× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Sagarkanya Kuakata is arranging around the Padma bridge
hear-news
player
print-icon

পদ্মা সেতুকে ঘিরে সাজছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

পদ্মা-সেতুকে-ঘিরে-সাজছে-সাগরকন্যা-কুয়াকাটা
নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে দক্ষিণের সাগরকন্যা কুয়াকাটা। ছবি: নিউজবাংলা
স্বল্পকালীন থাকার ব্যবস্থা রেখে অধিকাংশ হোটেল বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক হোটেলগুলোতে ৫০ এবং খাবার হোটেলে ৩০ ভাগ ভাড়া ছাড়ের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে নতুন রূপে সাজছে দক্ষিণের সাগরকন্যা কুয়াকাটা। এই সেতু চালুর পর ঢাকা থেকে সড়কপথে কুয়াকাটায় পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা।

এর ফলে ব্যাপক পর্যটক সমাগমের আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিষয়টি মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক মানের খাবার ব্যবস্থাসহ নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে হোটেল-মোটেল।

পর্যটন ব্যবসায় বিনিয়োগকারীরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা থেকে ভোরে যাত্রা করে দুপুরের আগেই কুয়াকাটা পৌঁছানো যাবে। এরপর দিনভর আনন্দ উল্লাস করে শেষ বিকেলে সূর্যোদয় দেখে রাতে আবার ঢাকায় ফিরতে পারবেন পর্যটকরা।

স্বল্পকালীন থাকার ব্যবস্থা রেখে অধিকাংশ হোটেল বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক হোটেলগুলোতে ৫০ এবং খাবার হোটেলে ৩০ ভাগ ভাড়া ছাড়ের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

পদ্মা সেতুকে ঘিরে সাজছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

একসময়ে ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় সড়ক পথে যেতে একাধিক ফেরি পার হতে হতো। সেসব নদীতে সেতু হয়ে গেছে। এবার পদ্মায় সেতু চালু হলে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কে আর কোনো ফেরি থাকবে না। এতে কোনো দুর্ভোগ ছাড়াই স্বল্প সময়ে কুয়াকাটা পৌঁছতে পারবেন পর্যটকরা।

স্ত্রীসহ কুয়াকাটায় বেড়াতে এসেছিলেন গাজীপুরের চাকরিজীবী আনোয়ার হোসেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার শেষবারের মতো ফেরি পার হয়ে কুয়াকাটায় এলাম। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর এই পথে আর কোনো ফেরি থাকবে না।‘

আনোয়ার বলেন, ‘কয়েক বছর আগে একবার এসেছিলাম। সে যে কী ভোগান্তি, ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দিনের প্রায় অর্ধেকটা সময় কয়েকটি ফেরিঘাটে আটকে ছিলাম। কুয়াকাটার আসার আনন্দ ধুলোয় মিশে গেছিল। সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত কোনোটাই দেখতে পারিনি।’

পদ্মা সেতুকে ঘিরে সাজছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জুই নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু হলে কুয়াকাটায় আসা অনেক সহজ হবে। আগে সময় পেলেই গাড়িতে কক্সবাজার যেতাম। ফেরির কারণে এখানে আসতে চাইতাম না।

‘তবে ২৫ জুনের পর ইচ্ছা করলেই খুব ভোরে ঢাকা থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হতে পারব। দিনভর থেকে সন্ধ্যায় আবার রওনা করলে রাতেই হলে গিয়ে পৌঁছাতে পারব।’

সুমাইয়ার ধারণা, পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষ স্বল্প সময়ে স্বল্প ব্যয়ে কুয়াকাটা ভ্রমণে আসতে পারবে।

পদ্মা সেতুর কারণে পরিবহন শ্রমিকরাও খুশি। আগে দিনে একবার ট্রিপ দিলেও এখন একাধিক ট্রিপের সুযোগ মিলবে বলে ধারণা তাদের। পদ্মা সেতু উদ্বোধন সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রচেষ্টা, গ্রিনলাইনসহ একাধিক নতুন কোম্পানির বাস চালু হয়েছে কুয়াকাটা লাইনে। আরও বেশ কয়েকটি কোম্পানির বাস চালুর কথা রয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন মৃধা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উন্নতমানের বেশ কয়েকটি পরিবহন কোম্পানি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এই রুটে তারা গাড়ি চালাতে চায়। আমরা তাদের স্বাগত জানিয়েছি।’

পদ্মা সেতুকে ঘিরে সাজছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

তিনি বলেন, ‘এখনই কুয়াকাটায় বাংলাদেশের অধিকাংশ কোম্পানির বাস চলাচল করছে। তবে ২৫ তারিখের পর ঢাকা, চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি উন্নতমানের বিলাসবহুল বাস কোম্পানি এই রুটে প্রবেশ করবে।’

কুয়াকাটার হোটেল ব্যবসায়ীদেরও এখন ব্যস্ত সময়। পর্যটক আকৃষ্ট করতে তৈরি করা হচ্ছে নতুন অবকাঠামো।

কুয়াকাটার সবচেয়ে বড় সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের মহাব্যবস্থাপক আল আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে নতুন নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করেছি। হোটেলে আবাসন সিটের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের জন্য আমরা নতুন নতুন ভিউ তৈরি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ২৫ তারিখের পরের কয়েক দিনের জন্য অগ্রিম বুকিংয়ের ব্যাপারে অনেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে প্রতিদিনই পর্যটকরা জানতে চাইছেন।’

সমুদ্র বাড়ি রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম মেরণ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২৫ তারিখের পর পর্যটকের বাড়তি চাপের বিষয়টা মাথায় রেখে আমাদের হোটেলকে নতুন রূপে সাজিয়েছি। তা ছাড়া যেসব পর্যটক সকালে এসে আবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ব্যাক করবে তাদের জন্যও আমরা নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করে প্রস্তুত রেখেছি।‘

ইলিশপার্কের স্বত্বাধিকারী ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘কুয়াকাটায় পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ ইলিশ পার্ক। আমরা কক্সবাজারের চেয়েও অনেক ভালো মানের খাবার বিশেষ করে স্বল্পমূল্যে বেশ কয়েক ধরনের ভর্তার ব্যবস্থা চালু করেছি। মূলত আমরা চাই, একাধিকবার কক্সবাজারে যাওয়া কোনো পর্যটক এখানে এসে যেন কিছু না কিছু নতুনত্ব পান। তা ছাড়া এখানকার সৌন্দর্য তো আছেই।’

বিভিন্ন হোটেলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশনসহ বিভিন্ন সেবা দিতে দক্ষ জনবলও নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

কুয়াকাটা সিকদার রিসোর্টে বিদেশি পর্যটকদের খাবার পরিবেশনের জন্য প্রখ্যাত শেফ জুলফিকার মো. জাহিদি ওরফে শেফ জাহিদিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আশা করি, পর্যটকরা আমাদের খাবার পরিবেশনে খুশি হবেন।’

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, গোটা পৌর এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভ্রমণপিপাসুদের জন্য কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থানগুলোকেও নবরূপে সাজানো হয়েছে। আশা করছি, এখানে এসে কোনো পর্যটক হয়রানির শিকার হবেন না। এ জন্য সৈকতে ফটোগ্রাফারসহ ভ্রাম্যমাণ খুদে ব্যবসায়ীদের কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তা হাসনাইন পারভেজ বলেন, ‘পর্যটকদের বাড়তি নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ টিমসহ একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। গোটা সৈকতের নিরাপত্তার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’

পদ্মা সেতু চালুর পর কুয়াকাটার সম্মৃদ্ধির পাশাপাশি গোটা অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে বলে মনে করছেন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে। তাই এ এলাকায় তিনি বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। পদ্মা সেতুর সুফল সবচেয়ে বেশি ভোগ করবে কুয়াকাটাবাসী। এই সেতু পারি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক কুয়াকাটায় অনায়াসে আসতে পারবে। এ এলাকার দৃশ্যপট বদলে যাবে।’

