× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Children killed in motorcycle autorickshaw collision
hear-news
player
print-icon

মোটরসাইকেল-অটোরিকশার সংঘর্ষে শিশু নিহত

মোটরসাইকেল-অটোরিকশার-সংঘর্ষে-শিশু-নিহত
রায়পুর থানার ওসি শিপন বড়ুয়া বলেন, ‘শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। রাবেয়া আক্তারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে দুই বছরের শিশু ঈশা আক্তার নিহত হয়েছে।

চোখের সামনে মেয়েকে হারিয়ে রাবেয়া আক্তার স্টোক করেছেন বলে জানা গেছে।

রায়পুর-মোল্লারহাটের পীর ফয়েজ উল্যাহ সড়কে সোমবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু ঈশা আক্তার উপজেলার দক্ষিণ কেরোয়া এলাকার মো. ইউসুফের মেয়ে।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিপন বড়ুয়া।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তিনি জানান, রায়পুর শহর থেকে মেয়ে ঈশাকে নিয়ে রাবেয়া আক্তার অটোরিকশা করে মোল্লারহাটের দিকে যাচ্ছিলেন। অটোরিকশাটি পীর ফয়েজ উল্যা সড়কে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে দ্রুত গতিতে ছেড়ে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এ সময় অটোরিকশায় থাকা মায়ের কোল থেকে ঈশা সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। মেয়ের মৃত্যু দেখে রাবেয়া আক্তার স্টোক করেছেন বলে জানান রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

ওসি শিপন বড়ুয়া বলেন, ‘শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। রাবেয়া আক্তারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ট্রেনে কাটা পড়ে মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু
ট্রাক্টর উল্টে শ্রমিক নিহত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়ির ধাক্কায় পথচারী নিহত
গাড়িতে বাসের ধাক্কা, আহত ১৫ পুলিশ সদস্য
পিকআপে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ৩

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The body of a businessman in the house of an expatriate

প্রবাসীর বাড়িতে ব্যবসায়ীর মরদেহ

প্রবাসীর বাড়িতে ব্যবসায়ীর মরদেহ
মশিয়ার সরদার বলেন, ‘রাত ১টার দিকে দিগাং এলাকার মেম্বার আসাদ সরদার আমাকে ফোন দিয়ে ডাকে। গিয়ে দেখি আমার ভাই মারা গেছে। তার হাতে ও পায়ে ক্ষত আছে। আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।’

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় প্রবাসীর বাড়ি থেকে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

কলারোয়া উপজেলার দিগাং গ্রাম থেকে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

৬০ বছর বয়সী মৃত নিজাম উদ্দীনের বাড়ি উপজেলার গোয়ালপোতা এলাকায়। তিনি কাজিরহাট বাজারে ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করতেন।

তার ভাইয়ের দাবি, নিজামকে হত্যা করা হয়েছে।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন মৃধা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কম্বোডিয়া প্রবাসী আব্দুস সামাদের স্ত্রী তহমিনা বেগমের সঙ্গে নিজামের দীর্ঘদিন ধরে বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। মঙ্গলবার রাতে তিনি তহমিনার ঘরে গেলে তহমিনার ছেলে সুমন হোসেন চোর চোর বলে চিৎকার করে।

‘চিৎকার শুনে নিজাম ঘর থেকে বের হতে গেলে পড়ে যান। এরপর তার মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪০ বছর বয়সী তহমিনা বেগম, তার ২০ বছর বয়সী ছেলে সুমন হোসেন ও প্রতিবেশী আব্দুল মাজেদকে আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে।’

এ ঘটনায় নিজামের ভাই মশিয়ার সরদার বলেন, ‘রাত ১টার দিকে দিগাং এলাকার মেম্বার আসাদ সরদার আমাকে ফোন দিয়ে ডাকে। গিয়ে দেখি আমার ভাই মারা গেছে। তার হাতে ও পায়ে ক্ষত আছে। আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

আরও পড়ুন:
মোবাইল হাতিয়ে নিতে কৌশলে ডেকে বন্ধুকে খুন
মহাসড়কের পাশে তরুণীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ
ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
কুলিক নদীতে ভাসছিল যুবকের মরদেহ
স্কুলছাত্র শিহাবকে হত্যা শ্বাসরোধে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Lalmai goes back to find the naughty teenager in the mountains

লালমাই পাহাড়ে কিশোররা খুঁজে ফেরে যারে

লালমাই পাহাড়ে কিশোররা খুঁজে ফেরে যারে
লালমাই পাহাড়ে ঘন বন আর পাতার আড়ালে উঁকি মারে টক-মিষ্টি স্বাদের এক ফল। কাঁঠালের মতো দেখতে কিন্তু তুলনামূলক ছোট এই ফলটিকেই খুঁজে ফেরে কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার দুষ্টু কিশোরের দল।

আষাঢ়ের আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। রোদের উত্তাপে হাঁসফাঁস চারপাশ। এমন গরমেই দুষ্টু ছেলেমেয়ের দল হানা দেয় কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার লালমাই পাহাড়ে। সেখানে গাছে গাছে ঝুলে আছে হলুদ চাপালিশ!

