× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
The way an upazila changed
hear-news
player
print-icon

যেভাবে বদলে গেল একটি উপজেলা

যেভাবে-বদলে-গেল-একটি-উপজেলা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাওয়ার পথেই বিশ্বম্ভরপুর। ছবি: নিউজবাংলা
সিলেট এলাকার অবহেলিত এক উপজেলা বিশ্বম্ভরপুর গত দেড়-দুই বছরে বদলে গেছে। পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক এক রূপ পেয়েছে এটির সদর। বিভিন্ন মোড়ে নির্মাণ করা হয়েছে চমৎকার সব স্থাপনা।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চালবন মোড়ের নাম এখন কৃষাণ চত্বর। এই মোড়ে সড়কের পাশেই এক কৃষকের ভাস্কর্য। উঁচু স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই কৃষকের মাথায় বেতপাতার ছাতা, হাতে লাঠি, আর লুঙ্গি পরা, ভাঁজ করে কৃষকেরা যেমন পরে থাকেন।

সুনামগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা। উপজেলা সদরে যাওয়ার আগে চালবন মোড়ের কৃষকের এই ভাস্কর্য দেখিয়ে সিলেট থেকে বেড়াতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সাইমুম আদনান বললেন, ‘সিলেট নগরেও তো এমন ভাস্কর্য নেই। এ রকম সুন্দর কিছু করার উদ্যোগও নেই। বরং এমন কিছু করতে গেলে সারা দেশেই মৌলবাদী গোষ্ঠীসহ নানা চক্রের বাধার মুখে পড়তে হয়। অথচ হাওরপাড়ের এই প্রায় গ্রামীণ এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে এমন চমৎকার ভাস্কর্য।’

যেভাবে বদলে গেল একটি উপজেলা

টাঙ্গুয়ার হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাওয়ার পথে বিশ্বম্ভরপুর। সুনামগঞ্জ শহরের সবচেয়ে কাছের এই উপজেলাটি এতদিন ছিল সবচেয়ে অবহেলিত। ছিল মোড়ে মোড়ে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। ছিল না তেমন কোনো পরিচিতিও।

অথচ এই বিশ্বম্ভরপুর গত দেড়-দুই বছরে নান্দনিক রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন মোড়ে নির্মাণ করা হয়েছে চমৎকার সব স্থাপনা। কৃষাণ চত্বর, বোয়াল চত্বর, জয়বাংলা চত্বর, হাওরবৃত্ত চত্বর– এ রকম সব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে উপজেলাজুড়ে।

পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ‘হাওর বিলাস’ ও ‘পাহাড় বিলাস’ নামে আরও দুটি নান্দনিক স্থাপনা। হাওর আর পাহাড় দেখতে এই দুই জায়গায় এখন পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে।

যেভাবে বদলে গেল একটি উপজেলা

এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাদি উর রহিম জাদিদের উদ্যোগেই বদলে যাচ্ছে বিশ্বম্ভরপুর। ২০২০ সালে বিশ্বম্ভরপুরের ইউএনও হিসেবে যোগ দেন জাদিদ। এরপর থেকে উপজেলাটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন তিনি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখানকার ইউএনও খুব কর্মঠ। তিনিই আমাদের সঙ্গে কথা বলে এসব সুন্দর স্থাপনাগুলো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। ফলে এখন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চেহারা বদলে গেছে।’

পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘যেসব জায়গায় বিভিন্ন ভাস্কর্য ও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলো আগে বেদখল হয়ে ছিল। ময়লার ভাগাড় ছিল। এসব উচ্ছেদ করেই স্থাপনাগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।’

উপজেলার ছিলাকান্দি বাজারে মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর্য নামে আরেকটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিশ্বম্ভরপুরের ‘কারেন্টের বাজারে’ নির্মিত একটি ভাস্কর্য দৃষ্টি কাড়বে যে কারও। বাজারের মোড়ে নির্মাণ করা হয়েছে বোয়াল মাছের ভাস্কর্য, যাতে জড়াজড়ি করে আছে দুটি বোয়াল। এই চত্বরের নাম এখন বোয়াল চত্বর।

যেভাবে বদলে গেল একটি উপজেলা

হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ মাছের জন্যও প্রসিদ্ধ। হাওরের বোয়াল মাছের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। ভাস্কর্যের মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

বিশ্বম্ভরপুরের ভাস্কর্য আর স্থাপনাগুলো সুনামগঞ্জের ইতিহাস আর ঐতিহ্যকে তুলে ধরছে বলে জানান বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী সুনামগঞ্জ জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখানকার স্থাপনাগুলো সুনামগঞ্জকেই উপস্থাপন করছে। সুনামগঞ্জের হাওর, ধান, মাছ, কৃষক এসব তুলে ধরা হয়েছে স্থাপনায়।’

তিনি বলেন, ‘জেলা শহরের পার্শ্ববর্তী হলেও বিশ্বম্ভরপুর এতদিন ছিল সুনামগঞ্জের সবচেয়ে অবহেলিত উপজেলা। অন্য জেলার মানুষজন টাঙ্গুয়ার হাওরের জন্য তাহিরপুরকে চেনে। শিল্প কারখানার জন্য ছাতককে চেনে। বিশ্বম্ভরপুরের কোনো পরিচিতি ছিল না। এসব স্থাপনা নির্মাণের কারণে মানুষজন এখন বিশ্বম্ভরপুরকে চিনছে। অনেক পর্যটক এখানে বেড়াতে আসছেন।’

এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে এই সংস্কৃতিকর্মীর দাবি, প্রত্যেক উপজেলায় এমন উদোগ নেয়া প্রয়োজন।

যেভাবে বদলে গেল একটি উপজেলা

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছরে উপজেলা পরিষদ মোড়ে বঙ্গবন্ধুর তর্জনীর আদলে জয়বাংলা চত্বর, কারেন্টের বাজারে বোয়ালের ভাস্কর্যে বোয়াল চত্বর, পলাশ বাজারের হাওরবৃত্ত চত্বর, চালবন বাজারে কৃষাণ চত্বর নির্মাণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ ভবনের পাশে ‘হাওর বিলাস’ ও মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে ‘পাহাড় বিলাস’ নামে দুটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে রয়েছে উঁচু ওয়াচ টাওয়ারে উঠে হাওর ও পাহাড় দেখার সুবিধা। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ফুড কোর্ট, বিশ্রামাগার।

