× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Bangladesh wants wisdom from India to buy Russian wheat and fuel
hear-news
player
print-icon

রাশিয়ার গম-জ্বালানি কিনতে ভারতের কাছে বুদ্ধি চেয়েছে বাংলাদেশ

রাশিয়ার-গম-জ্বালানি-কিনতে-ভারতের-কাছে-বুদ্ধি-চেয়েছে-বাংলাদেশ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ফাইল ছবি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাশিয়া আমাদের জ্বালানি ও গম দিতে চায়। আমরা এখনো তা নেইনি। আমরা তো ভয়ে। নিষেধাজ্ঞার ভয়ে। আমি তাদের কাছে (জয়শঙ্করের কাছে) ফন্দি-ফিকির জানতে চাইলাম। বললাম- তোমরা তো নিচ্ছ। কিভাবে নিচ্ছ! তারা জানাল, ফাঁক-ফোকর বের করেছে। আমিও বুদ্ধি চাইলাম।’

বাংলাদেশকে জ্বালানি ও গম দিতে চায় রাশিয়া। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ভয়ে এখনো এ ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি ঢাকা। অবশ্য প্রতিবেশী দেশ ভারত রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনছে। এ অবস্থায় রাশিয়া থেকে প্রয়োজনীয় এ দুটি পণ্য কিনতে বুদ্ধি-পরামর্শ চেয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সোমবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন।

আসামের গুয়াহাটিতে নদী বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনক্লেভে যোগদান শেষে রোববার দেশে ফিরে পরদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান ও উদ্ভূত পরিস্থিতির উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশ শান্তি চায়, স্থিতিশীলতা চায়। আমরা বরাবরই যুদ্ধের বিপক্ষে। করোনার পর আবার নতুন কোনো ঝামেলা নিতে চায় না বাংলাদেশ। যত তাড়াতাড়ি এর শেষ হয় তত ভালো।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাশিয়া আমাদের জ্বালানি ও গম দিতে চায়। আমরা এখনো তা নেইনি। আমরা তো ভয়ে। নিষেধাজ্ঞার ভয়ে। আমি তাদের কাছে (জয়শঙ্করের কাছে) ফন্দি-ফিকির জানতে চাইলাম। বললাম- তোমরা তো নিচ্ছ। কিভাবে নিচ্ছ! তারা জানাল, ফাঁক-ফোকর বের করেছে। আমিও বুদ্ধি চাইলাম।

‘আমাদের তো এনার্জি দরকার। এটা আমাদের বড় সমস্যা। তারা (পশ্চিমারা) কথায় কথায় নিষেধাজ্ঞা দেয়। দেখেন না, তারা প্রতিদিনই কিছু না কিছু আবদার নিয়ে আসে। আমরা তাদেরকে বলতাম ডেভেলপমেন্ট পার্টনার। এখন উন্নয়নের জন্য এক পয়সাও দেয় না। ডেভেলপমেন্ট যাতে বাধাগ্রস্ত হয়, সেজন্য চেষ্টা করছে। খালি আসে বুদ্ধি দিতে। আপনারাও তাদেরকে উৎসাহ দিতে থাকেন।’

মোমেন বলেন, ‘ভারত বড় দেশ। তাদের সবাই ভয় পায়। আমরা দরিদ্র, ছোট দেশ। আমাদের ভয়েই থাকতে হয়।

‘আমরা আলোচনা করেছি। আঞ্চলিক কিছু সংস্থা গড়ে তুলতে চাই, যাতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সবাই মিলে মোকাবেলা করা যায়। আমরা মাল্টি রিলেশনে বিশ্বাস করি। জোট নিয়ে ভাবি না। আমরা সার্ক করেছিলাম। তারা বলেছিল, এটা পুওর মেন ক্লাব। এখন তারা এই পুওর মেন ক্লাবের দিকেই নজর দিচ্ছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমেরিকা এখানে কী একটা করছে। পশ্চিমারা, ইউরোপিয়ানরা আগে নিজেদের ঘর সামলাক। তাদের দেশে মুদ্রাস্ফীতি চার গুণ বেড়েছে। আমাদের প্রবাসীরা, যারা আমেরিকায় আছেন, তারাও সামলাতে পারছেন না।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় দেশ। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য চারদিকে হাহাকার শুরু হয়েছে। আমরা যুদ্ধ বন্ধ চাই। রাশিয়া গম ও জ্বালানি দিতে চায়। আমরা নিলে পশ্চিমারা নিষেধাজ্ঞা দেয়, মাতব্বরি করতে থাকে। বড় দেশ হিসেবে ভারত এসব কীভাবে ম্যানেজ করছে সে সম্পর্কে তাদের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা হয়েছে।