পাকা এই চাপালিশ ভেঙে অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে কোষগুলো নিয়ে শুকনো মরিচ পোড়ায় কিশোর-কিশোরীর দল। হাল্কা মিষ্টি আর টক স্বাদের চাপালিশে ঝাল মিশিয়ে মুখে পুরে নেয় তারা। তারপর ওঠে তৃপ্তির ঠেকুর। দুপুরে উদরপূর্তির জন্য এর চেয়ে ভালো আয়োজন কি হতে পারে?

চাপালিশ দেখতে কাঁঠালের মতোই। কাঁচা অবস্থায় সবুজ। আর পাকলে হলুদ হয়ে ওঠে। আকারে ছোট এই ফলটির ভেতরে কাঁঠালের মতোই ছোট ছোট কোষ থাকে। কোষের ভেতরে থাকা এর বীচিগুলোও অনেকে আগুনে পুড়িয়ে খায়। কিছুটা চিনা বাদামের স্বাদ পাওয়া যায় এতে।

টক মিষ্টি স্বাদের এই চাপালিশকে স্থানীয়রা চামল বা চাম্বল নামেই চেনে। লালমাই পাহাড়ে শত বছর আগে প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে উঠেছিল চাপালিশের বন। ঘন সবুজ পাতার আড়াল থেকে উঁকি মারা পাকা চাপালিশ যে কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

আষাঢ় মাসেই চাপালিশ পাকতে শুরু করে। ৯০-এর দশকে লালমাই পাহাড়ে যে পরিমাণ চাপালিশ গাছ ছিল, এখন তার ছিটেফোঁটাও নেই।

লালমাই পাহাড়ে কিশোররা খুঁজে ফেরে যারে

কোটবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ জানান, পুরো লালমাই পাহাড়ে বর্তমানে অর্ধশতাধিক চাপালিশ গাছ আছে। এক সময় এই সংখ্যাটি ছিল হাজারেরও বেশি। কাঠের জন্য কিংবা জমি প্রশস্থ করতে গত কয়েক বছরে স্থানীয়রা বহু চাপালিশ গাছ কেটে ফেলেছে।

ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘পাশের সেনানিবাসের ভেতর বর্তমানে বেশকিছু চাপালিশ গাছ রয়েছে।’

কোটবাড়ি এলাকার বিজিবি ক্যাম্পের পশ্চিম পার্শ্বে হাতিগড়া এলাকায় চাপালিশ বিক্রি করেন চা দোকানীরা। দোকানের সামনে ঝুড়িতে রাখা থাকে ফলটি। কেউ আবার ক্রেতা আকর্ষণের জন্য এটিকে দোকানের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন।

চা দোকানী খায়ের মিয়া বলেন, ‘প্রতিটা ২০ টাকা করে বেচি। আষাঢ়-শাওন মাসে কাঁঠালের সাথে চামলও পাকে। শহর থেকে আসা মানুষেরাও শখ করে কিনে নিয়ে যায়। একটা গাছে ২ থেকে ৩ মন চাপালিশ ধরে।’

লালমাই পাহাড়ে কিশোররা খুঁজে ফেরে যারে

খায়ের জানান, লালমাই পাহাড়ে একসময় এত পরিমাণ চাপালিশ হতো যে, এগুলো খেতে শত শত বানর এসে ভিড় জমাতো। চাপালিশ কমার সঙ্গে সঙ্গে ওই এলাকাটিতে এখন বানরের সংখ্যাও কমে গেছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা বলেন, ‘চাপালিশ একটি বিপন্ন উদ্ভিদ। আবাসস্থল ধ্বংস এবং মাত্রাতিরিক্ত আহরণের জন্য চাপালিশের বিস্তৃতি নাই বললেই চলে। সরকারের উচিত পরিকল্পিত বনায়নের অংশ হিসেবে চাপালিশ বৃক্ষের আবাদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা। এর কাঠ যেমন মূল্যবান, তেমনি এর ফল বন্যপ্রাণী ও মানুষের খাবার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।’

