× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Instead of hand the price of vegetables is three times
hear-news
player
print-icon

হাত বদলে সবজির দাম তিন গুণ

হাত-বদলে-সবজির-দাম-তিন-গুণ
কৃষকের কাছ থেকে সবজি কেনার পর মধ্যস্বত্বভোগীদের তিন-চার দফা হাত বদলের কারণে দাম কয়েক গুণ বাড়ে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ছবি: নিউজবাংলা
মিরাশার চাষিবাজারের সভাপতি আব্দুল জলিল মাদবর বলেন, ‘কৃষকরা পণ্য কোনো ফরিয়াদের কাছে বিক্রি করেন, সেখান থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা সংগ্রহ করেন। পাইকাররা সেই সবজি বিভিন্ন হাটবাজারের আড়তে বিক্রি করেন। আড়ত থেকে খুচরা বিক্রেতারা তা ক্রয় করে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। এভাবে কয়েক দফা হাত বদলের কারণে সবজির দাম দুই-তিন গুণ বেড়ে যায়।’

শরীয়তপুরের জাজিরার মিরাশার বাজারে কৃষকের উৎপাদিত ফসল সরাসরি বিক্রি করা হয়। জেলার অন্যতম বৃহৎ এই পাইকারি সবজির বাজারে প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৭ থেকে ৮ টাকা দরে। ওই মিষ্টি কুমড়াই পাইকারি বাজারটি থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে জেলা শহরে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ টাকায়।

শুধু মিষ্টি কুমড়াই নয়, কৃষকের উৎপাদিত প্রায় সব সবজিই দুই থেকে তিন গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকের কাছ থেকে সবজি কেনার পর মধ্যস্বত্বভোগীদের তিন-চার দফা হাত বদলের কারণে দাম কয়েক গুণ বাড়ে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলা শহরসহ আশপাশের অন্তত ১২টি সবজির বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। কৃষক পর্যায়ে দাম কম থাকলেও ভোক্তা পর্যায়ে কয়েক গুণ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

কৃষক মাঠে ফসল ফলিয়ে ন্যায্যমূল্য না পেলেও অতিরিক্ত মুনাফায় পকেট ভারী হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের। ক্রেতারা বলছেন, নজরদারির অভাবে ইচ্ছেমতো দাম নেয়া হচ্ছে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মনিটরিং প্রয়োজন।

তবে প্রশাসন বলছে, কৃষকের সঙ্গে সরাসরি ভোক্তার সংযোগ না থাকায় কৃষকের পণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কয়েক হাত বদলের কারণে দাম বৃদ্ধি পায়। তাই দাম নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।

হাত বদলে সবজির দাম তিন গুণ

জানা গেছে, কৃষকের উৎপাদিত সবজি সঠিক দামে সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রির জন্য ২০০৭ সালে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের পাশে জাজিরার মিরাশার এলাকায় একটি কৃষি বাজার স্থাপন করা হয়। জাজিরা ও নড়িয়ার স্থানীয় কৃষকরা ওই বাজারে তাদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে থাকেন। ওই বাজার থেকে রাজধানী ঢাকা, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে পাইকাররা সবজি সংগ্রহ করেন।

সোমবার মিরাশার কৃষি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন ২০ থেকে ২২ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ১১ থেকে ১৩ টাকা, টম্যাটো ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪২ থেকে ৪৫ টাকা, উস্তা ২২ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ জেলা শহরের পালং বাজার, আঙ্গারিয়া বাজার, কোর্ট বাজারসহ আশপাশের বাজারে এসব সবজি বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে। প্রতিটি বাজারেই বেগুন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, টম্যাটো ৯০ থেকে ১১০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ৮৫, উস্তা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পাইকারি বাজারে শসা ১৫ টাকা বিক্রি করা হলেও‌ খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২৫ হতে ৩০ টাকা দরে। ঝিঙে পাইকারি ২৫ টাকা, খুচরা বাজারে তা ৪৫ টাকা। কাঁচা কলা প্রতি হালি ১০ থেকে ১২ টাকা, খুচরা বাজারে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। ধনেপাতা প্রতি কেজি ৭০ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে।

জাজিরার মুলনা ইউনিয়নের ডুবিসায়বর গ্রামের কৃষক ইউনুস মাদবর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আড়াই বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া করেছি। মিরাশার বাজারে ৭ টাকা কেজি দরে ১৩৫ কেজি কুমড়া বিক্রি করেছি। এ দামে উৎপাদন ব্যয় ও পরিবহন খরচও উঠবে না। এভাবে বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে সবজি উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হবে।’

নাওডোবা ইউনিয়নের মাদবর কান্দি গ্রামের সুরুজ মাদবর ৮৫ টাকা কেজি দরে ১২০ কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি করে হতাশ। মিরাশার বাজারেই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় সুরুজ মাদবরের। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঋণের টাকায় ফসল ফলাই। কিন্তু বিক্রির সময় কম মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ আমাদের এই সবজিই হাটবাজার দুই-তিন গুণ বেশি দামে বিক্রি করতে দেখে হতাশ হই। আমাদের বিষয়ে ভাবার কেউ নাই।’

