× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Two persons were arrested for defaming Bangabandhu family
hear-news
player
print-icon

বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, দুজন গ্রেপ্তার

বঙ্গবন্ধু-পরিবারের-নাম-ভাঙিয়ে-প্রতারণা-দুজন-গ্রেপ্তার
র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার প্রতারক চক্রের দুজন। ছবি: নিউজবাংলা
র‍্যাব জানায়, ভুক্তভোগীদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণের জন্য দেশে চলমান সরকারি প্রকল্পগুলোতে অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন বলে সেগুলোর নাম উল্লেখ করতেন গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। তারা বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাল চুক্তিপত্রের ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি দেখাতেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নাম ভাঙিয়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বুধবার সকালে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে চক্রের হোতা মনসুর আহমেদ ও তার সহযোগী মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন দলিল ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট।

প্রতারণার কৌশল

প্রতারকদের কৌশল জানাতে গিয়ে র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘তারা ভুক্তভোগীদের (কাছে) বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণের জন্য দেশে চলমান সরকারি প্রকল্পগুলোতে অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উল্লেখ করত। তারা বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভুয়া চুক্তিপত্রের ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি দেখাত। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে প্রতারণা চালিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে চক্রটি।

‘বর্তমানে তারা তিতাস নদী ড্রেজিং, আড়িয়াল খাঁ নদ ড্রেজিং ও নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প, ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি করপোরেশনের ড্রেনের সংস্কারকাজ, রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি অফিস কনস্ট্রাকশনের কাজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্ট্রাকশনের কাজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে প্রতারণার পরিকল্পনা করছিল।’

র‌্যাব জানায়, বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের ঘনিষ্ঠ এবং দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে বলে দাবি করত চক্রটি। এসব বিশ্বাসযোগ্য করতে তারা নানা কৌশল অবলম্বন করত।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘এই চক্রে পাঁচ থেকে সাতজন সদস্য রয়েছেন। প্রতারণার জন্য বিভিন্ন সময় নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করতেন তারা। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর সেভ করতেন এবং নিজেরা ওই ব্যক্তিদের নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে চ্যাট করতেন।

‘হোতা মনসুর এবং তার সহযোগী ফেসবুকে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের নাম ও ছবি ব্যবহার করতেন। এসব চ্যাটিং কনটেন্ট বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সামনে উপস্থাপন করে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখাতেন।’

র‌্যাবের ভাষ্য, চক্রের আরেক সদস্য সাইফুল সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছেন। তিনি সেখান থেকে নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং সে দেশে বসে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতেন।

গ্রেপ্তার মনসুর এবং চক্রের সদস্যরা অফিসে মিটিংয়ের সময় বেশভুষা পরিবর্তন করে দামি গাড়ি এবং বডিগার্ড নিয়ে পৌঁছে যেতেন। নিজেদের আরও বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করার জন্য বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের ছবি দেখাতেন তারা।

গ্রেপ্তার মনসুর সম্পর্কে র‌্যাব জানায়, শুরুতে এলাকায় দালালি করতেন তিনি। পরে ঢাকায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। সেখানে কাজে থাকা অবস্থায় প্রতারণার বিষয়টি তার মাথায় আসে। পরে ওই এজেন্সির এক কর্মচারীর মাধ্যমে সাইফুলের সঙ্গে পরিচয় হলে তিনি চক্রটি গড়ে তোলেন।

র‌্যাব আরও জানায়, মনসুরের সহযোগী মহসিন প্রথমে মালিবাগে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। একপর্যায়ে ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে কারখানা বিক্রি করে দিতে হয় মহসিনের। পরে মনসুরের সঙ্গে মতিঝিলে পরিচয় হলে প্রতারক চক্রে যুক্ত হন তিনি।

আরও পড়ুন:
প্রতারণার মামলায় জাপা নেতা গ্রেপ্তার
বিয়ের নামে টাকা হাতিয়ে নিতেন তারা
ভ্রূণ হত্যা: এআইজি মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল
আমেরিকায় ভিসার লটারি ভুয়া, তিনজন কারাগারে
টাকা নিয়ে নিখোঁজ ‘মানব উন্নয়ন’ সেক্রেটারি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The number of passengers has increased in the Buriganga