আরও পড়ুন:
‘ভারতীয় নাচনেওয়ালিকে দেবেন ৩ কোটি, মানবে না জনগণ’
মাওয়ায় ‘দ্য লাস্ট ফেরি’ বেগম রোকেয়া
পদ্মা সেতু জাদুঘরে কী থাকবে
ইলিশের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল পদ্মা সেতুর কাজ
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন: দেড় হাজার কয়েদি পাবেন উন্নত খাবার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The Last Ferry on Padma

দ্য লাস্ট ফেরি অন পদ্মা

দ্য লাস্ট ফেরি অন পদ্মা শিমুলিয়া থেকে মাঝিরকান্দির উদ্দেশে যাত্রা করা ফেরি কুঞ্জলতা। ছবি: নিউজবাংলা
মাওয়া-জাজিরাকে যুক্ত করা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে এই নৌরুটের শিমুলিয়া ছেড়ে যাওয়া শেষ ফেরি ‘কুঞ্জলতা’। আর ওপারের মাঝিরকান্দি থেকে ছাড়ে ‘বেগম রোকেয়া’। যানবাহন নিয়ে শেষ যাত্রায় আবেগতাড়িত কুঞ্জলতার ইনচার্জ মাস্টার সামশুল আলম সাইফুল। খুলে দিলেন অজস্র স্মৃতির ঝাঁপি।

সূর্য হেলে পড়েছে পশ্চিম আকাশে। পদ্মার তীরে মৃদুমন্দ বাতাস। একটা মিনি ট্রাক ওঠার পর বন্ধ হয়ে গেল ফেরির দরজা। গগনবিদারী শব্দ তুলে সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় কুঞ্জলতায় বাজল প্রস্থান ঘণ্টা।

নদীর অন্য প্রান্তে মাঝেরকান্দি ঘাট। কুঞ্জলতা যখন পদ্মায় ভাসে এই ঘাটের পথে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তখন শিমুলিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে মাঝিরকান্দিতে নোঙর করা ফেরি ‘বেগম রোকেয়া’। এই দুটি ফেরির ঘাট ছাড়ার মধ্য দিয়ে ঢাকা থেকে দক্ষিণের পথে সড়কযাত্রায় পদ্মার মাওয়া-জাজিরা নৌরুটে ফেরি যুগের দৃশ্যত অবসান ঘটল।

দেশের অহংকার হয়ে প্রমত্তা পদ্মার বুকে নির্মিত হয়েছে সেতু। সেই সেতু খুলে দিতে শনিবার মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর রোববার ভোরে পদ্মা সেতু খুলে দেয়া হবে যান চলাচলের জন্য।

সেতুটি উদ্বোধনের পর স্থানীয় পর্যায়ের নৌযান পারাপারে সীমিত পরিসরে এই রুটে ফেরি থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে দূরপাল্লার প্রায় সব যানবাহন ২৬ জুন থেকে সহজ চলাচলের জন্য ব্যবহার করবে পদ্মা সেতু।

কর্তৃপক্ষ বলছে, সেতুর উদ্বোধন কেন্দ্র করে শনিবার রাত পর্যন্ত এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে কয়েক দিন ধরে পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে প্রতি রাতেই ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে। একই অবস্থা শনিবার রাতেও থাকলে যান চলাচলের জন্য রোববার ভোরে সেতু খুলে দেয়ার আগে শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি নৌরুটে আর ফেরি চলাচলের সম্ভাবনা নেই।

কুঞ্জলতার শেষ প্রাইভেট কার

নদী পার হয়ে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যাচ্ছেন ঢাকার বাসিন্দা মো. খোকন। সব শেষ ব্যক্তিগত গাড়ি হিসেবে তার চালিত প্রাইভেট কারটি ‘দ্য লাস্ট ফেরি’ কুঞ্জতলায় ওঠে।

শেষ ফেরির যাত্রায় উচ্ছ্বসিত খোকন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এতদিন আমাদের যে কী ভোগান্তিটা না হতো- ঘাটে এসে বসে থাকা কিংবা সিরিয়াল মেইনটেইন করা। ওই সব আর হবে না। ঢাকা থেকে সরাসরি হাইওয়ে দিয়া এসে ব্রিজ দিয়ে চলে যাব।’

পদ্মা সেতু তৈরি করে সরকার দক্ষিণবঙ্গবাসীকে ঋণী করে ফেলেছে বলেও মন্তব্য খোকনের। তিনি বলেন, ‘অনুভূতি বলার মতো না। দক্ষিণাঞ্চলে আমরা যারা চলাচল করি, বিভিন্ন জায়গায় যায়, আগে যেমন একটা মানুষ মারা গেলেও ফেরির জন্য বসে থাকতে হতো। এখন আর বসে থাকার অপশন নাই। এখন আমরা সরাসরি সেতু দিয়া যামুগা।’

ফেরির শেষ গাড়ি

কুঞ্জলতা ফেরির সব শেষ গাড়ি ‘ঢাকা মেট্রো- ন ১৬-৭২৭০’ নম্বরের একটি মিনিট্রাক। ফরিদপুরের কিশোর বয়সী লিমন চালাচ্ছিলেন গাড়িটি। বললেন, সামনে আর কখনও ফেরিতে উঠতে চান না। সেতু পাড়ি দিয়ে সোজা চলে যেতে চান গন্তব্যে।

দুই বছর হলো এই পেশায় এসেছেন লিমন। ফেরি পারাপারের এই অভিজ্ঞতা মোটেও তার কাছে সুখকর নয়।

লিমন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুর ওপর দিয়া যামু। ভালো উপকার হইল। এই যে আমি আম টানি। সেদিনকা পইচা গেছিল প্রায়, যদি রাইতে না যাইতে পারতাম।’

ফেরির ইনচার্জ মাস্টার সাইফুল আবেগতাড়িত

কুঞ্জলতাকে মাঝিরকান্দি নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পড়েছে ইনচার্জ মাস্টার সামশুল আলম সাইফুলের কাঁধে। এই নৌরুটে সাড়ে চার বছর ধরে ফেরি চালাচ্ছেন তিনি। সেতু উদ্বোধনের আগে শেষবারের যাত্রায় নিজের আসনে বসে আপ্লুত সাইফুল। একের পর স্মৃতি ভর করে কথায়।

সাইফুল বলেন, ‘এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত থাকার কারণে আন্তরিকতা কাজ করতেছে। পদ্মা সেতু জাতির জন্য খুব প্রয়োজনীয় একটা জিনিস। যখন ওয়েদার খারাপ থাকে, যখন স্পিডবোট, লঞ্চ এসব বন্ধ থাকে, তখন পদ্মার দুই পাড়ের মানুষের অনেক কষ্ট হয়। আমি নিজে দেখছি। অনেক সময় দেখা যেত, অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এসে মানুষ যেতে পারছে না।’

দক্ষিণবঙ্গের মানুষের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে সাইফুল জানালেন, দাফনের সময় নির্ধারণ করেও ফেরি পারাপারের জটিলতায় ঠিক সময়ে মরদেহ দাফন না করার ঘটনাও ঘটেছে।

তিনি বলেন, ‘এই পদ্মা সেতু হওয়ার কারণে এই কষ্ট আর থাকবে না। আমরা চাকরি করছি। আমাদের হয়তো যেখানে প্রয়োজন ম্যানেজমেন্ট সেখানে নিয়ে যাবে। সর্বশেষ ফেরিটা আমি নিয়ে যাচ্ছি। তবে যতটুকু জেনেছি, এখানে ওভারলোড গাড়ি এলে বা সেতুর ওপর যেসব গাড়ি চলতে পারবে না, সেগুলো পারাপারে ফেরির দরকার পড়তে পারে।’

