× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
100 Tripura families without electricity due to conflict between forest department and power department
hear-news
player
print-icon

বন-বিদ্যুৎ বিভাগের দ্বন্দ্বে বিদ্যুৎহীন ১০০ ত্রিপুরা পরিবার

বন-বিদ্যুৎ-বিভাগের-দ্বন্দ্বে-বিদ্যুৎহীন-১০০-ত্রিপুরা-পরিবার
হবিগঞ্জের বাহুবলে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়ছে এক শিক্ষার্থী। ছবি: নিউজবাংলা
বন বিভাগ বলছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার আইন নেই। তাই বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের নামে মামলা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, নিজেদের কোনো স্বার্থ হাসিলের জন্য বন বিভাগের এই মামলা। মামলার কারণেই তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।

১৬ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই হবিগঞ্জের মধুপুর হিল রিজার্ভ ফরেস্টের কালিগজিয়া এলাকার ১০০ পরিবারের ঘরবাড়িতে। কবে তাদের ঘরে আলো জ্বলবে, সেটিও জানা নেই কারও।

বাহুবল উপজেলার পুটিজুড়ি বন বিটের সংরক্ষিত এলাকার বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ নিয়ে এই ভোগান্তির মূলে বন বিভাগ ও বিদ্যুৎ বিভাগের দ্বন্দ্ব।

বন বিভাগ বলছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার আইন নেই। তাই বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের নামে মামলা করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, নিজেদের কোনো স্বার্থ হাসিলের জন্য বন বিভাগের এই মামলা। মামলার কারণেই তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাহুবল আঞ্চলিক কার্যালয় জানায়, পুটিজুড়ি বন বিটের মধুপুর হিল রিজার্ভ ফরেস্টের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা কালিগজিয়া। সেখানে দুই টিলায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ৩০০ পরিবারের বসবাস।

২০১৮ সালের শেষ দিকে কালিগজিয়ার একটি টিলার ১০০ পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় বাহুবল আঞ্চলিক কার্যালয়। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশেই সংযোগ দেয়া হয়। এরপর ২০২০ সালে পুটিজুড়ি বন বিট অফিসও বিদ্যুতের সংযোগ নেয়।

পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় আরও জানায়, ২০২১ সালের প্রথম দিকে ওই এলাকার অন্য টিলাতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে খুঁটি বসানোর কাজ শুরু করলে বন বিভাগ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুটিজুড়ি বন বিটের তৎকালীন কর্মকর্তা জুয়েল রানা পল্লী বিদ্যুতের বাহুবল আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শহীদ উল্লাহসহ তিনজনের নামে হবিগঞ্জ বন আদালতে মামলা করেন।

ওই মামলায় বনের প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকা ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

দীর্ঘদিন মামলার অগ্রগতি না থাকলেও চলতি বছরের ২৬ মে আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। ওই আদেশের পর ২৫ মে বিদ্যুৎ বিভাগ ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকে নানা রকম ভোগান্তি পোহাচ্ছে ১০০ পরিবারের সদস্যরা।

বন-বিদ্যুৎ বিভাগের দ্বন্দ্বে বিদ্যুৎহীন ১০০ ত্রিপুরা পরিবার

ওই এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী পায়েল দেববর্মা পরীক্ষায় বসছে আগামী ১৯ জুন। সে নিউজবাংলাকে বলে, ‘এই গ্রাম থেকে আমরা ১২ জন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেব। বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা ঠিকভাবে লেখাপড়া করতে পারছি না।

‘কিছুদিন পর পরীক্ষা। যদি দ্রুত বিদ্যুৎ না আসে, তাহলে আমরা খুব বিপদে পড়ে যাব।’

কালিগজিয়া আদিবাসী মহিলা সমিতির সভাপতি স্বপ্না দেববর্মা বলেন, ‘বিদ্যুৎ আসার পর হারিকেনসহ এ ধরনের যেসব জিনিসপত্র ছিল, সব ফেলে দেয়া হয়েছে। এখন আমরা মোমবাতি দিয়ে চলি।

‘মোমবাতি দিয়ে কতদিন চলা যায় বলেন? তা ছাড়া রাতে অন্ধকারে বন্য প্রাণীরাও আমাদের বাড়িঘরে হামলা করছে।’

স্থানীয় গৌতম দেববর্মা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের একটি পরিবারও অন্ধকারে থাকবে না। তাহলে আমরা কেন বিদ্যুৎ পাব না? আমরা তো এই এলাকায় শত শত বছর ধরে বসবাস করছি। আমরা কি এ দেশের নাগরিক না?’

সুনীল দেববর্মা জানান, তিন বছর আগে যখন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়, তখন বন বিভাগ কোনো বাধা দেয়নি। এখন বিদ্যুৎ বিভাগের লোকদের সঙ্গে বন বিভাগের কোনো একটা বিষয় নিয়ে ঝামেলা লাগায় তারা মামলা করেছে। তাই লাইন কেটে দেয়া হয়েছে।

ভোগান্তির বিষয়ে কালিগজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সীমা দেববর্মা বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় শিশুরা মন দিয়ে লেখাপড়া করতে পারছে না। তা ছাড়া আমাদের এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা খাবার পানি।

‘এমনিতেই আমরা পাহাড়িরা পানির সমস্যায় ভুগি। তার মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় মোটর দিয়ে পানি তুলতে পারছি না। স্কুলে এলে কোনো শিক্ষার্থী পানি খেতে পারে না।’

বন-বিদ্যুৎ বিভাগের দ্বন্দ্বে বিদ্যুৎহীন ১০০ ত্রিপুরা পরিবার

বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে এই সমস্যার বিষয়ে বাহুবল আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শহীদ উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যখন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়, তখন বন বিভাগ বাধা দেয়নি। এমনকি তারা নিজেরাও একটি সংযোগ নিয়েছে। পরে দুই নম্বর টিলায় সংযোগ দিতে গেলে তাদের স্বার্থে আঘাত লাগে। তাই মামলা করেছে। তবে কী সেই স্বার্থ, সেটি জানা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন বিভাগ আমাদের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে। সরকারি দপ্তরের কোনো মামলায় নাম দেয়ার কথা না। এতেই বোঝা যায়, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।’

বন বিভাগের দাবি, প্রথমবার সংযোগ দেয়ার সময়ই বিদ্যুৎ বিভাগকে বাধা দেয়া হয়। তারা বাধা উপেক্ষা করে সংযোগ দিয়েছে। বারবার বলার পরও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি। তাই মামলা করা হয়েছে।

পুটিজুড়ি বিট কর্মকর্তা রতীন্দ্রকিশোর রায় বলেন, ‘আমার আগের কর্মকর্তা মামলাটি করেছিলেন। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নিয়ম নেই বলেই তিনি মামলাটি করেছেন।

‘বিট অফিসে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। আগের কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহুয়া শারমিন ফাতেমা বলেন, ‘সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নিয়ম নেই, এটা সত্য। যেহেতু দেয়া হয়েছে, সেহেতু তিন বছর পর লাইন বিচ্ছিন্ন করা ঠিক হয়নি।

‘আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। যদিও মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংযোগ দেয়া সম্ভব না, তবুও মানবিক বিষয় বিবেচনা করে সংযোগ চালু করার চেষ্টা করব।’

আরও পড়ুন:
গ্যাস, বিদ্যুৎ, সারের দাম আরও বাড়ছে
প্রতিবন্ধীদের ভাতা বাড়ল ১০০ টাকা
হেরোইন বহনের দায়ে দুইজনের যাবজ্জীবন
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল শিশুর
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৩ গৃহবধূর মৃত্যু

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Various doors of tourism are opening in the south

পর্যটনের নানান দুয়ার খুলছে দক্ষিণে

পর্যটনের নানান দুয়ার খুলছে দক্ষিণে পটুয়াখালীর সোনারচর। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে কাজ শুরু করেছে। দেশে পর্যটনের সামগ্রিক মানোন্নয়নে ২০২০ সালে শুরু করা ‘মাস্টার প্ল্যান’ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। এতে প্রাধান্য পাচ্ছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন।

আছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ‍সুন্দরবন, সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার মতো সুবিস্তৃত সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা, বিশ্ব ঐতিহ্যে ঠাঁই করে নেয়া স্থাপত্য ষাট গম্বুজ মসজিদসহ অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র। এর পরও এতদিন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দুই বিভাগ খুলনা ও বরিশালে ছিল পর্যটকখরা।

তবে পদ্মা সেতু সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে চলেছে। ঢাকা থেকে দক্ষিণের কুয়াকাটা পর্যন্ত এখন সড়কপথে এক সুতায় গাঁথা। সুদীর্ঘ যাত্রাপথ এখন অতীত।

পদ্মা সেতু চালুর কারণে পর্যটকরা এখন দক্ষিণাঞ্চলমুখী হবেন বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। তবে তারা বলছেন, শুধু সড়কপথের উন্নয়ন নয়, দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে আবাসন, স্থানীয় যোগাযোগ ও মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থাও করতে হবে। থাকতে হবে পর্যটকবান্ধব নিরাপদ পরিবেশ।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে কাজ শুরু করেছে। দেশে পর্যটনের সামগ্রিক মানোন্নয়নে ২০২০ সালে শুরু করা ‘মাস্টার প্ল্যান’ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। এতে প্রাধান্য পাচ্ছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সারা দেশে ১ হাজার ১০০ ট্যুরিস্ট অ্যাট্রাকশন পয়েন্ট আইডেন্টিফাই করেছি। এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যাট্রাকশন পয়েন্টের আর্কিটেকচারাল ডিজাইন আমরা করব। আমরা ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানও করব।

‘একই সঙ্গে আমরা একটি অ্যাকশন প্ল্যান করব, যাতে নির্ধারণ করা হবে কোনটা তাড়াতাড়ি হবে, কোনটা মধ্যমেয়াদি হবে আর কোনটা দীর্ঘমেয়াদি হবে। সেটা নির্ধারণ করে আমরা কাজ শুরু করব। এটা কমপ্লিট হওয়ার পর আমরা দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলকে আমরা প্রায়োরিটি দেব, কারণ ওখানে যাওয়াটা আগে কষ্টসাধ্য ছিল। এখন সেটা সহজ হয়েছে। কুয়াকাটা, পিরোজপুরসহ বরিশালের বিভিন্ন অঞ্চলকে আমরা অগ্রাধিকার দেব। ওখানে কিছু নতুন ট্যুরিস্ট অ্যাট্রাকশন তৈরির জন্য কাজ করছি। এর মধ্যে আছে সোনাদ্বীপ, আরেকটা সোনারচর। ১০-১৫ দিন আগে আমরা দেখে এসেছি। কীভাবে এগুলো ডেভেলপ করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছি।’

শুধু পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটক বাড়বে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী।

তবে পর্যটন ব্যবসায়ী ও প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব মো. তৌফিক রহমান মনে করছেন, দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটনকেন্দ্রিক সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এতদিন মূল সমস্যাটা ছিল যাতায়াত। আরেকটা বড় সমস্যা থাকার ভালো ব্যবস্থাপনা নেই। এটা নিয়ে ভাবতে হবে। ভালো খাবারের জায়গাও নেই। ট্যুরিস্ট অ্যাট্রাকশনের জন্য এসব ক্ষেত্রেই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে।’

পর্যটকদের আগ্রহ বাড়াতে বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়ীরা প্রস্তুত আছেন বলে জানান পাটা বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব মো. তৌফিক রহমান।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি খুলনা গিয়েছিলাম। সেখানে ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। এখন মোংলাকেন্দ্রিক ট্যুরিজম বাড়বে বলে তারা ধারণা করছেন। ঢাকা থেকে সাড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টায় মোংলা চলে যাওয়া যাবে। তবে মূল অ্যাট্রাকশন থাকবে সুন্দরবন।’

তিনি বলেন, ‘পর্যটকদের জন্য নতুন করে কোনো প্রস্তুতি নেই। মোংলা এলাকায় বর্তমানে যে ধরনের ফ্যাসিলিটি আছে, সেটা নিয়েই ব্যবসায়ীরা অপেক্ষা করছেন। পর্যটকের ফ্লো ভালো হলে অনেকেই বিনিয়োগ করবেন। ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত আছেন।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুতে বাইক দুর্ঘটনার রহস্য উন্মোচন
পদ্মা সেতুর নাট রেঞ্জ দিয়ে খুলে মাহদির ভিডিও: পুলিশ
পদ্মা সেতু নিয়ে ইউনূস সেন্টারের ব্যাখ্যা সত্যের অপলাপ: তথ্যমন্ত্রী
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ: ক্ষতিপূরণ চান মোমেন
পদ্মা সেতুর নাট খোলা আরেক যুবক গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The militants online activities are now under control

‘জঙ্গিদের অনলাইন কার্যক্রমও এখন নিয়ন্ত্রণে’

‘জঙ্গিদের অনলাইন কার্যক্রমও এখন নিয়ন্ত্রণে’ নিউজবাংলার মুখোমুখি সিটিটিসি বিভাগের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা
সিটিটিসি প্রধান বলেন, ‘করোনাকালীন জঙ্গিরা অনলাইনে বেশ সক্রিয় ছিল। র‌্যাডিকেলাইজেশনের ক্ষেত্রে তারা প্রচার প্রচারণা, রিক্রুট, ট্রেইনিং সবকিছু সাইবার স্পেসকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছিল। সেটাও আমরা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি। অনলাইনে যারা লিড রোল রাখছিল, তাদের অনেককেই আমরা গ্রেপ্তার করেছি।’

ছয় বছর আগে হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পরপর সাঁড়াশি অভিযানে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে তছনছ করে দেয়া হয়েছে। তারা সক্ষমতা হারিয়েছে। দেশে তাদের কোনো ‘ফিজিক্যাল’ অ্যাকটিভিটি নেই। অনলাইনে কিছুটা কার্যক্রম থাকলেও তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান।

বর্তমানে দেশে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী রয়েছে আটটি। আরও একটি নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে।

হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ছয় বছর পূর্তিতে সিটিটিসি-প্রধান মো. আসাদুজ্জামানের সাক্ষাৎকার নিয়েছে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম।

প্রশ্ন: হোলি আর্টিজানের ঘটনার পর আপনারা কীভাবে সাড়া দিয়েছেন?

মো. আসাদুজ্জামান: বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ইতিহাসে অন্যতম বড় একটি ঘটনা হোলি আর্টিজান। এখানে আমাদের দুজন পুলিশ কর্মকর্তা, ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হয়েছেন। এরপর মামলার তদন্তভার সিটিটিসির ওপর বর্তায়। সিটিটিসি মামলাটির সফল তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে এই মামলার রায় হয়েছে। আমরা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছি, তাদের একজন বাদে সবাইকে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দিয়েছে আদালত। পরবর্তীতে সিটিটিসি ইন্টেলিজেন্ট পুলিশিংয়ের কারণে জঙ্গিদের আস্তানা খুঁজে বের করে প্রায় সবগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক বিধ্বস্ত করে দেয়া হয়েছে। হোলি আর্টিজান হামলার পরে যেসব অভিযান হয়েছে তার প্রায় সবই হয়েছে জঙ্গিদের আস্তানায়।

প্রশ্ন: জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো এখন কতটা তৎপর?

মো. আসাদুজ্জামান: সম্প্রতি দেশে জঙ্গি সংগঠনগুলোর কোনো অপারেশন লক্ষ করিনি। বিচ্ছিন্ন যা দুয়েকটা ছিল সেগুলো খুবই যৎসামান্য। পরবর্তীতে সেগুলোও আমরা উদঘাটন করেছি। এর পেছনে যারা ছিল, সকলকেই সিটিটিসি গ্রেপ্তার করেছে। সর্বশেষ ২০২১ সালে মে মাসে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ বক্সের পাশে যে একটা আইইডি তারা রেখে এসেছিল, সেটার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করেছি। এমনকি তারা যে আস্তানায় বসে আইইডি প্রস্তুত করেছিল, যারা যারা জড়িত ছিল, সবাইকে আমরা অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছি।

এরপর গত দুই বছরে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর কোনো অপারেশন আপনারা দেখেননি। আমরা বলব, জঙ্গিদের সে রকম কিছু করার সক্ষমতা নেই। সিটিটিসি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আমাদের কার্যক্রমের কারণে জঙ্গিদের তৎপরতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।

লাগাতার অভিযানে জঙ্গিরা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। করোনার সময়ে অনলাইনে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করেছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। সাইবার জগতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে সেখানেও তাদের কার্যক্রম সীমিত হয়ে এসেছে।

প্রশ্ন: জঙ্গি সংগঠনগুলোর তৎপরতার এখন প্রবণতাগুলো কী?