যাত্রী বেড়েছে বুড়িগঙ্গায়, ভাগ্যের চাকা ঘুরছে মাঝিদের

যাত্রী বেড়েছে বুড়িগঙ্গায়, ভাগ্যের চাকা ঘুরছে মাঝিদের ওয়াইজঘাট থেকে প্রতিদিন চলাচল করে ১৫০টির বেশি নৌকা। ছবি: নিউজবাংলা
বুড়িগঙ্গা পাড়ের নৌকায় মাঝিদের নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। নদীর দুই পাড়ের মানুষের চলাচলের জন্য তারা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নৌকা চালান। কোনো মাঝি সকালে আসে, আবার কোনো মাঝি দুপুরে বিশ্রাম নেন। কেউবা রাতের শেষভাগ পর্যন্ত নৌকা চালান।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাটের বুড়িগঙ্গা পাড়ের নৌকার মাঝিরা। যাত্রী আনা-নেয়া থেকে শুরু করে নদীর ওপার থেকে আসা মালামাল এ পারে পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।

সদরঘাটের ওয়াইজঘাট, তেলঘাট, লালকুঠিঘাট ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

বুড়িগঙ্গা পাড়ের নৌকায় মাঝিদের নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। নদীর দুই পাড়ের মানুষের চলাচলের জন্য তারা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নৌকা চালান। কোনো মাঝি সকালে আসে, আবার কোনো মাঝি দুপুরে বিশ্রাম নেন। কেউবা রাতের শেষভাগ পর্যন্ত নৌকা চালান।

রাজধানীর সদরঘাটের নৌকা চলাচল করে এমন তিনটি ঘাট হলো— ওয়াইজঘাট, তেলঘাট, লালকুঠিঘাট। তিন ঘাটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এবং যাতায়াতে বেশি লোক হয় ওয়াইজঘাট এলাকায়।

এই ঘাট থেকে প্রতিদিন বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে নাগর মহল, খাজা মার্কেট, আলম মার্কেট, ব্রিজ মার্কেটসহ আশেপাশের ছোট-বড় বিভিন্ন অংশে চলাচল করে ১৫০টির বেশি নৌকা। প্রতিটি নৌকায় মাঝিরা ৬ থেকে ৮ জন লোক নিয়ে নদী পারাপার হতে দেখা যায়। জনপ্রতি নদী পারাপারে ৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণে এক নৌকায় ৪০ টাকা ভাড়া আসে।

বুড়িগঙ্গা পাড়ের মাঝিরা জানান, কিছু নৌকা আছে যারা শুধুমাত্র রিজার্ভে নিয়ে যাত্রী পারাপার করেন। আবার কিছু নৌকার মাঝিরা রয়েছেন, যারা শুধু মালামাল পরিবহন করে নদী পারাপারে। আর বেশিরভাগ মাঝিরা ৫ টাকা করে ছয়জন হোক কিংবা আটজন হোক তাদের নিয়ে নদী পারাপার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

বর্তমানে বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন শ ছোট-বড় নৌকা চলাচল করে। লোক আনা-নেয়ার পরিধি ভেদে একেকজন মাঝি দৈনিক ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করেন। ঈদ উপলক্ষে নিয়মিত যাত্রীদের সঙ্গে অতিরিক্ত মানুষের চলাচল করায় সামনের দিনগুলোতে আয়ের পরিধি আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।

বুড়িগঙ্গা পাড়ের মাঝিদের এখন কোনো ঘাটের মহাজন কিংবা কোনো ব্যক্তিকে দিতে হচ্ছে না খাজনা থেকে শুরু করে অন্যান্য চাঁদা। তবে এক্ষেত্রে নদী পারাপারে প্রতিবার করে জনসাধারণকে দিতে হচ্ছে ঘাটের ইজারাদার আসা-যাওয়ার পথে দুই, চার, পাঁচ টাকা থেকে শুরু করে মালামাল পরিবহনে ৫০ থেকে ১০০ টাকা।

যাত্রী বেড়েছে বুড়িগঙ্গায়, ভাগ্যের চাকা ঘুরছে মাঝিদের

নিয়মিত নৌকায় চলাচল করে কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘এখনকার দিনে পাঁচ টাকায় নদী পারাপার হওয়াটা হয়তো কল্পনার বিষয়। মাঝে মধ্যে মনে হয় এইটুকু পথ পাড়ি দিতে আমরা পাঁচ টাকা দিচ্ছি মাঝিদের। আমাদের মধ্যে এটা সত্যি অন্য রকমের অনুভূতি কাজ করে।

