× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
How are those senior leaders?
hear-news
player
print-icon

কেমন আছেন সেই সব জ্যেষ্ঠ নেতা

কেমন-আছেন-সেই-সব-জ্যেষ্ঠ-নেতা
আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী এবং তোফায়েল আহমেদ। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
তাদের বয়স ৮০ ছুঁইছুঁই। শারীরিক অসুস্থতা তাদের চলাফেরাকে সীমিত করে ফেলেছে। তবু তারা যথাসাধ্য দলে এবং সরকারে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেন। রাজনীতির ফাঁকে তারা বই পড়েন, লেখালেখি করেন। এলাকায় ভোটারদের খোঁজখবর রাখেন।

বয়স বাড়লেও রাজনীতিতে সক্রিয়তা ধরে রেখেছেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা। শারীরিক অসুস্থতা বাধা না হয়ে দাঁড়ালে সরকারি দায়িত্ব এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকেই প্রাধান্য দেন তারা। রাজনীতির পাশাপাশি দু-একজন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিজেদের ব্যস্ততা বাড়িয়েছেন।

রাজনীতির ফাঁকে তারা বই পড়েন, লেখালেখি করেন। নিজের কাজ নিজে করাই তাদের দৈনন্দিন কর্মসূচি।

শাসক দলের এ রকম চার নেতার সাম্প্রতিক জীবনযাপনের খোঁজ নিয়েছে নিউজবাংলা। এরা হলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ এবং সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী।

সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পদ ছাড়াও জাতীয় সংসদের উপনেতার পদটি তার। তিনি বর্তমানে ছোট ছেলে শাহতাব আকবরকে (লাবু) সঙ্গে নিয়ে ধানমণ্ডিতে থাকেন। ১৯৩৫ সালে জন্ম নেয়া প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের বর্তমান বয়স ৮৭।

সাজেদা চৌধুরীর একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র নিউজবাংলাকে জানান, অসুস্থতা এবং বয়সজনিত জটিলতার কারণে অনেক দিন তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন না। করোনা শুরু হওয়ার আগে থেকেই তার মধ্যে স্মৃতিভ্রম দেখা দেয়। অনেক কর্মসূচিতে দেয়া বক্তব্য এলোমেলো হয়ে যায়।

সাজেদা চৌধুরী ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা, সালতা ও সদরপুর) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। অসুস্থতার কারণে নির্বাচনি এলাকার খোঁজখবর রাখেন ছোট ছেলে শাহতাব আকবর চৌধুরী।

শাহতাব আকবর নিউজবাংলাকে জানান, তার মা এখন ধীরগতিতে হলেও হাঁটাচলা করতে পারছেন। নিজে অফিসে যেতে না পারলেও সংসদ উপনেতার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের আনা কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন। শাহতাব জানান, সংসদসংক্রান্ত কাজে মাকে সাহায্য করেন তিনি। পাশাপাশি মায়ের হয়ে এলাকা দেখভালের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

আমির হোসেন আমু

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু আছেন দলের সংসদীয় বোর্ডেও। পাশাপাশি ১৪ দলের মুখপাত্র এবং সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি।

আওয়ামী লীগের একসময়ের ‘মিস্টার ডিসিশন’ হিসেবে পরিচিত এ নেতার দলে প্রভাব এবং জৌলুস কমে যায় এক-এগারোর পরে। সে সময় পর্যন্ত তার দৈনন্দিন রুটিন ছিল ছকে বাঁধা। প্রতিদিন সকালে নাশতা সেরে আরাম কেদারায় বসতেন। বাড়িতে দেখা করতে আসা নেতা-কর্মীরা তার পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিতেন।

৮০ বছর বয়সী এ নেতা এখন কদাচিৎ বাড়িতে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন। করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর তা এক প্রকার বন্ধই হয়ে গেছে।

তার একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, আমির হোসেন আমু অতি ভোরে উঠে নিয়মিত ফজরের নামাজ আদায় করেন। সাধারণত সংবাদপত্র পাঠের মাধ্যমে তার দিন শুরু হয়। সকালে বেশ কয়েকটি দৈনিকে চোখ বোলান তিনি। এরপর নাশতা সেরে বিশ্রামে যান। রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকলে তাতে অংশ নেন। অবশ্য তার বেশির ভাগই ভার্চুয়ালি। ১৪ দলের বৈঠক পরিচালনা করেন। দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন।

গত মার্চে তিনি ১৪ দলের নেতাদের নিয়ে হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ সফররত ভারতীয় জনতা পার্টির এক থিংক ট্যাংকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ে তার প্রকাশ্য রাজনৈতিক উপস্থিতি।

এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি ফোনে অথবা ভার্চুয়ালি যোগাযোগ রক্ষা করেন। করোনার প্রকোপ কমে আসার পর নিজের নির্বাচনি এলাকা ঝালকাঠির নলছিটিতে যাওয়া শুরু করেছেন। মাসে অন্তত একবারের জন্য হলেও তিনি নির্বাচনি এলাকায় যান।