হাত বদলে সবজির দাম তিন গুণ

জেলা শহরের পালং বাজারে সবজি ক্রয় করতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শান্তিনগর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সবুজ বেপারী। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সবকিছুর দাম আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। অথচ পাইকারি বাজারে এসব সবজির দাম ২ থেকে ৩ গুণ কম। এতে করে কৃষককে ঠকানো হচ্ছে। মাঝখান থেকে সিন্ডিকেট করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মনিটরিং করার দাবি জানাই।’

জেলা শহরের পালং বাজারের খুচরা সবজি ব্যবসায়ী মুন্না বলেন, ‘আমরা এখানকার আড়ত থেকে সবজি কিনে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করি। আমরা সীমিত লাভে সবজি বিক্রি করি। এখানে আড়তদাররা কী দামে সবজি কেনে তা আমরা বলতে পারব না। কৃষকের সবজি কয়েক হাত বদল হয়ে খুচরা পর্যায়ে আসতে আসতে দাম কয়েক গুণ বাড়ে। এতে ক্রেতারা অনেক সময় আমাদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন। কিন্তু আমাদের তো কিছুই করার নেই।’

মিরাশার চাষিবাজারের সভাপতি আব্দুল জলিল মাদবর বলেন, ‘কৃষকরা পণ্য কোনো ফরিয়াদের কাছে বিক্রি করেন, সেখান থেকে বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা সংগ্রহ করেন। পাইকাররা সেই সবজি বিভিন্ন হাটবাজারের আড়তে বিক্রি করেন। আড়ত থেকে খুচরা বিক্রেতারা তা ক্রয় করে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। এভাবে কয়েক দফা হাত বদলের কারণে সবজির দাম দুই-তিন গুণ বেড়ে যায়।’

শরীয়তপুর জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা ইউসুফ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কৃষকের সঙ্গে সরাসরি ভোক্তার সংযোগ নেই। কৃষকের পণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে অন্তত চার হাত বদল হয়। ফলে প্রতি ধাপে এর দাম বৃদ্ধি পায়। আমরা চেষ্টা করছি অন্তত কৃষকের সঙ্গে খুচরা বিক্রেতার সংযোগ স্থাপনের জন্য। তাহলে কৃষকও ন্যায্যমূল্য পাবেন, আবার ভোক্তাও সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য কিনতে পারবেন।’

শরীয়তপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুজন কাজী বলেন, ‘পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিক্রির সামঞ্জস্য থাকতে হবে। সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধ উপায়ে অতিরিক্ত মুনাফালোভীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
৮০ টাকার নিচে মিলছে না বেগুন-শসা
দাম বাড়তি খেজুরে, অন্য ফলে উনিশ-বিশ
কেজিতে ৭০০ ছুঁয়েছে গরুর মাংস
পণ্যমূল্যের ‘দাপটে’ অস্থির কলকাতাও
দাম কমেছে মুরগির, বেড়েছে চালের

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The CPB demanded justice for the attack on the hills in Khagrachari

খাগড়াছড়িতে পাহাড়িদের ওপর হামলার বিচার দাবি সিপিবির

খাগড়াছড়িতে পাহাড়িদের ওপর হামলার বিচার দাবি সিপিবির
‘রাষ্ট্রের সব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। দেশের সর্বত্র সব মানুষের নিরাপদ ও স্বাধীন জীবনযাপনের পরিবেশ জনগণের মৌলিক অধিকার।’

খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ৩৭টি পাহাড়ি পরিবারের ওপর হামলা ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি।

সিপিবির সভাপতি শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা জানতে পারলাম গত ৫ জুলাই মহালছড়িতে আদিবাসীদের জায়গা-জমি, সম্পত্তি দখল এবং জাতিগত নিষ্পেষণ চালানোর উদ্দেশ্যে স্থানীয় আদিবাসীদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়।

‘দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক এ ধরনের হামলা, অপহরণের ঘটনা পাহাড়ে ঘটে চললেও আদিবাসীদের নিরাপত্তা সরকার নিশ্চিত করতে পারছে না।’

অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবি জানিয়ে সিপিবি নেতারা বলেন, ‘রাষ্ট্রের সব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। দেশের সর্বত্র সব মানুষের নিরাপদ ও স্বাধীন জীবনযাপনের পরিবেশ জনগণের মৌলিক অধিকার।’

বিবৃতিতে অন্যায় নিপীড়নের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রহীনতার বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক সংগ্রাম গড়ে তুলতে সচেতন দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এশিয়ায় নতুন অর্থনৈতিক জোট, সিপিবির উদ্বেগ
গণহত্যা দিবসে শিখা চিরন্তনে সিপিবির আলোর মিছিল
সিপিবির সভাপতি শাহ আলম, সম্পাদক প্রিন্স
সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেই কোনো কৃষক-মজদুর
সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ১০ নতুন মুখ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The way the movement of the bike will match in the Eid procession