মো. আসাদুজ্জামান: এখন জঙ্গিদের ফিজিক্যাল কোনো অ্যাকটিভিটি নেই। করোনাকালীন তারা অনলাইনে বেশ কিছু সক্রিয় ছিল। অনলাইন র‌্যাডিকেলাইজেশনের ক্ষেত্রে তাদের প্রচার প্রচারণা, রিক্রুট, ট্রেনিং সবকিছু সাইবার স্পেসকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছিল। সেটাও আমরা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি। অনলাইনে যারা লিড রোল রাখছিল, তাদের অনেককেই আমরা গ্রেপ্তার করেছি। এ কারণে অনলাইনে জঙ্গিদের তৎপরতা অনেকখানি নিয়ন্ত্রণে। তারপরও যে কিছু নাই, তা বলব না। ডার্ক ওয়েব, ডিপ ওয়েব বা নিজেদের গ্রুপে প্রচার-প্রচারণা চালায় তারা, কিন্তু সেটা খুব বেশি না।

প্রশ্ন: সংগঠিত প্রচারণা ছাড়াও কেউ কি জঙ্গিবাদে দীক্ষিত হতে পারে?

মো. আসাদুজ্জামান: জঙ্গিদের একটা অংশ সেলফ র‌্যাডিকেলাইজড হয়েছে। এটা হচ্ছে সাইবার স্পেসের কারণে। আমাদের দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রযুক্তির কল্যাণে সকলের হাতে স্মার্টফোন। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা যদি ওই রকম একটি কনটেন্ট চোখে পড়ে বা পছন্দ হয়ে যায়, তাহলে আরও কনটেন্ট দেখতে আগ্রহী হয়, কমেন্ট করে। এর ফলে কিছু যে হচ্ছে না, তা বলব না। হচ্ছে। আমি বলব, এখনকার প্রজন্ম অনেক সচেতন, অভিভাবকও অনেক সচেতন। কেননা তারা দেখেছে, জঙ্গিদের পরিণতি কী, জঙ্গিবাদের সর্বশেষ পরিণতি কী? সিটিটিসি প্রায় ২৬-২৭টা হাইরিস্ক অপারেশন করেছে, যেখানে জঙ্গিদের কঠিন পরিণতি তারা স্বচক্ষে দেখেছে। ফলে আগে যেভাবে খুব সহজে র‌্যাডিকেলাইজ করতে পারত, এখন কিন্তু ছাত্র-ছাত্রী বা বর্তমান প্রজন্ম তারা অনেক বেশি সচেতন। খুব সহজে তারা ফাঁদে পা দেয় না।

প্রশ্ন: জঙ্গিবাদ দমনে অভিযান ছাড়া আর কোন ধরনের কৌশল আপনারা প্রয়োগ করছেন?

মো. আসাদুজ্জামান: জঙ্গি দমনে হলি আর্টিজানে হামলার পর সিটিটিসি দেশব্যাপী ২৩টি হাই রিস্ক অপারেশন করেছে। এসব অভিযানে ৬৩ জঙ্গি মারা গেছে। জঙ্গি দমনে এসব হার্ড অ্যাপ্রোচের পাশাপাশি সফট অ্যাপ্রোচ নিয়ে কাজ করছে সিটিটিসি। বিশ্বের যেসব দেশ জঙ্গিবাদের ঝুঁকিতে আছে, তারাসহ জাতিসংঘ সর্বসম্মতভাবে একটা সিদ্ধান্তে আসে যে, শুধু অপারেশন বা বিচারের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ দমন করা যাবে না। বাংলাদেশও একই ফিলোসফিতে কাজ করে। হার্ড অ্যাপ্রোচের পাশাপাশি জঙ্গিবাদ বিস্তার লাভ করতে পারে এমন সহায়ক পরিবেশকেও প্রতিরোধ করতে হবে। যেসব কারণে জঙ্গিবাদ ছড়ায়, সেগুলো প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রতিরোধের অন্যতম পদ্ধতি হলো সচেতনতা বৃদ্ধি। সেই কাজটাই আমরা করছি।

বাংলাদেশ পুলিশ সন্ত্রাস দমন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধ কেন্দ্র নামে একটি প্রকল্প নিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালাচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যে দেশের ৪৮টি জেলায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি সম্পন্ন করেছি। এই বছরও আমরা ১২টি জেলায় কাজ করেছি। সর্বশেষ শরীয়তপুর জেলায় করেছি। এতে আমরা একটি জেলার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হয়। স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন ইউনিট হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ। আমরা সকল ইউপি চেয়ারম্যানকে এতে যুক্ত করি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেম্বারদেরকেও যুক্ত করি। ওয়ার্ডে কী হয় না হয়, কোন ছেলেটা কেমন, এটা কিন্তু একজন ইউপি মেম্বার সহজেই উপলব্ধি করতে পারেন। তার নজরে চলে আসে। তিনি যদি জঙ্গিবাদের লক্ষণগুলো জানেন, তাহলে তিনি সতর্ক করতে পারেন। তাদেরকে আমরা এসব বিষয়ে ব্রিফ করি। তাদের মন্তব্যও আমরা শুনি।

প্রশ্ন: এতে কতটা সুফল পাওয়া যাচ্ছে?

মো. আসাদুজ্জামান: জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্র-ছাত্রী, ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের যুক্ত করি। আমরা এর সুফল পাচ্ছি। দেশের মানুষ জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদকে ঘৃণা করে। ধর্মের নামে মানুষ হত্যাকে এ দেশের মানুষ সমর্থন করে না। এটাই আমাদের মূল শক্তি। যেখানেই গিয়েছি, আমরা সেখানে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পেয়েছি। এসব কারণে গত দুই বছর বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি হামলা ঘটেনি। এতে বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচকে বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। যেখানে আমেরিকার অবস্থান ২৮, ইউকে ৩২, বাংলাদেশের অবস্থান সেখানে ৪০। গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স যারা তৈরি করে, তারা বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে নিরাপদ দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ।

প্রশ্ন: জঙ্গিদের পুনর্বাসনে কী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?

মো. আসাদুজ্জামান: যারা ইতোমধ্যে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে ইতোমধ্যে প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে সিটিটিসি। কারাগারে থাকা জঙ্গিদের ডির‌্যাডিকেলাইজ করার মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হবে। এ প্রকল্পের অনুমোদন পেয়ে গেছি। যারা গ্রেপ্তার হয়ে জেলখানায় আছে, যারা সাজা খেটে বের হয়েছে, জামিনে আছে, এমন ব্যক্তিদের আমরা ডির‌্যাডিকেলাইজ করব, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনব। জেলখানা থেকেই কাজটা শুরু করতে চাই। খুব দ্রুতই কাজটা আমরা শুরু করব। এই কাজের জন্য সাইকোলজিস্ট, ধর্মীয় নেতা ও সমাজবিজ্ঞানীদের নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এটা বাংলাদেশের জন্য বড় টার্নিং পয়েন্ট হবে। যারা র‌্যাডিকেলাইজ হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে চরমপন্থি হয়ে গেছে, এমন সকলকেই আমরা রিভার্স ওয়েতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনব। ইসলামের যে ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে, তার প্রকৃত ব্যাখ্যাটা আমরা দেব।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Coronas fourth wave No more lockdown this time

করোনার চতুর্থ ঢেউ: এবার আর লকডাউন নয়

করোনার চতুর্থ ঢেউ: এবার আর লকডাউন নয় করোনাভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ ছড়িয়ে পড়া নিশ্চিত হলেও আপাতত কঠোর কোনো অবস্থানে যাচ্ছে না প্রশাসন। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরই আপাতত জোর দেয়া হবে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা ১৫ দিন আগেও অনেক কম ছিল, এক শর নিচে ছিল। এখন অনেক বেড়েছে। আমরা লাগাম টেনে ধরতে চাই। এটা শুধু আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এভাবেই কমানো সম্ভব। সংক্রমণ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো মাস্ক পরা।’

