× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
The goat is walking around the UNO office
hear-news
player
print-icon

ইউএনওর অফিসে ছাগলের আনাগোনা

ইউএনওর-অফিসে-ছাগলের-আনাগোনা
ফরিদপুরের সালথার ইউএনও কার্যালয়ের সামনে তাছলিমা আক্তারের দুই ছাগল। ছবি: নিউজবাংলা
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ বাউন্ডারির মধ্যেই আমার, চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার। আমি ও চেয়ারম্যানসহ অনেকেই ছাগল পালন করি। সামনে কোরবানির ঈদ হওয়ায় ছাগলগুলো পালন করছি। আমার দুটো ছাগল আছে।’

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদ ভবনের দোতলায় ঘোরাঘুরি করে দুই ছাগল। সেখানেই খাবার খায়। মেঝেতে মল-মূত্র ত্যাগ করে; নষ্ট করে টবের গাছ।

কর্মদিবসগুলোতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাছলিমা আক্তারের কার্যালয়ের সামনে দেখা যায় এমন চিত্র।

উপজেলা পরিষদ ভবনে ছাগল দুটির উৎপাত নিয়মিত সইতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন সেখানকার একাধিক কর্মী। ছাগলের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারাও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মীদের অভিযোগ, উপজেলা পরিষদের বারান্দা ও বাগানের সৌন্দর্য বাড়াতে যে গাছ লাগানো হয়েছে, তা খেয়ে নষ্ট করছে ছাগলগুলো। ভবনের বারান্দাসহ যেখানে-সেখানে মল-মূত্র ত্যাগ করছে এগুলো।

তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারা ছাগলের উৎপাতে বিরক্ত হলেও প্রাণী দুটি ইউএনওর হওয়ায় খোলেন না মুখ।

ইউএনওর অফিসে ছাগলের আনাগোনা

কী বলছেন সেবাগ্রহীতারা

সালথা বাজারের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী পরিমল চন্দ্র সাহা বলেন, “উপজেলা অফিসের দোতলার সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে দেখি সিঁড়িতে ছাগলের পায়খানা ছড়িয়ে আছে। ছাগল প্রস্রাব করায় সিঁড়ি পিচ্ছিল হয়ে গেছে। সিঁড়ির রেলিং ধরে দুর্গন্ধে নাক চেপে উপরে উঠে দেখি, ইউএনওর রুমের সামনে দুটি ছাগল।

“আমি চেঁচিয়ে ছাগল তাড়াতে গেলে ইউএনওর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পিয়ন আমাকে চুপ করতে বলে বলেন, ‘এগুলা স্যারের (ইউএনও) ছাগল। কথা বইলেন না।’ আমি শুধু বললাম, ‘ইউএনও স্যারের সঙ্গে তার ছাগলও অফিস করে!’”

উপজেলা পরিষদে সেবা নিতে আসা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ থাকবে পরিষ্কার-পরিছন্ন, যেখানে মানুষ সেবা নিতে এসে পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু এ কী অবস্থা দেখছি?’

ইউএনও-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য

কর্মস্থলে ছাগলের বিচরণ নিয়ে জানতে চাইলে সালথার ইউএনও তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ বাউন্ডারির মধ্যেই আমার, চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার। আমি ও চেয়ারম্যানসহ অনেকেই ছাগল পালন করি। সামনে কোরবানির ঈদ হওয়ায় ছাগলগুলো পালন করছি। আমার দুটো ছাগল আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাগলগুলো ছেড়ে পালন করা হয়। এতে অনেক সময়ই পরিষদের বারান্দায় চলে আসে।’

গাছের ক্ষতি ও মেঝে নোংরা করার পরও ছাগল উপজেলা পরিষদে কেন আনা হয় জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ‘ছাগলগুলো বারান্দায় আসলে তো আর মেরে ফেলতে পারি না। তাদেরকে তাড়িয়ে দিই।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরুল্লাহ আহসান বলেন, ‘সরকারি অফিস চত্বরে গবাদি পশু পালনের কোনো সুযোগ নেই, তবে কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে পালন করে তাতে জনগণকে বিরক্ত বা মালের ক্ষতি করা যাবে না। আইনিভাবে কোথাও নেই সরকারি প্রতিষ্ঠানে গবাদি পশু লালন-পালন করা যাবে।

