× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
The youth alliance wants justice for Salams murder
hear-news
player
print-icon

সালাম হত্যার বিচার চায় যুবজোট

সালাম-হত্যার-বিচার-চায়-যুবজোট
কুষ্টিয়ার পৌর বিজয় উল্লাস চত্বরে জেলা যুবজোট আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা বাজারে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতপুর উপজেলা যুবজোটের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবকে কুপিয়ে জখম করা হয়। রাত ১টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সহযোগী সংগঠন যুবজোট নেতা মাহাবুব খান সালাম হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

কুষ্টিয়া পৌর বিজয় উল্লাস চত্বরে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা যুবজোট আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি জানান তারা। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন নেতা-কর্মীরা।

কুষ্টিয়া জেলা যুবজোট সভাপতি মাহবুব হাসানের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন, কুষ্টিয়া জেলা জাসদ সভাপতি গোলাম মহসিনসহ অন্যান্যরা।

জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন বলেন, ‘যুবজোট নেতা সালামকে যারা হত্যা করেছে তারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সবাই তাদের চেনে। পুলিশও তাদের চেনে। তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেন। সালাম ছিল সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ নেতা। সব সময় অপরাধের প্রতিবাদ করায় তাকে ভয় পেয়ে প্রতিপক্ষ মনে করে হত্যা করেছে।’

আব্দুল আলীম স্বপন হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘একটি হত্যার সঠিক বিচার না পেলে ১০টি হত্যার জন্ম দেয়। আইনের প্রতি জাসদের নেতা-কর্মীদের শ্রদ্ধা রয়েছে। আসামিদের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে রক্ষার চেষ্টা করলে জাসদ তা মেনে নেবে না। যুবজোট নেতা সালাম হত্যার মধ্যে দিয়ে প্রমাণ করে গেছে জাসদ কোনও কাপুরুষের দল নয়।

এসময় বিচার না পেলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

উপজেলার আল্লারদর্গা বাজারে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতপুর উপজেলা যুবজোটের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবকে কুপিয়ে জখম করা হয়। রাত ১টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আলাউদ্দিন খান ওরফে এনামুল হক শুক্রবার মামলা করেন। ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের ২২ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮ থেকে ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার পর শুক্রবার অভিযান চালিয়ে উপজেলার আল্লারদর্গা ও সোনাইকুন্ডি থেকে সোহান, নজিবুল ও মেহেদী নামে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৌলতপুর থানা পুলিশ।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সাবেক এমপি রেজাউল হক চৌধুরীর ছোট ভাই দৌলতপুর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও হোগলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী, দৌলতপুর যুবলীগের সভাপতি বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আসাদুজ্জামান লোটন চৌধুরীসহ একই পরিবারের ৬ জন।

আরও পড়ুন:
বাইকে ধাক্কা নিয়ে বিরোধে কুপিয়ে খুন
বাড়ির সামনে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
প্রতিপক্ষের কোপে আহত যুবলীগকর্মীর মৃত্যু
খেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব, কুপিয়ে কৃষক হত্যা
প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে আটক ১

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Teacher beaten to death The principal of that college is shocked

শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: সেই কলেজের অধ্যক্ষকে শোকজ

শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা: সেই কলেজের অধ্যক্ষকে শোকজ
‘স্কুল শাখাটা বোর্ডের অনুমোদন না নিয়ে চালানো এটার বিষয়ে কীভাবে চালাচ্ছি সেটা জানতে চেয়েছেন। সাত কর্মদিবেসর মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। এর আগে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড থেকে একটা তদন্ত টিম এসেছিলেন। তারাই প্রতিবেদন দিয়েছিলেন এই বিষয়ে।’

ঢাকার সাভারে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হত্যার ঘটনায় তোলপাড়, সেটির অধ্যক্ষ সাইফুল হাসানকে শোকজ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। অনুমতি ছাড়া নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান করায় সাত কর্মদিবসের মধ্য সুষ্পষ্ট ব্যাখা চাওয়া হয়েছে।

বুধবার ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক আবু তালেব মো. মোয়াজ্জেম হোসেন নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত ৩০ জুন আশুলিয়ার হাজী ইউনুছ আলী কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান বরাবর কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসেছি। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে আমাকে কারণ দর্শানোর একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কলেজের এক শিক্ষক মোবাইলে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।’

কী বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্কুল শাখাটা বোর্ডের অনুমোদন না নিয়ে চালানো এটার বিষয়ে কীভাবে চালাচ্ছি সেটা জানতে চেয়েছেন। সাত কর্মদিবেসর মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। এর আগে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড থেকে একটা তদন্ত টিম এসেছিলেন। তারাই প্রতিবেদন দিয়েছিলেন এই বিষয়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসলে উৎপল স্যারকে হত্যার বিচার অন্য খাতে প্রবাহিত করার জন্য একটা বড় চক্রান্ত শুরু হয়েছে। সব স্কুলগুলো স্কুল উপজেলার অনুমতি নিয়ে এভাবেই চলে। দেখেন, আমরা এতদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছি, উপবৃত্তি পাচ্ছি। তাহলে এতদিন তো শিক্ষা বোর্ড আমাদের বলে নাই যে আপনারা বন্ধ করেন।’

মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘হাজী ইউনুছ আলী কলেজের অধ্যক্ষকে আমরা শোকজ করেছি। ওনার নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি কোথা থেকে কীভাবে পেয়েছেন এই বিষয়টার ব্যাখ্যা চেয়েছি আমরা।’

গত ২৫ জুন কলেজ প্রাঙ্গণে মেয়েদের ক্রিকেট খেলার সময় কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম জিতুর বিরুদ্ধে।

পরদিন সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় উৎপলের। একই দিন নিহতের বড় ভাই অসীম কুমার সরকার আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার চার দিন পর ২৯ জুন জিতুর বাবা উজ্জ্বল হোসেনকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই দিন রাতে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার হয় জিতু।

৫ দিনের রিমান্ড শেষে ৬ জুলাই আদালতে শিক্ষক উৎপলকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন জিতু।

এ নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে অনুমোদন ছাড়াই প্রাক প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ক্লাস নেয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়।

আরও পড়ুন:
ছেলের প্রেমে মাকে পুড়িয়ে হত্যা, প্রধান আসামি দম্পতি গ্রেপ্তার
শিক্ষক হত্যা: জিতুর দায় স্বীকার
আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী নয়, তৈরি হচ্ছে সেমাই
গাজী আনিসের আত্মহত্যা পাওনা টাকা না পেয়ে: র‍্যাব
গায়ে আগুন দেয়া ব্যবসায়ী গাজী আনিসের দাফন

মন্তব্য

বাংলাদেশ
4 in jail with two brothers for killing a teenager

কিশোর হত্যায় দুই ভাইসহ কারাগারে ৪

কিশোর হত্যায় দুই ভাইসহ কারাগারে ৪
আদালত পরিদর্শক প্রসূন কান্তি দাস বলেন, ‘বিকেলে দুই ভাইসহ চার আসামিকে আদালতে তোলে সাত দিনের রিমান্ড চায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। বিচারক বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করে চারজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় আব্দুস সামাদ নামে এক কিশোরকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই ভাইসহ চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ময়মনসিংহ মুখ্য বিচারিক ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক একেএম রওশন জাহান বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আসামিদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।

আদালত পরিদর্শক প্রসূন কান্তি দাস নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বিকেলে দুই ভাইসহ চার আসামিকে আদালতে তোলে সাত দিনের রিমান্ড চায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিচারক বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করে চারজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার দাদরা এলাকার ১৯ বছরের রবিন মিয়া, তার বড় ভাই ২৪ বছরের রোহান মিয়া, ওই উপজেলার হাটপাড়া গ্রামের ১৯ বছরের মুস্তাফিজুর রহমান নাঈম ও পুঙ্গুয়াই গ্রামের ২২ বছরের শাহীনুর ইসলাম।

জেলার ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

এর আগে নিহত সামাদের বাবা শাহজাহান মিয়া সোমবার বিকেলে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

নিহত ১৪ বছরের সামাদ দাদরা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার রবিন মিয়া নিহত রিকশাচালক সামাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। এ সুবাদে প্রায়ই রবিনের বাড়িতে আসা-যাওয়া করত সামাদ। এক সময় রবিনের ছোট বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সামাদের। বিষয়টি জানতে পারে রবিন। পরে তার বোনের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেও ব্যর্থ হয়। পরে সামাদকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে রবিন ও তার ভাই রোহান।

‘পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে সামাদের অটোরিকশা নিয়ে বিভিন্ন জায়গা ঘোরাফেরা করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পঙ্গুয়াই উমেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে নিয়ে যায় রবিন, রোহান ও নাঈম। সেখানে ঝোপের আড়ালে আগেই ওৎ পেতে ছিল শাহীনসহ আরও দুজন। সামাদকে সেখানে নেয়ার পর প্লাস্টিকের দড়ি ও জাল গলায় প্যাঁচিয়ে হত্যা করে স্কুলের সেপটিক ট্যাংকে মরদেহ ফেলে রাখে তারা।’

ওসি আরও বলেন, ‘সামাদের মরদেহ পাওয়ার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযানে নামে জেলা ডিবি পুলিশের একাধিক টিম। জেলার ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের মামলার বরাতে বলেন, ‘সোমবার বিকেল ৩টার দিকে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে রিকশা নিয়ে বের হয় সামাদ। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও বাড়ি ফেরেনি। এ অবস্থায় পরিবারের লোকজন স্থানীয় বাজারসহ স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। পরে রাত ১০টার দিকে স্থানীয় পঙ্গুয়াই উমেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের সড়কে সামাদের রিকশাটি পাওয়া গেলেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

‘মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সামাদের স্বজনরা ওই স্কুলটিতে অনুসন্ধান চালালে সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা ভাঙা দেখতে পায়। ঢাকনা সরানোর পর ভেতরে পাওয়া যায় সামাদের মরদেহ।’

ওসি আরও বলেন, ‘থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।’

