× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Mawa end of Padma bridge in safety blanket
hear-news
player
print-icon

নিরাপত্তার চাদরে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত

নিরাপত্তার-চাদরে-পদ্মা-সেতুর-মাওয়া-প্রান্ত
প্রধানমন্ত্রীর আসার সময় যতটা এগিয়ে আসছে ততই পদ্মা সেতু ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার স্তর বাড়ানো হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সেতু ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তার স্তর বাড়ানো হয়েছে। এরইমধ্যে সেতুর মাওয়া প্রান্তের সমাবেশস্থল থেকে ১ কি.মি. দূরত্ব পর্যন্ত আশপাশের এলাকায় সাধারণদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আর কিছু মুহূর্ত। এরপরই বর্ণিল আয়োজনে ফলক উন্মোচিত হবে দেশের সক্ষমতার প্রতীক পদ্মা সেতুর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আয়োজনে যোগ দিতে রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে রওনা হন শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায়। ১০টায় যোগ দেন সেতুর মাওয়া প্রান্তের সুধী সমাবেশে। এরপরই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, সেতুর শুভ উদ্বোধন।

সকাল থেকেই সমাবেশে যোগ দিতে সুধীরা এসেছেন রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ অতিথিরা সমাবেশস্থলে হাজির হয়েছেন। এখন সেখানে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আগে থেকেই সেতু ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার স্তর বাড়ানো হয়েছে। এরইমধ্যে সেতুর মাওয়া প্রান্তের সমাবেশস্থল থেকে ১ কি.মি. দূরত্ব পর্যন্ত আশপাশের এলাকায় সাধারণদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বন্ধ রয়েছে সকল দোকান পাট। আশপাশের অলিগলিতে উৎসুক সাধারণদের কিছু জটলা থাকলেও সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কাউকেই সড়কে দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থল ত্যাগ করার আগে সকল বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করার অনুরোধ জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এমনকি অনেক গণমাধ্যমকর্মীরাও নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নিয়েছেন।

মাওয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা গৌতম শীল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি বাজারে চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। এমন সময় পুলিশ এসে বলল বাসায় চলে যান, এখানে বসা যাবে না। এই কথা শুনে বুঝেছি প্রধানমন্ত্রীর জন্য এই ব্যবস্থা। এখন আমি বাসায় চলে যাচ্ছি।’

বাজার এলাকার পাশের একটি বাড়ির ফটক থেকে রাস্তার দিকে উৎসুক দৃষ্টি রাখা মনোয়ারা বলেন, বাসার কেউ বাইরে যাচ্ছে না, যারা বাইরে গিয়েছিল তারা এসে জানাল এখন সবার বাসায় থাকতে হবে। আমি একটু উঁকি দিয়ে দেখি আরকি কেমন অবস্থা। এইখান থেকেতো প্রধানমন্ত্রীকে দেখা যাবে না তাও দেখি আরকি।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠান বঞ্চিত মুন্সীগঞ্জের এসপি
পদ্মার কাঁঠালবাড়ী প্রান্ত জনসমুদ্র
জাজিরা প্রান্তে সেতুর ফলক উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর
আতশবা‌জি‌তে আ‌লো‌কিত কীর্তনখোলা
পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে নরসিংদী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
A day for Bengalis to cry

বাঙালির কাঁদবার দিন

বাঙালির কাঁদবার দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অলঙ্করণ: মামুন হোসাইন
পশ্চিম জার্মানির নেতা নোবেল পুরস্কার বিজয়ী উইলি ব্রানডিট বলেছিলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে, তারা যেকোনো জঘণ্য কাজ করতে পারে।

আজ বাঙালির কাঁদবার দিন, শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী।

১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের ঘৃণ্যতম এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ৪৭ বছর আগে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল ক্ষমতালোভী নরপিশাচ কুচক্রী মহল।

আজ যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী পালনের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু ছাড়াও ১৫ আগস্ট রাতে ধানমন্ডির বাড়িতে তার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তার জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করে তাকে ও তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় রেন্টু খানকে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার, নিকটাত্মীয়সহ ২৬ জনকে ওই রাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় তারা প্রাণে বেঁচে যান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছাত্র অবস্থায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন সংগ্রামী নেতা। ছিলেন বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ ছয় দফার প্রণেতা। সত্তরের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে এ দেশের গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত করেন। পাকিস্তানের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলে ষাটের দশক থেকেই তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের অগ্রনায়কে পরিণত হন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উত্তাল সমুদ্রে বঙ্গবন্ধু বজ্রদৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই ঘোষণায় উদ্দীপ্ত, উজ্জীবিত জাতি স্বাধীনতার মূলমন্ত্র পাঠ করে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছিনিয়ে আনে দেশের স্বাধীনতা। জাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানব, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর অমর কীর্তি এই স্বাধীন বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক। তিনি বাংলার মাটি ও মানুষের পরম আত্মীয়, শত বছরের ঘোর নিশীথিনীর তিমির বিদারী অরুণ, ইতিহাসের বিস্ময়কর নেতৃত্বের কালজয়ী স্রষ্টা, বাংলার ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। বাঙালি জাতির পিতা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। উন্নত সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নসারথি।

বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর গোটা বিশ্বে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। হত্যাকারীদের প্রতি ছড়িয়ে পড়েছিল ঘৃণার বিষবাষ্প। পশ্চিম জার্মানির নেতা নোবেল পুরস্কার বিজয়ী উইলি ব্রানডিট বলেছিলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে, তারা যেকোনো জঘণ্য কাজ করতে পারে।

বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর স্বাধীনতাবিরোধীরা এ দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পুনর্বাসিত হতে থাকে। তারা এ দেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে নানা উদ্যোগ নেয়। শাসকদের রোষানলে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণও যেন নিষিদ্ধ হয়ে পড়েছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ঠেকাতে কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করেছিল মোশতাক সরকার। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসীন হলে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ উন্মুক্ত করা হয়। বিচার শুরু হয় ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের চূড়ান্ত রায় অনুযায়ী ওইদিন মধ্যরাতের পর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তবে বিভিন্ন দেশে পলাতক থাকায় কয়েকজন খুনির সাজা এখনও কার্যকর করা যায়নি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্বাধীনতার স্থপতিকে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনের পথ সুগম হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হতে থাকে। দিনটিকে সরকারি ছুটির দিনও ঘোষণা করা হয়। তবে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলে এ ধারাবাহিকতায় ছেদ ঘটে। তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালন বাতিল করে দেয়। পরে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবার রাষ্ট্রীয়ভাবে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। ফলে জাতীয় শোক দিবস পালনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।

আজ সরকারি ছুটি। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনগুলোয় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোয়ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া দেশের সব সরকারি হাসপাতালে দিবসটি উপলক্ষে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ ছাড়া পোস্টার, সচিত্র বাংলাদেশের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি: আজ সকাল সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। সশস্ত্র বাহিনী গার্ড অফ অনার প্রদর্শন করবে। এ সময় বিশেষ মোনাজাত ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য ও অন্যান্য শহীদের কবরে এবং দুপুর ১২টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। এ সময় ফাতেহা পাঠ ও সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অফ অনার প্রদানসহ বিশেষ মোনাজাত এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সারা দেশে সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিলসহ জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ১৫ আগস্ট সূর্যোদয়ের ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে এবং ৮টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও দোয়া মাহফিল, দুপুর ১২টায় টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত এবং বাদ জোহর দেশব্যাপী মসজিদ-মাদ্রাসায় মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল যা কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনা সভা। মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে (রাত ১২:০১ মিনিট) মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে (৩/৭-এ সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০) মোমবাতি প্রজ্বলন ও বিশেষ প্রার্থনা, সকাল ৯টায় তেজগাঁও হলি রোজারি চার্চে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করবে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়, সকাল ১০টায় রাজধানীর মেরুল-বাড্ডা আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং বেলা ১১টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় প্রার্থনা সভার আয়োজন করবে।

দুপুরে অসচ্ছল, দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হবে। আর বাদ আসর মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে শোকসভা।

এ ছাড়া সিপিবি, গণফোরাম, জাসদ, ন্যাপ ও গণতন্ত্রী পার্টি এবং আওয়ামী লীগের সব সহযোগী ও ভ্রাতপ্র্রতিম সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী, জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ, এর সহযোগী ও ভ্রাতপ্রতিম, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর ৪ স্মৃতি জাতীয় জাদুঘরে
বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলব খুঁজতে এ বছরই কমিশন চালুর আশা
বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার মামলায় শিক্ষককে এক বছরের দণ্ড
বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কেন নয়: হাইকোর্ট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bangladesh is far ahead Education Minister

বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে: শিক্ষামন্ত্রী

বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে: শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সেমিনারে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা
ডা. দীপু মনি বলেন,‘দেশের মানুষ এখন উন্নয়নের ছোঁয়ায় প্রতিনিয়ত নিজেদেরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। বৈশ্বিক মন্দার মাঝে অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে। তাই রাস্তায় কেউ হারিকেন নিয়ে নামলেই দেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে না।’

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে বাংলাদেশ তুলনামূলক অনেক এগিয়ে আছে বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম ‘অশ্রুঝরা আগস্টে শোকসঞ্জাত শক্তির অন্বেষা’ শিরোনামে এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি ড. মীজানুর রহমান।

প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে দেশকে দ্বিতীয় পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিরা। বঙ্গবন্ধুকে শোষিত মানুষের পক্ষে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তাই তাকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র হয়।’

