× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
The census starts at midnight
hear-news
player
print-icon

জনগণনা শুরু মধ্যরাতে

জনগণনা-শুরু-মধ্যরাতে
২০২১ সালের মধ্যেই শুমারি শুরুর আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। এ জন্য প্রথমে গত বছরের ২ থেকে ৮ জানুয়ারি জনশুমারি করার কথা ছিল, যা করোনার কারণে পিছিয়ে যায়। পরে ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর করার সিদ্ধান্ত হয়। ট্যাব জটিলতায় তা শুরু করা যায়নি। পরে ২৪ থেকে ৩০ ডিসেম্বর শুমারি সপ্তাহ ধরে জনগণনা করার কথা ছিল, কিন্তু তাও সম্ভব হয়নি।

করোনা মহামারিসহ নানা কারণে কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২, চলবে ২১ জুন মঙ্গলবার পর্যন্ত।

অর্থাৎ ১৪ জুন দিবাগত রাত ১২টা (শূন্য মুহূর্ত ১৫ জুন) ‘শুমারি রেফারেন্স পয়েন্ট/সময়’ হিসেবে এবং ১৫ থেকে ২১ জুন ‘শুমারি সপ্তাহ’ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে; চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। এটি দেশের ষষ্ঠ জনশুমারি।

দেশের মোট জনসংখ্যা এখন কত, তা জানতেই মূলত মঙ্গলবার রাতে রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল, কারওয়ান বাজার, বাসস্ট্যান্ডসহ সারা দেশে এ ধরনের স্থানগুলোতে ভাসমান মানুষকে গণনাসহ তাদের সম্পর্কে মৌলিক জনমিতিক, আর্থ-সামাজিক ও বাসগৃহসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের মধ্য দিয়ে শুরু হবে জনশুমারি।

প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনশুমারি ও গৃহগণনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ গণনার সময় মানুষের কাছ থেকে কাগজে-কলমে কোনো তথ্য সংগ্রহ করা হবে না। জনশুমারিতে নিয়োজিত কর্মীরা ট্যাবের মাধ্যমে সব তথ্য সংগ্রহ করবেন। গণনার সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

আগের পাঁচটি আদমশুমারির তথ্য খাতা-কলমে সংগ্রহ করা হয়েছিল।

এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। এ সময় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলমসহ বিবিএসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের তথ্যের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএস। আর বিবিএসের সবচেয়ে বড় কার্যক্রম জনশুমারি; কিন্তু এবারের ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১’ শীর্ষক প্রকল্পটি বার বার হোঁচট খেয়েছে।

বেশি দামে ট্যাব (ট্যাবলেট কম্পিউটার) কেনা, দরপত্রে কঠিন শর্ত আরোপসহ বেশ কিছু বিষয় সমালোচিত হওয়ায় এবং করোনা মহামারির কারণে প্রকল্পটির কাজ শুরু বারবার পিছিয়েছে। জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের জন্য ট্যাব কেনার প্রস্তাব দুইবার বাতিল করে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা।

২০২১ সালের মধ্যেই শুমারি শুরুর আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। এ জন্য প্রথমে গত বছরের ২ থেকে ৮ জানুয়ারি জনশুমারি করার কথা ছিল, যা করোনার কারণে পিছিয়ে যায়। পরে ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর করার সিদ্ধান্ত হয়। ট্যাব জটিলতায় তা শুরু করা যায়নি। পরে ২৪ থেকে ৩০ ডিসেম্বর শুমারি সপ্তাহ ধরে জনগণনা করার কথা ছিল, কিন্তু তাও সম্ভব হয়নি।

শেষ পর্যন্ত ১৫ থেকে ২১ জুন ‘শুমারি সপ্তাহ’ হচ্ছে।

আগে জনশুমারির নাম ছিল আদমশুমারি। ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী ‘আদমশুমারি ও গৃহগণনা’র নাম পরিবর্তন করে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তাজুল ইসলাম জনশুমারি ও গৃহগণনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ‘দেশের প্রতিটি খানা ও খানার সদস্যকে গণনা করে দেশের মোট জনসংখ্যার হিসাব করা হবে। কেউ যাতে এ গণনা থেকে বাদ না যায় এবং একজন যাতে দুবার গণনার মধ্যে না আসে-সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।‘

