× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Government spending on health is lower in Bangladesh than in neighboring countries
hear-news
player
print-icon

স্বাস্থ্যে সরকারি ব্যয় প্রতিবেশীদের তুলনায় কম বাংলাদেশে

স্বাস্থ্যে-সরকারি-ব্যয়-প্রতিবেশীদের-তুলনায়-কম-বাংলাদেশে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে গোলটেবিল অনুষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টস (বিএনএইচএ)-এর ১৯৯৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশের জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়। এই বরাদ্দ মাথাপিছু পড়ে ৪৫ ডলার। প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভারত, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কায় যথাক্রমে বরাদ্দ ৫৮, ৭৩, ১০৩ এবং ১৫৭ ডলার। অর্থাৎ প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম বরাদ্দ নেপালের তুলনায় আমাদের বরাদ্দ ১৩ শতাংশ কম।

স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশ সরকারের মাথাপিছু ব্যয় প্রতিবেশী সব দেশের তুলনায় কম বলে জানানো হয়েছে একটি গোলটেবিল আলোচনায়।

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য বাজেটের আকার আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মত দেন বক্তারা। তারা বলছেন, যে টাকা বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন ছিল, তার অর্ধেক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্যসেবায় জনগণকে বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হয়।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘কেমন হলো স্বাস্থ্যবাজেট ২০২২-২৩’ বিষয়ে এক গোলটেবিল অনুষ্ঠানে তারা এই মত দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, ‘কিছু প্রকল্প সম্প্রসারণ ছাড়া স্বাস্থ্য বাজেটে নতুনত্ব নেই। বরাদ্দের বৃদ্ধি মূলত ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির ব্যবস্থা মেটাবে। করোনার মতো মহামারি মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়াতে বাজেটে বরাদ্দ নেই।’

তিনি বলেন, ‘আগের বছরের বাজেটের চেয়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ বাড়িয়ে পরের বছরের বাজেট তৈরি করেন। অনেক খাতে বরাদ্দ বাড়লেও ব্যয়ের সক্ষমতা ও দক্ষতা নেই। এ কারণে বাজেট অব্যবহৃত থেকে যায়। এসব বিষয় সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে।’

আলোচকরা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ গোটা বাজেটের ১০ শতাংশ হওয়া উচিত। তারা জানান, দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬৮ শতাংশই আসছে জনসাধারণের পকেট থেকে। এই ব্যয় (আউট অব পকেট) ৫০ শতাংশে আনতে হলে জাতীয় বাজেট ৭ থেকে ৮ শতাংশ বরাদ্দ প্রয়োজন।
তবে প্রায় এক দশক ধরেই স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ থাকে জাতীয় বাজেটের ৫ থেকে ৬ শতাংশে মধ্যে। আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের বিশ্লেষণ বলা হয়, দেশের নাগরিকরা স্বাস্থ্যসেবা পেতে পকেট থেকে যে ৬৮ শতাংশ ব্যয় করেন, তার মধ্যে ওষুধ ও পচনশীল (এমএসআর) চিকিৎসাসামগ্রী কিনতে ব্যয় হয় ৬৭ শতাংশ। ৫ শতাংশ ব্যয় হয় ইমেজিং সেবা পেতে, ৭ শতাংশ ব্যয় হয় ল্যাবরেটরি সেবা পেতে, ইনপেশেন্ট কিউরেটিভ সেবা পেতে ব্যয় হয় ৮ শতাংশ এবং আউটপেশেন্ট কিউরেটিভ সেবা পেতে ব্যয় হয় ১৩ শতাংশ।

অসুস্থ বা দুর্ঘটনায় আক্রান্ত নাগরিকদের মধ্যে ১২ শতাংশ কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন না। আউট পেশেন্টদের মধ্যে মাত্র ১৭ শতাংশ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে যান। অন্যদিকে ৪০ শতাংশের বেশি ইনপেশেন্ট বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টস (বিএনএইচএ)-এর ১৯৯৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশের জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়। এই বরাদ্দ মাথাপিছু পড়ে ৪৫ ডলার। প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভারত, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কায় যথাক্রমে বরাদ্দ ৫৮, ৭৩, ১০৩ এবং ১৫৭ ডলার। অর্থাৎ প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম বরাদ্দ নেপালের তুলনায় আমাদের বরাদ্দ ১৩ শতাংশ কম।