করোনার প্রথম থেকে তৃতীয় ঢেউয়ে প্রতিবার নানা নামে লকডাউনের মতো বিধিনিষেধ দেয়া হলেও অর্থনীতির বিবেচনায় এবার আর সেই পথে হাঁটছে না সরকার।

ভাইরাসটির চতুর্থ ঢেউ ছড়িয়ে পড়া নিশ্চিত হলেও আপাতত কঠোর কোনো অবস্থানে যাচ্ছে না প্রশাসন। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরই আপাতত জোর দেয়া হবে।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে দুইবার কঠোর বিধিনিষেধের কারণে অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সে সময় মানুষের মৃত্যুর হার ও আক্রান্তদের মধ্যে জটিলতা ছিল বেশি। সে কারণে অর্থনীতির সেই ক্ষতি মেনে নিতে হয়েছে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। রোগী বাড়লেও এবার ভাইরাসটির যে ধরন ছড়াচ্ছে, সেটি রোগীদের মধ্যে জটিলতা তৈরি করছে না সেভাবে। মৃত্যুর হারও কম।

করোনার চতুর্থ ঢেউ: এবার আর লকডাউন নয়

কঠোর কোনো অবস্থানে না গিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরই আপাতত জোর দিচ্ছে প্রশাসন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

তাছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এখন চাপে। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির যে সমস্যা, তার বাইরে নয় বাংলাদেশও। নিত্যপণ্যের দাম দিয়েছে লাফ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মনস্তাত্ত্বিক চাপ। এর মধ্যে দেশের পূর্বাঞ্চলে দেখা দিয়েছে বন্যা, উত্তরের কোথাও কোথাও একই সমস্যা। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে গেছে কঠিন। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতির ক্ষতি হতে পারে, এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আরও অপেক্ষা করতে চায় সরকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা ১৫ দিন আগেও অনেক কম ছিল, এক শর নিচে ছিল। এখন অনেক বেড়েছে। আমরা লাগাম টেনে ধরতে চাই। এটা শুধু আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এভাবেই কমানো সম্ভব। সংক্রমণ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো মাস্ক পরা।’

তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে আমরা নির্দেশ দিয়েছি মাস্ক পরার নিশ্চিত করার জন্য। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ একটি চিঠিও দিয়েছে। সেখানে আমাদের সুপারিশ থাকে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে মাস্ক পরানো, শাস্তি দিয়ে বা কোনো পেনাল্টি দিয়ে না। আমরা তাদের আহ্বান করব, কারণ তাদের মঙ্গলের জন্যই তো এ কাজটি করি। তারপরেও যদি সরকার দেখে যে এখানে ব্যত্যয় ঘটছে, তাহলে কোনো পদক্ষেপ নিতেই সরকার দ্বিধা করবে না। কারণ, আমাদের দেশকে তো করোনামুক্ত রাখতে হবে, সব সচল রাখতে হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও জোর দিচ্ছেন মাস্ক ব্যবহারের ওপর। তিনি বলেন, ‘কোরবানির হাট হোক, মসজিদ হোক, যেকোনো জনসমাগমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশ দিয়েছে সেটি মেনে চলতে হবে।’

করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে সব সরকারি চাকরিজীবীদের এরই মধ্যে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে নির্দেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর বৃহস্পতিবার গত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এক দিনে ভাইরাসটিতে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। এর চেয়ে বেশি মৃত্যু হয় গত ১১ মার্চ। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়।

করোনার চতুর্থ ঢেউ: এবার আর লকডাউন নয়

সরকার আবার ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি ঘোষণা করলেও ভ্রুক্ষেপ নেই সাধারণের। মাস্ক পরছে খুব কমসংখ্যক মানুষই। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

এ নিয়ে ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২৯ হাজার ১৪৯ জন।

করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর গত ১৬ জুন প্রথমবারের মতো পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়ায়। টানা ১৪ দিন ৫ শতাংশের বেশি শনাক্তের হার পাওয়া যাওয়ার পর দেশে চতুর্থ ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় শনাক্তের হার পরপর দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের বেশি হলে পরবর্তী ঢেউ ছড়িয়েছে বলে ধরা হবে। সেই হিসাবে দেশে এখন করোনার চতুর্থ ঢেউ চলছে।

কঠোর ব্যবস্থা ছিল আগের ঢেউগুলোতে

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে।

ওই মাসের ২৫ তারিখে সরকার সাধারণ ছুটি নাম দিয়ে অফিস আদালত, যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। টানা ৬৬ দিন চালু থাকে এই ব্যবস্থা।

প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একই বছরের মার্চে ডেল্টা ধরনের করোনায় আসে দ্বিতীয় ঢেউ। তবে ওই মাসের শেষ থেকে সংক্রমণ আবার বাড়তে থাকে।

করোনার চতুর্থ ঢেউ: এবার আর লকডাউন নয়

মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে জনগণের উদাসীনতা চলতে থাকলে করোনা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

এর মধ্যে ভারতে করোনার এই ধরনটি ব্যাপক প্রাণহানির কারণ হতে থাকে। আর দেশেও ভাইরাসটির উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়ার পর ৫ এপ্রিল দেশ যায় বিধিনিষেধে। শুরুতে মন্ত্রীরা লকডাউনের কথা বললেও পরে লিখিত আদেশে ‘কঠোর বিধিনিষেধ’-এর কথা বলা হয়।

এই বিধিনিষেধ পরে ধাপে ধাপে শিথিল করা হয়। তবে এর মধ্যে করোনা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয় জুলাইয়ে। একপর্যায়ে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

সে সময় বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হয়। মন্ত্রীরা শুরুতে বিধিনিষেধকে ‘শাটডাউন’ বলে আখ্যা দেন। জনগণকে ঘরে রাখতে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনীও। পরে ধাপে ধাপে শাটডাউন শিথিল হতে হতে আগস্টের শেষে তা তুলে নেয়া হয়।

২০২০ সালের মার্চে বন্ধ করে দেয়া স্কুল-কলেজ তখনও খোলেনি। শাটডাউন তুলে নেয়ার পর সেপ্টেম্বর থেকে ধাপে ধাপে সশরীরে ক্লাস শুরু হতে থাকে শিক্ষাঙ্গনে।

একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউও। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকেনি খুব বেশি। চলতি বছরের শুরুতে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে আসে তৃতীয় ঢেউ।

তৃতীয় ঢেউয়ের ২৮ জানুয়ারি করোনা শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ দাঁড়ায়, যা দেশে করোনা সংক্রমণ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।

তবে তৃতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত বেশি হলেও মৃত্যু ছিল তুলনামূলক কম। আর আগের দুই ঢেউয়ের মতো এবার সরকার অতটা কঠোর সিদ্ধান্তে যায়নি। তবে অর্ধেক জনবলে অফিস করার পাশাপাশি টিকা কার্যক্রমের ওপর জোর দেয়া হয়।

করোনার এই ঢেউ দ্রুত নিয়ন্ত্রণেও আসে। গত ১১ মার্চ তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মাস্ক পরা ছাড়া করোনাসংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ তুলে দেয়া হয়। তবে জনগণের মধ্যে মাস্ক পরা নিয়ে অনীহার বিষয়টি আবার দেখা যায়। করোনা সংক্রমণ ক্রমেই বাড়তে থাকলেও এ বিষয়ে সচেতনতার অভাবের বিষয়টি এখনও স্পষ্ট।

গত ১৬ জুন পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার আবার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর স্পষ্ট হতে থাকে করোনার আরও একটি ঢেউ আসছে। প্রায় প্রতিদিনই শনাক্তের হার ও শনাক্তের সংখ্যা আগের দিনকে ছাড়িয়ে এখন দিনে শনাক্ত ছাড়িয়েছে দুই হাজার।

তবে এবার মৃত্যুর সংখ্যা তৃতীয় ঢেউয়ের চেয়ে কম। গত সাড়ে তিন মাসে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ৪ জন, যা দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় একপর্যায়ে ২০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

চতুর্থ ঢেউয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ কম থাকার বিষয়টিও স্পষ্ট। সরকার আবার ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতিতে ফিরলেও মানুষ খুব একটা উৎসাহ দিচ্ছে না। আর সরকার এবার আগের মতো মাস্ক নিয়ে কোনো অভিযান চালাচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
ব্যাংকে আবারও ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’
করোনার চতুর্থ ঢেউয়ে সাড়ে তিন মাসের সর্বোচ্চ মৃত্যু
করোনার চতুর্থ ঢেউয়েও মাস্কে অনীহা
করোনার চতুর্থ ঢেউয়ে বাংলাদেশ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Why is Dhaka University at the bottom of the world list?