জাতীয় স্বার্থে এই গণনা কাজে সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘নিজে গণনায় অংশ নিন। অন্যকে উৎসাহিত করুন।’

গণনা শেষে তিন মাসের মধ্যে জনশুমারি ও গৃহগণনার প্রাথমিক ফল প্রকাশ করা হবে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হবে তার পরে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, ‘জনশুমারি একটি দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবারই প্রথম আমরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা করছি। এ কাজে জনসচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কেউ যাতে এই গণনা থেকে বাদ না যায়, সে জন্য গণনাকর্মীকে যেমন নিখুঁতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে; তেমনি দেশের প্রতিটি মানুষকেও সচেতন থাকতে হবে, যেন তিনি বাদ না পড়ে যান।’

তিনি বলেন, ‘দেশের সকল মানুষ ও অঞ্চল ভিত্তিক সুষম উন্নয়নের জন্য সঠিক তথ্যের প্রয়োজন। এই শুমারির মাধ্যমে দেশে কোন অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও মানব উন্নয়নের কী অবস্থা তা বের হয়ে আসবে। পরবর্তীতে সরকার সেই রুপ রেখা ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জনশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। এরপর ১৯৮১ সালে দ্বিতীয়, ১৯৯১ সালে তৃতীয়, ২০০১ সালে চতুর্থ ও ২০১১ সালে পঞ্চম জনশুমারি হয়। পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ অনুযায়ী 'আদমশুমারি'কে 'জনশুমারি' হিসেবে অভিহিত করা হয়। জনশুমারি ও গৃহগণনা বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পরিচালিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাপকভিত্তিক পরিসংখ্যানিক কার্যক্রম।

স্বাধীন বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে প্রথম আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে, তখন দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ১৫ লাখ। দ্বিতীয় আদমশুমারি ও গৃহগণনা হয় ১৯৮১ সালে; তখন জনসংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৯৯ লাখ।

১০ বছর পরপর দেশে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা যথাক্রমে ১৯৯১, ২০০১, ও ২০১১ সালে হয়। ওই তিন গণনায় দেশের মোট জনসংখ্যা পাওয়া যায় যথাক্রমে ১১ কোটি ১৫ লাখ, ১৩ কোটি ৫ লাখ এবং ১৪ কোটি ৯৮ লাখ।

শুমারিগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রতি দশ বছরে গড়ে প্রায় ২ কোটি করে পেয়েছে।

পৌনে ৪ লাখ গণনাকারী

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সারাদেশে একযোগে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯৭ জন গণনাকারী ট্যাবের সাহায্যে সাতদিন ধরে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এই শুমারি পরিচালনা করবেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

জনশুমারির প্রকল্প পরিচালক দিলদার হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত শুন্য সময় থেকে দেশের প্রায় ২০ হাজার স্পট থেকে ভাসমান ও ছিন্নমুল মানুষ গণনার মাধ্যমে শুরু হচ্ছে ষষ্ঠ জনশুমারি। বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ভাসমান মানুষ গণনা করা হবে। এরপর সকাল ৮টা থেকে শুমারির মুল কাজ শুরু হয়ে ২১ জুন এই শুমারি শেষ হবে।’

দেশব্যাপী প্রায় ৪ লাখ ট্যাব ব্যবহার করে দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।

‘এবারের শুমারিতে ৬৩ হাজার ৫৪৮জন সুপারভাইজার, ৩ হাজার ৭৭৯ জন আইটি সুপারভাইজার, ৩ হাজার ৭৭৯ জন জোনাল অফিসার, ১৬৩ জন জেলা শুমারি সমন্বয়কারী এবং ১২জন বিভাগীয় শুমারি সমন্বকারীর মাধ্যমে এই ডিজিটাল শুমারি সম্পন্ন করা হবে।’

