× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Complaint of eviction from Jhumbhoomi by fire
hear-news
player
print-icon

আগুন দিয়ে জুমভূমি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ

আগুন-দিয়ে-জুমভূমি-থেকে-উচ্ছেদের-অভিযোগ
বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে জুমভূমি। ছবি: নিউজবাংলা
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ৪০০ একরের অধিক জুমভূমি এবং ফলদ বাগান আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ। তিন সংগঠন ১৪ মে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে।’

বান্দরবানের লামায় আগুন লাগিয়ে ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর জুমভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন পার্বত্য অঞ্চলকেন্দ্রিক একাধিক সংগঠন।

চট্টগ্রামস্থ সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক ভুলন ভৌমিক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ৪০০ একরের অধিক জুমভূমি এবং ফলদ বাগান আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ।

‘চট্টগ্রামস্থ সচেতন নাগরিক সমাজ’, ‘হিল কালচারাল ফোরাম’ ও ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবার’- এই তিন সংগঠন মিলে ১৪ মে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভুলন ভৌমিক বলেন, ‘পাহাড় পুড়িয়ে দেয়ায় ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ৩৯টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে লাংকম পাড়ার ১২ পরিবারের ৭০ জন, জয়চন্দ্র পাড়ার ১৬ পরিবারের ৮৭ জন এবং রেঙয়েংপাড়ার ১১ পরিবারের ৬৮ জন রয়েছে৷ তারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে এসব পাহাড়ে ভোগদখলীয় জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৯৩-৯৪ সালে লামার সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি ও সরই মৌজায় মোট ৬৪ জনকে ২৫ একর করে মোট এক হাজার ৬০০ একর জায়গা রাবার চাষের জন্য ৪০ বছরের জন্য ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। এ সময় ইজারাদারদের ২৮টি শর্ত দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম শর্ত হচ্ছে, ইজারা চুক্তির ১০ বছরের মধ্যে বাবার বাগান সৃজন না করলে ইজারা বাতিল হয়ে যাবে।

‘কিন্তু ২৯ বছর পর এসে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ৪০০ একর জুমভূমি ও ফলদ বাগান দখলের চেষ্টা করছে, যা আইনবহির্ভূত ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।’

আগুন দিয়ে জুমভূমি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত অভিযোগ তুলে ধরে পার্বত্য অঞ্চলকেন্দ্রিক একাধিক সংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘আগুনে লক্ষাধিক ফলদ ও বনজ চারা, ৭ একর ধানি জমি ও প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বাঁশ বাগান পুড়ে গেছে। অথচ এসবই ওই এলাকার মানুষের জীবিকার মাধ্যম।

‘গত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ১৭০ থেকে ২০০ জন রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে ৪০০ একর বনের গাছপালা কেটে পরিষ্কার করা হয়। এ সময় অবৈধভাবে বন কাটায় বাধা দিতে চাইলে কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা শ্রমিকদের দিয়ে ভয় দেখায়। গাছ-গাছালি কাটার পর ২৬ এপ্রিল জুমে আগুন দেয় তারা। এতে ৩৯টি পরিবার চরম খাদ্য সংকটে পড়ে।’

রাবার কোম্পানির লোকজনের ভয়ে তিন পাড়ার মোট ৩৫ জন শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারছে না বলেও অভিযোগ করেন ভুলন ভৌমিক।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ৭টি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- ম্রো ও ত্রিপুরাদের জুম চাষের ৪০০ একর ভূমি অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে। আগুনে ক্ষতিগ্ৰস্ত ফলদ ও বনজ বাগান, ধানের খেত এবং শ্মশানভূমির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে।

এ ছাড়া ভূমি দখলদারদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন ফলদ গাছের চারা বিতরণসহ প্রয়োজনীয় কৃষি সহযোগিতা দিতে হবে, আতঙ্কিত পাড়াবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ম্রো ও ত্রিপুরা শিক্ষার্থীদের নিরাপদে স্কুলে যাওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক কামাল উদ্দিন এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই এলাকাটি ১৯৯৩ থেকে ৯৫ সালের মধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে আমরা কয়েকজন মিলে ইজারা নিয়েছিলাম। পরে কাজের সুবিধার্থে সবাই মিলে একটি কোম্পানি করেছি। আমরা লিজ নেয়ার পর ওই পাহাড়ে রাবার বাগানও করেছিলাম। তবে ২০১৬ সালে সেই বাগান কারা যেন পুড়িয়ে দেয়।

‘এরপর আশপাশ ও বিভিন্ন জায়গা থেকে ওরা এসে সেখানে ঘর করে। আমরাও বাধা দেইনি। ভেবেছিলাম আমাদেরও শ্রমিক দরকার, তাদের হয়তো কাজে লাগানো যাবে। কিন্তু পরে দেখি তারা ওটা নিজেদের বলে দাবি করছে। ওরা যেসব অভিযোগ করছে সেসব মিথ্যা। তাদের ভয় দেখানো বা রোহিঙ্গা দিয়ে কাজ করানো, শিশুদের স্কুলে যেতে না দেয়া সব মিথ্যা। স্কুল তো তাদের পাড়াতেই, আমরা কেন স্কুলে যেতে দেব না?

‘ঘটনাটি অনেকেই তদন্ত করেছেন। এসিল্যাড রিপোর্ট দিয়েছেন, সব আমাদের পক্ষে। আমাদের ধারণা, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন বন্ধ করতে কোনো মহল তাদের দিয়ে এসব করাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
লেমিনেট করা পোস্টারে ছেয়ে গেছে বান্দরবান
'বন্দুকযুদ্ধে' রোহিঙ্গা মাদক কারবারি নিহত
চিম্বুক পাহাড়ে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণে প্রতিবাদ
চিম্বুকে হোটেল নির্মাণ বন্ধ চায় অ্যামনেস্টি
থানচির দুর্গম এলাকা থেকে গর্জন কাঠ জব্দ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Farmers defeated in advance floods

আগাম বন্যায় সর্বনাশ কৃষকের

আগাম বন্যায় সর্বনাশ কৃষকের বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে মাঠের ফসল। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষক আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আগের বচর সাতবার বন্যা হইচে, এবার একবার হইল, আরও তো হইবে। একবারের বানোত কিছু কি আছে, সোউগ তো তলে গেইছে। বচরে বচরে ( প্রতি বছর) এমন করি ফকির হয়া যাইতেছি। তিন মাস আবাদ করি, বন্যা-খরাত খাই, এবার বুঝি সেডাও হবান্নয়।’

বন্যায় ফসলের ক্ষতি মেনে নিয়েই চলে রংপুর অঞ্চলের চাষাবাদ। ক্ষতি কমাতে কৃষকদের থাকে তাই এক ধরনের প্রস্তুতি। কিন্তু এ বছর আগাম বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। পানির নিচে তলিয়ে থাকা ফসল নিয়ে হতাশার পাশাপাশি চিন্তিত তারা পরের ধাপের চাষাবাদ নিয়ে।

