× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Not everywhere in Coxs Bazar PM
hear-news
player
print-icon

কক্সবাজারে যেখানে-সেখানে স্থাপনা নয়: প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজারে-যেখানে-সেখানে-স্থাপনা-নয়-প্রধানমন্ত্রী
কক্সবাজারের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে বুধবার সকালে কক্সবাজার নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনির্মিত বহুতল অফিস ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা মাস্টারপ্ল্যান করার নির্দেশ দিয়েছি, পুরো কক্সবাজারটাকে ঘিরে। এর উন্নয়নটা যেন অপরিকল্পিতভাবে না হয়ে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী হয়। সে জন্য কক্সবাজারবাসীর কাছে আমার একটা অনুরোধ থাকবে যেখানে-সেখানে, যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে কোনো স্থাপনা আপনারা করবেন না। ইতোমধ্যে আমরা কক্সবাজারে কিন্তু অনেক প্রকল্প নিয়েছি।’

কক্সবাজারকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে জেলার সার্বিক উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই যেখানে-সেখানে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের সবচেয়ে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন সম্মেলন কেন্দ্রটিও কক্সবাজারে নির্মাণ করার ঘোষণা দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

বাংলাদেশকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতু উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের বিমানবন্দরটি হবে আন্তর্জাতিক আকাশপথের রিফুয়েলিং সেন্টার।’

কক্সবাজারের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে বুধবার সকালে কক্সবাজার নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনির্মিত বহুতল অফিস ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান।

কক্সবাজারকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা ‘একান্তভাবে অপরিহার্য’ উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘সে জন্য কক্সবাজারবাসীর কাছে আমার একটা অনুরোধ থাকবে যেখানে-সেখানে, যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে কোনো স্থাপনা আপনারা করবেন না। ইতোমধ্যে আমরা কক্সবাজারে কিন্তু অনেক প্রকল্প নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘একটা মাস্টারপ্ল্যান করার নির্দেশ দিয়েছি, পুরো কক্সবাজারটাকে ঘিরে। এর উন্নয়নটা যেন অপরিকল্পিতভাবে না হয়ে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী হয়।

‘এই যে আমাদের বিশাল সমুদ্রসীমা রয়েছে, এতে পর্যটন ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করা, আমাদের দেশীয় পর্যটকদের যেমন সুযোগ সৃষ্টি করা, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করা- সেই উদ্যোগটা আমরা নিতে যাচ্ছি।’

কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক রিফুয়েলিং সেন্টার

বিমান চলাচলের আন্তর্জাতিক আকাশপথটি কক্সবাজারের ওপর দিয়ে গেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে। কক্সবাজারে হবে আন্তর্জাতিক আকাশপথে রিফুয়েলিংয়ের একটা জায়গা। যার ফলে এখানে অনেক কাজ হবে।’

সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি বিমান চালু হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি, আমাদের অন্যান্য অঞ্চল যেমন- বরিশাল, রাজশাহী, সৈয়দপুর- এ রকম যতগুলো বিমানবন্দর আছে, সব বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারে সরাসরি বিমান চলাচল করে, তার ব্যবস্থাটাও আমরা করে দেব ভবিষ্যতে। যাতে আমাদের পর্যটনও বাড়বে, সব বাড়বে।’

দৃষ্টিনন্দন সম্মেলন কেন্দ্র

ঢাকায় নয়, দেশের সবচেয়ে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন সম্মেলন কেন্দ্র বা কনভেনশন সেন্টারটি কক্সবাজারে তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছেন টানা তিন মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সব থেকে ভালো কনভেনশন সেন্টার, উন্নতমানের কনভেনশন সেন্টার এই কক্সবাজারে করা হবে। অন্য কোথাও না, রাজধানীতে না।

‘আমি চাই কক্সবাজারে হবে এটা, যাতে পর্যটকদেরও আকর্ষণ করবে আর আমাদের যেকোনো সেমিনার, যা কিছু আমরা করি, সেখানে আমরা করব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের যে ভৌগোলিক অবস্থান এই অবস্থানটা হচ্ছে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ রচনা করবার মতো জায়গা। এ জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলতেন, বাংলাদেশটাকে তিনি প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন।