‘গম দেবে ভারত’

গুয়াহাটিতে নদী সম্মেলনে যোগদানের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাইড লাইনে বৈঠক করেন মোমেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা হলো। আমাদের ইমিডিয়েট ইস্যু ছিলো গম। জয়শঙ্কর বললেন, গম নিয়ে সমস্যা হবে না। সরকারের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে বা বেসরকারি খাতেও আমদানিতে সমস্যা নেই। কেবল বেসরকারি খাত যদি তৃতীয় দেশে গম পাঠাতে চায়, সেটা তারা দেবে না।’

‘বাংলাদেশের কারণেই সেভেন সিস্টার্সে উন্নতি হচ্ছে’

বাংলাদেশের কারণেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টার্স খ্যাত সাত রাজ্যের উন্নতি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, ‘আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন যে তার রাজ্য তথা এ অঞ্চলের উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের কারণে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্সের সুবাদে আসাম, মিজোরামসহ ওই অঞ্চলের উন্নতি হয়েছে।

‘আগে আসামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো। এখন সেই সংখ্যা ১৯টি। আগে একটি হাসপাতাল ছিলো এখন বিশ্ব মানের হাসপাতালের সংখ্যা ৬টি। ৫০ বছর আগে সেখানে কিছুই ছিল না। সন্ত্রাস দমন করার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।’

জেসিসি বৈঠক ১৯ জুন

জেসিসি বৈঠক পিছিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাওয়ার শেয়ারিং বিষয়ে আমাদের সচিব পর্যায়ের মিটিং এখনও শেষ হয়নি। সড়ক এবং রেল যোগাযোগ বিষয়েও মিটিং শেষ হয়নি। এগুলো সম্পন্ন না হলে আমরা গিয়ে কী করবো?

‘আমরা দেখলাম ওইসব মিটিং শেষ হতে দুই সপ্তাহ লাগবে। আমরা তা তাদের জানালাম। কিন্তু দেখা গেলো, ওই সময় তাদের আবার অন্য মিটিং আছে। তারপর তারা বললেন, তাহলে এটা ১৯ তারিখ করা হোক। আমরা তাতে রাজি হলাম। ১৮ তারিখে অন্য কিছু হয়তো আছে। তাই বলা যায় ১৯ তারিখে জেসিসি মিটিং হবে। ১৮ তারিখে আরো কিছু বাইলেটারাল মিটিং আছে। আমরা এবার কোনো ফরমাল মিটিং করিনি।’

‘অন্য মন্ত্রণালয়গুলোকে তাগাদা দিয়েও কাজ হচ্ছে না’

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসলে পোস্ট বক্স। অন্য মন্ত্রণালয় কাজ এগিয়ে নিলে আমরা এসে তা ফিট করে দিতে পারি। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করতে পারছে না। এসব ক্ষেত্রে আমরা তাগাদা দিতে পারি। কিন্তু তাগাদা দিয়েও সুবিধা হচ্ছে না।

‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজ চলাচল উদ্বোধন করবেন। কিন্তু তা হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না জানতে চাইলে তাদের উত্তর- ওইখানে ড্রেজিং লাগবে।’

‘জাতিসংঘ মনে করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশেই থাকা উচিত’

মোমেন বলেন, ভারত থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লি মানতে নারাজ। ভারত থেকে রোহিঙ্গা আসার বিষয়টি আমি সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করকে বলেছি। তারা অফিশিয়ালি এটা স্বীকার করেননি। তারা বলেছেন, এটা দালালের মাধ্যমে হয়ে থাকতে পারে।

‘সাম্প্রতিক সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপ গ্রান্ডি আমাকে বলেছেন, তারা (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশে ভালো আছে। তাদের বাংলাদেশেই থাকা উচিত। আমি বলেছি, এটা আমরা মানতে পারছি না। আপনারা মিয়ানমারে নজর দিন। বিগত পাঁচ বছর মিয়ানমারে কোনো সহিংসতা নেই। সেখানে পরিবেশ উন্নত করে তাদের সেখানে নিয়ে যান।’

নদী সম্মেলন

শিলংভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও থিঙ্কট্যাঙ্ক এশিয়ান কনফ্লুয়েন্স আসামের গুয়াহাটিতে ২৮-২৯ মে নদী বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনক্লেভের আয়োজন করে। এতে যোগ দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। আমন্ত্রিত হিসেবে এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনও যোগ দেন।

এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে রোববার দেশে ফেরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরদিন সোমবার ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে ওই সম্মেলন নিয়ে কথা বলেন তিনি।