‘এখানকার মাঝিদের জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণটাই নির্ভর করছে বুড়িগঙ্গার দুই পাড়ের মানুষের ওপর। তবে মাঝেমধ্যে মাঝিদের তাড়াহুড়ো, অচেতনতা কিংবা মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী পারাপারে ছোটোখাটো দুর্ঘটনার লেগেই থাকে সবসময়। এগুলো দেখার জন্য নেই কোনো কর্তা ব্যক্তি কিংবা সংশ্লিষ্ট কেউ।’

এসব বিষয়ে ঘাট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা কতা বলতে রাজি নন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইজারা সংশ্লিষ্টদের একজন বলেন, ‘নৌকার মাঝিরা এখন নিজেদের মতো করে চলতে পারে। তাদের দেখভাল করার দায়িত্ব আমাদের নেই। তারা নিজেরা নৌকা চালায় এবং নিজেদের আয়ের টাকা নিয়ে বাড়িতে ফেরেন।’

আরও পড়ুন:
বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল পুনরুদ্ধার কাজ শুরু মার্চে
‘মৃত’ ছাত্রীর ফেরা: অবশেষে রেহাই খলিল মাঝির
আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের দখল উচ্ছেদের ঘোষণা
বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধে ওয়াসার পদক্ষেপ দেখতে চায় আদালত
বুড়িগঙ্গা দূষণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করুন: হাইকোর্ট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The bike stopped and returned in misery for a bus ticket

বাইক বন্ধে ফিরল বাসের টিকিটের দুর্ভোগ

বাইক বন্ধে ফিরল বাসের টিকিটের দুর্ভোগ গুলিস্তানে বিআরটিসির বাসের কাউন্টারে টিকিট প্রত্যাশীদের ভিড়।ছবি: নিউজবাংলা
‘আজকেও নিউজ দেখলাম বাস দুর্ঘটনার। বাস-ট্রাক প্রতিদিন দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছে। তাহলে তাদেরকেও বন্ধ করে দিক। সব দোষ হয়েছে বাইকারদের। কে, কবে, কী করছে- তার দায়ভার আমাদের নিতে হচ্ছে। ইচ্ছা ছিল এবারের ঈদে পদ্মা সেতু হয়ে বাইকে বাড়ি যাব। সেটা আর হলো না। এখন কাউন্টারে এসেও টিকিট পাচ্ছি না।’

ঈদ যাত্রায় মহাসড়কে বাইক নিষিদ্ধ করার পর বাসের টিকিট পেতে যে দুর্ভোগের শঙ্কা ভাবা হচ্ছিল, হয়েছেও তা।

ঈদুল ফিতরে টার্মিনালে গিয়েই টিকিট কেটে বাড়ির পথ ধরা গেলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে টিকিটের জন্য।

সব রুটে বাসে আগাম টিকিট কাটা হয় না। যেমন গুলিস্তান থেকে দক্ষিণের পথে বিআরটিসি কাউন্টারে গিয়েই কাটা হয় টিকিট। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে এই টিকিটের চাহিদা বেড়েছে, তবে ঈদ যাত্রা শুরুর পর যে চাপ দেখা গেছে, সেটি এতদিন দেখা যায়নি।

মো. ইমরান। বাড়ি বরিশাল। পরিকল্পনা করেছিলেন মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে সেটা হয়ে উঠেনি। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় লঞ্চের বদলে সড়ক পথে যাচ্ছেন তিনি।

তার সঙ্গে দেখা গুলিস্তানে বিআরটিসির বাসের কাউন্টারে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও টিকিট না পেয়ে ভীষণ বিরক্ত। রাগটা গিয়ে পড়েছে সড়ক বিভাগের ওপর, যারা মহাসড়কে বাইক নিষিদ্ধ করেছে।