‘অনেক সময় সরকারি কোয়ার্টারের ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গবাদি পশু লালন পালন করে থাকে, তবে সেটা অবশ্যই কোয়ার্টারের মধ্যে বেঁধে পালন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অফিসের মধ্যে মানুষকে বিরক্ত করার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে কেউ চাইলে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। সেনসেটিভ ইস্যু নিয়ে শাস্তিগত ব্যবস্থা কী হতে পারে, তা বলতে পারছি না।’

অফিস চত্বরে ছাগল পালন করে জানমালের ক্ষতি হলে কোনো ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা আছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয় ওই কর্মকর্তার কাছে।

ইউএনওর অফিসে ছাগলের আনাগোনা

জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে এ রকম কোনো শাস্তির ব্যবস্থা আছে কি না আমার জানা নাই, তবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়ে থাকলে তারা তাদের বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।’

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অতুল সরকার সালথা উপজেলা পরিষদে ছাগল পালনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, ‘এ সম্পর্কে সালথার নির্বাহী কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন। এটা তার বিষয়। আপনি তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলেন।’

ছাগল পালনের বৈধতা আছে কি না জানতে চাইলেও একই উত্তর দেন ডিসি।

আরও পড়ুন:
ছাগলকে জরিমানা করা সেই ইউএনওকে বদলি
ছাগলকে কি জরিমানা করতে পারেন ইউএনও?
ইউএনও মেটালেন ছাগলের জরিমানা, ফেরত পেলেন মালিক
ছাগলকে ইউএনওর জরিমানা
ছাগল ছানার আট পা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Accused of hacking the boy to death

ছেলেকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

ছেলেকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছে আব্দুল হাকিমের মরদেহ। ছবি; নিউজবাংলা
হাকিমের স্ত্রী রিমা খাতুন জানান, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আজিজুর রহমান ব্যাগে রাখা হাঁসুয়া বের করে নিজের ছেলে হাকিমের গলায় কোপ দেন। তিনি বাধা দিতে গেলে তাকেও কোপান। লোকজন তাদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক হাকিমকে মৃত ঘোষণ করেন।

নাটোরের লালপুরে আজিজুর রহমান খলিফা হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে নিজের ছেলে আব্দুল হাকিমকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বড় ময়না গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হাকিমের স্ত্রী রিমা খাতুন জানান, বেলা সোয়া ৩টার দিকে তার স্বামী আব্দুল হাকিম কাজ শেষে বাড়ি ফেরেন। এ সময় এক ব্যক্তিকে জমি ইজারা দিতে চাইলে তার শ্বশুর আজিজুর রহমান খলিফার সঙ্গে শাশুড়ি হাফিজা বেগমসহ অন্য সন্তানদের ঝগড়া বাধে।

তিনি জানান, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আজিজুর রহমান ব্যাগে রাখা হাঁসুয়া বের করে হাকিমের গলায় কোপ দেন। তিনি বাধা দিতে গেলে তাকেও কোপান।
হাঁসুয়ার কোপে তার বাম হাতের কবজি কেটে গেছে।

পরিবারের লোকজন তাদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎক হাকিমকে মৃত ঘোষণ করেন।

রিমা খাতুন জানান, ৪২ বছর বয়সী হাকিম ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করতেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হাসানুজ্জামান জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছার আগেই আব্দুল হাকিম মারা যান। গলায় হাঁসুয়ার কোপে রক্তনালি কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। আহত রিমা খাতুন চিকিৎসাধীন।

লালপুর থানার ওসি মনোয়ারুজ্জামান জানান, পারিবারিক কলহের জেরে আব্দুল হাকিম কয়েক মাস আগে তার বাবা আজিজুর রহমানকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। প্রায় ছয় মাস তিনি ওয়ালিয়া বাজারে নিজের দর্জি দোকানে ছিলেন।

তিনি জানান, দুপুরে তিনি দোকান থেকে বাড়ি গেলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে খুনের ঘটনা ঘটে। মরদেহ লালপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষক হত্যা: জিতুর দায় স্বীকার
আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী নয়, তৈরি হচ্ছে সেমাই
গাজী আনিসের আত্মহত্যা পাওনা টাকা না পেয়ে: র‍্যাব
গায়ে আগুন দেয়া ব্যবসায়ী গাজী আনিসের দাফন
ব্লগার অনন্ত হত্যা: ভারতে গ্রেপ্তার ফাঁসির আসামি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Passenger and car pressure in Paturia just before Eid

