× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Four days without water and electricity in Sylhet
hear-news
player
print-icon

বন্যায় বিদ্যুৎহীন সিলেটে খাওয়ার পানির হাহাকার

বন্যায়-বিদ্যুৎহীন-সিলেটে-খাওয়ার-পানির-হাহাকার
সিলেট নগরীর শেখঘাট এলাকার কামরুল ইসলাম বলেন, ‘পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনাও ঘরে ঢুকছে। এর মধ্যে থাকতে থাকতে পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বাসায় খাওয়ার পানি ও স্যানিটেশনের সমস্যা। তাই গিয়ে হোটেলে উঠেছি।’

সিলেট নগরীর চালিবন্দর এলাকার কুন্তি দাসের ঘর চার দিন ধরে পানিতে তলিয়ে আছে। ঘরে-বাইরে চারদিক থইথই পানিতে। তবু খাওয়ার জন্য নেই এক ফোঁটাও। নেই বিদ্যুৎও।

১৫ মিনিট হেঁটে গিয়ে একটি কারখানা থেকে প্রতিদিন খাওয়ার পানি নিয়ে আসেন তিনি।

কুন্তি বলেন, ‘পানির কারণে না হয় বিছানার ওপরে উঠে বসে থাকা যায়। কষ্ট করে রান্নাবান্নাও করা যায়। কিন্তু পানি ছাড়া তো থাকা যায় না। চার দিন ধরে পানি পাচ্ছি না। টয়লেটও পানিতে তলিয়ে গেছে। সেটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না।’

তিনি জানান, যে কারখানা থেকে পানি আনা হয়, সেখানে গিয়ে টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে ঘরের সবাইকে।

সিলেটের বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট ও স্যানিটেশন সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎহীনতা। সব মিলিয়ে বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ এখন চরমে। জেলার অর্ধেক এলাকাই এখন বিদ্যুৎহীন।

কুন্তির প্রতিবেশী দীপক রবি দাস বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সিটি করপোরেশন থেকে পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বন্যায় সিটি করপোরেশনের পানির লাইন তলিয়ে গেছে। এখন পাইপ দিয়ে ময়লা পানি আসে। আর তাতে খুব দুর্গন্ধ। খাওয়া তো দূরের কথা, হাতেই নেয়া যায় না।’

বন্যায় বিদ্যুৎহীন সিলেটে খাওয়ার পানির হাহাকার

চালিবন্দরের পাশের উপশহরেও মিটার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।

উপশহরের বি-ব্লকের নাজাত আহমদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাঁচ দিন ধরে ঘরে পানি। ঘর থেকে বের হওয়ারও উপায় নেই। চার দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। খাওয়ার পানি নেই। টয়লেটের ব্যবস্থাও নেই। সব মিলিয়ে দুর্বিষহ দিন কাটছে আমাদের।’

এসব সমস্যার কথা জানিয়ে সি-ব্লকের আব্দুল আহাদ বলেন, ‘লজ্জায় আশ্রয়কেন্দ্রেও যেতে পারছি না। বাচ্চারা সেখানে থাকতেও পারবে না। আবার ঘরেও থাকতে পারছি না। বন্যায় আমাদের সংকট বলে বোঝানো যাবে না।’

কোমর পানি নগরীর তালতলা এলাকাতেও। সেখানে বাড়ি বেসরকারি চাকরিজীবী মিলন তালুকদারের।

তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের পানি বন্ধ। ফিল্টারে করে পানি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোও এদিকে আসছে না বন্যার কারণে। তাই বোতলজাত পানি কিনে পান করতে হচ্ছে। আমরা সামান্য আয়ের মানুষ। এভাবে কতদিন চলতে পারব। চাকরির কারণে গ্রামের বাড়িও যেতে পারছি না।’

নগরের ঝালোপাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট সিটি করপোরেশনের সরবরাহ করা পানি সংগ্রহ করতে আসেন শাহেদ আহমদ।

বন্যায় বিদ্যুৎহীন সিলেটে খাওয়ার পানির হাহাকার

তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের গাড়ি দিনে একবার আসে। এই পানিতে এলাকার অর্ধেক মানুষের এক বেলার চাহিদাও মেটে না।

‘আগে পাশের সুরমা নদীতে আমরা গোসল করতে পারতাম। কিন্তু এখন নদীর পানি এত ময়লা হয়েছে যে তাতে গোসল করারও উপায় নেই।’

নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার উত্তরা সেন পম্পা বলেন, ‘নোংরা পানিতে পায়ে ঘা হয়ে গেছে। আজ বাধ্য হয়ে বাচ্চাকে নিয়ে আরেকটি পরিবারের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু এখানেও খাওয়ার পানি নেই।’

ঘর ছেড়ে পরিবার নিয়ে নগরের একটি হোটেলে গিয়ে উঠেছেন শেখঘাট এলাকার কামরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনাও ঘরে ঢুকছে। এর মধ্যে থাকতে থাকতে আমার পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বাসায় খাওয়ার পানি ও স্যানিটেশনের সমস্যা। তাই একটি হোটেলে উঠেছি।’

বন্যায় বিদ্যুৎহীন সিলেটে খাওয়ার পানির হাহাকার

সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম শাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে প্লাবিত এলাকায় বুধবার থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ সরবরাহের পাইপে কোনো ছিদ্র থাকলে তাতে বন্যার পানি মিশে রোগবালাই দেখা দিতে পারে।’

তবে এসব এলাকায় ভ্রাম্যমাণ গাড়ির মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে জানিয়ে আলিম বলেন, ‘যেসব এলাকা প্লাবিত হয়নি, সেসব এলাকায় পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।’

নগরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে দুর্ভোগ আরও বেশি।

জেলা প্রশাসনের হিসাবে ১০৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৫টি সম্পূর্ণ ও ১৫টি ইউনিয়ন আংশিকভাবে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি আছে ১৫ লাখ মানুষ।

জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের সুপ্রাকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বন্যায় এলাকার বেশির ভাগ টিউবওয়েল ডুবে গেছে। খাওয়ার পানি পাওয়া যাচ্ছে না। দূর-দূরান্ত থেকে পানি নিয়ে আসতে হচ্ছে। ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় রান্নাবান্নাও করা যাচ্ছে না।’

‘ঘরে অনেকগুলো গরু আছে। নিজেরা তবু কোনো রকমে খেতে পারছি। কিন্তু মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।’

বন্যায় বিদ্যুৎহীন সিলেটে খাওয়ার পানির হাহাকার

নগরের দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকর এলাকা প্লাবিত না হলেও বরইকান্দি এলাকায় বিদ্যুতের সাবস্টেশন তলিয়ে যাওয়ায় তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই কোথাও।

গোটাটিকর এলাকার সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বন্যা আসেনি এখনও। তবে আমরাও দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাচ্ছি না। তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। এতে পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।’

তবে বিশুদ্ধ পানির সংকটের তথ্য নেই জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলামের কাছে।

তিনি বলেন, ‘বিশুদ্ধ পানি সংকটের তেমন কোনো তথ্য আমরা পাইনি। পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি অবশ্য বলেছেন, সিলেট জেলায় ১৩ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যায় বিদ্যুৎহীন সিলেটে খাওয়ার পানির হাহাকার

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল কাদির জানিয়েছেন, দুটি উপকেন্দ্রে বন্যার পানি ঢুকেছে। সেখানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে একটি উপকেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। আর শাহজালাল উপশহর এলাকায় জলাবদ্ধতা বেশি থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

সিলেটের সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় যারা অবস্থান করছেন, তাদের খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সিটি মেয়র জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও বন্যার্তদের সেবায় করপোরেশনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

বন্যায় বিদ্যুৎহীন সিলেটে খাওয়ার পানির হাহাকার

১৩ দিনের ব্যক্তিগত সফর শেষে বৃহস্পতিবার সিলেটে ফিরে নগরের একাধিক প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন শেষে মেয়র বলেন, ‘সিলেট মহানগরের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নগরের নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। খাওয়ার পানির সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

‘দ্রুত সময়ের মধ্যে প্লাবিত এলাকার পানিবন্দি মানুষের দোরগোড়ায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাঠানো হয়েছে। খাওয়ার পানির সংকট নিরসনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। আরও আশ্রয়কেন্দ্র বাড়ানো হবে।’

আরও পড়ুন:
বন্যায় বন্ধ সিলেটের ৭ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
‘মাঠের পর ঘরেও ধান নষ্ট বানের জলে’
সিলেটে বর্ষার আগেই নদী খনন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিস্তায় বাড়ছে পানি, হুমকিতে ইচলি বাঁধ
বন্যার পানি গোটা সিলেটে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
After the mother and sister the child also went to the hospital

মা-বোনের পর চলে গেল শিশুটিও, হাসপাতালে বাবা

মা-বোনের পর চলে গেল শিশুটিও, হাসপাতালে বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু সাইফুল। ছবি: নিউজবাংলা
হোসাইনের ভাই মোহাম্মদ হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুপুরে যখন আমরা ভাবি ও ভাতিজির মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলছিলাম। সে সময় শিশুটি মারা যায়। ভাই এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

দিনাজপুরে তেলবাহী লরির ধাক্কায় মা ও বোনের মৃত্যুর পর ১৮ মাসের শিশুটিও মারা গেছে।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান আসাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে বুধবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে লরির ধাক্কায় মারা যান শিশু সাইফুলের মা ৩০ বছর বয়সী ফাইমা বেগম ও বোন ১৩ বছরের বিউটি।

গুরুতর আহত হন বাবা ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ হোসাইন ও ১৮ মাস বয়সী শিশু সাইফুল ইসলাম নাসরুল্লাহ।

আহত মোহাম্মদ হোসাইন জেলার বিরল উপজেলার তেঘরা দারুল হাদীস সালাফিয়্যাহ মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার পাঁচটিকরি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। পরিবার নিয়ে তেঘরা গ্রামে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন তিনি।

হোসাইনের ভাই মোহাম্মদ হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুপুরে যখন আমরা ভাবি ও ভাতিজির মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলছিলাম, সে সময় শিশু সাইফুল মারা যায়। ভাই এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’

পরিদর্শক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘ঈদের ছুটি পাওয়ায় ভোরে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে একটি মোটরসাইকেলে গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে পেছন থেকে তেলবাহী একটি লরি মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।

‘এতে রাস্তায় পড়ে মা ও মেয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় মোহাম্মদ হোসাইন ও শিশু ছেলে সাইফুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুর মৃত্যু হয়।’

এই ঘটনায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুর কাছে গাড়ির ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত
ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল চালকের
বাস-ট্রাক সংঘর্ষে চালক নিহত
পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় চিকিৎসাধীন নারীর মৃত্যু
কাভার্ড ভ্যানের চাপায় সমবায় কর্মকর্তা নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The driver was arrested in the incident in which 5 people including a teacher were killed

ট্রাকচাপায় শিক্ষকসহ ৫ জন নিহতের ঘটনায় চালক গ্রেপ্তার

ট্রাকচাপায় শিক্ষকসহ ৫ জন নিহতের ঘটনায় চালক গ্রেপ্তার গ্রেপ্তার ট্রাকচালক রেজাউল করিম। ছবি: নিউজবাংলা
র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরীয়ার বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে তার বাড়ির পাশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানোর কথা শিকার করেছেন।’