দিলদার বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল এই শুমারির ট্যাবগুলোতে ইন্টারনেট সেবা দেবে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি। একজন গণনাকারী প্রতিটি খানার তথ্য নিয়ে তার ট্যাবে থাকা প্রশ্নপত্র পূরণের মাধ্যম তথ্য সংগ্রহ করবেন। একটি প্রশ্নপত্র পূরণ হওয়ার সাথে সাথে তা সয়ংক্রিয়ভাবে রবি‘র মাধ্যমে আই ক্লাউড হয়ে বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানির ডাটা সেন্টারে জমা হবে। সেখান থেকে পরিসংখ্যান ব্যুরোর ডাটা সেন্টারে জমা হবে।’

‘এবারের শুমারিতে একজন মানুষের কাছ থেকে মোট ৩৫টি তথ্য নেওয়া হচ্ছে। কোনও পরিবারের সদস্য বিদেশে থাকলে তাকে গণনায় অনর্ভূক্ত করা হবে। আবার যদি কোনও বিদেশি বাংলাদেশে অবস্থান করেন তাকেও গণনাই নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, এবারের শুমারিতে দেশের প্রতিটি খানা ও খানার সদস্যদের গণনা করে মোট জনসংখ্যা ও দেশের সকল বসতঘর বা বাসগৃহের সংখ্যা নিরূপণ করা হবে।’

দেশের সব নাগরিককে প্রয়োজনীয় সব তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব তথ্য গোপন রাখা হবে।’

আরও পড়ুন:
মাথা গুনে জনশুমারি এটাই শেষ: পরিকল্পনামন্ত্রী
জনশুমারি: তৃতীয় দফায়ও ট্যাব কেনার প্রস্তাব ফেরত
ট্যাবে আটকে জনশুমারি
জনশুমারির জন্য ৪ লাখ ট্যাব
পেছাচ্ছে জনসংখ্যা হালনাগাদের কাজ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The two ambassadors presented their credentials to the President

রাষ্ট্রপতিকে পরিচয়পত্র দিলেন দুই রাষ্ট্রদূত

রাষ্ট্রপতিকে পরিচয়পত্র দিলেন দুই রাষ্ট্রদূত অস্ট্রিয়ার নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কাথারিনা ভাইসার বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতিকে পরিচয়পত্র দেন। ছবি: বঙ্গভবন
ঢাকায় অস্ট্রিয়া ও লিবিয়ার নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত পরিচয়পত্র দেয়ার সময় রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, দায়িত্ব পালনকালে তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের প্রতিটি ক্ষেত্র কাজে লাগাতে আন্তরিক চেষ্টা করবেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের হাতে পরিচয়পত্র তুলে দিয়েছেন ঢাকায় অস্ট্রিয়ার নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কাথারিনা ভাইসার এবং লিবিয়ার নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আবদুল মুতালেব সুলিমান মোহাম্মেদ সুলিমান।

দুই রাষ্ট্রদূত বুধবার বিকেলে বঙ্গভবনে পৌঁছলে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল তাদেরকে গার্ড অফ অনার দেয়।

প্রথমে পরিচয়পত্র পেশ করেন অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রদূত। তাকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রিয়া অন্যতম।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এ বছর দুই দেশ কুটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। দুই দেশের বিরাজমান সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশাপ্রকাশ করে বলেন, আগামীতে এ সম্পর্ক বাণিজ্য-বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও সম্প্রসারিত হবে।

এ লক্ষ্যে দু’দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ ও সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। স্বল্পোন্নত দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পরও অস্ট্রিয়ার বাণিজ্য সহযোগিতা ও সার্বিক সমর্থন প্রত্যাশা করেন আবদুল হামিদ।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহযোগিতায় অস্ট্রিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনে ভবিষ্যতেও তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং এ ব্যাপারে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন দিয়ে সহযোগিতার জন্য অস্ট্রিয়া সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপ্রধান।

রাষ্ট্রপতিকে পরিচয়পত্র দিলেন দুই রাষ্ট্রদূত
লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদুল মুতালেব সুলিমান মোহাম্মেদ সুলিমান বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতিকে পরিচয়পত্র দেন। ছবি: বঙ্গভবন

