× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Insult to the Prophet Businesses closed in Sylhet in protest
hear-news
player
print-icon

মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি: সিলেটে বন্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

মহানবীকে-নিয়ে-কটূক্তি-সিলেটে-বন্ধ-ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান
ভারতে বিজেপি নেত্রীর কটূক্তির প্রতিবাদ জানাচ্ছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা। ছবি: নিউজবাংলা
কর্মসূচির ডাক দেয়া সংগঠনের কাউকেই সকালে এসব এলাকায় দেখা যায়নি। সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। ফলে রাস্তাঘাটও ফাঁকা। দোকানপাট বন্ধ থাকলেও খোলা রয়েছে অফিস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ভারতে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) ও হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (সা.)-কে ভারতে বিজেপি নেত্রীর কটূক্তির প্রতিবাদ জানাচ্ছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা।

বুধবার সকাল থেকেই বন্ধ রয়েছে নগরের প্রায় সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ছোট ছোট কিছু দোকান খুললেও বন্ধ রয়েছে নগরের সব বিপনি বিতান।

মহানবীকে কটূক্তির প্রতিবাদে ও কটূক্তিকারীদের শাস্তির দাবিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের এই কর্মসূচির ডাক দেয় সিলেট জেলা ও মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ। সংগঠনের পক্ষ থেকে সকাল ৬টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়।

কর্মসূচির সমর্থনে গত কয়েকদিন ধরেই নগরে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম চালিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার সকালে নগরের বন্ধরবাজার, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, নয়াসড়ক, রিকাবিবাজার, লামাবাজার ও কাজিটুলা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ছোট কিছু মুদি দোকান ছাড়া বেশিরভাগ দোকানই বন্ধ। এসব এলাকার সব বিপনি বিতানের ফটক তালাবদ্ধ। ফটকের সামনে কর্মসূচির সমর্থনে ব্যানার ঝুলানো রয়েছে।

তবে কর্মসূচির ডাক দেয়া সংগঠনের কাউকেই সকালে এসব এলাকায় দেখা যায়নি। সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। ফলে রাস্তাঘাটও ফাঁকা। দোকানপাট বন্ধ থাকলেও খোলা রয়েছে অফিস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

কর্মসূচির সমর্থনে দোকান বন্ধ রেখেছেন নগরের আল আমরা শপিং সেন্টারের ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ী সমিতি যে দাবিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ডাক দিয়েছে, তার সঙ্গে আমরা সকলেই একমত। তাই আমরা দোকানপাট বন্ধ রেখেছি।’

মহানবীকে নিয়ে বিজেপি নেত্রীর মন্তব্যে কষ্ট পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কটূক্তিকারীদের শাস্তি চাই।’

মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি: সিলেটে বন্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

ভারতে কটূক্তির প্রতিবাদে বাংলাদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা খুঁজে পান না নয়াসড়ক এলাকার এক ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘কটূক্তি করা হয়েছে ভারতে। কিন্তু আমরা কেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে নিজেদের ক্ষতি করব। এমন না যে আমরা দোকানপাট বন্ধ রাখলে ভারতের ক্ষতি হয়ে যাবে। এমন কর্মসূচিতে কেবল নিজেদেরই ক্ষতি হবে।’

সমিতির ডাকে ইচ্ছে না থাকলেও দোকান বন্ধ রেখেছেন রিকাবিবাজার এলাকার আরেক ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশ না করে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘দাবির সঙ্গে আমার দ্বিমত নেই, তবে কর্মসূচির ব্যাপারে আছে। তবু আমি দোকান খুলিনি, কেউ যদি ভেঙে ফেলে এই ভয়ে।’

তবে মহানবীর প্রতি ভালোবাসা থেকেই এমন কর্মসূচি দেয়া হয়েছে জানিয়ে সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি শেখ মো. মকন মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা কাউকে জোর করিনি, আহ্বান জানিয়েছি কেবল। এমনকি আজকে আমরা ঘর থেকেও বের হইনি। দোকান বন্ধ রেখে বাসায় আছি। নবীর প্রতি ভালোবাসা থেকে ব্যবসায়ীরা স্বতস্ফুর্তভাবে আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন।’

