× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Azizs tolabaji was suppressed in New Market
hear-news
player
print-icon

ছাত্রলীগকর্মীদের বিরুদ্ধে জোর করে জামা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

ছাত্রলীগকর্মীদের-বিরুদ্ধে-জোর-করে-জামা-নিয়ে-যাওয়ার-অভিযোগ
রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেট। ছবি: সংগৃহীত
ব্যবসায়ীরা জানান, আজিজ সুপার মার্কেটের ছয়টি দোকান থেকে অর্ধ লাখ টাকার পোশাক জোর করে নিয়ে গেছেন ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ের কয়েকজন। ঈদুল ফিতরের আগে ২১ এপ্রিল রাতে এই তোলাবাজির ঘটনা ঘটে। তখন ঢাকা কলেজ-নিউ মার্কেটের মতো সংঘর্ষের আশঙ্কায় দোকানিরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দেননি; মামলাও করেননি।

ছাত্রলীগকর্মীদের বিরুদ্ধে টাকা না দিয়ে জোর করে জামা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন রাজধানীর শাহবাগের আজিজ কো-অপারেটিভ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।

ঘটনা ঈদের আগের। মূলত বিষয়টি আলোচনার বাইরে থেকে যায় সে সময়ে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী ও নিউ মার্কেট ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায়।

আজিজ সুপার মার্কেটের ছয়টি দোকান থেকে অর্ধ লাখ টাকার পোশাক জোর করে নিয়ে যাওয়ার এ অভিযোগ সম্প্রতি প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা, তবে তারা মামলা করেননি।

ছাত্রলীগ কর্মীরা দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে আজিজ সুপার মার্কেটের ছয়টি দোকানে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটায় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চুপ। অভিযুক্তরা সবাই হল ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকলেও তাদের ‘কর্মের’ দায় নিতে রাজি নন নেতারা। লিখিত অভিযোগ পাননি জানিয়ে তারা প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাচ্ছেন।

ছাত্রলীগকর্মীদের বিরুদ্ধে জোর করে জামা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

অভিযোগ দীর্ঘদিন গোপন রাখার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদুল ফিতরের আগে ২১ এপ্রিল রাতে এই তোলাবাজির ঘটনা ঘটে। তখন ঢাকা কলেজ-নিউ মার্কেটের মতো সংঘর্ষের আশঙ্কায় দোকানিরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ দেননি; মামলাও করেননি। আর সবাই ঈদের ছুটিতে ঢাকার বাইরে থাকায় পরে এ নিয়ে আলোচনা হয়নি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হলে অনেকে তথ্য যাচাইয়ে আসেন। তখন দোকানিরা ‘প্রকৃত ঘটনা’ তুলে ধরেন।

সেই রাতের বর্ণনা দিয়ে ‘ইজি’ নামের একটি দোকানের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় পাঁচ-ছয়জন শোরুমে ঢোকেন। তুই-তোকারি করে কথা বলেন। তারা ১৩টি পোশাক নিয়ে প্যাক করতে বলেন।

‘১৮ হাজার টাকার জিনিস তারা ৪ হাজার ৯০০ টাকায় দিতে বললে আপত্তি জানাই। তখন তারা ঢাকা ভার্সিটির ছাত্রলীগ নেতা বলে দাবি করেন। এরপর প্যাক করা পোশাক বিল না দিয়েই নিয়ে যান।’

‘ব্যতিক্রম’ শোরুমের এক্সিকিউটিভ অর্ণব অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগকর্মীদের কয়েকজন তাদের শোরুম থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা দামের কাপড় নিয়েছেন টাকা পরিশোধ না করেই।

তিনি বলেন, ‘রাত পৌনে ৯টার দিকে সাত-আটজন এসে দোকানের মালগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করেন। তারা একটা একটা করে প্যান্ট দেখে পছন্দ না হলে নিচে ফেলে দেন। যেগুলো পছন্দ হয়, সেগুলো এক পাশে জমা করেন। ২৭ থেকে ২৮ পিস প্যান্টসহ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার পণ্য নিয়ে তারা দোকান থেকে বের হয়ে যান। এক টাকাও দেননি।’

কর্মচারীদের গালাগালি করার সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগ নেতা বলে দাবি করেন বলে জানান অর্ণব।

‘খেয়া’ শো-রুমের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সেদিন সাড়ে ১১টার দিকে পাঁচজন আসেন। এরপর যে যার মতো পছন্দ করে জিনিস নেন। তারা ১০টা শার্ট, ২-৩টা পাঞ্জাবি নিয়েছেন। অর্ধেকের কম পেমেন্ট দিয়ে তারা চলে যান।’

‘প্লাস পয়েন্ট’ শো-রুমের সহকারী ম্যানেজার জাকির হোসেন বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে পাঁচ থেকে ছয়জন ছেলে কিছু পণ্য পছন্দ করে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট চান। রাজি না হলে তারা জোর করে অর্ধেক দামে পণ্য নিয়ে চলে যান।’

‘কে ক্রাফট’ এর লোটাস নামের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সেদিন অন্য দোকানগুলোতে বেশি ঝামেলা করেছে। আমার এখানে তারা পেমেন্ট কম করেছে, তবে ঈদের ব্যস্ততার মাঝে সময় নষ্ট করেছে বেশি।’

অভিযুক্ত যারা

আজিজ সুপার মার্কেটে বিনা মূল্যে পণ্য নেয়া ও কম দাম দেয়ার বিষয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে সাতজনই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শান্তর অনুসারী। একজন ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাঈমের অনুসারী।

ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য যাচাইয়ে জানা যায়, প্রথম গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদুর রহমান আলিফ এবং পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রানা। তারা দুজনই ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের।

অন্য গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম শুভ, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শাহনেওয়াজ আরেফিন পল্লব এবং সমাজকল্যাণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের শেখ শান্ত আলম।

এই গ্রুপের অন্য সদস্যরা হলেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের রায়হান, দর্শন বিভাগের আব্দুল মমিন, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শফিকুল ইসলাম। তারা সবাই বঙ্গবন্ধু হলের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শান্ত।

অভিযুক্ত আলিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি সব পেমেন্ট করছি। যে বলছে, সে মিথ্যা কথা বলছে। আমি শুধু একটা শার্ট আর প্যান্ট কিনছি।’

পরিসংখ্যান বিভাগের রানা বলেন, ‘ক্যাম্পাসে রাজনীতি করি, অনেক শত্রু থাকতে পারে। সেদিন আমি যা যা শপিং করছি, সবগুলোরই পেমেন্ট করা হয়েছে। যেদিন আমি সেখানে গেছি, সেদিন যে যে পেমেন্ট করছি সেগুলোর স্ক্রিনশট আমার কাছে আছে।’

অভিযোগের বিষয়ে শাহ নেওয়াজ পল্লবকে ফোন করা হলে তিনি ‘রং নম্বর’ বলে লাইন কেটে দেন। অভিযুক্ত অন্যদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা যদি ঘটে থাকে, সেটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক। চাঁদাবাজির ঘটনায় ন্যূনতম প্রশ্রয় দেয়ার সুযোগ নেই। ঘটনার উপযুক্ত সত্যতা পেলে আমরা অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।’

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন বলেন, ‘এই বিষয়ে দোকানিরা আমাকে কিছু বলেননি। তারা আমাকে অভিযোগ না দিলে আমি কী করতে পারি? তারপরও আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

প্লাস পয়েন্ট শোরুমের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা মার্কেটের মালিক সমিতিকে সংবাদ দিই। তারা ঘটনার দুই দিন পর বিস্তারিত শোনেন। সব দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ আমরা জমা দিয়েছি। তারা মীমাংসা করে ফেলেছেন বলে শুনেছি। আর নেতারা আমাদের এই ঘটনা ভুলে যেতে বলেছেন।

‘সবকিছু বিবেচনায় আমরা অভিযোগ দিইনি। কারণ এটা করলে হয়তো ফের নিউ মার্কেটের মতো কোনো ঝামেলা হবে। দোকানের মালিকরা অল্প টাকার জন্য বড় ঝামেলায় জড়াতে চান না।’

