× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Arrested along with women for cultivating cannabis in the yard of the house
hear-news
player
print-icon

বাড়ির আঙিনায় গাঁজা চাষ, নারীসহ গ্রেপ্তার ২

বাড়ির-আঙিনায়-গাঁজা-চাষ-নারীসহ-গ্রেপ্তার-২
কবিরহাট থানার ওসি রফিকুল বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদ পেয়ে কামালের বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার বসতঘর থেকে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ঘরের সামনের আঙিনা থেকে ২ থেকে ৫ ফুট উচ্চতার আনুমানিক ৫ কেজি ওজনের ৮টি গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়।’

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় বসতবাড়ির আঙিনায় গাঁজার চাষ করায় এক নারীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। শুক্রবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হবে।

এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকের এক অভিযানে কবিরহাট উপজেলার পশ্চিম সোনাদিয়া গ্রামের ঘাট মাঝিগো বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন, ৩২ বছরের কোহিনুর বেগমের বাড়ি কবিরহাট উপজেলার পশ্চিম সোনাদিয়া গ্রামে। তিনি কামাল হোসেনের স্ত্রী। আরেকজন হলেন ৩৫ বছরের এনামুল হক। তার বাড়ি ফতেজঙ্গপুর গ্রামে।

অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে পশ্চিম সোনাদিয়া গ্রামের কামাল হোসেন পালিয়ে গেছেন বলে জানায় পুলিশ।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদ পেয়ে কামালের বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার বসতঘর থেকে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ঘরের সামনের আঙিনা থেকে ২ থেকে ৫ ফুট উচ্চতার আনুমানিক ৫ কেজি ওজনের ৮টি গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়।’

আরও পড়ুন:
দুই বোনকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: গ্রেপ্তার ৩
‘ইয়াবার কারবার’ নিয়ে দ্বন্দ্বে হত্যা
ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত দুই শিশু নিরাপত্তা হেফাজতে
১৩ বছর লুকিয়ে থাকার পর গ্রেপ্তার
ধর্ষণচেষ্টা মামলায় মাসহ দুই শিশু গ্রেপ্তার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Merchants Sacrifice Amins Henolax has been closed since 2004

ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: ২০০৪ সাল থেকেই বন্ধ আমিনের ‘হেনোলাক্স’

ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: ২০০৪ সাল থেকেই বন্ধ আমিনের ‘হেনোলাক্স’ হেনোলাক্সের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল আমিনের (ডানে) বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ব্যবসায়ী গাজী আনিস আত্মহত্যা করেছেন। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
নুরুল আমিনকে হেনোলাক্স কোম্পানির মালিক বলা হলেও দেড় যুগ আগেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ব্যবসায়িক জীবন শুরু করার আগে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন নুরুল আমিন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিজের শরীরে আগুন দিয়ে ব্যবসায়ী গাজী আনিসের আত্মাহুতির ঘটনায় সামনে এসেছে হেনোলাক্স কোম্পানির মালিক নুরুল আমিনের নাম।

মৃত্যুর আগে গাজী আনিস অভিযোগ করে গেছেন, হেনোলাক্স কোম্পানিতে তিনি ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। লভ্যাংশসহ সেই টাকা ৩ কোটির ওপরে পৌঁছালেও নুরুল আমিন কোনো অর্থ ফেরত দেননি। এ নিয়ে মামলা করেও লাভ হয়নি।

এই হতাশা থেকেই সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিজের গায়ে আগুন দেন কুষ্টিয়ার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গাজী আনিস। রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, আনিসের মুখমণ্ডলসহ শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এ ঘটনায় হেনোলাক্স গ্রুপের মালিক নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার শাহবাগ থানায় মামলা করেছেন আনিসের বড় ভাই নজরুল ইসলাম। মামলার দুই আসামির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: ২০০৪ সাল থেকেই বন্ধ আমিনের ‘হেনোলাক্স’
আত্মাহুতি দেয়া ব্যবসায়ী গাজী আনিস

হেনোলাক্সের মালিক নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিন সোমবারের ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা। বন্ধ আছে দুজনের ফোন নম্বর।