তবে মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন বলেন, ‘১১টার পর আমাদের কয়েকটি টিম নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখবে সব দোকানপাট বন্ধ আছে কি না।’

আরও বলেন, ‘আমরা কাউকে জোরজবরদস্তি করব না। তবে এটা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা মহানবীর কটূক্তিকারীদের শাস্তি চাই।’

সম্প্রতি ভারতের একটি টেলিভিশনের বিতর্ক অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করেন সে দেশের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী নূপুর শর্মা। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে- এমন অভিযোগে তার কটূক্তির প্রতিবাদে দেশে-বিদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় নূপুরকে ইতোমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিজেপি।

আরও পড়ুন:
মহানবীকে নিয়ে ‘কটূক্তি’, ২ যুবক গ্রেপ্তার
ধর্ম নিয়ে ‘কটূক্তি’, কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ
ধর্ম নিয়ে ‘কটূক্তি’, পুলিশি হেফাজতে কিশোর
শেখ হাসিনা-ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে ‘কটূক্তি’, গ্রেপ্তার ২
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি, ৭ বছর জেল বিএনপি নেতার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
6 cows die in trawler sinking in Dhaleshwari

ধলেশ্বরীতে ট্রলার ডুবে ৬ গরুর মৃত্যু

ধলেশ্বরীতে ট্রলার ডুবে ৬ গরুর মৃত্যু ঘিওরে ধলেশ্বরীতে বৃহস্পতিবার সকালে ট্রলার ডুবে ৬ গরুর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
ফায়ার সার্ভিস জানায়, দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চল থেকে কয়েকজন খামারি ও ব্যবসায়ী ২৭টি গরু বিক্রির জন্য সকালে রাজধানীর গাবতলীর কোরবানির পশুর হাটের উদ্দেশে রওনা দেন। ঘিওর বাজারের কাছে ধলেশ্বরীর পানির ঘূর্ণিতে গরুবোঝাই ট্রলারটি ডুবে যায়।

মানিকগঞ্জের ঘিওরে ধলেশ্বরী নদীতে গরুবোঝাই ট্রলারডুবি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নদী থেকে মৃত ৬টি গরু উদ্ধার করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘিওর বাজার এলাকায় পুরাতন ধলেশ্বরী নদীতে ২৭টি গরু নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে যায়।

৩ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে বেলা দেড়টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ২১টি জীবিত ও ৬টি মৃত গরু উদ্ধার করেন।

ঘিওর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রেজাউল ইসলাম নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানান।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চল থেকে কয়েকজন খামারি ও ব্যবসায়ী ২৭টি গরু বিক্রির জন্য সকালে রাজধানীর গাবতলীর কোরবানির পশুর হাটের উদ্দেশে রওনা দেন। ঘিওর বাজারের কাছে ধলেশ্বরীর পানির ঘূর্ণিতে গরুবোঝাই ট্রলারটি ডুবে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান।

ব্যবসায়ীদের বরাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জানান, রেজাউল উদ্ধার করা মৃত ছয়টি গরুর দাম প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ছিল।

আরও পড়ুন:
ট্রলার ডুবে ২ গরুর মৃত্যু, নিখোঁজ ৮টি
ধলেশ্বরীতে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারডুবি
পদ্মায় ট্রলার উল্টে নিখোঁজ ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার
পদ্মায় ট্রলার উল্টে ছাত্রলীগ নেতা নিখোঁজ
জোয়ারে ডুবল ট্রলার, ১৫ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ দুজন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Comfort in 96 km of Comilla

