× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
There is nothing wrong with the result of those four centers in Comilla polls
hear-news
player
print-icon

কুমিল্লার ভোটে সেই চার কেন্দ্রের ফলে কোনো গড়বড় নেই

কুমিল্লার-ভোটে-সেই-চার-কেন্দ্রের-ফলে-কোনো-গড়বড়-নেই
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর উচ্ছ্বসিত আরফানুল হক রিফাত (ডানে), পাশে সদর আসনের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। ছবি: নিউজবাংলা
শেষ যে চারটি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যে ভিক্টোরিয়া কলেজ কেন্দ্রে বরাবর ভালো ব্যবধানে জয় পায় আওয়ামী লীগ। শালবন বিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আলাদা করে কোনো দলের প্রভাব নেই। একেকবার একেক প্রার্থী জেতেন। দিশাবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুটি কেন্দ্র। বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কুর প্রভাবিত এলাকা। বেশির ভাগ সময় বিএনপির প্রার্থীরাই জিতেছেন। এবার সাক্কু ও কায়সারের মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় নৌকা জিতেছে।

কুমিল্লায় একেবারে শেষে ঘোষণা করা যে চার কেন্দ্রের ভোট যোগ হওয়ার পর নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত অল্প ভোটে জিতেছেন, তার প্রতিটি কেন্দ্রের ফল নিউজবাংলার হাতে এসেছে।

প্রতিটি কেন্দ্রেই প্রার্থীদের এজেন্টদের কাছে আগেই ফল তুলে দেয়া হয়েছিল এবং পরে সেগুলো প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা পাঠান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সইসহ ফলাফলের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষণা করা ফলে কোনো পার্থক্য নেই।

পরাজিত প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, তারা কেন্দ্র থেকেই সেই ফল পেয়েছেন।

গত বুধবার কুমিল্লায় ভোট হয় ১০৫টি কেন্দ্রে। এর মধ্যে ৫৪টিতে জয় পায় নৌকা। ৫০টিতে জয় পায় মনিরুল হক সাক্কুর টেবিল ঘড়ি আর একটিতে জয় হয় নিজামউদ্দিন কায়সারের ঘোড়া মার্কা।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ১০১টি কেন্দ্রে সাক্কু যখন পাঁচ শতাধিক ভোটে এগিয়ে ছিলেন, তখনও যে চারটি কেন্দ্রের ফলাফল আসতে বাকি, তার মধ্যে একটি নৌকার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। একটিতে কোনো একক দলের প্রভাব নেই। বাকি দুটিতে সাধারণত বিএনপির প্রার্থীরাই জিতে থাকেন, তবে এবারের সমীকরণে ছিলেন নিজামউদ্দিন কায়সার।

শেষ যে চারটি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যে ভিক্টোরিয়া কলেজ কেন্দ্রে বরাবর ভালো ব্যবধানে জয় পায় আওয়ামী লীগ।

শালবন বিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আলাদা করে কোনো দলের প্রভাব নেই। একেকবার একেক প্রার্থী জেতেন।

দিশাবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্র। বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর প্রভাবিত এলাকা। বেশির ভাগ সময় বিএনপির প্রার্থীরাই জিতেছেন।

এটি সদর দক্ষিণের একটি কেন্দ্র। এবার সদর দক্ষিণের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট পেয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে পদত্যাগ করে ভোটে দাঁড়ানো নিজামউদ্দিন কায়সার। মূলত তিনি ভোট কাটার কারণেই সাক্কু এই দুটি কেন্দ্রে হেরে গেছেন।

দুই প্রধান প্রার্থীর যে কেউ জিততে পারেন, এই পরিস্থিতিতে ফলাফল ঘোষণার একেবারে শেষ দিকে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কক্ষে শুরু হয় হট্টগোল। নৌকা ও ঘড়ি প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে হাঙ্গামার কারণে মিনিট বিশেক ফল ঘোষণা স্থগিত থাকে। এরপর চারটি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা হওয়ার পর ৩৪৩ ভোটে জয় পায় নৌকা।

