দেশের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে শনিবার ভোর থেকে বয়ে গেছে কালবৈশাখী ঝড়। এতে পাঁচজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বাড়ি-ঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অনেক এলাকায় গাছ উপড়ে রাস্তায় পড়ে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল। কিছু কিছু এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বগুড়া
বগুড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে দেয়াল ও গাছ চাপায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
কাহালু উপজেলার মাছপাড়া ও শাজাহানপুরের বৃ-কুষ্টিয়ায় শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন মাছপাড়ার ৪৫ বছর বয়সী মো. শাহিন ও কুষ্টিয়ার ৫১ বছর বয়সী আব্দুল হালিম।
স্থানীয়দের বরাতে কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমবার হোসেন জানান, শনিবার ভোর ৪টার দিকে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। সে সময় একটি গাছ উপড়ে শাহিনের বাড়ির ওপর পড়ে। গাছের ভারে মাটির দেয়াল ধসে শাহিনের মৃত্যু হয়।
শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঝড়ে একটি গাছ ভেঙে হালিমের বাড়ির ওপর পড়ে। তিনি ছোট ডালগুলো কেটে সরাচ্ছিলেন। সে সময় গাছের মূল কাণ্ড তার ওপর পড়লে হালিম গুরুতর আহত হয়।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে বগুড়ায় এই মৌসুমের সর্বোচ্চ গতিবেগে ঝড় হয়েছে।
বগুড়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া জানান, ভোর ৪টা থেকে ৪টা ৪ মিনিট পর্যন্ত বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ৮৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এটি এই মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বাতাসের গতিবেগ। বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ মিলিমিটার।
ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকার বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিঘ্ন ঘটেছে বিদ্যুৎ সরবরাহে।
ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে শনিবার সকাল ৬টার দিকে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। ১০ মিনিটের মতো ঝড়-বৃষ্টিতে তিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে শৈলকুপা উপজেলার কুলচারা গ্রামে বজ্রপাতসহ হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। সে সময় বাড়ির পাশের মাঠে বেগুন তুলতে যান গোলাম নবী ও রুপসী খাতুন দম্পতি। ঝড় শেষে স্থানীয়রা তাদের অচেতন অবস্থায় মাঠে পড়ে থাকতে দেখেন।
তাদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রুপসীকে মৃত ঘোষণা করেন। তার স্বামীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবাইদা ইসলাম বলেন, ‘বজ্রপাতের হিস্ট্রি নিয়ে দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি।’
সদর উপজেলার ডেফলবাড়িয়া গ্রামে বজ্রপাতে আশরাফুল ইসলাম নামের এক কৃষকের দুটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে।
ঝড়ে আম, লিচু, কলা, পানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতিতে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। সহযোগিতার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলার এনায়েতপুত গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, ‘১০ মিনিটের ঝড়ে আমাগের সব শ্যাষ করে দিয়ে গেছে। গাছপালা ভাঙ্গে গেছে। কারেন্টের পোল ভাঙ্গে গেছে। গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ ছিল। আমাগের ম্যালা ক্ষতি হয়েছে।’
একই উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘সকালে হঠাৎ করে খুব ঝড় শুরু হয়। আম্পানের সময় যে ঝড় হয়েছিল আজকে তেমন ঝড় হয়েছে। বাড়ি-ঘর ভেঙে গেছে। আম, লিচু, কলার বাগানের খুব ক্ষতি হয়েছে।’
কালীগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রথীন্দ্রনাথ বসাক জানান, ঝড়ে বিদ্যুতের ২২টি খুঁটি ভেঙে গেছে। সেই সঙ্গে ৩৩ কেভি লাইনের ওপর গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে। এ কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘সব জায়গায় মেরামতের কাজ চলছে। কতক্ষণ লাগবে বলতে পারছি না। তবে বিকেলের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’
কক্সবাজার
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ঝড়ের সময় গাছচাপা পড়ে এক ইজিবাইক চালকের মৃত্যু হয়েছে।