কৃষিবিদসহ বিশ্লেষকরা রংপুর অঞ্চলের চলতি বন্যায় ক্ষতির শিকার কৃষকদের প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সহায়তা বাড়ানোর কথা বলছেন। একই সঙ্গে তারা নদী, খাল সংস্কারসহ স্থায়ী সমাধানে জোর দিচ্ছেন। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় এ বছর কয়েক দফায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবের ইউনিয়নের বলদমারা এলাকার কৃষক আব্দুল বাতেন। তিনি দুই বিঘা জমিতে চিনাবাদাম এবং দুই বিঘা জমিতে তিল ও কাঁচা মরিচ আবাদ করেছিলেন। আগাম বন্যায় তার সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আগের বচর সাতবার বন্যা হইচে, এবার একবার হইল, আরও তো হইবে। একবারের বানোত কিছু কি আছে, সোউগ তো তলে গেইছে। বচরে বচরে (প্রতি বছর) এমন করি ফকির হয়া যাইতেছি। তিন মাস আবাদ করি, বন্যা-খরাত খাই, এবার বুঝি সেডাও হবান্নয়।’

আগাম বন্যায় সর্বনাশ কৃষকের
পানি সরে গেলেও ফসলি জমি এখন বিরানভূমি। ছবি: নিউজবাংলা

অভিন্ন আক্ষেপ চরাঞ্চলের সব কৃষকের। তারা তিল, কাউন, চিনাবাদাম, কাঁচা মরিচ, ভুট্টা ও শাকসবজি চাষ করে সংসার চালান। একবার ফসল তুলতে পারলে সেটি দিয়েই সামাল দেন একাধিকবারের ক্ষতি। বন্যার সময় তাদের আগাম প্রস্তুতিও থাকে। কিন্তু আকস্মিক বন্যা তাদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারীর বহু চরে পানির নিচে কৃষকের ফসল। কিছু জায়গায় পানি কমলেও ফসল রক্ষার সুযোগ নেই। নষ্ট হয়েছে বীজতলাও।

চরশৌলমারী ইউনিয়নের কৃষক আহাদ আলী বলেন, ‘সবজি চাষ করে বাজারে বিক্রি করি। যে টাকা হয়, তা দিয়ে চার সন্তানকে লেখাপড়া করাই। সব আবাদ পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সংসার চালাতে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছি।’

কৃষক আব্দুল করিম, সফুর আলী, নজিবর রহমানসহ কয়েকজন জানান, রংপুরে প্রতি বছর কয়েক দফায় বন্যা হয়। এবার আগাম বন্যায় এমন ক্ষতি হয়েছে, যার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব না।

শুধু কুড়িগ্রাম নয়, অভিন্ন পরিস্থিতি গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও রংপুর গঙ্গাচড়ার তিস্তা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের।

যে ক্ষতিতে বাড়ছে চিন্তা

রংপুরের আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৮ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত রংপুর অঞ্চলের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটে ৯ হাজার ৩৮২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলায় ফসল নষ্ট হয়েছে ৮ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমির। এর মধ্যে পাট ৩ হাজার ৮৫৬, আউশ ধান ২ হাজার ৫০৬ ও আমন বীজতলা ৩১২ হেক্টর। শাকসবজি ও অন্যান্য মিলে রয়েছে আরও ২ হাজার ১০১ হেক্টর।

গাইবান্ধা জেলায় ফসল নষ্ট হয়েছে ৪০৫ হেক্টর জমির। এর মধ্যে পাট ১৩৩, আউশ ধান ৫৬, আমন বীজতলা ৫৬ এবং শাকসবজি ও অন্যান্য মিলে ১৬০ হেক্টর জমির ফসল।

লালমনিরহাট জেলায় ফসল নষ্ট হয়েছে ২০২ হেক্টর জমির। এর মধ্যে পাট ১৭ হেক্টর, আউশ ধান ২০ হেক্টর, আমন বীজতলা ৭৯ হেক্টর এবং শাকসবজি ও অন্যান্য মিলে ৮৬ হেক্টর।

এসব এলাকায় তালিকার বাইরে আরও ১৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে আছে বলে দাবি করেছে কৃষি বিভাগ। সে হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হবে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এমদাদ হোসেন সেখ বলেন, ‘কৃষকদের প্রণোদনা দেয়ার কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে তাদের পুনর্বাসনের জন্য সিদ্ধান্ত আসেনি।’

সহায়তা ও সমাধান

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা করা হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম বলে মনে করেন কৃষকরা।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করা হয়। তাদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। এরপর প্রত্যেক কৃষককে এক বিঘা জমি আবাদ করার মতো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়।’

রৌমারীর দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ঝগড়ারচর গ্রামের কৃষক আফতাব হোসেন বলেন, ‘বন্যার পর ফের আবাদ করতে অনেক কষ্ট। সরকার যেটুকু সহযোগিতা করে, তাতে পোষায় না। আবার এসব সহযোগিতা সবার জোটেও না।’

কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে পুনর্বাসনে সরকার যে সহযোগিতা করে, তা যথেষ্ট হয়। সহজ শর্তে সুদমুক্ত ঋণ দিলে এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য ৩৩ শতাংশ বেশি দরে সরকার কিনলে কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।’

আগাম বন্যায় সর্বনাশ কৃষকের
কৃষক পরিবারকে দেয়া হচ্ছে সরকারি সহায়তা। ছবি: নিউজবাংলা

নদী গবেষক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৪২টি ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতি হয়েছে। কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতির শিকার।

‘অল্প বৃষ্টি বা পানিতেই বন্যা হচ্ছে এই অঞ্চলে। স্থায়ী পরিত্রাণের জন্য নদীগুলোর পরিচর্যা করতে হবে। নদী খনন করতে হবে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকলে এমন বৃষ্টিতে বন্যা হবে না। আর কৃষি বিমা চালু করে সরকার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকদের সহায়তা করতে পারে।’

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রণোদনার পরিমাণ বাড়াতে হবে। বন্যা-পরবর্তী সময়ে তারা যখন আবাদ শুরু করবেন, তখন ভর্তুকির পরিমাণ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে সার, কীটনাশক ও বীজ বিনা মূল্যে দিতে হবে। বন্যার কথা চিন্তা করে ফসল উৎপাদনের সময়ে পরিবর্তন আনতে হবে।

‘বন্যায় আমন ধান নষ্ট হয়ে যায়। সে জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আগেই উঁচু স্থান লিজ নিয়ে চারা রোপণ করতে পারে। পানি নেমে গেলে এসব বীজ ক্ষতিগ্রস্তদের বিতরণ করলে কৃষকের ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
সৌদি খেজুর নিয়ে বন্যার্তদের পাশে ফায়ার সার্ভিস
দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কবলে সিলেট
বন্যার শঙ্কা এবার দিনাজপুরে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
New varieties of sweet potatoes are expected to triple the yield