এই রুটে যানবাহনবোঝাই শেষ ফেরি চালানোর অনুভূতি জানাতে গিয়ে ইনচার্জ মাস্টার বলেন, ‘এই পারাপারে কথা আসলে…সবকিছু তো স্মৃতি হয়ে থাকবে। এগুলো জীবনের সবচেয়ে বড় স্মৃতি হয়ে থাকবে।’

দ্য লাস্ট ফেরি অন পদ্মা
ফেরি কুঞ্জলতার ইনচার্জ মাস্টার সামশুল আলম সাইফুল। ছবি: নিউজবাংলা

সাইফুল বলেন, ‘নিরাপদে পার করে দেয়ার চেষ্টা সব সময় ছিল, আজকেও আছে। সব সময় চেষ্টা থাকে জানমাল, রাষ্ট্রীয় সম্পদ, জনগণের সম্পদ এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নিরাপদে পৌঁছে দেয়ার। এটাই কাম্য, এটাই কামনা করি। এই যাত্রাতেও যেন অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা পথে না ঘটে।’

এ রুটের যাত্রীদের খুব ‘মিস করবেন’ সাইফুল। বলেন, ‘যাত্রীরা এসে কতক্ষণ আনন্দ উল্লাস করে এ রুট-ওই রুট পার হয়ে চলে গেছেন। আবার করোনার মধ্যে কয়েকজন যাত্রী মারা গেছেন তীব্র গরমে। এগুলো হৃদয়বিদারক ঘটনা। স্মৃতি হয়ে মনে থাকবে।’

আবেগতাড়িত সাইফুল বলেন, ‘অনেক যাত্রী এসে স্টিয়ারিং ধরে বলতেন আমি একটু চালাই। আমি ভিডিও নিয়েছি, তারা সেলফি তুলেছেন। আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে দেখিয়েছেন তিনি ক্যাপ্টেন। এসব মিস করব।’

খরস্রোতা পদ্মা নিয়ে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণের সময় যখন বাংলাবাজার থেকে এপারে আসতাম, স্রোতের কারণে ফেরি সোজা রাখা কঠিন হয়ে পড়ত। আড়াআড়ি হয়ে যেত ফেরি।’

ফেরি চালাতে গিয়ে তার জীবনে ওই সময়টায় খুব কষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাইফুল বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে যাতে আঘাত না লাগে, যাত্রী আর গাড়িগুলো যেন নিরাপদে পৌঁছে দিতে পারি, সেই চেষ্টাটা থাকত।’

ফেরিতে সুখ-দুঃখ

কুঞ্জলতা ফেরির লস্কর নাজমুলকে সেতু ও ঘাটের বিষয়ে প্রশ্ন করতেই চটজলদি উত্তর, ‘পদ্মা ব্রিজ হইছে খুব খুশি হইছি, মানুষের কষ্ট কমব, দেশের উন্নতি হইব। আমরা এই ঘাট ছাইরা হয়তো অন্য ঘাটে ডিউটি করমু, কিন্তু এই ঘাটের সঙ্গে বহু বছরের সম্পর্ক।

‘ব্রিজের জন্য মানুষ অহন কম আসব। ফেরিতে গাড়ি লোড-আনলোড করলে গাড়ির ড্রাইভাররা খুশি হইয়া পাঁচ-দশ টাকা দিত, এইডা আমাগো বাড়তি ইনকাম ছিল। তবে দেশের ভালো তো সবার ভালো, আমাগো ইনকাম কম হইলেও সমস্যা নাই, দেশ উন্নতি করুক।’

কুঞ্জলতার কোয়ার্টার মাস্টার মো. মান্নান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সবাই একত্রিত হলে আনন্দ লাগত। সব সময় মানুষ দেখছি। সব সময় হৈ-হুল্লোড়, উল্লাসে দিন কাটাচ্ছি। এখন আমরা হয়তো আস্তে আস্তে পণ্যবোঝাই ট্রাক নেব। মানুষ থাকবে না। এত আনন্দও লাগবে না।’

শেষ ফেরি কুঞ্জলতায় ওঠা অ্যাম্বুলেন্সচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এই ঘাট দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে কত রোগী নিয়ে গেছি। ঘাটের জ্যামে আটকে আমার গাড়িতে ছেলের সামনে বাবা মারা গেছে, ছোট বাচ্চা মারা গেছে। কতবার চোখের পানি মুছছি।

‘পদ্মা খালি ব্রিজ না, আল্লাহর রহমত। আমি চাই না আমার গাড়িতে আর কেউ মারা যাক।’

ফেরিঘাটে এতদিন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ যাদের নিত্যসঙ্গী ছিল, সেই ট্রাকচালকরাও শেষ ফেরিতে চড়তে তিন দিন ঘাটে অপেক্ষা করেছেন।

পণ্যবাহী ট্রাকের চালক মিজান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত তিন দিন এই ঘাটে বসা। ১ হাজার ৫০০ টাকা এই কয়দিন এখানে বসেই খরচ করছি। শেষে উপায় না পাইয়া ঘাটে ৩০০ টাকা ঘুষও দিছি। অহন ফেরিতে উঠলাম। আল্লায় হাতে ধইরা না তুললে আর কখনও ফেরিতে উঠমু না, অহন আমাগো ব্রিজ আছে।’

আরেক ট্রাকচালক রাব্বানি অবশ্য ভাবছেন খরচ নিয়ে। এখন ফেরির খরচ কমলে তিনি সেতুর পাশাপাশি ফেরিতেও চড়তে চান।

রাব্বানি বলেন, ‘ব্রিজ হইছে ভালা কথা। কিন্তু ব্রিজের যে টোল এত টাকা দিলে আমরা পোষামু কেমনে? অহন যদি ফেরির ভাড়া কমে তাইলে আমি জরুরি কিছু না হইলে ফেরিতেও যামু। এত বছর ধইরা ঘাটের লগে পরিচয় আমার, তারে ভুইলা গেলে কেমনে হইব। আর যদি কখনও ঘাট না থাকে তাইলে মাঝেমইধ্যে বেড়াইতে আমু।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অসাধারণ অনন্য এক স্থাপনা
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় কুষ্টিয়া অঞ্চল
সেতু উদ্বোধন ও সমাবেশ নিয়ে সতর্ক নিরাপত্তা বাহিনী
‘শেষ ফেরি’তে শেষ নিঃশ্বাস
পদ্মায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত ‘পরিদর্শন’
বাংলাদেশ
The World Bank is overwhelmed with the Padma Bridge

পদ্মা সেতু নিয়ে উচ্ছ্বসিত সেই বিশ্বব্যাংক

পদ্মা সেতু নিয়ে উচ্ছ্বসিত সেই বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে সরে গেলেও এখন সেতুর সম্ভাবনা নিয়ে মুগ্ধ বিশ্বব্যাংক। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন নিউজবাংলাকে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সঙ্গী হিসেবে বিশ্বব্যাংক স্বীকার করে যে, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের জনগণ ও অর্থনীতির জন্য বহুমাত্রিক সুবিধা বয়ে আনবে। এই সেতু দেশে সমন্বিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে গতি সঞ্চার এবং দারিদ্র্য কমাতে ভূমিকা রাখবে।’

পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার পর দুর্নীতির ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে অর্থায়ন গুটিয়ে নেয়া বিশ্বব্যাংক নিজেই এখন এই সেতুর বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে উচ্ছ্বসিত।

নিজস্ব অর্থে বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু নির্মাণ শেষে উদ্বোধনের ঠিক আগে সংস্থাটি বলছে, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বিশাল অবদান রাখবে।

বাংলাদেশ ও ভুটানের দায়িত্বে নিয়োজিত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন নিউজবাংলাকে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সঙ্গী হিসেবে বিশ্বব্যাংক স্বীকার করে যে, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের জনগণ ও অর্থনীতির জন্য বহুমাত্রিক সুবিধা বয়ে আনবে। এই সেতু দেশে সমন্বিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে গতি সঞ্চার এবং দারিদ্র্য কমাতে ভূমিকা রাখবে।’

পদ্মা সেতু নিয়ে মার্সি টেম্বনের মতামত জানতে চেয়েছিল নিউজবাংলা। এ জন্য গত ২৬ মে ই-মেইলে তিনটি প্রশ্ন পাঠানো হয়। প্রশ্ন তিনটি ছিল:

১. বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সেতু পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে ২৫ জুন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই সেতু কতটা প্রভাব ফেলবে? জিডিপিতে কত শতাংশ যোগ হতে পারে?