ঈদের আগ মুহূর্তে পাটুরিয়ায় যাত্রী ও গাড়ির চাপ

ঈদের আগ মুহূর্তে পাটুরিয়ায় যাত্রী ও গাড়ির চাপ পাটুরিয়া ফেরিঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ জানান, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর দৌলতদিয়ায় যাত্রী ও যানবাহন কমে গেলেও এখন বেড়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক মানুষ ঈদে পাটুরিয়া দিয়ে যাতায়াত করছেন।

পদ্মা সেতু চালুর পর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রী ও যানবাহন কমলেও ঈদের আগ মুহূর্তে বেড়েছে। ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে এই নৌপথে নেমেছেন অনেকে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঈদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ২১ এবং আরিচা-কাজিরহাটে চারটি ফেরি চলাচল করছে।

সরেজমিন দেখা যায়, গত কয়েক দিনের তুলনায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে ফেরি ও লঞ্চঘাটে।

মোংলাগামী বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘চাকরির জন্য মিরপুর ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। গাবতলী থেকে বাসে পাটুরিয়া হয়ে মোংলা যাতায়াত করি। গাবতলী থেকে সায়েদাবাদ হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে মোংলা যেতে বেশি সময় লাগে।’

সাতক্ষীরা যাবেন আবু হেনা। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ঢাকার উত্তর সিটিতে চাকরি এবং বসবাস করি। আমাদের জন্য পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া যাতায়াতের জন্য সুবিধা, বিশেষ করে বড় উৎসবে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য। রাস্তায় ভোগান্তি কম হয়, খুব একটা যানজটে পড়তে হয় না।’

মাগুরা, ঝিনাইদহ ও যশোরের রাসেল শেখ, পলাশ মিয়া ও হাবিবুল্লাহ জানান, ‘আমরা পাটুরিয়া দিয়ে যাচ্ছি। মাওয়া দিয়ে আমাদের উল্টা হয়। গাবতলী বা শ্যামলী থেকে সায়েদাবাদ যেতে গাড়িতে ভোগান্তি। সময় নষ্ট আর প্রচুর কষ্ট করতে হয়। পাটুরিয়া দিয়ে গেলে এত কষ্ট করতে হয় না। শুধু ফেরিঘাটে একটু সময় লাগে। এ কারণে উত্তর ঢাকার অধিকাংশ লোক এখনও পাটুরিয়া হয়ে গ্রামের বাড়িতে যায়।’

কমফোর্ট লাইন পরিবহনের চালক বিল্লাল মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চাইলেই বাস নিয়ে পদ্মা সেতু পার হওয়া যায় না। ওই রুটের পারমিট লাগে। যারা রুট পারমিট পাইছে, তারা পদ্মা সেতু দিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা যারা রুট পারমিট পাই নাই, তারা এই রুটে চলাচল করছি।’

পাটুরিয়া লঞ্চ মালিক সমিতির সুপারভাইজার পান্না লাল নন্দি বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালুর পর তো যাত্রী একেবারে কমে গিয়েছিল। ঈদের আগে দেখে যাত্রী কিছুটা বেড়েছে। আগের মতো না হলেও ৬০ ভাগ যাত্রী এখন লঞ্চে পার হচ্ছে। কয়েক দিন আগে আধা ঘণ্টা পর লঞ্চ ছাড়া হলেও এখন ১০ মিনিট পরপর ছাড়া হচ্ছে। ৩৩টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পারাপার হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ জানান, পদ্মার সেতুর উদ্বোধনের পর দৌলতদিয়ায় যাত্রী ও যানবাহন কমে গেলেও এখন বেড়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক মানুষ ঈদে পাটুরিয়া দিয়ে যাতায়াত করছেন।

আরও পড়ুন:
‘গাড়ি দুইডা নদীতে, ভিক্ষা ছাড়া উপায় নাই’
আমানত শাহকে উদ্ধারে রুস্তম
ফেরিটির ‘ফিটনেস ছিল না’
ফেরিতে ভারসাম্য রাখার ব্যালাস্ট ট্যাংক কী
পাটুরিয়ায় আংশিক ডুবে যাওয়া ফেরি: তদন্ত কমিটি গঠন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Obstacles to crossing the ferry launch by boat with bikes