নিউজবাংলাকে ইমরান বলেন, ‘আজকেও নিউজ দেখলাম বাস দুর্ঘটনার। বাস-ট্রাক প্রতিদিন দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছে। তাহলে তাদেরকেও বন্ধ করে দিক। সব দোষ হয়েছে বাইকারদের। কে, কবে, কী করছে- তার দায়ভার আমাদের নিতে হচ্ছে। ইচ্ছা ছিল এবারের ঈদে পদ্মা সেতু হয়ে বাইকে বাড়ি যাব। সেটা আর হলো না। এখন কাউন্টারে এসেও টিকিট পাচ্ছি না।’

ইচ্ছার বাইরে ফরিদপুরে বাসে করে যেতে হচ্ছে লিমন মোল্লাকে। তারও পরিকল্পনা ছিল বাইকে যাবেন।

তিনি বলেন, ‘বাস মালিক সমিতির ইচ্ছায় বাইক বন্ধ হয়েছে। সরকার তাদের খেদমত করতেছে আমাদের বাঁশ দিয়ে। এত মানুষের ভিড় হতো না যদি বাইক চলত।’

বাইক বন্ধে ফিরল বাসের টিকিটের দুর্ভোগ

দীর্ঘ অপেক্ষায় ভোগান্তি

দূরপাল্লার বিরতিহীন বাসের টিকিট না পেয়ে অনেকে হতাশ হয়ে বেছে নিচ্ছেন লোকাল বাস।

ফরিদপুর ভাঙার যাত্রী ইয়াসিন মোল্লা বলেন, ‘অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট পাই নাই। এখন লোকাল বাসে করে বাড়ি যাব। অবশ্য আমাদের রুটের লোকাল বাসেও সমস্যা নাই। রাস্তা ভালো তাই।’

অনেকে বাসের অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বাস আসলেই তাদের টিকিট দেয়া হচ্ছে। যানজটের কারণে বাস আসতে দেরি হচ্ছে এবং বাসের স্বল্পতা ও রয়েছে।

বরিশালের যাত্রী মো. সোহান বলেন, ‘বিআরটিসি বাসের আসায় বসে আছি। সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। বাস আসলে টিকিট দিচ্ছে। তবে বাস পর্যাপ্ত না হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে।’

বিআরটিসি কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা মো. মেহেদী বলেন, একটা করে বাস আসতে আর টিকিট বিক্রি করছি। বাস না আসলে টিকিট বিক্রি করছি না। জ্যামের কারনে বাস আসতে দেরি করছে। যাত্রীদের সামলাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

যেসব বাসে আগাম টিকিট দেয়া হচ্ছে, সেখানেও কোনো টিকিট নেই। শনিবার পর্যন্ত বাসের টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাউন্টার থেকে।

দোলা পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা মো. রাব্বি বলেন, ‘আগামীকাল পর্যন্ত সিট ফাকা নাই। শনিবার বিকেলে ফাঁকা আছে। আমরা অগ্রিম টিকিট দিচ্ছি। সকাল থেকেই যাত্রীদের ভিড় লেগে আছে। গতকাল এত চাপ ছিল না। আজকে হুট করে চাপ বাড়ছে। আগামীকালও এমন চাপ থাকবে।’

টুংগীপাড়া এক্সপ্রেসও সিট ফাকা নেই। পরিবহনটির টিকিট বিক্রেতা মো. রয়েল বলেন, ‘সব সিট বিক্রি হয়ে গেছে। যদি গাড়ি ভাড়ায় তাহলে সিট পাওয়া যাবে। না হলে সিট পেতে শানিবার বিকেল।’

আরও পড়ুন:
‘মোটরসাইকেল বন্ধের পেছনে বাসমালিকরা’
শেষ দিনে টিকিটপ্রত্যাশীর ভিড় নেই কমলাপুরে
ঈদে বাইক বন্ধ কার স্বার্থে
টিকিট কালোবাজারি, ২ রেলওয়ে নিরাপত্তাকর্মী আটক
ঈদে বাইকে বাড়ি যাওয়ার পথ বন্ধ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Young man stabbed to death

ছুরিকাঘাতে আহত যুবকের মৃত্যু

ছুরিকাঘাতে আহত যুবকের মৃত্যু ছুরিকাঘাতে আহত যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ছবি: নিউজবাংলা
‘যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তারা এক সময় আমার ভাইয়ের সঙ্গে চলাফেরা করত। মেয়ে সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে আমার ভাইকে খুন করা হয়েছে। বন্ধু আলামিন রায়েরবাজার বটতলা পুলপারে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে ৩/৪ জন মিলে আমার ভাইকে ছুরিকাঘাত করে।’