বিশ্ব তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তলানিতে কেন?

বিশ্ব তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তলানিতে কেন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ও কার্জন হল। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
যেসব সূচকের ওপর ভিত্তি করে র‌্যাংকিং করা হয়, সেগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান তলানিতে। শিক্ষাবিদদের মতে, গবেষণা ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার গবেষণার মান নিচের দিকে। এ ছাড়া শিক্ষক অনুপাতে শিক্ষার্থী অনেক বেশি।

শতবর্ষ পুরোনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ভূখণ্ডের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় এবং এখনও এটি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিদ্যাপীঠ। অথচ বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানের তালিকায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান অত্যন্ত করুণ। কোনোটিতে একেবারে তলানিতে; কোনো তালিকায় স্থানই নেই।

বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে প্রতি বছর র‌্যাংকিং প্রকাশ করে বেশ কয়েকটি সংস্থা। এর মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হিসেবে ধরা হয় যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াকোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) র‌্যাংকিংকে। গত পাঁচ বছরের মতো এবারও এ তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান একেবারে পেছনের সারিতে; ৮০১ থেকে হাজারের ঘরে।

র‌্যাংকিংয়ের শুরু যেভাবে

বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিংয়ের ধারণাটি ২০০৩ সালে প্রথম প্রকাশ করেন যুক্তরাজ্যের সিআইবি নেতা রিচার্ড ল্যাম্বার্ট। তিনি ‘দ্য ল্যাম্বার্ট রিভিউ অফ বিজনেস ইউনিভার্সিটি কোলাবোরেশন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ ধারণাটি প্রথম উপস্থাপন করেন। এরপর থেকে বেশ কয়েকটি সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং প্রকাশ শুরু করে। এগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের টাইমস হায়ার এডুকেশন (টিএইচই), কিউএস এবং চীন থেকে প্রকাশিত অ্যাকাডেমিক র‌্যাংকিং অফ ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিজ অন্যতম।

২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত টিএইচই এবং কিউএস একত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং প্রকাশ করে, তবে ২০১০ সাল থেকে কিউএস এবং টিএইচই আলাদাভাবে র‌্যাংকিং প্রকাশ করছে।

সর্বশেষ প্রতিবেদনে যা আছে

কিউএস গত ৮ জুন সর্বশেষ র‌্যাংকিং প্রকাশ করে। ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০২৩’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ১৪ শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

সেই তালিকায় বিশ্বসেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান নেই বাংলাদেশের কোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। এই র‍্যাংকিংয়ে সেরা পাঁচ শর নিচে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয় না। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে কত নম্বরে, তা উল্লেখ করেনি কিউএস।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৮০১ থেকে হাজারের ঘরে ফেলা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে র‍্যাংকিংয়ের সেরা ১ হাজারের শেষ ২০০তে অবস্থান করছে এ বিশ্ববিদ্যালয়।

এর আগে কিউএসের ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালের র‍্যাংকিংয়েও ঢাবির অবস্থান ছিল ৮০১ থেকে হাজারের মধ্যে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে শুধু ঢাবি (৭০১-৭৫০তম) এই র‍্যাংকিংয়ে স্থান পায়।

যেভাবে র‌্যাংকিং করা হয়

কিউএস বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং নির্ণয়ে ছয়টি সূচকের মাধ্যমে সামগ্রিক মান নিরূপণ করে থাকে। এসব সূচক হলো শিক্ষক/গবেষকদের খ্যাতি বা অ্যাকাডেমিক খ্যাতি, নিয়োগকর্তা/নিয়োগের খ্যাতি বা চাকরির বাজারে সুনাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, শিক্ষকপ্রতি গবেষণা উদ্ধৃতি সংখ্যা, আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাত।

ঢাবি তলানিতে কেন

যেসব সূচকের ওপর ভিত্তি করে র‌্যাংকিং করা হয় সেগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান তলানিতে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। তাদের মতে, গবেষণা ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার গবেষণার মান নিচের দিকে। এ ছাড়া শিক্ষক অনুপাতে শিক্ষার্থী অনেক বেশি। এ কারণেই র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ দশা।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন বলেন, ‘র‌্যাংকিংয়ে যেসব বিষয় দেখা হয়, যেমন: বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট, শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি, শিক্ষকের মান, গবেষণায় বরাদ্দ, ছাত্ররা কেমন পরিবেশে থাকে, ইত্যাদি বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কোথায়? যে অবস্থানে আমরা আছি তা-ই তো মিরাকল।’

র‌্যাংকিংয়ে যাওয়ার জন্য যে মানদণ্ডগুলো পূরণ করা দরকার, তার সামর্থ্য ও যোগ্যতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই বলে মনে করেন এই অধ্যাপক।

গবেষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছিয়ে থাকার কারণ উল্লেখ করে এ অধ্যাপক বলেন, ‘বাজেটে গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে, তবে এটাও ঠিক, শুধু বাজেট বাড়ালেই এ অবস্থার পরিবর্তন হবে না। কারণ গবেষণা করার মতো শিক্ষক আগে নিয়োগ দিতে হবে। এটাই তো এখানে হচ্ছে না।

‘একজন শিক্ষক যদি তিন-চার জায়গায় পার্ট টাইম ক্লাস নেন, তাহলে গবেষণা করবেন কীভাবে? অন্য সমস্যাগুলো সমাধান করা সহজ, কিন্তু মানসম্মত গবেষণা চাইলেই সম্ভব না।’

একই ধরনের মত দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এম ওহিদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘র‌্যাংকিংয়ের জন্য যে সূচকগুলো আছে, তার মধ্যে একটা হলো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত। আমাদের শিক্ষক-ছাত্রের অনুপাত বেশি। আমাদের অনেক বিভাগে ১৫০ থেকে ২০০ জন শিক্ষার্থী আছে। এখানে তো লেখাপড়া সম্ভব না। শিক্ষার্থী থাকবে ৫০ জন। এটি স্ট্যান্ডার্ড, কিন্তু আমরা সেটি করতে পারছি না বা করি না।’

গবেষণা কম হওয়াও র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে যাওয়ার কারণ বলে মনে করেন ওহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কম হচ্ছে, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এ ছাড়া ডিজিটাল ইনডেক্স থাকা, প্রকাশনাগুলোকে ডিজিটালাইজড করার দিকেও আমাদের নজর দিতে হবে। অর্থাৎ আমরা যে কাজগুলো করছি, সেগুলোকে সিস্টেমে আনা যেন সেগুলো সবাই দেখতে পারে আর সাইটেশন করতে পারে।’

জার্নালের মান এবং ডিগ্রির মান বৃদ্ধি করা উচিত বলেও মনে করেন এ অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘ডিগ্রির মান নির্ণয়ের জন্য একটা নীতিমালা প্রয়োজন। কিশোরগঞ্জ বা মানিকগঞ্জের সংস্কৃতির ইতিহাস নিয়ে যদি পিএইচডি হয়, তাহলে এর থেকে আপনি কী পাবেন? প্রবন্ধ লেখা আর পিএইচডি ডিগ্রি থিসিস পেপার তো এক না। এগুলোই আমাদের বড় সমস্যা। এ জন্যই আমরা বারবার র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়ছি।’

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যদি বলা হয় প্রমোশনের জন্য ১৮টা ডিগ্রি লাগবে, তাহলে একজন বছরে ১৬টা করবে। যে নোবেল পুরস্কার পায়, সে তো একটার ওপর গবেষণা করে নোবেল পায়। আমাদের ডিগ্রিগুলো এখন ‘ডিগ্রি ফর প্রমোশন’ হয়ে গেছে। ডিগ্রি ফর প্রমোশন যদি আমরা দিই, তাহলে সেই মানের গবেষণা হবে না। এগুলোর দিকে নজর দেয়া দরকার।”