২. বিশ্বব্যাংক-এডিবিসহ অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নেই এই সেতু নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক এই সেতুতে অর্থায়ন থেকে পিছিয়ে যায়। বাংলাদেশ সরকার বরাবরই দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অনেক টানাপড়েন হয়েছে বিষয়টি নিয়ে। শেষ পর্যন্ত কানাডার আদালতে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। বাংলাদেশ সরকার বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘না’ করে দেয়। সরকার নিজস্ব অর্থে সেতুটি নির্মাণ করেছে। বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

৩. বাংলাদেশ সরকার পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ‘না’ করে দেয়ার পর সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সম্পর্কের কোনো অবনতি হয়েছে কি না?

প্রায় এক মাস পর ২১ জুন ফিরতি মেইল করেন মার্সি টেম্বন। তবে তিনি তিনটি প্রশ্নের আলাদা উত্তর না দিয়ে সংক্ষিপ্ত ওই প্রতিক্রিয়া জানান।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলেও নিশ্চিত করেন মার্সি টেম্বন।

বাংলাদেশের অহংকারের প্রতীক পদ্মা সেতু ২৫ জুন উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিনই যান চলাচল শুরু হবে সেতুতে।

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানান পদ্মা সেতু থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখন আক্ষেপ করছে বিশ্বব্যাংক। তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক বলেছে, পদ্মা সেতু থেকে সরে যাওয়া ভুল হয়েছে।’

বিশ্বব্যাংকসহ চারটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের ওপর ভর করে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগ সরকার।

সেতুর নির্মাণ কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার মধ্যে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়ে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলে বিশ্বব্যাংক। টানাপড়েনের মধ্যে সংস্থাটি অর্থায়ন স্থগিত করলে তদন্ত শুরু করে দুদক।

ওই তদন্ত পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রধান আইনজীবী ওকাম্পোর নেতৃত্বে ২০১২ সালে দুই দফায় বাংলাদেশে আসে তিন সদস্যের বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষক প্যানেল।

পর্যবেক্ষক দলের পরামর্শে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে দুদকের করা মামলায় জেল খাটতে হয় সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়াকে। পরে অবশ্য দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

২০১৭ সালে কানাডার একটি আদালতও বিশ্বব্যাংকের আনা দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগের প্রমাণ পায়নি বলে জানায়।

২০১২ সালের ৪ জুলাই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন, `পদ্মা সেতু করার জন্য দেশে আমাদের ১৬ কোটি মানুষ আছে, ৮০ লাখ প্রবাসী আছে। বাংলার মানুষ সারা জীবন কি অন্যের সাহায্যে চলবে? নিজের পায়ে দাঁড়াবে না? আত্মনির্ভরশীল হবে না? পদ্মা সেতু আমরা করবই।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুর আলোকচ্ছটা প্রবাসেও
সেতুতে নিষ্প্রাণ হওয়ার পথে পদ্মার ফেরি-লঞ্চঘাট
আমন্ত্রণপত্র পাননি খালেদা, গ্রহণ ইউনূসের
কেউ যাবেন ব্যক্তি উদ্যোগে, কেউ প্যাকেজে
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুত র‍্যাব

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Who is this Draupadi Murmu

কে এই দ্রৌপদী মুর্মু

কে এই দ্রৌপদী মুর্মু বিজেপি মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মু। ছবি: সংগৃহীত
ওড়িশার ময়ূরভাঁজ জেলার বায়দাপোসি গ্রামে ১৯৫৮ সালের ২০ জুন জন্ম দ্রৌপদীর। গ্রাম পঞ্চায়েতপ্রধানের এ মেয়ে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে পড়াশোনা করেন রাজ্যের রাজধানী ভুবনেশ্বরের রমাদেবী উইমেন’স কলেজে। ক্যারিয়ার শুরু করেন ওড়িশা সরকারের করণিক হিসেবে।

ভারতে ১৮ জুলাই অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী করা হয়েছে সাঁওতাল রাজনীতিক দ্রৌপদী মুর্মুকে।

ওড়িশার ৬৪ বছর বয়সী সাবেক এ শিক্ষক বিজেপির সঙ্গে যুক্ত কয়েক দশক ধরে। দায়িত্ব পালন করেছেন ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গভর্নর হিসেবেও।

নির্বাচিত হলে দ্রৌপদী হবেন ভারতের সর্বোচ্চ পদে আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম ব্যক্তি।

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান। যদিও এ পদে থাকা ব্যক্তি নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন না।

দেশটিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা ও নিম্নকক্ষ লোকসভার সদস্য, বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর বিধানসভার সদস্যদের ভোটে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ভোট রয়েছে বিজেপি মনোনীত প্রার্থীর।

নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তার বিশ্বাস দ্রৌপদী হবেন ‘মহান রাষ্ট্রপতি’।

কে এই দ্রৌপদী মুর্মু

গত মঙ্গলবার বিজেপির পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা শেষে দলের সভাপতি জে পি নদ্দা প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, বিজেপি ও মিত্রদের বাছাইকৃত ২০টি নাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে দ্রৌপদীকে প্রার্থী ঠিক করা হয়।

একনজরে দ্রৌপদী মুর্মু

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে আলোচনায় আসেন দ্রৌপদী। সে সময় সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তার নামও রয়েছে বলে গুঞ্জন ওঠে। দ্রৌপদী তখন ঝাড়খণ্ডের গভর্নরের দায়িত্বে।

ওড়িশার ময়ূরভাঁজ জেলার বায়দাপোসি গ্রামে ১৯৫৮ সালের ২০ জুন জন্ম দ্রৌপদীর। গ্রাম পঞ্চায়েতপ্রধানের এ মেয়ে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে পড়াশোনা করেন রাজ্যের রাজধানী ভুবনেশ্বরের রমাদেবী উইমেন’স কলেজে।

ওড়িশা সরকারের করণিক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন দ্রৌপদী মুর্মু। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৩ মেয়াদে তিনি রাজ্যের সেচ ও জ্বালানি বিভাগে জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ওড়িশার রায়রংপুরের অরবিন্দ ইন্টিগ্রাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে শিক্ষকতা করেন এ রাজনীতিক। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৯৭ সালে। সে বছর রায়রংপুরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি।

রায়রংপুর আসনে ২০০০ ও ২০০৯ সালে বিজেপির পক্ষে দাঁড়িয়ে ওড়িশা বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন দ্রৌপদী।

২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বিজু জনতা দল ও বিজেপির জোট সরকারে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাঁওতাল এ রাজনীতিক। শুরুতে বাণিজ্য ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিলেও পরবর্তী সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয় তাকে।

২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তফসিলি সম্প্রদায়ের বিজেপির রাজ্য শাখার সভাপতি ছিলেন দ্রৌপদী মুর্মু। ২০১৫ সালে ওড়িশার পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের প্রথম নারী গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়ে সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে দেন তিনি।

ওড়িশার প্রথম আদিবাসী হিসেবে গভর্নর নিযুক্ত হন দ্রৌপদী। ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত সে পদে ছিলেন তিনি।

ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে কর্মরত বিবিসি হিন্দির রিপোর্টার রবি প্রকাশের মতে, রাজ্যের গভর্নর হিসেবে ব্যাপক সুনাম কুড়ান দ্রৌপদী। তার সময়ে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিল গভর্নরের কার্যালয়।

আরও পড়ুন:
ভারতে পাঠ্যবই থেকে মোগল ইতিহাস-গুজরাট দাঙ্গা উধাও
ভারত সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর মোমেনের
‘অগ্নিপথে মোদি এবারও পিছু হটবে’
সাউথ আফ্রিকাকে ধসিয়ে সমতায় ফিরল ভারত
চুক্তিতে সেনা নিয়োগ নিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Some will go on individual initiative some on package
পদ্মা সেতু

কেউ যাবেন ব্যক্তি উদ্যোগে, কেউ প্যাকেজে

কেউ যাবেন ব্যক্তি উদ্যোগে, কেউ প্যাকেজে নিজেদের অর্থায়নে নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের পদ্মা সেতু কাছ থেকে এক নজর দেখতে মুখিয়ে আছে সাধারণ জনগণ। ছবি: নিউজবাংলা
সাধারণ মানুষের আগ্রহকে মাথায় রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি আকর্ষণীয় প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সাড়াও মিলছে অনেক। তবে পদ্মা সেতুসংলগ্ন পদ্মাপাড়ে ভালো মানের রিসোর্ট, পিকনিক স্পট বা রেস্ট হাউস না থাকায় দিনে দিনে ঘুরে আসার প্যাকেজ দিতে হচ্ছে এজেন্সিগুলোর।

বহু বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী সপ্তাহে চালু হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। নিজেদের অর্থায়নে নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় সেতু এক নজরে কাছ থেকে দেখতে মুখিয়ে আছে সাধারণ জনগণ। ব্যক্তি উদ্যোগে গাড়ি নিয়ে পদ্মা পাড়ি দেয়ার পরিকল্পনা করছেন অনেকে, আবার দল বেঁধে উত্তাল পদ্মার ওপর নির্মিত সেতু দেখতে যেতে অনেকে ভাড়া করছেন প্রাইভেট কার-মিনিবাস।

সাধারণ মানুষের এই আগ্রহকে মাথায় রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি আকর্ষণীয় প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সাড়াও মিলছে অনেক। তবে সেতুসংলগ্ন পদ্মাপাড়ে ভালো মানের রিসোর্ট, পিকনিক স্পট বা রেস্ট হাউস না থাকায় দিনে দিনে ঘুরে আসার প্যাকেজ দিতে হচ্ছে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর।

আগামী ২৫ জুন সেতু উদ্বোধনের পর এক দিনে ঘুরে আসার ট্যুর প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ট্রাভেল সোর্স বিডি নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সি। ২৯ সিটের টুরিস্ট এসি বাসে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা-ফরিদপুর-ঢাকা ঘুরিয়ে আনার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তারা।

এক দিনের ডে ট্যুরের জন্য পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ২৭ ও ২৮ জুন এবং ১ ও ২ জুলাই এই চার দিন নির্ধারণ করেছে এজেন্সিটি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ শাওন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেতুকে ঘিরে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। আমাদের প্যাকেজে বিশাল সাড়া পেয়েছি। প্রথম দুই দিনের জন্য আমরা ইতোমধ্যে সাড়ে তিন শর বেশি বুকিং পেয়েছি। আর ১ ও ২ জুলাইয়ের জন্য এক হাজারের বেশি মানুষ আগ্রহ দেখিয়েছেন।’

শাওন বলেন, ‘নির্ধারিত দিনে আমাদের এসি বাসে করে তাদের নিয়ে যাব। সকাল-বিকেলের নাশতা ও ইলিশ মাছসহ দুপুরের খাবার রয়েছে আমাদের প্যাকেজে। বাসে আমরা এক্সপ্রেস ওয়ে দিয়ে মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে ভাঙ্গা, ফরিদপুর ঘুরিয়ে আনব। পুরো প্যাকেজ ফি ধরা হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকা। এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি চাইলে পুরো মিনিবাস ভাড়া করতে পারবে।’

শাওন জানান, তাদের অনেক ট্যুরিস্ট বাস রয়েছে। বেশ কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি নিজেদের মতো করে প্যাকেজ ঘোষণা করে তাদের বাস ভাড়া করেছে। তাদের প্যাকেজেও কয়েক হাজার মানুষ সাড়া দিয়েছে।’

শহরের রেন্ট-এ কার প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সেতু দিয়ে পদ্মা পাড়ি দেয়ার জন্য প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস ভাড়া করার জন্য যোগাযোগ করছেন অনেকে। মিরপুরের জননী রেন্ট-এ কারের মালিক কাওসার হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সেতু এলাকা ঘুরে আসার জন্য কয়েকজন যোগাযোগ করেছেন। হয়তো কয়েক দিনের মধ্যে ফাইনাল করবে।’

ব্যক্তিগত বাহনে করে পদ্মা সেতু পাড়ি দেয়ার জন্য প্ল্যান করে রেখেছেন অনেকে। ২৭ তারিখের মধ্যে নেত্রকোণা থেকে ঢাকা আসবেন ব্যবসায়ী মাইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি গাড়ি নিয়ে আসব, ঢাকা থেকে কয়েকজন বন্ধু মিলে সেতু দেখতে যাব। পরের সপ্তাহে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যাব। এই সেতু আমাদের সামর্থ্যের প্রতীক। কাছ থেকে দেখার আগ পর্যন্ত মন মানছে না।’

প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাসে যাওয়ার পাশাপাশি মোটরসাইকেলে দল বেঁধে যাওয়ার প্ল্যান করেছে কয়েকটি গ্রুপ। তারাও সাধারণের জন্য সেতু খুলে দেয়ার পর ছুটবেন পদ্মার পানে।

তবে সাইকেল বা পায়ে হেঁটে সেতু পাড়ি দেয়ার সুযোগ না থাকায় আক্ষেপ রয়েছে অনেকের।

পদ্মা সেতু ঘিরে ট্যুরিজম জনপ্রিয় করতে বেসরকারি উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। সেতুসংলগ্ন এলাকায় রিভার ক্রুজ শিপ চালু, ঢাকা থেকে পদ্মা হয়ে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিস্থলে ডে ট্রিপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেতু ঘিরে পর্যটন করপোরেশন কিছু কাজ হাতে নিয়েছে। আমরা সেতুর আশপাশে প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট নেয়ার চেষ্টা করছি। আমরা একটি এনজিওর সঙ্গে কাজ করছি, যারা ক্রুজশিপ চালু করবে। এতে সেতুকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবে মানুষ।

‘এ ছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে একটি ডে ট্রিপের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। যেটা ঢাকা থেকে ছেড়ে গিয়ে পদ্মা সেতু হয়ে জাতির পিতার সমাধিস্থল ঘুরে আসবে।’

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে আগ্রহী জাপান
‘চুবনিতে’ আপত্তি: পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে যাচ্ছে না বিএনপি 
পদ্মা সেতু দিয়ে চলতে নতুন বাস নামানোর হিড়িক
পদ্মায় লঞ্চ-স্পিডবোট সার্ভিসের কী হবে
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু প্রয়োজন বুঝে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Carrying extra sex chromosomes?

বাড়তি সেক্স ক্রোমোজোম বহন করছেন?

বাড়তি সেক্স ক্রোমোজোম বহন করছেন? প্রতি ৫০০ জন পুরুষের মধ্যে একজন একটি অতিরিক্ত সেক্স ক্রোমোজোম বহন করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
একজন পুরুষের সাধারণত এক্স এবং ওয়াই দুই ধরনের সেক্স ক্রমোজোম থাকে। আর নারীদের দুটি এক্স। এক্স এবং ওয়াই-এর মিলনে ছেলে সন্তান; এক্স এবং এক্সের মিলনে হয় কন্যাসন্তান। তবে যেসব পুরুষের শরীরে বাড়তি সেক্স ক্রোমোজোম থাকে তারা কী সমস্যা বা সুবিধা পায়?