‘সুইজারল্যান্ড শান্তির দেশ, সেই সঙ্গে ইউরোপের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত যেতে হলে সুইজারল্যান্ড হয়েই যেতে হয়। তার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে এভাবেই গড়ে তুলবেন।’

সুনীল অর্থনীতি

সমুদ্রসীমায় নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন এই সমুদ্রসম্পদ আমাদের ব্যবহার করে আমাদের অর্থনীতিতে যাতে অবদান রাখতে পারে, সেই ব্যবস্থাটা আমরা করতে চাই। তাই আমরা ব্লু ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি গ্রহণ করেছি। এর ভিত্তিতে উন্নয়নকে আমরা আরও ত্বরান্বিত করতে চাই।’

মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটিকে ডিজিটাল আইল্যান্ড হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মহেশখালীর উন্নয়নটা যখন দেখবেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে, সবাই বিস্মিত হবেন যে এ রকম উন্নয়ন করা যায়।’

টেকনাফের জন্যও বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং টেকনাফের সমুদ্রসৈকত যাতে আন্তর্জাতিক মানের হয় তারও ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’

সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেখানে সি অ্যাকোরিয়াম যাতে হয়, তার ব্যবস্থা আমরা নেব। যদিও এটা খুব ব্যয়বহুল এবং অ্যাকোরিয়াম চালানোর মতো দক্ষ লোকের অভাব আছে আমাদের দেশে। কাজেই সেটা আমাদের দেখতে হবে, তৈরি করতে হবে।’

অবকাঠামো উন্নয়ন

কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন দোহাজারি থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। চমৎকার একটা রেল স্টেশন, খুব আকর্ষণীয় একটা রেল স্টেশন নির্মাণ হয়েছে। এর কাজ খুব দ্রুত শেষ হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম যেমন মহাসড়ক তৈরি করে দিয়েছি, আবার কক্সবাজার পর্যন্ত রাস্তার কাজও চলছে।’

উন্নয়নের সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় করার অনুমোদন আমরা দিয়েছি। এখানে একটি মেডিক্যাল কলেজ করা হয়েছে, একটি হাসপাতালও করা হবে। স্টেডিয়ামগুলোকে আরও উন্নতমানের করব, যাতে আন্তর্জাতিক মানের খেলা হয়।’

খুরুশকুলে একটি আধুনিক শুঁটকির হাট করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেটি দৃষ্টিনন্দন হবে। আর সেখানে যারা মৎস্যজীবী যারা মাছ ধরবেন, শুঁটকি করবেন তারা বাজারজাত করতে পারবেন।’

লবণ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের চাহিদা মিটিয়ে শীতপ্রধান দেশগুলোতে রপ্তানির সুযোগ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজারের লবণচাষিদের নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়ারও নির্দেশনা দেন তিনি। কোরাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন রক্ষা ও নিরাপত্তায় বিশেষ দৃষ্টি দেয়ারও তাগিদ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ঝাউবন

ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূল ও সমুদ্রসৈকত রক্ষায় ঝাউবন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই সমুদ্রসৈকতে আমার অনুরোধ থাকবে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ছাড়াও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আছেন, আমাদের যুবসমাজ আছে, সামনে আষাঢ় মাস, আষাঢ় মাসে আমরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিই।

‘এই সমুদ্রসৈকত পুরোটা যদি আমরা ঝাউগাছ দিয়ে ঘিরে দিতে পারি তাহলে যেকোনো ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।’

৮০ মাইল বা ১২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে ঝাউবন করা খুব কঠিন কাজ হবে না বলেও মনে করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবেশটা রক্ষা করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে পরিবেশ যেন রক্ষা পায় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

করোনাভাইরাসের উপকার

করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতিতে ধস নামলেও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উপকার হয়েছে বলে মনে করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আমাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে এটা ঠিক। একটা উপকার আমরা পেয়েছি। যেহেতু কোনো পর্যটক সেখানে যেতে পারেনি, কক্সবাজারে হারিয়ে যাওয়া লাল কাঁকড়া সেগুলো যেমন ফিরে এসেছে, কিছুদিন ডলফিনও দেখা গেছে।