সার্বিক বিষয়ে আজিজ সুপার মার্কেট মালিক সমিতির ম্যানেজার জনি বলেন, ‘ঘটনার ব্যাপারে আমি কথা বলতে পারব না। এগুলো আমি দেখি না। ঘটনা তো ঘটেছে অনেক আগে।

‘এ বিষয়ে আমাদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেন, তবে তাদের একজন দেশের বাইরে, অন্যজন ঢাকার বাইরে।’

বিষয়টি নিয়ে শাহবাগ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) কামরুজ্জামান বলেন, ‘এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা আমাদের কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। মৌখিকভাবেও জানাননি। আমি শপিং করতে গিয়ে কয়েকজনের কাছে বিষয়টি শুনেছি।’

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুদ হাওলাদারকে কল করে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
আব্বাসীকে গ্রেপ্তারের দাবি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের
মূল্যস্ফীতির পারদ চড়ছেই, দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
মৈত্রী ট্রেন ফের চালু হচ্ছে
বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা: দুজন রিমান্ডে
জয়ার হাতে আনন্দলোক অ্যাওয়ার্ড

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
There is no extra pressure on Eid by air

ঈদে বাড়তি চাপ নেই আকাশপথে

ঈদে বাড়তি চাপ নেই আকাশপথে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এবার আকাশপথে তেমন একটা চাপ নেই বলে জানিয়েছে দেশি এয়ারলাইনসগুলো। ফাইল ছবি
নভো এয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘এবার বাড়তি কোনো চাপই নেই। তবে এর মধ্যেও সৈয়দপুর রুটের ফ্লাইটের প্রতি যাত্রীদের কিছুটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আর অন্যান্যগুলো স্বাভাবিক সময়ের মতো।’

প্রতি বছর দুই ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপে হিমশিম খেতে হয় এয়ারলাইনসগুলোকে। এ কারণে ঈদের সময় প্রতিটি রুটেই বেশ কিছু অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এবার আকাশপথে তেমন একটা চাপ নেই বলে জানিয়েছে দেশি এয়ারলাইনসগুলো। তারা বলছে, রোজার ঈদের তুলনায় এবার যাত্রীদের আকাশপথে ভ্রমণের প্রবণতা কম। আর এ কারণে প্রস্তুতি রাখা হলেও এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ছাড়া আর কোনো দেশি এয়ারলাইনসই অতিরিক্ত ফ্লাইট ঘোষণা করেনি।

এবার পদ্মা সেতু হওয়ার পর যশোর এবং বরিশাল রুটে আকাশপথে অন্যান্য বারের মতো বাড়তি কোনো চাপ নেই। স্বাভাবিক ফ্লাইট দিয়েই এ দুটি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনসগুলো।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঈদকে সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ সাত রুটে ২৯টি অতিরিক্ত ফ্লাইট ঘোষণা করেছে। স্বাভাবিক সময়ে দেশি এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানই সবচেয়ে কম ফ্লাইট পরিচালনা করে।

বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার বলেন, ‘এবার অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান অতিরিক্ত ২৯টি (যাওয়া-আসা মিলে ৫৮টি) ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ৫ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করা হবে।

ঈদে বাড়তি চাপ নেই আকাশপথে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঈদকে সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ সাত রুটে ২৯টি অতিরিক্ত ফ্লাইট ঘোষণা করেছে। ফাইল ছবি

‘এর মধ্যে সৈয়দপুর রুটে ৯টি, যশোর রুটে ৮টি, বরিশাল রুটে ৬টি এবং রাজশাহী রুটে ৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।’

ঈদকে সামনে রেখে অতিরিক্ত ফ্লাইটের প্রস্তুতি রাখা হলেও এখনও বাড়তি ফ্লাইট ঘোষণা করেনি বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস বাংলা। অভ্যন্তরীণ রুটে এই এয়ারলাইনসটির ফ্লাইটই সবচেয়ে বেশি।

এয়ারলাইনসটির জনসংযোগ ও বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার ঈদে সবচেয়ে বেশি চাপ সৈয়দপুর ও রাজশাহী রুটে। এই রুট দুটিতে ৭, ৮ ও ৯ জুলাইয়ের ফ্লাইটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। অন্য রুটগুলোতে এখনও বাড়তি চাপ নেই।’

পদ্মা সেতু হওয়ার পর যশোর ও বরিশালের ফ্লাইটে কোনো তারতম্য দেখা যাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব স্বাভাবিকভাবেই পদ্মা সেতু একটি আকর্ষণ তৈরি করেছে। অনেকেই হয়তো এটাকে ঘিরে যাত্রার পরিকল্পনা সাজাতে চাইবে। তবে দীর্ঘ সময়ে আকাশপথ আর সড়ক পথ কখনই প্রতিদ্বন্দ্বী হবে না। এই রুটগুলোতে স্বাভাবিক যাত্রীই আমরা দেখছি। বাড়তি কোনো চাপ নেই।

‘রোজার ঈদের সঙ্গে তুলনা করলে এবার এমনিতেই আকাশপথের যাত্রী সংখ্যা কম। এর জন্য তিনটি কারণ রয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। এবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতি রয়েছে, তারপর কোভিড পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগের কারণ হচ্ছে। এবার কিন্তু সরকারি ছুটিও কম। এই তিন কারণেই মানুষের মুভমেন্ট কম বলে মনে হচ্ছে।’

একই পরিস্থিতি দেশের আরেক বেসরকারি এয়ারলাইনস নভো এয়ারেও। এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার বাড়তি কোনো চাপই নেই। তবে এর মধ্যেও সৈয়দপুর রুটের ফ্লাইটের প্রতি যাত্রীদের কিছুটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আর অন্যান্যগুলো স্বাভাবিক সময়ের মতো।’

পদ্মা সেতুর কোনো প্রভাব বরিশাল ও যশোর রুটে পড়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছুটা পড়েছে। যেমন বরিশালে তেমন একটা ডিমান্ড আমরা দেখছি না। আর যশোরেই অন্যান্য বারের চেয়ে অন্তত ৪০ ভাগ কম চাহিদা দেখা যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
শিমুলিয়ায় পারাপার স্বাভাবিক, বাংলাবাজারে চাপ
২২ ঘণ্টা পর বালাসী-বাহাদুরাবাদে লঞ্চ চলাচল শুরু
চাপ কমেছে বাংলাবাজার-শিমুলিয়ায়
দৌলতদিয়ায় ৬ কিলোমিটার জট
ঈদযাত্রা হয় না সামিরনের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Bangladesh is the seventh most bitter country in the world

সবচেয়ে তিক্ত জীবনের দেশের তালিকায় বাংলাদেশ সপ্তম

সবচেয়ে তিক্ত জীবনের দেশের তালিকায় বাংলাদেশ সপ্তম গ্যালাপের ‘নেতিবাচক অভিজ্ঞতার ইনডেক্স’-এ সপ্তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। গ্রাফিক্স: নিউজবাংলা
গ্যালাপের চালানো জরিপে একাকিত্বের নতুন এক মহামারির চিত্রও ফুটে উঠেছে। সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, বর্তমান সময়ে নিঃসঙ্গতা ব্যাপক বেড়েছে। বিশ্বের ৩৩ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ টানা ২ সপ্তাহও কোনো বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা না বলে কাটিয়ে দিচ্ছেন।

শারীরিক ও মানসিক নানান চাপে বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। করোনা মহামারি সংকটকে আরও জটিল করেছে। বিশ্বের ১২২টি দেশের ওপর জরিপ চালিয়ে আমেরিকাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ দিয়েছে দুঃসংবাদ।

দৈবচয়নের ভিত্তিতে বিশ্বের ১ লাখ ২৭ হাজার মানুষের জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, ক্ষোভ, দুঃখ, শারীরিক যন্ত্রণা, দুশ্চিন্তা ও অবসাদগ্রস্ত মানুষের দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।

২০২১ থেকে ২০২২-এর শুরু পর্যন্ত চালানো এই জরিপে গোটা বিশ্বেই মানুষের জীবন যন্ত্রণা বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। বিশ্বে দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অপরাধ, একাকিত্ব, ভালো কাজের অভাবের মতো নেতিবাচক বিভিন্ন দিক মানুষকে অসুখী করে তুলছে।

গ্যালাপ বলছে, বিশ্ব এখন যুদ্ধ, মহামারি, মুদ্রাস্ফীতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

জরিপকে দুটি অংশে ভাগ করেছে গ্যালাপ। এর মধ্যে ‘ইতিবাচক অভিজ্ঞতার ইনডেক্স’ তৈরিতে করা হয়েছে পাঁচটি প্রশ্ন।

এই প্রশ্নগুলো ছিল- আপনি কি গতকাল ভালো বিশ্রাম নিয়েছেন, আপনি কি গতকাল সম্মানের সঙ্গে মূল্যায়িত হয়েছেন, আপনি কি গতকাল ইন্টারেস্টিং কিছু শিখেছেন, আপনি কি গত আনন্দদায়ক কিছু করেছেন?