হেনোলাক্স কোম্পানি বহু আগেই বিলুপ্ত

নুরুল আমিনকে হেনোলাক্স কোম্পানির মালিক বলা হলেও নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেড় যুগ আগেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।

নুরুল আমিন বর্তমানে আমিন পোল্ট্রি লিমিটেডেটের চেয়ারম্যান, আমিন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আমিন ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের পরিচয় দিচ্ছেন। এর আগে আমিন হারবাল কোম্পানি লিমিডেট প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করেছেন নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে।

ফেসবুকে নিজেকে ডা. এন আমিন হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তিনি। নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ব্যবসায়িক জীবন শুরু করার আগে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন নুরুল আমিন। ১৯৮৪ সালে হেনোলাক্স কোম্পানি শুরু করার পর তিনি আগের পেশা থেকে সরে এলেও নামের আগে ডা. ব্যবহার করছেন।

ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: ২০০৪ সাল থেকেই বন্ধ আমিনের ‘হেনোলাক্স’
ফেসবুকে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত থাকার কথা লিখেছেন নুরুল আমিন

ফেসবুকে তিনি বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন, বাস্তবে সেগুলোর কার্যক্রম নেই। ঠিকানা হিসেবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পুরানা পল্টনের ‘হেনোলাক্স সেন্টার’-এর নাম ব্যবহার করা হয়েছে। ওই ঠিকানায় গিয়ে ছোট একটি অফিসকক্ষ পাওয়া গেলেও সেটি তালাবদ্ধ দেখা গেছে।

‘বায়বীয়’ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক পরিচয় দেয়া নুরুল আমিন কথিত হেনোলাক্স গ্রুপে বিনিয়োগের কথা বলে কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ী গাজী আনিসের কাছ থেকে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সেই টাকা ফেরত পাননি আনিস।

বিষয়টি নিয়ে গত ২৯ মে তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেন। সেখানে তিনি জানান, ২০১৬ সালে নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সূত্রে ২০১৮ সালে তিনি এই টাকা হেনোলাক্স গ্রুপে বিনিয়োগ করেন।

গত ৩১ মে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সব শেষ স্ট্যাটাস দেন গাজী আনিস। সেখানেও নুরুল আমিন এবং তার স্ত্রী ফাতেমা আমিনের বিচার দাবি করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপও কামনা করেছিলেন তিনি।

ওই স্ট্যাটাসে আনিস লেখেন, ‘২০১৬ সালে হেনোলাক্স গ্রুপের কর্ণধার মো. নুরুল আমিন এবং তার স্ত্রী ফাতেমা আমিনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের সাথে আমার সখ্যতা এবং আন্তরিকতা গড়ে উঠে। আমি কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেছি এবং কুষ্টিয়া শহরেই বসবাস করি।’

কাজেকর্মে ঢাকায় যাতায়াত করতে হতো আনিসকে। যার মধ্য দিয়ে অভিযুক্ত দম্পতির সঙ্গে তার সখ্য আরও গভীর হয়।

ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: ২০০৪ সাল থেকেই বন্ধ আমিনের ‘হেনোলাক্স’
শরীরে আগুন দেয়ার পর হাসপাতালে নেয়ার পথে গাজী আনিস (বাঁয়ে), মামলার আসামি হেনোলাক্স মালিক নুরুল আমিন

আনিস লিখেছেন, ‘তবে প্রতিমাসেই নিজের প্রয়োজনে ঢাকা এলে তাদের সাথে আমার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ হতো এবং উপহার বিনিময় ও ভালো রেস্তোরাঁয় আমরা একসাথে খাওয়া-দাওয়া করতাম এবং বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যেতাম। যেহেতু আমি স্বাচ্ছন্দ্য দিনযাপনে অভ্যস্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নিজস্ব গাড়িতেই সব সময় যাতায়াত করি। আমি মো. নুরুল আমিন এবং ফাতেমা আমিনের সঙ্গে নিজের খরচায় দেশের বাইরেও একাধিকবার বেড়াতে গিয়েছি।’

বিদেশে বসেই ওই দম্পতি তাকে হেনোলাক্সে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন বলে উল্লেখ রয়েছে আনিসের স্ট্যাটাসে।