ঈদযাত্রায় বাইকের মুভমেন্ট পাস মিলবে যেভাবে

ঈদযাত্রায় বাইকের মুভমেন্ট পাস মিলবে যেভাবে পাস থাকলে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মহাসড়ক ধরে নির্দিষ্ট জেলা বা দূরত্বে যেতে পারবেন চালকরা। ফাইল ছবি/ নিউজবাংলা
বিভাগীয় ট্রাফিক উপ-কমিশনার এবং জেলা পর্যায়ে এসপি এই মুভমেন্ট পাস ইস্যু করবেন। এজন্য পুলিশ সদরদপ্তরের সরবরাহ করা ফরমে যাত্রার জন্য আবেদন করতে হবে। সেই ফরমে যাত্রীদের নাম, ঠিকানা, সম্পর্ক, এনআইডি-ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর, ফোন নম্বর এবং কোথায় ও কী কারণে ভ্রমণ করছেন উল্লেখ করে জমা দিতে হবে।

মহাসড়কে এক জেলা থেকে আকের জেলায় মোটরসাইকেলে করে যাত্রা নিষিদ্ধ করার পরও যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে বাইকে ঈদ যাত্রার যে সুযোগ পুলিশ করে দিয়েছে, তাকে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মে আবেদন করতে হবে।

পুলিশ সদরদপ্তর একটি পাসের ফরম্যাট তৈরি করে দিয়েছে। এই পাস থাকলে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মহাসড়ক ধরে নির্দিষ্ট জেলা বা দূরত্বে যেতে পারবেন চালকরা।

বছরের পর বছর ঈদযাত্রায় সড়ক পথে যে দুর্ভোগ, সেটি দেখা যায়নি চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে। এটি কীভাবে হলো, তার পর্যালোচনায় পরে বেরিয়ে আসে বাইকের বিষয়টি। হাজার হাজার মোটর সাইকেলে করে বড় শহর থেকে লাখ লাখ যাত্রীর বাড়ি ফেরার কারণে বাসে, ট্রেনে বা লঞ্চে ভিড় ছিল খুবই কম।

টিকিটের জন্য হাপিত্যেস ছিল না একেবারেই। আবার সড়কে বাসের অপেক্ষায় যাত্রী কম থাকায় যানজটও দেখা যায়নি।

তবে এবার ঈদের আগে পরে সাত দিন মহাসড়কে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বাইক নিষিদ্ধ করার পর সেই ভোগান্তি ফিরে আসার নমুনা এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে। টিকিটের জন্য কাউন্টারে ভিড় তৈরি হয়ে গেছে।

এর মধ্যে পুলিশের একটি ঘোষণা অবশ্য বাইকারদেরকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। সেটি হলো পাস নিয়ে ঈদ যাত্রা করা যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিভাগীয় ট্রাফিক উপ-কমিশনার এবং জেলা পর্যায়ে এসপি এই মুভমেন্ট পাস ইস্যু করবেন। এজন্য পুলিশ সদরদপ্তরের সরবরাহ করা ফরমে যাত্রার জন্য আবেদন করতে হবে।

সেই ফরমে যাত্রীদের নাম, ঠিকানা, সম্পর্ক, এনআইডি-ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর, ফোন নম্বর এবং কোথায় ও কী কারণে ভ্রমণ করছেন উল্লেখ করে জমা দিতে হবে।

ফরমে উল্লেখিত কারণ যৌক্তিক মনে হলে ফরমের একটি অংশ আবেদনকারীকে সরবারহ করা হবে। এই অংশটিই পাস হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তবে কোনোভাবেই ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ও রাইড শেয়ারিং এর জন্য এই পাস মিলবে না বলে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ফেরিতে বাইকারদের ভিড়
‘মোটরসাইকেল বন্ধের পেছনে বাসমালিকরা’
মোটরসাইকেলে আরও গতি চায় সরকার
এবার ফিরে আসার ‘মহাযুদ্ধে’ বাইক বাহিনী
নওগাঁয় বাইক দুর্ঘটনায় আহত ৭, আশঙ্কাজনক ৬

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The bike stopped and returned in misery for a bus ticket

বাইক বন্ধে ফিরল বাসের টিকিটের দুর্ভোগ

বাইক বন্ধে ফিরল বাসের টিকিটের দুর্ভোগ গুলিস্তানে বিআরটিসির বাসের কাউন্টারে টিকিট প্রত্যাশীদের ভিড়।ছবি: নিউজবাংলা
‘আজকেও নিউজ দেখলাম বাস দুর্ঘটনার। বাস-ট্রাক প্রতিদিন দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছে। তাহলে তাদেরকেও বন্ধ করে দিক। সব দোষ হয়েছে বাইকারদের। কে, কবে, কী করছে- তার দায়ভার আমাদের নিতে হচ্ছে। ইচ্ছা ছিল এবারের ঈদে পদ্মা সেতু হয়ে বাইকে বাড়ি যাব। সেটা আর হলো না। এখন কাউন্টারে এসেও টিকিট পাচ্ছি না।’