ফেরি-লঞ্চে পারাপারে বাধা, বাইক নিয়ে নৌকায়

ফেরি-লঞ্চে পারাপারে বাধা, বাইক নিয়ে নৌকায় নৌকায় করে ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার করছেন চালকরা। ছবি: নিউজবাংলা
মোটরসাইকেলচালক ইমরান হোসেন বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল ঈদে মোটরসাইকেলে করে পদ্মা সেতু পাড়ি দেব। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে সেটি পূরণ হলো না। এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নৌকায় করে পাড়ি দিতে হচ্ছে উত্তাল পদ্মা।’

পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞাসহ ঈদের আগে-পরে নৌপথে ফেরি বা লঞ্চে করে পারাপার নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় বিপাকে পড়েছেন ঘরমুখী বাইকচালকেরা।

সেতু পারাপারের সুযোগ পেতে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষার পর নিরাপত্তাকর্মী, সেতু কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের তোপের মুখে অনেক বাইকার বাড়ি ফিরে গেছেন। কেউ কেউ আবার ট্রলারে করে ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছেন।

এর আগে ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরের দিনই সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ। সেতু দিয়ে ঈদের আগে আর বাইক চলাচলের সুযোগ দেয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে মাওয়া পর্যন্ত গিয়ে ফেরি দিয়ে পদ্মা নদী পার হয়ে আবার বাইকে চড়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন বাইকাররা। কিন্তু গত ৬ জুলাই নৌপথে দুই চাকার যানটি বহন নিষিদ্ধ করা হয়।

বলা হয় আগামী ১০ দিন এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। অর্থাৎ ঈদের পর আরও পাঁচ দিন লঞ্চে বা ফেরিতে করে বাইক পরিবহন করা যাবে না।

এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে ৭ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত আন্তজেলায় মোটরসাইকেল চালাতে হবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া যাবে না। এসব সিদ্ধান্ত বাইকচালকদের অসন্তুষ্ট ও হতাশ করে।

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন মোটরসাইকেলচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেতুতে মোটরসাইকেলের জন্য ১০০ টাকা করে টোল নির্ধারিত থাকলেও নৌকায় করে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা করে নদী পাড়ি দিতে হচ্ছে।

মোটরসাইকেলচালক ইমরান হোসেন যাবেন মাদারীপুরের কালকিনিতে। তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল ঈদে মোটরসাইকেলে করে পদ্মা সেতু পাড়ি দেব। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে সেটি পূরণ হলো না। এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নৌকায় করে পাড়ি দিতে হচ্ছে উত্তাল পদ্মা।

‘অন্যের দায় আমাদের ওপর চাপানো হচ্ছে। আরও অনেক গাড়িই তো অ্যাক্সিডেন্ট করেছে, সেগুলো কি বন্ধ করা হয়েছে।’

মোটরসাইকেলচালক মো. ইমরানের বাড়ি মাদারীপুর। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় তিনি অনেক খুশি। কিন্তু মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞায় কিছুটা আফসোসও হচ্ছে তার।

তিনি বলেন, ‘বাইক নিয়ে পদ্মা সেতু হয়ে বাড়ি যেতে পারছি না, তাই খারাপ লাগছে। এতে সড়কে বিভিন্ন জায়গায় ভোগান্তিতে পড়তে হলো। এখন ট্রলারে করে বাইক নিয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে ওপারে যাব।’

ইলা হাওলাদার বলেন, ‘আমি ও আমার হাজব্যান্ড ঈদের ছুটিতে যাব পদ্মার ওপারে। কিন্তু সেতুতে মোটরসাইকেল চলবে না, ফেরিতে চলবে না। আমাদের ওপারে যেতেই হবে, তাই বিকল্প ব্যবস্থা না পেয়ে ট্রলারে করে নদী পাড়ি দিচ্ছি।’

এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি রাজি হননি।

আরও পড়ুন:
গাবতলী থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলমুখী যাত্রা সহজ, কঠিন উত্তরে
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, যুবক নিহত
ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দীর্ঘ জট
‘এবার ট্রেনের ভেতরে ভিড় কম’
ঈদযাত্রায় নিহত দুই পোশাকশ্রমিক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
6 cows die in trawler sinking in Dhaleshwari