তিনি লেখেন (বাক্য ও বানান অপরিবর্তিত), ‘২০১৮ সালে কলকাতা হোটেল বালাজীতে একইসাথে অবস্থান কালে উনারা আমাকে হেনোলাক্স গ্রুপে বিনিয়োগের এবং যথেষ্ট লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে বলে জানান। আমি প্রথমে অসন্মতি জ্ঞাপন করলেও পরবর্তীতে রাজি হই এবং প্রাথমিক ভাবে এককোটি টাকা বিনিয়োগ করি। পরবর্তীতে তাদের পীড়াপীড়িতে আরও ছাব্বিশ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করি (অধিকাংশ টাকা ঋণ হিসেবে আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধবের কাছ থেকে নেয়া)।’

তিনি লিখেছেন, ‘বিনিয়োগ করার সময় পরস্পরের প্রতি সম্মান এবং বিশ্বাসের কারণে এবং তাদের অনুরোধে চূড়ান্ত রেজিস্ট্রি চুক্তি করা হয়নি তবে প্রাথমিক চুক্তি করা হয়েছে। বিনিয়োগ পরবর্তী চূড়ান্ত রেজিস্ট্রি চুক্তিপত্র সম্পাদন করার জন্য বারবার অনুরোধ করি, কিন্তু উনারা গড়িমসি করতে থাকেন।

‘এক পর্যায়ে উনারা প্রতিমাসে যে লভ্যাংশ প্রদান করতেন সেটাও বন্ধ করে দেন এবং কয়েকবার উনাদের লোকজন দ্বারা আমাকে হেনস্তা ব্ল্যাকমেইল করেন এবং করার চেষ্টা করেন। বর্তমানে লভ্যাংশসহ আমার ন্যায্য পাওনা তিন কোটি টাকার অধিক।’

স্ট্যাটাসের শেষ দিকে এসে তিনি লিখেছেন, ‘ভীষণ মানসিক নিপট খরায় আমি উল্লেখিত তথ্যাদি উপস্থাপন করলাম। আমার সামনে বিকল্প পথ না থাকায় ফেসবুকেও সবাইকে জানালাম।

‘আমি এই প্রতারক দম্পতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ করছি। সেইসাথে যারা আমার শুভাকাঙ্ক্ষী তারাও সোচ্চার হবেন বলে আশা করছি।’

ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: ২০০৪ সাল থেকেই বন্ধ আমিনের ‘হেনোলাক্স’
হেনোলাক্স গ্রুপের মালিক নূরুল আমিন (মাঝে) ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিন (ডানে)

স্ত্রীসহ লাপাত্তা নুরুল আমিন

ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় কথিত হেনোলাক্স গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে ৩/১ পুরানা পল্টন, ঢাকা- ১০০০ উল্লেখ করেছেন নুরুল আমিন।

সেখানে মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, ১১ তলা বাণিজ্যিক ভবনটির নাম ‘স্কাই ভিউ হেনোলাক্স সেন্টার’। এর তৃতীয় তলায় কথিত হেনোলাক্সের প্রধান কার্যালয়। আমিন ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, আমিন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ঠিকানা হিসেবেই এটি ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে কক্ষটির বাইরের কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলতে দেখা যায়। অফিসের ঠিকানার ফোন নম্বরে কল করা হলেও কেউ ধরেননি।

ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী আবদুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সোমবার বিকেল থেকে হেনোলাক্সের এই কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত অফিসে কেউ আসেননি। এর আগে নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী নিয়মিত অফিসে আসতেন। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার তাদের অফিসে আসতে দেখা গেছে।’

কাদের জানান, ১১ তলা বাণিজ্যিক ভবনটির জমির মালিক নুরুল আমিন। তবে স্কাই ভিউ ডেভেলপার কোম্পানি এর ওপর ১১ তলা ভবনটি নির্মাণ করেছে। ভবনের ৩৬টি বাণিজ্যিক ফ্ল্যাটের ১৮টির মালিক নুরুল আমিন, বাকি অর্ধেক পেয়েছে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান।

ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: ২০০৪ সাল থেকেই বন্ধ আমিনের ‘হেনোলাক্স’
কথিত হেনোলাক্স গ্রুপের প্রধান কার্যালয় এখন বন্ধ

নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিনের ফোন নম্বর এখন বন্ধ। নুরুল আমিনের ফেসবুক পেজটি উন্মুক্ত থাকলেও তার স্ত্রীর ফেসবুক লকড রয়েছে। নুরুল আমিনের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুরে খোঁজ নিয়ে সেখানেও তাদের পাওয়া যায়নি।

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাদিম সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নুরুল আমিনের পরিবারের সদস্যরা অনেক আগে থেকেই ঢাকায় থাকেন। গ্রামের সবাই তাকে হেনোলাক্সের কর্ণধার হিসেবে চেনেন।’

ঢাকায় হেনোলাক্স প্রতিষ্ঠার পরই নুরুল আমিনের পরিবারে সচ্ছলতা আসে উল্লেখ করে নাদিম সরকার বলেন, ‘নুরুল আমিন সাহেব আমাদের এলাকায় সহজ সরল মানুষ হিসেবে পরিচিত। তার পারিবার অতটা সচ্ছল ছিল না। শুনেছি আগে তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন। তবে ঢাকায় গিয়ে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে হেনোলাক্স প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের অবস্থার পরিবর্তন হয়।

‘বড় ব্যবসায়ী হিসেবে নাম কামান। ঢাকাসহ নরসিংদীতে অনেক জায়গাজমি কেনেন। তবে আবার এই হেনোলাক্স লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে যায় আমরা শুনেছি। হেনোলাক্স ছাড়া তার আর কোনো ব্যবসা আছে বলে আমার জানা নেই।’

নুরুল আমিনের শ্বশুরবাড়িও একই এলাকা জানিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ওনার কোনো সন্তান নেই। স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন। শুধু ঈদের সময় বছরে দুই-একবার গ্রামে আসেন।’

কথিত হেনোলাক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপক রতন কুমারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতে পেরেছে নিউজবাংলা। তিনি দাবি করেন, পাঁচ দিনের ছুটিতে তিনি গাজীপুর আছেন এবং অফিস বন্ধ থাকার কোনো তথ্য তিনি জানেন না। নুরুল আমিন ও তার স্ত্রীর ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তাদের সঙ্গেও সোমবার থেকে যোগাযোগ নেই রতনের।

ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: ২০০৪ সাল থেকেই বন্ধ আমিনের ‘হেনোলাক্স’
আমিন হারবাল লিমিটেডের মার্কেটিং ম্যানেজার মো. তসলিম উদ্দীন ফুলের তোড়া দিচ্ছেন নুরুল আমিনকে

গাজী আনিসের আত্মহত্যার বিষয়টি অবশ্য জানান রতন কুমার। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নিউজে দেখেছি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমি এই প্রতিষ্ঠানে ২৮ বছর ধরে কাজ করছি, আমি আনিস নামের ভদ্রলোককে কখনও আমাদের অফিসে দেখিনি৷ ওনার নাকি ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা পাওনা ছিল। এমনটা হলে তার তো অফিসে আসার কথা এবং পুলিশেরও আসার কথা।

‘আমি এমন কিছু কখনও দেখিনি এবং আমাদের স্যার-ম্যাডামও এ বিষয়ে কখনও কোনো কিছু বলেননি। বিষয়টা জেনে আমি খুবই অবাক হয়েছি।’

রতন কুমার বলেন, ‘হেনোলাক্স ১৯৮৪ সালে প্রথমে ত্বক ফর্সা করা ও মুখের দাগ দূর করার কয়েকটি ক্রিম নিয়ে বাজারে ব্যবসা শুরু করে। এরপর এর জনপ্রিয়তার কারণে হেনোলাক্সের মোড়কে নকল ক্রিমে বাজার সয়লাব হয়ে যায়। মামলা মোকদ্দমা করেও নকল ক্রিমের বাজার বন্ধ করতে না পেরে ২০০৪ সালে এই ব্যবসা গুটিয়ে নেয় হেনোলাক্স কর্তৃপক্ষ।

