× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Why so much relief yet wail
hear-news
player
print-icon

এত ত্রাণ, তবু কেন হাহাকার

এত-ত্রাণ-তবু-কেন-হাহাকার
‘সরকারের চাইতে বেসরকারি পর্যায়ে বহুগুণ বেশি ত্রাণ আসছে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে যেভাবে পারে বন্যার্তদের সহায়তা করছে। তাদের সবার উদ্দেশ্য মহৎ। কিন্তু পরিকল্পনায় ঘাটতি রয়েছে।’

ত্রাণবাহী ট্রাকের কারণে শুক্রবার সিলেট ঢাকা-মহাসড়কে রীতিমতো জট লেগে গিয়েছিল। একই দিনে সিলেট থেকে সুনামগঞ্জগামী সড়কে প্রতি মিনিটে প্রবেশ করেছে ত্রাণবাহী ট্রাক। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ত্রাণ নিয়ে আসে এসব ট্রাক।

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সারা দেশের মানুষ। মানুষের অভূতপূর্ব সহায়তায় বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম চলছে এই দুই জেলায়। সরকারের পক্ষ থেকেও ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এই কাজে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনীও।

এত বিপুল ত্রাণ কার্যক্রম সত্ত্বেও মানুষের হাহাকার কমছে না।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুরের রাহেলা খাতুনের কথাই ধরা যাক। ১৫ জুন, বন্যা শুরু হওয়ার দিন থেকেই পানিবন্দি তিনি। এর মধ্যে একদিন কিছু শুকনা খাবার ও একদিন রান্না করা খাবার পেয়েছেন কেবল।

রাহেলা বলেন, ‘১০ দিন ধরে ঘরে আটকে আছি। চারদিকে পানি, কোথাও যেতে পারছি না। মাত্র দুই দিনের সাহায্যে ১০ দিন চলবে কী করে?’

এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি বলে জানিয়েছেন জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুলের দিনমজুর আফরোজ আহমদ। তিনি বলেন, ‘এলাকার ছেলেরা মিলে কিছু সাহায্য করছে। সরকারের কেউ বা কোনো জনপ্রতিনিধি এখন পর্যন্ত আমাদের খোঁজও নেয়নি।’

বৃহস্পতিবার আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরেছেন জানিয়ে আফরোজ বলেন, ‘ঘর তো তছনছ করে দিয়েছে পানি। ঘরে খাবারও নেই। এখন পরিবার নিয়ে কী খাব?’

বন্যায় পানিবন্দি থাকা ১০ দিনে মাত্র চার দিন ভাত খেয়েছেন জানিয়ে গোয়াইনঘাটের তোয়াকুল এলাকার ভ্যান চালক আব্দুল করিম বলেন, ‘শুকনা খাবার অনেক পেয়েছি। কিন্তু চাল ডাল পাচ্ছি না। ভাত না খেয়ে কত দিন থাকা যায়, ঘরের বাচ্চারা তো ভাত ছাড়া বুঝতেই চায় না।’

এমন হাহাকারের কথা জানিয়েছেন বন্যাকবলিত আরও অনেকেই। পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ তাদের।

উদ্দেশ্য মহৎ, পরিকল্পনায় ঘাটতি

ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম সত্ত্বেও বানভাসি মানুষের এত হাহাকার আর অভিযোগ কেন?

বন্যার শুরু থেকেই ‘কলের গাড়ি’ নাম দিয়ে সিলেটে ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন নাট্য ও সংস্কৃতিকর্মীরা। কলের গাড়ির অন্যতম সমন্বয়ক, সিলেট সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তিু গুপ্ত বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয় না হওয়ার কারণেই এমনটি হচ্ছে।’

রজত বলেন, ‘সরকারের চাইতে বেসরকারি পর্যায়ে বহুগুণ বেশি ত্রাণ আসছে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে যেভাবে পারছে বন্যার্তদের সহায়তা করছে। তাদের সবার উদ্দেশ্য মহৎ। কিন্তু পরিকল্পনায় ঘাটতি রয়েছে।