অন্যদিকে ‘নেতিবাচক অভিজ্ঞতার ইনডেক্স’ও করেছে গ্যালাপ। এতে প্রশ্নগুলো ছিল- আপনি কি গতকাল শারীরিক কোনো ব্যথা অনুভব করেছেন, গতকাল কি দুশ্চিন্তায় ভুগেছেন, গতকাল কি বিষণ্ন ছিলেন, গতকাল কি কোনো চাপ অনুভব করেছেন, গতকাল কি কোনো বিষয়ে রাগ করেছেন?

দুই সেটের প্রশ্নেরই স্কোর ছিল ০ থেকে ১০০ পর্যন্ত।

এসব প্রশ্নের আলোকে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মানুষের দেশের তালিকায় সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ অবস্থায় আছে তুর্কিয়ে, জর্ডান, সিয়েরা লিওন, ইরাক, লেবানন ও আফগানিস্তান। এই তালিকায় সবার প্রথমে থাকা দেশ আফগানিস্তানের পয়েন্ট ৫৯।

আফগানিস্তানে সম্প্রতি তালেবানরা ক্ষমতায় এসেছে, লেবাননে দেখা দিয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন মুদ্রাস্ফীতি, আফ্রিকার দেশ সিয়েরালিওনে আঞ্চলিক গোলযোগ চলছে। ইরাক সম্প্রতি আইএসের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করেছে। তুর্কিয়েতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দেশটির মুদ্রা লিরার মানপতনে সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

১২২ দেশের মধ্যে ‘ইতিবাচক অভিজ্ঞতার ইনডেক্স’-এ বাংলাদেশের অবস্থান অবশ্য এক ধাপ ওপরে, অর্থাৎ নিচের দিক থেকে অষ্টম। ওপরের দিক থেকে হিসেব করলে এই অবস্থান ১১৫তম। আর এ তালিকায় বাংলাদেশের পরে রয়েছে জর্ডান, তিউনিশিয়া, নেপাল, তুর্কিয়ে, লেবানন ও আফগানিস্তান।

ইতিবাচক অভিজ্ঞতার মানুষের দেশের তালিকায় প্রথম স্থানে আছে পানামা। প্রথম দশের মধ্যে থাকা বাকি দেশগুলো হলো- ইন্দোনেশিয়া, প্যারাগুয়ে, এল সালভাদর, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, আইসল্যান্ড, ফিলিপাইন, ডেনমার্ক, সাউথ আফ্রকা।

গ্যালাপের চালানো জরিপে একাকিত্বের নতুন এক মহামারির চিত্রও ফুটে উঠেছে। সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, বর্তমান সময়ে নিঃসঙ্গতা ব্যাপক বেড়েছে। বিশ্বের ৩৩ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ টানা ২ সপ্তাহও কোনো বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা না বলে কাটিয়ে দিচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু মানুষের বন্ধু থাকা মানেই এই নয় যে তাদের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ আছে। বিশ্বের প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কর মধ্যে একজনের এমন কোনো বন্ধু নেই, যার সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলা যায় বা সাহায্য চাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:
মস্তিষ্কে ডিভাইস বসিয়ে বিষণ্নতা দূর
ভূমি জরিপের ভোগান্তি কমাতে উদ্যোগ
তারুণ্যের ৬১ শতাংশই ভুগছে বিষণ্নতায়
বৃদ্ধ দম্পতির সামনে শুধু হতাশা
বিষণ্নতা কমাতে এক ঘণ্টা আগে উঠুন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Battery powered rickshaw thief cop game

ব্যাটারিচালিত রিকশার চোর-পুলিশ খেলা

ব্যাটারিচালিত রিকশার চোর-পুলিশ খেলা নিষেধাজ্ঞার পরও স্থানীয় নেতা ও পুলিশের যোগসাজশে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যেক এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে। চালকরা বলছেন, পুলিশ আটক করলে মালিকরা আবার ছাড়িয়ে এনে রাস্তায় নামাচ্ছেন এসব রিকশা। পুলিশ বলছে, এত রিকশা আটকে রাখার মতো জায়গা তাদের নেই। তাদের জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া ছাড়া উপায় নেই।

হাইকোর্ট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিটি করপোরেশনের নিষেধাজ্ঞার পরও স্থানীয় নেতা ও পুলিশের যোগসাজশে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিভিন্ন অভিযানে এই ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো আটক করা হলেও নির্দিষ্ট টাকায় তা ছাড়িয়ে এনে আবার সড়কে নামাচ্ছেন মালিকরা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাজধানীতে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ এই ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো। কিন্তু নজরদারির অভাবে রাজধানী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই অবৈধ যান।

পুলিশ বলছে, পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এই রিকশাগুলো কোথাও জব্দ করে রাখা যাচ্ছে না। বরং নির্দিষ্ট জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।

২০১৪ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এরপর ২০১৭ সালে এসব পরিবহন বন্ধে আরেক দফা নির্দেশনা আসে হাইকোর্টের। ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর অটোরিকশা বন্ধ ও আমদানি নিষিদ্ধ করে আবারও নির্দেশনা দেয় হাইকোর্ট।

ব্যাটারিচালিত রিকশার চোর-পুলিশ খেলা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীতে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ২০২১ সালের ২০ জুন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসব রিকশা-ভ্যান বন্ধের নির্দেশ দেন। বিভিন্ন সময়ে সিটি করপোরেশনও এগুলো বন্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা খুব দ্রুত চলে। তাই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। নিয়ম হচ্ছে যারা পঙ্গু, তারা সরকারি অনুমোদন নিয়ে এই রিকশা চালাতে পারবেন। এর বাইরে কেউ চালাতে পারবেন না।’

মুগদা, বাসাবো, হাজারীবাগ, জিগাতলা, কামরাঙ্গীর চর, দক্ষিণখান, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, বাড্ডা, জুরাইন, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, শনির আখড়া, ডেমরা, বাসাবো ও মাদারটেকসহ রাজধানীর ছোট বড় বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যেক এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চলছে।

মেরুল বাড্ডা এলাকার অটোরিকশাচালক মামুনুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মালিকে চালায়, তাই আমরা চালাই। মালিক বলে রিকশা তুই নিয়া যা। যা কিছু হয়, আমরা দেখব।’

ব্যাটারিচালিত রিকশার চোর-পুলিশ খেলা

বিভিন্ন অভিযানে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো আটক করা হলেও নির্দিষ্ট টাকায় তা ছাড়িয়ে এনে আবার সড়কে নামাচ্ছেন মালিকরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/ নিউজবাংলা