মোমেন জানান, এই অঞ্চলে বন্যা সম্পর্কে আগাম সতর্কতা জানিয়ে দিতে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ-ভারত নির্বিশেষে সব নদী সচল চাই। আমরা সবাই বন্ধু-রাষ্ট্র। ভারত নদী নিয়ে এ অঞ্চলে আসিয়ান দেশগুলোকেও সম্পৃক্ত করতে চায়।

আরও পড়ুন:
আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি ভাগাভাগি অপরিহার্য: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে মিয়ানমারমুখী হোন: বাংলাদেশ
শ্রীলঙ্কায় ভালো আছেন বাংলাদেশিরা
বাংলাদেশ চীনের ঋণের ফাঁদে নেই: রাষ্ট্রদূত
জলবায়ু উদ্বাস্তু নিয়ে আইওএমকে কাজ করার আহ্বান বাংলাদেশের

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Attacks on reporting on corruption are an attempt to stifle media TIB

সাংবাদিকদের ওপর হামলা কণ্ঠরোধের অপপ্রয়াস: টিআইবি

সাংবাদিকদের ওপর হামলা কণ্ঠরোধের অপপ্রয়াস: টিআইবি
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুর্নীতির তথ্য উদঘাটন ও প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এতে স্পষ্ট যে দুর্নীতিবাজরা কতটা বেপরোয়া, ক্ষমতাধর এবং সংঘবদ্ধ। তারা কোনো না কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তারা সুরক্ষা ও দায়মুক্তি পেয়ে থাকে।’

দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ধারাবাহিকভাবে হামলার শিকার হওয়ার উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, হামলা ও বিচারহীনতার মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চলমান প্রক্রিয়া শঙ্কাজনক অপপ্রয়াসের অব্যাহত প্রবণতা। এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হলেও বাস্তবিক অর্থে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচার শেষ হয় না। এটা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকের সুরক্ষা নিশ্চিতে সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সংগঠনটি অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রতিটি ঘটনায় অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের সুরক্ষায় বিশেষ আইনের দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অর্থ পাচারসহ নানামুখী দুর্নীতির কারণে দেশের মানুষ বহুমুখী সংকট মোকাবিলা করছে। সেই সময়টাতে দুর্নীতির তথ্য উদঘাটন ও প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।’

‘সম্প্রতি চিকিৎসা খাতসহ বিভিন্ন জনসেবা প্রদানকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য সংগ্রহকালে বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকার সাংবাদিকদের ওপর নৃশংস হামলা হয়েছে। এতে স্পষ্ট যে দুর্নীতিবাজরা কতটা বেপরোয়া, ক্ষমতাধর এবং সংঘবদ্ধ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তো বটেই, রাষ্ট্রীয় কোনো কর্তৃপক্ষকেই তারা পরোয়া করে না। তারা কোনো না কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তারা সুরক্ষা ও দায়মুক্তি পেয়ে থাকে।’

আইন ও শালিস কেন্দ্রের তথ্যসূত্রের উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, ‘এ বছরের শুরু থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত অন্তত ১১৯ জন সাংবাদিক নানামুখী হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৮ জনের ওপর পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলা হয়েছে। আর ১৯ জন প্রকাশিত সংবাদের দায়ে মামলার শিকার হয়েছেন।

‘বিশেষ করে, সম্প্রতি স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহকালে ঢাকা ও বরিশালে অন্তত তিনজন টেলিভিশন সাংবাদিকের ওপর সংঘবদ্ধ ভয়াবহ হামলা হয়েছে। আমরা মনে করি, এসব ঘটনা মুক্ত সাংবাদিকতার সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে পদদলিত করছে।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বিশ্ব দায়মুক্তি সূচক-২০২১ অনুযায়ী সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতায় বাংলাদেশের দশম অবস্থান দেশে সাংবাদিকতার প্রকট ঝুঁকির দৃষ্টান্ত। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক-২০২২ অনুযায়ী ১০ ধাপ পিছিয়ে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের ১৬২তম অবস্থানও প্রমাণ করে যে সাংবাদিকতা এদেশে ধারাবাহিকভাবেই কঠিন হয়ে উঠছে।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সাংবাদিকদের সুরক্ষায় অবিলম্বে বিশেষ আইন প্রণয়ন এবং তা কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ২০১৮ সালে জাতিসংঘের ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউর (ইউপিআর) অধীনে বাংলাদেশের তৃতীয় পর্যালোচনার সময় সরকার সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সম্পর্কিত যে আটটি সুপারিশ সমর্থন করেছিল, সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে।