নওগাঁর সদরে ট্রাকের চাপায় চার শিক্ষকসহ সিএনজিচালিত অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

চালক রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি বুধবার দুপুরে নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরীয়ার।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে মান্দা উপজেলার সাবাইহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কর্নেল রিয়াজ শাহরীয়ার বলেন, নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের বাবলাতলী মোড় এলাকার ওই দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষকদের পরিবারের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা মামলা করা হয়। সবগুলো মামলায় মূল আসামি করা হয় রেজাউলকে। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে তার বাড়ির পাশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানোর কথা শিকার করেছেন বলে দাবি এই র‌্যাব কর্মকর্তার।

গত ২৪ জুন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের বাবলাতলী এলাকায় যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে চাপা দেয় ট্রাকটি। এ ঘটনায় ঘটনায় ৪ শিক্ষকসহ ৫ জন নিহত হন।

নিহতরা হলেন, নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার নেহেন্দা গ্রামের ও পানিহারা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন, বিজলী গ্রামের বেলকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুকবুল হোসেন, ভাদুরন্দ গ্রামের গোলাম নবীর স্ত্রী গুটিসর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জান্নাতুন খাতুন।

এ ছাড়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দুলালপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে ও আমকুড়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক লেলিন সরদার এবং সদরডাঙ্গা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশার চালক সেলিম হোসেন সেদিন নিহত হয়।

এ ঘটনায় আহত হন নিয়ামতপুর উপজেলার কুড়িদহ গ্রামের আব্দুল গফুরের মেয়ে ও কুড়িদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নূরজাহান বেগম।

আরও পড়ুন:
ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Teacher Murder Acknowledgment of Victory

শিক্ষক হত্যা: জিতুর দায় স্বীকার

শিক্ষক হত্যা: জিতুর দায় স্বীকার শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যা মামলার প্রধান আসামি আশরাফুল ইসলাম জিতু। ছবি: সংগৃহীত
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বলেন, ‘বুধবার রিমান্ড শেষে আসামি জিতুকে আদালতে তোলা হয়। শিক্ষককে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় সে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।’

সাভারের আশুলিয়ায় শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যা মামলার প্রধান আসামি আশরাফুল ইসলাম জিতু হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক রাজিব হাসান আসামির জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বুধবার দুপুরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মতিয়ার রহমান মিঞা নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বলেন, ‘বুধবার রিমান্ড শেষে আসামি জিতুকে আদালতে তোলা হয়। শিক্ষককে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় সে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।’

শিক্ষক হত্যার ঘটনায় নিহতের বড় ভাই অসীম কুমার সরকার আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। এই মামলায় গেল বুধবার জিতুকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

যা ঘটেছিল

সাভারে হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা ছেলেদের ফুটবল ও মেয়েদের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছি। শনিবার (২৫ জুন) স্কুলে মেয়েদের ক্রিকেট খেলা চলছিল। এ সময় প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় তলা ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিল ছেলে শিক্ষার্থীরা।

‘অভিযুক্ত ছাত্রও দ্বিতীয় তলায় ছিল। হঠাৎ সে নেমে মাঠের এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষক উৎপলকে স্টাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় উৎপলকে উদ্ধার করে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই রোববার সকালে উৎপলের মৃত্যু হয়।’

অধ্যক্ষ জানান, উৎপলের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার এঙ্গেলদানি গ্রামে। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

তিনি আরও জানান, দায়িত্বের অংশ হিসেবেই উৎপল শিক্ষার্থীদের আচরণগত সমস্যা নিয়ে কাউন্সেলিং করতেন এবং তাদের নানা অপরাধ বা নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিচার করতেন।

আরও পড়ুন:
ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: স্ত্রীসহ ‘হেনোলাক্স মালিক’ আমিন গ্রেপ্তার
শিক্ষককে জুতার মালা: কলেজে বিভেদ পেয়েছে মাউশি
ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: ২০০৪ সাল থেকেই বন্ধ আমিনের ‘হেনোলাক্স’
ঢাবি শিক্ষককে বাসা ছাড়তে হবে: হাইকোর্ট
কিশোর হত্যা মামলায় যুবক কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Semai is not making cosmetics in Amins Henolax factory

আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী নয়, তৈরি হচ্ছে সেমাই

আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী নয়, তৈরি হচ্ছে সেমাই কদমতলী এলাকায় নুরুল আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী উৎপাদন বহু বছর ধরে বন্ধ। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
নিউজবাংলা কদমতলী এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছে, সেখানে নুরুল আমিনের একটি কারখানা থাকলেও প্রসাধনসামগ্রীর উৎপাদন বহু বছর ধরে বন্ধ। কারখানাটি ভাড়া দেয়া হয়েছে একটি সেমাই উৎপাদক প্রতিষ্ঠানকে। প্রসাধনীর পরিবর্তে সেই কারখানায় উৎপাদন করা হচ্ছে সেমাই।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সোমবার নিজের শরীরে আগুন দিয়ে ব্যবসায়ী গাজী আনিসের আত্মাহুতির ঘটনায় সামনে এসেছে হেনোলাক্স কোম্পানির নাম।

মৃত্যুর আগে গাজী আনিস অভিযোগ করে গেছেন, হেনোলাক্স কোম্পানিতে তিনি ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। লভ্যাংশসহ সেই টাকা ৩ কোটির ওপরে পৌঁছালেও কোম্পানির মালিক নুরুল আমিন কোনো অর্থ ফেরত দেননি। এই নিয়ে মামলা করেও লাভ হয়নি।

এই হতাশা থেকেই সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিজের গায়ে আগুন দেন কুষ্টিয়ার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গাজী আনিস। রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নুরুল আমিনকে হেনোলাক্স কোম্পানির মালিক বলা হলেও নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেড় যুগ আগেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।