রাজধানীর রায়েরবাজারে ছুরিকাঘাতে আহত ২৩ বছরের রবিন ওরফে বক্কর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহতের বোন সোমা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাই মোহাম্মদপুর একটি জুসের কোম্পানিতে চাকরি করত। সে পরিবার ও একমাত্র কন্যা সন্তানকে নিয়ে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে এলাকায় থাকতেন।

‘যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তারা এক সময় আমার ভাইয়ের সঙ্গে চলাফেরা করত। মেয়ে সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে আমার ভাইকে খুন করা হয়েছে। বন্ধু আলামিন রায়েরবাজার বটতলা পুলপারে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে ৩/৪ জন মিলে আমার ভাইকে ছুরিকাঘাত করে।’

সোমা বলেন, ‘এ ঘটনায় আমার বাবা দেলোয়ার হোসেন মামলা করেন।’

এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছুরিকাঘাতের এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় রবিনকে প্রথমে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিলশাদ নামে সিএনজি চালকের মাধ্যমে বিকেলে সোয়া ৬টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে তার চিকিৎসা দেয়া হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রবিনের পেটে, পিঠে চার থেকে পাঁচটি ছুরিকাঘাতের জখম রয়েছে। তার অতিরিক্ত রক্তখন হয়েছে।

রবিনের বন্ধু বাবু জানান, রবিনসহ তারা তিনজন রায়েরবাজার বটতলা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় সন্ত্রাসী মিঠুর ছেলেসহ ৫/৬ জন তাদের পথ রোধ করে। সেখান থেকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে ধরে নিয়ে যায় পাশের রাস্তায়, সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার আগের দিন ওই এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। এর কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তার বন্ধুরা জানিয়েছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘রবিন চিকিৎসা নেয়া অবস্থায় আজ সকাল সাড়ে ৯টায় মারা যান।’

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু
মজা পুকুরে দুই শিশুর মৃত্যু
মারধরে আহত কিশোরের মৃত্যু
চোর চোর বলে চিৎকার, ৫ তলা থেকে পড়ে কিশোরের মৃত্যু
ব‍্যবসায়ী হত‍্যা মামলায় ২ জনের মৃত‍্যুদণ্ড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A police constable was killed in a truck accident

পশুবাহী ট্রাকচাপায় পুলিশ কনস্টেবল নিহত

পশুবাহী ট্রাকচাপায় পুলিশ কনস্টেবল নিহত
আদাবর থানার উপপরিদর্শক মাধব চৌধুরী জানান, সকালে পশুবাহী একটি ট্রাক ওই কনস্টেবলের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ সড়কে পশুবাহী ট্রাকচাপায় এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত পুলিশ কনস্টেবলের নাম মো. রতন হোসেন। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলায়। তিনি ঢাকা এসপিবিএন ১-এ কর্মরত ছিলেন।

আদাবর থানার উপপরিদর্শক মাধব চৌধুরী জানান, সকালে পশুবাহী একটি ট্রাক ওই কনস্টেবলের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। আশপাশের মানুষ তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।

তিনি জানান, পশুবাহী ট্রাকটি নিয়ে চালক পালিয়ে গেছেন। ট্রাকটি শনাক্ত ও চালককে আটকের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
এএসআইকে গাড়িচাপায় হত্যা: ৩ আসামি ২ দিনের রিমান্ডে
‘মাদকের গাড়িতে বাধা দিলে নির্দেশনা ছিল পিষে দেয়ার’
এএসআইকে চাপা দেয়া সেই গাড়িচালক গ্রেপ্তার
গাড়িচাপায় এএসআই নিহত: ৪০ ঘণ্টায়ও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ
‘মাদকবাহী’ মাইক্রোচাপায় এএসআই নিহতের ঘটনায় পুলিশের ২ মামলা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Medicine for fattening cows Radhab