‘এরপর নুরুল আমিন হেনোলাক্স ফুড নামে লাইসেন্স নিয়ে রেডি টিসহ দুই-একটি খাদ্যপণ্য বাজারে নিয়ে আসেন। ২০১৯ সালে লোকসানের খাতায় নাম লিখিয়ে এটিও বন্ধ হয়ে যায়। নুরুল আমিন ২০১২ সালে আমিন হারবাল কোম্পানি লিমিডেটের লাইসেন্স নিয়ে এর অধীনে বেশ কিছু প্রসাধনসামগ্রী উৎপাদন ও বিপণন শুরু করেন। তবে ২০১৯ সালের পর এই ব্যবসাতেও ধস নামে।’

রতন কুমার বলেন, ‘আমিন হারবালের উৎপাদনও বন্ধ, কোনো অর্ডার পাওয়া গেলে কেবল সেগুলো তৈরি করে সরবরাহ করা হয়।’

তিনি জানান, হেনোলাক্স গ্রুপের বড় কারখানা রয়েছে রাজধানীর কদমতলীতে। তবে ব্যবসায়িক মন্দার কারণে সেই কারখানাটি অন্য এক প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন নুরুল আমিন। এখন পুরানা পল্টনের ফ্ল্যাট ও কারখানা ভাড়া ছাড়া হেনোলাক্স গ্রুপের আর কোনো দৃশ্যমান আয়ের উৎস নেই।

ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: ২০০৪ সাল থেকেই বন্ধ আমিনের ‘হেনোলাক্স’
কথিত হেনোলাক্স গ্রুপের মালিক নুরুল আমিন

রতন কুমার বলেন, ‘আমরা কয়েকজন কর্মকর্তা আছি, তারা পল্টনের অফিসে বসি। আমি মূলত পুরানা পল্টনের ভবনটির ও কারখানার ভাড়া তুলি। আর মো. তসলিম উদ্দীন নামে আমিন হারবালের একজন মার্কেটিং ম্যানেজার আছেন। তিনি দৌড়াদৌড়ি করে হারবালের কিছু অর্ডার নিয়ে আসেন, এভাবেই চলছে।’

আমিন হারবাল লিমিটেডের মার্কেটিং ম্যানেজার মো. তসলিম উদ্দীনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে। ২০১৬ সাল থেকে তিনি এই পদে আছেন। তিনি মূলত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আমিন হারবালের প্রসাধনীর প্রচার ও বিপণনসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে সোমবারের পর থেকে তাকেও অফিসে দেখা যায়নি। তসলিমের ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মওদূত হাওলাদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মামলায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হতে আমরা কাজ শুরু করেছি। আশা করি শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনতে পারব।’

আরও পড়ুন:
ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল কিশোরীর মরদেহ
কৃষকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ ঘরে, অভিযোগ হত্যার
ছাত্র ইউনিয়ন নেতা সাদাতের আত্মহত্যা
‘আত্মহত্যা’য় অভিযুক্ত সুদের কারবারি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
10 years after the murder of Taiz 3 people were sentenced to life imprisonment

তাইজ হত্যার ১০ বছর পর ৩ জনের যাবজ্জীবন

তাইজ হত্যার ১০ বছর পর ৩ জনের যাবজ্জীবন
দণ্ডিতরা হলেন, অহিদ মিয়া, মোবারক হোসেন ও মজনু মিয়া। তারা ত্রিশাল উপজেলার কোনাবাড়ী ও সাখুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিন জনের মধ্যে মোবারক পলাতক রয়েছেন।

১০ বছর পর ময়মনসিংহের ত্রিশালের তাইজ উদ্দিন হত্যা মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হেলাল উদ্দিন মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় দেন।

দণ্ডিতরা হলেন, অহিদ মিয়া, মোবারক হোসেন ও মজনু মিয়া। তারা ত্রিশাল উপজেলার কোনাবাড়ী ও সাখুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিন জনের মধ্যে মোবারক পলাতক রয়েছেন।

নিউজবাংলাকে এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি মো. কবির উদ্দিন ভূইয়া।

