× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
My sons fault is the question of the mother of the DBC producer
hear-news
player
print-icon

‘আমার ছেলেটার কী দোষ’, প্রশ্ন ডিবিসি প্রযোজকের মায়ের

আমার-ছেলেটার-কী-দোষ-প্রশ্ন-ডিবিসি-প্রযোজকের-মায়ের
ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মায়ের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা
ছেলেকে হারিয়ে বারবার কান্নায় মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা আলেয়া বেগম। বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার ছেলেটার কী দোষ? এখন আমি বারীকে কোথায় পাবো? তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও। আমার বাবা আমাকে আর মা বলে ডাকবে না।’

ডিবিসি নিউজের প্রযোজক আব্দুল বারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সিরাজগঞ্জের চন্ডিদাসগাঁতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে বৃহস্পতিবার সকালে ১০টার দিকে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

রাজধানীর হাতিরঝিলের পাড় থেকে বুধবার সকালে বারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মহাখালীতে ব্যাচেলরদের একটি বাসায় থাকতেন তিনি।

আব্দুল বারী সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের চন্দিদাসগাঁতী গ্রামের আব্দুল্লাহ শেখের ছেলে। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে বারি ছিলেন দ্বিতীয়। তার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

ছেলেকে হারিয়ে বারবার কান্নায় মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা আলেয়া বেগম। বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার ছেলেটার কী দোষ? এখন আমি বারীকে কোথায় পাবো? তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও। আমার বাবা আমাকে আর মা বলে ডাকবে না।’

ভাইকে হারিয়ে শোকে কাতর বড় ভাই আব্দুল আলিম। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ছোট বেলা থেকেই ভীষণ মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিল বারী। ইচ্ছে ছিল কোরবানী ঈদের পরেই ভাইকে নতুনভাবে সংসার সাজিয়ে গুছিয়ে-দেব। কিন্তু সে আশা স্বপ্নই থেকে গেল।’

নিজের ছেলেকে হারানোর কারণ খুঁজছেন বাবা আব্দুল্লাহ শেখ। বলেন, ‘কি কারণে আমার শান্তপ্রিয় ছেলেটাকে হত্যা করা হয়েছে, আমার জানা নেই। বারীর অফিসের কর্তৃপক্ষের কাছে জেনেছি, সিআইডি এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে...’ কথা বলতে বলতে এসময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

ডিবিসি নিউজের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি রিফাত রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিহত সহকর্মী বারীর ময়নাতদন্তের পর বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ডিবিসি কার্যালয়ে প্রথম জানাজা শেষে মরদেহে সিরাজগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ডিবিসির সংবাদ প্রযোজকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Shoe garland to teacher Ronnie arrested

শিক্ষককে জুতার মালা: প্রধান অভিযুক্ত রনি গ্রেপ্তার

শিক্ষককে জুতার মালা: প্রধান অভিযুক্ত রনি গ্রেপ্তার অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর ঘটনায় প্রধান আসামি রহমত উল্লাহ রনি। ছবি: নিউজবাংলা
কলেজে হামলা ও শিক্ষক হেনস্তার ঘটনায় গত সোমবার দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন পুলিশের উপপরিদর্শক ও মির্জাপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ মোরছালিন। রনিসহ এ নিয়ে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ।

নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রহমত উল্লাহ রনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ নিয়ে মামলায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবীর বুধবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খুলনা থেকে বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার করা হয় রনিকে।

তিনি আরও জানান, অধ্যক্ষ স্বপনকে জুতার মালা পরানোর ঘটনার ভিডিওতে কালো টিশার্ট পরা যুবকই হলেন রহমত উল্লাহ রনি।

কলেজে হামলা ও শিক্ষক হেনস্তার ঘটনায় গত সোমবার দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন পুলিশের উপপরিদর্শক ও মির্জাপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ মোরছালিন।

দণ্ডবিধির ৩৪, ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩৪১, ৩৩২, ৩৫৩, ৩৫৫, ৪৩৬, ৪২৭, ৫০০ ধারায় করা এ মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ১৭০ থেকে ১৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এরপর রোববার রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শিক্ষককে জুতার মালা: প্রধান অভিযুক্ত রনি গ্রেপ্তার
শিক্ষক স্বপনকে জুতার মালা পরিয়ে দেয়ার সময় ধারণ করা ভিডিওতে কালো টিশার্ট পরা যুবকই হলেন গ্রেপ্তার রহমত উল্লাহ রনি।

গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে আছেন কলেজের পাশের মির্জাপুর বাজারে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী শাওন খান। লাল গেঞ্জি পরা ৩০ বছর বয়সী শাওনকে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর ভিডিওতে চিহ্নিত করা গেছে।