পুলিশ জব্দ করে কিনা জানতে চাইলে এই চালক বলেন, ‘পুলিশে ধরে। কয়েক দিন আগেই ধরা খাইছি। ৭২০ টাকা দিয়ে ছাড়ায় নিয়া আসছি। লিংক রোডের আনসার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। র‍্যাকার করে। পরে টাকা দিলে ছাইড়া দেয়। টাকা না দিলে পুলিশ রিকশা নিয়া ডাম্পিংয়ে দেয়। আমাদের এলাকার গাড়িতে কোনো কার্ড করা লাগে না।

‘মধ্যবাড্ডা, গুদারাঘাট, পুলিশ প্লাজা ও মেরুল বাড্ডা এলাকার ভেতরে চালাই। মেইন রোডে যাই না। মাঝে মাঝে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়া শাহজাদপুর যাই।’

নিষিদ্ধ হওয়ার পরও কেন অটোরিকশা চালাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কী করব বলেন। পেট তো চালাতে হবে। মালিক দেখতেছে চললেই আমার টাকা। আমরা দেখতেছি, চালাইলে আমরাও ভালো চলতে পারি। তাই চালাই। প্রায় পাঁচ বছর চালাইতেছি অটোরিকশা। কখনও ডাম্পিংয়ে যাইতে হয় নাই। তবে আমাদের গাড়ি থানায় গেছিল। ওখান থাইকা মালিক ছাড়ায় আনছে। মালিকদের সঙ্গে পুলিশের লিংক আছে। তারাই ছাড়ায়ে আনে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিকের গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা আমরা ডাম্পিংয়ে নিয়ে যাই বা কোনো একটা জায়গায় নিয়ে গিয়ে র‍্যাকার ফি রাখি। এটি একটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।’

ব্যাটারিচালিত রিকশার চোর-পুলিশ খেলা

যেহেতু অটোরিকশা অবৈধ, তাহলে এই রিকশা ডাম্পিংয়ে না দিয়ে র‍্যাকার ফি দিয়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে কেন– প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের রিকশা রাখার জায়গা নাই। আমরা কোথায় রাখব এত রিকশা। এ কারণেই জরিমানা করে ছেড়ে দিতে হচ্ছে। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০টা রিকশা ধরলে সেটা রাখার জায়গা থাকতে হবে আমার।’

অটোরিকশা বন্ধে সমাধান কী– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি। সবাই মিলে কাজ করছি। আমাদের ট্রাফিক পুলিশের সামনে কেউ চলতে পারছে না।’

মোহাম্মদপুর বসিলা এলাকার অটোরিকশাচালক মো. বাবুল বলেন, ‘পুলিশ ধরলে ডাম্পিংয়ে দেয়। ডাম্পিংয়ে দিলে লিখে দেয় ১২০০ টাকা। কিন্তু ছাড়াতে গেলে লাগে ৪২০০ টাকা। অনেক সময় ধরলে পুলিশকে ৫০০-১০০০ টাকা দিলে ছেড়ে দেয়। চোর-পুলিশ খেলার মতো চলতেছি আমরা।

‘মোহাম্মদপুরের ভেতরে চললে কার্ড কইরা নিতে হয়। পুলিশের চাপ বসিলায় কম, তাই এখানে চালাই। চাপ বাড়লে ওইপার চইলা যাই। ওই পারে কেউ ঝামেলা করে না।’

অভিযোগ আছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের যোগসাজশে এই অবৈধ অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বসিলা এলাকার এক অটোরিকশা চালক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বসিলা এলাকায় ছাত্রলীগ কার্ড দেয়। ওরা থানায় থানায় টাকা দেয়। কার্ড থাকলেও পুলিশ ধরে, না থাকলেও পুলিশ ধরে। তখন ওরা (স্থানীয় নেতা) রিকশা ছাড়ায় আনে। ছাড়াইতে ৪ হাজার থেকে ৪২০০ টাকা লাগে।’

ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে এটা স্বীকার করে ট্রাফিকের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম শামীম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালনের চেষ্টা করছি। আমাদের বিভাগের প্রধান সড়কে এই রিকশা দেখতে পাবেন না। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০টা রিকশা ধরে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। এর পরেও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফিডার রোড দিয়ে দুই-একটা রিকশা চলে।’

ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও পুলিশ টাকা নিয়ে রাস্তায় চলার অনুমতির ‘কার্ড’ দেয় বলে অভিযাগ আছে উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, ‘যদি আপনি আমাকে প্রমাণসহ দিতে পারেন এর সঙ্গে পুলিশ জড়িত আছেন, আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। এর সঙ্গে পুলিশের সংশ্লিষ্টতার কোনো সুযোগ নাই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেজগাঁও বিভাগের এক ট্রাফিক সার্জেন্ট নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা ধরে ঘটনাস্থলে ছেড়ে দিলে ডাম্পিং ফি ১২০০ টাকা। আর ডাম্পিঙে পাঠালে সেখান থেকে ছাড়াতে লাগে ৪২০০ টাকা। মাঝে মাঝে প্রধান সড়কে চলে আসলে মানবিক কারণে এমনিতেই ছেড়ে দেই। মাঝে মাঝে একটু-আধটু পানিশমেন্ট করে র‍্যাকার বিল করি। যদিও র‍্যাকার বিল করার তেমন কোনো নিয়ম-কানুন নাই। তবে অটো রিকশা ডাম্পিংয়ের নিয়ম আছে।’

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ না হওয়ার কারণ হিসেবে সরকার দলীয় নেতাদের প্রভাবকে চিহ্নিত করেন।

তিনি বলেন, ‘তারা চাঁদা দিয়েই এটা চালাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের লোকেরাই চাঁদাবাজি করে। অন্য দল তো আর চাঁদাবাজির সুযোগ পায় না। চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে এটা বন্ধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু এটা বন্ধ করা দরকার।’

তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ যে টাকা নেয় সেটা জরিমানার টাকা। এ ছাড়া রিকশা ছেড়ে না দিয়ে আটকে রাখারও সুযোগ নাই বলে জানান তিনি।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমরা জরিমানা করতে পারি। জরিমানা দেয়ার পরে আপনার গাড়ি আটকে রাখার আমাদের এখতিয়ার নাই। জরিমানা পরিশোধ করতেছে, আবার রাস্তায় নামতেছে, আমরা আবার ধরে জরিমানা করতেছি। বিষয়টা আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই আছে। প্রধান সড়কে যেন এগুলো (অটোরিকশা) না আসতে পারে, সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। বেশ কিছু জায়গায় পঙ্গু মানুষজন এই ধরনের গাড়ি চালানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন। আমরা তাদের অনুমতি দিয়েছি। এইটার সুযোগ নিচ্ছে কিছু মানুষ।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ডাম্পিংয়ে নিয়ে গেলে তো জরিমানা দিতে হবে। ৪২০০ টাকা যেটা দেয় সেটা তাকে রসিদ দিয়েই নেয়া হয়। এটা ঘুষের কিছু না। জরিমানার টাকা দিয়েই রিকশা ছাড়িয়ে নিয়ে আসছে।’

কী বলছে সিটি করপোরেশন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) সেলিম রেজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অটোরিকশা ঢাকা মহানগরীতে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। বিআরটিএ এবং পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে এগুলো যাতে কেউ চালাতে না পারে সমন্বিত চেষ্টার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।

‘আমরা একটা নিতিমালা করেছি। সেই নিতিমালার আলোকে রিকশাগুলোকে আমরা লাইসেন্স দেব। তাদের আমরা ডিজিটাল নেমপ্লেট দেব। এই বছরেই আমরা ২ লাখ রিকশাকে লাইসেন্স দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।’

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) ফরিদ আহম্মদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে আমরা রিকশার লাইসেন্স দিচ্ছি। প্রতি সপ্তাহে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি যাতে লাইসেন্স বহির্ভূত রিকশা না চলে। প্রতি সপ্তাহেই নতুন নতুন লাইসেন্স দিচ্ছি। আইনবহির্ভূত রিকশা পুলিশের সহায়তা নিয়ে ডাম্পিংয়ে দিচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
‘রিকশা গার্ল’-এর প্রিমিয়ার নিউ ইয়র্কে
গোপনাঙ্গে আঘাত করে অটোরিকশার চালককে হত্যা চোর চক্রের
মেয়াদোত্তীর্ণ অটোরিকশা যেন এক মারণফাঁদ
সিএনজি অটোরিকশার চালক-মালিকের তথ্য পাবেন যাত্রী
অমিতাভের ‘রিকশা গার্ল’ পুরস্কৃত, নতুন সিনেমা অনুদানে জমা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
More than Tk 200 crore VAT will come from Padma bridge