ওষুধে গরু মোটাতাজা করলে ব্যবস্থা: র‌্যাব

ওষুধে গরু মোটাতাজা করলে ব্যবস্থা: র‌্যাব গাবতলী পশুর হাটে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা
ভ্রাম্যমাণ আদালতে কর্মকর্তাদের সঙ্গে একজন পশু চিকিৎসক থাকছেন। তিনি সন্দেহ হলেই যেকোনো পশুকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন। ওই পশুর শরীরে ওষুধের উপস্থিতি পাওয়া গেলে বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোরবানির পশুর ক্রেতারা যাতে প্রতারণার শিকার না হন, সে লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে বৃহস্পতিবার এ আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।

পর্যায়ক্রমে রাজধানীর সব হাটে কার্যক্রম চলবে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের। এর মাধ্যমে গরুকে ওষুধ খাইয়ে মোটাতাজা করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে দেখা হবে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে কর্মকর্তাদের সঙ্গে একজন পশু চিকিৎসক থাকছেন। তিনি সন্দেহ হলেই যেকোনো পশুকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন। ওই পশুর শরীরে ওষুধের উপস্থিতি পাওয়া গেলে বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গাবতলী স্থায়ী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চাই পশুর হাটে ক্রেতাদের ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত হোক। আগে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যে, কোরবানির পশু কিনতে এসে ক্রেতারা প্রতারিত হয়েছেন। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে হাটগুলো মনিটর করা শুরু করেছে।

‘আজ থেকে হাটে চাপ শুরু হচ্ছে। আর আজকেও অনেক পশু হাটে ঢুকছে। তাই কোনো অসুস্থ পশু বা ওষুধ দিয়ে মোটাতাজা করা পশু বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রতিটি হাটে র‌্যাবের ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি হাটে র‌্যাবের ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে জাল টাকা শনাক্ত করার মেশিন রয়েছে। কারও যদি কোনো টাকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে সেখানে গিয়ে টাকা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে পারবেন। পাশাপাশি মহাসড়কে পশুর ট্রাকে চাঁদাবাজি, হাটে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি ও অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে র‌্যাবের টহল দল কাজ করছে।’

যেকোনো ধরনের সমস্যায় র‌্যাবের কন্ট্রোল নম্বরে ফোন করে সহযোগিতা চাওয়ারও অনুরোধ করেছেন খন্দকার আল মঈন।

আরও পড়ুন:
ঈদযাত্রায় প্রস্তুত পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট
জোরেশোরে চলছে জাতীয় ঈদগাহ মাঠের প্রস্তুতি
টিকিট না পেয়ে ছাদে
গাবতলী থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলমুখী যাত্রা সহজ, কঠিন উত্তরে
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, যুবক নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Eid procession on the roof of the train with risk

টিকিট না পেয়ে ছাদে

টিকিট না পেয়ে ছাদে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট না পেয়ে অনেকেই চড়ে বসেন ট্রেনের ছাদে। ছবি: নিউজবাংলা
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সকালে নীলসাগর এক্সপ্রেস ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছিল। ওই সময় দেখা যায়, ট্রেনের ভেতর ফাঁকা থাকলেও টিকিট নেই এমন মানুষজন চেপে বসেছেন ছাদে। জটলা বেঁধে একে অন্যের হাত ধরে টেনে তুলছেন।

ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে বাড়ি যেতে উদগ্রিব তারা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক মানুষকে ট্রেনের ছাদে উঠে বসতে দেখা গেছে।

স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই প্রচুর মানুষের সমাগম, তবে গত ঈদের তুলনায় ভিড় তুলনামূলক কম।

এর আগের বিভিন্ন ঈদযাত্রার সময় দেখা যায়, ট্রেনে পা ফেলার জায়গা থাকছে না, কিন্তু এবার বেশ ফাঁকাই ছিল বগিগুলো।

সকালে নীলসাগর এক্সপ্রেস কমলাপুর স্টেশন ছাড়ার আগে ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছিল। ওই সময় দেখা যায়, ট্রেনের ভেতরে ফাঁকা থাকলেও টিকিট নেই এমন মানুষজন চেপে বসেছেন ছাদে। জটলা বেঁধে একে অন্যের হাত ধরে টেনে তুলছেন। নিচে থেকে ঠেলে তুলে দিচ্ছেন অনেকেই।

টিকিট না পেয়ে ছাদে

ওই ট্রেনের ছাদে ওঠার চেষ্টায় ছিলেন নজরুল নামের এক ব্যক্তি। এমন সময় নিউজবাংলার সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ঢাকায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন তিনি। টিকিট নেই। তাই ছাদে চড়ে যাবেন বাড়িতে।