নুরুল আমিন বর্তমানে আমিন পোল্ট্রি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, আমিন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আমিন ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের পরিচয় দিচ্ছেন। এর আগে আমিন হারবাল কোম্পানি লিমিডেট প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করেছেন নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে।

আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী নয়, তৈরি হচ্ছে সেমাই
কথিত হেনোলাক্স গ্রুপের মালিক নুরুল আমিন

ফেসবুকে নিজেকে ডা. এন আমিন হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তিনি। নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ব্যাবসায়িক জীবন শুরু করার আগে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন নুরুল আমিন। ১৯৮৪ সালে হেনোলাক্স কোম্পানি শুরু করার পর তিনি আগের পেশা থেকে সরে এলেও নামের আগে ডা. ব্যবহার করছেন।

ফেসবুকে তিনি বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন, বাস্তবে সেগুলোর কার্যক্রম নেই। ঠিকানা হিসেবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পুরানা পল্টনের ‘হেনোলাক্স সেন্টার’-এর নাম ব্যবহার করা হয়েছে। আর আমিন হারবাল কোম্পানি লিমিডেটের ঠিকানা হিসেবে রাজধানীর কদমতলী এলাকার একটি ঠিকানা রয়েছে।

নিউজবাংলা কদমতলী এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছে, সেখানে নুরুল আমিনের একটি কারখানা থাকলেও প্রসাধনসামগ্রীর উৎপাদন বহু বছর ধরে বন্ধ। কারখানাটি ভাড়া দেয়া হয়েছে একটি সেমাই উৎপাদক প্রতিষ্ঠানকে। প্রসাধনীর পরিবর্তে সেই কারখানায় উৎপাদন করা হচ্ছে সেমাই।

কদমতলীতে নুরুল আমিনের আরেকটি ভবন রয়েছে। সেখানে ফ্ল্যাট তৈরি করে আবাসিক ভবন হিসেবে ভাড়া দেয়া হয়েছে। এই ভবনের নিচতলায় কিছু দোকানও রয়েছে। নিউজবাংলার অনুসন্ধানে বেশ কয়েক বছর ধরে নুরুল আমিনের কোনো প্রসাধনসামগ্রী উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি।

আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী নয়, তৈরি হচ্ছে সেমাই
কদমতলীতে হেনোলাক্স কারখানার প্রধান ফটক

কদমতলীর কারখানায় ভৌতিক পরিবেশ

রাজধানীর কদমতলী এলাকায় একসময়ের বিশাল কর্মযজ্ঞের কারণে এখনও এক নামে হেনোলাক্স কারখানাকে চেনেন স্থানীয়রা। লোকমুখে কদমতলীর একটি অংশ হেনোলাক্স নামেই পরিচিত।

কদমতলীর মোহম্মদবাগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কথিত হেনোলাক্স কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১০ কাঠা জায়গার ওপর মূল কারখানা, এর পাশের আরও ১০ কাঠা জমিতে একতলা ভবন রয়েছে।

৯৮৭ মোহম্মদবাগ, কদমতলী- এই ঠিকানার মূল কারখানা ভবনটি তিনতলা। আলো নেভানো এবং ভেতর থেকে বন্ধ কারখানাটিতে ভূতুড়ে পরিবেশ দেখা গেছে। ভেতরে ছিলেন একজন নিরাপত্তাকর্মী। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গেট খোলার অনুরোধ করলেও তিনি ঢুকতে দেননি।

ওই নিরাপত্তাকর্মী নিজের নাম প্রকাশ না করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কারখানার ভেতরে কেউ নেই। এটি এখন বন্ধ।’

কারখানা কবে বন্ধ হয়েছে এবং সেখানে কী উৎপাদন হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে সেমাই তৈরি করা হয়, তবে দুই-তিন দিন ধরে কারখানা বন্ধ।’

পাশের দোকানি আফজাল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকেই এই কারখানা দেখে আসছি। আগে এটা কদমতলীর মেরাজবাগে ছিল, পরে মোহম্মদবাগে আনছে। একসময় তো এই কারখানায় দিন-রাত কাজ চলত। ক্রিম-তেল এগুলা বানাইত। সারা এলাকায় কত সুন্দর ঘ্রাণ পাওয়া যাইত।

‘কারখানার শ্রমিকও ছিল অনেক। কিন্তু ২০০৫ সালের পর থেকে আস্তে আস্তে কারখানার শ্রমিক আর কাজকর্ম কমতে থাকে। এখন তো দেখি এইখানে সেমাই বানায়া ভ্যানে কইরা নিয়া যায়।’

আফজাল হোসেনের সঙ্গে কথা শেষে আবারও কারখানার মূল ফটকের সামনে গিয়ে মিন্টু নামের এক কাভার্ড ভ্যানচালকের দেখা পাওয়া যায়। তিনি হেনোলাক্স গ্রুপের একমাত্র কাভার্ড ভ্যানের চালক।

কারখানা সম্পর্কে জানতে চাইলে মিন্টু বলেন, ‘ব্যবসায় লসের কারণে নুরুল আমিন সাহেব এই কারখানার এক অংশ এখন সেমাই কারখানাকে ভাড়া দিয়েছেন। অন্য অংশে অনেক বছর ধরে হেনোলাক্সের মেশিন ও যন্ত্রপাতি অকেজো পড়ে আছে।’

মিন্টু বলেন, ‘আরও ১০ থেকে ১২ বছর আগেও কসমেটিকসের নিয়মিত প্রোডাকশন হতো এখানে। কিন্তু লসের পর একে একে হেনোলাক্স, আমিন ফুড ও আমিন হারবালের সব প্রোডাকশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর অনেক দিন বন্ধই পড়েছিল কারখানাটি। গত দুই বছর ধরে একটি সেমাই প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেয়া হয়েছে।