মানসম্মত গবেষণা না হওয়ার পেছনে ব্যবস্থাকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘পদোন্নতি পেতে কোনো কোনো পদে পাঁচটি গবেষণা থাকতে হয়, কিন্তু ভালো জার্নালে মানসম্মত নিবন্ধ প্রকাশ করতে সময় প্রয়োজন। তাই এ ক্ষেত্রে শিক্ষকরা অনেক সময় তাড়াহুড়ো করে। এসব ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে। না হলে কখনোই আপনি মানসম্মত গবেষণা পাবেন না।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মনে করেন, বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে যেসব ক্রাইটেরিয়া পূরণ করতে হয়, তা থেকে অনেক পিছিয়ে আছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

তিনি বলেন, ‘মোট ছয়টি সূচকের ওপর ভিত্তি করে র‌্যাংকিং করা হয়। এই সূচকগুলোতে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, অ্যাকাডেমিক খ্যাতি, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাতে এগুলোয় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত গবেষণা হচ্ছে না বলে মনে করেন নজরুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় মানসম্মত গবেষণা হচ্ছে না। এর জন্য বাজেট, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ, নিজের আগ্রহের মতো বিষয়গুলো জড়িত।’

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এত নিচে কেন জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো আখতারুজ্জামান বলেন, ‘কারা কী র‌্যাংকিং করল, এগুলো এখন একেবারেই দেখি না। কারণ র‌্যাংকিংয়ের জন্য কতগুলো মৌলিক প্যারামিটার আছে, সেই প্যারামিটারগুলো অ্যাড্রেস করার আগে র‌্যাংকিং বিষয়টা ভাবা উচিত নয়। এগুলোর উন্নয়ন না ঘটিয়ে র‌্যাংকিংয়ের বিষয়ে আমরা অ্যাটেনশন দেব না।’

আরও পড়ুন:
ঢাবি শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হলছাড়া করার অভিযোগ
‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেয়া নিয়ে ঢাবি সিনেটে হট্টগোল
ঢাবির ৯২২ কোটি টাকার বাজেট পাস
মহানবীকে কটূক্তির প্রতিবাদে ঢাবিতে ‘নাত’ পাঠ
ঢাবিতে নারী হেনস্তার বিচার চায় ছাত্র ইউনিয়ন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
How powerful the militants are now

জঙ্গিরা এখন কতটা শক্তিশালী

জঙ্গিরা এখন কতটা শক্তিশালী ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গ্রেনেড নিয়ে হামলা চালায় জঙ্গিরা। ভোরে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোদের নেতৃত্বে পুলিশ ও র‍্যাব যৌথ অভিযান চালায় ওই ভবনে। ফাইল ছবি
হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর গত ছয় বছরে জঙ্গি কার্যক্রম অনেকটা অনলাইনভিত্তিক হয়ে পড়েছে। সেটিও গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে আছে। জঙ্গি সংগঠনগুলোকে এখন একটি পর্যুদস্ত শক্তি বলে মনে করেন নিরাপত্তাসংশ্লিষ্টরা। তাদের পক্ষে সঙ্ঘটিত হয়ে বড় হামলা চালানো সম্ভব নয়।

রাজধানীর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা ছিল দেশে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সামর্থ্যের সবচেয়ে বড় প্রদর্শন। এতে প্রাণ হারিয়েছিলেন দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২২ দেশি-বিদেশি নাগরিক। ভয়াবহ এই হামলার পর ছয় বছর কেটে গেছে।

হামলার পর দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়াশি অভিযানে নতুন কোনো হামলা বা নাশকতা চালানোর সক্ষমতা হারিয়েছে জঙ্গিরা। এখন জঙ্গি কার্যক্রম অনেকটা অনলাইনভিত্তিক হয়ে পড়েছে। সেটিও গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে আছে। জঙ্গি সংগঠনগুলোকে এখন একটি পর্যুদস্ত শক্তি বলে মনে করেন নিরাপত্তাসংশ্লিষ্টরা।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত ৮টা ৪২ মিনিটে গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের হোলি আর্টিজান বেকারিতে পাঁচ জঙ্গি আগ্নেয়াস্ত্র ও গ্রেনেড নিয়ে হামলা চালায়। সেখানে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায় তারা। বেকারিতে আসা দেশি-বিদেশি অতিথিদের বেছে বেছে হত্যা করতে শুরু করে, স্টাফদের রাতভর জিম্মি করে রাখে।

রাত পেরিয়ে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোদের নেতৃত্বে পুলিশ ও র‌্যাব যৌথ অভিযান চালায় ওই ভবনে। অভিযানের নাম দেয়া হয় ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’।

কমান্ডো অভিযানে মারা যায় পাঁচ জঙ্গি। তারা হলো রোহান ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, মীর সামিহ মোবাশ্বের, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল। উদ্ধার করা হয় হোলি আর্টিজান বেকারিতে জিম্মি অবস্থায় থাকা অতিথি ও স্টাফদের।

জঙ্গিদের হামলায় পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম, ওসি সালাউদ্দিনসহ ২২ জন নিহত হন। বাকি নিহতদের মধ্যে ৯ জন ইতালির নাগরিক, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয় এবং একজন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক। বাকি দুজন বাংলাদেশি নাগরিক। তারা হলেন ইশরাত আকন্দ ও ফারাজ আইয়াজ হোসেন।

হোলি আর্টিজানে হামলার পর দেশব্যাপী সাড়াশি অভিযানে নামে সিটিটিসি, র‌্যাবসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট। এসব অভিযানে একে একে শীর্ষ জঙ্গিদের একটা বড় অংশ মারা যায়। বাকিরা ধরা পড়ে।

সিটিটিসি জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর সারা দেশে ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালিয়েছে সংস্থাটি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত এসব অভিযানে ৬৩ জঙ্গি নিহত হয়।

র‌্যাবের দেয়া তথ্যমতে, তারা চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত ৭৭৯টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে আস্তানা ছিল ৫৪টি। এসব অভিযানে বিভিন্ন সংগঠনের ১ হাজার ৬৭৮ জঙ্গি গ্রেপ্তার হয়েছে। আত্মসমর্পণ করেছে ১৬ জন।

পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ১০৮টি অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে ১৭৩ জঙ্গি।

হামলার ছয় বছর পর বর্তমানে দেশে জঙ্গিবাদ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ইতিহাসে অন্যতম বড় একটি ঘটনা হোলি আর্টিজান। মামলার তদন্তভার সিটিটিসির ওপর বর্তায়। সংস্থাটি মামলার তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে এই মামলার রায় হয়েছে।

‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছিল, তাদের একজন বাদে সবাইকে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দিয়েছে আদালত। সিটিটিসি জঙ্গিদের প্রায় সকল আস্তানা খুঁজে বের করে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তাদের নেটওয়ার্ক বিধ্বস্ত করে দেয়া হয়েছে। হোলি আর্টিজানের পরে যেসব অভিযান হয়েছে, তার প্রায় সবই হয়েছে জঙ্গিদের আস্তানায়।’

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এরপর আমরা জঙ্গি সংগঠনগুলোর আর কোনো অপারেশন লক্ষ করিনি। বিচ্ছিন্ন যা দুয়েকটা ছিল, সেগুলো যৎসামান্য। পরবর্তীতে সেগুলোও আমরা উদঘাটন করেছি। এর পেছনে যারা ছিল, সকলকেই সিটিটিসি গ্রেপ্তার করেছে।

‘সর্বশেষ ২০২১ সালে মে মাসে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ বক্সের পাশে যে একটা আইইডি (হাতে বানানো বিস্ফোরক) তারা রেখে এসেছিল, সেটার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করেছি। এমনকি তারা যে আস্তানায় বসে আইইডি প্রস্তুত করেছিল, এর সঙ্গে যারা যারা জড়িত, সবাইকে আমরা অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছি।’