দৈনন্দিন ব্যস্ততা নিয়ে আমির হোসেন আমুর কাছে জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে জানান, সরকার ও দলীয় দায়িত্ব পালন করতেই সময় চলে যায়। এলাকার জনগণের খোঁজখবর রাখেন নিয়মিত। জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনি এলাকার অবকাঠামো, যোগাযোগ, বিভিন্ন ভাতা বণ্টনের কাজ তদারকি করতে হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের এসব নিয়ে নির্দেশনা দিতেই সময় পার হয়ে যায় তার।

তোফায়েল আহমেদ

তোফায়েল আহমেদ দলের উপদেষ্টা পরিষদ এবং সংসদীয় বোর্ডের সদস্য। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি তিনি। এই মুহূর্তে কিছুটা অসুস্থতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চিকিৎসা শেষে ঈদের কয়েক দিন আগেই দেশে ফিরে নিজ নির্বাচনি এলাকা ভোলা ঘুরে এসেছেন তিনি।

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই তার অসুস্থতায় ভোগার কথা জানা গেছে। স্ট্রোক করার কারণে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন এ নেতা। ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, ধীর হলেও চলাফেরা করতে পারছেন।

৭৮ বছর বয়সী তোফায়েল আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, তিনি ভালো আছেন। বই পড়ে, লেখালেখি করে, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ আর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার মাধ্যমেই কেটে যায় তার দিন।

সকালে সংবাদপত্র পড়া তোফায়েল আহমেদের নৈমিত্তিক রুটিন। তার সংগ্রহে রয়েছে বিশাল এক গ্রন্থাগার। বনানীতে তার বাসার নিচতলায় এর অবস্থান। রাজনৈতিক ব্যস্ততা না থাকলে দুপুর পর্যন্ত তার গ্রন্থাগারেই কাটে। সেখানে লেখালেখি, বই পড়া দুটিই চলে। কোথাও সাক্ষাৎকার দেয়া কিংবা ভার্চুয়াল মিটিংয়ে অংশ নেয়ার কাজটাও তিনি এখানে বসেই করেন। তবে অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে নিচতলার অন্য অংশে।

রাজনৈতিক জীবনে বরাবর তিনি নিয়ম মেনে সপ্তাহে দুই দিন করে কাটিয়েছেন নির্বাচনি এলাকা ভোলায় (ভোলা-১)। সাধারণত বৃহস্পতিবার গিয়ে তিনি শনিবার রাতে ঢাকায় ফিরতেন। তবে করোনা মহামারির পর স্বাভাবিকভাবেই তাতে ভাটা পড়ে। আর বয়স বাড়তে থাকায় শরীরও আগের মতো সাড়া দেয় না। এ কারণে এখন আর নিয়মিত যেতে পারেন না। তবে ঢাকায় বসে নিয়মিতই নির্বাচনি এলাকার খোঁজখবর রাখেন তিনি। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ইস্যুতে এলাকার জনগণ এবং নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

এই বয়সেও দলীয় কোনো কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকেন না এ রাজনীতিবিদ। দিবসভিত্তিক কর্মসূচিগুলোতে সশরীরে হাজির থাকতে না পারলেও আলোচনা সভা এবং অন্য বৈঠকগুলোতে যান।

মায়ের নামে ভোলার উপশহর বাংলাবাজারে বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তুলেছেন তোফায়েল আহমেদ। ২০১৬ সালে তার নামে একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এটির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের জন্য হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম, শিক্ষাবৃত্তিসহ আর্তমানবতার সেবামূলক কাজ পরিচালিত হয়।

বাংলাবাজারে গড়ে তোলা হয়েছে আজাহার ফাতেমা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এই হাসপাতাল তোফায়েল আহমেদ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ২২ অক্টোবর ১৯৪৩ সালে জন্ম নেয়া তোফায়েল আহমেদের বর্তমান বয়স ৭৮ বছর।

মতিয়া চৌধুরী

দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মতিয়া চৌধুরী। এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তিনি। কী সরকারি, কী দলীয়– সব কাজই তিনি যথাসময়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে করেন। নিজে উপস্থিত থাকেন।

বয়স ৭৯ হলেও অনুকূল এবং প্রতিকূল দুই ধরনের পরিবেশেই সমানতালে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় মতিয়া চৌধুরী। করোনার মহামারিকালেও দলীয় কার্যালয় এবং কর্মসূচিতে ছিল নিয়মিত উপস্থিতি।

জীবনযাপনে মতিয়া চৌধুরী অত্যন্ত সাদাসিধে। এখনও দেশি কাপড় পরেন, চলেন সাদামাটা। সাজগোজ নেই, তবু পরিপাটি। খাবারদাবারেও নেই বাড়তি কিছু। সাধারণ চালের ভাত, শাকসবজি, ভর্তা আর তরিতরকারিতেই অভ্যস্ত। রাষ্ট্রীয় বা দলীয় কাজের বাইরে সময় পেলেই পত্রপত্রিকা ও বই পড়ে সময় কাটান। সময় পেলে নিজেই রান্না করেন। এ ছাড়া প্রয়াত স্বামী বজলুর রহমানের নামে ফাউন্ডেশন চালান।

