× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Mohanlal Azgars confidence in the rise in commodity prices
hear-news
player
print-icon

পণ্যমূল্য বৃদ্ধিতে মোহনলাল-আজগরদের নাভিশ্বাস

পণ্যমূল্য-বৃদ্ধিতে-মোহনলাল-আজগরদের-নাভিশ্বাস
নাপিত মোহনলাল ঋষি। ছবি: নিউজবাংলা
‘বউরে কইছি আবদার কমাইতে। এখন সংসারে তারা আগের চেয়ে খাওন অনেক কমাইছে। নিজের খরচ অনেকটা কমাই দিসি। আগে দিনে ৫টা সিগারেট খাইতাম, এখন ২টা খাই। আগে ১০ ঘণ্টা রিকশা চালাতাম। অহন ১৪-১৫ ঘণ্টা চালাই। দিন ফুরাইলে ঘরে বাজর তো কইরা দিতে হইব।’

‘বাড়িতে কইসি হরচ কমাতে। নিজেরও অনেক কমায়া আনছি আগেত্তে। বাইরের বাড়তি হরচটা না করে চেষ্টা করতাসি এইডা সংসারে ঢালনের লাইগ্যা। সংসার নিয়ে এখন শুধু চিন্তা। কেমনে যে চলমু!’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থা নাপিত মোহনলাল ঋষির। পাঁচ সদস্যের সংসারের খরচ মেটাতে তাই তিনি চিন্তা করছেন আয়বর্ধক আরও একটি কাজে যুক্ত হওয়ার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজীপাড়া এলাকার জয়গুরু হেয়ার কাটিং নামে একটি সেলুনের মালিক মোহনলাল। বাড়িতে মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। ১৪ বছর বয়সী বড় মেয়ে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। ভাদুঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে আট বছর বয়সী ছোট ছেলেটি।

কেবল খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে এমন নয়, বাড়ছে গাড়ি ভাড়াও। শহরের কাউতলী এলাকার বাড়ি থেকে টিএ রোড কাজী মাহমুদ শাহ গেটের সামনে পর্যন্ত কর্মস্থলে অটোরিকশায় ভাগাভাগি করে যেতে যে ভাড়া ছিল ৫ টাকা, সেটি এখন ১০ টাকা।

যাওয়া-আসায় আগে লাগত ১০ টাকা, এখন লাগছে ২০ টাকা। অর্থাৎ মাসে এই খাতেও বেড়েছে ৩০০ টাকা। সেলুনের প্রত্যেকটি সামগ্রীর দামও বেড়েছে। তবে কিন্তু চুল-দাড়ি কাটার বিল বাড়ানো হয়নি এক টাকাও।

তাই দিন শেষে খরচ ও লাভের হিসাব করে সেলুনে থাকা কারিগরের বেতন দিয়ে থাকছে ৩০০-৪০০ টাকা। সেই টাকা দিয়ে খাবার খরচ হয়ে গেলেও মায়ের ওষুধ, ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলসহ অন্যান্য খরচ মেটানো যাচ্ছে না।

মোহনলাল বলেন, ‘আমার প্রত্যেক মাসের ইনকাম ১০ হাজার টাকা। কিন্তু এখন সংসার চালাতে দরকার ২০ হাজার টাকা। প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বাড়তি। সংসারের খরচ ও মাইয়্যা-ছেলেডার পড়ার খরচও বাড়ছে। তাই অহন আর এক কাম করলে অইত না। আরেকটা কাজের চিন্তা করতাছি। সেলুনের কাজের লগে ওইডাও চালামু।’

করোনা পরিস্থিতির উন্নতির পর বিশ্বজুড়ে পণ্যমূল্যে যে ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়, ইউক্রেনে রুশ হামলার পর সেই পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। চাল, ডাল, তেল, লবণসহ এমন কোনো পণ্য নেই যেগুলোর দাম বাড়েনি। এতে মোহনলালের মতো স্বল্প আয়ের মানুষদের সংসার চালানো হয়ে গেছে কঠিন।