শাওনের মা হোসনেয়ারা বেগম মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল রাতে আমার ছেলেকে দেখা করতে বলে মির্জাপুর ক্যাম্প পুলিশ। দেখা করতে গেলে তাকে আটকায় দিছে।’

হোসনেয়ারা বেগম দাবি করেন, তার ছেলে ঘটনার দিন শিক্ষক বা অভিযুক্ত ছাত্রকে বিক্ষুব্ধ লোকজনের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন। এর পরেও ‘বিনা কারণে’ পুলিশ তাকে নিয়ে গেছে। তবে স্বপন কুমারকে জুতা পরানোর ভিডিওতে শাওনকে শনাক্ত করেন হোসনেয়ারা।

এ মামলায় গ্রেপ্তার আরও দুজন হলেন মির্জাপুর মধ্যপাড়ার মো. মনিরুল ইসলাম এবং মির্জাপুরের সৈয়দ রিমন আলী।


যা ঘটেছিল

ফেসবুকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মার সমর্থনে কলেজের এক হিন্দু শিক্ষার্থীর পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে গত ১৮ জুন দিনভর নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, সহিংসতা চলে। গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয় ওই শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস।

শিক্ষককে জুতার মালা: প্রধান অভিযুক্ত রনি গ্রেপ্তার

এরপর পুলিশ পাহারায় বিকেল ৪টার দিকে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দাঁড় করিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় একদল ব্যক্তি। শিক্ষক স্বপন কুমার হাত উঁচিয়ে ক্ষমা চাইতে থাকেন। পরে তাকে তুলে নেয়া হয় পুলিশের গাড়িতে।

মোবাইল ফোনে ধারণ করা এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পুলিশের সামনে শিক্ষকের এমন অপদস্ত হওয়ার ঘটনায় তৈরি হয় তীব্র ক্ষোভ। তবে পুলিশের দাবি, শিক্ষকের গলায় জুতা পরানোর ঘটনা তারা ‘দেখেননি’।

যদিও ভিডিওতে শিক্ষককে জুতার মালা পরানোর সময় পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে সদর থানার ওসিকে।


নূপুর শর্মাকে সমর্থন করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রাহুল দেবের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কলেজে সহিংসতা ও শিক্ষককে হেনস্তার ঘটনায় কোনো মামলা বা জড়িতদের চিহ্নিত করার বিষয়ে পুলিশের কোনো তৎপরতা ছিল না। এরই মধ্যে স্বপন কুমারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার তোড়জোড় শুরু করে কলেজ পরিচালনা কমিটি।

বিষয়টি নিয়ে রোববার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

শিক্ষক স্বপন কুমারকে নিয়ে নিউজবাংলার প্রতিবেদনটি নজরে আসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ সোমবার নিউজবাংলাকে জানান, স্বপন কুমারকে তার চলতি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ এমন চেষ্টা করলেও মাউশি তাতে অনুমোদন দেবে না।

স্বপন কুমার ইস্যুতে সমালোচনার মুখে পড়া নড়াইলের প্রশাসনও এরপর নড়েচড়ে বসে। ঘটনার ৯ দিন পর কলেজে হামলা ও শিক্ষক হেনস্তার ঘটনায় মামলা করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
শিক্ষক হত্যায় জিতুর বাবা রিমান্ডে
শিক্ষক হত্যা: আলামত জব্দে দেরি, আসামির বয়সও ভুল
শিক্ষক উৎপল হত্যা: তৃতীয় দিনেও সড়কে শিক্ষার্থীরা
‘শিক্ষকের গলায় জুতার মালায় দুঃখিত, দায়িত্বে অবহেলায় ব্যবস্থা’
শিক্ষক নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় শিক্ষক সমিতি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The shoelace around the principals neck is in front of the OC

অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা ওসির সামনেই

অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা ওসির সামনেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর সময় ডান পাশে কলাপসিবল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে নড়াইল সদর থানার ওসি মোহাম্মদ শওকত কবীর। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষক স্বপন কুমারকে জুতার মালা পরানোর পর তার আশপাশে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বাহিনীর অন্তত ১০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে যেখানে দাঁড় করিয়ে জুতার মালা পরানো হয়, তার তিন-চার হাত দূরেই দৃশ্যত নির্বিকার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়েছিলেন নড়াইল সদর থানার ওসি মোহাম্মদ শওকত কবীর।

নড়াইলের সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টের জের ধরে ব্যাপক সহিংসতা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর ঘটনা ঘটে। পুলিশের সামনে এমন ঘটনায় তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসকে গলায় জুতার মালা দিয়ে অপদস্থ করার ঘটনায় কারও দায়িত্বে গাফিলতি আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বুধবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্বপন কুমারকে জুতার মালা পরানোর পর তার আশপাশে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বাহিনীর অন্তত ১০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে যেখানে দাঁড় করিয়ে জুতার মালা পরানো হয়, তার তিন-চার হাত দূরেই দৃশ্যত নির্বিকার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়েছিলেন নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবীর।

ফেসবুকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মার সমর্থনে কলেজের এক হিন্দু শিক্ষার্থীর পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে গত ১৮ জুন দিনভর নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, সহিংসতা চলে। গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয় ওই শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস।

এরপর পুলিশ পাহারায় বিকেল ৪টার দিকে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দাঁড় করিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় একদল ব্যক্তি। শিক্ষক স্বপন কুমার হাত উঁচিয়ে ক্ষমা চাইতে থাকেন। পরে তাকে তুলে নেয়া হয় পুলিশের গাড়িতে।

অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা ওসির সামনেই

মোবাইল ফোনে ধারণ করা এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, স্বপন কুমার ও অভিযুক্ত ছাত্রসহ তিনজনকে কলেজের ভেতর থেকে বের করে আনার সময় ডান পাশে কলাপসিবল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবীর।

ভিডিওতে দেখা যায়, কলাপসিবল গেটের বাম পাশের আরেকটি গেট দিয়ে তিনজনকে বের করে আনা হচ্ছে। এ সময় পুলিশি পাহারার মধ্যেই কলেজের ভেতর থেকে এক তরুণ জুতার মালা হাতে বেরিয়ে আসেন। ওই তরুণের কোমরের এক পাশে আইডি কার্ড ঝুলছিল।

স্বপন কুমার ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে যে তিন যুবক জুতার মালা পরিয়ে দেয়, তাদের একজনের কাছে আইডি কার্ডধারী তরুণটিই ভেতর থেকে আনা মালা ধরিয়ে দেন। মালা পরানোর আগে ওই তিন যুবকের দুজন ওসি শওকত কবীরের সামনে দিয়ে রেলিং টপকে শিক্ষকের সামনে যান। রেলিং টপকানোর সময়ে দুই যুবকের মধ্যে আকাশি রঙের টি শার্ট পরা যুবকের বাহুতে হাত দিতেও দেখা যায় ওসিকে।

এরপর তিন যুবক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও ছাত্রকে জুতার মালা পরিয়ে দেন। এ সময়ে ওসিসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা ছিলেন নিষ্ক্রিয়।

শিক্ষককে জুতার মালা পরানোর সময় পাশেই নড়াইল সদর থানার ওসি মোহাম্মদ শওকত কবীরের উপস্থিতি ভিডিওতে শনাক্ত করেছেন পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মলয় কুমার কুণ্ডু।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন ‘ওখানে ওসি ছিল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিল, অতিরিক্ত পুলিশ ছিল। ভিডিওতে দেখেছি, বোঝাই যাচ্ছে উনি ওসি। পুলিশ সে সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।’

অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা ওসির সামনেই
রেলিং টপকানো আকাশি রঙের টি শার্ট পরা যুবকের বাহুতে হাত দিতেও দেখা যায় ওসিকে

তবে এ ঘটনার সময় অন্যত্র ছিলেন বলে শুরু থেকে দাবি করছিলেন ওসি শওকত কবীর।

বিষয়টি নিয়ে রোববার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা। সেদিন তিনি বলেন, ‘ওই দিন পাবলিক খুব বেশি উত্তেজিত ছিল। তাদের কন্ট্রোলে নেয়া যাচ্ছিল না। আর আমার চোখে জুতার মালার মতো কোনো কিছু পড়েনি। তাকে যখন গাড়িতে তোলা হয়েছে তখন তার গলায় এ ধরনের কিছু ছিল না।’

আরও পড়ুন: পুলিশের সামনে শিক্ষকের গলায় জুতার মালা কীভাবে?

ভিডিওতে তাকে দেখা গেছে, এমন তথ্য জানিয়ে বুধবার এ বিষয়ে ওসির বক্তব্য আবার জানতে চায় নিউজবাংলা। এ সময়ও তিনি দাবি করেন, অধ্যক্ষকে জুতার মালা পরানোর সময় তিনি আশপাশে ছিলেন না।

মোহাম্মদ শওকত কবীর নিউজবাংলাকে বলেন, ’আমি মেইন গেটের দিকে ছিলাম। ক্রাউড কন্ট্রোল করছিলাম। রুমের ভেতরে ও ওপরে আমাদের অফিসার এবং ফোর্স ছিল। বের করে নিয়ে আসার পরে তিন-চারজন ওরা যে এইটা করবে, বা ওখানে থাকবে এ রকম কিছু ইনটেনশন ছিল না।’