মিষ্টি আলুর নতুন জাতে ফলন বিপ্লবের আশা

মিষ্টি আলুর নতুন জাতে ফলন বিপ্লবের আশা
অধ্যাপক আরিফ হাসান খান রবিন বলেন, ‘আবাদি জমি ছাড়াও একটি জাত সারা বছর সবজি হিসেবে ছাদবাগানে, গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আশপাশে, পুকুর পাড়ে বা যেকোনো জায়গায় স্বল্প পরিসরে চাষ করা সম্ভব।’

প্রচলিত জাতের মিষ্টি আলুর চেয়ে বেশি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং দুই থেকে তিন গুণ বেশি ফলনের নতুন তিনটি জাত উদ্ভাবনের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক।

দুই বছর গবেষণার পর তারা বাউ মিষ্টি আলু-৪, বাউ মিষ্টি আলু-৫ এবং বাউ মিষ্টি আলু-৬ উদ্ভাবন করেছেন।

এই গবেষণার প্রধান গবেষক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক আরিফ হাসান খান রবিন। তার সঙ্গে ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ড. জোবেদাতুন নাহার।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, মিষ্টি আলুর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অনেকেই জানে না। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, বি, সিসহ বিভিন্ন খনিজ পদার্থ আছে।

দেশে এই আলুর গড় উৎপাদন বাড়াতে এবং কৃষকপর্যায়ে চাষাবাদ লাভজনক করতে ২০২০ সালের শুরুতে ইন্টারন্যাশনাল পটেটো সেন্টারের অর্থায়নে তিনটি নতুন জাত নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। ধারাবাহিক গবেষণায় জাত উদ্ভাবনে সফলতা মিলেছে।

গবেষক জোবেদাতুন নাহার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত যেকোনো মিষ্টি আলুর চেয়ে উদ্ভাবিত নতুন জাতগুলোতে রয়েছে অধিক পুষ্টিমান। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

‘জাতগুলোর জীবনকাল স্বল্প এবং একটি জাত সারা বছর চাষযোগ্য হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হবেন।’

মিষ্টি আলুর নতুন জাতে ফলন বিপ্লবের আশা

অধ্যাপক আরিফ হাসান খান রবিন বলেন, ‘আবাদি জমি ছাড়াও একটি জাত সারা বছর সবজি হিসেবে ছাদবাগানে, গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আশপাশে, পুকুর পাড়ে বা যেকোনো জায়গায় স্বল্প পরিসরে চাষ করা সম্ভব।

‘ডাল কাটিংয়ের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করায় বীজ সংগ্রহ করতে বা কিনতে তেমন অর্থ ব্যয় হবে না। তাই অল্প খরচে এই ফসল চাষ করে কৃষকরা অনেক লাভবান হতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন জাতগুলোর চারা এখন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ও কিশোরগঞ্জে উৎপাদন করা হচ্ছে। এর ফলন প্রচলিত গড় ফলনের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি। বাংলাদেশে শুধু বারি-১২ জাত সারা বছর চাষ করা যায়। তবে এর আবাদ ও ফলন বেশ কম।

‘বাউ মিষ্টি আলু-৪ অক্টোবর থেকে নভেম্বরে লাগাতে হবে এবং ফলন পাওয়া যাবে ফেব্রুয়ারি-মার্চে। বাউ মিষ্টি আলু-৫ শীত ছাড়াও বছরের অন্য সময় চাষের উপযোগী আর বাউ-৬ আগাম জাতের। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে মাঠ দিবসের মাধ্যমে আমরা এসব জাতের চারা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করব।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর আবাদ হয়। প্রতি হেক্টরে গড়ে ফলন হয় ১০ টন। আর একজন মানুষ বছরে গড়ে মিষ্টি আলু খায় ১ কেজি ৭৫ গ্রাম।

আরও পড়ুন:
বিনায় নতুন জাতের বরই, অসময়ে হবে ফল
বঙ্গবন্ধু ১০০ ধান: পরীক্ষামূলক চাষেই সফলতা
গণপরিবহনে স্বস্তি দিতে জবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিশেষ অ্যাপ
শিশুর জীবন বাঁচাবে ১৫ বছরের প্রণবের উদ্ভাবন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The period of agricultural incentives has been extended

কৃষি প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ল

কৃষি প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ল আর্থিক সংকট মোকাবিলায় কৃষকের জন্য প্রণোদনা তহবিল গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে জামানতবিহীন ও সহজ শর্তে মাত্র ৪ শতাংশ সুদহারে ঋণ নিতে পারছেন কৃষকরা। অংশগ্রহণকারী ব্যাংক নিজস্ব কৃষক ও গ্রাহক পর্যায়ে এ তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণ করছে। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের জন্য এককভাবে জামানতবিহীন সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ঋণ দেয়া হচ্ছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবিলায় কৃষকের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রণোদনার এ তহবিল থেকে ঋণ বিতরণের মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা দিয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুসারে, পুনঃ অর্থায়ন তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ করা যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যা ছিল চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব এ তহবিল থেকে জামানতবিহীন ও সহজ শর্তে মাত্র ৪ শতাংশ সুদহারে ঋণ নিতে পারছেন কৃষকরা। অংশগ্রহণকারী ব্যাংক নিজস্ব কৃষক ও গ্রাহক পর্যায়ে এ তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণ করছে। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের জন্য এককভাবে জামানতবিহীন সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ঋণ দেয়া হচ্ছে।

এর আগে কৃষকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ তহবিল থেকে তখন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৭০ জন গ্রাহককে ৪ হাজার ২৯৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো। বিতরণ করা এ অর্থ স্কিমের তহবিলের ৮৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।

কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের উদ্দেশ্যে ‘কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয়তা পায়। স্কিমের এ অর্থ সাধারণ কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করেছে, এমন ১৭টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীকে প্রশংসাপত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রণোদনার এ তহবিল থেকে এবারের ঋণ বিতরণের মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর ফলে বেশি সংখ্যাক কৃষককে স্কিমের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বিশেষ প্রণোদনার ঋণ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার কৃষক
প্রণোদনার সার-বীজ পাচ্ছেন না ‘প্রকৃত কৃষক’
হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পাবে প্রণোদনা
প্রণোদনার ঋণ নিশ্চিতে হটলাইন চালুর চিন্তা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
That tree has changed Rangpur

যে গাছ বদলে দিয়েছে রংপুরকে

যে গাছ বদলে দিয়েছে রংপুরকে একটি আমগাছ দিয়ে শুরু হয়ে রংপুর জেলায় এখন ১২ হাজার হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাগান। ছবি: নিউজবাংলা
অর্ধশতাব্দী আগে বাগানের একটি আমগাছ দিয়ে শুরু। সেই আমগাছ গত কয়েক দশকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে পুরো রংপুর জেলায়। হাঁড়িভাঙ্গা আম এ অঞ্চলের অর্থনীতিকেই বদলে দিতে শুরু করেছে।