মেহেরুন্নেসা মনে করেন, জলবায়ু সংকটে থাকা এই পৃথিবীকে আবাসযোগ্য রাখতে বৃক্ষনিধন দমনের পাশাপাশি ব্যাপক বনায়ন কর্মসূচী হাতে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে চাপালিশের চাষ একটি চমকে দেয়ার মতো বিষয় হতে পারে।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, সারাদেশে যেসব এলাকায় চাপালিশ গাছ জন্মে, তার মধ্যে কুমিল্লার লালমাই পাহাড় অন্যতম। বিলুপ্তপ্রায় এই গাছটির কাঠ ও ফল মূল্যবান। পাখি ও বনের পশুর জন্যও চাপালিশ উন্নত খাবার। এই গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি আসবাব বছরের পর বছর টিকে থাকে। এই গাছ রক্ষায় বন বিভাগের জরুরী উদ্যোগ নেয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

কুমিল্লা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমরা কোটবাড়িতে উদ্ভিদ উদ্যান করেছি। সেখানে চাপালিশের বীজ থেকে চারা করে গাছের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। যে কেউ চাইলে আমরা বীজ কিংবা চারা দিয়ে সহযোগীতা করবো।’

আরও পড়ুন:
আগের চেয়ে বেশি ফল খাচ্ছে মানুষ
সোহেলের পরীক্ষায় পাশ মালবেরি
দাম বাড়তি খেজুরে, অন্য ফলে উনিশ-বিশ
সাড়া ফেলেছে দুই বন্ধুর মিশ্র ফলের বাগান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Utpal was the teacher who was killed in the beating

মারধরে নিহত শিক্ষক উৎপলই ছিলেন পরিবারের বড় ভরসা

মারধরে নিহত শিক্ষক উৎপলই ছিলেন পরিবারের বড় ভরসা নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার। ছবি: সংগৃহীত
উৎপলের বড় ভাই অসীম কুমার পাল বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। গ্রামে আমরা এখনও যৌথ পরিবারে থাকি। ওই আমাদের পরিবারটাকে নিয়ন্ত্রণ করত। আর্থিকভাবেও ওই দেখত। আমরা অন্য ভাইরা ছোটখাটো কাজ করি।’

ঢাকার সাভারে ছাত্রের স্টাম্পের আঘাতে নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারই ছিলেন পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসা। বাড়ির ছোট ছেলে হলেও সবাই নির্ভর করত তারই ওপর। সেই উৎপলকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল পুরো পরিবার।

উৎপলের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার এঙ্গেলদানি গ্রামে। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। ৩৫ বছর বয়সী উৎপল প্রায় ১০ বছর ধরে শিক্ষকতা করতেন আশুলিয়ার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে।

কলেজের মাঠে গত শনিবার দুপুরে মেয়েদের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে উৎপলকে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ ওঠে দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতুর বিরুদ্ধে। পরদিন সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর আহত উৎপল মারা যান।

উৎপলকে হারিয়ে পরিবারের অবস্থা সম্পর্কে তার বড় ভাই অসীম কুমার পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাড়ির অবস্থা এখন কী বলব? আমাদের ফ্যামিলিটাই শেষ। আমার মাকে নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে। সে তো ছেলের জন্য পাগল। আমরা পাঁচ ভাই, তিন বোন। উৎপল ছিল সবার ছোট ও আদুরে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। গ্রামে আমরা এখনও যৌথ পরিবারে থাকি। ওই আমাদের পরিবারটাকে নিয়ন্ত্রণ করত। আর্থিকভাবেও ওই দেখত। আমরা অন্য ভাইরা ছোটখাটো কাজ করি।

‘আমি সাভারে একটা ছোট দোকান করি। আরেক ভাই দর্জি। আর বাকি দুজন টেক্সটাইলে ছোট পোস্টে চাকরি করে।’

দুই বছর আগে বিয়ে করেছিলেন উৎপল। স্ত্রীকে নিয়ে মিরপুর-১-এ আনছার ক্যাম্পে থাকতেন।

তার ভাই বলেন, ‘উৎপলের এখনও কোনো সন্তান হয়নি। সে আর তার স্ত্রী মিরপুর-১-এ আনছার ক্যাম্পে থাকত। সেখান থেকেই আশুলিয়ার চিত্রশাইল গিয়ে ক্লাস নিতো।’

উৎপলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রোববার জিতু ও অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন অসীম।