‘তবে ব্যবসা মন্দার কারণে গত কয়েক দিন ধরে এখানে সেমাই উৎপাদনও বন্ধ। সেমাই কারখানার মালিক-শ্রমিক কেউ দুই দিন ধরে এখানে আসছেন না।’

নুরুল আমিনের সম্প্রতি হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে বলে জানান মিন্টু।

তিনি বলেন, ‘এ জন্য স্যার বেশ কিছুদিন ধরে এখানে আসেন না। কারখানা বন্ধ থাকলেও স্যার আগে কয়েক দিন পরপরই আসতেন। এখন মাঝেমধ্যে ম্যাডাম (নুরুল আমিনের স্ত্রী ফাতেমা আমিন) আসেন, গাড়ি নিয়ে আসেন একটু ঘুরে দেখে আবার চলে যান।’

গাজী আনিসের আত্মাহুতির ঘটনায় করা মামলায় নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিনকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী নয়, তৈরি হচ্ছে সেমাই
কদমতলীর মেরাজনগরে হেনোলাক্স ভবন

কদমতলীর হেনোলাক্স ভবন দেয়া হয়েছে ভাড়া

ফেসবুকে আমিন হারবাল কোম্পানি লিমিডেটের ঠিকানা হিসেবে কদমতলীর মেরাজনগরের একটি ঠিকানা দেয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সেটি ‘হেনোলাক্স বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত।

মোহম্মদবাগের কারখানা থেকে অটোরিকশায় মেরাজনগর বাজারে পৌঁছান নিউজবাংলার প্রতিবেদক। এই এলাকার অন্য নাম ‘হেনোলাক্স মোড়’। স্থানীয়রা জানান, বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ‘হেনোলাক্স ভবন-১’ নামের ভবনটির কারণেই লোকমুখে এলাকাটির এমন নামকরণ।

এই ভবনের ঠিকানা: ১০৭৬, মেরাজনগর, কদমতলী। এলাকাবাসী জানান, এই ভবনেই হেনোলাক্সের প্রথম কারখানা ছিল, পরে সেটি মোহম্মদবাগে স্থানান্তর করা হয়। এখানকার কারখানা থেকেই নুরুল আমিনের উত্থান।

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৯৮০ সালের পরে নুরুল আমিন সাহেব এই জায়গা কিনে কারখানা বানান। তখন উনি সারা দিন এখানে থাকত। অনেক শ্রমিক ছিল। হেনোলাক্স দিয়ে উনি খুব অল্প সময়ে নাম করে ফেলেন।

‘তখন তো এই এলাকায় বাড়িঘর তেমন হয়নি। আশপাশে ডোবা আর জঙ্গল ছিল। এখানে মানুষ খুব একটা যাতায়াত করত না। আমিন সাহেব এই কারখানা করার পর এখানে সারা দিন শ্রমিকের আনাগোনা থাকত। ওদের দেখাদেখি সাধারণ মানুষও এখানে যাতায়াত শুরু করে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ শুরু থেকে হেনোলাক্সের কারখানা দিয়েই এই এলাকাকে চেনে। এরপর আমিন সাহেব এই এলাকায় প্রচুর জায়গা-সম্পত্তি কিনেছিলেন। এখন শুধু এই বাড়ি আর মোহম্মদবাগের কারখানাটার কথাই জানি। বাকি সম্পদ আছে কি না আমার জানা নাই।’

দেখা গেছে, পাঁচ কাঠা জমির ওপর নির্মিত হয়েছে চারতলা ‘হেনোলাক্স ভবন-১’। এর নিচতলায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও ওপরের তিনতলা আবাসিক ফ্ল্যাট আকারে ভাড়া দেয়া হয়েছে। নিচতলায় একপাশে বাজার, অন্যপাশে সেলুন, মুদি দোকান রয়েছে। আর ওপরের তিনতলায় দুটি করে মোট ছয়টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

প্রতিটি ফ্ল্যাট মাসিক ১৫ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়েছেন নুরুল আমিন। আর নিচের বাজার ও দোকান থেকে মাসে প্রায় ১ লাখ টাকা ভাড়া আদায় হয়।

একটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া আঞ্জুমান আরা নিউজবাংলাকে জানান, তারা প্রায় পাঁচ বছর ধরে এখানে ভাড়া থাকেন। তিনি বাড়ির মালিক হিসেবে নুরুল আমিন ও তার স্ত্রীর নাম জানেন, তবে কখনও দেখেননি। একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রতি মাসে ভাড়া তুলে নিয়ে যান এবং বাড়ির দেখাশোনা করেন।

আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী নয়, তৈরি হচ্ছে সেমাই
পুরানা পল্টনে কথিত হেনোলাক্স গ্রুপের প্রধান কার্যালয় এখন বন্ধ

হেনোলাক্সের কথিত প্রধান কার্যালয়ও জনশূন্য

ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় কথিত হেনোলাক্স গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে ৩/১ পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ উল্লেখ করেছেন নুরুল আমিন।

সেখানে মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, ১১ তলা বাণিজ্যিক ভবনটির নাম ‘স্কাই ভিউ হেনোলাক্স সেন্টার’। এর তৃতীয় তলায় কথিত হেনোলাক্সের প্রধান কার্যালয়। আমিন ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, আমিন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ঠিকানা হিসেবেও এটি ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে কক্ষটির বাইরের কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলতে দেখা যায়। অফিসের ঠিকানার ফোন নম্বরে কল করা হলেও কেউ ধরেননি।

ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী আবদুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সোমবার বিকেল থেকে হেনোলাক্সের এই কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত অফিসে কেউ আসেননি। এর আগে নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী নিয়মিত অফিসে আসতেন। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার তাদের অফিসে আসতে দেখা গেছে।’

