× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
MP Harun is afraid to cross the Padma bridge
hear-news
player
print-icon

পদ্মা সেতু পার হতে ভয় পাচ্ছেন এমপি হারুন

পদ্মা-সেতু-পার-হতে-ভয়-পাচ্ছেন-এমপি-হারুন
বিএনপির দলীয় এমপি হারুনুর রশীদ। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এমন আতঙ্কের কথা বলেন হারুনুর রশীদ।

পদ্মা সেতু পারাপারে সংসদের নিজের আতঙ্কের কথা তুলে ধরেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন অনুষ্ঠানের দাওয়াত দিলেন। জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ এবং ভাঙ্গার সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী সেতু হওয়ার পর তাদের বাড়ি যাওয়ার দাওয়াত করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের শাজাহান খানসহ অনেকেই পদ্মা সেতু দিয়ে পার হতে নিষেধ করছেন।

হারুন বলেন, ‘পদ্মা পার হতে আমি আতঙ্কে আছি। পার হতে গেলে আমাকে ডুবিয়ে দেবে কি-না, ফেলে দেবে কি না নদীতে! আমি তো ভয়ের মধ্যে আছি।’

রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন হারুনুর রশীদ।

তিনি আরও বলেন, ‘একদিকে দাওয়াত দিবেন, অন্যদিকে ভয় দেখাবেন। আমি তো আতঙ্কে আছি।

এ সময় পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আগের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের জন্য গৌরবের। এটা নিয়ে তির্যক মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বিএনপির মন খারাপ, বুকে বড় জ্বালা।

‘আমাদের মন খারাপ না। আমাদের মন খারাপ হবে কেন? আমরা আনন্দে আছি। আমাদের মন খারাপ হচ্ছে- আমরা মুজিবর্ষ পালন করলাম, আমরা পদ্মা ব্রিজ উদ্বোধন করলাম, কিন্তু দেশে যে গুম ও খুনের সংস্কৃতি চালু হয়েছে- আমরা এখান থেকে কি বের হতে পারব? ভোটের অধিকার হারিয়ে ফেলেছি, সেটা কি ফিরিয়ে আনতে পারব?’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুতে দুর্ঘটনায় দুই বাইকারের মৃত্যু
পদ্মা সেতুতে নাট খোলা বাইজীদ পটুয়াখালীর, করতেন ছাত্রদল
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ৮ মিনিট বন্ধ পদ্মা সেতুর টোল আদায়
পদ্মা সেতু: যাতায়াত শুরু হলেও পণ্য পরিবহনে নেই সুফল
পদ্মা সেতু নিয়ে খুশি হতে পারেনি বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
A day for Bengalis to cry

বাঙালির কাঁদবার দিন

বাঙালির কাঁদবার দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অলঙ্করণ: মামুন হোসাইন
পশ্চিম জার্মানির নেতা নোবেল পুরস্কার বিজয়ী উইলি ব্রানডিট বলেছিলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে, তারা যেকোনো জঘণ্য কাজ করতে পারে।

আজ বাঙালির কাঁদবার দিন, শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী।

১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের ঘৃণ্যতম এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ৪৭ বছর আগে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল ক্ষমতালোভী নরপিশাচ কুচক্রী মহল।

আজ যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী পালনের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু ছাড়াও ১৫ আগস্ট রাতে ধানমন্ডির বাড়িতে তার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তার জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করে তাকে ও তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় রেন্টু খানকে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার, নিকটাত্মীয়সহ ২৬ জনকে ওই রাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় তারা প্রাণে বেঁচে যান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছাত্র অবস্থায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন সংগ্রামী নেতা। ছিলেন বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ ছয় দফার প্রণেতা। সত্তরের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে এ দেশের গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত করেন। পাকিস্তানের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলে ষাটের দশক থেকেই তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের অগ্রনায়কে পরিণত হন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উত্তাল সমুদ্রে বঙ্গবন্ধু বজ্রদৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই ঘোষণায় উদ্দীপ্ত, উজ্জীবিত জাতি স্বাধীনতার মূলমন্ত্র পাঠ করে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছিনিয়ে আনে দেশের স্বাধীনতা। জাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানব, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর অমর কীর্তি এই স্বাধীন বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক। তিনি বাংলার মাটি ও মানুষের পরম আত্মীয়, শত বছরের ঘোর নিশীথিনীর তিমির বিদারী অরুণ, ইতিহাসের বিস্ময়কর নেতৃত্বের কালজয়ী স্রষ্টা, বাংলার ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। বাঙালি জাতির পিতা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। উন্নত সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নসারথি।

বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর গোটা বিশ্বে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। হত্যাকারীদের প্রতি ছড়িয়ে পড়েছিল ঘৃণার বিষবাষ্প। পশ্চিম জার্মানির নেতা নোবেল পুরস্কার বিজয়ী উইলি ব্রানডিট বলেছিলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে, তারা যেকোনো জঘণ্য কাজ করতে পারে।

বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর স্বাধীনতাবিরোধীরা এ দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুনর্বাসিত হতে থাকে। তারা এ দেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে নানা উদ্যোগ নেয়। শাসকদের রোষানলে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণও যেন নিষিদ্ধ হয়ে পড়েছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ঠেকাতে কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করেছিল মোশতাক সরকার। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসীন হলে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ উন্মুক্ত করা হয়। বিচার শুরু হয় ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের চূড়ান্ত রায় অনুযায়ী ওইদিন মধ্যরাতের পর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তবে বিভিন্ন দেশে পলাতক থাকায় কয়েকজন খুনির সাজা এখনও কার্যকর করা যায়নি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্বাধীনতার স্থপতিকে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনের পথ সুগম হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হতে থাকে। দিনটিকে সরকারি ছুটির দিনও ঘোষণা করা হয়। তবে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলে এ ধারাবাহিকতায় ছেদ ঘটে। তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালন বাতিল করে দেয়। পরে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবার রাষ্ট্রীয়ভাবে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। ফলে জাতীয় শোক দিবস পালনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

আজ সরকারি ছুটি। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনগুলোয় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোয়ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া দেশের সব সরকারি হাসপাতালে দিবসটি উপলক্ষে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ ছাড়া পোস্টার, সচিত্র বাংলাদেশের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি: আজ সকাল সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। সশস্ত্র বাহিনী গার্ড অফ অনার প্রদর্শন করবে। এ সময় বিশেষ মোনাজাত ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য ও অন্যান্য শহীদের কবরে এবং দুপুর ১২টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। এ সময় ফাতেহা পাঠ ও সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অফ অনার প্রদানসহ বিশেষ মোনাজাত এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সারা দেশে সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিলসহ জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ১৫ আগস্ট সূর্যোদয়ের ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে এবং ৮টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও দোয়া মাহফিল, দুপুর ১২টায় টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত এবং বাদ জোহর দেশব্যাপী মসজিদ-মাদ্রাসায় মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল যা কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনা সভা। মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে (রাত ১২:০১ মিনিট) মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে (৩/৭-এ সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০) মোমবাতি প্রজ্বলন ও বিশেষ প্রার্থনা, সকাল ৯টায় তেজগাঁও হলি রোজারি চার্চে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করবে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়, সকাল ১০টায় রাজধানীর মেরুল-বাড্ডা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং বেলা ১১টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় প্রার্থনা সভার আয়োজন করবে।

দুপুরে অসচ্ছল, দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হবে। আর বাদ আসর মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে শোকসভা।

এ ছাড়া সিপিবি, গণফোরাম, জাসদ, ন্যাপ ও গণতন্ত্রী পার্টি এবং আওয়ামী লীগের সব সহযোগী ও ভ্রাতপ্র্রতিম সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী, জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ, এর সহযোগী ও ভ্রাতপ্রতিম, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর ৪ স্মৃতি জাতীয় জাদুঘরে
বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলব খুঁজতে এ বছরই কমিশন চালুর আশা
বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার মামলায় শিক্ষককে এক বছরের দণ্ড
বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কেন নয়: হাইকোর্ট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
SDG MDG met in Bangabandhus education industry policy

‘এসডিজি-এমডিজির দেখা মেলে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা, শিল্প, রাষ্ট্রনীতিতে’

‘এসডিজি-এমডিজির দেখা মেলে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা, শিল্প, রাষ্ট্রনীতিতে’ জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সে সময়ের নেয়া শিক্ষা নীতি, শিল্প-বাণিজ্য নীতি, রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিলে; তার সেসব নীতির মাঝে আজকের এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা), এমডিজির (সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) লক্ষ্যগুলোই দেখতে পাব আমরা।’