জিতু দশম শ্রেণিতে পড়লেও তার বয়স ১৯ বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, এই তরুণ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন। সেখান থেকে ঝরে পড়ার পর হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, উৎপলকে পেটাতে পরিকল্পনা করেই স্টাম্প নিয়ে এসেছিলেন জিতু। এটি নিছক ঝোঁকের বসে ঘটিয়ে ফেলা কোনো অপরাধ নয়।

যেখানে শিক্ষককে পেটানো হয়েছে, সেই জায়গাটি কলেজের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতাধীন বলে জিতু ঘটনার আগে আগে মেইন সুইচ বন্ধ করেছেন, যেন কোনো কিছু ক্যামেরায় রেকর্ড না হয়।

সেখানে মেয়েদের যে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলছিল, সেখানে স্টাম্প ব্যবহার করা হয়েছে প্লাস্টিকের। আর সেই শিক্ষককে পেটানো হয়েছে কাঠের স্টাম্প দিয়ে।

কলেজের আইসিটি বিভাগের শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, ‘জিতু ছাত্র হিসেবে খুবই দুর্বল প্রকৃতির। উচ্ছৃঙ্খলও। তার বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়েরও অভিযোগ ছিল।’

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

আরও পড়ুন:
‘সনাতন ধর্মের প্রত্যেক শিক্ষক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন’
শিক্ষককে জুতার মালা: রিটের পরামর্শ হাইকোর্টের
শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: চবিতে প্রতিবাদ
শিক্ষককে জুতার মালার ৯ দিন পর মামলা, গ্রেপ্তার ৩
স্বপনের গলায় জুতার মালা ‘সব শিক্ষকের অপমান’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The traffic pressure is less at Padma toll plaza

যানবাহনের চাপ কম পদ্মার টোল প্লাজায়

যানবাহনের চাপ কম পদ্মার টোল প্লাজায় পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজায় যানবাহনের চাপ নেই বললেই চলে। ছবি: নিউজবাংলা
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, ‘সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় এগুলো পিকআপ বা ট্রাকে করে পার করা হচ্ছে। যানবাহন চলাচল কম করছে এমনটি বলা যাবে। সাধারণ পরিবহন বাস, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, মিনিবাস, পিকআপ সবই ভালো পরিমাণে চলাচল করছে।’

চালুর পর থেকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধের ঘোষণা এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে।

মঙ্গলবার এ ঘোষণা আসার পর বুধবার সকাল থেকে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজায় যানবাহনের চাপ আগের চেয়ে অনেকটাই কম দেখা গেছে। ছোট যানবাহন ও বাসের সংখ্যাও ছিল খুবই কম।

এর আগে চালুর দিন পদ্মা সেতুতে বাইক দুর্ঘটনার পর থেকে সেতু কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে টোল প্লাজা এলাকায় সেতুর ওপরে টহল আরও কঠোর এবং জোরদার করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যানবাহন টোল প্লাজায় কোনো রকম অপেক্ষা ছাড়াই টোল দিয়ে সেতু পার হচ্ছে।

যানবাহনের চাপ কম পদ্মার টোল প্লাজায়
পিকআপে করে মোটরসাইকেল পদ্মা সেতু পার করা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

অন্যদিকে কিছুসংখ্যক মোটরসাইকেল টোল প্লাজার অদূরে থাকলেও তারা সেতুতে উঠতে না পারায় পিকআপ ভ্যানে করে পাড়ি দিচ্ছে পদ্মা।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, ‘সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় এগুলো পিকআপ বা ট্রাকে করে পার করা হচ্ছে। যানবাহন চলাচল কম করছে এমনটি বলা যাবে। সাধারণ পরিবহন বাস, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, মিনিবাস, পিকআপ সবই ভালো পরিমাণে চলাচল করছে।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু ষড়যন্ত্রে জড়িতদের খুঁজতে কমিশন গঠনের নির্দেশ
পণ্য পরিবহনে সময়-খরচ কমাল পদ্মা সেতু
৩৫ বছরে উঠবে পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়: ওবায়দুল কাদের
পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেনে ঢাকা-যশোর পৌনে ২ ঘণ্টা
চালু হচ্ছে ফরিদপুর-ঢাকা বাস সার্ভিস

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mymensingh Jamalpur rail communication is normal

ময়মনসিংহ-জামালপুর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

ময়মনসিংহ-জামালপুর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
ময়মনসিংহ রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ সরকার জানান, ভাওয়াল এক্সপ্রেসের বিকল ইঞ্জিন পরিবর্তন করলে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিক থেকে ট্রেন চলতে শুরু করে।