কুমিল্লার ভোটে সেই চার কেন্দ্রের ফলে কোনো গড়বড় নেই
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল ঘোষণার একেবারে শেষ দিকে শিল্পকলা একাডেমিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কক্ষে শুরু হয় হট্টগোল

তাৎক্ষণিকভাবে সাক্কু অভিযোগ করেন, ফল ঘোষণা স্থগিত করে রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরী ফোনে ওপর মহলের সঙ্গে কথা বলে তার জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

তবে ভোটের পর দুই দিন সাক্কু বা তার এজেন্টের পক্ষ থেকে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তুতির খবর মেলেনি, বরং সাক্কু এখন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতির কথা বলছেন।

সেই চার কেন্দ্রে কোন প্রার্থী কত ভোট পেলেন

আওয়ামী লীগ প্রভাবিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৮৭ জন। সেখানে নৌকা নিয়ে আরফানুল হক রিফাত পেয়েছেন ৮৫৩ ভোট, ঘড়ি নিয়ে সাক্কুর পক্ষে পড়েছে ৪০৮ ভোট এবং নিজামউদ্দিন কায়সার ১৫৭ ভোট পেয়েছেন।

এই কেন্দ্রে রিফাত ব্যবধান কমিয়ে ফেলেন ৪৪৫ ভোট।

গোটা নির্বাচনে ৫৮ শতাংশ ভোট পড়লেও এই কেন্দ্রে এর চেয়ে কম ভোটাররা ভোট দিতে আসেন। সেখানে ভোট পড়ে ৪৬ দশমিক ৮১ শতাংশ।

২৪ নম্বর ওয়ার্ডের শালবন বিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার ছিলেন ২ হাজার ১৫৩ জন। ভোট পড়ে ১ হাজার ৪০৫টি। এর মধ্যে দুটি ভোটকে বাতিল করা হয়। ভোটের হার ৬৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

এখানে নৌকা নিয়ে রিফাত পেয়েছেন ৬৫৬ ভোট, সাক্কুর ঘড়িতে পড়েছে ৩২৬ ভোট এবং কায়সারের ঘোড়ায় পড়েছে ৩০৮ ভোট।

অর্থাৎ এই কেন্দ্রে নৌকা বেশি পেয়েছে ৩৩০ ভোট, যা ভোটের ব্যবধান ঘুচিয়ে রিফাতকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।

এই কেন্দ্রে কায়সারের কারণেই মূলত সাক্কু বড় ব্যবধানে হেরেছেন। বিএনপিপন্থিদের ভোটের বেশির ভাগ অংশই পেয়েছেন তিনি।

বাকি দুই কেন্দ্রের মধ্যে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের দিশাবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটিতে ভোটার ছিলেন ১ হাজার ৫৯৪ জন। এদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ হাজার ১০২ জন। বাতিল হয়েছে দুটি ভোট। ওই কেন্দ্রে শতকরা ভোট পড়ে ৬৯ দশমিক ২৬ শতাংশ।

এই ভোটের মধ্যে নৌকা পেয়েছে ৪১৩টি, সাক্কু পেয়েছেন ৩৭৮টি আর কায়সার পেয়েছেন ২৫৬টি।

স্পষ্টতই বিএনপিপন্থিদের ভোট দুই ভাগ হয়ে যাওয়ায় নৌকার জয় দেখেছে এই কেন্দ্রটি। সাক্কুর চেয়ে রিফাত বেশি পেয়েছেন ৩৫ ভোট। অন্যদিকে কায়সার আড়াই শরও বেশি ভোট নষ্ট করেছেন সাক্কুর।

দিশাবন্দেই আরেক কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ১ হাাজর ২১২টি। ভোটের হার ৬৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

এই ভোটের মধ্যে নৌকা পেয়েছে ৫২৫টি, সাক্কুর ঘড়িতে পড়েছে ৩৬৭টি আর কায়সারের ঘোড়ায় পড়েছে ২৩৬ ভোট।

ঘড়ির তুলনায় নৌকা বেশি পেয়েছে ১৫৮ ভোট। এখানেও বিএনপিপন্থিদের ভোট এক বাক্সে পড়লে অতীতে জয়ের ধারাবাহিকতা দেখা যেত।