এসডিজি ও এমডিজির লক্ষ্যগুলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শিক্ষা, শিল্প-বাণিজ্য, রাষ্ট্র পরিচালনা নীতিতে দেখা যায় বলে মন্তব্য করেছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সে সময়ের নেয়া শিক্ষা নীতি, শিল্প-বাণিজ্য নীতি, রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিলে; তার সেসব নীতির মাঝে আজকের এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা), এমডিজির (সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) লক্ষ্যগুলোই দেখতে পাব আমরা।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদৎ বার্ষিকীতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএসইসির মাল্টিপারপাস হলে রোববার দুপুরে এ আয়োজন ছিল।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার ফলে বাংলাদেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আজকে আমরাই আমাদের সম্পদ ব্যবস্থাপনা-নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি, যার সুযোগ করে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুই। বাঙালির শত বছরের সংগ্রাম-ত্যাগের পর বঙ্গবন্ধুই দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।’

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক, ধর্মীয়, নৈতিকদর্শনসহ সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে অবদানের প্রশংসা করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুষ্ঠু রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন অধ্যাপক শিবলী। দেশের কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অতুলনীয় নেতৃত্বের গুণের মাধ্যমে দেশের সকল সমস্যার সমাধান করে চলেছেন।’

এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের নিহত সদস্যসহ সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

জাতীয় শোক দিবসে সকলকে শহীদদের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর শৈশব থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস আলোচনা করেন।

অধ্যাপক সামাদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের জন্য যেসব অবদান রেখেছেন, যা কিছু করেছেন; সেসব আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জানাতে হবে এবং ছড়িয়ে দিতে হবে।’

নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধুর আপোষহীন অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯৪৯ সালে ২৭ জনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। যাদের ২৬ জনই মুচলেকা দিয়ে ছাত্রত্ব ফিরিয়েছেন। একমাত্র বঙ্গবন্ধুই মুচলেকা দেননি, আপোষ করেননি।’

বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, আব্দুল হালিম, ড. মিজানুর রহমান, ড. রুমানা ইসলামসহ কমিশনের কর্মকর্তারা আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানাতে টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
বিএসইসি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে, আশা পলকের
ঘোষণা দিয়ে শেয়ার কিনলে বিএপিএলসিকে সুবিধা: বিএসইসি
শোকের মাসে ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের নির্দেশ
এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Everyone should come forward to implement Delta Plan

‘ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে’

‘ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে’ খুলনার খালিশপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রোববার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের শোকসভায় বক্তব্য দেন বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। ছবি: নিউজবাংলা
‘আজ শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ে তুলতে ২১০০ সালের মধ্যে ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

২১০০ সালের মধ্যে ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে খুলনায় আওয়ামী লীগের শোকসভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

মহানগরীর খালিশপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এই শোকসভার আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধীদের দোসর, সম্রাজ্যবাদী শক্তি, খুনিচক্র বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে বাঙালি জাতির কপালে কালিমা লেপন করেছে।

‘আজ শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে রূপকল্প- ২০৪১ বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ে তুলতে ২১০০ সালের মধ্যে ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।

মেয়র বলেন, ‘খুনিচক্র এ দেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিল, তারা সফল হয়নি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।’

খুলনা সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শফিউল্লাহ শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন।

বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, সহসভাপতি শেখ শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম মুন্না।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ১৫ শ্রমিককে সাড়ে ৭ লাখ টাকার চেক দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In the true sense I didnt say heaven It was a word of mouth Foreign Minister

ট্রু সেন্সে বেহেশত বলিনি, এটা ছিল কথার কথা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ট্রু সেন্সে বেহেশত বলিনি, এটা ছিল কথার কথা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। ফাইল ছবি
‘আমি তো ট্রু সেন্সে (আক্ষরিক অর্থে) বেহেশত বলিনি। এটা ছিল কথার কথা। কিন্তু আপনারা তো সবাই মিলে আমারে খায়া ফেললেন।’

বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো আছে- এটা বোঝাতে গিয়ে নিজের দেয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা আবার দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেছেন, বেহেশতের যে কথা তিনি বলেছেন, সেটি আক্ষরিক অর্থে বলেননি। এটা ছিল কথার কথা।

দুই দিন আগে সিলেটে দেয়া বক্তব্যের পর দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা আর ফেসবুকজুড়ে ট্রলের মধ্যে মন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন শনিবার। রোববার বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের সঙ্গে আলোচনা শেষেও প্রসঙ্গটি তোলেন তিনি। বলেন, ‘আপনারা সবাই আমারে খায়া ফেললেন…।