প্রতি ৫০০ জন পুরুষের মধ্যে একজন একটি অতিরিক্ত সেক্স ক্রোমোজোম বহন করতে পারে। হতে পারে এটি এক্স বা ওয়াই। তবে তাদের মধ্যে খুব কম সম্ভবতই বিষয়টি জানেন। জেনেটিক্স ইন মেডিসিনে গত ৯ জুন প্রকাশিত এক গবেষণা ফলাফলে উঠে আসে এই তথ্য।

একজন পুরুষের সাধারণত এক্স এবং ওয়াই দুই ধরনের সেক্স ক্রমোজোম থাকে। আর নারীদের দুটি এক্স। এক্স এবং ওয়াই-এর মিলনে ছেলে সন্তান; এক্স এবং এক্সের মিলনে হয় কন্যাসন্তান। তবে যেসব পুরুষের শরীরে বাড়তি সেক্স ক্রোমোজোম থাকে তারা কী সমস্যা বা সুবিধা পায়?

গবেষকরা বলছেন, বাড়তি এক্স ক্রোমোজম থাকাকে বলা হয় ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম (কেএস)। এটি থাকার ফলে কিছুটা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যেসব পুরুষের বাড়তি এক্স ক্রোমোজোম আছে, তাদের প্রজননজনিত সমস্যা আছে। এসব পুরুষের সন্তান না হওয়ার হার এক্সওয়াই ক্রোমোজমধারীর চেয়ে চার গুণ বেশি। তাদের বয়ঃসন্ধি দেরিতে শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও তিন গুণ বেশি।

অন্যদিকে বাড়তি ওয়াই ক্রোমোজম থাকাকে বলা হয় ৪৭, এক্সওয়াইওয়াই সিনড্রোম। এটির প্রজননের ওপর কোনো প্রভাব নেই। তবে অতীতের গবেষণা বলছে, এ উপসর্গের সঙ্গে শেখায় প্রতিবন্ধকতা, কথা বলা ও মোটর স্কিল অর্জনে দেরির মতো বিষয়গুলোর যোগসূত্র রয়েছে।

বাড়তি ক্রোমোজোমধারীদের টাইপ টু ডায়াবেটিস, ভেনোস থ্রমবোসিসের (শিরায় রক্ত জমে যাওয়া), ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ-এর (ফুসফুসে বায়ুপ্রবাহকে বাধা দেয়) মতো জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বেশি।

'এটা আসলে নিশ্চিত না যে কেন কেএস এবং ৪৭, এক্সওয়াইওয়াই সিনড্রোমের ঝুঁকিগুলো ভিন্ন। এটি জানতে হলে আরও গবেষণার প্রয়োজন।'

বাড়তি সেক্স ক্রোমোজোম বহন করছেন?

গবেষণায় অংশ নেন যুক্তরাজ্যের দুই লাখ ৭ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। তাদের বয়স ৪০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। সবাই জিনগত ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ডেটাবেইস ইউকে বায়োব্যাংকের সদস্য এবং সাধারণের চেয়ে বেশি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।

গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের ২১৩ জনের একটি বাড়তি এক্স ক্রোমোজোম ও ১৪৩ জনের একটি বাড়তি ওয়াই ক্রোমোজম রয়েছে।

তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকেরই ক্রোমোজমজনিত জটিলতা আছে। যাদের ক্রোমোজম এক্স এক্স ওয়াই, তাদের মধ্যে কেবল ২৩ শতাংশের এ ধরনের কোনো সমস্যা ছিল। আর এক্স ওয়াই ওয়াই ক্রোমোজমধারীদের মাত্র ০.৭ শতাংশ সংশ্লিষ্ট কোনো সমস্যায় ভুগছেন।

অর্থাৎ ০.১৭ শতাংশের বাড়তি সেক্স ক্রোমোজম পাওয়া গেছে। এ হার প্রতি ৫৮০ জনে একজন। গবেষকরা বলছে, সাধারণ জনসংখ্যার ক্ষেত্রে এ হার কিছুটা কম হতে পারে। যেমন ‘প্রতি ৫০০ জনে একজন’ হতে পারে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল (এমআরসি) এপিডেমিওলজি ইউনিটের পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রিনোলজিস্ট এবং গবেষণার সহসিনিয়র লেখক কেন ওং বলেন, ‘এটি কতটা সাধারণ তা দেখে আমরা অবাক হয়েছি। এটি বেশ বিরল বলে মনে করা হয়েছিল।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What will happen to launch speedboat service in Padma

পদ্মায় লঞ্চ-স্পিডবোট সার্ভিসের কী হবে

পদ্মায় লঞ্চ-স্পিডবোট সার্ভিসের কী হবে পদ্মা সেতু চালুর আগেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে স্পিডবোট সংশ্লিষ্টদের জীবিকা। ফাইল ছবি
কয়েক মাস আগে লঞ্চ মালিক সমিতির সদস্যরা বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেশের কয়েকটি নৌপথ পরিদর্শন করেন, তবে নতুন নৌপথের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি। একই অবস্থা স্পিডবোট সংশ্লিষ্টদেরও।  

পদ্মা সেতু চালুর পর বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে বন্ধ হয়ে যাবে লঞ্চ-স্পিডবোট সার্ভিস। ফলে এই নৌপথে চলাচলকারী ৮৭টি লঞ্চ ও শতাধিক স্পিডবোটের সঙ্গে জড়িত হাজারখানেক পরিবারের জীবন-জীবিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

সংকট কাটাতে দেশের অন্য নৌপথে লঞ্চ ও স্পিডবোট স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন মালিকেরা। এ বিষয়ে তারা বিআইডব্লিউটিএর কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন, তবে বিষয়টি এখনও সুরাহা হয়নি।

লঞ্চ ও স্পিডবোট মালিকরা নিউজবাংলাকে জানান, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চ ও স্পিডবোট অন্য নৌপথে নেয়া না গেলে তাদের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি লঞ্চ মালিক সমিতি।

কয়েক মাস আগে সমিতির সদস্যরা বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেশের কয়েকটি নৌপথ পরিদর্শন করেন, তবে নতুন নৌপথের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি।

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া লঞ্চমালিক সমিতির নেতা ইমান খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নতুন রুটের খোঁজে বেশ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন লঞ্চ মালিকেরা। এর মধ্যে জামালপুর জেলার জামালপুর-সারিয়াকান্দি রুট, নড়িয়া-চাঁদপুর রুটের আলুবাজার ফেরিঘাট এবং ফরিদপুরের চরভদ্রাসন-মৈনট ঘাটে লঞ্চ সার্ভিস চালুর বিষয়ে প্রাথমিক লক্ষ্য রয়েছে, তবে পরিদর্শনের পর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।’

এমএল বোরহান কবীর এবং শাহিন-সোনিয়া লঞ্চের মালিক সাগর হাওলাদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ঘাটের লঞ্চগুলো বিকল্প নৌরুটে নেয়ার কথা হচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অসংখ্য পরিবার মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

‘করোনার সময়ে আমাদের দুই বছর অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে। এখন লঞ্চ বন্ধ হয়ে গেলে সামনে কী করব সেই চিন্তায় আছি।’

লঞ্চ মালিক সমিতির শিমুলিয়া জোনের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘এই নৌরুটে ৮৭টি লঞ্চ রয়েছে। প্রতিটিতে চালক-শ্রমিকসহ কমপক্ষে ১০ জন কর্মী কাজ করেন। সে হিসাবে অন্তত ১০টি করে পরিবার প্রতিটি লঞ্চের ওপর নির্ভরশীল।

