× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Toll on Padma bridge in 3 seconds
hear-news
player
print-icon

পদ্মা সেতুতে টোল ৩ সেকেন্ডে

পদ্মা-সেতুতে-টোল-৩-সেকেন্ডে
পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে মাত্র ৩ সেকেন্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদায় হবে টোল। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী (কারিগরি) কাজী মোহাম্মাদ ফেরদৌস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তের টোল প্লাজায় সাতটি করে মোট ১৪টি গেট রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে দুই প্রান্তে দুটি গেটে ইলেকট্রনিকস টোল কালেকশন বুথ চালু হবে। যার ভেতর দিয়ে একটি গাড়ি মাত্র ৩ সেকেন্ডে পার হতে পারবে।’

পদ্মা সেতু হয়ে সড়কযাত্রায় টোল দিতে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে না। সেতু এলাকায় বসছে আধুনিক ইলেকট্রনিকস টোল কালেকশন (ইটিসি) বুথ। এতে চলমান গাড়ি থেকে মাত্র ৩ সেকেন্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদায় হবে টোল।

প্রথম পর্যায়ে সেতুর দুই প্রান্তের টোল প্লাজায় দুটি গেটে বসানো হবে ইটিসি বুথ। পর্যায়ক্রমে দুই প্রান্তের অন্য ১২টি গেটেও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করা হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোলসুবিধা চালু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন বুথগুলো স্থাপন করছে। এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে টোল পরিশোধের জন্য যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে লাগাতে হবে বিশেষ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) কার্ড। ফাস্ট ট্র্যাকের মাধ্যমে এই প্রি-পেইড কার্ড থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল কেটে নেবে ইটিসি বুথ।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী (কারিগরি) কাজী মোহাম্মাদ ফেরদৌস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তের টোল প্লাজায় সাতটি করে মোট ১৪টি গেট রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে দুই প্রান্তে দুটি গেটে ইলেকট্রনিকস টোল কালেকশন বুথ চালু হবে। যার ভেতর দিয়ে একটি গাড়ি মাত্র তিন সেকেন্ডে পার হতে পারবে।

‘বাকি ১২টি গেট ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। তবে যানবাহনে আরএফআইডি কার্ডের ব্যবহার যত বাড়বে তত ইটিসি বুথ বাড়ানো হবে।’

কাজী মোহাম্মাদ ফেরদৌস জানান, ডিজিটাল পেমেন্টের জন্য যানবাহনে অবশ্যই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অনুমোদিত আরএফআইডি ট্যাগ থাকতে হবে। গাড়ির মালিক ব্যাংকে বা টোল প্লাজায় গিয়ে আরএফআইডির জন্য সরাসরি নিবন্ধন করতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘এই নিবন্ধনের জন্য যানবাহন মালিকদের অবশ্যই ডাচ্-বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অথবা রকেট মোবাইল অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। রকেট অ্যাকাউন্টটি নেক্সাস-পে অ্যাপ্লিকেশনটিতে আগে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর তারা ইলেকট্রনিক টোল দেয়ার সুবিধা পাবেন।’

এ বিষয়ে সেতু সচিব মো. মনজুর হোসেন বলেন, ‘সেতু এলাকায় একটি অটোমেটিক টোল সিস্টেম থাকবে। এটা এমন না যে ২৫ তারিখ থেকে এটি চালু হবে। এর জন্য আমাদের কিছুটা সময় লাগবে। যে কোম্পানি কাজ নিয়েছে তাদের অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে ইটিসি চালু করতে।

‘সেই সিস্টেমটা থাকবে এমন যে কারও কাছে নির্দিষ্ট কার্ড থাকলে তার গাড়ি আনইন্টারাপ্টেড ক্রস করবে। দ্যাট মিনস, গাড়ি থামাতে হবে না। কার্ড থেকে টাকা কেটে নেবে, যেটা ইটিসি (ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন) বলে। টাকা নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। বার উঠে যাবে।’

মনজুর হোসেন বলেন, ‘কারও কাছে কার্ড না থাকলে সে ক্যাশ দিয়ে অথবা ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করেও পার হতে পারবে। প্রতিটা সিস্টেমে একটা ডেডিকেটেড ইটিসি প্রথমে থাকবে, আস্তে আস্তে আমরা পুরোটাই ইটিসিতে চলে যাওয়ার চেষ্টা করব।’

কোরিয়া ও চীনের দুটি কোম্পানি যৌথভাবে পাঁচ বছরের জন্য পদ্মা বহুমুখী সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ের দায়িত্ব পেয়েছে। এরা হলো কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন (কেইসি) এবং চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি)। কোম্পানি দুটি এ জন্য পাবে ৬৯২ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন: শিমুলিয়ায় ট্যুরিস্ট পুলিশের শোভাযাত্রা
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন ১৪ সেতুর টোল মওকুফ
পদ্মা সেতুর গর্বিত অংশীদার অগ্রণী ব্যাংক
সভামঞ্চ পদ্মা সেতুর আদলেই
পদ্মা সেতু নিয়ে উচ্ছ্বসিত সেই বিশ্বব্যাংক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The whole jackfruit won by eating 59 koas in 2 minutes