‘আমাদের কাছিমগুলোর প্রজননক্ষেত্রের জন্য যে পাড়গুলো ছিল, সেগুলোও হারিয়ে যাচ্ছিল। যখন সেখানে কেউ যাচ্ছিল না, খবর পেলাম, কিছু ছবিও দেখলাম লাল কাঁকড়াগুলো আবার ফিরে এসেছে।’

করোনাকালীন অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমার অনুরোধ থাকবে, কোথাও এক ইঞ্চি জমি পড়ে থাকবে না। যেখানে যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা দিয়েই যা কিছু পারেন উৎপাদন করবেন।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The Bangladeshi youth received the Diana Award

ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি তরুণ

ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি তরুণ মো. আমিমুল এহসান খান। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক যুব-নেতৃত্বাধীন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান অ্যাওয়ারনেস ৩৬০-এ সিনিয়র রিজিওনাল অফিসার পদে কর্মরত আমিমুল এহসান খান। তিনি সংগঠনটির প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ও মিডিয়া অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক সম্মাননা ‘ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন বাংলাদেশি তরুণ মো. আমিমুল এহসান খান। ৪০টিরও বেশি দেশের তরুণ-তরুণীদের ক্ষমতায়ন এবং মাসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা প্রকল্প ও লিঙ্গ সমতা নিয়ে কাজ করার জন্য তিনি এই অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য ৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের এই সম্মাননা দেয়া হয়ে থাকে। সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য দেয়া সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার এটি।

আন্তর্জাতিক যুব-নেতৃত্বাধীন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান অ্যাওয়ারনেস ৩৬০-এ সিনিয়ির রিজিওনাল অফিসার পদে কর্মরত আমিমুল এহসান খান। তিনি সংগঠনটির প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ও মিডিয়া অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

আমিমুল ২০১৮ সালে অ্যাওয়ারনেস ৩৬০-এ যোগদান করেন। ওই সময় তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) প্রজেক্টের আয়োজন করতেন। সেখানে তিনি ছোট ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে হাত ধোয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয়তা এবং পানিবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন করতেন।

এ ছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে মা ও স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের ঘরে বসেই কীভাবে স্বাস্থ্যসম্মত পুনরায় ব্যবহারযোগ্য স্যানিটারি ন্যাপকিন বানানো যায় তা শেখাতেন। মাসিক নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার দূরীকরণেও কাজ করতেন তিনি।

আমিমুল ৩০টিরও বেশি নারী ক্ষমতায়ন কর্মশালা ও ওয়াশ প্রকল্প আয়োজন করেছেন। এর মাধ্যমে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।

কাজের স্বীকৃতি হিসেবে আমিমুলকে ২০১৮ সালের অ্যাওয়ারনেস ৩৬০-এর মেম্বার অফ দ্য ইয়ার ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি মালয়েশিয়ায় গিয়ে ইউনিভার্সিটি পুত্রমালয়েশিয়ার টিইডি-এক্স ইভেন্টে বাংলাদেশ ও অ্যাওয়ারনেস ৩৬০-এর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান।

লেখাপড়ার জন্য ২০২০ সালে জাপানে যাওয়ার পর আমিমুল পদোন্নতি লাভ করেন। এ পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের তরুণদের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেন। তরুণরা নিজ নিজ দেশে কীভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে এবং জাতিসংঘের ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে তা-ই এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য।

বর্তমানে তিনি অ্যাওয়ারনেস ৩৬০-এর মাধ্যমে ৪০টিরও বেশি দেশের পাঁচ শতাধিক তরুণ-তরুণীকে ক্ষমতায়নে তিনি ভূমিকা রাখছেন।

অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে আমিমুল বলেন, ‘সমাজকল্যাণে আমার অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে দেখে খুব ভালো লাগছে। এই সম্মাননা আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে, দেশ-বিদেশে সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে আরও অনুপ্রাণিত করবে।

‘শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশেও এখনো মাসিক নিয়ে অবহেলা ও কুসংস্কার রয়েছে। মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলার কারণে অনেকেই লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। আমি চাই সমাজে সব শ্রেণি-পেশার, সব লিঙ্গের মানুষ সুস্থ ও নিরাপদভাবে সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করুক।’