‘অন্যথায় একথা বলা মোটেও অযৌক্তিক হবে না যে, দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের প্রচার থাকলেও বাস্তবে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় পদ্ধতিতেই গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের সর্বাত্মক অপচেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
টিআইবির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পক্ষে তথ্যমন্ত্রী
টিকা সাফল্য, কেনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি: টিআইবি
গণমাধ্যম কর্মী বিল নিয়ে টিআইবির বিবৃতিতে ক্ষেপেছেন হাছান
মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা চায় টিআইবি-টিআইএম
টিআইবি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়: তথ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Diesel will last 18 days on 30 petrol octane

ডিজেলে ৩০ ও পেট্রল-অকটেনে চলবে ১৮ দিন

ডিজেলে ৩০ ও পেট্রল-অকটেনে চলবে ১৮ দিন
দেশে উৎপাদন হলেও পেট্রল ও অকটেনের নাম বাড়ানোর বিষয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ক্রুডের কারণে পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ে। সুতরাং পেট্রল ও অকটেনের দাম কৌশলগত কারণে বাড়াতে হয়েছে।’

দেশে বর্তমানে ৩০ দিনের ডিজেল মজুত রয়েছে। আর ১৮ দিনের পেট্রল ও ৩২ দিনের জেট ফুয়েল রয়েছে। এছাড়া দেশে যে অকটেন মজুত রয়েছে, তা দিয়ে ১৮ থেকে ১৯ দিনে চাহিদা মেটানো সম্ভব।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানোর পর বিপিসির ২০১৪ সালের পর থেকে মুনাফায় থাকা, বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের বিপুল পরিমাণ স্থায়ী আমানতের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর এ নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিজ কার্যালয়ে বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিপিসির চেয়ারম্যান।

গত ৫ আগস্ট মধ্যরাত থেকে সরকার ডিজেল ও কেরোসিনের দর লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করে। অকটেন প্রতি লিটার ৮৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ ও পেট্রল ৮৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এই দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যায় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে বিপিসির বিপুল পরিমাণ লোকসান হচ্ছিল। গত কয়েক মাসে লোকসান ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন: সাত বছরের মুনাফা ও স্থায়ী আমানতের ব্যাখ্যা দিল বিপিসি

দেশে উৎপাদন হলেও পেট্রল ও অকটেনের নাম বাড়ানোর বিষয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ক্রুডের কারণে পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ে। সুতরাং পেট্রল ও অকটেনের দাম কৌশলগত কারণে বাড়াতে হয়েছে।’

বর্তমানে দেশে ৩০ দিনের ডিজেল এবং ১৮ দিনের পেট্রল ও অকটেন মজুত আছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
সাত বছরের মুনাফা ও স্থায়ী আমানতের ব্যাখ্যা দিল বিপিসি
বিপিসির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সিপিডির
বিপুল বকেয়া, বিমানকে তেল দেবে না বিপিসি
‘জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি রাজনৈতিক, আমলাদের দায় নেই’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The goods went to Meghalaya through Tamabil from Calcutta

কলকাতা থেকে তামাবিল দিয়ে পণ্য গেল মেঘালয়ে

কলকাতা থেকে তামাবিল দিয়ে পণ্য গেল মেঘালয়ে
কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে হয়ে যাওয়া ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্যা ইউজ অফ চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অফ গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া (এসিএমপি)’ চুক্তির আওতায় বুধবার পরীক্ষামূলকভাবে এদেশের বন্দর ও সড়ক ব্যবহার করা হয়েছে।

ট্রানজিট চুক্তির আওতায় ভারতের কলকাতা থেকে বাংলাদেশ হয়ে মেঘালয়ে গেছে পণ্যবাহী ট্রাক।

ভারতীয় পণ্য নিয়ে ট্রাকটি বুধবার দুপুরে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে মেঘালয় প্রবেশ করে। এটি গত ১ আগস্ট কলকাতা থেকে জাহাজে করে মোংলা বন্দরে আসে।

প্রথমবারের মতো ভারতীয় পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের স্থলবন্দর ব্যবহার করা হলো। এই চালানে ছিল ইলেক্ট্রো স্টিল কাস্টিং লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ৭০ প্যাকেজের ১৬ দশমিক ৩৮০ টন লোহার পাইপবাহী কন্টেইনার।

এই ট্রানজিট পর্যবেক্ষণে তামাবিল স্থলবন্দরে দুপুরে এসেছিলেন সিলেটের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার নীরজ কুমার জয়সওয়াল ও গৌহাটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনার এবং মিশন প্রধান শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর এবং বন্দর কর্মকর্তারা।

কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে হয়ে যাওয়া ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্যা ইউজ অফ চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অফ গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া (এসিএমপি)’ চুক্তির আওতায় বুধবার পরীক্ষামূলকভাবে এদেশের বন্দর ও সড়ক ব্যবহার করা হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ১ আগস্ট ভারতের কলকাতা বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে একটি জাহাজ ছেড়ে আসার পর রোববার সকালে মোংলা বন্দরে নোঙর করে। সোমবার দুপুরে খালাসের পর দুটি কন্টেইনারের একটি ভারতের মেঘালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে বুধবার সকালে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরে আসে। আরেকটি কন্টেইনার কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের আসামে যাওয়ার কথা রয়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য সরবরাহ করতে দুই দেশের মধ্যে ২০১৮ সালের অক্টোবরে চুক্তিটি হয়। প্রথম পরীক্ষামূলক চলাচল হয়েছিল ২০২০ সালের জুলাইয়ে। তখন কলকাতা বন্দর থেকে পণ্যবাহী নৌযান চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।

সেখান থেকে স্থলপথে পণ্য আগরতলা নেয়া হয়েছিল। তখনকার পণ্য ছিল ডাল ও রড। কিন্তু করোনা মহামারিসহ নানা জটিলতায় গত চার বছরে এই চুক্তির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। পরে ভারতের পক্ষ থেকে চারটি রুটে ট্রায়াল রানের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।

আপাতত দুটি স্থলবন্দর দিয়ে ট্রান্সশিপমেন্ট দিতে রাজি হয় বাংলাদেশ। তার পরিপ্রেক্ষিতেই মোংলা বন্দর ব্যবহার বিষয়ক চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে চারটি ট্রায়াল রানের প্রথমটি শুরু করেছে কলকাতা বন্দর। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম ট্রায়ালে ভারতের কলকাতা থেকে বাংলাদেশি নৌযান (কার্গো) ‘এমভি রিশাদ রায়হান’ পণ্যবোঝাই দুটি কন্টেইনার নিয়ে মোংলা বন্দরে আসে।

কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত এসিএমপি ট্রানজিট চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে একটি অনন্য মাইলফলক সৃষ্টি হলো। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।’

সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার নীরজ কুমার জয়সওয়াল জানান, ‘ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুটে অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহার করে ব্যবসায়িক গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

‘২০২২ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ১৩তম ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট গ্রুপ অফ কাস্টমস (জেএসসি) বৈঠকের পর ট্রায়াল রান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তারই প্রথম ট্রায়ালের পণ্য মোংলা বন্দর দিয়ে খালাসের পর তামাবিল দিয়ে মেঘালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
আশুরায় বন্ধ বাংলাবান্ধা বন্দর
দুবাইফেরত যাত্রীর ব্যাগে স্বর্ণ, ১৯ আইফোন
বিমানবন্দরে ৩২ হাজার ডলারসহ আটক ১
মোংলায় নিলামে ১১৫ গাড়ি, বিড হবে অনলাইনেও
আশুগঞ্জ বন্দরে জেটি সংকট, জাহাজের জট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Charge sheet in Calcutta court against PK

পি কের বিরুদ্ধে কলকাতার আদালতে চার্জশিট

পি কের বিরুদ্ধে কলকাতার আদালতে চার্জশিট
ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট পি কে হালদারসহ ৬ জনকে পশ্চিমবঙ্গের অশোকনগর থেকে ১৪ মে গ্রেপ্তার করে। দুই দফায় ১৩ দিন ইডি হেফাজত শেষে প্রায় ৩ মাস সময় ধরে হেফাজতে রয়েছে পি কে হালদার জালিয়াত চক্র।

বাংলাদেশের এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির হোতা পি কে হালদারসহ ৬ জনকে ৪৩ দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার আদালত।

বুধবার পি কে হালদারসহ ৬ জনকে কলকাতার ব্যাংকশাল কোর্টের বিশেষ সিবিআই আদালতে তোলা হলে বিচারক জীবন কুমার সাধু এই নির্দেশ দেন। ২২ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-ইডির পক্ষে আইনজীবী অরিজিৎ চক্রবর্তী পি কে হালদারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সাড়ে ৪ হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।

ইডির আইনজীবী অরিজিৎ চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৫ জুলাই যে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে তা নিয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী তেমন উচ্চবাচ্য করেননি। দুপক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল-জবাব শুনে ১৫ মিনিটের মধ্যে রায় দেন বিচারপতি জীবন কুমার সাধু।’

পি কে হালদারের ৮৮টি ব্যাংক একাউন্ট ও ৪৪টি সম্পত্তির নথি আগেই আদালতে জমা দিয়েছিল ইডি।

বাংলাদেশের ব্যাংক জালিয়াতি মামলার মূল হোতা পি কে হালদারসহ ৬ জনকে বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট পশ্চিমবঙ্গের অশোকনগর থেকে ১৪ মে গ্রেপ্তার করে। দুই দফায় ১৩ দিন ইডি হেফাজত শেষে প্রায় ৩ মাস সময় ধরে হেফাজতে রয়েছে পি কে হালদার জালিয়াত চক্র।