গত অর্থবছরের তুলনায় স্বাস্থ্য বাজেট কম বেড়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘গত বছরের মতো বা তার চেয়ে বেশি হওয়া উচিত। করোনার কারণে অনেক কাজ গত বছর করতে পারিনি, এবার তা করতে চাই।’

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় এ খাতে থোক বরাদ্দ এবার কমেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে হেলথের ব্লক ফান্ড গত বছর ১০ হাজার কোটি টাকা ছিল। সেটা এবার কমিয়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। মোট হেলথের বাজেটের আকার ৪০ হাজার কোটি টাকা হবে। কারণ, অন্যান্য মন্ত্রণালয়ও হেলথের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।’

অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের চেয়ে বাজেট বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পিছিয়ে বলেও স্বীকার করেন মন্ত্রী। বলেন, ‘অনেক সময় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজের সমন্বয় করায় সময় বেশি লাগে। এর ফলে বাজেটের কিছুটা অংশ অব্যবহৃত থেকে যায়। প্রতিটি ক্রয় কার্যক্রমে আমাদের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড় নিতে হয়। এতে সময় লাগে।

‘আমাদের প্রক্রিয়াগুলো লম্বা, ঠিকাদার নিয়োগসহ নানা কারণে সময় বেশি লাগে। অনেক সময় ঠিকাদাররা কাঁচামালের দাম বাড়া ও কমার সঙ্গে কাজের সময় নির্ভর করে।’

অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও দেশে টিকা উৎপাদনের ওপর জোর দেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, টিকা প্রয়োজন হলে দেশেই পাওয়া যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আহমেদুল কবির, পরিচালক (প্রশাসন) শামিউল ইসলাম, টিকা কর্মসূচির পরিচালক শামসুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ, হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বিও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য গবেষণায় অবদান: ১০ নারী বিজ্ঞানীকে অনুদান
করোনা বাড়ছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সতর্কতা
স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজিসহ ৬ জনের বিচার শুরু

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Free vaccinations are paid for

বিনা মূল্যের টিকা নিতে হচ্ছে টাকা দিয়ে

বিনা মূল্যের টিকা নিতে হচ্ছে টাকা দিয়ে উত্তর বাড্ডার নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ইপিআই টিকা নিতে দিতে হচ্ছে টাকা। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তর বাড্ডার নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সরকারের সরবরাহ করা যেকোনো টিকা নিতে গেলেই ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। অথচ ইপিআই’র আওতায় কোনো টিকা দিতে টাকা নেয়ার সুযোগ নেই।

সরকারি নিয়ম অনুসারে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় শিশুদের সব টিকা বিনা মূল্যে দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু রাজধানীর উত্তর বাড্ডার নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে (বাংলাদেশ হসপিটাল ট্রাস্টের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান) টাকার বিনিময়ে টিকা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

উত্তর বাড্ডার এই নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি শিশু টিকা নিতে আসে। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই আদায় করা হচ্ছে ৫০ টাকা করে।

মূলত নারী-শিশু এবং শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস প্রকল্পের অধীনে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে আছে নারী মৈত্রী সেবা সংস্থা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সিটি করপোরেশন। সপ্তাহে দুদিন রোববার ও বুধবার নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে টিকা দেয়া হয়। শিশুমৃত্যুর হার কমাতে শূন্য থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের ৭টি টিকা নিতে হয়।

৯ মাসের সন্তান আহামেদ জারিফকে টিকা দিতে সোমবার দক্ষিণ বনশ্রী থেকে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন বেসরকারি চাকরিজীবী আয়েশা বিনতে ইসলাম। এখান থেকে আগেও সন্তানকে চারটি টিকা দিয়েছেন। প্রতিবারই তাকে ৫০ টাকা করে দিতে হয়েছে। একই অভিযোগ করেছেন আরও দশ অভিভাবক।

উত্তর বাড্ডার বাসিন্দা রুম্পা রায় সোমবার স্থানীয় এই নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান টিটেনাসের টিকা নিতে। চার্জ হিসেবে তার কাছেও ৫০ টাকা চাওয়া হয়।

এ সময় রুম্পা প্রশ্ন তোলেন- ‘সরকার এই টিকা সারা দেশে ফ্রিতে দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিও সরকারের নিবন্ধনভুক্ত। এর পরিচালন ব্যয়ও দিচ্ছে সরকার। তাহলে এটা কিসের চার্জ? টাকা নেয়ার রসিদও তো দিচ্ছেন না!’

জবাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, ‘এখানে যেকোনো টিকা নিতে হলেই টাকা দিতে হবে। সবার কাছ থেকেই নেয়া হচ্ছে। তবে এটা টিকার দাম নয়, সার্ভিস চার্জ। আমাদের এখানে চারজন চিকিৎসক ও চারজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। কেন্দ্র পরিচালনা ব্যয়ও বলতে পারেন।’

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইপিআই-এর আওতায় শিশুদের সব টিকাই এই কেন্দ্রে পাওয়া যায়। সরকারি টিকাগুলো ফ্রি দেয়া হয়। এজন্য সরকার থেকে আমরা কিছু অর্থ পাই। তবে সার্ভিস চার্জ বাবদ ৫০ টাকা নেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের চার্জ হিসেবে এটা নেয়া হয়। এই টাকা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।

‘বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নারী মৈত্রী থেকে ইপিআইয়ের সব টিকা আনা হয়। তাদের কাছে খোঁজ নিলে টাকা নেয়ার কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার জানতে পারবেন।’

কবে থেকে টিকা দিয়ে চার্জ নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ ৫০ টাকা সার্ভিস চার্জ নেয়ার নির্দেশ দেয়ায় এটা নেয়া হচ্ছে।’ তবে নির্দেশনার চিঠি বা প্রজ্ঞাপন চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি।

নারী মৈত্রী সংস্থার পরিচালক আকরামুল হোসাইন বলেন, ‘ইপিআইয়ের আওতাভুক্ত সব টিকা বিনামূল্যে দেয়ার নিয়ম। তারপরও কেউ টাকা নিলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ইপিআই টিকা ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক বলেন, ‘সারা দেশে এই টিকা বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। বিনামূল্যের টিকা নিতে টাকা দিতে হচ্ছে এমন অভিযোগ আমাদের কাছে এখনও আসেনি। আসলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্যকর্মীর অনুপস্থিতিতে টিকা দিলেন ‘আনসার সদস্য’
টিকার দাম দিয়ে খরচের হিসাব হবে না: প্রধানমন্ত্রী
৪০ হাজার কোটি নয়, টিকার ব্যয় এর অর্ধেক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
টিকা তৈরি শিখতে বিদেশে যাচ্ছেন ২০ বিশেষজ্ঞ
টিকায় ‘বাড়তি ব্যয়’ নিয়ে টিআইবির দাবি অনুমাননির্ভর

মন্তব্য

বাংলাদেশ
This year 26 people died at the hospital for the first time due to dengue

চলতি বছর ডেঙ্গুতে প্রথম মৃত্যু, হাসপাতালে ২৭ জন

চলতি বছর ডেঙ্গুতে প্রথম মৃত্যু, হাসপাতালে ২৭ জন ডেঙ্গু নিয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি এক শিশু। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স ১২ বছর, নাম কিশোর আয়ুল খান। রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল কিশোর।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এটাই প্রথম মৃত্যু।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স ১২ বছর, নাম কিশোর আয়ুল খান। রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল কিশোর।

ডেঙ্গু নিয়ে গত একদিনে নতুন করে ২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তারা সবাই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকার মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ১৫ জন।

এ নিয়ে বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১১০ জন ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪৭টি ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ১০৬ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ৪ জন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ জুন পর্যন্ত হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছে ৮০৮ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৬৯৭ জন।

২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক রূপ নেয়। সে বছর এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। সেবার মারা যায় ১৪৮ জন।

গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গুর ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপেও তার প্রমাণ মিলেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত ২৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিলের মধ্যে করা এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তিনটি ওয়ার্ড ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের উচ্চ ঝুঁকিতে ও ১০টি ওয়ার্ড মাঝারি ঝুঁকিতে আছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৯টি ওয়ার্ড মাঝারি ঝুঁকিতে আছে।

আরও পড়ুন:
ডেঙ্গু সামলাতে আমরা প্রস্তুত: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
ঢাকায় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী
ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে ঢাকার যেসব এলাকা
ঢাকায় ৪ শতাংশের বেশি বাড়িতে এডিস লার্ভা
বাড়তে পারে ডেঙ্গু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
4000 medical teams for flood affected areas