এরপর পরিচয়পত্র পেশ করেন লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত। নতুন দূতকে স্বাগত জানিয়ে মো. আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে বহুমাত্রিক ও চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, এ সম্পর্ককে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাই সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাট ও চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক সামগ্রীসহ বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন করে থাকে। লিবিয়া এসব পণ্য আমদানির মাধ্যমে লাভবান হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, লিবিয়ার সংকটময় সময়েও সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে কৃষি, তথ্য-প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সেক্টরে দক্ষ কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে লিবিয়া জনশক্তির চাহিদা পূরণ করতে পারে বলেও মনে করেন রাষ্ট্রপ্রধান। লিবিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন দূতের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির আশা, দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের নতুন দূত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের প্রতিটি ক্ষেত্রকে কাজে লাগাতে আন্তরিক চেষ্টা করবেন।

নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতেরা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে নিজ নিজ দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক জোরদারে সার্বিক প্রয়াস অব্যাহত রাখবেন।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তারা।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
এগিয়ে যাবে দেশের ফুটবল, আশা রাষ্ট্রপতির
জনশুমারিতে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ
ব্রাজিলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা উজ্জ্বল: রাষ্ট্রপতি
বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম সময়োপযোগী করতে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ
যুদ্ধ-বিগ্রহ রোধে বুদ্ধের দর্শন ভূমিকা রাখতে পারে: রাষ্ট্রপতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
No increase in oil and gas prices PM

তেল, গ্যাসের দাম বাড়াব না: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

তেল, গ্যাসের দাম বাড়াব না: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছবি: সংগৃহীত
‘আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসে সরকারের যে ঘাটতি হবে তা আমরা মূল্য বাড়িয়ে ভোক্তা পর্যায়ে চাপিয়ে দেব না। যার কারণে ভর্তুকি ব্যয় বাড়বে। ভর্তুকি ব্যয় সহনশীল রাখা এবং আমদানির ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা সরকার নেবে। জনগণকেও নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে।’

আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির পরও জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম না বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জ্বালানির দাম আবার বাড়তে পারে বলে আলোচনার মধ্যেই জাতীয় সংসদে স্বস্তির এই বার্তা দিলেন সরকারপ্রধান।

বুধবার রাতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে দিনে ১০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান দিয়ে চলেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ধারাবাহিক ভর্তুকির চাপে সরকার জ্বালানির দর সমন্বয়ের কথা ভাবছে বলে গত ১৪ জুন জানান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

সেদিন বিদ্যুৎ ভবনে এক সেমিনারে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপিসি প্রতিদিন শত কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। গ্রাহকেরা চাপে পড়ুক এটাও সরকার চায় না। তবে এটা সবার জন্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার কাজ করছে।

‘বর্তমানে বিশ্ব যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের বর্তমান যে অবস্থা তাতে এই সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করব কি না, সেটা আগে ভাবতে হবে। এ নিয়ে কাজ করছে সরকার। তবে গ্রাহকের জন্য যেন দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকে সে বিষয়টি আগে দেখা হবে।’

তেল, গ্যাসের দাম বাড়াব না: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

সবশেষ গত ৩ নভেম্বর ডিজেলের দর লিটারে ১৫ টাকা বাড়ায় সরকার। এর প্রভাবে পরিবহন ভাড়া বেড়ে গেছে অনেকটাই। এর প্রভাব আবার পড়েছে পণ্যমূল্যে।

ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তার বাইরে নয় বাংলাদেশও। এর মধ্যে জ্বালানির দাম আবার বাড়লে পরিস্থিতি কী হয় তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আপাতত সেই শঙ্কা দূর করলেন। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসে সরকারের যে ঘাটতি হবে তা আমরা মূল্য বাড়িয়ে ভোক্তা পর্যায়ে চাপিয়ে দেব না। যার কারণে ভর্তুকি ব্যয় বাড়বে। ভর্তুকি ব্যয় সহনশীল রাখা এবং আমদানির ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা সরকার নেবে। জনগণকেও নিজ নিজ জায়গা থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে।’

