× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
The police took note of the identity of the harassers
hear-news
player
print-icon

তরুণীকে হেনস্তাকারীদের পরিচয় টুকে নিয়েছিল পুলিশ

তরুণীকে-হেনস্তাকারীদের-পরিচয়-টুকে-নিয়েছিল-পুলিশ
মডেল থানা পুলিশের এএসআই ইকবালের কাছে হেনস্তাকারীদের তথ্য থাকার পরও কেন তাদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না- এ প্রশ্ন করা হলে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমায়েদুল বলেন, ‘থানা পুলিশ এ বিষয়ে আমাদের কোনো তথ্য দেয়নি।’

নরসিংদী রেলস্টেশনে ‘অশালীন পোশাক’ পরার অভিযোগ তুলে তরুণীকে হেনস্তাকারীদের কাউকেই দুই দিনে শনাক্ত করেনি রেলওয়ে বা থানা পুলিশ। তবে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময়ই থানা পুলিশ গিয়ে তরুণী ও হেনস্তাকারী সবার নাম-ঠিকানা লিখে নিয়েছিল।

ফেসবুকে হেনস্তার ভিডিও ভাইরাল হলে ও সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার হলে ঘটনার দুই দিন পর শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছে জেলা প্রশাসন। হেনস্তায় জড়িতদের ধরতে রেল কর্তৃপক্ষও নড়েচড়ে বসেছে।

নরসিংদী জেলা প্রশাসনের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে স্টেশনে যায়। তারা স্টেশন কর্তৃপক্ষ ও আশপাশের কয়েকজনকে ঘটনার বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

প্রতিনিধি দলের প্রধান জেলা প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্যামল চন্দ্র বাসাক বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদারক করছে। সিসিটিভির ফুটেজগুলো রেলওয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সংগ্রহ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সার্বিক ব্যবস্থা নিতে তৎপর জেলা প্রশাসন।’

নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ি ভৈরব রেলওয়ে থানার অধীন। হেনস্তাকারীদের শনাক্তের বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি ফেরদৌস আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নরসিংদী রেলস্টেশনে তরুণীকে হেনস্তার বিষয়ে রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ আমাকে অবগত করেছেন। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখেছি। তবে এ বিষয়ে ফাঁড়িতে এখনও পর্যন্ত কারও অভিযোগ আসেনি।

‘আমি সন্ধ্যায় রেলস্টেশন পরিদর্শন করেছি। সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়ে বিবেচনা করে তরুণীকে হেনস্তাকারীদের ধরতে তৎপর আছি।’

হেনস্তাকারীদের খোঁজ পায়নি বলে দাবি করেছে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ।

তরুণীকে হেনস্তাকারীদের পরিচয় টুকে নিয়েছিল পুলিশ
রেলস্টেশন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দল। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি সাগাতুল আলম জানান, ঘটনার দিন ভোরে ৯৯৯-এ কল আসে। রেলস্টেশনে ‘তরুণ-তরুণী’দের হেনস্তা করা হচ্ছে এমন খবর দেয়া হয়। তখন মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক ইকবাল হোসেন ঘটনাস্থলে যান।

ওসি বলেন, ‘বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশের হওয়ায় তখন বিস্তারিত নেয়া হয়নি। আমরা এখন খোঁজখবর নিচ্ছি।’

যা ঘটেছিল

ফেসবুকে হেনস্তার ভিডিওটি ভাইরাল হয় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে বুধবার ভোরে ঘটনাটি ঘটে।

বৃহস্পতি ও শুক্রবার স্টেশন ঘুরে কথা হয় দুই দোকানদার মো. আমিনুল ও ইখলাস উদ্দিন এবং ভাসমান পণ্য বিক্রেতা মো. মেহেদীর সঙ্গে। পুরো ঘটনা তারা দেখেছেন।

তারা নিউজবাংলাকে জানান, ভোরে ঢাকামুখী ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই দুই যুবক ও সেই তরুণী। হঠাৎ পাশ দিয়ে যাওয়া এক বৃদ্ধ মেয়েটিকে দেখে বলে ওঠেন, ‘আপনার বাড়ি কই? কাল রাতেও এখানে আসছেন। আজকেও আসছেন। এসব পোশাক পরে কেউ স্টেশনে আসে নাকি?’

মেয়েটির সঙ্গে থাকা হলুদ রঙের টি-শার্ট পরা তরুণ ওই বৃদ্ধকে তখন বলেন, ‘আপনি এসব কেন জিজ্ঞেস করছেন? আপনি এভাবে প্রশ্ন করতে পারেন না।’

এ নিয়ে বৃদ্ধের সঙ্গে ওই যুবকের বাগ্‌বিতণ্ডার মধ্যে আরেক নারী এসে মেয়েটির পোশাক নিয়ে কটাক্ষ ও গালমন্দ করতে থাকেন।

ততক্ষণে চারপাশে কিছু লোক জড়ো হয়ে যায়। ওই বৃদ্ধ ও নারীর সঙ্গে আরও কয়েকজন যোগ হয়ে ওই তরুণী ও যুবককে গালমন্দ করতে থাকেন। ওই যুবকও তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে যান। একপর্যায়ে আরেক ব্যক্তি যুবককে ধাক্কা দেন। মেয়েটি তখন যুবককে নিয়ে সরে যেতে চেষ্টা করলে ওই নারী মেয়েটিকে টানাহেঁচড়া করতে থাকেন।

তরুণীকে হেনস্তাকারীদের পরিচয় টুকে নিয়েছিল পুলিশ

তরুণী ও সঙ্গে থাকা দুই যুবক সরে গিয়ে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে আশ্রয় নেন।

প্রত্যক্ষদর্শী দুই দোকানদার আরও জানান, তখনই ঢাকাগামী চট্টগ্রাম মেইল ট্রেন চলে আসায় ওই তরুণী ও সঙ্গে থাকা প্রতিবাদকারী যুবক তাতে উঠে চলে যান। সব মিলিয়ে পুরো ঘটনাটি মিনিট দশেকের।

তবে ভাসমান দোকানদার মেহেদী নিউজবাংলাকে জানান, ঘটনার সূত্রপাত এক নারীর কটাক্ষের জেরে হয়েছে।