আরও পড়ুন:
পি কে হালদারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র
পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৬ আগস্ট
জেরায় বাংলাদেশ-ভারতের একাধিক প্রভাবশালীর নাম বলেছেন পি কে
পি কে হালদার ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজতে
পাচারের টাকা বৈধ করার সুযোগ পাবেন না পি কে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
BPC explained seven years of profit and fixed deposits

সাত বছরের মুনাফা ও স্থায়ী আমানতের ব্যাখ্যা দিল বিপিসি

সাত বছরের মুনাফা ও স্থায়ী আমানতের ব্যাখ্যা দিল বিপিসি অলঙ্করণ: মামুম হোসাইন/নিউজবাংলা
‘১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত জ্বালানি খাতে ক্রমাগত লোকসান গুনতে হয়। যার পরিমাণ প্রায় ৫৩ হাজার ৫ কোটি টাকা। ফলে ভর্তুকি হিসেবে সরকার বিভিন্ন সময় বিপিসিকে ৪৪ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা দেয়। ফলে সাত বছরে মুনাফা করলেও ওই সময়ে আরও ৮ হাজার ১২৭ কোটি টাকার ঘাটতি ছিল, যা পরে বিপিসির মুনাফার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।’

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানত ভেঙে জ্বালানি আমদানি করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ। বলেছেন, ডিজেলের দর লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানোর পরও তাদের লোকসান হচ্ছে।

২০১৪ সাল থেকে টানা সাত বছর বিপিসির যে পরিমাণ মুনাফা হয়েছে, তার আগের ১৪ বছরে এর চেয়ে বেশি লোকসান ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, মুনাফার টাকায় আগের লোকসান সমন্বয় করা হয়েছে।

তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানোর পর বিপিসির ২০১৪ সালের পর থেকে মুনাফায় থাকা, বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের বিপুল পরিমাণ স্থায়ী আমানতের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর এ নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে বুধবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিপিসির চেয়ারম্যান।

গত ৫ আগস্ট মধ্যরাত থেকে সরকার ডিজেল ও কেরোসিনের দর লিটারে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করে। অকটেন প্রতি লিটার ৮৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ ও পেট্রল ৮৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এই দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যায় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে বিপিসির বিপুল পরিমাণ লোকসান হচ্ছিল। গত কয়েক মাসে লোকসান ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই।

এরপর একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হয় ২০১৪ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত মুনাফা ও করসহ লাভ হয় ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এই সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ প্রশ্ন করতে থাকে, আগের মুনাফা থেকে বর্তমানের লোকসান সমন্বয় করা হলো না কেন।

অন্য একটি জাতীয় দৈনিক জানায়, সরকারি সংস্থার মধ্যে বিপিসির ব্যাংকে স্থায়ী আমানত সবচেয়ে বেশি। তাহলে তারা কেন লোকসানের কথা বলছে।

এই দুটি বিষয়েই ব্যাখ্যা দেন বিপিসির চেয়ারম্যান।

সাত বছরের মুনাফা ও স্থায়ী আমানতের ব্যাখ্যা দিল বিপিসি
বিপিসি চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ। ছবি:সংগৃহীত

তিনি জানান, ২০১৪ সাল থেকে সাত বছর মুনাফা করলেও এর আগের ১৪ বছর টানা লোকসান দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত জ্বালানি খাতে ক্রমাগত লোকসান গুনতে হয়। যার পরিমাণ প্রায় ৫৩ হাজার ৫ কোটি টাকা। ফলে ভর্তুকি হিসেবে সরকার বিভিন্ন সময় বিপিসিকে ৪৪ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা দেয়। ফলে সাত বছরে মুনাফা করলেও ওই সময়ে আরও ৮ হাজার ১২৭ কোটি টাকার ঘাটতি ছিল, যা পরে বিপিসির মুনাফার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।’

ব্যাংকে স্থায়ী আমানতের বিষয়ে এ বি এম আজাদ বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় সব ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে বিপিসিকে আমদানি ব্যয় মেটাতে হচ্ছে।’

তেলের আমদানি ব্যয় কত

এ বিষয়েও একটি হিসাব দিয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, বর্তমান দরে ডিজেল বিক্রি করে তাদের লিটারে লোকসান হচ্ছে ৬ টাকা। তবে অকটেনে মুনাফা হচ্ছে ২৫ টাকা।

তিনি জানান, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে প্রতি লিটার ডিজেলে ১২০ টাকা খরচ হচ্ছে বিপিসির।