আমিমুল বর্তমানে জাপানের টোকিও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে লেখাপড়া করছেন।

আরও পড়ুন:
সিইউবির আনুশা পেলেন ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Cabinet approves Brazils visa waiver agreement

ব্রাজিলের ভিসা অব্যাহতি চুক্তিতে মন্ত্রিসভার সায়

ব্রাজিলের ভিসা অব্যাহতি চুক্তিতে মন্ত্রিসভার সায়
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে ইমিডিয়েটলি একটা চুক্তি স্বাক্ষর হবে। কূটনীতিক এবং অফিশিয়াল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন অন অ্যারাইভাল ভিসায় সেখানে যেতে পারেন সে বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে, কেবিনেট এটা এগ্রি করে দিয়েছে।’

বাংলাদেশি কূটনীতিক ও অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীদের ব্রাজিলের ভিসা অব্যাহতি বিষয়ে চুক্তির প্রস্তাবে সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সচিবালয়ে রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন সরকারপ্রধান।

পরে বৈঠকের বিস্তারিত সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে ইমিডিয়েটলি একটা চুক্তি স্বাক্ষর হবে। কূটনীতিক এবং অফিশিয়াল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যারা বিদেশ ভ্রমণ করবেন তারা এ সুবিধা পাবেন। ভ্রমণকারীরা যেন অন অ্যারাইভাল ভিসায় সেখানে যেতে পারেন সে বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে, কেবিনেট এটা এগ্রি করে দিয়েছে।’

চলতি সপ্তাহেই এই চুক্তি সই করতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ব্রাজিল সফর করবেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
ই-পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তিতে গ্রাহক
‘তারা পাসপোর্ট তৈরির নামে অতিরিক্ত ফি হাতিয়ে নিতেন’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Anusha of CUB received the Diana Award

সিইউবির আনুশা পেলেন ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড

সিইউবির আনুশা পেলেন ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের (সিইউবি) এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর আনুশা চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে আনুশা চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে পারাটা অনেক সম্মানের। আমি খুবই আনন্দিত। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে আমার যারা শিক্ষক, সহকর্মী তাদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ।’

মানুষের জীবনমান উন্নত করতে যেসব তরুণ-তরুণী কাজ করেন, তাদের সম্মানিত করা হয় ডায়ানা অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে।

এ বছর এমন আট বাংলাদেশিকে দেয়া হয়েছে এ সম্মাননা। তাদের একজন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের (সিইউবি) এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর আনুশা চৌধুরী।

‘লেটস টক মেন্টাল হেলথ’ নামের একটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা আনুশা। মানসিক সমস্যাসংক্রান্ত সেবা দেয়ায় তার হাতে উঠেছে এ পুরস্কার।

আনুশার এ অর্জনের জন্য তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে সিইউবি কর্তৃপক্ষ।

সিইউবির ক্যাম্পাসে শনিবার দুপুরে আনুশার হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হকসহ বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

সিইউবির আনুশা পেলেন ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড

অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে আনুশা চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে পারাটা অনেক সম্মানের। আমি খুবই আনন্দিত। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে আমার যারা শিক্ষক, সহকর্মী তাদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ।

‘মানসিক স্বাস্থ্য খুবই জরুরি একটা বিষয়, কিন্তু দেশে এটা নিয়ে তেমন কথা হয় না। আমার ইচ্ছা, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আরও অনেক কাজ করার।’

প্রিন্সেস অফ ওয়েলস, ডায়ানার নামানুসারে ‘দ্য ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড’ ১৯৯৯ সাল থেকে দেয়া হচ্ছে। এর সভাপতি গর্ডন ব্রাউন।