‘ব্যক্তি উদ্যোগে যারা ত্রাণ নিয়ে আসছেন, তারা কোন এলাকায় বেশি দুর্গত, কারা সহায়তা পাননি, তা জানেন না। হয়তো ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে বা পরিচিতজনদের তথ্যে তারা ত্রাণ বিতরণের এলাকা বাছাই করছেন।’

রজত মনে করেন, এই সমস্যা কাটাতে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে সরকারিভাবে ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করা প্রয়োজন। তারা বেসরকারিভাবে বিতরণ করা ত্রাণ তদারকি করবেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করবেন।

সমন্বয়হীনতার উদাহরণ তুলে ধরে জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান করিম বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের চারটি গ্রামে পানি ওঠেনি। এই গ্রামগুলোর পুরোটাই আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। আশপাশের গ্রাম ও ইউনিয়ন থেকে বন্যার্তরা এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। যাদের বেশির ভাগই একেবারে গরিব। কিন্তু এখানে যেহেতু পানি নেই এবং সরকার ঘোষিত আশ্রয়কেন্দ্র নেই, তাই এই এলাকায় কেউ ত্রাণ নিয়ে আসতে চায় না।’

তিনি বলেন, ‘ত্রাণ নিয়ে যারা আসে তারা কেবল পানিতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে চায়। শুকনোয় থাকা মানুষও যে সংকটে আছে তারা তা বুঝতে চায় না।’

নজরের বাইরে মধ্যবিত্ত

সমন্বয়হীনতার আরেকটু উদাহরণ দিলেন গোয়ানঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ বলেন, ‘এখন সবচেয়ে বিপদে আছে মধ্যবিত্ত। তারা ত্রাণ পাচ্ছে না। আবার ঘরেও খাবার নেই। সবাই শুধু দরিদ্রদের সাহায্য করছে। আমাদেরও বলে দেয়া হয়েছে, সরকারি ত্রাণ গরিব মানুষদের দিতে। কিন্তু অবস্থাসম্পন্নরাও যে এখন সংকটে তা কেউ বুঝতেছে না।’

লোকমান বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে এখন সব মানুষ বিপদগ্রস্ত। আমার ঘরেই বুক সমান পানি ছিল। ঘরের সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। গত বন্যায় বোরো ধানের বেশির ভাগই তলিয়ে যায়। যেটুকু ঘরে তোলা গিয়েছিল, তা এই বন্যা নিয়ে গেছে। ফলে এখন আর কেউ ভালো নেই।’

বিতরণে সমন্বয়হীনতার কারণে কেউ পাঁচ বার ত্রাণ পাচ্ছে আর কেউ একবারও পাচ্ছে না বলে জানান লোকমান আহমদ।

ব্যক্তি পর্যায়ে ও বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ নিয়ে আসা সবাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এলে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে মনে করেন গোয়াইনঘাট উপজেলার ৩ নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান লেবু।

তিনি বলেন, ‘কারা ত্রাণ পায়নি, কারা বেশি দুর্গত এসব তথ্য আমাদের কাছে আছে। তাই যারা ত্রাণ নিয়ে আসছেন তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এলে আমরা তাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পারব।’

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয় হওয়া উচিত বলে মনে করেন এই চেয়ারম্যানও।

তবে এতে একটা বিপত্তি রয়েছে বলেও জানান ত্রাণ কার্যক্রম চালানো স্বেচ্ছাসেবী বিনয় ভদ্র। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনেক সময় তারা কেবল নিজের ঘনিষ্টজন ও ভোটারদের সহায়তা প্রদান করেন। এতেও অনেকক্ষেত্রে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা বঞ্চিত হয়।’

দূরে যাচ্ছে বেশি, কাছে কম

তবে ভিন্ন তথ্য জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জের সাংবাদিক কবির আহমদ। তিনি বলেন, ‘সবাই কেবল ত্রাণ নিয়ে দূর-দূরান্তে যেতে চায়। ফলে সড়কের কাছাকাছি এলাকার দুর্গত মানুষজন বঞ্চিত হচ্ছে।

‘কেবল শুক্রবারই কোম্পানীগঞ্জে বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ নিয়ে অন্তত ৫০ টি ট্রাক এসেছে। পরিকল্পিকভাবে বণ্টন হলে এই ত্রাণেই দুর্গতদের এক সপ্তাহ চলার কথা।’

