× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Expatriates from the United Kingdom also benefited from the success of the Padma Bridge
hear-news
player
print-icon

পদ্মা সেতুর আলোকচ্ছটা প্রবাসেও

পদ্মা-সেতুর-আলোকচ্ছটা-প্রবাসেও-
বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পদ্মা সেতু। ছবি: নিউজবাংলা
যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি অধ্যুষিত প্রতিটি এলাকা, প্রতিটি আড্ডায় এখন আলোচনার বিষয় পদ্মা সেতু। জল্পনা-কল্পনাতে ঠাঁই পাচ্ছে বিনিয়োগ, অর্থনীতি ও প্রায়োগিক দিকগুলো।

লন্ডন থেকে ঢাকা। আকাশপথে দেশে ফিরতে সব মিলিয়ে ১৬ ঘণ্টার মতো লাগত শরীয়তপুরের আনোয়ার হোসেন মৃধার।

ঢাকা নেমে পরবর্তী গন্তব্য শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার দক্ষিণ চাকদহ গ্রাম। সব মিলিয়ে ১১৮ কিলোমিটারের বেশি পথ নয়। নৌপথে সেই দূরত্ব পাড়ি দিতে সময় লেগে যেত গোটা এক দিন, তবে এবার তার ঘরে ফেরা হবে অন্যরকম।

শরীয়তপুরের আনোয়ার হোসেনই শুধু নন, দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ অবকাঠামো পদ্মা সেতুর আনন্দ স্পর্শ করেছে প্রতিটি প্রবাসী বাংলাদেশিকে।

যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি অধ্যুষিত প্রতিটি এলাকা, প্রতিটি আড্ডায় এখন আলোচনার বিষয় পদ্মা সেতু। জল্পনা-কল্পনাতে ঠাঁই পাচ্ছে বিনিয়োগ, অর্থনীতি ও প্রায়োগিক দিকগুলো।

লন্ডনে বসে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সম্ভাবনা নিয়ে হিসাব কষে ফেলেছেন প্রবাসী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট তপন সাহা। তার মতে, পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলের (বরিশাল-মাদারীপুর, শরীয়তপুর) মানুষজন খুব কম সময়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর কারণে মোংলা বন্দরের সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব কমে যাবে। চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমে যাবে। ট্রান্স-এশিয়ান রেল যোগাযোগ স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বরিশাল-শরীয়তপুরকে একদিন বিশ্ব তুলনা করবে সাংহাইয়ের সঙ্গে।’

পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশকে বহন করতে হবে না সুদের বোঝা, তবে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার মইনুল ওয়াদুদ এ বিষয়ে কিছুটা চিন্তিত।

তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি একটি সাফল্য। একই সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে বিনিয়োগের বিষয়টি। সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। বিপুল এই বিনিয়োগ তুলে আনার জন্য সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। টোলের বিপরীতে যে রাজস্ব আদায় হবে, তার পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে দীর্ঘমেয়াদে।’

যুক্তরাজ্যপ্রবাসী প্রকৌশলী শাহাদাৎ হোসেনের মুগ্ধতা সেতুর প্রযুক্তিগত দিকগুলোতে। তীব্র স্রোত ও গভীরতা সামলে যেসব অদম্য প্রকৌশলী দাঁড় করিয়েছেন স্বপ্নের সেতুকে, দূর থেকে তাদের টুপি খোলা অভিবাদন জানিয়েছেন তিনি।

শাহাদাতের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মুলাদি। সেখানে আগের চেয়ে অনেক কম সময়ে যেতে পারবেন। এই অনুভূতি বুঁদ করে রেখেছে শাহাদাৎকে।

তার আশা, বরিশাল-সদরঘাট লঞ্চযাত্রা নিয়ে প্রচলিত আলাপ আর টিপ্পনীর অবসান হবে এবার।

জীবিকার তাগিদে ২২ বছর আগে দেশ ছাড়েন আনোয়ার হোসেন মৃধা। দীর্ঘ প্রবাসজীবনের মাঝেও দেশের জন্য তিনি দেখছেন নতুন দিনের সম্ভাবনা।