২ মিনিটে ৫৯ কোয়া খেয়ে জিতলেন আস্ত কাঁঠাল

২ মিনিটে ৫৯ কোয়া খেয়ে জিতলেন আস্ত কাঁঠাল
দিনভর নানা আয়োজনে মুখর ছিল কলেজ প্রাঙ্গণ। কাঁঠালকথন, কাঁঠালরঙ্গ, আবৃত্তি, গান, সম্মাননা ও আলোচনা সভা শেষে রাখা হয় কাঁঠাল খাওয়ার প্রতিযোগিতা।

কাঁঠাল নিয়ে জমজমাট আয়োজন হয়েছে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ চত্বরে। কাঁঠাল ঘিরে হয়েছে গান-আলোচনা সভা ও প্রতিযোগিতাও।

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী চুয়াডাঙ্গা জেলা সাংসদের উদ্যোগে চতুর্থবারের মতো হয়ে গেছে এই কাঁঠাল উৎসব। সেখানে ২ মিনিটে কাঁঠালের সর্বোচ্চসংখ্যক কোয়া খেয়ে বিজয়ী হয়েছে কলেজের কর্মচারী বিলকিস বেগম। পুরস্কারেও পেয়েছেন আস্ত এক কাঁঠাল।

চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ চত্বরে শুক্রবার সকাল ১০টায় শুরু হয় এই উৎসব। এর স্লোগান দেয়া হয় ‘কাঁঠালের বহু ব্যবহারে, প্রাণ-প্রকৃতি সুস্থ রাখে’।

উৎসবে যোগ দেন চার উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীসহ অনেকে।

দিনভর নানা আয়োজনে মুখর ছিল কলেজ প্রাঙ্গণ। কাঁঠালকথন, কাঁঠালরঙ্গ, আবৃত্তি, গান, সম্মাননা ও আলোচনা সভা শেষে রাখা হয় কাঁঠাল খাওয়ার প্রতিযোগিতা।

৫৫ প্রতিযোগী তাতে অংশ নেন।

মাত্র ২ মিনিটে ৫৯ কোয়া কাঁঠাল খেয়ে একটি কাঁঠাল, একটি বই ও শুভেচ্ছা উপহার জিতে নেন কলেজের কর্মচারী বিলকিস বেগম। একই সময় ৪৯ কোয়া খেয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দার কর্মচারী নয়ন রায় দ্বিতীয় ও ৪৬ কোয়া খেয়ে কলেজছাত্র মো. আফিফ তৃতীয় স্থান লাভ করেন। তাদেরও দেয়া হয় শুভেচ্ছা উপহার।

২ মিনিটে ৫৯ কোয়া খেয়ে জিতলেন আস্ত কাঁঠাল

কাঁঠাল উৎসব দেখতে এসে জাহানারা খাতুন জানান, ‘এখানে এসে কাঁঠাল ফল সম্পর্কে নানা অজানা তথ্য জানতে পেরেছি। জানতে পেরেছি এর ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে। প্রতি বছরই এমন আয়োজন করার দাবি জানাচ্ছি।’

কাঁঠালের পরিচিতি রক্ষা ও গুণাগুণ সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দিতেই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আসমা হেনা চুমকি।

আরও পড়ুন:
কাঁঠাল বেচতে লটারি
গাছেই পচে সম্ভাবনার কাঁঠাল
কাঁঠালের দই আইসক্রিমে বিনিয়োগ করে দ্বিগুণ লাভ
যেভাবে আম-কাঁঠাল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করবেন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chariot ready for the ride

যাত্রার জন্য প্রস্তুত রথ

যাত্রার জন্য প্রস্তুত রথ
এক মাস ধরে কাঠামো মেরামত ও রঙের কাজ শেষে রথ সেজে উঠেছে নতুন রূপে। শুক্রবার ১ জুলাই রথটানের মধ্য দিয়ে এই অর্চনার শুরু হবে।

ঢাকার ধামরাইয়ে প্রতি বছরই শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে রথটান অনুষ্ঠিত হয়। চাকার ওপর বসানো বিশেষ রথের ভেতর জগন্নাথ দেবের মূর্তি বসিয়ে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী এই রথযাত্রা।

এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সাজসজ্জার কাজ। এক মাস ধরে কাঠামো মেরামত ও রঙের কাজ শেষে রথ সেজে উঠেছে নতুন রূপে। শুক্রবার রথটানের মধ্য দিয়ে এই অর্চনার শুরু হবে।

ধামরাইয়ের যশোমাধব মন্দির পরিচালনা পর্ষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নন্দ গোপাল সেন রথযাত্রার ঐতিহ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘ধামরাই এলাকার রাজা ছিলেন শ্রী যশোপাল। সেই সময় আশুলিয়ার শিমুলিয়া থেকে সৈন্য-সামন্ত নিয়ে ধামরাইয়ের কাশবন ও দুর্গম এলাকা পার হয়ে পাশের এক গ্রামে যাচ্ছিলেন।