যেভাবে বদলে গেল একটি উপজেলা

উপজেলাকে এমন নান্দনিক রূপ দেয়া ইউএনও মো. সাদি উর রহিম জাদিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে পুরো উপজেলাজুড়ে অব্যবস্থাপনা ছিল প্রচুর। বাজারগুলো ছিল ঘিঞ্জি আর ময়লা আবর্জনায় ভরা। বিশেষত সরকারি জায়গা দখল করে পার্কিং আর দোকান করা হয়েছিল।

‘আমি এখানে যোগ দেয়ার পর এগুলোকে একটা ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসার কাজ শুরু করি। প্রথমে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করি। এরপর সৌন্দর্যবর্ধন ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিই। আগে এখানে বিনোদনের কোনো সুযোগ ছিল না। জেলার টাঙ্গুয়ার হাওর ছাড়া বেড়ানোর আর ভালো কোনো জায়গাও নেই। এখন বিশ্বম্ভরপুরেও অনেকে বেড়াতে আসেন।’

এসব স্থাপনা নির্মাণে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক অনেক সহযোগিতা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে থেকে অর্থসহায়তাও পেয়েছি। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন ফান্ডের টাকাও এসব নির্মাণে ব্যবহার করেছি। তবে খুব বেশি টাকা খরচ হয়নি। সব মিলিয়ে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।’

যেভাবে বদলে গেল একটি উপজেলা

এলাকার মানুষজনও এসব কাজের প্রশংসা করছেন জানিয়ে ইউএনও বলেন, ‘ভাস্কর্য নির্মাণে আমরা কোনো বাধা পাইনি। বরং হাওর বিলাস করার পর সবাই খুব প্রশংসা করছে। এখন মানুষজন বিভিন্ন জায়গায় এমন স্থাপনা চায়। তা ছাড়া এখানে তেমন উগ্র মানুষজনও নেই।

‘বোয়াল চত্বর নির্মাণ করেছেন শিল্পী জালাল সরকার, জয় বাংলা ও কৃষাণ চত্বরের শিল্পী নাইম দিপু এবং হাওর বৃত্তের নকশা করেছেন প্রকৌশলী জিষ্ণু কুমার দাস।’

সিলেটের সাংবাদিক উজ্জ্বল মেহেদীর বাড়ি সুনামগঞ্জে। নিজ জেলার একটি উপজেলায় এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা আন্তরিক হলে যে একটি উপজেলা বদলে যেতে পারে, তার বড় উদাহরণ বিশ্বম্ভরপুর। ইউএনওর উদ্ভাবনী ও সৃষ্টিশীল চিন্তা আর স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় বিশ্বম্ভরপুর এখন আমূল পাল্টে গেছে। এসবের জন্য আলাদা কোনো অর্থ বরাদ্দেরও প্রয়োজন হয়নি।’

যেভাবে বদলে গেল একটি উপজেলা

উজ্জ্বল বলেন, জেলার মধ্যে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাই ছিল সবচেয়ে উপেক্ষিত ও অবহেলিত। কোনো কিছুই ছিল না এখানে। সেই বিশ্বম্ভরপুরই এখন হয়ে উঠেছে হাওর পর্যটনের অন্যতম বড় ক্ষেত্র।

আরও পড়ুন:
উপজেলা চেয়ারম্যান শিশির রিমান্ডে
সেফালী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান
উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষমতার বিধান বাস্তবায়নের নির্দেশ
উপজেলা করায় তিন থানায় আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ
নতুন ৩ উপজেলা ডাসার, মধ্যনগর, ঈদগাঁও

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Various doors of tourism are opening in the south

পর্যটনের নানান দুয়ার খুলছে দক্ষিণে

পর্যটনের নানান দুয়ার খুলছে দক্ষিণে পটুয়াখালীর সোনারচর। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে কাজ শুরু করেছে। দেশে পর্যটনের সামগ্রিক মানোন্নয়নে ২০২০ সালে শুরু করা ‘মাস্টার প্ল্যান’ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। এতে প্রাধান্য পাচ্ছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন।

আছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ‍সুন্দরবন, সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার মতো সুবিস্তৃত সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা, বিশ্ব ঐতিহ্যে ঠাঁই করে নেয়া স্থাপত্য ষাট গম্বুজ মসজিদসহ অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র। এর পরও এতদিন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দুই বিভাগ খুলনা ও বরিশালে ছিল পর্যটকখরা।

তবে পদ্মা সেতু সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে চলেছে। ঢাকা থেকে দক্ষিণের কুয়াকাটা পর্যন্ত এখন সড়কপথে এক সুতায় গাঁথা। সুদীর্ঘ যাত্রাপথ এখন অতীত।

পদ্মা সেতু চালুর কারণে পর্যটকরা এখন দক্ষিণাঞ্চলমুখী হবেন বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। তবে তারা বলছেন, শুধু সড়কপথের উন্নয়ন নয়, দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে আবাসন, স্থানীয় যোগাযোগ ও মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থাও করতে হবে। থাকতে হবে পর্যটকবান্ধব নিরাপদ পরিবেশ।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে কাজ শুরু করেছে। দেশে পর্যটনের সামগ্রিক মানোন্নয়নে ২০২০ সালে শুরু করা ‘মাস্টার প্ল্যান’ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। এতে প্রাধান্য পাচ্ছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সারা দেশে ১ হাজার ১০০ ট্যুরিস্ট অ্যাট্রাকশন পয়েন্ট আইডেন্টিফাই করেছি। এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যাট্রাকশন পয়েন্টের আর্কিটেকচারাল ডিজাইন আমরা করব। আমরা ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানও করব।

‘একই সঙ্গে আমরা একটি অ্যাকশন প্ল্যান করব, যাতে নির্ধারণ করা হবে কোনটা তাড়াতাড়ি হবে, কোনটা মধ্যমেয়াদি হবে আর কোনটা দীর্ঘমেয়াদি হবে। সেটা নির্ধারণ করে আমরা কাজ শুরু করব। এটা কমপ্লিট হওয়ার পর আমরা দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলকে আমরা প্রায়োরিটি দেব, কারণ ওখানে যাওয়াটা আগে কষ্টসাধ্য ছিল। এখন সেটা সহজ হয়েছে। কুয়াকাটা, পিরোজপুরসহ বরিশালের বিভিন্ন অঞ্চলকে আমরা অগ্রাধিকার দেব। ওখানে কিছু নতুন ট্যুরিস্ট অ্যাট্রাকশন তৈরির জন্য কাজ করছি। এর মধ্যে আছে সোনাদ্বীপ, আরেকটা সোনারচর। ১০-১৫ দিন আগে আমরা দেখে এসেছি। কীভাবে এগুলো ডেভেলপ করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছি।’