তিনি জানান, ওই যুবক ও তরুণীকে গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার ট্রেনে করে নরসিংদী নামতে দেখেছেন। বুধবার ভোরে তারা আবার ঢাকা যাওয়ার ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলেন। সে সময় এক নারী মেয়েটির পোশাক নিয়ে প্রথম মন্তব্য করেন।

মেহেদী বলেন, ‘ওই নারী মেয়েটাকে বলতে থাকে যে এসব পোশাক পরে কেন ঘোরাঘুরি করছে, তার বাড়ি কই। ওই নারী মেয়েটার ভিডিও করতে নেয়। তখন মেয়েটার সঙ্গে থাকা একটা ছেলে প্রতিবাদ করতে থাকে। সে সময় কালো শার্ট পরা একটা লোক ওই ছেলেকে ধাক্কা দেয়। মেয়েটা তখন মোবাইল বের করে কাউকে কল করতে থাকে। এসবের মধ্যে ওই নারী মেয়েটার দিকে তেড়ে যায়।’


যা বলছে পুলিশ ও রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ

নরসিংদী মডেল থানার এএসআই ইকবাল হোসেন ঘটনার সময় ৯৯৯-এ কল পেয়ে সেখানে গিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করেন। এ বিষয়ে জানতে তাকে ফোন করে নিউজবাংলা।

তিনি জানান, ৯৯৯-এ কল দিয়েছিলেন একজন পুরুষ। তিনি রেলস্টেশনে ঝামেলা হচ্ছে জানিয়ে দ্রুত যেতে বলেন।

ইকবাল বলেন, ‘আমি কল পেয়ে যাই। মেয়েটিকে আর তার সঙ্গে থাকা আরেক যুবককে ট্রেনে তুলে দিই।’

ঘটনাস্থলে গিয়েও হেনস্তাকারীদের কেন ধরা হয়নি? জানতে চাইলে, ‘এখন ব্যস্ত আছি, কথা বলতে পারব না’- বলে ফোন কেটে দেন তিনি। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

রেলস্টেশন ঘুরে জানা গেছে, ঘটনার সময় হট্টগোল শুনে এগিয়ে গিয়েছিলেন রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল এনামুল হক। তবে শুক্রবার গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল নাম্বারে কল দিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়।

তরুণীকে হেনস্তাকারীদের পরিচয় টুকে নিয়েছিল পুলিশ

এনামুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি টহলে ছিলাম। ওই প্ল্যাটফর্মে হইচই হচ্ছে শুনে আমি এগিয়ে যাই। তখন দেখি মডেল থানার এএসআই ইকবাল সেখানে আছেন। আমি তার সঙ্গেই স্টেশন মাস্টারের কক্ষে ঢুকি।

‘সেখানে ইকবাল স্যার হেনস্তার শিকার যুবক, তরুণী ও হেনস্তাকারী নারী ও পুরুষের নাম-পরিচয়, মোবাইল নাম্বার সবই লিখে নেন।’

এনামুল জানান, এরপর তিনি এবং এএসআই ইকবাল মেয়েটি ও তার সঙ্গে থাকা হলুদ টি-শার্ট পরা যুবককে ট্রেনে তুলে দেন।

হেনস্তার শিকার ও হেনস্তাকারীদের নাম-পরিচয় এএসআই ইকবাল টুকে রেখেছিলেন বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছে ঘটনার আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।

রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ইমায়েদুল জাহেদী শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসন থেকে স্যারেরা এসেছেন। ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি স্যারও এসেছেন। তারা আমাদের ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। আমরা মাঠে আছি। অভিযোগ না পেলেও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছি।’

মডেল থানা পুলিশের এএসআই ইকবালের কাছে হেনস্তাকারীদের তথ্য থাকার পরও কেন তাদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না- এ প্রশ্ন করা হলে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমায়েদুল বলেন, ‘থানা পুলিশ এ বিষয়ে আমাদের কোনো তথ্য দেয়নি।’

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই নিউজবাংলার প্রতিনিধিকে কল করে এএসআই ইকবাল নাম টুকে রাখার তথ্য অস্বীকার করেন।

হেনস্তার শিকার ওই তরুণী ও তার সঙ্গে থাকা যুবকদের পরিচয় জানা যায়নি বলে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

তবে ওই তরুণী, তার সঙ্গী বা তাদের পরিচিত কেউ ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য জানাতে বা কোনো তথ্য দিতে চাইলে +৮৮ ০৯৬০২১১১৮৭৪ নম্বরে কল দিয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

আরও পড়ুন:
নওগাঁর স্কুলে ‘হিজাব বিতর্ক’: ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
অধ্যক্ষ-প্রভাষকের বাগ‌বিতণ্ডার ভি‌ডিও ভাইরাল
স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করার অভিযোগে গ্রেপ্তার
ধর্মনিরপেক্ষতাবিরোধী পোস্ট দেয়া নিষেধ পুলিশের
সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ব্যাংকারকে লাঞ্ছনার অভিযোগ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Abolition of Abortion Rights Act in the United States

যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত অধিকার আইন বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাত অধিকার আইন বাতিল প্রায় ৫০ বছর ধরে গর্ভপাতের জন্য সাংবিধানিক সুরক্ষা শেষ করার পর গর্ভপাতবিরোধী আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের বাইরে উদযাপন করছেন। ছবি: এপি
প্রজনন অধিকার সংগঠন গুটমাচার ইনস্টিটিউট বলছে, ১৯৭৩ সালের আইনি নজির উল্টে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৪টির বেশি রাজ্যে এখন গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নিম্ন আয়ের নারীর ওপর প্রভাব ফেলবে।

যুক্তরাষ্ট্রে বাতিল হলো গর্ভপাত অধিকার আইন। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত শুক্রবার ঐতিহাসিক এ রায় দেয়। এতে দেশজুড়ে গর্ভপাতকে বৈধতা দেয়া ১৯৭৩ সালের আইনি সিদ্ধান্ত ‘রো বনাম ওয়েড’ আর থাকছে না। ফলে প্রতিটি রাজ্যই এখন নিজস্বভাবে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিতে পারবে।

রায়ে বিচারকরা জানান, সংবিধান গর্ভপাতের অধিকার দেয় না। সিদ্ধান্তের পক্ষে সমর্থন দেন ছয়জন বিচারক, বিপক্ষে তিনজন।