পদ্মা সেতু থেকে ভ্যাট আসবে বছরে ২০০ কোটি টাকার বেশি

পদ্মা সেতু থেকে ভ্যাট আসবে বছরে ২০০ কোটি টাকার বেশি পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ষষ্ঠ দিনে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ২০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। শুক্রবার জাজিরা ও মাওয়া দুই প্রান্তে এই টোল আদায় করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
সেতু কর্তৃপক্ষ যে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে তার পূর্ভাবাসে বলা হয়েছে, যানবাহন চলাচল করলে পদ্মা সেতু থেকে প্রথম বছর টোল বাবদ আদায় হবে ১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। টোলের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট হিসাবে প্রথম বছরেই আসবে ২১৪ কোটি টাকা ভ্যাট।

পদ্মা সেতু চালুর ফলে শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেগবান হবে তা নয়, দেশের রাজস্ব আহরণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই সেতু থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর অর্থাৎ আয়কর এবং মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট উভয়ই আদায় হবে।

চলাচল শুরুর দিন থেকেই সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা শুরু হলেও আয়কর হচ্ছে না। কারণ, পদ্মা সেতু লাভে আসতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। আর লাভ বা মুনাফার ওপরই আয়কর দেয়া হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

পদ্মা সেতু থেকে কত আয় হবে, তা কোথায় ব্যয় হবে, ব্যয়ের খাতগুলো কী– এ সব বিষয় যাচাইয়ের পর তার উপর ভিত্তি করে অর্থমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঋণচুক্তি সই করে সেতু কর্তৃপক্ষ। ২০১৯ সালের শেষের দিকে এ চুক্তি সই হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, ৩৫ বছরে ঋণের টাকা ১ শতাংশ হারে সুদসহ ফেরত দিতে হবে। এ জন্য তিন মাস পর পর কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে ১৪০ কিস্তিতে ঋণের টাকা (সুদ ও আসলে) পরিশোধ করা হবে।

পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এই টাকা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে ঋণ হিসেবে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সেতু কর্তৃপক্ষ টোল বাবদ যা আয় করবে, তা থেকে ঋণের কিস্তিসহ অন্যান্য খরচ বহন করবে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সেতুতে যানবাহন চলাচলের উপর টোল নির্ধারণ করে দেয় সরকার। ভ্যাট আইনে টোল সেবাখাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যে কারণে টোল আদায়ের উপর ভ্যাট প্রযোজ্য এবং বর্তমানে টোলের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ আগে থেকেই আছে।

যেমন, পদ্ম সেতুর ওপর দিয়ে একটি বড় বাস পার হলে তার জন্য ২ হাজার ৪০০ টাকা টোল দিতে হয়। ফলে প্রযোজ্য হারে টোল আসে ৩৬০ টাকা।

সেতু কর্তৃপক্ষ এই টোল আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়। এই টোলই হচ্ছে সেতুর আয়, যা দিয়ে ঋণের কিস্তি, রক্ষণাবেক্ষণ, টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেয়া হবে। এসব বাদ দিয়ে টোল বাবদ যে নিট আয়, সেটাই হবে সেতুর মুনাফা।

এনবিআরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, পদ্ম সেতু থেকে যে ভ্যাট আদায় করা হচ্ছে, তা টোলের সঙ্গে যুক্ত (ইনক্লসিভ)। অর্থাৎ টোল নির্ধারণে যে সব বিষয় বিবেচনায় আনা হয়েছে, তার মধ্যে ভ্যাটও রয়েছে।

বিষয়টি পরিষ্কার করতে বলা যায়, বড় বাসের জন্য ২ হাজার ৪০০ টাকা যে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে ভ্যাটও অন্তর্ভূক্ত। কাজেই টোলের সঙ্গে ভ্যাটের টাকা আলাদা কাটার কোনো নিয়ম নেই।

বর্তমানে দুই ভাবে টোল থেকে ভ্যাট আহরণ করা হয়। একটি হচ্ছে সরাসরি আদায়। অন্যটি, ইজারাদার বা লিজের মাধ্যমে।

বড় সেতুর জন্য ঠিকাদার আর ছোট সেতুর ইজারাদারের মাধ্যমে ভ্যাট আদায় করা হয়। তবে উভয় ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ।

ছোট সেতুর ভ্যাট আদায়ের জন্য ইজারা দেয় সরকার। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যে প্রতিষ্ঠান কাজ পায় চুক্তি অনুযায়ী, তারা কার্যাদেশের মূল্যের সঙ্গে একবারে ভ্যাট দিয়ে দেয় সরকারকে।

এনবিআর সূত্র বলেছে, এখন বঙ্গবন্ধু (যমুনা) এবং পদ্মা সেতু থেকে ঠিকাদারের মাধ্যমে সরাসরি ভ্যাট আদায় করা হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে, ছোট সেতু থেকে ইজারাদারের মাধ্যমে ভ্যাট আদায় হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ওই সব সেতু দেখভাল করে থাকে।

সেতু কর্তৃপক্ষ যে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে তার পূর্ভাবাসে বলা হয়েছে, যানবাহন চলাচল করলে পদ্মা সেতু থেকে প্রথম বছর টোল বাবদ আদায় হবে ১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। এ হিসাবে প্রথম বছরেই ভ্যাট আসবে ২১৪ কোটি টাকা

তবে এই টাকার সবই সেতুর নির্মাণ ও পরিচালনাকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঘরে যাবে না। ভ্যাট আদায়ের পাশাপাশি টোল আদায়কারীর পেছনে খরচ আছে। এরপর যা থাকবে, তা থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়কে পরিশোধ করতে হবে ঋণের কিস্তি। এ সব ব্যয়ের পর টাকা থাকলে তা সেতু কর্তৃপক্ষের মুনাফা হিসেবে বিবেচিত হবে।

সেতু বিভাগের সমীক্ষা অনুযায়ী, চলতি বছর প্রতিদিন পদ্মা সেতু দিয়ে প্রায় ২৪ হাজার যানবাহন চলাচল করবে। ২০২৯ সালে তা হবে প্রায় ৩৫ হাজার। ২০৫০ সালে এই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে ৬৭ হাজার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তিতে বলা হয়েছে, সেতুর রক্ষণাবেক্ষণে টোল আয়ের সাড়ে ৭ শতাংশ ব্যয় হবে। এর মধ্যে টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের খরচও আছে। প্রতি ১০ বছর পরপর বড় ধরনের মেরামত প্রয়োজন হতে পারে।

আদায় করা টোলের ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট কাটা যাবে। অবচয় হবে মোট নির্মাণব্যয়ের ২ শতাংশ হারে। সব ব্যয় শেষে যে টাকা থাকবে, তা থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।

আর কিস্তি পরিশোধের পর যে টাকা (মুনাফা) থাকবে, তার ওপর ২৫ শতাংশ হারে আয়কর দেবে সেতু বিভাগ।

সূত্র জানায়, সেতু চালুর পরের কয়েক বছর মুনাফা হবে না। ২০২৯ সালে গিয়ে কিস্তি পরিশোধের পর মুনাফার মুখ দেখতে পারে সেতু বিভাগ।

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু ইট-কাঠের স্থাপনা নয়, এটি আত্মমর্যাদা: শেখ হাসিনা
ঈদের আগে পদ্মা সেতুতে বাইক নয়
পর্যটনের নানান দুয়ার খুলছে দক্ষিণে
পদ্মা সেতু এলাকায় মাইক্রোবাসে বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
People and animals living on the road are monotonous