আরও পড়ুন:
গ্রেপ্তার বিএনপির ১২ নেতাকর্মী জেলে
বঙ্গোপসাগর থেকে গ্রেপ্তার ১৩৫ ভারতীয় কারাগারে
দুদকের মামলায় সাবেক ওসি কারাগারে
স্ত্রী হত্যা মামলায় কারাগারে এসআই
স্কুলছাত্রীকে ‘ধর্ষণ’, যুবক কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The main accused couple arrested for burning mother to death in love with son

ছেলের প্রেমে মাকে পুড়িয়ে হত্যা, প্রধান আসামি দম্পতি গ্রেপ্তার

ছেলের প্রেমে মাকে পুড়িয়ে হত্যা, প্রধান আসামি দম্পতি গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে প্রধান অভিযুক্ত কাজল ও তার স্ত্রী কনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
গত ২৬ জুন পালিয়ে যান সিরাজুল ও খুকি। এতে ক্ষিপ্ত হয় খুকির পরিবার। মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তারা ছেলের বাড়িতে এসে ছেলের মা লাইলীকে একা পেয়ে প্রথমে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে হাত-পা বেঁধে লাইলীর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তারা।

ময়মনসিংহ সদরে লাইলী আক্তার নামে এক নারীকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন মামলার ১ নম্বর আসামি খোকন মিয়া ওরফে কাজল ও তার স্ত্রী ২ নম্বর আসামি নাসিমা আক্তার কনা।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।

তিনি বলেন, ‘আগুনে পুড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় লাইলী আক্তারকে। ঘটনাটি পিবিআইয়ের অ্যাডিশনাল আইজিপি জানতে পেরে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। পরে মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে আমাদের টিম। ইতোমধ্যে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সহযোগী ৪ ও ৭ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও মামলার ১ নম্বর আসামি কাজল ও তার স্ত্রী ২ নম্বর আসামি নাসিমা আক্তার কনা সুচতুরভাবে আত্মগোপনে ছিলেন।’

গৌতম কুমার জানান, ছায়া তদন্তের একপর্যায়ে পিবিআই ময়মনসিংহের টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও পিবিআই হেডকোয়ার্টারের এলআইসি টিমের সহযোগিতায় মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। দুজনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে গত ২৮ জুন রাতে নিহতের স্বামী আব্দুর রশিদ আটজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। ওইদিন রাতেই ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মো. জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী আছমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা সদর উপজেলার চরঈশ্বরদিয়া গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন খোকন মিয়া ওরফে কাজল, তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার কনা, গোলাম মোস্তফার ছেলে কামাল মিয়া, বাবুল, কামাল মিয়ার স্ত্রী নাসিমা আক্তার বৃষ্টি, বাবুলের স্ত্রী রোমান।

মামলার বরাতে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন জানান, সদর উপজেলার চরঈশ্বরদিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিবেশী খুকি আক্তারের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু দুই পরিবার সেই সম্পর্ক মেনে নিচ্ছিল না।

গত ২৬ জুন পালিয়ে যান সিরাজুল ও খুকি। এতে ক্ষিপ্ত হয় খুকির পরিবারের লোকজন। মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তারা ছেলের বাড়িতে এসে ছেলের মা লাইলীকে একা পেয়ে প্রথমে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হাত-পা তার দিয়ে বেঁধে লাইলীর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তারা।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা লাইলীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গত ২৮ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে লাইলীর মৃত্যু হয়।

ফারুক হোসেন বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে এখনও আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। আজ হস্তান্তর করা হলে আজই অথবা আগামীকাল ময়মনসিংহ মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠানো হবে।’

এ ছাড়া মামলার বাকি আসামিরা বিভিন্ন জায়গায় পালিয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে বলেও জানান পুলিশ পরিদর্শক।

আরও পড়ুন:
ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: স্ত্রীসহ ‘হেনোলাক্স মালিক’ আমিন গ্রেপ্তার
ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: ২০০৪ সাল থেকেই বন্ধ আমিনের ‘হেনোলাক্স’
কিশোর হত্যা মামলায় যুবক কারাগারে
গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা: হেনোলাক্স মালিকের বিরুদ্ধে মামলা
শিশু হত্যার অভিযোগে মা আটক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
After the mother and sister the child also went to the hospital

মা-বোনের পর চলে গেল শিশুটিও, হাসপাতালে বাবা

মা-বোনের পর চলে গেল শিশুটিও, হাসপাতালে বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু সাইফুল। ছবি: নিউজবাংলা
হোসাইনের ভাই মোহাম্মদ হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুপুরে যখন আমরা ভাবি ও ভাতিজির মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলছিলাম। সে সময় শিশুটি মারা যায়। ভাই এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

দিনাজপুরে তেলবাহী লরির ধাক্কায় মা ও বোনের মৃত্যুর পর ১৮ মাসের শিশুটিও মারা গেছে।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান আসাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে বুধবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে লরির ধাক্কায় মারা যান শিশু সাইফুলের মা ৩০ বছর বয়সী ফাইমা বেগম ও বোন ১৩ বছরের বিউটি।

গুরুতর আহত হন বাবা ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ হোসাইন ও ১৮ মাস বয়সী শিশু সাইফুল ইসলাম নাসরুল্লাহ।