বাংলাদেশ থেকে আরও যারা ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন, তারা হলেন নাফিরা আহমদ (প্রতিষ্ঠাতা, অ্যামপ্লিটিউড), মুরাদ আনসারি (প্রতিষ্ঠাতা, সাইকিউর), ফায়েজউদ্দিন বেলাল (নির্বাহী পরিচালক, বরিশাল ইয়ুথ সোসাইটি), মো. আমিনুল ইসলাম খান (জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক কর্মকর্তা, অ্যাওয়ারনেস ৩৬০), শামিম আহমেদ মৃধা (প্রতিষ্ঠাতা, ইকো নেটওয়ার্ক), মনিষা মিম নিপুন হিজরা (পথচলা ফাউন্ডেশন), দীপ্র প্রত্যয় (প্রতিষ্ঠাতা, ডিপি টিউটোরিয়াল)।

আরও পড়ুন:
অর্থনীতির চালিকাশক্তি হবে নারীরা
বাংলাদেশ-কানাডা কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন সিইউবিতে
‘মুক্তিদাতা শেখ মুজিব’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা
বাংলাদেশ-আমেরিকা বন্ধুত্বের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন সিইউবির

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Excavation started in the original Buriganga channel

আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে খনন শুরু

আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে খনন শুরু ঢাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে বুড়িগঙ্গায় চলছে খনন সহ সংস্কার কাজ। ছবি: সংগৃহীত
মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন,‘আদি বুড়িগঙ্গা, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, হাজারীবাগ, চকবাজার ও পুরান ঢাকা ঘিরে কীভাবে একটি নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করা যায়, সে চেষ্টা চলছে। নদীর প্রবাহ ও নদী পুনরুদ্ধার করে একটি বাসযোগ্য নগরী উপহার দেয়া হবে।’

খাল-নদী সংস্কারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নিজস্ব অর্থায়নে শুরু করেছে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলের খনন। নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

নগরীর শহীদ নগর এলাকায় বুধবার বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেলের পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমাদের খাল-নদীগুলো সংস্কার করতে হবে। সংস্কারে কারও ব্যক্তিগত ক্ষতি করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। তবে যারা খাল-নদী দখলের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন, আমাদের কাজে তারা মনঃক্ষুণ্ন হতেই পারেন।

‘দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নগরী ঢাকা। এর পরিবেশ ঠিক করতে হবে আমাদের। ঢাকার পরিবেশ সুন্দর করার মাধ্যমে আমাদের সুনাম ছড়িয়ে পড়বে। ঢাকাকে উন্নত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সে জন্য খাল এবং নদীগুলোর সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।’

আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে খনন শুরু
আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের খননকাজের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়র ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘সিএস ম্যাপ অনুযায়ী আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল পুনর্খনন কাজ এগিয়ে নেয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশের খনন হবে। নদীর সীমানা নির্ধারণ করে বেষ্টনী দেব।

‘আদি বুড়িগঙ্গা, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, হাজারীবাগ, চকবাজার ও পুরান ঢাকা ঘিরে কীভাবে একটি নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করা যায়, সে চেষ্টা চলছে। নদীর প্রবাহ ও নদী পুনরুদ্ধার করে একটি বাসযোগ্য নগরী উপহার দেয়া হবে।’

দক্ষিণ সিটির নিজস্ব অর্থায়নে বুড়িগঙ্গায় খননকাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘সাড়ে ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। আগামী অর্থবছরে আরও বেশি বরাদ্দ রাখা হবে। আনন্দের বিষয় যে আমরা কাজটি শুরু করতে পেরেছি।’

পরে নগরীর ৬২ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন মেয়র। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ, প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদ, সচিব আকরামুজ্জামান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকেরসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা।

আরও পড়ুন:
চলতি মাসেই আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল পুনর্খনন: মেয়র তাপস
মার্চে শুরু আদি বুড়িগঙ্গা পুনরুদ্ধার কাজ
বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল পুনরুদ্ধার কাজ শুরু মার্চে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Emo is giving free data to flood victims

বন্যাদুর্গতদের ফ্রি ডাটা দিচ্ছে ইমো

বন্যাদুর্গতদের ফ্রি ডাটা দিচ্ছে ইমো
বরাদ্দ ডাটা থেকে গ্রামীণফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ৫১২ এমবি, বাংলালিংক ব্যবহারকারীদের জন্য ৩০০ এমবি এবং রবি ও এয়ারটেল ব্যবহারকারীদের জন্য ১ জিবি করে ডাটা সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ ইমো।