কাদের জানান, ১১ তলা বাণিজ্যিক ভবনটির জমির মালিক নুরুল আমিন। তবে স্কাই ভিউ ডেভেলপার কোম্পানি এর ওপর ১১ তলা ভবনটি নির্মাণ করেছে। ভবনের ৩৬টি বাণিজ্যিক ফ্ল্যাটের ১৮টির মালিক নুরুল আমিন, বাকি অর্ধেক পেয়েছে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান।

কথিত হেনোলাক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপক রতন কুমারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতে পেরেছে নিউজবাংলা। তিনি মঙ্গলবার দাবি করেন, পাঁচ দিনের ছুটিতে তিনি গাজীপুর আছেন এবং অফিস বন্ধ থাকার কোনো তথ্য তিনি জানেন না। নুরুল আমিন ও তার স্ত্রীর ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তাদের সঙ্গেও সোমবার থেকে যোগাযোগ নেই রতনের।

গাজী আনিসের আত্মহত্যার বিষয়টি অবশ্য জানেন রতন কুমার। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নিউজে দেখেছি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমি এই প্রতিষ্ঠানে ২৮ বছর ধরে কাজ করছি, আমি আনিস নামের ভদ্রলোককে কখনও আমাদের অফিসে দেখিনি৷ ওনার নাকি ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা পাওনা ছিল। এমনটা হলে তার তো অফিসে আসার কথা এবং পুলিশেরও আসার কথা।

‘আমি এমন কিছু কখনও দেখিনি এবং আমাদের স্যার-ম্যাডামও এ বিষয়ে কখনও কোনো কিছু বলেননি। বিষয়টি জেনে আমি খুবই অবাক হয়েছি।’

রতন কুমার বলেন, ‘হেনোলাক্স ১৯৮৪ সালে প্রথমে ত্বক ফর্সা করা ও মুখের দাগ দূর করার কয়েকটি ক্রিম নিয়ে বাজারে ব্যবসা শুরু করে। এরপর এর জনপ্রিয়তার কারণে হেনোলাক্সের মোড়কে নকল ক্রিমে বাজার সয়লাব হয়ে যায়। মামলা মোকদ্দমা করেও নকল ক্রিমের বাজার বন্ধ করতে না পেরে ২০০৪ সালে এই ব্যবসা গুটিয়ে নেয় হেনোলাক্স কর্তৃপক্ষ।

‘এরপর নুরুল আমিন হেনোলাক্স ফুড নামে লাইসেন্স নিয়ে রেডি টিসহ দুই-একটি খাদ্যপণ্য বাজারে নিয়ে আসেন। ২০১৯ সালে লোকসানের খাতায় নাম লিখিয়ে এটিও বন্ধ হয়ে যায়। নুরুল আমিন ২০১২ সালে আমিন হারবাল কোম্পানি লিমিডেটের লাইসেন্স নিয়ে এর অধীনে বেশ কিছু প্রসাধনসামগ্রী উৎপাদন ও বিপণন শুরু করেন। তবে ২০১৯ সালের পর এই ব্যবসাতেও ধস নামে।’

রতন কুমার বলেন, ‘আমিন হারবালের উৎপাদনও বন্ধ, কোনো অর্ডার পাওয়া গেলে কেবল সেগুলো তৈরি করে সরবরাহ করা হয়।’

তিনি জানান, ব্যাবসায়িক মন্দার কারণে কদমতলীর কারখানাটি অন্য এক প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন নুরুল আমিন। এখন পুরানা পল্টনের ফ্ল্যাট ও কারখানা ভাড়া ছাড়া হেনোলাক্স গ্রুপের আর কোনো দৃশ্যমান আয়ের উৎস নেই।

রতন কুমার বলেন, ‘আমরা কয়েকজন কর্মকর্তা আছি, তারা পল্টনের অফিসে বসি। আমি মূলত পুরানা পল্টনের ভবনটির ও কারখানার ভাড়া তুলি। আর মো. তসলিম উদ্দীন নামে আমিন হারবালের একজন মার্কেটিং ম্যানেজার আছেন। তিনি দৌড়াদৌড়ি করে হারবালের কিছু অর্ডার নিয়ে আসেন, এভাবেই চলছে।’

আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী নয়, তৈরি হচ্ছে সেমাই
হেনোলাক্স গ্রুপের মালিক নুরুল আমিন (মাঝে) ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিন (ডানে)

আমিন হারবাল লিমিটেডের মার্কেটিং ম্যানেজার মো. তসলিম উদ্দীনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে। ২০১৬ সাল থেকে তিনি এই পদে আছেন। তিনি মূলত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আমিন হারবালের প্রসাধনীর প্রচার ও বিপণনসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে সোমবারের পর থেকে তাকেও অফিসে দেখা যায়নি। তসলিমের ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

নুরুল আমিনের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুরে। শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাদিম সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নুরুল আমিনের পরিবারের সদস্যরা অনেক আগে থেকেই ঢাকায় থাকেন। গ্রামের সবাই তাকে হেনোলাক্সের কর্ণধার হিসেবে চেনেন।’

ঢাকায় হেনোলাক্স প্রতিষ্ঠার পরই নুরুল আমিনের পরিবারে সচ্ছলতা আসে উল্লেখ করে নাদিম সরকার বলেন, ‘নুরুল আমিন সাহেব আমাদের এলাকায় সহজ-সরল মানুষ হিসেবে পরিচিত। তার পরিবার অতটা সচ্ছল ছিল না। শুনেছি আগে তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন। তবে ঢাকায় গিয়ে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে হেনোলাক্স প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের অবস্থার পরিবর্তন হয়।