সিলেট জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, শুক্রবার পর্যন্ত সিলেট জেলায় ১ হাজার ৩৯৭ মেট্রিক টন চাল, ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং ১৩ হাজার ২১৮ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ বিতরণের সমন্বয়হীতার কথা স্বীকার করে সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) দেবোজিৎ সিংহ জানান, ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্যে প্রত্যেক উপজেলায় আলাদা আলাদা সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে শনিবারের মধ্যে এই কমিটি করার জন্য সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন এসব কমিটির কাজ তদারকি করবে।’

সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত

দেবোজিৎ বলেন, ‘বেসরকারি পর্যায়ে আসা ত্রাণ যাতে সুষ্ঠুভাবে বণ্টন হয়, প্রকৃত দুর্গতরা পায় সে লক্ষ্যে এসব কমিটি করা হচ্ছে। সমন্বয় কমিটি বেসরকারি পর্যায়ে আসা ত্রাণ সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে।’

সমন্বয় কমিটি কীভাবে কাজ করবে এমন প্রশ্নে দেবোজিৎ সিংহ বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলার প্রবেশ মুখে একটি করে কন্ট্রোল রুম চালু করবে এই সমন্বয় কমিটি। তারা উপজেলায় প্রবেশ করা সবকটি ত্রাণবাহী গাড়ি আটকে বিতরণের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ করে দেবে। প্রয়োজনে জলযান ও স্বেচ্ছাসেবী দিয়ে ত্রাণ বিতরণকারীদের সহায়তা করবে সমন্বয় কমিটি।’

আরও পড়ুন:
ঈদের আগে খুলছে না শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়
হবিগঞ্জে পানি নামছে ধীরগতিতে
আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে আশ্রয়হীন
বন্যায় ভেঙে যাওয়া সেতু মেরামত, ঢাকা-মোহনগঞ্জ ট্রেন চালু
দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে: সুনামগঞ্জে সেনাপ্রধান

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Life sentence for youth in rape case

ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
২০২০ সালের ১২মে সদর উপজেলার রঘুনাথপুর শোলারচর গ্রামের নাওভাঙ্গা ব্রিজ থেকে এক কিশোরীকে অপহরণ করেন পাশের এলাকার টুটুল মিয়া। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা টুটুল মিয়াসহ ৪ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।

শেরপুরে কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় টুটুল মিয়া নামের এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। অপহরণের আলাদা মামলায় তাকে ১৪ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান আসামির অনুপস্থিতিতে এই রায় দেন।

রায়ে আসামিকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। অপহরণ মামলায় তাকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। উভয় সাজা একই সঙ্গে চলবে।

সাজাপ্র‍াপ্ত ২৮ বছরের টুটুল মিয়ার বাড়ি সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের নাওভাঙ্গা গ্রামে।

ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি গোলাম কিবরিয়া বুলু নিউজবাংলাক এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ২০২০ সালের ১২মে শেরপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর শোলারচর গ্রামের নাওভাঙ্গা ব্রিজ থেকে এক কিশোরীকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করেন পাশের এলাকার টুটুল মিয়া। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ১৪ মে টুটুল মিয়া এবং তার এক ভাই ও মা-বাবাকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।

ওই মামলায় পরদিন অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করে টুটুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর শুধু টুটুল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে জামিনে বেরিয়ে পালিয়ে যান টুটুল।

আরও পড়ুন:
ধর্ষণ মামলায় ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার
বাসে ডাকাতি-সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: আরও ২ আসামির স্বীকারোক্তি
ধর্ষণের পর শিশু হত্যার অভিযোগ, আসামি গ্রেপ্তার
বাসে ডাকাতি-ধর্ষণ: ১০ জনকে আদালতে তোলা হচ্ছে বিকেলে  
চলন্ত বাসে ডাকাতির সময় ধর্ষণ ‘রতনের নির্দেশে’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Earthquake in Khulna Chuadanga

খুলনা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় ভূমিকম্প

খুলনা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় ভূমিকম্প
খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনার বিভিন্ন স্থানে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা ৩ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল।’