শুধু পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটক বাড়বে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী।

তবে পর্যটন ব্যবসায়ী ও প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব মো. তৌফিক রহমান মনে করছেন, দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটনকেন্দ্রিক সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এতদিন মূল সমস্যাটা ছিল যাতায়াত। আরেকটা বড় সমস্যা থাকার ভালো ব্যবস্থাপনা নেই। এটা নিয়ে ভাবতে হবে। ভালো খাবারের জায়গাও নেই। ট্যুরিস্ট অ্যাট্রাকশনের জন্য এসব ক্ষেত্রেই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে।’

পর্যটকদের আগ্রহ বাড়াতে বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়ীরা প্রস্তুত আছেন বলে জানান পাটা বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব মো. তৌফিক রহমান।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি খুলনা গিয়েছিলাম। সেখানে ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। এখন মোংলাকেন্দ্রিক ট্যুরিজম বাড়বে বলে তারা ধারণা করছেন। ঢাকা থেকে সাড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টায় মোংলা চলে যাওয়া যাবে। তবে মূল অ্যাট্রাকশন থাকবে সুন্দরবন।’

তিনি বলেন, ‘পর্যটকদের জন্য নতুন করে কোনো প্রস্তুতি নেই। মোংলা এলাকায় বর্তমানে যে ধরনের ফ্যাসিলিটি আছে, সেটা নিয়েই ব্যবসায়ীরা অপেক্ষা করছেন। পর্যটকের ফ্লো ভালো হলে অনেকেই বিনিয়োগ করবেন। ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত আছেন।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুতে বাইক দুর্ঘটনার রহস্য উন্মোচন
পদ্মা সেতুর নাট রেঞ্জ দিয়ে খুলে মাহদির ভিডিও: পুলিশ
পদ্মা সেতু নিয়ে ইউনূস সেন্টারের ব্যাখ্যা সত্যের অপলাপ: তথ্যমন্ত্রী
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ: ক্ষতিপূরণ চান মোমেন
পদ্মা সেতুর নাট খোলা আরেক যুবক গ্রেপ্তার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The whole jackfruit won by eating 59 koas in 2 minutes

২ মিনিটে ৫৯ কোয়া খেয়ে জিতলেন আস্ত কাঁঠাল

২ মিনিটে ৫৯ কোয়া খেয়ে জিতলেন আস্ত কাঁঠাল
দিনভর নানা আয়োজনে মুখর ছিল কলেজ প্রাঙ্গণ। কাঁঠালকথন, কাঁঠালরঙ্গ, আবৃত্তি, গান, সম্মাননা ও আলোচনা সভা শেষে রাখা হয় কাঁঠাল খাওয়ার প্রতিযোগিতা।

কাঁঠাল নিয়ে জমজমাট আয়োজন হয়েছে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ চত্বরে। কাঁঠাল ঘিরে হয়েছে গান-আলোচনা সভা ও প্রতিযোগিতাও।

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী চুয়াডাঙ্গা জেলা সাংসদের উদ্যোগে চতুর্থবারের মতো হয়ে গেছে এই কাঁঠাল উৎসব। সেখানে ২ মিনিটে কাঁঠালের সর্বোচ্চসংখ্যক কোয়া খেয়ে বিজয়ী হয়েছে কলেজের কর্মচারী বিলকিস বেগম। পুরস্কারেও পেয়েছেন আস্ত এক কাঁঠাল।

চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ চত্বরে শুক্রবার সকাল ১০টায় শুরু হয় এই উৎসব। এর স্লোগান দেয়া হয় ‘কাঁঠালের বহু ব্যবহারে, প্রাণ-প্রকৃতি সুস্থ রাখে’।

উৎসবে যোগ দেন চার উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীসহ অনেকে।

দিনভর নানা আয়োজনে মুখর ছিল কলেজ প্রাঙ্গণ। কাঁঠালকথন, কাঁঠালরঙ্গ, আবৃত্তি, গান, সম্মাননা ও আলোচনা সভা শেষে রাখা হয় কাঁঠাল খাওয়ার প্রতিযোগিতা।

৫৫ প্রতিযোগী তাতে অংশ নেন।

মাত্র ২ মিনিটে ৫৯ কোয়া কাঁঠাল খেয়ে একটি কাঁঠাল, একটি বই ও শুভেচ্ছা উপহার জিতে নেন কলেজের কর্মচারী বিলকিস বেগম। একই সময় ৪৯ কোয়া খেয়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দার কর্মচারী নয়ন রায় দ্বিতীয় ও ৪৬ কোয়া খেয়ে কলেজছাত্র মো. আফিফ তৃতীয় স্থান লাভ করেন। তাদেরও দেয়া হয় শুভেচ্ছা উপহার।

২ মিনিটে ৫৯ কোয়া খেয়ে জিতলেন আস্ত কাঁঠাল

কাঁঠাল উৎসব দেখতে এসে জাহানারা খাতুন জানান, ‘এখানে এসে কাঁঠাল ফল সম্পর্কে নানা অজানা তথ্য জানতে পেরেছি। জানতে পেরেছি এর ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে। প্রতি বছরই এমন আয়োজন করার দাবি জানাচ্ছি।’

কাঁঠালের পরিচিতি রক্ষা ও গুণাগুণ সম্পর্কে মানুষকে ধারণা দিতেই এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আসমা হেনা চুমকি।

আরও পড়ুন:
কাঁঠাল বেচতে লটারি
গাছেই পচে সম্ভাবনার কাঁঠাল
কাঁঠালের দই আইসক্রিমে বিনিয়োগ করে দ্বিগুণ লাভ
যেভাবে আম-কাঁঠাল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করবেন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Lalmai goes back to find the naughty teenager in the mountains

লালমাই পাহাড়ে কিশোররা খুঁজে ফেরে যারে

লালমাই পাহাড়ে কিশোররা খুঁজে ফেরে যারে
লালমাই পাহাড়ে ঘন বন আর পাতার আড়ালে উঁকি মারে টক-মিষ্টি স্বাদের এক ফল। কাঁঠালের মতো দেখতে কিন্তু তুলনামূলক ছোট এই ফলটিকেই খুঁজে ফেরে কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার দুষ্টু কিশোরের দল।

আষাঢ়ের আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। রোদের উত্তাপে হাঁসফাঁস চারপাশ। এমন গরমেই দুষ্টু ছেলেমেয়ের দল হানা দেয় কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার লালমাই পাহাড়ে। সেখানে গাছে গাছে ঝুলে আছে হলুদ চাপালিশ!