‘বড় ব্যবসায়ী হিসেবে নাম কামান। ঢাকাসহ নরসিংদীতে অনেক জায়গাজমি কেনেন। তবে আবার এই হেনোলাক্স লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে যায় বলে আমরা শুনেছি। হেনোলাক্স ছাড়া তার আর কোনো ব্যবসা আছে বলে আমার জানা নেই।’

নুরুল আমিনের শ্বশুরবাড়িও একই এলাকায় জানিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ওনার কোনো সন্তান নেই। স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন। শুধু ঈদের সময় বছরে দুই-একবার গ্রামে আসেন।’

আরও পড়ুন:
হেনোলাক্স মালিকের বিচার চেয়ে ফেসবুকেও সোচ্চার ছিলেন আনিস
বাঁচানো গেল না গায়ে আগুন দেয়া গাজী আনিসকে
নিজের গায়ে আগুন দিলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা
কারওয়ান বাজারে ‘রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা’
ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল কিশোরীর মরদেহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Burial of Gazi Anis a businessman who set fire to his body

গায়ে আগুন দেয়া ব্যবসায়ী গাজী আনিসের দাফন

গায়ে আগুন দেয়া ব্যবসায়ী গাজী আনিসের দাফন গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার পান্টিতে ব্যবসায়ী গাজী আনিসকে দাফন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
পান্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় আনিসের মরদেহ ফ্রিজিং ভ্যানে করে এলাকায় আনা হয়। এ সময় এত মানুষের সমাগম হয় যে ভিড় সামলানো কঠিন হচ্ছিল। গাজী আনিসের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিজের শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করা কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গাজী আনিসুর রহমানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পান্টিতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে দাফন করা হয়।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করে পান্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টায় আনিসের মরদেহ ফ্রিজিং ভ্যানে করে এলাকায় আনা হয়। এ সময় এত মানুষের সমাগম হয় যে ভিড় সামলানো কঠিন হচ্ছিল। গাজী আনিসের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’

এর আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা থেকে গাজী আনিসের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে পান্টিতে পৌঁছায়। এ সময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত হেনোলাক্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিনের কঠোর শাস্তির দাবি করেন আনিসের বড় ভাইসহ এলাকাবাসী।

গায়ে আগুন দেয়া ব্যবসায়ী গাজী আনিসের দাফন

পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পান্টি মসজিদে জানাজা শেষে পান্টি ঈদগাহ গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় রাজনৈতিক নেতা, এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

এইচএসসি পরিক্ষার্থী আঁচল, এসএসসি পরিক্ষার্থী অহনা ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী অবনির বাবা গাজী আনিস কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি জীবনের উপার্জিত সর্বস্ব হেনোলাক্স কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন বলে জানিয়ে গেছেন।

মৃত্যুর আগে গাজী আনিস অভিযোগ করে গেছেন, হেনোলাক্স কোম্পানিতে তিনি ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। লভ্যাংশসহ সেই টাকা ৩ কোটির ওপরে পৌঁছালেও নুরুল আমিন কোনো অর্থ ফেরত দেননি। এ নিয়ে মামলা করেও লাভ হয়নি।

গায়ে আগুন দেয়া ব্যবসায়ী গাজী আনিসের দাফন

এই হতাশা থেকেই সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিজের গায়ে আগুন দেন কুষ্টিয়ার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গাজী আনিস। রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, আনিসের মুখমণ্ডলসহ শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এ ঘটনায় হেনোলাক্স গ্রুপের মালিক নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার শাহবাগ থানায় মামলা করেন আনিসের বড় ভাই নজরুল ইসলাম। মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গায়ে আগুন দেয়া ব্যবসায়ী গাজী আনিসের দাফন
জাতীয় প্রেস ক্লাবে গায়ে আগুন দেয়ার পর হাসপাতালে নেয়ার পথে গাজী আনিস। ছবি: নিউজবাংলা

এদিকে সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী আনিসকে হারিয়ে তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম শঙ্কায় স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। অবিলম্বে পাওনা টাকা ফেরতসহ আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিনের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন তিনি, তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

গাজী আনিসের বড় মেয়ে আঁচলের দাবি, কেউ তার বাবার শরীরে আগুন দিয়েছে নাকি তিনি নিজেই দিয়েছে এ বিষয়টিও তদন্তের।

আরও পড়ুন:
নিজের গায়ে আগুন দিলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা
কারওয়ান বাজারে ‘রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা’
ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল কিশোরীর মরদেহ
কৃষকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ ঘরে, অভিযোগ হত্যার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
At the end of remand Bayazid opened the Padma Bridge in jail

রিমান্ড শেষে কারাগারে পদ্মা সেতুর নাট খোলা বাইজীদ

রিমান্ড শেষে কারাগারে পদ্মা সেতুর নাট খোলা বাইজীদ পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট খুলে টিকটক ভিডিও বানান বাইজীদ। ছবি: সংগৃহীত
আসামিপক্ষের আইনজীবী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতের আদেশে আমরা ক্ষুব্ধ। ন্যায়বিচারের স্বার্থে জজ আদালতে জামিনের আবেদন করব।’

সাত দিনের রিমান্ড শেষে পদ্মা সেতুর নাট খুলে টিকটক করা যুবক বাইজীদ তালহাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

শরীয়তপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক সামসুল আলম বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার জামিন আবেদন নাকচ করে এ নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আদালতের আদেশে আমরা ক্ষুব্ধ। ন্যায়বিচারের স্বার্থে জজ আদালতে জামিনের আবেদন করব।’

আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর জানান, ২৭ জুন বাইজীদকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে বিচারক তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠান।

২৬ জুন পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরুর দিন রেলিংয়ের নাট খোলার ভিডিও টিকটকে ছড়িয়ে সন্ধ্যায় সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হন এক যুবক।