ঈদ যাত্রায় মহাসড়কে বাইক নিষিদ্ধ করার পর বাসের টিকিট পেতে যে দুর্ভোগের শঙ্কা ভাবা হচ্ছিল, হয়েছেও তা।

ঈদুল ফিতরে টার্মিনালে গিয়েই টিকিট কেটে বাড়ির পথ ধরা গেলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে টিকিটের জন্য।

সব রুটে বাসে আগাম টিকিট কাটা হয় না। যেমন গুলিস্তান থেকে দক্ষিণের পথে বিআরটিসি কাউন্টারে গিয়েই কাটা হয় টিকিট। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে এই টিকিটের চাহিদা বেড়েছে, তবে ঈদ যাত্রা শুরুর পর যে চাপ দেখা গেছে, সেটি এতদিন দেখা যায়নি।

মো. ইমরান। বাড়ি বরিশাল। পরিকল্পনা করেছিলেন মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে সেটা হয়ে উঠেনি। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় লঞ্চের বদলে সড়ক পথে যাচ্ছেন তিনি।

তার সঙ্গে দেখা গুলিস্তানে বিআরটিসির বাসের কাউন্টারে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও টিকিট না পেয়ে ভীষণ বিরক্ত। রাগটা গিয়ে পড়েছে সড়ক বিভাগের ওপর, যারা মহাসড়কে বাইক নিষিদ্ধ করেছে।

নিউজবাংলাকে ইমরান বলেন, ‘আজকেও নিউজ দেখলাম বাস দুর্ঘটনার। বাস-ট্রাক প্রতিদিন দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছে। তাহলে তাদেরকেও বন্ধ করে দিক। সব দোষ হয়েছে বাইকারদের। কে, কবে, কী করছে- তার দায়ভার আমাদের নিতে হচ্ছে। ইচ্ছা ছিল এবারের ঈদে পদ্মা সেতু হয়ে বাইকে বাড়ি যাব। সেটা আর হলো না। এখন কাউন্টারে এসেও টিকিট পাচ্ছি না।’

ইচ্ছার বাইরে ফরিদপুরে বাসে করে যেতে হচ্ছে লিমন মোল্লাকে। তারও পরিকল্পনা ছিল বাইকে যাবেন।

তিনি বলেন, ‘বাস মালিক সমিতির ইচ্ছায় বাইক বন্ধ হয়েছে। সরকার তাদের খেদমত করতেছে আমাদের বাঁশ দিয়ে। এত মানুষের ভিড় হতো না যদি বাইক চলত।’

বাইক বন্ধে ফিরল বাসের টিকিটের দুর্ভোগ

দীর্ঘ অপেক্ষায় ভোগান্তি

দূরপাল্লার বিরতিহীন বাসের টিকিট না পেয়ে অনেকে হতাশ হয়ে বেছে নিচ্ছেন লোকাল বাস।

ফরিদপুর ভাঙার যাত্রী ইয়াসিন মোল্লা বলেন, ‘অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট পাই নাই। এখন লোকাল বাসে করে বাড়ি যাব। অবশ্য আমাদের রুটের লোকাল বাসেও সমস্যা নাই। রাস্তা ভালো তাই।’

অনেকে বাসের অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বাস আসলেই তাদের টিকিট দেয়া হচ্ছে। যানজটের কারণে বাস আসতে দেরি হচ্ছে এবং বাসের স্বল্পতা ও রয়েছে।

বরিশালের যাত্রী মো. সোহান বলেন, ‘বিআরটিসি বাসের আসায় বসে আছি। সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। বাস আসলে টিকিট দিচ্ছে। তবে বাস পর্যাপ্ত না হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে।’

বিআরটিসি কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা মো. মেহেদী বলেন, একটা করে বাস আসতে আর টিকিট বিক্রি করছি। বাস না আসলে টিকিট বিক্রি করছি না। জ্যামের কারনে বাস আসতে দেরি করছে। যাত্রীদের সামলাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

যেসব বাসে আগাম টিকিট দেয়া হচ্ছে, সেখানেও কোনো টিকিট নেই। শনিবার পর্যন্ত বাসের টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাউন্টার থেকে।

দোলা পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা মো. রাব্বি বলেন, ‘আগামীকাল পর্যন্ত সিট ফাকা নাই। শনিবার বিকেলে ফাঁকা আছে। আমরা অগ্রিম টিকিট দিচ্ছি। সকাল থেকেই যাত্রীদের ভিড় লেগে আছে। গতকাল এত চাপ ছিল না। আজকে হুট করে চাপ বাড়ছে। আগামীকালও এমন চাপ থাকবে।’