‘এরই মধ্যে কায়েতপাড়ায় এসে মাটির ঢিবির সামনে থেমে যায় তাকে বহনকারী হাতি। রাজা শত চেষ্টা করেও হাতিটিকে সামনে নিতে পারলেন না এবং অবাক হলেন। তখন তিনি হাতি থেকে নেমে স্থানীয় লোকজনকে ওই মাটির ঢিবি খনন করার জন্য নির্দেশ দেন। সেখানে একটি মন্দির পাওয়া যায়।’
যাত্রার জন্য প্রস্তুত রথ

নন্দ গোপাল বলেন, ‘এ ছাড়া কতগুলো মূর্তি পাওয়া যায়। এর মধ্যে বিষ্ণুর মূর্তির মতো শ্রীমাধব মূর্তিও ছিল। রাজা ভক্তি করে সেগুলো সঙ্গে নিয়ে আসেন। সেদিন রাতে মাধব দেবকে স্বপ্নে দেখেন রাজা যশোপাল। মাধব তাকে নির্দেশ দেন পূজা করার। আর বলে দেন নামের সঙ্গে মাধবের নাম বসিয়ে নেয়ার। এর পরই যশোপালের নাম হয়ে যায়।

‘পরে ধামরাই সদরে ঠাকুরবাড়ি পঞ্চাশ গ্রামের বিশিষ্ট পণ্ডিত শ্রীরামজীবন রায়কে তিনি ওই মাধব মূর্তি নির্মাণের দায়িত্ব দেন। এখনও সেই মূর্তির পুজোর প্রচলন রয়েছে। সময়টি ছিল চন্দ্র আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথি। সেই থেকেই শুরু হয় যশোমাধবের পূজা।’

রথ তৈরির বিষয়ে গোপাল জানান, বাংলা ১২০৪ থেকে ১৩৪৪ সন পর্যন্ত ঢাকা জেলার সাটুরিয়া থানার বালিয়াটির জমিদাররা বংশানুক্রমে এখানে চারটি রথ তৈরি করেন। ১৩৪৪ সালে রথের ঠিকাদার ছিলেন নারায়ণগঞ্জের স্বর্গীয় সূর্যনারায়ণ সাহা। এ রথ তৈরি করতে সময় লাগে এক বছর।

ধামরাই, কালিয়াকৈর, সাটুরিয়া, সিঙ্গাইর থানার বিভিন্ন কাঠশিল্পী যৌথভাবে নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ করে ৬০ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন রথটি তৈরি করেন। এ রথটি ত্রিতলবিশিষ্ট ছিল, যার প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় চার কোণে চারটি প্রকোষ্ঠ ও তৃতীয় তলায় একটি প্রকোষ্ঠ ছিল। বালিয়াটির জমিদাররা চলে যাওয়ার পর রথের দেখভালের দায়িত্ব পালন করত টাঙ্গাইলের রণদাপ্রসাদ সাহার পরিবার।

২০১০ সালে ধামরাইয়ে পুরোনো রথটির আদলে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন রথ বানিয়ে দেওয়া হয়। ৪০ জন শিল্পী ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে নিরলসভাবে কাজ করে ৩৭ ফুট উচ্চতা ও ২০ ফুট প্রস্থের কারুকার্যখচিত নতুন রথটি নির্মাণ করেন।

লোহার খাঁচার ওপর সেগুন ও চাম্বল কাঠ বসিয়ে খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে আকর্ষণীয় সব শৈল্পিক নিদর্শন। এতে রয়েছে লোহার তৈরি ১৫টি চাকা। রথের সামনে রয়েছে কাঠের তৈরি দুটি ঘোড়া ও সারথি।

যাত্রার জন্য প্রস্তুত রথ

এ ছাড়া রথের বিভিন্ন ধাপে প্রকোষ্ঠের মাঝে স্থাপন করা হয়েছে কাঠের তৈরি দেব-দেবীর মূর্তি। প্রতি বছর রথযাত্রার আগে রং চরানো ও সাজসজ্জার কাজ করে এটিতেই অনুষ্ঠিত হয় রথ উৎসব।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ধামরাই উপজেলা পরিষদসংলগ্ন রথখোলায় গিয়ে রথের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির ব্যস্ততা দেখা যায়।

রংশিল্পী ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘রথটি সারা বছর বাইরে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়। এ জন্য রং মলিন হয়ে যায়। কিন্তু রথযাত্রার আগে এটিকে পুরোপুরি সাজিয়ে তোলা হয়। আমরা বিভিন্ন রং দিয়ে রথকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলি। ৩৫ বছর ধরে এই রথে রঙের কাজ করছি। এখন শেষ মুহূর্তেই তুলির আঁচড় দিচ্ছি।’

যাত্রার জন্য প্রস্তুত রথ

রথযাত্রার সর্বশেষ প্রস্তুতির বিষয়ে যশোমাধব মন্দির পরিচালনা পর্ষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নন্দ গোপাল সেন বলেন, ‘রথযাত্রা ও রথমেলা উপলক্ষে রথের সাজসজ্জা ও পরিচর্যার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। রঙের কিছু কাজ চলছে। বাকি কাজও দ্রুত শেষ হবে। এরপর রথটান হবে। এ ছাড়া মাসব্যাপী মেলা হবে।’

ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) আতিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রথযাত্রার নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি পোশাকধারী পুলিশও টহল দিচ্ছে। রথের নিরাপত্তা পরিদর্শন করেছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়। আশা করছি, পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে শেষ হবে।’

আরও পড়ুন:
এবারও ঘুরবে না যশোমাধবের রথের চাকা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
UGC wants to add moral education to the curriculum

পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষার যোগ চায় ইউজিসি

পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষার যোগ চায় ইউজিসি
অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম বলেন, ‘সম্প্রতি প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক অভিভাবকতুল্য ও বন্ধুসুলভ। কিন্তু তার বিপরীত ভাব স্পষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন ঘটনায়। শিক্ষার্থীরা কেন সহিংস আচরণ করছে, তাদের আচরণে বিচ্যুতি কেন ঘটছে তা খতিয়ে দেখতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের অবক্ষয় রুখতে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষার বিষয়টি যোগ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সিটিজেন চার্টার বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের অবহিতকরণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক অভিভাবকতুল্য ও বন্ধুসুলভ। কিন্তু তার বিপরীত ভাব স্পষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন ঘটনায়। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয় ঠেকাতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষার বিষয়টি যোগ করা জরুরি।

‘শিক্ষার্থীরা কেন সহিংস আচরণ করছে, তাদের আচরণে বিচ্যুতি কেন ঘটছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন মনোবিজ্ঞানী বা ছাত্র উপদেষ্টা নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বিভাগের সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের আচরণের বিভিন্ন দিক মূল্যায়নে কোর্স শিক্ষকরা নম্বর বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে পারেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সাংস্কৃতিক চর্চা হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করাকে পড়ালেখার ক্ষতি বলে মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তচিন্তা বিকাশের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরীক্ষা ও পাঠদান কখন শুরু হবে, সেটি সুনির্দিষ্ট করা নেই। এ কারণে একজন শিক্ষার্থীকে এক থেকে দুই বছর মূল্যবান সময় নষ্ট করতে হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব ভর্তি ও পাঠদানের ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তারা গুণগত শিক্ষা পাচ্ছে কি না সেদিকে নজর দিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান, কমিশনের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের পরিচালক মো. ওমর ফারুখ, উপপরিচালক, সিনিয়র সহকারী পরিচালকসহ ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটিজেন চার্টারের ফোকাল পয়েন্ট অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সেবার তালিকা দৃশ্যমান করার নির্দেশ
প্রতিবন্ধীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতে নীতিমালা করছে ইউজিসি
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় সহায়তা করতে চায় এলসেভিয়ার
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষায় ইউজিসির গাইডলাইন
উচ্চশিক্ষার পাঠক্রম উন্নয়নে সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hajj without begging bond

হজে গিয়ে ভিক্ষা, মুচলেকায় ছাড়া বাংলাদেশি

হজে গিয়ে ভিক্ষা, মুচলেকায় ছাড়া বাংলাদেশি ফাইল ছবি
২২ জুন মতিয়ার মদিনায় ভিক্ষা করতে গিয়ে সৌদি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তিনি সবাইকে বলছিলেন, তার মানিব্যাগটি ছিনতাই হয়ে গেছে। খবর নিয়ে জানা গেছে, মতিয়ার সৌদিতে কোনো হোটেল বুক করেননি। তাকে গাইড করার মতো কোনো মোয়াজ্জেমও ছিল না।

হজের সময় ভিক্ষা করার অপরাধে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। পরে বাংলাদেশ হজ মিশনের হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া হয়।

কাউন্সিলর (হজ) জহরুল ইসলামের বরাতে বাংলা ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়, ওই ব্যক্তির নাম মতিয়ার রহমান, বাড়ি মেহেরপুর জেলায়। ধানসিঁড়ি ট্র্যাভেল এয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে হজ করতে সৌদি গিয়েছিলেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২২ জুন মতিয়ার মদিনায় ভিক্ষা করতে গিয়ে সৌদি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তিনি সবাইকে বলছিলেন, তার মানিব্যাগটি ছিনতাই হয়ে গেছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, মতিয়ার সৌদিতে কোনো হোটেল বুক করেননি। তাকে গাইড করার মতো কোনো মোয়াজ্জেমও ছিল না।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রাণলয় ইতোমধ্যে ওই হজ এজেন্সিকে নোটিশ পাঠিয়েছে। জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাদের বিরুদ্ধে হজ ও ওমরাহ আইন, ২০২১-এর ১৩ ধারার অধীনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না।

উপসচিব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে তাদের নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

হজ অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সভাপতি শাহাদাত হোসেন তাসলিম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এর আগে জননিরাপত্তার অধীনে এক সৌদি নাগরিকসহ ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। এদের বেশির ভাগের সৌদিতে থাকার বৈধতা নেই।

তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া হজ প্রচার চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুয়া হজ ও ওমরাহ প্রচার কার্যালয় পর্যবেক্ষণের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে তারা গ্রেপ্তার হন।

