× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
The Prime Minister hopes that the next election will be free and fair with the participation of all
hear-news
player
print-icon

‘সবার অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু হবে’

সবার-অংশগ্রহণে-আগামী-নির্বাচন-অবাধ-সুষ্ঠু-হবে
শেখ হাসিনা বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আন্তরিক এবং ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন সংবিধান ও প্রচলিত আইনের অধীনে জাতীয় সংসদসহ সব ধরনের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বদ্ধপরিকর।’

সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই আশা ব্যক্ত করেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আন্তরিক এবং ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন সংবিধান ও প্রচলিত আইনের অধীনে জাতীয় সংসদসহ সব ধরনের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বদ্ধপরিকর।’

লিখিত জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পূর্ণ স্বাধীন। আইন অনুযায়ী কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ সম্পাদন করে। নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী সরকার সহায়তা করে থাকে। স্বাধীনভাবে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সরকার ও নির্বাহী কর্তৃপক্ষের আবশ্যিক দায়িত্ব। আশা করি সব রাজনৈতিক দলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’

একই প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণসহ দলীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসি নিয়োগে আইন প্রণয়ন, অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নতুন কমিশন গঠন, ইভিএম চালু, স্বছ ব্যালট বাক্স প্রবর্তন করা হয়েছে।

ভোটার নিবন্ধন, ভোটার তালিকা তৈরি ও হালনাগাদ করা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আলাপ-আলোচনা করে থাকে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর থেকে আচরণবিধি প্রতিপালন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পর্যাপ্তসংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও রিটার্নিং অফিসারের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড নিয়োগ করা হয়।

জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, মেগা প্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথ আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে বিরূপ কোনো প্রভাবের আশঙ্কা নেই। সে কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। মেগা প্রকল্পগুলোর অধিকাংশ বৈদেশিক ঋণ বা অনুদান সহায়তায় গ্রহণ করা হলেও এসব ঋণ নমনীয় প্রকৃতির। সুদের হার তুলনামূলক কম এবং ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ও গ্রেস পিরিয়ড অনেক। উন্নয়ন সংস্থার দেয়া ঋণের অর্থ অবমুক্তির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের কোনো জটিলতা দেখা যায়নি।

শাসক দলের সদস্য আফজাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিভিন্ন সংকট মোকাবেলা করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

কোভিড-১৯ সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে চারটি প্রধান কৌশলগত দিক সংবলিত স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে একটি সামগ্রিক কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। এই কৌশলগুলো ছিলো সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ও কর্মসৃজনকে প্রাধান্য দেয়া এবং কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় নিরুৎসাহিত করা, ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে কতিপয় ঋণ সুবিধা প্রবর্তন করা, যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, হতদরিদ্র ও কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত জনগণকে সুরক্ষা দিতে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি এবং বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব কৌশলের আলোকে এ পর্যন্ত এক লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার ২৮টি আর্থিক ও প্রণোদনা প্যাকেজ চালু এবং তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বন্যা মাথায় রেখে সেতু, কালভার্ট নির্মাণ: প্রধানমন্ত্রী
‘শেখ হাসিনা পাকিস্তানেও এখন মহান নেত্রী’
মূল্যস্ফীতিতে অশান্ত হতে পারে পরিবেশ, প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
কানাডার আদালতের রায়ের পর তো কথা থাকে না: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর: ফেসবুকে অসত্য প্রচার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Principal assaulted in Narail report of administration investigation committee submitted

অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত: প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা

অধ্যক্ষ লাঞ্ছিত: প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা
তদন্ত কমিটির প্রধান এডিএম জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা তদন্ত শেষ করে জেলা প্রশাসকের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। তবে প্রতিবেদনে কারা জড়িত বা কাদের নাম এসেছে সেটা বলার সুযোগ নেই। যেহেতু মামলা হয়েছে সেজন্য কারও নাম বলাও সম্ভব নয়।’

নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে লাঞ্ছিত ও কলেজে সহিংসতার ঘটনায় জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

শনিবার রাত ৯টায় তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) জুবায়ের হোসেন চৌধুরী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।

এডিএম জুবায়ের হোসেন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গত ১৮ জুন নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজে একটি ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার বিষয়ে আমাকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করে দেয় জেলা প্রশাসন।

‘আমরা তদন্ত শেষ করে জেলা প্রশাসকের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। তবে প্রতিবেদনে কারা জড়িত বা কাদের নাম এসেছে সেটা বলার সুযোগ নেই। যেহেতু মামলা হয়েছে সেজন্য কারও নাম বলা সম্ভব নয়। আমি এর বেশি আর কিছু বলতে চাচ্ছি না।’