৪০ বছর বয়সী মৃত আব্দুস শুক্কুরের বাড়ি চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ২ নম্বর শান্তিনগর এলাকায়।
হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, শুক্কুর তার ইজিবাইকের ব্যাটারির কানেকশন ঠিক করছিলেন। সে সময় ঝড় শুরু হলে তিনি বাড়ি যাওয়ার জন্য ইজিবাইক থেকে নামেন। সে সময় একটি গাছ তার ওপর পড়লে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
দিনাজপুর
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বজ্রপাতে আলতাফ হোসেন নামের ৪৫ বছর বয়সী একজনের মৃত্যু হয়েছে।
চিরিরবন্দর উপজেলার ৭ নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নের আতারবাজার কাকপাড়ায় শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাতে চিরিরবন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোসলেম উদ্দিন জানান, দুপুরে বৃষ্টি শুরু হলে আলতাফ বাড়ির পাশের মাঠে যান গরু আনতে। সে সময় বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
নওগাঁ
নওগাঁয় কালবৈশাখী ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ অঞ্চলের বেশিরভাগ আম এখনও অপরিপক্ক এবং মাটিতে পড়ে ফেটে গেছে। ছোট ও মাঝারি সাইজের এসব আম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বস্তা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় ২৯ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৮৪৫ টন। শুক্রবার রাতের ঝড়ে প্রায় ৭ হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমির কাঁচা আম ঝড়ে পড়েছে।
নওগাঁর ১১ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয় পোরশা ও সাপাহারে।
সাপাহার উপজেলার মানিকুড়ি এলাকায় শনিবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, ঝড়ে পড়া আম কুড়িয়ে এনে এক জায়গায় স্তূপ করে রাখছেন শ্রমিকরা।
উপজেলার কলমুডাঙ্গা গ্রামের আম চাষি মোস্তাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ৮০ বিঘা জায়গার ওপর দুইটা আমের বাগান আছে। শুক্রবার রাতের ঝড়ে দুই বাগান মিলিয়ে প্রায় ১০০ মণ আম ঝরে পড়েছে। এটা মোট আমের চার ভাগের এক ভাগ।
‘ঝরে পড়া কাঁচা আম দুই টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ পরিপক্ক অবস্থায় বাজারে তুললে কমপক্ষে ৫০ টাকা করে প্রতি কেজি বিক্রি হতো।’
পোরশা উপজেলার নিতপুর এলাকার আম চাষি তোজাম্মেল হোসেন জানান, তার ১২০ বিঘার বাগানে ৮০ শতাংশের বেশি আম্রপালি জাতের গাছ। গাছ ছোট হওয়ায় ঝড়ে এসব গাছের আম কম ঝরেছে। তবে আশ্বিনা, নাক ফজলি ও ল্যাংড়া জাতের বড় গাছের ২০ শতাংশ আম পড়ে নষ্ট হয়েছে।
বদলগাছী আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার রাত ১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। বাতাসের গতিবেগ ছিল ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার। বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ৪৩ মিলিমিটার।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুল ওয়াদুদ জানান, শুক্রবার রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর, মান্দা ও ধামইরহাট।
পত্নীতলায় ২ হাজার ২৫০ হেক্টর, সাপাহারে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর, পোরশা ১ হাজার ৫০ হেক্টর, ধামইরহাটে ৪৭৫ হেক্টর ও নিয়ামতপুরে ৪৮০ হেক্টর জমির কাঁচা আম ঝরে গেছে। বাকি ছয় উপজেলা মিলিয়ে ঝরেছে ১০০ হেক্টর জমির আম।
এ ছাড়া নওগাঁয় ৫০ হেক্টর জমির কলা ও ৫০ হেক্টর জমির বিভিন্ন শাকসবজিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উড়ে গেছে বেশ কিছু ঘরের চাল। গাছের ডাল পড়ে তার ছিঁড়ে অনেক জায়গায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় আলমডাঙ্গা-হালসা লাইনের ওপর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গাছ ভেঙে পড়ে খুলনার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে গাছ অপসারণের পর ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
আলমডাঙ্গায় শনিবার ভোর ৫টার দিকে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। আধ ঘণ্টার ঝড়ে উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝড় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, মেহেরপুরের গাংনী হয়ে কুষ্টিয়ার দিকে আঘাত হানে। তবে ওই সময় বাতাসের গতিবেগ মাপা হিসাব করা যায়নি। বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে ৭ মিলিমিটার।