প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

বিকল ইঞ্জিন পরিবর্তন করলে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিক থেকে ট্রেন চলতে শুরু করে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ সরকার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ভাওয়াল এক্সপ্রেস ঢাকা যাচ্ছিল। সকাল ৬টার দিকে আওলীয়ানগর এলাকায় এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর রিলিফ ট্রেন গিয়ে বিকল ইঞ্জিন পরিবর্তন করলে আবার ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আরও পড়ুন:
ইঞ্জিন বিকল, ময়মনসিংহ-জামালপুর ট্রেন বন্ধ
ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারালেন কলেজছাত্র
বিকল ট্রেন উদ্ধার, দেড় ঘণ্টা পর চালু সিলেটের রেলপথ
শিগগিরই রেলে আইটি সেল: রেলমন্ত্রী
ট্রেনের টিকিটের নতুন অ্যাপ ‘রেল সেবা’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Passengers did not increase in the launch even though the fare was reduced

ভাড়া কমলেও লঞ্চে বাড়েনি যাত্রী

ভাড়া কমলেও লঞ্চে বাড়েনি যাত্রী পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে পটুয়াখালী লঞ্চঘাটে যাত্রীর সংখ্যা কম দেখা যায়। ছবি: নিউজবাংলা
সুন্দরবন-১৪ লঞ্চের পটুয়াখালী ঘাটের কেবিন ইনচার্জ মো. জাফর মিয়া বলেন, ‘লঞ্চে কম যাত্রীর উপস্থিতি বেশি দিন থাকবে না। আশা করি, আগের মতোই যাত্রী পাব আমরা। এখন হয়তো অনেকেই নতুন সেতু দেখতে গাড়িতে করে ঢাকা যাচ্ছে বা পটুয়াখালী আসছে।’

পদ্মা সেতু চালুর প্রভাব পড়েছে পটুয়াখালী-ঢাকা নৌরুটে চলাচলরত লঞ্চগুলোতে। গত রোববার পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে দুদিন ধরে কাঙ্খিত যাত্রী পায়নি লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।

যাত্রী ধরে রাখতে কমানো হয়েছে ভাড়া। এর পরও পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে রুটে লঞ্চের সংখ্যা কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আনন্দ উপভোগ করতে অনেকেই সড়কপথ ব্যবহার করছে। তাই কয়েক দিন পর আবার আগের মতোই যাত্রী পাবে বলে আশা লঞ্চ কর্তৃপক্ষের। লঞ্চের সুপারভাইজার, মাস্টার ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এসব বিষয় জানা গেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে পটুয়াখালী লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, আগের মতো যাত্রীদের চাপ নেই, নেই হই-হুল্লোড়ও। কিছুক্ষণ পরপর দু-একজন যাত্রী এলে স্টাফরা কম দামের টিকিটের ডাক-হাঁক দিয়ে তাদের লঞ্চে ওঠানোর চেষ্টা করছেন।

দুদিন আগেও যেখানে চারটি ডাবল ডেকারের দোতলা ও তিনতলা লঞ্চ ছিল, সেখানে মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে মাত্র দুটি লঞ্চ চোখে পড়ে। এর মধ্যে একটি দোতলা, আরেকটি তিনতলা লঞ্চ।

ভাড়া কমলেও লঞ্চে বাড়েনি যাত্রী

তিন তলাবিশিষ্ট সুন্দরবন-১৪ লঞ্চের পটুয়াখালী ঘাটের কেবিন ইনচার্জ মো. জাফর মিয়া জানান, তাদের লঞ্চে প্রথম শ্রেণির যাত্রীদের জন্য সিঙ্গেল, ডাবল, ফ্যামিলি, ভিআইপিসহ মোট কেবিনের সংখ্যা ১২৯টি। এর মধ্যে বিকেল সোয়া ৫টার মধ্যে ৯২টি কেবিন বুকিং হয়েছে। বাকি কেবিন খালি। এ ছাড়া ওই সময় পর্যন্ত নিচতলা আর দোতলার ডেকে সাধারণ যাত্রী উঠেছেন সর্বমোট ২০০ থেকে ২৫০ জন।

জাফর মিয়া বলেন, ‘বছরের প্রায় সময়, এমনকি দুদিন আগেও আমাদের লঞ্চের কেবিন এক দিন আগেই প্রায় সব অগ্রিম বুকিং থাকে। সেখানে আজকে এই অবস্থা।