কমিটির দুই সদস্য ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান ও নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত কবীর।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘তদন্ত কমিটিকে ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে কমিটি আরও দুইদিন সময় চেয়েছিল। আজ প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে মিটিং করে দোষীদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর আগে কিছু বলা সম্ভব নয়।’

একই ঘটনায় পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল নড়াইল জেলা পুলিশ। এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিয়াজুল ইসলামকে। অন্য সদস্যরা হলেন- ডিআই ওয়ান মীর শরীফুল হক ও পুলিশ পরিদর্শক (অপরাধ) রফিকুল ইসলাম।

নড়াইলের পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় বলেন, ‘পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা হয়নি।’

ফেসবুকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মার সমর্থনে কলেজের এক শিক্ষার্থীর পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে ১৮ জুন মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, সহিংসতা চলে।

গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয় যে ওই শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস।

এরপর পুলিশ পাহারায় বিকেল ৪টার দিকে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দাঁড় করিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় একদল ব্যক্তি। শিক্ষক স্বপন কুমার হাত উঁচিয়ে ক্ষমা চাইতে থাকেন। পরে তাকে তুলে নেয়া হয় পুলিশের গাড়িতে।

মোবাইল ফোনে ধারণ করা এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পুলিশের সামনে শিক্ষকের এমন অপদস্ত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সারাদেশে।

আরও পড়ুন:
নড়াইলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল নিষিদ্ধ
ছাত্রের মারধরে নিহত শিক্ষকের কলেজে ক্লাস শুরু
শিক্ষক হত্যা: ৫ দিন পর খুলছে সেই কলেজ
নূপুর শর্মাকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলল আদালত
অধ্যক্ষ লাঞ্ছনার ঘটনায় শিক্ষক টিংকুকে আ.লীগ থেকে অব্যাহতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In exchange for Raushans opinion the division of Japar is again public

রওশনের মতবিনিময়ে জাপার বিভক্তি ফের প্রকাশ্যে

রওশনের মতবিনিময়ে জাপার বিভক্তি ফের প্রকাশ্যে শনিবার গুলশানের এক হোটেলে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন রওশন এরশাদ। ছবি: নিউজবাংলা
রওশন এরশাদ বলেন, ‘দীর্ঘ ছয় মাস থাইল্যান্ডের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। পার্টির কেউ খোঁজ নেয়নি। অথচ যাদেরকে দল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে তারাই আমার নিয়মিত খোঁজ রেখেছেন। মসজিদ, মাজারসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।’

আল হেলাল শুভ, ঢাকা

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের মতবিনিময় সভায় আবারও প্রকাশ্যে উঠে এসেছে দলীয় বিভেদ-বিভক্তি আর কোন্দল। দলে স্বেচ্ছাচারিতা চলছে অভিযোগ করে পদবঞ্চিত নেতারা পার্টির নেতৃত্ব রওশন এরশাদকে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার গুলশানের এক হোটেলে পার্টির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন রওশন এরশাদ। সভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের উপস্থিত ছিলেন না।

রওশন বলেন, ‘দীর্ঘ ছয় মাস থাইল্যান্ডের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। পার্টির কেউ খোঁজ নেয়নি। অথচ যাদেরকে দল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে তারাই আমার নিয়মিত খোঁজ রেখেছেন। মসজিদ, মাজারসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আজ পল্লীবন্ধু এরশাদ নেই। তাই জাতীয় পার্টি এলোমেলো হয়ে গেছে। উনি থাকলে পার্টি অন্যরকম হতো।

‘যাদের দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে হবে। যারা চলে গেছে তাদেরকেও ফিরিয়ে আনতে হবে। নতুন প্রজন্মকে দলে আনতে হবে। দলকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমকক্ষ বানাতে হবে। নতুবা রাজনীতির টিকে থাকতে পারব না।’

সভায় বক্তারা জাতীয় পার্টিতে স্বেচ্ছাচারিতা চলছে বলে অভিযোগ করে পার্টির নেতৃত্ব রওশন এরশাদকে নেয়ার আহ্বান জানান।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘পার্টি শক্তিশালী করার প্রয়োজনে যা যা করার দরকার তা-ই করব। এরশাদ তিলে তিলে এই দলটা গড়েছেন। সবাইকে নিয়েই কাজ করতে হবে।’