গত শুক্রবার সিলেটে দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো ট্রু সেন্সে (আক্ষরিক অর্থে) বেহেশত বলিনি। এটা ছিল কথার কথা। কিন্তু আপনারা তো সবাই মিলে আমারে খায়া ফেললেন।

‘আমরা অনেকের চেয়ে ভালো আছি। বলতে পারেন বেহেশতে আছি। আর যায় কোথায়! সবাই আমারে এক্কেরে...। এই হলো বাংলাদেশের মিডিয়ার স্বাধীনতা খর্ব।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কি মিডিয়ার স্বাধীনতা খর্ব করেছি? আফটার অল আই অ্যাম আ পাবলিক ফিগার। নিশ্চয়ই আপনারা আমাকে ক্রিটিসাইজ করতে পারেন। আই ডোন্ট মাইন্ড। তবে আগামীতে সাবধান হতে হবে।

‘আমি খোলামেলা মানুষ। আমি শিক্ষক মানুষ। আমি যেটা মনে করি, সেটা খোলামেলা বলে ফেলি। আমার দল থেকে আমাকে ‘ইয়ো’ করেছেন। পজিশনে থেকে ভালো কথা বলা দরকার।’

বিচারবহির্ভূত হত্যা বলে কিছু নেই

এ ধরনের ঘটনা আগে হলেও এখন নেই বলেও দাবি করেন মোমেন। বলেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে কোনো তথ্য পেলে সরকার তা তদন্ত করবে।’

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটকে এ তথ্য জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

মোমেন বলেন, ‘আমরা বলেছি- গুম বলে আমাদের দেশে কোনো শব্দ নেই। কিছু কিছু লোক নাকি বলেছে যে ৭৬ জন লোক গত ১০ বছরে নিখোঁজ হয়ে গেছে। তারা বলেছে, সরকার নাকি নিখোঁজ করেছে। ৭৬ জনের মধ্যে আবার ১০ জনকে দেখা যায়, পাওয়া গেছে। বাকিগুলো আমরা ঠিক জানি না। পরিবার কোনো তথ্য দেয় না। পরিবারকে বলা হয়, তারা ভয়ে আর কোনো তথ্য দেয় না। আমরা জানি না তারা কোথায় গেছেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে তারা কিছু বলেনি। আমরা নিজে থেকেই বলেছি। এ রকম বলা হয়েছে যে কিছু লোককে কিলিং করা হয়েছে। আমাদের এখানে আগে হতো এটা- ২০০০, ২০০৩ ওই সময়ে। বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে কোনো তথ্য পেলে তদন্ত করা হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ প্রতি বছর হাজারখানেক লোককে মেরে ফেলে উল্লেখ করে মোমেন বলেন, ‘আমাদের দেশে আগে হতো; ২০০২ বা ২০০৩ বা পরে এবং ওই সময় হার্টফেল হতো। কিন্তু এখন আর হার্টফেল নেই।’

আলোচনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের সঙ্গে আলোচনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি এসেছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বলেন, ‘ওদের (জাতিসংঘ) ধারণা বাংলাদেশে টেলিভিশন মিডিয়াগুলোতে কোনো ফ্রিডম নেই। কেউ নিজের কথা বলতে পারে না। তাদের (গণমাধ্যম) সেন্সর করে। আমি বলেছি, আমার এমন কিছু জানা নেই। আমি তো দেখি আমাদের মিডিয়া ভেরি স্ট্রং। প্রাইভেট টেলিভিশন একটা কথা বললেই ধরে ফেলে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে জাতিসংঘ

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে জাতিসংঘ খুব উদ্বিগ্ন এবং এ সমস্যা সমাধানে তারা আমাদের সহযোগিতা করবে বলে জানান মিশেল ব্যাচেলেট।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছি রোহিঙ্গা আগেও এসেছিল বহুবার এবং ফেরত গেছে। এবারের সংখ্যা বেশি। তবে দুঃখের বিষয় যারা মানবাধিকারের জন্য শান্তি পুরস্কার পেয়েছে, তারা মিয়ানমারের সঙ্গে আগের মতো সম্পর্ক বজায় রাখছে।