খুলনা ও চুয়াডাঙ্গার কয়েক স্থানে মৃদু ভূমিকম্প হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ২৯ মিনিটে এই ভূমিকম্প হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এর স্থায়িত্ব ছিল ৩ সেকেন্ড।

জেলা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনার বিভিন্ন স্থানে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা ৩ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ১ দশমিক ৭।’

একই সময় ভূমিকম্প হয়েছে যশোর ও চুয়াডাঙ্গায়।

পশ্চিমবঙ্গের আলীপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এর উৎপত্তিস্থল যশোর শহর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৪ দশমিক ৮।

যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার জয়দেব চক্রবর্ত্তী ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানান, ভূমিকম্পে ভয় পেয়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা রাস্তায় বের হয়ে যান।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার পলাশপাড়ার তৈয়ব আলী বলেন, ‘৫টা ২৯ মিনিটে হঠাৎ করে ঘর কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্প হচ্ছে বুঝতে পেরে আমি ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসি।’

আরও পড়ুন:
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি
৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প পেরুতে, বাড়িঘর বিধ্বস্ত
ভূমিকম্পে চট্টগ্রামে হেলে পড়েছে ভবন
ভূমিকম্প: দোতলা থেকে লাফ দিয়ে আহত চবির ছাত্র
ভূমিকম্পে রাঙ্গামাটিতে ইউএনডিপি কর্মীসহ আহত ২

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One day a week online class in Shabi on energy and electricity saving

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শাবিতে সপ্তাহে এক দিন অনলাইনে ক্লাস

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শাবিতে সপ্তাহে এক দিন অনলাইনে ক্লাস শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ফটক। ছবি: সংগৃহীত
শাবিপ্রবি রেজিস্ট্রার বলেন, ‘সপ্তাহে এক দিন অনলাইনে ক্লাস নিলে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে। সাশ্রয়ের লক্ষ্যে প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। সপ্তাহের অন্য দিনও পরিবহন সেবা কিছুটা হ্রাস করা হবে।’

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সপ্তাহে এক দিন অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) প্রশাসন।

শুধু বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেয়া হবে। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরিবহন সেবা বন্ধ থাকবে। সপ্তাহের অন্য দিনও পরিবহন সেবা কিছুটা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন।

তিনি বলেন, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলামসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশের আলোকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

রেজিস্ট্রার বলেন, ‘সপ্তাহে এক দিন অনলাইনে ক্লাস নিলে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে। সাশ্রয়ের লক্ষ্যে প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। সপ্তাহের অন্য দিনও পরিবহন সেবা কিছুটা হ্রাস করা হবে।’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সমস্যার কারণে সৃষ্ট জাতীয় এ সমস্যায় আমরা দেশবাসীর পাশে থাকতে চাই। করোনা মহামারিতে ক্যাম্পাসে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেশের মানুষের পাশে ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়। এবারও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে আমরা মানুষের পাশে থাকব।’

এই সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা যেন কোনো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সে ব্যাপারে বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকদের দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ভিসি।

আরও পড়ুন:
বাড়তি ভাড়া: বাসমালিকদের সুমতির আশায় কাদের
বিআরটিএ ঘুমিয়ে, ফায়দা নিয়েই যাচ্ছে রাইদা
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি চ্যালেঞ্জ করে রিট
ঢাকা-ব‌রিশাল রু‌টে লঞ্চের খরচ বেড়ে দ্বিগুণ
পাম্পে পাম্পে হানা, কম তেলে জরিমানা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
VC panel election in Jahangirnagar on Friday

জাহাঙ্গীরনগরে ভিসি প্যানেল নির্বাচন শুক্রবার

জাহাঙ্গীরনগরে ভিসি প্যানেল নির্বাচন শুক্রবার নির্বাচনে তিন প্যানেলে তিনজন করে নয় প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩ এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী এ নির্বাচন হবে। শুধু নির্বাচিত সিনেট সদস্যরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত তিনজনের প্যানেল মনোনয়ন শেষে তা রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের কাছে পাঠানো হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আট বছর পর শুক্রবার হতে যাচ্ছে ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) প্যানেল নির্বাচন।