পাকা এই চাপালিশ ভেঙে অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে কোষগুলো নিয়ে শুকনো মরিচ পোড়ায় কিশোর-কিশোরীর দল। হাল্কা মিষ্টি আর টক স্বাদের চাপালিশে ঝাল মিশিয়ে মুখে পুরে নেয় তারা। তারপর ওঠে তৃপ্তির ঠেকুর। দুপুরে উদরপূর্তির জন্য এর চেয়ে ভালো আয়োজন কি হতে পারে?

চাপালিশ দেখতে কাঁঠালের মতোই। কাঁচা অবস্থায় সবুজ। আর পাকলে হলুদ হয়ে ওঠে। আকারে ছোট এই ফলটির ভেতরে কাঁঠালের মতোই ছোট ছোট কোষ থাকে। কোষের ভেতরে থাকা এর বীচিগুলোও অনেকে আগুনে পুড়িয়ে খায়। কিছুটা চিনা বাদামের স্বাদ পাওয়া যায় এতে।

টক মিষ্টি স্বাদের এই চাপালিশকে স্থানীয়রা চামল বা চাম্বল নামেই চেনে। লালমাই পাহাড়ে শত বছর আগে প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে উঠেছিল চাপালিশের বন। ঘন সবুজ পাতার আড়াল থেকে উঁকি মারা পাকা চাপালিশ যে কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

আষাঢ় মাসেই চাপালিশ পাকতে শুরু করে। ৯০-এর দশকে লালমাই পাহাড়ে যে পরিমাণ চাপালিশ গাছ ছিল, এখন তার ছিটেফোঁটাও নেই।

লালমাই পাহাড়ে কিশোররা খুঁজে ফেরে যারে

কোটবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ জানান, পুরো লালমাই পাহাড়ে বর্তমানে অর্ধশতাধিক চাপালিশ গাছ আছে। এক সময় এই সংখ্যাটি ছিল হাজারেরও বেশি। কাঠের জন্য কিংবা জমি প্রশস্থ করতে গত কয়েক বছরে স্থানীয়রা বহু চাপালিশ গাছ কেটে ফেলেছে।

ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘পাশের সেনানিবাসের ভেতর বর্তমানে বেশকিছু চাপালিশ গাছ রয়েছে।’

কোটবাড়ি এলাকার বিজিবি ক্যাম্পের পশ্চিম পার্শ্বে হাতিগড়া এলাকায় চাপালিশ বিক্রি করেন চা দোকানীরা। দোকানের সামনে ঝুড়িতে রাখা থাকে ফলটি। কেউ আবার ক্রেতা আকর্ষণের জন্য এটিকে দোকানের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন।

চা দোকানী খায়ের মিয়া বলেন, ‘প্রতিটা ২০ টাকা করে বেচি। আষাঢ়-শাওন মাসে কাঁঠালের সাথে চামলও পাকে। শহর থেকে আসা মানুষেরাও শখ করে কিনে নিয়ে যায়। একটা গাছে ২ থেকে ৩ মন চাপালিশ ধরে।’

লালমাই পাহাড়ে কিশোররা খুঁজে ফেরে যারে

খায়ের জানান, লালমাই পাহাড়ে একসময় এত পরিমাণ চাপালিশ হতো যে, এগুলো খেতে শত শত বানর এসে ভিড় জমাতো। চাপালিশ কমার সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকাটিতে এখন বানরের সংখ্যাও কমে গেছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা বলেন, ‘চাপালিশ একটি বিপন্ন উদ্ভিদ। আবাসস্থল ধ্বংস এবং মাত্রাতিরিক্ত আহরণের জন্য চাপালিশের বিস্তৃতি নাই বললেই চলে। সরকারের উচিত পরিকল্পিত বনায়নের অংশ হিসেবে চাপালিশ বৃক্ষের আবাদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা। এর কাঠ যেমন মূল্যবান, তেমনি এর ফল বন্যপ্রাণী ও মানুষের খাবার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।’

মেহেরুন্নেসা মনে করেন, জলবায়ু সংকটে থাকা এই পৃথিবীকে আবাসযোগ্য রাখতে বৃক্ষনিধন দমনের পাশাপাশি ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচী হাতে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে চাপালিশের চাষ একটি চমকে দেয়ার মতো বিষয় হতে পারে।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, সারাদেশে যেসব এলাকায় চাপালিশ গাছ জন্মে, তার মধ্যে কুমিল্লার লালমাই পাহাড় অন্যতম। বিলুপ্তপ্রায় এই গাছটির কাঠ ও ফল মূল্যবান। পাখি ও বনের পশুর জন্যও চাপালিশ উন্নত খাবার। এই গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি আসবাব বছরের পর বছর টিকে থাকে। এই গাছ রক্ষায় বন বিভাগের জরুরী উদ্যোগ নেয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

কুমিল্লা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমরা কোটবাড়িতে উদ্ভিদ উদ্যান করেছি। সেখানে চাপালিশের বীজ থেকে চারা করে গাছের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। যে কেউ চাইলে আমরা বীজ কিংবা চারা দিয়ে সহযোগীতা করবো।’

আরও পড়ুন:
আগের চেয়ে বেশি ফল খাচ্ছে মানুষ
সোহেলের পরীক্ষায় পাশ মালবেরি
দাম বাড়তি খেজুরে, অন্য ফলে উনিশ-বিশ
সাড়া ফেলেছে দুই বন্ধুর মিশ্র ফলের বাগান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
People are running from Dhaka to see the Padma bridge