সৌদি গ্যাজেটের খবরে বলা হয়, রিয়াদের চারটি স্থান এবং আল-কাসিম অঞ্চলের দুটি এলাকায় জাল হজ প্রচারণার বিজ্ঞাপন এবং বিপণনের সঙ্গে জড়িত ছিল তারা। তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থও হাতিয়ে নিচ্ছিল।

হজে গিয়ে ভিক্ষা, মুচলেকায় ছাড়া বাংলাদেশি

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, গ্রেপ্তার অবৈধ বিদেশিদের মধ্যে ১১ জন মিসরীয়, ১০ জন সিরিয়ান, ২ জন করে পাকিস্তানি ও সুদানি এবং একজন ইয়েমেনি ও বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সৌদি দূতাবাসের রাস্তার নাম ‘খাশোগজি ওয়ে’
হজযাত্রীদের আসন রিজার্ভের তথ্য চায় ধর্ম মন্ত্রণালয়
হজে গিয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশির মৃত্যু
হজের খুতবায় বাংলাসহ ১০ ভাষা
হজযাত্রীদের জন্য এক্সিম ব্যাংকের বাস উপহার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Obstacles to boat crossing over the Padma bridge

পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে নৌকা চালাতে বাধা

পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে নৌকা চালাতে বাধা পদ্মা সেতু পার হতে গিয়ে আটকে গেছে মিনারুলের এই নৌকা। ছবি: নিউজবাংলা
আবেগতাড়িত হয়ে মূলত নৌকার আদলে দুটি মোটরযানকে সাজিয়েছিলেন মিনারুল ইসলাম ও শহিদুল শেখ নামের দুই ব্যক্তি। তারা চেয়েছিলেন এই নৌকা দুটি নিয়ে পার হবেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে পার হতে গিয়ে সেতুর দুই প্রান্তে আটকে গেল দুই নৌকা।

নিয়ম না মানায় রোববার সকালে এই দুই বাহন আটকে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আবেগতাড়িত হয়ে মূলত নৌকার আদলে দুটি মোটরযানকে সাজিয়েছিলেন মিনারুল ইসলাম ও শহিদুল শেখ নামের দুই ব্যক্তি। তারা চেয়েছিলেন এই নৌকা দুটি নিয়ে পার হবেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

কিন্তু বিধি বাম। মিনারুলের নৌকা তিন চাকার ইজিবাইক ও শহিদুলের নৌকা ফিটনেসবিহীন লক্করঝক্কর মোটরসাইকেল হওয়ায় বাহন দুটিকে সেতু পাড়ি দেয়ার অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগের দিন শুক্রবার পদ্মার মাওয়া প্রান্তে রাজধানীর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মিনারুল ইসলামের সঙ্গে দেখা হয় নিউজবাংলার প্রতিবেদকের।

মিনারুল একটি মোটরযানকে নৌকার আদলে সাজিয়ে তা নিয়ে ছুটে যান জাজিরা প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে যোগ দিতে। মেয়েকে সঙ্গে করে তিন দিন এই নৌকাতেই ছিলেন তিনি।

মিনারুল ওইদিন জানিয়েছিলেন, তার ইচ্ছা নিজের বানানো এই নৌকা নিয়ে জাজিরা প্রান্ত থেকে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ঢাকায় ফিরতে চান তিনি। কিন্তু মিনারুলের এ ইচ্ছা আর পূরণ হয়নি।

পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে নৌকা চালাতে বাধা
সেতু পার হতে গিয়ে আটকে গেছে শহিদুলের নৌকা। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার সকালে মিনারুল তার নৌকা নিয়ে হাজির হন জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজায়। প্রথমে সেতু কর্তৃপক্ষ তার নৌকাটিকে মাইক্রোবাস মনে করে ১৩০০ টাকা টোল নির্ধারণ করে। কিন্তু তারপর আবার যাচাই করা হলে দেখা যায়, এটি মূলত তিন চাকার ইজিবাইক। এরপরই হয় মিনারুলের স্বপ্নভঙ্গ।

মিনারুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি অনেক অনুরোধ করলাম, ১৩০০ টাকা টোলও দিতে চাইলাম কিন্তু তারা আমার কোনো কথাই শুনল না। আমার মেয়েটারও মন খুব খারাপ হয়ে গেল। এখন আবার ফেরিতেই নদী পার হতে হবে।’

এদিকে সকালে মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজায় সেতু কর্মকর্তারা বিপাকে পড়েন শহিদুল শেখের নৌকা নিয়ে। একটি ফিটনেসবিহীন লক্করঝক্কর মোটরবাইককে নৌকায় রূপ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার শহিদুল।

প্রথমে শহিদুলের কাছে টোল চাওয়া হলে তিনি জানান, তার কাছে টোলের টাকা নেই। এরপর তার মোটরসাইকেল পরীক্ষা করে দেখা হয় এটির ফিটনেসও নেই। বিষয়টি শহিদুল মানতে নারাজ। তাকে বোঝাতে গিয়ে সেতুর একটি টোলঘরের কার্যক্রম আটকে থাকে বেশ কিছুক্ষণ।