তার বাসার পরিবেশও অনাড়ম্বর। তেমন কোনো আসবাব নেই বললেই চলে। ছোট্ট একটা ডাইনিং টেবিল। ছোট ছোট তিনটি রুম। পাঁচ-ছয়জন বসার মতো একটি সাধারণ সোফাসেট। ছোট্ট একটি টিভি। তবে বাড়িভর্তি বইপত্র। প্রত্যেক ঘরে ছড়ানো-ছিটানো বই, দেশ-বিদেশের পত্রপত্রিকা।

মতিয়া চৌধুরী নিউজবাংলাকে জানান, নিজের সব কাজ নিজে করার চেষ্টা করেন। সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনি এলাকা শেরপুর-২-এ যথাসম্ভব সময় দেয়ার চেষ্টা করেন। করোনাকালেও সেখানে গিয়েছেন। কখনও নিজে না পারলে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এলাকার মানুষের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেন। এ ছাড়া নিয়মিত দলীয় কার্যালয়ে যান। যান দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবনেও। দলীয় এবং সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার পাশাপাশি দলীয় প্রধানের সঙ্গে নানা বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
ঝড়ের গতিতে উত্থান, উল্কার বেগে পতন
আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ‘নেই’ মোশাররফ
ফরিদপুরে ৬ বছর পর আ.লীগের সম্মেলন কাল
ছাত্রলীগসহ তিন সংগঠনকে সম্মেলনের নির্দেশ
আওয়ামী লীগের যৌথ সভা মঙ্গলবার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
We want to remove the government very soon Musharraf

আমরা অতি দ্রুত সরকার হটাতে চাই: মোশাররফ

আমরা অতি দ্রুত সরকার হটাতে চাই: মোশাররফ বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
‘আমরা এ দেশে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে চাই। অতি দ্রুত সরকারকে হটাতে চাই। এ দেশের জনগণ একটা নিরেপক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। যে নির্বাচনে সরকার নিজের হাতে নিজের ভোট দিতে পারবে, ইভিএমে নয়। আর এর মাধ্যমে জনগণের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে।’

বর্তমান সরকারকে যত দ্রুত সম্ভব ক্ষমতা থেকে হটাতে চান বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা আন্দোলন করলেও সরকার যাবে, না করলেও যাবে। যদি সেইভাবে যায় তাহলে জাতি আরেকটা অন্ধকারে প্রবেশ করবে। আর রাস্তায় নেমে আমরা যদি এদেরকে বাধ্য করতে পারি, তাহলে জনতার কাছে ক্ষমতা আসবে।’

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নেতা এসব কথা বলেন। ২০১১ সালের ৬ জুলাই সংসদ ভবনের সামনে তৎকালীন বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুককে পুলিশের পিটুনির প্রতিবাদে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটা সকলের দাবি, এ দেশের মানুষ অতি দ্রুত পরিবর্তন চায়। তারা আর এই সরকারকে দেখতে চায় না। তারা চায় এই সরকার অতি দ্রুত তার পদ থেকে পদত্যাগ করুক বা আমরা তাদের সরিয়ে দিই। সেটা করতে হলে আমাদের সকলকে অবশ্যই রাস্তায় নামতে হবে।

‘আমরা এ দেশে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে চাই। অতি দ্রুত সরকারকে হটাতে চাই। এ দেশের জনগণ একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। যে নির্বাচনে সরকার নিজের হাতে নিজের ভোট দিতে পারবে, ইভিএমে নয়। আর এর মাধ্যমে জনগণের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে।’

সরকারের শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে বিরোধীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে বলেও সতর্ক করেন মোশাররফ। বলেন, ‘বাংলাদেশ যেমন বীরের দেশ, তেমনি অনেক মীরজাফরও আছে। অতএব আজকে বীরেরা সামনে এগিয়ে আসুক। মীরজাফররা যেন সামনে আসতে না পারে।’

বন্যার জন্য সরকারকে দায়ী করেন বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপরের দেশগুলোতে যে নদী আছে, সেই প্রত্যেকটা নদীর মুখে বাঁধ আছে। সরকার নতজানু নীতির কারণে এর প্রতিবাদ করতে পারে না। খরা মৌসুমে তারা পানি আটকে রাখে, বর্ষার মৌসুমে পানি ছেড়ে দেয়। এই নতজানু নীতি না থাকলে ভারতের সঙ্গে কথা বলে এর সমাধান করতে পারত।’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয়তাবাদী নবীন দলের সভাপতি হুমায়ূন আহমেদ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল রানাও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
ঈদের পর আন্দোলন শুনে কষ্ট হয় তথ্যমন্ত্রীর
অন্ধকার যুগে বাস করছি: দুদু
পদ্মায় দুর্নীতি হয়নি প্রমাণ করতে পারলে বিএনপির ধন্যবাদ: গয়েশ্বর
মকারির নির্বাচনে আর না, খেলা হবে ‘ফেয়ার’: টুকু
বন্যার্তদের জন্য ৩০ লাখের তহবিল গড়বে যশোর বিএনপি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
I dont want to learn democracy from BNP Quader