‘তারা চুটিয়ে ব্যবসা করছে এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ব্যবসা ১৫ গুণ বেড়েছে। শুধু যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য বেড়েছে ১০০ গুণ। বিনিয়োগ হয়েছে গত পাঁচ-ছয় বছরে ২৩০ কোটি ডলার। আমরা বলেছি আপনারা রাখাইনে গিয়ে সাহায্য করেন।’

আরও পড়ুন:
বেহেশতে আছে এমপি-মন্ত্রী আর আওয়ামী লীগ কর্মীরা: জিএম কাদের
দেশে ‘বেহেশতের’ ব্যাখ্যা দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য জনগণের সঙ্গে তামাশা: ফখরুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hybrids keep us in the dark Khairuzzaman Liton

‘হাইব্রিড’রা আমাদের কোণঠাসা করে রেখেছে: খায়রুজ্জামান লিটন

‘হাইব্রিড’রা আমাদের কোণঠাসা করে রেখেছে: খায়রুজ্জামান লিটন শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। ছবি: নিউজবাংলা
খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘দলের মধ্যে অনেকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তাদের আমরাই ঢুকিয়েছি, পদ-পদবি দিয়েছি, আসন দিয়েছি। যারা বংশগতভাবে আওয়ামী লীগ করে তাদের অনুপ্রবেশকারীরা এখন কোণঠাসা করে রেখেছে, একদম গোল করে ঘিরে রেখেছে।’

দলে অনুপ্রবেশকারী 'হাইব্রিড’রা প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতাদের কোণঠাসা করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।

রাজধানীর শাহবাগে এক অনুষ্ঠানে রোববার দুপুরে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মিলনায়তনে রোববার এক আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটি।

সভায় খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রায় ১৫ বছর একটানা ক্ষমতায়, এ সময়ে দলের মধ্যে অনেকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তাদের আমরাই ঢুকিয়েছি, পদ-পদবি দিয়েছি, আসন দিয়েছি। যারা বংশগতভাবে আওয়ামী লীগ করে, তাদের অনুপ্রবেশকারীরা এখন কোণঠাসা করে রেখেছে, একদম গোল করে ঘিরে রেখেছে।

‘যারা অরিজিনাল আওয়ামী লীগার তাদের বাইরে রেখে এখন অনুপ্রবেশকারীরা নেতা সেজেছে। এই অবস্থা চলতে দেয়া যাবে না। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সব খবর রাখেন। তিনিও এসব বিষয়ে নজরদারি করছেন এবং করবেন।’

মাঠের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আন্দোলন-সংগ্রামে তারাই রাজপথে লাঠি নিয়ে থাকি। হাইব্রিডরা সেখানে যাবে না।

‘এই দেশের স্বাধীনতা এনেছেন আমাদের বাবা-চাচা, তাই স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। চোরার দলকে ক্ষমতায় গিয়ে বোমাবাজি, লুটপাট করতে দেয়া যাবে না। তাদের ফের হাওয়া ভবন বানানোর সুযোগ দেয়া যাবে না। আমরা তাদের রাজপথে মোকাবিলা করার জন্য তৈরি আছি।’

লিটন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মধ্যেই দেশে অস্থিরতা তৈরি করা হলো বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে। কারা ছিলেন এর নেপথ্যে? পরাশক্তির ইন্ধন ছিল। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির সামনে জাসদের মিছিল থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়, ঈদের জামাতে গুলি করে সংসদ সদস্যকে হত্যা করা হয়। ব্যাংক ডাকাতির পর জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হয়।

‘স্বাধীনতার পর থেকেই ষড়যন্ত্র চলে আসছে। কুড়িগ্রামের পাগল বাসন্তীর গায়ে মাছ ধরার জাকি জাল দিয়ে দুর্ভিক্ষের প্রচার করা হয়। অথচ সে জালের দাম তখনকার সময়ে একটি শাড়ির চেয়ে তিন গুণ। খাদ্যাভাব হতে পারে ভেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বঙ্গবন্ধু গম চাইলেন, খাদ্য সহায়তার সেই জাহাজ দেশের কাছাকাছি এসেও ফিরে চলে গেল। বিশেষ চক্র এভাবেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার ক্ষেত্র তৈরি করেছিল। রশিদ-হুদারা ছিল এ ক্ষেত্রে স্রেফ ভাড়াটিয়া খুনি। বিদেশি শক্তি বাদ দিলে জিয়াউর রহমান ছিল এ ক্ষেত্রে মাস্টার মাইন্ডের এক নম্বর।’

সভায় আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য নায়কদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি। নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে, বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে কী ছিল, কারা পর্দার আড়ালে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল।’