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কালিদাসপুর গ্রামের আলী হোসেন বলেন, ‘আমাদের গ্রামসহ আশপাশের অনেক গ্রামের আধা-পাকা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। বাতাসে উড়ে গেছে ঘরের চাল। বড় বড় গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে রাস্তায় পড়েছে। এতে যান চলাচল হয়ে যায়।’
আলমডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব অফিসার আক্কাস আলী জানান, শ্রীরামপুর ও জগন্নাথপুর এলাকায় চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে গাছ ভেঙে সকাল থেকে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) আলমডাঙ্গার আবাসিক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে, খুঁটি উপড়ে পড়েছে বা ভেঙে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় বেশি ক্ষতি হয়েছে।
‘ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঝড় থামার পর থেকে লাইন মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। মেইন লাইন চালু হয়ে গেছে। তিনটা ফিডারের মধ্যে এখন শুধু বাজারের ফিডার বন্ধ আছে। খুব শিগগিরই এটাও চালু হবে।’
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রনি আলম নূর (ইউএনও) জানান, আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর, হারদি ও ডাউকি ইউনিয়নে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছের ডাল পড়ে প্রায় দেড়শ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কালিদাসপুর ইউনিয়নে ৫ থেকে ৭ জন সামান্য আহত হয়েছেন। তারা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ইউএনও বলেন, ‘জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান ও আমি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা করা হচ্ছে। এই তালিকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়ের মাধ্যমেও ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে।’
খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়িতে ঝড়ো হাওয়ায় শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গাছ ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচ ঘণ্টা পর সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ফলের বাগান ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিদ্যুৎ বিভাগের খাগড়াছড়ির নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাগত সরকার জানান, ঝড়ো হাওয়ায় ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি লাইনে গাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়।
যশোর
যশোর বিমানবন্দরের আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টা ৫ মিনিট থেকে প্রায় ১৫ মিনিট কালবৈশাখী ঝড় হয়। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৩২ নটিক্যাল মাইল। বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে ১০ মিলিমিটার।
এই ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর ও বাঘারপাড়া উপজেলা। অনেক বাড়ির চাল উড়ে গেছে, গাছ ভেঙে পড়েছে। ক্ষতগ্রস্ত হয়েছে মৌসুমি ফল ও ফসল।
সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের নাটুয়াপাড়া গ্রামের তানিয়া বেগম বলেন, ‘সকালে ঝড় শুরু হলে অনেক গাছ ভেঙে পড়ে। আমাদের বাড়ির বড় একটি শিশু গাছ ভেঙে আমার গরু মারা গেছে। টিনের বাড়িগুলোর চাল উড়ে গেছে।’
একই এলাকার হোসেন উদ্দিন জানান, তার বাড়িতে গাছ ভেঙে পড়ায় তিনি আহত হয়েছেন।
এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিকী বলেন, ‘সদর উপজেলায় আমাদের ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৭টি গ্রামের মধ্যে ১২টি গ্রামের চিরচেনা পরিবেশ বদলে গেছে। কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ইউপি সদস্যরা কয়েকজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।’
মেহেরপুর
মেহেরপুরে কাল বৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গাংনী উপজেলার বামন্দী, তেতুলবাড়িয়া, মঠমোড়া ও গাজীপুর ইউনিয়ন।
গাংনীতে শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শুরু হয় ঝড়। প্রায় ১০ মিনিটের ঝড়ের সঙ্গে কয়েক মিনিট শিলাবৃষ্টিও হয়। জায়গায় জায়গায় উপড়ে পড়ে গাছ, ছিঁড়ে যায় বৈদ্যুতিক তার।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হোগলবাড়িয়া, বাওট ও আকুবপুর গ্রাম। উড়ে গেছে কয়েকটি বাড়ির টিনের চাল। আমসহ বিভিন্ন ফল ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আমচাষি মো. কুতুব বলেন, ‘ভোরে হঠাৎ ১০ মিনিটের ঝড়ে আমার বাগানের অনেক আম পড়ে গেছে। আর ১৫ থেকে ২০ দিন পরেই আম পাকা শুরু হতো। এই আমগুলো এখন নামমাত্র দামে বিক্রি করতে হবে।’