এরপর তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ভিডিও থেকে নেয়া স্ক্রিনশট পাঠানো হলে বক্তব্যে পরিবর্তন আনেন। অবস্থানের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে তিনি বলেন, ‘আমি জুতার মালা পরাতে দেখিনি।’

ঘটনার বর্ণনায় শওকত কবীর বলেন, ‘আমাদের জুনিয়র অফিসাররা বেসিক্যালি পেছন সাইটটায় ছিল, ওনাদের নিয়ে আসার সময়। কোনো ইনটেনশন ছিল না। রাহুলকে (অভিযুক্ত ছাত্র) দিলে পরে আমরা এক্সকিউজ করতে পারি, কিন্তু প্রিন্সিপালকে কোনো দোষ ছাড়াই এটা দিছে। একটা ঘটনা ঘটে গেছে।

‘এখানটাতে এত মানুষ, কোনো ক্যাজুয়ালিটি ছাড়া ওনাকে (স্বপন কুমার) বের করে নিয়ে আসাই আমাদের প্রধান টার্গেট ছিল। কেউ প্রেডিক্ট করতে পারেনি, এমনটি ঘটবে।’

অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা ওসির সামনেই

নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়ও শুরুতে দাবি করেছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জুতার মালা পরানোর ঘটনা তার জানা নেই, সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এ-সংক্রান্ত ভিডিও তার চোখে পড়েনি। তবে পরে অবস্থান পরিবর্তন করেন পুলিশ সুপার।

ওসি পাশে থাকার পরও এমন ঘটনাটি কীভাবে ঘটল জানতে চাইলে বুধবার পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হঠাৎ করে সবকিছু হচকচ লেগে গেছে। আমরা তদন্ত করছি। কারও গাফিলতি পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারেও ‘অনিয়ম’

যে ছাত্রের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে কলেজে উত্তেজনা, সেই ছাত্রের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির মামলার এজাহার নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

মামলার বাদী বলছেন, অভিযুক্ত ছাত্র রাহুল দেব রায় ফেসবুকে কী পোস্ট দিয়েছেন তা তিনি দেখেননি। ওসি শওকত কবীরের ‘অনুরোধে’ তিনি মামলার বাদী হয়েছেন, এমনকি এজাহারও লিখে দিয়েছে পুলিশ। তিনি শুধু সই করেছেন। ঘটনার পরদিন ১৯ জুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাটি হলেও ২০ জুন পুলিশ বাদীর বাড়ি গিয়ে এজাহার ‘সংশোধন’ করে আবার তার সই নিয়েছেন।

আরও পড়ুন: শিক্ষককে জুতার মালা: ছাত্রের বিরুদ্ধে এজাহারের ‘লেখক পুলিশ

রাহুল দেব রায়ের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার বাদী মির্জাপুর হাজিবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনার পরের দিন দুপুরের দিকে ওসি সাহেব আমারে ফোন দিছেন যে, মামলার একজন বাদী হতে হবি, একজন বাদী বের করেন। কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করলাম, কেউ যাতি রাজি না।

‘আমি (ওসিকে) বললাম, মাগরিবের পরে আলোচনা করে কিডা যাবে আমি জানাচ্ছি আপনাদের। সে বলল, না, দেরি হয়ে যাবে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে। তাহলে একটা কাজ করেন, আপনি নিজেই বাদী হন। আমরা গাড়িতে করে আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি, আবার দিয়ে যাব।’

ফারুক হোসেন বলেন, ‘পরে ওসি সাহেবের গাড়িতে করে গেলাম নড়াইল। নড়াইল গেলে ওসি সাহেব সব লিখেটিখে সব কমপ্লিট করার পর আমি বললাম যে, আমার তো আবার মিটিং আছে, একটু তাড়াতাড়ি যাতি হবে।

‘তখন কলো (বলল), ঠিক আছে, কমপ্লেইন নিয়ে আমি এসপির কাছে যাব। ওখানে ডিআইজির সঙ্গে ফোন করে এডা আলোচনা করে আপনার স্বাক্ষর নেব। আপনার একটু দেরি করে যাতি হবে। তখন আমি ওখানে মাগরিবের নামাজ পড়লাম।’

এর পরের ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফারুক হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওসি সাহেব এরপর যাইয়ে এসপির সঙ্গে আলোচনা করে। ওইটা দেখাদেখি করার পর আমার কাছ থেকে একটা স্বাক্ষর নিল কেসে। যা লেখার উনারা লিখেছেন, আমি কিছু লেখিনি। আমি বলিওনি।

‘আমাক পড়ে শোনাল যে, এই ঘটনা। দেখলাম ওখানে যা হইছে, তাই। আমি যতদূর জানি সব সঠিক। সেইভাবে আমি স্বাক্ষর করি আসলাম।’