রিকশাচালক আলী আজগর বলেন, ‘বউরে কইছি আবদার কমাইতে। এখন সংসারে তারা আগের চেয়ে খাওন অনেক কমাইছে। নিজের খরচ অনেকটা কমাই দিসি। আগে দিনে পাঁচটা সিগারেট খাইতাম, এখন দুটা খাই। আগে ১০ ঘণ্টা রিকশা চালাতাম। অহন ১৪-১৫ ঘণ্টা চালাই। দিন ফুরাইলে ঘরে বাজর তো কইরা দিতে হইব।’

সদর উপজেলার দারমা গ্রামে থাকেন তিনি। বাড়িতে মা আনোয়ারা খাতুন, স্ত্রী সাফিয়া বেগম ও তিন সন্তান রয়েছে। বড় সন্তান সাইফুল ইসলাম পঞ্চম শ্রেণিতে ও ছোট ছেলে সায়মন মিয়া দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ৯ মাসের ছোট মেয়ে সাহেদসহ তাদের সবার দায়িত্বও আজগরের ওপর।

রিকশার মালিককে জমা দিতে হয় ৩৫০ টাকা। তারপর প্রতিনিয়ত এটা-ওইটা নষ্ট হওয়ায় এর জন্য খরচ আছে।

তিনি জানান, আগে সকাল ৮টায় বের হয়ে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮-৯ ঘণ্টা রিকশা চালাতেন। তখন দিনে ৬০০-৭০০ টাকা রোজগার হতো। রিকশা ভাড়া বাবদ মালিককে ৩০০ টাকা দিতেন। বাকি টাকা হাতে থাকত। এখন রাত প্রায় সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রিকশা চালান বাড়তি আয়ের আশায়।

আজগর বলেন, ‘মালিক রিকশার ভাড়া বাড়াইছে। তার ওপর বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। গ্রামের সংসারের খরচ ও দুইটা ছেলের পড়ার খরচও বাড়ছে। তাই অহন আগের তুলনায় আরও ৪-৫ ঘণ্টা বেশি রিকশা চালাই। এইড্যা ছাড়া কোনো উফায় (উপায়) নাই।

‘কোমরে ব্যথা হইয়া গেছে। কিন্তু বাঁচতে তো অইব। ঘরে বউ, পুলা-মাইয়্যা ও মা আছে। আমি রুজি না করলে খাইব কী?’

আরও পড়ুন:
মূল্যতালিকা প্রদর্শনসহ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ১৬ সুপারিশ
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে বিএনপির হাত আছে: যুবলীগ চেয়ারম্যান
সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস পাবেন নগরবাসী
অকারণে বাড়ছে ছোলার দাম
দ্রব্যমূল্য নিয়ে কাউকে ফায়দা লুটতে দেয়া হবে না: কৃষিমন্ত্রী

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The MP is angry over the slow construction of the road connecting the Padma Bridge

পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে ধীরগতি, এমপির ক্ষোভ

পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে ধীরগতি, এমপির ক্ষোভ নিজস্ব কার্যালয়ে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন শরীয়তপুর ১ আসনের এমপি ইকবাল হোসেন অপু। ছবি: নিউজবাংলা
‘আমাদের ৩ সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের ওপর ভিত্তি করে শরীয়তপুরের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রী ২০২০ সালে একনেকে ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার ফোর লেন প্রকল্পের অনুমোদন দেন। অনুমোদনের পর দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর অতিবাহিত হলেও নানান জটিলতায় আশানুরূপ কাজ হয়নি।’

শরীয়তপুর থেকে পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণে ধীরগতির কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শরীয়তপুর ১ আসনের এমপি ইকবাল হোসেন অপু।

এমপির নিজস্ব কার্যালয়ে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অপু বলেন, ‘আমাদের ৩ সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের ওপর ভিত্তি করে শরীয়তপুরের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রী ২০২০ সালে একনেকে ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার ফোর লেন প্রকল্পের অনুমোদন দেন। অনুমোদনের পর দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর অতিবাহিত হলেও নানান জটিলতায় আশানুরূপ কাজ হয়নি।

‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এই সড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে। সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। ঢাকা থেকে আসার পথে আমিও জানজটে আটকা পরেছিলাম।’

মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে সড়ক বিভাগকে নির্দেশনা দেন এই এমপি। এ ছাড়া ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে চলাচলকারী বিআরটিসি বাস নিয়েও গণমাধ্যমে কথা বলেন তিনি।

জেলার কিছু কিছু উপজেলা থেকে বিআরটিসি বাস চলাচল করলেও বাস মালিক সমিতির খামখেয়ালিপনায় জেলা শহর থেকে বন্ধ বাখা হয়েছে। সম্প্রতি জেলা শহরে বিআইডব্লিউটিসির বাস আটকে দেয় মালিক সমিতির সদস্যরা।

কেন জেলা শাহর থেকে বিআরটিসি বাস চলবে না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এমপি বলেন, ‘আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলা শহর থেকে রাজধানীতে বিআইডব্লিউটিসি বাস চলবে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হয়েছে।’

পদ্মা সেতু হয়ে যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুর থেকে পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার চার লেনের সড়ক উন্নয়নের প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। চলতি বছরের জুন মাসের মাধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ।

বর্তমানে শরীয়তপুর থেকে কাজিরহাট পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার ২৪ ফুট ও কাজিরহাট থেকে পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ১২ ফুট প্রস্থের সড়ক রয়েছে। সরু এই সড়কে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের।

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু নির্মাণে সমালোচকদের মুখে চুনকালি: রওশন
এক্সপ্রেসওয়েতে বাইকের টোল ৩০, কার ১৪০
পদ্মা সেতুর নাট বল্টু খোলা বাইজীদ ‘খালেদার অনুসারী’: নৌ প্রতিমন্ত্রী
পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারীদের বিচারের পক্ষে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী
কোথা থেকে, কীভাবে মেটানো হলো সেতুর খরচ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A youth was shot dead by miscreants in Khulna

দুর্বৃত্তের গুলিতে হত্যা মামলার আসামি নিহত

দুর্বৃত্তের গুলিতে হত্যা মামলার আসামি নিহত দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত জুলফিকার নাইম মুন্না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ওসি জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে নগরীর মুজগুন্নী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছিলেন মুন্না। সে সময় ২ জন এসে তার মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়।

খুলনা মহানগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

বুধবার রাত ৮টার দিকে নগরীর মুজগুন্নী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন জুলফিকার নাইম মুন্না নামে ওই যুবক। পুলিশ জানিয়েছে, মুন্না হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি।

তার বাড়ি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সুগন্ধী গ্রামে।

খালিশপুর থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তিনি জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে নগরীর মুজগুন্নী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছিলেন মুন্না। সে সময় ২ জন এসে তার মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়।

খালিশপুর থানা পুলিশ তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দীঘলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার সরকার জানিয়েছেন, নিহত মুন্নার নামে একাধিক মামলা আছে।

ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
কালুখালীতে ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা
শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যায় জিতু গ্রেপ্তার
শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা: অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলার সাক্ষ্য শুরু
শিক্ষক হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাবিতে আমরণ অনশন
ছেলের প্রেমে মাকে পুড়িয়ে হত্যা, দম্পতি কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Sunamganj fears of floods again

সুনামগঞ্জে ফের বন্যার শঙ্কা

সুনামগঞ্জে ফের বন্যার শঙ্কা
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারি বৃষ্টি হওয়ায় সিলেট অঞ্চলের নদীর পানি বাড়ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে ভয়াবহ বন্যার সম্ভাবনা নেই। তবে উজানে যদি তিন থেকে চার দিন টানা ভারি বৃষ্টি হয় তাহলে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা আছে।’

ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ও সুনামগঞ্জে ভারি বৃষ্টিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জে আবারও বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সুরমার পানি সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও পানির উচ্চতা মঙ্গলবারের চেয়ে আট সেন্টিমিটার বেড়েছে। ছাতক পয়েন্টে পানি এখন বিপৎসীমার দশমিক ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর।

নদীর পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চলে বাড়তে শুরু করেছে পানি।

স্থানীয়রা জানান, নবীনগর, কাজির পয়েন্ট, ছাতক ও দোয়ারাবাজারে তৃতীয় দফা বন্যার পানি এখনও নামেনি। এর মধ্যেই আবার পানি ঢুকছে। এতে বিপাকে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ।

নবীনগরের মাহবুব আহমেদ বলেন, ‘পানি আবার বাড়ছে। মঙ্গলবার রাতে এখানে অনেক বৃষ্টি হয়েছে। আমাদের ঘরের পানি এখনও শুকায়নি। ভয়াবহ বন্যায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। আবার যদি পানি আসে তাহলে কীভাবে থাকব?’