সড়কে গাছ পড়ে ভোর থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা যানবাহন চলাচলও বন্ধ ছিল।
বাসচালক মো. গোলাম বলেন, ‘আমি ভোরবেলা গাড়ি নিয়ে আকুবপুরে ঢুকতেই ঝড় শুরু হয়। রাস্তায় গাছ ভেঙে পড়ে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে ছিলাম। এরপর গাছ সরানো হলে জেলা শহরে আসি।’
পল্লীবিদ্যুতের বামন্দী শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক হানিফ রেজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার অফিসের আওতাধীন প্রায় ১২টা পোল ভেঙে চার ইউনিয়ন বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।’
ফসলের ক্ষতির বিষয়ে জেলা কৃষি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক শামসুল হক জানান, কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনই জানা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন বগুড়ার আসাফ-উদ দৌলা নিয়ন, ঝিনাইদহের সোহাগ আলী, কক্সবাজারের মুহিববুল্লাহ মুহিব, দিনাজপুরের কুরবান আলী, নওগাঁর সবুজ হোসেন, চুয়াডাঙ্গার জহির রায়হান সোহাগ, খাগড়াছড়ির নুরুচ্ছাফা মানিক ও মেহেরপুরের সোহেল রানা।
মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাহিদ হোসেন। ছবি: বাসস
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জাহিদ হোসেন।
এই হাসপাতালে ১০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ডাক্তাররা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, সেই চিকিৎসা উনি (বেগম খালেদা জিয়া) গ্রহণ করতে পারছেন, অথবা আমরা যদি বলি উনি মেনটেইন করছেন।
তিনি বলেন- আমরা এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে উনার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই। এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাতে দেশবাসীর দোয়া, সারা পৃথিবীর অনেক মানুষের উনার প্রতি ভালোবাসা এবং দোয়ার কারণে হয়তো বা উনি এই যাত্রায় সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আমরা আশা করি।
বেগম খালেদা জিয়ার এই ব্যাক্তিগত চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং সেই সঙ্গে কোন ধরনের গুজব ছড়ানো এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিনীতভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে, দলের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে আমরা অনুরোধ করছি।
আবেগপ্রবণ কণ্ঠে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সম্মানিত সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আপনারা ধৈর্য ধরুন দীর্ঘ ছয় বছর যাবৎ আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। ইনশাআল্লাহ আমরা এই যাত্রাও আপনাদের ভালোবাসা, আপনাদের সহযোগিতা এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীতে.... আমরা আবারো আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আজকে দেশের মানুষের অকৃতিম ভালোবাসার প্রতীক সেটি আজকে প্রমাণিত, সেই লক্ষ্যেই আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।’
ডা. জাহিদ বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করেছেন- ধৈর্য ধারণ করার জন্য এবং উনি সার্বক্ষণিকভাবে বিরামহীনভাবে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া চিকিৎসাকার্য সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। কোন ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আপনাদেরকে অনুরোধ করছি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সুস্থতার জন্য আপনাদের মাধ্যমে দেশ তথা সব ধর্মের মানুষের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।
যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা আজ আসছেন জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আজকেও ইউকে থেকে উনাকে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞরা আসবেন এবং উনারা দেখবেন। দেখার পরবর্তীতে উনাকে যদি ট্রান্সফারেবল হয়, আমাদের যদি ট্রান্সফার করার প্রয়োজন পড়ে, উনার মেডিকেল বোর্ড মনে করে তখনই উনাকে যথাযথ সময়ে উনাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল প্রস্তুতি আছে। কিন্তু সর্বোচ্চটা মনে রাখতে হবে যে রোগীর বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোপরি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের বাইরে কোন কিছু করার সুযোগ এই মুহূর্তে আমাদের নেই।’