কুমিল্লার ৯৬ কিলোমিটারে স্বস্তি

কুমিল্লার ৯৬ কিলোমিটারে স্বস্তি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় যানজট নেই। ছবিটি বৃহস্পতিবার বিকেলে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা
ঢাকা থেকে কুমিল্লায় ফিরে শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘মাত্র দুই ঘণ্টায় ঢাকা থেকে আসলাম। পত্রিকার পাতা উল্টাতে উল্টাতে দেখি কুমিল্লা এসে গেছি। কোথাও যানজট নেই। পরিবার নিয়ে নির্ঝঞ্ঝাটভাবে আসতে পেরে ভালো লাগছে।’

দুদিন পরই ঈদুল আজহা। রাজধানী ছেড়ে বাড়ি ছুটছেন কর্মজীবীরা। সড়ক, মহাসড়কসহ নৌপথে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোথাও এখন পর্যন্ত যানজট লাগেনি। এই মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ৯৬ কিলোমিটার বেয়ে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন মানুষ।

ঢাকা থেকে কুমিল্লায় ফিরে শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘মাত্র দুই ঘণ্টায় ঢাকা থেকে আসলাম। পত্রিকার পাতা উল্টাতে উল্টাতে দেখি কুমিল্লা এসে গেছি। কোথাও যানজট নেই। পরিবার নিয়ে নির্ঝঞ্ঝাটভাবে আসতে পেরে ভালো লাগছে।’

ঢাকা থেকে কুমিল্লার ওপর দিয়ে ফেনী, চট্টগ্রাম ,খাগড়াছড়ি কক্সবাজারের হাজারো মানুষের যাতায়াত। এসব জেলার যাত্রীরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশটি যানজটমুক্ত থাকলে স্বস্তিতে থাকেন যাত্রীরা।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী যাত্রী জামাল উদ্দিন বলেন, ‘পথে ট্রাফিক পুলিশ ও কিছু কমিউনিটি পুলিশের তদারকি নজরে পড়েছে। এই ব্যবস্থা সারা বছর করা গেলে মানুষ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবেন।’

হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, ‘এবার হাইওয়ে পুলিশে জনবল সংকট নেই। সড়কে চাঁদাবাজি রোধে মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানে আমাদের সদস্যরা জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব।

‘ঈদযাত্রা স্বস্তির করতে হাইওয়ে পুলিশ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, সড়কে দুর্ঘটনার খবর পেলে সর্বোচ্চ ১০মিনিটের মধ্যে যেন ঘটনাস্থলে যাওয়া যায় সে জন্য গঠন করা হয়েছে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম। এই টিমে আছে ৫টি রেকার। হাইওয়ে পুলিশের দুটি অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি বাড়তি ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ৩৪টি মোবাইল টিম মাঠে থাকবে।’

সড়ক ও জনপদ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে আমাদের ৪০ জন সদস্য সার্বক্ষণিক থাকবে। মহাসড়কের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে সংস্কার করে দেয়া হবে। ৭ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত অবিরাম এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এবার যানজটের কোনো শঙ্কা নেই।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় গাড়িচাপায় নিহত ২
শেষ মুহূর্তে ফাঁকা মহাসড়কগুলো
সাভার ও গাজীপুর মহাসড়কে এবারও ‘বাড়তি ভাড়া’
মহাসড়কে পোশাক শ্রমিকের ঢল
মহাসড়কে গাড়ির চাপ, বেশি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Fire in Sitakunda All companies demand clearance and license

সীতাকুণ্ডে আগুন: সব সংস্থার ছাড়পত্র ও লাইসেন্স থাকার দাবি

সীতাকুণ্ডে আগুন: সব সংস্থার ছাড়পত্র ও লাইসেন্স থাকার দাবি
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বুধবার প্রতিবেদন জমা দেয় বিভাগীয় প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। সেদিন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ও তদন্ত কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা ডিপো কর্তৃপক্ষসহ সব সরকারি তদারকি সংস্থার দায় পেয়েছি। আগুন লাগার কারণও আমরা আইডেন্টিফাই করেছি। ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা ২০টি সুপারিশ করেছি।’