বাড়ি কোথায়, জীবনের ঝুঁকি রয়েছে জেনেও কেন ছাদে উঠে যাবেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কাছে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি আর কথা বলেননি।

আরও অনেকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে নিউজবাংলা, তবে কেউই সংবাদমাধ্যমের পরিচয় পেয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

টিকিট না পেয়ে ছাদে

এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মাসুদ সারওয়ার বলেন, ‘ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের যে স্রোত, চাইলেও ছাদে ভ্রমণ বন্ধ করা যায় না অনেক সময়।’

এদিকে আগের কয়েক দিন কমলাপুর স্টেশন থেকে ফাঁকা আসন নিয়ে ট্রেন ছেড়ে যেতে দেখা যায়। কারণ অনেক যাত্রীই এয়ারপোর্ট স্টেশন থেকে উঠবেন।

বৃহস্পতিবার ফাঁকা সিট নিয়ে ট্রেন ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি খুব একটা। যাদের টিকিট নেই বা স্ট্যান্ডিং টিকিট আছে, তারা ফাঁকা আসনগুলোতে চেপে বসেছেন।

ঈদ শেষে ট্রেনের ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হয় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। ফিরতি টিকিটের জন্য খুব বেশি লাইন দেখা যায়নি স্টেশন কাউন্টারে, তবে দীর্ঘ লাইন ছিল কমিউটার ট্রেনের কাউন্টারে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে স্টেশন থেকে যাত্রা, সেই স্টেশন থেকেই দেয়া হবে ফিরতি টিকিট।

বৃহস্পতিবার সকালে স্টেশন থেকে বেশিরভাগ ট্রেনই ছেড়ে যায় নির্ধারিত সময়ে, তবে কয়েকটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে ছেড়েছে। সেটাও ১৫ বা ২০ মিনিটের বেশি নয়।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, এটা তেমন কোনো দেরি নয়। স্বাভাবিক সময়েও যাত্রী ওঠানামা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে কি না, তা পরীক্ষা করতে এতটুকু সময় লেগেই যায়।

আর ট্রেনে ঈদযাত্রায় যানজটের ভোগান্তি নেই বলে স্বস্তি প্রকাশ করেন যাত্রীরা।

আরও পড়ুন:
‘ঈদযাত্রার ২৬৭ টাকার পথ এনা নিচ্ছে ৫০০’
বৃষ্টিতে স্বস্তির ট্রেনযাত্রা
কমলাপুর থেকে পাঁচ টিকিট কালোবাজারি আটক
পদ্মা সেতু হয়ে বাড়ি ফেরার ঢল
ট্রেন আসতে দেরি করায় ছাড়তে দেরি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
If there was shame BNP would not have said about load shedding Quader

লজ্জা থাকলে বিএনপি লোডশেডিং নিয়ে কথা বলত না: কাদের

লজ্জা থাকলে বিএনপি লোডশেডিং নিয়ে কথা বলত না: কাদের লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি সমন্বয় করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
‘বিএনপির শাসনামলে জনগণকে বিদ্যুতের পরিবর্তে খাম্বা এবং পুলিশের গুলিতে লাশ উপহার দিয়েছিল। সেই বিএনপি নেতারা যখন বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলে, তখন তাদের শাসনামলের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের সেই দুঃসময়ের কথা মনে পড়ে।’

সারা বিশ্বেই এখন বিদ্যুতের সংকট জানিয়ে এ নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিএনপি শাসনামলে বিদ্যুতের কী পরিস্থিতি ছিল, সেটিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘লজ্জা থাকলে বিএনপি লোডশেডিং নিয়ে কথা বলত না।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের অন্তর্ভুক্ত নবগঠিত ৭৫টি ইউনিট কমিটির পরিচিতি সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে জনগণকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সারা বিশ্বেই এখন বিদ্যুতের সংকট।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির শাসনামলে জনগণকে বিদ্যুতের পরিবর্তে খাম্বা এবং পুলিশের গুলিতে লাশ উপহার দিয়েছিল। সেই বিএনপি নেতারা যখন বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলে, তখন তাদের শাসনামলের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের সেই দুঃসময়ের কথা মনে পড়ে। বিএনপি নেতাদের যদি লজ্জা-শরম থাকত, তাহলে তারা লোডশেডিং নিয়ে কথা বলত না।’