কী বলছেন সাক্কুর সমন্বয়ক

শেষে ঘোষণা করা চার কেন্দ্রের ফলের বিষয়ে সাক্কুর নির্বাচনি সমন্বয়ক কবির মজুমদার বলেন, ‘সব কেন্দ্রেই আমাদের এজেন্ট ছিল। আমরা ফলাফল বুঝে পেয়েছি। সেখানে কোনো সমস্যা ছিল না।’

সেই কেন্দ্রগুলোতে সাক্কুর এজেন্টদের নাম দিতে পারেননি জনাব মজুমদার। ফলে তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার আপনাদের বিস্তারিত জানাব।’

তবে শুক্রবার যোগাযোগ করা হলে আরও এক দিন সময় নেন তিনি।

কী বলছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা

চার কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ইভিএমের ফলাফল বের করে এজেন্টদের হাতে দিয়েছি। সরকারি যেসব গোয়েন্দা সংস্থা আছে, সেগুলো ছাড়াও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় যেখানে ফলাফল পাঠাতে হয় আমরা সবখানে পাঠিয়েছি।’

কুমিল্লার ভোটে সেই চার কেন্দ্রের ফলে কোনো গড়বড় নেই
কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিজয়ী মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ফল বুঝিয়ে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রের ফল পরিবর্তনের কোনো সুযোগই নেই। কেন্দ্রে প্রার্থীদের এজেন্টদের স্বাক্ষর রেখে ফল দেয়া হয়। তারপর ফলাফল ঘোষণা করি।’

সেই রাতের হট্টগোলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘১০১টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার সময় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে স্লোগান শুরু হয়। বেশ উত্তেজনা দেখা দেয়। অতিরিক্ত পুলিশ আসে সেখানে।

এ সময় আমি ওয়াশরুমে যাই। উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনার মহোদয়, ডিসি ও এসপি সাহেবকে ফোনে বিষয়টি অবহিত করি। এসে বাকি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করি।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় আরও বড় জয় চেয়েছিলেন তথ্যমন্ত্রী
আগেই বলেছিলাম নৌকা জিতবে: রিফাত
জিতলেও ভোট কমল নৌকার, ‘বিএনপির ভোট’ দুই ভাগ
‘কোনো অভিযোগ না থাকা’ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান সাক্কুর
কুমিল্লায় ফল ঘোষণার কেন্দ্রে হাঙ্গামা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The scoundrels made by Chhatra League are insulting the teachers

‘ছাত্রলীগের বানানো বখাটেরাই শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করছে’

‘ছাত্রলীগের বানানো বখাটেরাই শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করছে’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাষ্কর্যে বুধবার বিকেলে মানববন্ধন করে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। ছবি: নিউজবাংলা
‘ছাত্রলীগই কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করেছে। এই ছাত্রলীগই কুয়েটে একজন শিক্ষককে মানসিক নির্যাতন করে মৃত্যুর দিকেও ঠেলে দিয়েছে‍।’

সারা দেশে ছাত্রলীগ কিশোর-তরুণদের পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত করে বখাটে বানাচ্ছে‍ বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আসিফ মাহমুদ‍।

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের বানানো এই বখাটে শিক্ষার্থীরাই শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করছে, প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে‍।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে বুধবার বিকেলে মানববন্ধনে তিনি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন।

নড়াইলে পুলিশের উপস্থিতিতে কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে হেনস্তার প্রতিবাদ এবং সাভারে কলেজশিক্ষক উৎপল কুমার বিশ্বাসের হত্যাকারীর বিচারের দাবিতে এ মানববন্ধন করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

মানববন্ধনে আসিফ বলেন, ‘ছাত্রলীগই কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করেছে। এই ছাত্রলীগই কুয়েটে একজন শিক্ষককে মানসিক নির্যাতন করে মৃত্যুর দিকেও ঠেলে দিয়েছে‍।

‘আমি নিশ্চিত, সাভারের শিক্ষক হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে, সেখানেও ক্ষমতাসীন দল কিংবা তাদের ছাত্রসংগঠনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে‍।’