আহত মোহাম্মদ হোসাইন জেলার বিরল উপজেলার তেঘরা দারুল হাদীস সালাফিয়্যাহ মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার পাঁচটিকরি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। পরিবার নিয়ে তেঘরা গ্রামে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন তিনি।

হোসাইনের ভাই মোহাম্মদ হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুপুরে যখন আমরা ভাবি ও ভাতিজির মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলছিলাম, সে সময় শিশু সাইফুল মারা যায়। ভাই এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’

পরিদর্শক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘ঈদের ছুটি পাওয়ায় ভোরে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে একটি মোটরসাইকেলে গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে পেছন থেকে তেলবাহী একটি লরি মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।

‘এতে রাস্তায় পড়ে মা ও মেয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় মোহাম্মদ হোসাইন ও শিশু ছেলে সাইফুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুর মৃত্যু হয়।’

এই ঘটনায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুর কাছে গাড়ির ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত
ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল চালকের
বাস-ট্রাক সংঘর্ষে চালক নিহত
পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় চিকিৎসাধীন নারীর মৃত্যু
কাভার্ড ভ্যানের চাপায় সমবায় কর্মকর্তা নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The driver was arrested in the incident in which 5 people including a teacher were killed

ট্রাকচাপায় শিক্ষকসহ ৫ জন নিহতের ঘটনায় চালক গ্রেপ্তার

ট্রাকচাপায় শিক্ষকসহ ৫ জন নিহতের ঘটনায় চালক গ্রেপ্তার গ্রেপ্তার ট্রাকচালক রেজাউল করিম। ছবি: নিউজবাংলা
র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরীয়ার বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে তার বাড়ির পাশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানোর কথা শিকার করেছেন।’

নওগাঁর সদরে ট্রাকের চাপায় চার শিক্ষকসহ সিএনজিচালিত অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

চালক রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি বুধবার দুপুরে নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন র‌্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরীয়ার।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে মান্দা উপজেলার সাবাইহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কর্নেল রিয়াজ শাহরীয়ার বলেন, নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের বাবলাতলী মোড় এলাকার ওই দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষকদের পরিবারের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা মামলা করা হয়। সবগুলো মামলায় মূল আসামি করা হয় রেজাউলকে। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে তার বাড়ির পাশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল বেপরোয়া গতিতে ট্রাক চালানোর কথা শিকার করেছেন বলে দাবি এই র‌্যাব কর্মকর্তার।

গত ২৪ জুন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের বাবলাতলী এলাকায় যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে চাপা দেয় ট্রাকটি। এ ঘটনায় ঘটনায় ৪ শিক্ষকসহ ৫ জন নিহত হন।

নিহতরা হলেন, নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার নেহেন্দা গ্রামের ও পানিহারা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন, বিজলী গ্রামের বেলকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুকবুল হোসেন, ভাদুরন্দ গ্রামের গোলাম নবীর স্ত্রী গুটিসর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জান্নাতুন খাতুন।

এ ছাড়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দুলালপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে ও আমকুড়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক লেলিন সরদার এবং সদরডাঙ্গা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশার চালক সেলিম হোসেন সেদিন নিহত হয়।

এ ঘটনায় আহত হন নিয়ামতপুর উপজেলার কুড়িদহ গ্রামের আব্দুল গফুরের মেয়ে ও কুড়িদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নূরজাহান বেগম।

আরও পড়ুন:
ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Teacher Murder Acknowledgment of Victory

শিক্ষক হত্যা: জিতুর দায় স্বীকার

শিক্ষক হত্যা: জিতুর দায় স্বীকার শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যা মামলার প্রধান আসামি আশরাফুল ইসলাম জিতু। ছবি: সংগৃহীত
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বলেন, ‘বুধবার রিমান্ড শেষে আসামি জিতুকে আদালতে তোলা হয়। শিক্ষককে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় সে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।’

সাভারের আশুলিয়ায় শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যা মামলার প্রধান আসামি আশরাফুল ইসলাম জিতু হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক রাজিব হাসান আসামির জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বুধবার দুপুরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মতিয়ার রহমান মিঞা নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বলেন, ‘বুধবার রিমান্ড শেষে আসামি জিতুকে আদালতে তোলা হয়। শিক্ষককে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় সে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।’

শিক্ষক হত্যার ঘটনায় নিহতের বড় ভাই অসীম কুমার সরকার আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। এই মামলায় গেল বুধবার জিতুকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

যা ঘটেছিল

সাভারে হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা ছেলেদের ফুটবল ও মেয়েদের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছি। শনিবার (২৫ জুন) স্কুলে মেয়েদের ক্রিকেট খেলা চলছিল। এ সময় প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় তলা ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিল ছেলে শিক্ষার্থীরা।

‘অভিযুক্ত ছাত্রও দ্বিতীয় তলায় ছিল। হঠাৎ সে নেমে মাঠের এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষক উৎপলকে স্টাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় উৎপলকে উদ্ধার করে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই রোববার সকালে উৎপলের মৃত্যু হয়।’

অধ্যক্ষ জানান, উৎপলের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থানার এঙ্গেলদানি গ্রামে। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে হাজি ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