দলের নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া কারো ব্রিফিংয়ে কান দেবেন না এমন আহ্বান জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আমাদের দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ উনার স্বাস্থ্য ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে আপনাদেরকে মাঝে-মাঝে ব্রিফ করবেন। আমি ডাক্তার এসএম জাহিদ হোসেন দলের একজন কর্মী, আমি আপনাদেরকে উনার স্বাস্থ্য নিয়ে ব্রিফ করব।’ এর বাইরে আপনারা অন্য কারো ব্রিফিংয়ের প্রতি কোন ধরনের কান না দেওয়ার জন্য দল আপনাদেরকে অনুরোধ করেছে। আপনারা যদি এটা মানেন, ফলো করেন তাহলে আর কোন গুজব ছড়ানোর সুযোগ থাকে না।
তারেক রহমান সর্বক্ষণ তদারকি করছেন জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার এই চিকিৎসক বলেন, বিভিন্ন ধরনের গুজব, বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য বিভিন্ন জায়গায় দেখার পরিপ্রেক্ষিতে দলের পক্ষ থেকে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার তদারকি করছেন। চিকিৎসার সমস্ত বিষয়ে তিনি দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে আমাদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন।’
জাহিদ বলেন, ‘দলের মহাসচিব এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সারা দেশের মানুষের মতো প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার ব্যাপারে যথাযথ সহযোগিতা, এই হাসপাতাল হাসপাতালের চিকিৎসক নার্স এবং সব কর্তৃপক্ষ দিয়ে যাচ্ছেন এবং আমরা সবার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’
তিনি বলেন, আমাদের বন্ধু প্রতীম দেশ যারা অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, আমাদের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এই চিকিৎসার ব্যাপারে তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
অধ্যাপক জাহিদ জানান, গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতত্বে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরদের সমন্বয়ে মেডিকেল বেগম জিয়ার চিকিৎসা সেবায় কাজ করছেন। এই মেডিকেল বোর্ড রয়েছেন, অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক নুরুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক এ কিউ এম মহসিন, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক জিয়াউল হক, অধ্যাপক মাসুম কামাল, অধ্যাপক এজেড এম সালেহ অধ্যাপক অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম, ডাক্তার জাফর ইকবাল. বাংলাদেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রফেসর হাবিবুর রহমান, প্রফেসর রফিকউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর জন হ্যামিল্টন, প্রফেসর ডক্টর হামিদ রব, যুক্তরাজ্য থেকে প্রফেসর জন পেট্রিক, প্রফেসর জেনিফার ক্রস, ডাক্তার জুবাইদা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এবং বাংলাদেশের চিকিৎসকদের যৌথভাবে গঠিত মেডিকেল টিম কাজ করছেন।
গত ২৭ নভেম্বর থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ। সূত্র: বাসস
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মেয়াদে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে অবসরে যাওয়া তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষককে অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বিদায়ী সংবর্ধনা গ্রহণকারী তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষক হলেন, সন্তোশ কুমার, মো: ফজলুল আমিন, মো: সোহরাওয়ার্দী।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার টবগী ইউনিয়নে পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, সাইফুল ইসলাম কামরুছ, পরিচালক, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রনজিৎ চন্দ্র দাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বোরহাউদ্দিন।