শহিদুল শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি তো আমাগো এত বড় অর্জনে আনন্দ করতে আইছি। আমি গরিব মানুষ, পকেটে খালি তেল নিবার ৩০০ ট্যাকা আছে, টোল দিমু কইথেইক্যা? তিন দিন ধইরা এইখানে পইড়া ছিলাম আমার নৌকাডা নিয়া বিরিজে উঠমু এই আশায়, অহন মনডা খারাপ লাগতাছে।’

এ বিষয়ে সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেতুতে কী ধরনের যান চলবে তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া আছে। আমরা তো এর ব্যত্যয় ঘটাতে পারি না। থ্রি হুইলার সেতুতে চলবে না, আর অন্য যে মোটরসাইকেল সেটির অবস্থা খুব খারাপ। তো এই অবস্থায় এগুলোকে সেতু পার হওয়ার অনুমতি কীভাবে দেয়া যায়?’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলাচল, স্বল্প যাত্রী ফেরিঘাটে
পদ্মা সেতুতে নিয়ম ভাঙার ‘প্রতিযোগিতা’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Competition to break the rules on the Padma Bridge

পদ্মা সেতুতে নিয়ম ভাঙার ‘প্রতিযোগিতা’

পদ্মা সেতুতে নিয়ম ভাঙার ‘প্রতিযোগিতা’ নিয়ম ভেঙে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ে বসে ছবির জন্য পোজ দেন এক যুবক। ছবি: নিউজবাংলা
ঘোষণা অনুযায়ী রোববার ভোরে পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু হওয়ার পর অনেককে সড়কে হাঁটাহাঁটি করতে ও ছবি তুলতে দেখা যায়। কেউ আবার এক ধাপ এগিয়ে সেতুর রেলিংয়ে বসে দেন পোজ।

পদ্মা সেতু পাড়ি দেয়ার সময় থামানো যাবে না গাড়ি। যানবাহন থেকে নেমে সেতুতে তোলা যাবে না ছবি; করা যাবে না হাঁটাহাঁটি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সেতুর নামফলক উন্মোচনের আগেই উল্লিখিত নির্দেশনাগুলো দিয়েছিল বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। যদিও সেতু উদ্বোধনের পরপরই সে নির্দেশনা কাগুজে বিষয়ে পরিণত হয়।

উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ উঠে পড়েন মূল সেতুতে। তাদের নামাতে বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

ঘোষণা অনুযায়ী রোববার ভোরে সেতুতে যান চলাচল শুরু হওয়ার পরও একই চিত্র দেখা যায়। যে যার মতো করে সেতুতে হাঁটাহাঁটি করছেন; তুলছেন ছবি। কেউ আবার এক ধাপ এগিয়ে সেতুর রেলিংয়ে বসে দিচ্ছেন পোজ।

এ যেন নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতা। এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে হাইওয়ে ও সেতুর টহল দলের চেষ্টাও যাচ্ছে বৃথা।

সপরিবারে ঘোরাঘুরি

সাধারণের জন্য খুলে দেয়ার পর গণপরিবহন ছাড়া অন্য প্রায় সব গাড়িকে সেতুতে থামাতে দেখা যায়। কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটাহাঁটির পাশাপাশি তুলেছেন ছবি।

মাইক্রোবাস ভাড়া করে পরিবার নিয়ে পদ্মা সেতু দেখতে আসেন তোফাজ্জল হোসেন। গাড়িটি দাঁড় করিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে পরিবারের ১৪ সদস্য সেতু ঘুরে দেখেন; তোলেন দলবদ্ধ ছবি।

নিউজবাংলাকে তোফাজ্জল বলেন, ‘যেদিন সেতু উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছে, আমরা সেদিনই ঠিক করেছি প্রথম দিনই সেতু দেখতে আসব। এ জন্য আমার মা, খালা, ফুপুসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি। সারা দিন ঘুরে আবার কুমিল্লা ফিরে যাব।’

নিয়মে ভাঙার প্রসঙ্গ টানলে তিনি বলেন, ‘দেখেন আমরা তো কত অনিয়মই করি। এতদিনের ইচ্ছা স্বপ্নের সেতুতে এসে দাঁড়াব। নিজের স্বপ্নপূরণে একটু অনিয়ম করা দোষের কিছু না।’

পদ্মা সেতুতে নিয়ম ভাঙার ‘প্রতিযোগিতা’

পরিবার নিয়ে গোপালগঞ্জ যাচ্ছিলেন শিক্ষক নিহার রঞ্জন দাস। তাদের বাহনও মাইক্রোবাস। সেতুতে গাড়ি দাঁড় করিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নেমে পড়েন এ শিক্ষক। সেলফি তোলাসহ ভিডিও ধারণ করেন সেতু ও নদীর।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি গোপালগঞ্জ যাচ্ছি। আজকেই যেহেতু সেতুর ওপেনিং হলো, তাই সেতুতে দাঁড়ানোর সুযোগটা মিস করতে চাইনি। এটা আমাদের অনেক বড় একটা স্বপ্নের বাস্তবায়ন। কে না চায় স্বপ্ন সত্যি হলে সেটা দুই চোখ ভরে দেখতে?