প্রয়াত এরশাদকে স্মরণ করে রওশন বলেন, ‘এরশাদ ওপারে ভালো আছেন। কারণ তিনি ইসলামের খাদেম ছিলেন। ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেছিলেন, পবিত্র শুক্রবার ছুটি ঘোষণা করেন। মসজিদ, মন্দিরসহ সব উপাসনালয়ের পানি ও বিদুৎ বিল মওকুফ করেছিলেন।’

সভায় জাপার সাবেক এমপি নূরুল ইসলাম মিলন বলেন, পার্টির কর্মীরা আজ অসহায়, তাদের খোঁজ কেউ নেয় না। আপনাকে (রওশন এরশাদ) দলের দায়িত্ব নিতে হবে। পার্টির লাখো কর্মী আপনার অপেক্ষায় আছে।’

প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘আপনার নামের পাশে এরশাদ আছে। বাংলার মানুষ আপনাকে নেতৃত্বে দেখতে চায়। যে লোক কএনাদিন জেল খাটেনি, রাজপথে এরশাদ মুক্তির আন্দোলন করেনি তার কাছে এরশাদের জাতীয় পার্টি নিরাপদ নয়।’

সাবেক এমপি জিয়াউল হক মৃধা বলেন, ‘জাতীয় পার্টিতে শুধুই বিশৃঙ্খলা, দ্বিধাবিভক্তি। কেন্দ্রে শুধু পদ আমদানি হয়। মুরগির মতো দলীয় পদ বিক্রি হচ্ছে।’

সভায় জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এরশাদ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের আজ দুঃসময় চলছে। আপনার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল করলে আমাকে বাধা দেয়া হয়। আপনি যখন সংকটাপন্ন অবস্থায় থাইল্যান্ডে যান, তার পরের দিন তারা কক্সবাজারে দলবেঁধে আমোদ-ফূর্তি করেছে।’

কাজী মামুন রওশন এরশাদের জীবদ্দশায় সাদ এরশাদকে পার্টির চেয়ারম্যান করার দাবি জানান।

জাপার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন রাজু বলেন, ‘কাউন্সিলে কথা ছিল আপনার দলীয় পতাকা আপনি ব্যবহার করবেন। সব সভায় সভাপতিত্ব করবেন আপনি। আপনার পরামর্শে দল পরিচালিত হবে। কোনো কথা রাখা হয়নি।’

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রওশন পুত্র রাহগীর আল মাহি (সাদ এরশাদ), রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসিহ, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য হাবিবুর রহমান হবি, ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী, জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য এমএ সাত্তার, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, নরুল ইসলাম নুরু, ইকবাল হোসেন রাজু, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, আশরাফ সিদ্দিকী প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
সংসদে রওশনকে দেখে ছুটে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
পদ্মা সেতু নির্মাণে সমালোচকদের মুখে চুনকালি: রওশন
দেশে ফিরলেন রওশন এরশাদ
রওশন এরশাদকে দেখে দেশে ফিরলেন জি এম কাদের
রওশনকে দেখতে থাইল্যান্ড জি এম কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Farmers defeated in advance floods

আগাম বন্যায় সর্বনাশ কৃষকের

আগাম বন্যায় সর্বনাশ কৃষকের বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে মাঠের ফসল। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষক আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আগের বচর সাতবার বন্যা হইচে, এবার একবার হইল, আরও তো হইবে। একবারের বানোত কিছু কি আছে, সোউগ তো তলে গেইছে। বচরে বচরে ( প্রতি বছর) এমন করি ফকির হয়া যাইতেছি। তিন মাস আবাদ করি, বন্যা-খরাত খাই, এবার বুঝি সেডাও হবান্নয়।’

বন্যায় ফসলের ক্ষতি মেনে নিয়েই চলে রংপুর অঞ্চলের চাষাবাদ। ক্ষতি কমাতে কৃষকদের থাকে তাই এক ধরনের প্রস্তুতি। কিন্তু এ বছর আগাম বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। পানির নিচে তলিয়ে থাকা ফসল নিয়ে হতাশার পাশাপাশি চিন্তিত তারা পরের ধাপের চাষাবাদ নিয়ে।