এ রায়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে। প্রজনন অধিকারের সমর্থকরা বলছেন, লাখ লাখ নারী গর্ভপাত পরিষেবাগুলো নিতে পারবেন না।

প্রজনন অধিকার সংগঠন গুটমাচার ইনস্টিটিউট বলছে, ১৯৭৩ সালের আইনি নজির উল্টে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৪টির বেশি রাজ্যে এখন গর্ভপাত নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নিম্ন আয়ের নারীর ওপর প্রভাব ফেলবে।

বিচারকরা জানান, আগের আইনে ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত বৈধ ছিল। এটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ সংবিধানে গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ নেই।

রো বনাম ওয়েডের রায়ে যুক্তি দেয়া হয়েছিল, সংবিধানের অধীনে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার একজন নারীর গর্ভাবস্থা বন্ধ করার ক্ষমতাকে রক্ষা করে।

সুপ্রিম কোর্ট ১৯৯২ সালের সাউথইস্টার্ন পেনসিলভানিয়া বনাম ক্যাসি প্ল্যানড প্যারেন্টহুড নামে একটি রায়ে গর্ভপাতের অধিকারকে পুনরায় নিশ্চিত করেছিল। রায়ে বলা হয়েছিল, গর্ভপাতের বিষয়ে ‘অযথা বোঝা’ চাপিয়ে দেয়া আইনগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো বলেন, ‘রো এবং প্ল্যানড প্যারেন্টহুড বনাম কেসি ভুল ছিল। এটি অবশ্যই বাতিল করা উচিত।

‘আমরা মনে করি যে রো এবং কেসিকে অবশ্যই বাতিল করা উচিত। সংবিধানে গর্ভপাত উল্লেখ নেই। এ ধরনের অধিকার সাংবিধানিক বিধান দ্বারা সুরক্ষিত নয়।’

বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, নিল গর্সুচ, ব্রেট কাভানাফ এবং অ্যামি রায়ের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিপক্ষে দেয়া তিন বিচারপতি ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত।

উদারপন্থি বিচারপতি স্টিফেন ব্রেয়ার, সোনিয়া সোটোমায়র এবং এলেনা কাগান ভিন্নমত পোষণ করেন।

তারা জানান, ‘এটা আদালতের জন্য দুঃখের খবর। তবে লাখ লাখ আমেরিকান নারী আজ একটি মৌলিক সাংবিধানিক সুরক্ষা হারিয়েছেন। আমরা ভিন্নমত পোষণ করছি।’

জনমত জরিপ দেখা গেছে, বেশির ভাগ আমেরিকান গর্ভপাতের অধিকারকে সমর্থন করেন।

গত মাসের শুরুর দিকে সুপ্রিম কোর্টের ফাঁস হওয়া একটি গোপন খসড়া নথিতে ঐতিহাসিক গর্ভপাত অধিকার আইন বাতিল হতে পারে বলে আভাস মিলেছিল। রাজনীতিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো সেই নথি প্রকাশ করেছিল।

আরও পড়ুন:
অনাগত সন্তানকে বাঁচাতে স্বামীর নামে মামলা
‘যৌতুক না পেয়ে’ গর্ভপাত, স্বামী-নার্সসহ গ্রেপ্তার ৫
কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের গর্ভপাত ৪৩ শতাংশ বেশি: গবেষণা
অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণে দ্বিগুণ বেড়েছে গর্ভপাত
এক নারীর পরিবর্তে আরেক জনের গর্ভপাতের চেষ্টা তদন্তে কমিটি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mothers are uncomfortable breastfeeding in public

নিরাপদ স্তন্যদানে ব্রেস্টফিডিং কর্নার চান ঠাকুরগাঁওয়ের নারীরা

নিরাপদ স্তন্যদানে ব্রেস্টফিডিং কর্নার চান ঠাকুরগাঁওয়ের নারীরা
বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষায় থাকা রিয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা মায়েরা যেকোনো পরিস্থিতিতে বাচ্চাকে দুধ পান করাব। তাই বলে কি ফিডিংয়ের উন্নত ব্যবস্থা হবে না? সরকারের বিষয়টি নিয়ে কাজ করা উচিত।’

ঠাকুরগাঁও রোড রেলস্টেশনে রাজশাহীগামী আন্তনগর বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন শারমিন ইসলাম। কোলে তার তিন মাসের সন্তান।

কিছুক্ষণ পর শিশুটি কেঁদে উঠলে তাকে বুকের দুধ খাওয়াতে এদিক-সেদিক আড়াল খুঁজতে থাকেন শারমিন। উপযুক্ত কোনো স্থান না পেয়ে লোক সমাগমের মধ্যেই অস্বস্তি নিয়ে কাপড় দিয়ে ঢেকে সন্তানকে খাওয়ান তিনি।

এভাবে জনসমাগমস্থলে বসে সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরিস্থিতিকে অনিরাপদ ও সন্তানের প্রতি জুলুম বলে মনে করেন শারমিন।

তিনি বলেন, ‘একজন নবজাতককে এভাবে অনিরাপদভাবে বুকের দুধ খাওয়ানো তার প্রতি জুলুম। কাপড়ের ঢাকনা দিয়ে দুধ পান করানো তার জন্য ঝুঁকি। তারপরেও তার ক্ষুধা নিবারণের জন্য এ ঝুঁকি আমাকে নিতে হয়েছে।

‘স্টেশনে একটা ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার থাকলে আমরা সহজেই স্বাচ্ছন্দ্যে বেবিকে বুকের দুধ পান করাতে পারি। কর্তৃপক্ষের বিষয়টি ভাবা উচিত।’

নিরাপদ স্তন্যদানে ব্রেস্টফিডিং কর্নার চান ঠাকুরগাঁওয়ের নারীরা

এ ভাবনা এক বছর বয়সী সন্তানের মা পারুল বেগমেরও। রেলস্টেশনে কথা হয় তার সঙ্গে।

পারুল বলেন, ‘রাজশাহী যাব। সঙ্গে কেউ নেই। আমি জানি না আমার পাশের আসনে কে টিকিট কেটেছেন।

‘যেহেতু ট্রেন নিরাপদ বাহন তাই এতেই ভ্রমণ করি৷ কিন্তু ট্রেনের ভেতরে কোনো ব্রেস্ট ফিডিংয়ের ব্যবস্থা নাই। ভেতরেও এ সেবা নিশ্চিত করা উচিত। তাহলে আমরা অস্বস্তিতে পড়ব না।’