‘সব মিলিয়ে হাজারখানেক পরিবারের রুটি-রুজির জায়গা এই লঞ্চ। সেতু চালু হলে নৌরুটে লঞ্চের দরকার হবে না। আমরা বিকল্প নৌরুটে লঞ্চ চালানোর জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দুইবার লিখিত আবেদন করেও কোনো আশ্বাস পাইনি।’

পদ্মায় স্পিডবোটের মালিক, কর্মচারীরাও আছেন দুশ্চিন্তায়। বাংলাবাজার স্পিডবোট ঘাটের পরিচালক রাসেল মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ঘাটে শতাধিক স্পিডবোট চলাচল করছে। এর মাধ্যমে পাঁচ শতাধিক মালিক-কর্মচারীর জীবিকা নির্বাহ হয়, তবে সেতু চালুর পরে কী হবে, সে বিষয় এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

‘মালিকপক্ষ তিন মাস আগে অন্য রুটের দাবি জানিয়ে বিআইডব্লিউটিএর কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছে, তবে তারা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে আমরা দুশ্চিন্তায় রয়েছি। কীভাবে আমাদের সংসার চলবে, সেটা নিয়ে ভাবছি।’

বাংলাবাজার স্পিডবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার বেপারী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ্মায় দীর্ঘদিন ধরে স্পিডবোট চলাচল করছে। গত বছরের আগস্ট মাসে স্পিডবোট ফিটনেস রেজিস্ট্রেশন করা হয়। সেই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সনদপত্র দিয়েছে। এখন সেতু চালু হলে আমাদের কী উপায় হবে?’

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার ঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) আক্তার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লঞ্চ মালিকেরা নতুন রুটে তাদের লঞ্চ চালানোর আবেদন করেছেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি রুট পরিদর্শনও করেছেন। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিলে সেসব রুটে এখানকার লঞ্চগুলো স্থানান্তর করা যেতে পারে।’

আরও পড়ুন:
৬০ লঞ্চে পদ্মা সেতু দেখতে যাবে বরিশালের এক লাখ মানুষ
পদ্মা সেতুকে ঘিরে সাজছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা
পদ্মা সেতু উদ্বোধন ঘিরে যেমন থাকবে নিরাপত্তা
‘পদ্মা সেতু নিয়ে জঘন্য মিথ্যাচার করছে বিএনপি’
পদ্মা সেতুর দুই পারে থানা উদ্বোধন মঙ্গলবার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Yet people are standing by people

তবু মানুষ দাঁড়াচ্ছে মানুষের পাশে

তবু মানুষ দাঁড়াচ্ছে মানুষের পাশে ব্যক্তি উদ্যোগে অনেকেই দাঁড়িয়েছেন সিলেটের বন্যার্তদের পাশে। ছবি: সংগৃহীত
সংকটে থাকা বানভাসিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন অসংখ্য সুহৃদ। ব্যক্তি, সংগঠন, প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম চলছে সিলেটে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ত্রাণ নিয়ে আসছেন মানুষজন। প্রবাসীরাও পাঠাচ্ছেন বিপুল টাকা।

বন্যার সুযোগে নৌকা ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন মাঝিরা। দ্বিগুণ হয়ে গেছে শুকনো খাবারের দাম। বিদ্যুৎ না থাকার সময়ে মোমবাতি বিক্রি হয়েছে কয়েক গুণ বেশি দামে।

নেতিবাচক এসব খবর ইতোমধ্যে জানা হয়ে গেছে। এর বিপরীত চিত্রও আছে সিলেটে। বিপরীতটাই বরং শক্তিশালী।

তবু মানুষ দাঁড়াচ্ছে মানুষের পাশে

সংকটে থাকা বানভাসিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন অসংখ্য সুহৃদ। ব্যক্তি, সংগঠন, প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম চলছে সিলেটে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ত্রাণ নিয়ে আসছেন মানুষজন। প্রবাসীরাও পাঠাচ্ছেন বিপুল টাকা।

অনেকে নিজেদের নৌকা দিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করছেন। বন্যার্তদের পারাপার ও ত্রাণসমগ্রী বিতরণে ভাড়া নিচ্ছেন না অনেক মাঝি।

সিলেটের বিভিন্ন হোটেল ও কনভেনশন সেন্টার তাদের রান্নাঘর উন্মুক্ত করে দিয়েছে বানভাসিদের খাবার তৈরির জন্য। বিনা মূল্যে বাবুর্চি দিয়েও সহায়তা করছেন তারা।

তবু মানুষ দাঁড়াচ্ছে মানুষের পাশে

আক্রান্ত মানুষজনকে হোটেলে ফ্রি থাকারও সুযোগ করে দিচ্ছেন কেউ কেউ। ত্রাণসামগ্রী বিনা মূল্যে পরিবহনের ঘোষণা দিয়েছে বাস মালিক সমিতি।

এভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে নেমে পড়েছেন বন্যার্তদের সহায়তায়।

কবি নাজিম হিকমত লিখেছিলেন, ‘দুঃসময় থেকে সুসময়ে মানুষ পৌঁছে দেবে মানুষকে।’ এই দুঃসময়ে সিলেটের বন্যাকবলিত মানুষদের সুসময়ে পৌঁছে দিতে কাজ করছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ পর্যাপ্ত আছে জানানো হলেও দুর্গম এলাকায় মানুষদের কাছে এখনও পৌঁছেনি তা। ফলে বন্যায় প্লাবিত এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট। এমন ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে এগিয়ে এসেছেন সাধারণ মানুষেরা।

তবু মানুষ দাঁড়াচ্ছে মানুষের পাশে

বন্যার শুরু থেকে পানিবন্দিদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট বিনয় ভদ্র। নিজের নৌকা দিয়ে প্রথমে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার কার্যক্রম চালান তিনি। এখন বন্ধুদের নিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন তিনি।

বিনয় বলেন, ‘মঙ্গলবার আমরা কোম্পানীগঞ্জের খালিগাঁওয়ে ও নগরের মাছিমপুরে ত্রাণ বিতরণ করেছি। এসব এলাকায় আগে কেউ ত্রাণ নিয়ে আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘এমন অনেককে আমরা পেয়েছি যারা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল নন, কিন্তু পানিবন্দি থাকায় তাদের ঘরেও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। তারাও বাধ্য হয়ে ত্রাণ নিচ্ছেন।’

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সালুটিকর ডিগ্রি কলেজে আশ্রয় নিয়েছেন রাশিদা বেগম। ছয় দিন ধরে আছেন এখানে। এর মধ্যে মাত্র এক দিন কিছু ত্রাণসামগ্রী পেয়েছিলেন জানিয়ে রাশেদা জানান, এক দিনের সামান্য খাবার দিয়ে ছয় দিন চলে না। তাই এই কয়েক দিন খেয়ে না খেয়ে ছিলেন।

নিজেদের উদ্যোগে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করছেন সিলেটের কয়েক তরুণ। সালুটিকর ডিগ্রি কলেজে আশ্রিতদের খাবার সংকটের খবর পৌঁছে তাদের কাছে। মঙ্গলবার দুপুরে তারা ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যান সেখানে। খাবার ছাড়াও জরুরি ওষুধ ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করছেন বলে জানান বিনয়।

ত্রাণ বিতরণকারী দলের সদস্য বিমান তালুকদার বলেন, ‘আমরা গত তিন দিন ধরে নিজেরা চাঁদা তুলে সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করছি। প্রতিদিন ৩০০ মানুষকে রান্না করা খাবার এবং আরও ২০০ মানুষকে শুকনো খাবার প্রদান করছি।’

তিনি বলেন, ‘ত্রাণ বিতরণে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখছি, মানুষ প্রায় অভুক্ত অবস্থায় আছে। বিশেষত দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছছে না।’