রংপুর শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ বাজার। বাজারের প্রবেশপথে চোখে পড়বে হাঁড়িভাঙ্গা আমের ভাস্কর্য। তিনটি আম দিয়ে তৈরি এই ভাস্কর্যের জায়গাটিকে বলা হয় আম চত্বর। যে কেউ এখানে এলেই বুঝতে পারবেন এটি হাঁড়িভাঙ্গা আমের জগৎ।

সম্প্রতি এই চত্বরে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুনতাসির রহমান মামুনের। বাড়ি পঞ্চগড় জেলায়। বন্ধুর সঙ্গে আম কিনতে এসে তাকে নতুন করে বলতে হয়নি জায়গাটি ‘পদাগঞ্জ’। ভাস্কর্য দেখেই চিনে নিয়েছেন।

পদাগঞ্জ থেকে মিঠাপুকুর বা বদরগঞ্জ উপজেলার যেকোনো পথে এগোলে চোখে পড়বে সারি সারি আমগাছ। গত তিন দশকে সুস্বাদু এই আম অর্থনৈতিকভাবে বদলে দিয়েছে মিঠাপুকুর, এমনকি পুরো রংপুরকে।

যে গাছ বদলে দিয়েছে রংপুরকে

রংপুর কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রংপুর জেলায় এখন ১২ হাজার হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাগান। সব থেকে বেশি আম হয় মিঠাপুকুরের খোঁড়াগাছ ইউনিয়নের পদাগঞ্জে। এ এলাকাটির মাটি লাল হওয়ায় আমের স্বাদও ভিন্ন। দ্বিতীয় অবস্থানে জেলার বদরগঞ্জ উপজেলা। আরও বেশ কয়েকটি উপজেলায় এ আমের চাষ হয়।

পদাগঞ্জের সীমানায় পৌঁছলে চোখে পড়বে এক অভাবনীয় দৃশ্য। পথের ধারে, প্রতিটি বাসাবাড়ির পরিত্যক্ত জায়গা, বাড়ির উঠানে লাগানো আমগাছ। কোথাও কোথাও ধানিজমির আলের চতুর্দিকে সারি সারি করে আমগাছ লাগানো হয়েছে। সব গাছ প্রায় একই আকারের। আর তাতে ঝুলে আছে শত শত আম।

রংপুর কৃষি বিভাগ বলছে, জেলার আট উপজেলায় ১ হাজার ৮৮৭ হেক্টর জমিতে এবার আমের আবাদ হয়েছে, যেখান থেকে ২৯ হাজার ৪৩৬ টন আম উৎপাদন হবে।

যে গাছ বদলে দিয়েছে রংপুরকে

আমের নাম হাঁড়িভাঙ্গা যেভাবে

আমের নাম হাঁড়িভাঙ্গা। এলাকার এ জাত এখন সারা দেশে পরিচিত হয়ে উঠেছে। কোথা থেকে এলো এই জাত? আর এর নামটাই বা এলো কোথা থেকে?

এলাকায় যে জনশ্রুতি চালু আছে, সেটি এলাকার আম ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন পাইকারের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত।

আমজাদ হোসেন পাইকার নিউজবাংলাকে জানান, তার বাবা নফল উদ্দিন পাইকারও আমের ব্যবসা করতেন। ১৯৭০ সালে শতাধিক বছর বয়সে তিনি মারা যান। তার মুখে এই আমের জন্ম-ইতিহাস শুনেছেন তিনি।

যে গাছ বদলে দিয়েছে রংপুরকে

আমজাদ হোসেন পাইকার বলেন, ‘যতটুকু শুনেছি, রংপুরের মিঠাপুকুরের বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নে জমিদার রাজা তাজ বাহাদুর সিংয়ের বাড়িতে বিভিন্ন প্রজাতির সুগন্ধি ফুল ও সুস্বাদু ফলের বাগান ছিল। বাগানটি যমুনেশ্বরী নদীর তীরে। জমিদার বাড়িতে আব্বার আসা-যাওয়া ছিল। জমিদারের বাগানসহ অন্য আমচাষিদের কাছ থেকে আম সংগ্রহ করে তিনি পদাগঞ্জসহ বিভিন্ন হাটে বিক্রি করতেন। জমিদারের বাগানের বিভিন্ন আমের মধ্যে একটি আম অত্যন্ত সুমিষ্ট, সুস্বাদু ও দেখতে সুন্দর হওয়ায় তিনি ওই গাছের একটি কলম (চারা) নিয়ে এসে নিজ বাগানে লাগান।’

তিনি বলেন, ‘গাছটি রোপণের পর গাছের গোড়ায় পানি দেয়ার জন্য একটা হাঁড়ি বসিয়ে তাতে ফিল্টার দিয়ে গাছে পানি দিতেন তিনি। কিছু দিন পরপর কে বা কারা সেই হাঁড়ি ভেঙে দেয়। কিন্তু গাছের নিচে যে আব্বা হাঁড়ি বসিয়েছেন, সেটা সবাই জানত। এরপর গাছে খুব আম ধরে। খেতে সুস্বাদু। এলাকার লোকজন তাকে জিজ্ঞেস করেন, “নওফেল এটা কোন গাছের আম?” তখন আব্বা তাদের বলেন, “এটা হাঁড়ি দিয়ে যে গাছে পানি দেয়া হয়েছে, সেই গাছের আম।” তখন থেকে এই আমের নাম হয় “হাঁড়িভাঙ্গা”।’

আমজাদ হোসেন পাইকারের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে সেই মাতৃগাছটি মিঠাপুকুরের তেকানি মসজিদের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে।

হাঁড়িভাঙ্গা আমের এই জন্মকথার সত্যতা যাচাই করার উপায় নেই। তবে এলাকার বয়স্করা অনেকে এটি সমর্থন করেন।

কীভাবে এলো এই আম

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বুড়িরহাট, রংপুর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশিষ কুমার সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাঁড়িভাঙ্গার অরিজিন এখানেই (রংপুরের পদাগঞ্জ)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী বা ভারতের মালদহ জেলা একসময় তো একই ছিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জের যত আমের ভ্যারিয়েন্ট আছে, সব মালদহ ডিস্ট্রিকের। কিন্তু এখানে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বহু ভ্যারিয়েন্ট আছে। সুতরাং অনুমান করা যায়, হাঁড়িভাঙ্গার অরিজিন এখানেই।’

তিনি বলেন, ‘কথিত আছে বা প্রচার করা হয় হাঁড়িভাঙ্গা পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তসংলগ্ন এলাকার মালদিয়া বা মালদই আম থেকে এসেছে। আসলে এটা সত্যি নয়। মালদিয়া আমের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই হাঁড়িভাঙ্গা আমের।’