বিএনপির কাছে গণতন্ত্র শিখতে চাই না: কাদের

বিএনপির কাছে গণতন্ত্র শিখতে চাই না: কাদের ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
‘বিএনপির গণতন্ত্রের মূলে রয়েছে জনগণের অধিকার হরণ, ভোটারবিহীন নির্বাচন, হ্যাঁ- না ভোট, সোয়া এক কোটি ভুয়া ভোটার, আগুন সন্ত্রাস আর দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ।’

সেনা শাসকের দল বিএনপির কাছ থেকে গণতন্ত্র শিখতে চান না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হ্যাঁ-না ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি হওয়া, বিএনপির সর্বশেষ শাসনামলে এক কোটির বেশি ভুয়া ভোটার থাকার কথা তুলে ধরে তিনি এ কথা বলেন।

বুধবার রাজধানীতে সরকারি বাসভবনে অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ বক্তব্য দেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

আগের দিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে।
জবাবে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘বিএনপির থেকে গণতন্ত্র শিখতে চাই না, বিএনপির গণতন্ত্রের মূলে রয়েছে জনগণের অধিকার হরণ, ভোটারবিহীন নির্বাচন, হ্যাঁ- না ভোট, সোয়া এক কোটি ভুয়া ভোটার, আগুন সন্ত্রাস আর দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ।’

তিনি বলেন, ‘জন্মলগ্ন থেকেই বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতা দখলের। ষড়যন্ত্রের মন্ত্র ও ক্ষমতার তন্ত্রে বিভোর বিএনপির এ দেশের গণতন্ত্র, জনমত, নির্বাচন এবং রাজনীতির অর্থবহ ও কল্যাণকর কোনো পন্থাতে আস্থা ছিল না, এখনও নেই।’

কাদেরের মতে, জনগণের মত প্রকাশের সর্বোত্তম মাধ্যম হচ্ছে নির্বাচন। সেই নির্বাচনি ব্যবস্থাকে অধিকতর গণতান্ত্রিক ও আধুনিক করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে।

নিরপেক্ষ সরকার না থাকলে বিএনপি ভোটে আসবে না বলে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের জবাবও দেন কাদের। বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়েই আগেভাগে তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এ কথা-সে কথা বলছে।’

ফখরুলকে কাদের বলেন, “আপনাদের দৃষ্টিতে নিরপেক্ষতার মানদণ্ড কী? তার প্রমাণ আপনারা ক্ষমতাসীন হয়ে বারবার দেখিয়েছেন। বিএনপি নেত্রী একসময় বলেছিলেন, ‘দেশে শিশু আর পাগল ছাড়া কেউই নিরপেক্ষ নয়’। দেশবাসী জানে যতক্ষণ বিএনপির ক্ষমতা দখলের পথ নিরাপদ না হবে, নির্বাচনে জেতার গ্যারান্টি না পাবে, ততদিন তাদের নিরপেক্ষতার মানদণ্ড নিশ্চিত হবে না।

‘বিএনপি যেকোনো উপায়ে নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা এবং পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারার মানসিকতাই এখন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রধান অন্তরায়।’

জনগণই আওয়ামী লীগের শক্তির উৎস জানিয়ে কাদের বলেন, ‘এ দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা যতটুকু উন্নতি হয়েছে, বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারই এ উন্নতি করেছে।’

শেখ হাসিনা সরকার গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করেনি উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বরং অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করা হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র আছে বলেই বিএনপি নেতারা রাত-দিন সরকারের অন্ধ সমালোচনা করছেন, মিডিয়ায় ঝড় তুলছেন, সংসদে আনুপাতিক হারের চেয়ে বেশি সময় পাচ্ছেন, বক্তব্য দিচ্ছেন পার্লামেন্টে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর শেখ হাসিনা সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় বিএনপি নেতাদের বুকে বিষজ্বালা বেড়েই চলছে। আর এ থেকেই হতাশায় ভুগতে থাকা বিএনপি নেতারা আবোলতাবোল বলছেন।’

আরও পড়ুন:
বিএনপির নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ কল্পিত: কাদের
বিএনপি যাই বলুক নির্বাচনে আসবে, ভোট ইভিএমে হোক: কাদের
জনদুর্ভোগ নিয়ে রাজনীতি করছে বিএনপি: কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
EC dialogue with political parties from 16 July

১৭ জুলাই থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইসির সংলাপ

১৭ জুলাই থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইসির সংলাপ
ইসি আহসান হাবিব খান বলেন, ‘আগামী ১৭ জুলাই থেকে সকাল-বিকেল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনি সংলাপ করা হবে। প্রতিদিন চারটি দলের সঙ্গে সংলাপ করবে নির্বাচন কমিশন। নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপদ্ধতি ঠিক করতে আগামী ১৭ জুলাই থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সংলাপ চলবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত।