মামলা হয়ে যাওয়ার পর এজাহারের কপি পরিবর্তনের অভিযোগও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ফারুক হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, পরদিন পুলিশ তার বাসায় এসে জানায় এজাহারে কিছু সংশোধন করা হয়েছে। এরপর সেই ‘সংশোধিত’ কপিতে আগের দিনের তারিখেই ফারুক হোসেনের সই নেয়া হয়।

অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা ওসির সামনেই
শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়ের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারের মূল ও সংশোধিত কপি

এজাহারের প্রথম দিনের এবং পরদিনের দুটি কপিই পেয়েছে নিউজবাংলা। ফারুক হোসেনকে পুলিশ বলেছিল এজাহারের নতুন কপিতে কিছু বানান সংশোধন করা হয়েছে। তবে নিউজবাংলা দেখেছে, দুটি কপির মধ্যে ‘উক্ত সময়ে পুলিশ আইন শৃংখলা রক্ষার্থে ০৬ রাউন্ড গ্যাস গান ফায়ার করে‘- এই বাক্যটির হেরফের রয়েছে। একটি কপিতে বাক্যটি থাকলেও আরেকটিতে নেই।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার প্রশ্ন করলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবীর কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

আর পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়ের দাবি, মামলার এজাহার পরিবর্তনের বিষয়টি তার জানা নেই। রাহুলের বিরুদ্ধে মামলার এজাহার লিখে ফারুক হোসেনের সই নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘জোর করে কাউকে তো বাদী বানানোর কথা নয়। ওই প্রসঙ্গটা আমার জানা নেই, থানায় যখন মামলা হয়েছে ওসি সাহেব জানেন।

‘আমি তো এই ব্যাপারটা জানি না। যদি কেউ মামলা না করতে চায়, যদি কোনো বাদী না পাওয়া যায় তখন তো একভাবে না একভাবে মামলা করতেই হবে। উনি যদি মামলা করতে না যেত, তাহলে কি আমরা মামলা করতে পারতাম? যদিও এটা আমার জানা নেই।’

পুলিশ সুপার অবশ্য অভিযোগ অনুসন্ধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আপনি যেহেতু বলেছেন, আমি খোঁজ নেব জিনিসটা কী হয়েছিল। যদি কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
শিক্ষক হত্যা: আলামত জব্দে দেরি, আসামির বয়সও ভুল
শিক্ষক উৎপল হত্যা: তৃতীয় দিনেও সড়কে শিক্ষার্থীরা
‘শিক্ষকের গলায় জুতার মালায় দুঃখিত, দায়িত্বে অবহেলায় ব্যবস্থা’
শিক্ষক নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় শিক্ষক সমিতি
শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: অভিযুক্তের বাবা গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Teacher murder The age of the accused is also wrong

শিক্ষক হত্যা: আলামত জব্দে দেরি, আসামির বয়সও ভুল

শিক্ষক হত্যা: আলামত জব্দে দেরি, আসামির বয়সও ভুল
স্কুলের নথিতে উল্লেখ আছে, সন্দেহভাজন জিতুর বয়স ১৯, তবে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে ১৬। বিষয়টি নিয়ে সারা দেশে তোলপাড়ের মধ্যেও যে স্টাম্প দিয়ে শিক্ষক উৎপলকে পেটানো হয়েছে, সেটি জব্দ করা হয়েছে তিন দিন পর। তদন্ত কর্মকর্তা অবশ্য এসবে সমস্যা দেখছেন না।

ঢাকার সাভারে শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার তিন দিনেও আসামি গ্রেপ্তার করতে না পারা, আলামত দেরিতে জব্দ ও মামলায় আসামিকে অপ্রাপ্ত বয়স দেখানো নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। যদিও এসব নিয়ে খুব একটা সচেতনতা নেই নিহত শিক্ষকের হতদরিদ্র পরিবারের।

কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষক উৎপলকে মারধরকারী শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম জিতুর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহতের ভাই। যে স্টাম্প দিয়ে শিক্ষককে আঘাত করা হয়েছিল, সেটি আমাদের কলেজেই তিন দিন ধরে রাখা ছিল। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ এসে সেটি নিয়ে গেছে।’

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বয়স লেখা রয়েছে এমন একটি নথি সাংবাদিকদের সরবরাহ করেন অধ্যক্ষ। যেখানে আশরাফুল ইসলাম জিতুর বাবা মো. উজ্জ্বল, মা জুলেখা বেগম ও তার জন্মতারিখ ১৭ জানুয়ারি ২০০৩ সাল উল্লেখ রয়েছে। সে হিসাবে জিতুর বয়স ১৯ বছর।