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দ আবদুল আওয়াল শামীম, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্বদ্যিালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য পবিত্র সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য নাসরীন আহমেদ, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও সাংবাদিক আবেদ খান আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Allegation of torture by arresting Chhatra League worker

ছাত্রলীগ কর্মীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ

ছাত্রলীগ কর্মীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ
ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের প্রক্টর খোরশেদ আ‌লম বলেন, ‘রা‌ব্বি খান আমাদের কাছে নিরাপত্তার জন্য আবেদন করে‌ছিলেন। তাকে বলা হয়ে‌ছি‌ল, পরীক্ষা থাকলে সেই সময় নিরাপত্তাহীনতা বোধ করলে আমাদের‌ জানাতে। রোববার তার পরীক্ষা ছি‌ল কি না, সে বিষয়‌টি আমাদের জানায়‌নি।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মীকে ক্যাম্পাস থেকে তুলে হোটেল কক্ষে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সংগঠনটির এক নেতার বিরুদ্ধে।

নির্যাতনের অভিযোগ করা রাব্বি খান রাজ নামে ওই ছাত্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়েন।

রাব্বি জানান, রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি হোটেলে নির্যাতনের এই ঘটনা ঘটে।

রাব্বি আরও জানান, তিনি বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের অনুসারী অমিত হাসান রক্তিম গ্রুপের কর্মী। প্রতিপক্ষ গ্রুপ বরিশাল সিটির মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী মহিউদ্দীন আহমেদ সিফাতের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা হয়েছে। তবে মহিউদ্দিন অভিযোগ নাকচ করেছেন।

হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রাব্বি বলেন, ‘রোববার ১২টায় আমার ক্লাস টেস্ট ছিল। প্রক্টরের আশ্বাসে আ‌মি ক্যাম্পাসে পরীক্ষা দিতে যাই। পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে দুপুর ১টার দিকে আ‌মি উপাচার্যের বাসভবনের ফটক থেকে নগরীতে আসার জন্য গাড়ির অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় চার সন্ত্রাসী এসে আমাকে ধরে ফেলে। পেছনে আরও ১০-১২ জন ছিল। আমাকে তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের নাজেমস নামের একটি হোটেলে নিয়ে যায়।

‘সেখানে মহিউদ্দীন আহমেদ সিফাত ৩০-৩৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে অপেক্ষা করছিল। সে এক অনুসারীকে হলে তার কক্ষ থেকে দা নিয়ে আসতে নির্দেশ দেয়। সেটি আনা হলে মহিউদ্দীন নিজেই দায়ের কাঠের হাতল দিয়ে আমার বাঁ পায়ের হাঁটুতে এবং ডান পায়ের হাঁটুর নিচে পেটায়। তার সহযোগীরাও আমার মাথায় ও পিঠে কিল-ঘুষি মারে। এভাবে প্রায় পৌনে ২ ঘণ্টা আটকে আমার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।’

রাব্বি জানান, প্রক্টর এ ঘটনার খবর পেয়ে মহিউদ্দীনকে কল দিয়ে তাকে ছেড়ে দিতে বলেন। তার পরও নির্যাতন চলতে থাকে। বেলা পৌনে ৩টার দিকে প্রক্টর খোরশেদ আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

রাব্বির পক্ষে ছাত্রলীগ কর্মী অ‌মিত হাসান র‌ক্তিম বলেন, ‘বিশ্ব‌বিদ‌্যালয়ের সামনে নাজেমস ভবনে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসী সিফাত ও তার দলবল ওই ভবনেই আড্ডা দেয়। তাদের সব অস্ত্র ওই ভবনেই থাকে। আমাদের চার ছাত্রলীগ কর্মী নিরাপত্তার আবেদন করেও এই নির্যাতনের শিকার হয়েছে।’

নির্যাতনের বিষয়ে ছাত্রলীগের একটি পক্ষের নেতৃত্ব দেয়া মহিউদ্দীন আহমেদ সিফাত বলেন, ‘আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম এই ঘটনা। আর এই ধরনের কিছুই শু‌নি‌নি। আমার কোনো লোকজন এমনটা করলে জানতাম। যদি কেউ এই ধরনের অভিযোগ করে থাকে, তবে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