সড়কে পশুর সঙ্গে বসবাস

সড়কে পশুর সঙ্গে বসবাস সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশেই পশুকে সঙ্গে নিয়ে সংসার পেতেছেন অনেকে। ছবি: নিউজবাংলা
সুনামগঞ্জের জানিগাঁও ইউনিয়ন এলাকার কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘পশুর সঙ্গে আমাদের জীবনেরও এখন কোনো পার্থক্য নেই। বন্যায় সব এক হয়ে গেছে। লজ্জা ভুলে ঘরের নারীদের নিয়েও রাস্তায় আশ্রয় নিতে হয়েছে।’

মবশ্বির আলীর ঘরে পানি। ১২ দিন ধরে তাই সড়কেই পেতেছেন সংসার। বাঁশ, পলিথিন আর ত্রিপল দিয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে তৈরি করেছেন কোনো রকমে মাথা গোজার ঠাঁই।

সেখানেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন এই কৃষক। এই ছাপড়া ঘরে গাদাগাদি করে থাকে মবশ্বিরের দুইটি গরুও।

রোববার সুনামগঞ্জের পাগলবাজার এলাকায় গিয়ে কথা হয় মবশ্বির আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘১৫ জুন ঘরে পানি ওঠে। ঘর থেকে এখনও পানি নামেনি। পানিতে ঘরের সব মাটির দেয়াল ভেঙে গিয়েছে। তাই সড়কের পাশেই আশ্রয় নিয়েছি।’

মবশ্বির বলেন, ‘এই ছাপরা ঘরেই বউ, বাচ্চা নিয়ে থাকি। দুটি গরুও থাকে এখানে।

‘রাতে গরুর মলমূত্রের গন্ধে ঘুমানো যায় না। তবু আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। গরুগুলোও কোথাও রাখার জায়গা নেই।’

সড়কে পশুর সঙ্গে বসবাস

সিলেট থেকে সুনামগঞ্জের দূরত্ব ৬৮ কিলোমিটার। এই আঞ্চলিক মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ পার হলেই দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে অসংখ্য ছাপড়া ঘর। পুরো সড়কই যেন হয়ে উঠেছে আশ্রয় শিবির।

মবশ্বিরের মতো কয়েক শ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে সড়কের পাশে। তাদের সবার ঘরেই বন্যার পানি। কারও ঘর ভেঙেও গেছে পানিতে।

সড়কের পাশে আশ্রয় নেয়া অনেকে নিজেদের হাঁস-মুরগি আর গবাদি পশুও নিয়ে উঠেছেন এখানে। এসব ঝুপড়ি ঘরে মানুষ আর পশু করছে যৌথ বাস।

পাগলা ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের কৃষক সোহাগ আহমদও আশ্রয় নিয়েছেন সড়কের পাশে। সড়কই হয়ে উঠেছে তার অস্থায়ী ঘর।

সোহাগ বলেন, ‘১৫ দিনেও ঘর থেকে পানি নামেনি। যাওয়ার মতোও আর কোনো জায়গা নেই। তাই সড়কের পাশেই বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিয়েছি।

‘রাত হলে গাড়ির শব্দে ঘুমাতে পারি না। আর বৃষ্টি হলে ছাপড়া ঘরের ভেতরেও পানি ঢুকে। এসব কষ্ট সহ্য করেই এখানে থাকতে হচ্ছে।’

শনিবার এই সড়ক দিয়ে সুনামগঞ্জ যাওয়ার পথে দেখা যায়, সড়কের ওপরই পানিতে ভিজে যাওয়া ধান শুকাচ্ছেন অনেকে। ভেজা আসবাবপত্র আর লেপ-তোশকও সড়কের ওপর রোদে শুকাতে দিয়েছেন তারা।

গবাদি পশুরও রক্ষণাবেক্ষণ করছেন কেউ কেউ। কয়েকজনকে ছাপড়া ঘরের ভেতরে চুলো জ্বালিয়ে রান্নার আয়োজন করতেও দেখা যায়।

ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত নাজমা বেগম বলেন, ‘আগের বন্যায় বেশিরভাগ ফসল ভাসিয়ে নিয়েছিল। সামান্য যেটুকু ঘরে তোলা গিয়েছিল, তাও এই বন্যায় ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।’

সড়কে পশুর সঙ্গে বসবাস

সড়কে শুকাতে দেয়া ধান দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এইগুলা একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। এসব ধান থেকে আর চাল পাওয়া যাবে না; গবাদি পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। নিজেরা যে কী খেয়ে বাঁচব, তা বুঝতেছি না।’

সুনামগঞ্জের জানিগাঁও ইউনিয়ন এলাকায় সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছেন কুতুব উদ্দিন। গরু আর মুরগির সঙ্গে একই ঘরে রাত কাটে তার।

তিনি বলেন, ‘পশুর সঙ্গে আমাদের জীবনের এখন কোনো পার্থক্য নেই। বন্যায় সব এক হয়ে গেছে। লজ্জা ভুলে ঘরের নারীদের নিয়েও রাস্তায় আশ্রয় নিতে হয়েছে।’

গত ১৫ জুন থেকে চলতি বছর তৃতীয়বারের মতো বন্যা দেখা দেয় সিলেট ও সুনামগঞ্জে। চলমান বন্যাকে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বলছেন অনেকে।

সড়কে পশুর সঙ্গে বসবাস

এই বন্যায় তলিয়ে যায় সিলেটের ৭০ শতাংশ আর সুনামগঞ্জের ৯০ শতাংশ এলাকা। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সুনামগঞ্জ জেলা।

তিন দিন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ছিল এ জেলা। পানি উঠে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কেও। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ ছিল সুনামগঞ্জে।

পানি কমতে শুরু করলেও এখনও প্লাবিত দুই জেলার বেশিরভাগ এলাকা। হাওরপ্রধান সুনামগঞ্জের গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ বাড়িঘরে এখনও পানি।

সড়ক থেকে পানি নামার পর এই সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের দুই পাশে অস্থায়ী ঘর বাড়িতে আশ্রয় নেয় প্লাবিত এলাকাগুলোর কয়েক শ পরিবার।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সড়কের পাশে আশ্রয় নেয়া বেশিরভাগ লোকই ত্রাণের আশায় এখানে থাকছেন। বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা চলছে সুনামগঞ্জে।

‘ত্রাণ নিয়ে আসা সকলেই সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক দিয়ে সুনামগঞ্জে প্রবেশ করেন। তাই সড়কের পাশে আশ্রয় নেয়া লোকজন বেশি ত্রাণ পাচ্ছেন।’

সড়কে পশুর সঙ্গে বসবাস

তাদের অনেককে চেষ্টা করেও আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া যায়নি বলে দাবি করেন এই জনপ্রতিনিধি।

আশ্রয়কেন্দ্র অনেক দুর্গম এলাকায় জানিয়ে দিরাই সড়কে আশ্রয় নেয়া বশির উদ্দিন বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রেরও চারপাশে পানি। সেখানে উঠলে জরুরি প্রয়োজনেও বের হওয়া যায় না। এ কারণে সড়কের পাশেই আশ্রয় নিয়েছি।’

যদিও সড়কের পাশে আশ্রয় নেয়ায় অনেকেই ত্রাণ দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের জানিগাঁও এলাকায় ছাপড়া ঘর বানিয়ে থাকতে শুরু করা সাবিনা বেগম।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়ি হাওরের মাঝখানে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় ওদিকে কেউ ত্রাণ নিয়ে যায় না। এদিকে বন্যায় সবকিছু হারিয়ে আমরা নিঃস্ব। কোনো কাজ করারও সুযোগ নেই। মানুষের সহায়তায় চলতে হচ্ছে।’

বন্যায় ঘর হারানো ব্যক্তিদের সরকারের পক্ষ থেকে গৃহনির্মাণ করে দেয়া হবে জানিয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বন্যায় জেলায় ৪৫ হাজার ২৮৮টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যাদের ঘরবাড়ি ভেঙেছে, তাদের সরকারি উদ্যোগে পুনর্বাসন করা হবে।’