জেলা শহরের বিআরটিসি বাস কাউন্টারেও শিশুর মায়েদের এমন অস্বস্তিতে পড়তে হয় প্রতিনিয়ত।

রংপুর যাওয়ার জন্য শিশুসন্তানকে নিয়ে সেখানে অপেক্ষায় আছেন রিয়া আক্তার নামে এক যাত্রী। বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় বেশ বিব্রতই দেখাচ্ছিল তাকে।

তিনি বলেন, ‘বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। এখানে কোনো ব্রেস্ট ফিডিংয়ের ব্যবস্থা নাই। তাই লোকসম্মুখে বসে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াতে হচ্ছে।

‘আমরা মায়েরা যেকোনো পরিস্থিতিতে বাচ্চাকে দুধ পান করাব। তাই বলে কি ফিডিংয়ের উন্নত ব্যবস্থা হবে না? সরকারের বিষয়টি নিয়ে কাজ করা উচিত।’

শুধু পরিবহন স্পটই নয়, জেলার ক্লিনিকগুলোতেও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার নেই।

শহরের বাসিন্দা হেলাল উদ্দীন বিশাল জানান, তার ছোট বাচ্চা আছে। বাইরে গেলে তার স্ত্রী সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে বিব্রত বোধ করেন। কারণ কোথাও কোনো আড়াল পান না।

হেলাল বলেন, ‘অনেক শিশু ডাক্তারের চেম্বারে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার নেই। শহরে ও শহরের বাইরের এলাকাসহ অনেক শিশু চিকিৎসক বসেন। তাদের কাছে অনেক রোগীও আসেন। কিন্তু সে চেম্বারগুলোতে বুকের দুধ পান করাতে গিয়ে বিব্রত হন মায়েরা।

‘রাস্তাঘাটে চলন্ত রিকশা ও ইজিবাইকেও শিশুদের ওড়না দিয়ে ঢেকে দুধ পান করাতে দেখেছি। সে ক্ষেত্রে পাবলিক ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারও হতে পারে।’

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম চয়ন বলেন, ‘হাসপাতালে প্রতিদিন নরমাল ও সিজার ডেলিভারি হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ৮০-১০০ জন শিশু ভর্তি থাকছে। এখানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার রয়েছে। কিন্তু ক্লিনিকগুলোতে তাদের সেবার মানের কথা চিন্তা করে উদ্যোগ নিতে পারেন ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার বানানোর। এটা নিঃসন্দেহে একটা সভ্য সুবিধা নবজাতক ও মায়েদের জন্য।’

কাপড়ে ঢেকে দুধ খাওয়াতে গেলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে শিশুর? এর জবাবে ডা. রাকিবুল বলেন, ‘সন্তানকে বুকের দুধ পান করানোর সময় অবশ্যই মায়ের নজর সন্তানের ওপর রাখতে হবে। নাহলে দুধ গলায় আটকে গেলে বা বাচ্চাকে দেখতে না পেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

‘শাড়ির আঁচল কিংবা ওড়না দিয়ে ঢেকে দুধ পান করানো ঝুঁকিপূর্ণ। যেসব স্থানে জনসমাগম রয়েছে, সেসব স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন খুবই জরুরি।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো. শামসুজ্জোহা জানান, জনসমাগমস্থলে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে।

একই আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মাহাবুবুর রহমানও।

তিনি বলেন, ‘রেলস্টেশনের একটি নিজস্ব অথরিটি আছে। ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারের বিষয়ে আমি তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। এ ছাড়া প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে যেখানে পাবলিক সার্ভিস দেয়া হয়, সবখানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার করার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করব।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The classmates prevented the teenagers marriage

সহপাঠীরাই ঠেকিয়ে দিল কিশোরীর বিয়ে

সহপাঠীরাই ঠেকিয়ে দিল কিশোরীর বিয়ে কিশোরীর বালবিয়ের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ সহপাঠীরা।
চাটখিলের ইউএনও জানান, কম বয়সে বিয়ে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে কনের বাবাকে ২ হাজার ও বরপক্ষকে ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

স্কুলের সহপাঠীদের বিক্ষোভের মুখে নোয়াখালীর চাটখিলে ১৩ বছরের এক কিশোরীর বিয়ে পণ্ড করে দিয়েছে প্রশাসন।

বুধবার দুপুরে উপজেলার ৪ নম্বর বদলকোট ইউনিয়নের মধ্য বদলকোট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম মুসা।

ইউএনও জানান, বদলকোট ইউনিয়নের দারুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর বিয়ে বন্ধের দাবিতে লাল পতাকা হাতে বিক্ষোভ করে তার বাড়িতে গিয়ে হাজির হয় সহপাঠীরা। পরে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

এ সময় কম বয়সে বিয়ে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে কনের বাবাকে ২ হাজার ও বরপক্ষকে ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে দেয়া হবে না মর্মে মুচলেকা দেয় তার পরিবার।

বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে অবহিত করা ও এ ধরনের বিয়ে বন্ধ করার জন্য উপজেলায় একটি কমিটি রয়েছে বলেও জানান ইউএনও।

আরও পড়ুন:
লেখাপড়া করতে বিয়ে ভাঙল কিশোরী
ছেলের বাল্যবিয়ে দিলেন স্কুলশিক্ষক
মুচলেকা দিয়ে গেলেন বর
বউ নয়, জুটল হাতকড়া
বিয়ের স্বপ্ন পূরণ হলো না হেলিকপ্টারে চড়েও

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Storm in China over gender inequality

জেন্ডার বৈষম্য নিয়ে চীনে ঝড়

জেন্ডার বৈষম্য নিয়ে চীনে ঝড়   সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে হামলার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বারবিকিউ রেস্তোরাঁয় একজন এগিয়ে যাচ্ছেন এক নারীর দিকে। একসময় ওই নারীর পিঠে হাত রাখেন ওই ব্যক্তি। নারীটি তাকে তখন ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। পুরুষটি উঠেই ওই নারীকে মারধর শুরু করেন। তার আগে আরেকজন ওই নারীকে টেনে বাইরে নিয়ে যান। সেখানে মেঝেতে ফেলে তাকে মারধর করতে থাকেন।