সিলেট বিভাগের ব্যবহারকারীদের জন্য প্ল্যাটফর্মটি ২২ জুন থেকে বিশেষ ডাটা ডোনেশন চালু করেছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ৪০ লাখ টাকার বেশি সমমূল্যের ডাটা পাচ্ছেন বিনা মূল্যে।

বরাদ্দ ডাটা থেকে গ্রামীণফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ৫১২ এমবি, বাংলালিংক ব্যবহারকারীদের জন্য ৩০০ এমবি এবং রবি ও এয়ারটেল ব্যবহারকারীদের জন্য ১ জিবি করে ডাটা সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

এই ডাটা ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ইমো ব্যবহারকারীরা ১ হাজার ৫৫০ মিনিট পর্যন্ত অডিও কল এবং ৫৫০ মিনিট পর্যন্ত ভিডিও কল করতে পারবেন।

এই দুঃসময়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এবং প্রয়োজনীয় ফান্ড বা ত্রাণ সহযোগিতা পেতে ইমোর সুবিধাটি খুবই কার্যকরী হয়ে উঠবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফ্রি ডাটা চালুর পর থেকে তিন দিন পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করতে পারবেন সেগুলো।

সেই সঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত ত্রাণ এবং অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ‘বাংলাদেশ রিলিফ’ নামে একটি ইমো চ্যানেল চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একাধিক এনজিওর সমন্বয়ে ইতোমধ্যেই ত্রাণ সংগ্রহ ও প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছে এবং এখন পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার এই ‘বাংলাদেশ রিলিফ’ চ্যানেলে যুক্ত হয়েছেন।

এই ভয়াবহ বন্যা লাখ লাখ মানুষকে কঠিন বিপর্যয়ে ফেলে দিয়েছে। বন্যায় ২৪ জুন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

দেশের এমন দুঃসময়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে প্রতিটি সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার একযোগে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।

ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং ইন্ডাস্ট্রিতে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইমো এই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যোগ দিয়েছে এবং সিলেট ও নিকটবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে দ্রুত পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

আরও পড়ুন:
আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে আশ্রয়হীন
বন্যায় ভেঙে যাওয়া সেতু মেরামত, ঢাকা-মোহনগঞ্জ ট্রেন চালু
দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে: সুনামগঞ্জে সেনাপ্রধান
বানভাসিদের পাশে পুলিশ ও র‍্যাবপ্রধান
বন্যাকবলিত এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ২৮ মৃত্যু, মোট ৬৮

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Shaomi next to the flood victims with baby food and relief

শিশুখাদ্য ও ত্রাণ নিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে শাওমি

শিশুখাদ্য ও ত্রাণ নিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে শাওমি সিলেট সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল হামিদুল হকের হাতে শিশুখাদ্য ও ত্রাণ হস্তান্তর করেন শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের জন্য সঠিক পুষ্টিমানসম্পন্ন শুকনো খাবার তুলে দিয়েছে শাওমি বাংলাদেশ। সিলেট সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল হামিদুল হকের হাতে খাবারগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। যা শুক্রবার সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকায় বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি নেত্রকোণা এলাকাতেও ত্রাণ বিতরণ করেছে শাওমি।

ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণাসহ উত্তরপূর্ব এলাকার জনপদ। অত্যধিক বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সেখানে অন্তত ৪০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বেশিরভাগ এলাকা, দেখা দেয় খাদ্য সংকট, মানবেতর জীবনযাপন করছে পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ।

উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ বিতরণ করছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। বন্যার পানিবন্দি হয়ে সেখানে সবচেয়ে ভয়াবহ দিন কাটাতে হচ্ছে শিশু-বৃদ্ধদের।

তাদের খাবারসহ স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন স্বাভাবিক রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। দেখা দিয়েছে শিশুখাদ্য সংকট। এমন অবস্থায় শিশুখাদ্য নিয়ে ত্রাণ কাজে এগিয়ে এসেছে গ্লোবাল টেকনোলজি লিডার শাওমি।

প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সিলেটসহ বন্যাদুর্গত উত্তরপূর্বাঞ্চলে ত্রাণ বিতর করছে, বিশেষ করে শিশুখাদ্য সংকট নিরসনে এমন উদ্যোগ নিয়েছে।