‘এটা ঠিক আমরা নিয়ম ভাঙছি, কিন্তু এই সুযোগ আর কখনও নাও পেতে পারি, তবে সরকারের উচিত ছিল কয়েক দিন মানুষকে দেখতে সুযোগ দেয়ার, কারণ সবারই আগ্রহের কেন্দ্র এখন পদ্মা সেতু।’

ঝুঁকি নিয়ে রেলিংয়ে

নিহার রঞ্জন যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেখান থেকে কিছুটা দূরে দেখা মিলল উচ্ছ্বাসে প্রাণঝুঁকির কথা ভুলে যাওয়া এক যুবকের। নাম তার হৃদয়। বসা ছিলেন সেতুর রেলিংয়ের ওপর।

পদ্মা সেতুতে নিয়ম ভাঙার ‘প্রতিযোগিতা’

কাছে গিয়ে কথা জানা গেল, হৃদয় ঢাকা থেকে নিজের মোটরসাইকেল চালিয়ে এসেছেন সেতু দেখতে। তার সঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছেন কয়েক বন্ধু।

কথাগুলো বলার সময় রেলিয়ের ওপরই বসা ছিলেন হৃদয়। রেলিংয়ে বসা নিয়ে প্রশ্ন করতেই সেখান থেকে নেমে পড়ে তিনি বলেন, ‘একটা ছবি তোলার জন্য বসছিলাম। ভুল হয়ে গেছে।’

টহল গাড়ির ছোটাছুটি

সাধারণদের নিয়ম ভাঙার এ খেলা বন্ধ করতে সাইরেন বাজিয়ে সেতুর উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে টহল গাড়ি। থেমে থাকা গাড়ি বা মানুষকে দাঁড়াতে দেখলেই ছুটে যাচ্ছেন পেট্রলম্যান। কখনো অনুরোধ করে, আবার কখনো গলা চড়িয়ে সরিয়ে দিচ্ছেন নিয়মকে থোড়াই কেয়ার করা লোকজনকে।

পদ্মা সেতুতে নিয়ম ভাঙার ‘প্রতিযোগিতা’

সেতুর পেট্রলম্যান সাদ্দাম হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি গাড়ি নিয়ে শুধু ছুটেই যাচ্ছি। পাবলিক কোনো কথা শোনে না৷ এক জায়গার মানুষের গাড়ি সরাচ্ছি, অন্য জায়গায় আবার দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।

‘কেউ কেউ আবার অনুরোধও শুনছেন না। তখন বাধ্য হয়ে আমি তাদের গাড়ির কাগজ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে নিচ্ছি আর বলে দিচ্ছি সেতু থেকে নেমে যাওয়ার পর আমি এগুলো ফেরত দেব। কথা না শুনলে কী আর করতে পারি বলেন? এখানে নিয়ম ভাঙলে জরিমানার বিধান রাখা হয়নি।’

আরও পড়ুন:
আগে সেতুতে ওঠার চেষ্টায় মাওয়া প্রান্তে বিশৃঙ্খলা
পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে যানের দীর্ঘ সারি
পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে উচ্ছ্বাস
‘কালের সাক্ষী হয়ে রইলাম’
‘এটা স্বপ্নযাত্রা, স্বপ্নের ভেতরে আছি’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Even after the opening of the Padma Bridge the short distance passengers are suffering

তবুও দুর্ভোগে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা

তবুও দুর্ভোগে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকামুখী দূরপাল্লার কোনো বাসে স্বল্প দূরত্বের যাত্রী না তোলায় দুর্ভোগে পড়েছেন ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: নিউজবাংলা
ফরিদপুর ভাঙার বাসিন্দা কামরুল হাসান রোববার সকালে জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় এসেছেন। কিন্তু ঢাকা যাওয়ার জন্য কোনো বাসে উঠতে পারছেন না। ভাঙা থেকে যেসব বাস এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে সেতু পার হচ্ছে তার সবই দূরপাল্লার (চেয়ারকোচ)। এসব বাসে স্বল্প দূরত্বের কোনো যাত্রী তোলা হচ্ছে না। এদিকে লোকাল কোনো বাস সার্ভিসও নেই, এতে করে স্থানীয়রা পড়েছেন দুর্ভোগে।

পদ্মা সেতু চালুর প্রথম দিনে দক্ষিণাঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকামুখী দূরপাল্লার কোনো বাসে স্বল্প দূরত্বের যাত্রী না তোলায় দুর্ভোগে পড়েছেন ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

ফরিদপুর ভাঙার বাসিন্দা কামরুল হাসান রোববার সকালে জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় এসেছেন। কিন্তু ঢাকা যাওয়ার জন্য কোনো বাসে উঠতে পারছেন না। ভাঙা থেকে যেসব বাস এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে সেতু পার হচ্ছে তার সবই দূরপাল্লার (চেয়ার কোচ)।

এসব বাসে স্বল্প দূরত্বের কোনো যাত্রী তোলা হচ্ছে না। এদিকে লোকাল কোনো বাস সার্ভিসও নেই। এতে করে স্থানীয়রা পড়েছেন দুর্ভোগে। ভিড় বেড়েছে জাজিরা টোল প্লাজায়। বাসে উঠতে না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