ধলেশ্বরীতে ট্রলার ডুবে ৬ গরুর মৃত্যু

ধলেশ্বরীতে ট্রলার ডুবে ৬ গরুর মৃত্যু ঘিওরে ধলেশ্বরীতে বৃহস্পতিবার সকালে ট্রলার ডুবে ৬ গরুর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
ফায়ার সার্ভিস জানায়, দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চল থেকে কয়েকজন খামারি ও ব্যবসায়ী ২৭টি গরু বিক্রির জন্য সকালে রাজধানীর গাবতলীর কোরবানির পশুর হাটের উদ্দেশে রওনা দেন। ঘিওর বাজারের কাছে ধলেশ্বরীর পানির ঘূর্ণিতে গরুবোঝাই ট্রলারটি ডুবে যায়।

মানিকগঞ্জের ঘিওরে ধলেশ্বরী নদীতে গরুবোঝাই ট্রলারডুবি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নদী থেকে মৃত ৬টি গরু উদ্ধার করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘিওর বাজার এলাকায় পুরাতন ধলেশ্বরী নদীতে ২৭টি গরু নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে যায়।

৩ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে বেলা দেড়টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ২১টি জীবিত ও ৬টি মৃত গরু উদ্ধার করেন।

ঘিওর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রেজাউল ইসলাম নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানান।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চল থেকে কয়েকজন খামারি ও ব্যবসায়ী ২৭টি গরু বিক্রির জন্য সকালে রাজধানীর গাবতলীর কোরবানির পশুর হাটের উদ্দেশে রওনা দেন। ঘিওর বাজারের কাছে ধলেশ্বরীর পানির ঘূর্ণিতে গরুবোঝাই ট্রলারটি ডুবে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান।

ব্যবসায়ীদের বরাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জানান, রেজাউল উদ্ধার করা মৃত ছয়টি গরুর দাম প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ছিল।

আরও পড়ুন:
ট্রলার ডুবে ২ গরুর মৃত্যু, নিখোঁজ ৮টি
ধলেশ্বরীতে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারডুবি
পদ্মায় ট্রলার উল্টে নিখোঁজ ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার
পদ্মায় ট্রলার উল্টে ছাত্রলীগ নেতা নিখোঁজ
জোয়ারে ডুবল ট্রলার, ১৫ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ দুজন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Explosion in Sitakunda DNA test identified 6 bodies

সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: ডিএনএ পরীক্ষায় ৮ মরদেহ শনাক্ত

সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: ডিএনএ পরীক্ষায় ৮ মরদেহ শনাক্ত
সুমন বণিক বলেন, ‘বুধবার রাতে আমরা ডিএনএ পরীক্ষার ফল হাতে পেয়েছি। প্রথম দফায় আটটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই মরদেহগুলোর মধ্যে পাঁচটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, দুটি আঞ্জুমানে মুফিদুলে এবং একটি কক্সবাজারে রয়েছে।’

চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্ধার অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহগুলোর মধ্যে আটজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক।

এই আটজন হলেন আকতার হোসেন, আবুল হাশেম, বাবুল মিয়া, মনির হোসেন, মো. সাকিব, মো. রাসেল, মো. শাহাজান ও আব্দুস সুবহান প্রকাশ আব্দুর রহমান।

সুমন বণিক বলেন, ‘বুধবার রাতে আমরা ডিএনএ পরীক্ষার ফল হাতে পেয়েছি। প্রথম দফায় আটটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই মরদেহগুলোর মধ্যে পাঁচটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, দুটি আঞ্জুমানে মুফিদুলে এবং একটি কক্সবাজারে রয়েছে। আমরা এই আটজনের পরিবারকে খবর দিয়েছি, তারা এসে মরদেহ নিয়ে যেতে পারবে।’

নেদারল্যান্ডস ও বাংলাদেশের যৌথ মালিকানাধীন (জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি) প্রতিষ্ঠান বিএম কনটেইনার ডিপো সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায়। বাংলাদেশে এর মালিকানা স্মার্ট গ্রুপের। গ্রুপের চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমানই ডিপোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। পরিচালক হিসেবে রয়েছেন তার ছোট ভাই মুজিবুর রহমান।

এই ডিপোতে গত ৪ জুন রাত ৯টার দিকে আগুন লাগে। রাত ১১টার দিকে প্রথম বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

একে একে ছুটে যায় চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট। নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা থেকেও পরে যোগ দেয় কয়েকটি ইউনিট। ৫ জুন সকাল পর্যন্ত আগুন নেভাতে আসা ইউনিটের সংখ্যা বেড়ে হয় ২৫টি। কিন্তু কনটেইনারে থাকা রাসায়নিক পদার্থের কারণে দফায় দফায় বিস্ফোরণে বাড়ে আগুনের ভয়াবহতা।