বিএম কনটেইনার ডিপোর জন্য প্রয়োজনীয় ২৫টি সংস্থারই হালনাগাদ লাইসেন্স ও ছাড়পত্র আছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিস্ফোরণের ঘটনায় মালিকপক্ষসহ তদারকি সংস্থাকে দায়ী করে প্রতিবেদন জমা পড়ার এক দিন পর এই দাবি করা হলো।

নগরীর লালখান বাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বৃহস্পতিবার বিকেলে এই দাবি করেন দেশে ডিপোর মালিকায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী।

সীতাকুণ্ডে ওই ডিপোতে গত ৪ জুন রাতে আগুন লাগে। কনটেইনারে থাকা রাসায়নিক পদার্থের কারণে দফায় দফায় বিস্ফোরণে বাড়ে আগুনের ভয়াবহতা।

৮৭ ঘণ্টা পর ডিপোর আগুন নেভে। আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনার প্রথম দুই দিনে ৪১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চারজন। বুধবার পর্যন্ত দেহাবশেষ পাওয়া গেছে ছয়জনের। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নিহত ৫১ জন।

এ ঘটনায় গঠিত বিভাগীয় প্রশাসনের তদন্ত কমিটি বুধবার প্রতিবেদন জমা দেয়। সেদিন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ও তদন্ত কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা ডিপো কর্তৃপক্ষসহ সব সরকারি তদারকি সংস্থার দায় পেয়েছি। আগুন লাগার কারণও আমরা আইডেন্টিফাই করেছি। ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা ২০টি সুপারিশ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আইএমডিজি কোডের সঙ্গে মিলিয়ে বিপজ্জনক কার্গোব্যাগ মেইনটেইন চুক্তিটি সংশোধনের সুপারিশ করেছি, বন্দরের নেতৃত্বে যে মনিটরিং কমিটি আছে, সেটাকে আরও সক্রিয় করার কথা বলেছি, অফডক প্রতিষ্ঠার জন্য যে ২৫টি দপ্তরের সনদ লাগে, সেগুলো এক জায়গায় আনার সুপারিশ করেছি।’

আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা লজিক্যাল সিকোয়েন্স অনুযায়ী ব্যাখ্যা করে আমাদের মতামত দিয়েছি। এটা এভাবে বললে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। তবে বিস্ফোরণের পেছনে মালিক, সরকারি তদারকি সংস্থা ও শিপিং লাইনের দায় পেয়েছি আমরা।’

তবে স্মার্ট গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মেজর (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘২০১০ সালে দেশি-বিদেশি প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে বিএম ডিপো প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২৫টি সংস্থারই লাইসেন্স ও ছাড়পত্র নিয়ে কমপ্লায়েন্স মেনে ডিপোর অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। সব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও ছাড়পত্র হালনাগাদ রয়েছে। সব ধরনের লাইসেন্স ও ছাড়পত্রের কপি সরকারি সব তদন্ত কমিটিকে দেয়া হয়েছে।’

অগ্নিকাণ্ডে হাজার কোটি টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘শতাধিক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বিএম ডিপোর কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছে। ইতোমধ্যে ডিপোতে অক্ষত থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাসের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিহত ২৬ জন ও আহত ৪৩ জনের পরিবারকে ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মে ও জুন মাসের বেতন ও কোরবানির বোনাস দেয়া হয়েছে। নিহত-আহতদের বাড়িতে, বাসায় বেতন-ভাতা ও বোনাসের টাকা পৌঁছে দেয়া হয়েছে।’

ওই সময় বিএম ডিপোর মহাব্যবস্থাপক মাইনুল আহসান, পরিচালক শফিকুর রহমান, ইয়াসিন মজুমদারসহ উপস্থিত ছিলেন আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
সীতাকুণ্ডে আগুন: ৩ সপ্তাহেও জমা পড়েনি প্রতিবেদন
সীতাকুণ্ডের আগুন: গাড়ির মালিকদের সাড়ে ৪ কোটি টাকা ক্ষতি
সীতাকুণ্ডে দগ্ধ ৬ জনকে শেখ হাসিনা বার্ন থেকে ছাড়পত্র
সীতাকুণ্ডে আগুনে দগ্ধ ১০ জনকে আর্থিক অনুদান
বিএম ডিপো ও ট্রেনে আগুনে নাশকতাযোগ: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Organized rape of a schoolgirl Confession of one accused