সিলেটের বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার চলছে। প্রশাসন থেকে পর্যান্ত ত্রাণ রয়েছে জানানো হলেও ভুক্তভোগীরা জানাচ্ছেন, তারা ত্রাণ পাননি। এ অবস্থায় দুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন অসংখ্য মানুষ।

তবু মানুষ দাঁড়াচ্ছে মানুষের পাশে

সিলেটের বাইরে দেশের নানা প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষজন প্রতিদিন ত্রাণ নিয়ে জেলাটিতে আসছেন। বিভিন্ন সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠানও ত্রাণ বিতরণ করছে। ব্যক্তি আর বেসরকারি উদ্যোগে দেয়া ত্রাণই এখন পর্যন্ত ভরসা দুর্গতদের।

মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ত্রাণ নিয়ে সিলেট আসে একদল তরুণ। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় দিনভর ত্রাণ বিতরণ করেন তারা।

এই দলের সদস্য শিহাব আহমদ বলেন, ‘ফেসবুক ও বিভিন্ন মিডিয়ায় মানুষের দুর্দশার চিত্র দেখে আমরা বন্ধুরা মিলে চাঁদা তুলে এখানে খাবার নিয়ে এসেছি। ১ হাজার মানুষের মাঝে আমরা খাবার বিতরণ করেছি।’

সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের পাখিমোড়া গ্রামের জমসেদ আলী সাত দিন ধরে পানিবন্দি। সরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা পাননি তিনি। ত্রাণ নিয়ে আসেননি কোনো জনপ্রতিনিধিও, তবে কয়েকজন ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহায়তা দিয়েছে বলে জানান জমসেদ।

করোনাকালীন দুর্যোগে ‘কলের গাড়ি’ নামে স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রম শুরু করেন সিলেটের নাট্য ও সংস্কৃতিকর্মীরা। সে সময় বিপাকে পড়া মানুষদের খাদ্য সহায়তা দেন তারা।

এবার বন্যা শুরুর পর আবার কলের গাড়ির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিদিন এক হাজার মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে এই উদ্যোগ থেকে।

এ বিষয়ে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু বলেন, ‘আমরা চিড়া, মুড়ি, গুড়, বিস্কুট, স্যালাইন, ব্রেড, খাবার পানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্রদান করছি। এ ছাড়া শিশুদের জন্য তরল দুধ দিচ্ছি।

‘প্রায় ৫০ জন নাট্য ও সংস্কৃতিকর্মী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘অনেক জায়গায় গিয়েই আমরা দেখছি, মানুষজন খাবারের সংকটে আছেন। এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা তারা পাননি। পানি আরেকটু কমলে এবং মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে গেলে চাল, ডাল ও তেল বিতরণ শুরু হবে।’

নগরের কলিঘাটের ভোগ্যপণ্যের পাইকারি ব্যবসায়ী অনল পাল বলেন, ‘অসংখ্য মানুষ ত্রাণ দিচ্ছেন। প্রতিদিন কালিঘাটে ত্রাণসামগ্রী কেনার জন্য ক্রেতার ভিড় লেগে যায়। ক্রেতাদের প্রায় সকলেই সাধারণ মানুষ।’

ব্যাপক পরিমাণে ত্রাণ বিতরণের ফলে সিলেটে শুকনা খাবারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে মঙ্গলবার সিলেট সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঘোষণা দিয়েছে, বুধবার থেকে সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে ত্রাণ নিয়ে যাওয়া যাত্রীদের বিনা মূল্যে পরিবহন করবে তারা। এ ছাড়া সংকটে পড়া মানুষদেরও বিনা মূল্যে পরিবহন করা হবে।

সিলেট নগরের হোটেল ভ্যালি গার্ডেন, পানসী রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তাদের রান্নাঘরে বানভাসিদের জন্য বিনা মূল্যে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। খাবার বিতরণ করতে ইচ্ছুক যে কেউ এসব রান্নাঘর ব্যবহার করতে পারছেন। নিজেদের বাবুর্চিও দিচ্ছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

নগরের মুধশহীদ এলাকার হোটেল ফারমিস গার্ডেন কর্তৃপক্ষ বন্যাকবলিত মানুষদের তাদের হোটেলে বিনা ভাড়ায় থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে হোটেলটির সত্বাধিকারী ফারমিস আক্তার বলেন, ‘ব্যবসা তো সবসময় করি। এখন মানুষ বিপদে। এখন ব্যবসা নয়। আগে মানুষকে বাঁচাতে হবে। তাই আমার হোটেলে বানভাসিদের ফ্রি থাকার ব্যবস্থা করেছি।’

বিভিন্ন প্লাবিত এলাকায় প্রতিদিনই খাবার ও নতুন পোশাক বিতরণ করছেন বলে জানান ফারমিস।

প্লাবিত এলাকায় অনেক নৌকাচালকের ভাড়া বাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ যেমন আছে, তেমনই অনেক মাঝি বিনা ভাড়ায়ও পারাপার করছেন মানুষদের।

তেমনই একজন গোয়াইনঘাটের সারিঘাট এলাকার আব্দুল কুদ্দুস। নৌকা চালিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। তিনি ত্রাণসামগ্রী বিতরণে আসা কারও কাছ থেকে ভাড়া নিচ্ছেন না।

কুদ্দুস বলেন, দূরদুরান্তের মানুষজন সিলেটবাসীর জন্য খাবার নিয়ে আসছে। তারা অনেক কষ্ট করছে।

নিজের জায়গা থেকে এই সামান্য সহযোগিতা করতে পারবেন না কেন, সে প্রশ্ন করেন কুদ্দুস।

যতদিন বন্যা থাকবে ততদিন বিনা ভাড়ায় ত্রাণ বিতরণকারীদের পারাপার করবেন বলেও জানান এ মাঝি।

এমন আরেক মাঝির সহায়তার কথা উল্লেখ করে চিকিৎসক ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট আলিম আল রাজি ফেসবুকে লেখেন, ‘গতকাল গোয়াইনঘাট এলাকার এক হাওর থেকে ফুপু এবং ফুপাতো ভাই-বোনদের উদ্ধার করে আনলাম। কোনো নৌকাই পাওয়া যাচ্ছিল না। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর শেষমেষ মাঝারি আকৃতির একটা নৌকা জোগাড় হয়েছিল। নৌকার চালক কম বয়সী; ১৭ বা ১৮ হবে বড়জোর।

‘বিশাল হাওর পাড়ি দিয়ে, কিছু জায়গা ঠেলে, কিছু জায়গা বৈঠা বেয়ে সে যখন সবাইকে নিয়ে আবার তীরে ফিরে এলো, তখন সে কোনো টাকাই নিতে চায় না। অনেক জোরাজুরির পর তার হাতে ৫০০ টাকা গুঁজে দিয়ে এসেছিলাম।

ছেলেটির নাম ছিল বাসার। বাসারের কথাও টাইমলাইনে থাকুক।’

ত্রাণের কোনো সংকট নেই জানিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, ‘অসংখ্য মানুষ এই দুর্যোগে অসহায় বন্যাকবলিতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা আমাদের কাজকে আরও সহজ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘ত্র্রাণের কোনো সংকট নেই, তবে নৌকা সংকটের কারণে প্রথমে ত্রাণ বিতরণে কিছু সমস্যা হয়েছিল। এখন সে সমস্যা কাটিয়ে উঠেছি।’

আরও পড়ুন:
বন্যায় বড় মাথাব্যথা ‘মোবাইল চার্জ’
বানভাসিদের ত্রাণ চুরি, ইউপি সচিবসহ আটক ২
বন্যায় সিলেটে চিড়া-মুড়ির দাম বেড়ে দ্বিগুণ
বন্যাকবলিত এলাকায় ৩৬ মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
নেত্রকোণায় ভেসে গেছে ১০০ কোটি টাকার মাছ

মন্তব্য

p
ad-close 20220623060837.jpg
উপরে