আরও পড়ুন:
সেতুতে নিষ্প্রাণ হওয়ার পথে পদ্মার ফেরি-লঞ্চঘাট
আমন্ত্রণপত্র পাননি খালেদা, গ্রহণ ইউনূসের
কেউ যাবেন ব্যক্তি উদ্যোগে, কেউ প্যাকেজে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The maximum cost to go to Malaysia as a worker is 79 thousand rupees

কর্মী হিসেবে মালয়েশিয়া যেতে সর্বোচ্চ খরচ ৭৯ হাজার টাকা

কর্মী হিসেবে মালয়েশিয়া যেতে সর্বোচ্চ খরচ ৭৯ হাজার টাকা
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ‘একজন মালয়েশিয়াগামী কর্মীর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে সকল ব্যয় হবে তা সংশ্লিষ্ট কর্মীকে বহন করতে হবে।’

কর্মী হিসেবে মালয়েশিয়ায় যেতে একজন বাংলাদেশির সর্বোচ্চ খরচ হবে ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। আকাশপথে মালয়েশিয়ায় ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ বহন করবে ওই কর্মীকে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বুধবার এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব গাজী মো. শাহেদ আনোয়ারের সই করা অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ‘একজন মালয়েশিয়াগামী কর্মীর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে সকল ব্যয় হবে তা সংশ্লিষ্ট কর্মীকে বহন করতে হবে।’

২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী বাংলাদেশ অংশে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিবন্ধন ফি, কল্যাণ ফি, বীমা, ইন্স্যুরেন্স, স্মার্ট কার্ড ফি, প্রাক-বহির্গমন ফি, পোশাক পরিচ্ছদ, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্টের সার্ভিস চার্জ ও বিবিধ যেসব ক্ষেত্রে একজন কর্মীকে বিভিন্ন ব্যয় বহন করতে হবে।

আর এসব খরচ বিবেচনায় নিয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানে গমণে ইচ্ছুক একজন কর্মীর সর্বোচ্চ খরচ ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, বিমানভাড়া, মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট’, বিমা, মালয়েশিয়ায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইমিগ্রেশন সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স, করোনারভাইরাস পরীক্ষাসহ ১৫টি খাতের ব্যয় সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বহন করবে।

এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
৫ লাখ কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়
কর্মী নিয়োগ: জট খুলতে মালয়েশিয়ার মন্ত্রী ঢাকায়
মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে সিন্ডিকেট প্রথা বাতিলের দাবি
বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিতে চায় মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ায় আটক সাবেক হাইকমিশনার খায়রুজ্জামান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Opportunity for illegal Bangladeshis to become legal in the Maldives

মালদ্বীপে অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধ হওয়ার সুযোগ

মালদ্বীপে অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধ হওয়ার সুযোগ
মালদ্বীপে বসবাসরত আনডকুমেন্টেড প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রি) আওতায় বৈধকরণ প্রক্রিয়া বর্তমানে চালু রয়েছে। যাদের বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট নেই তাদেরকে দ্রুততার সঙ্গে ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করে বৈধভাবে কাজ শুরু করারও অনুরোধ জানিয়েছে হাইকমিশন।

মালদ্বীপে অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাই দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জরুরি ভিত্তিতে বৈধকরণ প্রক্রিয়ায় ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করার অনুরোধ জানিয়েছে মালেতে বাংলাদেশে হাইকমিশন।

বৃহস্পতিবার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন।

এতে বলা হয়, মালদ্বীপে বসবাসরত আনডকুমেন্টেড প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রি) আওতায় বৈধকরণ প্রক্রিয়া বর্তমানে চালু রয়েছে।

যাদের বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট নেই তাদেরকে দ্রুততার সঙ্গে ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করে বৈধভাবে কাজ শুরু করারও অনুরোধ জানিয়েছে হাইকমিশন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈধকরণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যে প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করছে, সেই প্রতিষ্ঠান মালিককে ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রিতে আবেদন করতে হবে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন দুর্ঘটনায় সব প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন হওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছে হাইকমিশন।