বন্যাকবলিত এলাকার জন্য ৪ হাজার মেডিক্যাল টিম

বন্যাকবলিত এলাকার জন্য ৪ হাজার মেডিক্যাল টিম বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবায় নেয়া হয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ। ছবি: নিউজবাংলা
জাহিদ মালেক বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলের সব পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশ থাকলেও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্যালাইন, ওষুধ ও সাধ্য অনুযায়ী খাদ্য পাঠানো হচ্ছে। ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে, স্থানীয়ভাবেও তা করা হয়েছে। বর্তমানে সিলেট অঞ্চলে ২০০ টিম কাজ করছে।’

সিলেট-সুনামগঞ্জসহ দেশের ১১ জেলায় বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ৪ হাজার মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত মৃত্তিকাবাহিত কৃমি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বন্যাকবলিত এলাকার জন্য ৪ হাজার মেডিক্যাল টিম
বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ছবি: নিউজবাংলা

জাহিদ মালেক বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলের সব পর্যায়ের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশ থাকলেও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্যালাইন, ওষুধ ও সাধ্য অনুযায়ী খাদ্য পাঠানো হচ্ছে।

‘সিলেটসহ কয়েকটি জেলা ব্যাপক বন্যার কবলে পড়েছে। কিছু কম আর কিছু বেশি। বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এ জন্য ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে, স্থানীয়ভাবেও তা করা হয়েছে। বর্তমানে সিলেট অঞ্চলে ২০০ টিম কাজ করছে। আমাদের ডাক্তার, নার্সসহ অন্যরাও সেবা দিচ্ছেন। টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কাজগুলো করা হচ্ছে। স্থানীয় হাসপাতালে আইসিইউসহ নানা জটিলতা নিয়ে রোগী ভর্তি আছে। কিন্তু পানি উঠে যাওয়ায় তাদের অন্য স্থানে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

ভাসমান চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা নেবেন কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেশে প্রতিবছর বন্যা হয়৷ কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব কোনো হেলিকপ্টার নেই। পানিতে চলার অ্যাম্বুলেন্সসহ কোনো পরিবহন ব্যবস্থা নেই। আমরা সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরব।’

করোনা সংক্রমণ বিষয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগেও দৈনিক শনাক্ত ২০-৩০ জন ছিল। কিন্তু এখন সেটি সাড়ে ৪০০-তে দাঁড়িয়েছে। রোগীর সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকলে মৃত্যু হবে। যদিও আমাদের হাসপাতাল ও চিকিৎসার প্রস্তুতি আছে। ঝুঁকিমুক্ত থাকতে আমরা যেন মাস্ক পড়ি, সেদিকে খেয়াল করা দরকার। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য সব ধরনের সমাবেশ না করা উচিত।’

করোনার চলমান সংক্রমণ ওমিক্রনের উপধরনের মাধ্যমে হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
বন্যার্তদের সাহায্যে টিএসসিতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী
সর্বোচ্চটা দিয়ে দুর্গতদের পাশে থাকব: সেনাপ্রধান
পানিবন্দি লাখ মানুষকে উদ্ধার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Patchwork in private medical colleges

বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোয় জোড়াতালি

বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোয় জোড়াতালি ফাইল ছবি
বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলো পরিদর্শন শেষে যে প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই নীতিমালা পরিপূর্ণভাবে মানছে না। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ নীতিমালা মানতে প্রায় শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে।

দেশে ৭২টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধিকাংশই চলছে জোড়াতালি দিয়ে। কলেজগুলোতে শিক্ষক কম। প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নেই। অবকাঠামোও দুর্বল। পাঠদান ও চিকিৎসাসেবা দীর্ঘদিন ধরে সংকটে।

সরকার এসব সমস্যা নিরসনে তাগাদা দিলেও মেডিক্যাল কলেজগুলো কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক জরিপ প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি শিগগিরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে। তবে হাসপাতালগুলো চাইলে এই সংকট নিরসনে কিছুদিন সময় নিতে পারবে।

প্রতিবেদন তৈরির জন্য গত বছরের ১৩ অক্টোবর তথ্য চাওয়া হলেও মাত্র ২৮ প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকিগুলো পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেয়নি। যারা দিয়েছে, তাদের অনেকের নাজুক পরিস্থিতি দেখা গেছে। কলেজগুলোতে জোড়াতালির পাঠদানে মান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও রোগীদের আস্থা অর্জনে এগুলো ব্যর্থ হচ্ছে।

বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার বাধ্যবাধকতা রেখে গত বছরের ৩ মে একটি নতুন আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গত ৩০ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ বিল-২০২২’ সংসদে তোলেন। বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