পদ্মা সেতু দেখতে ঢাকা থেকে ছুটছে মানুষ

পদ্মা সেতু দেখতে ঢাকা থেকে ছুটছে মানুষ পদ্মা সেতু দেখতে গুলিস্তানের বিটিআরসি বাস কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা
আরাম পরিবহনের যাত্রী মো. সুমন বলেন, ‘যাচ্ছি সেতু দেখতে। এই সেতু নিয়ে কত কিছুই না হলো, তাই সেতু দেখার লোভ সামলাতে পারছি না। সারা দিন মাওয়া ঘাটে থেকে বিকেলে ফিরব।’

বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে গতকাল, রোববার সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষ পার হচ্ছেন, সঙ্গে উচ্ছ্বাস-আনন্দের ছড়াছড়ি। পদ্মা সেতু দেখতে ঢাকা থেকে অনেকেই যাচ্ছেন। বিকেল পর্যন্ত ঢাকা থেকে অনেকেই গিয়েছেন সেতু দেখতে। অনেকে সেতু পার হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত গিয়ে আবার ফেরত আসছেন।

পরিবহন ব্যবসায়ীরা বলছেন, যোগাযোগ সুবিধার কারণে আগামী কয়েক দিন অনেক মানুষ ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু দেখতে যাবেন।

গুলিস্তান থেকে বসুমতি পরিবহনের একটি বাসে পদ্মা সেতু দেখতে যাচ্ছেন জামাল উদ্দিন। কয়েকজন বন্ধু মিলে যাচ্ছেন তারা।

নিউজবাংলাকে জামাল বলেন, ‘গতকাল সেতু দেখতে যাইনি, কারণ অনেক ভিড় হবে এটা জানতাম। তাই আজকে যাচ্ছি। মাওয়া ঘাটের ইলিশ খাওয়াও হবে, সেতু দেখাও হবে।’

আরাম পরিবহনের যাত্রী মো. সুমন বলেন, ‘যাচ্ছি সেতু দেখতে। এই সেতু নিয়ে কত কিছুই না হলো, তাই সেতু দেখার লোভ সামলাতে পারছি না। সারা দিন মাওয়া ঘাটে থেকে বিকেলে ফিরব।’

পদ্মা সেতু দেখতে ঢাকা থেকে ছুটছে মানুষ
পদ্মা সেতুতে বাইক রেখে ছবি তুলছেন অনেকেই। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

ঢাকা থেকে মাওয়াগামী স্বাধীন পরিবহনের টিকিট চেকার মো. মজিবর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে মাওয়া ঘাটে সেতু দেখতে অনেকেই যাচ্ছেন। বাসে আজকে যাত্রীদের ভালোই ভিড়। তবে গতকাল থেকে আজকে লোক কম। অনেকে পরিবার নিয়ে গেছেন ব্রিজ দেখতে।’

আরাম পরিবহন গুলিস্তান থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত যাচ্ছে। আরাম পরিবহনের কন্ডাক্টর সুজন মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকে মাওয়া ঘাটে নেমে যাচ্ছেন, আবার অনেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত যাচ্ছেন। তবে আমরা কাউকেই সেতুতে নামতে দিচ্ছি না। সেতুর ওপরে যারা গেছেন, তারা নিজেদের গাড়িতে গেছেন।’

রাজধানীর গুলিস্তানের বিআরটিসি কাউন্টারেও দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে সকাল থেকে। বেশির ভাগই নতুন সেতু পাড়ি দিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য এসেছেন।

তাদের একজন রামিজ উদ্দিন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক কাজে দুই কাজ করতে বাড়ি যাচ্ছি। ব্রিজ দেখাও হলো, ব্রিজের ওপর দিয়ে বাড়ি যাওয়াও হলো। তবে ব্রিজে একটু নামতে পারলে আরও ভালো লাগবে, কিন্তু সেটা তো সম্ভব না।’

সপরিবারে ঘোরাঘুরি

সাধারণের জন্য খুলে দেয়ার পর গণপরিবহন ছাড়া অন্য প্রায় সব গাড়িই পদ্মা সেতুতে থামতে দেখা গেছে। কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটাহাঁটির পাশাপাশি তুলেছেন ছবি।

মাইক্রোবাস ভাড়া করে পরিবার নিয়ে পদ্মা সেতু দেখতে আসেন তোফাজ্জল হোসেন। গাড়িটি দাঁড় করিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে পরিবারের ১৪ সদস্য সেতু ঘুরে দেখেন; তোলেন দলবদ্ধ ছবি।

পদ্মা সেতু দেখতে ঢাকা থেকে ছুটছে মানুষ
পদ্মা সেতুর প্যাট্রল টিম সেতু থেকে সরিয়ে দিচ্ছে অনেক লোকজনকে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

নিউজবাংলাকে তোফাজ্জল বলেন, ‘যেদিন সেতু উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছে, আমরা সেদিনই ঠিক করেছি প্রথম দিনই সেতু দেখতে আসব। এ জন্য আমার মা, খালা, ফুপুসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি। সারা দিন ঘুরে আবার কুমিল্লা ফিরে যাব।’

সাধারণদের নিয়ম ভাঙার এ খেলা বন্ধ করতে সাইরেন বাজিয়ে সেতুর উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে টহল গাড়ি। থেমে থাকা গাড়ি বা মানুষকে দাঁড়াতে দেখলেই ছুটে যাচ্ছেন প্যাট্রলম্যান। কখনও অনুরোধ করে, আবার কখনও গলা চড়িয়ে সরিয়ে দিচ্ছেন নিয়মকে থোড়াই কেয়ার না করা লোকজনকে।

সেতুর প্যাট্রলম্যান সাদ্দাম হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি গাড়ি নিয়ে শুধু ছুটেই যাচ্ছি। পাবলিক কোনো কথা শোনে না৷ এক জায়গার মানুষের গাড়ি সরাচ্ছি, অন্য জায়গায় আবার দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।

‘কেউ কেউ আবার অনুরোধও শুনছেন না। তখন বাধ্য হয়ে আমি তাদের গাড়ির কাগজ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে নিচ্ছি আর বলে দিচ্ছি সেতু থেকে নেমে যাওয়ার পর আমি এগুলো ফেরত দেব। কথা না শুনলে কী আর করতে পারি বলেন? এখানে নিয়ম ভাঙলে জরিমানার বিধান রাখা হয়নি।’

নিয়ম ভাঙার প্রসঙ্গ টানলে তিনি বলেন, ‘দেখেন আমরা তো কত অনিয়মই করি। এতদিনের ইচ্ছা স্বপ্নের সেতুতে এসে দাঁড়াব। নিজের স্বপ্নপূরণে একটু অনিয়ম করা দোষের কিছু না।’