দেশ আগের তুলনায় অনেক ভালো চলছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন উন্নয়নের ছোঁয়ায় প্রতিনিয়ত নিজেদেরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। বৈশ্বিক মন্দার মধ্যে অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে।

‘ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেড়ে ওঠা নেতৃত্ব দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। তারা নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিদ্যুতের সংকটকে সামনে এনে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা চলছে। অথচ ২০০৮ সালের আগে দেশের মানুষ দুই-তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ পেয়েছে কিনা মনে করতে পারবে না। তাই রাস্তায় কেউ হারিকেন নিয়ে নামলেই দেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে না।’

সেমিনারে নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান, জাতীয় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদ আসকারী সহ ফোরামের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সিনিয়র সাংবাদিক বিভু রঞ্জন সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস।

আরও পড়ুন:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন করার চিন্তা
লুটের রাজনীতিতে বিশ্বাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে: শিক্ষামন্ত্রী
করোনায় শিক্ষায় ক্ষতি পোষাতে পরিকল্পনা অনুমোদন শিগগিরই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Many of the missing have fled and many are hiding Home Minister

‘গুমের’ অনেকে পালিয়েছে, অনেকে আত্মগোপনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘গুমের’ অনেকে পালিয়েছে, অনেকে আত্মগোপনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ফাইল ছবি
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার দেখা করতে গেলে গুম বিষয়ে ব্যাখ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে বলেছেন, ঘৃণ্য অপরাধ যারা করেছে, পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করেছে, তারা সীমান্তের ফাঁকফোকর দিয়ে বিভিন্ন দেশে চলে গিয়েছে। গুমের তালিকার ৭৬ জনের মধ্যে ১০ জন তাদের বাড়িতেই আছেন। দুজন আছেন জেলখানায়।

গুমের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন সরকারের কাছে গুম হওয়া যে ৭৬ ব্যক্তির তালিকা দিয়েছিল, তাদের ব্যাপারে সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটকে অবগত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেলের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘আমাদের ৭৬ জনের মিসিং বা ডিসঅ্যাপিয়ার্ড পারসনের তালিকা দেয়া হয়েছিল, আমাদের বলা হয়েছিল। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি এ ৭৬ জনের মধ্যে ১০ জন তাদের বাড়িতেই আছেন। দুজন আছেন জেলখানায়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তাকে বলেছি, আমাদের দেশে তিনটি কারণে ডিসঅ্যাপিয়ার হয়: প্রথম কারণ হচ্ছে ঘৃণ্য অপরাধ যারা করে, ভিডিওর মাধ্যমে আমরা দেখিয়েছি, পুলিশকে পিটিয়েও তারা হত্যা করেছে। আমরা এটাও দেখিয়েছি, কীভাবে তারা মানুষের সম্পদ ধ্বংস করেছে। যারা এগুলো করেছে, তারা সীমান্তের ফাঁকফোকর দিয়ে বিভিন্ন দেশে চলে গিয়েছে। তারা ভারত কিংবা মিয়ানমার কিংবা অন্য কোনো জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। বাকিগুলো সব আমাদের সঙ্গেই আছে।’

বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (মিশেল) আগেই আমাদের কিছু লিখিত প্রশ্ন দিয়ে দিয়েছিলেন, যেগুলো নিয়ে তিনি আলাপ করতে চান। সেগুলো সবকিছু তাকে (বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে)... আমাদের ভূমিকা, আমাদের কীভাবে চলছে, আমাদের সরকারিভাবে একটি মানবাধিকার কমিশন রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসা ছিল, অনেকে মিসিং হয়ে যায়, আমাদের ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন। অনেক নৃশংসতা বাংলাদেশে হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরা কী করেছি।

‘আমরা তাকে বলেছি, আমাদের জাতির পিতা যিনি আমাদের দেশটি স্বাধীন করেছেন, যেখানে ৩০ লাখ মানুষের রক্ত ঝরেছে, যেখানে দুই লাখ মা-বোনের চরম আত্মত্যাগ রয়েছে, স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির পিতাকে শাহাদাত বরণ করতে হয়েছে। কাজেই সব সময় আমাদের দেশে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত লেগেই আছে।’

তিনি বলেন, ‘অন্ধকার যুগ পেরিয়ে যার ধমনিতে বঙ্গবন্ধুর রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ চলছে। আমরা সেই অন্ধকার থেকে বাংলাদেশ তৈরি করেছি। আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন। আমাদের সংবাদপত্র সব স্বাধীন। আমরা বলেছি, আমাদের এখানে ১ হাজার ২৬৫টি স্বীকৃত দৈনিক সংবাদপত্র। সব মিলিয়ে সংবাদপত্র আছে ৩ হাজার ১৫৪টি। মোট টিভি চ্যানেল আছে ৫০টি। তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