মামলার বাদী নিহতের বড় ভাই অসীম কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উৎপল আমাদের পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট। সে সবার খুব আদুরে ছিল। মা উৎপলকে হারিয়ে পাগলপ্রায় হয়ে গেছেন। আমরা এখনও যৌথ পরিবারেই বসবাস করি। ওকে হারিয়ে আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।’

মামলায় আসামির বয়স ১৬ বছর কেন উল্লেখ করেছেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মামলার এজাহার লেখার সময় বয়স জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তখন কলেজ কর্তৃপক্ষ যেভাবে বলেছে, সেভাবেই আসামির বয়স উল্লেখ করা হয়েছে। আমি তো তখন ওভাবে কিছুই জানি না।’

মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষক হত্যায় আমরা জিতুর সম্পৃক্ততা পেয়েছি। আমাদের চারটি টিম আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।’

তিন দিন পর আলামত সংগ্রহের বিষয়ে বলেন, ‘আসলে আলামতটা সিজ করাই ছিল। আজকে সেটা আমরা সংগ্রহ করেছি। আলামত আমাদের হেফাজতেই আছে।’

মামলায় আসামিকে অপ্রাপ্তবয়স্ক দেখানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই সময় আসলে বাদী তার এজাহারে যেটা দেয় আমরা সেটাই নেব। তাৎক্ষণিকভাবে আমরা মামলা গ্রহণ করব। কিন্তু তদন্তসাপেক্ষে এটার তো ব্যবস্থা হবেই। ক্লাস টেনে পড়ে আর বাদী যেভাবে মামলা দিছে আমরা সেভাবেই নিছি। এখন তো সব বের হচ্ছেই।’

গত শনিবার দুপুরে কলেজে নারী শিক্ষার্থীদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে স্টাম্প দিয়ে অতর্কিতভাবে শিক্ষক উৎপল কুমারকে মারধর করে রক্তাক্ত করেন শিক্ষার্থী জিতু। পরদিন সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

৩৫ বছর বয়সী শিক্ষক উৎপল সরকার সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার এঙ্গেলদানী গ্রামের মৃত অজিত সরকারের ছেলে। তিনি প্রায় ১০ বছর আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।


উৎপলের ওপর কীসের ক্ষোভ জিতুর?

কলেজের সামনের মার্কেটের মালিক ইমান উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসল ঘটনা এখনও কলেজের শিক্ষকরা বলছেন না। তবে আস্তে আস্তে সব বেরিয়ে আসবে।

‘জিতুর বাবা উজ্জ্বল হোসেনের ব্যবসায়িক পার্টনার মাজেদ নামে এক ব্যক্তি। তাদের হোটেল ব্যবসা আছে। সেই মাজেদের শ্যালিকার ছোট বোন এই কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ে। তার সঙ্গে জিতুর আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক।

‘কিছুদিন আগেও স্কুলের একটি কক্ষে জিতু ও সেই মেয়েকে দেখার পর শিক্ষক উৎপল তাদের শাসন করেন। ওই মেয়ের পরিবারকে তিনি ফোন করে সব জানিয়ে সতর্কও করেন। মেয়েটা জিতুকে এসব বিষয় জানালে সে ক্ষুব্ধ হয়েই ওই স্যারকে পিটিয়েছে।’

ইমান উদ্দিনের তথ্য বলছে, জিতু এতটাই বেপরোয়া ছিলেন যে খেলার আগের দিন থেকেই কলেজের বাইরে স্টাম্প নিয়ে ঘুরছিল।

তিনি জানান, সেদিন জিতুর সঙ্গে আরও তিনজন ছিল। পেটানোর পর চারজন একসঙ্গে হেঁটে চলে যায়।

একই কথা জানান ওই কলেজে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাইম ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘স্যার সেই মেয়ের বাসায় ফোন করে শক্তভাবে বিচার দিয়েছিলেন যেন মেয়েটা জিতুর সঙ্গে না মেশে। এটার ক্ষোভ থেকেই জিতু স্যারকে খেলার দিন পিটিয়েছে।’

কলেজের হিসাবরক্ষক পারুল আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কিছুদিন আগে স্কুলের একটি কক্ষে জিতু ও মেয়েটাকে অপ্রীতিকর অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু আমরা সেভাবে বিস্তারিত জানি না। মেয়েটা আমাদের কলেজের এক শিক্ষকের ছোট বোন। এর বেশি আর কিছু জানি না আমি।’

আরও পড়ুন:
ছেলের ‘প্রেমের জেরে’ মাকে পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২
ছেলের প্রেমের জেরে মাকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ
শিক্ষক উৎপলের বিরুদ্ধে জিতুর আক্রোশ ‘প্রেমে বাধায়’
শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: ৩ দিন পর সেই স্টাম্প জব্দ
শিক্ষককে জুতার মালা: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Highway blockade demanding trial of accused in murder case