জঙ্গিরা হামলার সক্ষমতা হারিয়েছে জানিয়ে সিটিটিসি প্রধান বলেন, ‘গত দুই বছরে জঙ্গি সংগঠনগুলোর কোনো অপারেশন আপনারা দেখেন নাই। আমরা বলব, জঙ্গিদের সে রকম কিছু করার সক্ষমতা নাই। কোনো ধরনের সক্ষমতা নাই।

‘সিটিটিসির আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের কার্যক্রমের কারণে জঙ্গিদের তৎপরতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। কোনোভাবেই তাদের পুনরায় সঙ্ঘটিত হতে দেব না। এটা আমাদের অঙ্গীকার। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর যে জিরো টলারেন্স, সেটাকে আমরা প্রিন্সিপাল ধরে কাজ করছি।’

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাগাতার অভিযান ও দেশের মানুষের সহযোগিতায় জঙ্গিরা দেশে স্থায়ী হতে পারেনি। তারা পরাজিত শক্তিতে পরিণত হয়েছে বলে জানান।’

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হোলি আর্টিজান-পরবর্তী জঙ্গিবাদ অনেকটা অনলাইনভিত্তিক হয়ে পড়ছিল। বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গিবাদকে কখনই প্রশ্রয় দেয়নি। বিভিন্ন সময়ে দেশে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাগাতার অভিযানে তাদের অনেককেই গ্রেপ্তার করেছি।

‘বাংলাদেশে আজ জঙ্গিবাদ পরাজিত শক্তিতে রূপ নিয়েছে। আমরা এটা শুধুমাত্র অভিযান করে পারিনি, এর মূল শক্তি জনগণ। দেশের জনগণ কখনই তাদের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। যে কারণে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক এ দেশে স্থায়িত্ব পায়নি।’

খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘হোলি আর্টিজানের পর র‌্যাব দেশব্যাপী সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রায় ১৬০০ জঙ্গি গ্রেপ্তার করেছি। এদের মধ্যে প্রায় ৯০০ জেএমবি। শুধু অভিযান করেই থেমে থেকেছি এমন নয়, সাইবার স্পেসে নিয়মিত মনিটরিং করে, জঙ্গিবাদে যারা জড়িয়ে যাচ্ছে, তাদের র‌্যাবের সাইবার মনিটরিং সেলের মাধ্যমে শনাক্ত করেছি। তাদের নিয়ে এসে কাউন্সিলিং করে ডির‌্যাডিক্যালাইজ করেছি। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি।

‘যাদের জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, আমরা তাদেরকেই গ্রেপ্তার করি না। কেউ কট্টরভাবে জড়িয়ে না গেলে তাদের ডির‍্যাডিক্যালাইজ করি, পরিবারের কাছে দেই এবং নজরদারির মধ্যে রাখি।

‘আমাদের এই ধরনের কার্যক্রম চলমান আছে। তবে আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। নিয়মিত সাইবার মনিটরিং চলছে, আমাদের হিউম্যান ইন্টেলিজেন্ট চলমান রয়েছে। একসময়ে যারা জঙ্গিবাদের নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের কেউ কেউ বহু বছর ধরে লুকিয়ে ছিল। তাদের আমরা খুঁজে বের করে আইনের হাতে তুলে দিচ্ছি। লুকিয়ে থেকে সদস্য সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহ করে পুনরায় উজ্জীবিত হয়ে সঙ্ঘটিত হতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের আভিযানিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

সাতজনের ফাঁসির রায়, একজনকে অব্যাহতি

হোটি আর্টিজান হামলার দুই বছর পর ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর।

তৎকালীন সিটিটিসির প্রধান (বর্তমান এসবি প্রধান) মনিরুল ইসলাম সেদিন বলেন, ‘২১ জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছি। এর মধ্যে ১৩ জন বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে। নিহতদের ভূমিকা উল্লেখ করে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাকি আটজনকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে।’

এ মামলায় ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর বিচারিক আদালত রায় ঘোষণা করে। রায়ে সাত জঙ্গিকে ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত।

এরা হলো জাহাঙ্গীর হোসেন, আসলাম হোসেন র‌্যাশ, মো. হাদিসুর রহমান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, মো. আব্দুল সবুর খান, শরিফুল ইসলাম খালেক ও মামুনুর রশীদ রিপন। প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়।

মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান খালাস পায়।

আরও পড়ুন:
হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষায় হোলি আর্টিজান মামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The fourth wave of the corona is also reluctant to mask

করোনার চতুর্থ ঢেউয়েও মাস্কে অনীহা

করোনার চতুর্থ ঢেউয়েও মাস্কে অনীহা সরকার আবার ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি ঘোষণা করলেও মাস্ক পরছে খুব কমসংখ্যক মানুষই। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
করোনা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা থেকে বাঁচতে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ইতোমধ্যে সরকার একটি নির্দেশনা দিয়েছে, তবে তার বাস্তবায়ন চোখে পড়েনি। নো মাস্ক, নো সার্ভিস নির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকাকে উদ্যোগী হতে হবে। একই সঙ্গে জনগণকে সচেতন হতে হবে।’

করোনাভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার আগে আগে সরকার আবার ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি ঘোষণা করলেও ভ্রুক্ষেপ নেই সাধারণের। মাস্ক পরছে খুব কমসংখ্যক মানুষই।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নির্দেশনা দিলেই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আসবে না। এই নীতি বাস্তবায়নে প্রশাসনকে মাঠে থাকতে হবে।

গত ১৬ জুন থেকে প্রতি দিনই পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার টানা ১৪ দিন ৫ শতাংশের বেশি হওয়ায় এরই মধ্যে বাংলাদেশের করোনার চতুর্থ ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

যেদিন চতুর্থ ঢেউয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তার আগের দিন মঙ্গলবার সরকারের পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হয়, তাতে ধর্মীয় প্রার্থনার স্থান, শপিং মল, বাজার, হোটেল-রেস্টুরেন্টে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে। মাস্ক না পরলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

করোনার চতুর্থ ঢেউয়েও মাস্কে অনীহা

সরকার আবার ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি ঘোষণা করলেও ভ্রুক্ষেপ নেই সাধারণের। মাস্ক পরছে খুব কমসংখ্যক মানুষই। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

তবে বুধবার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো নমুনা চোখে পড়েনি। নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাউকে মাঠেই পাওয়া যায়নি।

এটাও ঠিক, প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনা যতটা প্রাণঘাতী ছিল, তৃতীয় ঢেউয়ে ছিল না ততটা। চতুর্থ ঢেউ যেদিন নিশ্চিত হয়, সেদিনসহ পর পর তিন দিন রোগী পাওয়া গেছে দুই হাজারের বেশি। তবে এই রোগীদের মধ্যে জটিলতা কম। হাসপাতালে চাপ কম, রোগীর মৃত্যুও প্রথম তিন ঢেউয়ের তুলনায় অনেক কম।

চতুর্থ ঢেউ নিশ্চিত হওয়ার দিন দুই হাজারের বেশি মানুষের দেহে করোনা শনাক্ত হলেও ২৪ ঘণ্টায় শূন্য মৃত্যুর স্বস্তিদায়ক তথ্যও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তবে জনগণের এমন উদাসীনতা চলতে থাকলে করোনা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে প্রভাতী উচ্চ বিদ্যানিকেতন ও ইস্পাহানী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঘুরে ছাত্রীদের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি বললেই চলে।

ইস্পাহানীর দশম শ্রেণির ছাত্রী তাহমিনা বিনতে রশিদ বলে, ‘এখন তো করোনা কমে গেছে। আর আমার করোনার টিকাও দেয়া হয়েছে, তাই মাস্ক তেমন একটা পরা হয় না।’

প্রভাতীর সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মারুফ হোসাইন বলে, ‘টিকা দেয়ার পর এখন আর করোনাকে ভয় পাই না। তাই সব সময় মাস্ক পরা হয় না।’

করোনার চতুর্থ ঢেউয়েও মাস্কে অনীহা

মাস্ক পরার বিষয়ে জনগণের এমন উদাসীনতা চলতে থাকলে করোনা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘বাহন পরিবহনে’ উঠে দেখা যায় অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। এ বিষয়ে কাউকে চিন্তিতও দেখা গেল না।

মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে একজন যাত্রী মুখ ভেংচিয়ে বলেন, ‘এমনি’।