তিনি জানান, ২০১২ সালের ১১ আগস্ট ত্রিশাল উপজেলার কোনাবাড়ী নদীরপাড় এলাকা থেকে তাইজ উদ্দিন নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে তাইজের বাবা নূরুল ইসলাম ত্রিশাল থানায় হত্যা মামলা করেন।

অ্যাডভোকেট কবির বলেন, ওই মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দশ হাজার টাকা করে অর্থ দণ্ড দেয়। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বিচারকের নির্দেশে অহিদ মিয়া ও মজনু মিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
কৃষক হত্যায় যাবজ্জীবন
স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন
গৃহবধূ হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন, সতিন খালাস
ছিনতাই মামলায় তিন আসামির বিভিন্ন মেয়াদে সাজা
শ্রমিক হত্যায় একজনের যাবজ্জীবন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Five tickets from Kamalapur were seized by the black market

কমলাপুর থেকে পাঁচ টিকিট কালোবাজারি আটক

কমলাপুর থেকে পাঁচ টিকিট কালোবাজারি আটক ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে আটক পাঁচ জন। ছবি: সংগৃহীত
বীনা রানী জানান, ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিটের বিপুল চাহিদা থাকে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আটকরা দীর্ঘদিন যাবৎ ঈদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আগে অল্প দামে টিকিট কিনতেন। এরপর টিকিট প্রত্যাশীদের কাছে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করতেন।

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে পাঁচ জনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৩)।

আটকেরা হলেন- লিটন মিয়া, মো. শাহ আলম, মো. ইরান, মো. আবু তাহের ও জাহিদুর রহমান শাকিব।

বেশি দামে ট্রেনের টিকিট বিক্রির সময় সোমবার রাতে তাদের কমলাপুর স্টেশন থেকে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে পাঁচ জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৩ এর সহকারী পরিচালক বীনা রানী দাস।

তিনি জানান, আটকদের কাছ থেকে চারটি ট্রেনের টিকিট, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৬ হাজার ৯২৭ টাকা জব্দ করা হয়।

বীনা রানী জানান, তারা সংঘবদ্ধ টিকিট কালোবাজারি চক্রের সদস্য। ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিটের বিপুল চাহিদা থাকে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ঈদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আগে অল্প দামে টিকিট কিনতেন। এরপর টিকিট প্রত্যাশীদের কাছে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করতেন।

আরও পড়ুন:
অনলাইনে টিকিট না পেয়ে কাউন্টারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Adolescent pornography viral threat 7 years in prison

কিশোরীর অশ্লীল ছবি ভাইরালের হুমকি, ৮ বছর জেল-জরিমানা

কিশোরীর অশ্লীল  ছবি ভাইরালের হুমকি, ৮ বছর জেল-জরিমানা
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, সাজা একটার পর একটা কার্যকর হবে। জরিমানার অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে ওই কিশোরী পাবে। মামলার আসামি পলাতক আছেন। তার অনুপস্থিতিতেই রায় দেয়া হয়েছে।

এক কিশোরীর এডিট করা অশ্লীল ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেয়ার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করার মামলায় রাজশাহীর আদালত এক ব্যক্তিকে আট বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও আট লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

রাজশাহীর সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জিয়াউর রহমান আলাদা দুটি ধারায় মঙ্গলবার দুপুরে আসামিকে এ দণ্ড দেন।

দণ্ডিত শাকিল মন্ডল চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। ১৬ বছর বয়সী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ইসমত আরা।

এজাহারে বলা হয়, আসামি শাকিল মন্ডল ওই কিশোরীর ছবি সংগ্রহ করে এডিট করেন। পরে অশ্লীল ছবি শাকিল তার ফেইক ফেসবুক আইডি থেকে ওই কিশোরীর ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে পাঠান। কিশোরীর বাবাকে ফোন করে শাকিল ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে এসব ছবি নেটে ছেড়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দেন।

আইনজীবী ইসমত আরা জানান, মামলার পর পুলিশ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। এরপর বিচার শুরু হয়। আদালত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত একটি ধারায় আসামিকে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার এ অর্থ অনাদায়ে আরও ছয়মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।