দীর্ঘ বক্তব্যে সরকারপ্রধান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণকে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বিলাস দ্রব্য পরিহার এমনকি দেশেই চিকিৎসা নেয়ার অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেককে তার নিজ নিজ জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে, ব্যক্তিগত সঞ্চয় করতে হবে। প্রত্যেকের নিজস্ব সঞ্চয় বাড়ানো এবং প্রত্যেককে মিতব্যয়ী হতে হবে।

‘দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে হবে। কথায় কথায় দৌড়ায়ে বিদেশে যেয়ে চিকিৎসা নেয়া যাবে না। দেশেও ভালো চিকিৎসা হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘একে তো করোনা মহামারির নেতিবাচক প্রভাব, তার ওপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে এসেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এসব প্রতিকূলতা মোকাবলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।’

আরও পড়ুন:
পেট্রল নেই পাম্পে, ফিরে যাচ্ছে মানুষ
জ্বালানি তেলে বড় দরপতন, নামল ১০০ ডলারের নিচে
ভারতে দুই সপ্তাহে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ল ৮ রুপি
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণায় ১০০ ডলারে নামল তেলের দর
ভারতে ৬ দিনে পাঁচবার বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The proposal to bring movable and immovable property in the country was rejected

স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দেশে আনার প্রস্তাব বাতিল

স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দেশে আনার প্রস্তাব বাতিল সংসদে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি
জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আনার ক্ষেত্রে যে সুযোগ রাখা হয়েছিল তা বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে কম হারে করপোরেট কর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সংশোধন আনা হয়েছে।

বিদেশে পাচার করা অর্থ-সম্পদ ফেরত আনার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত সুযোগ-সুবিধায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে অর্থবিল বিল-২০২২ পাস হয়েছে। পরিবর্তনের মধ্যে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আনার ক্ষেত্রে বাজেটে প্রস্তাবিত সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর এসব সংশোধনী আনেন। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

প্রস্তাবিত বাজেটে আনা সংশোধনীগুলোর মধ্যে রয়েছে- ৭ শতাংশ কর দিয়ে শুধু পাচার করা নগদ টাকা দেশে আনা যাবে। যারা সরকারের দেয়া এই সুযোগ নেবেন না, তাদেরকে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। জরিমানার পরিমাণ হবে নির্ধারিত করের সমপরিমাণ।

আর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আনার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বাজেটে যে সুযোগ রাখা হয়েছিল তা বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে কম হারে করপোরেট কর সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সংশোধন আনা হয়েছে।

যেসব কোম্পানি বছরে ৩৬ লাখার টাকার বেশি ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করবে তারা কম হারে করপোরেট কর পরিশোধের সুবিধা পাবে। প্রস্তাবিত বাজেটে এই সীমা ছিল বছরে ১২ লাখ টাকা।

এছাড়া সব সেবার ক্ষেত্রে ই-টিআইএন (করদাতা শরাক্তকরণ নম্বর) যুক্ত করে রিটার্ন দাখিলের যে বাধ্যবাধকতা ছিল তাতেও ছাড় দেয়া হয়েছে। কেবল ব্যক্তি-শ্রেণির করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিস্তারিত আসছে…

আরও পড়ুন:
মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ কমিয়ে বাজেটে ভর্তুকি বাড়ানোর পরামর্শ
আবাসনে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ চায় রিহ্যাব
ঢাবির ৯২২ কোটি টাকার বাজেট পাস
সংসদে সম্পূরক বাজেট পাস
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই বাজেটে: সানেম

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Proposal to ban bikes on expressways

এক্সপ্রেসওয়েতে বাইক নিষিদ্ধের প্রস্তাব

এক্সপ্রেসওয়েতে বাইক নিষিদ্ধের প্রস্তাব
এই মহাসড়ক ঘেঁষে ধীর গতির যান চলাচলে এবং স্থানীয়দের চলাচলের জন্য আলাদা লেন আছে। একে বলা হচ্ছে সার্ভিস লেন। এক্সপ্রেসওয়েতে নিষিদ্ধ হলে এই পথে চলতে পারবে বাইক। এক্সপ্রেসওয়েতে যেমন বিনা বাধায় চলা যায়, এই লেনে সে সুযোগ নেই। সেখানে ক্রসিং আছে।

ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করতে চায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এ জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাবও পাঠিয়েছে তারা।

ঢাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সদরদপ্তরে একটি চুক্তি সই অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম মনির হোসেন।

কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশনের পরিচালনায় এক্সপ্রেসওয়ের রক্ষণাবেক্ষণ, যানবাহন থেকে টোল সংগ্রহ এবং এক্সপ্রেসওয়েতে আইটিএস স্থাপনে চুক্তি সই করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।

মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ করার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি।’

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার পর এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাবটি পাস হলে মোটরসাইকেলচালক বা বাইকাররা এই মহাসড়ক ব্যবহার করে পদ্মা সেতুতে ওঠার অধিকার একেবারে হারাতে যাচ্ছেন।

এক্সপ্রেসওয়েতে যদি বাইক নিষিদ্ধ হয়েই যায়, তার পরেও মোটরসাইকেল চালিয়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দেয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মনির হোসেন জানান, এক্সপ্রেসওয়েতে নিষিদ্ধ হলেও সার্ভিস লেনে মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে।

এই মহাসড়ক ঘেঁষে ধীর গতির যান চলাচলে এবং স্থানীয়দের চলাচলের জন্য আলাদা লেন আছে। একে বলা হচ্ছে সার্ভিস লেন। এক্সপ্রেসওয়েতে যেমন বিনা বাধায় চলা যায়, এই লেনে সে সুযোগ নেই। সেখানে ক্রসিং আছে।

বহুল প্রতীক্ষার সেতুটি খুলে দেয়ার প্রথম দিনই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান দুই আরোহী। সেতুতে প্রতি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার গতি নির্ধারণ করে দেয়ার পরও বাইকার অনিয়ন্ত্রিত গতিতে বাইক চালোনার অভিযোগ এসেছে। তাড়াহুড়ো করতে গিয়েও সমালোচিত হয়েছেন বাইকাররা।

এমন বাস্তবতায় ২৭ জুন সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সেতু কর্তৃপক্ষ।

পরে জানানো হয়, সেতুতে স্পিডগান ও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসিয়ে বাইক পারাপারের আবার সুযোগ দেয়া হবে। তবে কবে সেই কাজ শেষ হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য কেউ দেননি।

এরই মধ্যে এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচল করতে টোল আরোপ করা হয়েছে। কোন বাহনকে কত টাকা দিতে হবে, সেটিও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে আছে বাইকও। জানানো হয়েছে, ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত চলাচলে একেকটি মোটরসাইকেল থেকে ৩০ টাকা আদায় করা হবে।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামকে নান্দনিক করবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
পরিবারের সঙ্গে ঈদ করা হলো না মিলনের
বিআরটি প্রকল্পের গার্ডার ধসে চীনা নাগরিকসহ আহত ৪
এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে নবীনগর-পাটুরিয়া সড়ক
মাথা তুলছে চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Destinys 4 officers are in jail

ডেসটিনির ৪ কর্মকর্তা কারাগারে

ডেসটিনির ৪ কর্মকর্তা কারাগারে প্রতীকী ছবি
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- ডেসটিনি গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর সাকিবুজ্জামান খান (অব.), সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেস্ট এভিয়েশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোল্লা আল আমিন, সুনীল বরণ কর্মকার ও হেড অব ফাইন্যান্স কাজী মোহাম্মদ ফজলুর করিম।

আত্মসমর্পণের পর জামিন পাননি ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাজা পাওয়া চার কর্মকর্তা। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

গ্রাহকদের ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় আদালত ডেসটিনি গ্রুপের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজার রায় দেয়। তখন চার আসামি পলাতক থাকায় তাদের নামে পরোয়ানা জারি হয়।

বুধবার ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলমের উপস্থিতিতে আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- ডেসটিনি গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর সাকিবুজ্জামান খান (অব.), সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেস্ট এভিয়েশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোল্লা আল আমিন, সুনীল বরণ কর্মকার ও হেড অব ফাইন্যান্স কাজী মোহাম্মদ ফজলুর করিম।