আরও পড়ুন:
মালদ্বীপে লক্ষাধিক বাংলাদেশির বৈধতার সুযোগ
মালদ্বীপে যাবে ডাক্তার-নার্স
মালদ্বীপের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির খসড়া অনুমোদন
পর্যটনে মালদ্বীপের চেয়ে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ
মালদ্বীপে ‘সুদিনের অপেক্ষায়’ বাংলাদেশি কর্মীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
320 skilled workers are going to Romania

রোমানিয়া যাচ্ছেন ৩২০ দক্ষ কর্মী

রোমানিয়া যাচ্ছেন ৩২০ দক্ষ কর্মী রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টের ইউনিটি এভিনিউ। ছবি: সংগৃহীত
সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী জানান, তিনি ২৬ জুন রোমানিয়ার সোনোমা স্পোর্টসওয়্যার কারখানা পরিদর্শন করেছেন। সেখানে যাচ্ছেন ৩২০ বাংলাদেশি কর্মী।

শিগগিরই ৩২০ দক্ষ বাংলাদেশি রোমানিয়া যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী।

সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় রাষ্ট্রদূত জানান, তিনি ২৬ জুন রোমানিয়ার সোনোমা স্পোর্টসওয়্যার কারখানা পরিদর্শন করেছেন। সেখানে যাচ্ছেন ৩২০ বাংলাদেশি কর্মী।

একই দিন রোমানিয়ার চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বাকাউ) প্রেসিডেন্ট ডরু সিমোভিচির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।

সোনোমা স্পোর্টসওয়্যার কারখানা পরিদর্শনকালে প্রতিষ্ঠানটির সিইও আন্তোনেলা গাম্বা রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে বলেন, তার কোম্পানি এরই মধ্যে আলাদা পোশাক কারখানা চালানোর জন্য টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, মেশিন অপারেটর, কাটিং মাস্টার, ম্যানেজারসহ বিভিন্ন খাতে ৩২০ বাংলাদেশি দক্ষ পোশাককর্মীকে বেছে নিয়েছে।

দাউদ আলী জানান, আন্তোনেলা তার পোশাক কারখানার জন্য আরও ১২০ জন এবং জুতার কারখানার জন্য ২০০ বাংলাদেশি কর্মী নেবেন। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে এবং শ্রমিকরা তার কারখানা ছেড়ে ইউরোপের অন্য দেশে না যান, তাহলে তিনি নতুন কারখানা স্থাপনের জন্য আরও ১ হাজার বাংলাদেশিকে নিয়োগ দেবেন।

মাইগ্রেশন খরচ কমানোর জন্য কোনো এজেন্টকে যুক্ত না করে এটি সরাসরি সরকারি মাধ্যমে সম্পন্ন করা প্রয়োজন বলেও জানান আন্তোনেলা।

রাষ্ট্রদূতকে তিনি জানান, অভিবাসন ব্যয় কমাতে শুধু বিমানের টিকিট এবং ভিসা ফি দিতে হবে বাংলাদেশি কর্মীদের।

ওই সময় রাষ্ট্রদূত আন্তোনেলাকে কর্মীদের এয়ার টিকিট দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। বিষয়টি তিনি বিবেচনায় রাখার কথা জানিয়েছেন।

বার্তায় দাউদ আলী আরও জানান, তিনি রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টের কাছে জুতার কারখানাও পরিদর্শন করেন, যেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকরা কাজ করছেন।

ওই কারখানার মালিকও বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নেয়ার বিষয়ে তার আগ্রহের কথা রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
তিন মাসে ৫ হাজার কর্মী নেবে রোমানিয়া
রোমানিয়ায় আগুনে ১০ করোনা রোগীর মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Accused of driving a dead body in a lorry in Texas

টেক্সাসের লরিতে মৃতদেহ, চালকসহ অভিযুক্ত ২

টেক্সাসের লরিতে মৃতদেহ, চালকসহ অভিযুক্ত ২ লরি থেকে ৫৩ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মানবপাচার আইনে চালকসহ দুইজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ছবি: বিবিসি
লরিটির নিবন্ধনের ঠিকানার সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির নাম-পরিচয়ের মিল রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনেও মামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুইজনের সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ফেলে যাওয়া একটি লরি থেকে ৫৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মানব পাচার আইনে চালকসহ দুইজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