করোনা বাড়ছে বলার পর তিনি বলেন, ‘মাস্ক পরলে গরম লাগে।’

এটুকু বলেই মুখ উল্টোদিকে ঘুরিয়ে নিলেন।

একটি পরিবহন সার্ভিসের টিকিট কালেক্টর মোহাম্মদ তাওহীদ বলেন, ‘মানুষ বেশির ভাগই তো দেখি মাস্ক পরে না।’

তাওহীদ নিজেও মাস্ক পরেননি। বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেন, ‘আমার মাস্ক পরার সময় নাই। আগে কাজ করতে হবে।’

করোনা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা থেকে বাঁচতে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ইতোমধ্যে সরকার একটি নির্দেশনা দিয়েছে, তবে তার বাস্তবায়ন চোখে পড়েনি। নো মাস্ক, নো সার্ভিস নির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকাকে উদ্যোগী হতে হবে। একই সঙ্গে জনগণকে সচেতন হতে হবে।’

করোনার চতুর্থ ঢেউয়েও মাস্কে অনীহা

করোনার সংক্রমণ রোধে মাস্ক পরার বিষয়ে অনেকেরই এমন উদাসীনতা রয়েছে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোশতাক হোসেনের ধারণা করোনার চতুর্থ ঢেউ এবার বেশিদিন স্থায়ী হবে না।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ওমিক্রনের যে সংক্রমণ আমরা দেখেছি, সেটা দ্রুত সময়ের মধ্যে সংক্রমণ চূড়ায় উঠে আবার দ্রুত নেমে গেছে। করোনার চতুর্থ ঢেউয়ে ওমিক্রনের যে দুটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, এটি আরও দ্রুত সংক্রমিত করতে সক্ষম। আমার ধারণা, এই হার জুলাইয়ের মধ্যে নেমে যাবে।’

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একই বছরের মার্চে ডেল্টা ধরনের করোনায় আসে দ্বিতীয় ঢেউ। এ পর্যায়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় গত জুলাইয়ে। একপর্যায়ে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর দেশে তৃতীয় ঢেউ নিয়ে আসে করোনার আরেক ধরন ওমিক্রন। তৃতীয় ঢেউয়ের সময় ২৮ জানুয়ারি করোনা শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ দাঁড়ায়, যা দেশে করোনা সংক্রমণ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। তবে তৃতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত বেশি হলেও মৃত্যু ছিল তুলনামূলক কম। এই ঢেউ দ্রুত নিয়ন্ত্রণেও আসে। গত ১১ মার্চ তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মাস্ক পরা ছাড়া করোনাসংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ তুলে দেয়া হয়। তবে জনগণের মধ্যে মাস্ক পরা নিয়ে অনীহার বিষয়টি আবার দেখা যায়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Jessore traders hoping to make a profit from the sacrifice

কোরবানিতে লাভের আশায় যশোরের ব্যবসায়ীরা

কোরবানিতে লাভের আশায় যশোরের ব্যবসায়ীরা আসন্ন কোরবানি ঈদ উপলক্ষে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত পশু খামারিরা। ছবি: নিউজবাংলা
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক বলেন, ‘যশোর জেলায় এবার কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে গরু-ছাগল উদ্বৃত্ত থাকবে। ইতোমধ্যে কোরবানির পশুহাট শুরু হয়েছে।’

আসন্ন কোরবানি ঈদে যশোরে চাহিদার চেয়েও পশুর সরবরাহ বেশি বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর। এতে কোরবানির পরও জেলায় ৪ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চাহিদার চেয়ে যোগান বেশি হওয়ায় দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন জেলার পশু খামারিরা। পশুখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরু মোটাতাজাকরণে তাদের ব্যয় বেড়েছে অনেক। সেই অনুযায়ী দাম না পেলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, আসন্ন কোরবানি উপলক্ষে যশোর জেলায় গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে ৯১ হাজার ১৮৮টি। এর মধ্যে গরু ২৭ হাজার ৯৫৫টি, ছাগল ৬২ হাজার ৬৭৬টি ও ভেড়া ৫৫৭টি।

বিপরীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৯৫ হাজার ৭১০টি পশু। এর মধ্যে গরু ২৯ হাজার ১৭০, ছাগল ৬৫ হাজার ৯৮৩ এবং ভেড়া ৫৫৭টি। উদ্বৃত্ত পশুর সংখ্যা ৪ হাজার ৫২২টি। এর মধ্যে ১ হাজার ২১৫টি গরু আর ছাগল ৩ হাজার ৩০৭টি।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর আরও জানিয়েছে, যশোরের ৮ উপজেলায় মোট ২১টি পশুহাট রয়েছে। কোরবানি উপলক্ষে এই হাটগুলোতে মোট ২৪টি মেডিক্যাল টিম কাজ করবে। রোগাক্রান্ত ও অসুস্থ পশু যেন হাটে বিক্রি না হয়, তার দেখভাল করবে এই টিমগুলো।

যশোর সদরের বাহাদুরপুর গ্রামের খামারি জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি কোরবানির জন্য ৫টি গরু মোটাতাজাকরণ করেছেন। প্রতিদিন একটি গরুর পেছনে তার ব্যয় হচ্ছে ১৭০-২০০ টাকা।

গতবার চাহিদা অনুযায়ী পশু বিক্রি করতে পারেননি দাবি করে তিনি বলেন, ‘করোনা না থাকায় আশা করছি এবার ভাল দামে গরু বিক্রি করতে পারবো।’

কোরবানিতে লাভের আশায় যশোরের ব্যবসায়ীরা

অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি গ্রামে রয়েছে পরশ অ্যাগ্রো লিমিটেডের ২০২টি গরু। কোরবানির পশুহাটে গরুগুলো বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক হাসানুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বাণিজ্যিকভাবে গরু লালন-পালন করি। আমাদের খামারের সব গরু দেশি প্রজাতির। ক্রেতাদের পছন্দ হবার পর আমরা দরদাম করে গরু বিক্রি করব।’

খামারিরা জানিয়েছেন, গত দুই বছর করোনার মধ্যে কোরবানি ঈদ হয়েছে। ফলে লকডাউনসহ অর্থনৈতিক কারণে কোরবানি কম হয়েছে। পশু বিক্রি কম হওয়ায় খামারিদের লোকসানও গুণতে হয়েছে। এ বছর করোনামুক্ত ঈদ হওয়ায় তারা আশায় বুক বেঁধেছেন।

খামারিরা আরও জানান, অধিকাংশ খামারি নিজেদের গচ্ছিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজি বিনিয়োগ করে কুরবানির পশু পালন করছেন। আবার অনেকের রয়েছে ব্যাংক ও এনজিওর ঋণ। চাহিদার উদ্বৃত্ত থাকায় দেশি পশুতেই এবার কোরবানি হবে। কিন্তু সেটির প্রভাব দামের উপরে পড়ে কিনা তা নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে।

এদিকে, পশুখাদ্যের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় গরু ছাগল লালন পালনে খরচও অনেক বেড়েছে। ব্যাপারীরা ইতোমধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরু ছাগল দেখছেন। কিন্তু তারা দাম বলছেন চাহিদার তুলনায় কম। ফলে দাম নিয়ে শঙ্কা থাকলেও খামারিরা আশা করছেন, পুরোদমে হাট শুরু হলে ভাল দাম পাওয়া যাবে।

এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক বলেন, ‘যশোর জেলায় এবার কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে গরু-ছাগল উদ্বৃত্ত থাকবে। ইতোমধ্যে কোরবানির পশুহাট শুরু হয়েছে। জেলার হাটগুলোর জন্য ২৪টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। সুস্থ ও সবল পশু ক্রয়-বিক্রয়ে সহযোগিতার জন্য এই টিমগুলো হাটে কাজ করছে। আমরা খামারিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। তাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখভাল করছি।’

আরও পড়ুন:
‘নানা ভাই’কে পেতে গুনতে হবে ১০ লাখ টাকা
বরিশালের হা‌নি সিং, নাটোরের বস
কোরবানিতে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু
এক বছরে আরও হৃষ্টপুষ্ট ‘রাসেল বস’
গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে লোকসানের শঙ্কায় খামারিরা

মন্তব্য

p
উপরে