৮৭ ঘণ্টা পর ৮ জুন দুপুরে বিএম কনটেইনার ডিপোর আগুন নেভে। আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনার প্রথম দুই দিনে ৪১টি মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চারজন। বুধবার পর্যন্ত বিভিন্ন সময় দেহাবশেষ পাওয়া গেছে ছয়জনের। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৫১ জন হিসাব করা হচ্ছে।

প্রথম দুই দিনে উদ্ধার ৪১ মরদেহের মধ্যে পরিচয় পাওয়া যায় ২৫ জনের। এরপর ঢাকা ও চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনজন। ৬ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয় ছয়টি। এরপর প্রথম দফায় ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় মেলে আটটি মরদেহের। সেই হিসাবে এখন পর্যন্ত পরিচয় শনাক্ত হয়নি আরও ১৫ জনের।

আরও পড়ুন:
সীতাকুণ্ডের আগুন: গাড়ির মালিকদের সাড়ে ৪ কোটি টাকা ক্ষতি
সীতাকুণ্ডে দগ্ধ ৬ জনকে শেখ হাসিনা বার্ন থেকে ছাড়পত্র
সীতাকুণ্ডে আগুনে দগ্ধ ১০ জনকে আর্থিক অনুদান
বিএম ডিপো ও ট্রেনে আগুনে নাশকতাযোগ: তথ্যমন্ত্রী
বিএম ডিপোতে আরও দেহাবশেষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The twin cows are a gift to the family of twin children

প্রতিমন্ত্রী পলকের ঈদ উপহারে হাসি ফুটেছে লাভলী-লিটনের মুখে

প্রতিমন্ত্রী পলকের ঈদ উপহারে হাসি ফুটেছে লাভলী-লিটনের মুখে উপহারের দুধেল গাভীটি পেয়ে শিশুদের মুখে দুধ তুলে দেয়ায় দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে দরিদ্র লিটন-লাভলী দম্পতির।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘গণমাধ্যম যে প্রকৃতই সমাজের দর্পণ, তা আমরা আরেকবার প্রমাণ পেলাম নিউজবাংলার মাধ্যমে... সংবাদটি নিউজবাংলার মাধ্যমে জানতে পেরে তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে প্রাথমিকভাবে বাচ্চাদের দুধ কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা করি। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করার উদেশ্যে একটি গাভী কিনে দেই।’

নিউজবাংলার প্রতিবেদন দেখে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুরে এক সঙ্গে জন্ম নেয়া তিন শিশুর পরিবারকে গাভী উপহার দিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

একই সঙ্গে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের জন্য নিউজবাংলার প্রশংসাও করেছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর উপহার পেয়ে তিন সন্তানের মা লাভলী বেগম ও বাবা লিটন উদ্দিনের মুখে ফুটেছে হাসি।

গত বছরের ২৪ নভেম্বর এক সঙ্গে চার মেয়ের জন্ম দেন লাভলী। জন্মের পরই এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। অন্য তিন মেয়ে লাবন্য, লাবিবা ও লামিশাকে নিয়ে শুরু হয় এই দম্পতির নতুন জীবনযুদ্ধ। কারণ তাদের ঘরে আগেই এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। এখন পাঁচ সন্তান নিয়ে কীভাবে সংসার চলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন দিনমজুর লিটন।

পরিবারটির মানবেতর জীবনযাপন নিয়ে গত ২২ মার্চ নিউজবাংলায় একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রচার হয়। সেটি নজরে আসলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

শিশুদের দুধ কেনার জন্য গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উপহার হিসেবে নিউজবাংলার প্রতিনিধির মাধ্যমে লাভলী-লিটন দম্পতিকে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন প্রতিমন্ত্রী।

এরপর পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ হিসেবে তিনি জেলা প্রশাসনের তত্বাবধায়নে গত মঙ্গলবার একটি দুধেল গাভী কিনে দেন।



লাখ টাকার গাভী উপহার পেয়ে বিস্ময় যেন কাটছে না লিটন উদ্দিনের। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পলক ভাই এই গাভী দেয়াতে আমাদের খুবই আনন্দ হচ্ছে। ৪০০ টাকা দিন হাজিরায় কাজ করে আমি বাচ্চাদের মুখে দুধ তুলে দিতে পারতাম না। তাতে আমার খুবই কষ্ট হত। ঈদের আগে এত বড় একটা উপহার পাব, তা ভাবিনি। কখনও ১ লাখ টাকা দিয়ে গাভী কিনতে পারব, তা স্বপ্নেও কল্পনা করিনি।