চীনে একটি রেস্তোরাঁয় একদল নারীর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় একজন উপপুলিশ পরিচালককে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তাংশান শহরের ওই হামলায় একদল পুরুষ চারজন নারীকে মারধর করেন। ভাইরাল ভিডিওটি চীনে জেন্ডারকেন্দ্রিক সহিংসতা ইস্যুতে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলা পুলিশের উপপরিচালক এবং অন্য কর্মকর্তারা ঘটনার দিন অকারণে সময়ক্ষেপণ করেছেন।

প্রাদেশিক জননিরাপত্তা বিভাগের ওই প্রতিবেদনে এটা স্পষ্ট করা হয়নি যে পুলিশের উপপরিচালক লি-কে চাকরিচ্যুত নাকি বরখাস্ত করা হয়েছে।

ঘটনাটি ১০ জুন রাতে উত্তর হুবেই প্রদেশের লুবেই জেলার তাংশান শহরের একটি রেস্তোরাঁয় ঘটে।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বারবিকিউ রেস্তোরাঁয় একজন এগিয়ে যাচ্ছেন এক নারীর দিকে। একসময় ওই নারীর পিঠে হাত রাখেন ওই ব্যক্তি। নারীটি তাকে তখন ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। পুরুষটি উঠেই ওই নারীকে মারধর শুরু করেন। তার আগে আরেকজন ওই নারীকে টেনে বাইরে নিয়ে যান। সেখানে মেঝেতে ফেলে তাকে মারধর করতে থাকেন।

ভিডিওতে দলটিকে তাদের সঙ্গে খাবারে অংশ নেয়াদের ওপরও হামলা চালাতে দেখা যায়। এ সময় অন্য এক নারী তাদের থামাতে গেলে তাকে ধাক্কা মারা হয়।

আহত দুই নারীকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সামান্য আঘাত। তবে বাস্তবে দেখা গেছে, তাদের কথা সত্যি না। আঘাত বেশ গুরুতর। ভিডিওতে আরও দুই নারীর রক্তাক্ত চেহারা দেখা গেছে।

গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় ৩টা ৯ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের ডাকা হয়েছিল ২টা ৪১ মিনিটে। অর্থাৎ খবর পাওয়ার আধঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই সময়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

জেন্ডার বৈষম্য নিয়ে চীনে ঝড়

পরে পুলিশ জানায়, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজন অবৈধ জুয়া, অপহরণসহ নানা অপরাধে যুক্ত থাকতে পারেন। তারা কোনো অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশকে ধুয়ে দিচ্ছেন অনেকে। ঘটনাটি তীব্র ক্ষোভ আর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে নেট দুনিয়ায়।

চীনের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ওয়েইবোতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি এখন এটি। সেখানে বলা হচ্ছে, নারীর প্রতি সহিংসতা এখনও সাধারণ বিষয়!

অনেকেই হামলাকারীদের কঠিন বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। অনেকে আবার বলছেন, এই দলের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশের সম্পর্ক ভালো ছিল।

পুলিশ অবশ্য এসব মানতে নারাজ। হুবেই প্রাদেশিক জননিরাপত্তা বিভাগ বলছে, দেরিতে পুলিশ পাঠানো এবং শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় মোট পাঁচজন তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বাইডেনকে একনায়কতন্ত্রের ভয় দেখাচ্ছেন শি
চীনের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত ইচ্ছাকৃত: প্রতিবেদন
রাজাপাকসেহীন শ্রীলঙ্কায় ভারতের চোখ কোন দিকে?
মাহিন্দা পতনে ভারতের জয়, চীনের পরাজয়?
চীনে ভবন ধসে ৫৩ মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rape of models in the dark world of fashion

মডেলিংয়ের অন্ধকার জগৎ

মডেলিংয়ের অন্ধকার জগৎ (বাঁ থেকে) মারিয়ান শাইন, ক্যারে সাটন, জিল ডড এবং শাওনা লি। ছবি: স্কাই ইউকে
সাটন যৌন হয়রানির শিকার হওয়া ১১ নারীর মধ্যে একজন যারা প্যারিস প্রসিকিউটরের কাছে সাক্ষী দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন এলিট মডেলিং এজেন্সির সাবেক ইউরোপীয় প্রধান জেরাল্ড তাদের যৌন হেনস্তা করেছেন।

কাস্টিং কাউচ মডেলিং দুনিয়ায় নতুন কিছু নয়। কাজের বিনিময়ে কিংবা কাজের লোভ দেখিয়ে অভিনেত্রী-মডেলদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন কিংবা যৌন হেনস্তাকে বলা হয়ে থাকে কাস্টিং কাউচ। বিষয়টি নিয়ে কয়েক বছর আগে ‘হ্যাশট্যাগ মিটু’ আন্দোলনের ঝড় উঠেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয়।

এবার মডেলিংয়ের অন্ধকার জগৎ নিয়ে আস্ত একটা তথ্যচিত্র নির্মাণ হয়েছে স্কাউটিং ফর গার্লস: ফ্যাশনস ডার্কেস্ট সিক্রেট নামে এই তথ্যচিত্রে চারজন নারী নিজেদের সঙ্গে ঘটা যৌন নির্যাতনের কথা শেয়ার করেন। জানান, মডেল হিসেবে কাজ করার সময় তাদের ওপর এ নির্যাতন হয়।

এমন একজনের নাম ক্যারে সাটন। তিনি বলেন, '১৭ বছর বয়সে আমাকে ফ্যাশন জগতের প্রভাবশালী এক পুরুষ ধর্ষণ করেছিলেন।

‘জেরাল্ড মেরি বিয়ে করেছিলেন সুপারমডেল লিন্ডা ইভাঞ্জেলিস্তাকে। তবে যখন তার স্ত্রী শহরের বাইরে থাকতেন, তখন ওই ফরাসি এজেন্ট আমাকে ধর্ষণ করতেন। ১৯৮৬ সালে তো টানা কয়েক সপ্তাহ নির্যাতন চলে।’

মডেলিংয়ের অন্ধকার জগৎ
১৯৯১ সালে ক্যারে সাটন, তিনি ক্যারি ওরিস নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

জেরাল্ড-ইভাঞ্জেলিস্তার বিয়েবিচ্ছেদ হয় ১৯৯৩ সালে। এর ঠিক ২৭ বছর পর ২০২০ সালে ইভাঞ্জেলিস্তা তার সাবেক সঙ্গী মেরির অভিযুক্তদের সাহসিকতার প্রশংসা করে একটি বিবৃতিতে বলেন, ‘তাদের কথা শুনে এবং নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমি বিশ্বাস করি তারা সত্যিই বলেছে।’