টোক্সাসের বাসিন্দা হোমেরো জেমোরানো নামের ওই চালককে লরির পাশে একটি ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তিনি পুলিশকে অভিবাসনপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি।

মেক্সিকোর অভিবাসনবিষয়ক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেমোরানো প্রথমে নিজেকে বেঁচে যাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন।

মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার অন্যজন হলেন ক্রিসচিয়ান মারটিনেজ। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

লরিটির নিবন্ধনের ঠিকানার সঙ্গে এই দুই ব্যক্তির নাম-পরিচয়ের মিল রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনেও মামলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিজ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুইজনের সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

আবদ্ধ লরিতে অতিগরমে হিটস্ট্রোক এবং পানিশূন্যতায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। যাদের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ২৭ জন মেক্সিকোর নাগরিক, ১৪ জন হন্ডুরাস , সাতজন গুয়াতেমালা ও দুইজন আল-সালভাদরের নাগরিক।

স্থানীয় সময় গত সোমবার টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে একটি লরির ভেতর থেকে ৫৩ জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মারা যাওয়া সবাই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিল।

সান আন্তোনিও ডিস্ট্রিক্ট-৪ সিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধি আদ্রিয়ানা রোচা গার্সিয়া জানিয়েছেন, পুলিশপ্রধান উইলিয়াম ম্যাকম্যানাস তাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

রোচা গার্সিয়া আরও জানিয়েছেন, আরও ১৬ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিস নিশ্চিত করেছে যে হাসপাতালে নেয়া ১৬ জনের মধ্যে চার শিশুও রয়েছে।

এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লরিটিতে কোনো ধরনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি ভেতরে খাওয়ার পানিও ছিল না।

মেথোডিস্ট হেলথ কেয়ারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সেখানে তিনজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা গরম, হিটস্ট্রোকে ভুগছিলেন।

সান আন্তোনিওর পুলিশপ্রধান জানিয়েছেন, এ ঘটনার তদন্ত এখন ফেডারেল এজেন্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তিনজনকে এরই মধ্যে হেফাজতে রাখা হয়েছে।

সান আন্তোনিও, যা যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্ত থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে। অভিবাসীদের পাচার করার জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট রুট। লরিটি সান আন্তোনিওর দক্ষিণ-পশ্চিমে রেললাইনের পাশেই পাওয়া যায়।

টেক্সাসের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এই মৃত্যুর জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করেছেন এবং এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নেয়া অতি উন্মুক্ত সীমান্ত নীতির ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রে লরিতে ৪৬ অভিবাসীর মরদেহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After 3 days of trying he returned the bag of gold ornaments to the owner

৩ দিনের চেষ্টায় মালিককে ফেরত দিলেন স্বর্ণালংকারের ব্যাগ

৩ দিনের চেষ্টায় মালিককে ফেরত দিলেন স্বর্ণালংকারের ব্যাগ ভুল করে নিয়ে যাওয়া স্বর্ণালংকারের ব্যাগ প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিচ্ছেন কুমিল্লার মনির হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা
ওয়াসিম বলেন, ‘এত ভালো মানুষ পৃথিবীতে আছে জানতাম না। মনির ভাই ব্যাগ পেয়ে তিন দিন ধরে আমাকে খুঁজেছেন। আজ আমার জন্য ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন। আমি চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় গিয়ে দেখি মনির ভাই ব্যাগ নিয়ে বসে আছেন। আমি ব্যাগ হাতে নিয়ে দেখি স্বর্ণালংকারসহ সবকিছু ঠিকঠাক আছে।’

মনির আহমেদ। বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার সাতবাড়িয়ায়। দেড় বছর আগে গিয়েছিলেন দুবাই। ছুটিতে দুবাই থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ থেকে নেমে আসেন মনির আহমেদ। নিজের ব্যাগের জন্য দাঁড়ান স্ক্যানিং মেশিনের সামনে। ব্যাগ আসে। আনুষ্ঠানিকতা সেরে সেটি নিয়ে রওনা হোন বাড়িতে।