মঙ্গলবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আহসান হাবিব খান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আগামী ১৭ জুলাই থেকে সকাল-বিকেল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনি সংলাপ করা হবে। প্রতিদিন চারটি দলের সঙ্গে সংলাপ করবে নির্বাচন কমিশন। নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিদিন দুই দফায় দুটি করে চারটি দলের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবং বিএনপির সঙ্গে আলাদা করে একেক দিন বৈঠকে বসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে এর আগে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) যাচাই-বাছাই করতে ইসির নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে সেখানে ২৮টি রাজনৈতিক দল ইসির ডাকে সাড়া দেয়। বিএনপিসহ তাদের সমমনা ১১টি রাজনৈতিক দল ইসির আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আউয়াল কমিশনকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। নিয়োগ পাওয়ার পরদিন শপথ নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথম দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন শুরু করে নতুন কমিশন। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার দায়িত্বভার পাওয়ার পর পরই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সংলাপের সিদ্ধান্ত নেয়।

সেই আলোকে গত ১৩ ও ২২ মার্চ এবং ৬ ও ১৮ এপ্রিল যথাক্রমে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী এবং নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। পরে পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করে ইসি।

পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে বসার কথা থাকলেও সংলাপের আগেই তাদের ইভিএম যাচাইয়ের জন্য চিঠি পাঠায় ইসি।

তবে পরে আবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসতে তারিখ নির্ধারণ করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এ লক্ষ্যে বিকেলে নির্বাচন ভবনে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

আরও পড়ুন:
ইসির সাফল্য হাতিয়ার ভোটে ম্লান?
পুঁজিবাজারে প্রভিডেন্ড ফান্ডের বিনিয়োগ চায় বিএসইসি
ব্যালটের চেয়ে ইভিএম ভালো: সিইসি
ফিকার প্রথম নারী সভাপতি অজি ক্রিকেটার লিসা
ইভিএম যাচাইয়ে ইসিতে গেল না বিএনপি

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Extortion of Juba Dal in Char Fashion in the name of sending relief to Sylhet

সিলেটে ত্রাণ পাঠানোর নামে চরফ্যাশনে ‘যুবদলের’ চাঁদাবাজি

সিলেটে ত্রাণ পাঠানোর নামে চরফ্যাশনে ‘যুবদলের’ চাঁদাবাজি
রসুলপুর ইউনিয়নের একাধিক যুবদল কর্মী জানান, সিলেটে ত্রাণ বিতরণের কথা বলে চরফ্যাশন উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাসেল ফরাজী তাদেরকে চাঁদা কালেকশন করতে বলেন। তিনি চরফ্যাশন উপজেলা যুবদলের আরেক নেতার দোহাই দিয়ে এই চাঁদা তোলার নির্দেশ দেন।

সিলেটে বন্যার্তদের ত্রাণ পাঠানোর নামে ভোলার চরফ্যাশনে যুবদলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।

চরফ্যাশন উপজেলা যুবদলের নামে বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক চাঁদাবাজি চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একাধিক দলীয় কর্মী জানান, উপজেলা যুবদলের এক নেতা তাদেরকে ফোন করে সিলেটে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের জন্য বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকজনের কাছ থেকে চাঁদা তুলতে বলেছেন।

রসুলপুর ইউনিয়নের একাধিক যুবদল কর্মী জানান, সিলেটে ত্রাণ বিতরণের কথা বলে চরফ্যাশন উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাসেল ফরাজী তাদেরকে চাঁদা কালেকশন করতে বলেন। তিনি চরফ্যাশন উপজেলা যুবদলের আরেক নেতার দোহাই দিয়ে এই চাঁদা তোলার নির্দেশ দেন।

চরফ্যাশনের রসুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সালাউদ্দিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. ঈমাম হোসেন রিপন এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে নিউজবাংলাকে জানান।

চরফ্যাশন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক প্রার্থী শহিদুল ইসলাম প্রিন্স মহাজন জানান, দলীয়ভাবে যুবদলের পক্ষ থেকে চাঁদা কালেকশনের নির্দেশনা নেই।

তিনি চরফ্যাশন উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে যুবদল নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্খিদের প্রতারক চক্র থেকে সাবধান থাকতে বলেছেন। কেউ যদি দলের নামে চাঁদাবাজি করে, তাদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ দিতে বলেছেন তিনি।

ভোলা জেলা যুবদলের সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন বলেন, দলীয়ভাবে চাঁদা তোলার কোন নির্দেশনা নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে করলে সেটা তার ব্যাপার। সিলেটে ত্রাণ বিতরণে কেন্দ্রীয় যুবদলকে অনেক আগেই ভোলা জেলা যুবদল সহযোগিতা করেছে।

ভোলা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন আর রসিদ ট্রুম্যান বলেন, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে উপজেলা ও পৌরসভা শাখার সভাপতি ও সম্পাদকদের কাছে বন্যা দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তবে কোন অঙ্গ-সংগঠনের কাছে নয়।

অভিযুক্ত রাসেল ফরাজী চাঁদা তোলার কথা অস্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন:
১৯ বছর পর কমিটি পেল জেলা যুবদল
যুবদলের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
যুবদলের বিক্ষোভে আসার পথে ‘আটক’ ১
বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর: যুবদলের ছয় নেতা বহিষ্কার
সাগরপাড়ে যুবদল নেতার বস্তাবন্দি মরদেহ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Leaders allegations against JOB BCL president and secretary