হত্যা মামলার আসামিদের বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

হত্যা মামলার আসামিদের বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
কবিরের ভাতিজা আশিক মিয়া বলেন, ‘চাচার সঙ্গে এলাকার কয়েকজনের শত্রুতা ছিল। তারা চাচাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। যারা আমার চাচাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে আমি তাদের বিচার দাবি করছি।’

নরসিংদীর বেলাবতে হত্যা মামলার আসামিকে হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেছে স্বজন ও স্থানীয়রা।

বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের খামারের চর এলাকায় বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় ৫০ মিনিট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

গত ২৫ জুন উপজেলার বারৈচা ইউনিয়নের খামারচর ব্রিজের পাশে থেকে কবির হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কবির চার বছর আগে খামারের চর গ্রামের সোহরাব হোসেন হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জামিনে ছাড়া পেয়ে বারৈচা বাজারে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা শুরু করেন।

মানববন্ধনে কবিরের ভাতিজা আশিক মিয়া বলেন, ‘চাচার সঙ্গে এলাকার কয়েকজনের শত্রুতা ছিল। তারা চাচাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। যারা আমার চাচাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে আমি তাদের বিচার দাবি করছি।’

মরদেহ উদ্ধারের পর কবিরের মা সামছুন্নাহার ৯জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন সাবেক ইউপি সদস্য রিনা বেগম, তাজুল ইসলাম, ফরিদ মিয়া, মো. বায়েজিদ, মো. শিপন, শাহিন মিয়া, সাফির উদ্দিন, মো. ফরহাদ, আবু সাঈদ।

বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফায়েত হোসেন পলাশ নিউজবাংলাকে জানান, কবির হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে আবু সাঈদ নামের একজনকে শনিবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে তুললে বিচারক কারাগারে পাঠান। এ ঘটনায় জড়িত বাকিদেরও ধরতে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন:
শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: ৩ দিন পর সেই স্টাম্প জব্দ
শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: চবিতে প্রতিবাদ
মধুপুরে গৃহবধূ খুন, স্বামী-সতিন আটক
চালকের গলা কাটা দেহ উদ্ধার
‘আত্মহত্যা’য় অভিযুক্ত সুদের কারবারি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Teacher Utpal murder Students on the road on the third day

শিক্ষক উৎপল হত্যা: তৃতীয় দিনেও সড়কে শিক্ষার্থীরা

শিক্ষক উৎপল হত্যা: তৃতীয় দিনেও সড়কে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা
কলেজ শাখার শিক্ষার্থী মুন্নী আক্তার বলেন, ‘মামলায় আসামির বয়স উল্লেখ করেছে ১৬ বছর। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তার দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। এটা দুঃখজনক। আমরা অবিলম্বে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

ঢাকার সাভারে কলেজশিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত স্কুলছাত্রকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় হাজি ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে বুধবার সকাল ৯টার দিকে মানববন্ধন হয়।

কলেজ শাখার শিক্ষার্থী মুন্নী আক্তার বলেন, ‘পুলিশ এখনো আমাদের প্রিয় শিক্ষকের হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। শুধু তাই নয়, মামলার তদন্তেও পুলিশের গাফিলতি প্রকাশ পেয়েছে। যে স্টাম্প দিয়ে স্যারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, পুলিশ তিন দিনেও সেই আলামত জব্দ করতে পারেনি।’

অভিযুক্ত জিতু দশম শ্রেণিতে পড়লেও তার বয়স ১৯ বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, এই তরুণ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। সেখান থেকে ঝরে পড়ার পর এই স্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়।

এ প্রসঙ্গ টেনে মুন্নী বলেন, ‘মামলায় আসামির বয়স উল্লেখ করেছে ১৬ বছর। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তার দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। এটা দুঃখজনক। আমরা অবিলম্বে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একজন শিক্ষককে এভাবে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা নজিরবিহীন। এমন ঘটনা দেশে নয়, বিশ্বেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এমন হত্যাকারী সন্তানের প্রতি ধিক্কার জানাই। আর কোনো ঘরে যেন এমন সন্তানের জন্ম না হয়। আমরা অবিলম্বে আমাদের সহকর্মী হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’

শিক্ষক উৎপল কুমার হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত স্কুলছাত্রের বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার মধ্যরাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত ছাত্র এখনো পলাতক।

যা ঘটেছিল

হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা ছেলেদের ফুটবল ও মেয়েদের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছি। শনিবার স্কুলে মেয়েদের ক্রিকেট খেলা চলছিল। এ সময় প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় তলা ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিল ছেলে শিক্ষার্থীরা।