তিনি আরও জানান, দায়িত্বের অংশ হিসেবেই উৎপল শিক্ষার্থীদের আচরণগত সমস্যা নিয়ে কাউন্সেলিং করতেন এবং তাদের নানা অপরাধ বা নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিচার করতেন।

আরও পড়ুন:
ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: স্ত্রীসহ ‘হেনোলাক্স মালিক’ আমিন গ্রেপ্তার
শিক্ষককে জুতার মালা: কলেজে বিভেদ পেয়েছে মাউশি
ব্যবসায়ীর আত্মাহুতি: ২০০৪ সাল থেকেই বন্ধ আমিনের ‘হেনোলাক্স’
ঢাবি শিক্ষককে বাসা ছাড়তে হবে: হাইকোর্ট
কিশোর হত্যা মামলায় যুবক কারাগারে

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Semai is not making cosmetics in Amins Henolax factory

আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী নয়, তৈরি হচ্ছে সেমাই

আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী নয়, তৈরি হচ্ছে সেমাই কদমতলী এলাকায় নুরুল আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী উৎপাদন বহু বছর ধরে বন্ধ। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
নিউজবাংলা কদমতলী এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছে, সেখানে নুরুল আমিনের একটি কারখানা থাকলেও প্রসাধনসামগ্রীর উৎপাদন বহু বছর ধরে বন্ধ। কারখানাটি ভাড়া দেয়া হয়েছে একটি সেমাই উৎপাদক প্রতিষ্ঠানকে। প্রসাধনীর পরিবর্তে সেই কারখানায় উৎপাদন করা হচ্ছে সেমাই।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সোমবার নিজের শরীরে আগুন দিয়ে ব্যবসায়ী গাজী আনিসের আত্মাহুতির ঘটনায় সামনে এসেছে হেনোলাক্স কোম্পানির নাম।

মৃত্যুর আগে গাজী আনিস অভিযোগ করে গেছেন, হেনোলাক্স কোম্পানিতে তিনি ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। লভ্যাংশসহ সেই টাকা ৩ কোটির ওপরে পৌঁছালেও কোম্পানির মালিক নুরুল আমিন কোনো অর্থ ফেরত দেননি। এই নিয়ে মামলা করেও লাভ হয়নি।

এই হতাশা থেকেই সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিজের গায়ে আগুন দেন কুষ্টিয়ার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গাজী আনিস। রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নুরুল আমিনকে হেনোলাক্স কোম্পানির মালিক বলা হলেও নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেড় যুগ আগেই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি।

নুরুল আমিন বর্তমানে আমিন পোল্ট্রি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, আমিন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আমিন ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের পরিচয় দিচ্ছেন। এর আগে আমিন হারবাল কোম্পানি লিমিডেট প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করেছেন নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে।

আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী নয়, তৈরি হচ্ছে সেমাই
কথিত হেনোলাক্স গ্রুপের মালিক নুরুল আমিন

ফেসবুকে নিজেকে ডা. এন আমিন হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তিনি। নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ব্যাবসায়িক জীবন শুরু করার আগে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন নুরুল আমিন। ১৯৮৪ সালে হেনোলাক্স কোম্পানি শুরু করার পর তিনি আগের পেশা থেকে সরে এলেও নামের আগে ডা. ব্যবহার করছেন।

ফেসবুকে তিনি বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন, বাস্তবে সেগুলোর কার্যক্রম নেই। ঠিকানা হিসেবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পুরানা পল্টনের ‘হেনোলাক্স সেন্টার’-এর নাম ব্যবহার করা হয়েছে। আর আমিন হারবাল কোম্পানি লিমিডেটের ঠিকানা হিসেবে রাজধানীর কদমতলী এলাকার একটি ঠিকানা রয়েছে।

নিউজবাংলা কদমতলী এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছে, সেখানে নুরুল আমিনের একটি কারখানা থাকলেও প্রসাধনসামগ্রীর উৎপাদন বহু বছর ধরে বন্ধ। কারখানাটি ভাড়া দেয়া হয়েছে একটি সেমাই উৎপাদক প্রতিষ্ঠানকে। প্রসাধনীর পরিবর্তে সেই কারখানায় উৎপাদন করা হচ্ছে সেমাই।

কদমতলীতে নুরুল আমিনের আরেকটি ভবন রয়েছে। সেখানে ফ্ল্যাট তৈরি করে আবাসিক ভবন হিসেবে ভাড়া দেয়া হয়েছে। এই ভবনের নিচতলায় কিছু দোকানও রয়েছে। নিউজবাংলার অনুসন্ধানে বেশ কয়েক বছর ধরে নুরুল আমিনের কোনো প্রসাধনসামগ্রী উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি।

আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী নয়, তৈরি হচ্ছে সেমাই
কদমতলীতে হেনোলাক্স কারখানার প্রধান ফটক

কদমতলীর কারখানায় ভৌতিক পরিবেশ

রাজধানীর কদমতলী এলাকায় একসময়ের বিশাল কর্মযজ্ঞের কারণে এখনও এক নামে হেনোলাক্স কারখানাকে চেনেন স্থানীয়রা। লোকমুখে কদমতলীর একটি অংশ হেনোলাক্স নামেই পরিচিত।