জবি ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে নেতাদের এন্তার অভিযোগ

জবি ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে নেতাদের এন্তার অভিযোগ সোমবার জবি প্রেসক্লাবে গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে নানা অভিযোগ তোলেন শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের একাংশ। ছবি: নিউজবাংলা
জাবি ছাত্রলীগ নেতৃত্বের একংশের অভিযোগ, শাখা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একক কর্তৃত্ব ধরে রাখতে অন্যদের সামনে আসতে দেন না। ক্যাম্পাসে অন্য নেতাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, যেকোনো প্রোগ্রামে মঞ্চে উঠতে বাধা দেয়া, এমনকি এক নেতাকে প্রকাশ্যে জুতাপেটাও করেছেন তারা।

সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় দাঁড় করিয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের অন্য নেতারা।

টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মারধর, নারী হেনস্থা, নেতাকর্মীদের অপদস্ত করা এমনকি একই শাখার অন্য এক নেতাকে প্রকাশ্যে জুতাপেটার অভিযোগও উঠেছে।

জবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কামরুল হুসাইন ও পরাগ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফৌজিয়া জাফরিন প্রিয়ন্তী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুল হাসান হৃদয় নিউজবাংলার কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

এছাড়াও সোমবার বিকেলে জবি প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে এসব অভিযোগ তোলেন শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের একাংশ।

অভিযোগ তুলে তারা বলেন, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একক কর্তৃত্ব ধরে রাখতে অন্য নেতাকর্মীদের সামনে আসার সুযোগ দেন না। ক্যাম্পাসে অন্য নেতাদের টানানো পোস্টার রাতের আঁধারে ছিঁড়ে ফেলা, যেকোনো প্রোগ্রামে মঞ্চে উঠতে বাধা দেয়া, কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রটোকল দিতে না দেয়া, এমনকি এক নেতাকে প্রকাশ্যে জুতাপেটাও করেছেন তারা।

এছাড়াও সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজির ছাত্রদল-সংশ্লিষ্টতা ও সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেনের বাবা যুবদলের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কামরুল হুসাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের পকেট ভারী করতে ছাত্রলীগের নাম করে ক্যাম্পাসে টেন্ডারবাজি করেছেন। নতুন ক্যাম্পাসের প্রকল্প কাজ যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা মীর কাশেমের কোম্পানিকে পাইয়ে দিয়ে সেখান থেকে কমিশন খেয়েছেন।

‘জবি ছাত্রলীগ সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি মেয়ে নিয়ে রিসোর্টে যান বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। যেখানে রাত ৯টায় হলের গেট বন্ধ হয়ে যায় সেখানে কী করে মধ্যরাতে তারা হলে প্রবেশ করেন?’ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।

আরেক সহ-সভাপতি পরাগ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নেতার সঙ্গে আমার ঝামেলা হয়। সেখানে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। আমি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা না নিয়ে জবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের নিষেধ আছে বলে জানায়৷ সভাপতিকে তা জানালে সেই ছেলে আকতারের রাজনীতি করে বলে ঘটনা এড়িয়ে যান।’

সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ‘কুপ্রস্তার’-এর অভিযোগ আনা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফৌজিয়া জাফরিন প্রিয়ন্তী বলেন, ‘ছাত্রী হলে সিট পেতে ছাত্রলীগ থেকে ৩০০ জনের নাম দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সদ্য যুক্ত হওয়া ৬/৭জনও আছে। অথচ ক্যাম্পাসে ৭ বছর রাজনীতি করলেও আমার নাম দেয়া হয়নি।

‘আমাকে যেমন কুপ্রস্তাব দিয়েছে, মনোবাসনা পূরণ করার কথা বলা হয়েছে, তাদেরও যে তেমনটা বলা হয়নি তার কী প্রমাণ আছে!’

প্রিয়ন্তী আরও বলেন, ‘মাদারীপুরে বাড়ি হওয়ায় আকতার ভাই ও আমি একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। কিন্তু নেতা হওয়ার পর তার আসল রূপ দেখতে পেয়েছি। এরপর থেকে ক্যাম্পাসে রাজনীতি করা আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

‘ক্যাম্পাসে তার প্যানেলে থাকতে পারব না বলে সভাপতির কাছে যাই। সেখানেও আমাকে রাজনীতি করতে দেয়া হয়নি। আমি এর সঠিক বিচার চাই। ক্যাম্পাসে মেয়েদের রাজনীতি করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই।’

জবি ছাত্রলীগের ১ নম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত সাঈদ অভিযোগ করে বলেন, ‘পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়ে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আমার পরিচয়ে চাঁদা দাবি করেছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। তাৎক্ষণিকভাবে জবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি জানালেও সাংগঠনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। কারণ তারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের একান্ত আস্থাভাজন।’

সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুল হাসান হৃদয় বলেন, ‘আমি ২০১৫ সাল থেকে ক্যাম্পাসে রাজনীতি করি। নিজের যোগ্যতায় সংগঠনে পদ পেয়েছি। ক্যাম্পাসের পাশে এক মার্কেটের মালিকের খোঁজখবর নেয়ায় বলা হয়েছে আমি নাকি চাঁদাবাজি করি। আমাকে সবার সামনে অপমান করা হয়েছে। বহিষ্কারের হুমকি দেয়া হয়েছে।

‘রোজার ঈদের আগে ভিসি ভবনের সামনে ইব্রাহিম ফরাজি পায়ের জুতা খুলে আমার দুই গালে বাড়ি দিয়েছে। দুইটা থাপ্পড় মেরেছে আর যেসব অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি বলেছিলাম অপরাধ করে থাকলে আমার বিচার হবে। কিছু না করেও কেন আমাকে অপমানিত হতে হলো? আমি এর বিচার চাই।’

জবি ছাত্রলীগ নেতৃত্বের একাংশ আরও অভিযোগ তুলেছে, শাখা ছাত্রলীগের ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির গুটি কয়েক সদস্য ছাড়া সবাই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হেনস্থার শিকার হয়েছেন।

গণমাধ্যমের সামনে এসব অভিযোগ তুলে ধরার সময় ১০-১২ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে সহ-সভাপতি প্রিতিশ দত্ত রাজ, মিঠুন বাড়ৈ, মাসুম পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল ও আবু রায়হান অভিযোগের বিষয়ে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছেন।

এছাড়াও নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হলেও চাঁদাবাজি থেমে থাকেনি।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, ছাত্রলীগ সভাপতির অনুসারী রবি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী মাসুদ েই চাঁদাবাজির টাকা তোলায় সরাসরি জড়িত। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের অংশে কথিত টিএসসির প্রতিটি দোকান থেকে ২০০ টাকা, ভ্যানের ওপর ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো থেকে ৫০০-৬০০ টাকা চাঁদা নেয়া হয়। চাঁদাবাজি থেকে বাদ যাচ্ছে না ফুটপাতের মুচির দোকানও।

ঈদুল ফিতরের আগে এপেক্স কোম্পানির সদরঘাটের নতুন শাখা থেকে চাঁদা আদায় করেন ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মেহেদী বাবু। আউটলেটটির ম্যানেজার ও এক কর্মচারী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নেতাদের আনা এসব অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে জবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। এসএমএস পাঠালেও কোনো উত্তর মেলেনি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Why the miserable situation in load shedding Rizvi

লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতি কেন: রিজভী

লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতি কেন: রিজভী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
‘বিদ্যুতের সীমাহীন ব্যর্থতার মূল কারণ ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর আত্মীয়স্বজনের বেপরোয়া লুণ্ঠন। এরা স্বদেশ ও সমাজকে এড়িয়ে আত্মীয় তোষণ করতে গিয়েই বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দিয়ে জনগণকে শোষণ করার পথ উন্মুক্ত করেছে।’

বিদ্যুৎ খাতে গত এক যুগে উন্নয়ন হলে হঠাৎ লোডশেডিং কেন- এই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপি নেতার অভিযোগ, ‘বিদ্যুৎ নিয়ে নানা রংচংয়ের কথা বলা হয়েছে। জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে ১৫২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার বেশির ভাগই এখন অচল। ফলে লোডশেডিংয়ের ভয়াবহ ছোবলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ রাজধানীও বিপন্ন হয়ে পড়েছে।’

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন ‘উন্নয়নের এত যে ঢাকঢোল বাজানো হলো, তাহলে সারা দেশে লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতি কেন?’

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি শাসনামলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ছিল নাজুক। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও তার জোটের বড় পরাজয়ের পেছনে যেসব কারণ কাজ করেছে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল বিদ্যুৎ খাত নিয়ে ব্যর্থতা।

এই পাঁচ বছরে বিএনপি সরকার একটিও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে পারেনি, উল্টো এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন কার্যাদেশ বাতিল করেছে। বিদ্যুতের দাবিতে এখানে সেখানে বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছে সেই সরকার। এমনকি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিও হয়েছে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি নানা পদক্ষেপ নেয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এই সময়ে কয়েক গুণ বেড়েছে এবং এটাকে সরকার সাফল্য হিসেবে প্রচার করে আসছে।

তবে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির কারণে লোডশেডিং বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ গত কয়েক বছরে লোডশেডিং শব্দটা ব্যবহার করত না। তারাই এখন লোডশেডিংয়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আর না কেনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এ জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হবে জানিয়ে তিনি দুঃখও প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ পরিস্থিতির এই কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ আমরা সবার ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সবাই পাচ্ছিল। কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে উপকরণগুলো সেগুলোর দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। যেমন ডিজেলের দাম বেড়েছে, তেলের দাম বেড়েছে, এলএনজির দামসহ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। কয়লা এখন প্রায় পাওয়াই যায় না।’

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়ে। বিএনপি এখনও তার সমালোচনা করে যাচ্ছে।