বিপিসি প্রধান বলেন, ‘২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে আমাদের প্রতি ব্যারেল ডিজেল কেনার খরচ পড়ত প্রতি ব্যারেলে ৯৬ দশমিক ৯৫ ডলার। প্রতি লিটারে আমরা যখন এটাকে কস্টিং করি, প্রতি লিটার পরে ৮৩ টাকা ৬ পয়সা। ওই সময়ে বিপিসি বিক্রয় করত ৮০ টাকা করে। সেখানে লিটারে ৩ টাকার মতো লোকসান ছিল।’

‘ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে যখন প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলার ৫৫ সেন্ট, সেটাকে টাকায় প্রতি লিটারে কনভার্ট করলে হয় ৮৯ টাকা ৮৫ পয়সা। তখনও বিপিসি বিক্রি করেছে ৮০ টাকা লিটার। যে কারণে ওই মাসে ৯ টাকার মতো লোকসান গুনতে হয়েছে।

‘এ ফর্মুলায় গত জুলাই মাসে প্রতি ব্যারেল মূল্য ছিল ১৩৯ দশমিক ৪৩ ডলার, টাকায় প্রতি লিটারে কনভার্ট করলে খরচ পড়ত ১২২ টাকা ১৩ পয়সা। তখনও ওই তেল বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। এভাবে তেলের দাম বাড়তে বাড়তে জুলাই মাসে প্রতি লিটারে লোকসান এসে দাঁড়িয়েছিল ৪২ টাকা ১৩ পয়সা।’

এফডিআর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে

ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ স্থায়ী আমানত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে করা হয়েছে বলে জানান বিপিসি চেয়ারম্যান। জানান, তারা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩৪ হাজার ২৬১ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ১১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন।

এর মধ্যে আছে ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন ক্ষমতা বাড়ানো। এতে ব্যয় হবে ১৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। এটি বিপিসির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে বিপিসির মুনাফার একটি অংশ এফডিআর করা হয়। বিপিসি তার অর্থ কোনো না কোনো ব্যাংকের হিসাবের বিপরীতে রাখতে হয়। প্রকল্পের যে অর্থগুলো, সেগুলো প্রকল্পের নামে এফডিআর খুলে রাখা হয়।’

জ্বালানির দর বৃদ্ধি এই উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাড়ানো হয়নি বলেও জানান তিনি।

দেশে উৎপাদন হলেও পেট্রল ও অকটেনের নাম বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রুডের কারণে পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ে। সুতরাং পেট্রল ও অকটেনের দাম কৌশলগত কারণে বাড়াতে হয়েছে।’

বর্তমানে দেশে ৩০ দিনের ডিজেল এবং ১৮ দিনের পেট্রল ও অকটেন মজুত আছে বলেও জানান বিপিসি চেয়ারম্যান।

আরও পড়ুন:
বিপিসির আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সিপিডির
বিপুল বকেয়া, বিমানকে তেল দেবে না বিপিসি
‘জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি রাজনৈতিক, আমলাদের দায় নেই’
জেটি সংকট, তেলবাহী জাহাজ নিয়ে বিপাকে বিপিসি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Beating Dr Sajjad Ultimatum for interns strike

ডা. সাজ্জাদকে মারধর: ইন্টার্নদের কর্মবিরতির আল্টিমেটাম

ডা. সাজ্জাদকে মারধর: ইন্টার্নদের কর্মবিরতির আল্টিমেটাম বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। ছবি: নিউজবাংলা
ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মহিউদ্দিন জিলানী বলেন, ‘আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা চাই আজকের মধ্যেই দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক। অন্যথায় বৃহস্পতিবার থেকে আমরা কর্মবিরতি পালন করব।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসেনকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ।

বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বৃহস্পতিবার থেকে কর্মবিরতিতে যাবেন বলে হুশিয়ারি দেয়া হয়।

মানববন্ধনে পরিষদের সদস্যরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘মানুষের গায়ে হাত তোলার কে দিল অধিকার’, ‘জিরো টলারেন্স ফর ভায়োলেন্স’ ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করা হয়।

এর আগে সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে আলোচনা করেন পরিষদের নেতারা। এ সময় উপাচার্য হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

মানববন্ধনে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মহিউদ্দিন জিলানী বলেন, ‘শুধু ডা. সাজ্জাদ নন, অনেকের সঙ্গেই এরকম ঘটনা ঘটে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি এই ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা চাই আজকের মধ্যেই দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক। অন্যথায় বৃহস্পতিবার থেকে আমরা কর্মবিরতি পালন করব।’

‘কিছু ছাত্রের জন্য পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বদনাম হচ্ছে। আমরা এসব বিপথগামী শিক্ষার্থীর বিচার দাবিতে মানববন্ধন করছি।’

চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মারুফ উল আহসান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শহীদ মিনারে অনেকেই পরিবার, বন্ধুবান্ধব নিয়ে আসেন, আড্ডা দেন। আজ সাজ্জাদ ডাক্তার হওয়ার কারণে হয়তো আমরা প্রতিবাদ করছি, কিন্তু অনেকেই তো সেটা করতে পারে না।’

পরিষদের সদস্য জাকিউল ইসলাম ফুয়াদ বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে মিটিং করেছি। আমাদের ডিরেক্টর, প্রিন্সিপালসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমরা বলেছি, আপনারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন, দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনেন। তা না হলে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।’

থানায় জিডি

এদিকে মারধরের ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন মারধরের শিকার সাজ্জাদ হোসেন। শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক রাজু মুন্সীকে এই ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জিডির বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুত হাওলাদার বলেন, ‘ভুক্তভোগী জিডি করেছেন। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় আমরা আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো চেক করছি। এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। আজকের মধ্যেই সব ক্যামেরার ফুটেজ চেক করা শেষ হবে।’

আরও পড়ুন:
শহীদ মিনারে মারধর: ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আলটিমেটাম
শহীদ মিনারে ঢাকা মেডিক্যালের ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Amendment of patent law necessary to protect pharmaceutical industry Salman

ওষুধশিল্পের সুরক্ষায় প্যাটেন্ট আইন সংশোধন জরুরি: সালমান

ওষুধশিল্পের সুরক্ষায় প্যাটেন্ট আইন সংশোধন জরুরি: সালমান রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে বুধবার সেমিনারে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশীয় ওষুধশিল্প চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এটি মোকবিলায় আমাদের এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে স্থানীয় অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্যাটেন্ট আইন সংশোধন করতে হবে।’

স্থানীয় ওষুধশিল্পের সুরক্ষায় প্যাটেন্ট আইন সংশোধন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে বুধবার আয়োজিত ‘এলডিসি উত্তরণে ওষুধ শিল্পের প্রস্তুতি’ শীর্ষক সেমিনারে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রকল্প (এসএসজিপি) ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে বক্তারা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে ওষুধশিল্পের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পৃথক একটি রোডম্যাপ তৈরির কথা বলেন। একই সঙ্গে পোশাকশিল্পের মতো এই খাতে প্রণোদনার প্রস্তাব দেন তারা।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশীয় ওষুধশিল্প চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এটি মোকবিলায় আমাদের এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে স্থানীয় অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্যাটেন্ট আইন সংশোধন করতে হবে।’

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় অবিলম্বে ওষুধশিল্প পার্ক (এপিআই পার্ক) চালু হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘এর ফলে ভবিষ্যতে ওষুধশিল্পে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে এবং এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় ওষুধশিল্প দ্রুত এগিয়ে যাবে।’

ট্রিপস চুক্তির আওতায় স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে প্রাপ্ত বিশেষ সুবিধাগুলো অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় প্রয়োজনীয় প্রচার চালানোর আহ্বান জানান সালমান এফ রহমান।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খান। এলডিসি-পরবর্তী সময়ের জন্য ওষুধশিল্পকে প্রস্তুত করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি খাত এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি শক্তিশালী অংশীদারত্বমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিল্ডের চেয়ারপারসন নিহাদ কবির, ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট রিজওয়ান রাহমানসহ অনেকে।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান এমপি বাংলাদেশের প্যাটেন্ট প্রদানের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয় বিবেচনায় নেয়ার আহ্বান জানান।

নিহাদ কবির মেধাস্বত্বসংক্রান্ত কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে প্যাটেন্ট আইন সংশোধন করা হবে বলে আশ্বাস দেন শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা।

দেশের ওষুধশিল্পে পোশাক খাতের মতো প্রণোদনা দেয়ার ওপর গুরুত্ব দেন রিজওয়ান রাহমান।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পরও ২০৩৩ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রিপস চুক্তির আওতায় প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধাগুলো যাতে অব্যাহত রাখা যায় সে ব্যাপারে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে।’

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও এসএসজিপির প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আজিজ। ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম।

আরও পড়ুন:
‘২০২৬ সালের আগেই দাঁড়িয়ে যাবে ওষুধশিল্প’
উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষায় ওষুধ শিল্প পার্ক
দেশের ওষুধশিল্প ঘুরে দাঁড়াল যেভাবে
ওষুধ শিল্পে কর অবকাশ আরও ১০ বছর
সম্ভাবনার ওষুধশিল্প: স্বস্তির মধ্যেও শঙ্কা

মন্তব্য

p
উপরে