কদমতলীর মোহম্মদবাগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কথিত হেনোলাক্স কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১০ কাঠা জায়গার ওপর মূল কারখানা, এর পাশের আরও ১০ কাঠা জমিতে একতলা ভবন রয়েছে।

৯৮৭ মোহম্মদবাগ, কদমতলী- এই ঠিকানার মূল কারখানা ভবনটি তিনতলা। আলো নেভানো এবং ভেতর থেকে বন্ধ কারখানাটিতে ভূতুড়ে পরিবেশ দেখা গেছে। ভেতরে ছিলেন একজন নিরাপত্তাকর্মী। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গেট খোলার অনুরোধ করলেও তিনি ঢুকতে দেননি।

ওই নিরাপত্তাকর্মী নিজের নাম প্রকাশ না করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কারখানার ভেতরে কেউ নেই। এটি এখন বন্ধ।’

কারখানা কবে বন্ধ হয়েছে এবং সেখানে কী উৎপাদন হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে সেমাই তৈরি করা হয়, তবে দুই-তিন দিন ধরে কারখানা বন্ধ।’

পাশের দোকানি আফজাল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকেই এই কারখানা দেখে আসছি। আগে এটা কদমতলীর মেরাজবাগে ছিল, পরে মোহম্মদবাগে আনছে। একসময় তো এই কারখানায় দিন-রাত কাজ চলত। ক্রিম-তেল এগুলা বানাইত। সারা এলাকায় কত সুন্দর ঘ্রাণ পাওয়া যাইত।

‘কারখানার শ্রমিকও ছিল অনেক। কিন্তু ২০০৫ সালের পর থেকে আস্তে আস্তে কারখানার শ্রমিক আর কাজকর্ম কমতে থাকে। এখন তো দেখি এইখানে সেমাই বানায়া ভ্যানে কইরা নিয়া যায়।’

আফজাল হোসেনের সঙ্গে কথা শেষে আবারও কারখানার মূল ফটকের সামনে গিয়ে মিন্টু নামের এক কাভার্ড ভ্যানচালকের দেখা পাওয়া যায়। তিনি হেনোলাক্স গ্রুপের একমাত্র কাভার্ড ভ্যানের চালক।

কারখানা সম্পর্কে জানতে চাইলে মিন্টু বলেন, ‘ব্যবসায় লসের কারণে নুরুল আমিন সাহেব এই কারখানার এক অংশ এখন সেমাই কারখানাকে ভাড়া দিয়েছেন। অন্য অংশে অনেক বছর ধরে হেনোলাক্সের মেশিন ও যন্ত্রপাতি অকেজো পড়ে আছে।’

মিন্টু বলেন, ‘আরও ১০ থেকে ১২ বছর আগেও কসমেটিকসের নিয়মিত প্রোডাকশন হতো এখানে। কিন্তু লসের পর একে একে হেনোলাক্স, আমিন ফুড ও আমিন হারবালের সব প্রোডাকশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর অনেক দিন বন্ধই পড়েছিল কারখানাটি। গত দুই বছর ধরে একটি সেমাই প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেয়া হয়েছে।

‘তবে ব্যবসা মন্দার কারণে গত কয়েক দিন ধরে এখানে সেমাই উৎপাদনও বন্ধ। সেমাই কারখানার মালিক-শ্রমিক কেউ দুই দিন ধরে এখানে আসছেন না।’

নুরুল আমিনের সম্প্রতি হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে বলে জানান মিন্টু।

তিনি বলেন, ‘এ জন্য স্যার বেশ কিছুদিন ধরে এখানে আসেন না। কারখানা বন্ধ থাকলেও স্যার আগে কয়েক দিন পরপরই আসতেন। এখন মাঝেমধ্যে ম্যাডাম (নুরুল আমিনের স্ত্রী ফাতেমা আমিন) আসেন, গাড়ি নিয়ে আসেন একটু ঘুরে দেখে আবার চলে যান।’

গাজী আনিসের আত্মাহুতির ঘটনায় করা মামলায় নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিনকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী নয়, তৈরি হচ্ছে সেমাই
কদমতলীর মেরাজনগরে হেনোলাক্স ভবন

কদমতলীর হেনোলাক্স ভবন দেয়া হয়েছে ভাড়া

ফেসবুকে আমিন হারবাল কোম্পানি লিমিডেটের ঠিকানা হিসেবে কদমতলীর মেরাজনগরের একটি ঠিকানা দেয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সেটি ‘হেনোলাক্স বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত।

মোহম্মদবাগের কারখানা থেকে অটোরিকশায় মেরাজনগর বাজারে পৌঁছান নিউজবাংলার প্রতিবেদক। এই এলাকার অন্য নাম ‘হেনোলাক্স মোড়’। স্থানীয়রা জানান, বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ‘হেনোলাক্স ভবন-১’ নামের ভবনটির কারণেই লোকমুখে এলাকাটির এমন নামকরণ।

এই ভবনের ঠিকানা: ১০৭৬, মেরাজনগর, কদমতলী। এলাকাবাসী জানান, এই ভবনেই হেনোলাক্সের প্রথম কারখানা ছিল, পরে সেটি মোহম্মদবাগে স্থানান্তর করা হয়। এখানকার কারখানা থেকেই নুরুল আমিনের উত্থান।