যে গাছ বদলে দিয়েছে রংপুরকে

যেভাবে সম্প্রসারণ

হাঁড়িভাঙ্গা আম এলাকায় ছড়িয়ে দিয়েছেন যে লোকটি, তিনি আবদুস সালাম সরকার। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘’আমি সমবায় অফিসার ছিলাম। চাকরির মেয়াদের ১০ বছর আগে স্বেচ্ছায় অবসর নিই। ১৯৯২ সালে একদিন বিকেলে আমার এক নাতি এসে বলে, “দাদু আমটা খেয়ে দেখো, অনেক সুস্বাদু।” আম খেয়ে অনুসন্ধান করি গাছের। পরে নওফেল উদ্দিন পাইকারের সেই গাছ থেকে অনেক কলম এনে আমার ১০ একর জমিতে রোপণ করি।’

তিনি বলেন, ‘এই আম সম্প্রসারণ করতে এমন কোনো কাজ নেই করিনি। গ্রামের মানুষের কাছে গেছি, ব্যবসায়ীদের বাড়িতে গেছি। ঢাকায় দুটি বিক্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। মিডিয়াকে ডেকে ডেকে নিউজ করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাকে ডেকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। সরকারের কৃষিমন্ত্রীকে এনে আমের মেলা করেছি। পোস্টার করে পুরো জেলায় ছাপিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এমন কোনো সেনানিবাস নেই যেখানে এই আমের চারা দেয়া হয়নি। সরকারের বড় কর্মকর্তাদের এই গাছের চারা উপহার দিয়েছি। এখন পুরো বাংলাদেশ, এমনকি বিশ্বের বহু দেশে যাচ্ছে এই আম।’

আব্দুস সালাম সরকার প্রায় ৩০ বছর ধরে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ করছেন। এখন রংপুরে কয়েক লাখ হাঁড়িভাঙ্গা আমের গাছ রোপণ করেছেন আমচাষিরা। আব্দুস সালামের নিজেরই ২৫টির বেশি বাগান রয়েছে। অন্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভ হয় বলে লোকে এখন জেলার উঁচু-নিচু ও পরিত্যক্ত জমিতে হাঁড়িভাঙ্গা আম চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

মৌসুমি ব্যবসায়ী

একসময় রংপুর অঞ্চলের মানুষ ধানের ওপর নির্ভরশীল ছিল। প্রতি মৌসুমে পাঁচ-দশ বিঘা জমি চাষাবাদ করে কোনো রকমে চলত। এখন সেই জমিতে আম চাষ করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন কৃষকরা। রংপুরের এই ‘আম অর্থনীতি’ মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দিয়েছে।

বলা হয়ে থাকে, বর্তমানে রংপুরের নতুন অর্থকরী ফসল ‘হাঁড়িভাঙ্গা আম’। মিঠাপুকুর, রংপুর সদর, বদরগঞ্জের বিস্তৃত এলাকার হাজার হাজার কৃষক এই আম চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। পরিবারে এসেছে আর্থিক সচ্ছলতা। কৃষক, দিনমজুর থেকে অনেকেই হয়েছেন আমচাষি। বছর বছর এটি চাষের পরিধি বাড়ছে।

রংপুরের মিঠাপুকুর সদরের গোলাম মোস্তফা জানান, ‘খোড়াগাছ এলাকায় মাত্র ৬০ হাজার টাকায় আমি একটি বাগান কিনি। এবার সেই বাগানের আম আমি ২ লাখ বিক্রি করেছি। আরও ১ লাখ টাকার বিক্রি করতে পারব। যে খরচ হয়েছে, তাতে প্রায় ২ লাখ টাকা আয় হবে।’

তিনি বলেন, ‘আগে একটু অভাব-অনটন ছিল। এখন ভালো আছি। সাত বছর থেকে আমি এই আমের ব্যবসা করতেছি।’

ছবিউল ইসলাম নামে এক আম বিক্রেতা বলেন, ‘আগে তো মানুষের বাড়িতে মজুর করছি, গাড়ি চালাইছি। এখন আমার দুইটা বাগান আছে। বছর চারেক থেকে আমের বাগান কিনে আম বিক্রি করি। সেজনে সেজনে (বছরে বছরে) যে টাকা লাভ হয়, তা দিয়ে পুরো বছর চলে সংসার চলে। ছৈলদের পড়ালেখা চলে। যে টাকা বাঁচে, সেটা দিয়ে পরের বছর বাগান কিনি।’

মতিয়ার রহমান নামে এক আম বিক্রেতা বলেন, ‘আমি বাগান কিনি না। বাজার থেকে আম কিনে ব্যবসা করি। প্রায় ১০-১২ বছর ধরে বাড়ির আম প্রতিদিন দুই ভ্যান, তিন ভ্যান, চার ভ্যান, পাঁচ ভ্যান বিক্রি করি। আম বেচে জমিজমা টুকিটাকি করছি।’

আমের ঝুড়ি বা ক্রেট বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আগে আমি ঢাকায় চাকরি করতাম। এখন গ্রামে আসছি ব্যাবসা করার জন্যে। প্রতি সিজনের ক্রেট ব্যবসা করে ভালোই চলে। প্রতি ক্রেটে ১০-১৫ টাকা লাভ করি।’

যে গাছ বদলে দিয়েছে রংপুরকে

হাঁড়িভাঙ্গা আম ঘিরে রংপুরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলায় মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মিঠাপুকুর উপজেলার লালপুর, পদাগঞ্জ, তেয়ানিসহ আশপাশের গ্রামের বেকার যুবকরা এখন আম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

কয়েক বছর ধরে এ আমের চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমন দামও পাচ্ছেন চাষিরা। শুরুতে বাগানে ১ হাজার ২০০ থেকে ১৬ হাজার টাকা মণ দরে আম বিক্রি হলেও শহরের বাজারে বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা মণ।

সুমন মিয়া নামে এক শিক্ষাথী বলেন, ‘আমি ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। আমার বাবা মারা গেছেন ১০ বছর আগে। চার বছর ধরে প্রতি সিজনে আমের কাজ করে সংসার চালাই। সঙ্গে লেখাপড়া করি। প্রতিদিনে কখনও ৫০০, এক হাজার, আবার কোনো কোনো দিন বারো শ’ টাকা ইনকাম হয়।’

আশাদুর জামান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি বাসায় থাকি, বাসায় থেকে পড়া লেখা করি। আমের সিজেন এলে আমের গোডাউনে কাজ করি। ঢাকা বা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আমের ব্যবসায়ীরা আসেন আম কিনতে। আমরা সেই আম প্যাকেট করে গাড়ি লোড দিয়ে দিই। এইখানে আমরা কাজ করলে দিনে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পাই।’

আজহারুল ইসলাম নামে এক আমচাষি কৃষি শ্রমিকের কাজ ছেড়ে এখন হাঁড়িভাঙ্গা আমের ব্যবসা করছেন। গত বছর পাঁচ একর জমির আম আগাম কিনে তা ১৫ লাখ টাকা বিক্রি করেন তিনি। এবার ১০ একর জমির আম কেনা হয়েছে। এবারও ভালো লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