কৃষিবিদসহ বিশ্লেষকরা রংপুর অঞ্চলের চলতি বন্যায় ক্ষতির শিকার কৃষকদের প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সহায়তা বাড়ানোর কথা বলছেন। একই সঙ্গে তারা নদী, খাল সংস্কারসহ স্থায়ী সমাধানে জোর দিচ্ছেন। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় এ বছর কয়েক দফায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবের ইউনিয়নের বলদমারা এলাকার কৃষক আব্দুল বাতেন। তিনি দুই বিঘা জমিতে চিনাবাদাম এবং দুই বিঘা জমিতে তিল ও কাঁচা মরিচ আবাদ করেছিলেন। আগাম বন্যায় তার সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আগের বচর সাতবার বন্যা হইচে, এবার একবার হইল, আরও তো হইবে। একবারের বানোত কিছু কি আছে, সোউগ তো তলে গেইছে। বচরে বচরে (প্রতি বছর) এমন করি ফকির হয়া যাইতেছি। তিন মাস আবাদ করি, বন্যা-খরাত খাই, এবার বুঝি সেডাও হবান্নয়।’

আগাম বন্যায় সর্বনাশ কৃষকের
পানি সরে গেলেও ফসলি জমি এখন বিরানভূমি। ছবি: নিউজবাংলা

অভিন্ন আক্ষেপ চরাঞ্চলের সব কৃষকের। তারা তিল, কাউন, চিনাবাদাম, কাঁচা মরিচ, ভুট্টা ও শাকসবজি চাষ করে সংসার চালান। একবার ফসল তুলতে পারলে সেটি দিয়েই সামাল দেন একাধিকবারের ক্ষতি। বন্যার সময় তাদের আগাম প্রস্তুতিও থাকে। কিন্তু আকস্মিক বন্যা তাদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারীর বহু চরে পানির নিচে কৃষকের ফসল। কিছু জায়গায় পানি কমলেও ফসল রক্ষার সুযোগ নেই। নষ্ট হয়েছে বীজতলাও।

চরশৌলমারী ইউনিয়নের কৃষক আহাদ আলী বলেন, ‘সবজি চাষ করে বাজারে বিক্রি করি। যে টাকা হয়, তা দিয়ে চার সন্তানকে লেখাপড়া করাই। সব আবাদ পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সংসার চালাতে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছি।’

কৃষক আব্দুল করিম, সফুর আলী, নজিবর রহমানসহ কয়েকজন জানান, রংপুরে প্রতি বছর কয়েক দফায় বন্যা হয়। এবার আগাম বন্যায় এমন ক্ষতি হয়েছে, যার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব না।

শুধু কুড়িগ্রাম নয়, অভিন্ন পরিস্থিতি গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও রংপুর গঙ্গাচড়ার তিস্তা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের।

যে ক্ষতিতে বাড়ছে চিন্তা

রংপুরের আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৮ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত রংপুর অঞ্চলের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটে ৯ হাজার ৩৮২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলায় ফসল নষ্ট হয়েছে ৮ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমির। এর মধ্যে পাট ৩ হাজার ৮৫৬, আউশ ধান ২ হাজার ৫০৬ ও আমন বীজতলা ৩১২ হেক্টর। শাকসবজি ও অন্যান্য মিলে রয়েছে আরও ২ হাজার ১০১ হেক্টর।

গাইবান্ধা জেলায় ফসল নষ্ট হয়েছে ৪০৫ হেক্টর জমির। এর মধ্যে পাট ১৩৩, আউশ ধান ৫৬, আমন বীজতলা ৫৬ এবং শাকসবজি ও অন্যান্য মিলে ১৬০ হেক্টর জমির ফসল।

লালমনিরহাট জেলায় ফসল নষ্ট হয়েছে ২০২ হেক্টর জমির। এর মধ্যে পাট ১৭ হেক্টর, আউশ ধান ২০ হেক্টর, আমন বীজতলা ৭৯ হেক্টর এবং শাকসবজি ও অন্যান্য মিলে ৮৬ হেক্টর।

এসব এলাকায় তালিকার বাইরে আরও ১৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে আছে বলে দাবি করেছে কৃষি বিভাগ। সে হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হবে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এমদাদ হোসেন সেখ বলেন, ‘কৃষকদের প্রণোদনা দেয়ার কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে তাদের পুনর্বাসনের জন্য সিদ্ধান্ত আসেনি।’

সহায়তা ও সমাধান

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা করা হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম বলে মনে করেন কৃষকরা।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করা হয়। তাদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। এরপর প্রত্যেক কৃষককে এক বিঘা জমি আবাদ করার মতো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়।’

রৌমারীর দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ঝগড়ারচর গ্রামের কৃষক আফতাব হোসেন বলেন, ‘বন্যার পর ফের আবাদ করতে অনেক কষ্ট। সরকার যেটুকু সহযোগিতা করে, তাতে পোষায় না। আবার এসব সহযোগিতা সবার জোটেও না।’

কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে পুনর্বাসনে সরকার যে সহযোগিতা করে, তা যথেষ্ট হয়। সহজ শর্তে সুদমুক্ত ঋণ দিলে এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য ৩৩ শতাংশ বেশি দরে সরকার কিনলে কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।’

আগাম বন্যায় সর্বনাশ কৃষকের
কৃষক পরিবারকে দেয়া হচ্ছে সরকারি সহায়তা। ছবি: নিউজবাংলা

নদী গবেষক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৪২টি ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতি হয়েছে। কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতির শিকার।

‘অল্প বৃষ্টি বা পানিতেই বন্যা হচ্ছে এই অঞ্চলে। স্থায়ী পরিত্রাণের জন্য নদীগুলোর পরিচর্যা করতে হবে। নদী খনন করতে হবে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকলে এমন বৃষ্টিতে বন্যা হবে না। আর কৃষি বিমা চালু করে সরকার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকদের সহায়তা করতে পারে।’

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রণোদনার পরিমাণ বাড়াতে হবে। বন্যা-পরবর্তী সময়ে তারা যখন আবাদ শুরু করবেন, তখন ভর্তুকির পরিমাণ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে সার, কীটনাশক ও বীজ বিনা মূল্যে দিতে হবে। বন্যার কথা চিন্তা করে ফসল উৎপাদনের সময়ে পরিবর্তন আনতে হবে।

‘বন্যায় আমন ধান নষ্ট হয়ে যায়। সে জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আগেই উঁচু স্থান লিজ নিয়ে চারা রোপণ করতে পারে। পানি নেমে গেলে এসব বীজ ক্ষতিগ্রস্তদের বিতরণ করলে কৃষকের ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
সৌদি খেজুর নিয়ে বন্যার্তদের পাশে ফায়ার সার্ভিস
দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কবলে সিলেট
বন্যার শঙ্কা এবার দিনাজপুরে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Inauguration of Bangladesh Embassys own building in Lisbon

লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবন উদ্বোধন

লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবন উদ্বোধন লিসবনে শুক্রবার বাংলাদেশ দূতাবাসের চ্যান্সারি ভবন উদ্বোধন শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ছবি: সংগৃহীত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘চ্যান্সারি ভবনটি আমরা যে গত বছর স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপন করেছি, তারই একটি রূপান্তরের প্রতীক। এটি জাতীয় উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষার মান অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পদচিহ্ন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।’

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসের স্থায়ী নতুন চ্যান্সারি ভবন উদ্বোধন হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন স্থানীয় সময় শুক্রবার উৎসবের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব আলভারো মেন্ডোনসা ই মৌরা।

উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন ও ফিতা কাটার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী চ্যান্সারি ভবনের দেয়ালে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান, রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তা, পর্তুগিজ অতিথিসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের দূতাবাসের কাজের চাপ বহু গুণ বেড়েছে। নতুন চ্যান্সারি ভবন বাংলাদেশ ও পর্তুগালের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধন জোরদার করতে বড় ভূমিকা রাখবে।’

আলভারো মেন্ডোনসা ই মৌরা বলেন, ‘লিসবনে স্থায়ী চ্যান্সারি ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পর্তুগালের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত হবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘চ্যান্সারি বিল্ডিংটি আমরা যে গত বছর স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপন করেছি, তারই একটি রূপান্তরের প্রতীক। এটি জাতীয় উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষার মান অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পদচিহ্ন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল পর্বের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী চ্যান্সারির বঙ্গবন্ধু কর্নারের উদ্বোধন করেন। তিনি চ্যান্সারি ভবনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং কনস্যুলার সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

লিসবনে বাংলাদেশের আবাসিক দূতাবাস প্রথম স্থাপিত হয় একটি ভাড়া করা ভবনে ২০১২ সালের জুলাই মাসে। বাংলাদেশ সরকার ২০২০ সালে চ্যান্সারি এবং রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের স্থায়ী ঠিকানার জন্য দুটি সম্পত্তি কেনে।

দুই হাজার বর্গমিটার জমির ওপর গড়ে উঠেছে চ্যান্সেরির তিনতলা ভবন। এতে রয়েছে অভ্যর্থনা এলাকা, অডিটোরিয়াম, বঙ্গবন্ধু কর্নার, কনফারেন্স রুম, ডাইনিং রুম, প্রশস্ত প্রদর্শনী কক্ষ, আলাদা প্রবেশদ্বারসহ কনস্যুলার সার্ভিস এলাকা, প্রশস্ত ওয়েটিং রুম ও অফিস কক্ষ। এছাড়াও বড় পাবলিক ইভেন্ট করার জন্য রয়েছে উপযুক্ত বড় খোলা জায়গা। এটি ইউরোপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যান্সারি ভবনগুলোর একটি।