গত বৃহস্পতিবার দুবাইফেরত মনির সেই ব্যাগ নিয়ে বাড়ি গিয়ে খুলে দেখে হতভম্ব হয়ে যান। হাতব্যাগটিতে দেখেন বেশ কিছু স্বর্ণালংকার। একই ধরনের ব্যাগ হলেও সে ব্যাগটি মনিরের না। পুরো ব্যাগটি খুলে দেখেন, তবে প্রকৃত মালিকের কোনো ঠিকানা খুঁজে পাননি মনির।

পরে তিনি ব্যাগের ভেতর স্বর্ণালংকার কেনার রসিদ ও একটি বোর্ডিং কার্ড খুঁজে পান। তার সূত্র ধরে রোববার কুমিল্লা প্রেস ক্লাবে ব্যাগটি প্রকৃত মালিক ওয়াসিমের হাতে তুলে দেন মনির হোসেন।

মনির হোসেন বলেন, ‘আমি যখন এয়ারপোর্টে নেমে স্ক্যানিং মেশিনের আনুষ্ঠানিকতা সারি, তখন আমার ব্যাগের হুবহু আরেকটি ব্যাগ নিজের মনে করে বাড়ি নিয়ে আসি। আমার ব্যাগটি এয়ারপোর্টেই ফেলে আসি। তারপর টানা তিন দিন আমি বিভিন্নভাবে প্রকৃত মালিককে খোঁজার চেষ্টা করি। তার ব্যাগে রাখা বোর্ডিং পাস ও একটি স্বর্ণ কেনার রসিদ পাই। সেখানে দুবাইয়ের একটি দোকানের নম্বর পাই। সেই নম্বরের সূত্র ধরে ব্যাগের মালিককে খুঁজে বের করি।’

স্বর্ণালংকারসহ ব্যাগ পেয়ে আপ্লুত মো. ওয়াসিম। দুবাইয়ে একটি দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন তিনি।

কয়েক বছরের জমানো টাকা দিয়ে স্ত্রী-মায়ের জন্য স্বর্ণালংকার কিনে আনেন। ব্যাগ হারিয়ে খুব চিন্তিত ছিলেন। মন খারাপ হয়েছিল।

ওয়াসিম জানান, তার বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানের শমসেরনগর এলাকায়। ব্যাগটি হারানোর পর তিনি শাহ আমানত বিমানবন্দরে অনেক খোঁজ করেন। তার স্ত্রী ও মায়ের মন খারাপ হয়েছিল, তবে ওয়াসিমের মা সান্ত্বনা দিয়েছিলেন ছেলেকে।

তিনি বলেন, ‘স্ত্রী এসে বলল হয়তো এগুলো আমাদের ভাগ্য নেই। বড় বিপদ এলে মানুষ কিছু হারিয়ে ফেলে। বিপদ কেটে যায়। স্ত্রীর কথায় আমার মন ভালো হয়নি।’

ব্যাগ পেয়ে আনন্দিত ওয়াসিম বলেন, ‘এত ভালো মানুষ পৃথিবীতে আছে জানতাম না। মনির ভাই ব্যাগ পেয়ে তিন দিন ধরে আমাকে খুঁজেছেন। আজ আমার জন্য ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন। আমি চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় গিয়ে দেখি মনির ভাই ব্যাগ নিয়ে বসে আছেন। আমি ব্যাগ হাতে নিয়ে দেখি স্বর্ণালংকারসহ সবকিছু ঠিকঠাক আছে।’

কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ওমর ফারুকী তাপস বলেন, ‘মনির হোসেন ব্যাগ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রেস ক্লাবে বসে অপেক্ষা করছিলেন। পরে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাগ হস্তান্তর করেন।’