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাখাওয়াত হোসাইন হাওলাদার, উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক বাংলাদেশ বানী, কাজী শহীদুল আলম নাসিম, যুগ্ন আহ্বায়ক, বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপি, কাজল মিয়া হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক, টবগী ইউনিয়ন বিএনপি, বশির আহমেদ, সভাপতি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, মানসুর হাওলাদার, জাকারিয়া আজম, অধ্যক্ষ, হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয়, জসিমউদ্দিন হাওলাদার, চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, কামাল হাওলাদার, সাবেক চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, আঃ হান্নান মিঠু, সভাপতি, হাকিমুদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসা, তন্ময় শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মলংচড়া ইউনিয়ন বিএনপি। এছাড়াও বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় দীর্ঘ ১০ মাস ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজারের পদ শূন্য রয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন সরোয়ার ইউসুফ জামান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিলন হোসেন। শিক্ষা কর্মকর্তা অবসরে যান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার বদলি হয়ে অন্যত্র যোগদান করেন। এরপর থেকে এ দুই পদে কেউ নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে গাবতলী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সারিয়াকান্দির কার্যক্রম দেখছেন। তবে একাধারে দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করায় সারিয়াকান্দিতে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও তদারকি হচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
এ অবস্থায় বিদ্যালয়গুলোতে নানা প্রশাসনিক ও একাডেমিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের কাজের সমন্বয়, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সারিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাকী মো. জাকিউল আলম বলেন, “দীর্ঘদিন শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। ফাইলপত্র জমা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় শিক্ষকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।”
মথুরপাড়া কাজী বছির উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি মো. তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, “নিয়মিত শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষার মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষকদের সমস্যা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আতিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি শিক্ষা বিভাগের হলেও আমি ইতোমধ্যে জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। দ্রুত পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করছি।”
বগুড়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, “সারিয়াকান্দির শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত গাবতলীর শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে কাজ করছেন। দ্রুত পদ পূরণের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয় শিক্ষাবন্ধুরা মনে করছেন, দ্রুত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজার নিয়োগ না হলে উপজেলার শিক্ষার মান আরও পিছিয়ে পড়বে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলের একটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। রোববার সকালের এ ঘটনায় দগ্ধদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন- কারখানাটির শ্রমিক আলআমিন (৩০), আজিজুল্লা (৩২), সেলিম (৩৫), জালাল মোল্লা (৪০), নাজমুল হুদা (৩৫) এবং সিকিউরিটি গার্ড সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ (৩৫)।
জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কারখানাটির নিচ তলায় কাজ করছিলেন ওই শ্রমিকেরা। এক পর্যায়ে গ্যাস লাইন থেকে বিকট একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ছয় শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, সবার অবস্থাই গুরুতর। দগ্ধদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর নিরাপত্তাহীনতায় পুনরায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় গারো পাহাড় সীমান্তে মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যসহ ৭ জনকে আটক করেছে বিজিবি।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল পৌণে সাতটার দিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার নকশি সীমান্ত পথে নকশি ক্যাম্পের টহলরত বজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে বিকেলে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
বিষয়টি ২৬ আগষ্ট সকালে বিজিবি পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।