ব‌রিশ‌াল বিশ্ব‌বিদ‌্যালয়ের প্রক্টর খোরশেদ আ‌লম জানান, গত ৭ আগস্ট তার ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘রা‌ব্বি খান আমাদের কাছে নিরাপত্তার জন‌্য আবেদন করে‌ছিলেন। তাকে বলা হয়ে‌ছি‌ল পরীক্ষা থাকলে সেই সময় নিরাপত্তাহীনতা বোধ করলে আমাদের‌ জানাতে। রোববার তার পরীক্ষা ছি‌ল কি না, সে বিষয়‌টি আমাদের জানায়‌নি।

‘দুপু‌রের দিকে রা‌ব্বিকে বিশ্ব‌বিদ‌্যালয়ের সামনের এক‌টি বাসা থেকে বের করে আনা হয়। এরপর সে জানায় শা‌রীরিকভাবে অসুস্থ এবং সে শহরে যেতে চায়। তারপর তাকে শহরে যাওয়ার ব‌্যবস্থা করে দেয়া হয়। তবে তা‌র সঙ্গে কী হয়ে‌ছি‌ল সে বিষয়ে আমাদের কিছু বলে‌নি। আমরা বিষয়‌টি সম্প‌র্কে খোঁজ নেব এবং রা‌ব্বির সঙ্গে ফের কথা ব‌লব।’

আরও পড়ুন:
বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ
লক্ষ্মীপুরে বিএনপির সমাবেশে ‘ছাত্রলীগের’ হামলা
ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে পদবাণিজ্যের অভিযোগ
অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা
উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদকের বিরুদ্ধে গৃহবধূর ধর্ষণ মামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Attempt to divert program protest under party banner BUET students

জাতীয় শোক দিবস পালনে বুয়েট শিক্ষার্থীদের নতুন ব্যানার

জাতীয় শোক দিবস পালনে বুয়েট শিক্ষার্থীদের নতুন ব্যানার বুয়েটের ক্যাফেটেরিয়ার সামনে সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ নামে ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সোমবার বিকেলে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় স্মরণসভা করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদনে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া-মাহফিল আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ‘ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ’ ব্যানারে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালনের বিরোধিতা করা শিক্ষার্থীরা ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ নামে নতুন ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সোমবার বিকাল ৫টায় বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় স্মরণসভা করার ঘোষণা দিয়েছেন নতুন এই ব্যানারের সংগঠকেরা। সেই সঙ্গে উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদনে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া-মাহফিল আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনে অবিচল থাকবেন।

ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে শনিবার আয়োজিত কর্মসূচির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদকে ভিন্ন দিকে নেয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘আমাদের গতকালের (শনিবার) কর্মসূচি কোনোভাবেই ক্যাম্পাসে আয়োজিত শোক দিবসের অনুষ্ঠানবিরোধী ছিল না। ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করেন। তার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সদা প্রস্তুত।’

রোববার দুপুরে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেয়া শিক্ষার্থী তার পরিচয় প্রকাশে রাজি হননি। এ সময় বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আবরার ফাহাদ হত্যার পর রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়া বুয়েটে শনিবার সভা করে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন ছাত্রলীগের সাবেক একদল নেতা। এ ঘটনা নিয়েই পরদিন সংবাদ সম্মেলনে এলেন শিক্ষার্থীরা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আমাদের কর্মসূচি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চলছে। এই অপপ্রচার আমাদের ভীত এবং একইসঙ্গে ব্যথিত করেছে।

‘আমরা বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধু সর্বজনীন। তার চেতনা ধারণ করতে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয় প্রয়োজন পড়ে না। বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে জাতীয় দিবসগুলোর অনুষ্ঠান নিয়মিত হয়ে আসছে।’

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকার পরেও শনিবার রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের ব্যানার দেখে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে জানান এবং কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের সামনে অবস্থান নেন।

‘লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির কালো থাবা আমাদের নিরাপদ ক্যাম্পাসকে যেন পুনরায় ত্রাসের রাজত্বে পরিণত না করতে পারে, সেই আশঙ্কার জায়গা থেকে গতকাল আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা সমবেত হই। বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করার অনুমতি দেয়ায় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জবাবদিহি আদায় করা।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তাদের আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বুয়েটের সব প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, বুয়েটের সব শিক্ষার্থী এবং সাবেক শিক্ষার্থী ছাড়াও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ব্যানারে ‘ছাত্রলীগ’ লেখার কথা বলেনি সাবেক নেতারা: বুয়েট ভিসি
বুয়েটে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের আয়োজন ঘিরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

মন্তব্য

p
উপরে