‘এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাধীনতা পেয়ে তারা যা ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকে, মতামত প্রকাশ করে থাকে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়েও তিনি কথা বলেছেন। আমরা বলছিলাম এটার সবচেয়ে বড় শিকার হলেন নারীরা, শিশুরা। খুব কমসংখ্যক, ৩ শতাংশের বেশি নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবে মামলা হয়েছে। এদের নিরাপত্তার জন্যই আইনটি ছিল। আইনমন্ত্রী বলেছেন, এটাকে আরেকটু সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে, আমরা সেটাই করছি। এখন কেউ মামলা করলে আমরা দেখি সে অপরাধটা করেছে কি না, অপরাধ করলে মামলাটা নেয়া হয়। তিনি (মিশেল) বলেছেন, আইনমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি।’

বৈঠকে রোহিঙ্গাদের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের ১২ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কথা বলেছি। তারাও এদের দুঃখের-কষ্টের কথা স্বীকার করলেন। তারা জানে আমরা মাদক তৈরি করি না। কিন্তু ভৌগোলিক কারণে আমরা আক্রান্ত হচ্ছি। ইয়াবা, আইস মিয়ানমার থেকে আসে এবং অন্যান্য দেশ থেকে কোকেনসহ বিভিন্ন মাদক আসে।

‘সেগুলো বন্ধ করার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। মিয়ানমারের সঙ্গে সমস্যা সমাধানের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের সঙ্গে বহুবার বসেছি। তারা (মিয়ানমার) সব সময় অনেক অঙ্গীকার করেছে, সেগুলোর একটাও তারা রাখেনি। তারা (মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের প্রতিনিধি দল) সব বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘তারা বলছেন, তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন। জাতিসংঘের সব সংস্থাই বলছে, আমাদের সঙ্গে সবারই কথা হচ্ছে। মিয়ানমারের সরকারের অবস্থা ভালো না, এ মুহূর্তে সম্ভব হচ্ছে না– এটাই তারা বলে যাচ্ছেন, বলছেন।

‘মাইনরিটির প্রসঙ্গটিও এসেছে: নড়াইলের ঘটনা এবং অন্যান্য ঘটনা। আমরা বলেছি, এগুলো ফেসবুক এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যেসব কমেন্ট করা হয়েছে, এগুলো দেখেই। যেখানে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেখানেই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি। মামলা হয়েছে এবং তাদের অ্যারেস্ট করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক নেতারা বসে ওখানে একটা শান্তির ব্যবস্থা আমরা করেছি। সবকিছু তারা অ্যাপ্রিশিয়েট করেছেন। যে অ্যাকশনগুলো আমরা নিয়েছি, সেগুলোর তারা প্রশংসা করেছেন।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘নেত্র নিউজ সব সময় ভুয়া নিউজ দিয়ে থাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে। আমরা এগুলোকে নিউজ বলে মনে করি না। আমাদের দেশের যে ঘটনা, আমাদের দেশের মিডিয়া ফ্রি। তারা যেকোনো সংবাদ সব সময়ই প্রকাশ করে থাকেন। আমরা কোনো মিডিয়ার ওপর কোনো সেন্সর করি না। কাজেই কোথাকার কোন নিউজ কী বলল, আমরা সেগুলোর কোনো বাস্তবতা খুঁজে পাই না।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘গুম দিবস যারা করেন, তারা একটা উদ্দেশ্য নিয়েই করেন। তারাও জানেন, তাদের ছেলেটি কিংবা ভাইটি কিংবা তাদের মেয়েটি কোথায় আছেন। আমরা এটুকু বলতে চাই যে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাদের নিয়ে যায়, তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোর্টে সাবমিট করতে হয়। কেউ যদি ইচ্ছে করে গুম হয়ে যায়, কেউ যদি কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে বিদেশে চলে যায়, কিংবা সমুদ্রপথে যদি চলে যায়, যেটাকে আমরা মানব পাচার বলি, সেখানে চলে যায়, আমাদের তো তাকে বের করতে যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। কাজেই যারা এগুলো বলছেন, এগুলো আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী দেখছেন। আমরা যাকেই খুঁজে পাব, তাকে আমরা প্রকাশ করে দেখাব।’

‘গুম দিবস’ যারা পালন করেন, তারাও জানেন তারা কোথায় আছেন? – সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘না, না আমি সেটা বলতে চাইনি। আমি বলতে চাচ্ছি, তারাও জানেন, তারা কোথায় গিয়েছেন। অনেকেই জানেন, সবাই জানেন এমন কথা বলব না।