সুনামগঞ্জে ফের বন্যার শঙ্কা

দোয়ারাবাজারের বাংলাবাজার গ্রামের খালেদ হাসানও বলেন, ‘এখান থেকে আগের পানিই যায়নি। তার মধ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকে পানি বাড়ছে। আমরা যারা নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দা তারা সবার আগে বিপদে পড়ছি।’

পাউবো জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ সদরে ১৯৬ মিলিমিটার, তাহিরপুরে ৩২ মিলিমিটার, দিরাইয়ে সাত মিলিমিটার ও ছাতকে ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

চেরাপুঞ্জিতে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে যা তার আগের ২৪ ঘণ্টার চেয়ে ৫০ মিলিমিটার কম।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন বর্ষাকাল হওয়ায় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলে মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে এ অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে। বুধবারও সুনামগঞ্জে ও চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিতে হচ্ছে।

‘ভারি বৃষ্টি হওয়ায় সিলেট অঞ্চলের নদীর পানি বাড়ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে ভয়াবহ বন্যার সম্ভাবনা নেই। তবে উজানে যদি তিন থেকে চার দিন টানা ভারি বৃষ্টি হয় তাহলে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা আছে।’

আরও পড়ুন:
বন্যাদুর্গত এলাকায় কাটা রাস্তায় সেতু বা কালভার্ট নির্মাণের নির্দেশ
ভেসে গেছে বই, অনিশ্চিত পড়ালেখা
সিলেটে বন্যাদুর্গতদের পাশে রংধনু গ্রুপ
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে: হানিফ
বন্যায় না খেয়ে কেউ মারা যায়নি, এটি বড় প্রাপ্তি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Couple jailed for burning mother to death in love with son

ছেলের প্রেমে মাকে পুড়িয়ে হত্যা, দম্পতি কারাগারে

ছেলের প্রেমে মাকে পুড়িয়ে হত্যা, দম্পতি কারাগারে
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন জানান, মামলার অন্য আসামিরা বিভিন্ন জায়গায় পালিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ময়মনসিংহ সদরে লাইলী আক্তার নামে এক নারীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দম্পতিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে ময়মনসিংহ মুখ্য ১ নম্বর আমলি আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আব্দুল হাই তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক প্রসূন কান্তি দাস। তিনি জানান, আগুনে পুড়ে লাইলী আক্তারকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী আছমা নামে দুই আসামিকে আদালতে তোলে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। এ সময় বিচারকের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে নিহতের স্বামী আব্দুর রশিদ ৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই দিন রাতেই সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মো. জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী আছমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা সদর উপজেলার চরঈশ্বরদিয়া গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন খোকন মিয়া ওরফে কাজল, তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার কনা, গোলাম মোস্তফার ছেলে কামাল মিয়া, বাবুল, কামাল মিয়ার স্ত্রী নাসিমা আক্তার বৃষ্টি, বাবুলের স্ত্রী রোমান।

মামলার বরাতে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন জানান, সদর উপজেলার চরঈশ্বরদিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিবেশী খুকি আক্তারের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু দুই পরিবার সেই সম্পর্ক মেনে নিচ্ছিল না।

গত ২৬ জুন তারা পালিয়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয় মেয়ের পরিবারের লোকজন। মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে মঙ্গলবার ছেলের বাড়িতে এসে ছেলের মা লাইলীকে একা পেয়ে প্রথমে গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হাত-পা তার দিয়ে বেঁধে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আগুন জ্বলতে থাকলে স্থানীয়রা লাইলীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে লাইলীর মৃত্যু হয়।