মডেলিংয়ের অন্ধকার জগৎ
জেরাল্ড-ইভাঞ্জেলিস্তা দম্পতি, ১৯৯১ সাল। ছবি: সংগৃহীত

সাটন যৌন হয়রানির শিকার হওয়া ১১ নারীর মধ্যে একজন যারা প্যারিস প্রসিকিউটরের কাছে সাক্ষী দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, এলিট মডেলিং এজেন্সির সাবেক ইউরোপীয় প্রধান জেরাল্ড তাদের যৌন হেনস্তা করেছেন।

ফরাসি আইনে, যৌন নির্যাতনের ২০ বছরের মধ্যে এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ৩০ বছরের মধ্যে অভিযোগ করতে হয়।

সাটন বিশ্বাস করেন, দুই দশকে আরও বেশ কয়েকজন জেরাল্ডের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

স্কাই নিউজকে তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের কখনও পরিবর্তন হয় না। আমার এগিয়ে আসার কারণ, আমার কন্যাসন্তান আছে। আমি চাই না, সে আমার মতো ট্রমার শিকার হোক।

‘এখনও ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি অনিয়ন্ত্রিত এবং আপত্তিজনক। যে কারণে বেশির ভাগ নাবালিকা এবং অল্পবয়সীদের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।’

মডেলিংশিল্পের অপব্যবহার

স্কাউটিং ফর গার্লস: ফ্যাশনস ডার্কেস্ট সিক্রেট নামে একটি নতুন তথ্যচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করার সময় সাটন এবং আরও তিনজন নারী যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দেন।

তিনি জানান, তিনি জানান, তাকে ফটোগ্রাফারদের বাড়িতে কাস্টিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তাকে শরীর দেখাতে বলা হয়।

‘এটি তাদের কাছে খুব স্বাভাবিক বিষয় ছিল। এমনকি আমাদের গভীর রাতে তাদের কাছে যেতে হতো।’

এজেন্টদের মাধ্যমে বিক্রি

জিল ডড নামে একজন মডেল বলেন, ‘১৯৮০ সালে প্যারিসে একটি নাইট আউটের পর জেরাল্ড আমাকে ধর্ষণ করেছিলেন। আমার বয়স তখন ছিল ২০।’

মডেলিংয়ের অন্ধকার জগৎ
জেরাল্ডের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলা জিল ডড। ছবি: সংগৃহীত

পরে জিল আদনান খাশোগির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। আদনান প্রয়াত সৌদি অস্ত্র ব্যবসায়ী, যিনি একসময় বিশ্বের ধনী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ৫০ হাজার ডলারের বিনিময়ে আদনানের সঙ্গে জিলের পরিচয় করিয়ে দেয় মডেল এজেন্সি প্যারিস প্ল্যানিং।

‘আমরা অল্পবয়সী ছিলাম। এজেন্টদের কাছ থেকে সুবিধা নেয়ার জন্য আমাদের বিক্রি করে দেয়া হতো।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Trans women are banned from world womens swimming competitions

ট্রান্স নারীরা ‘বিশ্ব নারী সাঁতার প্রতিযোগিতা’ থেকে নিষিদ্ধ

ট্রান্স নারীরা ‘বিশ্ব নারী সাঁতার প্রতিযোগিতা’ থেকে নিষিদ্ধ লিয়া টমাস মার্চে এনসিএএ সাঁতার প্রতিযোগিতায় প্রথম ট্রান্স ক্রীড়াবিদ হিসেবে শিরোপা জেতেন। ছবি: এপি
নতুন নীতি সম্পর্কে ফিনার প্রেসিডেন্ট হুসেন আল-মুসাল্লাম বলেন, ‘ক্রীড়াবিদদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার রক্ষা করতে হবে। আমাদের ইভেন্টগুলোতে, বিশেষ করে ফিনা প্রতিযোগিতায় নারী বিভাগে প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।’

আন্তর্জাতিক নারী সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না ট্রান্সজেন্ডার। এ প্রশ্নে হওয়া ভোটের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাঁতারের বিশ্ব পরিচালন সংস্থা- ফিনা। তারা বলেছে, যেসব নারী পুরুষালি আচরণের যেকোনো শারীরিক অভিজ্ঞতা অনুভব করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ১৫২টি দেশের ফেডারেশন ভোটে অংশ নেয়। ৭১ শতাংশ ভোট পড়ে ট্রান্সজেন্ডারদের বাদ দেয়ার পক্ষে।

ফিনা বৈজ্ঞানিক প্যানেলের একটি প্রতিবেদন বলছে, ট্রান্স নারীরা ওষুধের মাধ্যমে তাদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমানোর পরও সিসজেন্ডার নারী সাঁতারুদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেয়ে থাকে।

ফিনার নতুন ৩৪ পৃষ্ঠার নীতিতে বলা হয়েছে, পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তর ক্রীড়াবিদরা কেবল তখনই নারী বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে, যখন তারা এটা প্রমাণ করতে পারবে যে ট্যানার স্টেজ-টুর বাইরে পুরুষ বয়ঃসন্ধির কোনো কিছু অনুভব করেনি।

নতুন নীতি সম্পর্কে ফিনার প্রেসিডেন্ট হুসেন আল-মুসাল্লাম বলেন, ‘ক্রীড়াবিদদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার রক্ষা করতে হবে। আমাদের ইভেন্টগুলোতে, বিশেষ করে ফিনা প্রতিযোগিতায় নারী বিভাগে প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।’

এই জটিলতায় যারা পড়বেন তাদের আশাহত হওয়ার কারণ নেই। ফিনার নতুন নীতিতে বলা হয়েছে, কিছু ইভেন্টে ট্রান্স নারীদের জন্য একটি ‘উন্মুক্ত’ বিভাগ খোলা হবে।

ফিনার সভাপতি মুসাল্লাম বলেন, ‘আমরা সব সময় ক্রীড়াবিদকে স্বাগত জানাই। একটি উন্মুক্ত বিভাগ তৈরির অর্থ হলো, প্রত্যেকেরই অভিজাত স্তরে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ রয়েছে। এটি আগে করা হয়নি। তাই ফিনাকে পথ দেখাতে হবে।’