‘অভিযুক্ত ছাত্রও দ্বিতীয় তলায় ছিল। হঠাৎ সে নেমে মাঠের এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষক উৎপলকে স্টাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় উৎপলকে উদ্ধার করে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই আজ (সোমবার) সকালে উৎপলের মৃত্যু হয়।’

অধ্যক্ষ জানান, উৎপলের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার এঙ্গেলদানি গ্রামে। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন।

দায়িত্বের অংশ হিসেবেই উৎপল শিক্ষার্থীদের আচরণগত সমস্যা নিয়ে কাউন্সেলিং করতেন ও তাদের নানা অপরাধ বা নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিচার করতেন বলে জানান অধ্যক্ষ। তার ধারণা, অভিযুক্ত ছাত্রকেও উৎপল কোনো কারণে শাসন করেছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকে ওই কিশোর তার ওপর হামলা করেছে।

নিহতের ভাই ও মামলার বাদী অসীম কুমার সরকার বলেন, ‘আমি জানতে পেরেছি, ওই শিক্ষার্থী মেয়েদের ইভটিজিংসহ নানা উচ্ছৃঙ্খল কাজে অভিযুক্ত। তাকে শাসন করায় আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে সে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিহত শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি থাকায় নিয়ম-কানুন মানাতে শিক্ষার্থীদের শাসন করতেন। তিনি ওই শিক্ষার্থীকেও শাসন করায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের প্রাথমিক ধারণা।’

আরও পড়ুন:
ছেলের প্রেমের জেরে মাকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ
শিক্ষক উৎপলের বিরুদ্ধে জিতুর আক্রোশ ‘প্রেমে বাধায়’
শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: ৩ দিন পর সেই স্টাম্প জব্দ
শিক্ষককে জুতার মালা: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি
‘শিক্ষকের নয়, পুরো জাতির গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One day after the disappearance the body was found in the char

নিখোঁজের পরদিন চরে মিলল মরদেহ

নিখোঁজের পরদিন চরে মিলল মরদেহ
রায়নগর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তারেক বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগের দিন নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ বুধবার ভোরে মাদার নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মৃগী রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কেরামত পানিতে পড়ে গিয়ে আর উঠতে পারেননি।’

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নদীতে ডুবে নিখোঁজের এক দিন পর কেরামত গাজীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মাদার নদীর চর থেকে বুধবার ভোর ৫টার দিকে স্থানীয়রা ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম। তিনি জানান, ভোরে নদীর চরে তার মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে মাছ শিকারের জন্য নদীতে ফেলা বড়শি ছাড়াতে গিয়ে ডুবে নিখোঁজ হন কেরামত গাজী। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা দিনভর অভিযান চালিয়েও তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন।

৪০ বছরের কেরামত গাজীর বাড়ি উপজেলার মহেশখালী গ্রামে। দিনমজুর কেরামত দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে মাদার নদীর চরেই বাস করতেন।

রায়নগর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তারেক বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগের দিন নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ বুধবার ভোরে মাদার নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মৃগী রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কেরামত পানিতে পড়ে গিয়ে আর উঠতে পারেননি।

‘পরিবারের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সকাল ৯টার দিকে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
টার্মিনাল থেকে উধাও বাস, নিখোঁজ হেলপারও
নিখোঁজ ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার
চিকিৎসা নিতে বেরিয়ে ১১ দিন ধরে নিখোঁজ
‘সাগরে ভেসে চেন্নাই যাওয়া’ ফিরোজের তথ্যে বহু অসংগতি
নিখোঁজ কুয়াকাটায়, চেন্নাইয়ে সন্ধান নিয়ে রহস্য

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Swechchhasebak League president Nirmal passed away

চলে গেলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল গুহ

চলে গেলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল গুহ সিঙ্গাপুরে মৃত্যু হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের। ফাইল ছবি
সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে মৃত্যু হয় নির্মল গুহের। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ আর নেই।

স্থানীয় সময় বুধবার সকালে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

নির্মল গুহের বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন তিনি।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ১২ জুন রাতে রক্তচাপ বেড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নির্মল রঞ্জন গুহ। তাকে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেয়া হয়।

নির্মল গুহের হার্টে দুটি ব্লক ধরা পড়লে সেখানে রিং বসানো হয়, কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হলে ১৬ জুন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গারপুর নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন:
জাহাঙ্গীরের পক্ষে মিছিল, পদ গেল স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার
নারায়ণগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সব কমিটি বিলুপ্ত
ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার
‘উন্নয়ন ঠেকাতে আদাজল খেয়ে নেমেছে বিএনপি’
ডোপ টেস্ট ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা নয়  

মন্তব্য

p
উপরে