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৯৮০ সালের পরে নুরুল আমিন সাহেব এই জায়গা কিনে কারখানা বানান। তখন উনি সারা দিন এখানে থাকত। অনেক শ্রমিক ছিল। হেনোলাক্স দিয়ে উনি খুব অল্প সময়ে নাম করে ফেলেন।

‘তখন তো এই এলাকায় বাড়িঘর তেমন হয়নি। আশপাশে ডোবা আর জঙ্গল ছিল। এখানে মানুষ খুব একটা যাতায়াত করত না। আমিন সাহেব এই কারখানা করার পর এখানে সারা দিন শ্রমিকের আনাগোনা থাকত। ওদের দেখাদেখি সাধারণ মানুষও এখানে যাতায়াত শুরু করে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ শুরু থেকে হেনোলাক্সের কারখানা দিয়েই এই এলাকাকে চেনে। এরপর আমিন সাহেব এই এলাকায় প্রচুর জায়গা-সম্পত্তি কিনেছিলেন। এখন শুধু এই বাড়ি আর মোহম্মদবাগের কারখানাটার কথাই জানি। বাকি সম্পদ আছে কি না আমার জানা নাই।’

দেখা গেছে, পাঁচ কাঠা জমির ওপর নির্মিত হয়েছে চারতলা ‘হেনোলাক্স ভবন-১’। এর নিচতলায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও ওপরের তিনতলা আবাসিক ফ্ল্যাট আকারে ভাড়া দেয়া হয়েছে। নিচতলায় একপাশে বাজার, অন্যপাশে সেলুন, মুদি দোকান রয়েছে। আর ওপরের তিনতলায় দুটি করে মোট ছয়টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

প্রতিটি ফ্ল্যাট মাসিক ১৫ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়েছেন নুরুল আমিন। আর নিচের বাজার ও দোকান থেকে মাসে প্রায় ১ লাখ টাকা ভাড়া আদায় হয়।

একটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া আঞ্জুমান আরা নিউজবাংলাকে জানান, তারা প্রায় পাঁচ বছর ধরে এখানে ভাড়া থাকেন। তিনি বাড়ির মালিক হিসেবে নুরুল আমিন ও তার স্ত্রীর নাম জানেন, তবে কখনও দেখেননি। একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রতি মাসে ভাড়া তুলে নিয়ে যান এবং বাড়ির দেখাশোনা করেন।

আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী নয়, তৈরি হচ্ছে সেমাই
পুরানা পল্টনে কথিত হেনোলাক্স গ্রুপের প্রধান কার্যালয় এখন বন্ধ

হেনোলাক্সের কথিত প্রধান কার্যালয়ও জনশূন্য

ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় কথিত হেনোলাক্স গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে ৩/১ পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ উল্লেখ করেছেন নুরুল আমিন।

সেখানে মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, ১১ তলা বাণিজ্যিক ভবনটির নাম ‘স্কাই ভিউ হেনোলাক্স সেন্টার’। এর তৃতীয় তলায় কথিত হেনোলাক্সের প্রধান কার্যালয়। আমিন ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, আমিন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ঠিকানা হিসেবেও এটি ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে কক্ষটির বাইরের কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলতে দেখা যায়। অফিসের ঠিকানার ফোন নম্বরে কল করা হলেও কেউ ধরেননি।

ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী আবদুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সোমবার বিকেল থেকে হেনোলাক্সের এই কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত অফিসে কেউ আসেননি। এর আগে নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী নিয়মিত অফিসে আসতেন। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার তাদের অফিসে আসতে দেখা গেছে।’

কাদের জানান, ১১ তলা বাণিজ্যিক ভবনটির জমির মালিক নুরুল আমিন। তবে স্কাই ভিউ ডেভেলপার কোম্পানি এর ওপর ১১ তলা ভবনটি নির্মাণ করেছে। ভবনের ৩৬টি বাণিজ্যিক ফ্ল্যাটের ১৮টির মালিক নুরুল আমিন, বাকি অর্ধেক পেয়েছে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান।

কথিত হেনোলাক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপক রতন কুমারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতে পেরেছে নিউজবাংলা। তিনি মঙ্গলবার দাবি করেন, পাঁচ দিনের ছুটিতে তিনি গাজীপুর আছেন এবং অফিস বন্ধ থাকার কোনো তথ্য তিনি জানেন না। নুরুল আমিন ও তার স্ত্রীর ফোন নম্বর বন্ধ থাকায় তাদের সঙ্গেও সোমবার থেকে যোগাযোগ নেই রতনের।

গাজী আনিসের আত্মহত্যার বিষয়টি অবশ্য জানেন রতন কুমার। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নিউজে দেখেছি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমি এই প্রতিষ্ঠানে ২৮ বছর ধরে কাজ করছি, আমি আনিস নামের ভদ্রলোককে কখনও আমাদের অফিসে দেখিনি৷ ওনার নাকি ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা পাওনা ছিল। এমনটা হলে তার তো অফিসে আসার কথা এবং পুলিশেরও আসার কথা।