আটককৃতরা হলো মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রমজান আলী (২৪) ও আসমত আলীর ছেলে রাসেল (১৬)। আটক অনুপ্রবেশকারীরা হলো, নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বোমবাঘ গ্রামের শামীম শেখ (২৩), আফসানা খানম (২২), রুমা বেগম (৩২), মিলিনা বিশ্বাস (২৮) ও তিন বছর বয়সী শিশু কাশেম বিশ্বাস।
বিজিবি এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, মাথাপিছু ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে গত ২৩ আগস্ট রাতের আধারে নালিতাবাড়ীর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে নারী এবং শিশুসহ ৫ বাংলাদেশীকে ভারতে পাঠায় মানব পাচারকারী রমজান আলী ও রাসেল। কিন্তু ভারতীয় পুলিশের তৎপরতায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এ পাঁচ বাংলাদেশী। এ কারণে ২৫ আগষ্ট সোমবার সকাল পৌণে সাতটার দিকে ঝিনাইগাতির নকশি সীমান্তের কালিমন্দির এলাকা দিয়ে পুনরায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা টের পেয়ে সবাইকে আটক করে। পরে মানব পাচারে জড়িত দুইজনের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে এবং অন্য ৫ জনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অপরাধে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং সবাইকে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ময়মনসিংহ বিজিবি’র ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
ঝালকাঠিতে গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় এনে ব্রান্ডশপ লোটো ও লি কুপার প্রতিষ্ঠানটি তাদের ১৩২তম ফ্লাগশিপ আউটলেট উদ্বোধন করেছে।
এক্সপ্রেস লেদার প্রোডাক্ট লিঃ এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর কাজী জাভেদ ইসলাম সহ কোম্পানির অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে নিয়ে ফিতা কেটে আউটলেটটি উদ্বোধন করেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
পৌর শহরের সাধনার মোড়ে মঙ্গলবার ২৬ আগষ্ট সকাল ১০টায় লোটো ও লি কুপারের ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটদ্বয়ের শুভ উদ্বোধন আনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঝালকাঠিতে কোম্পানীর এ যাত্রার প্রথম দিনে স্থানীয় ফ্যাশন সচেতন তরুণ তরুণীরা তাদের পছন্দের পন্য কালেকশন বেছে নিতে ভীর জমায়।
কোম্পানীর পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রথম তিনদিনের প্রতিদিন প্রথম ৩০ জন পাবেন ৫০% ছাড়, ২য় ৩০ জন পাবেন ৪০% ছাড়, ৩য় ৩০ জন পাবেন ৩০% ছাড়, ৪র্থ ৩০ জন পাবেন ২০% ছাড় এবং তৎপরবর্তী সকল কাস্টমার পাবেন ১০% ছাড়। এই বিশেষ ছাড় ২৬শে আগষ্ট থেকে শুরু হয়ে ২৮ তারিখ পর্যন্ত চলমান থাকবে
নওগাঁয় সপ্তম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে আটক রেখে ধর্ষণ মামলায় আ: সালাম (৩৮) নামে এক আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার এ রায় দেন।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আ: সালাম সদর উপজেলার বর্ষাইল মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ওই শিক্ষার্থীর পরিবার পত্নীতলা উপজেলায় ভাড়া থাকতেন। ভাঙ্গারী ব্যবসার সুবাদে আসামী আ: সালামও পাশাপাশি একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ভিকটিম মাদ্রাসায় যাওয়া আসার পথে আ: সালাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতো এবং রাস্তাঘাটে বিরক্ত করতো। বিষয়টি জানাজানি হলে আসামী আ: সালাম ওই ভিকটিমের পরিবারকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখাতো। এরই একপর্যায়ে ২০২২ সালের ১১ জুলাই বিকেল তিনটার দিকে আসামী আ: সালাম একটি বাজার এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নওগাঁ সদর উপজেলার ভবানীপুর দক্ষিন পাড়া গ্রামের মোজাফ্ফর রহমানের ভাড়া বাড়িতে আটক রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা পত্নীতলা থানায় অভিযোগ করলে র্যাব ওই বাড়ি থেকে আসামিকে গ্রেফতার ও মেয়েকে উদ্ধার করে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা থাকায় আসামী আ: সালামসহ চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আজ আ: সালামকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। বাকি আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়।
মামলার এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম সন্তোষ প্রকাশ করেন। আসামী পক্ষের আইনজীবী ফাহমিদা কুলসুম উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান।
মন্তব্য