কলেজশিক্ষক উৎপল কুমারের হত্যার বিচারের দাবিতে আমরণ অনশনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আখতার হোসেন। বলেন, ‘আজ দেশে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু, হিন্দু কিংবা মুসলিম কেউই নিরাপদে নেই‍।

‘বাংলাদেশে কেবল ভালো আছে ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগীরা‍। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু বিভাজন করা যাবে না‍।’

আখতার বলেন, ‘একজন হিন্দু ভাই নিপীড়িত হলে আমি একজন মুসলিম ভাই হিসেবে তার প্রতিবাদ জানাব‍। একজন মুসলিম ভাই নিপীড়িত হলে আমার একজন হিন্দু ভাই তার প্রতিবাদ জানাবে। আর এভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে উঠবে‍।’

সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন বলেন, ‘নড়াইলে ক্লাস থেকে তুলে নিয়ে একজন শিক্ষককে হেনস্তা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস থেকে তুলে নিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের একজন কর্মীকে ছাত্রলীগের হামলা সবই এক সূত্রে গাঁথা‍।

‘ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও মৌলিক মানবাধিকার হরণ করে দেশের মানুষকে বিভাজিত করে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে‍।’

আরও পড়ুন:
ফাল্গুনীকে মারধর: ছাত্রলীগের পাঁচজনের বিচার শুরু
পুলিশ পেটানোর অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
সীতাকুণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবির মিছিলে হামলার অভিযোগ
চবি ছাত্রলীগের ২ নেতাকে ‘মারধর’: আটক ২
‘জমি দখল করে’ যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতার মাছের ঘের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Seeing Raushan in Parliament the Prime Minister ran away

সংসদে রওশনকে দেখে ছুটে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

সংসদে রওশনকে দেখে ছুটে গেলেন প্রধানমন্ত্রী সংসদে রওশন এরশাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকা বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদকে সংসদে পেয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাজেট অধিবেশন চলাকালীন বুধবার তিনি রওশন এরশাদের খোঁজ নেন।

বিকেল ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ অধিবেশনে প্রবেশ করেন। অধিবেশনে ঢুকে রওশন এরশাদকে দেখতে পান তিনি। নিজের সিটে গিয়ে বসেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর যান বিরোধীদলীয় নেতার কাছে। তার কুশলাদি জিজ্ঞেস করেন, শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ গত বছরের ৫ নভেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসা শেষে সাত মাস পর সোমবার দেশে ফেরেন তিনি।

এর আগে ফুসফুসের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) টানা ৮৪ দিন ভর্তি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা।

দুই নেতার কথোপকথনের সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূর ই আলম।

রওশন এরশাদ তার জন্য নির্ধারিত আসনে বসে কথা বলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজেটের ওপর বক্তব্য দেয়ার সময় সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয়ার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে যোগ দেয়ায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শুধু যোগদানই নয়, বাজেট আলোচনায়ও অংশ নিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
ষড়যন্ত্রের কারণে পদ্মা সেতু হতে ২ বছর বিলম্ব: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Limestone in the face of critics of the construction of the Padma Bridge Raushan

পদ্মা সেতু নির্মাণে সমালোচকদের মুখে চুনকালি: রওশন

পদ্মা সেতু নির্মাণে সমালোচকদের মুখে চুনকালি: রওশন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। ফাইল ছবি
‘প্রধানমন্ত্রী নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার ঘোষণা দিলে বিদ্রুপ করেছেন অনেকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দৃঢ়তা, সাহস, বিচক্ষণতা আর দূরদর্শীতা দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন। চুনকালি পড়েছে সমালোচকদের মুখে।’

বিশ্বব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলো পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ায় অনেকে অনেক কথা বলেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। পদ্মা সেতু হবে না বলেও অনেকে মন্তব্য করেছিলেন বলে জানান তিনি।

জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় নিয়ে বুধবার বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন।

বাজেট অধিবেশনে তিনি আজকেই প্রথমবারের মতো যোগ দেন। গত বছরের ৫ নভেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যান তিনি। চিকিৎসা শেষে গত সোমবার ৭ মাস পর দেশে ফেরেন তিনি।