আরও পড়ুন:
দুদেশের সম্পর্ককে নতুন স্তরে নিতে চায় ঢাকা ও লিসবন
এসডিজি অর্জনে দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মহাসাগর সম্মেলন: এসডিজি অর্জনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ: ক্ষতিপূরণ চান মোমেন
গম আমদানিতে জি-টু-জির প্রস্তাব বাংলাদেশের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fear of 2 lakh tons of minipack waste per year

মিনিপ্যাক বর্জ্যে ধুঁকছে দেশ, বছরে জমছে ২ লাখ টন

মিনিপ্যাক বর্জ্যে ধুঁকছে দেশ, বছরে জমছে ২ লাখ টন
সাবেক সচিব এবং এসডোর সভাপতি সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, ‘প্লাস্টিকের মিনি প্যাকেট পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক। আকারে ছোট হলেও পরিবেশে এর বিরূপ প্রভাব বিশাল। এ অবস্থায় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য বিশেষ করে স্যাশে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কঠোরভাবে কার্যকর করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই।’

সারা দেশে প্রতি বছর ১০ লাখ ৬ হাজার টন ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু মিনিপ্যাক বা স্যাশে বর্জ্য রয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ১০৪ টন, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।

পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন- এসডো আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এমন শঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, প্লাস্টিক স্যাশে পরিবেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এই গোলটেবিল বৈঠকে ‘প্লাস্টিক স্যাশে: স্মল প্যাকেট উইথ হিউজ এনভায়রনমেন্ট ডেস্ট্রাকশন’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

দেশে কী পরিমাণ মিনিপ্যাক ব্যবহার হচ্ছে সে বিষয়ে গবেষণা-তথ্যের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার বেশ কিছু এলাকা এবং উত্তরবঙ্গের জেলা রংপুরকে বেছে নেয়া হয়।

এসডোর গবেষণা অনুসারে, সমীক্ষাকৃত অঞ্চলের ৯৭ শতাংশ অংশেই মিনিপ্যাক বা স্যাশের ব্যবহার রয়েছে। আর মিনিপ্যাক মুক্ত আছে মাত্র ৩ শতাংশ এলাকা।

দেশে যে পরিমাণ মিনিপ্যাক বর্জ্য তৈরি হয় তার মধ্যে খাবারের স্যাশে ৪০, প্রসাধনী ২৪, ওষুধ ৮, গৃহসামগ্রী পরিষ্কারের পণ্য ৭, রান্নার মসলা ৭, পানীয় ৭ এবং অন্যান্য বর্জ্য ৭ শতাংশ।

খাবারের স্যাশের মধ্যে রয়েছে- চিপস, টমেটো সস, জুস, গুঁড়োদুধ, কফি ইত্যাদি। ওষুধের স্যাশের মধ্যে রয়েছে স্যালাইনের প্যাকেট ও মেডিসিন স্ট্রিপ। কসমেটিক স্যাশের মধ্যে আছে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, টুথপেস্ট ও মাউথ ফ্রেশনার। রান্নার উপাদানকে মসলা প্যাকের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সাবেক সচিব এবং এসডোর সভাপতি সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, ‘প্লাস্টিকের মিনি প্যাকেট পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক। আকারে ছোট হলেও পরিবেশে এর বিরূপ প্রভাব বিশাল।

‘একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারে বিশেষ করে স্যাশে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কঠোরভাবে কার্যকর করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই।’

এসডোর উপদেষ্টা মোখলেসুর রহমান প্লাস্টিক স্যাশের ভয়াবহ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে মানুষ মিনি প্যাকেটের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। তাই জনগণের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরি করতে হবে, যাতে তারা এই মিনি প্যাকেটগুলো ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়। উৎপাদকদেরও উচিত এসব স্যাশে উৎপাদন বন্ধ করে রিফিল সিস্টেমের দিকে এগিয়ে যাওয়া।’

এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দূষণ রোধে আমাদের সেই সময়ে ফিরে যেতে হবে যখন বাজারে স্যাশে ছিল না এবং মানুষ কেনাকাটার জন্য রিফিল সিস্টেম ব্যবহার করত। আর সে জন্য একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের কাঁচামাল, উৎপাদন ও বিপণনের ওপর অধিক শুল্ক আরোপ করতে হবে।’

এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা প্লাস্টিক স্যাশের পরিবর্তে সাশ্রয়ী মূল্যের বিকল্প প্রচার করতে এবং একটি আইনি কাঠামো বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসেম্বলি (ইউনিয়া ৫.২) ইতোমধ্যে একটি আন্তঃসরকারি কমিটি গঠন এবং ২০২৪ সালের মধ্যে লিগ্যালি বাইন্ডিং প্লাস্টিক কনভেনশন নিয়ে আলোচনা ও চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

‘বাংলাদেশসহ ১৭৫টি দেশ এই বৈশ্বিক প্লাস্টিক চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। তাই আমাদের উচিত নিজেদেরকে এর জন্য প্রস্তুত করা এবং দেশব্যাপী একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নেয়া।’

আরও পড়ুন:
পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর
উত্তমের কারখানায় পরিত্যক্ত প্লাস্টিক থেকে সুতা
ময়লার ভাগাড়ে সাড়ে তিন বছরের দুর্ভোগ
আবর্জনার শহরে পরিণত হচ্ছে হবিগঞ্জ
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের আহ্বান ইউজিসির

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dhaka and Lisbon want to take the relationship between the two countries to a new level

দুদেশের সম্পর্ককে নতুন স্তরে নিতে চায় ঢাকা ও লিসবন

দুদেশের সম্পর্ককে নতুন স্তরে নিতে চায় ঢাকা ও লিসবন
এটি ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। যেখানে দুই মন্ত্রী আগামী দিনে বাংলাদেশ ও পর্তুগালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আগামী বছর কূটনৈতিক সম্পর্কের সূবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নিজেদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন স্তরে নিয়ে যেতে রাজি হয়েছে ঢাকা ও লিসবন। এরই অংশ হিসেবে ২০২৪ সালকে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফর ও ঢাকায় পর্তুগিজ চেন্সারি খুলতে রাজি হয়েছে পর্তুগাল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠানো এক বিবৃতিতে শনিবার দুপুরে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন পর্তুগাল এবং কেনিয়ার যৌথভাবে আয়োজিত চলমান দ্বিতীয় জাতিসংঘ মহাসাগর সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে পর্তুগিজ রাজধানী লিসবনে রয়েছেন।

সম্মেলনে যোগ দেয়ার ফাঁকে তিনি পর্তুগিজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জোয়াও গোমেস ক্রাভিনহোর সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

এটি ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। যেখানে দুই মন্ত্রী আগামী দিনে বাংলাদেশ ও পর্তুগালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ষোড়শ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বাংলাদেশ ও পর্তুগালের মধ্যে ঐতিহাসিক সংযোগের কথা স্মরণ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘পারস্পরিক সুবিধার জন্য বর্তমান সময়ে শক্তিশালী সহযোগিতা গড়ে তোলার জন্য দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের উচিত ইতিহাসের এই ইতিবাচক উত্তরাধিকার গড়ে তোলা।’

তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মানবসম্পদ, নীল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার ওপর জোর দেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ১০ বছর ধরে লিসবনে নিজেদের একটি আবাসিক দূতাবাস পরিচালনা করেছে এবং সম্প্রতি দূতাবাসের স্থায়ী ঠিকানার জন্য লিসবনে সম্পত্তি ক্রয় করেছে। তাই পর্তুগিজ সরকারকেও ঢাকায় একটি আবাসিক পর্তুগিজ মিশন বা অন্ততপক্ষে কাউন্সিল অফিস স্থাপন করা উচিত।

‘ঢাকায় সব ধরনের ভিসার আবেদন গ্রহণের জন্য কিছু ব্যবস্থা এবং ঢাকায় পর্যায়ক্রমিক কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।

‘আমি মনে করি যে পর্তুগালে পড়তে আশা শিক্ষার্থীদের তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহজ সংযোগ স্থাপনের সুবিধার্থে এবং বাংলাদেশি অভিবাসীদের পরিবারের সদস্যদের পর্তুগালে তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে পুনর্মিলনের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার পর্তুগিজ প্রতিপক্ষকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে আর্থসামাজিক উন্নয়ন, বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পাশাপাশি দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সদ্য উদ্বোধন হওয়া বহু বিলিয়ন ডলারের পদ্মা সেতু, যা সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশের নিজস্ব সম্পদে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী নদীর ওপর নির্মিত, নতুন বাংলাদেশের প্রতীক, যা সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সাফল্য অর্জনে সক্ষম।