তিনি বলেন, ‘দেখলাম ব্যাগ পেয়ে ব্যাগের মালিক ওয়াসিম বেশ আনন্দিত, ওদিকে ব্যাগটি মালিককে ফিরিয়ে দিতে পেরে যেন হাফ ছাড়েন মনির হোসেন। লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জীবনবোধ এমন হওয়া উচিত।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Expatriate income in the world will increase by 42 percent
রেমিট্যান্স দিবস

বিশ্বে প্রবাসী আয় বাড়বে ৪.২ শতাংশ

বিশ্বে প্রবাসী আয় বাড়বে ৪.২ শতাংশ ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে রেমিট্যান্স-যোদ্ধাদের পাঠানো আয়ের প্রবাহ বেড়ে ৬৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাবে। ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছর বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার মধ্যেও ২০২১ সালে বিশ্বে রেমিট্যান্স আরও বেড়ে হয়েছে ৬০৫ বিলিয়ন ডলার। এদের বেশির ভাগ গেছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। ২০২১ সালে রেমিট্যান্স আয়ের হিসাবে শীর্ষ ৫টি দেশ হচ্ছে ভারত, মেক্সিকো, চীন, ফিলিপাইন্স ও মিসর। এবারই প্রথম চীনকে ছাড়িয়ে যায় মেক্সিকো। সপ্তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামলে বিশ্বে বৈদেশিক আয়ের প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্বব্যাংকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে রেমিট্যান্সপ্রবাহ গত বছরের চেয়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে। গত ২০ বছরে প্রবাসী আয় প্রবাহ বেড়েছে ৫ গুণের বেশি।

উন্নয়নের পাশাপাশি নিজ দেশে অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় টনিকের মতো কাজ করে বৈদেশিক আয়।

বিশ্বে উচ্চ রেমিট্যান্স অর্জনকারী দেশগুলোর তালিকার শীর্ষে ভারত। সপ্তম স্থানে বাংলাদেশ। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই আয় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। প্রবাসী আয় পাঠানোর খরচ ২ শতাংশ কমানো গেলে বিশ্বে অভিবাসীদের ১২ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতো।

বিশ্বে ১৬ জুন আন্তর্জাতিক পারিবারিক রেমিট্যান্স দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়।

বিশ্বব্যাংকের দেয়া তথ্য মতে, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে রেমিট্যান্সপ্রবাহ আরও বেড়ে ৬৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাবে। গত বছরের চেয়ে এই প্রবাহ ৪ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের পাঠানো আয়ের প্রবাহ আরও বাড়বে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ১৬ জুন আন্তর্জাতিক পারিবারিক রেমিট্যান্স দিবস উদযাপনের অনুমোদন পায়।

বৈদেশিক আয়ের অর্থনৈতিক গুরুত্ব

বিশ্বে আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থাটির বৈদেশিক আয়বিষয়ক অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০ কোটির বেশি অভিবাসী নারী ও পুরুষ তাদের উৎস দেশে পরিবারের ৮০ কোটির বেশি সদস্যের কাছে রেমিট্যান্স পাঠান। রেমিট্যান্সকে বলা হয়ে থাকে অভিবাসীদের সঙ্গে তাদের উৎস দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের এক ধরনের অর্থনৈতিক বন্ধন।

এই দিবসে অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা, প্রাকৃতিক ও জলবায়ুসংক্রান্ত বিপর্যয় এবং বিশ্বব্যাপী মহামারি মোকাবিলায় অভিবাসীদের সংহতি ও সহিষ্ণুতাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়। এই দিনে লাখো প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা বিশ্বব্যাপী অভিবাসীদের অবদান তুলে ধরেন।

করোনা মহামারি অভিবাসী আয়ের ওপর নির্ভর এসব পরিবারের আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। গত ১৯ মার্চ জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস মহামারির সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব সংহতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘উন্নয়নশীল বিশ্বে রেমিট্যান্স-যোদ্ধাদের পাঠানো আয়ই চালিকাশক্তি, বিশেষ করে মহামারির সময়ে তা প্রমাণিত হয়েছে।’