‘কেউ যদি ইচ্ছে করে আত্মগোপন করে থাকে, আমরা কেন, কেউই এই আত্মগোপন বের করতে পারবে না যে পর্যন্ত তারা স্বেচ্ছায় না চলে আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্ডারগুলোতে অনেক জায়গা দিয়ে তারা খুব ইজিলি চলে যেতে পারে। আমরা এটিই বলতে চাই। দ্বিতীয় বিষয় সমুদ্রপথ দিয়েও চলে যেতে পারে। যে কোনোখানে তারা চলে যেতে পারে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু বিচার বিভাগ স্বাধীন, কাজেই বিচারকাজকে এড়ানোর জন্যই তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সেগুলোর নমুনা আমরা তাদের দিয়েছি, আসলে তারা কী ধরনের ক্রাইম করেছে। আর একটি বিষয় আমরা তাদের বলেছি, যারা দেউলিয়া হয়ে যায় পাওনাদার বেড়ে যায়, ফলে পাওনাদারদের এড়ানোর জন্য গায়েব হয়ে যায়, আত্মগোপনে যায়। আমরা যখন অভিযোগ পাই, তখন আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের খুঁজে বের করে আনলে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। আবার পারিবারিক কারণেও অনেকেই গুম হয়ে যায়।’

আরও পড়ুন:
গুম হওয়া মানুষ ও ভূমধ্যসাগরের সলিলসমাধি
নিরাপত্তা বাহিনী কোনো গুমের সঙ্গে জড়িত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গুম নিয়ে জাতিসংঘকে সন্তুষ্ট করতে চায় ঢাকা
গুম: জাতিসংঘ তদন্ত দলকে দেশে চায় বিএনপি
নিজেরা গুম করে সরকারকে দোষ দেয় বিএনপি: কাদের
বাংলাদেশ
On the occasion of the National Day of Mourning SFIL held a memorial service and prayers

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এসএফআইএলের স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এসএফআইএলের স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এফএফআইএলের আয়োজনে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
এসএফআইএলের এমডি ও সিইও ইরতেজা আহমেদ খান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আমি যতোবার শুনি ততবারই নতুন মনে হয়। এই ভাষণের মধ্যে তিনি যত দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, সেটা তখনকার জন্য যেমন প্রযোজ্য, এখনকার জন্যও তেমনি প্রযোজ্য।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্ট্রাটেজিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে মতবিনিময় সভা ও দোয়া মহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজধানীর বাড্ডায় র‍্যাংগস আরএল টাওয়ারে স্ট্রাটেজিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে রোববার বিকেল ৫টায় আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, শেখ মুজিব ছিলেন আপোষহীন নেতা, তিনি প্রথমে মুজিব ভাই ছিলেন, পরে শেখ মুজিব হয়েছেন, তার পর বঙ্গবন্ধু হয়েছে। আমাদের সবাইকে তাকে অনুসরণ করা উচিত। আমরা যারা স্বধীনতার পরের প্রজন্ম, আমাদের সবারই তার সম্পর্কে বিশদ জানতে হবে। তার আদর্শ আমাদের লালন করতে হবে।

সভায় কানাডিয়ান ইউনির্ভাসিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এইচ এম জহিরুল হক বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে আমদের ৭ কোটি মানুষ খেয়ে না খেয়ে থাকত, আর এখন ১৬ কোটির উপর মানুষ নিয়ে ভালো ভাবে খেয়ে পরে বেঁচে আছি। সবই সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কারণে। কারণ, তিনি স্বাধীনতা না এনে দিলে আমরা এই অবস্থানে আসতে পারতাম না।’

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এসএফআইএলের স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত
স্মরণসভায় বক্তব্য দেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. এইচ এম জহিরুল হক। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

স্মরণসভায় বক্তব্যে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক হাসান ইমাম রুবেল বলেন, ‘ন্যায্যতার বিষয়ে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপোষহীন, তিনি সারা জীবন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে গেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছি, তিনি বেঁচে থাকলে এখন বাংলাদেশ যে অবস্থানে আছে, সেটা আরও ৩০-৪০ বছর আগে হতো। কিন্তু আশার কথা হলো, বঙ্গবন্ধুর রক্ত এখনো কারো ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনিই এখন এই দেশটাকে উন্নত করে যাচ্ছেন। তিনি হলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এসএফআইএলের স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত
বক্তব্য দিচ্ছেন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক হাসান ইমাম রুবেল। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

এসএফআইএলের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর তামিম মারজান হুদার সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন এসএফআইএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইরতেজা আহমেদ খান।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ আমি যতোবার শুনি ততবারই নতুন মনে হয়। এই ভাষণের মধ্যে তিনি যত দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, সেটা তখনকার জন্য যেমন প্রযোজ্য, এখনকার জন্যও তেমনি প্রযোজ্য।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এসএফআইএলের স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত
স্মরণসভায় বক্তব্য দেন এসএফআইএলের এমডি ও সিইও ইরতেজা আহমেদ খান। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

‘তখন তার নির্দেশে দেশের মানুষ যুদ্ধ করেছে, আর এখন আমরা করছি অর্থনৈতিক যুদ্ধ। বঙ্গবন্ধুকে অনুসরণ করলে দেশে যত বাধাই আসুক, আমরা সেটা কাটিয়ে উঠতে পারব।’