ফারুক হোসেন আরও জানান, বাকি আসামিরা বিভিন্ন জায়গায় পালিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন:
ছেলের ‘প্রেমের জেরে’ মাকে পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২
ছেলের প্রেমের জেরে মাকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The bag was also stolen with a lock on the launch cabin

লঞ্চের কেবিনে তালা দিয়েও ব্যাগ চুরি

লঞ্চের কেবিনে তালা দিয়েও ব্যাগ চুরি ঢাকা ও পটুয়াখালী রুটে চলাচল করা সুন্দরবন লঞ্চ। ছবি: নিউজবাংলা
সুন্দরবন লঞ্চ কোম্পানির মালিক সাইদুর রহমান রিন্টু মিয়া জানিয়েছেন, চুরির ভিডিও ফুটেজটি সদরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে দেয়া হয়েছে।

ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী লঞ্চের কেবিন থেকে এক যাত্রীর ব্যাগ চুরি নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়েছে। লঞ্চের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এই চুরির ঘটনাটি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকার সদরঘাট থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশে ছেড়ে আসার প্রায় ২০ মিনিট আগে বিলাসবহুল সুন্দরবন-৯ লঞ্চের ২১৯ নং কেবিনে ওই চুরির ঘটনাটি ঘটে।

পটুয়াখালী শহরের কাঠপট্টি এলাকার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সহ-সভাপতি মো. আবু নাইম জানান, তার স্ত্রী ইসমত আরা ঢাকার সদরঘাট থেকে পটুয়াখালী আসার পথে সুন্দরবন-৯ লঞ্চের ২১৯ নম্বর কেবিনে প্রবেশ করে মালামাল রাখেন। পরে কেবিনটি তালা মেরে লঞ্চের দোতলার সামনের অংশে গিয়ে তিনি মেয়ের জামাইকে বিদায় জানান।

মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিট পর কেবিনের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে হাতের পার্স (হাত ব্যাগ) না পেয়ে চিৎকার শুরু করেন ইসমত আরা। এক পর্যায়ে তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে লঞ্চের সুপারভাইজারসহ অন্যান্য স্টাফ ও যাত্রীরা ঘটনাস্থলে আসেন। তাদের কাছে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন ভুক্তভোগী।

স্ত্রীর বরাতে আবু নাইম জানান, ঘটনা শুনে লঞ্চের সুপারভাইজার কেবিনের পাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চুরির বিষয়ে নিশ্চিত হন। চুরি যাওয়া ব্যাগটিতে ২ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, নগদ আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি মোবাইলসহ অন্যান্য কাগজপত্র ছিল।

বুধবার ভোরে ওই লঞ্চটি পটুয়াখালী পৌঁছায়। পরে দুপুরে সুন্দরবন লঞ্চ কোম্পানির মালিক সাইদুর রহমান রিন্টু মিয়া জানান, ভিডিও ফুটেজটি সদরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে দেয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুত চুরির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

আবু নাইম অভিযোগ করেন, ৭/৮ বছর আগেও তার এক নিকটাত্মীয়ের একটি ব্রিফকেস চুরি হয়েছিল লঞ্চের কেবিন থেকে। কিন্তু সেটির খোঁজ মেলেনি আজও।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় এই লঞ্চে আসা যাওয়া করি। লঞ্চের কেবিন বয় কিংবা স্টাফরা জড়িত না থাকলে বাইরের কেউ এভাবে কেবিনের জানালা খুলে চুরি করার সাহস রাখে না।’

তবে এ ঘটনায় লঞ্চের কোনো স্টাফ জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে সুন্দরবন-৯ লঞ্চের সুপারভাইজার মেহেদি হাসান সুমন বলেন, ‘এটি একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। কারণ বরিশাল বিভাগে সুন্দরবন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়। এই চুরির ঘটনা আমাদেরকেও হতবাক করেছে।’

বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও জানান সুপারভাইজার।

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুতে লোকারণ্যের দিন ফাঁকা সদরঘাট
দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চসেবাতেও উন্নতির আশা
তড়িঘড়ি বরিশাল ছেড়েছে ১২ বিলাসবহুল লঞ্চ
দাঁড়ানোর জায়গা নেই লঞ্চে
কেমন আছেন অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজদের স্বজনরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Death of a housewife victim of organized rape Detention 4

‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার’ গৃহবধূর মৃত্যু: আটক ৪

‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার’ গৃহবধূর মৃত্যু: আটক ৪
ওসি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হবে। ভোরে জারুইতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার’ গৃহবধূ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় তার স্বামীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনসুর আলী আরিফ বুধবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হবে। ভোরে জারুইতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

হাসপাতালে গৃহবধূর সঙ্গে ছিলেন তারা মামা মো. জাহাঙ্গীর। তিনি নিউজবাংলাকে জানান, মারা যাওয়ার আগে ঘটনার বর্ণনা দেয়ার পাশাপাশি জড়িত কয়েকজনের নাম তাকে জানিয়ে গেছেন তার ভাগনি।

কী ঘটেছিল এই প্রশ্নের উত্তরে গৃহবধূর বরাতে তিনি বলেন, বাবার বাড়ি উত্তর রসুলপুর গ্রাম থেকে সোমবার রাত ৮টার দিকে শাহপুর গ্রামের শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় তার ভাগনি। শ্বশুরবাড়ির কাছাকাছি শাহপুর মোড় থেকে তাকে তুলে নিয়ে একটি পতিত জমিতে ছয়-সাতজন তাকে ধর্ষণ করে।

পরদিন সকালে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে সেখান থেকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সজীব ঘোষ নিউজবাংলাকে জানান, গুরুতর অবস্থায় ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছে, তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

রোগীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) মাকসুদুর রহমানের সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ করেন নিউজবাংলার প্রতিবেদক। এ সময় তিনি তথ্য দিতে অপারাগত প্রকাশ করেন। জানান, তিনি কাউকে সরাসরি না চিনলে ফোনে তথ্য দেন না। তিনি অফিস টাইম শেষ করে বের হয়ে গেছেন।

এরপর অফিস টাইমে কেন এলেন না এই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘এখন কোনো প্রয়োজন হলে আপনার আইডি কার্ডসহ আগামীকাল দেখা করতে হবে।’

তবে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক হেলাল উদ্দীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভিকটিম সেক্সচুয়াল অ্যাসল্ট হয়েছে। ময়নাতদন্ত এবং ভিসেরা রিপোর্টের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

আরও পড়ুন:
আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা
ব্যবসায়ী হত্যায় দুজনের যাবজ্জীবন
কাঠমিস্ত্রি হত্যা মামলায় সাতজনের যাবজ্জীবন
ফেনসিডিল নিয়ে আহত দুই যুবকের নামে মামলা
কলেজছাত্র হত্যা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Nesco is in trouble for collecting arrears in Rangpur

রংপুরে বকেয়া আদায়ে বিপাকে নেসকো

রংপুরে বকেয়া আদায়ে বিপাকে নেসকো
রংপুর নেসকো লিমিটেডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (অফিস পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল-১) মো. আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বকেয়া আদায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সরকারি অনেক অফিস তাদের বকেয়া পরিশোধ করেছে। যাদের বকেয়া আছে তারা বরাদ্দ পেলেই পরিশোধ করবে বলে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে আমাদের জানানো হয়েছে।’

রংপুরে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ গ্রাহক পর্যায়ে ৪৭ কোটি টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে বলে জানিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো)। এর মধ্যে সরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছেই পাবে ৩২ কোটি ২৯ লাখ ৭৫ হাজার ৩১১ টাকা।

গত ১ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রাহকরা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ কেটে দেয়ার নির্দেশনা দেন। সে নির্দেশনার পর বকেয়া বিল আদায়ে তৎপর হয়েছে রংপুর নেসকো।

বিল পরিশোধ করার জন্য বেশ কয়েক দিন মাইকে প্রচার চালিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। দিয়েছে চিঠিও। তবে বিল পরিশোধে গ্রাহকের তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

সূত্র জানিয়েছে, নেসকো ডিভিশন-১-এর বকেয়া পড়েছে ৯ কোটি ২ লাখ ১০ হাজার ৩১১ টাকা। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের বকেয়া ৮ কোটি ৭৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১১ টাকা, রংপুর পুলিশ ক্লাবের (মেট্রোপলিন কোতোয়ালি থানার সামনে) ১২ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