রওশন এরশাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার ঘোষণা দিলে বিদ্রুপ করেছেন অনেকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দৃঢ়তা, সাহস, বিচক্ষণতা আর দূরদর্শীতা দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন। চুনকালি পড়েছে সমালোচকদের মুখে।’

বিরোধীদলীয় নেতা পদ্মা সেতু নির্মাণ করায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। বলেন, ‘দেশের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। পদ্মা সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি দেশের সক্ষমতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক।

‘বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে, এত সমস্যা মোকাবিলা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।’

এই সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক লাইফলাইনরূপে কাজ করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য, আঞ্চলিক বাণিজ্য, দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগ, শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠা, কৃষি সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।’

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন দেশের সাবেক এই ফাস্ট লেডি। তিনি বলেন, ‘আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, তেল, গ্যাস ও সারের মূল্যবৃদ্ধিজনিত বর্ধিত ভর্তুকির জন্য অর্থের সংস্থান, বেসরকারি বিনিয়োগ অব্যাহত রেখে কর্মসৃজন, আমদানি সহনীয় পর্যায়ে রেখে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ স্থিতিশীল রাখা, ব্যাংক ঋণের সুদের হার বর্তমান হারে রাখা, করের আওতা বৃদ্ধি করে রাজস্বের পরিমাণ বাড়ানো ও বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনা এ চ্যালেঞ্জগুলোর অন্যতম।’

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি কমানোর কৌশল নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় পার্টির সর্বোচ্চ এ নীতি নির্ধারক বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য টেকসই গণতন্ত্রের প্রয়োজন। সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, ও সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক হবে। এটাই গণতন্ত্রের মূলনীতি। আমাদের সবাইকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন:
এক্সপ্রেসওয়েতে বাইকের টোল ৩০, কার ১৪০
পদ্মা সেতুর নাট বল্টু খোলা বাইজীদ ‘খালেদার অনুসারী’: নৌ প্রতিমন্ত্রী
পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারীদের বিচারের পক্ষে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী
কোথা থেকে, কীভাবে মেটানো হলো সেতুর খরচ
পদ্মা সেতুর টাকাতেই উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সঞ্চালনের পিলার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rafiqul expelled from South Korea A League

দক্ষিণ কোরিয়া আ.লীগের রফিকুল বহিষ্কার

দক্ষিণ কোরিয়া আ.লীগের রফিকুল বহিষ্কার দক্ষিণ কোরিয়া আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম ভুট্টোকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে না জানিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে দুই জন সদস্য নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করেন। সেই অবৈধ কমিটির নামে ব্যানার টানিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে সভা করেন।

দক্ষিণ কোরিয়া শাখা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম ভুট্টোকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দেশটির রাজধানী সিউলে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত দক্ষিণ কোরিয়া আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

দক্ষিণ কোরিয়া শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মতিন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম হাছান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে না জানিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে দুই জন সদস্য নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করেন। সেই অবৈধ কমিটির নামে ব্যানার টানিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে সভা করেন। সেই আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এসব কারণে রফিকুলকে আওয়ামী লীগের দক্ষিণ কোরিয়া শাখা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞতিতে জানানো হয়।

আরও পড়ুন:
ব্যবসা সহজীকরণে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা চায় বাংলাদেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Livestock Minister in favor of trial of opponents of Padma Bridge

পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারীদের বিচারের পক্ষে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারীদের বিচারের পক্ষে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। ফাইল ছবি
প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা দেশের উন্নয়নের বিরোধিতা করেছে অথবা অসত্য তথ্য সরবরাহ করেছে, বাংলাদেশের দণ্ডবিধির প্রচলিত আইন অনুযায়ী তারা অপরাধী।’

পদ্মা সেতু প্রকল্পে যারা ষড়যন্ত্র কিংবা বিরোধিতা করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনার পক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে যারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বিরোধিতা করেছে। ড. ইউনূস হোক আর তার সাঙ্গপাঙ্গ হোক। তাদের বিচার করা ছাড়া কোনো বিকল্প পথ নেই।’

রাজধানীর সিরডাপে বুধবার এক গোলটেবিল আলোচনায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