‘যাত্রীদের কথা ভেবে আমরা সাধারণ যাত্রীদের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করেছি মাত্র ৩০০ টাকা। আর কেবিন ভাড়া সিঙ্গেল ১ হাজার ২০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২ হাজার ২০০ টাকা। এ ছাড়া ভিআইপি কেবিন (বাথরুম সংযুক্ত) ৫ হাজার টাকা সেটিও আগের চেয়ে কমিয়েছি।’

লঞ্চের ইনচার্জ মো. ইউনুস মিয়া জানান, গত সোমবারও তারা ঢাকা থেকে প্রায় ১০০ কেবিনে যাত্রী নিয়ে এসেছেন। এ ছাড়া সদরঘাট আর ফতুল্লা ঘাট থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫০-৩০০ যাত্রী ছিলেন ডেকে।

তিনি বলেন, ‘লঞ্চের এই কম যাত্রীর উপস্থিতি বেশিদিন থাকবে না। আশা করি আগের মতোই যাত্রী পাব আমরা। এখন হয়তো অনেকেই নতুন সেতু দেখতে গাড়িতে করে ঢাকা যাচ্ছে বা পটুয়াখালী আসছে।’

ঘাটে অপেক্ষমাণ আওলাদ-৭ লঞ্চের পটুয়াখালী ঘাটের ইনচার্জ আব্দুল আজিজ জানান, তার লঞ্চে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪৫টির মতো কেবিন বুকিং হয়েছে। নিচতলা আর দোতলার ডেকে সাধারণ যাত্রী উঠেছেন ১৫০ থেকে ২০০ জন।

লঞ্চের ভাড়া নিচ্ছেন সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা আর সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার টাকা। ডাবল কেবিন ভাড়া ২ হাজার টাকা।

আজিজ বলেন, ‘কোরবানি ঈদের আগেই আশা করি যাত্রীসংখ্যা আগের মতো পাব আমরা। কারণ ঢাকার অনেক যাত্রীই মালামাল নিয়ে বাসে আসতে পারবেন না।’

ভাড়া কমলেও লঞ্চে বাড়েনি যাত্রী

আওলাদ-৭ লঞ্চের ডেকের যাত্রী সোলায়মান মিয়া বলেন, ‘তিন দিন আগে ছুটিতে গ্রামের বাড়ি মৌকরণ এলাকায় আসছিলাম। এখন লঞ্চে যাচ্ছি, কারণ সঙ্গে দুটি বড় ব্যাগ। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৩০০ টাকায় লঞ্চে শুইয়ে শুইয়ে দুজন চলে যাব।

‘কিন্তু বাসে গেলে তো দুজনের জন্য দুটি টিকিট আবার ব্যাগের জন্যও টাকা দিতে হতো।’

লঞ্চের কেবিনের যাত্রী আবু মিয়া বলেন, ‘একবার ইচ্ছে ছিল বাসে যাই। কিন্তু চিন্তা করলাম ৬-৭ ঘণ্টা বাসে বসে থাকা কষ্টকর, এরচেয়ে বরং কেবিনে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যাই।’

ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৫ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন ঢাকা-পটুয়াখালী নৌরুটে দোতলা আর তিন তলাবিশিষ্ট মোট চারটি লঞ্চ চলাচল করত। এসব লঞ্চের কেবিনের চাহিদা ছিল সোনার হরিণের মতো। ডেকে ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি যাত্রী নিয়ে প্রতিনিয়তই আসা-যাওয়া করত লঞ্চগুলো।

আরও পড়ুন:
পণ্য পরিবহনে সময়-খরচ কমাল পদ্মা সেতু
৩৫ বছরে উঠবে পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়: ওবায়দুল কাদের
পদ্মা সেতু দিয়ে ট্রেনে ঢাকা-যশোর পৌনে ২ ঘণ্টা
চালু হচ্ছে ফরিদপুর-ঢাকা বাস সার্ভিস
পদ্মা জয়ের সাহসে সঙ্গী প্রবাসীরা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Where relief has not yet arrived

যেখানে ত্রাণ পৌঁছেনি এখনও

যেখানে ত্রাণ পৌঁছেনি এখনও ঢলের পানিতে ভেসে গেছে পূর্ণ দাসের মাটির ঘর। ছবি: নিউজবাংলা
টিলাভূমি ও অপেক্ষাকৃত উঁচু হওয়ায় এ এলাকাটিতে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির কথা কেউ ভাবেননি। কিন্তু দলদলি নামে ওই চা বাগানে বসবাসকারী শ্রমিকরা পাহাড়ি ঢলই শুধু নয়, মোকাবিলা করেছেন টিলাধসের মতো কঠিন পরিস্থিতিও।