টুংগীপাড়া এক্সপ্রেসও সিট ফাকা নেই। পরিবহনটির টিকিট বিক্রেতা মো. রয়েল বলেন, ‘সব সিট বিক্রি হয়ে গেছে। যদি গাড়ি ভাড়ায় তাহলে সিট পাওয়া যাবে। না হলে সিট পেতে শানিবার বিকেল।’

আরও পড়ুন:
‘মোটরসাইকেল বন্ধের পেছনে বাসমালিকরা’
শেষ দিনে টিকিটপ্রত্যাশীর ভিড় নেই কমলাপুরে
ঈদে বাইক বন্ধ কার স্বার্থে
টিকিট কালোবাজারি, ২ রেলওয়ে নিরাপত্তাকর্মী আটক
ঈদে বাইকে বাড়ি যাওয়ার পথ বন্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Recruitment in the Persian department of Chabir Dismissal of an officer

চবির ফার্সি বিভাগে নিয়োগ: কর্মকর্তার পদাবনতি, কর্মচারীর চাকরিচ্যুতি

চবির ফার্সি বিভাগে নিয়োগ: কর্মকর্তার পদাবনতি, কর্মচারীর চাকরিচ্যুতি
অধ্যাপক এ কে এম মাঈনুল হক মিয়াজী বলেন, ‘নিয়োগে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আমরা কারোরটাই প্রমাণ করতে পারিনি। আমাদের সীমাবদ্ধতা ছিল। তাই আমরা বলেছি একটা ফৌজদারি মামলা করতে। মামলা করলে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা মিলে এ বিষয়গুলো এবং আরও কেউ জড়িত কি না খুঁজে বের করতে পারবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অডিও ক্লিপ ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে অভিযুক্ত উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী খালেদ মিছবাহুল মোকর রবীন ও কর্মচারী আহমদ হোসেনের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছে কমিটি।

নগরীর চারুকলা ইনস্টিটিউটে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে শুরু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৮তম এক্সট্রা অর্ডিনারি সিন্ডিকেট সভায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো হলো, অভিযুক্ত পিএস রবীনের পদাবনতি (ডিমোশন), কর্মচারী আহমদ হোসেনের চাকরিচ্যুতি, অন্য যারা সংশ্লিষ্ট অর্থাৎ যারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেনি তাদের সতর্ক করে নিজ দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে বদলি করা, এ ঘটনায় আরও যারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করতে ফৌজদারি মামলা করা।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও সিন্ডিকেট মেম্বার অধ্যাপক এ কে এম মাঈনুল হক মিয়াজী।

তিনি বলেন, ‘কর্মচারী আহমদ হোসেন অনেককে ফোন দিয়েছেন, নামে-বেনামে টাকা চেয়েছেন। এখন টাকা দিয়েছেন কি দেন নাই সেগুলো আমরা যাচাই করতে পারি নাই, আমাদের সীমাবদ্ধতা ছিল। উনি যেহেতু আর্থিক লেনদেনের কথা বলেছেন, তাই ওনাকে চাকরিচ্যুত করার জন্য আমরা সুপারিশ করেছি।

‘অভিযুক্ত উপাচার্যের পিএস রবীনের ফোনালাপে সরাসরি টাকাপয়সার কথা বলা নাই। একজন অফিসার হিসেবে তার কথাবার্তা শুনে আমাদের মনে হয়েছে, তিনি দায়িত্বশীল কথাবার্তা বলেন নাই। তিনি লিমিট ক্রস করেছেন। সে জন্য তাকে এক ধাপ নিচে নামিয়ে পদাবনতি দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এটা মেজর পানিশমেন্ট।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিয়োগে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আমরা কারোরটাই প্রমাণ করতে পারিনি। আমাদের সীমাবদ্ধতা ছিল। তাই আমার বলেছি, একটা ফৌজদারি মামলা করতে। মামলা করলে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা মিলে এ বিষয়গুলো এবং আরও কেউ জড়িত কি না খুঁজে বের করতে পারবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যাদের নাম এসেছে আমরা সবার সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমাদের উপাচার্য বলেছেন, যে সমস্ত কথা, যে কর্মকর্তা ও অফিসার বলেছেন, তা তাদের নিজেদের দায় থেকে বলেছেন, এতে কারও সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা নেই।

ফোনালাপ বিশ্লেষণ ও সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আট পৃষ্ঠার এই তদন্ত রিপোর্ট করা হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক মাঈনুল হক মিয়াজী। সিন্ডিকেট তদন্ত কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করেছেন বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুন:
চবিতে ভর্তীচ্ছুদের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত
চবিতে দ্বিতীয়বার ভর্তির সুযোগ দাবি, কর্তৃপক্ষের নাকচ
পুলিশ হেফাজতে যুবলীগ নেতা, চবিতে অবরোধ প্রত্যাহার
ছাত্রলীগের অবরোধে ভোগান্তিতে চবি শিক্ষার্থীরা
চবি ছাত্রলীগের ২ নেতাকে ‘মারধর’, ক্যাম্পাস অবরোধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Militant attack Even after six years Noni Bhowmiks body is still strong