এ মামলায় গত ১২ মে রায় দেন ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম।

রায়ে অন্য আসামিদের পাশাপাশি মেজর সাকিবুজ্জামান খানের (অব.) পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা হয়। মোল্লা আল আমিনের চার বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা, সুনীল বরণ কর্মকারের ৮ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা এবং কাজী মোহাম্মদ ফজলুর করিমের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:
ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীনের স্ত্রী কারাগারে
ডেসটিনির হারুনসহ ৪৫ জনের সাজা বাড়াতে আবেদন
অর্থপাচার: ডেসটিনির এমডি রফিকুলের ১২ বছরের কারাদণ্ড
ডেসটিনির অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার মামলার রায় ১২ মে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
2 years delay from Padma bridge due to conspiracy PM

ষড়যন্ত্রের কারণে পদ্মা সেতু হতে ২ বছর বিলম্ব: প্রধানমন্ত্রী

ষড়যন্ত্রের কারণে পদ্মা সেতু হতে ২ বছর বিলম্ব: প্রধানমন্ত্রী পদ্মায় সেতু। ফাইল ছবি
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে আমিও আনন্দিত, গর্বিত, উদ্বেলিত। অনেক বাধা-বিপত্তি আর ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে প্রমত্তা পদ্মার বুকে আজ বহুল কাঙ্ক্ষিত সেতু দাঁড়িয়ে গেছে।’

ষড়যন্ত্রের কারণে পদ্মা সেতু নির্মাণে দুই বছর বিলম্বিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘যাতে পদ্মা সেতু না হয় সে লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র হলেও আমরা হতোদ্যম হইনি। সব ষড়যন্ত্র আর বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মেরিনা জাহানের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে আমিও আনন্দিত, গর্বিত, উদ্বেলিত। অনেক বাধা-বিপত্তি আর ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে প্রমত্তা পদ্মার বুকে আজ বহুল কাঙ্ক্ষিত সেতু দাঁড়িয়ে গেছে।

‘পদ্মা সেতু শুধু ইট-সিমেন্ট-স্টিল-লোহা-কংক্রিটের একটি অবকাঠামো নয়। এই সেতু আমাদের অহঙ্কার, আমাদের গর্ব, আমাদের সক্ষমতা আর মর্যাদার প্রতীক। এই সেতু বাংলাদেশের জনগণের। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের আবেগ, সৃজনশীলতা, সাহসিকতা, সহনশীলতা এবং প্রত্যয়। একইসঙ্গে রয়েছে- আমরা এ সেতু করবোই, সেই জেদ।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত অন্ধকার ভেদ করে আমরা আলোর মুখ দেখেছি। পদ্মার বুকে জ্বলে উঠেছে লাল, নীল, সবুজ, সোনালি আলো। ৪২টি স্তম্ভ যেন স্পর্ধিত বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন, বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। পারেনি। আমরা বিজয়ী হয়েছি।’

পদ্মা সেতু নির্মাণের ইতিহাস তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ২০০১ সালের ৪ জুলাই মাওয়া পয়েন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে আমি পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি।

‘২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে মাওয়া প্রান্তে সেতু নির্মাণের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তারা জাপান সরকারকে পুনরায় মানিকগঞ্জের আরিচা প্রান্তে পদ্মা সেতুর জন্য সমীক্ষা করতে বলে। দ্বিতীয়বার সমীক্ষার পর জাপান মাওয়া প্রান্তকেই নির্দিষ্ট করে পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিবেদন পেশ করে।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর পদ্মা সেতু নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নকশা প্রণয়নের লক্ষ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এরপর প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজে বিস্তারিত ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়। ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন প্র্যাংক (এডিবি), জাইকা ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) সঙ্গে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়।’

ঠিকাদার নিয়োগে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলার সময়ই ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজের নির্মাণ কাজ তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা ও আইডিবি ঋণচুক্তি স্থগিত করে।

‘২০১৭ সালে কানাডার টরেন্টোর একটি আদালতে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে পুনরায় ফিরে আসার ঘোষণা দেয়। তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের সাহসী সিদ্ধান্ত নেই।