স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: এক আসামির স্বীকারোক্তি

স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: এক আসামির স্বীকারোক্তি
তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) আবু বকর সিদ্দিক এজাহারের বরাতে জানান, ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে আগে থেকে পরিচয় ছিল নাঈমের। গত ২৯ জুন নাঈম তাকে সিদ্ধিরগঞ্জে রোহানদের বাড়ির ছাদে ডেকে নেয়। সেখানে আসামিরা তাকে ধর্ষণ করে। 

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এরপর চারজনকেই কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক।

জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কাউসার আলমের আদালতে বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামিদের তোলা হয়। এর আগে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নূর নাহার ইয়াসিনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি মো. নাঈম।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বৃহস্পতিবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তাতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আসামিদের নেয়া হয় আদালতে।

আসামিরা হলো সিদ্ধিরগঞ্জের মোহাম্মদ নাঈম, মো. যুবরাজ, মো. দিপু ও মো. পিয়াস। তবে মামলার আরেক আসামি মোহাম্মদ রোহান পলাতক।

তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) আবু বকর সিদ্দিক এজাহারের বরাতে জানান, ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে আগে থেকে পরিচয় ছিল নাঈমের। গত ২৯ জুন নাঈম তাকে সিদ্ধিরগঞ্জে রোহানদের বাড়ির ছাদে ডেকে নেয়। সেখানে আসামিরা তাকে ধর্ষণ করে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার পর বেশ কিছুদিন ভয়ে মেয়েটি পরিবারকে তা জানায়নি। অসুস্থ বোধ করলে গত বুধবার রাতে সে তার মা-বাবাকে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়। এরপরই মামলার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।

আরও পড়ুন:
স্কুলছাত্রীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ৪

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Passenger and car pressure in Paturia just before Eid

ঈদের আগ মুহূর্তে পাটুরিয়ায় যাত্রী ও গাড়ির চাপ

ঈদের আগ মুহূর্তে পাটুরিয়ায় যাত্রী ও গাড়ির চাপ পাটুরিয়া ফেরিঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ জানান, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর দৌলতদিয়ায় যাত্রী ও যানবাহন কমে গেলেও এখন বেড়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক মানুষ ঈদে পাটুরিয়া দিয়ে যাতায়াত করছেন।

পদ্মা সেতু চালুর পর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রী ও যানবাহন কমলেও ঈদের আগ মুহূর্তে বেড়েছে। ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে এই নৌপথে নেমেছেন অনেকে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঈদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ২১ এবং আরিচা-কাজিরহাটে চারটি ফেরি চলাচল করছে।

সরেজমিন দেখা যায়, গত কয়েক দিনের তুলনায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে ফেরি ও লঞ্চঘাটে।

মোংলাগামী বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘চাকরির জন্য মিরপুর ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। গাবতলী থেকে বাসে পাটুরিয়া হয়ে মোংলা যাতায়াত করি। গাবতলী থেকে সায়েদাবাদ হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে মোংলা যেতে বেশি সময় লাগে।’

সাতক্ষীরা যাবেন আবু হেনা। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ঢাকার উত্তর সিটিতে চাকরি এবং বসবাস করি। আমাদের জন্য পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া যাতায়াতের জন্য সুবিধা, বিশেষ করে বড় উৎসবে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য। রাস্তায় ভোগান্তি কম হয়, খুব একটা যানজটে পড়তে হয় না।’