জঙ্গি হামলা: ছয় বছর পরও গা শিউরে উঠে ননী ভৌমিকের

জঙ্গি হামলা: ছয় বছর পরও গা শিউরে উঠে ননী ভৌমিকের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে জঙ্গি হামলার সময় পিস্তল ও ছুরি হাতে দুই জন। ফাইল ছবি
২০১৬ সালের ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাতের আগে মাঠে প্রবেশপথের সবুজবাগ সংযোগ সড়কে মুফতি মোহাম্মদ আলী জামে মসজিদের সামনের তল্লাশি চৌকিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। সেই হামলায় নিহত হন সেখানে দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ কনস্টেবল আনছারুল হক ও জহিরুল ইসলাম। নিজ ঘরে জানালা ভেদ করে আসা গুলিতে নিহত হন সবুজবাগ এলাকার গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিক।

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ময়দানে জঙ্গি হামলার ৬ বছরেও মামলার রায় ঘোষণা হয়নি। এ মামলার ২৪ আসামির মধ্যে বিভিন্ন সময়ে এনকাউন্টারে ১৯ নিহত হয়েছেন। বাকি পাঁচ আসামি কারাগারে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলছেন, আসামিরা অন্যান্য মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতে শুনানিতে দেরি হচ্ছে।

পুলিশ সুপার বলছেন, পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সফলভাবে তদন্ত শেষে মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে।

২০১৬ সালের ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাতের আগে মাঠে প্রবেশপথের সবুজবাগ সংযোগ সড়কে মুফতি মোহাম্মদ আলী জামে মসজিদের সামনের তল্লাশি চৌকিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে।

সেই হামলায় নিহত হন সেখানে দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ কনস্টেবল আনছারুল হক ও জহিরুল ইসলাম। নিজ ঘরে জানালা ভেদ করে আসা গুলিতে নিহত হন সবুজবাগ এলাকার গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিক।

সেদিন গুরুতর আহত হন ১২ পুলিশ সদস্য এবং চারজন মুসল্লি। নিহত হন আবির হোসেন নামে এক হামলাকারীও।

জঙ্গি হামলা: ছয় বছর পরও গা শিউরে উঠে ননী ভৌমিকের
জঙ্গি হামলায় নিহত গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিক

স্থানীয় বাসিন্দা ননী ভৌমিক বলেন, ‘সেদিনের কথা মনে হলে এখনও গা শিউরে উঠে।’

এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন তিনি।

কিশোরগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর (ভারপ্রাপ্ত) আবু সাঈদ ইমাম নিউজবাংলাকে জানান, ‘আসামিরা অন্যান্য মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। তাই তাদেরকে বিভিন্ন কারাগারে রাখা হয়েছে । এই মামলার আসামিদের উপস্থিতির জন্য বিচারে দেরি হচ্ছে।’

জঙ্গি হামলা: ছয় বছর পরও গা শিউরে উঠে ননী ভৌমিকের
জঙ্গি হামলায় নিহত পুলিশ সদস্য আনছারুল হক

মামলাটি এখন কোন পর্যায়ে আছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ গঠন শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আদালত সাক্ষীর জন্য প্রস্তুত। তবে আসামিদের প্রায় সবাই ঢাকার হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার মামলারও আসামি এবং এদের মধ্যে ১৯ জন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন । তাই বাকি পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।’

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, ‘দেশ কাপাঁনো এই জঙ্গি হামলা আমাদের জন্যও বিশেষ বার্তা ছিল। আজকে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কবস্থা গ্রহণ করে এদের নির্মূল করতে পারছি।’

তিনি জানান, ওই ঘটনায় নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারকে সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। আহতদেরও চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে নিহত ওই গৃহবধূর এক সন্তানকেও চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The twin cows are a gift to the family of twin children

প্রতিমন্ত্রী পলকের ঈদ উপহার পেল নাটোরের সেই পরিবার

প্রতিমন্ত্রী পলকের ঈদ উপহার পেল নাটোরের সেই পরিবার উপহারের দুধেল গাভীটি পেয়ে শিশুদের মুখে দুধ তুলে দেয়ায় দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে দরিদ্র লিটন-লাভলী দম্পতির।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘গণমাধ্যম যে প্রকৃতই সমাজের দর্পণ, তা আমরা আরেকবার প্রমাণ পেলাম নিউজবাংলার মাধ্যমে... সংবাদটি নিউজবাংলার মাধ্যমে জানতে পেরে তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে প্রাথমিকভাবে বাচ্চাদের দুধ কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা করি। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করার উদেশ্যে একটি গাভী কিনে দেই।’

নিউজবাংলার প্রতিবেদন দেখে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুরে এক সঙ্গে জন্ম নেয়া তিন শিশুর পরিবারকে গাভী উপহার দিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