এ ছাড়া রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ৬০ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা, রংপুর শিল্পকলা একাডেমির ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং নবাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বকেয়া জমেছে।

৮ কোটি ৮৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বকেয়া পড়েছে ডিভিশন-২-এর। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের বকেয়া ৮ কোটি টাকা, রংপুর জেলা পুলিশের ৭২ লাখ, রংপুর গণপূর্ত বিভাগের ৪৫ লাখ ও স্টেডিয়ামের বকেয়া রয়েছে ১২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

ডিভিশন-৩-এর পাওনা জমেছে ১৪ কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। যার মধ্যে সিটি করপোরেশনের ৮ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার, বিহারি ক্যাম্পের ৫ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার, মাহিগঞ্জ রেঞ্জ রিজার্ভ পুলিশের ২ লাখ টাকা।

রংপুর নেসকো ডিভিশন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল মতিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশনের বকেয়া বিল পরিশোধ করার জন্য প্রতি মাসে একটি করে চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু তার কোনো উত্তর আমরা পাই না।

‘ইতোমধ্যে অনেক সরকারি অফিস তাদের বিদ্যুৎ বিলের অংশিক পরিশোধ করেছে, অনেকে অর্ধেক করেছেন। সবাইকে নিয়মিত চিঠি দেয়া হচ্ছে।’

ডিভিশন-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘রংপুর সিটি করপোরেশনের কাছে সব থেকে বেশি পাওনা আমাদের। আমরা সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর সেই নির্দেশনা উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছি। জুন মাস শেষ হচ্ছে, এখনও কোনো বিল পাইনি।

তিনি আরও বলেন, ‘রংপুরে অবস্থিত দুটি বিহারি ক্যাম্পে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে ৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। একসময় ত্রাণ মন্ত্রণালয় এদের বিল দিত। এখন দেয় না।

‘২০১৬ সালে উচ্চ আদালত বিহারিদের নাগরিকত্ব নিয়ে একটি আদেশ দেয়। সেই আদেশে বলা হয় বিদ্যুৎ বিল বিহারিরাই দেবে। কিন্তু তারা দিচ্ছে না। যতটুুকু শুনেছি, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করেছে। আমরা বকেয়া বিলের জন্য প্রতি মাসে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিই, কিন্তু বিল পাই না।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া জমেছে ১৫ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকার বিলের গ্রাহককে পাওয়াই যাচ্ছে না।

কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, রংপুরে বিভিন্ন বর্ধিত সড়কের কাজের ফলে সড়কের দুই পাশের বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দোকান ভাঙা পড়েছে। এসব দোকানের নেয়া বিদ্যুৎ বিল বাকি। আর এ দোকানিরা এখন কোথায় আছে কেউ জানে না।

এদিকে কর্মকর্তারা নিউজবাংলাকে জানান, বেসরকারি পর্যায়ে বকেয়া আদায়ে প্রতিদিনই কমপক্ষে অর্ধশত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। যারা বিল পরিশোধ করছে, তাদের পুরনরায় সংযোগ দেয়া হচ্ছে। যারা দিচ্ছে না, তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকছে। এ ছাড়া প্রতিনিয়তই মামলা করা হচ্ছে।

রংপুর নেসকো লিমিটেডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (অফিস পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল-১) মো. আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বকেয়া আদায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সম্প্রতি রংপুর সিটি করপোরেশন ডিভিশন-২-এ ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।

‘সরকারি অনেক অফিস তাদের বকেয়া পরিশোধ করেছে। যাদের বকেয়া আছে তারা বরাদ্দ পেলেই পরিশোধ করবে বলে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে আমাদের জানানো হয়েছে।’

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়র মহোদয় হজে গেছেন। প্রশাসনিক বিষয়টি তিনি দেখেন। আমার এ বিষয়টি জানা নেই।’

আরও পড়ুন:
নেসকোতে আগুন: দুর্ভোগে ১৭ ঘণ্টা

মন্তব্য

p
উপরে