নির্বাচনে তিনটি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। প্রতিটি প্যানেলে তিনজন করে প্রার্থী। তিনটি প্যানেলই আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের। প্যানেল তিনটি হলো, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ এবং বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের দুইটি প্যানেল।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক পৃথ্বিলা নাজনীন নীলিমা।

বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের একাংশের প্যানেলে নেতৃত্বে আছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. মো. নূরুল আলম। প্যানেলের অন্যরা হলেন, গাণিতিক ও পদার্থবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. অজিত কুমার মজুমদার এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ্।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল্লাহ হেল কাফি বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের আরেক অংশের প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ।
এই প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক তপন কুমার সাহা এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ইন্সটিটিউট অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ-জেইউ) অধ্যাপক ড. মো. মোতাহার হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩ এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী এ নির্বাচন হবে। শুধু নির্বাচিত সিনেট সদস্যরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত তিনজনের প্যানেল মনোনয়ন শেষে তা রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের কাছে পাঠানো হবে।

রাষ্ট্রপতি ক্ষমতাবলে প্যানেলের যে কাউকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেবেন। এবারের নির্বাচনে ৮১ জন সিনেটর ভোট প্রদান করবেন।

২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ভিসি প্যানেল নির্বাচনে সর্বোচ্চসংখ্যক ভোট পেয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম নির্বাচিত হন। পরে রাষ্ট্রপতি তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেন।

আরও পড়ুন:
জাবিতে র‍্যাগ উৎসবের নাচ ঘিরে ‘শ্লীল-অশ্লীল’ বিতর্ক
জাবিতে প্রথম নারী উপাচার্যের ৮ বছর
খাবারের দাম নিয়ে ভোগান্তিতে জাবি শিক্ষার্থীরা
৭ ফেব্রুয়ারি থেকে জাবিতে সশরীরে ব্যাবহারিক ক্লাস-পরীক্ষা
করোনা: জাবিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সাক্ষাৎকার স্থগিত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Death penalty for killing wife

স্ত্রীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড

স্ত্রীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড
মমতাজের বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর থেকে তার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে স্ত্রী সুমাইয়া আখতার শারমিনের। এর জেরে ২০১৯ সালের ৪ জুন বদরগঞ্জের যমুনেশ্বরী নদীর তীরে আখের ক্ষেতে নিয়ে সুমাইয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মমতাজ।

রংপুরের বদরগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক তারিক হোসেন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই রায় দিয়েছেন।

ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আসামি হলেন মমতাজ সুলতান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক আনিছুর রহমান।

মমতাজের বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর থেকে তার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে স্ত্রী সুমাইয়া আখতার শারমিনের। এর জেরে ২০১৯ সালের ৪ জুন বদরগঞ্জের যমুনেশ্বরী নদীর তীরে আখের ক্ষেতে নিয়ে সুমাইয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মমতাজ। মরদেহ গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে ডুমুর গাছে ঝুলিয়ে রাখে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোসলেম উদ্দিন বদরগঞ্জ থানায় মমতাজের নামে হত্যা মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
হোমিও চিকিৎসক ও ব্যবসায়ী হত্যায় ৬ জনের যাবজ্জীবন
স্ত্রীকে ‘পিটিয়ে’ হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার মামলায় শিক্ষককে এক বছরের দণ্ড
জমি নিয়ে হামলায় ছোট ভাই নিহত, আটক ৫

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Aman Abad is disrupted due to flooding in Cowadighi Howre

কাউয়াদিঘী হাওরে জলাবদ্ধতা, আমন আবাদ ব্যাহত

কাউয়াদিঘী হাওরে জলাবদ্ধতা, আমন আবাদ ব্যাহত কাউয়াদিঘী হাওর এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে নষ্ট হচ্ছে ধানের চারা। ছবি: নিউজবাংলা
হাওরপারের রাজন আহমেদ বলেন, ‘হাওরঘেঁষা রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদরে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছি, আন্দোলন করছি, কিছুতেই ফল মিলছে না।’

মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘী হাওর এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে নষ্ট হচ্ছে ধানের চারা। এক হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষক।