ওই বিলে বলা হয়েছে, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ বা ডেন্টাল কলেজের কোনো বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষকের সংখ্যা সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদিত পদের ২৫ শতাংশের বেশি রাখা যাবে না। এসব কলেজে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের জন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় কমপক্ষে দুই একর এবং ডেন্টাল কলেজের জন্য এক একর জমি থাকতে হবে।

অন্য এলাকায় এই জমির পরিমাণ চার একর ও দুই একর হতে হবে। এই জমি সংশ্লিষ্ট কলেজের নামে নিরঙ্কুশ, নিষ্কণ্টক, অখণ্ড ও দায়মুক্ত হতে হবে। মেডিক্যাল কলেজ বা ডেন্টাল কলেজ এবং এর অধীন পরিচালিত হাসপাতাল কোনোভাবেই ইজারা বা ভাড়া নেওয়া জমিতে বা ভবনে স্থাপন করা যাবে না।

এই বিল পাস না হওয়া পর্যন্ত বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলো ২০১১ সালের একটি নীতিমালার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মোট ১০৭টি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। এগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য মোট আসন সংখ্যা ১০ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৪ হাজার ৩৫০ এবং বেসরকারি ৭০টি কলেজে ৬ হাজার ৩৪৭টি আসন রয়েছে।

বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, শিক্ষক, শিক্ষা উপকরণ, উন্নত মানের ল্যাবরেটরি, শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানোর সুবিধা পর্যাপ্ত নেই। ফলে এগুলো থেকে পাস করা চিকিৎসকদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কী আছে প্রতিবেদনে?

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শন প্রতিবেদনের কিছু তথ্য নিউজবাংলার হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর তেজগাঁওয়ে বেসরকারি এম এইচ শমরিতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনে যায় অধিদপ্তর। এ পরিদর্শনের আলোকে চলতি বছরের এপ্রিলে একটি মতামত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা ২০১১ অনুযায়ী কলেজটি বেশ কিছু আবশ্যকীয় শর্তাবলি পূরণ করেনি। কলেজের একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য ৯৫ হাজার বর্গফুট ফ্লোর স্পেস, হাসপাতালের জন্য ৮৫ হাজার বর্গফুট ফ্লোর স্পেস, কলেজ ও হাসপাতালের জন্য ১১৭ দশমিক ৫ শতাংশ জমি এবং ৪১৩টি শয্যার কথা বলা হলেও বাস্তবে এগুলোর ঘাটতি আছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অধিভুক্তি হালনাগাদ থাকা বাধ্যতামূলক হলেও ২০১২ সালের পর থেকে তা করা হয়নি। ৫৮ শতাংশ বেড অকুপেন্সি ঘাটতিসহ প্রায় সব বিভাগে শিক্ষক, ল্যাব, শ্রেণিকক্ষের সরঞ্জাম, লাইব্রেরির আসন এবং সার্ভিস রুলের ঘাটতি রয়েছে।

পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে যেসব ঘাটতি রয়েছে তা পূরণ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। এসব ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালটি শিক্ষার্থীর আসন সংখ্যা বাড়ানোর আবেদন করেছে।

প্রতিবেদনে ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর বেসরকারি কিশোরগঞ্জের আবদুল হামিদ মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শনের যে মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে, তাতে বলা হয়, সেখানে ৫০ হাজার বর্গফুট ফ্লোর স্পেস এবং হাসপাতালে ১ লাখ ২ হাজার বর্গফুট ফ্লোরস্পেস থাকার কথা থাকলেও তা পাওয়া যায়নি। কাগজে-কলমে রোগীর চিকিৎসার জন্য ২৬০টি শয্যা, ৪৮ শতাংশ বেড অকুপেন্সি, দুটি গ্যালারি, ১২টি টিউটরিয়াল রুম থাকার উল্লেখ থাকলেও এগুলোয় ঘাটতি আছে। কলেজের নামে এক কোটি টাকার স্থায়ী আমানত ও পর্যাপ্ত শিক্ষকের ক্ষেত্রেও ঘাটতি পাওয়া গেছে। ফলে ছয় মাসের মধ্যে এসব শর্ত পূরণ করে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রমের সুপারিশ করা হয়েছে।

মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর প্রতিষ্ঠিত শ্যামলীর বেসরকারি ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শন করা হয় ২০১৯ সালের ২৭ এপ্রিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা না মেনে ভাড়া বাড়িতে কলেজ ও হাসপাতাল কার্যক্রম চালাচ্ছে। আলাদা ক্যাম্পাসে কলেজ ও হাসপাতালে করা হয়েছে। সেখানেও ফ্লোরস্পেস ও জমির ঘাটতি রয়েছে। একইভাবে বিএমডিসির অধিভুক্তি হালনাগাদ, শিক্ষক সংকট, প্রয়োজনীয় বেড অকুপেন্সি রেট, টিউটরিয়াল কক্ষ, গ্রন্থাগারের আসন পর্যাপ্ত নেই। প্রতিষ্ঠানটি ৫০ আসনের মেডিক্যাল কলেজের উপযোগী না হওয়ায় ৯০ আসন থেকে কমিয়ে ন্যূনতম ৫০ আসনে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এই অবস্থার উন্নতি না হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

২০১৯ সালের ১৩ মে মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫০টি আসনের বিপরীতে নীতিমালা অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানটিও সুযোগ-সুবিধা তৈরি করতে পারেনি। বিগত বছরগুলোতে পর্যাপ্ত ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করতে পারেনি। ফলে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ভর্তিতে আসন বাড়ানোর জন্য অনুমোদন চাইলেও তা দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তিন মাসের মধ্যে মেডিক্যাল কলেজের ১১৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ জমি, শিক্ষক বৃদ্ধি, ক্লাসরুম পরিবর্তন, সার্ভিস রুলের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারলে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে। না হলে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

একই বছর ধানমন্ডি এলাকায় বেসরকারি জয়নুল হক সিকদার উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজে পরিদর্শন প্রতিবেদনে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ১১০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়। পরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কলেজটি পরিদর্শন করা হয়। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি ৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে কলেজে ১ লাখ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। এ হিসাবে শুধু ওই শিক্ষাবর্ষের ১১০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২ লাখ ২০ হাজার বর্গফুট ফ্লোরস্পেস দরকার। কিন্তু পরিদর্শন করে দেখা যায়, কলেজটিতে জায়গাসহ ৯৫ হাজার বর্গফুট ফ্লোর স্পেস ঘাটতি রয়েছে। একইভাবে হাসপাতালের কার্যক্রমে ৮৫ হাজার বর্গফুট ফ্লোর স্পেস ঘাটতি আছে।

ফলে ফ্লোরস্পেস বাড়ানো, বিএমডিসির অধিভুক্তি হালনাগাদ, হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ, মিউজিয়াম হতে টিউটরিয়াল রুম পৃথককরণ, গ্রন্থাগারের আসন বাড়ানো ও একাডেমিক পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নয়নের শর্তসাপেক্ষে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। ১০০ আসনের বিপরীতে বর্তমান আসন বৃদ্ধির সুপারিশ সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ্য করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নয়ন না হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মককর্তা জানান, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে যে প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই নীতিমালা পরিপূর্ণভাবে মানছে না। এর মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ নীতিমালা মানতে প্রায় শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে।

অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. এ কে এম আহসান হাবিব বলেন, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবার মান উন্নয়নে দফায় দফায় চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কয়েক বছরে সাতটি মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু কলেজগুলো বিভিন্ন সময় উচ্চ আদালতে রিট করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। অধিদপ্তর একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দিলেও বিভিন্ন সময় উচ্চপর্যায়ে তদবির চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অনেক কলেজ চিকিৎসা শিক্ষাদানে বেশ ভালো করছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও চিকিৎসাসেবা আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক ডা. রশীদ ই মাহবুব বলেন, ‘দেশে আশির দশক থেকে শুরু করে প্রায় ৪০ বছর ধরে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ নিয়ে কথা হচ্ছে। কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য আইন লাগে, যা আজ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। আইন না থাকায় কোনো রকমে একটি নীতিমালা দিয়ে এগুলো পরিচালিত হচ্ছে।
‘ফলে সরকারিভাবে অনুমোদন নিয়ে অধিকাংশই নামকাওয়াস্তে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিদর্শনে বিএমডিসি, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকার রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও বিএমডিসির লাইসেন্স ছাড়া প্রায় সব জায়গা প্রশ্নবিদ্ধ। শিক্ষক, অবকাঠামো, মাননিয়ন্ত্রণ কোনোটাই সঠিকভাবে হচ্ছে না। এতে করে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জন করলেও সবাই পেশা জীবনে তা প্রয়োগ করতে পারছে না, দক্ষ হচ্ছে না। প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা ছাড়া এটা সম্ভব নয়। এ জন্য আইন করে মান নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
সিলগালা হাসপাতালে মৃত্যু: চিকিৎসক-নার্সের নামে মামলা
সিলগালা করা হাসপাতালে অপারেশন, শিক্ষার্থীর মৃত্যু
অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধে অভিযান নিষ্ফল হবে?
চারদিনের অভিযানে ১১৪৯ অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র সিলগালা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The medical team of the health department is going to Sylhet