স্বরণ সভায় এসএফআইএলের হেড অফ রিটেইল মো. সাজেদুল হক মৃধাসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
এসএফআইএল ও নগদের মধ্যে চুক্তি
সাশ্রয়ী গৃহঋণে এসএফআইএল-জেবিএস হোল্ডিংস চুক্তি
দেড় বছরেই গ্রাহকের আস্থায় এসএফআইএল
গ্রিন প্রোডাক্টসে অর্থায়ন করবে এসএফআইএল
এসএফআইএল-এনডিবি ক্যাপিটাল সমঝোতা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
This time the limit of profit in the sale of dollars is determined

এবার ডলার বিক্রিতে মুনাফার সীমা নির্ধারণ

এবার ডলার বিক্রিতে মুনাফার সীমা নির্ধারণ
বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দর ৯৫ টাকা বেঁধে দিলেও সম্প্রতি কার্ব মার্কেটে তা ওঠে রেকর্ড ১২০ টাকায়। এমনকি ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দরে তো নয়-ই, এর চেয়ে ১০ টাকা বেশিতেও মুদ্রাটি পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে কার্ব মার্কেটে ডলারের উত্তাপ কিছুটা কমেছে। চাহিদা কমায় রোববার ১২০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১১৪ টাকায়। এক দিনে ৬ টাকার পতন সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি।

ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে এবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলার কেনাবেচায় দামের ব্যবধান (স্প্রেড) সর্বোচ্চ কত হতে পারবে, তা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যে দরে ডলার কেনা হবে, বিক্রির দাম হবে তার চেয়ে সর্বোচ্চ ১ টাকা বেশি ।

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চলমান অস্থিরতা নিয়ে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা)।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলো যে দরে ডলার কিনবে, তার সঙ্গে বিক্রয় মূল্যের একটি সিলিং করতে হবে। সব ব্যাংক এটি ফলো করবে বলে তারা জানিয়েছেন।’

তবে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আলোচনা হয়েছে ডলার কেনা ও বেচার ওই ব্যবধান এক টাকার বেশি হবে না।

করোনা শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ সারা বিশ্বে রীতিমতো ভীতি সঞ্চার করেছে। জ্বালানির দর বৃদ্ধির পাশাপাশি এটির সরবরাহে অনিশ্চয়তাসহ নানা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডলারের সংকটও তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দর ৯৫ টাকা বেঁধে দিলেও সম্প্রতি কার্ব মার্কেটে তা ওঠে রেকর্ড ১২০ টাকায়। এমনকি ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দরে তো নয়-ই, এর চেয়ে ১০ টাকা বেশিতেও মুদ্রাটি পাওয়া যাচ্ছে না।

ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ডলার নিয়ে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর এসব ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে কার্ব মার্কেটে ডলারের উত্তাপ কিছুটা কমেছে। চাহিদা কমায় রোববার ১২০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১১৪ টাকায়। এক দিনে ৬ টাকার পতন সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে এবিবির চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন, বাফেদা চেয়ারম্যান এবং সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. আতাউর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরও জানান, বাফেদা ও এবিবিকে ডলার মার্কেট খুব দ্রুত স্থিতিশীল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাফেদা ও এবিবি একমত হয়েছে, খুব দ্রুত ডলার মার্কেট স্থিতিশীল করবে।

ব্যাংকগুলো রপ্তানি করার পর যদি দ্রুত ডলার দেশে ফিরিয়ে আনে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো যদি আন্তব্যাংকের মধ্যে ডলার সরবরাহ করতে পারে, সেই বিষয়গুলোও বলা হয়েছে।

সিরাজুল বলেন, ‘চলতি আগস্টের প্রথম ১১ দিনে ১ বিলিয়ন কম এলসি (ঋণপত্র) খোলা হয়েছে। এই অল্প সময়ের মধ্যে বিলাসপণ্য আমদানি বন্ধ করতে পেরেছি। ফলে এই পদক্ষেপের কারণে অসামাঞ্জস্যতা কমে আসবে।’

আরও পড়ুন:
শুধু সরকারি আমদানিতে ডলার জোগাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকের অন্য শাখায় ডলার কেনাবেচার সিদ্ধান্ত
এবার খোলাবাজারে ডলার ছুঁল ১২০ টাকা
দিনে ৪ কোটি ডলার বিক্রি, তবু বাগে আসছে না
ডলার কারসাজি: ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণের নির্দেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In the true sense I didnt say heaven It was a word of mouth Foreign Minister

ট্রু সেন্সে বেহেশত বলিনি, এটা ছিল কথার কথা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ট্রু সেন্সে বেহেশত বলিনি, এটা ছিল কথার কথা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। ফাইল ছবি
‘আমি তো ট্রু সেন্সে (আক্ষরিক অর্থে) বেহেশত বলিনি। এটা ছিল কথার কথা। কিন্তু আপনারা তো সবাই মিলে আমারে খায়া ফেললেন।’

বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো আছে- এটা বোঝাতে গিয়ে নিজের দেয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা আবার দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেছেন, বেহেশতের যে কথা তিনি বলেছেন, সেটি আক্ষরিক অর্থে বলেননি। এটা ছিল কথার কথা।

দুই দিন আগে সিলেটে দেয়া বক্তব্যের পর দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা আর ফেসবুকজুড়ে ট্রলের মধ্যে মন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন শনিবার। রোববার বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের সঙ্গে আলোচনা শেষেও প্রসঙ্গটি তোলেন তিনি। বলেন, ‘আপনারা সবাই আমারে খায়া ফেললেন…।

গত শুক্রবার সিলেটে দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো ট্রু সেন্সে (আক্ষরিক অর্থে) বেহেশত বলিনি। এটা ছিল কথার কথা। কিন্তু আপনারা তো সবাই মিলে আমারে খায়া ফেললেন।

‘আমরা অনেকের চেয়ে ভালো আছি। বলতে পারেন বেহেশতে আছি। আর যায় কোথায়! সবাই আমারে এক্কেরে...। এই হলো বাংলাদেশের মিডিয়ার স্বাধীনতা খর্ব।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কি মিডিয়ার স্বাধীনতা খর্ব করেছি? আফটার অল আই অ্যাম আ পাবলিক ফিগার। নিশ্চয়ই আপনারা আমাকে ক্রিটিসাইজ করতে পারেন। আই ডোন্ট মাইন্ড। তবে আগামীতে সাবধান হতে হবে।

‘আমি খোলামেলা মানুষ। আমি শিক্ষক মানুষ। আমি যেটা মনে করি, সেটা খোলামেলা বলে ফেলি। আমার দল থেকে আমাকে ‘ইয়ো’ করেছেন। পজিশনে থেকে ভালো কথা বলা দরকার।’

বিচারবহির্ভূত হত্যা বলে কিছু নেই

এ ধরনের ঘটনা আগে হলেও এখন নেই বলেও দাবি করেন মোমেন। বলেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে কোনো তথ্য পেলে সরকার তা তদন্ত করবে।’

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটকে এ তথ্য জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

মোমেন বলেন, ‘আমরা বলেছি- গুম বলে আমাদের দেশে কোনো শব্দ নেই। কিছু কিছু লোক নাকি বলেছে যে ৭৬ জন লোক গত ১০ বছরে নিখোঁজ হয়ে গেছে। তারা বলেছে, সরকার নাকি নিখোঁজ করেছে। ৭৬ জনের মধ্যে আবার ১০ জনকে দেখা যায়, পাওয়া গেছে। বাকিগুলো আমরা ঠিক জানি না। পরিবার কোনো তথ্য দেয় না। পরিবারকে বলা হয়, তারা ভয়ে আর কোনো তথ্য দেয় না। আমরা জানি না তারা কোথায় গেছেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে তারা কিছু বলেনি। আমরা নিজে থেকেই বলেছি। এ রকম বলা হয়েছে যে কিছু লোককে কিলিং করা হয়েছে। আমাদের এখানে আগে হতো এটা- ২০০০, ২০০৩ ওই সময়ে। বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে কোনো তথ্য পেলে তদন্ত করা হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ প্রতি বছর হাজারখানেক লোককে মেরে ফেলে উল্লেখ করে মোমেন বলেন, ‘আমাদের দেশে আগে হতো; ২০০২ বা ২০০৩ বা পরে এবং ওই সময় হার্টফেল হতো। কিন্তু এখন আর হার্টফেল নেই।’

আলোচনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের সঙ্গে আলোচনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি এসেছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বলেন, ‘ওদের (জাতিসংঘ) ধারণা বাংলাদেশে টেলিভিশন মিডিয়াগুলোতে কোনো ফ্রিডম নেই। কেউ নিজের কথা বলতে পারে না। তাদের (গণমাধ্যম) সেন্সর করে। আমি বলেছি, আমার এমন কিছু জানা নেই। আমি তো দেখি আমাদের মিডিয়া ভেরি স্ট্রং। প্রাইভেট টেলিভিশন একটা কথা বললেই ধরে ফেলে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে জাতিসংঘ

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে জাতিসংঘ খুব উদ্বিগ্ন এবং এ সমস্যা সমাধানে তারা আমাদের সহযোগিতা করবে বলে জানান মিশেল ব্যাচেলেট।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছি রোহিঙ্গা আগেও এসেছিল বহুবার এবং ফেরত গেছে। এবারের সংখ্যা বেশি। তবে দুঃখের বিষয় যারা মানবাধিকারের জন্য শান্তি পুরস্কার পেয়েছে, তারা মিয়ানমারের সঙ্গে আগের মতো সম্পর্ক বজায় রাখছে।

