রাখতে পারছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট শেল অয়েল থেকে পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র কিনে দেশীয় কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়। দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে এবং জ্বালানির জোগানের ক্ষেত্রে এই গ্যাসক্ষেত্রগুলো বিশাল অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতীকরণের ব্যবস্থা সন্নিবেশ করে জাতির পিতা বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন এক অগ্রযাত্রা শুরু করেছিলেন।’

ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম ওয়াসিকা আয়শা খান, বিদ্যুৎ সচিব মো. হাবিবুর রহমান, বিপিসির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ, পিডিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান, পাওয়ার সেলের ডিজি মোহাম্মদ হোসাইনসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
পাম্পের তেলে স্টার্ট নিচ্ছে না বাইক, সন্দেহে মিলল পানিও
রুশ তেল আমদানি ইস্যুতে বিশেষজ্ঞ দল আসছে
‘জ্বালানির দাম বাড়ানো কেন অবৈধ নয়’
রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আনতে চান প্রধানমন্ত্রী
তেলের দাম কমানোর দাবিতে ২৫ আগস্ট হরতাল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Account of Dr Yunus assets to ACC

ড. ইউনূসের সম্পদের হিসাব দুদকে

ড. ইউনূসের সম্পদের হিসাব দুদকে
গ্রামীণ টেলিকম পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ সংবলিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২৮ জুলাই অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। একইসঙ্গে চলতি মাসের শুরুতে ড. ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের সব ব্যাংক হিসাব তলব করে দুদক। কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর থেকে লেনদেনের সব তথ্যও চাওয়া হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালনা পর্ষদের চার সদস্য।

মঙ্গলবার বিকেলে দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার প্রধানের কাছে এসব নথি হস্তাস্তর করেন ড. ইউনূসের প্রতিনিধি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ সংবলিত একটি প্রতিবেদন দুদকে পাঠান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। ২৮ জুলাই গ্রামীণ টেলিকম পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

দূদক সূত্র জানায়, অনিয়মের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টনের জন্য সংরক্ষিত লভ্যাংশের ৫ শতাংশ অর্থ লোপাট, শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধকালে অবৈধভাবে অ্যাডভোকেট ফি ও অন্যান্য ফি’র নামে ৬ শতাংশ অর্থ কেটে নেয়া, শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলে বরাদ্দকৃত সুদসহ ৪৫ কোটি ৫২ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৩ টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ সংবলিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

একইসঙ্গে চলতি মাসের শুরুতে ড. ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের সব ব্যাংক হিসাব তলব করে দুদক। শুধু তাই নয়, কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর থেকে লেনদেনের সব তথ্যও চাওয়া হয়।

চিঠিতে গ্রামীণফোন কোম্পানিতে গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানির শেয়ার ও এর বিপরীতে ১৯৯৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানি কত টাকা লভ্যাংশ পেয়েছে এবং তা কোন কোন খাতে ও কীভাবে ব্যয় করেছে, তার বছরভিত্তিক তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
আইনজীবী ইউসুফের ‘ফি’ ১৬ কোটি টাকা
গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক
আইনজীবীকে ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের ‘১২ কোটি টাকা দেয়ার’ ঘটনা তদন্ত চেয়ে রিট
চাকরিচ্যুতদের আইনজীবীর সঙ্গে ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের ‘সমঝোতা’, অ্যাকাউন্ট জব্দ
কর্মীদের মামলা: ৪০০ কোটিতে রফা গ্রামীণ টেলিকমের

মন্তব্য

p
উপরে