শিশুদের জন্য সঠিক পুষ্টিমানসম্পন্ন শুকনো খাবার তুলে দিয়েছে শাওমি বাংলাদেশ। সিলেট সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল হামিদুল হকের হাতে খাবারগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। যা শুক্রবার সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকায় বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি নেত্রকোণা এলাকাতেও ত্রাণ বিতরণ করেছে শাওমি।

শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বন্যায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জাতির এই ক্রান্তিকালে আমাদের সবার এক হওয়াটাও অতীব জরুরি। বন্যাউপদ্রুত এলাকায়, বিশেষ করে শিশুদের খাদ্যসংকট কাটানোর উদ্যোগ নিয়েছি আমরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘শাওমি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই জরুরি পরিস্থিতিতে আমরা চেষ্টা করছি সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে। মানুষের এমন সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে সবাইকে এক হওয়া দরকার। বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় আমাদের একতা এবং আন্তরিকতা খুব বেশি প্রয়োজন।’

প্রতিকূল সময়ই এগিয়ে যাওয়ার সর্বোত্তম সময়। শাওমি পরিবারের সবাইকে সাধ্যমত বন্যাদুর্গতদের জন্য সহায়তায় এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন শাওমির এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
বন্যায় বড় কষ্ট গর্ভবতী মা ও শিশুদের
বানে গেল দুই শিশুর প্রাণ
ঈদের আগে খুলছে না শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়
হবিগঞ্জে পানি নামছে ধীরগতিতে
আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে আশ্রয়হীন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
SSC examinees gave money for Eid clothes to the flood victims

ঈদের জামার টাকা বন্যার্তদের দিল এসএসসি পরীক্ষার্থী

ঈদের জামার টাকা বন্যার্তদের দিল এসএসসি পরীক্ষার্থী ডিসির হাতে বন্যার্তদের সহায়তার টাকার চেক তুলে দিচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থী তাহাজীব হাসান (বামে)। ছবি: নিউজবাংলা
নিউজবাংলাকে তাহাজীব বলেছে, ‘সিলেটে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে তা টিভি ও পত্রিকায় দেখে আমার মনে হয়েছে যে আমার ড্রেস কেনার চেয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো বেশী জরুরি।’

সিলেটের বানভাসী মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে গোপালগঞ্জের এক কিশোরী। ঈদের পোশাক কেনার টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দিয়েছে সে।

মেয়েটির নাম তাহাজীব হাসান। সে এবার গোপালগঞ্জ সরকারি বীণাপাণি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেবে।

ঈদের পোশাক না কিনে ১০ হাজার টাকা সে বুধবার দুপুরে তুলে দিয়েছে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হাতে।

নিউজবাংলাকে তাহাজীব বলেছে, ‘আমার ঈদের ড্রেস কেনার টাকা সিলেটের বন্যার্তদের জন্য দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। প্রতি বছর ঈদের সময় নতুন ড্রেস কিনে থাকি। কিন্তু এবার সিলেটে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে তা টিভি ও পত্রিকায় দেখে আমার মনে হয়েছে যে আমার ড্রেস কেনার চেয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো বেশী জরুরি।’

তার এই চিন্তার প্রশংসা করেছেন ডিসি শাহিদা সুলতানা।

তিনি বলেন, ‘আমি খুব খুশী হয়েছি যে একজন শিক্ষার্থী তার আনন্দের টাকা সিলেটের বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য দিয়েছে। আমি বিত্তবানসহ সবস্তরের মানুষের প্রতি আহবান জানাচ্ছি যে আসুন আমার যার যার অবস্থান অনুযায়ী বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াই।’

আরও পড়ুন:
সিলেটের বন্যার জন্য দায়ী কিশোরগঞ্জের সড়ক: বিএনপি
ডাকাতি ঠেকাতে কঠোর পুলিশ: সুনামগঞ্জে ডিআইজি
বন্যাকবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীর তথ্য চায় মাউশি
হবিগঞ্জের নতুন এলাকা প্লাবিত
জামালপুরে পানিবন্দি ৭০ হাজার মানুষ

মন্তব্য

p
উপরে