‘পদ্মা সেতু: সম্প্রীতির পথে সাফল্যের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক ওই গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে সম্প্রীতির বাংলাদেশ।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা দেশের উন্নয়নের বিরোধিতা করেছে অথবা অসত্য তথ্য সরবরাহ করেছে, বাংলাদেশের দণ্ডবিধির প্রচলিত আইন অনুযায়ী তারা অপরাধী।’

‘আজকে তাদের ছেড়ে দিলে অনেকে মনে করবে এসব করলে তো কিছুই হয় না। আমি একজন আইন পেশার মানুষ হিসেবে মনে করি তারা দেশের প্রচলিত আইন, দণ্ডবিধি, বিশেষ ক্ষমতা আইনে তারা অপরাধী।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমার তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, এটি তার হৃদয়ের বিশালতা।

মন্ত্রী বলেন, ‘এখনও যারা মিথ্যাচার করছেন তাদের আইনের আওতায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ দরকার।’

‘যারা উন্নয়নের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারা প্রেস ক্লাব কিংবা সিরডাপে এসে সভা-সেমিনারে অনেক বড় বড় ভাষণ দেয়। আজকে পেপারে দেখলাম, পাকিস্তানের মতো রাষ্ট্র পদ্মা সেতু হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের অনুসারী যারা বাংলাদেশে আছেন, তারা প্রধানমন্ত্রীকে পদ্মা সেতুর জন্য এখনও অভিনন্দন জানাতে পারেননি।’

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের সক্ষমতার প্রতীক। অবৈধ পথে যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন বন্ধ করতে চেয়েছে তাদের মুখে চপেটাঘাত। সারা দেশের যেখানেই যাবেন শেখ হাসিনার কৃতিত্ব খুঁজে পাবেন।’

আলোচনায় পদ্মা সেতু প্রকল্পে ষড়যন্ত্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূস একা ছিলেন না বলে জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ড. ইউনূস তিনি কি একাই ষড়যন্ত্র করেছিলেন? তার সঙ্গে কি এদেশের সংবাদপত্র ছিল না? সংবাদপত্রের সম্পাদক কয়েকজন ছিল না তার সাথে? তারাও তার (ড. ইউনূস) সাথে ছিল তো। তারাও ষড়যন্ত্র করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের মেয়ে ছিল তার সঙ্গে। তার নেতৃত্বে গুলশানে, একটি জনপ্রিয় পত্রিকার সম্পাদক, ড. ইউনূস, তার প্রতিনিধি সভা করেছে পদ্মা সেতুর লোন কী করে বাতিল করা যায় বিশ্বব্যাংককে দিয়ে। অনেক প্রচারমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবী পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।’

আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়।

বক্তব্য রাখেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক সুভাষ সিংহ রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অসীম সরকার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Allegations of BNPs torture are fictional Quader

বিএনপির নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ কল্পিত: কাদের

বিএনপির নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ কল্পিত: কাদের ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংগৃহীত
“বিএনপি মহাসচিবের উপস্থিতিতে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে '৭৫-এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বক্তৃতা প্রদান করেছে। এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও ফৌজদারি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার পরও বিএনপি নেতাদের দমনে হিংস্র আচরণ তো দূরের কথা, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।"

বিএনপির ওপর সরকার নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে বলে দলের নেতারা যে অভিযোগ করে আসছেন, তাকে কল্পিত বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি তাদের ব্যর্থতা ও হতাশা ঢাকতে সরকারের বিরুদ্ধে নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ তুলছে।

বুধবার এক বিবৃতিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিএনপি মহাসচিবের বিভিন্ন অভিযোগের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

বিরোধী দল দমনে সরকার হিংস্র রূপ ধারণ করেছে– ফখরুলের এমন অভিযোগ নিয়ে কাদের বলেন, ‘তার এমন অভিযোগের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি চিরাচরিত মিথ্যাচারের অপরাজনীতি থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারেনি।’

তিনি বলেন, “বিএনপি মহাসচিবের উপস্থিতিতে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে '৭৫-এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বক্তৃতা প্রদান করেছে। এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও ফৌজদারি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার পরও বিএনপি নেতাদের দমনে হিংস্র আচরণ তো দূরের কথা, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।’’