তবুও দুর্ভোগে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা

ফরিদপুর, মাদারীপুর থেকে অনেকে রোববার সকালে জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় এসে ঢাকামুখী দূরপাল্লার কোনো বাসে উঠতে পারছেন না। এতে করে স্থানীয়রা পড়েছেন দুর্ভোগে। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে টোল প্লাজায় ফি নিয়ে সেতুতে গাড়ি ছাড়া হয়। একের পর এক গাড়ি সেতু পার হয়। কিন্তু কোনো গাড়িতে উঠতে পারছেন না স্থানীয়রা। শতাধিক মানুষের ভিড় জমে যায় টোল প্লাজার সামনে। এতে বিপাকে পড়েন টোল প্লাজার দায়িত্বে থাকা টেলিটেল কমিউনিকেশনের কর্মীরা। সড়ক থেকে এই ভিড় সরাতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

ঢাকার কোনো গাড়িতে উঠতে না পেরে হতাশ মাদারীপুরের শিবচরের বাসিন্দা শিমুল। সেতুতে গাড়ি চালুর পর ঢাকায় যেতে চেয়েও পারছেন না তিনি। শিমুল বলেন, ‘কোনো গাড়িই নিচ্ছে না। এখন যাব কীভাবে?’

শনিবার খুলনা থেকে এসেছেন শুঁটকি মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল শেখ। কাঁঠালবাড়ী ঘাটে ফেরি বন্ধ থাকায় তিনি গতকাল পদ্মা পার হতে পারেননি। রোববার সকালে সেতু চালুর পর বাসে সেতু পার হতে পারবেন ভেবে জাজিরা টোল প্লাজায় এসেছেন তিনি। অন্য সবার মতো তারও একই অবস্থা। দাঁড়িয়ে আছেন বাসে ওঠার আশায়।

ভিড় সামলাতে বেগ পেতে হচ্ছে টোল প্লাজার দায়িত্বে থাকা টেলিটেল কমিউনিকেশনের কর্মীরা। প্রতিষ্ঠানটির ইঞ্জিনিয়ার জিবুল আক্তার।

তিনি বলেন, ‘রাস্তায় দাঁড়ানো নিষেধ। এখন প্রচুর মানুষ আসছে বাসে ওঠার জন্য। কিন্তু আমাদের হাতে তো এর কিছুই নেই। তাদের সড়কের পাশ থেকে সরানোর চেষ্টা করছি।’

ভায়াডাক্টসহ ৯ দশমিক ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতুটির টোল আদায় কার্যক্রম দ্রুতগতি করতে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের দুটি টোল প্লাজায় বসানো হয়েছে সাতটি করে মোট ১৪টি গেট।

যান চলাচলে সেতুটি খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই প্রান্তের ১৪টি টোল গেট চালু হয়ে গেছে। সব কটি গেটে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর টোল

গত ১৭ মে পদ্মা সেতুর টোল হার প্রকাশ করে সরকার। সে হিসাবে এই সেতু পাড়ি দিতে মোটরসাইকেলকে দিতে হবে ১০০ টাকা।

প্রাইভেট কার ও সাধারণ জিপে টোল ঠিক করা হয়েছে ৭৫০ টাকা। পিকআপ ও বিলাসবহুল জিপ পারাপারে টোল ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা।

মাইক্রোবাস পারাপারে সেতুর টোল ১ হাজার ৩০০ টাকা। ৩১ বা এর কম আসনের ছোট বাসের জন্য দিতে হবে ১ হাজার ৪০০ টাকা। মাঝারি বাসের টোল ২ হাজার টাকা। বড় বাসে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

পাঁচ টনের ট্রাক এই সেতু পাড়ি দিলে গুনতে হবে ১ হাজার ৬০০ টাকা। পাঁচ টন থেকে আট টনের মাঝারি ট্রাকের জন্য দিতে হবে ২ হাজার ১০০ টাকা। আট টন থেকে ১১ টনের মাঝারি ট্রাকের টোল ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা।

থ্রি এক্সেলের ট্রাক পারাপারে টোল ঠিক করা হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। মালবাহী ট্রেইলারের (চার এক্সেল) টোল ৬ হাজার টাকা। চার এক্সেলের ওপরে মালবাহী ট্রেইলারের জন্য প্রতি এক্সেলে দেড় হাজার টাকা যোগ হবে।

বর্তমানে ফেরিতে নদী পারাপারে যে হারে মাশুল দিতে হয়, সেতুতে তা দেড় গুণ বা আশপাশে বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা-খুলনা রুটে বেড়েছে গণপরিবহন, উচ্ছ্বসিত যাত্রীরা
‘জীবন ধন্য হয়ে গেছে’
জাজিরা প্রান্ত দিয়ে প্রথম ছেড়ে যায় নাজমুস সাকিবের বাইক
পদ্মা সেতুতে প্রথম
আগে সেতুতে ওঠার চেষ্টায় মাওয়া প্রান্তে বিশৃঙ্খলা

মন্তব্য

p
উপরে