ব্যক্তিপর্যায়ে পাঠানো বৈদেশিক আয় কম হলেও বিশ্বব্যাপী এর মোট প্রবাহ আকারে অনেক বড়। সারা বিশ্বে মোট উন্নয়ন সহায়তার তিন গুণের বেশি এই রেমিট্যান্স আয়ের প্রবাহ। এই আয়ের অর্থ গ্রহণকারী দেশে অভিবাসীর পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাদের শিক্ষা ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই আয়কে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের অনেকে উদোক্তা হয়ে ওঠেন। জাতিসংঘের ঘোষিত এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে এসব পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করে এই আয়।

গত ২০ বছরে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে ৫ গুণের বেশি। গ্রাহক দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে এই আয়ের প্রবাহ তা মোকাবিলায় টনিকের মতো কাজ করে।

বিশ্বে প্রবাসী আয় বাড়বে ৪.২ শতাংশ
গত ২০ বছরে প্রবাসী আয় প্রবাহ বেড়েছে ৫ গুণের বেশি। ছবি: সংগৃহীত

করোনার ধাক্কা সামলে এগিয়ে প্রবাসী আয়

করোনা মহামারির শুরুতে অর্থনীতিবিদরা শঙ্কা করেছিলেন এই আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের ধস নামবে। তবে তাদের পর্যালোচনাকে ভুল প্রমাণিত করেছেন রেমিট্যান্স-যোদ্ধারা। ২০২১ সালের মে মাসে বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে রেমিট্যান্স কমেছে মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ। মোট আয় ৫৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে হয়েছে ৫৪০ বিলিয়ন ডলার।

চলতি বছর বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার মধ্যেও ২০২১ সালে বিশ্বে রেমিট্যান্স আরও বেড়ে হয়েছে ৬০৫ বিলিয়ন ডলার। এদের অধিকাংশ গেছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।

এমন আয় প্রবাহের ধারাবাহিকতা অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। তাদের পরিবারের কাছে পাঠানো আয়ের পরিমাণ প্রতি মাসে ২০০ থেকে ৩০০ ডলার হলেও সামষ্টিকভাবে তা বিলিয়ন ডলার হয়ে দাঁড়ায়।

করোনাকালীন লকডাউন ও বিভিন্ন সামাজিক বিধিনিষেধ আরোপ করায় মোবাইল চ্যানেলের মাধ্যমে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়ে হয় ৬৫ শতাংশ।

২০২১ সালে রেমিট্যান্সের প্রবাহ লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলোতে ২৫ শতাংশ বেড়েছে। সাব-সাহারা অঞ্চলে ১৪ শতাংশ, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় ৮ শতাংশ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় সাড়ে ৭ শতাংশ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। চীন ছাড়া পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক আয়ের প্রবাহ কমেছে প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ।

২০২১ সালে রেমিট্যান্স আয়ের হিসাবে শীর্ষ ৫টি দেশ হচ্ছে ভারত, মেক্সিকো, চীন, ফিলিপাইন্স ও মিসর। এবারই প্রথম চীনকে ছাড়িয়ে যায় মেক্সিকো। ভারতে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার।

যেসব দেশে বৈদেশিক আয় মোট দেশজ উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে তাদের মধ্যে রয়েছে লেবানন, টঙ্গো, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান ও সামাউ। লেবাননের জিডিপির ৫৪ শতাংশই আসে রেমিট্যান্স থেকে। টঙ্গোর ৪৪ শতাংশ আর সামাউর ৩২ শতাংশ জিডিপিতে রেমিট্যান্স-যোদ্ধাদের অবদান রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও সুইজারল্যান্ড থেকে অভিবাসীরা সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স তাদের নিজ দেশে পাঠিয়েছেন।

রেমিট্যান্স পাঠাতে কোন দেশে কেমন খরচ

২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রতি ১০০ ডলার রেমিট্যান্স নিজ দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠাতে খরচ হয় গড়ে ৬ ডলার। এটি জাতিসংঘের এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার উল্লেখিত ৩ শতাংশের দ্বিগুণ।