সড়কের পাশে যারা আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সড়কের পাশে বসবাস করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। তাই যাদের ঘরে এখনও পানি আছে, তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:
সাপ-আফালের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটে তাদের
সুনামগঞ্জে কমেছে বৃষ্টি, নামছে পানি
দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কবলে সিলেট
বন্যার শঙ্কা এবার দিনাজপুরে
সুনামগঞ্জে বাড়ছে সুরমার পানি, দীর্ঘস্থায়ী বন্যার শঙ্কা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Indias success in exports is disappointing in China

রপ্তানিতে ভারতে সাফল্য, চীনে হতাশা

রপ্তানিতে ভারতে সাফল্য, চীনে হতাশা গত দুই অর্থবছরে সব দেশেই বাংলাদেশের রপ্তানি বেশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভারতে। কিন্তু চীনে কোনো পরিবর্তন নেই। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
এই অর্থবছরে ভারতে রপ্তানি ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে যাচ্ছে। তবে চীনে রপ্তানিতে কোনো পরিবর্তন নেই। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে ৫০ শতাংশ।

পাশের দেশ ভারতে পণ্য রপ্তানিতে আশা জাগানিয়া সাফল্য অর্জন করে চলেছে বাংলাদেশ; কিন্তু চীনে হতাশা কাটছে না।

২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। বিদায়ী এই বছরের ১১ মাসের (জুলাই-মে) পণ্য রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো- ইপিবি।

তাতে দেখা যায়, এই ১১ মাসে ভারতে ১৮৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার (১.৮৩ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। এই অঙ্ক আগের অর্থবছরের (২০২০-২১) একই সময়ের চেয়ে ৫৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি।

বিদায়ী অর্থবছরের বাকি এক মাসের রপ্তানির তথ্য যোগ হলে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান।

অন্যদিকে চীনে রপ্তানি সেই একই জায়গায় থমকে আছে। এই ১১ মাসে দেশটিতে ৬৩ কোটি ২১ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে মাত্র ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি।

গত দুই অর্থবছরে সব দেশেই বাংলাদেশের রপ্তানি বেশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভারতে। কিন্তু চীনে কোনো পরিবর্তন নেই।

মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির পালে হাওয়া লেগেছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে সব মিলিয়ে ৪৭ দশমিক ১৭ বিলিয়ন (৪ হাজার ৭১৭ কোটি ৪৬ লাখ) ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৪ দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অর্থবছরের শেষ মাস জুনের ২৫ দিনের (১ থেকে ২৫ জুন) রপ্তানির তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। এই ২৫ দিনে ৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ইতোমধ্যে আমাদের রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে ৫০ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। মাসের বাকি ৫ দিনের তথ্য যোগ হলে গত অর্থবছরে মোট পণ্য রপ্তানি প্রায় ৫১ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছবে।

‘আরেকটি ভালো খবর হচ্ছে, এই বছরে আমরা ভারতের বাজারে আমাদের রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে চলেছি। ১১ মাসে ১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করা হয়েছে। জুনের তথ্য যোগ হলে তা অবশ্যই ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে।’

বড় ধরনের কোনো অঘটন না ঘটলে নতুন অর্থবছরেও (২০২২-২৩) ভারতসহ অন্যান্য দেশে পণ্য রপ্তানির এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশার কথা শোনান আহসান।

ইপিবির সবশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একক দেশ হিসেবে ভারত এখন বাংলাদেশের সপ্তম রপ্তানি বাজারের তালিকায় উঠে এসেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের শীর্ষ ১০ বাজারের একটি এখন ভারত।

অথচ ২০২০-২১ অর্থবছরেও বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ রপ্তানি বাজারের তালিকায় ভারতের স্থান ছিল না। আগের বছরগুলোতে ভারতের অবস্থান ছিল ১৪ থেকে ১৫তম স্থানে।

সবার ওপরে বরাবরের মতোই যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান করছে। দ্বিতীয় স্থানে জার্মানি। তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও পোল্যান্ড।

পোল্যান্ড ও ভারতে রপ্তানির অঙ্ক প্রায় সমান। জুলাই-মে সময়ে পোল্যান্ডে রপ্তানি হয়েছে ১৯৪ কোটি ২৪ লাখ ডলারের পণ্য।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে মাত্র তিনটি অর্থবছরে ভারতে পণ্য রপ্তানি ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বেশি হয়েছে, তাও সেটা গত তিন বছরে। তার আগের বছরগুলোয় ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে।

তবে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ছয় মাসে অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে সেই রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে ১০৬ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। সাত মাসে তা বেড়ে ১২১ কোটি ২৪ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। আট মাসে অর্থাৎ জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে তা আরও বেড়ে ১৩৬ কোটি ১০ ডলারে ওঠে।

২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ভারতে ১২৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেন, যা ছিল এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে এ আয় বেশি ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারতের বাজারে ১২৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা কমে ১০৯ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ডলারে নেমে আসে।

২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১৬ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। এ হিসাবেই এই ১১ মাসে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৫৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে ভারতে মোট রপ্তানির মধ্যে ৩৬ কোটি ৯০ লাখ ২০ হাজার ডলারের ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে। নিট পোশাক রপ্তাানি হয়েছে ২৭ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের।

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১৭ কোটি ৫৯ লাখ ৮০ হাজার ডলারের। ৯ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার এসেছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে। কটন ও কটন প্রোডাক্টস থেকে এসেছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার। প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি থেকে এসেছে ২ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার ডলার।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ১১ মাসে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ভারত থেকে এসেছে ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

এই ১১ মাসে চীনে ১২ কোটি ডলারের ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে। নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। ৯ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার এসেছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে। পাদুকা রপ্তানি থেকে এসেছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার। পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে এসেছে ১৬ কোটি ডলার। এ ছাড়া প্লাস্টিক দ্রব্য রপ্তানি থেকে ১ কোটি ৩৭ লাখ এবং হোম টেক্সটাইল থেকে ৬৭ লাখ ডলার আয় হয়েছে।

সবার শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির প্রধান বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মোট রপ্তানি আয়ের ২০ শতাংশই আসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির এই দেশটি থেকে। ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে বাজারটিতে ৯৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি।

৬৮৯ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি; রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। তৃতীয় যুক্তরাজ্য; রপ্তানির অঙ্ক ৪৪০ কোটি ৩১ লাখ ডলার। ২৮৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে চতুর্থ স্পেন। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ফ্রান্স, রপ্তানির পরিমাণ ২৪৪ কোটি ৪৩ লাখ ডলার।

অন্যান্য দেশের মধ্যে ইতালি বাংলাদেশ থেকে জুলাই-এপ্রিল সময়ে ১৩৮কোটি ৫৪ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। কানাডা ১৫১ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, বেলজিয়াম ৮১ কোটি ৫৯ লাখ ডলার, নেদারল্যান্ডস ১৫৯ কোটি ৫৮ লাখ ডলার এবং জাপান ১২৩ কোটি ১৯ লাখ ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য বাংলাদেশ থেকে আমদানি করেছে।

এ ছাড়া জুলাই-মে সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ৮৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার এবং তুরস্কে ৪২ কোটি ২৫ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।

যুদ্ধের মধ্যেও রাশিয়ায় রপ্তানির ইতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে। এই ১১ মাসে দেশটিতে ৬১ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ-এর সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও রপ্তানি আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি আমরা। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় আমরা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে পণ্য সরবরাহ ঠিকমতো না হওয়ায় এবং সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের দেশসহ বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। মানুষ পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। সে কারণেই মে ও জুন মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে কি হবে তা নিয়ে নিয়ে আমরা শঙ্কিত।

‘এ অবস্থায় পাশের দেশ ভারতে রপ্তানি বাড়লে আমাদের জন্য খুবই ভালো হয়।’