এর আগে ২০২০ সালে বিশ্ব রাগবি প্রতিযোগিতায় এমন সিদ্ধান্ত এসেছিল। তবে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা দিয়ে বাছাই করাকে অনেকেই করেছেন প্রশ্নবিদ্ধ। আরও অনেক প্রতিযোগিতায় এই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় ট্রান্স নারীদের।

যুক্তরাষ্ট্রে লিয়া টমাস এক ট্রান্স নারী সাঁতারু, যিনি কলেজভিত্তিক একটি সাঁতার প্রতিযোগিতায় (পুরুষ বিভাগে) গেল মার্চে শিরোপা জেতেন। বিষয়টি তখন বেশ আলোচিত হয়। অনেকেই দাবি তুলেছিলেন, এ ধরনের সাফল্য অবশ্যই উদযাপন করা উচিত। ফিনার নতুন সিদ্ধান্তে প্যারিস অলিম্পিকে থমাস আর নারী বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

সাবেক ব্রিটিশ সাঁতারু শ্যারন ডেভিস অবশ্য এই খবরকে স্বাগত জানিয়েছেন। টুইটে তিনি লেখেন, ‘আমি আপনাকে বলতে পারব না যে আমি আমার খেলাধুলার জন্য কতটা গর্বিত। ফিনা এবং ফিনা প্রেসিডেন্ট বিজ্ঞানের ভিত্তিতে এমন করছেন। সাঁতার সব সময় সবাইকে স্বাগত জানাবে, তবে ন্যায্যতা হলো খেলার ভিত্তি।’

আরেক সাবেক ব্রিটিশ সাঁতারু ক্যারেন পিকারিং বলেন, ‘উপস্থাপনা, আলোচনা এবং ভোটের জন্য ফিনা কংগ্রেসে ছিলাম। যেকোনো ক্রীড়াবিদ যারা এখন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না তাদের জন্য সহানুভূতি জানাতে পারি। নারীদের বিভাগে প্রতিযোগিতামূলক ন্যায্যতা অবশ্যই রক্ষা করা উচিত।’

আরও পড়ুন:
পুলিশের উদ্যোগে ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য পার্লার-ফুডকোর্ট
ট্রান্সজেন্ডারদের সুরক্ষায় হচ্ছে আইন
ট্রান্সজেন্ডার মেঘা চাকরির আবেদন করলেন ‘নারী’ হিসেবে
মা-বাবার সম্পত্তি পাবেন ট্রান্সজেন্ডার
করোনায় চিকিৎসা নিতে বৈষম্যের শিকার ট্রান্সজেন্ডাররা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hollywood is responsible for depriving women of orgasm

নারীর অর্গাজম বঞ্চনায় হলিউড, বিজ্ঞানের দায়

নারীর অর্গাজম বঞ্চনায় হলিউড, বিজ্ঞানের দায় গুড লাক টু ইউ, লিও গ্র্যান্ড’ সিনেমার একটি দৃশ্য। ছবি: এপি
হস্তমৈথুনের ক্ষেত্রে অনেক নারীই এক ধরনের ‘কলঙ্ক ও লজ্জা’ অনুভব করেন। যৌন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লরা জার্ভিস বলেন, “যখন এটা কোনো পুরুষ করে, তখন বিষয়টাকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয় না। নারীরা করলেই আমরা তাদের ‘কিছুটা দুষ্টু’ ভাবি। সেই দৃষ্টিভঙ্গি দূর করা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের শিখতে হবে কীভাবে নিজেকে আনন্দ দিতে হয়।”

সঙ্গমের চরম মুহূর্তকে বলা হয় অর্গাজম। স্বর্গীয় এই অনুভূতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকে সবার। তবে সবাই কি এই অনুভূতির স্পর্শে আসেন? নাকি কেউ কেউ বঞ্চিত হচ্ছেন চরম সেই মুহূর্ত থেকে?

বিষয়টিকে হালকাভাবে নেয়ার আসলে উপায় নেই। কারণ অর্গাজম ছাড়া যৌনতায় পুরোপুরি তৃপ্তি আসে না। ড্রামা-সেক্স কমেডি ‘গুড লাক টু ইউ, লিও গ্র্যান্ড’ সিনেমায় এই বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন অস্ট্রেলিয়ান পরিচালক সোফি হাইড। সিনেমার মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন ৬৩ বছরের ব্রিটিশ অভিনেত্রী এমা থম্পসন

সিনেমায় এমা একজন বিধবা শিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যিনি জীবনের শেষ দিকে অর্গাজমের জন্য একজন পুরুষ এসকর্ট নিয়োগ দেন! যুক্তরাজ্যে ১৭ জুন সিনেমাটি মুক্তি পাবে।

হলিউডের যৌন দৃশ্যগুলো অনেকটা একঘেয়ে। উষ্ণতা, কামুকতা আর কিছু ক্ষেত্রে আবেগ। নারীর উত্তেজনা, হতাশা বা কিছুটা বিরক্ত এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না হলিউডের সিনেমায়।

তবে বাস্তবে অনেক নারীই ভোগেন এ ধরনের অতৃপ্তিতে। তাই তো তারা সিনেমায় এমার চরিত্রে খুঁজে পেয়েছেন নিজেকে।

চলতি সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে এমা দাবি করেন, ১৫ শতাংশ নারী কখনও প্রচণ্ডভাবে উত্তেজিত হননি।

সিনেমায় এমার চরিত্রটিকে দারুণ পছন্দ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী এবং ‘দ্য কেস অফ দ্য ফিমেল অর্গাজম’-এর লেখক অধ্যাপক এলিজাবেথ লয়েড বলেন, ‘আমি রোমাঞ্চিত, কারণ এমা থম্পসন এই সিনেমাটি করেছেন। বহু বছর ধরে সাধারণ জনগণকে সিনেমার মাধ্যমে নারীদের যৌন উত্তেজনা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে আসছে হলিউড। এ কারণেই সিনেমাটি বিশেষ।’

লয়েডের গবেষণায় গুরুত্ব পেয়েছিল ‘অর্গাজম গ্যাপ’। যেখানে তিনি দেখিয়েছেন, অর্গাজমের ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারীরা অনেক পিছিয়ে। লয়েডের গবেষণা বলছে, এ অতৃপ্তিতে ভোগা নারীর সংখ্যা ১০ শতাংশ।