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করেছে। এই সময়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নানা প্রকল্পের সুফলও পেয়েছে দেশ। এক যুগে বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা ছয় গুণের বেশি বেড়েছে, উৎপাদনও বেড়েছে চার গুণের বেশি। বিদ্যুতের আরও কয়েকটি বড় প্রকল্প উৎপাদনে আসার অপেক্ষায়।

বিদ্যুৎ খাত নিয়ে বরাবর গর্ব করে থাকেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে গত এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির পর দেশে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে তরল গ্যাস বা এলএনজি আপাতত আমদানি করা হবে না। গ্যাসের ঘাটতিজনিত উৎপাদনের যে সংকট সেটি সমাধান করা হবে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে। দেশে এখন দুই হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি আছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ গত কয়েক বছরে লোডশেডিং শব্দটা ব্যবহার করত না। তারাই এখন লোডশেডিংয়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আর না কেনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এ জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হবে জানিয়ে তিনি দুঃখও প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ পরিস্থিতির এই কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ আমরা সবার ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সবাই পাচ্ছিল। কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে উপকরণগুলো, সেগুলোর দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। যেমন ডিজেলের দাম বেড়েছে, তেলের দাম বেড়েছে, এলএনজির দামসহ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। কয়লা এখন প্রায় পাওয়াই যায় না।’

বিদ্যুতের এই যাওয়া-আসা শুরুর পর বিএনপি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করছে। তারা বলছে, দুর্নীতির কারণে বিদ্যুতের এই পরিস্থিতি। দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আসলে যে কোনো উন্নয়ন হয়নি, এখন তার প্রমাণ মিলছে।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘প্রচণ্ড লোডশেডিং হচ্ছে- এটা ভয়াবহ। সরকারের শতভাগ বিদ্যুতের যে কথা, আজকের এই অবস্থা (লোডশেডিং) প্রমাণ করে যে আমরা যে কথাগুলো বলে আসছি, সেগুলো বাকসর্বস্ব কথা। এগুলো (কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট) করার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে দুর্নীতি করা, এসব করে নিজেদের পকেট ভারী করা, বিদেশে গিয়ে বাড়িঘর তৈরি করা।’

দলের আরেক মুখপাত্র রুহুল কবির বিজভী বলেছেন, ‘উন্নয়নের এত যে ঢাকঢোল বাজানো হলো, তাহলে সারা দেশে লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতি কেন?’

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি শাসনামলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ছিল নাজুক। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও তার জোটের বড় পরাজয়ের পেছনে যেসব কারণ কাজ করেছে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল বিদ্যুৎ খাত নিয়ে ব্যর্থতা।

এই পাঁচ বছরে বিএনপি সরকার একটিও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে পারেনি, উল্টো এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন কার্যাদেশ বাতিল করেছে। বিদ্যুতের দাবিতে এখানে সেখানে বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছে সেই সরকার। এমনকি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিও হয়েছে।

সড়ক মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলে কোনো মুখে? তাদের কি বড় কথা বলার কিছু আছে? মনে আছে ফখরুল সাহেব আপনাদের সময় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, দিনের পর দিন লোডশেডিং। আপনাদের লজ্জা যদি থাকত লোডশেডিং নিয়ে কথা বলতেন না।’

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহজনিত সমস্যার কারণে এখন উন্নত বিশ্বেও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। সেই তুলনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেক ভালো বলে মনে করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনার মতো সৎ ও দক্ষ নেতা ক্ষমতায় আছেন বলেই বাংলাদেশ এখনও বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারসাম্য বজায় রেখেছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে পরিচিতি সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলেরর সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

আরও পড়ুন:
সারা দেশে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ
লোডশেডিংয়ে নাকাল সাউথ আফ্রিকা
সেপ্টেম্বরে লোডশেডিং দূর করবে কয়লার বিদ্যুৎ: জ্বালানি উপদেষ্টা
লজ্জা থাকলে বিএনপি লোডশেডিং নিয়ে কথা বলত না: কাদের
চাহিদা কমায় রাজশাহীতে কম লোডশেডিং

মন্তব্য

p
উপরে