মাগুরা, ঝিনাইদহ ও যশোরের রাসেল শেখ, পলাশ মিয়া ও হাবিবুল্লাহ জানান, ‘আমরা পাটুরিয়া দিয়ে যাচ্ছি। মাওয়া দিয়ে আমাদের উল্টা হয়। গাবতলী বা শ্যামলী থেকে সায়েদাবাদ যেতে গাড়িতে ভোগান্তি। সময় নষ্ট আর প্রচুর কষ্ট করতে হয়। পাটুরিয়া দিয়ে গেলে এত কষ্ট করতে হয় না। শুধু ফেরিঘাটে একটু সময় লাগে। এ কারণে উত্তর ঢাকার অধিকাংশ লোক এখনও পাটুরিয়া হয়ে গ্রামের বাড়িতে যায়।’

কমফোর্ট লাইন পরিবহনের চালক বিল্লাল মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চাইলেই বাস নিয়ে পদ্মা সেতু পার হওয়া যায় না। ওই রুটের পারমিট লাগে। যারা রুট পারমিট পাইছে, তারা পদ্মা সেতু দিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা যারা রুট পারমিট পাই নাই, তারা এই রুটে চলাচল করছি।’

পাটুরিয়া লঞ্চ মালিক সমিতির সুপারভাইজার পান্না লাল নন্দি বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালুর পর তো যাত্রী একেবারে কমে গিয়েছিল। ঈদের আগে দেখে যাত্রী কিছুটা বেড়েছে। আগের মতো না হলেও ৬০ ভাগ যাত্রী এখন লঞ্চে পার হচ্ছে। কয়েক দিন আগে আধা ঘণ্টা পর লঞ্চ ছাড়া হলেও এখন ১০ মিনিট পরপর ছাড়া হচ্ছে। ৩৩টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পারাপার হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ জানান, পদ্মার সেতুর উদ্বোধনের পর দৌলতদিয়ায় যাত্রী ও যানবাহন কমে গেলেও এখন বেড়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক মানুষ ঈদে পাটুরিয়া দিয়ে যাতায়াত করছেন।

আরও পড়ুন:
‘গাড়ি দুইডা নদীতে, ভিক্ষা ছাড়া উপায় নাই’
আমানত শাহকে উদ্ধারে রুস্তম
ফেরিটির ‘ফিটনেস ছিল না’
ফেরিতে ভারসাম্য রাখার ব্যালাস্ট ট্যাংক কী
পাটুরিয়ায় আংশিক ডুবে যাওয়া ফেরি: তদন্ত কমিটি গঠন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The twin cows are a gift to the family of twin children

প্রতিমন্ত্রী পলকের ঈদ উপহারে হাসি ফুটেছে লাভলী-লিটনের মুখে

প্রতিমন্ত্রী পলকের ঈদ উপহারে হাসি ফুটেছে লাভলী-লিটনের মুখে উপহারের দুধেল গাভীটি পেয়ে শিশুদের মুখে দুধ তুলে দেয়ায় দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে দরিদ্র লিটন-লাভলী দম্পতির।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘গণমাধ্যম যে প্রকৃতই সমাজের দর্পণ, তা আমরা আরেকবার প্রমাণ পেলাম নিউজবাংলার মাধ্যমে... সংবাদটি নিউজবাংলার মাধ্যমে জানতে পেরে তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে প্রাথমিকভাবে বাচ্চাদের দুধ কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা করি। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করার উদেশ্যে একটি গাভী কিনে দেই।’

নিউজবাংলার প্রতিবেদন দেখে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুরে এক সঙ্গে জন্ম নেয়া তিন শিশুর পরিবারকে গাভী উপহার দিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

একই সঙ্গে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের জন্য নিউজবাংলার প্রশংসাও করেছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর উপহার পেয়ে তিন সন্তানের মা লাভলী বেগম ও বাবা লিটন উদ্দিনের মুখে ফুটেছে হাসি।