আরও পড়ুন:
প্রথম বাসে চড়তে টিকিট সংগ্রহ ৩ দিন আগে
বাধাহীন যাতায়াতে মাতোয়ারা মানুষ
পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে নৌকা চালাতে বাধা
পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজতে রুলের শুনানি সোমবার
পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলাচল, স্বল্প যাত্রী ফেরিঘাটে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
5 wonderful bridges in the world

বিশ্বের ৫ বিস্ময়কর সেতু

বিশ্বের ৫ বিস্ময়কর সেতু ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
নির্মাণকৌশল আর বৈরী পরিবেশে নির্মিত চীনের দানিয়াং-কুনশান, ফ্রান্সের দ্য মিলিউ ভিয়াডাক্ট, জাপানের আকাশি কাইকিও, দক্ষিণ কোরিয়া ইনচিওন এবং রাশিয়ার রাস্কি আইল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সেতু তালিকায় স্থান পেয়েছে।  

পদ্মা সেতু বিশ্বের দ্বিতীয় খরস্রোতা নদীর দুই পাড়কে যুক্ত করেছে বটে, তবে স্রোতের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নদীর নিচে শক্ত মাটির অনুপস্থিতি। বিশ্বের অনেক জায়গায় এ রকমই প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে গড়ে উঠেছে কিছু সেতু। কোথাও খরস্রোতা নদী, কোথাও সুউচ্চ পাহাড়, কোথাও সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ। প্রকৌশলীদের দক্ষতায় দুর্গম সব স্থানেও মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অনেক সেতু। এ রকমই পাঁচ সেতুর কথা।

দানিয়াং-কুনশান সেতু, চীন

চীনের দানিয়াং-কুনশান সেতুটিকে বিশ্বের দীর্ঘতম সেতু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটির দৈর্ঘ্য ১৬৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। সেতুটি চীনের দুটি বড় শহর সাংহাই এবং নানজিংকে যুক্ত করেছে।

সেতুটি বেইজিং-সাংহাই হাই-স্পিড রেলওয়ের অংশে দানিয়াং এবং কুনশানকেও সংযুক্ত করেছে, যা বেইজিং পশ্চিম স্টেশন এবং সাংহাই হংকিয়াও স্টেশনকে সংযুক্ত করে।

কমপক্ষে ১০ হাজার কর্মী চার বছরে এটির নির্মাণ শেষ করেন। সেতুটির ৯ কিলোমিটার অংশ ইয়াংচেং হ্রদের ওপর বিস্তৃত। বড় এই অংশে সেতুটিকে সাপোর্ট দিচ্ছে ২ হাজার পিলার।

বিশ্বের ৫ বিস্ময়কর সেতু

পুরো অবকাঠামোয় সাড়ে ৪ লাখ টন স্টিল ব্যবহার করায় এটি প্রবল টাইফুন এবং ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ সহ্য করতে পারে অনায়াসেই। পিলারগুলো এতটাই মজবুত যে তিন লাখ টন ওজনের নৌযানের ধাক্কাতেও কিছুই হয় না এই সেতুর।

সেতুতে উচ্চগতিসম্পন্ন ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা আছে। ট্রেনের গতি ২৫০-৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত তোলা যায়।

দ্য মিলিউ ভিয়াডাক্ট, ফ্রান্স

এই সেতুটিকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু সেতু হিসেবে বিবেচনা করা হতো। উচ্চতার দিক থেকে এটি আইফেল টাওয়ারকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এটি একটি মাল্টি-স্প্যান কেব্‌ল-স্টেড ব্রিজ, যা টার্ন নদীর গর্জ উপত্যকার ওপর দিয়ে গেছে। সেতুটি ১ লাখ ২৭ হাজার কিউবিক মিটার কংক্রিট এবং ২৬ হাজার ২০০ টন রিইনফোর্সিং ইস্পাত দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ হাজার টন প্রি-স্ট্রেসড স্টিল কেব্‌লে পুরো সেতুটি ঢাকা।

বিশ্বের ৫ বিস্ময়কর সেতু

এই সেতুর নকশার অন্যতম আকর্ষণ এটির স্প্যানগুলো অসামঞ্জস্যপূর্ণ ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। অতি উচ্চতার কারণে সেতুটি বাঁকানো। তাই পিলারগুলোকে প্রশস্ত এবং শক্তিশালী করে ডিজাইন করতে হয়েছে।

আকাশি কাইকিও সেতু, জাপান

জাপানের আকাশি কাইকিও সেতু বিশ্বের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতুগুলোর একটি। এটি ৩ হাজার ৯১১ মিটার দীর্ঘ। এটির সাপোর্ট টাওয়ারগুলো মাটি থেকে প্রায় ২৯৮ মিটার ওপরে দাঁড়িয়ে আছে।

স্টিল ট্রাস স্ট্রাকচারে ডিজাইন করা পাইলনগুলো তারের স্যাডলকে টেনে সেতুর বেশির ভাগ লোড সাপোর্ট করে। পাইলনের মধ্যে দূরত্ব ১ হাজার ৯৯১ মিটার। এটিতে এমন দুই-স্তরের গার্ডার সিস্টেম আছে, যা সেতুর কাঠামোকে রিখটার স্কেলে ৮ দশমিক ৫ পর্যন্ত ভূমিকম্প এবং ২৮৬ কিলোমিটার বেগের ঝোড়ো বাতাস থেকে রক্ষা করতে পারে।

এই বিশেষ সেতুতে বেশ কিছু উদ্ভাবনী প্রকৌশল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার একটি হলো এটির প্রতিটি টাওয়ারে ২০টি টিউনড মাস ড্যাম্পার (টিএমডি)। টিএমডিগুলো সেতুকে বাতাসের দোলা থেকে রক্ষা করে।

বিশ্বের ৫ বিস্ময়কর সেতু

যখন বাতাস সেতুটিকে একদিকে দেয়, তখন টিএমডিগুলো বিপরীত দিকে দোলে। এতে সেতুর ভারসাম্য বজায় থাকে।

আকাশি কাইকিও সেতুটি ‘পার্ল ব্রিজ’ নামেও পরিচিত। রাতে ২৮টি বিভিন্ন প্যাটার্ন এবং আলো সেতুটিকে আলোকিত করে।