সিলেট যাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসক দল

সিলেট যাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসক দল ফাইল ছবি
বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইন ও ওষুধ নিয়ে শনিবার ঢাকা থেকে একদল চিকিৎসক যাবেন। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবেও অধিদপ্তরের আরও একটি দল কাজ করবে। দুই দলের সমন্বয়ে চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে।

সিলেট বিভাগে বন্যায় পানিবন্দি আহত ও অসুস্থদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা থেকে একদল চিকিৎসক সিলেট যাচ্ছেন।

বন্যা পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে শুক্রবার বিকেলে এক সভায় এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর।

তিনি বলেন, বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইন ও ওষুধ নিয়ে শনিবার ঢাকা থেকে একদল চিকিৎসক যাবেন। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবেও অধিদপ্তরের আরও একটি দল কাজ করবে। দুই দলের সমন্বয়ে চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে।

অধ্যাপক আহমেদুল কবীর বলেন, বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়াসহ নানাবিধি রোগের প্রদুর্ভাব দেখা দেবে। প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে আমাদের কাজ বেড়ে যাবে। তার পরও অসুস্থ ও আহতদের চিকিৎসার্থে মূলত এখানে চিকিৎসকরা যাবেন।

ভার্চুয়াল এ সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আনোয়ার হোসেন যুক্ত ছিলেন।

এ ছাড়া সব অতিরিক্ত মহাপরিচালক, প্রশাসন, হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) বিভাগের পরিচালক, সিলেট বিভাগের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগীয় পরিচালক ও বিভাগের সব জেলা সিভিল সার্জনরাও অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
সিলেট-সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ বন্ধে প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ
বন্যায় বন্ধ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়
সিলেটে বন্যার্তদের সহায়তায় সেনাবাহিনী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Is the fourth wave of Corona coming in the flood?

বন্যার মধ্যে করোনার চতুর্থ ঢেউ আসছে কি?

বন্যার মধ্যে করোনার চতুর্থ ঢেউ আসছে কি? ফাইল ছবি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি থেকে এর নিচে নেমে এলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ধরা হয়। উল্টোপথে যাত্রা অর্থাৎ সংক্রমণের হার পাঁচের নিচে থেকে ৫ ছাড়ালে পরবর্তী ঢেউ আঘাত হেনেছে ধরা হয়। ক্রমেই বাড়তে থাকা শনাক্তের হার গত দুই দিনে হলো ৫ শতাংশের বেশি।

দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বন্যার মধ্যে টানা দুই দিন নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের বেশি থাকা এবং প্রতিদিনই তা আগের হারকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় করোনাভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুক্রবার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে যতগুলো নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তার ৬ দশমিক ২৭ শতাংশে ভাইরাসটির উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। এই হার গত ১১৬ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ।

আগের দিন পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণের হার ৫ শতাংশ ছাড়ায়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এই হার ৫ শতাংশের নিচে নামার পর এই প্রথম তা এর বেশি হলো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি থেকে এর নিচে নেমে এলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ধরা হয়। উল্টোপথে যাত্রা অর্থাৎ সংক্রমণের হার পাঁচের নিচে থেকে ৫ ছাড়ালে পরবর্তী ঢেউ আঘাত হেনেছে ধরা হয়।

দু-এক দিনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় না। পরপর দুই সপ্তাহ যদি সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি বা কম থাকে, তাহলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বা পরবর্তী ঢেউ আঘাত হেনেছে বলে ধরা হয়।

এ নিয়ে টানা দুই দিন সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি হলো, যা মাস দুয়েক আগেও ছিল ১ শতাংশের কম।

তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর করোনাসংক্রান্ত বিধিনিষেধগুলো একেবারেই পালিত হচ্ছে না। মাস্ক পরাসহ যেসব স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বলে আসছে সরকার, সেগুলো উপেক্ষা করছে মানুষ।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ হাজার ৯০০টি নমুনা পরীক্ষায় ৪৩৩ জনের শনাক্ত হয়েছে করোনা। গত ৯৬ দিনে এটিই সবচেয়ে বেশি। এর আগে গত ৮ মার্চ এর চেয়ে বেশি শনাক্তের সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেদিন ৪৪৬ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এ নিয়ে টানা ১৭ দিন নতুন রোগীর সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে বাড়ল।

নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় গত এক দিনে শনাক্তের হার ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। এই হার ১১৬ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেদিন শনাক্তের হার ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
তবে সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও কোনো মৃত্যু না থাকাটা স্বস্তির। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি। এতে করে মোট করোনায় মৃত্যু ২৯ হাজার ১৩১ জনে রয়ে গেল।

অধিদপ্তর জানায়, নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া ৪৩৩ জনের মধ্যে ৩৮৫ জনই ঢাকা মহানগর ও জেলার বাসিন্দা। এর বাইরে চট্টগ্রামে ২৬ জন, কক্সবাজারে ৯ জন, নারায়ণগঞ্জে ৫ জন, কিশোরগঞ্জ ও যাশোরে ২ জন করে এবং গাজীপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, বগুড়ায় একজন করে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৯৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৫ হাজার ৭১১ জন। প্রতি ১০০ জন শনাক্তের বিপরীতে সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে।

প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একই বছরের মার্চে ডেল্টা ধরনের করোনায় আসে দ্বিতীয় ঢেউ। এ পর্যায়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় গত জুলাইয়ে। একপর্যায়ে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর দেশে তৃতীয় ঢেউ নিয়ে আসে করোনার আরেক ধরন ওমিক্রন। এই ধরন শনাক্ত গত বছরের ১১ ডিসেম্বর আর তৃতীয় ঢেউ নিশ্চিত হয় ২০ জানুয়ারি।

২৮ জানুয়ারি করোনা শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ দাঁড়ায়, যা দেশে করোনা সংক্রমণ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। তবে তৃতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত বেশি হলেও মৃত্যু ছিল তুলনামূলক কম। এই ঢেউ দ্রুত নিয়ন্ত্রণেও আসে। গত ১১ মার্চ তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

এদিকে আসাম-মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢলে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে। ইতোমধ্যে সিলেট-সুনমাগঞ্জের নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

গত মে মাসের মাঝামাঝিতে আরেক দফা বন্যা হয় সিলেটে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে, মে মাসের বন্যায় গত ১৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পানি হয় সিলেটে। তবে চলমান বন্যা গত মাসের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি প্লাবিত এলাকার মানুষের।

আরও পড়ুন:
১১৬ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ করোনা শনাক্তের হার 
বুস্টার ডোজ নিতে বাধ্য করা হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ফাউচি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Two crore 20 lakh children will get vitamin A capsules

দুই কোটি ২০ লাখ শিশু পাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

দুই কোটি ২০ লাখ শিশু পাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের মাধ্যমে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।’

প্রতি বছরের মতো এ বছরও সারাদেশে শুরু হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।

বুধবার শুরু হওয়া এ ক্যাম্পেইন চলবে আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ১৭ জুন এ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

চার দিনে এই ক্যাম্পেইনে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখের বেশি শিশুকে একটি করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক রাজধানীর শিশু হাসপাতালে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের মাধ্যমে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী চার দিন প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তাই অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান, আপনারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াবেন।’

এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ।

ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬-১১ মাস বয়সী ২৪ লাখের বেশি শিশুকে একটি করে নীল ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ১ কোটি ৯৬ লাখ শিশুকে একটি লাল ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

দেশের সব ইপিআই কেন্দ্র এবং স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চারদিন পরিচালিত হবে এ ক্যাম্পেইন। নির্ধারিত ইপিআই শিডিউল অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ার্ডের (পুরনো) আটটি সাব-ব্লকে সপ্তাহের চার কর্মদিবসে নির্ধারিত ইপিআই কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবার কল্যাণ সহকারী ও স্বেচ্ছাসেবী কর্তৃক শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ও অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায়ও ইপিআই কেন্দ্রগুলোতে এ কার্যক্রম চলবে।

সারাদেশে মোট ২ কোটি ২০ লাখেরও বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এ ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে সবকিছুই করা হবে’
ঢাকা উত্তরে ৫ জুন ভিটামিন ‘এ’ প্লাস দেয়া শুরু

মন্তব্য

p
ad-close 20220623060837.jpg
উপরে