গত বছরের হিসাবে সবচেয়ে কম খরচে রেমিট্যান্স পাঠানো গেছে দক্ষিণ এশিয়ায় (৪.৩ শতাংশ) আর বেশি খরচ পড়েছে সাব-সাহারা অঞ্চলের দেশগুলোতে (৭.৮ শতাংশ) পাঠাতে।

বিশ্বব্যাংকের অভিবাসী ও রেমিট্যান্সবিষয়ক প্রধান দিলিপ রাথা বলেন, ‘বৈদেশিক আয় পাঠানোর খরচ গড়ে ২ শতাংশ কমানো গেলে বিশ্বে অভিবাসীদের ১২ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতো। এতে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলো আরও বেশি লাভবান হতে পারত।’

২০২০ সালে করোনা মহামারির শুরুতে দক্ষিণ এশিয়ায় অনেক অভিবাসী দেশে ফিরে আসে, তবে ২০২১ সালে করোনা প্রতিরোধী টিকাদান কর্মসূচি চালু হয়ে যাওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে অভিবাসীরা ফিরতে শুরু করেন। এতে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমপক্ষে ৭ শতাংশ বেড়ে হয় ১৫৭ বিলিয়ন।

ভারত ও পাকিস্তানে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়ে যথাক্রমে ৮ শতাংশ ও ২০ শতাংশ।

রেমিট্যান্স ও বাংলাদেশ

করোনা মহামারির মধ্যেও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত অর্থবছরে (২০২০-২১) ২৪ বিলিয়ন ৮০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক আগের বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এর ফলে বিশ্বে উচ্চ রেমিট্যান্স অর্জনকারী দেশগুলোর তালিকায় সপ্তম স্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ।

এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২০২১-২২ অর্থবছর ঘোষিত ৭১ বিলিয়ন ডলারের জাতীয় বাজেটের এক-তৃতীয়াংশের বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছর এত বেশি রেমিট্যান্স কখনোই আসেনি।

আন্তর্জাতিক পারিবারিক রেমিট্যান্স দিবসের এক দিন আগে বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, করোনার ধাক্কা সামলে দেশে রেমিট্যান্স-প্রবাহ স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘উচ্চ রেমিট্যান্স অর্জনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত ঘটে। করোনার প্রকোপ কমতে শুরু করায় এখন রেমিট্যান্স আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৯-২০ অর্থবছরে রেমিট্যান্স হিসেবে ১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার অর্জিত হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে এটি রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। এটা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। সে সুবাদে প্রবাস আয় প্রাপ্তিতে বিশ্বে সপ্তম স্থান অধিকার করে বাংলাদেশ।

বিশ্বে প্রবাসী আয় বাড়বে ৪.২ শতাংশ
বিশ্বে উচ্চ রেমিট্যান্স অর্জনকারী দেশগুলোর তালিকায় সপ্তম স্থানে বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত

‘২০২১-২০২২ অর্থবছরে রেমিট্যান্স কিছুটা কমে জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে ১৭ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার অর্জিত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কম।

‘বিগত ২০১৯-২০, ২০১৮-২০১৯ ও ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের রেমিট্যান্সের গড় ছিল ১৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে দেখা যাচ্ছে, কোভিড-পূর্ববর্তী তিন বছরের প্রথম ১০ মাসে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের গড় অপেক্ষা ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে প্রাপ্ত প্রবাস আয়ের প্রবৃদ্ধি ২৮ দশমিক ৯১ শতাংশ বেশি। কাজেই চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স কমছে না বলা যেতে পারে।’

রেমিট্যান্সের প্রবাহ কোভিড-পূর্ববর্তী স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে কোভিড মহামারির সময় প্রবাস আয়ে অস্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি ঘটে।

আরও পড়ুন:
প্রতিদিন ৬০০ কোটি টাকার বেশি পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা
রেমিট্যান্সে প্রণোদনা আগের মতোই
মে মাসে ১৬৭৮০ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা
২৬ দিনেই ১৪৭৩০ কোটি টাকা পাঠালেন প্রবাসীরা
শর্তের বেড়াজাল থেকে মুক্ত রেমিট্যান্স

মন্তব্য

p
উপরে