পর্তুগিজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তার সরকারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পর্তুগিজ সমাজে একীভূত হওয়া এবং পর্তুগিজ অর্থনীতিতে অবদানের জন্য পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের প্রশংসা করার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরামর্শগুলো নোট করে সেগুলো নিয়ে কাজ করার আশ্বাস দেন।

উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় স্তরে ‘জলবায়ু উদ্বাস্তু’ পুনর্বাসনের মতো জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

দুই পক্ষই ২০২৪ সালে বাংলাদেশ-পর্তুগাল কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সফরসহ ভবিষ্যৎ সহযোগিতার এজেন্ডা নিয়েও আলোচনা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে বাংলাদেশে একটি চ্যান্সারি খোলা হবে, সেটি উদযাপনের জন্য পর্তুগিজ পক্ষ থেকে সবচেয়ে উপযুক্ত অঙ্গভঙ্গি, ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

দুই মন্ত্রী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে জোর করে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পর্তুগাল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্যকর ভূমিকার অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্তুগিজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, যা পর্তুগিজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রহণ করেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন লিসবনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম, বিএন এবং অন্য কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
‘বাংলাদেশ নিজের ক্ষতি করে কোনো জোটে যাবে না’
এনআইডিধারী থেকে রিটার্ন নেয়ার পরামর্শ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
‘রোহিঙ্গাদের কারণে আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত ঝুঁকিতে বাংলাদেশ’
রাষ্ট্রদূতকে প্রশ্ন করুন যুক্তরাষ্ট্রে কেন বিচারবহির্ভূত হত্যা: মোমেন
রাশিয়ার গম-জ্বালানি কিনতে ভারতের কাছে বুদ্ধি চেয়েছে বাংলাদেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Doraiswami is coming Dalela can come

যাচ্ছেন দোরাইস্বামী, আসছেন দালেলা

যাচ্ছেন দোরাইস্বামী, আসছেন দালেলা বাংলাদেশে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। ছবি: সংগৃহীত
আশা করা হচ্ছে, বরখাস্ত হওয়া লন্ডনে ভারতীয় হাইকমিশনার গায়ত্রী ইসার কুমারের স্থলাভিষিক্ত হবেন বর্তমানে ঢাকায় দায়িত্বরত হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। আর এখানে দোরাইস্বামীর স্থলাভিষিক্ত হবেন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের বর্তমান ডেপুটি চিফ অফ মিশন সুধাকর দালেলা।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীকে যুক্তরাজ্যে হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। আর সে ক্ষেত্রে ঢাকায় তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন সুধাকর দালেলা।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়েছে।

দোরাইস্বামী ভারতের পররাষ্ট্র বিভাগের ১৯৯২ ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। তিনি উজবেকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রেও কাজ করার পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

৩০ জুন বরখাস্ত হওয়া লন্ডনে ভারতের হাইকমিশনার গায়ত্রী ইসার কুমারের স্থলাভিষিক্ত হবেন বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

আশা করা হচ্ছে, ভারতের পররাষ্ট্র বিভাগের ১৯৯৩ ব্যাচের কর্মকর্তা, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান ডেপুটি চিফ অফ মিশন সুধাকর দালেলা ঢাকায় বিক্রমের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

যুক্তরাজ্যে হাইকমিশনার হিসেবে দোরাইস্বামীর নিয়োগ মোদি সরকারের বেশ কয়েক মাসব্যাপী গভীর পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কিন্তু আফগানিস্তান ও পাকিস্তান ইস্যুতে দেশটির সঙ্গে ভারতের কিছু কিছু বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে আগেও অভিযোগ করা হয়েছে, যুক্তরাজ্য শিখ মৌলবাদীদের আশ্রয় দেয়। এমনকি তাদেরকে ভারতের বিরুদ্ধে তহবিল সংগ্রহের অনুমতিও দেয়।

সম্প্রতি ভারত ও যুক্তরাজ্য দুই দেশই একটি মুক্তবাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করছে।

আরও পড়ুন:
মেয়ে শিশুদের শিক্ষায় ৬০০ কোটি টাকা দেবে যুক্তরাজ্য: হাইকমিশনার
বঙ্গবন্ধু ভারতেরও নায়ক: ভারতের সহকারী হাইকমিশনার
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি চায় ত্রিপুরা
জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারতীয় হাইকমিশনারের শ্রদ্ধা
বাংলাদেশে পৌঁছালেন নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দোরাইস্বামী

মন্তব্য

p
উপরে