গত বছরের ২৪ নভেম্বর এক সঙ্গে চার মেয়ের জন্ম দেন লাভলী। জন্মের পরই এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। অন্য তিন মেয়ে লাবন্য, লাবিবা ও লামিশাকে নিয়ে শুরু হয় এই দম্পতির নতুন জীবনযুদ্ধ। কারণ তাদের ঘরে আগেই এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। এখন পাঁচ সন্তান নিয়ে কীভাবে সংসার চলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন দিনমজুর লিটন।

পরিবারটির মানবেতর জীবনযাপন নিয়ে গত ২২ মার্চ নিউজবাংলায় একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রচার হয়। সেটি নজরে আসলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

শিশুদের দুধ কেনার জন্য গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উপহার হিসেবে নিউজবাংলার প্রতিনিধির মাধ্যমে লাভলী-লিটন দম্পতিকে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন প্রতিমন্ত্রী।

এরপর পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ হিসেবে তিনি জেলা প্রশাসনের তত্বাবধায়নে গত মঙ্গলবার একটি দুধেল গাভী কিনে দেন।



লাখ টাকার গাভী উপহার পেয়ে বিস্ময় যেন কাটছে না লিটন উদ্দিনের। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পলক ভাই এই গাভী দেয়াতে আমাদের খুবই আনন্দ হচ্ছে। ৪০০ টাকা দিন হাজিরায় কাজ করে আমি বাচ্চাদের মুখে দুধ তুলে দিতে পারতাম না। তাতে আমার খুবই কষ্ট হত। ঈদের আগে এত বড় একটা উপহার পাব, তা ভাবিনি। কখনও ১ লাখ টাকা দিয়ে গাভী কিনতে পারব, তা স্বপ্নেও কল্পনা করিনি।

‘আমাদের পরিবারের সবাই আনন্দিত। এখন আর বাচ্চাদের দুধের কষ্ট থাকল না। দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন পলক ভাইকে নেক হায়াত দেন।’

মা লাভলী বেগম বলেন, ‘নিউজবাংলার খবর দেখে এর আগেও পলক ভাই ১০ হাজার টাকা দিয়েছিল। সেই টাকা দিয়ে বাচ্চাদের দুধ কিনেছিলাম। আবার ঈদের উপহার হিসাবে একটা গাভী কিনে দিয়েছে। এখন আর বাচ্চাদের দুধের চিন্তা নাই। গাভী থেকে ছয় লিটার করে দুধ হচ্ছে। এখন আমরা সন্তানসহ খুব ভাল আছি।’

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘গণমাধ্যম যে প্রকৃতই সমাজের দর্পণ, তা আমরা আরেকবার প্রমাণ পেলাম নিউজবাংলার মাধ্যমে। আমাদের নাটোরের একটি অস্বচ্ছল পরিবার, যাদের ঘরে চারটি সন্তান একসঙ্গে জন্মগ্রহণ করে।

‘সংবাদটি নিউজবাংলার মাধ্যমে জানতে পেরে তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে প্রাথমিকভাবে বাচ্চাদের দুধ কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা করি। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করার উদেশ্যে একটি গাভী কিনে দেই। এই ধরণের ছোট ছোট মানবিক কাজ আমাদের জেলাকে, আমাদের পুরো দেশটাকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একটি স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তুলতে অনেক বেশি সহায়তা করবে।’

আরও পড়ুন:
এবার পদ্মা-সেতুর জন্ম কুমিল্লায়
উপহারের আম এবার ত্রিপুরায়
স্বপ্ন, পদ্মা, সেতুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার
একসঙ্গে জন্মালো ৩ শিশু, নাম রাখা হলো স্বপ্ন-পদ্মা-সেতু
‘সাড়ে ৬ লাখ ফ্রি-ল্যান্সার বছরে ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয় করছে’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Obstacles to crossing the ferry launch by boat with bikes