তৈরি হয়েছে তরুণ উদ্যোক্তা

জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প সমিতির রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি মো. রাকিবুল হাসান রাকিব নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার জানাশোনার মধ্যে রংপুরের দুই শতাধিক তরুণ উদ্যোক্তা রয়েছেন, যারা এই আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইনে অফলাইনে বিক্রি বিক্রি করেন। এরা মৌসুমি ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে কেউ শিক্ষার্থী, কেউ অন্য ব্যবসা করেন। এ বছর আমরা কমপক্ষে ১০০ মণ আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাব।’

তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর নতুন নতুন উদ্যাক্তা তৈরি হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো খবর বা আশার দিক।’

রংপুর চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাঁড়িভাঙ্গার কারণে যে উদ্যাক্তা তৈরি হচ্ছে, তা আশাব্যঞ্জক। আমি শুনতেছি অনেকে এই ব্যবসা করেন।’

বিশ্বদুয়ারে হাঁড়িভাঙ্গা

রংপুরের বিখ্যাত এই আম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের ৪ জুলাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য উপহার হিসেবে পাঠান।

এই আম খেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী প্রশংসা করেছিলেন বলে গণমাধ্যমে সংবাদ বেরিয়েছিল।

এ ছাড়া প্রতি বছর মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয় এই আম।

রপ্তানির টার্গেট

রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে জানান, গত বছর ৫০০ টন হাঁড়িভাঙ্গা আম বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। এ বছর ৭০০ টন বা তার বেশি রপ্তানির টার্গেট আছে। ইতোমধ্যে গত ১৭ জুন ভারতে ২০ টন হাঁড়িভাঙ্গা আম রপ্তানি করা হয়েছে। ধীরে ধীরে তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অনেকে বেসরকারিভাবে আম বিদেশে রপ্তানি করে থাকেন। তাদেরও সহযোগিতা করি আমরা। সরকারিভাবেও রপ্তানি করা হবে।’

অর্থনীতিতে অবদান

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোরশেদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাঁড়িভাঙ্গা আম রংপুরের অর্থনীতিতে পরিবর্তন এনেছে। অনেক বছর ধরে শত শত কোটি টাকার আম বিক্রি করছেন চাষিরা। এই টাকা রংপুরের অর্থনীতিতে প্রভাব রাখছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সৈয়দপুর বিমানবন্দর রয়েছে, চিলমারী নৌবন্দর রয়েছে। আমরা যদি সেভেন সিস্টার বলে ভারতের যে রাজ্যগুলো আছে, সেগুলোতেও রপ্তানি করতে পারি, তাহলে অনেক আয় অর্জন সম্ভব। এই আম তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকে সচ্ছল বানিয়েছে। রংপুর অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে এই আম অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

সম্প্রসারণে কী করা উচিত

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম জাকির হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই আম এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। স্বাদ, গুণাগুণ, মিষ্টতা সব মিলিয়ে এটি অনন্য। এই আম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে, আরও বৃহৎ আকারে পরিকল্পনা নেয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে এই আম কীভাবে কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা যায়, সে বিষয়ে গবেষণা করা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘এই আমকে ঘিরে ফুড প্রসেসিং জোন প্রতিষ্ঠা করা হলে আম দিয়ে যে বিভিন্ন প্রডাক্ট তৈরি হয়, সেটা বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘শুধু রংপুর অঞ্চল নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে যদি এই আম সম্প্রসারণ করা যায়, তাহলে এটি হতে পারে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের একটি উপায়।’

আরও পড়ুন:
উপহারের আম এবার ত্রিপুরায়
মোদিকে এবার ‘আম্রপালি’ পাঠালেন হাসিনা
বাজারে চড়া দামে হাঁড়িভাঙ্গা
কিছুতেই লাগাম পরানো যাচ্ছে না আমদানিতে
ঠা ঠা বরেন্দ্রে আমের মৌতাত, হিমাগার নেই

মন্তব্য

বাংলাদেশ
With the launch of the Padma Bridge an agricultural revolution will take place in Pirojpur

পদ্মা সেতু চালুতে পিরোজপুরে ঘটবে কৃষিবিপ্লব

পদ্মা সেতু চালুতে পিরোজপুরে ঘটবে কৃষিবিপ্লব পদ্মা সেতুর কারণে সহজেই পণ্য অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে। ছবি: নিউজবাংলা
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পদ্মা সেতু চালু হলে জেলার সাতটি উপজেলার প্রায় ছয় লাখ কৃষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাভবান হবেন।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু রূপ নিয়েছে বাস্তবে। আগামী ২৬ জুন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে প্রতীক্ষিত এ সেতু।

এতে পিরোজপুরে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সুবিধা হবে ব্যাপক। তাই আশায় বুক বেঁধেছেন পিরোজপুর জেলার কৃষকরা।

তাদের আশা, সেতুর কারণে যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ায় সবজি, ফল, ফুল, পানসহ কৃষিপণ্যর ভালো দাম পাওয়া যাবে। পাশাপাশি লাভবান হবেন ব্যবসায়ীরাও।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পদ্মা সেতু চালু হলে জেলার সাতটি উপজেলার প্রায় ছয় লাখ কৃষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাভবান হবেন।

কৃষিভিত্তিক ও কৃষিনির্ভর দক্ষিণের জেলা পিরোজপুর। এ জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষি ও মৎস্য পেশার সঙ্গে জড়িত। পিরোজপুরে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ভাসমান সবজি, পেয়ারা, মাল্টা, আমলকী, আম, ধান, পান, সুপারিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য।

এতদিন ভালো যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যার কারণে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে যা অর্থ পান তা দিয়ে পুরো বছর ঠিকমতো চলতে পারেন না। ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকায় গাড়িতেই নষ্ট বা পচে যেত তাদের পণ্য। যার সুযোগ নেয় মধ্যস্বত্বভোগীরা। বিশেষ করে পচনশীল পণ্য কম দামে ছেড়ে দিতে হয় কৃষকদের।

পদ্মা সেতু চালু হলে খুব কম সময়েই পণ্য বাজারজাত করা যাবে। এতে সরাসরি লাভবান হবেন কৃষকরা।

পদ্মা সেতু চালুতে পিরোজপুরে ঘটবে কৃষিবিপ্লব

পিরোজপুর সদরের জুজখোলা গ্রামের কৃষক মনির হোসেন বলেন, ‘আমি সারা বছরই কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত থাকি। আমার ক্ষেতে সিজনাল ফল হয়। আমার মাল্টা, আম, তরমুজ ও কলা ক্ষেত আছে। প্রতি বছর ক্ষেত থেকে ফসল তোলার সময় বাধে বিপত্তি।