‘এইখানে আমার ঘর ছিল’- একটি পাকা ভিটের ওপর দাঁড়িয়ে বললেন বৃদ্ধ পূর্ণ দাস। যদিও এখানে এখন ঘরের কোনো অস্তিত্ব নেই। ভিটেটিই আছে কেবল। আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পুরোনো টিন আর বাঁশ এখানে একদা ঘর থাকার কথা জানান দিচ্ছে।

গত ১৮ জুন ঢলে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে পূর্ণ দাসের মাটির ঘর। পেশায় চা শ্রমিক তিনি। সিলেট নগর লাগোয়া বালুচর এলাকার দলদলি চা বাগানেই কাজ করেন।

বাগান থেকে ঢলের পানি নেমে গেছে ১৮ জুনই। তবু এখন পর্যন্ত ঘর মেরামত করতে পারেননি পূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘হামরা গরিব মানুষ বাবু। ভাতই খাইতে পারি না। ঘর বানাইমু কী দিয়া!’

১৫ জুন থেকে সিলেটে বন্যা দেখা দেয়, যা পরে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় রূপ নেয়। ১৮ জুন ব্যাপক বৃষ্টি হয় এই অঞ্চলে। ওই দিনই তলিয়ে যায় প্রায় পুরো সিলেট নগর।

চা বাগানগুলো টিলাশ্রেণির ভূমি। অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকা। তবে ১৮ জুনের বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় দলদলি চা বাগানও। ঢল আর টিলাধসে ভেঙে যায় এই বাগানের শ্রমিকদের অন্তত ২২টি ঘর। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরও অন্তত ২০টি বসতি।

সেই দিনের ভয়ংকর স্মৃতি বর্ণনা করে প্রবীণ চা শ্রমিক জয়ন্ত দাস বলেন, ‘সকালে টিলা থেকে ঢল নামতে শুরু করে। চোখের সামনে খড়কুটোর মতো আমার ঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায়। অনেক ঘরের চালও সেদিন পানির নিচে চলে গিয়েছিল। বাগানের ভেতরে পানির বড় বড় ঢেউ ছিল। আর ধসে পড়ছিল বাগানের ভেতরের টিলাগুলোও।’

তিনি বলেন, ‘জীবনে এমন পানি কখনও দেখিনি। বাগানে কখনও পানি ওঠেনি।’

যেখানে ত্রাণ পৌঁছেনি এখনও

সিলেটে বন্যাকবলিতদের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ চলছে। প্রশাসনের লোকজন বলছেন, পর্যাপ্ত ত্রাণের মজুত রয়েছে। আর সরকারের চেয়েও বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শতাধিক ট্রাক ত্রাণ নিয়ে আসছে সিলেটে।

তবু দলদলি বাগানে এখনও কোনো ত্রাণ পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন এই বাগানের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিন্টু দাস। না সরকারি উদ্যোগে, না বেসরকারি উদ্যোগে। ঘরবাড়ি হারানো এখানকার দরিদ্র শ্রমিকরা এখন থাকছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রিত হয়ে।

বাগানের সবজি বাড়ি এলাকার রাজকুমার দাসের ঘর একেবারে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ঝড়ে। ভিটের ওপর মুখ থুবড়ে পড়ে আছে টিন, বাঁশ, কাঠসহ ঘরের সরঞ্জামাদি।

ঘর ভাঙার ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও সংস্কারকাজ শুরু করতে পারেননি রাজকুমার। তিনি বলেন, ‘আমরা ১২০ টাকা মজুরিতে কাম করি। ভাত খুইমু না ঘর বানাইমু?’

ভাত খাবেন না ঘর বানাবেন- এমন দোটানায় বাগানটির ক্ষতিগ্রস্ত সব শ্রমিকই। তবে এ বিষয়টির সমাধান দিতে বাগানে এখনও আসেননি দায়িত্বশীলদের কেউ। এমনকি বাগান কর্তৃপক্ষও না।

ঘর হারানো আরেক শ্রমিক মনি দাস বলেন, ‘বাগান কর্তৃপক্ষ বলছে, ঘর ঠিক করে দেবে। কিন্তু ১০ দিনেও দেয়নি। এখন আমরা থাকব কোথায়? ঘর ছাড়া তো এক দিনও থাকা যায় না।’

শিপলা দাস নামে ঘর হারানো আরেক নারী বলেন, ‘আমরা গরিব চা শ্রমিক। আমাদের খোঁজ কেউ করে না। কেবল মেম্বার (ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য) একদিন এসে দেখে গিয়েছিল। আর কেউ দেখতেও আসেনি। কেউ আমাদের ত্রাণও দেয়নি।’