বিএনপি নেতারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে ব্যর্থ হয়ে এবং তাদের দেশবিরোধী ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কারণে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে প্রলাপ বকতে শুরু করেছেন বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

দেশ সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘দেশ সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য, অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বলেন, বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়ন হচ্ছে, বিএনপি মহাসচিবকে এই দ্বিচারিতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বিএনপি মহাসচিব রাজনৈতিক বক্তব্যের আড়ালে এসব সন্ত্রাসীকে রক্ষা করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন।

‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা আজ সন্ত্রাসের কথা বলেন। বলেন, বিরোধী দল দমনের কথা। অথচ বিরোধী দল দমন-পীড়ন ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস সৃষ্টির মধ্য দিয়েই ইতিহাসের কুখ্যাত স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান বিএনপি নামক রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেছিল।’

আরও পড়ুন:
বিএনপি যাই বলুক নির্বাচনে আসবে, ভোট ইভিএমে হোক: কাদের
জনদুর্ভোগ নিয়ে রাজনীতি করছে বিএনপি: কাদের
কেউ আগুন নিয়ে খেলছে: কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fair will not be played in the election of Makari Tuku

মকারির নির্বাচনে আর না, খেলা হবে ‘ফেয়ার’: টুকু

মকারির নির্বাচনে আর না, খেলা হবে ‘ফেয়ার’: টুকু সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকু। ছবি: নিউজবাংলা
টুকু বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে আগে একবার নির্বাচন হয়েছিল, আমরা সেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। আমরা বিশ্বাস করে সেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম, কিন্তু তারা দিনের ভোট রাতেই শেষ করে দিয়েছে।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আর অংশ নেবে না জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকু বলেছেন, খেলা হবে ‘ফেয়ার’।

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি। যুবদলের নবগঠিত কমিটির উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

টুকু বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে আগে একবার নির্বাচন হয়েছিল, আমরা সেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। আমরা বিশ্বাস করে সেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম, কিন্তু তারা দিনের ভোট রাতেই শেষ করে দিয়েছে।

‘আবার এখন ইভিএম, ইভিএম করছে। অর্থাৎ রাতের বেলা সিল মারতে হবে না, দিনের বেলা ঘরে বসেই সব ভোট নিয়ে নিতে পারবে। এ রকম মকারির নির্বাচনে মধ্যে আমরা যাব না।’

টুকু বলেন, ‘যতক্ষণ একটি নিরপেক্ষ সরকার না আসবে বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নেবে না। বিএনপি একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশে নির্বাচন করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি দেখিয়ে দিয়েছে গণতন্ত্র কাকে বলে। বেগম খালেদা জিয়া পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি পরাজয় বরণ করেছিল। এটাকেই বলে আসল গণতন্ত্র।

‘এই সরকারের যদি সৎ সাহস থাকে তাহলে তারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসুক। আমরা যদি পরাজয় বরণ করি করব। তবে খেলাটা ফেয়ার হতে হবে।’

সিইসির চারদিনে ভোট করার প্রস্তাব সম্পর্কে টুকু বলেন, ‘তিনি হাইব্রিড কি না জানিনা, আবার তিনি চার দিনে কেন নির্বাচন করতে চান সেটাও জানিনা।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জন্মের আগে থেকেও আমরা একদিনেই ভোট করি। চার দিনে ভোট করার মানে হলো ভোটগুলো এনে ডিসি অফিসে রাখা, আর ডিসি অফিসকে কেউ বিশ্বাস করে না। সুতরাং এটি বাংলাদেশ হবে না।’

এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, বর্তমান সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, সিনিয়র সহ সভাপতি মামুন হাসান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মিল্টন, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বন্যার্তদের জন্য ৩০ লাখের তহবিল গড়বে যশোর বিএনপি
পদ্মা সেতু নিয়ে খুশি হতে পারেনি বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী
ফের করোনা আক্রান্ত মির্জা ফখরুল

মন্তব্য

p
উপরে