একই সঙ্গে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের জন্য নিউজবাংলার প্রশংসাও করেছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর উপহার পেয়ে তিন সন্তানের মা লাভলী বেগম ও বাবা লিটন উদ্দিনের মুখে ফুটেছে হাসি।

গত বছরের ২৪ নভেম্বর এক সঙ্গে চার মেয়ের জন্ম দেন লাভলী। জন্মের পরই এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। অন্য তিন মেয়ে লাবন্য, লাবিবা ও লামিশাকে নিয়ে শুরু হয় এই দম্পতির নতুন জীবনযুদ্ধ। কারণ তাদের ঘরে আগেই এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। এখন পাঁচ সন্তান নিয়ে কীভাবে সংসার চলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন দিনমজুর লিটন।

পরিবারটির মানবেতর জীবনযাপন নিয়ে গত ২২ মার্চ নিউজবাংলায় একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রচার হয়। সেটি নজরে আসলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

শিশুদের দুধ কেনার জন্য গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উপহার হিসেবে নিউজবাংলার প্রতিনিধির মাধ্যমে লাভলী-লিটন দম্পতিকে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন প্রতিমন্ত্রী।

এরপর পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ হিসেবে তিনি জেলা প্রশাসনের তত্বাবধায়নে গত মঙ্গলবার একটি দুধেল গাভী কিনে দেন।

লাখ টাকার গাভী উপহার পেয়ে বিস্ময় যেন কাটছে না লিটন উদ্দিনের। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পলক ভাই এই গাভী দেয়াতে আমাদের খুবই আনন্দ হচ্ছে। ৪০০ টাকা দিন হাজিরায় কাজ করে আমি বাচ্চাদের মুখে দুধ তুলে দিতে পারতাম না। তাতে আমার খুবই কষ্ট হত। ঈদের আগে এত বড় একটা উপহার পাব, তা ভাবিনি। কখনও ১ লাখ টাকা দিয়ে গাভী কিনতে পারব, তা স্বপ্নেও কল্পনা করিনি।

‘আমাদের পরিবারের সবাই আনন্দিত। এখন আর বাচ্চাদের দুধের কষ্ট থাকল না। দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন পলক ভাইকে নেক হায়াত দেন।’

মা লাভলী বেগম বলেন, ‘নিউজবাংলার খবর দেখে এর আগেও পলক ভাই ১০ হাজার টাকা দিয়েছিল। সেই টাকা দিয়ে বাচ্চাদের দুধ কিনেছিলাম। আবার ঈদের উপহার হিসাবে একটা গাভী কিনে দিয়েছে। এখন আর বাচ্চাদের দুধের চিন্তা নাই। গাভী থেকে ছয় লিটার করে দুধ হচ্ছে। এখন আমরা সন্তানসহ খুব ভাল আছি।’

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘গণমাধ্যম যে প্রকৃতই সমাজের দর্পণ, তা আমরা আরেকবার প্রমাণ পেলাম নিউজবাংলার মাধ্যমে। আমাদের নাটোরের একটি অস্বচ্ছল পরিবার, যাদের ঘরে চারটি সন্তান একসঙ্গে জন্মগ্রহণ করে।

‘সংবাদটি নিউজবাংলার মাধ্যমে জানতে পেরে তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে প্রাথমিকভাবে বাচ্চাদের দুধ কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা করি। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করার উদেশ্যে একটি গাভী কিনে দেই। এই ধরণের ছোট ছোট মানবিক কাজ আমাদের জেলাকে, আমাদের পুরো দেশটাকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একটি স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তুলতে অনেক বেশি সহায়তা করবে।’

আরও পড়ুন:
এবার পদ্মা-সেতুর জন্ম কুমিল্লায়
উপহারের আম এবার ত্রিপুরায়
স্বপ্ন, পদ্মা, সেতুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার
একসঙ্গে জন্মালো ৩ শিশু, নাম রাখা হলো স্বপ্ন-পদ্মা-সেতু
‘সাড়ে ৬ লাখ ফ্রি-ল্যান্সার বছরে ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয় করছে’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There is no traffic jam but there is misery on the way to Chittagong and Sylhet

যানজট নেই, তবুও চট্টগ্রাম ও সিলেটের পথে দুর্ভোগ

যানজট নেই, তবুও চট্টগ্রাম ও সিলেটের পথে দুর্ভোগ মহাসড়কে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঈদে বাড়িমুখী যাত্রীরা। ছবিটি বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা
কাচঁপুর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক কে এম মেহেদী হাসান বলেন, ‘ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ পড়েছে সড়কে। রাস্তায় গরমে মানুষ অস্তির হয়ে পড়ছে। দুই মহাসড়কের কোথাও যানজট নেই। তবে সড়কে নানা রকম ভোগান্তি আছে। মোবাইল টিমের মাধ্যমে আমরা সেসব সমাধানের ব্যবস্থা নেব।’