লোডশেডিংয়ের কারণে মনু নদী প্রকল্পের আওতায় কাশিমপুর পাম্প হাউস পানি নিষ্কাশন করতে না পারায় জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় হাওরঘেরা ৪০ গ্রামের কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সমস্য নিরসনের দাবিতে তারা মিছিল-সমাবেশ করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সেচের সমস্যা হচ্ছে।

কৃষকরা জানান, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় কাউয়াদিঘী হাওর সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর বিস্তৃত। মনু নদী সেচ প্রকল্পের আত্ততায় কাউয়াদিঘী হাওর ও হাওর এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ কাশিমপুর পাম্প হাউস। সেখানে ৮টি পাম্প বিদ্যুতের কারণে সচল না থাকায় আমন চাষের জমিতে ৩-৪ ফুট জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

পানিতে তলিয়ে আছে রোপা আমনের বীজতলা। পানি না কমায় আমন ধানের চারা রোপণের সময় চলে যাচ্ছে। বয়স্ক চারা রোপণ করে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে না বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

হাওরপারের রাজন আহমেদ বলেন, ‘হাওরঘেঁষা রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদরে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছি, আন্দোলন করছি, কিছুতেই ফল মিলছে না।’

এ সংকট নিরসনের দাবিতে দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করেন দুই শতাধিক কৃষক। কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটির উপদেষ্টা সেলিম আহমদের সভাপতিত্বে ও হুমায়ুন রশিদ সোয়েবের সঞ্চালনায় সমাবেশ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন কৃষক সমিতি মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জহর লাল দত্ত, হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি মৌলভীবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদ চৌধুরী, পাঁচগাঁও ইউনিয়নের বাবুল আহমদ, মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ফয়ছল আহমদ, কৃষক নেতা সুলতান আহমদ, আক্তার মিয়া, সুলেমান মিয়া ও ইউপি সদস্য জুবেল আহমদ।

সমাবেশ শেষে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে কৃষি ও কৃষক রক্ষা কমিটি।

রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা পাউবো ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।’

পাউবোর যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এ হান্নান খান জানান, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কাশিমপুর পাম্প হাউসের ৮টি পাম্প চালু করা যাচ্ছে না । শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কেউ এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, অবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের যান্ত্রিক শাখাসহ সবাইকে নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কৃষিকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।

কৃষি বিভাগ জানায়, মৌলভীবাজার জেলায় ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হচ্ছে। এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৩৩ টন।

আরও পড়ুন:
পানির নিচে বীজতলা, আমন আবাদে বিপর্যয়ের শঙ্কা
বৃষ্টির অভাবে বন্ধ আমনের চারা রোপণ
আমনের ফলন ‘ভালো’, কৃষকের মুখে হাসি
বৃষ্টি ধানচাষিদের কাছে আশীর্বাদ
সুনামগঞ্জে তলিয়েছে আমনের জমি, উদ্বিগ্ন কৃষক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The employee complained of harassment against the principal

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ কর্মচারীর

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ কর্মচারীর
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অনেক দিন ধরেই অধ্যক্ষ ওই নারীকে যৌনতার প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। স্বামীকে ছেড়ে তার কাছে যেতে বলেছিলেন। রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছিল।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সরকারি গণ-মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নারী কর্মচারীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দেয়া লিখিত অভিযোগ তদন্ত করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

ইউএনও মো. সিফাত উদ্দিন বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

ওই নারী প্রতিষ্ঠানটির চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অনেক দিন ধরেই অধ্যক্ষ ওই নারীকে যৌনতার প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। স্বামীকে ছেড়ে তার কাছে যেতে বলেছিলেন। রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছিল।

এসব অভিযোগ নাকচ করে অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান বলেন, ‘এসব মিথ্যা। অভিযোগকারীকে পাঁচ হাজার টাকার একটি বিল না দেয়ার কারণে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন।’

ইউএনও জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার মামলায় শিক্ষককে এক বছরের দণ্ড
ফ্যান ছিটকে চোখ হারানো শিক্ষিকাকে দেখতেও যায়নি কেউ
ছাত্রীর ‘শ্লীলতাহানি’, প্রধান শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ
মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধর: ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লাঞ্ছনার মামলা মাদ্রাসা অধ্যক্ষের

মন্তব্য

p
উপরে