‘আমি এমন কিছু কখনও দেখিনি এবং আমাদের স্যার-ম্যাডামও এ বিষয়ে কখনও কোনো কিছু বলেননি। বিষয়টি জেনে আমি খুবই অবাক হয়েছি।’

রতন কুমার বলেন, ‘হেনোলাক্স ১৯৮৪ সালে প্রথমে ত্বক ফর্সা করা ও মুখের দাগ দূর করার কয়েকটি ক্রিম নিয়ে বাজারে ব্যবসা শুরু করে। এরপর এর জনপ্রিয়তার কারণে হেনোলাক্সের মোড়কে নকল ক্রিমে বাজার সয়লাব হয়ে যায়। মামলা মোকদ্দমা করেও নকল ক্রিমের বাজার বন্ধ করতে না পেরে ২০০৪ সালে এই ব্যবসা গুটিয়ে নেয় হেনোলাক্স কর্তৃপক্ষ।

‘এরপর নুরুল আমিন হেনোলাক্স ফুড নামে লাইসেন্স নিয়ে রেডি টিসহ দুই-একটি খাদ্যপণ্য বাজারে নিয়ে আসেন। ২০১৯ সালে লোকসানের খাতায় নাম লিখিয়ে এটিও বন্ধ হয়ে যায়। নুরুল আমিন ২০১২ সালে আমিন হারবাল কোম্পানি লিমিডেটের লাইসেন্স নিয়ে এর অধীনে বেশ কিছু প্রসাধনসামগ্রী উৎপাদন ও বিপণন শুরু করেন। তবে ২০১৯ সালের পর এই ব্যবসাতেও ধস নামে।’

রতন কুমার বলেন, ‘আমিন হারবালের উৎপাদনও বন্ধ, কোনো অর্ডার পাওয়া গেলে কেবল সেগুলো তৈরি করে সরবরাহ করা হয়।’

তিনি জানান, ব্যাবসায়িক মন্দার কারণে কদমতলীর কারখানাটি অন্য এক প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন নুরুল আমিন। এখন পুরানা পল্টনের ফ্ল্যাট ও কারখানা ভাড়া ছাড়া হেনোলাক্স গ্রুপের আর কোনো দৃশ্যমান আয়ের উৎস নেই।

রতন কুমার বলেন, ‘আমরা কয়েকজন কর্মকর্তা আছি, তারা পল্টনের অফিসে বসি। আমি মূলত পুরানা পল্টনের ভবনটির ও কারখানার ভাড়া তুলি। আর মো. তসলিম উদ্দীন নামে আমিন হারবালের একজন মার্কেটিং ম্যানেজার আছেন। তিনি দৌড়াদৌড়ি করে হারবালের কিছু অর্ডার নিয়ে আসেন, এভাবেই চলছে।’

আমিনের হেনোলাক্স কারখানায় প্রসাধনী নয়, তৈরি হচ্ছে সেমাই
হেনোলাক্স গ্রুপের মালিক নুরুল আমিন (মাঝে) ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিন (ডানে)

আমিন হারবাল লিমিটেডের মার্কেটিং ম্যানেজার মো. তসলিম উদ্দীনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে। ২০১৬ সাল থেকে তিনি এই পদে আছেন। তিনি মূলত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আমিন হারবালের প্রসাধনীর প্রচার ও বিপণনসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে সোমবারের পর থেকে তাকেও অফিসে দেখা যায়নি। তসলিমের ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

নুরুল আমিনের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুরে। শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাদিম সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নুরুল আমিনের পরিবারের সদস্যরা অনেক আগে থেকেই ঢাকায় থাকেন। গ্রামের সবাই তাকে হেনোলাক্সের কর্ণধার হিসেবে চেনেন।’

ঢাকায় হেনোলাক্স প্রতিষ্ঠার পরই নুরুল আমিনের পরিবারে সচ্ছলতা আসে উল্লেখ করে নাদিম সরকার বলেন, ‘নুরুল আমিন সাহেব আমাদের এলাকায় সহজ-সরল মানুষ হিসেবে পরিচিত। তার পরিবার অতটা সচ্ছল ছিল না। শুনেছি আগে তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন। তবে ঢাকায় গিয়ে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে হেনোলাক্স প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের অবস্থার পরিবর্তন হয়।

‘বড় ব্যবসায়ী হিসেবে নাম কামান। ঢাকাসহ নরসিংদীতে অনেক জায়গাজমি কেনেন। তবে আবার এই হেনোলাক্স লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে যায় বলে আমরা শুনেছি। হেনোলাক্স ছাড়া তার আর কোনো ব্যবসা আছে বলে আমার জানা নেই।’

নুরুল আমিনের শ্বশুরবাড়িও একই এলাকায় জানিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ওনার কোনো সন্তান নেই। স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন। শুধু ঈদের সময় বছরে দুই-একবার গ্রামে আসেন।’

আরও পড়ুন:
হেনোলাক্স মালিকের বিচার চেয়ে ফেসবুকেও সোচ্চার ছিলেন আনিস
বাঁচানো গেল না গায়ে আগুন দেয়া গাজী আনিসকে
নিজের গায়ে আগুন দিলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা
কারওয়ান বাজারে ‘রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা’
ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল কিশোরীর মরদেহ

মন্তব্য

p
উপরে