ইনচিওন ব্রিজ, দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিওন ব্রিজ ১৩ কিলোমিটার লম্বা একটি সেতু। কেব্‌লে ঝোলানো ব্রিজের অংশটিকে কোরিয়ার দীর্ঘতম বিশ্বের দশম বড় ঝোলানো ব্রিজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার কেন্দ্রের মূল স্প্যান ৮০০ মিটার।

সেতুটির মূল উদ্দেশ্য হলো সোংদো এবং ইনচিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন। শক্তিশালী ইঞ্জিনিয়ারিং সফটওয়্যার মিডাস সিভিল ব্যবহার করে সেতুটির নকশা এবং কাঠামো বিশ্লেষণ করা হয়।

বিশ্বের ৫ বিস্ময়কর সেতু

এই সেতু ৭২ এমপিএস বায়ুসহ ঝড় এবং রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করতে পারে। সেতুটি ইনচিওন বন্দরের কাছে অবস্থিত। নিচে ৮০ মিটার উচ্চতাসহ ইউ আকৃতির ডিজাইন করা। এতে প্রধান দুটি টাওয়ারের মাঝ দিয়ে নিরাপদে জাহাজ পার হতে পারে। ইনচিওন ব্রিজের নিচের স্তম্ভ ৬ হাজার টন পর্যন্ত ওজন সহ্য করতে পারে, যা এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল সেতু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মাত্র আট মাসে সেতুর নির্মাণ শেষ হয়।

রুস্কি আইল্যান্ড সেতু, রাশিয়া

রুস্কি আইল্যান্ড সেতুটিকে বিশ্বের দীর্ঘতম কেব্‌ল সেতু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটির মোট দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ১০০ মিটার। টাওয়ারগুলোর মধ্যে দূরত্ব এক হাজার ৪ মিটার।

এই সেতুর নকশা নিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ এটি এমন একটি এলাকায় অবস্থিত যেখানকার আবহাওয়া চরম বৈরী।

ব্লাদিভোস্টকের আবহাওয়া মাইনাস ৪০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠা-নামা করে। তাই এটির নির্মাণ ছিল শক্ত চ্যালেঞ্জের।

এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রকৌশলীরা মিডাস সিভিল সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, যা তারের অপ্টিমাইজেশনের মাধ্যমে অজানা লোড ফ্যাক্টরগুলোর কাঠামোগত বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

বিশ্বের ৫ বিস্ময়কর সেতু

কেব্‌ল সিস্টেমের জন্য কমপ্যাক্ট পিএসএস সিস্টেম নামে একটি উন্নত সিস্টেম ব্যবহার হয়েছে এটি নির্মাণে। এই সিস্টেমটি একটি কম্প্যাক্ট ডিজাইনের জন্য ব্যবহার করা হয়। ছোট ব্যাসের সঙ্গে খাপ খাওয়ার পাশাপাশি সেতুর কাঠামোতে বাতাসের গতি কমাতে সাহায্য করে এটি।

চরম তাপমাত্রার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য উচ্চ-ঘনত্বের পলিথিন (এইচপিডি) দিয়ে তৈরি প্রতিরক্ষামূলক কাভার ব্যবহার হয়েছে। এটি সেতুর কেবল-স্টেয়েড সিস্টেমের তারগুলোকে ঢেকে রাখে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Espresso Signature Outlet launched in Banani

বনানীতে চালু হলো এসপ্রেসো সিগনেচার আউটলেট

বনানীতে চালু হলো এসপ্রেসো সিগনেচার আউটলেট
ঢাকায় অথেনটিক ইতালিয়ান খাবার, বেকারি, পেষ্ট্রি ও শতভাগ কলম্বিয়ান আরাবিকা কফির স্বাদ নিশ্চিত করবে এ রেস্টুরেন্ট।

উদ্বোধন হলো হসপিটালিটি পার্টনার্সের ব্র্যান্ড ইতালিয়ান রেস্ট্রুরেন্ট এসপ্রেসো হাউসের সিগনেচার আউটলেট। শুক্রবার বিকেলে বনানী ১৭ নাম্বার রোডে চালু হয় নতুন এ আউটলেট।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম, পুষ্টিবিদ জেনিফার বিনতে হক, চিত্রশিল্পি আহমেদ নওয়াজ, বিশিষ্ট ফ্যাশন ডিজাইনার তুতলি রহমান, চিত্রনায়ক সম্রাট, মডেল আনোয়ারুল শামীম, তাহমিদ ও নিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী, কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব ও এসপ্রেসো হাউজ সংশ্লিষ্ট সবাই।

ঢাকায় অথেনটিক ইতালিয়ান খাবার, বেকারি, পেষ্ট্রি ও শতভাগ কলম্বিয়ান আরাবিকা কফির স্বাদ নিশ্চিত করবে এ রেষ্টুরেন্ট।

পুষ্টিবিদ জেনিফার বিনতে হক বলেন, ‘সবাই এখন বাইরে খেতে পছন্দ করেন। যারা ডায়েটে আছেন তারা এখানে পাবেন স্বাস্থ্যকর খাবার। তাই এ রেস্টুরেন্টকে রাখতে পারেন আপনার হেলদি লাইফস্টাইলের টপ লিস্টে।’

এসপ্রেসো হাউসের প্রতিষ্ঠাতা শওকত হোসেন রনি জানান, বাংলাদেশে ইতালিয়ান খাবারের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ফুডলাভারদের জন্য পরিপূর্ণ স্বাদ নিয়ে এসেছে এসপ্রেসো হাউজ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পিজ্জা তৈরি করা হচ্ছে ইষ্ট ছাড়া। স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য রয়েছে বিশেষ মেনু। আমরা খাবারের মান শতভাগ নিশ্চিত করছি। রেস্ট্রুরেন্টের পরিবেশ ও আতিথেয়তা, সব মিলিয়ে কাস্টমার স্যাটিফেকশনের জন্য প্রস্তুত এসপ্রেসো হাউজ।’

প্রতিদিন সকাল ৮টা ৩০ থেকে রাত ১টা ৩০ পর্যন্ত খোলা থাকবে রেস্ট্রুরেন্ট।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Some will go on individual initiative some on package
পদ্মা সেতু