‘তারা চুটিয়ে ব্যবসা করছে এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ব্যবসা ১৫ গুণ বেড়েছে। শুধু যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য বেড়েছে ১০০ গুণ। বিনিয়োগ হয়েছে গত পাঁচ-ছয় বছরে ২৩০ কোটি ডলার। আমরা বলেছি আপনারা রাখাইনে গিয়ে সাহায্য করেন।’

আরও পড়ুন:
বেহেশতে আছে এমপি-মন্ত্রী আর আওয়ামী লীগ কর্মীরা: জিএম কাদের
দেশে ‘বেহেশতের’ ব্যাখ্যা দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য জনগণের সঙ্গে তামাশা: ফখরুল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hybrids keep us in the dark Khairuzzaman Liton

‘হাইব্রিড’রা আমাদের কোণঠাসা করে রেখেছে: খায়রুজ্জামান লিটন

‘হাইব্রিড’রা আমাদের কোণঠাসা করে রেখেছে: খায়রুজ্জামান লিটন শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। ছবি: নিউজবাংলা
খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘দলের মধ্যে অনেকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তাদের আমরাই ঢুকিয়েছি, পদ-পদবি দিয়েছি, আসন দিয়েছি। যারা বংশগতভাবে আওয়ামী লীগ করে তাদের অনুপ্রবেশকারীরা এখন কোণঠাসা করে রেখেছে, একদম গোল করে ঘিরে রেখেছে।’

দলে অনুপ্রবেশকারী 'হাইব্রিড’রা প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতাদের কোণঠাসা করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।

রাজধানীর শাহবাগে এক অনুষ্ঠানে রোববার দুপুরে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মিলনায়তনে রোববার এক আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটি।

সভায় খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রায় ১৫ বছর একটানা ক্ষমতায়, এ সময়ে দলের মধ্যে অনেকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তাদের আমরাই ঢুকিয়েছি, পদ-পদবি দিয়েছি, আসন দিয়েছি। যারা বংশগতভাবে আওয়ামী লীগ করে, তাদের অনুপ্রবেশকারীরা এখন কোণঠাসা করে রেখেছে, একদম গোল করে ঘিরে রেখেছে।

‘যারা অরিজিনাল আওয়ামী লীগার তাদের বাইরে রেখে এখন অনুপ্রবেশকারীরা নেতা সেজেছে। এই অবস্থা চলতে দেয়া যাবে না। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সব খবর রাখেন। তিনিও এসব বিষয়ে নজরদারি করছেন এবং করবেন।’

মাঠের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আন্দোলন-সংগ্রামে তারাই রাজপথে লাঠি নিয়ে থাকি। হাইব্রিডরা সেখানে যাবে না।

‘এই দেশের স্বাধীনতা এনেছেন আমাদের বাবা-চাচা, তাই স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। চোরার দলকে ক্ষমতায় গিয়ে বোমাবাজি, লুটপাট করতে দেয়া যাবে না। তাদের ফের হাওয়া ভবন বানানোর সুযোগ দেয়া যাবে না। আমরা তাদের রাজপথে মোকাবিলা করার জন্য তৈরি আছি।’

লিটন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মধ্যেই দেশে অস্থিরতা তৈরি করা হলো বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে। কারা ছিলেন এর নেপথ্যে? পরাশক্তির ইন্ধন ছিল। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির সামনে জাসদের মিছিল থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়, ঈদের জামাতে গুলি করে সংসদ সদস্যকে হত্যা করা হয়। ব্যাংক ডাকাতির পর জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হয়।

‘স্বাধীনতার পর থেকেই ষড়যন্ত্র চলে আসছে। কুড়িগ্রামের পাগল বাসন্তীর গায়ে মাছ ধরার জাকি জাল দিয়ে দুর্ভিক্ষের প্রচার করা হয়। অথচ সে জালের দাম তখনকার সময়ে একটি শাড়ির চেয়ে তিন গুণ। খাদ্যাভাব হতে পারে ভেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বঙ্গবন্ধু গম চাইলেন, খাদ্য সহায়তার সেই জাহাজ দেশের কাছাকাছি এসেও ফিরে চলে গেল। বিশেষ চক্র এভাবেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার ক্ষেত্র তৈরি করেছিল। রশিদ-হুদারা ছিল এ ক্ষেত্রে স্রেফ ভাড়াটিয়া খুনি। বিদেশি শক্তি বাদ দিলে জিয়াউর রহমান ছিল এ ক্ষেত্রে মাস্টার মাইন্ডের এক নম্বর।’

সভায় আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য নায়কদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি। নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে, বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে কী ছিল, কারা পর্দার আড়ালে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল।’

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দ আবদুল আওয়াল শামীম, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্বদ্যিালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য পবিত্র সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য নাসরীন আহমেদ, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও সাংবাদিক আবেদ খান আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

p
উপরে