পরে জানা যায়, তিনি বায়েজিদ তালহা নামে পরিচিত, তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম মো. বাইজীদ। তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে পুলিশ।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মনে করছে, সেতুর ওপরের রেলিংয়ের ইস্পাতের পাতের সংযোগস্থলের নাট খোলা নিছক খেয়ালের ছলে হয়নি; এটা পরিকল্পিত।

বাইজীদের বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার তেলীখালী গ্রামে। একসময়ের ছাত্রদলকর্মী বাইজীদ বর্তমানে ঢাকায় ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও পটুয়াখালী বিএনপিসংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, বাইজীদ অতীতে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপ‌তি গাজী আশফাকুর রহমান বিপ্লবের সময়ে বিএন‌পি ও ছাত্রদলের মি‌ছিল-মি‌টিংয়ে নিয়মিত অংশ নিতেন তিনি।

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুর রেলিং নিরাপত্তার জন্য নয়: মন্ত্রিপরিষদ সচিব
পদ্মা সেতু থেকে ভ্যাট আসবে বছরে ২০০ কোটি টাকার বেশি
পদ্মা সেতু ইট-কাঠের স্থাপনা নয়, এটি আত্মমর্যাদা: শেখ হাসিনা
ঈদের আগে পদ্মা সেতুতে বাইক নয়
পর্যটনের নানান দুয়ার খুলছে দক্ষিণে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ananta Vijay murder Arrested in India

ব্লগার অনন্ত হত্যা: ভারতে গ্রেপ্তার ফাঁসির আসামি

ব্লগার অনন্ত হত্যা: ভারতে গ্রেপ্তার ফাঁসির আসামি ব্লগার অনন্ত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফয়সাল আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আনন্দবাজার জানিয়েছে, জুনের শুরুতে ভারতে ফয়সালের অবস্থানের তথ্য পান বাংলাদেশের গোয়েন্দারা। এরপর তার মোবাইল নম্বর কলকাতা পুলিশকে দেয়া হয়। মোবাইল ট্র্যাক করে বেঙ্গালুরু থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সিলেটে বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ফয়সাল আহমদকে ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ।

কলকাতা পুলিশের বরাতে দৈনিক আনন্দবাজার জানিয়েছে, ১ জুলাই বেঙ্গালুরুর বোম্মনাহাল্লি থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩ জুলাই কলকাতায় আনা হয় তাকে।

আনন্দবাজার আরও জানিয়েছে, জুনের শুরুতে ভারতে ফয়সালের অবস্থানের তথ্য পান বাংলাদেশের গোয়েন্দারা। এরপর তার মোবাইল নম্বর কলকাতা পুলিশকে দেয়া হয়। মোবাইল ট্র্যাক করে বেঙ্গালুরু থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কলকাতা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ফয়সালকে শিগগিরই বাংলাদেশ পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হবে।

গত ৩০ মার্চ সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে অনন্ত বিজয় হত্যা মামলার রায়ে ফয়সালসহ ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

দণ্ডিত চারজন হলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আবুল হোসেন, খালপাড় তালবাড়ির ফয়সাল আহমদ, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বিরেন্দ্রনগরের (বাগলী) মামুনুর রশীদ ওরফে হারুন অর রশিদ ও কানাইঘাটের ফালজুর গ্রামের আবুল খায়ের রশীদ আহমদ।

এ মামলায় সিলেট নগরের রিকাবীবাজার এলাকায় বসবাসকারী সাফিউর রহমান ওরফে ফারাবী সাফিউর রহমানকে খালাস দেয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া চারজনের মধ্যে আবুল হোসেন, ফয়সাল আহমদ ও মামুনুর রশীদ পলাতক ছিলেন। এর মধ্যে ফয়সাল ভারতে গ্রেপ্তার হলেন।

কলকাতা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল জানিয়েছেন, তারই নেতৃত্বে আসামের বরাক উপত্যকায় আল-কায়দা ঘাঁটি মজবুত করেছে। তিনি আল-কায়দার ছায়া সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন মাদ্রাসায় পড়ানোর আড়ালে জিহাদি মতাদর্শ ছড়িয়েছেন ফয়সাল।

গ্রেপ্তারের সময় ফয়সালের কাছে কলকাতা পুলিশ যে পাসপোর্ট পায়, তাতে রয়েছে কাছাড়ঘেঁষা মিজোরামের ঠিকানা। ড্রাইভিং লাইসেন্স জোগাড় করেন বেঙ্গালুরু থেকে। ভোটার কার্ড শিলচরের। সেখানে তার পরিচয় শাহিদ মজুমদার।

পুলিশ জানায়, জিহাদি কার্যকলাপের অভিযোগ স্বীকার করে ফয়সাল জানিয়েছেন, ২০১৫ সালেই তিনি শিলচরে পালিয়ে যান। তবে ব্লগার হত্যায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

অনন্ত হত্যা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১২ মে সিলেট নগরের সুবিদবাজারে নুরানি আবাসিক এলাকায় নিজ বাসার সামনে খুন হন অনন্ত। পেশায় ব্যাংকার অনন্ত বিজ্ঞান নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ‘যুক্তি’ নামে বিজ্ঞানবিষয়ক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

হত্যার পর অনন্তের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ সিলেট বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।

মামলাটি পুলিশের কাছ থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর করা হয়। সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী তদন্ত করে ২০১৭ সালের ৯ মে সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন। এতে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

মামলায় ২৯ সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
ব্লগার অনন্ত হত্যা মামলার রায়ের অপেক্ষা
ব্লগার অনন্ত হত্যা মামলার রায় ৩০ মার্চ
ব্লগার অনন্ত হত্যা: সাফাই সাক্ষ্য শেষ
অনন্ত হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল ৪ বার
অনন্ত বিজয় হত্যা: সাক্ষ্য দিতে আসছেন না তদন্ত কর্মকর্তা

মন্তব্য

p
উপরে