কেউ যাবেন ব্যক্তি উদ্যোগে, কেউ প্যাকেজে

কেউ যাবেন ব্যক্তি উদ্যোগে, কেউ প্যাকেজে নিজেদের অর্থায়নে নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের পদ্মা সেতু কাছ থেকে এক নজর দেখতে মুখিয়ে আছে সাধারণ জনগণ। ছবি: নিউজবাংলা
সাধারণ মানুষের আগ্রহকে মাথায় রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি আকর্ষণীয় প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সাড়াও মিলছে অনেক। তবে পদ্মা সেতুসংলগ্ন পদ্মাপাড়ে ভালো মানের রিসোর্ট, পিকনিক স্পট বা রেস্ট হাউস না থাকায় দিনে দিনে ঘুরে আসার প্যাকেজ দিতে হচ্ছে এজেন্সিগুলোর।

বহু বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী সপ্তাহে চালু হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। নিজেদের অর্থায়নে নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় সেতু এক নজরে কাছ থেকে দেখতে মুখিয়ে আছে সাধারণ জনগণ। ব্যক্তি উদ্যোগে গাড়ি নিয়ে পদ্মা পাড়ি দেয়ার পরিকল্পনা করছেন অনেকে, আবার দল বেঁধে উত্তাল পদ্মার ওপর নির্মিত সেতু দেখতে যেতে অনেকে ভাড়া করছেন প্রাইভেট কার-মিনিবাস।

সাধারণ মানুষের এই আগ্রহকে মাথায় রেখে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি আকর্ষণীয় প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সাড়াও মিলছে অনেক। তবে সেতুসংলগ্ন পদ্মাপাড়ে ভালো মানের রিসোর্ট, পিকনিক স্পট বা রেস্ট হাউস না থাকায় দিনে দিনে ঘুরে আসার প্যাকেজ দিতে হচ্ছে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর।

আগামী ২৫ জুন সেতু উদ্বোধনের পর এক দিনে ঘুরে আসার ট্যুর প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ট্রাভেল সোর্স বিডি নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সি। ২৯ সিটের টুরিস্ট এসি বাসে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা-ফরিদপুর-ঢাকা ঘুরিয়ে আনার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তারা।

এক দিনের ডে ট্যুরের জন্য পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ২৭ ও ২৮ জুন এবং ১ ও ২ জুলাই এই চার দিন নির্ধারণ করেছে এজেন্সিটি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ শাওন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেতুকে ঘিরে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। আমাদের প্যাকেজে বিশাল সাড়া পেয়েছি। প্রথম দুই দিনের জন্য আমরা ইতোমধ্যে সাড়ে তিন শর বেশি বুকিং পেয়েছি। আর ১ ও ২ জুলাইয়ের জন্য এক হাজারের বেশি মানুষ আগ্রহ দেখিয়েছেন।’

শাওন বলেন, ‘নির্ধারিত দিনে আমাদের এসি বাসে করে তাদের নিয়ে যাব। সকাল-বিকেলের নাশতা ও ইলিশ মাছসহ দুপুরের খাবার রয়েছে আমাদের প্যাকেজে। বাসে আমরা এক্সপ্রেস ওয়ে দিয়ে মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে ভাঙ্গা, ফরিদপুর ঘুরিয়ে আনব। পুরো প্যাকেজ ফি ধরা হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকা। এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি চাইলে পুরো মিনিবাস ভাড়া করতে পারবে।’

শাওন জানান, তাদের অনেক ট্যুরিস্ট বাস রয়েছে। বেশ কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি নিজেদের মতো করে প্যাকেজ ঘোষণা করে তাদের বাস ভাড়া করেছে। তাদের প্যাকেজেও কয়েক হাজার মানুষ সাড়া দিয়েছে।’

শহরের রেন্ট-এ কার প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সেতু দিয়ে পদ্মা পাড়ি দেয়ার জন্য প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস ভাড়া করার জন্য যোগাযোগ করছেন অনেকে। মিরপুরের জননী রেন্ট-এ কারের মালিক কাওসার হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সেতু এলাকা ঘুরে আসার জন্য কয়েকজন যোগাযোগ করেছেন। হয়তো কয়েক দিনের মধ্যে ফাইনাল করবে।’

ব্যক্তিগত বাহনে করে পদ্মা সেতু পাড়ি দেয়ার জন্য প্ল্যান করে রেখেছেন অনেকে। ২৭ তারিখের মধ্যে নেত্রকোণা থেকে ঢাকা আসবেন ব্যবসায়ী মাইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি গাড়ি নিয়ে আসব, ঢাকা থেকে কয়েকজন বন্ধু মিলে সেতু দেখতে যাব। পরের সপ্তাহে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যাব। এই সেতু আমাদের সামর্থ্যের প্রতীক। কাছ থেকে দেখার আগ পর্যন্ত মন মানছে না।’

প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাসে যাওয়ার পাশাপাশি মোটরসাইকেলে দল বেঁধে যাওয়ার প্ল্যান করেছে কয়েকটি গ্রুপ। তারাও সাধারণের জন্য সেতু খুলে দেয়ার পর ছুটবেন পদ্মার পানে।

তবে সাইকেল বা পায়ে হেঁটে সেতু পাড়ি দেয়ার সুযোগ না থাকায় আক্ষেপ রয়েছে অনেকের।

পদ্মা সেতু ঘিরে ট্যুরিজম জনপ্রিয় করতে বেসরকারি উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। সেতুসংলগ্ন এলাকায় রিভার ক্রুজ শিপ চালু, ঢাকা থেকে পদ্মা হয়ে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিস্থলে ডে ট্রিপ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেতু ঘিরে পর্যটন করপোরেশন কিছু কাজ হাতে নিয়েছে। আমরা সেতুর আশপাশে প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট নেয়ার চেষ্টা করছি। আমরা একটি এনজিওর সঙ্গে কাজ করছি, যারা ক্রুজশিপ চালু করবে। এতে সেতুকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবে মানুষ।

‘এ ছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে একটি ডে ট্রিপের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। যেটা ঢাকা থেকে ছেড়ে গিয়ে পদ্মা সেতু হয়ে জাতির পিতার সমাধিস্থল ঘুরে আসবে।’

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে আগ্রহী জাপান
‘চুবনিতে’ আপত্তি: পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে যাচ্ছে না বিএনপি 
পদ্মা সেতু দিয়ে চলতে নতুন বাস নামানোর হিড়িক
পদ্মায় লঞ্চ-স্পিডবোট সার্ভিসের কী হবে
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু প্রয়োজন বুঝে

মন্তব্য

p
উপরে