১৮ জুনের টানা বৃষ্টিতে টিলা ধসে পড়ে সুক্রু দাসের ঘরে। এতে ঘর গুঁড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হাত ভেঙেছে তার। ঘর হারানো শুক্রু এখন মাকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন পার্শ্ববর্তী মামার বাড়িতে।

প্লাস্টার করা হাত গলায় ঝুলিয়ে শুক্র দাস বলেন, ‘আমাদের এখন পর্যন্ত কেউ কোনো সহায়তা দেয়নি। কেউ দেখতেও আসেনি। সব হারিয়ে এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রিত।’

মঙ্গলবার বিকেলে দলদলি চা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের শ্রমিক বস্তি এলাকাটি প্রায় লন্ডভন্ড। অনেক ঘরের পুরোটাই ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশির ভাগ বাড়ি। টিলাধসে অনেক সড়ক যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে।

ঢলে ঘর তলিয়ে যাওয়া ও টিলাধসের কারণে ১৮ জুন বাগানের প্রায় সব শ্রমিক রাত কাটিয়েছেন পাতিঘর হিসেবে পরিচিত পাতা সংরক্ষণের ঘরে। বৃষ্টিতে তলিয়ে থাকায় এই বাগানে সাত দিন পাতা উত্তোলনও বন্ধ ছিল বলে জানালেন শ্রমিকরা।

সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ঘর হারানো চা শ্রমিক বিপ্লব দাস বলেন, ‘বালা করি ছবি তুলিয়া নেইন, আমরারে ঘরবাড়ি বানানির একটা ব্যবস্থা করিয়া দেইন।’

১৮ জুনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘ইলা মেগ (এমন বৃষ্টি) জীবনেও দেখছি না।’

যেখানে ত্রাণ পৌঁছেনি এখনও
সিলেটে চা শ্রমিকদের অনেকের বাড়ি বানের জলে ভেসে গেলেও তারা ত্রাণ পাননি। ছবি: নিউজবাংলা

এই বাগানের বাসিন্দা ড্যানি নায়েক গাড়ি চালানোর কাজ করেন। বাগানে এখনও ত্রাণ না পৌঁছানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাগান তো টিলা এলাকা। তাই সবাই হয়তো মনে করছে, এখানে পানি উঠবে না। তাই এদিকে কেউ আসছে না। আমাদের দুর্দশার কথা পৌঁছানোর মতোও কেউ নেই।’

দলদলি চা বাগানের অবস্থান সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার ইউনিয়নে। এই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদ আহমদ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। অথচ এখন পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন থেকে ১৩ টন ও সিটি করপোরেশন থেকে পাঁচ টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। এই সামান্য ত্রাণ দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের চাহিদা মেটানো অসম্ভব।’

দলদলি চা বাগানে এখনও ত্রাণ না পৌঁছানোর কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এই বাগানের শ্রমিকদের জন্য এক টন চাল রেখেছি। কাল-পরশুর মধ্যে তা পৌঁছানো হবে।’

তবে দলদলি চা বাগানে এখনও ত্রাণ না পৌঁছানোর তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত আজমেরী হক।

তথ্যটি জানানোর জন্য এ প্রতিবেদককে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ আছে। বেসরকারি পর্যায়েও অনেক ত্রাণ আসছে। দলদলি চা বাগানে কেন এখনও ত্রাণ পৌঁছেনি তা আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

ইউএনও নিউজবাংলাকে আরও বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের তালিকা করা হচ্ছে। সরকার থেকে এই বাড়িঘর সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল চা কোম্পানির মালিকানাধীন লাক্কাতুরা চা বাগানের একটি ফাঁড়ি বাগান দলদলি। এই বাগানের দায়িত্বে থাকা লাক্কাতুরা চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক জিলকর হোসেনের কাছে শ্রমিকদের ঘরবাড়ি সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বাগান ব্যবস্থাপক এ কে এম এমদাদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

তবে ব্যবস্থাপক এমদাদুল হকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
ভেসে গেছে বই, অনিশ্চিত পড়ালেখা
সিলেটে বন্যাদুর্গতদের পাশে রংধনু গ্রুপ
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে: হানিফ
বন্যায় না খেয়ে কেউ মারা যায়নি, এটি বড় প্রাপ্তি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বন্যাকবলিত এলাকায় পর্যাপ্ত ওষুধ ও উপকরণ পাঠাতে নির্দেশ

মন্তব্য

p
উপরে