ফেরি-লঞ্চে পারাপারে বাধা, বাইক নিয়ে নৌকায়

ফেরি-লঞ্চে পারাপারে বাধা, বাইক নিয়ে নৌকায় নৌকায় করে ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার করছেন চালকরা। ছবি: নিউজবাংলা
মোটরসাইকেলচালক ইমরান হোসেন বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল ঈদে মোটরসাইকেলে করে পদ্মা সেতু পাড়ি দেব। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে সেটি পূরণ হলো না। এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নৌকায় করে পাড়ি দিতে হচ্ছে উত্তাল পদ্মা।’

পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞাসহ ঈদের আগে-পরে নৌপথে ফেরি বা লঞ্চে করে পারাপার নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় বিপাকে পড়েছেন ঘরমুখী বাইকচালকেরা।

সেতু পারাপারের সুযোগ পেতে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষার পর নিরাপত্তাকর্মী, সেতু কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের তোপের মুখে অনেক বাইকার বাড়ি ফিরে গেছেন। কেউ কেউ আবার ট্রলারে করে ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন।

এর আগে ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরের দিনই সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ। সেতু দিয়ে ঈদের আগে আর বাইক চলাচলের সুযোগ দেয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে মাওয়া পর্যন্ত গিয়ে ফেরি দিয়ে পদ্মা নদী পার হয়ে আবার বাইকে চড়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন বাইকাররা। কিন্তু গত ৬ জুলাই নৌপথে দুই চাকার যানটি বহন নিষিদ্ধ করা হয়।

বলা হয় আগামী ১০ দিন এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। অর্থাৎ ঈদের পর আরও পাঁচ দিন লঞ্চে বা ফেরিতে করে বাইক পরিবহন করা যাবে না।

এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে ৭ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত আন্তজেলায় মোটরসাইকেল চালাতে হবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া যাবে না। এসব সিদ্ধান্ত বাইকচালকদের অসন্তুষ্ট ও হতাশ করে।

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন মোটরসাইকেলচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেতুতে মোটরসাইকেলের জন্য ১০০ টাকা করে টোল নির্ধারিত থাকলেও নৌকায় করে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা করে নদী পাড়ি দিতে হচ্ছে।

মোটরসাইকেলচালক ইমরান হোসেন যাবেন মাদারীপুরের কালকিনিতে। তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল ঈদে মোটরসাইকেলে করে পদ্মা সেতু পাড়ি দেব। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে সেটি পূরণ হলো না। এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নৌকায় করে পাড়ি দিতে হচ্ছে উত্তাল পদ্মা।

‘অন্যের দায় আমাদের ওপর চাপানো হচ্ছে। আরও অনেক গাড়িই তো অ্যাক্সিডেন্ট করেছে, সেগুলো কি বন্ধ করা হয়েছে।’

মোটরসাইকেলচালক মো. ইমরানের বাড়ি মাদারীপুর। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় তিনি অনেক খুশি। কিন্তু মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞায় কিছুটা আফসোসও হচ্ছে তার।

তিনি বলেন, ‘বাইক নিয়ে পদ্মা সেতু হয়ে বাড়ি যেতে পারছি না, তাই খারাপ লাগছে। এতে সড়কে বিভিন্ন জায়গায় ভোগান্তিতে পড়তে হলো। এখন ট্রলারে করে বাইক নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ওপারে যাব।’

ইলা হাওলাদার বলেন, ‘আমি ও আমার হাজব্যান্ড ঈদের ছুটিতে যাব পদ্মার ওপারে। কিন্তু সেতুতে মোটরসাইকেল চলবে না, ফেরিতে চলবে না। আমাদের ওপারে যেতেই হবে, তাই বিকল্প ব্যবস্থা না পেয়ে ট্রলারে করে নদী পাড়ি দিচ্ছি।’

এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি রাজি হননি।

আরও পড়ুন:
গাবতলী থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলমুখী যাত্রা সহজ, কঠিন উত্তরে
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, যুবক নিহত
ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দীর্ঘ জট
‘এবার ট্রেনের ভেতরে ভিড় কম’
ঈদযাত্রায় নিহত দুই পোশাকশ্রমিক

মন্তব্য

p
উপরে