অন্য আরেকটি ধারায় আসামিকে ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার এই অর্থ অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে আসামিকে।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, সাজা একটার পর একটা কার্যকর হবে। জরিমানার অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে ওই কিশোরী পাবে। মামলার আসামি পলাতক আছেন। তার অনুপস্থিতিতেই রায় দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কারাগারেই মরতে হবে বাবার হত্যাকারীকে
৫ জেএমবি সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা
ইয়াবার মামলায় ২ আসামিকে ৫ বছরের সাজা
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় ৮ বছরের কারাদণ্ড  
সাবেক শুল্ক কর্মকর্তার ৮ বছর সাজা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Life imprisonment for killing farmers

কৃষক হত্যায় যাবজ্জীবন

কৃষক হত্যায় যাবজ্জীবন
মামলার এজাহারে বলা হয়, টুঙ্গিপাড়ার বালাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক শেখ নুরুল ইসলাম খানের সঙ্গে হান্নান শেখের বিরোধ চলছিল। ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাতে জমি থেকে বাড়ি ফেরার পথে হান্নান ও তার লোকজন নুরুলকে কুপিয়ে পালিয়ে যান।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে কৃষক হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

অতিরিক্ত দায়রা জজ আব্বাসের উদ্দিনের আদালত মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় দেয়।

দণ্ডিত আব্দুল হান্নান শেখের বাড়ি টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাঁচকাহনিয়া গ্রামে।

রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী আইনজীবী শহিদুজ্জামান খান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, টুঙ্গিপাড়ার বালাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক শেখ নুরুল ইসলাম খানের সঙ্গে হান্নান শেখের বিরোধ চলছিল। ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাতে জমি থেকে বাড়ি ফেরার পথে হান্নান ও তার লোকজন নুরুলকে কুপিয়ে পালিয়ে যান।

স্থানীয়রা তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ডিসেম্বর নুরুলের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে যান নুরুলের স্ত্রী আফরোজা নাহার রানু। থানা মামলা না নিলে ২০১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ছয়জনের নামে আদালতে মামলা করেন। পুলিশ হান্নান ও তার স্ত্রী মহুরোন নেছাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

আইনজীবী শহিদুজ্জামান বলেন, ‘আদালত হান্নানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে। তার স্ত্রীকে খালাস দেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ব্যবসায়ী হত্যায় দুজনের যাবজ্জীবন
হেরোইন বহনের দায়ে দুইজনের যাবজ্জীবন
ব্যবসায়ী হত্যায় ভায়রার আমৃত্যু কারাদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দা‌য়ে ২ জ‌নের যাবজ্জীবন
২২৫ গ্রাম হেরোইন বহনের দায়ে ২ যুবকের যাবজ্জীবন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
PK Haldar again in jail custody

জেরায় বাংলাদেশ-ভারতের একাধিক প্রভাবশালীর নাম বলেছেন পি কে

জেরায় বাংলাদেশ-ভারতের একাধিক প্রভাবশালীর নাম বলেছেন পি কে
তৃতীয় দফার ১৪ দিনের জেল হেফাজত শেষে মঙ্গলবার পি কে হালদারসহ ৬ অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্টের বিশেষ সিবিআই আদালত আরও ১৫ দিন জেলহাজতে রাখা নির্দেশ দেয়। ২০ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইডির আইনজীবী।

বাংলাদেশ থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালানো প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদার এবং তার ৫ সহযোগীর জেল হেফাজতের মেয়াদ আরও ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে হেফাজতে পি কে হালদার ও সহযোগীদের জেরা করে অর্থ জালিয়াতি এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

তৃতীয় দফার ১৪ দিনের জেল হেফাজত শেষে মঙ্গলবার পিকে হালদারসহ ৬ অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্টের বিশেষ সিবিআই আদালত এই নির্দেশ দেয়।

পরবর্তী শুনানির জন্য তাদেরকে ২০ জুলাই আদালতে হাজির করতে বলা হয়েছে। ওইদিন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইডির আইনজীবী অরিজিৎ চক্রবর্তী।

অরিজিৎ চক্রবর্তী জানান, জেল হেফাজতে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের জেরা করে অর্থ জালিয়াতির এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ভারতের প্রভাবশালী একাধিক ব্যক্তির নাম বেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশেরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর নাম জানা গেছে।