‘আমাদের পরিবারের সবাই আনন্দিত। এখন আর বাচ্চাদের দুধের কষ্ট থাকল না। দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন পলক ভাইকে নেক হায়াত দেন।’

মা লাভলী বেগম বলেন, ‘নিউজবাংলার খবর দেখে এর আগেও পলক ভাই ১০ হাজার টাকা দিয়েছিল। সেই টাকা দিয়ে বাচ্চাদের দুধ কিনেছিলাম। আবার ঈদের উপহার হিসাবে একটা গাভী কিনে দিয়েছে। এখন আর বাচ্চাদের দুধের চিন্তা নাই। গাভী থেকে ছয় লিটার করে দুধ হচ্ছে। এখন আমরা সন্তানসহ খুব ভাল আছি।’

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘গণমাধ্যম যে প্রকৃতই সমাজের দর্পণ, তা আমরা আরেকবার প্রমাণ পেলাম নিউজবাংলার মাধ্যমে। আমাদের নাটোরের একটি অস্বচ্ছল পরিবার, যাদের ঘরে চারটি সন্তান একসঙ্গে জন্মগ্রহণ করে।

‘সংবাদটি নিউজবাংলার মাধ্যমে জানতে পেরে তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে প্রাথমিকভাবে বাচ্চাদের দুধ কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা করি। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করার উদেশ্যে একটি গাভী কিনে দেই। এই ধরণের ছোট ছোট মানবিক কাজ আমাদের জেলাকে, আমাদের পুরো দেশটাকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একটি স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তুলতে অনেক বেশি সহায়তা করবে।’

আরও পড়ুন:
এবার পদ্মা-সেতুর জন্ম কুমিল্লায়
উপহারের আম এবার ত্রিপুরায়
স্বপ্ন, পদ্মা, সেতুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার
একসঙ্গে জন্মালো ৩ শিশু, নাম রাখা হলো স্বপ্ন-পদ্মা-সেতু
‘সাড়ে ৬ লাখ ফ্রি-ল্যান্সার বছরে ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয় করছে’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The half dead body of a journalist was recovered in Kushtia on the 5th day of his disappearance Zahiduzzaman Kushtia 08 07 2022

নিখোঁজ সাংবাদিকের মরদেহ নদীতে

নিখোঁজ সাংবাদিকের মরদেহ নদীতে
ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে কুষ্টিয়ার গড়াই সড়ক সেতুর নিচে ভাসমান মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।’

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর এক সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উপজেলার যদুবয়রা গ্রামের নতুন ব্রিজের নিচ থেকে বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে হাসিবুর রহমান রুবেলের ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে কুষ্টিয়ার গড়াই সড়ক সেতুর নিচে ভাসমান মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।’

কুষ্টিয়া জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি গোলাম মওলা বলেন, ‘সাংবাদিক রুবেল জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি স্থানীয় দৈনিক কুষ্টিয়ার খবর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং আমাদের নতুন সময় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। একই সঙ্গে ঠিকাদারি কাজও করতেন বলে জানা গেছে।’

রুবেলকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন সাংবাদিক রুবেলের ছোট ভাই মাহবুব রহমান। তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল- এমন খবর পরিবারের কারোর কাছে নেই। আমি ভাই হত্যার বিচার চাই।’

কুমারখালী থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।

মাহবুব বলেন, ‘প্রতি রাতেই আমরা একসঙ্গে খেতাম। ৩ তারিখে রাত ১১টা বেজে গেলেও যখন আসেনি, তখন সাংবাদিকদের জানিয়ে জিডি করি।’

কুষ্টিয়া মডেল থানায় করা ওই জিডিতে উল্লেখ করা হয়, রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের সিঙ্গার মোড়ে অবস্থিত দৈনিক কুষ্টিয়ার খবর পত্রিকার অফিসে কাজ করছিলেন রুবেল। এ সময় তার মোবাইলে একটি কল এলে তিনি অফিস পিয়নকে বাইরে থেকে আসছি বলে বের হয়ে যান। এর পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সামনে ওই সাংবাদিকের খোঁজ পেতে মানববন্ধন করেন পরিবারের সদস্য ও সাংবাদিকরা।

মন্তব্য

p
উপরে