‘কারণ বেপারিদের (মধ্যস্বত্বভোগী) সঙ্গে দাম নিয়ে তৈরি হয় সমস্যা। সঠিক দাম পেতাম না। তবে এখন পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে। এখন আর বেপারিদের কাছে ছুটতে হবে না। নিজেই নিজের পণ্য ঢাকা পাঠাতে পারব। তাতে লাভও হবে বেশি।’

আরেক চাষি মিলু মোল্লা বলেন, ‘গত বছর শীতে পানের দাম নিয়ে অনেক ধরা খাইছি। আমার বরজ থেকে যেই দামে পান কিনে নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে তার অনেক কম লাভ আমাকে পাঠিয়েছে বেপারিরা। তাই তখন যোগাযোগব্যবস্থা ভালো থাকলে নিজেদের এলাকার ট্রাকে মাল পাঠাতে পারতাম।’

তরমুজ চাষি ইদ্রিস আলী বলেন, ‘প্রতি বছর আমার ক্ষেতের তরমুজ বেচাকেনা নিয়ে শঙ্কায় থাকি। মৌসুমের শুরুতে দাম চড়া হলেও কিছুদিন পর দাম পড়ে যায়। ফলে লাভবানের চেয়ে ক্ষতিটা বেশি হয়।

‘সঠিক সময়ে তরমুজ ঢাকায় পৌঁছাতে না পারলে দাম পাওয়া নিয়ে হয় বিভিন্ন সমস্যা। যা-ই হোক, এখন পদ্মা সেতু হয়েছে, এখন আর চিন্তা নাই। পণ্য আর নষ্ট হবে না। সকালেই ঢাকা চলে যাবে।’

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল বারী নিউজবাংলাকে জানান, পদ্মা সেতুটি যেমন কৃষকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, সেই সঙ্গে স্বপ্ন দেখছেন মৎস্যজীবীরাও। কৃষির পাশাপাশি ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে জেলার মৎস্য খাতেও।

পদ্মা সেতু চালুতে পিরোজপুরে ঘটবে কৃষিবিপ্লব

পিরোজপুরের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ মৎস্যজীবী পেশার সঙ্গে জড়িত। পদ্মা সেতুর কারণে কৃষি ও মৎস্য এই দুই খাতে বিপ্লব ঘটবে দাবি তাদের।

তারা আরও জানান, পদ্মা সেতু দেশের যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটাবে। তবে বেশি সুবিধা পাবেন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার কোটি মানুষ।

আর জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা নকীব বলেন, ‘পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে পিরোজপুর সদরে ইতোমধ্যে গড়ে উঠছে বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক স্থাপনা। সেই সঙ্গে দিন দিন বাড়ছে রাস্তার পাশের জমির দামও। আগামীতে বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠবে এবং বিনিয়োগ করবে এই জনপদে, ঘুচবে বেকার সমস্যা।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু নিয়েছে জমি, দিয়েছে অহংকার
পদ্মা সেতুতে সৌভাগ্যবান বর্তমান প্রজন্ম: শাওন
‘পদ্মা সেতু’ নিয়ে শোভাযাত্রা
বাংলাদেশের জনগণকে স্যালুট: প্রধানমন্ত্রী
পদ্মা সেতু উদ্বোধন: জনশূন্য জাজিরা, ভিড় কাঁঠালবাড়ীতে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The floods hit Sylhet hard

বন্যায় সিলেটে বড় ধাক্কা কৃষিতে

বন্যায় সিলেটে বড় ধাক্কা কৃষিতে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি খাতে। ছবি: নিউজবাংলা
গেল মাসে পানিতে নেমে বোরো ধান কেটে ঘরে তুলেছিলেন সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ের মটু মিয়া। সে যাত্রায় কিছু ধান রক্ষা করতে পারলেও শেষরক্ষা আর হয়নি। কারণ এবার বানের পানিতে ঘরে মজুত সেই ধান ভেসে গেছে।

সিলেটে চলমান বন্যায় কৃষি খাতে বড় ধাক্কা লেগেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এ পর্যন্ত পাওয়া হিসাবে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে, যা আরও বাড়তে পারে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভাগের চার জেলাতেই কৃষির ক্ষতি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি দেখেছে সিলেট জেলা।

গত ১৫ জুন থেকে বন্যা শুরু হয় সিলেটে। চলতি বছরের এটি তৃতীয় দফার বন্যা, যাকে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

বানের পানিতে তলিয়েছে সুনামগঞ্জের ৯০ শতাংশ ও সিলেটের ৭০ শতাংশ এলাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই বন্যায় বিভাগে আউশ ধানের ৬৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমি, বোনা আমনের ১৫ হাজার হেক্টর ও সবজির প্রায় সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমি তলিয়েছে।

বন্যায় সিলেটে বড় ধাক্কা কৃষিতে

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্যায়। বুধবার উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, তেলিখাল এলাকায় সড়কের পাশে ভেজা ধান শুকাচ্ছিলেন কৃষক সিতারা বেগম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাঠের সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘরে থাকা ধানও ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন এইগুলা শুকালেও এ থেকে ধান পাওয়া যাবে না।’

মে মাসের বন্যায় গোয়াইনঘাট উপজেলার রাধানগর এলাকার কৃষক পরীন্দ্র দাসের বোরো ধান তলিয়ে গিয়েছিল। এবার তলিয়েছে তার আউশের ক্ষেত।

পরীন্দ্র বলেন, ‘বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার ক্ষতি পোষাতে ঋণ করে চার একর জায়গায় আউশের ক্ষেত করেছিলাম। এখন এটিও তলিয়ে গেল। না খেয়ে মরা ছাড়া এখন আর আমার সামনে কোনো পথ নেই।’

গেল মাসে পানিতে নেমে বোরো ধান কেটে ঘরে তুলেছিলেন সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ের মটু মিয়া। সে যাত্রায় কিছু ধান রক্ষা করতে পারলেও শেষ রক্ষা আর হয়নি। কারণ এবার বানের পানিতে ঘরে মজুত সেই ধান ভেসে গেছে।

আক্ষেপ করে মটু বলেন, ‘পানি আমার সব নিয়ে গেছে। এত কষ্ট করে, এত টাকা খরচ করে ধান তুলেছিলাম। চোখের পলকেই ঢল এসে তা ভাসিয়ে নিয়ে গেল। এখন চাষাবাদ ফেলে আমার দিনমজুর হতে হবে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেটের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন খান জানান, সিলেট জেলায় আউশ ধান তলিয়েছে ২৬ হাজার ৬৭৯ হেক্টর এবং সবজি ডুবেছে ২ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমির। হবিগঞ্জে ১৫ হাজার ৭১০ হেক্টর আউশ ধান, ১ হাজার ৫৯৭ হেক্টর সবজি এবং ১৪ হাজার ৬৩০ হেক্টর বোনা আমন ডুবে গেছে।