ফারুক বলেন, ‘ভারতে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের কদর বাড়ছে। ভৌগোলিক কারণেই ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। এখন থেকে তা বাড়তেই থাকবে বলে মনে হচ্ছে আমার কাছে। প্রায় দেড়শ কোটি লোকের চাহিদা মেটাতে ভারতকে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনতেই হবে। ভারতে পোশাক তৈরি করতে যে খরচ হয়, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করলে তার থেকে অনেক কম পড়ে। সে কারণে সব হিসাব-নিকাশ করেই তারা এখন বাংলাদেশ থেকে বেশি বেশি পোশাক কিনছে।’

‘ভারতের অনেক ব্যবসায়ী এখন বাংলাদেশের কারখানায় পোশাক তৈরি করে তাদের দেশে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছেন। এতে তাদের একদিকে যেমন লিড টাইম কম লাগছে, অন্যদিকে খরচও কম হচ্ছে।

‘এ ছাড়া গত বছর ভারত সরকারকে বাংলাদেশের রপ্তানি-আমদানি বাণিজ্য দ্রুত ও সহজ করতে আমরা বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনারকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তার ইতিবাচক ফলও পাওয়া যাচ্ছে।’

সব মিলিয়ে ভারতের বিশাল বাজার বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য আগামী দিনে ‘সুদিন’ বয়ে আনবে বলে মনে করছেন ফারুক।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারতে বাংলাদেশের একটি বৃহৎ ও বিকাশমান বাজার রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেখান থেকে এখন পর্যন্ত যথেষ্ট পরিমাণে লাভবান হতে পারেনি। বৈশ্বিক বাজার থেকে ভারতের আমদানির মোট মূল্যমান প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলার।

‘এখন ভারতে আমাদের রপ্তানি বাড়ছে। সেটা কিন্তু ভারতের দেড়শ কোটি লোকের বিশাল বাজারের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। এখন দুদেশের সরকারের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক বিরাজ করছে, সেটাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

‘একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, পাশের দেশ হওয়ায় ভারতে খুবই কম খরচে আমরা পণ্য রপ্তানি করতে পারি। এতে রপ্তানিকারকরা বেশি লাভবান হয়। তাই ভারতে রপ্তানি বাড়াতে সরকারের কুটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়ানো উচিৎ বলে আমি মনে করি।’

একই সঙ্গে চীনের বাজার ধরতেও সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

আরও পড়ুন:
ভারতের গম তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
খাদ্যপণ্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর সিদ্ধান্তে বদল চায় বাংলাদেশ
ড্র দিয়ে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে প্রস্তুতি সারল বাংলাদেশ
বাজেটের আকার: শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, চল্লিশের ঘরে বাংলাদেশ
পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা লাগবে: বিজিএমইএ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Various doors of tourism are opening in the south

পর্যটনের নানান দুয়ার খুলছে দক্ষিণে

পর্যটনের নানান দুয়ার খুলছে দক্ষিণে পটুয়াখালীর সোনারচর। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে কাজ শুরু করেছে। দেশে পর্যটনের সামগ্রিক মানোন্নয়নে ২০২০ সালে শুরু করা ‘মাস্টার প্ল্যান’ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। এতে প্রাধান্য পাচ্ছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন।

আছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ‍সুন্দরবন, সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার মতো সুবিস্তৃত সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা, বিশ্ব ঐতিহ্যে ঠাঁই করে নেয়া স্থাপত্য ষাট গম্বুজ মসজিদসহ অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র। এর পরও এতদিন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দুই বিভাগ খুলনা ও বরিশালে ছিল পর্যটকখরা।

তবে পদ্মা সেতু সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে চলেছে। ঢাকা থেকে দক্ষিণের কুয়াকাটা পর্যন্ত এখন সড়কপথে এক সুতায় গাঁথা। সুদীর্ঘ যাত্রাপথ এখন অতীত।

পদ্মা সেতু চালুর কারণে পর্যটকরা এখন দক্ষিণাঞ্চলমুখী হবেন বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। তবে তারা বলছেন, শুধু সড়কপথের উন্নয়ন নয়, দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে আবাসন, স্থানীয় যোগাযোগ ও মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থাও করতে হবে। থাকতে হবে পর্যটকবান্ধব নিরাপদ পরিবেশ।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে কাজ শুরু করেছে। দেশে পর্যটনের সামগ্রিক মানোন্নয়নে ২০২০ সালে শুরু করা ‘মাস্টার প্ল্যান’ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। এতে প্রাধান্য পাচ্ছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সারা দেশে ১ হাজার ১০০ ট্যুরিস্ট অ্যাট্রাকশন পয়েন্ট আইডেন্টিফাই করেছি। এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অ্যাট্রাকশন পয়েন্টের আর্কিটেকচারাল ডিজাইন আমরা করব। আমরা ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানও করব।

‘একই সঙ্গে আমরা একটি অ্যাকশন প্ল্যান করব, যাতে নির্ধারণ করা হবে কোনটা তাড়াতাড়ি হবে, কোনটা মধ্যমেয়াদি হবে আর কোনটা দীর্ঘমেয়াদি হবে। সেটা নির্ধারণ করে আমরা কাজ শুরু করব। এটা কমপ্লিট হওয়ার পর আমরা দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলকে আমরা প্রায়োরিটি দেব, কারণ ওখানে যাওয়াটা আগে কষ্টসাধ্য ছিল। এখন সেটা সহজ হয়েছে। কুয়াকাটা, পিরোজপুরসহ বরিশালের বিভিন্ন অঞ্চলকে আমরা অগ্রাধিকার দেব। ওখানে কিছু নতুন ট্যুরিস্ট অ্যাট্রাকশন তৈরির জন্য কাজ করছি। এর মধ্যে আছে সোনাদ্বীপ, আরেকটা সোনারচর। ১০-১৫ দিন আগে আমরা দেখে এসেছি। কীভাবে এগুলো ডেভেলপ করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছি।’

শুধু পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটক বাড়বে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী।

তবে পর্যটন ব্যবসায়ী ও প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব মো. তৌফিক রহমান মনে করছেন, দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটনকেন্দ্রিক সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এতদিন মূল সমস্যাটা ছিল যাতায়াত। আরেকটা বড় সমস্যা থাকার ভালো ব্যবস্থাপনা নেই। এটা নিয়ে ভাবতে হবে। ভালো খাবারের জায়গাও নেই। ট্যুরিস্ট অ্যাট্রাকশনের জন্য এসব ক্ষেত্রেই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে।’

পর্যটকদের আগ্রহ বাড়াতে বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়ীরা প্রস্তুত আছেন বলে জানান পাটা বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব মো. তৌফিক রহমান।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি খুলনা গিয়েছিলাম। সেখানে ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। এখন মোংলাকেন্দ্রিক ট্যুরিজম বাড়বে বলে তারা ধারণা করছেন। ঢাকা থেকে সাড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টায় মোংলা চলে যাওয়া যাবে। তবে মূল অ্যাট্রাকশন থাকবে সুন্দরবন।’

তিনি বলেন, ‘পর্যটকদের জন্য নতুন করে কোনো প্রস্তুতি নেই। মোংলা এলাকায় বর্তমানে যে ধরনের ফ্যাসিলিটি আছে, সেটা নিয়েই ব্যবসায়ীরা অপেক্ষা করছেন। পর্যটকের ফ্লো ভালো হলে অনেকেই বিনিয়োগ করবেন। ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত আছেন।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুতে বাইক দুর্ঘটনার রহস্য উন্মোচন
পদ্মা সেতুর নাট রেঞ্জ দিয়ে খুলে মাহদির ভিডিও: পুলিশ
পদ্মা সেতু নিয়ে ইউনূস সেন্টারের ব্যাখ্যা সত্যের অপলাপ: তথ্যমন্ত্রী
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ: ক্ষতিপূরণ চান মোমেন
পদ্মা সেতুর নাট খোলা আরেক যুবক গ্রেপ্তার

মন্তব্য

p
উপরে