‘বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের সূচনালগ্নে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র, চ্যালেঞ্জগুলো উত্তরণ এবং হার না মানা সুদৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে সব প্রতিকূলতাকে জয় করে এ সেতু আজ স্বপ্ন নয়, একটি দৃশ্যমান বাস্তবতা।’

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশ, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সর্বোপরি দেশের বিভক্ত দুটি অঞ্চলকে একীভূত করে সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে বলে সরকারপ্রধান আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ এভাবেই এগিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী
নৌকা ছাড়া বাংলাদেশের গতি নেই: প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভারত সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
‘সবার অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু হবে’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The maximum toll on Bangabandhu Expressway is 1890 rupees

এক্সপ্রেসওয়েতে বাইকের টোল ৩০, কার ১৪০

এক্সপ্রেসওয়েতে বাইকের টোল ৩০, কার ১৪০
ট্রেইলার ১৬৯০, হেভি ট্রাক ১১০০, মাঝারি ট্রাক ৫৫০, বড় বাস ৪৯০, মিনি ট্রাক ৪১৫, মিনিবাস বা কোস্টার ২৭৫, মাইক্রোবাস ২২০, ফোর হুইলার ২২০, সিডান কার ১৪০ ও মোটরসাইকেলে ৩০ টাকা হারে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক্সপ্রেসওয়ে (ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা) পার হতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৯০ টাকা টোল নির্ধারণ করেছে সরকার। আর সর্বনিম্ন টোল ধরা হয়েছে ৩০ টাকা। ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে ১ জুলাই শুক্রবার থেকে নতুন টোল হার কার্যকর হবে।

সড়ক মন্ত্রণালয়ের টোল ও এক্সেল শাখার উপসচিব ফাহমিদা হক খানের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১ জুলাই থেকে এই এক্সপ্রেসওয়ে পার হতে একটি ট্রেইলারকে দিতে হবে ১ হাজার ৬৯০ টাকা, হেভি ট্রাক ১ হাজার ১০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক ৫৫০ টাকা, বড় বাস ৪৯০ টাকা এবং মিনি ট্রাককে দিতে হবে ৪১৫ টাকা।

এ ছাড়া মিনিবাস বা কোস্টার ২৭৫, মাইক্রোবাস ২২০, ফোর হুইলার যানবাহন ২২০, সিডান কার ১৪০ ও মোটরসাইকেলের জন্য ৩০ টাকা হারে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।

এক্সপ্রেসওয়েতে বাইকের টোল ৩০, কার ১৪০
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকা-মাওয়া অংশ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

এর আগে সোমবার এই এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলের জন্য মিডিয়াম ট্রাকের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটার ১০ টাকা হারে টোল নির্ধারণ করা হয়।

দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা চালু হয় ২০২০ সালের ১২ মার্চ। শুরু থেকেই জানানো হয়, এই সড়ক ব্যবহার করতে টাকা দিতে হবে। তবে পদ্মা সেতু চালুর আগ পর্যন্ত টোল বসানো হবে না।

এই সড়কে কয়েকটি সেতুতে আলাদা টোল আছে। এক্সপ্রেসওয়ের টোল চালু হওয়ায় এই সেতুগুলোর জন্য আলাদা কোনো টাকা দিতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫ জুন দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন। পদ্মা সেতু পারাপারে মোটরসাইকেলের জন্য সর্বনিম্ন ১০০ টাকা এবং বড় বাসের জন্য ২ হাজার ৪০০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন করে এক্সপ্রেসওয়েতে টোল নির্ধারণ করায় ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে খরচ বাড়বে।

আরও পড়ুন:
ভাড়া কমিয়েও যাত্রী পাচ্ছে না লঞ্চ
পদ্মার জাজিরা প্রান্তে উৎসবমুখর আবহ
পদ্মা সেতু পার করে দিতে বাইকপ্রতি ১০০০ টাকা
বাইক বন্ধের পর পদ্মায় টোল কমল ৭৮ লাখ
পদ্মা সেতুতে স্পিড গান-সিসিটিভি বসানোর পর বাইক

মন্তব্য

p
উপরে