এমা বলেন, ‘আমি মনে করি এই সংখ্যাটি এমন নারীদের প্রতিনিধিত্ব করে যারা ইচ্ছা সত্ত্বেও সঙ্গীর কাছ থেকে পূর্ণ তৃপ্তি পাননি, অনেক নারী নিজেই অর্গাজম চাননি এবং যারা সেই চরম মুহূর্তে পৌঁছাতে শারীরিকভাবে অক্ষম।’

স্কটল্যান্ডের টেইসাইডের যৌন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লরা জার্ভিস বলেন, ‘আমি এমন রোগী দেখেছি যাদের অর্গাজম না হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।

‘বেশির ভাগেরই স্নায়ু বৈকল্যের মতো শারীরিক কোনো সমস্যা থাকে না। এটা আসলে তাদের নিজস্ব যৌন অনুভূতির ওপর নির্ভর করে। তারা আদতে কি সেই আনন্দ পেতে চান?’

তিনি বলেন, ‘যৌন নির্যাতন থেকে শুরু করে যৌনতার ওপর ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার মতো নেতিবাচক অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন অনেক নারী। এগুলো তাদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলে। ফলে তারা যৌনতাকে উপভোগ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

‘এসব নারী প্রায়ই আমাকে বলে, জীবন থেকে কিছু হারিয়ে যাচ্ছে এই অনুভূতিটা তাদের মধ্যে কাজ করে। নেটফ্লিক্সে নাটকগুলোয় অহরহ অর্গাজমের দৃশ্য দেখা যায়। এসব দেখে তাদের মনে হয় তারা স্বাভাবিক জীবনে নেই। এটা তাদের হতাশায় নিমজ্জিত করে।’

হস্তমৈথুনের ক্ষেত্রে অনেক নারীই এক ধরনের ‘কলঙ্ক ও লজ্জা’ অনুভব করেন। জার্ভিস বলেন, “যখন এটা কোনো পুরুষ করেন, তখন বিষয়টাকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয় না। নারীরা করলেই আমরা তাদের ‘কিছুটা দুষ্টু’ ভাবি। সেই দৃষ্টিভঙ্গি দূর করা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের শিখতে হবে কীভাবে নিজেকে আনন্দ দিতে হয়।”

অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধ বিশেষ করে এসএসআরআই- যৌনতায় প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া আরও অনেক জাগতিক কারণ আছে।

২০ জন ইরানি নারীর ওপর চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গৃহস্থালি কাজ, সন্তান, স্বামীর ব্যস্ততা, স্বামী-স্ত্রীর বিবাদের মতো নানা কারণে তারা যৌনতা থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।

লয়েড বলেন, ‘নারীরা প্রচণ্ড উত্তেজনা অনুভব করে সিনেমায় এটা দেখানো হলো অবাস্তব প্রত্যাশা। কারণ প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে বা দুর্বল সঙ্গম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিষয়টা এমন না যে কীভাবে নারীর অর্গাজম হয়, এটি চরম উত্তেজনা পাওয়ার একটি ভয়ানক উপায়।’

লয়েড ও তার সহকর্মীরা ৫২ হাজার অংশগ্রহণকারীর ওপর একটি সমীক্ষা চালান। সঙ্গীর সঙ্গে যৌন উত্তেজনার চরমে পৌঁছানোর জন্য যৌনাঙ্গের উদ্দীপনা, গভীর চুম্বন এবং ওরাল সেক্সের সমন্বয়কে নারীদের জন্য ‘সোনার ত্রয়ী’ চিহ্নিত করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ বিষমকামী নারী সব সময় বা সাধারণত যোনিপথে মিলনের সময় উত্তেজনা অনুভব করেন। সে তুলনায় ৮০ শতাংশ বিষমকামী নারী এবং ৯১ শতাংশ সমকামী নারী বলেছেন, সব সময় বা সাধারণত যৌনাঙ্গের উদ্দীপনা, গভীর চুম্বন এবং ওরাল সেক্সের সংমিশ্রণে তাদের অর্গাজম হয়। যোনিপথে সঙ্গমের প্রয়োজন হয় না তাদের।

ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী অধ্যাপক মিহায়েলা পাভলিচেভের মতে, যৌনতায় পুরুষের অসক্রিয়তার বিপরীতে নারীর যৌন আনন্দের বিষয়টি অপেক্ষাকৃত অবহেলিত থেকে গেছে। দীর্ঘ সময় বিষয়টি চিকিৎসক সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্ব পায়নি। তাদের চোখ ছিল বীর্যপাতের সমস্যায় আক্রান্ত পুরুষের দিকে।

‘সিগমুন্ড ফ্রয়েডের মতে, নারীরা যোনিপথের পরিবর্তে ভগাঙ্কুর (clitoris) থেকে বেশি আনন্দ অনুভব করেন। তিনি নারীদের যৌনতাকে ‘অন্ধকার মহাদেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। তিনি কয়েক প্রজন্ম ধরে নারীর যৌন উত্তেজনাকে কলঙ্কিত করেছিলেন।’

জার্ভিস মনে করেন, যৌন আনন্দকে আরও মূল্য দেয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তন হয়েছে। অল্প বয়সী নারীদের যৌনতায় সক্রিয় ভূমিকায় আসতে দেখা যাচ্ছে। তবে উত্তেজনাপূর্ণ যৌনতা সবার অগ্রাধিকার নাও হতে পারে।

‘অর্গাজম হলো উত্তেজনা এবং চাপ থেকে মুক্তির একটি কার্যকর উপায়। সংশ্লিষ্ট হরমোনগুলো আপনাকে ভালো বোধ করাবে। আপনার রক্তচাপ এবং মনের উৎফুল্লতা বাড়াতে সাহায্য করবে।’

আরও পড়ুন:
শার্ট খোলা ছবি দিলেই আবেদন হারায় পুরুষ!
যৌনতায় ইউক্রেনীয় নারীর চাহিদা তুঙ্গে
বাইপোলার ডিজঅর্ডার কতটা প্রভাব ফেলে যৌনতায়
মানব যৌনতার ভবিষ্যৎ ‘উদ্ভট’
যৌন মিলনের পর অনেকে কেন কাঁদেন?

মন্তব্য

p
ad-close 20220623060837.jpg
উপরে