বাংলাদেশের এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা আর্থিক কেলেঙ্কারি মামলার প্রধান আসামি পি কে হালদার।

পি কে হালদার চক্র জালিয়াতির টাকা হাওলার মাধ্যমে ভারত এবং অন্যান্য দেশে পাচার করে দিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি পশ্চিমবঙ্গের অশোকনগর থেকে পি কে হালদারসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় ।

প্রথমে ৩ দিন, পরে আদালতের নির্দেশে আরও ১০ দিনের জন্য অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নেয় ইডি। এরপর প্রথম পর্যায়ে ১১ দিন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। সেই জেল হেফাজতের মেয়াদ শেষে ২১ জুন অভিযুক্তদের আদালতে তোলা হলে আবারও ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।

ইডির তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বহু জমি-বাড়ি ফ্ল্যাটের সন্ধান পেয়েছেন। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, অবৈধ পাসপোর্ট, আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ পাচারের মামলা করেছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের পি কে হালদার, ভারতের নীরব মোদি
পি কেকে ফেরাতে পশ্চিমবঙ্গে যাবে কমিটি
পি কে হালদারকে ফেরত চেয়ে ইন্টারপোলে আবার চিঠি দুদকের
পি কে হালদারের নামে আরেক মামলা দুদকের
পি কে হালদারকে ফেরাতে দুদকের কমিটি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Youth jailed in teenage murder case

কিশোর হত্যা মামলায় যুবক কারাগারে

কিশোর হত্যা মামলায় যুবক কারাগারে
মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার রফিকুল আলম জানান, রোববার রাতে হেতেমখাঁ এলাকায় ১৭ বছরের মো. সনি হত্যার ঘটনায় সোমবার বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন সনির বাবা রফিকুল ইসলাম পাখি। মামলার পর সোমবার রাত ১টার দিকে বালিয়াপুকুর এলাকা থেকে আনিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজশাহী নগরীতে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা মামলার এক আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মহানগর হাকিম আদালত-১-এর বিচারক রেজাউল করিমের আদালতের মাধ্যমে মঙ্গলবার দুপুরে আনিম ওরফে আনিন ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়।

২২ বছর বয়সী আনিমের বাড়ি নগরীর বোয়ালিয়া থানার মিরের চক সাধুর মোড়ে।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার রফিকুল আলম জানান, রোববার রাতে হেতেমখাঁ এলাকায় ১৭ বছরের মো. সনি হত্যার ঘটনায় সোমবার বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন সনির বাবা রফিকুল ইসলাম পাখি।

নয়জনের নামে ও অজ্ঞাতপরিচয় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে তিনি এই মামলা করেন। মামলার পর সোমবার রাত ১টার দিকে বালিয়াপুকুর এলাকা থেকে আনিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবুল হাশেম জানান, দুপুরের পর আনিমকে আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আনিমকে রিমান্ডে নেয়ার জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া চলছে।

অতিরিক্ত উপকমিশনার রফিকুল বলেন, ‘এই হত্যার পেছনে কিশোরদের দুটি গ্যাংয়ের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নিহত সনির নামে মারামারির দুটি মামলা আছে। এগুলো চলতি বছরের ঘটনা।

‘আসামিদের বিষয়েও খোঁজ নেয়া হচ্ছে। দুই গ্রুপের মধ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ ছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। শিগগিরই সব আসামি ধরা পড়বে।’

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে রোববার রাত ৯টার দিকে তৈয়বুর ও সনিকে তুলে নিয়ে যান কয়েকজন যুবক। হেতেমখাঁ এলাকায় তারা দুজনকে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক সনিকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন:
গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা: হেনোলাক্স মালিকের বিরুদ্ধে মামলা
শিশু হত্যার অভিযোগে মা আটক
হেনোলাক্স মালিকের বিচার চেয়ে ফেসবুকেও সোচ্চার ছিলেন আনিস
ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ীকে ‘কুপিয়ে’ হত্যা
টিপু-প্রীতি হত্যা মামলার প্রতিবেদন ৩১ আগস্ট

মন্তব্য

p
উপরে