প্রখর রোদে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট মহাসড়কে যানজট না থাকলেও ভোগান্তিতে পড়েছেন ঈদে বাড়িমুখী যাত্রীরা। যানবাহন সংকটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে দুটি মহাসড়কে ঢল নামে দক্ষিণপূর্ব অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষের। তাদের ভোগান্তি কমাতে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন। দুটি মহাসড়কে সকাল থেকে স্বাভাবিক গতিতে যান চলাচল করছে।

নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় দুপুরের দিকে স্ত্রী-ছেলেমেয়ে নিয়ে গাড়ির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন বেসরকারি চাকরিজীবী মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, ‘রোদে মরিচের মতো শরীরটা জ্বলতাছে। তার ওপর গাড়ি পাই না। যাও পাইছি ভাড়া অনেক বেশি। রাস্তায় এত কষ্ট সহ্য হয়? প্রতি ঈদেই কষ্ট। কবে এই কষ্ট থেকে মাফ পামু জানি না।’

একই জায়গায় দাঁড়িয়ে গাড়ির অপেক্ষা করছিলেন মশিউর নামের নোয়াখালীর যাত্রী। বলেন, ‘দুপুরে অফিস থেকে বাসায় গিয়ে স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে নিয়া বাড়ি যেতে রওনা হয়েছি। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যাচ্ছে, গাড়ির দেখা নাই। গাড়ি আসছে না কেন, তাও বলছেন না কাউন্টারের লোকজন। রোদের মধ্যে বাচ্চাগুলোর অবস্থায় খারাপ হয়ে গেছে।’

একপর্যায়ে তিনি রিকশা নিয়ে ঢাকার ভাড়া বাসায় ফিরে যান।

বাড়ি যেতে সড়কে নেমে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে। সাইনবোর্ড এলাকায় ৭২ বছর বয়সী আলেয়া বেগমের মাথায় পানি ঢালছিলেন তার স্বজনরা।

আলেয়া বেগম বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জ থেকে মিরপুরে মেয়ের বাড়িতে যাই ঈদ করতে। সিএনজি কইরা এই পযর্ন্ত আইছি। অহন গাড়ি পাই না, যা পাই ভাড়া বেশি। গরমে তো শেষ হইয়া গেলাম। পুরুষ মাইনষে তো গাড়িতে দৌড় দিয়ে উঠতে পারে, আমরা কি পারি?’

কিশোরগঞ্জের যাত্রী আব্দুল্লাহ আল মাহী বলেন, ‘বেলা ১২টায় শিমরাইল বাস কাউন্টারে আসলাম। এখন সাড়ে ৩টায়ও গাড়ি আসে নাই। রাস্তা তো ফাঁকা, তাইলে সমস্যা কি তাদের। ভাড়া নিল টিকিট প্রতি ১০০ টাকা বেশি। এভাবে হয়?’

বাস কাউন্টারের মোহাম্মদ মিঠু বলেন, ‘১ ঘণ্টা পরপর গাড়ি ছাড়া হচ্ছে। দুপুরের পর থেকে যাত্রীর চাপ অনেক বেড়ে গেছে, এ জন্য সমস্যা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যাত্রীদের গাড়িতে ওঠাতে।’

যানজট নেই, তবুও চট্টগ্রাম ও সিলেটের পথে দুর্ভোগ

সাইনবোর্ড এলাকার আরেক টিকিট কাউন্টারের শহিদ মিয়া বলেন, ‘কাউন্টারে আগের দামেই টিকিট বিক্রির কথা। অনেকে বাড়িয়ে বিক্রি করছি, কারণ যাত্রী বাড়লে ভাড়াও বেড়ে যায়। যাত্রী কমে গেলে আবার কম রাখা হয়।’

সকাল থেকে রাজধানী থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে কোথাও যানজট দেখা যায়নি। তবে কিছু কিছু মোড়ে ঢাকামুখী যানবাহনের বাড়তি চাপ রয়েছে।

কাচঁপুর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক কে এম মেহেদী হাসান নিউজবাংলাকে জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরার চাপ পড়েছে সড়কে। রাস্তায় গরমে মানুষ অস্থির হয়ে পড়ছে। শিল্পকারখানা ছুটি হলে এ চাপ আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, ‘আমরাও রাস্তায় আছি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তারাব, বরাত, রূপসী, ভুলতা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর, মদনপুর, লাঙ্গলবন্দ, মোগড়াসহ মেঘনা পর্যন্ত পুলিশের ১৬২ সদস্য কাজ করছেন। দুই মহাসড়কের কোথাও যানজট নেই। তবে সড়কে নানা রকম ভোগান্তি আছে। মোবাইল টিমের মাধ্যমে আমরা সেসব সমাধানের ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
শেষ মুহূর্তে ফাঁকা মহাসড়কগুলো
সাভার ও গাজীপুর মহাসড়কে এবারও ‘বাড়তি ভাড়া’
মহাসড়কে পোশাক শ্রমিকের ঢল
মহাসড়কে গাড়ির চাপ, বেশি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ
ঈদে মহাসড়কে পুলিশের বাড়তি নজরদারি

মন্তব্য

p
উপরে