রিজভী বলেন, ‘বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কুইক রেন্টাল স্থাপন করতে ভর্তুকি দিতে হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এই টাকা কীভাবে খরচ হচ্ছে, সেটি নিয়ে কেউ যাতে প্রশ্ন তুলতে না পারে সে জন্য দায়মুক্তি আইন করা হয়েছে।

‘বিদ্যুতের সীমাহীন ব্যর্থতার মূল কারণ ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর আত্মীয়স্বজনের বেপরোয়া লুণ্ঠন। এরা স্বদেশ ও সমাজকে এড়িয়ে আত্মীয় তোষণ করতে গিয়েই বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দিয়ে জনগণকে শোষণ করার পথ উন্মুক্ত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার উন্নয়নের হাতির ভেতরে দাঁত যে নেই, সেটি এখন স্পষ্ট। তার উন্নয়ন যে একটা ভোজবাজি, তা এখন দৃশ্যমান। ফাঁপা উন্নয়নের তাস দিয়ে যে মানুষের মন জেতা যাবে না, সেটি তিনি বোঝার চেষ্টা করেননি। বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন এমনই যে, যে জনপদের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়া হয় সেটিকেই মনে হয় অন্ধকার গোরস্থান।’

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন আলিফ-লায়লার কাহিনিকে হার মানাবে

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের সঙ্গে আরবের রূপকথার তুলনাও করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘পদ্মা সেতু উদ্বোধন নিয়ে যে কাণ্ড করা হলো তা আরব্য রজনীর আলিফ-লায়লার কাহিনিকেও হার মানাবে।

‘অধিকাংশ প্রিন্ট মিডিয়ার প্রথম পাতাজুড়ে শেখ হাসিনার গুণকীর্তনের কাহিনি ছাপা হয়েছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় হরদম প্রচার করা হয়েছে শেখ হাসিনার উচ্ছ্বাস।’

রিজভী বলেন, ‘পদ্মা সেতুর জাঁকজমক উদ্বোধনে শুধুমাত্র টয়লেট নির্মাণ করতেই শত শত কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমের খবর— প্রবল বন্যায় বানভাসি মানুষের জন্য জনপ্রতি মাত্র ১৮ টাকা ও দেড় কেজি চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এ যেন কর্মহীন অর্ধাহার-অনাহারক্লিষ্ট মানুষের প্রতি নির্মম পরিহাস।

‘এই পরিস্থিতি সরকারের অসৎ অনাচারের একটি সুনিশ্চিত ভঙ্গি। সরকারের এমন আচরণ দুঃস্বপ্নের অতীত এক অভিঘাত। সরকারের কারণেই এই বন্যা মানবতার অস্তিত্বকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।’

সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের সর্বস্ব নিয়ে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি করেন বিএনপি নেতা।

আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষা আর যাওয়ার আতঙ্ক রাজশাহীতে
চাহিদার অর্ধেক সরবরাহে বারবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে বগুড়ায়
আঘাত এলে পাল্টা আঘাত: মির্জা আব্বাস
বন্যার্তরা সরকারি ত্রাণ পাচ্ছে না: বিএনপি
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The effects of the Russia Ukraine war are felt in the country Quader

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব দেশে পড়তে পাড়ে: কাদের

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব দেশে পড়তে পাড়ে: কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
‘যারা ঘরে বসে লিপ সার্ভিস দেয় তাদের ত্রাণ কার্যক্রম হলো এক ধরনের ত্রাণ বিলাস। বিএনপির মধ্যে কোনো ভদ্রতা নেই। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও যে অসভ্য ভাষায় কথা বলে তা কাম্য নয়।’

সারা বিশ্বে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে পাড়ে।’

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে মঙ্গলবার বন্যা কবলিত ১০ জেলার অসহায় মানুষের হাতে শেখ হাসিনার পক্ষে থেকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও উপকমিটি।

যেকোনো বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের ইতিহাস বলে মন্তব্য করেছেন সেতুমন্ত্রী। বলেন, ‘দেশের যেকোনো দুর্যোগে সবার আগে মানুষ পাশে দাঁড়াতে ছুটে যায় আওয়ামী লীগ।’

বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা ঘরে বসে লিপ সার্ভিস দেয় তাদের ত্রাণ কার্যক্রম হলো এক ধরনের ত্রাণ বিলাস। বিএনপির মধ্যে কোনো ভদ্রতা নেই। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও যে অসভ্য ভাষায় কথা বলে তা কাম্য নয়।

‘বিএনপির ভাষা হলো রাস্তার ভাষা। তারা রাস্তার ভাষায় কথা বলে আর রাজনীতির ভাষায় কথা বলে আওয়ামী লীগ।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। ওই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

আরও পড়ুন:
‘বিএনপির আন্দোলনের কথা শুনলে জনগণ রসিকতা করে’
ফখরুলের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ কাদেরের
চলে গেলেন আওয়ামী লীগ নেতা মুকুল বোস
পদ্মা সেতু নিয়ে দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ
বিএনপির নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ কল্পিত: কাদের

মন্তব্য

p
উপরে