বন্যায় সিলেটে বড় ধাক্কা কৃষিতে

তিনি আরও জানান, মৌলভীবাজারে আউশ ধান ডুবেছে ১১ হাজার ৭৪১ হেক্টর, সবজি ডুবেছে ৮০৮ হেক্টর এবং বোনা আমনের জমি ডুবেছে ৩৬২ হেক্টর। আর সুনামগঞ্জে আউশের জমি ডুবেছে ১১ হাজার ৪০৩ হেক্টর ও সবজির জমি ডুবেছে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর।

অধিদপ্তর কর্মকর্তা মোশাররফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাঠে আমাদের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া কৃষকের গোলায় থাকা অনেক ধানও তলিয়ে গেছে। এগুলোর প্রকৃত হিসাব পাওয়া সম্ভব নয়। পেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ত।

‘এখনও অনেক এলাকায় পানি বাড়ছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।’

আরও পড়ুন:
জামালপুরে পানিবন্দি ৭০ হাজার মানুষ
বন্যাকবলিত এলাকায় মৃত্যু বেড়ে ৪২
সিলেটে ৬ দিন পর সচল হচ্ছে বিমানবন্দর
ঢলে ভেসে যাওয়া বৃদ্ধার বাঁশে ঝুলে ১২ ঘণ্টা
বগুড়ায় পানিবন্দি ৬০ হাজার মানুষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The loss of Aus in floods is feared in vegetable production in 1 lakh hectares

বন্যায় আউশের ক্ষতি ১ লাখ হেক্টরে, সবজি উৎপাদনে শঙ্কা

বন্যায় আউশের ক্ষতি ১ লাখ হেক্টরে, সবজি উৎপাদনে শঙ্কা তিস্তার পানি বাড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকার সবজির ক্ষেত ডুবে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫-৬ হাজার হেক্টরে। এ সময় গ্রীষ্মকালীন সবজির বেশ ক্ষতি হয়েছে। তিল ও বাদাম চর এলাকায় ছিল, সেটারও ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে আউশ ও শাকসবজির।’

সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও উত্তরাঞ্চলের জেলা কুড়িগ্রাম ও নীলফামারিতে বন্যায় এক লাখ হেক্টর আউশ ধানের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। অবশ্য সামগ্রিক বিবেচনায় এটি তেমন ক্ষতি নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা জানান।

অবশ্য কৃষিমন্ত্রী দাবি করেন সিলেট অঞ্চলের বন্যায় ধানের উৎপাদনে তেমন একটা প্রভাব পড়বে না। যদি বন্যা আবারও আসে তবে ধানের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে বলেও আশঙ্কার কথা জানান তিনি।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কয়েক দিন আগে চেরাপুঞ্জিতে অস্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ায় তিন-চার দিনে প্রায় ২২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটা ১২২ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ এলাকায় অস্বাভাবিক পানি ঢুকেছে। তবে একটা বিষয় ভালো ছিল, এই মুহূর্তে তেমন কোনো ফসল মাঠে ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলে প্রচুর জমি পতিত থাকত; মানুষ চাষাবাদে তেমন একটা আগ্রহী ছিল না। আমরা সম্প্রতি উদ্যোগ নিয়েছি এই জমিগুলোতে চাষাবাদ করার এবং এতে আউশ ধান করা যায় কি না, সে উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আমরা দেখছি বন্যায় সিলেটের ২২ হাজার হেক্টর জমির ক্ষতি হয়েছে। সুনামগঞ্জ হবিগঞ্জে প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর জমির আউশের ক্ষতি হয়েছে। আজ আমরা খবর পাচ্ছি কুড়িগ্রাম, নীলফামারী এই এলাকায় যে পানি আসছে তাতে ৫৬ হাজার একর জমির ক্ষতি হয়েছে। মানে আউশ ধান আক্রান্ত হয়েছে। যদিও আউশ উঁচু জমিতে হয়। বন্যা যদি আর না বাড়ে, এখন যে অবস্থায় আছে তাতে আর ক্ষতি হবে না।’

ধান উৎপাদনে প্রভাব না পড়লেও শাকসবজি উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫-৬ হাজার হেক্টরে। এ সময় গ্রীষ্মকালীন সবজির বেশ ক্ষতি হয়েছে। তিল ও বাদাম চর এলাকায় ছিল, সেটারও ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে আউশ ও শাকসবজির।’

দেশের সবচেয়ে বড় ফসল রোপা নিয়ে শঙ্কার কথাও জানান কৃষিমন্ত্রী। বলেন, ‘এখন রোপার বীজতলা তৈরির সময়। এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফসল। এটা কিন্তু বন্যার ওপর নির্ভর করে। এখনও বীজতলা সেভাবে করে নাই, কেবল শুরু করেছে। আর যদি বৃষ্টি না হয়, আর বন্যা যদি না বাড়ে তাহলে ভালো। তবে অনেক সময় দেখা যায় আবার বন্যা আসে, এতে বীজতলা নষ্ট হয়। তখন আমরা আবার করি, পুনর্বাসন কর্মসূচিতে যাই।’

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে বলতে পারছি না কত ক্ষতি হচ্ছে বা হবে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল নির্দেশ দিয়েছেন, আমনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি রাখতে। বীজতলা যদি নষ্ট হয় তাহলে আমরা যে এক্সট্রা কিছু বীজ রাখি ঘরে, পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আবার বীজতলা তৈরি করে মানুষকে দেয়া। সে প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। আরেকটি হলো একেবারেই যদি ফসল নষ্ট হয়ে যায় তাহলে লেট ভ্যারাইটি…।

‘আমন হলো ফটোসেনসিটিভ। দিন ছোট হলেই এতে ফুল চলে আসে। যে ধানগুলো সাধারণত আমনে করা হয় সেটা করলে ফুল আসবে, আর উৎপাদন কম হবে। কিন্তু আমাদের বিজ্ঞানীরা জাত উদ্ভাবন করেছেন যেগুলো লেস ফটোসেনসিটিভ। এগুলো বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘যে পরিস্থিতিই আসুক, যদি আমন নষ্ট হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে রবি ফসল আমাদের বাড়াতে হবে। শাকসবজি, আলু, তেলের বীজ ও সার আমরা বিনা মূল্যে চাষিদের দেব। এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। এখন পর্যন্ত যা ক্ষতি হয়েছে সেটা কিছু না। যেহেতু ফসলই নেই। এখন আমনটা কেমন হয় দেখা যাক। তবে শাকসবজির ওপরে প্রভাব পড়বে।’

আরও পড়ুন:
এখনও ত্রাণ পায়নি সিরাজগঞ্জের পানিবন্দি মানুষ
আসাম মেঘালয় অরুণাচলে বন্যায় ১১৯ জনের মৃত্যু
বন্যার ভয়াবহতা দেখতে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
বন্যার ভয়াবহতা দেখতে সিলেটের পথে প্রধানমন্ত্রী
তিস্তার পানি বিপৎসীমায়

মন্তব্য

p
উপরে